banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

এই শীতে বাতের ব্যাথায় করনীয়

শীতকালে অনেক সময় জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে ওঠে এবং জোড়া বা বাতের ব্যথা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়। বয়স্ক লোকজন, বিশেষ করে যারা প্রদাহ আর্থ্রাইটিস, রিওমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছেন তাঁদের কষ্ট বহুলাংশে বেড়ে যায়। এ ছাড়াও পেশী, লিগামেন্ট, হাড় ও স্নায়ুর ব্যথা তীব্ররূপ ধারণ করে। শীতকালে স্বাভাবিক নড়াচড়া কম হয় এবং বায়ুর চাপ কম থাকে বলে মানুষের টিস্যু ফুলে যায়। ফলে জোড়া জমে যায় এবং ব্যথার উদ্রেক করে। শীতের প্রকোপে শরীরের রক্তনালীর খিঁচুনি ও সঙ্কুচিত হলে জোড়া, পেশী ও হাড়ে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং ব্যথা বেড়ে যায়। শীতকালে স্নায়ুর সহ্য ক্ষমতা কম থাকে এবং অল্পতেই উত্তেজিত হয় বিধায় ব্যথার অনুভূতি বেড়ে যায়। শীতকালে ঘাড়, কোমর ও হাঁটুর ব্যথা বেশি বাড়ে। এছাড়াও কটি, গোড়ালি, কাঁধ, কনুই, কবজি ও আঙুলের জোড়া ব্যথাসহ জমে যায়। হাত সামনে পেছনে নেয়া ও হাত দিয়ে কিছু তোলা কষ্টকর। হাঁটু ও কোমর সোজা ভাঁজ করতে এবং বসতে-উঠতে ভীষণ অসুবিধা হয়।
গরম কাপড় পরিধান করে শীত থেকে জোড়াকে রক্ষা করতে হবে। ব্যথা নাশক জেল বা মলম দিয়ে হাল্কাভাবে জোড়ায় ম্যাসেজ করলে ব্যথা নিরাময় হবে। কুসুম গরম পানির সেঁক (ময়েস্ট হিট) আর্থ্রাইটিসের ব্যথার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের অন্যান্য ওষুধ সেবন করতে হবে। ব্যথা নিরাময়ে জয়েন্টে ইনজেকশন (স্টেরয়েড ও হায়ালুরোনিক এ্যাসিড) পুশের প্রয়োজন হয়। এক অবস্থায় (বসা, দাঁড়ানো) আক্রান্ত জোড়াকে বেশিক্ষণ রাখা যাবে না। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কম করতে হবে। প্রয়োজনে হাতে স্টিক, পায়ে কুশনযুক্ত জুতা এবং গোড়ালি, হাঁটু, কোমর, ঘাড়, কাঁধ, কনুই ও কবজিতে সাপোর্ট বা ব্রেচ ব্যবহার করতে হবে। হাল্কা ব্যায়াম জোড়া ব্যথা উপশমে মোক্ষম ভূমিকা পালন করে। শীতকালে কঠোর ব্যায়াম আক্রান্ত জোড়ায় রক্ত চলাচল কমিয়ে ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। জোড়ার স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং পেশী, টেনডন ও লিগামেন্টের নমনীয়তা জোড়াকে ব্যথামুক্ত রাখে।

শীতকালে উপযুক্ত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে আর্থ্রাইটিস বা বাত ব্যথার তীব্রতা কমে আসে। সতেজ শাক-সবজি ও ফলমূল ব্যথা নিরাময়ে খুবই উপকারী। গাজর, শসা, মুলা ইত্যাদি ব্যথা সৃষ্টিকারী পদার্থগুলোকে শরীর থেকে সহজেই বের করে দেয়। প্রতিনিয়ত ফলের রস সেবন জোড়াকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। শীতকালে সকালে খালিপেটে রসুন সেবন করলে রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জোড়ায় রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে বলে ব্যথা কমে যায়। আদা ও লেবুর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকালে এবং রাতে সেবন করলে আর্থ্রাইটিস ব্যথা আস্তে আস্তে কমে আসে। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, এ ও সি সেবন করতে হবে। এতদ সত্ত্বেও ব্যথা উপশম না হলে উপযুক্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
ডা. জিএম জাহাঙ্গীর হোসেন
হাড়, ট্রমা ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং অর্থোস্কোপিক সার্জন
ডিজিল্যাব মেডিক্যাল সার্ভিসেস, মিরপুর

 

কি কি ধরনের বিউটি ট্রেন্ড ছিলো ২০১৪ সালে…

ফারজানা শাকিল
বিউটি এক্সপার্ট এবং এমডি, ফারজানা শাকিলস মেকওভার
‘এবার বছরজুড়ে একটা সফট ভাবই চেয়েছিল সবাই মেকআপে। খুব বেশি পরিবর্তন না এনে নিজের ত্বকের রঙটাই সুন্দর করে চেয়েছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা। ন্যাচারাল লুকটাই প্রাধান্য পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন। লিপস্টিকের রঙ বাছাইয়েও ছিল এই সফট ভাব। তবে এবার চুল নিয়ে সবাই বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। যেমন চুল বাধায় এসেছে অনেক স্টাইল। খোপা করলেও তাতে ছিল ভিন্নতা। রিং খোঁপাসহ ছিল অনেক ডিজাইন। চুলের কাটেও ছিল অনেক কিছুই। তবে চুলের দৈর্ঘ্য ঠিক রেখে সামনে ফ্রেঞ্চ, স্ট্রেট চলেছে। তবে নিজেকে অন্যরকম করতে চুলের কালারটা বেশ ফ্যশনেবল ছিল। রেড, ব্লুু, পিংক কালার ছিল চুলে। এগুলো নিচের দিকে ডার্ক হলে উপরে লাইট আবার ওপরে ডার্ক হলে নিচে লাইট করে ব্যালেন্স করা হয়েছে।’

