আমাদের অনেকেরই প্রায়ই মাথাব্যথা হয়। অনেকেই আবার নানা করণে টেনশনে থাকি। এই খারাপ লাগার অনুভূতিগুলো সত্যিই খুব যন্ত্রণা দেয় আমাদের।
ওষুধ খেলে এগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু সেজন্য অনেক সময় লাগে। যদি এমন হয় মাত্র ৩০ সেকেন্ডে এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তাও আবার কোনো ওষুধ ছাড়াই।
অসম্ভব মনে হচ্ছে? একদমই না বন্ধুরা। এটা সম্ভব। আমরা অনেকেই জানি, ব্যথা ও রোগ নিরাময় করার জন্য ব্যবহৃত প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে আকুথেরাপি। মানবদেহের রোগ নির্ণয়, রোগ নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন আকুথেরাপি। শরীরে সুচের মতো চাপ প্রয়োগ করে আকুথেরাপি দেওয়া হয়।
কিন্তু ভয় পাবেন না, আপনার মাথাব্যথা আর টেনশন থেকে মুক্তি পেতে মাথায় সুই ফোটাতে হবে না।
মাত্র ৩০ সেকেন্ড বাম হাতের পয়েন্টে ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে ছবির মতো চাপ দিয়ে ধরে রাখুন।
আর মুহূর্তেই অনুভব করুন মাথাব্যথা কোথায় পালিয়েছে, আর দুশ্চিন্তাও উধাও!
গর্ভকালীন সময় যে সব নারী বেশি আলু খান তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। ২১ হাজার গর্ভবতী নারীর ডাক্তারি কাগজপত্র ঘেঁটে এই তথ্য দিয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সপ্তাহে পাঁচবারের মতো আলু প্রধান খাবার খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ ভাগ বেড়ে যায়। আলুতে যে স্টার্চ থাকে সেটি রক্তে চিনির পরিমাণ হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত সন্তান প্রসবের পরপরই দূরীভূত হয়। কিন্তু এটা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মা চেয়েছিলেন মেয়ে আর যাই হোক, কিছুতেই রাজনীতিবিদ হতে পারবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যাঁর নানা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাঁর খালা, তিনি কি রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন! পারেননি। আজ তিনি ব্রিটিশ এমপি।
১৩-১৪ বছর বয়সে বসে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দীকের মনে হলো, কোনো পার্টিতে জয়েন করা দরকার। কনজারভেটিভ পার্টির ম্যানিফেস্টো দেখলেন, লেবার পার্টির ম্যানিফেস্টোও দেখলেন। লেবার পার্টির ম্যানিফেস্টো পছন্দ হওয়ায় তাদের পার্টিতে যোগ দিলেন। তখন টিউলিপের বয়স ১৬। ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ ঘুরে ততদিনে তিনি লন্ডনে থিতু হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এমপি হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি যে আসনে সদস্য হয়েছি, সেখানে ১৯৯২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন লেবার পার্টির স্লেন্ডা জ্যাকসন। তিনি দুবার একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস, একবার এমি অ্যাওয়ার্ডসজয়ী জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি টনি ব্লেয়ারের মন্ত্রিসভায় পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জুনিয়র মন্ত্রীও ছিলেন। ফলে লেবার পার্টির দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে প্রথমবার পরাজিত হই। তবে পরাজিত হলেও দমে যাইনি।’
এ প্রসঙ্গে টিউলিপের বক্তব্য—‘হারলেও পুরো প্রসেসটা খুব এনজয় করলাম। আমার মনে হলো, ক্যাম্পেইন খুব মজার, ইটস এক্সাইটিং। আই এনজয়েড নকিং অন ডোর। তারপর ২০০৮ সালে আমেরিকায় গেলাম ওবামার ক্যাম্পেইনে। ওই ক্যাম্পেইনটাও খুব এনজয় করলাম। তখন ভাবলাম ঠিক আছে, আরেকবার চেষ্টা করি। এরপর ২০১০ সালে আবার দাঁড়ালাম কাউন্সিলরের জন্য। কিন্তু আমাদের নমিনেশন প্রসেসটা খুবই কঠিন, এমনকি মূল নির্বাচনের চেয়েও নমিনেশনে আরো বেশি কাজ। যতজন লেবার পার্টির সদস্য থাকেন, তাঁদের দরজায় গিয়ে নক করে বলতে হয়—আমি ক্যান্ডিডেট হতে চাই, আমাকে ভোট দাও। মানুষরা আমাকে বলেছে—তুমি টিউলিপ সিদ্দীক? স্লেন্ডা জ্যাকসনের দুটি অস্কার আছে, তোমার কী আছে?’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘তবে আমি অনেক লোকাল ক্যাম্পেইন করেছি। আমাদের লোকাল পোস্ট অফিস বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন আমি ওখানে গিয়ে ক্যাম্পেইন করলাম, বললাম, এটা খোলা রাখতে হবে। আমাদের ফায়ার স্টেশন বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন আমি ক্যাম্পেইন শুরু করলাম। পিটিশন দিলাম, লোকাল পেপারে লিখলাম, জনগণকে বললাম, চলো আমরা প্রটেস্ট করি, র্যালি করি। এসব আমি করেছি, মানুষজন জানে। আমাদের লোকাল খবরের কাগজে আর্টিকেল লিখি। মানুষ আমাকে এভাবে চিনল।
ব্রিটেনের নির্বাচনেও ধর্মীয় পরিচয়টাকে কিছু মানুষ ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করে। ভোটের আগে আমাকে অনেকে বলেছে, ব্যালটে তুমি তোমার নাম টিউলিপ সিদ্দীক দিয়ো না। তোমার হাজব্যান্ডের নাম দাও। টিউলিপ পার্সি। কারণ মুসলমান নাম দেখলে ভোট দেবে না। আমি বলেছি—আমি ওই সব মানুষের এমপি হতে চাই না। মুসলমান নাম দেখে যদি ভোট না দেয়, তবে আমি পার্লামেন্টে তোমাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই না। আমি খুব আত্মপ্রত্যয়ী। যদি আমি কিছু করতে চাই—যতই কষ্ট হোক, চেষ্টা করব, অনেক কাজ করব, আর দেখাব যে করতে পারি কি না। আমি যে আসন থেকে দাঁড়িয়েছি, ওটা ছিল দেশের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। ৪২ ভোটে আমার আগের এমপি জিতেছেন। আমি যখন দাঁড়িয়েছি, সবাই বলেছে, তুমি এটা জিততে পারবে না। কিন্তু আমি আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে জিতলাম।’
‘আমাদের একটা ভোট ছিল—ওয়েলফেয়ার রিফর্ম বিল। চিফ হুইপ আমাদের বলেছেন, তোমরা এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেবে না। চিফ হুইপের কথা না শুনলে প্রমোশন পাওয়া কিন্তু কঠিন। কিন্তু আমি যে ওই বিলটার পক্ষে ভোট দিতে পারব না। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম—তার বিরুদ্ধে ভোট দিলাম। জানি, এ জন্য আমি প্রমোশন না-ও পেতে পারি, এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী না-ও হতে পারি। কিন্তু আমি বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বাসটাই আসল। বিশ্বাসটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
নিজের রাজনৈতিক সফলতার কথা বলতে গিয়ে টিউলিপ বলেন, ‘রাজনীতিতে নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। ছোটবেলা থেকেই মা আর খালা বলতেন—তুমি যা করতে চাও, তুমি তা-ই করতে পারবে। তুমি প্রধানমন্ত্রী, আইনজীবী হতে চাও আর যা-ই হতে চাও, হতে পারবে। এ আত্মবিশ্বাসটা যদি না থাকে, তবে মহিলারা কিছুই করতে পারবে না। এ আত্মবিশ্বাস আমার পরিবার থেকে দেওয়া হয়েছে। আমার মা-বাবা, ভাই-বোন—সবার সহযোগিতায় আজ আমি টিউলিপ সিদ্দীক এমপি। পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে এটি সম্ভব হতো না।’
মনোরমভাবে সাজানো হয় নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন বরো হল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ লোকদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও। বিশাল এ আয়োজন ক্যারোলিন ওয়াকার ডিয়ালোকে কেন্দ্র করে। গত ১০ ডিসেম্বর (২০১৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি শপথ নেন নিউ ইয়র্কের কিংস কাউন্টির সপ্তম মিউনিসিপ্যাল ডিস্ট্রিক্ট সিভিল কোর্টের বিচারক হিসেবে। বিশ্বের মুসলমানদের জন্য খুশির খবর হলো, ক্যারোলিন ওয়াকার যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলমান নারী বিচারক। আর শপথ নেন পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে। আরেকটি ভালো খবর হলো, ওই আদালতের আরেক বিচারপতি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। তার নাম ক্যাথি কিং।
ডিয়ালো ওই কাউন্টির জনগণের সরাসরি ভোটে বিচারক নির্বাচিত হয়েছেন গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার (২০১৫)। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইমাম বরো হলে তার জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠানে কুরআন থেকে পাঠ এবং মোনাজাত করেন। এতে তাদের অংশগ্রহণে খুবই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এই নারী বিচারক। সংক্ষেপে অনেকে তাকে এখন বলছেন নগরীর সিভিল বিচারক।
ডিয়ালো আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত নারী। কৃষ্ণাঙ্গ ক্যারোলিন ব্রুকলিনের বাসিন্দা। বয়স প্রায় ৪০ বছর। তার জয়ের খবর শুনে রীতিমতো উৎসবে মেতে ওঠে সেখানকার মুসলিম অভিবাসীরা। ওই সময়েই ডিয়ালোর সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় ব্রুকলিনের একটি রেস্তোরাঁয়। তাকে এক নজর দেখা ও সংবর্ধনা জানাতে ভিড় করেন বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম অভিবাসী। নির্বাচিত হয়েছেন বলে তিনি কাউন্টির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ডিয়ালো বলেন, তাদের কারণেই আমি বিচারক হয়েছি। আর জনগণ বলেছে, ‘যোগ্যতা আছে বলেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন’। গণমাধ্যমকে ডিয়ালো বলেন, ‘প্রথম মুসলিম নারী বিচারক নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত ও উৎফুল্ল’। তিনি আরো বলেন, ‘আমি দেশটির সংবিধান মেনে চলারও ওয়াদা করছি। বিচার জগতে আমাকে বিশাল বা গুরু দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সবার প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এবং আমি আমার সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ ও বিনম্র।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি আমরা সবাইকে সমান ও মুক্ত বলে মনে না করি, তবে তা হবে মার্কিনিদের সারবত্তা বা পদার্থ হারিয়ে যাওয়ার শামিল।’ অনুষ্ঠানের ভিডিওটি তার পদে অধিষ্ঠিতকরণের বিষয়েও এ সংক্রান্ত নানা অনুকূল মন্তব্যের জন্ম দিয়েছে।
অভিষেক অনুষ্ঠানেও আইন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সবার সম-অধিকারের কথার ওপর জোর দিয়ে অনেক কিছু বলেন ডিয়ালো। বলা যেতে পারে, ঘটা করে এই উদযাপন শুধু তার বিচারক হওয়া উপলক্ষে নয়, এই আয়োজন সবাইকে ভালো কিছু করার ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা জোগাবে। ইতিহাস রচনাকারী এই বিচারক এ পর্যন্ত পৌঁছেছেন আইনের প্রতি নিষ্ঠা দিয়ে।
ডিয়ালোর জন্ম ব্যাপ্টিস্ট পরিবারে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সুশৃঙ্খল জীবন পরিচালনা তাকে মুসলমান হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই তার মাথায় এখন হিজাব উঠেছে। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন ২০০১ সালের ৯/১১-এর পর। ধর্মকে মনেপ্রাণে লালন করেন ঠিকই; তবে তার ব্যাপ্টিস্ট-মুসলিম মিশ্র পরিবারে নেই বিদ্বেষমূলক ছিটেফোঁটা মনোভাব। এটি লক্ষ করা গেছে বিচার বিভাগীয় অভিষিক্তকরণ অনুষ্ঠানেও।
ওয়াকার ডিয়ালোর নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদিরা কাজ করেছে। এতেই বোঝা যায়, সাদা-কালো-বাদামি বর্ণের কোনো ভেদাভেদ বা পার্থক্য নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশটির অসাম্প্রদায়িকতা এখন চ্যালেঞ্জের মধ্যে। এমন খারাপ সময়ে তার বিচারক হওয়া রীতিমতো আশাব্যঞ্জক। তা ছাড়া দেশটিতে মুসলিমবিরোধী একটা সিন্ডিকেটও জাতি-ধর্মে সমস্যা বাড়াচ্ছে। আর সেই দেশই স্বীকার করছে একজন মুসলিম নারীকে বিচারক (সিভিল কোর্টের) হিসেবে। এটি রীতিমতো একটি ঐতিহাসিক ঘটনাও।
বিচারক ক্যারোলিন ওয়াকারের মা ন্যান্সি ওয়াকার জনাকীর্ণ ওই অনুষ্ঠানে খুশির সাথে বলেছেন, আমার বিশ্বাসই হয়নি ডিয়ালো বিচারকের পদকে অলঙ্কৃত করবে। এ বিজয়ের খবর শুনে আমি অবর্ণনীয় উৎফুল্লতা অনুভব করেছি। এ দিকে ডিয়ালোর খালা অ্যানি পেরি বলেছেন, সে বিচারক নির্বাচিত হয়ে রীতিমতো ইতিহাস রচনা করল। নিউ ইয়র্ক মুসলিম ভোটার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা নাজি আল মোতাসের বলেছেন, ডিয়ালো নিরঙ্কুশ একজন প্রথম মুসলিম নারী বিচারক। তিনি যেমন বুদ্ধিমতী তেমনি জ্ঞানী। বিশেষ যতœবান দায়িত্বের প্রতি। তার ব্যক্তিত্বও সবার কাছে পছন্দের।
ডিয়ালো নিউ ইয়র্ক ল’ স্কুল থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি লাভ করেন। কমিউনিটি বোর্ড ৫, বোর্ড চেয়ার অব দ্য জজ ওয়াকার জুনিয়র কমিউনিটি কোয়ালিশন ইন করপোরেশন, বোর্ড মেম্বার ইস্ট নিউ ইয়র্ক রেস্টরেশন লোকাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অদিকন্তু, তিনি ৭৫তম প্রিসিঙ্কট কমিউনিটি কাউন্সিলের সদস্য। তার আত্মজীবনী থেকে জানা যায়, তিনি নিউ ইয়র্ক শান্তি কমিশনে একজন প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সূত্র: অনলাইন ডেক্স
হুইটম্যান নামেই তিনি ব্যবসায়ীক দুনিয়ায় সুপরিচিতি। পুরো নাম মার্গারেট কুশিং হুইটম্যান। ৪ আগস্ট, ১৯৫৬ নিউইয়র্কের কোল্ড স্প্রিং হার্বার শহরে তার জন্ম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া শহরে বসবাস করছেন। রিপাবলিকান রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ তার পছন্দ। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে অর্থনীতিতে বিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে ১৯৭৯ সালে এমবিএ শেষ করেন। ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই সন্তানের মা । শক্ত হাতে সংসারও সামলাছেন তিনি।
১৯৭৯ সালে সিনসিনাটিতে প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলের ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে তার কর্মজীবনের সূচনা। এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। বর্তমানে বিশ্বের আলোচিত সিইও। গত জুলাইয়ে এইচপির বোর্ড অব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। সফল নারীরা সাধারণ মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেন। তেমনই একজন সফল নারী মেগ হুইটম্যান। বিশেষ করে নারী অঙ্গনে সাফল্যের অগ্রদূত মনে করা হয় হুইটম্যানকে। স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট আধিপত্যের সময়ে হুইটম্যান এখনও বিশ্বাস করেন ডেস্কটপ কম্পিউটারের দিন শেষ হয়ে যায়নি। বিখ্যাত টিভি চ্যানেল সিএনবিসিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডেস্কটপ পিসি নিয়ে তার দৃঢ় আশার কথা জানিয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে এইচপির সুবিশাল পণ্যের সম্ভার আছে।
কারণ এইচপি ভার্চুয়াল ডেস্কটপ এবং ওয়ার্কস্টেশন থেকে ডেস্কটপ অবধি বহু পণ্য রয়েছে। এছাড়াও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ল্যাপটপ, হাইব্রিড এবং ট্যাবলেট পণ্যের মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এইচপি। হুইটম্যান জানালেন, ভবিষ্যতের জন্য ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্বো ডিভাইসের গবেষণা করছে এইচপি। এইচপিতে বছরে মাত্র ১ ডলার বেতন নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। তবে নগদ অর্থ এবং এইচপির শেয়ার নিচ্ছেন তিনি। ২০১২ অর্থবছরে ২৪ লাখ ডলার বোনাস নিয়েছেন। এ ছাড়াও এইচপির লক্ষ্য পূরণে তিনি ৬০ লাখ ডলার বোনাসও পাবেন। হুইটম্যান ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল অবধি অনলাইন নিলাম সাইট ইবে-এর সিইও ছিলেন। তার আমলেই ইবে মাত্র ৩০ জনের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার কর্মীর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বার্ষিক আয় ৪০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়।
যদিও এইচপির জন্য সময়টা ভালো যাচ্ছে না। নানামুখী চাপই সামলাতে হচ্ছে হুইটম্যানকে। অনেকটা সময়ের ভাবনার উল্টো পথেই এগোচ্ছেন হুইটম্যান। তাই এইচপি নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনায় তিনি বলেছেন, একেবারেই নতুন কিছু কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। সামনের প্রান্তিকগুলোয় নতুন বাজার লক্ষ্য করে কিছু উদ্ভাবন নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে। তাই সামনের প্রান্তিক থেকেই এইচপির আয় ও মুনাফা বাড়বে। নতুন একটি ট্যাবলেট পিসি দিয়ে মোবাইল ডিভাইসের বাজারেও আবার আত্মপ্রকাশ করেছে এইচপি।
তবে হুইটম্যানের গল্পের শুরুটা ১৯৮০ সালে। কাজের হাতেখড়ি দ্য ওয়াল্ট ডিজনিতে। কাজের মাধ্যমে প্রথম কর্মক্ষেত্রেই বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন হুইটম্যান। এরপর একে একে নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন ড্রিমওয়ার্ক এবং হ্যাজব্রোর মতো প্রতিষ্ঠানে। একান্ত কর্মনিষ্ঠা আর পরিশ্রম যে কাউকেই মেলে ধরে। মেগ হুইটম্যান যেন তারই প্রমাণ। তিনি বিশ্বাস করেন, সফলতার প্রথম শর্তই হচ্ছে মেধাশ্রম।
