banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

ওভেন ছাড়াই তৈরি করে ফেলুন সুস্বাদু গার্লিক ব্রেড

প্রতিদিন সকালের নাস্তায় যে খাবারটি প্রায় সব বাসায়ই খাওয়া হয়, তা হল পাউরুটি। বাজারের অস্বাস্থ্যকর পাউরুটি খাওয়াটা অনেকেরই অপছন্দের। আবার পাউরুটি ওভেন ছাড়া তৈরি করা যায় না বলে, ইচ্ছা থাকলেও পাউরুটি ঘরে তৈরি করতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধান করে দেবে আজকের এই রেসিপি। ওভেন ছাড়াই তৈরি করে নিতে পারবেন গার্লিক ব্রেড।

উপকরণ:

২ কাপ ময়দা

১ চা চামচ ইস্ট

৩/৪ কাপ গরম পানি

১ টেবিল চামচ চিনি

৩/৪ চা চামচ লবণ

২ টেবিল চামচ তেল

গার্লিক বাটার তৈরির জন্য

২ টেবিল চামচ মাখন

৪ কোয়া রসুন কুচি

লবণ স্বাদমত

গোলমরিচ গুঁড়ো

১ চা চামচ ওরিগেনো, বেসলি এবং পার্সলি পাতা গুঁড়ো

 

প্রণালী:

১। একটি পাত্রে ১/২ কাপ গরম পানি, চিনি এবং ইস্ট মিশিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন।

২। ৫ মিনিট পর পানিতে বুদবুদ উঠলে এতে ময়দা, তেল, লবণ এবং বাকী ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন।

৩। ডো নরম হয়ে গেলে একটি প্লাস্টিকের প্যাকেট অথবা সুতির কাপড় দিয়ে ২ ঘন্টা ঢেকে রাখুন।

৪। আরেকটি পাত্রে রসুন কুচি, মাখন, ওরিগেনো, ব্রাসলি,পার্সলি পাতা গুঁড়ো, লবণ এবং গোল মরিচ গুঁড়ো ভাল করে মিশিয়ে নিন।

৫। এবার ডোটিকে দুই ভাগ করে নিন। এবার একটি ভাগ নিয়ে বড় রুটির মত বেলে নিই।

৬। রুটির মাঝে মাখন রসুনের মিশ্রণটি দিন। এবার রুটিটি রোল করুন।

৭। রোল করা রুটিটি ছুড়ি দিয়ে কয়েক টুকরো করে নিন।

৮। এখন নন-স্টিক প্যানে তেল দিয়ে কাটা ডোর টুকরোগুলো দিন।

৯। একটি কাপড় দিয়ে প্যানের ঢাকনাটি পেঁচিয়ে নিন, তারপর সেটি দিয়ে প্যানটি ঢেকে দিন।

১০। এবার প্যানটি গরম কোন স্থানে এক ঘন্টা রেখে দিন। এক ঘন্টা পর দেখবেন ডোটি ফুলে ডাবল হয়ে গেছে।

১১। এবার অল্প আঁচে প্যানটি ১০-১২ মিনিট চুলায় রাখুন।

১২। ১০ মিনিট পর পাউরুটির পাশ পরিবর্তন করে ৫-৬ মিনিট রান্না করুন।

১৩। দুই পাশ সোনালী রং হয়ে আসলে চুলা বন্ধ করুন।

১৪। পাউরুটির উপরে মাখন ব্রাশ এবং ধনেপাতা কুচি করে নামিয়ে ফেলুন।

১৫। ব্যস তৈরি হয়ে গেল গার্লিক ব্রেড।

 

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নারীর প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্বের দাবি

জলবায়ু পরির্বতন জনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় নানা করণীয় ঠিক করলেও, নারীদের জন্য আলাদা কিছু করা হয়নি। অথচ জলবায়ু পরির্বতনজনিত প্রতিটি অভিঘাতেই নারীরাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে। তাই এসব কর্মসূচিতে নারীর জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও তহবিল বরাদ্দের প্রতি জোর দেয়া দরকার।

সোমবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র- সিআরটি’র আয়োজিত ‘জলবায়ু পরির্বতনে গৃহিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি ও কর্মসূচিতে জেন্ডার’ বিষয়ক এক কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা।

বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সক্ষমতা বৃদ্ধি তহবিলের সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্রিশ্চিন হান্টার, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারপার্সন এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. রফিকুল হুদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর এবং ইউএন উইমেনের ক্লাইমেট ও জেন্ডার সমন্বয়কারী দিলরুবা হায়দার।

জলবায়ু ও নারী বিষয়ে কর্মরত দেশ বিদেশের বিশেষজ্ঞদের অংশ গ্রহণে আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপঠে নারীর জন্য সহাবস্থানমূলক পরিবশে তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করতে নীতি নির্ধারণের তাগিদ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে পাঠ্যক্রমে নারীর প্রতি অবমাননাকর বিষয়গুলো দ্রুত অপসারণ করে জেন্ডার সহনশীল সিলেবাস ও শিক্ষকদের সেই মনোভাবে প্রস্তুতেরও পরামর্শ দেয়া হয়।

 

নারীর স্থায়ী উন্নয়নে চাই বিশেষ বিনিয়োগ

স্থায়ীত্বশীল নারী উন্নয়নে জেন্ডার বাজেট কোথায় খরচ হচ্ছে, কোথায় বরাদ্দ হচ্ছে এসব তদারকির জন্য মনিটরিং সেল গঠনসহ কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ বিনিয়োগের মাধ্যমে নারী উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নারী নেত্রীরা।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীর জন্য বিনিয়োগ : জাতীয় বাজেট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ পরামর্শ দেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী।

এতে অংশ নিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু শুনি এবং তার ভিত্তিতে চেষ্টা করি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কিন্তু হয়তো তা কখনো সম্ভব হয় কখনো হয় না। ঐতিহাসিকভাবে নারীরা সম্পদহীন। এ ক্ষেত্রে যদি পরিবর্তন আনা যায় তাহলে হয়তো নারীর পরিবর্তন হবে। সক্ষমতার ভিত্তিতে আমাদের অর্থ ব্যয় করতে হবে।’

সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক যোগান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ভিশন অর্জন করতে হলে নারীকে এগিয়ে নিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য জেন্ডার বাজেট খুবই প্রয়োজন। পাশাপাশি এ বরাদ্দকৃত অর্থ কিভাবে কোথায় নারীর জন্য বরাদ্দ হচ্ছে, কোথায় খরচ হচ্ছে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং সেল হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বাজেট থাকলেও সেখানে অনেক মন্ত্রণালয় অর্থ খরচ করতে পারেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সমান অংশিদারিত্বের কথা সব জায়গায় বলা হলেও তার কোনো প্রতিফলন বাস্তবে আমরা দেখি না। নারীর অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এটা সত্যি কিন্তু এই অগ্রগতি ও উন্নতির সুবাতাস কতটুকু নারী পাচ্ছে তাই আমাদের দেখতে হবে এবং এর ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে।’

ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমা বেগম বলেন, ‘আমরা অংশগ্রহণমূলক বাজেট চাই। আমরা বাজেটের আগে অনেক ধরনের আলোচনা দেখি কিন্তু এর প্রতিফলন আমরা অনেক সময়ই দেখি না। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় নারীর জন্য অনেক বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন অনেক কম। আমাদের অনেক ভালো ভালো পলিসি আছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন নেই। আর এর জন্য প্রয়োজন মনিটরিং।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মী মূল প্রবন্ধে বলেন,  ‘বাংলাদেশে অনেক অগ্রযাত্রা হওয়ার পরও নারীর জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখি। বর্তমানে চল্লিশটি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। জেন্ডার বাজেটে নারীর জন্য আমরা চাই নিরাপত্তা, লাভজনক কাজ, নারীর চলাচলের সুবিধা, নারী স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ওনারশিপ। লেবার ওয়েলফেয়ার সার্ভিস সেন্টারে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বিশেষ বিশেষ জায়গায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে নারীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’

সভায় আরো বক্তব্য দেন- অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক, বিআইডিএসর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো বিমল কুমার সাহা, অর্থ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আজিজুল আলম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু প্রমুখ।

 

রুখে দিতে আত্মরক্ষার কৌশল শিখছে তনুরা

প্রীতিলতা ব্রিগেডের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য চত্বরে আজ (শুক্রবার) থেকে শুরু হয়েছে ‘তনুদের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’। প্রশিক্ষণ নিয়ে নারী ছিঁড়ে দেবে পুরুষ-আরোপিত শৃঙ্খল, অশুভর নাগপাশ থেকে মুক্ত করবে নিজেকে। নারীর ওপর যেকোনো বর্বর কর্মকাণ্ডও রুখে দেবে তারা।

বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণে প্রথম দিনে প্রীতিলতা ব্রিগেডের আহ্বায়ক লাকী আক্তারের নেতৃত্বে ১৭ নারী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন তায়কোয়ান্দো ব্ল্যাকবেল্ট জেসমিন আক্তার রুমা।

আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের এ আয়োজন সম্পর্কে লাকী আক্তার বলেন, ‘নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভরসায় বসে থাকার সুযোগ নেই। তাই আমরা নিজেরাই আত্মরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

প্রশিক্ষক জেসমিন আক্তার রুমা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার মধ্যে দ্রুত শেখার আগ্রহ আছে। প্রথমদিনেই তারা অনেক ভাল পারফর্ম করেছে।’

প্রতি শুক্রবার নিয়মিত এই প্রশিক্ষণ চলবে বলে জানিয়েছে প্রীতিলতা ব্রিগেডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণে যেকোনো বয়সের নারী অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া খুব শিগগিরই দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে।