banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

স্মোকি চিকেন সালাদ

চিকেন সালাদ শুধু দেশেই নয় এর জনপ্রিয়তা গোটা বিশ্বেই। এ সালাদ খেতে শুধু সু-স্বাদুই না স্বাস্থ্যকরও বটে। দেশের ভিন্নতায় চিকেন সালাদ তৈরির প্রণালীটাও ভিন্ন। বিদেশের চিকেন সালাদ স্বাদে কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে হয়। তাছাড় এদের সালাদে মশলার ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। যার কারণে খেতে স্বাদ লাগে না।

স্বাদ ও স্বাস্থ্যের দিকটা মাথায় রেখে আজ আমরা বানাব স্মোকি চিকেন সালাদ। চলুন চটপট দেখে নেওয়া যাক কীভাবে বানাবেন স্মোকি চিকেন সালাদ।

পরিবেশন – ২ জনের জন্য
প্রস্তুতির সময় – ২০ মিনিট
রান্নার সময় – ২০ মিনিট

উপকরণ
মুরগীর মাংস (বোনলেস) – ৪০০ গ্রাম (ছোট ছোট টুকরো)
গোলমরিচের গুঁড়ো – ১ চা চামচ
প্যাপরিকা – ১/২ চা চামচ
লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
অলিভ অয়েল – ১ টেবিল চামচ
অরিগ্যানো শেরি – ২ টেবিল চামচ
লাল বেল পেপার – ১ টি (ইচ্ছেমতো আকারে কাটুন)
পার্সলে – ১ কাপ
পুদিনা – ১০ থেকে ১২ টি পাতা
লেটুস – ৪ টি পাতা
লবণ – স্বাদ মতো

প্রণালী
লবণ ও গোল মরিচ দিয়ে মাংসটা ভালো করে সিদ্ধ করে নিন। এবার সালাদ প্লেটে লেটুসের পাতাগুলো দিয়ে প্লেটের সাদা জায়গা ঢেকে দিন। তাতে লাল বেলপেপার গুলো সাজিয়ে দিন। অন্যদিকে মুরগীর মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে স্টক থেকে ভালো করে পানি ঝরিয়ে মাংসের টুকরোগুলো তুলে নিন। এতে প্যাপরিকা, অরিগ্যানো, লেবুর রস, অলিভ ওয়েল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। হাল্কা লবণ উপর থেকে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

এবার মাংসের টুকরোগুলো সেঁকে নিন। এর ফলে মাংস থেকে একটি স্মোকি ফ্লেভার উৎপন্ন হবে। এবার সালাদ প্লেটের উপর মাংসগুলো সাজিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখবেন- যাতে লাল বেলপেপার ঢেকে না যায়। পার্সলে ও পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিন। এবার শেরিতে লেবুর রস ও অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মেশান। এবার তৈরি ড্রেসিং সালাদের উপর একটি চামচ দিয়ে ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

শীতে গরম পানিতে গোসল

ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার কারণে অনেকে শীতকালই পছন্দ করেন না। কনকনে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে নিয়মিত গরম পানিতে গোসল করেন। তবে গরম পানিতে গোসল নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ বলে থাকেন আপাতত স্বস্তি মিললেও তেমন উপকার নেই। আসলে কি তাই?

গরম পানিতে গোসলে উপকারিতা ও অপকারিতা- দুইই রয়েছে। তেমন কিছু বিষয় নিচে জানানো হল-

গরম পানিতে গোসলের উপকারিতা

  • যাদের বুকে ব্যথা ও শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য গরম পানিতে গোসল বেশ উপকারী। এ ছাড়া যাদের নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা আছে- তাদের জন্যও ভাল। গরম পানিতে ইউক্যালিপ্টাস বা অন্যান্য তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও উপকার পাবেন।
  • গরম পানি পেশি জড়তা কাটাতে সাহায্য করে। ফলে অবসাদ দূর হয় সহজে। অবসাদ দূর মানে ধীর স্থির ভাবে জাগে মনে। এ ছাড়া রক্তচাপ কমিয়ে পার্লস রেটকে আরামদায়ক পর্যায়ে নিয়ে আসে। সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ ঘুমের জন্য গরম পানিতে গোসল ভাল।
  • গরম পানি ত্বকের ছিদ্র খুলে দেয়। যা ত্বককে নরম ও দ্রুত পরিষ্কার করে। ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে কার্যকরী ফল পাওয়া যায়।
  • পেশি জড়তা দূর হওয়ার কারণে রক্ত চলাচল ব্যবস্থা উন্নত হয়। এ ছাড়া গরম পানিতে গোসল যৌন জীবনে ভাল প্রভাব ফেলে। এর কারণে যৌন উত্তেজনা বাড়ে।

গরম পানিতে গোসলের অপকারিতা

  • গরম পানিতে গোসল কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যাদের হাইপারটেনশনসহ হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য গরম পানিতে গোসল ভাল নয়।
  • গরম পানিতে গোসল ত্বকের ছিদ্র খুলে দিলেও সহজে ময়লা জমে। এর কারণে ব্রনসহ নানান সমস্যা তৈরি হয়। গরম পানি চুলের জন্য ক্ষতিকর। চুল দুর্বল হয়ে সহজে ভেঙ্গে যায়।
  • গরম পানি বিষণ্নতার জন্যও দায়ি। গরম পানি শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। যা শুধু এসিডিটির সমস্যাই তৈরি করে না, মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

 

শত কষ্টের পর এখন স্বাবলম্বী নুরজাহান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কোনো এক বর্ষণের দিনে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চরনিকলা গ্রামে জন্ম নূরজাহান বেগমের। চার ভাই তিন বোনের সংসারে তার অবস্থান পাঁচ। জন্মের সময় পরিবারের আর কেউ তেমনভাবে খুশি হতে না পারলেও তার বাবা অনেক খুশি হয়েছিলেন। জন্মের পর পরই বাবা ঘোষণা দিয়েছিলেন তার এ মেয়েটিকে এমএ পাস করাবেন।
নূরজাহান বেগম এমএ পাস ঠিকই করেছেন কিন্তু তার বটবৃক্ষ, সব থেকে ভালোবাসার মানুষটি তা দেখে যেতে পারেননি। তিনি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন তখন তার বাবা মমতাজ আলী শেখ মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর কিছুটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল তাদের পরিবার। সপ্তম শ্রেণিতেই হয়তো থেমে যেত তার লেখাপড়া। কিন্তু মা হালিমা বেওয়ার দৃঢ়চেতা মনোভাবে সব ঠিক হয়ে যায়। ১৯৮৪ সালে ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৬ সালে ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও একই কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে বিএ পাস করেন।
এরপর তার জীবনে বয়ে যায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের এক ঝড়। সবকিছু উলট পালট হয়ে যায়। থমকে যায় প্রতিদিনের জীবনের গতি। কিন্তু যোদ্ধা মানুষ কি যুদ্ধ না করেই সমাজ জীবনের কাছে হারতে পারেন? না, তিনিও ঝড়ের অস্বাভাবিকতা কাটিয়ে ওঠার জন্য ২০০০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরে যোগ দেন ব্র্যাকের মাইক্রো ফিন্যান্স প্রোগ্রামে। সেখানে থেকে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন ব্র্যাকের আরেকটি প্রোগ্রামে। মূলত এই প্রোগ্রামে কাজ করতে করতেই পাল্টে যেতে থাকে জীবনের গতি। নিবিড়ভাবে শিখতে থাকেন তার ভালোবাসার কাজটি।
কৃষির প্রতি ভালোবাসা আর চাকরিতে মোটরসাইকেল চালনায় শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে খুঁজে পান ফিরে আসার পথ। পরিবারের শত বাধা উপেক্ষা করে ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারির এক পিকআপ ভ্যান চায়না-৩ জাতের লিচু কলমের চারা নিয়ে হাজির হন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চরনিকলা গ্রামের নিজ বাড়িতে।
শুরু করেন নতুন জীবন। বাবার দেয়া ২০ শতক জমি আর নগদ ১ লাখ টাকা দিয়ে গড়ে তুললেন ‘তোয়া’ নামের এক নার্সারি। বাড়ির সবাই বিরোধিতা করলেও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোটভাই ফরিদ সাহস জুগিয়েছেন নানাভাবে। শুরুতেই সফলতা পাননি নার্সারিকন্যা নূরজাহান বেগম। প্রথম বছর লিচু কলমের চারা ছাড়া আর সবই ছিল বনজ গাছের চারা। চারা বিক্রির সময় হলে তিনি দেখলেন বনজ গাছের চারায় যত টাকা ব্যয় করেছিলেন সবই লোকসান। কারণ হিসেবে তিনি বললেন, মানুষ যে ধরনের গাছের চারা চায় তিনি সে ধরনের চারা তার নার্সারিতে ঠাঁই দেননি। মানুষের চাহিদা ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি গাছের চারা আর তিনি করেছেন নিম থেকে শুরু করে দেশীয় জাতের বনজ চারা। পাড়া-প্রতিবেশীদের টাকা ছাড়া চারা দিতে চেয়েও দিতে পারেননি। সবাই এক বাক্যে বলেছেন কি হবে এই চারা দিয়ে? এক দিকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান আর অন্যদিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিদেশি কোনো জাতের চারা না করার অঙ্গীকার। বড়ই টালমাটাল অবস্থা। কি করবেন জানা নেই। আবার হেরে যেতেও তার বড় লজ্জা।
নূরজাহান বেগম জেলা পর্যায়ে চারবার সেরা নার্সারির পুরস্কার পেয়েছেন। সার্বক্ষণিক ২ জন কর্মচারী আর ৬ হাজার বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারায় ভরপুর তার নার্সারি। ১ লাখ টাকা মূলধনের নার্সারি নিষ্ঠা আর সাধনায় ফুলে-ফেঁপে হয়েছে ১০ গুণ। এতকিছুর পরেও আর বিয়ে করেননি নার্সারিকন্যা নূরজাহান বেগম। করতেও চান না। তার ভাষায়, ‘রক্তের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাওয়া এই নার্সারিই আমার পরিবার, আর সব ফলদ গাছের চারা আমার সন্তান।’

