banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

পহেলা বৈশাখে ইলিশের ভিন্ন কিছু রেসিপি

বাঙ্গালীর খাবার মানেই নানান পদের,নানান স্বাদের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন মশলায়,বিভিন্ন রকম স্বাদে খাবার খাওয়া এবং তৈরীতে আমাদের আগ্রহের সীমা নেই। আর যেহেতু পহেলা বৈশাখের মতো সার্বজনীন উৎসবে আমাদের কে খেতে হয় সম্পূর্ণ দেশীয় স্বাদের খাবার এবং সেই খাবারটা যদি হয় ভিন্ন ভিন স্বাদের তবে আর মন্দ কি?

পহেলা বৈশাখে খাবারের আইটেমের প্রধান আকর্ষন থাকে ইলিশ মাছ। ষোলআনা বাঙ্গীলায়ান প্রকাশের কারণেই হোক,আর ঐতিহ্য পালনেই হোক,ইলিশ মাছের হরেক রকমের আইটেমের সাথে পান্তা ভাত মানেই উৎসব হবে আনন্দে পরিপূর্ণ।

তো চলুন আজ জেনে নেই,আসছে উৎসবে ইলিশের কি কি আইটেম তৈরী করে আমরা আমাদের উৎসব কে করতে পারি আনন্দে মুখর,

লবণ ইলিশের ভুনা 

উপকরণ : লবণ ইলিশ ২/৪ টুকরা , পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল পরিমাণ মতো।

প্রস্তুত প্রণালি : লবণ ইলিশ ভালো করে বেটে নিন। বাটা ইলিশের সঙ্গে তেল বাদে সব উপকরণ ভালো করে মেখে নিন। প্যানে তেল দিয়ে গরম করে মাখানো উপকরণ ছেড়ে দিন। ভালো করে কষানো হলে সামান্য পানি দিন। কিছুক্ষণ চুলায় বসিয়ে রাখুন। তেল উপরে উঠে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ইলিশ মাছের ভর্তা

ilish-macher-vorta-180912-p-alo
উপকরণ : ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, শুকনা মরিচ ২/৩টি, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ১/২ কাপ, কাঁচামরিচ ২/৩ টি।
প্রস্তুত প্রণালি : ইলিশ মাছ লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে কাঁটা ফেলে নিন। সিদ্ধ করা মাছের সঙ্গে হলুদ-মরিচ মেখে নিন। প্যানে তেল দিয়ে শুকনা মরিচ, কাঁচা মরিচ ফালি, পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লাল করে ভাজুন। কাটা বাছা মাছ দিয়ে দিন। ভালো করে কষিয়ে সামান্য পানি দিন। তেলের ওপর উঠে এলে নামিয়ে পরিবশন করুন ।

ভাপানো ইলিশ

Picture38

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, সরিষা বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চামচ, কাঁচামরিচ ৬/৭ টি, তেল ১/২ কাপ, লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : একটি সসপ্যানে মাছ নিয়ে সব উপকরণ এক সঙ্গে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। একটি বড় কড়াইয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত গরম পানিতে সসপ্যানটি ঢেকে বাসিয়ে ভারী কিছু দিয়ে চাপা দিন। ১০ মিনিট পর আস্তে করে মাছগুলো উল্টে দিন। আবার ১০ মিনিট পর নামিয়ে নিন। সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ইলিশের দোপেঁয়াজি

520935970e6df-Untitled-20
উপকরণ : ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল ১/২ কাপ, লবণ স্বাদমতো, কাঁচামরিচ ৪টি।
প্রস্তুত প্রণালি : মাছ ধুয়ে হলুদ, মরিচ ও লবণ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। প্যানে তেল দিয়ে মাছগুলো ছেড়ে দিন। কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

পাতলা ঝোলে ইলিশ

01552601805_20140414025853
উপকরণ : ইলিশ মাছ ৮ টুকরা, পেঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া, ১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচামরিচ ৪/৫টি, তেল ৪ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : মাছ ধুয়ে সব উপকরণ মাখিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে (ঝোল পাতলা হবে, সে অনুযায়ী পানি দিতে হবে) চুলায় বসিয়ে দিন। নামানোর আগে কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

দই ইলিশ

Borishali-Ilish

উপকরণ : ইলিশ ১টা, সয়াবিন তেল হাফ কাপ, পেঁয়াজ বাটা হাফ কাপ, পেঁয়াজ বাটা হাফ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি হাফ কাপ, হলুদ বাটা ২ চা চামচ, মরিচ বাটা ২ চা চামচ, ধনে বাটা ২ চা চামচ, ভাজা মসলা হাফ চা চামচ, আদার পাউডার হাফ চা চামচ, লবণ পরিমাণ মত।