img-single_6492make-up-adult-beautiful
আফরোজা পারভিন
সিইও, রেড বিউটি স্যালুন
২০১৪ সাল শেষ হয়ে গেলেও চলতি মেকআপ ট্রেন্ডের একটি রেশ থেকে যাবে বলে মনে করেন তিনি। এবার সবচেয়ে বেশি চলেছে ন্যাচারাল লুকের ট্রেন্ড। সব বয়সীরা এটিতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে ন্যাচারালের মধ্যেও ছিল ওরিয়েন্টালের ছোঁয়া। তবে এ বছর চোখের সাজেও ভিন্নতা পাওয়া গেছে। স্মোকি লুক আনতে চেয়েছেন অনেকেই। তাই ব্রাউন, গোল্ডেন, ধূসর শ্যাডো অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। স্পেশাল চোখের সাজের মাঝে ছিল ইরানি বা অ্যারাবিয়ান লুকে চোখ টানা। এটির বৈশিষ্ট্য চোখটির দুই ভাগ আলাদা করে। চোখ বড় দেখায়, পুরো চেহারাতেই আসে পরিবর্তন। মেকআপ হাইলাইট করতে অনেকেই বেছে নিয়েছেন এই লুকটি। উল্লেখযোগ্য ছিল লিপস্টিকের রঙ। ন্যাচারাল রঙের সঙ্গে সঙ্গে একটু ভিন্নতা আনতে অনেকেই ব্যবহার করেছেন লালের শেড। হয়তো সেটা কখনও হয়েছে টকটকে লাল, কখনও মেরুন, আবার লালচে গোলাপি।

1116
তানজিমা শারমিন মিউনি
সিইও, মিউনিজ ব্রাইডাল
এবার খুব থিম বেজ মেকআপ ও সাজটা চলেছে বলে তিনি মনে করেন। যখন যেমন সময়, তখন ঠিক সেই রকম সাজটা নিতে আগ্রহ ছিল সবার। তবে সাজ মানে নিজেকে একবারে পাল্টে ফেলা নয়। বরং নিজেকে গুছিয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা উচিত বলেই তিনি মনে করেন। আর তার প্রতিটি কাজই ছিল সেই রকম। চাহিদা অনুযায়ী তিনি তার প্রতিটি মেকআপে রেখেছিলেন ন্যাচারালের ছোঁয়া। তবে এ বছর সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে চুলের স্টাইলে। খোলা চুলের চেয়ে চুল বাঁধা ধরনটাই চলেছে বেশি। সাধারণ খোঁপার মধ্যেও ছিল বৈচিত্র্য। এক পাশের খোঁপা ছিল বেশ জনপ্রিয়। আবার বেণি সাধারণত চুল তিনটি ভাগ করে হয়, তবে এ বছর চুলের চারটি পার্ট করেও করা হয়েছে। আর হেয়ার কাটিং স্টাইলের কথা বললে ব্যাঙস্ কাটটা বেশ চলেছে।

42266_sat-1

সোনালি ফেরদৌসি মজুমদার
সিইও, সোনালি এইচডি মেকআপ অ্যান্ড স্টুডিও
এ বছর গৎবাঁধা কিছু জিনিস থেকে মানুষ বের হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এ বছর বেশ জনপ্রিয় ছিল এইচডি মেকআপ। এটি গতানুগতিক ধারা থেকে একটু ভিন্ন, তাই মানুষ এটি গ্রহণ করেছে। এইচডি মেকআপের এয়ার ব্রাশের বিষয়টি অনেকের জন্যই নতুন কিন্তু গ্রহণযোগ্য ছিল বলে তিনি জানান। তিনি আরও যোগ করলেন, এবার চুলটা খুব পরিপাটি করে রাখার চেয়ে একটু এলোমেলো ভাবটাই বেশি চলেছে। যাই হোক চুল বাঁধা ও খোঁপাটাকে একটু ঢিলা করে রাখতে সবাই বেশি চেয়েছেন।

সূত্র- লাইফ স্টাইল

ট্রাক চাপায় ৪জন নারী নিহত

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ওয়াজ মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় চার নারী নিহত ও অপর তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টায় উপজেলার দরিয়াপাড়া ঈদগাহ’র সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁরা বুড়িচংয়ের বারেশ্বর এলাকায় বারেশ্বর দরবার শরীফের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ এ মিলাদুন্নবী (স.) মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

নিহতরা হলেন: বুড়িচং সদরের কুর্ণমতি এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী সালমা আক্তার (৩০),  মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৫৫), মৃত সেকান্দার আলীর ভূঞার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬৫) এবং আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুড়িচংয়ের কুর্ণমতি গ্রামের প্রতিবেশী সাত নারী ওয়াজ  মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লাগামী একটি ট্রাক তাদের পেছন থেকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। আহত হন আরো তিনজন। হতাহতদের প্রথমে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বুড়িচং থানার ওসি জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চলছে।