 

মানসিক চাপ কমাতে বিশেষ কিছু খাবার

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলায়। কিন্তু কিছু সমস্যার যেন কোনো সমাধান নেই! কখনোই পিছু ছাড়ে না! ভুলে থাকার চেষ্টা করেও আমরা ভুলতে পারি না। সমস্যার সমাধান না করা গেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিক চাপ থেকে মুক্তির পথই বা কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের ওপর ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে মনকেও অনেকটাই বশ মানানো যায়। আর এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কিছু খাবারের বিশেষ পুষ্টি উপাদানগুলো আমাদের স্নায়ুকে শীতল রাখতে সহায়তা করে, সাময়িকভাবে হলেও তা কিছুটা মানসিক চাপ কমায়।

কাজুবাদাম
কাজুবাদাম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দস্তার একটা ভালো উৎস। দুশ্চিন্তা আর বিষাদগ্রস্ততা দূর করতে খুবই কার্যকর এই দস্তা। শরীরে দস্তার চাহিদা পূরণ করতে পারলে, নিয়মিত এই দস্তার জোগান দিতে পারলে স্নায়ুতন্ত্রকে ঠান্ডা রাখার কাজটা অনেক সহজ হয়। আজকাল বাজারের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার দোকানেও প্যাকেটজাত কাজুবাদাম পাওয়া যায়। নিয়মিত কাজুবাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন, মানসিক চাপ মোকাবিলায় নিজেকে প্রস্তুত করুন।

mjid047._kaju-and-badam-diwali-gifts

ওট
ওট বা জইয়ের দানা খুবই স্বাস্থ্যকর খাবার। প্রচুর আঁশযুক্ত এই খাবার শরীরের নানা চাহিদা মেটায়। বিশেষত মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তৈরিতে খুবই সহায়ক ওট। সেরোটোনিন এমন এক রাসায়নিক যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ভালো লাগার’ রাসায়নিক হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। সকালের নাশতায় কিংবা রাতেও নিয়ম করে ওট খেতে পারেন। দুধে ভিজিয়ে হোক বা কেবল পানিতে ভিজিয়ে হলেও ওট খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে অনেক উপকার পাবেন। বড় বিপণিবিতানসহ নানা চেইন শপে টিনজাত ওট পাওয়া যায়।

oats-400x400-300x300

আখরোট
আখরোটের নানা পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসহ অন্যান্য পলিফেনোল। এসব উপাদান মস্তিষ্কের চিন্তা ক্ষমতাকে বাড়ায়, প্রখর করে। ফলে নিয়মিত কিছুটা আখরোট খেতে পারলে আপনার চিন্তা ক্ষমতা বাড়বে আর তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। বড় বাজারগুলোতে শুকনো খাবারের দোকানে খোলা আখরোটের পাশাপাশি প্যাকেটজাত আখরোটও পাওয়া যায়। কিনে এনে বাড়িতে রেখে দিন, মাঝেমধ্যে খেতে থাকুন। এভাবে শুকনো খাবারের অভ্যাস করাটা খাদ্যাভ্যাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

image03

কমলা লেবু
ভিটামিন-সিসমৃদ্ধ কমলা লেবুর অনেক উপকারের কথা তো আমরা জানিই। মন বিষণ্ন থাকলে, শরীর অবসাদগ্রস্ত হলে খানিকটা কমলা লেবুর রস মুহূর্তেই চাঙা করে দিতে পারে। হাতের কাছের এই ফল কেবল সাময়িক প্রশান্তিই দেয় না, নিয়মিত অল্পস্বল্প কমলা লেবু খান শরীর মন দুই চাঙা থাকবে। শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা কমানো, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো এবং কিডনি ভালো রাখতেও কমলা লেবু খেতে পারেন। শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও সহজ।

512px-Ambersweet_oranges

রসুন
রসুনের অনেক গুণ। রসুনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই সহায়ক। মানসিক চাপে ভুগলে আমরা নানা অনিয়ম করি আর এতে শরীর ভেঙে পড়ে। এই দুর্বলতার সুযোগে শরীরে বাসা বাঁধে নানা অসুখ-বিসুখ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রসুন খান। এটা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি মানসিক চাপে থাকা মানুষদের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক। তাই খাবারদাবারে নিয়মিত কিছুটা রসুন খান, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন।

ripe garlic fruits with green parsley leaves

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস।