banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ

 অপরাজিতা ডেস্কঃ আজ বুধবার ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা’ দিবস। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এই উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অটিস্টিক ব্যক্তিদের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অষ্টম ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ উপলক্ষে বুধবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহবান জানান। খবর: বাসসের।
আবদুল হামিদ বলেন, অটিস্টিক ব্যক্তিদের সার্বিক উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। কিন্তু এটি কোন একক কাজ নয়। এ বিষয়ে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিবর্গসহ সকলেই অটিস্টিক ব্যক্তিদের উন্নয়নে নিজেদের সম্পৃক্তসহ তাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি বৈষম্যহীন সমাজ তৈরিই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সকলকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে আমরা একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
রাষ্ট্রপ্রতি বলেন, অটিস্টিক শিশুরা আমাদেরই সন্তান। তাদের পরিপূর্ণ পরিচর্যার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনধারায় সম্পৃক্ত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন জনগণের মধ্যে অটিস্টিক শিশুদের যত্ন, পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আবদুল হামিদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে ‘৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত এবং দেশের সকল অটিস্টিক শিশু, তাদের অভিভাবক এবং তাদের নিয়ে কর্মরত ব্যক্তি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানসমূহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
একই সাথে তিনি ‘৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০১৫’ এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
এদিকে ‘অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ ও বিত্তবানদের প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া বুধাবর এক বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান। খবর: বাসসের।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল স্থাপন, ঢাকার মিরপুরে জাতীয় বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ, ৬৪ জেলায় ৬৮টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং অটিজম রির্সোস সেন্টার স্থাপন করেছি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রে সকল প্রতিবন্ধীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
শেখ হাসিনা বলেন, অটিজমসহ সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা মানব বৈচিত্র্যেরই অংশ। ভিন্ন মানব বৈচিত্র্যের এ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সার্বিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। আমার বিশ্বাস, অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্ভাবনা বয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এই জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে গত ছয় বছরে আমাদের সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩’, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’, ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত শিক্ষা নীতিমালা ২০০৯’ ও ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা ২০১১’ প্রণয়ন করেছি।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ২ এপ্রিল ২০১৫ ৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অটিস্টিক শিশু-কিশোর, তাদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম সচেতনতা থেকে সক্রিয়তা, একীভূত সমাজ গঠনে শুভ বারতা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ-এর জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা হোসেন ২০১২ সালে জাতিসংঘে অটিস্টিক শিশু ও তার পরিবারের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ‘অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তার পরিবারের জন্য আর্থ-সামাজিক সহায়তা’ শীর্ষক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৫ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

 

রাজধানীতে বাসায় ঢুকে কলেজ শিক্ষিকাকে পুড়িয়ে হত্যা!

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর নামে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসায় ঢুকে বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের স্ত্রী কলেজ শিক্ষিকা কৃষ্ণা কাবেরী মণ্ডলকে (৩৫) কুপিয়ে ও গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। এ সময় শীতাংসু শেখর বিশ্বাস, বড়মেয়ে শ্রুতি বিশ্বাস (১৭) ও ছোট মেয়ে অত্রি বিশ্বাস (৯) আহত হন। তারা বর্তমানে মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। শীতাংসু শেখর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) উপ-পরিচালক এবং কৃষ্ণা কাবেরী মোহাম্মদপুর মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন।

মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাস পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের ৩/১২ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। গত সোমবার রাত ৯টায় জাকির নামে তার পরিচিত এক ব্যক্তি জন্মদিনের কেক নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি রড দিয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনা দেখে ফেলায় ওই ব্যক্তি বাসার সবাইকে পেটাতে ও কোপাতে থাকে। কৃষ্ণা কাবেররি মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের চিত্কারে প্রতিবেশীরা বাসার সবাইকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কৃষ্ণা কাবেরীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার ভোর তিনটার দিকে চিকিত্সাধীন কৃষ্ণা কাবেরি মারা যান।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানান, শীতাংসু ও তার দুই মেয়ে এবং পাশের ফ্ল্যাটের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে হাজী আহমেদ সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকার হাউসের ম্যানেজার জাকির একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ব্যবসায়িক বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা প্রকৌশলী সাবের আহমেদ জানান, চিত্কার শুনে তিনি দরজা খুলে দেখেন শীতাংসু ও তার দুই মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তার বাসার দরজার সামনে। তাদের তাড়াতাড়ি বাসার ভেতরে নিয়ে যান। এসময় এক মেয়ে তার মাকে বাঁচানোর অনুরোধ করলে তাদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, আগুন জ্বলছে। ধোঁয়ায় পুরো ঘর আচ্ছন্ন। পরে বাসা থেকে পানি এনে নেভানোর চেষ্টা করা হয় এবং পর্দার পাশে দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় কৃষ্ণা কাবেরি মণ্ডলকে পাওয়া যায়।

নিহতের পারিবারিক একটি সূত্রের দাবি, শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের সঙ্গে খান জাকিরুল নামে এক ব্যবসায়ীর পূর্ব পরিচয় ছিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় কেক, ফল ও জুস নিয়ে শীতাংসুর মোহাম্মদপুরের বাসায় যায় জাকিরুল। শীতাংসুর পরিবারের সদস্যরা ফল ও জুস খাওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জাকিরুল তাদের হাত বেঁধে সবাইকে পেটান। মারধরের পর সে ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল।