


গরমে অনেক সময় এমন অবস্থা হয় যখন আপনার প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হয় তখন কিছু খেতেও ইচ্ছা করেনা। ইলেক্ট্রোলাইটের ব্যালেন্স যখন ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে এবং পেটের সমস্যার উপসর্গগুলোকে কমাতে সাহায্য করে এমন কয়েকটি পানীয়ের কথা জেনে নেই আসুন।
১। চিনি ও লবণ পানি
অতি প্রাচীন কাল থেকেই আমাদের দাদী নানীরা এই পানীয়টি ব্যবহার করে আসছেন। চিনি ও লবণ মেশানো পানি পান করলে শুধু শরীরের তরলের ভারসাম্যই বজায় রাখতেই সাহায্য করেনা বরং তা ডায়রিয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এনার্জি সরবরাহ করে।
২। ঘোল
তাজা দই ও একচিমটি লবণ দিয়ে তৈরি করা ঘোল পান করলে যে শিথিলতা পাওয়া যায় তা আর অন্য কিছুতে পাওয়া যায়না। এই পানীয়টি যে শুধু পাকস্থলীতে শীতল অনুভূতি প্রদান করে তাই নয়। এটি পাকস্থলীর এসিড প্রতিরোধ করে এবং অন্ত্রের কাজের উন্নতি ঘটায়। কারণ এটি প্রকৃতিগত ভাবে একটি প্রোবায়োটিক।
৩। ডাবের পানি
স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ডাবের পানি পান করা ডায়রিয়া ও ডিহাইড্রেশনের জন্য অনেক উপকারি। এই পানীয়টি শুধুমাত্র হারিয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রোলাইট ও মিনারেলের ক্ষতিপূরণই করেনা, বরং পাকস্থলীর pH কমিয়ে পরিপাক নালীকে শান্ত করে।
৪। শিকাঞ্জি
মশলাযুক্ত লেবু পানিকে শিকাঞ্জি বলে। শিকাঞ্জিতে থাকে বিট লবণ, চিনি, লেবুর রস, পানি, জিরা, গোলমরিচ ও আদা। এতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে যা পেটের সমস্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ হয়।
৫। মেন্থল ও ক্যামোমিল চা
পেটের ব্যথা কমতে সাহায্য করে মেন্থল ও ক্যামোমিল চা। এরা উভয়েই পাকস্থলীর এসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে এবং বমি বমি ভাব ও বুক জ্বালাপোড়া করা কমায়। মেন্থল বা ক্যামোমিল চায়ের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিলে মিষ্টতার পাশাপাশি পেটের সমস্যার নিষ্পত্তিতেও সাহায্য করবে।
৬। আদা চা
পেটের সমস্যা দূর করতে আদা অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করে। সকালে আদা চা খাওয়া ভালো। দুই কাপ পানি ফুটিয়ে এর মাঝে আদার ২টি টুকরা দিয়ে অল্প আঁচে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর আদাটুকু ছেঁকে নিয়ে এর সাথে মধু মিশান। পেটের ব্যথা ১মিনিটেই উধাও হবে। আদা চায়ের মত পুদিনার চা ও পেটের ব্যথা প্রশমিত করতে পারে।
পানিশূন্যতা দূর করার জন্য প্রথমেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। পানিশূন্যতার কারণেও শরীরে ব্যথা বেদনা ও অস্বস্তি হতে পারে। যখনই আপনি শরীরকে জলপূর্ণ করতে পারবেন তখনই দেখবেন সমস্ত অস্বস্তি দূর হয়ে গেছে। এছাড়াও সুপ খেতে পারেন। সুপে ভিটামিন ও মিনারেল থাকে যা ডিহাইড্রেশনের পড়ে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
লিখেছেন-
সাবেরা খাতুন

কর্মশক্তি সম্পন্ন জাতি গঠনে চাই সুস্থ শিশুর জন্মদান। তার আগে নিশ্চিত করা জরুরি মায়ের সুস্থতা। গর্ভাবস্থায় সুস্থ মায়ের দেহ থেকে শিশু প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি গ্রহণ করে। জন্মের পর বাচ্চা দরকারি সব পুষ্টি পায় মায়ের দুধ পানের ভেতর দিয়ে। তাই প্রসবের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর যত্নে দরকার বিশেষ খাবার। যেমন-
ক্যালসিয়াম
গর্ভের শিশুর হাড় গঠনে এবং মায়ের হাড়ের ক্ষয় রোধে ক্যালসিয়াম খুব জরুরি। ক্যালসিয়াম মায়ের উচ্চ রক্ত চাপ প্রতিরোধেও সহায়তা করে। সেজন্য গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পরবর্তী সময়ে মাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ হাজার মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিৎ। ডিম, দুধ, মাছ, পালং শাক, বাদাম থেকে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
শর্করা
শর্করার উৎস হিসেবে ভাত, রুটি, আলুকে বুঝি। শর্করার যোগানে সারাদিনে গর্ভবতী মাকে ৩ থেকে ৪ কাপ ভাত খেতে হবে। কর্মজীবী মায়ের সারাদিনে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়, তাই তাদের ক্ষেত্রে দিনে ৪ থেকে ৫ কাপ ভাত খাওয়া দরকার। ভাতের সঙ্গে রুটি আর আলুও খাওয়া যেতে পারে।
আমিষ
আমিষ গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মাকে দৈনিক অন্তত ৬০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। প্রতিদিনের আমিষের অভাব পূরণে ২ থেকে ৩ টুকরো মাছ, ৩ থেকে ৪ টুকরো মাংস ও কমপক্ষে একটি ডিম খেতে হবে। এছাড়া নিয়ম করে প্রতিদিন একগ্লাস উষ্ণ গরম দুধ পান করলে আমিষের অভাব পূরণ হবে।
ভিটামিন সি
ভিটামিন সি শরীরের চর্ম রোগ প্রতিরোধ করে। গর্ভবতী মায়ের উচিৎ প্রতিদিন ৭০ গ্রাম ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য খাওয়া। একটি করে ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেতে পারেন। কমলা,লেবু,পেয়ারা,ব্রকলি ও টমেটো থেকে অনেক ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
আয়রন
গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আয়রন এর ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া আয়রন শরীরের রক্ত বাড়াতেও সাহায্য করে। আয়রনের চাহিদা মেটাতে মাকে রোজ ২৭ গ্রাম আয়রন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ডিমের কুসুম, ডাল, কলিজা, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ থেকে আয়রনের চাহিদা পূরণ হতে পারে।
ফলিক অ্যাসিড
গর্ভবতী মায়ের শরীরে দৈনিক ০.৪ গ্রাম ফলিক অ্যাসিড প্রয়োজন থাকে। ফলিক এসিড নিউরল টিউবের কোষ অসংগতি থাকলে তা দূর করে। লেটুস পাতা, পালং শাক, কমলা ফলিক অ্যাসিডের দারুণ উদাহরণ।
ফ্যাট
গর্ভবতী হওয়ার পর যথেষ্ট পরিমানে ফ্যাট জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। ফ্যাট জাতীয় খাদ্য শিশুর মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে,তাই বেশি করে মাকে ফ্যাট জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। দুধ, ঘি, মাখন ফ্যাট এর চাহিদা পূরণ করবে।
পানি
রোজ প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। পানি শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। রক্তের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে পুষ্টি পৌঁছায়। এছাড়া পানি মূত্র থলির প্রদাহ ও অতিরিক্ত ঘাম রোধ করে। পানির সঙ্গে বিভিন্ন সুপ, টাটকা ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে।

সুদীর্ঘকাল ধরে নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নানা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন নারী। প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করে নিজ যোগ্যতাবলে একটু একটু করে নারীকে অধিকার আদায় করে নিতে হচ্ছে। তবে নারী ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন রুখে দিতে যোগ হচ্ছে নতুন কৌশল।
নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস। ঘটনার শুরু ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে নারীর মজুরি বৈষম্য, শ্রমঘণ্টা ১২ ঘণ্টা কমিয়ে ৮ ঘণ্টা করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। তার তিন বছর পর ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’।
একটা সময় ছিল নারীরা নিজেদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানাতে পারতেন না। সে সময় নারীরা নিজের কোনো বিষয়ে মতামত দিতে পারতেন না। পরিবারের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হতো তাদের। এমনকি কর্মক্ষেত্রে নারীরা সমান পরিশ্রম করেও সমান মজুরিতে ছিল বৈষম্য।
নারীর অবস্থান অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বে প্রতিটি দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীরা পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ করে যাচ্ছে।
তবে পরিবর্তনের এ প্রেক্ষাপটে নারীর প্রতি সহিংসতা বা নির্যাতন বন্ধ নেই। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে পদক্ষেপ নিলেও তার বাস্তবায়নে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

মহিলা পরিষদের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৪৩৬টি। ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। ২০১৫ সালে ১ হাজার ৯২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যৌন নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, নারীর আত্মহত্যা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অত্যাধুনিক যুগেও নারীর প্রতি এ ধরনের বর্বর নির্যাতনগুলো হচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম দীর্ঘদিন ধরে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, নারীর সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গড়ার কাজে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন।
বাংলাদেশে বর্তমান নারী অবস্থান ও দীর্ঘ নারী আন্দোলনের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে যে পাহাড়ে উঠছে, ভার উত্তোলন করছে। সমাজ-সংসার ও কৃষিতে অবদান রাখছে, এসব ১০০ বছরের নারী আন্দোলনের ফল। শুধু আমরা নই, আমাদের পূর্বসূরি বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামালসহ অনেক নারীর অবদান। বর্তমানে সাড়ে ৪ হাজার নারী পুলিশে কাজ করছে। এগুলো শতাব্দীর নারী আন্দোলনের ফল। সুতরাং ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগোচ্ছে নারী।’
পুরুষ-নারী উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো গেলে এ অগ্রযাত্রা আরও হবে বলে জানান তিনি। পলিসি মেকিংয়ে নারীর আবদান রাখার সুযোগ দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বড় বড় পদে দরকার নারীর আরও প্রবেশ করা দরকার। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা ভূমিকা রাখতে পারে। তারা নারীকে সুযোগ করে দিতে পারে।’

মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ও নারীনেত্রী এলিনা খান বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে বা তারও আগে নারীরা ঘরে বন্দি ছিল, বাইরে আসতে পারত না। পড়াশোনা করতে পারত না, শারীরিক-মানসিক সমস্যার সমুখীন হয়েছে। এখন বাইরে আসার সুযোগ হয়েছে। কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তবে নির্যাতনের জায়গায় নতুন নতুন কৌশল যোগ হয়েছে।
‘আগের থেকে নারীরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছে। তবে নির্যাতনের চিত্র থেকে বেরোতে পারেনি। আগে নারীরা ভোগ বিলাসের শিকার হতো মুষ্টিমেয় লোকের হাতে। এখন ঘরেবাইরে সবখানে নারীরা রেপের শিকার হচ্ছে।’
তিনি বলেন, এখনও অনেক নারী নিজেই নিজের সম্মান বিকিয়ে দেন। একটা সংসারে একজন নারী আরেকজন নারীকে সম্মান করেন না। নারীদের সম্মান করার বিষয়টি পরিবার থেকে শেখানো দরকার। ঘর স্কুল থেকে দুজনকেই নারীকে সম্মান করা শেখাতে হবে। সন্তানদের শেখাতে হবে। সেই সঙ্গে অধিকারও দিতে হবে।’
এলিনা খান বলেন, ‘আজকাল নারীরা সমধিকারের কথা বললে বাসে বা বিভিন্ন জায়গা শুনতে হয়, আপনারা সব জায়গায় সম অধিকার চান, তাহলে আলাদা সিট আলাদা, আলাদা পরিবেশ চান কেন? তাদের বলতে চাই, সমঅধিকার চাওয়া মানে এই নয় যে তুমি আমাকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দেবে না। সম-অধিকার মানে অধিকারের সঙ্গে সম্মানটুকু দেয়া। আমার আলাদা সিট সেদিন লাগবে না, যেদিন কোনো ছেলে পাশে বসলে কোনো মেয়েকে টিজ করবে না, কুৎসিত দৃষ্টিতে তাকাবে না।’

নির্যাতনের পর নারীরা সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি নির্যাতনের পর একজন নারী থানায় গেলে তাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করানো হচ্ছে। সে জানে না কোন মামলাটি করলে সে সঠিক বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি, পুলিশের চাপে মিথা মামলা করছে। আবার মামলা হলেও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সঠিক বিচার পাচ্ছে না।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী নিয়োজিত আছে। কিন্তু কৃষিখাতে নিয়োজিত নারীর মধ্যে প্রায় ৯৪.৮ শতাংশ নারীই বিনাশ্রমে কাজ করে। অন্যদিকে শিল্পখাতেও নারী পুরুষের চেয়ে কম মজুরি পেয়ে থাকে। এ ছাড়া পোশাক খাতে মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী। এ খাতে নারী শ্রমিকদের অবদান বেশি থাকলেও এখানেই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার নারী। পোশাক খাতে বেশিরভাগ নারীই শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। উঁচুস্তরে নারীর অংশ্রগ্রহণ হাতেগোনা।

