


এজন্য গর্ভাবস্থায় মাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণ খাবার খেতে হবে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ মেয়েরা কম বয়সে গর্ভধারণ করে এবং প্রায় সবাই অপুষ্টির শিকার হয়। এর ফলে অপুষ্ট সন্তান জন্মগ্রহণ করে বা কখনও কখনও মহিলারা মৃত সন্তানও প্রসব করে।
গর্ভকালীন সেবা
* গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারের সঙ্গে নিয়মিত কমপক্ষে এক মুঠ বেশি খাবার খেতে হবে।
* মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, কলিজা, ঘন ডাল, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ও মৌসুমি দেশী ফল খেতে হবে। রান্নায় যথেষ্ট পরিমাণ তেল ব্যবহার করতে হবে।
* গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন রাতের খাবারের পরপরই ১টি করে আয়রন ফলিক এসিড ট্যাবলেট খেতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় তিন মাসের পর থেকে প্রতিদিন (সকালে এবং দুপুরে) ২টি করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ভরা পেটে খেতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম (দুপুরে খাবারের পর ২ ঘণ্টা এবং রাতে ৮ ঘণ্টা) নিতে হবে।
* গর্ভবতী মহিলাকে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তিতে রাখতে হবে, এতে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে
* ভারী কাজ (যেমন : টিউবওয়েল চাপা, ধান ভানা, ভারী জিনিস তোলা, অতিরিক্ত/ভারী কাপড় ধোয়া) থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কষ্টকর পরিশ্রম বর্জন করতে হবে।
* আয়োডিন যুক্ত লবণ খেতে হবে
* প্রথম তিন মাসের পর প্রয়োজনে ১টি কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেতে হবে
* পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে
গর্ভকালীন যত্ন
গর্ভাবস্থায় অন্তত চারবার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে (মায়ের ওজন, রক্তস্বল্পতা, রক্তচাপ, গর্ভে শিশুর অবস্থান পরীক্ষা করা)
* ১ম স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ১৬ সপ্তাহে (৪ মাস)
* ২য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ২৪-২৮ সপ্তাহে (৬-৭ মাস)
* ৩য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ৩২ সপ্তাহে (৮ মাস)
* ৪র্থ স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ৩৬ সপ্তাহে (৯ মাস)
* রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা
যদি আপনি কোনো টিটি টিকা না দিয়ে থাকেন তাহলে টিকা শুরু করতে হবে এবং গর্ভাবস্থায় ৫ মাস পর ২টি টিটি টিকা নিতে হবে, সিডিউল অনুযায়ী বাকি টিকাগুলো নিতে হবে।
দীর্ঘস্থায়ী ইমিউনিটির জন্য ৫টি টিটি টিকার নির্ধারিত সময়সূচি :
১ম ডোজ (TT1) : ১৫ বছর বয়সে অথবা প্রসব পূর্ববর্তী প্রথম ভিজিটে
২য় ডোজ (TT2) : ১ম ডোজ নেয়ার অন্তত ১ মাস (৪ সপ্তাহ) পর
৩য় ডোজ (TT3) : ২য় ডোজ নেয়ার অন্তত ৬ মাস পর
৪র্থ ডোজ (TT4) : ৩য় ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ১ বছর পর
৫ম ডোজ (TT5) : ৪র্থ ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ১ বছর পর
গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি না হওয়ার কারণ
* শিশু ও কিশোরী বয়সে দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে এবং রক্তস্বল্পতায় ভোগা
* কিশোরী বা অল্প বয়সে গর্ভধারণ করা
* ঘন ঘন সন্তান ধারণ করা
* গর্ভাবস্থায় কম খাদ্য গ্রহণ ও সুষম খাদ্য গ্রহণ না করা
* গর্ভকালীন সময়ে রক্তস্বল্পতায় ভোগা
* বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ও কৃমিতে আক্রান্ত হওয়া
* শারীরিক পরিশ্রম বেশি করা ও মানসিক উদ্বেগ থাকা
* খাদ্য সংক্রান্ত কুসংস্কার ও পরিবারে অসম খাদ্য বণ্টন
প্রসূতিকালীন পরিচর্যা ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি
প্রসবোত্তর সেবা নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের একটি অপরিহার্য অংশ। প্রসবের পর থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে ‘প্রসবোত্তর কাল’ বলা হয়। এ সময় মায়ের বিশেষ সেবা প্রয়োজন। কারণ এই সময় শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের শরীরের ক্ষয় হয়।
শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান মায়ের দুধে বিদ্যমান; যা শিশু মায়ের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। এজন্য এ অবস্থায় মায়ের শরীর সুস্থ রাখার জন্য সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার এবং বাড়তি যত্নের প্রয়োজন।
প্রসব পরবর্তী যত্ন
প্রত্যেক বার খাবারের সময় প্রসূতি মাকে স্বাভাবিকের তুলনায় কমপক্ষে ২ মুঠ বেশি পরিমাণে খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত খাবার শিশুর জন্য মায়ের দুধ তৈরি করতে সহায়তা করে এবং মায়ের নিজের শরীরের ঘাটতি পূরণ করে
* দুগ্ধদানকারী মাকে সব ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ (আয়রন, ভিটামিন-এ, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি) খাবার খেতে হবে
* দুগ্ধদানকারী মায়ের কাজে পরিবারের সব সদস্যকে সহযোগিতা করতে হবে
* গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিবারের সবার (স্বামী, শাশুড়ি) করণীয় :
* গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের জন্য গর্ভবতী মহিলার সঙ্গে সেবা কেন্দ্রে যাওয়া এবং আয়রন ফলিক এসিড খাওয়ার জন্য গর্ভবতী মহিলাকে মনে করিয়ে দেয়া
* গর্ভবতী মহিলা/দুগ্ধদানকারী মাকে অতিরিক্ত খাবার খেতে উৎসাহিত করা
* ঘরের দৈনন্দিন টুকিটাকি কাজে গর্ভবতী মহিলাকে সাহায্য করে তার কাজের বোঝা কমানো
* হাসপাতালে প্রসব করানোর বিষয়ে গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা
* হাসপাতালে প্রসবের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেয়া
* জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা
* জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়ানোর জন্য গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা
* মা শিশুকে যথেষ্ট সময় নিয়ে দুধ খাওয়াতে পারে তার জন্য দুগ্ধদানকারী মাকে সুযোগ করে দেয়া
গর্ভবতী মহিলার ৫টি বিপদ চিহ্ন
একজন গর্ভবতী নারীর যে কোনো সময় যে কোনো বিপদ দেখা দিতে পারে। পরিবারের সবার গর্ভকালীন ৫টি বিপদ চিহ্ন সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে এবং যে কোনো একটি দেখা দেয়া মাত্র তাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
* রক্তক্ষরণ* প্রচণ্ড জ্বর*তীব্র মাথাব্যথা এবং চোখে ঝাপসা দেখা* খিঁচুনি* অনেকক্ষণ ধরে প্রসব বেদনা/বিলম্বিত প্রসব (১২ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে থাকলে)
প্রসবকালীন বিপদ লক্ষণ
* প্রসবের সময় মাথা ব্যতীত অন্য কোনো অঙ্গ বের হয়ে আসা
* বিলম্বিত প্রসব
* অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
* খিঁচুনি
* গর্ভফুল বের হতে বিলম্ব হওয়া ।

সেই ২০০২ সাল থেকে আজ অবধি ভারোত্তোলন খেলছেন মোল্লা সাবিরা। ২০০২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতে আসছেন দেশসেরা এ মহিলা ভারোত্তোলক। শুধু দেশেই নয়, ২০০৫ সালে জর্ডানের আম্মানে এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে রুপা জিতেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু সাবিরার। মাঝে অনেক বছর কেটেছে। আন্তর্জাতিক অনেক আসরেই অংশ নিয়েছেন। ঝুলিতে জমা পড়েছে অনেক পদক। এবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত কাতার দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল কাপ ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে রুপা জেতেন মোল্লা সাবিরা সুলতানা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত এ ভারোত্তোলক বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক কারণেই মেয়েরা ভারোত্তোলনে এগিয়ে আসছে না। কারণ ভারোত্তোলন খেলতে যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, তা জেলাগুলোতে নেই। বাহিনীগুলোতে কারিগরি সুবিধাগুলো থাকায় ভারোত্তোলনে জেলাগুলোর চেয়ে সার্ভিসেস দলগুলোর মেয়েরাই বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ভালো করতে হলে চাই দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন। এর কোনো বিকল্প নেই।’
কাতারে ১৭তম ইয়ুথ এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে অংশ নিয়ে রুপা জেতেন উদীয়মান ভারোত্তোলক জোহরা আক্তার রেশমা। এর আগে ২০১১ সালে থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৪৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে ইয়ুথ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক জেতেন তিনি। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়াতেও একই ওজন শ্রেণীতে কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনের ইয়ুথ বিভাগে রুপা জেতেন রেশমা। তিনি বলেন, ‘বিদেশে পদক জেতার আনন্দই আলাদা। এ নিয়ে তৃতীয়বার বিদেশের মাটিতে পদক জিতেছি। ভবিষ্যতে অলিম্পিকে খেলতে চাই।’ একই স্বপ্ন এশিয়ান অ্যান্ড আরব ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় ৬৩ কেজিতে ব্রোঞ্জজয়ী মাবিয়া আক্তার সিমান্তরও। তার কথায়, ‘আমার লক্ষ্য ভবিষ্যতে অলিম্পিকে পদক জেতা। ফেডারেশন সহযোগিতা করলে সে লক্ষ্যেই আমি খেলে যেতে চাই।’ ২০১১ সালে ভারোত্তোলনে আসা সিমান্ত বলেন, ‘২০১২ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ এবং ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনের জুনিয়রে রুপা ও ইয়ুথ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। ভবিষ্যতে অলিম্পিকে পদক জেতাই আমার লক্ষ্য।’ তবে রেশমা ও সিমান্তের সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে মনে করেন মোল্লা সাবিরা। তার কথায়, ‘দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের মধ্যে থাকলে অনেককিছুই সম্ভব। অলিম্পিকে পদক জয় খুব কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। এজন্য একজন ভারোত্তোলককে কম করে হলেও চার থেকে পাঁচ বছরের কঠোর অনুশীলনের মধ্যে থাকতে হবে। সাধনা করতে হবে। আমি মনে করি, রেশমা ও সিমান্তের সেই সুযোগ রয়েছে। তাদের বয়স কম। তারা দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের সুযোগ পেলে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’

প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতা থেকে হ্যারি পটারখ্যাত অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন ‘হি ফর শি’ নামের কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেল। তিনি বলেছেন,
‘আমি যত বেশি ফেমিনিজম বা নারীবাদ নিয়ে কথা বলি, তত বেশি বুঝতে পারি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীর অধিকারের লড়াইকে পুরুষবিদ্বেষী ভাবা হয়। আমি একটা কথাই বিশ্বাস করি, সব ধরনের বিদ্বেষ রুখতে হবে। নারী ও পুরুষের সম–অধিকার ও সমান সুযোগই নারীবাদের ভাবাদর্শ।’
৫০ থেকে ৬০ বছর আগে কাউকে ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে জানতে পারলে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষজন আঁতকে উঠত। নুরজাহান বোসের আগুনমুখার মেয়ে বইটিতে এ রকম উল্লেখ আছে যে একটা বাড়িতে এক কমিউনিস্ট এসেছেন জানতে পেরে কেউ আর ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে রাজি নয়। ইদানীং আবার উল্টোটাও দেখা যায়, কোনো কট্টর মৌলবাদী বেড়াতে আসবে জানতে পেরে সে বাড়ির আধুনিক ছেলেমেয়েরা আগেভাগেই কেটে পড়ে। ‘নারীবাদী’ শব্দটাও অনেকের কাছে ও রকমই ভীতিপ্রদ। যেন নারীবাদী মানেই তসলিমা নাসরিন।
নারীবাদী মানেই পুরুষবিদ্বেষী। অনেক প্রগতিশীল পুরুষও নারীবাদীদের এড়িয়ে চলেন, আর যেসব পুরুষ নারীবাদী, তাঁদের পৌরুষ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। আবার এমনও অনেক নারীবাদী নারী-পুরুষ আছেন, যাঁরা কেবল তাত্ত্বিক নারীবাদিত্বের বড়াই করেন কিন্তু ব্যবহারিক জীবনাচরণে নারীকে দেখেন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিতে। অল্প কিছুসংখ্যক ঠিকই বোঝেন যে নারীবাদীরা যেসব যুক্তিতে সমতার কথা বলে, তার ষোলো আনাই সঠিক, কিন্তু পারিপার্শ্বিকতাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর মতো সৎ সাহস তাদের নেই বলে তারা মুখ বুঝে থাকে। কিন্তু এ কথা তো ঠিক যে নারী যেমনভাবে নারীর কথা বলতে পারবেন, পুরুষ তা পারবেন না। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো যেখানে পুরুষপ্রাধান্য, সেখানে খামোখা শত্রু বাড়িয়ে লাভ কী?
একসময় উইড (উইমেন ইন ডেভেলপমেন্ট) বেশ সরব ভূমিকা পালন করলেও পরবর্তী সময়ে গ্যাড (জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অধিক জনপ্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। জেন্ডার উন্নয়নে নারী-পুরুষ উভয়ের কথাই বলা হয়। তার পরও জেন্ডার পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞদের (নারীই এসব পদে বেশি বহাল আছেন) নারীবাদীরূপেই বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিবের কাছে এক নারী কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী তাঁর পদোন্নতির কথা বলতে গেলে সচিব ‘নারীর ক্ষমতায়ন?’ বলে এমন অবজ্ঞামিশ্রিত এক হাসি দিলেন যে সে নারী দ্বিতীয়বার আর অনুরোধের সাহস করলেন না। অথচ সে নারী কর্মকর্তার চেয়ে পদমর্যাদায় জ্যেষ্ঠ একজন পুরুষ কর্মকর্তা কেবল সরকারদলীয় বিবেচনায় বছরের পর বছর পদোন্নতির সুবিধা ভোগ করে আসছেন। নারীর ক্ষমতায়ন যেখানে এ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির একটি, সেখানে নারীদের তাঁদের ন্যায্য পাওনাটার জন্যও লড়াই করতে হচ্ছে। তাহলে ক্ষমতায়নের আগে দরকার সমতায়ন?
নারীরা যেমন নারীশক্তির মাহাত্ম্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত, পৃথিবীতে পুরুষদের বিজয়গাথা নিয়েও পুরুষেরা গর্বিত। যেসব নারী জানেন পুরুষের গৌরবগাথা ভুলে থাকার বিষয় নয় এবং যেসব পুরুষ জানেন নারীর শক্তিও কালে কালে আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দিয়েছে, কেবল তাঁরাই একত্রে অভিন্ন মতাদর্শ নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। একে অন্যের সুকৃতি ও পথচলাকে শ্রদ্ধা করতে না পারলে বাহ্যিক ইতিবাচকতা অন্তর্গত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তেমন উল্লেখযোগ্য ছাপ রেখে যেতে পারবে না। অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর শেষ প্রশ্ন উপন্যাসে শতাধিক বছর আগেও যা বলে গেছেন, আজকের দিনেও তা আমরা অনেককেই বলতে শুনি না। উপন্যাসের নায়িকা কমল বলছেন, ‘মানুষ তো কেবল নরও নয় নারীও নয়—এ দুয়ে মিলেই তবে সে এক।’
সহমর্মী পুরুষেরা নারীদের শক্তি। তাদের ভালো দিকগুলোকে উদ্ভাসিত না করে কেবল খারাপ দিকগুলো নিয়ে আক্রমণ করে গেলে সমব্যথিতা হারানোর ভয় থাকে। পুরুষতন্ত্র অবশ্যই বর্জনীয়, তা বলে পুরুষমাত্রই পুরুষতান্ত্রিক নন, অন্যদিকে নারীজীবনের বঞ্চনা ও নির্যাতনের মধ্যে কাল কাটিয়েও সব নারীই নারীবাদী নন। শাশুড়ি, ননদ, জা যখন নিপীড়ক ও হন্তারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন জেন্ডারকানারা বলেন, ‘এত যে পুরুষতন্ত্র পুরুষতন্ত্র বলে যুদ্ধ ঘোষণা করা, এরা তবে কারা?’ তাঁরা আসলে নারী হলেও পুরুষতন্ত্রেরই ধ্বজাধারী। পুরুষতন্ত্র হচ্ছে পুরুষ কর্তৃত্বের একটি নীতি, যে নীতি তার সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নারীকে নিপীড়ন করে। আজ নারীবাদী হিসেবে যাঁরা বিশ্বে খ্যাতি বা অপবাদ কুড়াচ্ছেন, তাঁরাও কম দুঃখে নারীবাদী হননি। নারীবাদের ধারণা, নারীর ওপর নিপীড়ন ও তা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচিত মতের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তবে প্রণোদনায় হোক বা নগরায়ণ-শিল্পায়ন অথবা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের জয়জয়কারেই হোক, দুটির বেশি সন্তান নিতে চাইছেন না মা-বাবারা। উন্নত বিশ্বে তো শিক্ষা ও পেশাকে অগ্রাধিকারে রেখে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যাপারে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। এতে ছোট পরিবারগুলোর মধ্যে মেয়েসন্তান ও ছেলেসন্তানের সঙ্গে আচরণে বৈষম্য কমে আসছে। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরাই বৃদ্ধ বয়সের মা-বাবার দেখাশোনা-সেবাযত্ন করেন বলে মেয়েদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগও আছে। অনেক নারী নিজের বা তাঁর মায়ের জীবনের অবহেলা-নিপীড়নের কথা চিন্তা করে বা সমাজে নারীর দুঃসহ অবস্থান দেখে নিজের সন্তানদের মধ্যে কন্যাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। সার্বিকভাবে এ চিত্র যদিও নগণ্য, তবু কারও প্রতি বৈষম্যই কাম্য হওয়া উচিত নয়।
এমা ওয়াটসন বাস্তবিকই বলেছেন, ‘আমাদের এমন মানুষই দরকার বেশি করে, যারাই পৃথিবীতে সম–অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। লিঙ্গভিত্তিক সম–অধিকার প্রতিষ্ঠাই নারীবাদের মূল লক্ষ্য। নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধারণ মানুষ পুরুষবিদ্বেষী হিসেবে দেখে থাকেন। শুধু নারীদের একার পক্ষে অধিকারের জন্য লড়াই করা সম্ভব নয়। পুরুষদেরও নারীর সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পুরুষেরাও নানা কারণে অধিকারবঞ্চিত। নানা কারণে নারীর মতো পুরুষেরাও নির্যাতনের শিকার। আমরা একজন আরেকজনের জন্য দাঁড়িয়ে বৈষম্য বিলোপ করার চেষ্টা করতে পারি।’
হ্যারি পটার–এর সেই ছোট্ট মেয়েটি, যিনি এখন জাতিসংঘের নারী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন, সেই মেয়েটিকে আমাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেওয়ার জন্য অজস্র ধন্যবাদ।
লেখা– উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।

রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুল মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের দুই নারী সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নয়জন। আজ রোববার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মতিঝিল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) স্বপনের ভাষ্য, ফকিরাপুল মোড়ে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত অবস্থায় পুলিশের ১১ জন নারী সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল মনিরা আক্তার (২২) ও আকলিমা বেগম (২২) মারা যান।
আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফরিদা, লিলি, সোহাগা, ইয়াসমিন, সীমা, শাহনাজ, আলফা, লিজা ও সালমা। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাঁরা সবাই কনস্টেবল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-১-এর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বলেন, নিহত মনিরা ও আকলিমার লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
সূত্র- প্রথম আলো।


গাজীপুরে এক গৃহবধূকে শনিবার সকালে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনা ধামাচপা দিতে লাশে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ গৃহবধূর স্বামীসহ দু’জনকে আটক করেছে।