banner

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পর্দার বিধান

পর্দা মেনে চলা ফরজ। তা শুধামাত্র মহিলাদের জন্যই নয়; বরং পুরুষের জন্যও পর্দা ফরজ। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা পর্দার সম্পর্কে কঠোরভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(হে নবি! আপনি) মুমিনদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে, এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত এবং মুমিন নারীদের বলে দিন তারাও যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। তারা যেন স্বাভাবিকভাবে যা প্রকাশিত তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য মাথার কাপড় দিয়ে আবৃত করে রাখে।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

আল্লাহ তাআলা নারীকে পুরুষের চোখে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করেছেন। আবার পুরুষের আর্কষণও নারীর মধ্যে তৈরী করে দিয়েছেন। সে কারণেই ইসলামি শরিয়তের হুকুম অমান্য করে বেপর্দা হওয়া নারী এবং পুরুষের জন্য কোনো ভাবেই বৈধ নয়।

বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা নারীদের নিরাপত্তায় পর্দার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সুষ্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হে নারীগণ, তোমরা তোমাদের ঘরের মধ্যে অবস্থান কর। পূর্ববর্তী অন্ধকার যুগের মতো সাজসজ্জা করে পরপুরুষের সম্মুখে বাহির হবে না। নামাজ আদায় কর, জাকাত দাও এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য কর।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ৩৩)

পর্দা পালনকারী নারীরা আল্লাহর রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নারী গোপনীয় সত্তা, তারা যদি প্রকাশ্যে (বেপর্দা হয়ে লোকালয়ে) বের হয় তবে শয়তান তাদের দিকে উঁকি দিয়ে তাকায়। আর যে নারী তার ঘরের মধ্যে অবস্থান করে (পর্দা পালন করে) সে আল্লাহর রহমতের অধিক নিকটবর্তী থাকে।’(তিরমিজি)

সতর্কতা…
কুরআন ও হাদিসের আলোকে যাদের সঙ্গে পর্দা করা ফরজ তাদের সামনে বেপর্দা হয়ে খোলামেলা পোশাকে যাতায়াত করা বা অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করা হারাম এবং কবিরা গোনাহ।

কেউ কেউ পর্দার বিধানকে ধর্মীয় মনগড়া মতবাদ বলে আখ্যায়িত করা, মনে পর্দা বড় পর্দা; তাছাড়া পর্দা নিজের কাছে এমন কথা বলে পর্দার গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে অস্বীকার করে; যা কুরআন ও হাদিসকে অস্বীকার করা বৈ আর কিছুই নয়। শুধু পর্দার খেলাপ নয় বরং ইসলামে এ সব কথা-বার্তা বলাও মারাত্মক অপরাধ।

বেপর্দার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো প্রতিটি পদে পদে নারীরা হয়রানি হওয়া। ইভটিজিংয়ের স্বীকার হওয়া। পথে-ঘাটে, স্কুল-কলেজে, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব জায়গায় ঘৃণ্য ও নোংরা আচরণ স্বীকার হওয়া এবং অশ্লীল বাক্যবানে জর্জরিত হওয়া।

ফ্যাশনের নামে নারী ও পুরুষকে বেপর্দা করার যে হিড়িক শুরু হয়েছে, তা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশান্তির এক মরণ ব্যাধি। মুসলিম উম্মাহর উচিত অশালীন পোশাক পরিহার করে, শালিন পোশাক পরিধান করা। প্রত্যেককেই নিজের আত্ম-সম্মানবোধ এবং সৌন্দর্যের হিফাজত করা।

পরিশেষে…
নারী ও পুরুষের সংযত জীবন-যাপন ব্যক্তি-পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাইতো আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে সমগ্র মানবকুলকে হুশিয়ার করে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘হে মানবকুল তোমরা এ শান্ত পৃথিবীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি কর না।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং নারী ও পুরুষদের আত্ম-সম্মানবোধ ও মর্যাদা রক্ষায় পর্দার পরিপূর্ণ বিধান পালন করে তাকওয়া অবলম্বন করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ায় সুন্দর জীবন এবং পরকালের চিরস্থায়ী সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

আঠারোর নিচে বিয়ে নয়, তবে…

মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছরই থাকছে। তবে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’ শীর্ষক আইনের খসড়ায় বিশেষ ধারায় ‘বিশেষ ক্ষেত্রে’, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের ‘সর্বোত্তম স্বার্থ’ বিবেচনায় বিয়ে হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না বলে উল্লেখ আছে।

এই বিশেষ ধারার অপব্যবহার বন্ধে আইনেই ব্যবস্থা থাকবে বলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি আশ্বস্ত করলেও নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের শঙ্কা দূর হয়নি। খসড়াটি খুব শিগগির মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হবে উল্লেখ করে মেহের আফরোজ গত রোববার মুঠোফোনে বলেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে আইনে একটি বিশেষ ধারা থাকছে। তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ বছরই থাকছে। কঠোর আইন হচ্ছে। তবে আইনের খসড়ায় বিশেষ ধারা আছে, তা সত্য।’

সরকারের বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার কারণে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ ধারার অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা আছে—এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এ ধারার অপব্যবহার করে, তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। আর আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। জাতীয় সংসদ ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হবে। আর শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না, আইনটি মানার জন্য মানসিক প্রস্তুতিও প্রয়োজন। সরকার সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আইনের বর্তমান খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেও সরকার বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ করার পরিকল্পনা করছে বলে জানাজানি হলে তা সমালোচিত হয়। তখন আইনের খসড়ায় যুক্ত করা হয়, ‘যুক্তিসংগত কারণে মা-বাবা বা আদালতের সম্মতিতে ১৬ বছর বয়সে কোনো নারী বিয়ে করলে সেই ক্ষেত্রে তিনি “অপরিণত বয়স্ক” বলে গণ্য হবেন না।’ খসড়া আইনটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরে যে অনুশাসন দেন, তাতে বলা হয়, ‘বিয়ের বয়স ১৮, তবে পিতা-মাতা বা আদালতের সম্মতিতে ১৬ বছর সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সামাজিক সমস্যা কম হবে।’
বর্তমানে আইনের যে চূড়ান্ত খসড়া, তাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো বিশেষ কারণে প্রতিবন্ধী কোনো মেয়ে বা সামাজিক জটিলতার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ যেসব ক্ষেত্রে আর কোনো পথ নেই, সেসব ক্ষেত্রে বিশেষ ধারা প্রযোজ্য হবে। বিধিতে এ সম্পর্কে বলা থাকবে। মনে রাখতে হবে যে এটি বিশেষ ধারা, সব আইনেই এ ধরনের বিশেষ ধারা থাকে।’
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা  বলেন, বিশেষ ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সের কম যে কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে। আইনের বিধিতে বিশেষ কারণ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কারা, সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা থাকবে। সেই বিধি অনুযায়ী বিয়ে হলে তা অপরাধ হিসেবে আর গণ্য হবে না। তবে নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা বরাবরের মতোই বলছেন, আইনে এ ধরনের বিধান থাকলে সামাজিক সমস্যা কমবে না, বরং বাড়বে।

জটিলতার শুরু: ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাজা ও জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই খসড়ায় নাবালকের সংজ্ঞায় পুরুষ হলে অন্যূন ২১ এবং নারী হলে অন্যূন ১৮ বছরের কথা উল্লেখ ছিল। একই বৈঠকে ১৯২৯ সালের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ছেলেদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে ১৮ এবং মেয়েদের ১৮ থেকে ১৬ করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরই বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এ নিয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় থেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আইনের খসড়া চালাচালি চলে দীর্ঘদিন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠন সরকারকে বিশেষ শর্ত বা ধারা যুক্ত করে মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম  বলেন, ‘আইনে যদি শেষ পর্যন্ত বিশেষ ধারা বহাল থাকে, তাহলে বলতে হবে আমরা বাংলাদেশের বিদ্যমান ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছি না বা মূল্যায়ন করছি না। বিশেষ কারণ বলে সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত যে যুক্তিগুলো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তা-ও গ্রহণযোগ্য না।’

শিশু আইন, শিশুনীতিসহ বিভিন্ন আইন ও নীতি এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদসহ বিভিন্ন সনদ অনুসমর্থন করে সরকার ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। শিশু অধিকার সনদে ছেলে ও মেয়ের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ নির্ধারণের জন্য অনুসমর্থনকারী দেশগুলোকে অনুরোধও করা হয়েছে। তাই আইনে ‘বিশেষ ধারা’ সাংঘর্ষিক হবে বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত। আর এ ধারা সামনে রেখে শুধু ১৬ কেন, এর কম বয়সেও অভিভাবকেরা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেবেন।

বিশেষ ধারা সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক: দশম জাতীয় সংসদে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহযোগিতায় সংসদ সচিবালয়ে ‘স্ট্রেনদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইনটেগরেটিং পপুলেশন ইস্যুজ ইনটু ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্পে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রমের আওতায় স্পিকার সাংসদদের অংশগ্রহণে ‘বাল্যবিবাহ সাব-কমিটি’ গঠন করেছেন। জাতীয় সংসদ ও ইউএনএফপিএর প্রচারপত্রে এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে দেওয়া মানেই একজন ‘শিশু’র বিয়ে দেওয়া। এ ধরনের বিয়ে শিশু অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘গার্লস নট ব্রাইড’ স্লোগান সামনে রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জেলা ও উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কার্যপরিধিতে বাল্যবিবাহ রোধের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) উদ্ভাবনী উপায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জিআইইউ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করেছে, দেশের মানুষ বাল্যবিবাহ জানে না বা সচেতন নয় তা বড় সমস্যা নয়, এখানে মুখ্য সমস্যা জানে, কিন্তু মানে না। তাই এই বাস্তবতায় বাল্যবিবাহ নিরোধের কৌশল হিসেবে আইন মানানোকে মুখ্য ধরতে হবে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক  বলেন, ‘আমরা আমাদের কথা বলে যাব, মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ বছর হবে আর আইনে বিশেষ ধারা বলে কোনো ধারা গ্রহণযোগ্য হবে না।’

 

কর্মজীবনে ঈর্ষার নেতিবাচক ৫ প্রভাব

অন্যকে ঈর্ষা করা- কেবল এই একটি কারণেই অনেকে তাদের পেশাগত জীবনে সফল হতে পারেন না। বেশিরভাগ সময়েই তারা নিজের প্রতিভা ও জ্ঞানের অবমূল্যায়ন করেন, নিজেরা কি সেটা না ভেবে নিজেরা কি নয় সেটা ভেবেই নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট করেন। পেশাগত জীবনে সফল ব্যাক্তিরা কখনোই অন্যের মন্তব্য নিয়ে মাথা ঘামাননা। বরং নিজের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে কি করে নিজের প্রতিষ্ঠানকে আরো ভালো কিছু দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করে থাকেন।  ঈর্ষা খুব স্বাভাবিক অথচ বিপদজনক একটি আবেগ যার মুখোমুখি আমাদের প্রতিদিনই হতে হয়। এটাকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। কিন্তু দমিয়ে রাখা সম্ভব। সফলতার কঠিন রাস্তায় নতুন পথিকেরা প্রায়ই  ঈর্ষা নামক এই ছোট্ট বিষয়টির কারণে হতাশ হয়ে পড়েন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে ধ্বংস করে ফেলেন।

নিচে মানুষের কর্মজীবনের ওপর ফেলা  ঈর্ষার কিছু নেতিবাচক প্রভাব দেওয়া হল-

১. প্রতিযোগিতার মনোভাব কমিয়ে দেয়

ঈর্ষা মানুষের মধ্যে থাকা লড়াকু মনোভাব কমিয়ে দেয়। ঈর্ষান্বিত ব্যাক্তি সবসময়ই অন্যের সাথে নিজের তুলনা করে। ফলে তার নিজের কাজের দিকে খুব কম সময়েই মনযোগ দিতে পারে সে। ফলে তার কাজের মান যায় কমে। সেখান থেকে তৈরী হয় নিজের প্রতি হতাশা।  ঈর্ষা ব্যাক্তির চোখের ওপর একটা মিথ্যে আবরণ তৈরী করে। ফলে সে সেই আবরণ ভেদ করে কখনোই নিজের মধ্যে থাকা প্রতিভাগুলোতে খুঁজে বের করতে পারেনা। আর এভাবেই অনেক প্রতিভাবান মানুষ  ঈর্ষার কারণে নিজের কর্মজীবনে হয়ে যায় ব্যর্থ।

২. নিজের প্রতি বিশ্বাস কমিয়ে দেয়

ঈর্ষা মানুষের মধ্যে নিজের ওপরে থাকা বিশ্বাসকে কমিয়ে দেয়। অন্য কারো সাথে নিজেকে যাচাই করার সময় মানুষের মন তিক্ত থাকে আর সেই তিক্ততা খুব সহজেই নিজের ভেতরে তৈরী করে ফেলে নিজেকে নিয়েই নতুন এক তিক্ততা। মানুষ এমন অবস্থায় নিজেকেই ভরসা করতে পারেনা। বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে নিজের ওপর।

 ৩. নিজের প্রতিভার অবমূল্যায়ন

ঈর্ষান্বিত মানুষ কর্মজীবনে নিজের চাইতে ভালো কারো সাথে নিজের তুলনা করে এবং সভাবতই হতাশ হয়ে পড়ে। সে ভুলে যায় যে তারও কিছু নিজস্ব প্রতিভা আছে যেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে খুব সহজেই সেও নতুন কোন উপায়ে ঠিক ততটাই ভালো অবস্থানে যেতে পারে যতটা এখন অন্য মানুষটা রয়েছে। অপেক্ষা কেবল তার নিজের ভেতরে থাকা প্রতিভাগুলোর সঠিক মূল্য জানার এবং সেগুলোকে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করার।

৪. যোগাযোগের ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়

ঈর্ষা মানুষের মাঝে তৈরী করে একধরনের একঘরে মানসিকতার। এসময়  ঈর্ষান্বিত ব্যাক্তি অন্যের প্রতি জমে থাকা  ঈর্ষার ফলে কারো সাথেই স্বাভাবিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেনা। ফলে নিজের অজান্তেই সে চলে যায় সমাজ থেকে অনেকটা দূরে।

৫. কাজের গতিবেগ ব্যাহত হয়

ঈর্ষান্বিত ব্যাক্তির নিজের ও নিজের প্রতিভার ওপর তেমন একটা মনযোগ থাকেনা। তার সব চিন্তা ভাবনা জুড়েই থাকে অন্য সবাই এবং তাদের সাথে নিজেকে যাচাই করে দেখা। ফলে নিজের লক্ষ্য এবং কৌশল সে স্থির করতে পারেনা। আর নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকার ফলে তার কাজের গতিবেগ সবসময়ই ব্যাহত হয়।

লিখেছেন-

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

 

মেজবানি গরুর মাংস রান্না করার রেসিপি !

চট্টগ্রামে বিখ্যাত মেজবানি মাংস আক্ষরিক অর্থেই অতুলনীয় একটা খাবার। যিনি একবার খেয়েছেন, আজীবন তাঁর মুখে লেগে থাকবে এর স্বাদ। তবে হ্যাঁ, মজাদার এই খাবারের “সিক্রেট” রেসিপি কিন্তু বাবুর্চিরা দিতে চান না। তাই ঘরেই যতই রান্না করুন না কেন, ঠিক যেন বাবুর্চির হাতের স্বাদ মেলে না।

 

চিন্তা নেই, এখন থেকে আপনার রান্না মেজবানি মাংসও হবে ঠিক বাবুর্চিদের মতই। কেননা আমি নিয়ে এসেছি সেই দারুণ সহজ রেসিপি। এই রেসিপিতে আপনি সহজেই আনতে পারবেন সেই অসাধারণ সুস্বাদ।

উপকরণ

গরুর মাংস ২ কেজি (ছোট টুকরা করে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নেয়া)

২ কাপ পেঁয়াজ কুচি করা। ও ১ কাপ পেঁয়াজ বাটা।

তেল ১/২ কাপ (সয়াবিন + সরিষার)

আড়াই টে চামচ আদা বাটা

দেড় টে চামচ রসুন বাটা

১ চা চামচ করে শাহি জিরা ও ধনিয়া গুঁড়া।

১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া

ঝাল বিহীন স্পেশাল শুকনা মরিচ গুঁড়া ৩-৪ টে চামচ বা পরিমান মতো (আমি এখানে কাশ্মিরি শুকনা মরিচ গুঁড়া ব্যবহার করেছি। এটায় ঝাল কম হয়ই বাট কালার টা অনেক সুন্দর হয়। চট্টগ্রামে ব্যবহার করা হয় মিষ্টি মরিচ গুঁড়া। )

৮-১০ টা কাঁচা মরিচ (বা নিজের পরিমাণ মতো)

১ টে চামচ চিনি

৩/৪ টা তেজ পাতা।

৪/৫ টা ভাজা আলু (ইচ্ছা। আপনি খেতে চাইলে দিতে পারেন)

মেজবানি মাংস স্পেশাল মশলা

২-৩ টা এলাচ,

২ টুকরা দারচিনি (১” সাইজ),

৪-৫ টা লবঙ্গ,

১/৮ পরিমাণ জায়ফল,

১/২ চা চামচ জয়ত্রি,

গোলমরিচ ৫-৬ টা,

১/২ চা চামচ পোস্তদানা সব একসাথে পানি দিয়ে বেটে পেস্ট করে নিতে হবে।

প্রনালি

  • -পেঁয়াজ কুচি, চিনি ও তেজপাতা ছাড়া বাকি সব উপকরণ মাংসের সাথে মাখিয়ে ১ ঘণ্টা রাখতে হবে
  • -একটা পাত্রে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও তেজ পাতা দিয়ে হালকা লাল হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে।
  • -ভাজা হয়ে গেলে এবার মাখান মাংস দিয়ে কিছুক্ষণ কষাতে হবে। ৪-৫ মিনিট।
  • -এবার বেশি করে পানি দিয়ে ঢেকে দিন। অল্প আঁচে রান্না করতে হবে। ১ ঘণ্টার মতো।
  • -রান্না করার সময়ই ঢাকনা টা ভালো করে সিল করে নিতে হবে।
  • -হয়ে গেলে নামানর আগে ভাজা আলু দিয়ে দিন।

 

মনে রাখুন

  • -সব মশলা ভালো করে পেস্ট করতে হবে।
  • -মাংস ভালো করে পানি ঝড়িয়ে নিতে হবে।
  • মাংসের পিস ছোট ছোট হতে হবে।
  • -সবচেয়ে জরুরি রান্নার পাত্রের ঢাকনা অবধাকনা ভাল করে সিল করে নিতে হবে। ও অল্প জ্বালে রান্না হবে।

 

নাহিদার ‘আইটি সলিউশন’

কিন্তু শুরু করতে গিয়ে হোঁচট খান। কে দেবে টাকা? নিজের গয়না বন্ধক রেখে ৬০ হাজার টাকা ঋণ করেন স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। দুটি কম্পিউটার দিয়ে প্রথম মাসে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে বেশ ভালো আয় হয়। এরপর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি নাহিদা পারভীনকে।

নাহিদা পারভীন নিজে তথ্যপ্রযুক্তির ছাত্রী নন, তবু এ খাতের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। নিজেই গড়ে নেন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ। তাঁর প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দুটি কাজ করছে। একটি আউটসোর্সিং এবং অপরটি প্রশিক্ষণ। তিনি বলেন, শুধু বাইরের গ্রাহকদের ওপর নির্ভরশীল না থেকে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছেন।

নাহিদা পারভীন জানান, আইটি সলিউশনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি প্রতি মাসে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় একটি করে কর্মশালার আয়োজন করা হয়ে থাকে। কর্মশালাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রোগ্রামিং আড্ডা’। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ওপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকেরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সেই সব বিষয়ে আউটসোর্সিংয়ের প্রচুর কাজ আসে। সেই কাজগুলো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে করা হয় বলে নাহিদা পারভীন জানান।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচিগুলোর অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পায় আইটি সলিউশন। ২০১৪ সালে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসেবে ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক থেকে স্বীকৃতি অর্জন করেন নাহিদা।

গত তিন বছরে আইটি সলিউশন থেকে হাজারখানেক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে বেরিয়ে নিজেরাই আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছে। ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ উন্নত মানের একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে নাহিদার।

 

নারীর জন্য এক টুকরো আশ্রয়

তবে এই প্রতিবেদক সেখানে থাকতে থাকতেই আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে উত্তরা থেকে এলেন জেসমিন আক্তার। তিনি এখানে থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনি সহায়তা চান। এখানকার খোঁজ কীভাবে পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি লেখা পড়ে জেনেছেন। জেসমিন বলেন, হকারের কাছ থেকে ধার করে প্রতিদিন তিনি পত্রিকাটি পড়েন।

আরিফা নাজনীন বললেন, প্রতিদিন কাজের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারীরা রাজধানীতে আসেন। তাঁদের অনেকেরই কোনো থাকার জায়গা নেই। এতে অনেক সময় তাঁরা খারাপ মানুষের খপ্পড়ে পড়েন। নানা রকম ঝামেলায় জড়িয়ে যান।

২০১২ সালের জুলাই মাসে মূলত দরিদ্র নারীদের আবাসিক সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রকল্পটি চালু হয়। তবে দরকার হলে যেকোনো অবস্থার নারী এখানে থাকতে পারেন। মায়েদের সঙ্গে শিশুরাও থাকতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় প্রথম পাঁচ দিন বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়া যায়। এরপর কিছু ফি নেওয়ার নিয়ম আছে। তবে এখনো কারও কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। এর আগে একজন টানা চার মাস থেকে গেছেন। পুষ্টিহীনতার শিকার অথবা গর্ভবতী কোনো নারী থাকলে তার জন্য বাড়তি পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রকল্পের হিসাব বলছে, শুরু থেকে গত জুন পর্যন্ত প্রায় ১২০০ নারী এখানে আশ্রয় পেয়েছেন। গৃহকর্মী ও নির্যাতিত নারীই বেশি। পারিবারিক কলহের কারণে অনেক বিত্তশালী নারীও এখানে থেকেছেন।

এদের দুটি হেল্পলাইন ফোন নম্বর আছে: ০১৯৫৫৫৯০৬৪৬ এবং ০১৭৯০২২০৯৬৮। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। এখানে ফোন করে নারীরা থাকার সুযোগ চাইতে পারেন। প্রকল্পের আওতায় নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।

খাদিজা বেগম, পাখি আক্তার, আনোয়ারা বেগম ও রিনা আক্তার বিভিন্ন সময়ে এখানে থেকেছেন। প্রকল্পের দপ্তর থেকে নম্বর নিয়ে তাঁদের ফোন করলে তাঁরা বললেন, এমন ব্যবস্থা নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য সহায়ক। খাদিজা আক্তার এখানে নিজেও ছিলেন। আবার চিকিৎসার জন্য মাকেও রেখেছিলেন। আনোয়ারা বেগম স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে এখানে এসেছিলেন। পরে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ স্বামীকে ডেকে বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছেন। খাদিজা ও আনোয়ারা রাজধানীতে গৃহকর্মীর কাজ করেন।

রাজধানীতে মাঠপর্যায়ে কারিতাসের ২৭ জন কর্মী আছেন। তাঁদের মাধ্যমেই মূলত নারীরা এ আশ্রয়ের খোঁজ পান। সম্পূর্ণ অপরিচিত হলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তাঁদের রাখা হয়। তবে পরিচিত কারও মাধ্যমে এলে জিডি লাগে না।

একজন সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা রক্ষী এই নিরাপদ নিবাস পাহারা দেন। লিলি হালদার তিন বছর এখানে রান্নার কাজ করছেন। তিনি বললেন, রান্না করতে ভালো লাগে। তবে স্বামীর সঙ্গে যাঁদের সমস্যা, তাঁরা না খেয়ে কান্নাকাটি করেন। তখন তাঁদের বারবার খাবার খেতে বলতে হয়। মাঝেমধ্যে এটা তাঁর ভালো লাগে না।

এখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সাদামাটা। ঘরদোর যথেষ্ট ঝকঝকে তকতকে না। আরিফা নাজনীন বললেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তাঁরা নতুন ভবনে উঠে যাবেন। তখন এই নিবাসের সুযোগসুবিধাও বাড়বে।

 

পা ফাটা ঠেকাতে ঘরোয়া সমাধান

শীত আসছে। সবাই এ সময় ত্বকের একটু বাড়তি যত্ন নিয়ে থাকেন। তবে পায়ের গোড়ালির দিকে নজর একটু কমই থাকে। এ সময় অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। যাঁরা এ বিড়ম্বনায় পড়তে চান না, তাঁরা একটু বাড়তি যত্ন নিতে পারেন।

শুষ্ক মৌসুম আর আর্দ্রতার ঘাটতিতে এ সমস্যা হয়। পা ফাটলে পায়ের গোড়ালিতে যন্ত্রণা হতে থাকে। পায়ের গোড়ালি ফেটে গেলে তা সারাতে ঘরোয়া কিছু সমাধান নিজেই করতে পারেন। পা ফাটা সারানোর উপায়গুলো জেনে নিন:

মোমবাতির মোম: মোমবাতির মোমের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে তা ফাটা স্থানে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। এতে পা ফাটা সেরে যাবে।

গ্লিসারিন ও গোলাপজল: গোলাপজলের সঙ্গে কিছুটা গ্লিসারিন মিশান। এই মিশ্রণ পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। এতে পা ফাটা ও ব্যথা কমবে।

তিলের তেল: পা ফাটা সমস্যা সমাধানে তিলের তেল দারুণ কার্যকর। পায়ে তিলের তেল মাখলে পা ফাটা দূর হয়।

ভ্যাসলিন ও লেবুর রস: ভ্যাসলিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে তা ফাটা স্থানে মালিশ করুন। এতে ওই মিশ্রণ সেখানে শোষণ হয় বলে পা ফাটা দ্রুত সেরে যায়।

মধু-পানি: এক কাপ মধু আধা বালতি গরম পানিতে মিশিয়ে এতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এতে পা ফাটা দূর হবে। তথ্যসূত্র: জিনিউজ।

 

‘মেয়ের’ বিয়েতে আমির

ভারতের হরিয়ানার কুস্তিগির মহাবীর সিং ফোগাতের জীবনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে দঙ্গল ছবিটি। সেখানে দুই মেয়ে গীতা ও ববিতাকে কুস্তির প্রশিক্ষণ দেন মহাবীরের চরিত্রে অভিনয় করা আমির খান। যে মেয়েটিকে নিয়ে ছবির গল্প, সেই গীতার বিয়েতে হাজির হয়েছিলেন এই বলিউড তারকা।
হরিয়ানার বাবালি গ্রামে কুস্তিতে সোনা জিতেছিলেন গীতা ফোগাত। গত রোববার তাঁর বিয়ে হয়ে গেল। গীতার বাবা, বাস্তবের মহাবীরের নেমন্তন্ন পেয়ে সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন আমির খান, সঙ্গে দঙ্গল ছবির পুরো দল। দঙ্গল ছবির প্রস্তুতির সময় আগেও ওই গ্রামে গিয়েছিলেন আমির। সে সময় মহাবীরের পরিবারের সঙ্গে বেশ সখ্য গড়ে ওঠে তাঁর। তাই গীতার বিয়ের নেমন্তন্ন ফেলতে পারেননি তিনি। ইচ্ছা ছিল, উপহার হিসেবে কনের বিয়ের পোশাকটি তিনিই দেবেন। কিন্তু ঐতিহ্য অনুযায়ী গীতা তাঁর বিয়ের পোশাকটি পেয়েছেন মামার কাছ থেকে। আমির নিয়েছিলেন ঝুড়িভর্তি ফল। এ ছাড়া ফোগাত পরিবারের উদ্দেশে তিনি উৎসর্গ করেন দঙ্গল ছবিটি। এ প্রসঙ্গে আমির বলেছেন, ‘গীতার বিয়েতে ওর পরিবারকে দঙ্গল ছবিটি উপহার দিলাম।’
দঙ্গল মুক্তি পাবে ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ। ছবিতে গীতা ফোগাতের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফাতিমা সানা শেখ। এ ছাড়া মহাবীরের আরেক মেয়ে ববিতার চরিত্রে সানিয়া মালহোত্রা ও স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাক্ষী তানোয়ার।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।