প্রণালী : ইলিশ মাছের বড় টুকরা করে নিতে হবে। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ দিতে হবে। পেঁয়াজ একটু ভেজে সব মসলা ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। অল্প পানি দিয়ে মাছের টুকরাগুলো বিছিয়ে দিন। কিছুক্ষণ কষিয়ে ১ কাপ পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে ৫ মিনিট রান্না করুন। তারপর দই দিয়ে ৩০ মিনিট রান্না করতে হবে। মাঝখানে ঢাকনা খুলে মাছ উল্টিয়ে কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে নিন। টক দই হলে সামান্য চিনি দিন। মৃদু আঁচে রেখে ভুনা করে চুলা থেকে নামান।

কড়াই ইলিশ
উপকরণ: মাঝারি বা বড় ইলিশ মাছ ১টি, টমেটো ২টি, ক্যাপসিকাম ১টি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ চা-চামচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ করে, এলাচ ও লবঙ্গ তিনটি করে, তেজপাতা ১টি, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়াবিন তেল ৫ টেবিল চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি এক চিমটি, কাঁচা মরিচ কুচি ২-৩টি, পানি ২ কাপ।

প্রণালি: মাছ টুকরা করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি করে নিন। শুকনা কড়াইয়ে ক্যাপসিকাম কুচি টেলে নিন। কড়াইয়ে ৪ টেবিল চামচ তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। এতে এলাচ-লবঙ্গ-তেজপাতা দিন। কালোজিরা বাদে একে একে বাকি মসলাগুলোও দিয়ে কষিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে একটু নাড়ুন। এবার এই মিশ্রণ ব্লেন্ডারে মিহি পেস্ট করে নিন। অন্য কড়াইয়ে বাকি তেল গরম করে কালোজিরা ফোড়ন দিন। এতে মসলার পেস্ট দিয়ে দিন। একটু কষিয়ে ২ কাপ পানি দিন। ঝোল ফুটলে মাছ বিছিয়ে দিয়ে লবণ ছিটিয়ে দিন। এক ঘণ্টা তাওয়ার ওপর দমে রেখে দিন। ঝোল মাখা মাখ হলে নামিয়ে একটু চিনি ছিটিয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

 

 

নিয়মিত পরিস্কার করুন আপনার ল্যাপটপ

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনেকেই বাড়িতে কিংবা অফিসে ল্যাপটপ ব্যবহার করেন। অনেক ব্যবহারের কারণে ল্যাপটপে ধুলো জমে। আর অপরিষ্কার থাকলে এর পারফরম্যান্স কমে যায়, কাজ করার সময় হ্যাং হয়ে যায়, রিস্টার্ট নেয় এবং হঠাৎ বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তবে ল্যাপটপ পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম জানেন না অনেকেই। আর ভুলভাবে পরিষ্কার করলে ক্ষতি হতে পারে আপনার ল্যাপটপ।
ল্যাপটপ পরিষ্কারের সাধারণ কিছু নিয়ম রয়েছে। এগুলো মেনে ল্যাপটপ পরিষ্কার করা উচিত। যেমন-
* প্রথমেই ল্যাপটপের পাওয়ার সুইচ বন্ধ করুন। বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এর সঙ্গে চার্জারের সংযোগ থাকলে সেটিও খুলে নিন।
* এরপর একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ল্যাপটপের স্ক্রিন মুছে নিন। তবে ভেজা বা নোংরা কাপড় ব্যবহার করা ঠিক নয়। আর মনে রাখবেন কাপড়টি সুতির হলে ভালো হয়।
* ময়লা-ধুলোবালি আপনার ল্যাপটপের প্রধান শত্রু। এজন্য কি-বোর্ডের কোণায় কোণায় জমে থাকা ময়লা সরাতে নরম একটি টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন।
* এছাড়া বাজারে ল্যাপটপের উপযোগী স্ক্রিন প্রোটেক্টর, কিবোর্ড প্রোটেক্টর ও মিনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার পাওয়া যায়। তাছাড়া ধুলোবালি পরিষ্কার করতে কম্প্রেসড এয়ারও ব্যবহার করতে পারেন।
* ল্যাপটের মনিটর মোছার জন্য অ্যালকোহল ও অ্যামোনিয়া যুক্ত ক্লিনার ব্যবহার করা উচিত নয়। কেননা এতে মনিটরের ক্ষতি হয়।
* বাজারে নানা রকমের ক্লিনার স্প্রে পাওয়া যায়। তবে সেগুলো কখনোই ল্যাপটপ বা টিভির মনিটর পরিষ্কারে ব্যবহার করা ঠিক নয়। অনেকেই ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে মনিটর পরিষ্কার করেন; সেটিও ঠিক নয়।
* মনিটর পরিষ্কার করতে সুতির কাপড় ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
* ল্যাপটপ পরিষ্কারের সময় আরও কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন-
        * ল্যাপটপ যেহেতু অনেক বেশি তাপ উৎপন্ন করে তাই একে ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য বাজারে নানা ধরনের কুলার পাওয়া যায়। তাছাড়া সূর্যের আলো, হিটার এবং রান্নাঘর থেকে ল্যাপটপ দূরে রাখা ভালো।
        * ল্যাপটপের ভেতরের অংশে পরিষ্কার করতে হলে এর ম্যানুয়াল ভালো করে পড়ে নেয়া উচিত।
         * পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পর ল্যাপটপ আবারও চালু করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন; সেটি যেন ভেজা না থাকে।
উল্লেখ্য, ল্যাপটপহলো কম্পিউটারের বহনযোগ্য সংস্করণ; এর পর্দা ১২ দশমিক ১ থেকে ১৯ ইঞ্চি হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ল্যাপটপ বাজারে ছাড়ে আইবিএম।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

ফেনীতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা!স্বামী আটক

ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভার বাশঁপাড়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে সোমবার রাত ৯টার দিকে কুপিয়ে ও জবাই করে আনজু মনোয়ারা মনি (৩৮) নামের এক গৃহবধুকে খুন করেছে স্বামী। এ ঘটনায় রক্তাক্ত অবস্থায় নিজ কক্ষ থেকে স্বামী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদকে(৪০) আটক করেছে পুলিশ ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টা থেকে মনি ও হারুনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় তাদের কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। ওই দম্পতির দুই মেয়ে ডালিয়া (১২) ও মারিয়া (১১) অন্য একটি কক্ষে ছিল। রাত পৌনে ১০টায় শোরগোল, চিৎকার ও মনির আহাজারি শুনে আশ-পাশের বাসা-বাড়ির লোকেরা তাদের বাসার সামনে জড়ো হন। এরপর হারুনের ভাইসহ ও স্বজনেরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ওই সময় পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় হারুনকে আটক করে।
রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মনির রক্তাক্ত নিথর দেহ খাটের নিচে পড়ে আছে। বিছানা ও দেয়ালে রক্তের ছাপ। নিহত মনির মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তের কারণে আঘাতের স্থান বোধা যাচ্ছিল না। তবে, তার গলা ও বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত মনির বাবার বাড়ি একই উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বেতাগা বলে জানা গেছে। পুলিশ নিহত মনির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।

 

আজ ৭ই এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।

আজ ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি (নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার, সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার)। খুব যুক্তিসঙ্গত কারণেই এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, খাবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগগুলো এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী প্রতিটি দেশে নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও গ্রহণ নিশ্চিত করে নিরাপদ থাকার ওপরই বিশেষভাবে জোর দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের ৩০ শতাংশ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে বাসায় তৈরি খাবার থেকে। আমেরিকায় ৭ দশমিক ৬ কোটি মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ভুগে থাকেন, যাদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং এর মধ্যে ৫ হাজার জন মৃত্যুমুখে পতিত হন।

খাদ্য নিরাপত্তা বলতে আমরা বুঝি বিজ্ঞানসম্মতভাবে খাদ্য নাড়াচাড়া করা, তৈরি করা এবং গুদামজাত করা, যাতে খাদ্যবাহিত কোনো রোগ সংক্রমণ হতে না পারে। এখানে বলে রাখা ভালো, খাদ্য গ্রহণে মানুষ থেকে মানুষের দেহে, পশু থেকে মানুষের দেহে রোগ সংক্রমণ হতে পারে এবং খাদ্যের মধ্যে পরজীবী জীবাণু ছত্রাক বংশ বৃদ্ধি করে মানবদেহে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপদ খাদ্যের মধ্যে বিশুদ্ধ পানিও অন্তর্ভুক্ত। সবার জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যে কোনো দেশের একটি মৌলিক অঙ্গীকার। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে খাদ্যশস্য উৎপাদন, খাদ্যের লেভেলিং বা চিহ্নিতকরণ, খাবারের সঙ্গে এডিটিভ ও পেস্টিসাইড (কীটনাশক) ব্যবহার, খাবার গুদামজাতকরণ এবং বাজারে সরবরাহ ইত্যাদি সবকিছুকে বোঝায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুখাদ্যের পাঁচটি বড় বৈশিষ্ট্য হল- ১. মানুষের মধ্যে, জীবজন্তুর মধ্যে, গৃহপালিত পশুর মধ্যে খাবারের সঙ্গে রোগ সংক্রমণকারী জীবাণু ছড়ানো বন্ধ করা। ২. কাঁচা ও সিদ্ধ করা খাবার আলাদা করা। যাতে সিদ্ধ করা খাবারে কোনো সংক্রামক জীবাণু না থাকে। ৩. খাবার সঠিকভাবে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা যাতে সব সংক্রমণ করা জীবাণু মরে যায়। ৪. খাদ্য সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা। ৫. সুপেয় পানি ও কাঁচামাল নিরাপদ করার ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, তত্ত্বীয়ভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

কী কী সংক্রমণকারী খাবার সংক্রমণ ঘটিয়ে রোগ সৃষ্টি করতে পারে

১. জীবাণু ঘটিত : ক) ক্লষ্টিডিয়াম বুটোলিনা (খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটে মৃত্যু হতে পারে), খ) এসকেকোলাইরিশিয়া (ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি), গ) সালমোনেলা (টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড), ঘ) লিষ্টেরিয়া, ঙ) ভিব্রিও কলেরা (কলেরা তৈরি হতে পারে)।

২. ভাইরাস ঘটিত : ক) এনটেরে ভাইরাস (পাতলা পায়খানা), খ) হেপাটাইটিস এ (জন্ডিস, পাতলা পায়খানা), গ) রোটা ভাইরাস (বাচ্চাদের পাতলা পায়খানা), ঘ) নরওয়াক ভাইরাস (বয়স্কদের পাতলা পায়খানা)।

৩. পরজীবী ঘটিত : ক) এনটামোয়েবা হিস্টোলাইটিকা (আমাশয়, পাতলা পায়খানা, বদহজম), খ) জিয়ারডিয়া (আমাশয়, পাতলা পায়খানা, বদহজম), গ) ক্রিপটোস্পোরি ডিয়োসিস।

৪. এলার্জিজনিত প্রদাহ : বিভিন্ন ধরনের খাদ্য যেমন গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, বেগুন ইত্যাদি খাওয়ার কারণে।

খাদ্য নিরাপদ করার জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার

প্রতিটি উন্নত দেশে খাদ্য নিরাপত্তা তদারকির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন- ফুড অ্যান্ড সেফটি অরগানাইজেশন, কাস্টমার-কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের আইন-কানুনসহ খাদ্য অধিদফতর, কৃষি, স্বাস্থ্য অধিদফতর ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান বছরে বিভিন্ন সময়ে সভায় বসে খাদ্য সঠিকভাবে উৎপন্ন হচ্ছে কি-না, জৈব-অজৈব রাসায়নিক সার যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা ব্যবহৃত হচ্ছে কি-না, ফসল তোলার পর খাদ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত বা গুদামজাত হচ্ছে কি-না, পরবর্তী সময়ে সেগুলো বড় বড় মার্কেটে এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি-না, সর্বোপরি প্রক্রিয়াজাত উৎপাদিত খাবারে সঠিক খাদ্য উপাদান আছে কি-না- তার লেবেল যুক্ত করা, উৎপাদনের তারিখ এবং শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা এবং কত তাপমাত্রায় সার সংরক্ষিত করতে হবে তার উল্লেখ করা- এ সবকিছুর তদারক করে। এগুলোর উল্লেখ থাকার পরই তা জনসাধারণের কাছে সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর ব্যত্যয় হলে অথবা কোনো খাবার গ্রহণের ফলে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে আক্রান্ত রোগীর সময়োপযোগী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সংক্রমিত খাবারটি বাজার থেকে তুলে নেয়া- এসব কাজও কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। এক্ষেত্রে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, সরকার, পেশাজীবী আইন প্রণেতা এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের একটি বড় ধরনের ভূমিকা আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এ ধরনের তত্ত্বাবধায়ক অধিদফতরের সংখ্যা কম। যে কয়টি অধিদফতর আছে তাদের লোকবল অপ্রতুল। এ কারণে আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নিচে উল্লিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে-

১. খাদ্য নিরাপত্তা বলতে আমরা কী বুঝি এ বিষয়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা। ২. খাদ্য ও পানির মাধ্যমে কী কী রোগ সংক্রমণ হয় সে সম্পর্কে রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদিতে ডাক্তার, আইন প্রণেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সরকার ও পেশাজীবীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ। ৩. খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং সঠিক সময়ের জন্য সিদ্ধ করে খাওয়া। ৪. খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নেয়া। ৫. যেসব রোগের টিকা আছে সেগুলোর জন্য প্রতিষেধক হিসেবে টিকা গ্রহণ করা।

এগুলো যথাযথভাবে পালন করা হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

(তথ্যসূত্র : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুলেটিন)

অধ্যাপক ডা. মো. তাহমিনুর রহমান সজল : উপাধ্যক্ষ, আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

 mtahminur@yahoo.com

 

চুলের রুক্ষতা দূর করুন সহজেই

রুক্ষ চুলের যন্ত্রণায় আমরা অনেকেই বিরক্ত থাকি,কিন্তু একটু খেয়াল করে চুলের যত্ন নিলেই কিন্তু এই সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া সম্ভব। অপরাজিতার এবারের সংখ্যায় থাকছে চুলের রুক্ষ দূর করতে কিছু টিপস,
চা এবং মেহেদি

তাজা মেহেদি পাতা বেটে এর মধ্যে ২/৩ টেবিল চামচ চায়ের লিকার দিয়ে রাখুন সারা রাত। পরের দিন ১টি ডিম, ৩ চা চামচ টকদই, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন ২ ঘণ্টা। এরপর হালকা কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ বার ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর হবে একেবারে।

ডিম এবং ক্যাস্টর অয়েল

চুলে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে পরে। তাই ব্যবহার করুন এ প্যাকটি। ১টি ডিমের কুসুম, ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ টেবিল চামচ মধু খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট পরে ভালো করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহারে এতে চুলে পুষ্টি পৌঁছাবে এবং চুলের রুক্ষতা দূর হবে।

কলা এবং মেয়নেজ

দুটি পাকা কলা বাটিতে নিয়ে চামচের সাহায্যে পিষে নিন ভালো করে। এরপর এতে ২ টেবিল চামচ মেয়োনেজ এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন ভালো করে। এ মিশ্রণটি চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। এবং ভালো করে ধুয়ে নিন। কলা চুল নরম এবং উজ্জ্বল করে তুলবে। ২টি কলা নিয়ে পিষে নিন ভালো করে। এরপর এতে ১টি ডিমের কুসুম এবং ১ চা চামচ তাজা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মেশান। এ মিশ্রণটি পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩০-৪০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর হবে দ্রুত। এ প্যাকটি চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করবে এবং চুল পড়াও বন্ধ করবে।

৫/৬টি স্ট্রবেরি ধুয়ে ব্লেনডারে ব্লেন্ড করে নিন, চাইলে চামচ দিয়ে পিষে নিতে পারেন। এতে ১টি ডিমের কুসুম, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি পুরো চুলে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।

 

লীলা জানাহঃ২০১৪ সালের সেরা প্রতিভাবান নারী উদ্যোক্তা

২০১৪ সালের সবচেয়ে প্রতিভাবান উদ্যোক্তার মধ্যে একজন নির্বাচিত হয়েছেন লীলা জানাহ। নিজের কোম্পানি ‘সামাসোর্স’ দিয়েই এই অবস্থানে আসেন লীলা। মূলত ডিজিটাল কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করার জন্যই তার এই প্রচেষ্টা।
৯ অক্টোবর, ১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণ করা এই প্রতিভাবান নারী জীবনের প্রতি পদেই দিয়েছেন নিজের ব্যতিক্রমধর্মী মানসিকতার পরিচয়। ১৬ বছর বয়সে স্কলারশিপ পেয়েও তাতে না পড়ে ঘানায় শিক্ষকতা করার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং পরবর্তীতে ‘আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’-এর উপর ডিগ্রি নেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর কাজ করেন বিশ্বব্যাংক এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে।
নিজের মতো কিছু করা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের ইচ্ছা থেকেই মূলত ‘সামাসোর্স’-এর যাত্রা শুরু। নারী এবং তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের জন্যই এর কাজ করে চলা। ডিজিটাল ট্র্যান্সকিপশন, ইমেজ ট্যাগিং, কারিগরি জ্ঞান ইত্যাদি আরও অনেক ধরনের কাজের সুযোগ করে দেয় এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার ৬ বছর পর এটি প্রায় ৪০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। গুগল, ই-বে, মাইক্রোসফট, লিঙ্কেডিন ইত্যাদি বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে আয় করেছে প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
‘কিছু মানুষ দারিদ্র্যসীমার এত নিচে বসবাস করে আর কিছু মানুষ এত অভিজাত জীবন যাপন করে যে, এই অসামঞ্জস্য আমার সহ্য করতে কষ্ট হয়। আমি যদি এই দরিদ্রদের জন্য কিছু করতে না পারি তাহলে আমি নিজেকেই সহ্য করতে পারব না। এই কারণেই আমি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যখন আমি অনুন্নত দেশগুলোতে কাজ করেছি, তখন সবার সাথে কথা বলার পর আমার মনে হয়েছে সবার প্রথম চাহিদা হলো চাকরি।’
লীলা প্রিক্স নেট-এক্সপ্লোরেটর অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন ফ্রেঞ্চ সিনেট থেকে ২০১০ সালে। এছাড়াও সামাসোর্সের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে আরও অনেক কিছু অর্জন করেন তিনি।
– ফোর্বস

 

এবার থেকে সন্তান জন্মের পর বাবারাও ছুটি নিতে পারবেন!

এবার থেকে সন্তানের জন্মের পর সরকারিভাবে ছুটি নিতে পারবেন ব্রিটেনের সদ্য বাবারা।
রবিবার নজীরবিহীন এক আইন জারি করে জানানো হয়েছে, ব্রিটেনে লিঙ্গ নির্বিশেষে ৫০ সপ্তাহ পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন বা পিতৃত্বকালীন ছুটি নেয়া যাবে। এমনকি সন্তান দত্তক নিলেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
সরকারের অনুমান এই আইনে বছরে প্রায় দুই লক্ষ ৮৫ হাজার দম্পতি উপকৃত হবেন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সন্তান জন্মানোর পর তার পুরো দায়িত্বটাই গিয়ে পরে মায়ের উপর। সদ্যজাতের লালন পালন করতে গিয়ে বহু সময় তাদের কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে সফল কেরিয়ার বা মাতৃত্বের মধ্যে যে কোনও একটাকে বেছে নিতে হয় নারীদের।
নতুন আইনের সাহায্যে, সন্তানের লালন পালনের দায়িত্ব এবার ৫০ সপ্তাহের ছুটির মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতেন পারবেন বাবা-মা দু’জনেই।
অন্তঃসত্ত্বা বা মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় কোনও নারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা ব্রিটেনে বেআইনি।
”বাড়িতে থেকে শুধুমাত্র মাকেই সন্তানের দেখভাল করতে হবে বহু প্রচলিত এই ধারাকে আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে হবে। বাবাদেরও একই দায়িত্ব পালন করা দরকার। আমরা এমন একটা সমাজ তৈরি করতে চাই যেখানে সন্তানের জন্মের প্রথম বছরে বাবা-মা দু’জনেই তার দেখভালের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেবেন।” জানিয়েছেন ব্রিটেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ।
– সানডে টাইমস।

 

শেষ হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ প্রদান

চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থ ও সৃজনশীল ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেশের নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে নির্মিত চলচ্চিত্রকে অবশ্যই সৃজনশীল ও শোভন হতে হবে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ প্রদান উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র একটি সৃজনশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যম। জনসাধারণের ওপর যার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শিক্ষার প্রসার, মেধার চর্চা, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, জাতি গঠন এবং প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণেও চলচ্চিত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী হাতিয়ার।
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আপনাদের অনুসরণ করে। সুতরাং সমাজের অন্য মানুষের চেয়ে আপনাদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি।
সম্প্রতি বেশ কিছু চলচ্চিত্র দেশে ও বিদেশে সাফল্য অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী এর প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। সার্বিকভাবে এটা বলা যায় যে আমাদের চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সভাপতিত্ব করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত¯সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসচিব মর্তুজা আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে ২৫টি বিভাগে মোট ২৮ জন অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ দেওয়া হয়। আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় বিশিষ্ট অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
গাজী রাকায়েত ও ফরিদুর রেজা সাগর প্রযোজিত মৃত্তিকা মায়া শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে সারাহ আফরিনের শুনতে কি পাও। মৃত্তিকা মায়া চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন তিতাস জিয়া। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে দুজন, মৃত্তিকা মায়ায় অভিনয়ের জন্য মৌসুমী এবং দেবদাস-এ অভিনয়ের জন্য শরমি মালা।
পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী অপর্ণা, শ্রেষ্ঠ খলনায়ক মামুনুর রশিদ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতা স্বচ্ছ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেত্রী সৈয়দা অহিদা সাবরিনা, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক এ কে আজাদ, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (পুরুষ) চন্দন সিনহা, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীন, শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল, শ্রেষ্ঠ সুরকার কৌশিক হোসেন তাপস, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ, শ্রেষ্ঠ নাট্যরচনা গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা শরীফুল ইসলাম রাসেল, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ, শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম বাদল, শ্রেষ্ঠ শব্দ প্রকৌশলী কাজী সেলিম, শ্রেষ্ঠ কস্টিউম অ্যান্ড ডেকোরেশন ডিজাইনার ওহিদা মল্লিক এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান আলী বাদল।
প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিজয়ীদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

 

ফ্রান্সে জিরো ফিগার মডেলিং নিষিদ্ধ হচ্ছে

ফ্রান্সে ‘জিরো ফিগার’ মডেলিং নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল ইতোমধ্যে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাস হয়েছে। উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি পাস হলে দেশটির স্বাস্থ্য জগতে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে। ফ্রান্স এই ধরনের মডেলিংকে ‘বিপজ্জনক’   বলে উল্লেখ করেছে।
বিলটির উদ্যোক্তা এমপি এবং নিউরোলোজিস্ট অলিভার ভেরান জানান, আমি অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই করি। সরকার আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে এই আইন বিরাট প্রভাব ফেলবে। কারণ মডেলিং জগতে চিকন স্বাস্থ্যের তথা জিরো ফিগারকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। স্বাস্থ্য চিকন করতে ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা না খেয়ে থাকে যাকে বলা হয় ‘ডায়েট কন্ট্রোল’।
অলিভারের মতে, একজন মানুষ কাজের জন্য কখনো না খেয়ে থাকতে পারেন না। এ কাজে তাকে বাধ্য করা কোনভাবে সমর্থন করা যায় না। যেসব মেয়েরা না খেয়ে জিরো ফিগার বানানোর চেষ্টায় মেতে ওঠে তাদের অস্টিওপরোসিস রোগ এবং হার্টের সমস্যা হতে পারে। চিকিত্সকরা মেয়েদের ক্ষুধাহীনতা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছেন, মেয়েরা প্রথম দিকে আরাম অনুভব করলেও যখন ক্ষুধাহীনতা থাকে না তখন তারা সমস্যাগুলো বুঝতে পারে। আইন অনুযায়ী, মডেলিং জগতে যেসব মেয়েরা যাবেন তাদের স্বাস্থ্য একজন চিকিত্সক দ্বারা পরীক্ষা করা হবে। তার উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক আছে কিনা সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চির মেয়ের ওজন হতে হবে ১২০ পাউন্ড। ক্ষেত্র বিশেষে সেটা ১১৫ পাউন্ডও হতে পারে। যেসব নিয়োগকর্তা এই আইন লঙ্ঘন করবেন তাদের ৮৩ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং ছয় মাসের জেল হতে পারে। ইসরাইল এবং স্পেনেও এধরনের আইন আছে।
– এনডিটিভি

 

২০লাখ টাকার যৌতুক কেড়ে নিলো ওয়াহিদা সিফাতের প্রাণ!

অপরাজিতা ডেস্কঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর ওয়াহিদা সিফাত (২৭) পাঁচ বছর আগে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী নগরীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বেকার ছেলে আসিফকে। কিন্তু বিয়ের পর পাল্টে যেতে থাকে আসিফ। ব্যবসা করার জন্য বাবার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে সিফাতকে প্রায় চাপ দিতো। এতে সিফাত রাজি না হওয়ায় দিনের পর দিন তার ওপর চলতে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। আর শেষ পর্যন্ত এ যৌতুকের কারণেই সিফাতকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
গতকাল সকালে নগরীর রাজপাড়া থানায় করা মামলায় এমনই অভিযোগ করেন ওয়াহিদা সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অপরাধে করা মামলায় সিফাতের স্বামী মো. আসিফসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলো সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনধারী সিফাত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুরে চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকার পল্লবীতে পিতার বাসায় যাওয়ার জন্য ২৯শে মার্চ রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধূমকেতু ট্রেনের টিকিট কাটেন। হঠাৎ ওই দিন রাত সোয়া ১০টায় সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান মোবাইল ফোনে সিফাতের ভাই আসিফুল ইসলামকে জানান, সিফাত মুমূর্ষু অবস্থায় তার ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। এর ৫ মিনিট পর রমজান আবারও মোবাইল ফোনে জানান, সিফাত গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে রাজশাহী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সে মারা গেছে।
সূত্র মতে, রোববার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতকে। তার দেড় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এদিকে হাসপাতালে সিফাতের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার থুঁতনির নিচে এক ইঞ্চি পরিমাণ লালচে জখম ছিল। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দেয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও সিফাতের মাথায় জখমের প্রমাণ মিলেছে। সিফাতের গ্রামের বাড়ি রংপুর। তার পিতা আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক।
মামলায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বলেন, সিফাতের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি মোহাম্মদ হোসেন রমজানকে রাত ১২টার দিকে ফোন দেন। ফোনে রমজান জানান, সিফাতকে তার স্বামী মাঝে মধ্যে মারপিট করতো। তিনি তা মীমাংসা করে দিতেন। বৃহস্পতিবারও মারপিট করেছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৩০শে মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় পরিবারের লোকজন ঢাকা থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসেন। এ সময় তারা দেখেন সিফাতের মৃতদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। এ ছাড়া মাথার ডান দিকে চোখের পাশে রক্ত জমাট বাঁধা আছে।

মামলায় দাবি করা হয়, যৌতুরে জন্যই সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। এখন হত্যার ঘটনাকে আড়াল করতে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের মৃত্যুর ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সিফাতের মৃত্যুর পরদিন আটক তার স্বামী আসিফকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ

 অপরাজিতা ডেস্কঃ আজ বুধবার ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা’ দিবস। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এই উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অটিস্টিক ব্যক্তিদের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অষ্টম ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ উপলক্ষে বুধবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহবান জানান। খবর: বাসসের।
আবদুল হামিদ বলেন, অটিস্টিক ব্যক্তিদের সার্বিক উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। কিন্তু এটি কোন একক কাজ নয়। এ বিষয়ে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিবর্গসহ সকলেই অটিস্টিক ব্যক্তিদের উন্নয়নে নিজেদের সম্পৃক্তসহ তাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি বৈষম্যহীন সমাজ তৈরিই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সকলকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে আমরা একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
রাষ্ট্রপ্রতি বলেন, অটিস্টিক শিশুরা আমাদেরই সন্তান। তাদের পরিপূর্ণ পরিচর্যার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনধারায় সম্পৃক্ত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন জনগণের মধ্যে অটিস্টিক শিশুদের যত্ন, পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আবদুল হামিদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে ‘৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত এবং দেশের সকল অটিস্টিক শিশু, তাদের অভিভাবক এবং তাদের নিয়ে কর্মরত ব্যক্তি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানসমূহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
একই সাথে তিনি ‘৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০১৫’ এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
এদিকে ‘অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ ও বিত্তবানদের প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে দেয়া বুধাবর এক বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান। খবর: বাসসের।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল স্থাপন, ঢাকার মিরপুরে জাতীয় বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ, ৬৪ জেলায় ৬৮টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং অটিজম রির্সোস সেন্টার স্থাপন করেছি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রে সকল প্রতিবন্ধীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
শেখ হাসিনা বলেন, অটিজমসহ সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা মানব বৈচিত্র্যেরই অংশ। ভিন্ন মানব বৈচিত্র্যের এ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সার্বিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। আমার বিশ্বাস, অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্ভাবনা বয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এই জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে গত ছয় বছরে আমাদের সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩’, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’, ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত শিক্ষা নীতিমালা ২০০৯’ ও ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা ২০১১’ প্রণয়ন করেছি।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ২ এপ্রিল ২০১৫ ৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অটিস্টিক শিশু-কিশোর, তাদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম সচেতনতা থেকে সক্রিয়তা, একীভূত সমাজ গঠনে শুভ বারতা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ-এর জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা হোসেন ২০১২ সালে জাতিসংঘে অটিস্টিক শিশু ও তার পরিবারের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ‘অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তার পরিবারের জন্য আর্থ-সামাজিক সহায়তা’ শীর্ষক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ৮ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৫ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

 

রাজধানীতে বাসায় ঢুকে কলেজ শিক্ষিকাকে পুড়িয়ে হত্যা!

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর নামে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসায় ঢুকে বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের স্ত্রী কলেজ শিক্ষিকা কৃষ্ণা কাবেরী মণ্ডলকে (৩৫) কুপিয়ে ও গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। এ সময় শীতাংসু শেখর বিশ্বাস, বড়মেয়ে শ্রুতি বিশ্বাস (১৭) ও ছোট মেয়ে অত্রি বিশ্বাস (৯) আহত হন। তারা বর্তমানে মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। শীতাংসু শেখর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) উপ-পরিচালক এবং কৃষ্ণা কাবেরী মোহাম্মদপুর মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন।

মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাস পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের ৩/১২ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। গত সোমবার রাত ৯টায় জাকির নামে তার পরিচিত এক ব্যক্তি জন্মদিনের কেক নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি রড দিয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনা দেখে ফেলায় ওই ব্যক্তি বাসার সবাইকে পেটাতে ও কোপাতে থাকে। কৃষ্ণা কাবেররি মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের চিত্কারে প্রতিবেশীরা বাসার সবাইকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কৃষ্ণা কাবেরীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার ভোর তিনটার দিকে চিকিত্সাধীন কৃষ্ণা কাবেরি মারা যান।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানান, শীতাংসু ও তার দুই মেয়ে এবং পাশের ফ্ল্যাটের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে হাজী আহমেদ সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকার হাউসের ম্যানেজার জাকির একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ব্যবসায়িক বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা প্রকৌশলী সাবের আহমেদ জানান, চিত্কার শুনে তিনি দরজা খুলে দেখেন শীতাংসু ও তার দুই মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তার বাসার দরজার সামনে। তাদের তাড়াতাড়ি বাসার ভেতরে নিয়ে যান। এসময় এক মেয়ে তার মাকে বাঁচানোর অনুরোধ করলে তাদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, আগুন জ্বলছে। ধোঁয়ায় পুরো ঘর আচ্ছন্ন। পরে বাসা থেকে পানি এনে নেভানোর চেষ্টা করা হয় এবং পর্দার পাশে দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় কৃষ্ণা কাবেরি মণ্ডলকে পাওয়া যায়।

নিহতের পারিবারিক একটি সূত্রের দাবি, শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের সঙ্গে খান জাকিরুল নামে এক ব্যবসায়ীর পূর্ব পরিচয় ছিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় কেক, ফল ও জুস নিয়ে শীতাংসুর মোহাম্মদপুরের বাসায় যায় জাকিরুল। শীতাংসুর পরিবারের সদস্যরা ফল ও জুস খাওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জাকিরুল তাদের হাত বেঁধে সবাইকে পেটান। মারধরের পর সে ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল।