banner

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

স্তন ক্যান্সার : সচেতনতাই যার প্রতিকার


নুসাইবা ইয়াসমীন


ক্যান্সার মূলত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত জীবনের গল্প। খুব সাধারন সাজানো জীবনটা মুহুর্ত্বের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বদলে যেতে পারে ক্যান্সার নামক ব্যাধির কারনে। ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সারকে মৃত্যুর দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য কারন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং চলতি বছর ক্যান্সারজনিত কারনে সারা বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৯৬ লাখ।

নারীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি দেখা যায়।
স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত দেশের শীর্ষে বেলজিয়াম, নেদারল্যানড, ফ্রান্স ইত্যাদি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও এর প্রকোপ লক্ষণীয়।

অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় স্তন ক্যান্সারের মৃত্যুর হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি সনাক্ত করা সম্ভব হয়।

মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের সঠিক ধারনার অভাব প্রতি মূহুর্তেই হাজারও নারীকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখে। একটু সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে রোগ সনাক্ত করা সম্ভব হলে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্ত হলে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব ৯০ শতাংশ।

স্তন ক্যান্সারের মৌলিক ধারনার ক্ষেত্রে প্রথমেই যে বিষয়গুলো জানা দরকার তা হলো কে বা কারা এই ঝুঁকিতে রয়েছে এবং স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ কি কি হতে পারে!

যাদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে যাদের:

* যেসব নারীর বয়স ৪০ বছরের বেশি তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
* স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে
* অবিবাহিতা বা সন্তানহীনা নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
* যেসব মায়েরা সন্তানকে কখনও স্তন্যপান (breast feeding) করাননি।
* ৩০ বছরের পরে যারা প্রথম মা হয়েছেন।
* যাদের তুলনামূলক কম বয়সে মাসিক শুরু হয় ও দেরিতে মাসিক বন্ধ (menopause) হয় তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
* একাধারে অনেকদিন (১০ বছর বা বেশি) জন্ম নিরোধক বড়ি খেলেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
* অতিরিক্ত মদ্যপান ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনপদ্ধতি।

যদিও উল্লেখিত বিষয়গুলো ক্যানসারের ঝুঁকির কারন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তবে বাস্তব চিত্র অনুযায়ী প্রতিটি নারীই এই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।

লক্ষণ বা উপসর্গ

• স্তনের কোন অংশে চাকা চাকা হয়ে যাওয়া অথবা কোন লাম্প দেখা যাওয়া।
• স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন।
• স্তনবৃন্তের আকারে পরিবর্তন।
• স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা তরল পদার্থ বের হওয়া।
• স্তনবৃন্তের আশেপাশে রাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যাওয়া।
• বগলে ফুলে যাওয়া বা চাকা দেখা দেয়া।
• স্তনের ভেতরে গোটা ওঠা বা শক্ত হয়ে যাওয়া।

প্রাথমিক সচেতনতা অনুযায়ী প্রত্যেকেই উচিত নিয়মিত স্তনের স্বাভাবিক আকারকে লক্ষ্য রাখা এবং অন্তত প্রতি দুই সপ্তাহে নিজে নিজে বাসায় পরীক্ষা করা। যাদের বয়স ৪০ উর্ধ্ব তাদের বছরে একবার ম্যামগ্রাম করা প্রয়োজন। একমাত্র সচেতনতাই পারে ক্যান্সারকে জয় করে একটি সুস্থ সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দিতে।

ক্যান্সার মরন ব্যাধি হিসেবে পরিচিত হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের খাতিরে ক্যান্সার রোগীরাও সঠিক চিকিৎসা গ্রহন করে পরিচালনা করতে পারেন সুস্থ স্বাভাবিক জীবন।

 

মেয়ের পড়াশোনায় ১২ জন সহায়ক


নারী সংবাদ


অর্থের ঝনঝনানি বোধ হয় একেই বলে। মেয়ের পড়াশোনায় যাতে অসুবিধা না হয় তাই ব্রিটেনে ১২ জন সহায়ক কর্মী নিয়োগ করলেন এক ভারতীয় ব্যবসায়ী। আর সেই সুবাদে সবচেয়ে ‘ধনী ছাত্রী’র তকমা জুটেছে ওই ছাত্রীর।

দ্য সান সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীর জন্য একজন ম্যানেজার, ঘরে সাহায্যের জন্য তিনজন কর্মী, একজন মালি, একজন মহিলা পরিচারিকা, একজন প্রধান সহকারী, তিনজন পদচারী, ব্যক্তিগত রাঁধুনি ও একজন গাড়ি চালকের ব্যবস্থা করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

সাধারণ ছাত্রীর মতো যাতে তাকে থাকতে না হয়, সেজন্য স্কটল্যান্ডের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তার মা-বাবা।

ওই ১২ জন কর্মী চার বছর ধরে ওই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটেই থাকবেন। রীতিমতো খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কর্মী সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনেই বলা ছিল, অভিজ্ঞ কর্মী পেলে বছরে ৩০ হাজার পাউন্ড দিতেও তারা রাজি।

সুত্র: ইন্টারনেট।

 

স্বামীর দেয়া উপহার স্ত্রীর দেনমোহর নয়


সিরাজ প্রামাণিক


বিয়ের পর স্বামী তার স্ত্রীকে অনেক কিছুই দিতে পারে। স্বামী যদি দেনমোহর হিসেবে স্ত্রীকে কিছু দেয়, তবেই তা দেনমোহর বলে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে ‘দেনমোহর বাবদ’ কথাটি লেখা থাকতে হবে। যেমন: জমি হস্তান্তর দলিলে ‘দেনমোহর বাবদ’ কথাটি লেখা না থাকলে এরূপ জমি প্রদান দেনমোহর হিসেবে ধরা হবে না।
হাইকোর্ট বিভাগের একটি মামলায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিয়ের সময় স্বামী তার স্ত্রীকে দেনমোহর হিসেবে পাঁচ বিঘা জমি দিতে চায়। সে মতে স্বামী ওই জমি স্ত্রী বরাবর প্রদানও করেন। পরে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে এ মর্মে মধ্যস্থতা করে যে, ওই পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে ভালো জায়গায় ১৩ বিঘা জমি ক্রয় করবে। সেখান থেকে স্ত্রীকে পাঁচ বিঘা জমি ফেরত দেবে। কথা দিয়ে কথা না রাখলে স্ত্রী স্বামীর কাছে দেনমোহর চেয়ে মামলা করে। স্বামী ওই মামলায় প্রতিযোগিতা করে। স্বামী এই মর্মে অজুহাত উত্থাপন করে যে, পারিবারিক আদালতে ওই মামলা অচল। কারণ তিনি জমিটি ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং মামলাটি দেওয়ানি আদালতে বিচার্য। মামলাটিতে পারিবারিক আদালত স্ত্রীর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করলেও স্বামী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করে। মহামান্য হাইকোর্ট নি¤œ আদালতের আদেশ বহাল রাখে ১৩ বিঘা জমির মধ্যে পাঁচ বিঘা জমি তার স্ত্রীকে প্রদানের নির্দেশ দেন। (রওশন আরা বেগম বনাম মাসক আহমেদ ২৩ বিএলডি হাইকোর্ট, পৃষ্ঠা- ৩০২)
তবে মোহরানার পরিবর্তে হিবা বিল অ্যাওয়াজের রীতিও রয়েছে। ১৯৫৫ সালে ঢাকা হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মোহরানার পরিবর্তে হিবা-বিল-অ্যাওয়াজ তখনই বৈধ হবে যখন স্ত্রী কোনো প্রতিদান ছাড়াই স্বামীকে মোহরানা দান করে দেয় এবং পরে স্বামী স্ত্রীর দানের ‘অ্যাওয়াজ’ স্বরূপ কোনো সম্পত্তি আলাদাভাবে দান করে। কারণ এটা মুসলিম আইনে একটি বিশুদ্ধ হিবা বিল অ্যাওয়াজ। এমনকি স্বামী যদি স্ত্রীকে কোনো কিছু দান করেন এবং স্ত্রী স্বামীর বরাবরে প্রতিদান স্বরূপ অন্য কোনো দলিল মূল্যে মোহরানার অধিকার ছেড়ে দেয় তবে তা আধুনিক প্রকৃতির একটি হিবা বিল অ্যাওয়াজ বলে গণ্য হবে (পিএলডি ১৯৫৫, ঢাকা. পৃষ্ঠা ৩৯)। দেনমোহরের পরিবর্তে স্ত্রীর বরাবর জমি সম্পত্তি হস্তান্তর এক শত টাকা মূল্যের অধিক হলে অবশ্যই রেজিস্ট্রি দলিল দ্বারা হস্তান্তর করতে হবে (৪ ডিএলআর, পৃষ্ঠা-৫১)।
বিয়ের সময়ে দেয়া শাড়ি, গয়না ইত্যাদি কখনো দেনমোহরের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে না। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের সময় গয়না, শাড়ি ইত্যাদির মূল্য দেনমোহরের একটি অংশ ধরে উসুল লিখে নেয়া হয়। আসলে বিয়েতে দেয়া উপহার বা উপঢৌকন দেনমোহর নয়। এগুলোকে দেনমোহরের অংশ বলে ধরা যাবে না এবং উসুল বলা যাবে না। (আ: কাদের বনাম সালিমা, ১৮৮৬, ৮ অল. পৃষ্ঠা-১৪৯)।
ভরণপোষণ দেনমোহর বলে বিবেচিত হবে না : দেনমোহরের সাথে ভরণপোষণের কোনো সম্পর্ক নেই। বিবাহিত অবস্থায় স্ত্রীকে ভরণপোষণের জন্য স্বামীর যে খরচ তা কোনোভাবেই দেনমোহরের অংশ বলে বিবেচিত হবে না। আবার বিয়ে-বিচ্ছেদের ফলে স্বামী, স্ত্রীকে যে ভরণপোষণ দেয় তা-ও দেনমোহরের অংশ নয়। দেনমোহর এবং ভরণপোষণ দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। একটি পরিশোধ করলে অপরটি মাফ হয়ে যায় না।
জামিনদার : যদি কোনো ব্যক্তি একজনের স্বামী-স্ত্রীর মোহরানার দায়িত্ব নেয় তবে সে তা পরিশোধের জন্য দায়ী হবে। বিবাহোত্তর দেনমোহরের জন্য জামিনদার থাকলে সে ক্ষেত্রেও জামিনদার দায়ী হবে। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। বিধবা স্ত্রী তার দেনমোহরের জন্য মৃত স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলে রাখার অধিকারিণী। (বিবি বাচান বনাম শেখ হামিদ, ১৮৭১, ১৪ এমআইএ পৃষ্ঠা-৩৭৭)। দেনমোহরের দাবিতে কোনো বিধবা স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তি দখল করে থাকলে যদি তাকে ওই সম্পত্তি থেকে অন্যায়ভাবে বেদখল করা হয়, তবে সে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে (মজিদ মিয়া বনাম বিবি সাহেব ১৯১৬, ৪০ বম. পৃষ্ঠা-৩৪)।
যদি স্বামীর উত্তরাধিকারীরা স্বামীর সম্পত্তি থেকে দেনমোহর দিতে অস্বীকার করেন তাহলে স্বামীর উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, যদি স্বামীর আগে স্ত্রীর মৃত্যু হয় এবং স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধিত না হয়ে থাকে তাহলে স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা ওই দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী। ফলে স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা দেনমোহর পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন।
লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী,
seraj.prama nik@gmail.com