banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

মেয়েদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘বাড়ি বসে বড়লোক’

আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে মেয়েদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘বাড়ি বসে বড়লোক’। চলতি বছরের মার্চ মাসে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়ে দেশের ৬৪ জেলা ও ২৭৬ উপজেলায় নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস। প্রশিক্ষণে প্রতিটি উপজেলার ৪৫ জন করে মোট বার হাজার চারশ বিশ জনকে দুই দিনের বেসিক প্রশিক্ষণ ও এদের মধ্য থেকে বাছাই করে প্রতি জেলার ৩৫ জনকে প্রদান করা হবে অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ।

টিএমএসএস-এর পরিচালক ও কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট নিগার সুলতানা বলেন, ‘সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।’ আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘মেয়েদের আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করতে চাই। সে লক্ষ্যেই এটি একটি পাইলট কর্মসূচি। এর সাফল্যের উপর ভিত্তি করে আমরা আরও বড় কর্মসূচি গ্রহণ করব।’

 

এবারের বাণিজ্য মেলায় মা ও শিশুদের জন্য খাওয়া ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

শিশুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর দুধ পান করানো, শিশুর নির্ধারিত খাবার খাওয়ানো বা শিশুর শরীরের কাপড় পরিবর্তন কোন মা নিশ্চয়ই এড়াতে পারেন না। আর সেজন্য কেনাকাটা বা ঘোরাঘুরির ইচ্ছে থাকলেও শিশুকে বাসায় রেখে মেলায় আসতে চান না অনেক মা। তবে এবারের মেলায় শিশুকে সাথে নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না তাদের মায়েদের। শিশুকে দুধ পান করাতে বা শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করতে মা ও শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টলের ব্যবস্থা।
নির্ধারিত ওই স্টলে গিয়ে মা তার শিশুকে দুধ পান করাতে বা শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করাতে পারছেন। শিশুর ক্ষুধা পেলেই কেনাকাটার ফাঁকে মা খুঁজে নিচ্ছেন নির্ধারিত এই স্টলগুলো। শিশুর ক্ষুধা নিবারণ করে নিশ্চিন্তে মেলায় ঘোরাঘুরি বা কেনাকাটা করছেন শিশুর মা। মেলায় স্কয়ারের ব্রেস্ট ফিডিং অ্যান্ড ডায়াপার চেঞ্জিং কর্নার নামক স্টলে কাজটি সম্ভব হচ্ছে। এবারের মেলায় স্কয়ারের দুটি স্টলে মা ও শিশুর জন্য একই সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩শ ৫০ জন মা তার শিশুকে নিয়ে এখানে আসেন এবং ক্ষুধার্থ শিশুকে দুধ পান করান। ছুটির দিনে এর সংখ্যা বেড়ে ৫শ ছাড়িয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্টলের দায়িত্বরত সমন্বয়কারী সোহেবুল। তিনি আরো বলেন, বিনামূল্যে মা ও শিশুদের জন্য মাসব্যাপী এ মেলায় এ ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছে। স্টলে যারা তালিকাভুক্ত হচ্ছেন তাদের বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে স্কয়ার সুপার মম।
এদিকে এসিআই প্রতিষ্ঠানের উইমেন হেলথ কেয়ারে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মহিলাদের ফ্রি চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। স্টলে রাখা খাতায় যারা তালিকাভুক্ত হচ্ছেন তাদের একটি ফ্রিডম ফ্রি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা ক্রয় করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাদের কাছে ফ্রিডম বিক্রিও করা হচ্ছে। বিক্রয়কর্মী জাকিয়া সুলতানা বলেন, মহিলারা এই উদ্যোগকে ভালোভাবে গ্রহণ করছেন। প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন স্টল থেকে বিনামূল্যে চিকিত্সা নিচ্ছেন।
এদিকে মেলায় নভো নরডিক্সে ফার্স্ট এইড নামক মিনি প্যাভিলিয়নে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগীদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন দায়িত্বরত চিকিত্সক। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার রোগী এখান থেকে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করান বলে জানান ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস ছাড়াও অন্যান্য রোগেরও ফ্রি চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছে। ইমারজেন্সি রোগীর জন্য রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা।
রাজধানীর মিরপুর থেকে মেলায় এসে কেনাকাটা শেষে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে বাসায় ফিরছিলেন আব্দুল মান্নান। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মেলায় ফ্রি চিকিত্সা সেবা একটা ভালো উদ্যোগ। কেনাকাটাও হলো আর বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো হলো। এবার নিশ্চিন্তে বাসায় ফিরতে পারি। এক ঢিলে দুই পাখি বলতে পারেন। এছাড়া মেলায় রয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আলাদা বুথ। যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে চান তারা এখানে রক্ত দিচ্ছেন। কোন রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে মেলার প্রচার মাইকে জানিয়ে দেয়া হয়। ইচ্ছুক রক্তদাতা বুথে গিয়ে রক্ত দান করেন।

 

নারী অধিকার রক্ষায় পুরুষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নারী অধিকার রক্ষায় পুরুষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে গত বুধবার থেকে জেন্ডার সাম্যবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংস্থার সদর দপ্তরে ‘বারবারশপ কনফারেন্স’ নামে এ সম্মেলনের আয়োজক আইসল্যান্ড। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে এবং ব্যাপকতর সাম্য প্রতিষ্ঠায় পুরুষের করণীয় নিয়ে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সম্মেলন এরই মধ্যে ‘বিতর্কিত’ তকমা অর্জন করেছে। শুরুতে শুধু পুরুষদের নিয়ে সম্মেলন করার কথা ভেবেছিল আইসল্যান্ড, পরে তীব্র সমালোচনার মুখে কয়েকটি অধিবেশনে নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জাতিসংঘে আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গ্রেতা গুন্নার্সদত্রির বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এ বিষয়টিতে পুরুষদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জেন্ডার সাম্যবিষয়ক যেকোনো সম্মেলনে আপনি দেখবেন অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগই নারী। মূল বিষয়টি নারীকে বাদ দেওয়া নয় বরং পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা।’ পুরুষদের সহজে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এ সম্মেলনের আয়োজন।

emma-watson

জাতিসংঘের মতো একটি সংস্থাতেও মোট ১৯৩ সদস্যের মধ্যে পুরুষ প্রতিনিধিত্ব করে ১৬০টি দেশের। গত বছর ব্রিটিশ অভিনেত্রী ইমা টমসন ‘হি ফর শি’ নামের একটি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তিনি বলেন, জেন্ডার নিয়ে গতানুগতিক ধারণা থেকে বের হয়ে পুরুষদেরও কথা বলতে হবে। সম্মেলনে ইমার এই প্রচারের ওপরও আলো ফেলা হবে। সম্মেলনের গতকালের অধিবেশনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রদূতরা তাঁদের সরকারের পক্ষ থেকে জেন্ডার ইস্যুদের পুরুষদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। গুন্নার্সদত্রির বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’

বেইজিং নারী সম্মেলনের ২০ বছর পূর্তির প্রস্তুতির মধ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করল জাতিসংঘ। এই মধ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ জেন্ডার বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বজুড়ে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইতি টানার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়া পুরুষদের সংগঠন হোয়াইট রিবন ক্যাম্পেইনের পরিচালক টড মিনেরসন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জেন্ডার সাম্য নিয়ে কাজ করার বিষয়টি আরো একটু এগিয়ে দেবে এই সম্মেলন। সম্মেলনে মিনারসনের ‘হোয়াট মেকস আ ম্যান’ নামের একটি কর্মশালায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এ অধিবেশনে নারীরাও যোগ দেবেন। ইউরোপের প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের দেশ আইসল্যান্ড বিশ্ব জেন্ডার ব্যবধান সূচকেও কমের দিক থেকে প্রথম। এই ধারাক্রমে পরের দেশগুলো হলো ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক। এ সূচকে জার্মানির অবস্থান ১২তম, যুক্তরাষ্ট্র ২০তম, যুক্তরাজ্য ২৬তম। সর্বশেষ ইয়েমেন (১৪২)।

সূত্র : এএফপি