banner

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

নারীর গড় মজুরি কমেছে

দেশের মজুরি পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। নারী-পুরুষনির্বিশেষে দুই বছরে মাসিক মজুরি বা বেতন গড়ে মাত্র ৪৯ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে শ্রমিক ও চাকরিজীবীরা প্রতি মাসে গড়ে ১১ হাজার ৫৪২ টাকা মজুরি পান। ২০১৩ সালে এর পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৪৯৩ টাকা।
আবার পুরুষদের গড় মজুরি বাড়লেও নারীদের কমেছে। দুই বছরের ব্যবধানে নারী শ্রমিক বা চাকরিজীবীদের মজুরি ৩১৯ টাকা কমে গড়ে ১০ হাজার ৮১৭ টাকা হয়েছে। আর ১১২ টাকা বেড়ে পুরুষদের হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৩ টাকা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ২০১৫ সালের ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২ কোটি ৩১ লাখ নারী-পুরুষ মজুরি বা বেতন পান। দুই বছর আগে এমন কর্মজীবীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার।
বর্তমান শ্রমশক্তিতে ৬ কোটি ১৪ লাখ নারী-পুরুষ আছেন। এর মধ্যে কোনো না কোনোভাবে কাজে সম্পৃক্ত আছেন ৫ কোটি ৮৭ লাখ। যাঁরা সপ্তাহে কমপক্ষে এক ঘণ্টা করে কাজ করেন, তাঁদের কর্মজীবী হিসেবে ধরা হয়। শ্রমশক্তিতে থাকা বাকিরা সবাই বেকার। কর্মজীবীদের কয়েকটি ধরন আছে। যেমন প্রতিষ্ঠানের মালিক বা নিয়োগকর্তা, মজুরি কিংবা বেতনভুক্ত কর্মী, বিনা মজুরিতে সংসারের কাজে সহায়তাকারী। মজুরি বা বেতনভুক্ত এই বিপুলসংখ্যক কর্মীর মধ্যে ৩৮ শতাংশ বা ৮৭ লাখের বেশি দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি পান। আর অর্ধেক বা প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ নারী-পুরুষ মাস শেষে বেতন পান, চাকরি করেন।
বিবিএসের ২০১৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, সে সময়ে একজন নারী কর্মী মাসে গড়ে ১১ হাজার ১৩৬ টাকা মজুরি পেতেন। পরের দুই বছর তাঁদের গড় মজুরি তো বাড়েইনি, বরং কমে ১০ হাজার ৮১৭ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, পুরুষেরা এখন মাসে গড়ে ১১ হাজার ৭৩৩ টাকা মজুরি পান। দুই বছর আগে তাঁরা পেতেন ১১ হাজার ৬২১ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান বলেন, বিবিএস হিসাবটি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) করেছে। তাই পুরো বছরের চিত্র আসেনি। কিছু দিন পর ধান কাটার মৌসুম এলে, এ খাতের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে এখনো পুরুষদের তুলনায় নারীদের মজুরি কম। আবার দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে নারীদের ধান কাটার কাজে নেওয়া হয় না।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের মজুরিভিন্নতা কেমন—সে চিত্রও উঠে এসেছে বিবিএসের সর্বশেষ জরিপে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকেরা সবচেয়ে বেশি বেতন পান। তাঁরা মাসে গড়ে ২৫ হাজার টাকা পান। বর্তমানে সারা দেশে এমন সাড়ে আট লাখ চাকরিজীবী আছেন। মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবহেলিত কৃষি খাতের শ্রমিকেরা। তাঁদের মাসে গড় আয় ৮ হাজার ৫৪৩ টাকা। সেই হিসাবে দৈনিক মজুরির পরিমাণ ২৮৪ টাকা।

গ্রাম ও শহরের মধ্যে এ মজুরিবৈষম্য রয়েছে। শহরে একজন শ্রমিক বা চাকরিজীবী মাসে গড়ে ১৩ হাজার ৭৭৬ টাকা পান। আর গ্রামে এর পরিমাণ ১০ হাজার ১২০ টাকা।

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, বিনা মজুরিতে গৃহস্থালির কাজে সহায়তাকারীর সংখ্যাও গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এখনো বিনা মজুরিতে ৭৩ লাখ লোক কাজ করেন। এঁদের অধিকাংশই নারী। গত দুই বছরে প্রায় ৩৩ লাখ লোক এই কাজ ছেড়ে মজুরি পাওয়া যায় এমন কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। ২০১৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপে বিনা মজুরিতে কাজ করা লোকের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬ লাখ।

বিবিএসের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মজুরিহীন কাজ থেকে মজুরি আছে এমন কাজে যোগ দিলে প্রথমে মজুরি কিছুটা কম পাওয়া যায়। এমন কাজে যোগদানকারীদের বেশির ভাগই নারী। তাই নারীর গড় মজুরি কমে গেছে।

 

গরমে আরাম দেবে ২ মিনিটের এই ৪টি খোঁপা

এই গরমে একটুখানি আরাম পাবার জন্য কত কিছুই না করছেন। বদলে ফেলেছেন পোশাক, বদলে ফেলেছেন পছন্দের মেকআপ এমনকি বদলে ফেলেছেন নিজের ফ্যাশন স্ট্যাইলটি। এত কিছু পরিবর্তন করার পরও গরমের হাত থেকে মেলে না রেহাই। বিশেষ করে যারা ঘরে বাইরে কাজ করেন, তাদের সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় ছুটাছুটি। এত ব্যস্ততার মধ্যে চুলটি ঠিকমত বাঁধার সময় পান না অনেকেই। একটি হাত খোঁপা অথবা পনিটেল বেনী করে ছুটে যান কর্মস্থলে। আবার অনেকেই এই গরমে চুল আঁচড়ানোর ঝামেলা এড়াতে ছোট করে ফেলেন চুল।

এমন কোন হেয়ার স্টাইল হলে কেমন হয় বলুন তো, যা কম সময়ে দ্রুত করা যাবে। আবার এই গরমে আরামও দেবে। দারুন তাই না? এমনি ৪টি খোঁপার সাথে পরিচয় করিয়ে দিব আজ আপনাদের। এই ৪টি খোঁপা করতে খুব বেশি সময় লাগে না। গরমে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি আপনাকে দিবে স্টাইলিশ লুক।

শুধু কি অফিস? একদমই না, এই খোঁপা বাঁধতে পারেন যেকোন অনুষ্ঠানে। খোঁপার সাথে জুড়ে দিতে পারেন পছন্দের কোন ফুল।

আসুন তাহলে এলিগেণ্ট, স্টাইলিশ ৪টি খোঁপা শিখে নিন ছোট এই ভিডিওর মাধ্যমে।

 

এক্সপার্ট গ্রাফিক্স ডিজাইনার হউন এবং ফ্রিল্যান্সিং এ সফল ক্যারিয়ার গড়ুন

ফ্রিল্যান্সিং কি সে সম্পর্কে মোটামুটি সব মানুষই এখন জানে। তারপরও কারো অজানা থাকতেই পারে। ফ্রীল্যান্সিং হচ্ছে স্বাধীনভাবে কোন কাজ করা। বাংলায় যাকে বলা হয় মুক্ত পেশাজীবি। কিন্তু বর্তমানে ফ্রীল্যান্সিং বলতে যারা অনলাইনে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করে তাদেরকে বুঝায়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ
বর্তমান সময়ের একটি আকর্ষণীয় পেশা হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন । যারা নিজেদের ক্রিয়েটিভ ধারনাকে রঙ তুলির মাধমে প্রকাশ করতে চান তাদের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি অন্যতম মাধ্যম । অন্যান্য সব চাকরির থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন পেশাটি সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝামেলা বিহীন। নিরাপদ ও ঝামেলাবিহীন বলার কারণ হলো অন্যান্য সব পেশার বিপরীতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কোনো কাজের অভাব হয় না। এটা একটি সন্মানজনক পেশাও।বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা খুব বেশি। লোকাল মার্কেটপ্লেস এবং ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসে গ্রাফিক্সের অভাবনীয় চাহিদা রয়েছে।

→ এবার তাহলে জেনে নেই গ্রাফিক্স ডিজাইন দ্বারা যে কাজ গুলো সচরাচর করা হয়ঃ
• Photo Editing
• Photo Retouching
• Image Manipulation
• Logo Design
• Web template
• Web Button
• Web Banner
• Advertisement Banner
• Business Cards
• Advertisements
• Book Design
• Brochures
• Billboards
• Product Packaging
• Posters
• Magazine Layout
• Newspaper Layout
• Greeting Cards
• Post Cards
• Flyer Design

→ গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের কর্মক্ষেত্রঃ
• ইন্টার‌অ্যাক্টিভ মিডিয়া
• জার্নাল
• কর্পোরেট রিপোর্টস
• মার্কেটিং ব্রোশিউর
• সংবাদপত্র
• ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস

→ একজন ভালমানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে আপনাকে কি কি জানতে হবেঃ

১. Adobe Photoshop সমন্ধে জানতে হবেঃ
Photoshop এর নতুন ভার্সন Adobe Photoshop CC দিয়ে আপনি প্রায় সব ধরনের ডিজাইন করতে পারেন। সেজন্য আপনার থাকতে হবে একটু সৃজনশীল ধারণা।

২. Adobe Illustrator সমন্ধে জানতে হবেঃ
ভেক্টর গ্রাফিক্স এর কাজ করতে হলে আপনাকে অবসশ্যই Illustrator জানতে হবে। তবে আপনি শুধু Adobe Photoshop CC জেনেও এখানে কাজ করতে পারবেন।

৩. Adobe InDisign সমন্ধে জানতে হবেঃ
Adobe InDesign CC হচ্ছে ইনডিজাইনের সর্বশেষ ভার্সন। বড় মাগাজিনের টাইপোগ্রাফি, লেআউট, ব্রুশিয়ার, বাউচার, ক্যালেন্ডার, ইবুক InDesign এর সাহায্যে খুব সহজে করা যায়। যা Photoshop বা Illustrator দিয়ে করা অনেক সময়সাধ্য এবং কঠিন ব্যাপার।

৪. ডিজাইন সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবেঃ
একটি সৃজনশীল ডিজাইন দিয়েই আপনি আপনার রয়েলিটি আয় করতে পারবেন। সেজন্য আপনার থাকতে হবে সৃজনশীল ও রুচিশীল ডিজাইনের ধারণা। সেক্ষেত্রে অনেক অনলাইন কমিনিউটি রয়েছে যারা গ্রাফিক্স নবীন গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের সাহায্য করতে পারে। তবে কোন এক্সপার্ট ডিজাইনার আপনাকে সবচেয়ে ভাল সাহায্য করতে পারে।আপনার আশেপাশের এক্সপার্ট থেকে শিখতে পারেন যে কিনা ফ্রীল্যান্স মার্কেটে কাজ করে।

আজ এ পর্যন্তই। আরো নতুন কোন আইডিয়া এবং টিউটোরিয়াল নিয়ে পরর্বর্তীতে আবার হাজির হব। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন।
সবাইকে ধন্যবাদ।

 

দশ বছর পর তাঁদের একসঙ্গে অভিনয়

এ সময় নিয়ে অনেক গবেষণায় হয়েছে। সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। শুধু বসে বসে ভাবতে হয় আহা সময় যে বয়ে যায়। এই বয়ে যাওয়া সময়ের বছর হিসেবে ১০ বছর। মানে বলছি অভিনেতা জাহিদ হাসান ও অভিনেত্রী নোভার কথা। তারা দুজনই জনপ্রিয় মুখ। টেলিভিশনে এই জনপ্রিয় মুখ দুটো একত্রে দেখেছিলেন কবে বলুন তো পাঠক? নিশ্চয়ই মনে নেই আপনাদের। মনে করিয়ে দিচ্ছি। নির্মাতা অনিমেষ আইচের পরিচালনায় ২০০৬ সালে ‘প্রেম ও ঘামের গল্প’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন তারা।

এটা ২০১৬ সাল। গুনে গুনে দশ বছর পর আবারো তারা একসঙ্গে অভিনয় করছেন। দর্শক এই মুখ দুটি আবারও দেখবেন পর্দায়। নাটকটির নাম ‘প্রিন্টিং মিসটেক’। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছন জনিপ্রয় নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার। ইত্যিমধ্যেই পহেলে মে পূবাইলের বিভিন্ন জায়গাতে নাটকটির দৃশ্যধারণ হয়েছে। আসছে ঈদুল ফিতরে নাটকটি প্রচার হবে একটি বেসরকারী চ্যানেলে।

 

মনে শান্তি এনে দেবে উপত্যকা ভ্রমণ

প্রকৃতি আমাদের প্রেরণা। যখন মন অশান্ত হয়, কিছুই ভাল লাগে না তখন আমরা প্রকৃতির কাছে যাই। মনকে প্রশান্ত করি। কর্মব্যস্ত জীবনের উদ্বেগ, হতাশা সব ভুলে আমরা শ্বাস নিতে চাই। নিজেকে কিছুদিন রাখতে চাই সব বাস্তবতা থেকে দূরে। এই চাওয়া পূরণ করতে হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ পাড়ি জমায় দেশ-বিদেশের নানান দিকে, সুন্দর যেখানে হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানায়, আলিঙ্গন করে ভালবেসে।

আপনার ভ্রমণ ডায়েরিতে এবার যোগ করুন উপত্যকা। বিশ্বের চমৎকার এইসব উপত্যকা যেমন শান্তিময় তেমনি চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য্যের আঁধার। আসুন জেনে নিই, বিশ্বের চমৎকার কিছু উপত্যকার কথা।

সাজেক ভ্যালি, বাংলাদেশ
চারিদিকে সবুজ সুউচ্চ পাহাড় আর আর তার মধ্যে অবর্ণনীয় সৌন্দর্য্যের বাস, যার নাম সাজেকভ্যালি। মেঘের রাজ্য সাজেক প্রতি বছর হাজারো দর্শনার্থীদের টেনে নেয় তার কাছে। শীত হোক বা গ্রীষ্ম সাজেক কখনোই হতাশ করবে না আপনাকে। তবে বর্ষায় সাজেকে চলে যাদুর খেলা। এই মেঘ এসে ঢেকে ফেলবে আপনাকে, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি, রংধণু। রাতের আকাশে তারা খসা দেখতে পারবেন হেলিপ্যাডে শুয়ে শুয়ে। শান্তির আবেশ পুরো গ্রামটিতে। যাতায়াত ব্যবস্থাও ভাল। স্বপ্নের মাঝে কাটিয়ে আসতে পারেন কয়েকটা দিন এখানে। রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি। তবে যেতে হয় খাগড়াছড়ি দিয়ে। দূরের নীল পাহাড় আর আকাশের মিলন হার মানায় রুপকথার গল্পকে।

বরুন ভ্যালি, নেপাল
বরুণ ভ্যালি হিমালয়ান এলাকাভুক্ত এবং মাকালু পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। এখানে মালাকু বরুণ ন্যাশনাল পার্ক আছে, সারাদিন বেড়াতে পারেন এখানে। যখনই আপনি বরূণ এ যান, এর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি এই পার্কটিতে যেতে ভুলবেন না। চারিদিকের পর্বতের সবুজ আর তার মধ্য দিয়ে ছুটে আসা জলপ্রপাত আপনাকে নিশ্চিতভাবেই মুগ্ধ করবে। গভীর গিরিখাতগুলো এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।

কালালাউ ভ্যালি, হাওয়াই
হাওয়াইএর কাওয়াই এর একটি দ্বীপে অবস্থান এই ভ্যালির। এই ভ্যালিতে আসতে আসতে চমৎকার যে বীচগুলো পেরিয়ে আসবেন তা ইতিমধ্যেই মন ভাল করে দেবে আপনার। কালালাউ বীচ তার অতুলনীয় সৌন্দর্য্যের জন্য অনেক ভ্রমণকারীরই বাকেট লিস্টে থাকে। আপনি যদি কালাউ ভ্যালি ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তবে জেনে রাখুন কোন যানবাহনই কিন্তু নেই সেখানে। পুরো ভ্যালি ট্রেকিং করে ভ্রমণ করতে হবে আপনাকে। তবে এর সৌন্দর্য্য আপনার সব ক্লান্তি দূর করে দেবে নিমেষে। এই ভ্যালিটিও ঘন সবুজ বৃক্ষে শ্যামল।

লটসচেন্তাল, সুইজারল্যান্ড
এই ভ্যালীটি শুধু বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ভ্যালীর একটিই নয়, এটি সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় আয়তনের ভ্যালী। আপনি যত চান ততো বেড়াতে পারবেন এখানে, ভ্যালীর কোণায় কোণায় ছড়ানো সৌন্দর্য্য, হতাশ হবেন না যেদিকেই যান। এটি ২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ভ্যালীটিকে ঘিরে আছে অপরূপ সব পর্বতমালা যাদের উচ্চতা ৩০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর সৌন্দর্য্যের বর্ণনা শেষ হবার নয়। এককথায় লটসচেন্তালের মৎ ২য় সুন্দর ভ্যালী হয় না, এটি অনন্য।

হারাউ ভ্যালি, ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রায় হারাউ ভ্যালির অবস্থান। হারাউ ভ্যালির প্রাকৃতিক দৃশ্য একবার চোখে দেখতে পারা যেন জীবন ধন্য হয়ে যাওয়া। আপনি যখন এই ভ্যালি ভ্রমণ করতে যাবেন পেরিয়ে আসতে হবে চোখ ধাঁধানো পর্বতের সারি, পাথুরে গঠনের ঘন বন আর ধানক্ষেত। আপনি হেঁটেই যেতে পারবেন ভ্যালিতে আর রাত কাটাতে পারবেন স্থানীয়দের ঘরে।

ভ্যালি অব টেন পিকস, কানাডা
এই ভ্যালিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কানাডা ন্যাশনাল পার্ক। দশটি অপূর্ব ভিন্ন ভিন্ন পিক দ্বারা ঘেরা ভ্যালিটি বিশ্বের সেরা ভ্যালিগুলোর অন্যতম। এখানে একটি মোরিন লেকও আছে যার টলটলে পানিতে প্রতিফলিত হয় পর্বতের চূড়া, চূড়ায় জমে থাকা বরফ, ভ্যালির সবুজ। সবমিলিয়ে মায়াবি মোহময় এক দৃশ্যের সুচণা হয় এই ভ্যালিতে। পাহাড়ের চূড়াগূলোর নাম আগে ছিল ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সংখ্যা। তবে এখন ৭ পর্যন্ত রেখে বাকি ৩ টির ভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে। আপনি মোরিন লেকের তীর ধরে চলে যাওয়া পথ বেয়ে পৌছে যেতে পারেন চমৎকার এই উপত্যকায়।

লিখেছেন
আফসানা সুমী

 

MRI সম্পর্কে ৯টি তথ্য যা আপনার জেনে রাখা জরুরী

আপনি কি MRI করানোর জন্য তারিখ নির্ধারণ করে ফেলেছেন?  MRI করানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে ফেলেছেন  ? তাহলে আপনার  কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন যা আপনার ডাক্তার আপনাকে জানান না। MRI সম্পর্কে এমন কিছু কথাই আজ জেনে নেই চলুন।

১। অবিশ্বাস্য জোরে শব্দ হয়

MRI করার সময় হাতুড়ি পেটার মত বা ড্রিল মেশিন দিয়ে ছিদ্র করার মত প্রচন্ড শব্দ হয়। ৮২-১১৮ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ হতে পারে। তাই MRI টিউবে প্রবেশের পূর্বেই নিজেই ফোম বা সিলিকন এয়ার প্লাগ নিয়ে নিন অথবা তাদের কাছ থেকে চেয়ে নিন। শিশুদের বা কোন কোন বয়স্কদের যারা ভয় পেতে পারেন তাদের জন্য শান্ত থাকার বা ঘুমিয়ে থাকার ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে।

২। অনেক বেশি সময় লাগতে পারে

কোন কোন সময় মাত্র ১৫ মিনিটের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। যার কারণে আপনার মনে হতে পারে যে ঘন্টার পর ঘন্টা সেখানে থাকছেন। সেজন্য পরীক্ষাটি করতে যাওয়ার সময় সাথে কিছু স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার নিয়ে নিন এবং পরীক্ষাটি শুরুর আগে ওয়াশ রুম থেকে ঘুরে আসুন।

৩। উদ্বিগ্নতায় পেয়ে বসতে পারে

MRI মেশিনের ভেতরে আপনার ভয় লাগতে পারে বা আপনি আবদ্ধ অনুভব করতে পারেন। যার কারণে আপনার মধ্যে আংজাইটি দেখা দিতে পারে। তাই মেশিনটির ভেতরে প্রবেশের পূর্বে চোখ বন্ধ করে ফেলা ভালো এবং পরীক্ষাটি চলাকালীন চোখ বন্ধ করে রাখাটাই আপনার জন্য ভালো হবে। পরীক্ষাটি চলাকালীন চমৎকার কিছু চিন্তা করুন, তা হতে পারে আপনার প্রিয়জনদের কথা অথবা আপনার পোষা প্রাণীটির কথা ভাবা। কেউ কেউ এই উদ্বিগ্নতা থেকে মুক্তির জন্য অ্যান্টি অ্যাংজাইটি ঔষধও গ্রহণ করেন।

৪। গহনা খুলে রাখুন

আলগা কোন ধাতুর বস্তু আপনার শরীরে থাকলে আপনি আঘাত পেতে পারেন। কারণ এমআরআই করার সময় শক্তিশালী MRI চুম্বক দিয়ে টানা হয়। তাই আপনার শরীরে যেনো কোন ধরণের জুয়েলারি না থাকে সেই বিষয়ে সতর্ক হোন।

৫। মেকআপ করবেন না

কিছু কসমেটিকের মধ্যে ধাতব উপাদান থাকে যা MRI ম্যাগনেটের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। সেজন্য MRI করার দিন কোন মেকআপ করা ঠিক নয়, এমনকি নেইল পলিশও লাগাবেন না। চুলে কোন প্রসাধন লাগাবেন না, ঘাম নিরোধক বা সানস্ক্রিন ক্রিম ও লাগাবেন না যেগুলোতে ধাতব উপাদান থাকে। এগুলো মেনে চলবেন শুধুমাত্র আপনার নিরাপত্তার জন্য।

৬। আপনার শরীরে লুকানো কোন ট্যাটু থাকলে ডাক্তারকে জানান

এমআরআই করার সময় ত্বক বা চোখ জ্বালা করতে পারে, এমনকি ফার্স্ট ডিগ্রী বার্ন হতে পারে। ট্যাটুর রঞ্জক বা ট্যাটুর আইলাইনার গরম হয়ে এমন ঘটতে পারে। এদেরকে ঢেকে রাখলেও তেমন কোন লাভ হয়না। যতি ত্বকের জ্বালা শুরু হয় তাহলে MRI করা তখনই বন্ধ করে দিতে হবে পুড়ে যাওয়া রোধ করার জন্য।

৭। শান্ত থাকুন

যেহেতু MRI রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে করা হয়, তাই MRI করার সময় কিছুটা গরম লাগতে পারে। আপনার দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু ভয় পাবেন না – কারণ এটি বিপদজনক কিছু নয়।

৮। দ্বিতীয়বার করতে হতে পারে

যদি  MRI করার সময় আপনি নড়াচড়া করেন তাহলে আবারো ছবি তোলার প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ প্রক্রিয়াটি প্রথম থেকে শুরু করতে হতে পারে।

৯। এটি  CAT  স্ক্যান নয়

এমআরআই এ শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ড এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। এটি CT     বা      CAT    স্ক্যান নয় যা এক্সরে তে ব্যবহৃত হয়। তাই MRI করার সময় রেডিয়েশন বা বিকিরণ নিয়ে চিন্তা করবেন না।

লিখেছেন-

সাবেরা খাতুন

 

শিশুর সুন্দর এবং অর্থবহ নামের গুরুত্ব

ইসলামে নামের গুরুত্ব সর্বাধিক কারণ কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদেরকে নাম এবং তার পিতার নাম ধরে ডাকবেন। হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নামে এবং তোমাদের পিতার নামে। অতএব তোমাদের নামগুলো সুন্দর করে রাখ। (আবু দাউদ, বায়হাকী ও মুসনাদে আহমদ)

শিশুর জন্ম মানব মনে আনন্দের দোলা দিয়ে যায়। একটা নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয় একটা শিশুর জন্মের সাথে সাথে। বাচ্চার জন্ম হওয়ার পর বাবা-মা’র পরিচয় অনেক সময় পরিবারের পরিচয়ও সন্তানের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। মানুষজন বাবা-মাকে সন্তানের নামের সাথে মিলিয়ে ডাকতে শুরু করে। শিশু জন্মের পর প্রথম প্রয়োজন একটা সুন্দর আর্থবহ নামের, এটা তার মৌলিক অধিকার, এরশাদ হচ্ছে “আল্লাহ নিজে সুন্দর, তাই তিনি সুন্দরকে ভালবাসেন”। নাম সংস্কৃতি ও সভ্যতার পরিচায়ক, একটা জাতির স্বকীয়তা, সৌহার্দ ফুটে উঠে তাদের সন্তানদের নামের সাথে।শিশুর জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করা পিতা-মাতার অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। মানুষ মাত্রই সুন্দরের জন্য লালায়িত। একটি শিশু জন্ম গ্রহণের আগেই মা-বাবা একটি সুন্দর নামের খোঁজে সদা ব্যস্ত থাকেন। সুন্দর নাম রাখার চাইতে এই শিশুর জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার আর কিছু হতে পারে না। নামের প্রভাব সন্তানের উপর লক্ষণীয় ফলে সুন্দর নামের পাশাপাশি সুন্দর অর্থও থাকা জরুরী। আল্লাহর রাসুল সা কারো নামে অসংগতি বা নাম অপছন্দনীয় মনে হলে সাথে সাথে পরিবর্তন করে তিনি উত্তম নাম দিতেন। হযরত আবদুর রহমান (রা) বলেন, “আমি রাসূল (সা)এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন? তোমার নাম কি? আমি বললাম, আমার নাম আবদুল উজ্জা। তিনি বললেন, ‘না তোমার নাম আবদুর রহমান, অন্য রেওয়ায়েতে আছে, আমার নাম আজিজ, মহানবী (সা) বললেন, ‘আজিজ তো আল্লাহ! (উজ্জা একটি মুর্তির নাম। আবদুল উজ্জা মানে হলো উজ্জার দাস এবং কাউকে আজিজ বলে ডাকাও নিষেধ।

ইসলামে নামের গুরুত্ব সর্বাধিক কারণ কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদেরকে নাম এবং তার পিতার নাম ধরে ডাকবেন। হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নামে এবং তোমাদের পিতার নামে। অতএব তোমাদের নামগুলো সুন্দর করে রাখ। (আবু দাউদ, বায়হাকী ও মুসনাদে আহমদ)

নাম সুন্দর হওয়া এবং সুন্দর উচ্চারণে ডাকা কোনমতেই উপেক্ষার সুযোগ নেই।ইসলামের দৃষ্টিতে অর্থবহ এবং সুন্দর নাম বলতে বুঝায় ওই সমস্ত নাম,যে নামের মধ্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা,দাসত্ব প্রকাশ পায়। আল্লাহর প্রিয়পাত্র নবী-রাসুলদের বরকতময় নামসমূহ।যে নামের দ্বারা আল্লাহর রহমত, করুণা ও মহত্ত্ব ফুটে উঠে সে ধরনের নাম রাখা উত্তম।কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন “সুন্দরতম নাম সমূহের অধিকারী আল্লাহ, অতএব তোমরা সেসব নাম ধরে তাঁকে ডাকো। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করো, তাদের কৃত কর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে।” (সূরা আরাফ-১৮০), আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নাম হলো আবদুল্লাহ এবং আবদুর রহমান। প্রিয় নাম হলো হারেস এবং হাম্মাম। অত্যন্ত অপছন্দের নাম হলো হারব ও মুররাহ। ইসলামী ঐতিহ্যের স্বয়ংসম্পুর্ন রুপরেখা সৌন্ধর্য চেতনা রক্ষাকরা সকল মুসলমানের দায়িত্ব কর্তব্য।এর জন্য প্রয়োজন একটা সুন্দর নামকরণের। ইসলামের চেতনা, সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক কোন নাম রাখা উচিত নয়।

মাওলানা সাকিব মুস্তানসির
আলেম ও বস্ত্র প্রকৌশলী

 

কোন কোন সময়ে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ?

দিন রাতে সব মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। এর বাইরে একজন মুসলিম যতো খুশি ব্যক্তিগত নফল নামাজ আদায় করতে পারে। যার কোনো সীমারেখা নির্ধারিত নেই। কিন্তু প্রতি ২৪ ঘণ্টায় কিছু সময় এমন আছে যখন নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। নিচে এ সময়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

দিন রাতে সব মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। এর বাইরে একজন মুসলিম যতো খুশি ব্যক্তিগত নফল নামাজ আদায় করতে পারে। যার কোনো সীমারেখা নির্ধারিত নেই। কিন্তু প্রতি ২৪ ঘণ্টায় কিছু সময় এমন আছে যখন নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। নিচে এ সময়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

১. ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে ফরজ নামাজের আগ পর্যন্ত ফজরের দুই রাকাত নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। হযরত হাফসা রা. বলেন, ‘ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে রাসুল (সা.) সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত নামাজ ছাড়া আর কোনো নামাজ পড়তেন না।’ তবে এ সময়ে কাযা নামাজ পড়া যাবে।

২. মাগরিবের নামাজের পূর্বক্ষণে। ফিকহে হানাফী এবং ফিকহে মালেকীর মতে মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার পর ফরজ নামাজের আগে কোনো নফল নামাজ পড়া জায়েয নেই। অবশ্য ফিকহে শাফেয়ী মতে এই সময়ে দুই রাকাত নামাজ পড়া সুন্নতে গাইয়ে মুয়াক্কাদা। আর ফিকহে হাম্বলী মতে এই সময়ে দুই রাকাত নামাজ পড়া জায়েয আছে বটে তবে তা সুন্নাত নয়।

৩. ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালে। এ সময় কোনো নফল নামাজ পড়া জায়েয নেই। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন ইমাম সাহেব খুতবা দেওয়ার সময় যদি তুমি তোমার পাশের লোককে বল ‘চুপ কর’ তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (সুবুলুস সালাম ২/৫০) ফিকহে শাফেয়ী ও হাম্বলী মতে যদি ইমামের সাথে তাকবীরে উলা ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে এই সময়ে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার অবকাশ আছে। তবে শুধু নামাজের ওয়াজিবগুলো আদায়ের মাধ্যমে তা সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ করতে হবে।

৪. ঈদের নামাজের আগে ও পরে ঘরে ও ঈদগাহে এবং নামাজের পরে শুধু ঈদগাহে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘রাসুল (সা.) ঈদের দিন দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন। তার আগে ও পরে কোনো নামাজ পড়েন নি।’ (সুবুলুস সালাম ২/৬৬)

৫. ফরজ নামাজের ইকামত দেওয়ার সময়। ফিকহে হানাফী মতে এ সময় সব ধরনের নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের ইকামত দেওয়া হলে আর কোনো নামাজ পড়ার সুযোগ নেই।’ তবে ফজরের সুন্নতের ক্ষেত্রে এর একটু ব্যতিক্রম আছে। কারো যদি তাশাহহুদে শরীক হওয়ার মাধ্যমেও জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে জামাত শুরু হলেও ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়া যাবে।

৬. যদি ফরজ নামাজের সময় খুবই অল্প থাকে, যখন সুন্নাত পড়তে গেলে যথাসময়ে আর ফরজ পড়া যাবে না তখনও ফরজ ছাড়া ভিন্ন কোনো সুন্নাত নফল পড়া মাকরুহ।

৭. আরাফার দিন জোহর ও আসরের মাঝে ও আসরের পরে এবং মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার মাঝে ও এশার পরে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ।

ফয়জুল আল আমীন

 

কুপনের মাধ্যমে পুরস্কারের আশায় পণ্য ক্রয় করা : কী বলে ইসলাম ???

এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হল, যদি দোকানদার পণ্যের দাম বাজার মূল্যের সমান রাখে তাহলে পুরস্কার পাওয়ার আশায় তার কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করা জায়েয হবে এবং পুরস্কারের কুপন অথবা কার্ডের উপর লটারীর মাধ্যমে যেই পুরস্কার দেয়া হবে তা গ্রহণ করাও জায়েয হবে। এই পুরস্কারটি হবে দোকানদারের পক্ষ থেকে উপহার।

অনেক দোকানদার তাদের পণ্য বেশি বেশি বিক্রি করার জন্যে গ্রাহকদেরকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। যদি কেউ তাদের দোকান থেকে তাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত পরিমাণের পণ্য ক্রয় করে তাহলে তাকে একটি কুপন বা কার্ড দেয়া হয়। এধরনের কুপন বা কার্ডে লটারীর নম্বর দেয়া থাকে। ক্রেতার নামের সাথে নম্বরটি লিখে রাখা হয়। অতপর ক্রেতা সেই কুপন বা কার্ড লটারীর বাক্সে রেখে দেয়। যদি তার নম্বর লেগে যায় তাহলে তাকে বিভিন্ন পুরস্কার দেয়া হয়।

এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হল, যদি দোকানদার পণ্যের দাম বাজার মূল্যের সমান রাখে তাহলে পুরস্কার পাওয়ার আশায় তার কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করা জায়েয হবে এবং পুরস্কারের কুপন অথবা কার্ডের উপর লটারীর মাধ্যমে যেই পুরস্কার দেয়া হবে তা গ্রহণ করাও জায়েয হবে। এই পুরস্কারটি হবে দোকানদারের পক্ষ থেকে উপহার।

যা কোনো জিনিসের বিনিময়ে হবে না। আর যদি ক্রয়কৃত জিনিসের মূল্য পুরস্কারের কুপনের কারণে বাজারদরের চেয়ে বেশি রাখা হয়, অর্থাৎ ঐ পণ্যটি পুরস্কারের কুপন ছাড়া কিনলে কম দামে কেনা যাবে, তাহলে এমতবস্থায় সম্ভাবনাময় পুরস্কার পাওয়ার লোভ করা নাজায়েয ও হারাম হবে। অবশ্যই তা বর্জন করতে হবে। কেননা এটি তখন জুয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্তহয়ে যাবে। যা শরীয়তমতে হারাম। [আধুনিক লেনদেনের ইসলামী বিধান : ১৩৫]

মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক
লেখক, আলেম ও বহু গ্রন্থের অনুবাদক

 

সকালে, দুপুরে বা রাতে হয়ে যাক ইজি ঝাল ফ্রেজি

আজ আমরা নিয়ে এসেছি এমন একটা রেসিপি, যা কিনা সকালের ব্রেকফাস্ট টেবিলে দারুণ লাগবে রুটি বা পরোটার সাথে। আবার ভীষণ ভালো লাগবে দুপুর কিংবা রাতের গরম ভাতের সাথেও! ভীষণ মজার এই রেসিপিটি নিয়ে এসেছেন শৌখিন রন্ধনশিল্পী সায়মা সুলতানা।
প্রথমে যা করবেন-
হাড় ছাড়া মুরগির মাংশ টুকরা ২ কাপ
ডিম ১ টি
ময়দা ১/৪ কাপ
এরারুট ১ টেবল চামচ
টেস্টিং সল্ট ১ চা চামচ ( না দিয়েও করতে পারেন)
লাল মরিচ গুঁড়ো হাফ চা চামচ
লবণ স্বাদমত
লেবুর রস ১ টেবল চামচ
  • -উপরের সব উপকরণ একসাথে মাখিয়ে রাখুন ১ ঘন্টা , এবার মাখানো পিসগুলো ডুব তেলে হালকা বাদামী করে ভেজে তুলে রাখুন.
এবার গ্রেভি তে যা লাগবে-
আদা কুচি ২ চা চামচ
রসুন কুচি ২ চা চামচ
টমেটো সস ৩ টেবল চামচ
সয়া সস ২ টেবল চামচ
হলুদ গুঁড়ো হাফ চা চামচ
মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ ( কম বেশি করতে পারেন )
গরম মশলা গুঁড়ো ১ চা চামচ
পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ
তেল ৩ টেবল চামচ ( হেলদি করতে চাইলে কম দিতে পারেন )
প্রনালি
  • -এখন প্যানে তেল দিয়ে গরম হলে আদা রসুন দিন , এবার দিন টমেটো সস আর সয়া সস।
  • -নাড়াচাড়া করে একে একে বাকি সব মশলা দিন , অল্প পানি আর কিছু টমেটো টুকরা দিয়ে মশলা মিডিয়াম আঁচে কষিয়ে নিন।
  • -এবার এতে আপনার পছন্দ মত কেপসিকাম কিউব ( সবুজ ও লাল রঙের ) , স্বাদমত লবণ ,কাচামরিচ ফালি , আর ভেজে রাখা মুরগির পিসগুলো দিয়ে ভালোভাবে নেরে দিয়ে কম আঁচে রান্না করুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
  • -নামানোর সময় অল্প লেবুর রস ছিটিয়ে দিন,হয়ে এলে নামিয়ে গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।
 পোলাও-এর সাথেও পরিবেশন করতে পারেন এই ঝাল ফ্রেজি !