banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শ্রমের মূল্যায়ন, নারীর কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

11096847_907862292611132_366773060_o

বাংলাদেশে শিক্ষা, জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও নারী পরিবার বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে। অন্যদিকে নারী নির্যাতনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শ্রমের মূল্যায়ন, নারীর কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নারীর অধিকার অর্জনে যেতে হবে বহুদূর। নিতে হবে বিভিন্ন কৌশল।
গতকাল রোববার জেন্ডার ও উন্নয়নবিষয়ক ‘জেন্ডার, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিনের আলোচনায় আলোচকেরা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, নারীর অধিকার আদায়ে শুধু নারী চিৎকার করলেই হবে না, এ ক্ষেত্রে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ, ইউএসএআইডি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, কেয়ারসহ বিভিন্ন সংস্থা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আমি পুরুষ। তবে আমি পুরুষের পক্ষে নই। আমি নারীর পক্ষে।’ এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান তানিয়া হক। সমাপনী অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো রওনক জাহান বলেন, কয়েক দিন আগেই জাতীয় সংসদের একজন পুরুষ সাংসদ পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছেন। তার মানে নারীর অধিকার আদায়ে যেতে হবে আরও বহুদূর। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীর শ্রমের কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। নারীর কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নেই। আর এর ফলেই নারীর ওপর নির্যাতন কমছে না।

11086542_907862659277762_2052500801_o
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য থাকলে একটি স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়া সম্ভব নয়। একইভাবে তা কখনোই গণতান্ত্রিক সমাজ হিসেবে দাবি করতে পারবে না। গোলটেবিল বৈঠকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশ ভালো ভালো নীতি ও আইন প্রণয়নের জন্য প্রশংসিত। তবে সেসব নীতি ও আইনের বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয় না। তিনি ১৯৯৭ সালের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিকে পরবর্তী ২০০৪ সালের সরকার কীভাবে গোপনে পরিবর্তন করে ফেলে, সে কথা উল্লেখ করেন। ১৯৯৭ সালের নীতিতে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর সম-অধিকারের কথা উল্লেখ থাকলেও ২০১১ সালের নীতিতে সে বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন।
তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর উইমেনের আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর চাঁদনি জোসি, আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাসকিয়া ই ওয়াইয়েরিঙ্গা, ভারতের জেন্ডারবিশেষজ্ঞ অমৃতা চাচসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাজমা চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

 

নারীর ভূমি অধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থান নির্ধারিত হয় ভূমি মালিকানার ওপর ভিত্তি করে। নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা ভূমি ও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে ভূমিতে নারীর অধিকার নানাভাবে উপেক্ষিত একটি বিষয়। এ অবস্থায় নারীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে বিশেষ ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন তারা। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)’র উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এ কর্মশালার আয়োজন করে।
‘নারীর ভূমি অধিকার এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক তিনদিনের কর্মশালা গতকাল রবিবার শেষ হয়। ঢাকাস্থ এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ অডিটোরিয়াম-এ নারীর ভূমি অধিকার বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের জানার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে এবং তাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালা প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৩৩ নারী সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথম দিনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এবং নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক দিল মনোয়ারা মনু। প্রথম অধিবেশনে ‘সমকালীন বাস্তবতায় নারীর ভূমি অধিকার:জনসচেতনতার গুরুত্ব’ নিয়ে আলোচনা করেন এএলআরডি’র চেয়ারপার্সন এবং নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী নারী নেত্রী খুশি কবির। প্রচলিত উত্তরাধিকার আইন, ভূমি জরিপ, জমি-জমার কাগজপত্র ও পরিভাষা পরিচিতি নিয়ে আলোচনা করেন যথাক্রমে এএলআরডি’র কর্মকর্তা রফিক আহমেদ সিরাজী এবং মির্জা মো. আজিম হায়দার। ভূমি-সম্পদে নারীর মালিকানা, কৃষিতে নারীর অবদান, নারীর প্রতি বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করেন দিল মনোয়ারা মনু।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদ, এএলআরডি’র কর্মকর্তা সানজিদা খান রিপা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. সীমা জামান, প্রথম আলোর ডেপুটি চিফ রিপোর্টার শিশির মোড়ল।