banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

শেষ হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ প্রদান

চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থ ও সৃজনশীল ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেশের নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে নির্মিত চলচ্চিত্রকে অবশ্যই সৃজনশীল ও শোভন হতে হবে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ প্রদান উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র একটি সৃজনশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যম। জনসাধারণের ওপর যার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শিক্ষার প্রসার, মেধার চর্চা, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, জাতি গঠন এবং প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণেও চলচ্চিত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী হাতিয়ার।
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আপনাদের অনুসরণ করে। সুতরাং সমাজের অন্য মানুষের চেয়ে আপনাদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি।
সম্প্রতি বেশ কিছু চলচ্চিত্র দেশে ও বিদেশে সাফল্য অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী এর প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। সার্বিকভাবে এটা বলা যায় যে আমাদের চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সভাপতিত্ব করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত¯সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসচিব মর্তুজা আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে ২৫টি বিভাগে মোট ২৮ জন অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ দেওয়া হয়। আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় বিশিষ্ট অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
গাজী রাকায়েত ও ফরিদুর রেজা সাগর প্রযোজিত মৃত্তিকা মায়া শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে সারাহ আফরিনের শুনতে কি পাও। মৃত্তিকা মায়া চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন তিতাস জিয়া। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে দুজন, মৃত্তিকা মায়ায় অভিনয়ের জন্য মৌসুমী এবং দেবদাস-এ অভিনয়ের জন্য শরমি মালা।
পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী অপর্ণা, শ্রেষ্ঠ খলনায়ক মামুনুর রশিদ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতা স্বচ্ছ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেত্রী সৈয়দা অহিদা সাবরিনা, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক এ কে আজাদ, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (পুরুষ) চন্দন সিনহা, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীন, শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল, শ্রেষ্ঠ সুরকার কৌশিক হোসেন তাপস, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ, শ্রেষ্ঠ নাট্যরচনা গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা শরীফুল ইসলাম রাসেল, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ, শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম বাদল, শ্রেষ্ঠ শব্দ প্রকৌশলী কাজী সেলিম, শ্রেষ্ঠ কস্টিউম অ্যান্ড ডেকোরেশন ডিজাইনার ওহিদা মল্লিক এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান আলী বাদল।
প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিজয়ীদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

 

ফ্রান্সে জিরো ফিগার মডেলিং নিষিদ্ধ হচ্ছে

ফ্রান্সে ‘জিরো ফিগার’ মডেলিং নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল ইতোমধ্যে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাস হয়েছে। উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি পাস হলে দেশটির স্বাস্থ্য জগতে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে। ফ্রান্স এই ধরনের মডেলিংকে ‘বিপজ্জনক’   বলে উল্লেখ করেছে।
বিলটির উদ্যোক্তা এমপি এবং নিউরোলোজিস্ট অলিভার ভেরান জানান, আমি অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই করি। সরকার আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে এই আইন বিরাট প্রভাব ফেলবে। কারণ মডেলিং জগতে চিকন স্বাস্থ্যের তথা জিরো ফিগারকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। স্বাস্থ্য চিকন করতে ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা না খেয়ে থাকে যাকে বলা হয় ‘ডায়েট কন্ট্রোল’।
অলিভারের মতে, একজন মানুষ কাজের জন্য কখনো না খেয়ে থাকতে পারেন না। এ কাজে তাকে বাধ্য করা কোনভাবে সমর্থন করা যায় না। যেসব মেয়েরা না খেয়ে জিরো ফিগার বানানোর চেষ্টায় মেতে ওঠে তাদের অস্টিওপরোসিস রোগ এবং হার্টের সমস্যা হতে পারে। চিকিত্সকরা মেয়েদের ক্ষুধাহীনতা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছেন, মেয়েরা প্রথম দিকে আরাম অনুভব করলেও যখন ক্ষুধাহীনতা থাকে না তখন তারা সমস্যাগুলো বুঝতে পারে। আইন অনুযায়ী, মডেলিং জগতে যেসব মেয়েরা যাবেন তাদের স্বাস্থ্য একজন চিকিত্সক দ্বারা পরীক্ষা করা হবে। তার উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক আছে কিনা সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চির মেয়ের ওজন হতে হবে ১২০ পাউন্ড। ক্ষেত্র বিশেষে সেটা ১১৫ পাউন্ডও হতে পারে। যেসব নিয়োগকর্তা এই আইন লঙ্ঘন করবেন তাদের ৮৩ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং ছয় মাসের জেল হতে পারে। ইসরাইল এবং স্পেনেও এধরনের আইন আছে।
– এনডিটিভি