banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

চলো ভ্রমণে শুধু দু’জন… ২

বাড়ির সবার সাথে ফোনে কথা বলা শেষ করে সহযাত্রীর দিকে তাকালো সুবহা। গভীর মনোযোগ দিয়ে লিখতে কি যেন। একদম মুখোমুখি বসেছে সে তাই দেখার উপায় নেই কি লিখছে উনি। এত মনোযোগ দিয়ে কি লিখছে? লেখা দেখতে ব্যর্থ হয়ে লেখকের দিকে তাকালো সুবহা! চেহারার মধ্যে কি অদ্ভুত আত্ম নিমগ্নতা ছড়িয়ে গিয়েছে মানুষটির! মুগ্ধ না হয়ে পারলো না। খুব ইচ্ছে করতে লাগলো পাশে গিয়ে বসতে। কিন্তু নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে সে। অকারণেই ঝগড়া বাঁধিয়েছে ট্রেনে উঠার পর। দুষ্টুমির ছলে ঝগড়া যে সিরিয়াস পর্যায়ে চলে যাবে মোটেই বুঝতে পারেনি। কথায় কথায় জাফরকে বলে ফেলেছিল তোমাকে বিয়ে করাই আমার ঠিক হয়নি। বাক্যেটি শোনা মাত্র দপ করে নিভে গিয়েছিল জাফরের চেহারার আলো। শক্ত হয়ে গিয়েছিল চোখ মুখ। সুবহা কিছু বলার আগেই কঠিন স্বরে জাফর বলেছিল, পুরো জার্নিতে তুমি আমার সাথে কোন কথা বলবে না। না আমি তোমাকে চিনি, না তুমি আমাকে চেনো। এরপর হাজারটা কথা বলেছে, অসংখ্যবার সরি বলেছে কিন্তু জাফরের মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করাতে পারেনি। এজন্যই ফোনে কথা বলে কান ঝালাপালা করে দেবার চেষ্টা করেছে। যাতে বিরক্ত হয়ে কিছু বলে জাফর। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বই পড়ছে, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকছে, এখন লিখতে বসেছে। কিন্তু কথা তো দূরে থাক একটা শব্দ পর্যন্ত বের করছে না মুখ দিয়ে বান্দাহ। এত কঠোর মানুষ হয়? কিভাবে এই লোকের সাথে সারাজীবন কাটাবে ভেবে কিছুটা শঙ্কিত বোধ করলো সুবহা।

মা বড় ফ্লাক্সে করে চা/কফি দুটাই দিয়ে দিয়েছিলেন। নিজে চা নেবার সময় এক কাপ জাফরের সামনেও রাখলো। ওমা সাথে সাথে হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপ নিলো জাফর। একেই মনেহয় বলে জাতে মাতাল তালে ঠিক। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে মোবাইল নিয়ে ম্যাসেজ করলো সুবহা। আচ্ছা আমরা কি অপরিচিতদের মত কথা বলতে পারি? সাথে সাথেই জবাব এলো, হুম! আনন্দে হুরররে… বলে চিৎকার দিতে ইচ্ছে করলেও চিৎকারটা গরম চায়ের সাথে গিলে ফেললো সুবহা। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, আচ্ছা তো আপনি লেখক?

চোখ তুলে তাকালো জাফর। মুখে হাসি টেনে বলল, শখের লেখক বলতে পারেন। জীবনে ঘটমান হৃদয়াস্পর্শিত কথাগুলোকে মনের সাথে সাথে ডায়েরীর পাতাতেও টুকে রাখার চেষ্টা করি।

সুবহা বলল, এর সার্থকতা কি?

সার্থকতা কি সেটা তো ভেবে দেখনি। তবে কখনো যদি মন ভুলে যায় কোন সুন্দর মুহুর্ত। ডায়েরীর পাতার ভাঁজ থেকে সেটিকে সযতনে তুলে নেয়া যাবে।

এটাই তাহলে আপনার লেখক হবার পেছনের কারণ?

ইন্টারভিউ নিচ্ছেন নাকি?

নাহয় হলোই ইন্টারভিউ!

আমার আসলে লাভ স্টোরি পড়ার হবি আছে।

তো? এরসাথে লেখার কি সম্পর্ক?

আমি প্রথম লাভ স্টোরি পড়েছিলাম যখন আমার বয়স সাড়ে সাত বছর।

সুবহা চোখ বড় বড় করে বলল, সত্যি?

অবশ্যই সত্যি। বানান করে করে পুরো লাভ স্টোরি পড়ে ফেলেছিলাম। এরপর থেকে নিয়মিত পড়তাম।

আপনার বাবা-মা ধোলাই দেয়নি?

উনারা আসলে বুঝতেনই না যে আমি কঠিন সব বই পড়তে পারছি। তাই উনাদের চোখের সামনে বসেই জীবনের প্রথম আট দশটা লাভ স্টোরি পড়ে ফেলেছিলাম।

সুবহা হাসতে হাসতে বলল, শুধুই কি পড়েছিলেন নাকি কিছু মিছু বুঝেও ছিলেন ?

জাফর ঠোঁট টিপে হাসি চেপে বলল, সিরিয়াসলি লাভ স্টোরি পড়া শুরু করেছিলাম হাই স্কুলে উঠার পর। তখন কিছু মিছু না বেশ ভালোই বুঝতাম। কিন্তু বেশির ভাগ লাভ স্টোরিই আমার পছন্দ হতো না। কিছু অংশ খুবই বাজে লাগতো। একটা লাভ স্টোরি খুব পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু শেষে গিয়ে নায়িকা মারা যায়। আমি এটা কিছুতেই মানতে পারছিলাম না। খুব কান্না করেছিলাম। একটা সময় মনে হলো যে, আমি বোকার মতো কান্না করছি কেন? তারচেয়ে গল্পের এন্ডিংটা বদলে দেই। সেদিন থেকে শুরু আমার গল্পের অপছন্দনীয় অংশগুলোকে নিজের মনের পছন্দ মত লেখার। এরপর থেকে যদি একটা লাইনও আমার অপছন্দ হতো কোন বইয়ের আমি সেটা কেটে দিয়ে নিজের পছন্দের লাইন বসিয়ে দিতাম নীচে।

সুবহা হেসে বলল, শুনতেই অদ্ভুত রকম ভালো লাগছে। আমিও ইনশাআল্লাহ ট্রাই করে দেখবো আপনার এই পদ্ধতি। আচ্ছা এখনো কি এমন কিছু করছেন? অপছন্দনীয় কিছু কেটে দিয়ে পছন্দনীয় কিছু বসিয়ে দিচ্ছেন সে জায়গায়।

জাফর সামান্য হাসলো। কোন জবাব না দিয়ে আবারো লেখার মাঝে মগ্ন হলো।

লিখেছেন- ডা.আফরোজা হাসান। সাইকোলজিস্ট,মাদ্রিদ,স্পেন।

 

বাংলাদেশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে নির্মিত হলো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

নাচের মুদ্রায়, কোরিওগ্রাফির ভঙ্গিমায় আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকদের বঞ্চনা, কষ্ট, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের কথা উঠে এসেছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রামাণ্য নৃত্য প্রযোজনায়।

ইউরোপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি পোশাকের দোকানেই বাংলাদেশের পোশাক। ট্যাগে লেখা থাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিশ্রমে এই পোশাক তৈরি হয়, বিশ্বের ফ্যাশন বাজারে তা ক্রেতাদের মন রাঙায়। সেই শ্রমিকদের তো কমদামে শ্রম বিক্রি করে অর্থকষ্টে দিন কাটানোর জীবন। যেন নিজেকে পুড়িয়ে আলো ছড়ানোর কাজ তাদের।
জার্মান নির্দেশক হেলেনা ওয়াল্ডম্যানের জার্মান-বাংলাদেশি প্রযোজনা ‘মেড ইন্ বাংলাদেশ’ এবার প্রথমবারের মত ঢাকায় মঞ্চস্থ হবে আজ সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডের ১১টি শহরে এবং ভারতের ৪টি শহরে সফলভাবে মঞ্চস্থ করে এবার যেন নিজের ঘরে ফিরে এসেছে ‘মেড ইন্ বাংলাদেশ’। নৃত্য বিন্যাসে হেলেনাকে সহায়তা করেছেন কলকাতার কত্থক  নৃত্যশিল্পী বিক্রম আইয়েঙ্গর। বাংলাদেশে সহায়তায় রয়েছে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যেটে ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ এবং উপমহাদেশীয় সংস্কৃতি প্রসার কেন্দ্র-সাধনা।
এ প্রসঙ্গে সাধনার সাধারণ সম্পাদক, শৈল্পিক নির্দেশক ও নৃত্যশিল্পী লুবনা মারিয়াম বলেন, এই নৃত্যনাট্যটি খুবই আধুনিক আঙ্গিকে উপস্থাপিত হচ্ছে। হেলেনা ওয়াল্ডম্যান মূলত নাট্য নির্দেশক। কিন্তু তিনি কত্থকের দ্রুত শরীরীশৈলীকে অবলম্বন করে প্রযোজনাকে নির্মাণ করেছেন। তিনি এ প্রযোজনার মাধ্যমে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের কষ্ট, বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন, একইভাবে নৃত্যশিল্পীদের কষ্ট, বঞ্চনার বিষয়টিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সামগ্রিকভাবে যারা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে আয় করে তাদের প্রতি অবহেলাকে তুলে ধরে সমাজকে সচেতন করতে চেয়েছেন।
লুবনা মারিয়াম আরো বলেন, বাংলাদেশের মঞ্চে এটি খুবই আধুনিক একটি প্রযোজনা। যা আমাদের নৃত্যশিল্পীদের প্রথাগত নাচের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ ঘনিষ্ঠ কাজ করার দিকে নিয়ে থাকে। মূলত এর সঙ্গে যুক্ত থেকে আমরাও নতুন নৃত্যধারাকে আয়ত্ত করার চেষ্টা করছি।
আজ সোমবার পর পর দুবার নৃত্যনাট্যটি মঞ্চস্থ হবে প্রথমে দুপুর ২টা এবং পরে সন্ধ্যা ৭টায়। দুটি উপস্থাপনাই সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে আগে এলে আগে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সম্মানিত অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফারডিনান্দ ফন ভেইহে ও রণজিত্ বিশ্বাস।

জার্মান শহর লুড্উইগ্সহাফেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রযোজনাটি ২ মাস ধরে সফর করে বিভিন্ন দেশে। গত এক বছর ধরে ঢাকাতেই চলেছে গবেষণা, নির্মাণ পরিকল্পনা ও মহড়া। ১২ জন বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পীর অতি নিপুণ ও দক্ষ নৃত্য পরিবেশনার সাথে আরও ব্যবহূত হয়েছে আন্না সৌপের চলচ্চিত্র এবং হান্স নার্ভা’র সৃজনশীল সাউন্ড ট্র্যাক। এর নৃত্যশিল্পীরা হলেন মুনমুন আহমেদ, শাম্মি আক্তার, শারীন ফেরদৌস, মাসুম হোসেন, ঊমী আইরিন, মেলা লামিয়া, তৃনা মেহনাজ, হানিফ মোহম্মদ, টুমটুমি নুজাবা, বিশ্বজিত্ সরকার, শোমা শার্মীন ও লাবণ্য সুলতানা।