কাঁচ কলার শুক্তো, পাকা কলা, থোড়, মোচা কোনটা বাদ দেবেন? আর এমন কি গাছ আছে বলুন তো যার ল্যাজা থেকে মুড়ো গোটাটাই খেয়ে ফেলতে পারেন? শুধু তাই নয়, কলা পাতায় মুড়ে মাছের পাতুরিও কি কম সুস্বাদু? ইচ্ছে হলে কলা পাতায় ভাত খেতে পারেন, কলার ভেলায় চড়ে খানিক ঘুরেও আসতে পারেন। এমনকী, কলার খোসাও দারুণ উপকারী। কেন কলার এত নামডাক? আসলে কলার গুণ যে অসীম। জেনে নিন কলার ১০ গুণ।
১। হার্ট- কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
২। এনার্জি- ন্যাচারাল সুগার, সলিউবল ফাইবার ও পটাশিয়াম থাকা কারণে যে কোনও রকম এনার্জি ড্রিঙ্ক, এনার্জি বুস্টারের থেকে অনেক বেশি, অনেক ন্যাচারাল এনার্জি জোগায় কলা। এক্সারসাইজের আগে ও পরে তাই অবশ্যই কলা খান। অ্যাথলিট, টেনিস প্লেয়াররাও এনার্জির জন্য সবচেয়ে বেশি কলার উপরই ভরসা রাখেন।
৩।হজম- ডায়েটারি ফাইবার থাকার কারণে কলা হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে পেট পরিষ্কার রাখে। হজমের সমস্যায় অ্যান্টাসিডের থেকে অনেক ভাল কাজ করে কলা। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে সকালে উঠে দুটো কলা খেয়ে নিন।
৪।আলসার- কলার মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় খনিজ ও উপাদান হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ রুখতে সাহায্য করে। ফলে স্টমাক অলাসারের সমস্যায় ভাল কাজ করে কলা।
৫।ভিটামিন বি ৬- কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি ৬। যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে ভিটামিন বি ৬। অ্যামাইনো অ্যাসিডের সিন্থেসিস বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬।ভিটামিন ও মিনারেল- ভিটামিন বি ৬ ও পটাশিয়ামের পাশাপাশি কলায় রয়েছে ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক। ফলে প্রতি দিনের ডায়েটে কলা থাকলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই মেটে।
৭।কলার খোসা- শুধু শাঁস নয়। কলার খোসাও দারুণ উপকারী। সোরেসিস, অ্যাকনের মতো ত্বকের সমস্যায় ভাল কাজ করে কলার খোসা। সদ্য ছাড়ানো টাটকা কলার খোসা ত্বকের সোরেসিসের উপর ঘষে নিন। সারা রাত রেখে দিন। সকালে উঠে মুখে ধুয়ে ফেলুন।
৮।ক্যানসার- সম্পূর্ণ পাকা কলার মধ্যে রয়েছে টিউমর নেক্রোসিস ফ্যাক্টর।এই সাইটোকিন কমপাউন্ড রক্তের শ্বেতকণিকা বাড়াতে সাহাযিয করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
৯।স্ট্রেস- স্ট্রেস কমাতে অব্যর্থ কলা। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান যা শরীরে সিরোটোনিমে পরিণত হয়।এই সিরোটোনিন স্ট্রেস কমিয়ে মুড ভাল করতে সাহায্য করে।অতিরিক্ত চাপের সময় কলা খেয়ে নিন। চাপ কমবে।
১০।হ্যাংওভার– এক্সারসাইজে যেমন কাজে আসে কলা, তেমনই পার্টিতেও কাজে আসে কলা। পার্টি হ্যাংওভার কাটাতে কলার থেকে ভাল আর কিছু হতে পারে না। ব্লেন্ডারে দুটো কলা ও বরফ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন, কয়েকটা বেরি, নারকেলের দুধ বা গরুর দুধ মিশিয়ে শেক বানিয়ে খেয়ে নিন। হ্যাংওভার কেটে যাবে।
একবার ভারতের শেষপ্রান্তটা ঘুরে আসতে পারেন। দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমা-ছোট্ট একটি বিন্দু। মনে হলে প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল সমুদ্রে ঘেরা তামালনাড়ুর ছোট জেলা কন্যাকুমারী। ইচ্ছা হলে বেড়িয়ে আসতে পারেন কেপ কমোরিন বা কন্যাকুমারী থেকেও।
১৯৭০ সাল থেকে ভারতের কন্যাকুমারী অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গোটা বিশ্বের কাছেই পরিচিতি পেয়ে এসেছে। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত কন্যাকুমারীর ভৌগলিক অবস্থান এমনই যে তা পর্যটকদের আকৃষ্ট করবেই। ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গম স্থলে অবস্থিত এই কন্যাকুমারী এমন একটি উপদ্বীপ যেটি তীর্থস্থান এবং ভ্রমণস্থল উভয়ের জন্যই বিখ্যাত।
একবার চোখ বুলিয়ে নিন এত জায়গা থাকতে কেন যাবেন কন্যাকুমারীতে? কী দেখবেন সেখানে গিয়ে?
বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল- এটি পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় জায়গা। কথিত আছে, রামকৃষ্ণ পরমহংমদেবের শিষ্য সন্নাসী বিবেকানন্দ সাঁতরে পার হয়েছিলেন ভারত মহাসাগর। সেই সময় কন্যাকুমারীতে সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা এক বিশাল পাথরের উপর বসে তিনি বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং ধ্যান করেছিলেন। আধ্যাত্মিক এই গুরুঠাকুর বিবেকানন্দের স্মৃতিতে ১৯৭০ সালে সমুদ্রে উপর তৈরি করা হল ‘বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল’। এই মেমোরিয়ালের উপর থেকে সমুদ্রের ঢেউ-এর উথাল পাথাল দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। দিগম্ত বিস্তৃত সমুদ্রের উথাল হাওয়া আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য জগতে। বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য-জাস্ট অসাধারণ। এই মেমোরিয়ালের ভিতরে একটি মেডিটেশন হল রয়েছে যেখানে আপনি বসে নিশ্চিন্তে ধ্যান করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার যাবতীয় চিন্তা-ভবনা দূর হয়ে যেতে পারে।
কন্যাকুমারী সমুদ্রতট-তিনটি সমদ্রের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সমুদ্রতট কন্যাকুমারীর প্রধার আকর্ষণ। এখানে সমুদ্র কিছুটা উত্তাল প্রকৃতির। সমুদ্রতটটি চারিজিক থেকে পাথর দিয়ে ঘেরা। তাই ইচ্ছে হলেও সহজে সমুদ্রের জলে পা ভিজাতে পারবেন না। কিন্তু তার বদলে বিচের ধারে অবস্থিত লাইট হাউস- এর উপর থেকে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দারুণ লাগবে।
গান্ধী মেমোরিয়াল – মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিতে ১৯৫৬ সালে তৈরি করা হয়েছে এই মেমোরায়ালটি। এই মেমোরিয়ালটি ‘অমন টেম্পেল’ নামেও পরিচিত। উড়িশার মন্দিরের ধাঁচে তৈরি এই ‘গান্ধী মেমোরিয়াল’ পর্যটন কেন্দ্র কন্যাকেমারীর আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। গান্ধীজির মৃত্যুর পর তাঁর অস্থিভস্ম এখানকার সমুদ্রতটের ধারে এই গান্ধী মেমোরিয়ালটি তৈরি করা হয়। এই ‘অমন টেম্পেল’ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে প্রত্যেকদিন ঠিক দুপুর ১২টায় যখন সূর্য মাথার উপর আসে, তখন গান্ধীজির সমাধিস্থলের উপর সূর্যের রশ্মি এমনভাবে পড়ে যে তাঁর অস্থিভস্ম বিসর্জনের স্থানটি প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। এই মেমোরিয়াল ঘুরে দেখলে গান্ধীজির শেষ বয়সের নানান কথা সম্পর্কে জানা যায়। তাঁর নানান ছবি, তাঁর শেষ বয়সের ব্যবহারের নানান সামগ্রী অতি যত্ন সহকারে সংরক্ষিত রয়েছে এই মেমোরিয়ালে।
থিরুভাল্লুভার স্ট্যাচু – বিখ্যাত তামাল কবি এবং সন্ন্যাসী থিরুভাল্লুভারকে সম্মান প্রদর্শন করে তৈরি বিশাল উচ্চতার এক মূর্তি হল এই ‘থিরুভাল্লুভার স্ট্যাচু’। সমুদ্রের মাঝে বিবেকানন্দ রকের ঠিক পাশে অবস্থিত এই বিশালাকার মূর্তির উচ্চতা ১৩৩ ফুট বা ৪০.৬ মিটার। আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর যে জায়গায় ভারত মহাসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে, ঠিক সেখানেই তৈরি করা হয়েছে তামিল কবির এই মূর্তি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালে-টানা দশ বছর ধরে তৈরি করা হয় এই মূর্তি। এই মূর্তির আসল উচ্চতা ৯৫ ফুট এবং মূর্তিটি যে স্তম্ভমূলের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেটির উচ্চতা ৩৮ ফুট। তামিলনাড়ুর বাসিন্দা কবি থিরুভাল্লুভার-র লেখা বই ‘থিরুক্কুরাল’- এর নানান ধর্মপোদেশ খোদাই করা আছে এই মূর্তির পাদদেশের স্তম্ভমূলে। মূর্তিটির ভস্কর্য এতটাই চিত্তাকর্ষক যে প্রত্যেক পর্যটক অবাক না হয়ে থাকতে পারবেন না। এর স্তম্ভমূলটিতে সম্পদ এবং নানান আনন্দমূলক বিষয় সম্পর্কে খোদাই করা রয়েছে। থিরুক্কুরালের ১৩৩টি অধ্যায়ের নানান কথা উল্লেখ রয়েছে এই থিরুভল্লুভার স্ট্যাচু-র গায়ে।
