banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

একদিন তো চলে যাব, পরের ঘরনী হব – ২


রেহনুমা বিনত আনিস


এমন কেন হয়? এর কয়েকটি কারণ চোখে পড়ে। আবারও বলছি, আমি কেবল শিক্ষিত শ্রেণীর কথাই বলছি এবং খুব মোটা দাগে আলোচনা করছি।

১/ স্ত্রীর ত্রুটি – বাবামায়ের আদরে আহ্লাদে বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে প্রায়ই বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সে একটি নতুন পরিবেশে এসে নতুন নিয়মনীতি বুঝে উঠতে অনেক সময় নিতে পারে। এর মাঝে ঘটতে পারে নানান ত্রুটিবিচ্যূতি। দক্ষতার অভাব থাকতে পারে, থাকতে পারে অভিজ্ঞতার অভাব। পরিপক্কতার অভাবে কথাবার্তায় বেহিসাবী হতে পারে, হতে পারে আহ্লাদী কিংবা অভিযোগপ্রবণ। যত্নের মাঝে বড় হওয়া মেয়েটি অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমসিম খেতে পারে, সব দিক সামলে ওঠা কঠিন হতে পারে। সন্তান নিয়ে রাত জাগা, খাওয়া ঘুমের অভাবে, কিংবা শারীরিক অসুস্থতার অভাবে হতে পারে খিটখিটে। কিন্তু যত কিছুই হোক, না থাকুক তার প্রতি ভালোবাসা, অন্তত মানবিকতার খাতিরে কি তার সাথে উপরোক্ত আচরণ করা যায়? অপরদিকে টেলিভিশনের কল্যাণে আমাদের নারীজাতির মাঝে জ্ঞানতৃষ্ণা এমনভাবে হ্রাস পাচ্ছে যে তারা নিজেদের মূল্যায়ন করার কোন উপায়ই রাখছেনা। ভালো পোষাক, ভালো সজ্জা সবই বাইরের জন্য বরাদ্দ। অথচ ঘরের পুরুষটি তাকে অরিজিনাল রূপেই দেখে। তবে এই সজ্জা কার জন্য? বরং একটি মেয়ের নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয় যাতে তার স্বামী তাকে সম্মান করতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়।

২/ স্বামীর ত্রুটি – অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলেরা বিয়ে করার জন্য উদগ্রীব থাকে কিন্তু প্রস্তুত থাকেনা। ‘বিয়ে’ শব্দটি শোনার সাথে সাথে তারা টেকনিকালারে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে মেয়েটি দেখতে কতখানি সুন্দরী হবে, সে কতখানি বাধ্য অনুগত হবে, সে কি কি রান্না করে খাওয়াবে, সে ত্যাগের মহিমায় কতখানি উদ্বুদ্ধ হবে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি জিনিস তাদের মাথায়ই আসেনা। রক্তমাংসে গড়া মেয়েটি যখন তার জীবনে পদার্পণ করবে সে ঠিক স্বপ্নের মেয়েটির মত হবেনা – সে সারাক্ষণ সেজেগুজে বসে থাকলে ঘরের কাজকর্ম করবে কে? সে সারাক্ষণ স্বামীর সাথে বসে গল্প করলে বাকীদের প্রতি দায়িত্ব পালন হবে কিভাবে? এসব কাজ করতে গিয়ে তার ঘাম হবে, চেহারা চুলে ক্লান্তির ছাপ পড়বে, মেজাজ খিটখিটে হবে, মাঝে মাঝে সে অসুস্থ হবে। কিন্তু এই বাস্তবতার জন্য স্বামীটি প্রস্তুত থাকেনা মোটেই। ফলে এক সময় সেই কাঙ্খিত স্ত্রীটিকে স্বামীটির আর ভালো লাগেনা। অথচ এই সমস্ত কিছু মেয়েটি করে তার স্বামীর জন্যই! অপরদিকে পুরুষরা ভুলে যায় তারা সমাজ সংসার এবং বিশ্বাসী হলে তাদের প্রভুকে সাক্ষী রেখে মেয়েটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সুতরাং, ভালোমন্দ সর্বাবস্থায় মেয়েটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের। এই দায়িত্বটিকে নেহাৎ ছেলেখেলা হিসেবে দেখার কোন উপায় নেই। বিয়ে মানে শুধু নিজের চাহিদা এবং প্রাপ্তির হিসেব করা নয়, অপরের চাহিদা এবং প্রাপ্তির হিসেব কষাও বিয়ের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

৩/ জবাবদিহিতার অনুভূতির অভাব – আল্লাহ স্বামীস্ত্রীর সম্পর্কটিকে পোশাকের সাথে তুলনা করেছেন। পোশাক যেমন আমাদের বাইরের আবহাওয়ার বৈরীতা থেকে সংরক্ষণ করে, এই দুইজন সঙ্গী পরস্পরকে সকলপ্রকার অন্যায়, অনাচার, অবিচার, বিপদাপদ, স্খলন কিংবা সমালোচনা থেকে দূরে রাখবে; পরস্পরকে সুন্দর এবং সত্যের পথে অগ্রসর হতে সহযোগিতা করবে; দু’জনে মিলে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করবে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। আল্লাহ পুরুষদের তাদের গৃহস্থিত নারীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন। কিন্তু স্বামী যদি নিজেই আক্রমনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোন তখন কেবল স্ত্রীর জন্যই নয়, সন্তানদের জন্যও একটি আতঙ্কজনক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই ধরনের পুরুষদের সংখ্যাধিক্য কয়েকটি ইঙ্গিত বহন করে। প্রথমত, এটি আমাদের প্রভুর সামনে আমাদের জবাবদিহিতার সম্পর্কে ধারণার অভাব অথবা অসচেতনতা প্রকাশ করে। নারীরা যা করে তার জন্য নারীরা জবাবদিহি করবে, কিন্তু পুরুষরা যা করবে অথবা করতে ব্যার্থ হবে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে তাদেরই। দ্বিতীয়ত, আমরা ভুলে যাচ্ছি, আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষরাই জানেন আমরা প্রকৃতপক্ষে কতখানি ভালো বা মন্দ, আল্লাহ আখিরাতে এদের কাছেই সাক্ষ্য নেবেন আমাদের ব্যাপারে; সুতরাং ফেসবুকে কিংবা অনুষ্ঠানে কিংবা দাওয়াতে কেউ আমাদের কথা শুনে আমাদের ব্যাপারে কি ভাবল তাতে কিছু যায় আসেনা, আমি যখন বাসায় ফিরি তখন আমাকে দেখে আমার স্ত্রী পুত্র কন্যা খুশি হয় না আতঙ্কিত হয় সেটাই আমার পরিচয়। তৃতীয়ত, আমাদের জ্ঞানের অভাব আমাদের মাঝে এমন এক শ্রেনীর সৃষ্টি করছে যারা পোশাকী আচরণ সম্পর্কে যতখানি সচেতন, ভেতরকার পবিত্রতা সম্পর্কে ততখানি সচেতন নন। একসময় পারিবারিক এবং সামাজিক বন্ধনগুলো এমন ছিলো যে স্বামীস্ত্রীর মাঝে সমস্যা দেখলে আত্মীয়পরিজন বন্ধুবান্ধবরা হস্তক্ষেপ করে এর সমাধান করে দিতেন। বর্তমান যুগে ‘প্রাইভেসী’ এবং ‘পার্সোনাল’ জাতীয় কতগুলো শব্দ, যেগুলোর অর্থ সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে ব্যাক্তির নিজের ধারণাও খুব একটা স্পষ্ট নয়, ব্যাক্তির স্বেচ্ছাচারীতাকে দিয়ে দিচ্ছে সীমাহীন স্বাধীনতা। ঐশী জবাবদিহিতার পাশাপাশি সামাজিক জবাবদিহিতার ধারণাটিও হয়ে যাচ্ছে বিলুপ্ত।

তবে সব কথারই একটা শেষ কথা থাকে। একটু ধৈর্য্য ধরে শেষ কথাটি শুনুন। আমার মা এক অসাধারন সুন্দরী মহিলা যার মনে আজীবন দুঃখ তার মেয়েটি কিভাবে দেখতে এত খারাপ হোল। মাদ্রাজে আমাদের প্রতিবেশীনি এক প্রফেসর ছিলেন, অসাধারন এক ভালোমানুষ, কিন্তু দেখতে আমার মায়ের ভাষায় ‘গোরিলার মত’। এই কথা শুনে বাবা ভীষণ রাগ করল, ‘আমার মেয়ে দেখতে যেমনই হোক, আমার চোখে সে রাজকন্যা। তিনিও তাঁর বাবামায়ের চোখে রাজকন্যা। তাঁর অসাধারন সুপুরুষ ডাক্তার স্বামী যেমন তাঁকে নিয়ে সুখে সংসার করছেন, আমি চাই কোন একদিন আমার মেয়েটিরও এমন এক স্বামী হবে যে তাকে মূল্যায়ন করবে, মর্যাদা দেবে’।

ভেবে দেখুন, আপনার কাছেও আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ আপনার মেয়েটি যে একটু আদর পাবার জন্য কাতর হয়, একটু ভালোবাসা পাবার জন্য আপনার ঘরটিকে জান্নাত বানিয়ে রাখে এবং যে আদতেই হবে আপনার জান্নাতে যাবার উসিলা। ভাবুন তো আপনার এই মেয়েটিকে কেউ কথায় কষ্ট দিচ্ছে কিংবা অত্যাচার করছে! আমার তো লিখতে গিয়েই আমার মেয়ের কথা ভেবে দু’চোখে নদী প্রবাহিত হচ্ছে! আপনি আজ আপনার স্ত্রীর সাথে যে আচরণ করছেন সেটি সযত্নে সংরক্ষিত হচ্ছে এমন এক খাতায়, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও যে খাতার অস্তিত্ব বিলীন হবেনা। সে কথা পরে হবে। কিন্তু আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার আজকের আচরন যদি আপনার প্রভু আপনার প্রানাধিক প্রিয় কন্যার জীবনে প্রতিফলিত করেন, আপনি সহ্য করতে পারবেন তো? পারবেন না, কিছুতেই পারবেন না। সেদিনের কথা ভেবে, আগামীবার যখন স্ত্রীর কোন কথায় কিংবা আচরনে ধৈর্য্যহারা হয়ে যাবেন, তখন আপনার প্রভুর বিচারকে ভয় করুন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। মানুষের সামনে ভালো হবার পরিবর্তে আপনার প্রভুর সামনে উত্তম চরিত্রের পরিচয় উপস্থাপন করুন। আপনার সংসারটিকে পরিণত করা অথবা তাতে আগুন জ্বালানোর সিদ্ধান্ত আপনারই হাতে।

পর্ব-১

 

সচেতনতায় কমছে কর্মক্ষেত্রে নারীর যৌন হয়রানি


নারী সংবাদ


সাভারের এক জুতার কারখানায় কাজ নেয় একুশ বছর বয়সী রুমা আক্তার। মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যাওয়ার পর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। তাই পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে পড়ালেখার ইতি টেনে হাল ধরতে হয় সংসারের। কাজ শুরুর দুই মাসের মাথায় তার সেকশনের ম্যানেজার বারবার কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার নাম করে রুমাকে রুমে ডেকে নিয়ে যেত। প্রথম প্রথম ভালো আচরণ করলেও পরে নানা ধরনের প্রস্তাব দিতে থাকে ম্যানেজার। প্রথম কয়েকদিন মুখ বুঁজে সহ্য করলেও এক সময় প্রতিবাদ করে বসেন রুমা। সরাসরি ফ্লোর লিডারকে জানায় ঘটনা। ফ্লোর লিডার জানায় কারখানার জেনারেল ম্যানেজারকে। দু’দিনের আল্টিমেটাম দেন তিনি। দু’দিনের মধ্যে যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে কাজ বন্ধ করে রাস্তায় অবরোধের পাশাপাশি আদালতে মামলা করারও হুমকি দেন ফ্লোর লিডার তাহমিনা হক।
অবস্থা বেগতিক দেখে পরদিনই কারখানার পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে চাকরি হারায় ওই ম্যানেজার।
তবে দেশের সব কারখানার সকল নারী কর্মীরা রুমার মত অত সাহসী নয়। মুখ বুঁজে সহ্য করেন পুরুষ সহকর্মীদের নির্যাতন। অনেকে আবার সহ্য করতে না পেরে চাকরিও ছেড়ে দেন।
সুমাইয়া তাদের মতই একজন নারী। কাজ করেন নারায়ণগঞ্জ শিল্প এলাকার একটি পোশাক কারখানায়। কাজ শুরু করার এক বছর পর তার সেকশনের ম্যানেজার হিসেবে নতুন চাকরিতে যোগ দেন এক পুরুষ। নাম মো. জুবায়ের। একমাসের মাথায় নজর পড়ে সুমাইয়ার উপর। এরপর থেকেই স্বামী পরিত্যাক্তা সুমাইয়াকে নানা ইঙ্গিত দিতে থাকে জুবায়ের। কাজে-অকাজে রুমে ডেকে নিয়ে যাওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। প্রথম প্রথম বুঝতে না পারলেও পরে কৌশলে এড়িয়ে যেতে থাকেন সুমাইয়া। কিন্তু তারপরও পিছু ছাড়েনি জুবায়ের।
সুমাইয়া বলেন, অনেকবার ভেবেছি চাকরি ছেড়ে দিব। আর তখনই আমার দুই সন্তানের মুখ ভেসে উঠে চোখে। এই কারখানায় বেতন একটু বেশি আর নিয়মিত তা পাওয়া যায়। ফলে চাকরিও ছাড়তে পারছি না। তাই মুখ বুজে এখানে পড়ে আছি।
শ্রমিক নেতা সোহেলুর রহমান বলেন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি করার নির্দেশনা রয়েছে আদালতের। কিন্তু অনেক কারখানা তা মানছে না। আবার মালিক পক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। তাই অধিকাংশ কারখানায় নারী নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা ছিল একসময়। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে।
এখন অনেক নারী শ্রমিক নিজেরাই প্রতিবাদ করেন। তাদের প্রতিবাদের কারণে অনেক পুরুষ কর্মীর চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বর্তমান সময়ে। যা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে ভাবাই যেত না।
কর্মজীবী নারী’র করা ‘এস্টেট অব রাইটস ইমপ্লিমেন্টেশন অব উইম্যান রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়াকার্স’ শীর্ষক এক গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের পোশাক তৈরি কারখানাগুলোতে শতকরা ১৩ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার।
মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মনোয়ারা বলেন, কারখানাগুলো যদি আদালতের দেওয়া গাইডলাইন মেনে চলত তবে যৌন হয়রানী অনেকাংশে কমে যেত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অনেক কারখানা এই গাইডলাইন মেনে চলে না। আবার অনেকে এ বিষয়ে কিছু জানেও না। তিনি আদালতের এই গাইডলাইন মেনে চলার জন্য এবং এ বিষয়ে কারখানার মালিকদের জানানোর জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির করার দাবী জানান। এই কমিটি সম্পূর্ণ বিষয়টি মনিটর করবে। যদি কোন কারখানা এই গাইডলাইন না মানে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী জানান এডভোকেট মনোয়ারা। সুত্র: বাসস