banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শ্রমের মূল্যায়ন, নারীর কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

11096847_907862292611132_366773060_o

বাংলাদেশে শিক্ষা, জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও নারী পরিবার বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে। অন্যদিকে নারী নির্যাতনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শ্রমের মূল্যায়ন, নারীর কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নারীর অধিকার অর্জনে যেতে হবে বহুদূর। নিতে হবে বিভিন্ন কৌশল।
গতকাল রোববার জেন্ডার ও উন্নয়নবিষয়ক ‘জেন্ডার, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিনের আলোচনায় আলোচকেরা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, নারীর অধিকার আদায়ে শুধু নারী চিৎকার করলেই হবে না, এ ক্ষেত্রে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ, ইউএসএআইডি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, কেয়ারসহ বিভিন্ন সংস্থা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আমি পুরুষ। তবে আমি পুরুষের পক্ষে নই। আমি নারীর পক্ষে।’ এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান তানিয়া হক। সমাপনী অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো রওনক জাহান বলেন, কয়েক দিন আগেই জাতীয় সংসদের একজন পুরুষ সাংসদ পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছেন। তার মানে নারীর অধিকার আদায়ে যেতে হবে আরও বহুদূর। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীর শ্রমের কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। নারীর কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নেই। আর এর ফলেই নারীর ওপর নির্যাতন কমছে না।

11086542_907862659277762_2052500801_o
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য থাকলে একটি স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়া সম্ভব নয়। একইভাবে তা কখনোই গণতান্ত্রিক সমাজ হিসেবে দাবি করতে পারবে না। গোলটেবিল বৈঠকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশ ভালো ভালো নীতি ও আইন প্রণয়নের জন্য প্রশংসিত। তবে সেসব নীতি ও আইনের বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয় না। তিনি ১৯৯৭ সালের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিকে পরবর্তী ২০০৪ সালের সরকার কীভাবে গোপনে পরিবর্তন করে ফেলে, সে কথা উল্লেখ করেন। ১৯৯৭ সালের নীতিতে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর সম-অধিকারের কথা উল্লেখ থাকলেও ২০১১ সালের নীতিতে সে বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন।
তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর উইমেনের আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর চাঁদনি জোসি, আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাসকিয়া ই ওয়াইয়েরিঙ্গা, ভারতের জেন্ডারবিশেষজ্ঞ অমৃতা চাচসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাজমা চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

 

নারীর ভূমি অধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থান নির্ধারিত হয় ভূমি মালিকানার ওপর ভিত্তি করে। নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা ভূমি ও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে ভূমিতে নারীর অধিকার নানাভাবে উপেক্ষিত একটি বিষয়। এ অবস্থায় নারীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে বিশেষ ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন তারা। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)’র উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এ কর্মশালার আয়োজন করে।
‘নারীর ভূমি অধিকার এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক তিনদিনের কর্মশালা গতকাল রবিবার শেষ হয়। ঢাকাস্থ এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ অডিটোরিয়াম-এ নারীর ভূমি অধিকার বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের জানার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে এবং তাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালা প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৩৩ নারী সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথম দিনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এবং নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক দিল মনোয়ারা মনু। প্রথম অধিবেশনে ‘সমকালীন বাস্তবতায় নারীর ভূমি অধিকার:জনসচেতনতার গুরুত্ব’ নিয়ে আলোচনা করেন এএলআরডি’র চেয়ারপার্সন এবং নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী নারী নেত্রী খুশি কবির। প্রচলিত উত্তরাধিকার আইন, ভূমি জরিপ, জমি-জমার কাগজপত্র ও পরিভাষা পরিচিতি নিয়ে আলোচনা করেন যথাক্রমে এএলআরডি’র কর্মকর্তা রফিক আহমেদ সিরাজী এবং মির্জা মো. আজিম হায়দার। ভূমি-সম্পদে নারীর মালিকানা, কৃষিতে নারীর অবদান, নারীর প্রতি বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করেন দিল মনোয়ারা মনু।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদ, এএলআরডি’র কর্মকর্তা সানজিদা খান রিপা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. সীমা জামান, প্রথম আলোর ডেপুটি চিফ রিপোর্টার শিশির মোড়ল।

 

বয়সের তুলনায় দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে আপনার শিশুর ওজন?

অর্ণবের বয়স নয় বছর। দিন দিন মোটা হয়ে যাচ্ছে। তার ওজন ৪৯ কেজি। ক্লাস ফোরে পড়ে। ক্লাসে সে সবার চেয়ে মোটা ও লম্বা, বাড়ন্ত শরীর। মাঝেমধ্যে এর জন্য বিব্রত হতে হয়। মা-বাবাও উদ্বিগ্ন। বুঝতে পারছেন না কী করবেন। এই যে বয়সের তুলনায় ওজন অনেক বেশি, এটাকে আমরা বলি ওবেসিটি বা স্থূলতা।

শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সন্তানের অস্বাভাবিক স্থূলতা কমাতে দায়িত্ব আছে আপনারও। এ নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
শিশুরা আজকাল খুব একটা খেলাধুলা ছোটাছুটির সুযোগ পায় না। বাড়িতে বসে ইন্টারনেট সার্ফ বা ভিডিও গেম খেলা বা টেলিভিশন দেখাটাই তাদের কাছে প্রধান আর্কষণ। এ রকম শারীরিক শ্রমহীন জীবনযাপনের জন্য বাচ্চার ওজন বাড়তে থাকে এবং ক্রমশ তারা ওবেসিটির দিকে এগোয়। টিভি দেখা বাচ্চাদের কাছে অ্যাডিকশনের মতো। খেলাধুলা ছেড়ে বাড়িতে বসে টিভি দেখতে বাচ্চারা বেশি পছন্দ করে। টিভি দেখতে দেখতে চিপস, চকলেট, পপকর্নের মতো মুখরোচক খাবার খাওয়া এখন রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

kid-computer kidsgames

একদিকে ক্যালরি গ্রহণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে খেলাধুলোর প্রতি অনীহা, সব মিলিয়ে ওজন দ্রুতহারে বাড়তে থাকে। বাচ্চাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় তারা কী খেতে ভালোবাসে, বেশিরভাগ বাচ্চাই উত্তর দেবে—চকলেট, কোল্ড ড্রিংক, আইসক্রিম, রোল, কেক, পেস্ট্রি। এক কথায় জাঙ্ক ফুড। এসব খাবারের মধ্যে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে, যা ওজন বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে যদি শিশুর ঘুমের পরিমাণ কম হয় তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওজন বাড়তে পারে ও শরীরে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিণতিতে শিশুটি স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারে। ছোটবেলায় শিশুর কম ঘুম স্থূলতা ও চর্বি বাড়ার একটি প্রধান কারণ। তিনি জানান, শিশুর ওজনের ওপর ঘুমের কী প্রভাব পড়ে সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। তবে এটা নিশ্চিত, ঘুমের পরিমাণ কম হলে ছোটবেলায় তা শিশুদের ওপর খারাপ প্রভাবই ফেলে।
এ ছাড়া, মাতৃদুগ্ধের চেয়ে কৌটার দুধে প্রোটিন অনেক বেশি থাকে। যেসব শিশুকে বোতলে করে কৌটার দুধ খাওয়ানো হয় তারা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, এসব শিশুর শরীরে মাত্রাতিরিক্ত মেদ জমতে থাকে এবং শৈশবেই তাদের স্থূলকায় হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। মায়ের দুধের গুরুত্বকেই ঊর্ধে তুলে ধরা হয় তাই। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখা এবং তাদের অস্বাভাবিক মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে শিশুদের ফর্মুলা দুধে প্রোটিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

করণীয়
বাচ্চাকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উত্সাহিত করুন। সুষম খাদ্যের ওপর নজর দিন। লক্ষ রাখবেন খাদ্যে যেন প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল পরিমাণমতো থাকে। কোনো কিছুরই আধিক্য যেন না থাকে, তা হলেই বাচ্চা ভালোভাবে বেড়ে উঠবে। টিভি দেখতে দেখতে বাচ্চার চিপস, সফট ড্রিংক খাওয়ার অভ্যাসকে প্রশ্রয় দেবেন না। আউটডোর গেমস খেলতে বাচ্চাকে উত্সাহ দিন। বাড়িতে জাঙ্কফুড খাওয়ার অভ্যাস কমান।

Healthy-Baby-Snacks

বাচ্চাকে বাড়ির খাবার সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে খেতে দিন, যাতে বাইরের খাবারের প্রতি আর্কষণ কমে যায় । একটু বড় হয়ে শিশুরা কিছু কাজ বাসায় করতে পারে; যেমন—নিজের বই-খাতা, ব্যাগ, কাপড় গুছিয়ে রাখা, ঘর পরিষ্কার করা, বাসায় অন্যান্য কাজে মা-বাবাকে সাহায্য করা। কিন্তু আজকের শিশুরা এসব কাজে কোনো আগ্রহ দেখায় না। এমনকি নিজের কাজেও অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। শিশুর ওজন বেড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে অনেক মা-বাবাই সচেতন নন।

সূত্র- ইত্তেফাক।

 

৯জন নারীকে এলজিইডির সম্মাননা প্রদান

পল্লী উন্নয়ন, পানি সম্পদ উন্নয়ন ও নগর উন্নয়ন তিনটি শাখায়  আত্মনির্ভরশীল সফল নয়জন নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। জানাচ্ছেন সেলিম হোসেন
আত্মনির্ভরশীল সফল নয়জন নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন পল্লী উন্নয়নে ক্রমানুসারে পেয়ারা বেগম, মাহফুজা পারভীন, ছামেনো। পানি সম্পদ উন্নয়ন ক্রমানুসারে কাবিরন নেসা, ময়না আক্তার, সুলতানা আক্তার এবং নগর উন্নয়নে বুলিনা খাতুন, সাহিমা বেগম, শামিমা নাসরিন।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক। সভাপতিত্ব করেন এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এলজিইডি জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের উপ-প্রকল্প পরিচালক সৈয়দা আসমা খাতুন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে নারীর যে সকল মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সরকারের একা কাজ করলে হবে না। একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে।
আবদুল মালেক বলেন, জেন্ডার বৈষম্য দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। সুতরাং পুরুষের পাশাপাশি নারীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।  তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের তিন আমলে নারীদের অধিকার সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে।  ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের চেয়ে নারীর অধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শ্যামা প্রসাদ অধিকারী বলেন, জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করার পর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারী উন্নয়নে কাজ শুরু করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী সমাজের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে এলজিইডি দুস্থ নারীদের উন্নয়নে কাজ করছে। বর্তমানে এলজিইডি ৩ লাখ নারীর আত্মকর্মসংস্থান করেছে।
সৈয়দা আসমা খাতুন বলেন, এবছর নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন, মানবতার উন্নয়ন। সে লক্ষ্যে এলজিইডির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী শিশু সন্তান নিয়ে যাতে ভালোভাবে কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা করছে।

 

ঢাকায় শুরু হয়েছে ২য় আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৫

safe_image.php

নারীর সংগ্রাম, সম্ভাবনা ও বেদনার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রগুলো। এগুলো বানিয়েছেনও নারীরা। আর এসব চলচ্চিত্র নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবে থাকছে বাংলাদেশের পাঁচ নারী নির্মাতার তৈরি ছবি।

inter02

গতকাল শনিবার বিকেলে এই উৎসবের উদ্বোধনী দিনে দেখানো হয় সামিয়া জামান পরিচালিত আকাশ কত দূরে ছবিটি। সামিয়া জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো উৎসবের প্রথম দিন ছবিটি দেখানো হয়েছে, সেটা আমার জন্য আনন্দের ব্যাপার। আরও একবার দর্শকেরা ছবিটি দেেখছেন, এটা ভেবে ভালো লাগছে।’

10710913_10153389094179523_2766351891100278980_n
উৎসবে দেখানো হবে মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত ফারজানা ববির প্রামাণ্যচিত্র বিষকাঁটা। ৪৩ বছরের দীর্ঘ নীরবতার পর এই প্রামাণ্যচিত্রে শোনা যাবে মুক্তিযুদ্ধের তিন বীরাঙ্গনার কণ্ঠস্বর। প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে নির্মাতা ফারজানা ববি জানান, অন্য অনেকগুলো দেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে ছবিটি দেখানো হবে, এটা একটা বড় ব্যাপার। এতে দেশগুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ সৃষ্টি হবে, সেটাই ইতিবাচক।
প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়েছেন নবীন নির্মাতা ইসমত জেরিন। তাঁর বানানো ছবি মনোফুল প্রথমবারের মতো একটি উৎসবে দেখানো হবে, এ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
ফাইট অ্যাসিড ভায়োলেন্স নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন শাহীদা আখতার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বেশ কয়েকটি স্থানে দেখানো হলেও বাংলাদেশে এবারই প্রথম দেখানো হচ্ছে।
উৎসবে দেখানো সব চলচ্চিত্রে নারীই মূল বিষয় হলেও একমাত্র ইয়াসমিন কবিরের শেষকৃত্য ছবিটি ভিন্ন। জাহাজভাঙা–শিল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রটি। উৎসবের ছবিগুলো দেখা যাবে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন ও মূল মিলনায়তনে ১৭ মার্চ পর্যন্ত।

সূত্র- প্রথম আলো।

 

২৯জন অগ্রগামী নারীকে সম্মাননা প্রদান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৫ এর প্রতিপাদ্য হলো “নারীর ক্ষমতায়ন, মানবতার উন্নয়ন: তৈরি করুন চিত্ররূপ” । আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইউএনডিপি ও ইউএসএআইডি এর কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে গতকাল ০৯ মার্চ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৯ জন অগ্রগামী নারীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের জেন্ডার সংক্রান্ত রূপরেখা উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া নারীদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, ছবি প্রদর্শনী এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সাহসী নারীদের গল্প তুলে ধরা হয়। জেন্ডার  নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের লোকাল ডেভলপমেন্ট এক্সপার্ট সুপর্ণা রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলাম এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন ট্যামেসিস বক্তব্য প্রদান করেন।
এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যমকর্মীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র- বাসস।

 

নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

জাতীয় জীবনে নারীর সমান অধিকারের দাবিতে সদস্য দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এবং নারী এনজিও কর্মীদের অংশগ্রহণে স্থানীয় সময় রবিবার নিউইয়র্কে এক শোভাযাত্রার আয়োজন করে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের পতাকা হাতে বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
বিকাল সাড়ে তিনটায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ড্যাগ হ্যামারশোল্ড প্লাজা থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। প্রায় দুই মাইল পথ পেরিয়ে নিউইয়র্কের ব্যস্ততম টাইমস স্কয়ারে গিয়ে তা শেষ হয়। প্রায় ২০ হাজার নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এ শোভাযাত্রার সামনের দিকেই ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রগতির তথ্য সংক্ষেপে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এসময় বান কি মুন বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে নারীর উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন, তার সহধর্মিনী ইউএন উইমেনের সদস্য সেলিনা মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমেদ, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নাজমা আক্তার, উদ্বাস্তু ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান রানা, সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান জেসমীন প্রেমা, মানবাধিকার আইনজীবী অশোক কর্মকার, সমাজকর্মী সবিতা দাসসহ শতাধিক বাংলাদেশি এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
লিঙ্গ সমতা এবং নারী অধিকারের প্রশ্নে ১৯৯৫ সাল থেকেই জাতিসংঘের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এবারের শোভাযাত্রা থেকেও ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বস্তরে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়।
সূত্রঃ বাসস।

 

সফল নারী উদ্যোক্তা বেবি হাসান

ঘটনাটা ৩১ বছর আগের। এক তরুণী জীবিকার তাগিদে কাজ নেন পোশাক কারখানায়। মাননিয়ন্ত্রণকর্মী িহসেবে ৮০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু। কাজে যোগ দিয়ে কিছু সময় যেতেই নিজের ভেতরই যেন পরিবর্তনের ডাক পেলেন—এভাবে হবে না। এগোতে হলে শিখতে হবে মেশিনের কাজ। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ধরলেন মেশিন। কাজের দক্ষতায় পেতে থাকেন পদোন্নতি। এবার সচল হলো স্বপ্নও। পোক্ত হয়ে একসময় কাজ ছেড়ে নিজেই গড়লেন প্রতিষ্ঠান। শূন্য হাতে শুরু করে তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর নাম বেবি হাসান। বিএস অ্যাপারেল নামের একটি বায়িং হাউসের কর্ণধার তিনি।
নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে সফল উদ্যোক্তাদের একজন হয়েছেন বেবি হাসান। তাঁর অধীনেই কাজ করছেন প্রায় অর্ধশত কর্মী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানির কাজ করে তাঁর প্রতিষ্ঠান। বছরে লেনদেন প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
সফল ব্যবসায়ী হবেন, এমন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মজীবন শুরু করেননি বেবি। অনেকের মতো তাঁরও শুরুটা জীবিকার তাগিদেই। এসএসসি পাস করার পর পারিবারিক সিদ্ধান্তে ১৯৮১ সালে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। বিয়ের পরবর্তী বছর জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। স্বামীর আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে নিজেই চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে পরিবারের কেউ উৎসাহ না দেখালেও পরে অবশ্য মেনে নিয়েছেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পোশাক কারখানায় কাজ করেন বেবি। একসময় উৎপাদন পরিচালকের দায়িত্বও পান।
সে সময়গুলোর কথা উঠতেই বেবি হাসানের চেহারায় দৃঢ়তা। বললেন, ‘দিনে ১৪ ঘণ্টা করে কাজ করতাম। সকাল আটটায় কাজ শুরু হতো, ফিরতাম রাত ১০টার দিকে। কোনো দিন কাজে অবহেলা করিনি। শুরুতে অনেক দূর যেতে হবে এমন লক্ষ্য ছিল না, তবে যখন কাজটাকে ভালোবেসে ফেললাম, তখন স্থির করলাম একটা পর্যায়ে যেতে হবে।’
নব্বইয়ে দশকের মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠান বদলে একটি বায়িং হাউসে যোগ দেন বেবি। পাশাপাশি টুকটাক এ–সংক্রান্ত ব্যবসাও শুরু করেন। ২০০০ সালে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের একটি সংগঠনের সদস্য হন তিনি। হাতে তেমন নগদ টাকা ছিল না, তাই দ্বারস্থ হন ব্যাংকের। দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে হালিশহর কে ব্লকে ‘বিতনু’ নামের একটি বুটিকের শোরুম খোলেন। ওই বছরই চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইম্যান এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন (উই)। ওই সংগঠনের সদস্য হন বেবি। ২০০০ সালের শেষের দিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জন অংশ নেন কলকাতার একটি কুটিরশিল্প মেলায়। সেখানে গিয়েই চোখ খুলে যায় তাঁর। তিনি বলেন, ‘ওই মেলায় গিয়েই ব্যবসা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি। কী করে জানি সেদিনই ব্যবসার পোকা ঢুকে যায় মাথায়। মনস্থির করি, আমাকে ব্যবসায় সফল হতে হবে।’
২০০২ সালে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি বায়িং হাউস দাঁড় করানো শুরু করেন। এরপর ২০০৯ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন বিএস অ্যাপারেল নামের পৃথক বায়িং হাউস। বছর বছর এই প্রতিষ্ঠানের কলেবর বাড়ছে। মা বেবি হাসানের সঙ্গে ছেলে সালাহউদ্দিন চৌধুরীও সম্প্রতি ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন।
প্রায় শূন্য থেকে আজকের অবস্থানে আসার কৃতিত্বের ভাগ বেবি হাসান দিতে চান আরও দুজন নারীকে। একজন তাঁর মা ফরিদা খাতুন, অন্যজন ব্যবসায়ী নেতা মনোয়ারা হাকিম আলী। ১৯৯৮ সালে অসুস্থতায় ভুগে বেবি হাসানের মা মারা যান। মেয়ের চূড়ান্ত সাফল্য মা দেখে যেতে পারেননি, এই কষ্টই এখন তাড়িয়ে বেড়ায় তাঁকে। বেবি হাসানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে।
চাকরির পাশাপাশি সংসারের দেখভাল করতে হয়েছে। ফলে অবসর বলে কিছু ছিল না। কিন্তু তাতে দুঃখ নেই বেবির। তিনি বলেন, চাকরি বা ব্যবসা মেয়েদের জন্য খুব কঠিন, এমনটি কখনো মনে হয়নি। চেষ্টা থাকলে যেকোনো নারীই ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন।’ এসব কথা যখন বলছিলেন, তখন বেবির মুখে সাফল্যর তৃপ্তির হাসি। বললেন, ‘পরিচিত কোনো মেয়ে যখন চাকরি করার কথা বলেন, আমি তাঁদের উৎসাহ দিই ব্যবসা করো। কারণ, আমাদের একটাই লক্ষ্য, চাকরি করব না, চাকরি দেব।’

সূত্র- প্রথম আলো।

 

আজ বিশ্ব নারী দিবস

অপরাজিতা ডেস্কঃ  ‘বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’
আমাদের জাতীয় কবির রচনায় নারীর এ বীরত্বগাথায় কোনো বাহুল্য নেই। নারীর ভূমিকা সমাজ-সভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাসে সমান্তরাল। আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অপরাজিতাবিডি ডট কম এর পক্ষ থেকে থাকছে সকল শ্রেনীর নারীদের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা। নারী দিবসের ইতিহাসের দিকে একটু তাকালে আমরা দেখতে পাই,

১৯১০ সালের এই দিনে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী কারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে নারী দিবসের পটভূমি রচিত হয় এরও অর্ধশতাধিক বছর আগে। সেই দিনটি ছিল ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। সে দিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি সুই কারখানার নারী শ্রমিকেরা দৈনিক শ্রম ঘণ্টা ১২ থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি ও কর্মেেত্র সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হন।
আন্দোলন করার অভিযোগে তাদের অনেককে আটক করা হয়। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেক নারীশ্রমিক। তিন বছর পর ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারীশ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার। এর পর থেকেই সারা বিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে আসছে। জাতিসঙ্ঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন শুরু করে।
এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসঙ্ঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর পর থেকে নানা আয়োজনে নারীর অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে পালিত হয় দিনটি।
বাংলাদেশেও প্রতিবছর বেশ আয়োজনের সাথে পালন করা হয় নারী দিবস। এ বছরে নারী দিবসে জাতিসংঘের স্লোগান ‘নারীর ক্ষমতায়ন, মানবতার উন্নয়ন’। এই প্রতিপাদ্য বিষয়ই ইঙ্গিত দেয় যে ক্ষমতায়নের বিচারে পুরুষের তুলনায় নারী আজও পিছিয়ে আছে এবং মানবতার অগ্রযাত্রার স্বার্থেই এ বৈষম্যের বিলুপ্তি কাম্য।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই সময়ে এসে আমরা দেখতে পাই,নারীর ক্ষমতায়নের নানান রকমের বৈষম্য এবং নির্যাতনের নিত্য নতুন রূপ পালাক্রমে বাড়ছে! এর একটা অন্যতম কারণ,নারী কে সমঅধিকারের নামে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। নারীর নিরাপত্তায় আইনি সুরক্ষা মজবুত হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নানা রকমের সহিংসতা দমনে রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতা ঘোচেনি, বরং ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রকট হয়েছে। পথে-ঘাটে ও কর্মক্ষেত্রে তো বটেই; ঘরের ভেতরেও নারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা দূর হচ্ছে না।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০১৪ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী,দেশে গত এক বছরে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে চার হাজার ৬৫৪ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯৩৯টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৯৯ জনকে। অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশনের দাবী,ধর্ষন সংখ্যা ছিলো ১৫৫টি।
আমরা নারীর ন্যায্য অধিকার চাই,সঠিক ক্ষমতায়ন চাই। ক্ষমতায়ন হতে হবে সর্বত্র এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষাই হতে পারে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কারণ শিক্ষায় ভর করে একজন নারী নিজের পায়ে দাঁড়ায়। পারিবারিক, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিক কুসংস্কারকে অস্বীকার করারও শক্তি জোগায় শিক্ষা। নারী-পুরুষের মিলিত প্রয়াসে আসবে সর্বজনীন প্রগতি- সে প্রতীক্ষাই করছি।

 

অবহেলায় মাতৃত্ব,সন্তান হলো বোঝা=তথাকথিত আধুনিক সমাজ!

ফাতেমা মাহফুজঃ পত্রিকার ছোট একটা কলামে চোখ পড়লো। লেখা- “বিকল্প শিশুখাদ্য আইন- ফাঁকফোকরে কারণে প্রয়োগ হয় না। এদিকে ২০১৩ সালে শিশু খাদ্য আইন মতে- মাতৃদুগ্ধের বিকল্প শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিক্রির জন্য কোনো ধরণের সেমিনার সিম্পোজিয়াম করা যেমন নিষিদ্ধ তেমনি এ পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে শিশুদের নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা যাবে না”। যদিও যত্রতত্র এই আইন আমান্য হচ্ছে এবং শাস্তি প্রয়োগ হচ্ছে না।যেমন মার্কস ( মাতৃদুগ্ধের বিকল্প দুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানী) শিশুদের নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে নিজের পণ্যের প্রচার করছে। এদিকে ডাক্তারসহ সচেতন মা-বাবা জানে শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। বোতলজাত দুধ শিশুর জন্য যেনো নিরব ঘাতক (স্লো পয়জন)। তাই শিশু জন্মের পর মা একেবারে অসুস্থ থাকলে, অন্য কোনো মহিলাকে দিয়ে হলেও সেই প্রয়োজনটা মেটানো পিতার কর্তব্য। এদিকে বিজ্ঞ চিকিৎসকেরা শিশুকে বোতলজাত দুধ না দেয়ার কথা বললেও- সমাজে একটা কথা প্রচলিত যে- প্রথম ৪০ দিনের মধ্যে শিশুর মুখে বোতলের দুধ না দিলে সে আর বাইরের দুধ খেতে চাইবে না, কান্নাকাটি করবে, তাকে রেখে কাজে যাওয়া কিংবা কোনো প্রোগ্রামে যাওয়া যাবে না।
এসব কথার মধ্যে প্রথম যে ভুলটা হচ্ছে তাহলো- ৪০ দিনের মধ্যে শিশুর মুখে বোতলের দুধ না দিলে নয় বরং মায়ের দুধ ছয় মাস ঠিক মতো না খাওয়ালে শিশু বেশি কান্নাকাটি করে ও অধিক রোগে ভুগে। তাছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানো- মা এবং শিশু উভয়ের জন্য কতটা উপকারী এটা হয়ত ছোট একটি লেখায় শেষ হবে না, তবে সংক্ষেপে বলতে- এতে শিশুরা যেমন ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, অ্যালার্জি, নিয়োমনিয়া-ইত্যাদি রোগ থেকে মুক্ত থাকে, তেমনি কান্নাকাটিও কম করে। অপরদিকে স্তন পান করানোর মাধ্যমে মা’র স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, অস্টিওপোরোসিস সহ বিভিন্ন মেয়েলী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাছাড়া বুকের দুধ পান- গর্ভকালীন সময়কার মা’র বাড়তি ভরকে কমাতে এবং প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। কারণ- প্রায় দুই বছর শিশুকে দুধ পান করানোর ব্যস্ততায় মা আরেকটা সন্তান নেয়ার চিন্তায় থাকেন না।সুতরাং মাতৃদুগ্ধের বিকল্পের প্রশ্নই উঠে না। তাছাড়া জানা দরকার- শিশু জন্মের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ ছাড়া আর কিছু তো খাওয়ানো দরকারই নেই। আর ছয় মাস পর মায়ের দুধের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাদ্যগুলো শিশুর জন্য সিদ্ধ করে খাওয়ালেই হবে- এতে শিশুর শারিরিক ও মানসিক বিকাশ সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক হবে। (তথ্যসূত্রঃ বইটির নাম- Parent-child relations, written by Hisham Al Talib, Abdul Hamid Abu Sulaiman and Omar Altalib)

এবার আসি বাইরে যাওয়া তথা চাকরিতে যাওয়া প্রসঙ্গে- প্রথমত, আমরা জানি বিভিন্ন অফিসে মাতৃত্বকালীন ছুটি রয়েছে ছয় মাস।যদিও আমার কাছে ৬ মাসের ছুটিটা যেনো মা ও শিশু- উভয়ের সাথে বলতে গেলে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের সাথে পরিহাস তুল্য। ছয় মাসের মধ্যে ছোট্ট শিশুটির মা’র প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। তাছাড়া শিশুর দুধ ছাড়তে সর্বোচ্চ দুই বছর লেগে যায়। সুতরাং, এবার আমি যদি বলি- মাতৃত্বকালীন ছুটি দুই বছর করা হোক- তবে স্বাভাবিকভাবেই চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এটাই বলবে- “দুই বছরের (!!!) জন্য একটা পদ খালি থাকবে? যেখানে বেকার সমস্যা বিদ্যমান”? তাই সুস্থ আগামী প্রজন্মের চিন্তায় ও মা’ হতে যাওয়া নারীরা যাতে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকে- তাই আমি মাতৃত্বকালীন ছুটির বিপক্ষে।বরং গর্ভধারণের শুরুতেই মা’র উচিত অফিস প্রধানকে নিজের অপারগতার কথা আগে থেকে জানানো- যাতে সঠিক সময়ে সেই পদের জন্য ভিন্ন কাউকে নেয়ার সার্কুলার দেয়া যায়। আর মা’ও যাতে চাকরি রক্ষার টেনশান ও প্রতিদিনকার বাড়তি পরিশ্রম থেকে মুক্ত হয়ে নিজের দিকে খেয়াল রাখতে পারে। পরবর্তীতে মা’র ইচ্ছা হলে চার বা পাঁচ বছর পর না হয় উপযুক্ত চাকরিতে ঢুকতে পারে। চার-পাঁচ বছর পর বললাম, কারণ একটা শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে প্রথম চার থেকে পাঁচ বছরেই আর এই সময়ে তার উপযুক্ত যত্নের প্রয়োজন। এদিকে মা’র এটা খেয়াল রাখা উচিত- চাকরি ছেড়ে দিলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে নিজের পরিস্থিতি বুঝে ভালো আরেকটাও পাওয়া যেতে পারে তবে, গর্ভে আসা শিশুটির সঠিক যত্ন না নিলে সেই সুযোগ আর কখনো ফিরে আসবে না। আর অবশ্যই আমরা একটা মজবুত জাতিই কামনা করি।

children-mother

এদিকে কর্মজীবী মহিলাদের যখন হঠাৎ করে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়- তখন লাইফ স্ট্যাইলে একটা পরিবর্তন আসে। এই মুহূর্তে স্বামীর উচিত স্ত্রীকে মানসিক সাপোর্ট দেয়া। এদিকে বিয়ের পরেও আর্থিক প্রয়োজনে যদি নারীকে বাধ্য হয়েই চাকরি করতে হয় তখন সন্তান নেয়ার এবং পরবর্তী কয়েক বছরগুলো যেসময় একটা শিশুকে সার্বক্ষণীক তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে মা’র প্রয়োজন হয়-সে সময়টাতে স্বামী যাতে স্ত্রীকে চাকরি করার জন্য চাপ না দেয়- সেই বোধটা স্বামীর মাথায় রাখা উচিত।আরেকটা বিষয় যেটা না বললেই নয়- আজকাল বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ খুলছে, অফিসে কর্মজীবী নারীদের শিশু দেখভালের জন্য। তবে এটা আমাদের নারীজাতির বুঝা উচিত- মা’র প্রয়োজন কখনো কাজের মেয়েকে দিয়ে হবে না। কারণ শিশুটি আপনার, কাজের মেয়ের নয়।

এবার কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে সন্তানের জন্য যখন একটি মা’কে বিভিন্ন কিছু বিসর্জন দিতে হয়- হোক সেটা চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়া, কিংবা কোনো প্রোগ্রামে উপস্থিত না হতে পারা কিংবা যেমন এক পরিচিতের কাছে শুনেছি- বিদেশে পিএইচডি’র সব হয়ে গেছে অথচ দুই মাসের শিশুকে নিয়ে উনার পক্ষে যাওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে-ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের বিসর্জন একটা মা’কে দিতে হয়। আর এই বিসর্জনের ফলে যখন স্বামীর দিক থেকে সাপোর্ট না আসে কিংবা সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হতে হয় তখন নারী রেগে গিয়ে বলে- “সন্তান নিলে ইত্যাকার কষ্ট সহ্য করতে হয়, অথচ পুরুষকে সেটা করতে হয় না”। কিন্তু এসব কথার অর্থ অনেক সময় এমনটা হয়ে যায় যেনো-“ছেলেরা কেনো গর্ভ ধারণ করে না?” আর তখন যেনো প্রকৃতির ওপর এক হাত নেয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়। আর এসব প্রশ্নগুলো একটা সময় সেই পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যখন আমাদের মুখ থেকে বের হয় –“আমি কেনো মেয়ে হলাম”? যেসব উক্তি বের হওয়া ঠিক না।
মূলত স্বামীর দিক থেকে অবহেলা, প্রতিষ্ঠিত নারী সংগঠন থেকে শুরু করে সমাজের সব জায়গায় মাতৃত্বকে ছোট করে দেখা এবং নিজেকে নিয়ে আমাদের অবহেলার কারণেই এসব উক্তি কিংবা রাগের বহিঃপ্রকাশ- হয়ে যায়। এটা সত্য, বর্তমান তথাকথিত আধুনিক সমাজে মাতৃত্বকে ছোট করে দেখা হচ্ছে, সন্তানকে বোঝা হিসাবে দেখা হচ্ছে, পরিবারের দিক থেকে সাপোর্ট নেই, স্বামীর দিক থেকে শিশুর দেখভালে সহায়তা নেই আর নারীবাদীরাও মাতৃত্ব নিয়ে কিছু বলেন না। দিন দিন আমাদেরকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলা হচ্ছে। আমরা আগামী প্রজন্ম নিয়ে ভাবছি না। পড়াশুনা শেষ করে একটা চাকরি ধরবো যেন এটাই হয়ে পড়ছে জীবনের লক্ষ্য। বার বার আমাদেরকে বলা হচ্ছে আর্থিক স্বাবলম্বি হওয়ার কথা। নিজের পায়ে দাঁড়ানো কিংবা কারো প্রতি নির্ভরশীল না হওয়া-সেটা তো বুঝলাম। কিন্তু পুরুষদের আর্থিক দায়িত্বের কথা বলবে কে? শুধু একপক্ষীয় ভাবে নারীদের স্বাবলম্বি হওয়ার কথার ছলে পুরুষদের দায়িত্বকে শিথিল করার পাঁয়তারা চলছে কি? আজকাল এমনভাবে আর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হচ্ছে যেনো নিজের আর্থিক দায়িত্ব নেয়ার বোঝা আমাদের নিজেদেরই। উল্লেখ্য, আজকাল আর্থিক সঙ্কটের কারণে নারীরা চাকরি করছে না বরং বিয়ের পরেও অধিকাংশ নারী চাকরি করছে কারণ- সেটা না করলে সমাজে তাদেরকে হেয় করে দেখা হচ্ছে। এদিকে তাদেরকে বুঝানো হচ্ছে- “শিক্ষিত হয়ে তুমি চাকরি করছো না কেনো? সমাজের প্রতি তোমার কি দায়িত্ব নেই? তোমার পড়াকে কাজে লাগাও”। হ্যা, আমি তাদের কথার বিরোধীতা করছি না। সুযোগ হলে কাজে লাগাও, কিন্তু নিজের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে নয় বরং নিজের পড়াশুনার সাথে মিলে যায় এমন কিছু কাজে শখের বশে কিংবা অবসর সময়কে কাজে লাগানোর জন্য। লক্ষ্যণীয়, আজকাল একটা শিক্ষিত মা’কে তার সন্তান পড়ানোর দায়িত্বের কথা কেউ বলে না। তাই দেখা যায়- শিক্ষিত মা’র সন্তানেরা বাইরের প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ে, অথচ প্রশ্ন হলো – তাদের মা কি পারতো না নিজের সন্তানদের শিক্ষক হতে? আসলে নারীরা এমনটি করছে না, কারণ এমনটি করলে এই সমাজে মূল্য পাওয়া যায় না। এখানে পরিবার তুচ্ছ, বাইরের জগত মুখ্য।
আবার অনেক নারীদের মধ্যে এমন ধারণাও আছে বা তাদেরকে এমন ধারণা দেয়া হচ্ছে- “অনার্স, মাস্টার্স করে শুধু শিশুদের পড়ালে, তোমার পড়ার দাম থাকলো কই”? আমি আবারও বলছি সুযোগ পেলে নিজের পরিবারকে সামলে একটা নারী যদি বাইরে সময় দিতে পারে তাহলে ভালো, তবে নিজের ছোট ছোট সন্তানকে পড়ানোর ক্ষেত্রে কখনো হীনমন্যতায় ভোগা উচিত নয় বরং গৌরবের সাথে প্রচার করার উচিত- আমি আমার সন্তানদের শিক্ষিকা। তাছাড়া আপনি যত বেশি শিক্ষিত হবেন, আপনার পড়ানোর স্টাইল অন্য মা’দের থেকে ব্যতিক্রম ও সুন্দর হবে। সুতরাং, মা’দের উচিত নিজের সন্তানকে সময় দেয়া, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। আর হ্যা, সন্তানের ওপর যে শুধু মা’র দায়িত্ব তা নয়, বরং মা-বাবা উভয়ের উচিত সুষ্ঠভাবে সন্তানকে বেড়ে তোলা। আর যেসব বাবারা সন্তানদের প্রতি কর্তব্য পালন করেন না, তারা মূলত দায়িত্বহীন পুরুষেরই পরিচয় দেন।
এবার চাকরিদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাকালে আমরা দেখি-ওখানে অবিবাহিত বা সন্তান ছাড়া নারীর মূল্য বেশি। আর তাই এসব কোম্পানীর চাকরিতে যুক্ত থেকে, সমাজে সবার সামনে শিক্ষিত হওয়ার মূল্য দিতে (তা নাহলে কেউ দাম দিবে না) গিয়ে অনেক মেয়েরা বছরের পর বছর এসব কোম্পানীতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে তাদের বয়স হয়ে যায়, দিন দিন মানসিক ও দৈহিক চাহিদা ফুরিয়ে যেতে থাকে, কোনো ছেলের বিয়ের প্রস্তাব আসা বন্ধ হয়ে যেতে থাকে, বিপথে পা দেয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে, পরবর্তীতে অধিক বয়সে বিয়ে হওয়ার পর সন্তান নিতেও শারিরিক কষ্ট সহ্য করতে হয় মা’কে। তাই আমি মনে করি- আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের কর্মঘন্টায় পরিবর্তন আনা উচিত। যারা আর্থিক প্রয়োজনে বা শখের বসে বা অবসর সময়কে কাজে লাগাতে চাকরি করতে চায়, তারা বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত, সন্তান থাকুক বা না থাকুক সেসব নারীর জন্য বিভিন্ন শিফটে কর্মসময় তিন বা চার ঘন্টা করা দরকার।এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে- তাহলে তো পুরুষেরা মাসে যত টাকা পাবে- আমরা তার চেয়ে কম পাবো। হ্যা, কম সময়, টাকা কম-তবে তাতে কি? পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব তো আমাদের ওপর নয়। নারীর মৌলিক চাহিদা পূর্ণ করার দায়িত্ব পুরুষের। তাছাড়া মাস শেষে একটা পুরুষ, হাত খরচের জন্য তার উপার্জনের ১০শতাংশও যদি স্ত্রীর হাতে দেয়- তাহলে আমার মনে হয় না- সেটা কোনো স্বামীর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু প্রশ্ন হলো কত শতাংশ পুরুষ স্ত্রীর হাত খরচের খেয়াল রাখে? এদিকে দিন দিন নারীর ওপর আর্থিক দিক দিয়ে বাড়তি চাপ দেয়া হচ্ছে, অথচ নারীকে তার স্বামীর উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকার কথা বলা হচ্ছে না।তবে হ্যা, কোনো নারী যদি একান্তই সন্তুষ্ট থাকতে না পারে, তাহলে সে না হয় কয়েক ঘন্টার জন্য বাইরে চাকরি করুক। তার উপার্জিত টাকা নিজের একান্ত প্রয়োজনে আর অপচয় না করে বেঁচে যাওয়া টাকাগুলো ভালো কাজে খরচ করুক। এটাই হলো আর্থিক বোঝা না থাকায় নারীদের সুবিধা। উপার্জনের মতো কষ্টকর চিন্তা (যেটা ছেলেদের মাথায় থাকে) সেটা না থাকায়, মেয়েরা শখের বসে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করার, কিংবা সমাজ নিয়ে চিন্তা করার একটা উন্মুক্ত পরিবেশ পায়। যে বিষয়গুলো নিয়ে মেয়েদের ভাবা উচিত। এদিকে, কর্মঘন্টা কম হলে মেয়েরাই লাভবান হবে- এতে তারা বিয়ের আগে মা-বাবা ও বিয়ের পরে নিজের পরিবারকে সময় দিতে পারবে। সুতরাং সব সময় নারীদের পারিবারিক দায়িত্বকে মূল্য দেয়া উচিত, পরিবারের কথা চিন্তা করে প্রয়োজন হলে চাকরি করা উচিত, তা নাহলে না। আর তাদের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত পরিবারের পুরুষদের, তাহলে হয়ত একটা পরিবার থেকে ভালো সন্তানের জন্ম হবে।