বিশ্বজুড়ে গত ২০ বছরে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে খুবই সামান্য। এক্ষেত্রে সামান্য কিছু প্রান্তিক অগ্রগতি ছাড়া আর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক জরিপে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য।
১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষের পার্থক্য কমেছে মাত্র ০.৬ শতাংশ। যেসব দেশে নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ বেশি সেসব দেশেও তাদের চাকরির মান এখনো উদ্বেগের একটি বিষয়।
বিশ্বের ১৭৮টি দেশে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের হার, কর্মপরিবেশসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
আইএলও প্রধান গাই রাইডার বলেছেন, ’নারীরা যে এখনো উপযুক্ত কাজ খুঁজে পেতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন তারই প্রমাণ এই প্রতিবেদন। নারীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের ব্যাপারে যে অগ্রগতি হয়েছে তা একেবারেই প্রান্তিক পর্যায়ে’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষদের চেয়ে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম ছিল। ১৯৯৫ সালে এ পার্থক্য ছিল ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ। আর এ হার ২০ বছর আগের হারের চেয়ে মাত্র ০.৬ শতাংশ কম।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়- বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীরাই বেশি বেকারত্বে ভোগেন। বিশ্বজুড়ে নারী বেকারের হার ৬.২ শতাংশ যেখানে পুরুষদের বেকারত্বের হার ৫.৫ শতাংশ। চাকরির অভাবে প্রায়ই নারীদের নিম্ন মানের চাকরিতে যোগ দিতে হয়।
উচ্চ ও নিম্ন -সব ধরনের আয়ের দেশেই নারীর গৃহস্থালী কাজের জন্য কোনও পারিশ্রমিক হিসেব করা হয় না। মূলত, নারীরা কর্মক্ষেত্রে ও গৃহস্থালী কাজ মিলিয়ে পুরুষের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে থাকেন বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বেশিরভাগ নারীকেই তার যোগ্যতার চেয়ে নিম্নমানের চাকরিতে যোগদান করতে হয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে নারীকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৃহস্থালী কাজে জড়িত থাকতে হয় যার জন্য আর্থিক প্রতিদানও পান না তারা। গবেষকদের মতে, এসব চিত্র নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা। আর তা থেকে উত্তরণের হারও আশানুরূপ নয়। এজন্য নারী-পুরুষ উভয়েরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চাঁদা না দেয়ায় নোয়াখালীর হাতিয়ার শাহানারাকে বিবস্ত্র করে দুই ধাপে পেটানোর পর কান ধরে উঠ-বস করানো হয়। এ সময় শাহজাহানকে ‘বাবা’ ডাকতে বাধ্য করা হয় শাহানারাকে। বেদম মারধরের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শাহানারা তাকে ‘বাবা’ বলে ডেকে ওঠেন এবং কান ধরে উঠবস করেন।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা নিজেই বাংলামেইলকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তবে শাহানারার মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনা করে তা প্রকাশ করা হলো না।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহানারা বাংলামেইলকে বলেন, ঘটনার দিন আমি বাজার থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে আমাকে পেছন থেকে ঘুষি ও লাথি মেরে যখন গলার গয়না ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় শাহজাহান। তখন আমি তাকে বাধা দিই। এরপর সে আমাকে আরেক লাথি দিয়ে রাস্তার পাশের গর্তে ফেলে দেয়। এরপর আমাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারতে থাকে। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে এলে আমাকে জোর করে তাকে ‘বাবা’ ডাকতে বাধ্য করা হয়।
সে বলে, ‘আমি তোর বাবা’। বল.., বল…, …বল। পরে আমি বাধ্য হয়েই তাকে ‘বাবা’ ডাকি।
এতেও ক্ষান্ত হয়নি শাহজাহান। চলে আবারও নির্মম নির্যাতন। শত শত মানুষের সামনে তিন সন্তানের এই জননীকে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয়। কয়েক ব্যক্তি এগিয়ে এলে তিনি (শাহজাহান) আরো অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন। লাঠির আঘাতে এক সময় জ্ঞান হারান শাহানারা।
শাহানারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এতগুলা মানুষের সামনে আমাকে কান ধরে ওঠ-বস করতে হয়েছে। ভয়ে কেউ আমাকে বাঁচাতে আসেনি। তবে একজন বৃদ্ধা ও যুবক চেষ্টা করেছিল। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন। তারা এলাকায় এতটাই প্রভাবশালী যে, এ সব মানুষের আর করার কিছুই ছিল না।
স্থানীয়রা জানান, থানার এই কথিত দালাল শাহজাহানের ভয়ে আতঙ্কিত এলাকাবাসীও। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। থানা-পুলিশের সাথে সখ্যতা থাকায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখান তিনি।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর সার্কেল) নবজ্যোতি খীসা রোববার হাতিয়ায় গেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। এ সময় শাহানারাকে পেটানোর লাঠিটির ভাঙা অংশ জব্দ করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিসুল হক বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সবখানেই অভিযান অব্যাহত আছে। তাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না।
চাঁদা না দেয়ায় গত সোমবার ( এপ্রিল) নোয়াখালীর হাতিয়া থানার ‘দালাল’ শাহজাহান দুই ধাপে পেটান হাতিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিন সন্তানের জননী শাহানারাকে। তাকে বিবস্ত্র করে দুইধাপে পেটানো হয়। ঘটনাটি এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে শাহানারাকে নির্যাতনের লোমহর্ষক এক চিত্র।