কন্যাকুমারী মন্দির – তামিলনাড়ুর বাসিন্দাদের মধ্যে ঈশ্বর ভক্তি এতটাই বেশি যে সমগ্র রাজ্য মন্দিরে মন্দিরে জয়লাপ। কন্যাকুনারীই বা তার ব্যতিক্রম হয় কি করে? চোখ ধাঁধানো স্থাপত্যের জন্য এখানকার মন্দিরগুলির সৌন্দর্য এককথায় অনবদ্য। এখানকার কিছু কিছু মন্দির ১০০ বছরেরও বেশী পুরোনো। দাক্ষিণাত্যের পাজাদের আমলে তৈরি এই সকল মন্দিরগুলির শিল্পকলা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এই মন্দিরগুলির মদ্যে পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হল ‘দেবী কন্যাকুমারী মন্দির’ এবং ‘সুচিন্দ্রম মন্দির’ । সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে একটি হল এই কন্যাকুমারী মন্দির। এই মন্দিরের আরাধ্যা দেবী হলেন দেবী পার্বতী। এটি সমুদ্রের একেবারে পাড় বরাবর অবস্থিত বলে পর্যটকরা সারা বছরই এখানে ভিড় জমান। কন্যাকুমারীর অপর বিখ্যাত মন্দির সুচিন্দ্রমে তিন দেবতা ব্র ,বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের আরাধনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সুচিন্দ্রম মন্দিরে কেউ মানত করলে তার সেই আশা পূরণ হয়। এই মন্দিরটি কন্যাকুমারী থেকে মাত্র ১১ কিমি দুরে অবস্থিত।
থিরপারাপ্পু ঝরনা- রোডায়ার নদীর ঝরনা ৫০ ফুট উপর থেকে নীচে পড়ছে এবং ঝরনার নীচে দাড়িয়ে আপনি ছবি তুলছেন। ভারলেই কেমন যেন মনটা রোমাঞ্চে ভরে ওঠে। তাই হাতে সময় নিয়ে ঘুরতে গেলে থিরপারাপ্পু ঝরনা দেখতে ভুলবেন না যেন। ৩০০ ফুট দৈর্ঘের এই জলপ্রপাত কন্যাকুমারী শহর থেকে মাত্র ৬০ কিমি দুরে । এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফটোগ্রাফারদের জন্য আদর্শ একটি স্থান। তাই থিরপারাপ্পু ঝরনা দেখতে গেলে সঙ্গে অবওশ্যই নিয়ে যাবেন ক্যামেরা ।
উদয়গিরি ফোর্ট – যারা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাদের জন্য উদয়গিরি ফোর্ট আদর্শ স্থান। কন্যাকুমারী শহর থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত এই ফোর্টটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ২৬০ ফুট উচ্চতার এই ফোর্ট বা দুর্গটি ধ্বংস করেছিলেন রাজা চোল। এরপর খ্রীষ্টপূর্ব ১৭২৯ থেকে১৭৫৮ সাল-এই সময়কালের মধ্যে দুর্গটিকে পুনরায় তৈরি করা হয়েছিল। ইউরোপিয়ান বন্দী ডি লেনয় এই দুর্গে বহু বছর জীবন কাটিয়েছিলেন বলে এই দুর্গের অপর নাম ‘দিল্লানাই কোট্টাই’ ।
পেচিপারাই ড্যাম – তামিলনাড়ুর পেচিপারাই গ্রামে অবস্থিত এই ড্যাম বা বাঁধটি দেখতে হলে কন্যাকুমারী থেকে মাত্র ৫৬ কিমি পথ অতিক্রম করতে হবে। কোডায়ান নদীর উপর তৈরি করা এই বাঁধটি ১৯০৬ সালে তৈরি করা হয়েছিল। এই ড্যাম এলাকায় বোটিং- এর সুবিধা থাকার এটি বনভোজন এবং পড়ুয়াদের এক্সকারশন-এর জন্য আদর্শ জায়গা। এই ড্যামের পাশে সংকটমোচন হনুমানজির একটি মন্দিরও রয়েছে ।
নাগরাজ মন্দির – সারি সারি নারকেল গাছ এবং তার মাঝে অবস্থিত একটি মন্দির। চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ, তার বাইরে দিয়ে সমুদ্রের ঘেরাটোপ। সবমিলিয়ে অসাধারণ সুন্দর এই নাগরাজ মন্দির। মন্দির হলেও এটির শিল্পকলা অনেকাংশে বৌদ্ধদের মনেস্ট্রির মত। এই মন্দিরের ছাদটিও অন্যান্য মন্দিরের থেকে অনেকটাই আলাদা আকৃতির। নারকেল পাতা এবং বাঁশ কাঠি দিয়ে এই মন্দিরের ছাদ, মাটি দিয়ে তৈরি দেওয়াল আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই। এই নাগরাজ মন্দিরে চারটি ধর্ম – জৈন, বৌদ্ধ, শৈব এবং বৈষ্ণব ধর্মের মিলিত প্রতীক রূপে তৈরি করা হয়েছে।
নাজির হোসেইন: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় টাংগুয়ার হাওর এবং বারাকীয়ার টিলা দুটি স্থান পর্যটকদের জন্য এখন সহজগম্য হয়েছে। আব্দুজ জহুর সেতুর কল্যানে কার ও মাইক্রো করে সরাসরি চলে যাওয়া যায় তাহিরপুর এবং লাউরের গড় । তাহিরপুর থেকে নৌকা করে ঘুরে আসতে পারেন টাংগুয়ার হাওর। লাউরের গড় থেকে যাদুকাটা নদী পেরুলেই বারিকীয়ার টিলা । হাওড় আর পাহাড়ী সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি এই পর্যটন অঞ্চল । সৌন্দর্য বিক্রির টাকায় একদিন এখানে সভ্যতা গড়ে ওঠবে ।কক্সবাজার থেকেও শতগুন লোক সমাগম হবে এই এলাকায় ।এখনও থাকা খাওয়ার সুবিধা গড়ে ওঠেনি । সুনামগঞ্জ শহরে সুরমাভেলী রেসিডেন্টসিয়েল রিসোর্ট এ ২ রাত কাটিয়ে টাংগুয়ার হাওর এবং বারিকীয়ার টিলা দেখে আসতে পারেন ।
আলমগীর কবির: বাংলাদেশ অনন্য সুন্দর একটি দেশ যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক দর্শনীয় স্থান। বলছি নেত্রকোনা জেলার বিরিশিরির গল্প। বিরিশিরির মূল আকর্ষণ বিজয়পুর চীনামাটির খনি। এ ছাড়াও দেখার মতো আরো রয়েছে রানীখং গির্জা, কমলা রানীর দীঘি এবং সোমেশ্বরী নদী। জাফলংয়ের স্বচ্ছ পানি কিংবা সেন্টমার্টিনের গভীর নীল পানি অনেকের কাছে পরিচিত। কিন্তু সবুজ নীলের মিশেলে অদ্ভুত-রঙা হ্রদটা কখনো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তবে তৈরি হয়ে যান এখনই। শীতের এই শেষ দিকেই বিরিশিরি ঘোরার উপযুক্ত সময়। কারণ অনেকটা পথ মাটির। বৃষ্টির দিন কাদামাটির পথ মাড়ানো ঝামেলার।
বিরিশিরির সৌন্দর্য আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে সব ব্যস্ততা। আবারো বলছি বিরিশিরির মূল আকর্ষণ হচ্ছে চিনামাটির পাহাড়, যার বুক চিরে জেগে উঠেছে নীলচে-সবুজ পানির হ্রদ। সাদামাটি পানির রঙটাকে যেন আরো বেশি গাঢ় করে দিয়েছে। তবে বিরিশিরি গিয়েই আপনি এ সুন্দর দৃশ্য দেখতে পারবেন; সেটা কিন্তু না।
আপনাকে যেতে হবে আরেকটু দূর বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়ে। বিচিত্রময় সাংস্কৃতিক আবহাওয়া, কংশ-টেপা-সোমেশ্বরীর কাশবন আর দূরে আকাশে হেলান দিয়ে গম্ভীর গারো পাহাড়ের ধ্যানমগ্ন প্রতিকৃতি সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই সৌন্দর্যপিপাসুদের মন কেড়ে নেয়। বর্ষায় সোমেশ্বরীর তীরবর্তী বিরিশিরির সৌন্দর্য বেড়ে যায় অনেক গুণ।
পাহাড় থেকে নেমে আসা উত্তাল ঢলের রুদ্ররূপ বর্ষায় বিরিশিরি ঘুরতে আসা পর্যটকদের দেখায় তার বন্য সৌন্দর্য। বিরিশিরিতে রয়েছে পাহাড়ি কালচারাল অ্যাকাডেমি। এখানকার অধিবাসীদের শতকরা ৬০ ভাগই গারো, হাজং ইত্যাদি নৃগোষ্ঠীর। এখানে আছে টুঙ্কা বিপ্লবের কয়েকটি স্মৃতিস্তম্ভ। হাজং ভাষায় তেভাগা আন্দোলনের আরেক নাম টুঙ্কা বিপ্লব।তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি কমরেড রাসমনি সিংহের স্মৃতিভাস্কর আছে এখানে। এখানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় সবাই পাহাড়ি- গারো, হাজং।
এ ছাড়াও যেতে পথে পড়বে সেন্ট যোসেফের গির্জা। গির্জাটা বেশ সাজানো-গোছানো, নীরব আর খুব সুন্দর। তারপর এসে পৌঁছবেন বিজয়পুরের চিনামাটির পাহাড়ে। পাহাড় ও সমভূমিসহ এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬০০ মিটার। বিস্তর পাহাড়জুড়ে রয়েছে সাদামাটি। কিছু কিছু জায়গায় লালচে মাটিও দেখা যায়। পাহাড় থেকে মাটি কাটায় সেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে যার পানি কোথাও স্বচ্ছ নীল কোথাও সবুজাভ নীল কোথাও বা একদম লাল। তবে লাল পানি এখন নেই বললেই চলে। এই হ্রদের নীল পানি যেন আপনার সব অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে দেবে। শ্বেত-শুভ্র চিনামাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ নীলের উৎস সোমেশ্বরী নদী। যা বর্তমানে কয়লা খনি হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়াও দুর্গাপুর থেকে ছয় কিলোমিটার উত্তর সীমান্তে পাহাড়ের চূড়ায় রানীখং গির্জা অবস্থিত। এই পাহাড়ের চূড়া থেকে বিরিশিরির সৌন্দর্য যেন অন্য মাত্রা পায়।
বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই কমলা রানী দীঘি। এই কমলা রানী দীঘি সাগর দীঘি নামেও পরিচিত। দীঘিটি পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেলেও এর দক্ষিণ-পশ্চিম পাড় এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে। বিরিশিরির নিরিবিলি কোলাহলহীন ছিমছাম শান্ত পরিবেশ মনে প্রশান্তি এনে দেয়। এমন পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতেও আপনার খারাপ লাগবে না। এ ছাড়া দু’চোখ যেদিকে যাবে দেখবেন শুধুই পাহাড়। তবে এগুলোর বেশির ভাগই ভারতে।
ঢাকায় যারা আছেন তারা বিরিশিরি যাবেন ঢাকার মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সরাসরি দুর্গাপুর যাওয়ার বাসে। ৫-৭ ঘণ্টার মধ্যেই আপনি পৌঁছে যাবেন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিরিশিরিতে। তা ছাড়া কমলাপুর থেকে প্রতিদিন রাতে নেত্রকোনার উদ্দেশে ট্রেন ছাড়ে। ট্রেনে নেত্রকোনা পৌঁছে সেখান থেকে বিরিশিরি যাওয়া যায়।
দুর্গাপুরে থাকার জন্য ভালো ব্যবস্থা হলো ইয়ুথ মেন খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএ-এর রেস্ট হাউজ ও কালচারাল অ্যাকাডেমি। এ ছাড়াও দুর্গাপুরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। স্বর্ণা গেস্ট হাউজ, হোটেল সুসং, হোটেল গুলশান ইত্যাদি। এগুলোর ভাড়া খুব কম। এলাকাভিত্তিক বিশেষ খাবার- নেত্রকোনা জেলার বিখ্যাত খাবার বালিশ মিষ্টি খেতে ভুলবেন না কিন্তু।
অলিভ অয়েল ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ একটি তেল। এই তেল ত্বক এবং চুলের জন্য অনেক উপকারী। এমনকি সেনসিটিভ ত্বকেও এটি ব্যবহার করা যায় সহজে। এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অলিভ অয়েলের অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা, রিংকেল দূর করে ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে থাকে। শুধু ত্বকের যত্নেই নয়। চুল নরম, শাইনি স্বাস্থ্যজ্বল করতে এর বিকল্প নেই।
১। গোসলে অলিভ অয়েল
বিশ্ববিখ্যাত অভিনেত্রী সোফিয়া লরেনকে মনে আছে? এই ইটালিয়ান সুন্দরী অলিভ অয়েল দিয়ে গোসল করতে পছন্দ করতেন। আপনার গোসলের পানিতে ৫ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এবার এটি দিয়ে গোসল করুন। এক নিমিষে আপনার ত্বক নরম কোমল হয়ে উঠবে। এছাড়া গোসলের সময় অলিভ অয়েল সারা শরীরে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। এই একটি কাজ নিয়মিত করার ফলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে অবিশ্বাস্য রকমের নরম এবং কোমল।
২। শুষ্ক ত্বকের জন্য
শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের ত্বকের রুক্ষতার কারণে ত্বকে নান সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাদের জন্য অলিভ অয়েল সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী সমাধান। গোসলের পর আপনি কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল শরীরে ম্যাসাজ করুন। এরপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন শুকিয়ে যাওয়ার জন্য। এটি আপনার ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে থাকবে। অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে কোন লোশন ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না।
৩। স্ট্রেচ মার্ক রিমুভার
অলিচ অয়েল ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখে। আপনার স্ট্রেচ মার্কের উপর অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। এটি শুধু দাগ নয় পুরাতন স্ট্রেচ মার্কও হালকা করে থাকবে। তবে এটি নিয়মিত করতে হবে।
৪। সানস্ক্রিন
সমপরিমাণ অলিভ অয়েল এবং চায়ের লিকার পানি মিশিয়ে নিন। এটি আপনি মুখ এবং সারা শরীরে ম্যাসাজ করুন। এবার এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন না। এটি সানস্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
৫। চুল শাইনি করতে
লেবুর রস, ডিমের কুসুম এবং দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি চুলে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এটি চুল নরম এবং সাইনি করে তুলবে। খুশকি দূর করার জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন।
ত্বক থেকে মেকআপ দূর করতে অলিভ অয়েল বেশ কার্যকরী। এক টুকরো তুলোয় অলিভ অয়েল লাগিয়ে ত্বকে ঘষুন। এটি সুন্দরভাবে ত্বক থেকে মেকআপ তুলে ফেলবে।
খুশকি, চুলের আগা ফাটা সর্বোপরি প্রচুর পরিমাণে চুল উঠে যাওয়া এখন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। চুল পড়া রোধ করে চুলের গোড়া মজবুত করার কাজে মেহেদি ব্যবহার হয়ে আসছে আদিযুগ থেকে। চুলে মেহেদি অনেকভাবে লাগানো যায়। মেহেদির কিছু প্যাক আছে যা খুশকি দূর করে, গোড়া মজবুত করে এবং রেশম কোমল চুল উপহার দেয়। তাই আসুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু উপকারী মেহেদির প্যাক সম্পর্কে।
– ডিমের সাদা অংশ, অলিভ অয়েল এবং মেহেদি গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি চুলের গোড়ায় খুব ভালো করে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ভালো করে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
– একটি লেবুর রস, চার টেবিল চামচ মেহেদির গুঁড়ো এবং পরিমাণমত টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি চুলের গোঁড়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ চুলে লাগিয়ে নিন। চুল শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুল খুশকিমুক্ত এবং ঝরঝরে হবে।
– মেহেদি গুঁড়ো, লেবুর রস, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল, সাদা ভিনেগার, মেথি গুঁড়ো এবং দুই টেবিল চামচ টকদই ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার প্যাকটি ১২ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। পরেরদিন সকালে এই প্যাকটি মাথায় ভালো করে লাগিয়ে নিন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি খুশকি দূর করবে, চুলের গোড়া মজবুত করে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্বল করে তুলবে।
– রাতে একটি পাত্রে সরিষা তেল গরম করে নিন। তারপর এতে কিছু তাজা মেহেদি পাতা এবং দুই চা চামচ মেথি দিয়ে রেখে দিন। পরেরদিন এটি ছেঁকে পাতা এবং তেল আলাদা করে নিন। এই তেলটি নিয়মিত চুলে ম্যাসাজ করে লাগান। এক ঘণ্টা এই তেল মাথায় রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এভাবে মেহেদির তেল ব্যবহারে চুল পড়া রোধ করবে এবং খুশকি দূর হবে।
সূত্র: অনলাইন ডেক্স
সকাল-বিকালের নাস্তা কিংবা টিফিন নিয়ে ঝামেলায় থাকেন? তাহলে এই ব্রেড সুশির রেসিপিটি আপনারই জন্য। হরেক রকম স্বাদে তৈরি করা যায় বিধায় কেউ খেয়ে বোর হবেন না। সবচাইতে ভালো দিকটি হচ্ছে, এই খাবারের আসলে কোন রেসিপি নেই, কেবল আছে তৈরি করার কৌশল। দারুণ সেই কৌশলটি জেনে নিন আর মাত্র ১০ মিনিট সময়ে তৈরি করে ফেলুন অসাধারণ একটি খাবার ব্রেড সুশি। পাউরুটি দিতে এত অল্প সময়ে এর চাইতে মজার ডিশ আর হয় না!
উপকরণ
তাজা পাউরুটি
আপনার পছন্দের যে কোন একটি সস বা জ্যাম/জেলী (এটা প্রয়োজন সুশিকে আটকে রাখতে)
চীজ, চকলেট সস, পিনাট বাটার ইত্যাদি যে কোন কিছু যা আপনার ভালো লাগে
ঝাল খেতে চাইলে কিছু তাজা সবজি কুচানো বা লম্বা করে কাটা
মিষ্টি খেতে চাইলে কিছু ফল বা বাদাম
আপনার পছন্দের যে কোন ঝাল বা মিষ্টি ফিলিং (চিকেন থেকে শুরু করে শ্রিম্প, টুনা, বাদাম, বীফ, মাটন, মাছ, ডিম যে কোন কিছু)
প্রণালি
-রুটির চারপাশ থেকে বাদামী অংশটি ফেলে দিন।
-এবার রুটি বেলার বেলন দিয়ে ভালো করে বেলে চ্যাপ্টা করে নিন রুটিগুলোকে।
-চ্যাপ্টা হয়ে গেলে ভেতরে সস বা জ্যাম/ জেলী মাখান। সেটা দেয়া হয়ে গেলে চীজ বা মেয়নিজ বা পিনাট বাটার মাখিয়ে দিন।
-এবার ভেতরে ফল/সবজি ও সাথে আপনার পছন্দের ফিলিং দিন।
-সুন্দর করে রোল করে নিন।
-ধারালো চাকু দিয়ে রোলগুলো সুশির আকারে কেটে নিন। ব্যাস, তৈরি আপনার ব্রেড সুশি।
উপকরণ:পাঁঠার মাংস— ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজকুচি ১৫০ গ্রাম, আদাবাটা ২ চা-চামচ, রসুনবাটা ২ টেবিল-চামচ, হলুদ গুঁড়ো ১ চা-চামচ, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ১ ১/২ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চা-চামচ’ ধনে গুঁড়ো ১ চা-চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ চা-চামচ, তেঁতুলের পাল্প ২ চা-চামচ, সর্ষে বাটা ২ টেবিল চামচ, নারকেলের দুধ ২০০ মিলি, নুন স্বাদমতো, চিনি ১ চা-চামচ, কাঁচালঙ্কা কুচি ১ চা-চামচ, ধনেপাতা কুচি ৩ টেবিল-চামচ, সর্ষের তেল ১/২ কাপ
প্রণালী: মাংস ধুয়ে আদা, রসুন, ২ টেবিল-চামচ সর্ষের তেল, হলুদ, লঙ্কা, ধনে, জিরে গুঁড়ো দিয়ে এক ঘণ্টা মেখে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ হাল্কা ভাজা হলে মশলা মাখা মাংস ও চিনি দিন।
নুন দিন স্বাদমতো এবং ভাল করে মাংস কষতে থাকুন। মাংস বেশ কষানো হলে ও তেল ছেড়ে দিলে গোলমরিচ গুঁড়ো দিন। এইবার নারকেলের দুধ ও এক কাপ জল দিয়ে মাংস সেদ্ধ হতে দিন কম আঁচে। মাংস সেদ্ধ করতে প্রেশার কুকারও ব্যবহার করতে পারেন।
মাংস সেদ্ধ হলে কড়াইতে ভাল করে ফুটতে দিন। এই বার মাংসতে সর্ষে বাটা, তেঁতুলের পাল্প, কাঁচালঙ্কা কুচি ও ধনেপাতা কুচি দিন। বেশ ঘন গ্রেভি হলে মাংস নামিয়ে নিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে সার্ভ করুন।
উপকরণ: ১ কেজি গরুর মাংস। ১ কাপ টক দই (খুব বেশি টক দই দেওয়া যাবে না এবং দইটা যেন হালকা মিষ্টি হয়)। আধা কাপ পেঁয়াজবাটা। ১ টেবিল-চামচ রসুনবাটা। ১ টেবিল-চামচ আদাবাটা। ১টেবিল-চামচ জিরাবাটা। ৩,৪টি ফালি করা কাঁচামরিচ। ১ চা-চামচ গরম মসলাগুঁড়া। ৫টি এলাচ। ৩ টুকরা দারুচিনি। ২টি তেজপাতা। ৪,৫টি গোলমরিচ। ৩টি লবঙ্গ। ১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ তেল এবং হাফ কাপ এবং আধা কাপ তেল। স্বাদ মতো লবণ। মিহি পেঁয়াজকুচি আধা কাপ। ৩ টেবিল-চামচ ঘি। ১ টেবিল-চামচ চিনি। ৩,৪টি আস্ত কাঁচামরিচ।
পদ্ধতি: মাংস একটু বড় বড় টুকরা করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।
দই, পেঁয়াজবাটা, আদা-রসুনবাটা, জিরাবাটা, সব গরম মসলা, লবণ, কাঁচামরিচ-ফালি এবং ১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ তেল দিয়ে মাংস মাখিয়ে দুই ঘন্টা রেখে দিন।
তারপর মাংস ঢেকে ভালো মত কষিয়ে রান্না করুন। কোনো পানি দেবেন না। মাংসের পানি সব শুকিয়ে আসলে অল্প অল্প পানি দিয়ে মাংস সিদ্ধ করুন। লক্ষ রাখুন পুরে যেন না যায়।
এবার অন্য একটি হাঁড়িতে আধা কাপ তেল গরম করে, পেঁয়াজকুচি দিয়ে বেরেস্তা করে তুলে নিন। এই গরম তেলেই সিদ্ধ করা মাংসগুলো দিয়ে দিন।
ভাজতে থাকুন। লবণ চেখে নিন। কোরমাতে বেশি লবণ হলে ভালো লাগেনা। লবণ একটু কম কম হতে হবে।
ঝোলের জন্য অল্প পানি দিন।
ফুটে উঠলে পেঁয়াজ বেরেস্তা, চিনি, ঘি ও আস্ত ৩,৪টি কাঁচামরিচ দিয়ে অল্প আঁচে রেখে দিন। ঝোল তেলের উপর উঠলে নামিয়ে নিন।
তবে খুব বেশি পানি টানিয়ে ফেলবেন না। একটু ঝোল রাখলে খেতে ভালো লাগে। ইচ্ছে হলে সামান্য লেবুর রস দেওয়া যেতে পারে।
পরিবেশন করুন পোলাও, পরোটা, নান কিংবা ভাতের সঙ্গে।
হাত ছাড়া বিমান চালিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জেসিকা কক্স (৩০) নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী।
জেসিকা ইচ্ছা করে এটি করেছেন, এমন নয়। আসলে তিনি পৃথিবীতে এসেছেন দুটি হাত ছাড়া।
হাত নেই বলে জেসিকা থেমে থাকেননি। দৈনন্দিন সব কাজই করে চলেছেন স্বাভাবিক অন্য সবার মতো। আর পাইলট হিসেবে বিমান চালিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি।
এতে করে একটি রেকর্ডের সঙ্গেও নিজের নাম জড়িয়ে নিয়েছেন জেসিকা কক্স। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার এই নারী বিশ্বের প্রথম হাতহীন নারী বিমানচালক। ২০০৮ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে এ স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাভাবিক একজন মানুষ যতটুকু করতে পারেন, তার চেয়ে কম নয়, বরং বেশিই করছেন জেসিকা। পা দিয়ে বিমান চালাতে পারেন, গাড়িও চালান ধুমছে। এমনকি পা দিয়েই বাজান পিয়ানো।
জেসিকার যে দুই হাত নেই, ছোটবেলা থেকে তা একদমই পাত্তা দেননি। খেলাধূলার মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে বেড়ে উঠেছেন তিনি। জিমন্যাস্টিকস, নাচ আর সার্ফিং আগেই শিখে ফেলেন। এরপর একে একে গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে একেবারে আকাশ উড়াল দিলেন জেসিকা কক্স।
এক সাক্ষাৎকারে জেসিকা বলেন, ‘হাত নেই তো কী হয়েছে, আমার পা দুটিকেই তো কাজে লাগাতে পারছি।’
জেসিকা ২০১২ সালে প্যাট্রিককে বিয়ে করেন। স্বামী আবার তারই সাবেক তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষক। দু’জনে অ্যারিজোনার তুকসনে বসবাস করছেন। দুটো ব্ল্যাক বেল্টও অর্জন করেছেন জেসিকা।
পাইলট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জেসিকা অন্যদের অনুপ্রেরণা দিতে বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দর্শকদের সামনে নিজের উদাহরণ তুলে ধরছেন।
জেসিকা কক্স বলেন, মানুষ যা চায়, চেষ্টা থাকলে তা অর্জন করতে পারে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় তিনি সম্প্রতি ইথিওপিয়া সফর করেন। তার বিশ্বাস, তিনি এ কাজেও সফল হবেন।
খবর বিবিসির
দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ নারী নেতৃত্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে জানালেন স্পিকার ও সিপিএ’র চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, নারীদের গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের উন্নতি সাধন করে দক্ষিণ এশিয়া সমগ্র বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
তিনি আজ দিল্লীতে ভারতের লোকসভা আয়োজিত ভারতের মহিলা আইন প্রনেতাদের জাতীয় সম্মেলনের প্রথম প্লেনারি সেশনে চেয়ারপার্সনের বক্তৃতায় একথা বলেন।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ড. নাজমা এ.হেপতুল্লা এ সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকার বলেন, বিশ্ব নারী দিবসকে সামনে রেখে ভারতের নারী নেত্রীদের এ সম্মেলন নারী অধিকার আদায়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের নারী নেত্রীগণ আরো সমৃদ্ধ হয়ে ভারতের পুনঃজাগরণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
স্পিকার নারী নেতৃত্বকে সমাজ তথা দেশ পরিবর্তনের এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মহিলা, শিশুসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য কল্যাণকর। তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক নারী নেতৃত্ব অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
স্পিকার বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা এবং সংসদের স্পিকার নারী। এই নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এবং দেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নিত করেছে।
এর আগে তিনি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
খুব ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম ব্যারিস্টার হওয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে চান্স না পেয়ে ভেঙে যায় স্বপ্ন। পরবর্তীতে ভর্তি হই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। এভাবেই তার জীবনের কথা বলছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। ১৯৯১ সালে ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে। শামসুন্নাহার বলেন, প্রথম প্রথম খুব মন খারাপ লাগতো কাঙ্ক্ষিত সাব্জেক্টে পড়তে না পেরে। কিন্তু পরবর্তীতে ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের ভালবাসায় আর সহপাঠীদের সহযোগিতায় ভালো লাগতে শুরু করে সবকিছু। রোকেয়া হলে থাকাকালীন যোগ দেন বিএনসিসিতে । বিএনসিসি’র বিমান শাখার ক্যাডেট ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে বিএনসিসি’র পক্ষ থেকে যশোরে যান। সেখানে বিমানবহিনীর কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হন। সেখানকার পাইলটদের ইউনিফর্ম, নিয়ম-শৃঙ্খলা, জীবন প্রণালি মুগ্ধ করে তাকে। আর তখনই মনে মনে স্বপ্ন দেখতে থাকেন এমন একটা চাকরির যেখানে ইউনিফর্ম পরা যাবে। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
মূলত ইউনিফর্মটাই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছিল কিছুটা হেসে বললেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। আর তাই দেরি না করে তখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন বিসিএস’র। ১৯৯৬ সালে অনার্স পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই অংশগ্রহণ করেছিলেন ২০তম বিসিএস পরীক্ষায়। নিষ্ঠা আর কঠোর সাধনায় হয়েছেন সফল। প্রথম পছন্দই ছিল পুলিশ। এখনও বিসিএস’র ফল প্রকাশের দিনটির কথা মনে হলে আনন্দিত হন এই পুলিশ সুপার। ফল প্রকাশের সময় তিনি ছিলেন ৮ মাসের গর্ভবতী। আর তাই ফল প্রকাশের পর যখন ভবিষ্যতে শক্ত, মজবুত অবস্থানের হাতছানি পান তখনই ভেসে যান আনন্দে।
চার ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এমফিল সম্পন্ন করার পর স্কলারশিপ নিয়ে চলে যান যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তার ভাইবোনও তার মত স্বমহিমায় উজ্জ্বল। তারা ২ বোন ও ২ ভাই। সবার বড় তিনি। মা-বাবার স্বপ্নও তাকে নিয়ে ছিল তাই আকাশ ছোঁয়া। মেজো ভাই ডাক্তার। সেজো ভাই হাইকোর্টের আইনজীবী। সবার ছোট বোন স্কুলের শিক্ষিকা। দুই সন্তানের জননী এই সফল নারী। বড় সন্তানের বয়স ১৫। ছোট সন্তানের ৪। সুযোগ পেলেই গানের চর্চা করেন। নজরুলগীতি তার সবচেয়ে পছন্দের। বিটিভি’র তালিকাভুক্ত শিল্পী, এই এসপি অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। মুগ্ধ করেন তার সুরের মায়ায় দর্শকদের। নজরুলের খেলিছ এ বিশ্বলয়ে বিরাটও শিশু গানটি তার পছন্দের।
২০০১ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শাখা অফিস ইতালিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ২০০৯ ও ২০১০ সালে পূর্ব-তিমুরে জাতিসংঘ মিশনের জাতীয় পুলিশের মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘে উচ্চপদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন সাতবার জাতিসংঘ শান্তি পদক। তাছাড়া পুলিশে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পেয়েছেন দুইবার আইজি ব্যাজ।
শামসুন্নাহার ২০১৫ সালের ১২ই জুন চাঁদপুরে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। এর পরপরই তিনি সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রমকে আরো বিস্তৃত করেছেন। যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনার জন্য কাউন্সিলিং করে। সুযোগ পেলে চলে যান নিজেই। তিনি প্রমাণ করতে চান পুলিশ জনগণের বন্ধু। আর কাজও করে যাচ্ছেন সেই লক্ষ্যে। তার অফিসের একপাশেই গড়ে তুলেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন নারী আসেন তাদের অভিযোগ নিয়ে। এর ফলে চাঁদপুরে অপরাধপ্রবণতা অনেক কমেছে। তার অরেকটি বড় পরিচয় পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ এ প্যারেডের নেতৃত্ব দেন তিনি। পুলিশ সপ্তাহের এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহানগর পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ, আর্মড পুলিশ, ও র্যাবসহ ১৩ টি দলের সহস্রাধিক সদস্যের প্যারেডে নেতৃত্ব দেন এই গর্বিত নারী পুলিশ।
দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো নারী কর্মকর্তা পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে নেতৃত্ব দেন। আর এর মাধ্যমে তিনি গড়েন এক নতুন ইতিহাস। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, লোকমুখে শুনতে পেতাম পুলিশের দায়িত্ব শুধু ছেলেরাই পালন করতে পারে। মেয়েদের পক্ষে এই গুরুদায়িত্ব পালন করা অসম্ভব। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর দেখেছি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এ কাজে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। নেই কোনো অসুবিধা। বরং রয়েছে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার এক অপরিসীম পরিতৃপ্তি। প্যারেডে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি নিয়ে শামসুন্নাহার মানবজমিনকে বলেন, প্যারেডে নেতৃত্ব দেয়া আমার স্বপ্ন ছিল। ২০০১ সাল হতে পুলিশ একাডেমি সারদার ক্যাম্প থেকে প্যারেড করছি। প্যারেড একটি দায়িত্বশীল ও সূক্ষ কাজ। এজন্য প্রয়োজন পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। একটি বাহিনীর প্যারেড কমান্ডার হওয়া সবার জন্যই গৌরবের। প্যারেডে কমান্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ২০০৮ সালে তিনি পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডের উপ-অধিনায়ক ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকায় সেদিন কমান্ডার হওয়ার সুযোগ ছিল না। আর তাই অপেক্ষায় ছিলেন এই দিনটির। তার নেতৃত্ব ও দৃঢ় পদক্ষেপ স্বয়ং নজর কাড়ে প্রধানমন্ত্রীর।
জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল এই নারী মানবজমিন-এর মাধ্যমে বিশ্ব নারী দিবসে সকল নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমরা মেয়েরা রক্ত মাংসের পিণ্ড নই। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা মানুষ। আমরা সবকিছু করতে পারি। নিজেদেরকে অবহেলিত ভাবার কোনো অবকাশ আমাদের নেই। আমরা নিজেদের খাদ্যের সংস্থান করতে পারি। করতে পারি আমাদের মা-বাবাদের জন্য, সন্তানদের জন্য । প্রয়োজনে আমরা আমাদের স্বামীদেরও খাদ্যের সংস্থান করতে পারি। আমরা ঘরে-বাইরে সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করতে পারি। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যা শিশুদেরকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। একটি ছেলেকে আপনারা যেভাবে সবকিছু দিয়ে সাপোর্ট দেন। মেয়েদের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হতে হবে। নারীদের তিনি যার যার অবস্থান থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন নারী-পুরুষের বৈষম্য যদি একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে মূলোৎপাটন করা যায় তাহলেই একটি সুখি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
একজন নারীকে এখন নিপুণভাবে ঘর সামলে, কর্মক্ষেত্রও পরিচালনা করতে হয় দক্ষ হাতে। এখন অনেক প্রতিষ্ঠানেই নারীরা উচ্চ পদে কাজ করেন। কর্মক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া, অধীনে থাকা সদস্যদের নিয়ে দলের পথ সঠিকভাবে দেখানো, কর্মক্ষেত্রের ভেতরে-বাইরে আনুষ্ঠানিক সভায় যোগ দেওয়া ইত্যাদি কাজ করতে হয়। এত কাজের মধ্যেও সাজপোশাক হওয়া চাই ফিটফাট। কোনো অফিসের ‘বস’ সেখানকার সব কর্মীর কাছেই অনুকরণীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে কর্মক্ষেত্রের বড় বড় কাজ যিনি পরিচালনা করেন, তাঁর পোশাক হওয়া উচিত রুচিসম্মত ও পরিপাটি।
ব্র্যাক ব্যাংকে কমিউনিকেশন অ্যান্ড সার্ভিস কোয়ালিটি প্রধানের দায়িত্বে আছেন জারা জাবীন মাহবুব। কথা হলো তাঁর সঙ্গে। তাঁর মতে কাজের জায়গার পোশাকটি হওয়া চাই পুরোদস্তুর আনুষ্ঠানিক, ছিমছাম কিন্তু ‘স্মার্ট’। মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে পোশাক-পরিচ্ছদে। অফিসে এমন পোশাক পরা উচিত যা আপনাকে সম্মানিতবোধ করায়। জারা জাবীন মাহবুব জানালেন, তিনি অফিসে সব সময় লম্বা ব্লাউজের সঙ্গে সাধারণ শাড়ি পরেন। সালোয়ার-কামিজ তাঁর কাছে ঠিক আনুষ্ঠানিক পোশাক বলে মনে হয় না। মাঝেমধ্যে করপোরেট স্যুট এবং প্যান্টও পরেন। গয়নার মধ্যে সাধারণ নকশার মুক্তার মালা, কানে ছোট দুল, হাতে চিকন চুরি বা ব্রেসলেট এবং অন্য হাতে থাকে ঘড়ি।
উচ্চ পদে কাজ করলেই যে জমকালো, চকমকে পোশাক পরে কর্মক্ষেত্রে হাজির হতে হবে, এমনটা নয়। বরং একজন বসকে তাঁর পোশাক নির্বাচনের বেলায় আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। ‘একজন নারী বস তাঁর অধস্তন সকল নারী কর্মীর কাছে আদর্শ। তাই ব্যক্তিগত পছন্দ বা ফ্যাশনের চলতি হাওয়া সব সময় এখানে খাটানো ঠিক হবে না। কর্মক্ষেত্রের পোশাক ছিমছাম ও কাজের উপযোগী।’ জমকালো পোশাক তোলা থাক দাওয়াতের জন্য। এখানে যেহেতু ব্যক্তির কাজের দিকেই মূল মনোযোগ থাকবে, তাই নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্য বাড়তি কিছু করার প্রয়োজন নেই। নিরীক্ষাধর্মী কোনো সাজ, পোশাক অফিসের জন্য নয়।
তাহলে কেমন হবে অফিসের সাজ? অফিসের সাজ হবে খুব হালকা। মেকআপ বলতে চোখে পানিরোধক কাজল অথবা চিকন করে দেওয়া আইলাইনার। মাসকারা চাইলে ঘন করে দেওয়া যেতে পারে। মুখে কোনো দাগ বা চোখের নিচে কালি থাকলে হালকা ফাউন্ডেশন লাগানো যেতে পারে। তবে তা যেন ত্বকের ওপর ভেসে না থাকে। আইশ্যাডো অফিসে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন এই রূপবিশেষজ্ঞ। ব্যবহার করলেও সেটি অবশ্যই হতে হবে একদম ন্যুড বা ন্যাচারাল রঙের। লিপস্টিক হতে পারে হালকা গোলাপি, পিচ বা বাদামি রঙের। অফিসে বিশেষ কোনো দিনে গালে হালকা গোলাপি আভার ব্লাশন বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে। মুখের মেকআপ করার পর হাত বা গলার রঙের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে হবে। নইলে সবার আগে মানুষের নজর মুখের দিকেই যাবে। এই খুঁটিনাটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা দরকার, মনে করিয়ে দেন মুন্নী।
চুলগুলোকে তো অবশ্যই পরিপাটি করে রাখতে হবে; যেন কাজের মনোযোগ নষ্ট না হয়। চুলে সাধারণ কোনো হাতখোঁপা বা পনিটেইল করা যেতে পারে। সামনে ছোট চুল থাকলে তা ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। ফ্যাশন হাউস আরমাডিওর ক্রিয়েটিভ অ্যাডভাইজার ফারহিন লালারুখ খুররুম বলেন, অফিসে যে পোশাক পরবেন, তা হতে হবে আরামদায়ক। পাশাপাশি এটি যেন আত্মবিশ্বাস ঠিক রাখে, সেটিও মাথায় রাখা ভালো। মোট কথা, অফিসে ফিটফাট হয়ে থাকতে হবে। সাধারণ মানেই একদম আটপৌরে নয়। হালকা রঙের সুতি, কোটা বা জর্জেট শাড়ি পরা যেতে পারে। পোশাকে জরি, চুমকির কাজ যেন না থাকে। থাকতে পারে হালকা এমব্রয়ডারির কাজ। ছাপা নকশায় ফুলেল মোটিফ থাকতে পারে, তবে তা যেন খুব চোখে না লাগে। চড়া রংগুলো এড়িয়ে যান। কামিজ বা কুর্তা পরলে তার কাট ও নকশা আনুষ্ঠানিক হওয়া চাই। চাইলে লিনেন বা জর্জেটের শার্ট পরতে পারেন। ব্লেজার, প্যান্টও খুব ভালো পোশাক হতে পারে একটি করপোরেট অফিসে।
এরপরেও কথা থেকে যায়, সব অফিসের পরিবেশ এক নয়। সেখানে পোশাকের নীতিমালা একটু শিথিল, সেখানে সাজপোশাক একটু শৌখিন হলেও সমস্যা নেই। তাই সবার আগে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের মনোভাব বুঝতে হবে।
আলোকসজ্জা, সানাই, খাওয়া, সাজপোশাক—বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো জমজমাট থাকে এসব আয়োজনেই। বিয়ে শেষ হওয়ার পরও যেন বিয়ের আমেজ শেষ হয় না। ঘুরে বেড়ানো, দাওয়াত খাওয়া—এসবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর-কনের নতুন জীবন। আর নতুন বউ বলে কথা! সবার নজর থাকে তার ওপরই। কীভাবে সাজল, কোন পোশাক পরল—সবকিছুই থাকে আলোচনার কেন্দ্রে। চেহারায় ফুটে ওঠে নতুন জীবনের আনন্দ। সঙ্গে হাতের মেহেদি, গয়না, হালকা ভারী কাজের শাড়ি—সবকিছু মিলিয়েই যেন নতুন বউয়ের সাজ।
বিয়ের পরের কিছুদিন কেটে যায় ঘোরের মধ্য দিয়েই। সবকিছু নতুনভাবে অনুভব করা হয় বলেই হয়তো দিনগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকে। বিয়ে-পরবর্তী সময়ে বউদের একটু হালকা সাজে দেখতে ভালোই লাগে বলে জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা মুন্নী। বিয়ের সময় স্যুটকেসে পাওয়া শাড়িগুলো এ সময় বেশ কাজে লেগে যায়। তিনি বললেন, ‘দাওয়াতে উজ্জ্বল রঙের কাতান, মসলিন বা সিল্কের শাড়ি; উজ্জ্বল লিপস্টিক, চোখে হালকা কাজল ও মাসকারা, হাতভর্তি চুড়ি ভিন্ন একটা চেহারা এনে দেয়। নতুন বউদের সাজের ক্ষেত্রে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। তবে পরিবেশ বুঝে গয়না ও সাজে হালকা পরিবর্তন আনতে পারে। জীবনের এ সময়টার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা উচিত। তাহলে চেহারায়ও সেই সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।’
পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে লাল, কমলা, ম্যাজেন্টা রঙের লিপস্টিক পরতে পারেন। যদি শুধু লাল রঙের লিপস্টিক ভালো না লাগে, তাহলে দু-একটা রং মিলিয়ে লিপস্টিকের রং বানিয়ে নিতে পারেন। বিয়ের পরের কয়েকটা দিনই একটু ভারী গয়না পরে নিতে পারেন। কারণ, কিছুদিন পরে এই গয়নাগুলোই বাক্সবন্দী হয়ে পরে থাকে।
নতুন বউ মানেই যে অনেক ভারী সাজে সব দাওয়াতে উপস্থিত হতে হবে, এমনটি নয়। হালকা, স্নিগ্ধ সাজেও তাকে অনন্য লাগবে। তুলে ধরবে তার ব্যক্তিত্ব। এন্ডি সিল্ক, হাফ সিল্ক বা তাঁতের শাড়িতে পাড়ে ভারী কাজ আছে এমন শাড়িও বেশ মানাবে বলে মনে করেন যাত্রার ডিজাইনার উর্মিলা শুকলা। তিনি মনে করেন, নতুন বউয়ের আবহ ফুটিয়ে তোলা যায় অনেকভাবেই। কাঠ-পুঁতি দিয়ে তৈরি ভারী গলার মালায় ভিন্নতা আসবে।
বিয়ে হয়ে গেছে এক বছর তিন মাস। কিন্তু বিয়ে-পরবর্তী দাওয়াত খাওয়া কিন্তু এখনো চলছে। এ কারণে অভিনেত্রী আফসান আরা বিন্দু এখনো নতুন বউয়ের সাজগোজের মধ্যেই আছেন। বিন্দু বলেন, ‘শাড়ির রং নিয়ে সব সময়ই আমি একটু খুঁতখুঁতে। গাঢ় রংগুলো বেশি ভালো লাগে। শাড়ির পাড় অন্য রঙের হতে পারে। আমার বিয়ের পর লাল, কমলা, ম্যাজেন্টা, নীল, গাঢ় সবুজ, গাঢ় মেরুন, সাদা, কালো, গোলাপি বেশি পরা হয়েছে। বিয়ের পর একটু গাঢ় রঙের লিপস্টিক, সোনার চুড়ি, হালকা চেইন, ছোট দুল পরে থাকলে নতুন বউদের দেখতে ভালোই লাগে। দাওয়াতে আমি চুল বেঁধে রাখা পছন্দ করি।’ বিন্দু বিয়ের পর গাঢ় মেরুন, লাল রঙের নেলপলিশ বেশি ব্যবহার করতেন। সুবিধা ছিল যে শাড়ির সঙ্গে মিলে যেত সহজেই। বারবার সময় ব্যয় করতে হতো না এর পেছনে। বিয়ের পরের দাওয়াতগুলোতে স্বর্ণের গয়নাই পরেছেন মূলত। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ক্লাচ ব্যাগে। গয়নার মধ্যে কাটাইয়ের কাজ করা গয়না এখন খুব পছন্দ করছেন।
বিয়ের সময় উপহার হিসেবে অনেক শাড়ি ও গয়না পেয়ে থাকেন নতুন বউরা। নেমন্তন্ন করেছেন যিনি তাঁর কাছ থেকে যদি এমন শাড়ি বা গয়না উপহার হিসেবে পেয়ে থাকেন, তবে সেটা পরে যেতে পারেন। খুশি হবেন তাঁরা। শাড়ি ও গয়না পরার সময় খেয়াল রাখবেন আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কি না। নাহলে আপনার চেহারায় সেটা ফুটে উঠবে। কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেসের ডিজাইনার লায়লা খায়ের বলেন, ‘শাড়ি ও গয়নার মধ্যে যেকোনো একটিকে প্রাধান্য দিতে হবে। শাড়ি হালকা হলে গয়না যেন একটু ভারী হয়। গলার মালাটা বেশি ভারী হলে শুধু দুল আর মোটা দুটো বালা পরে দাওয়াতে যেতে পারেন। কোনো দাওয়াতে লম্বা মালা পরলে, কোনো দাওয়াতে গলায় চিক পরতে পারেন। তাহলে একেক দিন একেকটি লুক তৈরি হবে।’ কাতানের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গয়না বেশি ভালো মানায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সিল্ক শাড়ির সঙ্গে বেছে নিতে পারেন মুক্তার গয়না। মসলিন শাড়ির সঙ্গে পাথরের গয়না বা রূপার গয়না ভালো লাগবে। জামদানি শাড়ির রং যদি চাপা সাদা হয় কিংবা জরির কাজ বেশি থাকে, পরে ফেলুন মুক্তার মালা। এ ছাড়া সোনার গয়না মানাবে।
মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। গ্র“প পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩ রানে হারিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের গড়া ৯
রাজধানীর শেওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে: ‘মহিলাদের উঠতে দেওয়া যাবে না’, ‘মহিলা আসন খালি নেই’- প্রতিদিনের এমন অবজ্ঞা আজ আর শুনতে হয়নি। বরং বাসটাই অপেক্ষা করছিল মহিলাদের/নারীদের জন্য। সে বাসে সেই মেয়ে এবং তারপরে একে একে স্কুলগামী অন্য মেয়েরা উঠলো। পরে বাস ছুটে চললো।
রোববার (১৩ মার্চ) ভোর ঠিক সাড়ে ৬টায় শেওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে বাসটি। এতে একই সঙ্গে অবসান হয় শতাব্দীর মতো শত শত মেয়ের কষ্ট।
শতাব্দী বাসে চড়ে পরবর্তী বাসস্ট্যান্ড ক্যান্টনমেন্ট এমইএস বাস বাসস্ট্যান্ডে নেমে গেলো। আর এখন থেকে এই বাস প্রতিদিন চলবে। শেওড়া থেকে মহাখালী পর্যন্ত মহিলা বাস সার্ভিস নামে সরকারের বিশেষ এই বাস সেবা।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে সরাসরি পেয়ে শামসুন্নাহার শতাব্দী গতকাল শনিবার (১২ মার্চ) প্রশ্ন করেছিল এই সড়কে কি কোনো মহিলা (নারী) বাসের প্রয়োজন নেই?
এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সেই মুহুর্তেই বাসের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর ঘোষণা মাত্রই তা কার্যকর হলো। এই সড়কের যেসব মহিলা যাত্রীদের আগে লোকাল বাসে উঠতে দেওয়া হতো না, বা উঠতে গেলে শত পুরুষ ঠেলে বেগ পেতে হতো- এখন তাদের জন্যই আলাদা একটি বাস অপেক্ষা করছে।
প্রথম দিনের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসে প্রথম যাত্রী ছিলেন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শতাব্দী। তারপরে তাকে দেখে অন্য মেয়েরাও ছুটে আসে বাসের দিকে। শতাব্দী নিজে আরও মেয়েদের ডেকে নিয়ে আসে বাসে। হাসিমুখে একে একে বাসে উঠে উল্লাসিত মেয়েরা।
শতাব্দী বলেন, আমাদের ক্লাস শুরু হয় সকাল ৭টায়। ৭টার আগ পর্যন্ত বিশ্বরোড শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে শত শত মেয়ে এসে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকে।
আগে বাসের জন্য আগে আসার প্রবণতা থাকতো। সময় নষ্ট হতো, এখন আর তা হবে না বলে মনে করেন শামসুন্নাহার শতাব্দী।
আর স্কুল শেষ হয় সোয়া ১২টায়। তবে আজকে সাড়ে ৯টায় শেষ হবে এবং তখনই এমইএস বাসস্ট্যান্ডে শিক্ষার্থীদের জন্য অপেক্ষায় থাকবেন বলে জানান, বাসটির চালক মিজানুর রহমান।
বাসের কন্ডাক্টর মো. আলমাস প্রথম দিন ডেকে-ডেকে মেয়েদের তুলেছেন।
‘কাল (সোমবার-১৪ মার্চ) থেকে আর ডাকা লাগবে না; দেখবেন এমনিতেই ভরে যাবে’-এমন আশাবাদ তারও।
শতাব্দী জানান, প্রতিদিন বাসের জন্য আগে আগে আসার যে প্রবণতা ছিল এবং তড়িঘড়ি করে জোরজবরদস্তি করে বাসে উঠতে হতো। সেটি এখন কমে যাবে। সময়টাও যে নষ্ট হতো এখন আর তা হবে না।
শতাব্দীর এই সাহসী উচ্চারণে বাস পেয়ে উল্লাসিত সকালে স্কুলগামী ওই গন্তব্যের অন্য মেয়েরাও।
প্রতিদিন শেওড়া থেকে সকাল ৬টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিআরটিসির এই বাস চলবে।