banner

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

‘সুখী দাম্পত্যজীবন’ কিছু টিপস

দাম্পত্য


ভালোবাসা
একে অপরকে জানিয়ে দিন যে আপনারা পরস্পরকে ভালোবাসেন। দিনে অন্তত একবার আপনার জীবনসঙ্গী/জীবন সঙ্গিনীর প্রশংসা করুন কিংবা তাকে ভালোবেসে দয়ামাখা গলায় কথা বলুন।

বুঝে রাগ করুন 
একই সময়ে দু’জন একসাথে রেগে যাবেন না। কোন তর্ক জিইয়ে রেখে ঘুমাতে যাবেন না, সমাধান করে নিন আগেই। মনে রাখবেন, ঝগড়া করতে দুই জনের প্রয়োজন হয়।

সমালোচনা
সমালোচনা যদি করতেই হয়, ভালোবাসা দিয়ে বলুন। আপনি যখন কোন ভুল করে ফেলবেন, তা স্বীকার করে নিন।

অতীত স্মৃতি
পুরোনো ভুলগুলোকে তুলে আনবেন না।
একে অপরকে উপেক্ষা করার পরিবর্তে বরং গোটা দুনিয়াকে আগে উপেক্ষা করুন।

নামাজ পড়ুন
দিনে কমপক্ষে একবার একসাথে সালাত আদায় করুন।

মন দিয়ে শুনন
আপনার জীবনসঙ্গী যখন কিছু বলে, তা মন দিয়ে শুনুন। মনে রাখবেন, আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী কিন্তু একটা ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ, মুভি, সিরিয়াল, ইউটিউব ভিডিওর চেয়ে বেশি মূল্যবান।

খেয়াল করুন
আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীকে যখন নতুন কোন পোশাক পরে তথবা তার চুল ভিন্নভাবে আঁচড়ায় তখন খেয়াল করুন। আপনাদের বিবাহবার্ষিকী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোকে স্মরণ রাখতে চেষ্টা করুন।

ধন্যবাদ দিন
আপনাদের পক্ষ থেকে আপনার সঙ্গী কাউকে কোন উপহার দিলে বা কোন কাজ করে দিলে আপনার পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ দিন।

লক্ষ্য করুন
আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীকে যদি ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত দেখায় তবে তা লক্ষ্য করুন এবং তার জন্য কিছু করুন।

আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীকে কখনো সমালোচনা করে আহত করবেন না এবং জনসমক্ষে কখনো তাকে অপমান করবেন না৷ বৈবাহিক বন্ধনকে বেঁধে রাখুন অটুট। সুত্রঃ সংগ্রহ এবং সংকলিত।

 

সবুজ প্রাণে হিন্দোল

অনবরত বৃক্ষের গান


পড়ার টেবিলে মুনিবা,পাশে ডেস্কে বসে পড়ছে ওর ভাইয়া। দুষ্টোমিতে সেরা মুনিবা, তবে ভাইয়া যখন পড়তে বলে, মন দিয়ে পড়ে। ছাত্র সে, আর মুনিবা ক্লাস ফোর এ। ছোট্ট বাটিতে আমলকি, জলপাই নিয়ে এসে রাখলেন আম্মা।

বললেন, “জুবায়ের, মুনিবা, তোমাদের দাদুভাই পাঠিয়েছেন সকালে, গ্রাম থেকে। “ভাইয়া টিপ্পনী কেটে বলে,”মুনিবার মাথায় যা দুষ্ট বুদ্ধি, ওর টক খাওয়া ঠিক হবে না,বরং আমি খেয়ে ফেলি।” এ নিয়ে একদফা অভিমান,খুনশুটি। মুনিবা তো পড়বেই না,ভাইয়ার সাথে রাগ। অনেক বুঝিয়ে ঠিক হলো, ভাইয়া বেড়াতে নিয়ে যাবে।

রাতে খাওয়ার টেবিলে, আব্বুর কাছে নালিশ করলো মুনিবা। শাস্তি হিসেবে যে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে, সেটাও জানালো। তাদের বাবা বললেন, তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করো, গল্প শুনাবো তোমাদের। গল্পের কথা শুনে, দুই-ভাই বোন নড়েচড়ে বসলো।

সবাই এসে বারান্দায় বসলে, মুনিবার আব্বু গল্প শুরু করলেন। আজকে তোমাদের দাদুভাই কতো কি পাঠিয়েছেন বলতো, মুনিবা। মুনিবা হাতের কড় গুনে বলতে শুরু করল, বাতাবি লেবু, চালতা, আমলকি, জলপাই, নারকেল, কতো সবজি। ও থামলে, মাহবুব সাহেব বললেন, এই যে বাতাবী লেবু গাছ, যখন বুনেছি, তখন জুবায়ের অনেক ছোট। মুনিবা নড়েচড়ে বসে, আমার জন্য কোন গাছ বুনোনি! তিনি বললেন,হ্যা আম্মু,বলছি শোন। তোমার আম্মা গাছ লাগাতে ভালোবাসেন, খুব। রাসূল (সা) এর প্রিয় হাদীসটি ভাইয়া শোনায়নি তোমাকে?

‘যখন কোনো মুসলমান একটি ফলবান বৃক্ষের চারা রোপণ করে, আর এতে ফল আসার পর সে নিজে অথবা অন্য কোনো মানুষ তা থেকে যা ভক্ষণ করে তা তার জন্য সাদকা (দানস্বরূপ), যা চুরি হয়, যা কিছু (খোসা, আঁটি ইত্যাদি) গৃহপালিত পশু খাবে এবং বিভিন্ন পাখপাখালি যা খাবে, সবগুলো তার জন্য সাদকা।’ (বুখারি ও মুসলিম) মুনিবা বলে,তাহলে তো পাখি পেপে খেতে আসলে,তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না।ওর আব্বু হাসেন,আবার বলতে শুরু করেন।
আমি বাড়িতে গেলে, প্রতিমাসে গাছের চারা নিয়ে যেতে হতো। বাড়ির সামনে যে শিউলী গাছটা,আর পশ্চিমে দাড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়াটা, তোমার জন্য বুনেছিলেন। মুনিবা খুশিতে বাক-বাকুম করে ওঠে।আম্মুকে আহ্লাদে জড়িয়ে ধরে সে। সেদিনকার মতো গল্প শেষ করে ঘুমাতে যায় সবাই।

সকালে স্কুলে সামাজিক বিজ্ঞান ক্লাসে ফাতিমা ম্যাম পড়াচ্ছিলেন। জলবায়ু কনফারেন্স নিয়ে অডিও, ভিজ্যুয়াল দেখালেন, কিভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, অক্সিজেনের পরিমান কমে যাচ্ছে। আটলান্টিক এ পানির উচ্চতা বেড়ে, নিম্নভূমির দেশগুলো তলিয়ে যেতে পারে। মুনিবার ছোট্ট মন চিন্তায় ভরে গেলো, সে ম্যামকে জিজ্ঞেস করল, “আমাদের বাংলাদেশটার কি হবে?”  ম্যাম হাসলেন,আমাদের পরিবেশকে অনেক সুন্দর রাখতে পারি, বেশী করে গাছ লাগাতে পারি। টেবিলের উপর কিছু ফুল, আর ফল। তার ছাত্র -ছাত্রীদের জন্য এনেছেন, বাসার ছাদে করা বাগান থেকে। সকলে খুব উৎসাহ পেলো। পরের সপ্তাহে সবাই মিলে ফাতিমা ম্যামের বাগান দেখতে গেলো।

সেদিন রাতে আবার মুনিবারা গল্প করতে বসল। ফাতিমা মিসের করা বাগান দেখে, খুব আগ্রহ ছোট্ট বাগান করার। ভাইয়ের শাস্তি আরো বেড়ে গেছে, বাগান করায় সহকারী হতে হবে। চারা কিনে এনে , মাটি-সার দিয়ে টব তৈরি করে দিতে হবে। ভাইয়া হাসিমুখে রাজি হলো। পরেরদিন থেকে শুরু হলো, মুনিবার বাগান করা। প্রথমে, স্ট্রবেরী চারা বুনেছে, আর আম্মুর জন্য বেলী ফুলের চারা। প্রতিদিন ক্লাস থেকে ফিরে বারান্দায় চলে যায়। একটু করে গাছগুলো বড়ো হয়, কুড়ি আসে। একদিন সাদা বেলী ফুলে গাছটা ভরে আসে,সুগন্ধে মনটা ভরে আসে। নিজের হাতে বোনা গাছে ফুল, খুশিতে সে উদ্বেল হয়ে উঠে। (এতোটা আনন্দ সে কখনোই পায়নি)।আর,যেদিন মুনিবার স্ট্রবেরী গাছ পাকা পাকা ফল ভরে যায়-দাদাভাই, আম্মু আর ভাইয়াকে নিয়ে খেতে কি যে আনন্দ পায় সে। দাদাভাই খুশিতে নাতনিকে নার্সারি থেকে দশটি ফলের চারা গিফট করেন।মুনিবার বাগান এখন বেশ বড়, বাসার সামনে ফুলেফলে ভরে আছে। বান্ধবীদের সে ফুলের চারা গিফট করে, তাদের হাসিমুখ দেখে প্রান ভরে ওঠে। #বৃক্ষরোপণ

 

মালয়েশিয়ার বৈচিত্রময় ঈদ

তাহেরা সুলতানা


মালয় ভাষায় ‘ঈদ মুবারাক’ কে বলে ‘সালামাত হারি রাইয়া’ যার অর্থ ‘রোজা ভাংগার শুভ উৎযাপন’ অথবা ‘রোজা ভাংগার উৎসব’।
আমি প্রায় ৬ বছর যাবত মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে ঈদকে ঘিরে মালয়েশিয়ার সংস্কৃতির কিছুটা অংশ আমি এখানে শেয়ার করার চেষ্টা করছি। যেহেতু আমার বিদেশে ঈদ উৎযাপন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভারসিটি থেকেই শুরু হয়েছিল, তাই আমি সেখান থেকেই শুরু করছি।
মালয়েশিয়াতে আমার প্রথম ঈদ উৎযাপন ২০১১ সালে। তখন আমার স্বামী ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভারসিটিতে মাস্টার্স করছিল। আমি কোনদিন ঈদের নামাজ পড়তে মসজিদে যাইনি। এমনকি দেশে থাকতে জুম্মার নামাজ পড়তেও কখনো যাওয়া হয়নি। আসলে মেয়েরা মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারে, এরকম কোন ধারনাই আমার ছিল না! সে যাই হোক, সেবার ইসলামিক ইউনিভারসিটির মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে আসলাম। অনেকটা দ্যোদুল্যমান মনেই আসলাম। এখানে বলে রাখি, এই ইউনিভারসিটিতে প্রায় ১৩৫ টি দেশের মুসলিম ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করে। মসজিদের প্রতিটি ফ্লোরে ২ টি ইউনিট। একটি ছেলেদের, আর একটি মেয়েদের। ঈদের নামাজ পড়তে এসে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো সবার দিকে তাকিয়েছিলাম! নানান দেশের ছেলেমেয়েরা নানান রঙে আর ডিজাইনে সুসজ্জিত হয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণকে আলোকিত করে রেখেছে। অপরূপ সে দৃশ্য! নামাজ শেষে আমরা মেয়েরা একে অপরের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে, হাতে চুমু খেয়ে অথবা কারো কারো সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলাম। একবারের জন্যও মনে হয়নি, আমি এদের চিনি না! যেন আত্মার গভীর থেকে টান অনুভব করেছিলাম! অনেক নতুন নতুন বাংলাদেশী মেয়ে, আপু এবং ভাবীর সাথেও সেদিন পরিচয় হয়েছিল। দেশে ফেলে আসা বাবা-মা, ভাই-বোন আর আত্নীয় স্বজনদের বাদ দিয়ে বিদেশের মাটিতে ঈদ করার কষ্টটা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছিল।
ইসলামিক ইউনিভারসিটি হলেও এখানকার রেক্টর (এখানে ভিসিকে রেক্টর বলে) কিন্তু একজন মহিলা, যার নাম ড. জালেহা কামারুদ্দিন। ঈদের দিন ইউনিভারসিটি ক্যাম্পাসে উনি নিজে হাতে সৌজন্যমূলকভাবে স্টুডেন্ট দের খাবার সার্ভ করেন এবং সবার সাথে একসাথে বসে, খেয়ে, ঈদ উৎযাপন করেন। ইউনিভারসিটি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সারাদিন ব্যাপী নানান পদের মুখরোচক খাবার সরবরাহ করা হয়। বাংলা কমিউনিটি থেকেও আলাদাভাবে ঈদ উৎযাপন করা হয়।
মালয়েশিয়ায় সংস্কৃতির একটা বিশেষ অংশ হলো, ঈদের দিন সব বাচ্চাদের হাতে ‘ডুয়েট রাইয়া’ (একই মানের ২ টি রিংগিটের ২ টি মূদ্রা একটি খামে ভরে প্রতিটি বাচ্চাকে দেয়া) একটি তুলে দেয়া। এমনকি প্রতিটি মালয় স্কুল থেকেও বাচ্চাদের এই ‘ডুয়েট রাইয়া’ দেয়া হয়। এখানে ছেলেরা ঈদের দিন যে ড্রেস পরে, তাকে বলে ‘বাজু মেলাউ’ (উপরের অংশটা ফতুয়া আর নিচেরটা পায়জামা আর তার উপরে লুঙ্গীর মতো) এবং মেয়েরা যে ড্রেস পরে, তাকে বলে ‘বাজু কুরুং’ (উপরের অংশটা কামিজ আর নিচেরটা স্কার্ট)। প্রায় সব মুসলিম মালয় মেয়েরা মাথায় হিজাব ব্যবহার করে। ঈদের দিনও এর ব্যতিক্রম দেখা যায় না।
অধিকাংশ মালয় ঈদের দিন খাবার সার্ভ করার ক্ষেত্রে পরিবার, আত্নীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব আর প্রতিবেশীর জন্য ‘ওপেন হাউস’ প্রোগ্রাম করে। এইদিন সবাই ইচ্ছেমতো সবার বাড়িতে গিয়ে খেতে পারে। ঈদের দিন মালয়েশিয়ানদের সবচেয়ে পরিচিত এবং সবচেয়ে পছন্দনীয় খাবার হচ্ছে ‘কেতুপাত’ (Ketupat)। এক ধরনের আঠালো ভাতের ভর্তা পরিমস একটা কলাপাতা বর্গাকারে কেটে এর মধ্যে রেখে চারপাশ থেকে মুড়িয়ে দেয়া হয়। এই ‘কেতুপাত’ ২/৩ ধরনের সস আর তরকারীর সাথে সার্ভ করা হয়। আর একটি বিখ্যাত খাবার হলো ‘নাসি পান্দাং’ ( Nasi Pandang)। এই রেসিপিতে ভাতের সাথে নানান ধরনের তরকারী পরিবেশন করা হয়। এছাড়া নানা ধরনের কেক, পেস্ট্রি আর স্নাক্সও সার্ভ করা হয়। সেইসাথে থাকে বিভিন্ন রংগ আর বিভিন্ন ফ্লেভারের সিরাপ, যেটাকে মালায় ভাষায় ‘মিনুম’ বলে, যার অর্থ হচ্ছে পানীয়। মালয়েশিয়ানরা ‘তেও পানাস’ (গরম চা) বা ‘কপি পানাস’ (গরম কফি) এর পরিবর্তে ‘তেও আইস’ (ঠান্ডা চা) কিংবা ‘আইস কপি’ (ঠান্ডা কফি) বেশী পছন্দ করে, যেটার চল ঈদের দিনও দেখা যায়।
বাংলাদেশীদের মতো মালয়েশিয়ারাও ‘কাম্পুং’ (গ্রাম) এগিয়ে আত্নীয় স্বজনদের সাথে ঈদ উৎযাপন করতেই বেশী পছন্দ করে। সবার সাথে একত্রিত হয়ে বার বি কিউ পার্টি করা আর ‘হারি রাইয়া’ গান শোনা এদের সংস্কৃতিরই অংশ।
যেহেতু মালয়েশিয়ানরা জাতিগতভাবেই খাদ্যপ্রেমী, তাই তারা যেকোন উৎসবে খাবারে ভিন্নতা আনতে এতোটুকু কার্পণ্য করে না। তাছাড়া এখানে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী এবং নানান সংস্কৃতির লোকের বসবাস। তাই এখানে সবসময় একটা মিশ্র সংস্কৃতি বিরাজ করে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব খাবারে গিয়ে পড়ে।

সালামাত হারি রাইয়া!