তাছাড়া, আজকাল নারীর মাতৃত্বকে পূর্ণ মর্যাদা না দেয়ার কারণেই নারীরা হতাশ হচ্ছে, সন্তান নিতে চাচ্ছে না। তাই তাদেরকে পরকালের শান্তির বার্তা পৌছানোর পাশাপাশি আমাদের উচিত পার্থিব স্বীকৃতি দেয়া।একটা বিষয় লক্ষ্য করে দেখুন- যখন আমরা মাতৃগর্ভ থেকে এই পৃথিবীতে আসি, সেই সময়ে আমরা কোথায় আছি- সেই জ্ঞানটাও থাকে না, কান্না ছাড়া কিছুই করতে পারি না, বলতে পারি না, চলতে পারি না- সেই সময় আমাদের মা আমাদের সব প্রয়োজন পূর্ন করে, কষ্ট সহ্য করে, রাতের পর রাত জেগে যেভাবে লালন-পালন করেছেন- সেটার প্রতিদান হয়ত সারা জীবন মা’কে কাঁধে নিয়ে ঘুরলেও শোধ হবে না। মা’র মর্যাদা হয়ত পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই মূল্যায়ন করা যাবে না, তাই আল্লাহও মা’কে দিয়েছেন পরকালীন এমন মর্যাদা যেটা উপলব্ধির বিষয়- তাদের জন্য যারা চিন্তা করে। মা’র পায়ের নিচে সন্তানের জন্নাত রেখেছেন- সেটার অর্থই হলো যাতে আমরা মা’র সাথে ভালো ব্যবহার করি। পৃথিবীতে হক আদায়ের ক্ষেত্রে বাবার চেয়ে মা’ কে তিন গুণ মর্যাদা দেয়া হয়েছে- কারণ মা শিশুকে গর্ভে ধারণ করে, বাবা নয়-তাই যারা বলেন- ‘ছেলেদের তো সেই কষ্ট সহ্য করতে হয় না’।দেখুন ছেলেদের সেই কষ্ট সহ্য করতে হয় না বলেই আল্লাহ কিভাবে সমতা করেছেন! কষ্ট আপনি সহ্য করছেন বলেই সেই কষ্টের জন্য আপনাকে আল্লাহ পুরুষের চেয়ে অধিক মূল্য দিয়েছেন। তাই কেউ কি কল্পনা করতে পারে- সেই আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদার মহত্ত্বের কথা? না, আজ আমরা সন্তানেরা এবং মা’রা সেই মর্যাদার মহিমা বুঝছে না। আজ অভিভাবক থেকে শুধু করে সন্তানরা যদি এই মর্যাদা বুঝতো- তাহলে শিশুর প্রতি অবহেলা না করে, তাকে বোতলজাত দুধ না খাইয়ে, সুষ্ঠভাবে লালন পালন করে বড় করতো। আর সন্তানেরাও অভিভাবকদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতো যেমনটি আল্লাহ তা’য়ালা কু’রআনে বলেছেন-
“আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমার নিকটই ফিরে আসতে হবে” (সূরা লুকমান, আয়াত-১৪)
সুতরাং, আগামীতে সন্তানরা যখন অভিভাবকদের কষ্টের স্বীকৃতি দিবে- তখন মা-বাবারাও সন্তানকে নিয়ে গর্ব করতে পারবে। আর বলবে-আমরা এমন সন্তানদের পৃথিবীতে রেখে যাচ্ছি যারা সত্যের প্রতিনিধিত্ব করবে, সুন্দর জাতি গড়বে। সুতরাং তেমন জাতি গঠনে বর্তমান মা-বাবা আর আগামীতে যারা বা-বাবা হবেন- তাদেরকে এখন থেকেই চিন্তা করা উচিত।
মাতৃদুদ্ধ পান করানো নিয়ে লেখাটা শুরু করে যৌক্তিক কারণেই নারীদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে হলো।তবে মাতৃদুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার প্রসার ঘটনার জন্য ব্র্যাক এনজিওকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। বিভিন্ন জেলায় তারা ক্যাম্পিং করে মহিলাদেরকে তারা এ বিষয়ে সজাগ করছে, তবে পুরো বাংলাদেশের দায়িত্ব কি তাদের ওপর? বরং তাদের কাছ থেকে এখন আমাদের শিখা উচিত। মাতৃত্বের আধ্যাত্মিক স্বীকৃতির প্রচারণা সহ এবার আমাদের জাগতিক স্বীকৃতি দানের কথা ভাবতে হবে। মাতৃদুগ্ধ থেকে শুধু করে শিশু লালন পালন, সুষ্ঠ মাতৃত্ব-পিতৃত্বের পাশাপাশি পরিবারের প্রত্যেক চরিত্র যাতে তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে, তাই তাদেরকে দায়িত্ব জ্ঞান দিতে হবে, লেখালেখি, সেমিনার, আলোচনা সভা, ক্যাম্পিং কিংবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। যাতে মানুষ পরিবারকে গুরুত্ব দিতে শিখে।তা নাহলে হয়ত ডে-কেয়ার’ হবে সন্তানের জায়গা আর পরবর্তীতে বৃদ্ধাশ্রম হবে বৃদ্ধ মা-বাবাদের ঠিকানা।

 

অনলাইন কেনাকাটায় সচেতন হোন

বন্ধু-বান্ধবের খোঁজ-খবর নেওয়া, নিজের খোঁজ দেওয়া, মনের মানুষের কাছে সেলফি পাঠানো, জন্মদিনের শুভেচ্ছা- সবই হচ্ছে এখন ফেসবুকে। তবে এখানেই যেন শেষ নয়। এখন কেনাকাটাও হচ্ছে ফেসবুকে। ফেসবুকও আমাদের অনলাইন কেনাকাটার অন্যতম অপশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এক্ষেত্রে প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছুটা সাবধানতা খুবই প্রয়োজন।

প্রথমেই আপনার ফেসবুক কেনাকাটা করার পেজগুলো সম্পর্কে খুব ভালো মতো ধারণা থাকতে হবে। আপনি যা কিনতে চান, যেসব পেজে তা বিক্রয় করা হয় সে ধরনের অনেকগুলো পেজ নিয়ে মোটামুটি একটি রিসার্চ করে ফেলুন। এতে আপনার পণ্যের মান, দাম এবং ধরণ সম্পর্কে ধারণা হবে। কোথায় কোন পোশাকের রেপ্লিকা বিক্রয় হয়, কোথায় আসলটি পাওয়া যায়, কোথায় কোন ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যাবে এসব ব্যাপারে আপনার ভাল ধারণা হয়ে যাবে যদি আপনি পেজগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন। এক্ষেত্রে একদিন ঘাটাঘাটি করেই ক্ষান্ত দিলে হবে না, নিয়মিত আপডেট থাকতে হবে।

রিভিউ

ভালো-মন্দ পেজ বোঝার আরেকটি ভালো উপায় হল পেজগুলোর রিভিউ দেখার। যারা এর আগে ওই পেজ থেকে কিনেছেন, তারা তাদের অভিজ্ঞতাটি লিখে রিভিউ দিয়ে থাকেন। রিভিউ দেখেও আপনি ধারণা নিতে পারবেন পেজটি বিশ্বাসযোগ্য কিনা।

দ্বিতীয়ত, পণ্যের মাপ, মান নিয়ে ফোন করে পরিপূর্ণ তথ্য জেনে নিন। তবে এর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি পণ্যটি সত্যিই কিনতে চান কিনা। কিছু কিছু জিনিস সামনা সামনি দেখেই কেনা ভালো। কারণ অনেক জিনিস অনলাইনে ছবি দেখে যেমন মনে হবে বাস্তবে তেমনটা নাও হতে পারে। যেমন- জুতা, ফাউন্ডেশন, অলঙ্কার ইত্যাদি। তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি ডিটেইলস জেনে নিতে হবে।

তৃতীয়ত, পেমেন্টের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতাটা অনেক বড় ব্যাপার। ক্যাশ অন ডেলিভারি সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা, কিন্তু দূরে বসে কেনাকাটা করলে অগ্রিম পেমেন্ট করতেই হয়। অধিকাংশ পেজে কেনাকাটা করার আগে ফুল পেমেন্ট বা পেজভেদে নির্দিষ্ট পারসেন্ট পর্যন্ত অগ্রিম পেমেন্ট করে অর্ডার কনফার্ম করতে হয়। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য “অর্ডার কনফার্ম হলো”, এই কথাটি মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে বা ফেসবুকের ইনবক্সে জানিয়ে দিতে বলবেন। তাহলে দুর্ভাগ্যবশত আপনি প্রতারনার শিকার হলেও ফোন বা ইনবক্সের মেসেজটি অন্তত প্রমাণ হিসেবে থাকবে। আপনার পার্সেলটি কীভাবে, কবে আসবে সেটি নিশ্চিত হয়ে নিন।

ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কোন কোন পেজের পণ্য ডেলিভারির পিকআপ পয়েন্ট থাকে। সেক্ষেত্রে আপনার সুবিধামত তারিখ, সময় ও জায়গাটি জানিয়ে দিন।

সূত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন।

 

শিশুর চারপাশঃ প্রয়োজন একটু সচেতনতা

স্কুলে পড়ার সময় সমাজবিজ্ঞানে পরিবেশ কাকে বলে পড়েছি। সে সংজ্ঞায় বলা ছিল পরিবেশ বলতে আমাদের বাড়িঘর, মানুষজন, আলো-বাতাস-পানি, রাস্তাঘাট, গাছপালা, পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ, মশা-মাছি সবকিছু বোঝায়। আমাদের সুস্বাস্থ্য এই পরিবেশের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ঠিক তেমনি একজন শিশুর সুরক্ষা কিন্তু একইভাবে নির্ভরশীল তা নবজাতক হোক আর বড় শিশুই হোক না কেন।
শাহনাজের কথাই ধরা যাক। তার তিন মেয়ে। বাসা-বাড়িতে কাজ করে। থাকে সরকারি কলোনির এক প্রান্তে এক ছোট্ট খুপরিতে। দশটি পরিবার একসাথে গাদাগাদি করে থাকে। নোংরা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে তার তিন শিশুকন্যা বড় হচ্ছে। একে তো অপুষ্টির শিকার তার ওপর নোংরা পুঁতিগন্ধময় পরিবেশের কারণে বাচ্চাদের রোগবালাই লেগেই থাকে। শাহনাজ অনেক চেষ্টা করে তার বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে কিন্তু এর জন্য যতটা না তার অভাব দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী চারপাশের পরিবেশ।
শাহজাদপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম পোতা-জিরার মকবুলের কথাই ধরা যাক। পোতাজিরা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে তার নিয়মিত যাওয়া-আসা করতে হয়। কারণ তার ৬ বছরের ছেলে। প্রায়ই ডায়রিয়া, পেটখারাপ, চুলকানির কারণে হাসপাতালে তার এই আসা-যাওয়া। গরুর দুধ বিক্রি করে সে ভালোই আয় করে। নিয়মিত দুধ খাওয়ায় সে বাচ্চাকে। তারপরও এই অবস্থা। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন যে, বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশুদ্ধ পানি তা যত দূর থেকেই হোক আনার ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চাকে নোংরা, ধুলাবালি থেকে কীভাবে দূরে রাখা যায় তার শিক্ষা দিতে হবে ইত্যাদি নানা বিষয় ডাক্তার পালন করতে বললেন। মকবুল পরের ৩ সপ্তাহ কঠোরভাবে ডাক্তারের অনুশাসন মেনে চললেন। মকবুল লক্ষ্য করল যে তার ছেলে আর অসুস্থ হচ্ছে না।
আশপাশের পরিবেশ যদি নোংরা হয় তাহলে কোনভাবেই স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যায় না। শিশুর ক্ষেত্রে এ কথাটি শতভাগ প্রযোজ্য কারণ একটি শিশু যখন স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয় তখন সে থাকে একটি সুস্থ-সবল-নিরোগ একটি শিশু। পৃথিবীতে আবির্ভাবের পরই শুরু হয়ে যায় তার সংগ্রামী পথচলা। কারণ নবজাতকের চারপাশে ওঁত পেতে থাকে জীবাণু নামক শকুনেরা। এসব জীবাণুরা সামান্যতম সুযোগটুকুও হেলায় হারায় না। সোজা আক্রান্ত করে মাত্র ভূমিষ্ঠ হওয়া আদম সন্তানকে।
শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশের কী প্রভাব তা অনুধাবন করতে হলে জানতে হবে শিশুর থাকার ঘরটি কেমন? পর্যাপ্ত আলো-বাতাস সে ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা আছে কিনা? কেমন পানি পান করে? শিশু যে শৌচাগার ব্যবহার করে তার কি অবস্থা? শৌচাগার ব্যবহারের পর দুই হাত সাবান দিয়ে ভালোমতো পরিষ্কার করে কিনা? বাড়ির ময়লা-আবর্জনা কোথায় ফেলা হয়? বাড়ির আশপাশে বদ্ধ ডোবা, জলাশয় আছে কিনা? এসব বাইরের বিষয় ছাড়াও আরও কিছু বিষয় জানতে হবে যেমন শিশুর পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়া কতদূর? তাদের চিন্তা-ভাবনা কোন পর্যায়ের? কুসংস্কার বিশ্বাস করেন কিনা? করলে কতটুকু করেন? স্বাস্থ্য  রক্ষার নিয়মগুলো মেনে চলেন কিনা? শিশুর প্রতি মা, পরিবার, সমাজ কতটুকু যত্নবান?
এসব বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে শিশুর আশপাশের পরিবেশ কেমন হবে। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। ঢাকা শহরের গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার একটি ক্লিনিকে একটি শিশুর জন্ম হয়। বাবা পদস্থ সরকারি চাকুরে। বাসা-বাড়ির অবস্থাও ভালো। কিন্তু জন্মের ৪ দিনের মাথায় শিশুটির জন্ডিস ধরা পড়ে। বাবা-মা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার পরামর্শ দেন প্রতিদিন শিশুকে রোদ পোহানোর। বাবা-মা ভেবে পান না এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরও কীভাবে বাবু সোনাটার জন্ডিস হলো। আসলে আমাদের চারপাশের পানি-বাতাস, খাবার, মশামাছি, কীটপতঙ্গ প্রভৃতি দ্বারা রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
শিশু যে ঘরে থাকে সে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসতে দিতে হবে। তাহলে ঘরটি স্যাঁতস্যাঁতে থাকবে না। ভালো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে যেন ঘরের ভিতরের গরম বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে। মুক্ত বাতাস স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। সূর্যের আলোতে রোগ-জীবাণু বাঁচতে পারে না। অল্প জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে থাকলে সকলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এ অবস্থায় কারো সংক্রামক রোগ হলে তো কথাই নেই। এক্ষেত্রে ঘরের শিশুটির রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
512_185c10b4e20b46cf7504c60eae760860
বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। কথাটি আবালবৃদ্ধবনিতা থেকে শুরু করে শিশু সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দূষিত পানি নানা রোগ ছড়ায়। একটু গরম পড়লেই পত্রিকায় দেখা যায় আইসিডিডিআরবি’র হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। যত্রতত্র পানি পান করার ফলে টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় প্রভৃতি রোগের জীবাণু পানির সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য শিশুর খাবার পানি যেন বিশুদ্ধ হয় সে ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে।
বাড়ির চারপাশে যেন অবাঞ্ছিত ঝোপঝাড় গড়ে উঠতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে  হবে। কোথাও যেন পানি দীর্ঘদিন ধরে জমে না থাকে সেটাও নজর দিতে হবে। কারণ সেগুলো একটা সময় পরে গিয়ে মশক প্রজনন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে। বাসার পায়খানাটি যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। শিশুটি যেন সঠিকভাবে পায়খানা ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বাড়ির রান্নাঘর থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘরে যেন ধুলাবালি জমতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুর হাত ধোয়ার অভ্যাসটি একেবারে মনের ভেতর গেঁথে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যেন এরপর যে কোন কিছু খাবার পূর্বে হাত- ধোয়ার বিষয়টি সে নিজে নিজেই বুঝতে পারে।
শিশুর চারপাশটা সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পরিপাটি করে তোলার দায়িত্ব কিন্তু শিশুর নিজের নয়। এ দায়িত্ব ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সকলের। কারণ জাতির অনাগত ভবিষ্যতেরা যেন রোগাক্রান্ত হয়ে অকালেই ঝরে না পড়ে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সুন্দর পরিবেশ থেকে সুস্থ মানসিকতার শিশু বেড়ে উঠবে। এক সময় তারা বড় হয়ে নেতৃত্ব দেবে দেশ, জাতিকে পৌঁছে দেবে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এটা সকলের কামনা।
(শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম নিবন্ধ)

 

নারীদের ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা উচিত কিছু দিক

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আজকের সামাজিক অবস্থা নারীর ঘরের বাইরে কাজের জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক। নারী  আজ
 কেবল চার দেয়ালের কাব্য রচনা করছেন না, বরং অকপটে ঘরের বাইরে পুরুষের সঙ্গে সমতালে এগিয়ে চলেছেন যেকোনো পেশায়। নারীর ক্যারিয়ার নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে লিখেছেন ফারিয়া মৌ,
সমাজের সকল শ্রেণির নারী বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। বরং নিজের জায়গা থেকেই কিভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় সেই বিষয়টি নিয়েই সচেতন থাকলেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়া হবে। তবে একজন পুরুষের চেয়ে নারীর পেশা নির্বাচনে বেশি সতর্ক হওয়া আবশ্যক। ক্যারিয়ার নির্বাচনে কিছু বিষয় প্রাধান্য দিলে নারীর সাফল্য অর্জনের পথ প্রশস্ত হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণ: যেকোনো পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, কারিগরি শিক্ষাও হতে পারে। তাই সুযোগ পেলেই কোনো প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা  কর্মশালায় যোগদান করা উচিত। এতে নারী হিসেবে আপনার যোগ্যতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
পার্সোনাল ইন্টারেস্ট: একজন নারী যেকোনো পেশায় যোগদানের পূর্বে সে এই পেশায় কতটা মানানসই সেটা ভেবে দেখা উচিত। কারণ ছবি আঁকতে ভালোবাসে এমন নারী যদি আর্কিটেকচার নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয় তাহলে বিষয়টি তার জন্য যতটা সহজ হবে, খুব ভালো অঙ্কনের অভ্যাস নেই এমন কারও জন্য এই কাজ সহজ হবে না। একজন নারীকে অবশ্যই  ব্যক্তিগত ইন্টারেস্টের দিকে  নজর রাখতে হবে।
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: যেকোনো মানুষের নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ থাকে। আর এই বিষয়টি তার একান্ত নিজস্বতা। কিছু পেশায়  নির্ধারিত ড্রেস কোড রয়েছে। সেই ধরনের পোশাক পড়ে অভ্যস্ত নয়, এমন কোনো নারী সেই কাজটি করতে গেলে নিশ্চিতভাবে সংকোচ বোধ করবেন। ফলে তার কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই পেশা নির্বাচনে মূল্যবোধের মূল্যকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
ok-2
পেশাগত দায়িত্ব: যে পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান, সেই পেশায় আপনার কী ধরনের কাজ করতে হবে সেই কাজে আপনার কতটা দক্ষতা আছে কিংবা আপনি সেই পেশায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট পেশায় দিবা/রাত্রির বিষয় আছে কিনা এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিন। তারপর আপনি সেই পেশায় নিয়োজিত হবেন কী-না সেই সিদ্ধান্ত নিন।
পারিবারিক আবহ: ব্যক্তিগত পছন্দের ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে পারিবারিক মতামতকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। পারিবারিক আপত্তি বা নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেক্ষেত্রে নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই পারিবারিক সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই পেশার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলতে হবে। তাদেরকে আপনার মতামতের সপক্ষে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং: আমাদের দেশে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ধারণাটি এখনও তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে যে পেশায় আগ্রহী সেই পেশায় সফল কিংবা দীর্ঘদিন কাজ করছেন এমন কোনো নারীর সঙ্গে আলোচনা করে সেই পেশার নানা দিক সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জেনে নিতে পারেন।
আলোচ্য বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সব দিক বিবেচনা করে নারী তার পছন্দের পেশায় এগিয়ে যাবেন। আর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে নিজের অস্তিত্বের এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর রাখবেন এদেশের নারীরা। স্বীকৃতি পাবেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমনটাই প্রত্যাশা।
সূত্রঃ ইনকিলাব।

 

শুরু হলো ফুডমার্টের অনলাইনে ক্যাশ অন ডেলিভারি

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ফুড মার্ট’ সম্প্রতি অনলাইন লেনদেন পদ্ধতি চালু করেছে। ফুড মার্ট থেকে অনলাইনে খাবারের ফরমাশ দিয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারির পাশাপাশি গ্রাহকেরা অনলাইনে ভিসা ও মাস্টার কার্ড, ডিবিবিএল নেক্সাস কার্ড, বিকাশ, কিউ-ক্যাশ, আমেরিকান এক্সপ্রেস, জেসিবি, ডিসকভার এবং ম্যাস্ট্রো ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করতে পারবেন। খাবার বাসায় পৌঁছে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
ফুড মার্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ফুড মার্টের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ফুড মার্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাজধানীর বনানী, গুলশান-১ ও ২, বারিধারা, মহাখালী, বসুন্ধরা, নিকেতন ও বনশ্রী এলাকার ২০০ রেস্টুরেন্ট। ধানমন্ডি, খিলগাঁও ও মিরপুরেও এখন থেকে ফুড মার্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে খাবারের ফরমাশ দেওয়া যাবে এবং অনলাইনে বিল পরিশোধ করা যাবে।
ফুড মার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, গ্রাহকদের অনলাইনে খাবারের ফরমাশ দিয়ে অর্থ পরিশোধের ঝামেলা মেটাতে অনলাইন লেনদেন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

 

হার না মানা রুপালীর গল্প!

অভাব আর প্রতিবন্ধিত্ব দমিয়ে রাখতে পারেনি রুপালীকে (২০)। দর্জির কাজ করে নিজ খরচে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিবন্ধী রুপালি। সে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলবাড়ী গ্রামের রফিকুল ইসলামের প্রতিবন্ধী মেয়ে।
রুপালী জন্ম থেকেই অঙ্গ প্রতিবন্ধী। বাম হাতের অর্ধেক কাটা নিয়ে তার জন্ম। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। অভাবের সংসারে তার লেখাপড়ার খরচ যোগানো পিতার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই সে বেছে নিয়েছে দর্জির কাজ। ২০১৪ সালে স্থানীয় মহিলা উন্নয়ন সংস্থায় তিন মাসের দর্জি প্রশিক্ষণ নিয়ে ৩২টি আইটেমের কাজ শিখেছে। প্রশিক্ষণশেষে ওই সংস্থা থেকে তাকে বিনামূল্যে একটি সেলাই মেশিন দেয়া হয়। তখন থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ওই সেলাই মেশিন দিয়ে বাড়িতে বসে সে দর্জির কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে।
রুপালী খাতুন জানায় , প্রতিবন্ধী হলেও পিতা-মাতার অভাবের সংসারে সে বোঝা থাকতে চায় না । লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজ বাড়িতে বসে আয় করার জন্য সে দর্জি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। স্নাতক পাস করে মাষ্টার্স করার ইচ্ছা রয়েছে প্রতিবন্ধী রুপালীর।
সূত্র- ইত্তেফাক।

 

গাইনী কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতি সেবা কার্যক্রম বন্ধ!

অপরাজিতা ডেস্কঃ গাইনী কনসালটেন্ট না থাকায় উখিয়া হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবত্ প্রসূতি সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মহিলারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্তান প্রসব করছে। উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২৯ শয্যার যন্ত্রপাতি ও লোকবল দিয়ে চালানো হচ্ছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল।  শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার জন্য ২০০৮ সালে উখিয়া হাসপাতালে মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কীম প্রকল্প চালু হয়। গতবছরের জুলাই থেকে উক্ত প্রসূতি সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গর্ভবতীদের সেবা কার্যক্রম।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ৪/৫ জন গর্ভবতী মহিলা  রেজিস্ট্রেশন করার জন্য এসে কাউকে না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএসএফ প্রকল্পের সাথে জড়িত স্যানিটারী ইন্সপেক্টর নুরুল আলম সেমিনারে থাকার কথা বলে সংযোগ কেটে দেন। একাধিক হাসপাতালের কর্মচারী জানান, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের কারণে ডিএসএফ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ফিরোজ খান জানান, তিনি ডিএসএফ প্রকল্পের ব্যাপারে অবগত নন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী মহিলাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করার কথা অকপটে স্বীকার করলেন।

 

উচ্চমাত্রায় মিউজিক শোনা কতটা ক্ষতিকর?

অপরাজিতা ডেস্কঃ হেডফোনে মিউজিক শোনাটা এখনকার জেনারেশনদের জন্য ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে,কিন্তু তার মাত্রা টা আসলে কতোটুকু হলে কানের জন্য ক্ষতিকর কর হবে না এ ব্যাপারে অনেকটাই অসচেতন সবাই। আমাদের আজকের আয়োজনে তাই থাকছে এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতামত,
K_loud_music1
বিশ্বের ১ শত কোটির বেশি তরুণদের লাউড মিউজিক শোনার কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন একটি উদ্বেগজনক খবর দিয়েছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বলেছে, যাদের লাউড মিউজিক শোনার কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের অর্ধেকের বয়স ১২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে এবং এরা প্রায় সবাই উচ্চ আয়ের পরিবারের ছেলে-মেয়ে। অবশিষ্ট ৪০ ভাগ তরুণের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কনসার্ট এবং নাইট ক্লাবের লাউড মিউজিক থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিয়ারিং ইম্পেয়ারমেন্ট বিশেষজ্ঞ শেলি চাধা তরুণদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটা মনে রাখা দরকার যে, শ্রবণশক্তি বা শ্রবণযন্ত্র একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না।
article-1202105-05D6D9C9000005DC-144_468x256
ইউএন হেলথ এজেন্সির মতে শব্দস্বরের মাত্রা ৮৫ ডেসিবেল-এর উপরে গেলে এটা নিরাপদ নয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও যে উদ্বেগজনক তথ্যটি দিয়েছে তা হচ্ছে, ট্রাফিক নয়েজ থেকেও শব্দ দূষণ হতে পারে যা লাউড মিউজিকের মতই ক্ষতিকর। এমনকি পারসোনাল অডিও ডিভাইস থেকেও শ্রবণশক্তি নষ্ট হচ্ছে এমন তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প আওয়াজ দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টার বেশি পারসোনাল অডিও ডিভাইসও ব্যবহার করা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য পাবলিক প্লেসে বা জনবহুল স্থানে যাতে উচ্চ আওয়াজের মিউজিক বাজানো না হয় তার জন্য যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আরোপের ওপর জোর দিয়েছে। আর ইউএন এজেন্সির মতে বিশ্বের অন্তত ৩৬০ মিলিয়নের বেশি লোক কোন না কোনভাবে লাউড নয়েজের কারণে শ্রবণ শক্তি হ্রাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
লেখক :ডা.মোড়ল নজরুল ইসলাম। চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ।