banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

ক্ষুদে বই পড়ুয়া,একদিনে যার পড়া হয় ৪৬৪পৃষ্ঠা!

১০বছর বয়সী মেয়ে ফেইথ জ্যাকসন বই পড়তে ভালোবাসে। কিন্তু কতটা?!

২০১৪সালে ফেইথ এর পড়া বইয়ের সংখ্যা সর্বমোট ৯৪২টা! এবং গড়ে প্রতিদিন আর পড়া বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় ৪৬৪ পৃষ্ঠার মতো! যা সত্যিই কৃতিত্বপূর্ণ কাজ!

যেখানে মানুষ ছোট থেকে বড় হতে হতে পড়ুয়া বইয়ের সংখ্যা হয়তো হয় এতোটা,সেখানে মাত্র এক বছরেই ফেইথ পড়ে শেষ করেছে এমন অস্বাভাবিক সংখ্যার বই!অবাককর ব্যাপার ই বটে! মজার ব্যাপার হলো,এতো এতো বই পড়ার পর এই ক্ষুদে বইয়ের পোকা এখন আর একলা একলা পড়তে পছন্দ করে না। আর তাই সে এখন বই পড়ে তার মতোই আরো কিছু বই পোকার সাথে।

ফেইথের এমন পড়ুয়া অভ্যাস কিন্তু একদিনে হয় নি। ফেইথের মা মিসেস জ্যাকসন এর ভাষ্যমতে, ‘ ফেইথ যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করে,তখন সে রিডিং পড়তে খুব ইতস্তত বোধ করতো,এবং সহজে সে পড়তে চাইতো না।’ ফেইথ এর এই সমস্যা দূর করার জন্য মিঃ এবং মিসেস জ্যাকসন মিলে ঘর ভর্তি স্কুলের বই এর বদলে যখন যে ধরনের বই পড়তে ফেইথ পছন্দ করে সেই সেই বই গুলো আনতে শুরু করলেন। আর সব সময় খেয়াল রাখতেন,যে কোন মূল্যে যেনো ফেইথ বই পড়তে বিরক্ত না হয়। যদি স্কুলের বই ভালো না লাগে তাহলে গল্পের বই পড়বে,গল্পের বই ভালো না লাগলে ফিকশন পড়বে,না হলে কমিকস পড়বে,ম্যাগাজিন পড়বে এই চিন্তা মাথায় রেখে তারা  নানান রকমের বই দিয়ে তারা ফেইথের জন্য লাইব্রেরি সাজিয়েছেন। আর এই লাইব্রেরি ই তৈরী করেছে আজকের এই ‘বই পড়ুয়া ফেইথ’ কে।

ফেইথ যখন ধীরে ধীরে বই পড়ায় অভ্যস্থ হয়ে গেলো,তখন থেকে সে বাছাই করতে শুরু করলো কি কি ধরনের এবং কার কার লেখা বই তার ভালো লাগে। ফেইথের বাবা-মা,তার সেই লিস্ট দেখে আর জন্য দুর্লভ থেকে শুরু করে সর্বশেষ পর্যন্ত সব রকমের কালেকশন লাইব্রেরীতে এনে রাখতেন এবং বিভিন্ন অকেশনে সুযোগ বুঝে মেয়েকে তার প্রিয় প্রিয় লেখকদের সাথে সাক্ষাৎ করাতে নিয়ে যেতেন,যাতে করে আরো বেশি বেশি বই পড়তে এবং  নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরী করতে ফেইথ সাহায্য ও উৎসাহ পায়।

ফেইথের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ এবং এই ছোট্ট বয়সেই জ্ঞানের পারদর্শীতায় মুগ্ধ হয়ে ফেইথ এর প্রিয় রাইটার হলি ওয়েব তার একটা বই উৎসর্গ করেন ফেইথ কে। বইটির নাম হচ্ছে, ‘দ্যা ফরগটেন পাপ্পি’। প্রিয় লেখকের কাছ থেকে এমন অনাকাংখিত আর অসাধারন উপহার পেয়ে ফেইথ অসম্ভব খুশী হয়।

বই পড়ার সংখ্যা যতো বাড়ছে দিনে দিনে ফেইথ ততোই কনফিউসড হচ্ছে,আসলে তার প্রিয় লেখক কে!! এবং সে এখন এই প্রশ্নের জবাব দিতে খুবই হিমশিম খায়! সেই সাথে আজকাল তো ফেইথ বিছানায় যেয়ে ঘুমাতেও ভুলে যায়,দেখা যায় বই পড়তে পড়তে সে চেয়ারেই বা বইয়ের স্তুপে ঘুমিয়ে গেছে!

বই মানুষের জীবন কে আলোকিত করে,মানুষকে আর জন্য সঠিক পথ খুঁজতে এবং সে পথে চলতে সাহায্য করে। এ কথাটার একটা উজ্জ্বল প্রমাণ হচ্ছে আজকের ছোট্ট মেয়ে ফেইথ জ্যাকসন। যে মেয়েটি ছোট্ট বেলায় রিডিং পড়তে চাইতো না আর আজ সে এক দিনেই ৫০০ এর কাছাকাছি বই পড়ছে এবং সে আফসোস করে যে সে এখনো ১০০০ পৃষ্ঠা করে একদিনে বই পড়তে শিখেনি তাই!!

ফেইথের বাবা-মা মেয়েকে বই পড়তে শিখিয়েছেন আর এই অভ্যাস ফেইথ কে শিখিয়েছে জীবনে  অনেক অনেক বড় হবার ইচ্ছে থাকতে হবে আর থাকতে হবে উপযুক্ত পরিকল্পনা। আর তাই ফেইথ যতই পড়ুক না কেন,জীবনে বড় হবার জন্য যা যা গুণ অর্জন করা দরকার তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে সে ভুলে না।

যার ফলাফল স্বরুপ,ক্লাসে ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি সাঁতারে,কারাতে এবং ম্যাথমেটিকস চর্চাত ফেইথ এর অবস্থান প্রথম সারিতে। সেই সাথে ফেইথ খুব পছন্দ করে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে। বিশেষ করে ছোট ভাই-বোন এলসা,জেমস,কর্ম্যাক এর সাথে গল্প করতে,তাদের কে বই পড়ে শুনাতে খুব ভালোবাসে।

এতো এতো বই পড়ুয়া মেয়েটি একদিন নিশ্চয়ই ভালো লেখক হবে,এমন চিন্তা অন্যরা করলেই এখন পর্যন্ত ফেইথ কেবল পড়তেই ভালোবাসে! কিন্তু বড়দের প্রত্যাশা আর উৎসাহ-সহযোগিতা থাকলে মনে হয় না খুব বেশিদিন সময় লাগবে এই ক্ষুদে পড়ুয়ার মেধা সারা বিশ্বকে নত্নুন প্রতিভাবান লেখক-বিজ্ঞানী আর সমাজ নির্মানের কারিগর উপহার দিতে।

সূত্র- ম্যানচেষ্টার ইভেনিং নিউজ। অনুবাদ করেছেন স্বপ্নকথা।

 

শীতের সবজি দিয়ে তৈরী করুন ভেজিটেবল বিরিয়ানী

প্রাকৃতিক ঋতু পরিবর্তনে আমাদের দেশে এখন শীতকাল। শীতের সময়ের সব চেয়ে বড় উপহার মনে হয় টাটকা পুষ্টিকর সব সবজি। কিন্তু আমাদের অনেকের বাড়িতেই যত উৎসাহ নিয়ে সবজি কেনা হয় সেভাবে আগ্রহ করে খাওয়া আর হয় না। পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সবজি খেতে না চাইলে একটু অন্যভাবে চেষ্টা করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারেন। খুবসহজে টেবিলে ভিন্ন স্বাধ যোগ করতে রান্না করতে পারেন চিকেন  ভেজিটেবল বিরিয়ানি।

MINOLTA DIGITAL CAMERA
উপরকণ : পোলাও এর চাল আধা কেজি, ফুলকপি ১টি, গাজর কুঁচি ১ কাপ, আলু কিউব করে কাটা ১ কাপ, বরবটি কুঁচি ১কাপ, মটরশুঁটি ১ কাপ, মুরগির মাংস কিউব ২ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ৬টি, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া সামান্য, জয়ফল ও ছোট এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাজু বাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ ঘি বা তেল পরিমাণমতো, লবণ ও পানি পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রাণালী : প্রথমে চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। সবজিগুলো ধুয়ে সেদ্ধ করে নিয়ে মসলায় মাংস দিয়ে নেড়ে কিছুক্ষণ পর সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন।
এবার আলাদা পাত্রে পোলাও রান্না করুন। কিছু পোলাও তুলে রেখে মাংসসহ সবজিগুলো কয়েক ধাপ সাজিয়ে ওপরে পোলাও দিয়ে পাত্রে ঢাকনা দিয়ে চুলার আচ কমিয়ে ১৫ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল দারুন মজার পুষ্টিকর ডিস চিকেন ভেজিটেবল বিরিয়ানি।

রেসিপি- মেহরিন কুইন।

 

ফেনীতে ৯বছরের গৃহকর্মীর উপর অমানুষিক নির্যাতন!

ফেনীতে শারমিন নামে নয় বছরের এক শিশু গৃহকর্মীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে এক গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে মোহনা আক্তার প্রিয়া (২৬) নামে ওই গৃহবধূকে আটক করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। আটক গৃহবধূ মোহনা আক্তার প্রিয়া ফেনী শহরের পেট্রোবাংলা এলাকার মাহি হাউজের রানার স্ত্রী।

শিশু শারমিন কুমিল্লার টমচম ব্রীজ এলাকার দরিদ্র রিপনের মেয়ে। মোহনা আক্তার প্রিয়ার বাসায় গত দুই বছর ধরে কাজ করছে সে। মাঝে মধ্যেই নানা অজুহাতে শারমিনের ওপর ফুটন্ত গরম পানি, কখনো গরম খুন্তির ছেঁকা দিয়ে নির্যাতন চালাতেন প্রিয়া ও তার স্বামী।
শিশু শারমিন জানায়, সামান্য ভুল-ভ্রান্তি কিংবা অমনোযোগী হলেই তার শরীরে গরম পানি ঢেলে ও খুন্তির ছেঁকা দিয়ে নির্যাতন করা হতো। আশ-পাশের লোকজন এসব জানলেও মাঝে মধ্যে প্রতিবাদ করতো। অবশেষে প্রতিবেশীদের খবরে পুলিশ শনিবার রাতে তাকে উদ্ধার করে। পরে শারমিন পুলিশকে তার উপর চালানো সব নির্যাতনের বর্ণনা দিলে তাকে পুলিশ হেফাজতে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
ফেনী মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহবুব মোরশেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শহরের পেট্রোবাংলা এলাকার মাহি হাউজ থেকে শনিবার রাতে শিশুটি টিউবওয়েলে পানি নিতে এলে প্রতিবেশীরা তার অবস্থা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রিয়াকে আটক করে।
ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের ডাঃ ইকবাল হোসেন সিরাজী জানান, শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।