banner

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

মাহে রমজানে সবাইকে স্বাগতম!

প্রবাসী মজুমদার


এসেছে রমজান সাজিয়ে গগন
নেমেছে ধরায় আষাঢ় ও শ্রাবণ,
ধুয়ে মুছে যেতে জীবনের গ্লানি
সিয়াম সাধনায় গড়িতে জীবন।

ভেঙ্গে দিয়ে সব জটের অনিয়ম
শৃঙ্খলে আবার বাঁধিব নিজেকে
সকাল বিকেল নিশীথে জেগে
সেজদায় লুটাব প্রভুর বিধিতে।

খুলে দাও তোমার আকাশ দ্বার
ভরে দাও ধরার পাতাল জমিন,
শুধিতে তোমার করে নাও মোকে
রোজায় যেন পাই পরপারে জামিন।

রাহমাত,মাগফেরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে নিজেকে পরিশুদ্ধি করার মাসিক কর্মশালা – মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার এক কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে নিজেকে আবারও প্রস্তুত করার এ শুভ যাত্রায় সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা।

ফেলে আসা জীবনে ‘মাহে রমজানের’ এ প্রশিক্ষণ অসংখ্যবার পেলেও এর শিক্ষা, উদ্দেশ্য এবং অভিষ্ট লক্ষ্য যেন বরাবরের মতই ‘তাঁকে বন্দী কোরানের’ মত অনাদর আর অবহেলার গেলাপে যতন করে রেখে দিয়েছি । রমজানের পুর্বে রেখে আসা কু-অভ্যাস গুলোই বার বার লালন করা যেন জাতিগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা বিমুখ মানুষের মতই নিজেকে মিছে উপোস রেখে যেন আল্লাহর কাছে নিজেকেই তামাশায় পরিণত করেছি।

নীতি নৈতিকতাহীন স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুব্ধ আজ আমরা যেন ধেয়ে আসা উলঙ্গ সভ্যতার সংস্কৃতির হিংস্র স্রোতে ভেসে চলেছি কোন এক অজানার দিকে। তীর হারা জাহেলিয়াতের এ ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে যেন নিজেদের গন্তব্যকে হারিয়ে ফেলেছি জনমের মত।

সৌর্য বীর্য আর খ্যাতিতে কালজয়ী ইতিহাস সৃষ্টিকারী স্রষ্টার অকুতভয় সেই দুঃসাহসী মানুষগুলোর ঈর্ষণীয় কৃতিত্বের দাবীদার এ ‘রমজান’ হোক আমাদের সীসা ঢালা প্রাচীর সম চরিত্র গড়ার অঙ্গীকার। সত্যর পতাকা উড্ডয়নে প্রতিটি নির্যাতিত মুসলমান হোক হিমালয় পাহাড় সম ঈমানের মুর্ত প্রতীক। বরফ গলা সমুদ্রের নোনা পানিতে ধূয়ে মুছে যাক সব অতীতের গ্লানি। আল্লাহর দ্বীনকে বুকে ধারণ করার মাধ্যমে প্রতিটি হৃদয় হোক প্রশান্ত মহাসাগরের মত উদার। আখেরাতে জান্নাতের প্লট এবং ফ্লাট পাওয়ার প্রত্যাশায় দুনিয়ার প্রতিটি জনপদ হোক দায়ীদের একচ্ছত্র বিচরণ ভূমি। কাবার মিনার থেকে ভেসে আসা আজান ইথারে ভেসে ভেসে আঘাত হানুক প্রতিটি ঘুমন্ত নামধারী আর অবিশ্বাসীর কর্ণকুহরে। আকাশ বাসীদের পদচারণায় বছরের প্রতি মাস হোক মাহে রমজানের মত বরকতময়।

কলমের কালিতে উগলে দেয়া প্রতিটি শব্দ হিরোশিমা আর নাগাসাকির মত অবিশ্বাসীদের বিদ্রোহী মনকে জ্বালিয়ে দিয়ে তৈরী হোক ভ্রাতৃত্ব বোধ আর সহমর্মিতায় ভরা এক নতুন বিশ্ব –
এ প্রত্যাশায়।

প্রবাসী মজুমদার
জেদ্দা, সৌদি আরব।

 

মাক্সিম গোর্কির ‘মা’: শ্রমিকের অধিকার

নাজমুল হক


‘হ্যাঁরে, এমনি করে যদি মদ খাস, আমায় খাওয়াবী কী করে বল তো?
চোখ সেঁটে বন্ধ করে জবাব দেয় পাভেল:
‘সব্বাই তো মদ খায়….
মায়ের দীর্ঘশ্বাস পড়ে। ঠিকই তো বলছে। ও নিজে তো জানে, এক ওই শুড়িখানায়ই যা হোক ছিটেফোটা সুখের সোয়াদ পায় মানুষগুলো।

তবু বলে, ‘তাই বলে তুই মদ ধরিস নি, বাবা। তোর বাপ তো অনেক খেয়ে গিয়েছে। তার হাতে আমার দশাটা দেখেছিস তো…. তুইও আমার মুখের দিকে চাইবি না?’

গাল বেয়ে চোখের জল গড়িয়ে পড়ে মায়ের।
ছেলে আস্তে আস্তে বলল, ‘কেঁদো না মা। একটু জল দাও।’
‘দাঁড়া, বরফ দিয়ে জল নিয়ে আসি…..’

বই নিয়ে আসতে লাগলো পাভেল্ বাড়িতে। লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ে। পড়া শেষ হলে লুকিয়ে রেখে দেয়। মাঝে মাঝে কি সব যেন টোকে বই থেকে। তাও লুকিয়ে রাখে।…….

‘এই শুধোচ্ছিলাম, মুখ গুঁজে এ সব কী পড়িস তুই!’ আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করে।
বই বন্ধ করে পাভেল্ বলে, ‘বস মা।….’
‘এই যেসব বই পড়ছি দেখছ, এসব পড়া নিষেধ। আমরা যারা খেটেখুটে খাই তাদের সম্বন্ধে সব সত্যি কথা লেখা আছে কিনা, তাই পড়া নিষেধ এসব বই।… এগুলো গোপনে ছাপা হয়। এসবের খবর পেলেই আমাকে টেনে নিয়ে জেলে পুরবে।
হাঠাৎ যেন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে মায়ের। জিজ্ঞাসা করে, ‘আচ্ছা খোকা, তা হলে এসব পড়িস কেন?’
‘ভাব তো মা’, পাভেল্ বলে চলল, ‘কী জীবন আমাদের এখানে? তোমর বয়স চল্লিশ, তুমি কি সত্যি করে বেঁচেছ? বাবার মার খেয়েছ-এখন আমি বুঝি কেন তোমায় বাবা মারত। নিজে নরক ভোগ করেছে, তার শোধ তুলেছে তোমার উপর। কষ্ট পেয়েছে, অসহ্য মনে হয়েছে; কিন্তু কখনও বোঝেছে কেন এমন হয়। বাবা এই কারখানায় কাজ করেছে ত্রিশ বছর। শুরু করেছিল সেই যখন মোটে দুটো বাড়ি নিয়ে। সেই জায়গায় এখন সাতটা।’
‘কোন দিন একটুকু আনন্দ পেয়েছ, মা? মনে করে রাখার মত কী ছিল তোমার জীবনে?’
মা- ‘কী করতে চাস এখন?’
পাভেল্ বলে- ‘প্রথমে নিজের পড়াশোনা। তারপর অন্যদের। আমাদের শ্রমিকদের পড়তে হবে, জানতে হবে আমাদের জীবনে এতো কষ্ট কেন?’
মা ভাবে ছেলের মাঝে কত পরিবর্তন! কি বুদ্ধিদীপ্ত।

মায়ের চোখের সামনে সব অন্ধকার…. বোঁ-বোঁ করে ঘুরছে সব। সকল অবসাদ ঝেড়ে ফেলে যেটুকু শক্তি বাকি ছিল, তাই দিয়ে চিৎকার করে জড় হওয়া হাজার হাজার মানুষের উদ্যেশে বলে:
‘এক হও, এক হও, সব মানুষ এক হয়ে এক বিরাট শক্তি গড়ে তোল!’
একজন পুলিশ থাবা দিয়ে কলার ধরে মাকে ঝাঁকুনি দিয়ে বলে- ‘চোপরাও!’
মা বলে- ‘কিছুতেই ভয় পেও না।
আর বেশি কী ভয়ঙ্কর আছে বলতো?
যে জীবন তোমরা কাটাচ্ছ তার চাইতে?’
‘মুখ বন্ধ করলি’ এই বলে হ্যাঁচকা টানে মাকে নিয়ে চলে পুলিশ।

এটি ছিল মাক্সিম গোর্কির ‘মা’ উপন্যাসের কিছু অংশ।

কত টুকু অধিকার শ্রমিক পেয়েছে জানিনা। তবে মে দিবস ও শ্রমিককে পুজি করে আনেক সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তার উদাহারন আমাদের আশেপাশে অনেক।

আমি তখন ছোট। ১৯৯৩ সালে মে দিবসের শ্রমিক সমাবেশ শেষে আমাদের কাপড়ের দোকানের কারিগর মালেক ভাই দুপুর ৩টায় দোকানে এলে বললাম কি খবর ভাই- মুখ শুকনা কেন? মন খারাপ কেন?

আর বলো না একটা বাজে গালি দিয়ে বলল- ‘কেউ খাবে, কউ খাবে না’ এই শ্লোগান দিয়ে নেতারা ৪/৫টা করে খাবার প্যাকেট নিলো আর আমরা সারা দিন না খেয়ে রোদে মিছিল করে এক প্যাকেটও পেলাম না। আর জীবনে এই সব সমাবেশে যাব না।

মালেক ভাই না গেলেও অনেকেই এখন যায়। শ্লোগান দেয় দুনিয়ার মজদুর এক হও। এলাকার অনেকেই শ্রমিক মালেকদের সমনেই আজ অনেক সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক এই মে দিবস ও মালেকদের পুঁজি করে। কত মে দিবস আসে যায় ভাগ্য বদলায় না শুধু মালেকদের।