banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

শিশুর চারপাশঃ প্রয়োজন একটু সচেতনতা

স্কুলে পড়ার সময় সমাজবিজ্ঞানে পরিবেশ কাকে বলে পড়েছি। সে সংজ্ঞায় বলা ছিল পরিবেশ বলতে আমাদের বাড়িঘর, মানুষজন, আলো-বাতাস-পানি, রাস্তাঘাট, গাছপালা, পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ, মশা-মাছি সবকিছু বোঝায়। আমাদের সুস্বাস্থ্য এই পরিবেশের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ঠিক তেমনি একজন শিশুর সুরক্ষা কিন্তু একইভাবে নির্ভরশীল তা নবজাতক হোক আর বড় শিশুই হোক না কেন।
শাহনাজের কথাই ধরা যাক। তার তিন মেয়ে। বাসা-বাড়িতে কাজ করে। থাকে সরকারি কলোনির এক প্রান্তে এক ছোট্ট খুপরিতে। দশটি পরিবার একসাথে গাদাগাদি করে থাকে। নোংরা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে তার তিন শিশুকন্যা বড় হচ্ছে। একে তো অপুষ্টির শিকার তার ওপর নোংরা পুঁতিগন্ধময় পরিবেশের কারণে বাচ্চাদের রোগবালাই লেগেই থাকে। শাহনাজ অনেক চেষ্টা করে তার বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে কিন্তু এর জন্য যতটা না তার অভাব দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী চারপাশের পরিবেশ।
শাহজাদপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম পোতা-জিরার মকবুলের কথাই ধরা যাক। পোতাজিরা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে তার নিয়মিত যাওয়া-আসা করতে হয়। কারণ তার ৬ বছরের ছেলে। প্রায়ই ডায়রিয়া, পেটখারাপ, চুলকানির কারণে হাসপাতালে তার এই আসা-যাওয়া। গরুর দুধ বিক্রি করে সে ভালোই আয় করে। নিয়মিত দুধ খাওয়ায় সে বাচ্চাকে। তারপরও এই অবস্থা। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন যে, বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশুদ্ধ পানি তা যত দূর থেকেই হোক আনার ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চাকে নোংরা, ধুলাবালি থেকে কীভাবে দূরে রাখা যায় তার শিক্ষা দিতে হবে ইত্যাদি নানা বিষয় ডাক্তার পালন করতে বললেন। মকবুল পরের ৩ সপ্তাহ কঠোরভাবে ডাক্তারের অনুশাসন মেনে চললেন। মকবুল লক্ষ্য করল যে তার ছেলে আর অসুস্থ হচ্ছে না।
আশপাশের পরিবেশ যদি নোংরা হয় তাহলে কোনভাবেই স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যায় না। শিশুর ক্ষেত্রে এ কথাটি শতভাগ প্রযোজ্য কারণ একটি শিশু যখন স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয় তখন সে থাকে একটি সুস্থ-সবল-নিরোগ একটি শিশু। পৃথিবীতে আবির্ভাবের পরই শুরু হয়ে যায় তার সংগ্রামী পথচলা। কারণ নবজাতকের চারপাশে ওঁত পেতে থাকে জীবাণু নামক শকুনেরা। এসব জীবাণুরা সামান্যতম সুযোগটুকুও হেলায় হারায় না। সোজা আক্রান্ত করে মাত্র ভূমিষ্ঠ হওয়া আদম সন্তানকে।
শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশের কী প্রভাব তা অনুধাবন করতে হলে জানতে হবে শিশুর থাকার ঘরটি কেমন? পর্যাপ্ত আলো-বাতাস সে ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা আছে কিনা? কেমন পানি পান করে? শিশু যে শৌচাগার ব্যবহার করে তার কি অবস্থা? শৌচাগার ব্যবহারের পর দুই হাত সাবান দিয়ে ভালোমতো পরিষ্কার করে কিনা? বাড়ির ময়লা-আবর্জনা কোথায় ফেলা হয়? বাড়ির আশপাশে বদ্ধ ডোবা, জলাশয় আছে কিনা? এসব বাইরের বিষয় ছাড়াও আরও কিছু বিষয় জানতে হবে যেমন শিশুর পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়া কতদূর? তাদের চিন্তা-ভাবনা কোন পর্যায়ের? কুসংস্কার বিশ্বাস করেন কিনা? করলে কতটুকু করেন? স্বাস্থ্য  রক্ষার নিয়মগুলো মেনে চলেন কিনা? শিশুর প্রতি মা, পরিবার, সমাজ কতটুকু যত্নবান?
এসব বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে শিশুর আশপাশের পরিবেশ কেমন হবে। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। ঢাকা শহরের গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার একটি ক্লিনিকে একটি শিশুর জন্ম হয়। বাবা পদস্থ সরকারি চাকুরে। বাসা-বাড়ির অবস্থাও ভালো। কিন্তু জন্মের ৪ দিনের মাথায় শিশুটির জন্ডিস ধরা পড়ে। বাবা-মা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার পরামর্শ দেন প্রতিদিন শিশুকে রোদ পোহানোর। বাবা-মা ভেবে পান না এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরও কীভাবে বাবু সোনাটার জন্ডিস হলো। আসলে আমাদের চারপাশের পানি-বাতাস, খাবার, মশামাছি, কীটপতঙ্গ প্রভৃতি দ্বারা রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
শিশু যে ঘরে থাকে সে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসতে দিতে হবে। তাহলে ঘরটি স্যাঁতস্যাঁতে থাকবে না। ভালো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে যেন ঘরের ভিতরের গরম বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে। মুক্ত বাতাস স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। সূর্যের আলোতে রোগ-জীবাণু বাঁচতে পারে না। অল্প জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে থাকলে সকলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এ অবস্থায় কারো সংক্রামক রোগ হলে তো কথাই নেই। এক্ষেত্রে ঘরের শিশুটির রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
512_185c10b4e20b46cf7504c60eae760860
বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। কথাটি আবালবৃদ্ধবনিতা থেকে শুরু করে শিশু সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দূষিত পানি নানা রোগ ছড়ায়। একটু গরম পড়লেই পত্রিকায় দেখা যায় আইসিডিডিআরবি’র হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। যত্রতত্র পানি পান করার ফলে টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় প্রভৃতি রোগের জীবাণু পানির সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য শিশুর খাবার পানি যেন বিশুদ্ধ হয় সে ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে।
বাড়ির চারপাশে যেন অবাঞ্ছিত ঝোপঝাড় গড়ে উঠতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে  হবে। কোথাও যেন পানি দীর্ঘদিন ধরে জমে না থাকে সেটাও নজর দিতে হবে। কারণ সেগুলো একটা সময় পরে গিয়ে মশক প্রজনন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে। বাসার পায়খানাটি যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। শিশুটি যেন সঠিকভাবে পায়খানা ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বাড়ির রান্নাঘর থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘরে যেন ধুলাবালি জমতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুর হাত ধোয়ার অভ্যাসটি একেবারে মনের ভেতর গেঁথে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যেন এরপর যে কোন কিছু খাবার পূর্বে হাত- ধোয়ার বিষয়টি সে নিজে নিজেই বুঝতে পারে।
শিশুর চারপাশটা সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পরিপাটি করে তোলার দায়িত্ব কিন্তু শিশুর নিজের নয়। এ দায়িত্ব ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সকলের। কারণ জাতির অনাগত ভবিষ্যতেরা যেন রোগাক্রান্ত হয়ে অকালেই ঝরে না পড়ে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সুন্দর পরিবেশ থেকে সুস্থ মানসিকতার শিশু বেড়ে উঠবে। এক সময় তারা বড় হয়ে নেতৃত্ব দেবে দেশ, জাতিকে পৌঁছে দেবে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এটা সকলের কামনা।
(শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম নিবন্ধ)

 

নারীদের ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা উচিত কিছু দিক

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আজকের সামাজিক অবস্থা নারীর ঘরের বাইরে কাজের জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক। নারী  আজ
 কেবল চার দেয়ালের কাব্য রচনা করছেন না, বরং অকপটে ঘরের বাইরে পুরুষের সঙ্গে সমতালে এগিয়ে চলেছেন যেকোনো পেশায়। নারীর ক্যারিয়ার নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে লিখেছেন ফারিয়া মৌ,
সমাজের সকল শ্রেণির নারী বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। বরং নিজের জায়গা থেকেই কিভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় সেই বিষয়টি নিয়েই সচেতন থাকলেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়া হবে। তবে একজন পুরুষের চেয়ে নারীর পেশা নির্বাচনে বেশি সতর্ক হওয়া আবশ্যক। ক্যারিয়ার নির্বাচনে কিছু বিষয় প্রাধান্য দিলে নারীর সাফল্য অর্জনের পথ প্রশস্ত হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণ: যেকোনো পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, কারিগরি শিক্ষাও হতে পারে। তাই সুযোগ পেলেই কোনো প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা  কর্মশালায় যোগদান করা উচিত। এতে নারী হিসেবে আপনার যোগ্যতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
পার্সোনাল ইন্টারেস্ট: একজন নারী যেকোনো পেশায় যোগদানের পূর্বে সে এই পেশায় কতটা মানানসই সেটা ভেবে দেখা উচিত। কারণ ছবি আঁকতে ভালোবাসে এমন নারী যদি আর্কিটেকচার নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয় তাহলে বিষয়টি তার জন্য যতটা সহজ হবে, খুব ভালো অঙ্কনের অভ্যাস নেই এমন কারও জন্য এই কাজ সহজ হবে না। একজন নারীকে অবশ্যই  ব্যক্তিগত ইন্টারেস্টের দিকে  নজর রাখতে হবে।
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: যেকোনো মানুষের নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ থাকে। আর এই বিষয়টি তার একান্ত নিজস্বতা। কিছু পেশায়  নির্ধারিত ড্রেস কোড রয়েছে। সেই ধরনের পোশাক পড়ে অভ্যস্ত নয়, এমন কোনো নারী সেই কাজটি করতে গেলে নিশ্চিতভাবে সংকোচ বোধ করবেন। ফলে তার কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই পেশা নির্বাচনে মূল্যবোধের মূল্যকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
ok-2
পেশাগত দায়িত্ব: যে পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান, সেই পেশায় আপনার কী ধরনের কাজ করতে হবে সেই কাজে আপনার কতটা দক্ষতা আছে কিংবা আপনি সেই পেশায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট পেশায় দিবা/রাত্রির বিষয় আছে কিনা এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিন। তারপর আপনি সেই পেশায় নিয়োজিত হবেন কী-না সেই সিদ্ধান্ত নিন।
পারিবারিক আবহ: ব্যক্তিগত পছন্দের ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে পারিবারিক মতামতকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। পারিবারিক আপত্তি বা নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেক্ষেত্রে নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই পারিবারিক সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই পেশার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলতে হবে। তাদেরকে আপনার মতামতের সপক্ষে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং: আমাদের দেশে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ধারণাটি এখনও তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে যে পেশায় আগ্রহী সেই পেশায় সফল কিংবা দীর্ঘদিন কাজ করছেন এমন কোনো নারীর সঙ্গে আলোচনা করে সেই পেশার নানা দিক সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জেনে নিতে পারেন।
আলোচ্য বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সব দিক বিবেচনা করে নারী তার পছন্দের পেশায় এগিয়ে যাবেন। আর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে নিজের অস্তিত্বের এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর রাখবেন এদেশের নারীরা। স্বীকৃতি পাবেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমনটাই প্রত্যাশা।
সূত্রঃ ইনকিলাব।