


বাঙ্গালীর খাবার মানেই নানান পদের,নানান স্বাদের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন মশলায়,বিভিন্ন রকম স্বাদে খাবার খাওয়া এবং তৈরীতে আমাদের আগ্রহের সীমা নেই। আর যেহেতু পহেলা বৈশাখের মতো সার্বজনীন উৎসবে আমাদের কে খেতে হয় সম্পূর্ণ দেশীয় স্বাদের খাবার এবং সেই খাবারটা যদি হয় ভিন্ন ভিন স্বাদের তবে আর মন্দ কি?
পহেলা বৈশাখে খাবারের আইটেমের প্রধান আকর্ষন থাকে ইলিশ মাছ। ষোলআনা বাঙ্গীলায়ান প্রকাশের কারণেই হোক,আর ঐতিহ্য পালনেই হোক,ইলিশ মাছের হরেক রকমের আইটেমের সাথে পান্তা ভাত মানেই উৎসব হবে আনন্দে পরিপূর্ণ।
তো চলুন আজ জেনে নেই,আসছে উৎসবে ইলিশের কি কি আইটেম তৈরী করে আমরা আমাদের উৎসব কে করতে পারি আনন্দে মুখর,
লবণ ইলিশের ভুনা
উপকরণ : লবণ ইলিশ ২/৪ টুকরা , পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল পরিমাণ মতো।
প্রস্তুত প্রণালি : লবণ ইলিশ ভালো করে বেটে নিন। বাটা ইলিশের সঙ্গে তেল বাদে সব উপকরণ ভালো করে মেখে নিন। প্যানে তেল দিয়ে গরম করে মাখানো উপকরণ ছেড়ে দিন। ভালো করে কষানো হলে সামান্য পানি দিন। কিছুক্ষণ চুলায় বসিয়ে রাখুন। তেল উপরে উঠে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
ইলিশ মাছের ভর্তা

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, শুকনা মরিচ ২/৩টি, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ১/২ কাপ, কাঁচামরিচ ২/৩ টি।
প্রস্তুত প্রণালি : ইলিশ মাছ লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে কাঁটা ফেলে নিন। সিদ্ধ করা মাছের সঙ্গে হলুদ-মরিচ মেখে নিন। প্যানে তেল দিয়ে শুকনা মরিচ, কাঁচা মরিচ ফালি, পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লাল করে ভাজুন। কাটা বাছা মাছ দিয়ে দিন। ভালো করে কষিয়ে সামান্য পানি দিন। তেলের ওপর উঠে এলে নামিয়ে পরিবশন করুন ।
ভাপানো ইলিশ
উপকরণ : ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, সরিষা বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চামচ, কাঁচামরিচ ৬/৭ টি, তেল ১/২ কাপ, লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : একটি সসপ্যানে মাছ নিয়ে সব উপকরণ এক সঙ্গে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। একটি বড় কড়াইয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত গরম পানিতে সসপ্যানটি ঢেকে বাসিয়ে ভারী কিছু দিয়ে চাপা দিন। ১০ মিনিট পর আস্তে করে মাছগুলো উল্টে দিন। আবার ১০ মিনিট পর নামিয়ে নিন। সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ইলিশের দোপেঁয়াজি

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল ১/২ কাপ, লবণ স্বাদমতো, কাঁচামরিচ ৪টি।
প্রস্তুত প্রণালি : মাছ ধুয়ে হলুদ, মরিচ ও লবণ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। প্যানে তেল দিয়ে মাছগুলো ছেড়ে দিন। কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
পাতলা ঝোলে ইলিশ

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৮ টুকরা, পেঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া, ১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচামরিচ ৪/৫টি, তেল ৪ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : মাছ ধুয়ে সব উপকরণ মাখিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে (ঝোল পাতলা হবে, সে অনুযায়ী পানি দিতে হবে) চুলায় বসিয়ে দিন। নামানোর আগে কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
দই ইলিশ
উপকরণ : ইলিশ ১টা, সয়াবিন তেল হাফ কাপ, পেঁয়াজ বাটা হাফ কাপ, পেঁয়াজ বাটা হাফ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি হাফ কাপ, হলুদ বাটা ২ চা চামচ, মরিচ বাটা ২ চা চামচ, ধনে বাটা ২ চা চামচ, ভাজা মসলা হাফ চা চামচ, আদার পাউডার হাফ চা চামচ, লবণ পরিমাণ মত।
প্রণালী : ইলিশ মাছের বড় টুকরা করে নিতে হবে। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ দিতে হবে। পেঁয়াজ একটু ভেজে সব মসলা ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। অল্প পানি দিয়ে মাছের টুকরাগুলো বিছিয়ে দিন। কিছুক্ষণ কষিয়ে ১ কাপ পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে ৫ মিনিট রান্না করুন। তারপর দই দিয়ে ৩০ মিনিট রান্না করতে হবে। মাঝখানে ঢাকনা খুলে মাছ উল্টিয়ে কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে নিন। টক দই হলে সামান্য চিনি দিন। মৃদু আঁচে রেখে ভুনা করে চুলা থেকে নামান।
কড়াই ইলিশ
উপকরণ: মাঝারি বা বড় ইলিশ মাছ ১টি, টমেটো ২টি, ক্যাপসিকাম ১টি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ চা-চামচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ করে, এলাচ ও লবঙ্গ তিনটি করে, তেজপাতা ১টি, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়াবিন তেল ৫ টেবিল চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি এক চিমটি, কাঁচা মরিচ কুচি ২-৩টি, পানি ২ কাপ।
প্রণালি: মাছ টুকরা করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি করে নিন। শুকনা কড়াইয়ে ক্যাপসিকাম কুচি টেলে নিন। কড়াইয়ে ৪ টেবিল চামচ তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। এতে এলাচ-লবঙ্গ-তেজপাতা দিন। কালোজিরা বাদে একে একে বাকি মসলাগুলোও দিয়ে কষিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে একটু নাড়ুন। এবার এই মিশ্রণ ব্লেন্ডারে মিহি পেস্ট করে নিন। অন্য কড়াইয়ে বাকি তেল গরম করে কালোজিরা ফোড়ন দিন। এতে মসলার পেস্ট দিয়ে দিন। একটু কষিয়ে ২ কাপ পানি দিন। ঝোল ফুটলে মাছ বিছিয়ে দিয়ে লবণ ছিটিয়ে দিন। এক ঘণ্টা তাওয়ার ওপর দমে রেখে দিন। ঝোল মাখা মাখ হলে নামিয়ে একটু চিনি ছিটিয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।



বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের ৩০ শতাংশ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে বাসায় তৈরি খাবার থেকে। আমেরিকায় ৭ দশমিক ৬ কোটি মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ভুগে থাকেন, যাদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং এর মধ্যে ৫ হাজার জন মৃত্যুমুখে পতিত হন।
খাদ্য নিরাপত্তা বলতে আমরা বুঝি বিজ্ঞানসম্মতভাবে খাদ্য নাড়াচাড়া করা, তৈরি করা এবং গুদামজাত করা, যাতে খাদ্যবাহিত কোনো রোগ সংক্রমণ হতে না পারে। এখানে বলে রাখা ভালো, খাদ্য গ্রহণে মানুষ থেকে মানুষের দেহে, পশু থেকে মানুষের দেহে রোগ সংক্রমণ হতে পারে এবং খাদ্যের মধ্যে পরজীবী জীবাণু ছত্রাক বংশ বৃদ্ধি করে মানবদেহে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপদ খাদ্যের মধ্যে বিশুদ্ধ পানিও অন্তর্ভুক্ত। সবার জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যে কোনো দেশের একটি মৌলিক অঙ্গীকার। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে খাদ্যশস্য উৎপাদন, খাদ্যের লেভেলিং বা চিহ্নিতকরণ, খাবারের সঙ্গে এডিটিভ ও পেস্টিসাইড (কীটনাশক) ব্যবহার, খাবার গুদামজাতকরণ এবং বাজারে সরবরাহ ইত্যাদি সবকিছুকে বোঝায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুখাদ্যের পাঁচটি বড় বৈশিষ্ট্য হল- ১. মানুষের মধ্যে, জীবজন্তুর মধ্যে, গৃহপালিত পশুর মধ্যে খাবারের সঙ্গে রোগ সংক্রমণকারী জীবাণু ছড়ানো বন্ধ করা। ২. কাঁচা ও সিদ্ধ করা খাবার আলাদা করা। যাতে সিদ্ধ করা খাবারে কোনো সংক্রামক জীবাণু না থাকে। ৩. খাবার সঠিকভাবে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা যাতে সব সংক্রমণ করা জীবাণু মরে যায়। ৪. খাদ্য সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা। ৫. সুপেয় পানি ও কাঁচামাল নিরাপদ করার ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, তত্ত্বীয়ভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।
কী কী সংক্রমণকারী খাবার সংক্রমণ ঘটিয়ে রোগ সৃষ্টি করতে পারে
১. জীবাণু ঘটিত : ক) ক্লষ্টিডিয়াম বুটোলিনা (খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটে মৃত্যু হতে পারে), খ) এসকেকোলাইরিশিয়া (ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি), গ) সালমোনেলা (টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড), ঘ) লিষ্টেরিয়া, ঙ) ভিব্রিও কলেরা (কলেরা তৈরি হতে পারে)।
২. ভাইরাস ঘটিত : ক) এনটেরে ভাইরাস (পাতলা পায়খানা), খ) হেপাটাইটিস এ (জন্ডিস, পাতলা পায়খানা), গ) রোটা ভাইরাস (বাচ্চাদের পাতলা পায়খানা), ঘ) নরওয়াক ভাইরাস (বয়স্কদের পাতলা পায়খানা)।
৩. পরজীবী ঘটিত : ক) এনটামোয়েবা হিস্টোলাইটিকা (আমাশয়, পাতলা পায়খানা, বদহজম), খ) জিয়ারডিয়া (আমাশয়, পাতলা পায়খানা, বদহজম), গ) ক্রিপটোস্পোরি ডিয়োসিস।
৪. এলার্জিজনিত প্রদাহ : বিভিন্ন ধরনের খাদ্য যেমন গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, বেগুন ইত্যাদি খাওয়ার কারণে।
খাদ্য নিরাপদ করার জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার
প্রতিটি উন্নত দেশে খাদ্য নিরাপত্তা তদারকির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন- ফুড অ্যান্ড সেফটি অরগানাইজেশন, কাস্টমার-কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের আইন-কানুনসহ খাদ্য অধিদফতর, কৃষি, স্বাস্থ্য অধিদফতর ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান বছরে বিভিন্ন সময়ে সভায় বসে খাদ্য সঠিকভাবে উৎপন্ন হচ্ছে কি-না, জৈব-অজৈব রাসায়নিক সার যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা ব্যবহৃত হচ্ছে কি-না, ফসল তোলার পর খাদ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত বা গুদামজাত হচ্ছে কি-না, পরবর্তী সময়ে সেগুলো বড় বড় মার্কেটে এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি-না, সর্বোপরি প্রক্রিয়াজাত উৎপাদিত খাবারে সঠিক খাদ্য উপাদান আছে কি-না- তার লেবেল যুক্ত করা, উৎপাদনের তারিখ এবং শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা এবং কত তাপমাত্রায় সার সংরক্ষিত করতে হবে তার উল্লেখ করা- এ সবকিছুর তদারক করে। এগুলোর উল্লেখ থাকার পরই তা জনসাধারণের কাছে সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর ব্যত্যয় হলে অথবা কোনো খাবার গ্রহণের ফলে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে আক্রান্ত রোগীর সময়োপযোগী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সংক্রমিত খাবারটি বাজার থেকে তুলে নেয়া- এসব কাজও কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। এক্ষেত্রে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, সরকার, পেশাজীবী আইন প্রণেতা এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের একটি বড় ধরনের ভূমিকা আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এ ধরনের তত্ত্বাবধায়ক অধিদফতরের সংখ্যা কম। যে কয়টি অধিদফতর আছে তাদের লোকবল অপ্রতুল। এ কারণে আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নিচে উল্লিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে-
১. খাদ্য নিরাপত্তা বলতে আমরা কী বুঝি এ বিষয়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা। ২. খাদ্য ও পানির মাধ্যমে কী কী রোগ সংক্রমণ হয় সে সম্পর্কে রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদিতে ডাক্তার, আইন প্রণেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সরকার ও পেশাজীবীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ। ৩. খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং সঠিক সময়ের জন্য সিদ্ধ করে খাওয়া। ৪. খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নেয়া। ৫. যেসব রোগের টিকা আছে সেগুলোর জন্য প্রতিষেধক হিসেবে টিকা গ্রহণ করা।
এগুলো যথাযথভাবে পালন করা হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
অধ্যাপক ডা. মো. তাহমিনুর রহমান সজল : উপাধ্যক্ষ, আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

ডিম এবং ক্যাস্টর অয়েল
চুলে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে পরে। তাই ব্যবহার করুন এ প্যাকটি। ১টি ডিমের কুসুম, ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ টেবিল চামচ মধু খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট পরে ভালো করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহারে এতে চুলে পুষ্টি পৌঁছাবে এবং চুলের রুক্ষতা দূর হবে।
কলা এবং মেয়নেজ
দুটি পাকা কলা বাটিতে নিয়ে চামচের সাহায্যে পিষে নিন ভালো করে। এরপর এতে ২ টেবিল চামচ মেয়োনেজ এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন ভালো করে। এ মিশ্রণটি চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। এবং ভালো করে ধুয়ে নিন। কলা চুল নরম এবং উজ্জ্বল করে তুলবে। ২টি কলা নিয়ে পিষে নিন ভালো করে। এরপর এতে ১টি ডিমের কুসুম এবং ১ চা চামচ তাজা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মেশান। এ মিশ্রণটি পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩০-৪০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর হবে দ্রুত। এ প্যাকটি চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করবে এবং চুল পড়াও বন্ধ করবে।
৫/৬টি স্ট্রবেরি ধুয়ে ব্লেনডারে ব্লেন্ড করে নিন, চাইলে চামচ দিয়ে পিষে নিতে পারেন। এতে ১টি ডিমের কুসুম, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি পুরো চুলে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।



চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থ ও সৃজনশীল ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেশের নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে নির্মিত চলচ্চিত্রকে অবশ্যই সৃজনশীল ও শোভন হতে হবে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ প্রদান উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র একটি সৃজনশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যম। জনসাধারণের ওপর যার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শিক্ষার প্রসার, মেধার চর্চা, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, জাতি গঠন এবং প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণেও চলচ্চিত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী হাতিয়ার।
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আপনাদের অনুসরণ করে। সুতরাং সমাজের অন্য মানুষের চেয়ে আপনাদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি।
সম্প্রতি বেশ কিছু চলচ্চিত্র দেশে ও বিদেশে সাফল্য অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী এর প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। সার্বিকভাবে এটা বলা যায় যে আমাদের চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সভাপতিত্ব করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত¯সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসচিব মর্তুজা আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে ২৫টি বিভাগে মোট ২৮ জন অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ দেওয়া হয়। আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় বিশিষ্ট অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
গাজী রাকায়েত ও ফরিদুর রেজা সাগর প্রযোজিত মৃত্তিকা মায়া শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে সারাহ আফরিনের শুনতে কি পাও। মৃত্তিকা মায়া চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন তিতাস জিয়া। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে দুজন, মৃত্তিকা মায়ায় অভিনয়ের জন্য মৌসুমী এবং দেবদাস-এ অভিনয়ের জন্য শরমি মালা।
পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী অপর্ণা, শ্রেষ্ঠ খলনায়ক মামুনুর রশিদ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতা স্বচ্ছ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেত্রী সৈয়দা অহিদা সাবরিনা, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক এ কে আজাদ, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (পুরুষ) চন্দন সিনহা, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীন, শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল, শ্রেষ্ঠ সুরকার কৌশিক হোসেন তাপস, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ, শ্রেষ্ঠ নাট্যরচনা গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা শরীফুল ইসলাম রাসেল, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ, শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম বাদল, শ্রেষ্ঠ শব্দ প্রকৌশলী কাজী সেলিম, শ্রেষ্ঠ কস্টিউম অ্যান্ড ডেকোরেশন ডিজাইনার ওহিদা মল্লিক এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান আলী বাদল।
প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিজয়ীদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।


অপরাজিতা ডেস্কঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর ওয়াহিদা সিফাত (২৭) পাঁচ বছর আগে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী নগরীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বেকার ছেলে আসিফকে। কিন্তু বিয়ের পর পাল্টে যেতে থাকে আসিফ। ব্যবসা করার জন্য বাবার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে সিফাতকে প্রায় চাপ দিতো। এতে সিফাত রাজি না হওয়ায় দিনের পর দিন তার ওপর চলতে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। আর শেষ পর্যন্ত এ যৌতুকের কারণেই সিফাতকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
গতকাল সকালে নগরীর রাজপাড়া থানায় করা মামলায় এমনই অভিযোগ করেন ওয়াহিদা সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অপরাধে করা মামলায় সিফাতের স্বামী মো. আসিফসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলো সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনধারী সিফাত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুরে চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকার পল্লবীতে পিতার বাসায় যাওয়ার জন্য ২৯শে মার্চ রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধূমকেতু ট্রেনের টিকিট কাটেন। হঠাৎ ওই দিন রাত সোয়া ১০টায় সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান মোবাইল ফোনে সিফাতের ভাই আসিফুল ইসলামকে জানান, সিফাত মুমূর্ষু অবস্থায় তার ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। এর ৫ মিনিট পর রমজান আবারও মোবাইল ফোনে জানান, সিফাত গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে রাজশাহী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সে মারা গেছে।
সূত্র মতে, রোববার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতকে। তার দেড় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এদিকে হাসপাতালে সিফাতের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার থুঁতনির নিচে এক ইঞ্চি পরিমাণ লালচে জখম ছিল। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দেয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও সিফাতের মাথায় জখমের প্রমাণ মিলেছে। সিফাতের গ্রামের বাড়ি রংপুর। তার পিতা আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক।
মামলায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বলেন, সিফাতের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি মোহাম্মদ হোসেন রমজানকে রাত ১২টার দিকে ফোন দেন। ফোনে রমজান জানান, সিফাতকে তার স্বামী মাঝে মধ্যে মারপিট করতো। তিনি তা মীমাংসা করে দিতেন। বৃহস্পতিবারও মারপিট করেছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৩০শে মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় পরিবারের লোকজন ঢাকা থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসেন। এ সময় তারা দেখেন সিফাতের মৃতদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। এ ছাড়া মাথার ডান দিকে চোখের পাশে রক্ত জমাট বাঁধা আছে।
মামলায় দাবি করা হয়, যৌতুরে জন্যই সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। এখন হত্যার ঘটনাকে আড়াল করতে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের মৃত্যুর ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সিফাতের মৃত্যুর পরদিন আটক তার স্বামী আসিফকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর নামে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসায় ঢুকে বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের স্ত্রী কলেজ শিক্ষিকা কৃষ্ণা কাবেরী মণ্ডলকে (৩৫) কুপিয়ে ও গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। এ সময় শীতাংসু শেখর বিশ্বাস, বড়মেয়ে শ্রুতি বিশ্বাস (১৭) ও ছোট মেয়ে অত্রি বিশ্বাস (৯) আহত হন। তারা বর্তমানে মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। শীতাংসু শেখর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) উপ-পরিচালক এবং কৃষ্ণা কাবেরী মোহাম্মদপুর মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন।
নিহতের পারিবারিক একটি সূত্রের দাবি, শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের সঙ্গে খান জাকিরুল নামে এক ব্যবসায়ীর পূর্ব পরিচয় ছিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় কেক, ফল ও জুস নিয়ে শীতাংসুর মোহাম্মদপুরের বাসায় যায় জাকিরুল। শীতাংসুর পরিবারের সদস্যরা ফল ও জুস খাওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জাকিরুল তাদের হাত বেঁধে সবাইকে পেটান। মারধরের পর সে ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল।