banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

চলো ভ্রমণে শুধু দু’জন… শেষ খন্ড।

হঠাৎ লেখার গতি কমে গেলো জাফরের। হোঁচট খেয়ে খুঁড়িয়ে চলতে চলতে একসময় থেমে গেলো। চোখ তুলে দেখলো সুবহা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সুবহার কথাটা শুনে এত রেগে গিয়েছিল কেন সে? এমন তো নয় যে ফান বোঝে না! ভালোই বোঝে। কিন্তু তবুও সুবহার ফানটা নিতে পারেনি! কেন পারেনি? মানুষের মন আসলেই খুব বিচিত্র! কখনো কখনো অনেক বড় কিছুকেও হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়! আবার কখনো কখনো ছোট্ট একটা ধূলি কণাকেও ঝেড়ে ফেলে দিতে তৈরি থাকে না! কিন্তু যত যাই কিছু হোক না কেন মজা করারওএকটা লিমিটেশন থাকা উচিত! যে কোন সম্পর্কেকে সুন্দর ও গতিশীল রাখার জন্য লিমিটেশন জ্ঞানটা খুব জরুরি! প্রতিটা সম্পর্ক যেমন ভিন্ন, সম্পর্কেও মাঝে বিদ্যমান আদবও ভিন্ন। একটা সম্পর্ক যতই খোলামেলা বা উদার হোক না কেন তাতে বিদ্যমান আদবের বরখেলাপ করা অনুচিত! ইসলামও তো এমনটাই শিক্ষা দেয়! রসিকতার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই শরীয়তে। বরং উৎসাহিত করা হয়েছে। হযরত আলী (আ) বলেছেনঃ রাসূল (সা) যখনই তাঁর কোনো সহচরকে বিষন্ন বা মনমরা অবস্থায় দেখতেন, তখনই কৌতুক মজা করে তাকে প্রফুল্ল করে তুলতেন এবং বলতেনঃ নামাযের পর সবচেয়ে উত্তম আমল হলো মুমিনদের অন্তরকে প্রফুল্ল করা। অবশ্য এমনভাবে হতে হবে যেন তাতে গুনাহের লেশমাত্র না থাকে।

ইমাম হাসান (আ.) কে ইমাম আলী (আ) এক উপদেশ বাণীতে বলেছেনঃ “হে সন্তান আমার! সে-ই ইমানদার যে তার দিনরাতের সময়গুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নেয়। একটি অংশকে কাজে লাগায় আধ্যাত্মিকতার চর্চা এবং আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার মধ্য দিয়ে। অপর একটি অংশকে কাজে লাগায় পার্থিব জগতের প্রয়োজনীয়তা ও জীবন জীবিকার চাহিদা মেটাতে। আর তৃতীয় অংশটিকে নির্দিষ্ট করে বৈধ এবং হালাল বিনোদন উপভোগ করার জন্যে।” তোমাকে বিয়ে করাই আমার ঠিক হয়নি” সুবহার বলা এই কথাটিতে কি রসিকতার মাঝে ফেলা যায় ? ঠিক বুঝতে পারছে না জাফর? সেকি ওভার রিঅ্যাক্ট করেছিল নাকি এই ধরণের কথা আসলেই বলা ঠিক না স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যেকে? জানে সুবহা ফান করেই কথাটা বলেছে! কিন্তু ফান করে কি এমন কথা বলা যায় যাতে অন্যের মনে কষ্ট হতে পারে? ফান মানুষ আসলে কেন করে?

ডায়েরী পাশে রেখে জাফর বলল, আচ্ছা আপনি কি বলতে পারবেন মানুষ ফান কেন করে?

একটু ভেবে সুবহা বলল, আনন্দ পাবার জন্য।

শুধুই পাবার জন্য?

না দেবার জন্যও।

তাহলে নিশ্চয়ই ফান করে কাউকে এমন কথা বলা উচিত নয় যাতে সে কষ্ট পেতে পারে তাই না?

হুম… একদমই উচিত নয় এটা।

জাফর হেসে বলল, আমারো এমনটাই মনেহয়। যে কোন সম্পর্কেই ফান আসলে এমন হওয়া উচিত যাতে দুজনই আনন্দ পেতে পারে। অন্যেকে কষ্ট দেবার জন্য যা করা হয় সেটা কখনোই ফান হতে পারে না!

অন্যকে কষ্ট দেয়ার নিয়্যাতে আসলে ফান করাও হয় না সাধারণত।

কিন্তু অন্যেকে ক্ষেপানো, রাগানো না বিরক্ত করার নিয়্যাতে অবশ্যই করা হয়। আমার মতে এটাও ঠিক না! যখন দুজন মানুষ একই রকম নির্মল আনন্দ অনুভব ও উপভোগ করবে সেটাই হচ্ছে প্রকৃত অর্থে ফান! সেই হিসেবে ফানের প্রথম শর্ত হচ্ছে, দুজনের জন্যই সেটা উপভোগ্য হতে হবে। তাছাড়া ফান তো আমরা সাধারণত খুব কাছের মানুষদের সাথেই করি তাই না! যারা মনের খুব কাছের! আর এমন প্রিয় মানুষদেরকে কষ্ট দ্বারা লব্ধ কিছু কি আনন্দের উপকরণ হতে পারে? নাকি হওয়া উচিত?

ভেতরে চেপে রাখা লম্বা শ্বাসটা ধীরে ধীরে বের করে দিয়ে সুবহা বলল, কখনোই হওয়া উচিত নয়। আমি খুব দুঃখিত তোমাকে ঐ কথাটি বলার জন্য।

জাফর হেসে বলল, আমিও খুব দুঃখিত তোমার ফানকে ফান হিসেবে নিতে না পারার জন্য। সম্পর্কের বন্ধন আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে বলেই হয়তো আমি তোমার কাথাটিকে ফান হিসেবে নিতে পারিনি। এখন আমার একটা প্রশ্নের জবাব দেন দেখি!

সুবহা বললেন, জ্বি কি প্রশ্ন?

জাফর বলল, আপনি এত দূরে বসে আছেন কেন? আপনি যদি এত দূরেই বসে থাকবেন তাহলে কেবিন ভাড়া করার দরকার কি ছিল আমার? শুধু দুজনে মিলে এই ছোট্ট ভ্রমণের পরিকল্পনা ও আয়োজন তো আমরা করেছিলাম জীবনের এই মূহুর্তগুলোর ভাঁজ থেকে শত সহস্র সুখানুভূতির শিহরণ, আনন্দানুভূতি আন্দোলন আর প্রেমানুভূতির বিচ্ছুরণ সমৃদ্ধ স্মৃতি সংগ্রহের জন্য। যেসব আমরা রেখে যাবো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। যা ওদের হৃদয়ে ঝরাবে তুমুল শ্রাবণের চাষবাস!

লাজুকতা জড়ানো হাসি ছড়িয়ে পড়লো সুবহার চেহারায়। জাফরের ঠোঁটের কোণেও ফুটে উঠলো ভালোবাসাময় হাসি। ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে দিলো সুবহার দিকে………

লিখেছেন- ডা.আফরোজা হাসান। সাইকোলজিস্ট,মাদ্রিদ,স্পেন।

 

এই শীতে সুস্বাদু ভূনা খিচুড়ি।

অপরাজিতা ডেস্কঃ খিচুড়ি এমন একটি খাবার যা বারো মাস ই খাওয়া যায় তৃপ্তির সাথে। আর যদি শীতের হিমহিম সময়ে গরম গরম ভূনা খিচুড়ি আর সাথে মজাদার আচার থাকে খাবারের টেবিলে তাহলে তো সোনায় সোহাগা!
আর তাই অপরাজিতার আজকের রেসিপি হচ্ছে, সুস্বাদু ভূনা খিচুড়ি…
উপকরণ :পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, মুগডাল ২৫০ গ্রাম, মসুরের ডাল ২৫০ গ্রাম, আদাবাটা দেড় টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, মটরশুঁটি ১ কাপ, ঘি আধা কাপ, তেল আধা কাপ, আস্ত গরম মসলা পরিমাণমতো, তেজপাতা ৩/৪টি, কাঁচা মরিচ ৫/৬টি, বেরেস্তা ৪ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, জয়ত্রী ও জয়ফল গুঁড়া আধা চা চামচ।
 IMG_20121008_214639
প্রণালি :চাল ও ডাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। এবার হাঁড়িতে ঘি ও তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিন। বাদামী হলে আস্ত গরম মসলা ও তেজপাতার ফোড়ন দিয়ে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা সামান্য পানি দিয়ে একসাথে মিশিয়ে হাঁড়িতে ঢেলে দিন। এবার মসলা ভালো করে কষিয়ে ডাল, চাল ও মটরশুঁটি দিয়ে ভালো করে নেড়ে দিন। পরিমাণমতো গরম পানি দিন। এবার লেবুর রস ও কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে দিন। পানি প্রায় শুকিয়ে এলে খিচুড়ি দমে দিন। মাঝে একবার নেড়ে দিন। হয়ে গেলে পরিবেশন পাত্রে রেখে উপরে বেরেস্তা ছড়িয়ে মাংস দিয়ে পরিবেশন করুন।

 

মিস ইউনিভার্স ২০১৫ হলেন পাউলিনা ভেগা।

৮০টিরও বেশি দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মিস কলম্বিয়া পাউলিনা ভেগা। প্রথম রানার আপ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়া সানচেস। দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন মিস ইউক্রেন দিয়ানা হারকুশা। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গ্রান্ড ফিনালের আয়োজন করা হয়।
কলম্বিয়ার বারানকিলার পাউলিনা (২২) বর্তমানে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ছেন। তিনি কিংবদন্তী শব্দসৈনিক গোস্তন ভেগার নাতনি।
মুকুট জেতার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে পাউলিনা বলেন, এ ধরনের বিশ্ব মঞ্চে এবারই প্রথম উঠলাম এবং এবারই শেষ। এখন কলম্বিয়ায় গিয়ে পড়াশোনায় মন দেব।
মুকুট জয়ের আগে তিনি চলতি সপ্তাহে বলেছিলেন, এতো বড় মঞ্চে নারীর প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। শুধু সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারের প্রতি নারীর সচেতন হওয়া উচিত হয়, একই সঙ্গে পেশা, মেধা ও ব্যক্তিজীবনে পরিশ্রমের ব্যাপারেও সচেতনতা হওয়া উচিত।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ।

 

চলো ভ্রমণে শুধু দু’জন… ২

বাড়ির সবার সাথে ফোনে কথা বলা শেষ করে সহযাত্রীর দিকে তাকালো সুবহা। গভীর মনোযোগ দিয়ে লিখতে কি যেন। একদম মুখোমুখি বসেছে সে তাই দেখার উপায় নেই কি লিখছে উনি। এত মনোযোগ দিয়ে কি লিখছে? লেখা দেখতে ব্যর্থ হয়ে লেখকের দিকে তাকালো সুবহা! চেহারার মধ্যে কি অদ্ভুত আত্ম নিমগ্নতা ছড়িয়ে গিয়েছে মানুষটির! মুগ্ধ না হয়ে পারলো না। খুব ইচ্ছে করতে লাগলো পাশে গিয়ে বসতে। কিন্তু নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে সে। অকারণেই ঝগড়া বাঁধিয়েছে ট্রেনে উঠার পর। দুষ্টুমির ছলে ঝগড়া যে সিরিয়াস পর্যায়ে চলে যাবে মোটেই বুঝতে পারেনি। কথায় কথায় জাফরকে বলে ফেলেছিল তোমাকে বিয়ে করাই আমার ঠিক হয়নি। বাক্যেটি শোনা মাত্র দপ করে নিভে গিয়েছিল জাফরের চেহারার আলো। শক্ত হয়ে গিয়েছিল চোখ মুখ। সুবহা কিছু বলার আগেই কঠিন স্বরে জাফর বলেছিল, পুরো জার্নিতে তুমি আমার সাথে কোন কথা বলবে না। না আমি তোমাকে চিনি, না তুমি আমাকে চেনো। এরপর হাজারটা কথা বলেছে, অসংখ্যবার সরি বলেছে কিন্তু জাফরের মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করাতে পারেনি। এজন্যই ফোনে কথা বলে কান ঝালাপালা করে দেবার চেষ্টা করেছে। যাতে বিরক্ত হয়ে কিছু বলে জাফর। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বই পড়ছে, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকছে, এখন লিখতে বসেছে। কিন্তু কথা তো দূরে থাক একটা শব্দ পর্যন্ত বের করছে না মুখ দিয়ে বান্দাহ। এত কঠোর মানুষ হয়? কিভাবে এই লোকের সাথে সারাজীবন কাটাবে ভেবে কিছুটা শঙ্কিত বোধ করলো সুবহা।

মা বড় ফ্লাক্সে করে চা/কফি দুটাই দিয়ে দিয়েছিলেন। নিজে চা নেবার সময় এক কাপ জাফরের সামনেও রাখলো। ওমা সাথে সাথে হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপ নিলো জাফর। একেই মনেহয় বলে জাতে মাতাল তালে ঠিক। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে মোবাইল নিয়ে ম্যাসেজ করলো সুবহা। আচ্ছা আমরা কি অপরিচিতদের মত কথা বলতে পারি? সাথে সাথেই জবাব এলো, হুম! আনন্দে হুরররে… বলে চিৎকার দিতে ইচ্ছে করলেও চিৎকারটা গরম চায়ের সাথে গিলে ফেললো সুবহা। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, আচ্ছা তো আপনি লেখক?

চোখ তুলে তাকালো জাফর। মুখে হাসি টেনে বলল, শখের লেখক বলতে পারেন। জীবনে ঘটমান হৃদয়াস্পর্শিত কথাগুলোকে মনের সাথে সাথে ডায়েরীর পাতাতেও টুকে রাখার চেষ্টা করি।

সুবহা বলল, এর সার্থকতা কি?

সার্থকতা কি সেটা তো ভেবে দেখনি। তবে কখনো যদি মন ভুলে যায় কোন সুন্দর মুহুর্ত। ডায়েরীর পাতার ভাঁজ থেকে সেটিকে সযতনে তুলে নেয়া যাবে।

এটাই তাহলে আপনার লেখক হবার পেছনের কারণ?

ইন্টারভিউ নিচ্ছেন নাকি?

নাহয় হলোই ইন্টারভিউ!

আমার আসলে লাভ স্টোরি পড়ার হবি আছে।

তো? এরসাথে লেখার কি সম্পর্ক?

আমি প্রথম লাভ স্টোরি পড়েছিলাম যখন আমার বয়স সাড়ে সাত বছর।

সুবহা চোখ বড় বড় করে বলল, সত্যি?

অবশ্যই সত্যি। বানান করে করে পুরো লাভ স্টোরি পড়ে ফেলেছিলাম। এরপর থেকে নিয়মিত পড়তাম।

আপনার বাবা-মা ধোলাই দেয়নি?

উনারা আসলে বুঝতেনই না যে আমি কঠিন সব বই পড়তে পারছি। তাই উনাদের চোখের সামনে বসেই জীবনের প্রথম আট দশটা লাভ স্টোরি পড়ে ফেলেছিলাম।

সুবহা হাসতে হাসতে বলল, শুধুই কি পড়েছিলেন নাকি কিছু মিছু বুঝেও ছিলেন ?

জাফর ঠোঁট টিপে হাসি চেপে বলল, সিরিয়াসলি লাভ স্টোরি পড়া শুরু করেছিলাম হাই স্কুলে উঠার পর। তখন কিছু মিছু না বেশ ভালোই বুঝতাম। কিন্তু বেশির ভাগ লাভ স্টোরিই আমার পছন্দ হতো না। কিছু অংশ খুবই বাজে লাগতো। একটা লাভ স্টোরি খুব পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু শেষে গিয়ে নায়িকা মারা যায়। আমি এটা কিছুতেই মানতে পারছিলাম না। খুব কান্না করেছিলাম। একটা সময় মনে হলো যে, আমি বোকার মতো কান্না করছি কেন? তারচেয়ে গল্পের এন্ডিংটা বদলে দেই। সেদিন থেকে শুরু আমার গল্পের অপছন্দনীয় অংশগুলোকে নিজের মনের পছন্দ মত লেখার। এরপর থেকে যদি একটা লাইনও আমার অপছন্দ হতো কোন বইয়ের আমি সেটা কেটে দিয়ে নিজের পছন্দের লাইন বসিয়ে দিতাম নীচে।

সুবহা হেসে বলল, শুনতেই অদ্ভুত রকম ভালো লাগছে। আমিও ইনশাআল্লাহ ট্রাই করে দেখবো আপনার এই পদ্ধতি। আচ্ছা এখনো কি এমন কিছু করছেন? অপছন্দনীয় কিছু কেটে দিয়ে পছন্দনীয় কিছু বসিয়ে দিচ্ছেন সে জায়গায়।

জাফর সামান্য হাসলো। কোন জবাব না দিয়ে আবারো লেখার মাঝে মগ্ন হলো।

লিখেছেন- ডা.আফরোজা হাসান। সাইকোলজিস্ট,মাদ্রিদ,স্পেন।

 

বাংলাদেশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে নির্মিত হলো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

নাচের মুদ্রায়, কোরিওগ্রাফির ভঙ্গিমায় আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকদের বঞ্চনা, কষ্ট, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের কথা উঠে এসেছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রামাণ্য নৃত্য প্রযোজনায়।

ইউরোপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি পোশাকের দোকানেই বাংলাদেশের পোশাক। ট্যাগে লেখা থাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিশ্রমে এই পোশাক তৈরি হয়, বিশ্বের ফ্যাশন বাজারে তা ক্রেতাদের মন রাঙায়। সেই শ্রমিকদের তো কমদামে শ্রম বিক্রি করে অর্থকষ্টে দিন কাটানোর জীবন। যেন নিজেকে পুড়িয়ে আলো ছড়ানোর কাজ তাদের।
জার্মান নির্দেশক হেলেনা ওয়াল্ডম্যানের জার্মান-বাংলাদেশি প্রযোজনা ‘মেড ইন্ বাংলাদেশ’ এবার প্রথমবারের মত ঢাকায় মঞ্চস্থ হবে আজ সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডের ১১টি শহরে এবং ভারতের ৪টি শহরে সফলভাবে মঞ্চস্থ করে এবার যেন নিজের ঘরে ফিরে এসেছে ‘মেড ইন্ বাংলাদেশ’। নৃত্য বিন্যাসে হেলেনাকে সহায়তা করেছেন কলকাতার কত্থক  নৃত্যশিল্পী বিক্রম আইয়েঙ্গর। বাংলাদেশে সহায়তায় রয়েছে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যেটে ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ এবং উপমহাদেশীয় সংস্কৃতি প্রসার কেন্দ্র-সাধনা।
এ প্রসঙ্গে সাধনার সাধারণ সম্পাদক, শৈল্পিক নির্দেশক ও নৃত্যশিল্পী লুবনা মারিয়াম বলেন, এই নৃত্যনাট্যটি খুবই আধুনিক আঙ্গিকে উপস্থাপিত হচ্ছে। হেলেনা ওয়াল্ডম্যান মূলত নাট্য নির্দেশক। কিন্তু তিনি কত্থকের দ্রুত শরীরীশৈলীকে অবলম্বন করে প্রযোজনাকে নির্মাণ করেছেন। তিনি এ প্রযোজনার মাধ্যমে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের কষ্ট, বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন, একইভাবে নৃত্যশিল্পীদের কষ্ট, বঞ্চনার বিষয়টিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সামগ্রিকভাবে যারা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে আয় করে তাদের প্রতি অবহেলাকে তুলে ধরে সমাজকে সচেতন করতে চেয়েছেন।
লুবনা মারিয়াম আরো বলেন, বাংলাদেশের মঞ্চে এটি খুবই আধুনিক একটি প্রযোজনা। যা আমাদের নৃত্যশিল্পীদের প্রথাগত নাচের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ ঘনিষ্ঠ কাজ করার দিকে নিয়ে থাকে। মূলত এর সঙ্গে যুক্ত থেকে আমরাও নতুন নৃত্যধারাকে আয়ত্ত করার চেষ্টা করছি।
আজ সোমবার পর পর দুবার নৃত্যনাট্যটি মঞ্চস্থ হবে প্রথমে দুপুর ২টা এবং পরে সন্ধ্যা ৭টায়। দুটি উপস্থাপনাই সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে আগে এলে আগে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সম্মানিত অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফারডিনান্দ ফন ভেইহে ও রণজিত্ বিশ্বাস।

জার্মান শহর লুড্উইগ্সহাফেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রযোজনাটি ২ মাস ধরে সফর করে বিভিন্ন দেশে। গত এক বছর ধরে ঢাকাতেই চলেছে গবেষণা, নির্মাণ পরিকল্পনা ও মহড়া। ১২ জন বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পীর অতি নিপুণ ও দক্ষ নৃত্য পরিবেশনার সাথে আরও ব্যবহূত হয়েছে আন্না সৌপের চলচ্চিত্র এবং হান্স নার্ভা’র সৃজনশীল সাউন্ড ট্র্যাক। এর নৃত্যশিল্পীরা হলেন মুনমুন আহমেদ, শাম্মি আক্তার, শারীন ফেরদৌস, মাসুম হোসেন, ঊমী আইরিন, মেলা লামিয়া, তৃনা মেহনাজ, হানিফ মোহম্মদ, টুমটুমি নুজাবা, বিশ্বজিত্ সরকার, শোমা শার্মীন ও লাবণ্য সুলতানা।

 

নিজের সৃষ্টি গুলো যেনো একঘেয়ে না হয়।- এ.আর.রহমান

'বিরক্তিকর না হয়ে ওঠাটাই গুরুত্বপূর্ণ'

তার কাজ যেন লোকের কাছে একঘেয়ে না হয়ে ওঠে- সে বিষয়ে সদা সচেতন এ আর রহমান।
অস্কারজয়ী এই ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালককে নিয়ে জল্পনা- কল্পনা কিংবা কৌতুহলের সীমা নেই। অন্য দশজন তারকার চেয়ে প্রচারমাধ্যমকে অনেক বেশি এড়িয়ে চলা বিশ্বখ্যাত এই সঙ্গীত তারকাকে নিয়ে অভাব নেই বিভ্রান্তিরও! তেমন কিছু বিভ্রান্তি ও কৌতুহল দূর হল বহুদিন পর প্রকাশিত এ আর রহমানের এক সাক্ষাৎকারে
বলিউডে কাজ করার খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না। প্রস্তাবগুলো কিভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছেন?
ক্যারিয়ারের এই সময়ে আমি শুধু সেইসব গান করতে চাই- যা আমাকে প্রেরণা যোগাবে। নইলে শ্রোতারা আমার গান শুনবে না। তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক পরিণত হবে দীর্ঘদিনের একঘেয়ে বিবাহিত জীবনের মতো।
আপনার গান সিনেমায় যেভাবে চিত্রায়িত হয়, তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট?
‘রং দে বসন্তি’ কিংবা ‘দিল্লি সিক্স’ সিনেমার কথা বলি। সেখানে গানগুলো ব্যবহার হয়েছে আবহসঙ্গীত হিসেবে। গানে ঠোঁট মেলাননি কেউ। সে কারণে যতখানি প্রতিক্রিয়া আশা করা হয়েছিল, পাওয়া গেছে তার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। গানে সিনেমার কোনো তারকা ঠোঁট মেলালে মানসিকভাবে তা দর্শকদের বেশি আকর্ষন করে। তারুণ্যনির্ভর সিনেমার গান নিয়ে আমার অধিক আগ্রহের এটাও অন্যতম কারণ।
'বিরক্তিকর না হয়ে ওঠাটাই গুরুত্বপূর্ণ'

অস্কার জেতার পর বিদেশে আপনার ব্যস্ততা বেড়েছে। দেশে-বিদেশে সময়ের সমন্বয় করছেন কিভাবে?

এটা একটু কঠিন; তবে বিদেশে কাজ থাকলে এক- দেড় মাসের জন্য আমি তাতেই ডুবে যাই। প্রযুক্তি অবশ্য বিষয়টাকে অনেক সাবলীল করে তুলেছে। আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতেও বিষয়টা এমন ছিল না। এখন দুনিয়ার যে কোনো জায়গা থেকে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন আমার সঙ্গে।
বিদেশে কি ধরনের কাজ করলেন?
কিছুদিন আগে শেষ করেছি ‘মিলিয়ন ডলার আর্ম’ ও ‘দ্য হান্ড্রেড-ফুট জার্নি’ নামে দুটি হলিউড ছবির কাজ। এই ছবির কাজগুলো একদম আলাদা। এখানে ভারতীয় কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করিনি।
যখন লম্বা সময়ের জন্য বিদেশে কাজ করতে যান। পরিবারের জন্য মন আনচান করে না?
এটা এক ধরনের আত্মত্যাগ। গানের জন্য। আমার অগোচরে আমার সন্তানেরা বড় হয়ে উঠছে। অবশ্য ওদের স্কুল ছুটি থাকলে সঙ্গে নিয়ে যাই। কিন্তু সব জায়গায় ওরা যেতে পারে না আমার সঙ্গে। কারণ তাদেরও নিজস্ব জীবন আছে। নিজের জন্য সেটাতে আমি বিঘ্ন ঘটাতে পারি না।
নিজের মতো করে খানিক বিশ্রাম করার সময়টা তো পান!
বিদেশে গেলে একটা সুবিধা আছে। কেউ পথেঘাটে ঘিরে ধরে না। রাস্তায় আশপাশের লোকরা চিনে ফেলার পরও ত্যাক্ত করতে আসে না। অনায়াসে এবং ঝামেলা ছাড়াই আমি লম্বা পথ হেঁটে পাড়ি দিতে পারি। দেশে থাকলে এটা হয় না।
'বিরক্তিকর না হয়ে ওঠাটাই গুরুত্বপূর্ণ'
৪৭ বছরে পা রাখলেন। তারপরও তারুণ্যনির্ভর সিনেমার গান কিভাবে করছেন?
আসলে আমি যখন তরুণ ছিলাম, তখন তারুণ্য অনুভব করার সুযোগ পাইনি। বাচ্চাকাল থেকেই আমার প্রচুর সময় কেটেছে চল্লিশোর্ধ সঙ্গীতজ্ঞের সঙ্গে। তারা পান চিবুতে চিবুতে ধ্রুপদী গানের গল্প করতেন। ছেলে বেলায় নিজেকে তাদের মতোই মনে হতো। এখন এই বয়সে এসে তরুণকালের চেয়েও বেশি তারুণ্য বোধ করি।
সূত্র: আইএএনএস ও হিন্দুস্তান টাইমস

 

চলো ভ্রমণে শুধু দু’জন… ১

বার বার চেষ্টা করেও বইয়ের দিকে মনোযোগ দিতে পারছে না জাফর। চোখ চলে যাচ্ছে সামনের সীটে বসে থাকা তরুণীর উপর। ট্রেন ছাড়ার পর থেকে গত দেড় ঘন্টায় এক মূহুর্তেও জন্য কথা বলায় বিরতি দেয়নি মেয়েটি। ক্রমাগত একজনের পর আরেকজনের সাথে ফোনে কথা বলেই যাচ্ছে। এই হাসছে, এই কাঁদছে, এই অভিমান করছে, শঙ্কিত হচ্ছে আবার পর মূহুর্তেই নিজেই কাউকে আশ্বস্ত করছে। চোখের সামনে এইসব কর্মকান্ড চলতে দেখলে বইয়ের দিকে মন দেয়াটা কষ্টকরই বটে। হাতের বই বন্ধ করে সীটে একটু হেলান দিয়ে বসে ভালো মত তাকালো জাফর মেয়েটির দিকে। খুবই সাধারণ একটি সুতির থ্রিপিস পড়েছে। দু’হাতে মেহেদির আল্পনা ছাড়া আর কোন গহনা বা প্রসাধনীর চিহ্ন চোখে পড়লো না কোথাও। তবে লাল টুকটুকে ওড়নাটা মাথায় তুলে দেয়ার কারণে নববধূর মত লাগছে মেয়েটিকে। কার সাথে যেন কথা বলতে বলতে হেসে ফেললো মেয়েটি। সাথে সাথে জাফরের মনেহলো এমন হাসি যাকে আল্লাহ দিয়েছেন কোন কৃত্রিম প্রসাধনীর প্রয়োজন তার নেই! চোখাচোখি হলে ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসির রেখে ফুটে উঠেই আবার মিলিয়ে গেলো মেয়েটির মুখে। জাফরও চোখ ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের তাকালো। ছুটে চলছে ট্রেন গন্তব্য পানে! দৃষ্টি বাইরে থাকলেও কি এত তার সহযাত্রীনি কথা বলছে সেটা শোনার চেষ্টা করলো জাফর।

শোন নিয়মিত মেডিসিন নিতে যেন ভুল না হয়। মেডিসিন নেয়ার পর আমাকে ম্যাসেজ লিখে জানিয়ে দেবে মেডিসিন নিয়েছো। আর কোন কাজেই যেন অনিয়ম না হয় বলে দিচ্ছি। উল্টো পাল্টা হলে কিন্তু আমি ফিরে এসে তোমাকে কঠিন শাস্তি দেব সেটাও বলে রাখছি। আরেকটা কথা মার দিকেও কিন্তু খেয়াল রাখবে। দুজন মিলে কান্নাকাটি করবে না একদম। যদি আমি টের পাই তোমরা কান্না করেছো! তাহলে কিন্তু আমিও কান্না করবো বলে রাখছি। বলো তুমি চাও আমি কান্না করি? হুম! এমন আমিও চাই না তোমরা দুজন কান্না করো বুঝেছো?! আর তুমি এতক্ষণ ওয়াশরুমে কি করছিলে? যদি আমার সেলফোনের চার্জ শেষ হয়ে যেত তাহলে তোমার সাথে কথা বলতাম কিভাবে? সময়ের মূল্য ওয়াশরুমে গিয়ে ভুলে গেলে চলবে? আবার হাসো কেন তুমি? সেলফোনের চার্জ নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না। আমি তিনটা মোবাইল ভর্তি করে চার্জ নিয়ে এসেছি। একটার চার্জ শেষ হলে আরেকটা দিয়ে কথা বললো। জাফরের একবার ইচ্ছে হলো বলে, তিনটা মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেলেও চিন্তার কিছু নেই। আমার কাছে যেটা আছে সেটা লোন দিতে কোনই আপত্তি নেই আমার। কিন্তু ইচ্ছেটা গোপন করে আবারো কথা শোনাতে মন দিলো। এখনো বাবাকে ধমকাচ্ছে তার সহযাত্রীনি কেন ওয়াশরুমে এতক্ষণ ছিল। বলে দিচ্ছে সর্বোচ্চ বিশ মিনিট থাকা যাবে ওয়াশরুমে।

কেমন যেন একটা সুখ সুখ আবেশ ছেয়ে গেলো জাফরের মনের মাঝে। সব মেয়েরাই কি এমন অদ্ভুত রকমের আদুরে হয়?! আল্লাহ চাইলে তার নিজের যদি কখনো মেয়ে হয় সে কি এই সহযাত্রীনির মতোই আদুরে হবে? সে ওয়াশরুমে কতক্ষণ থাকবে সেটাও নির্ধারণ করে দেবে?!

চলবে…

লিখেছেন- ডা.আফরোজা হাসান। সাইকোলজিস্ট,মাদ্রিদ,স্পেন।

 

আপনার প্রসাধনীর ৪টি ক্ষতিকর উপাদান!

প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করতে আপনাকে কেউ কি বারণ করেনি? প্রসাধন সামগ্রীতে ব্যবহৃত নানা উপাদান মানুষের দেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব প্রসাধনীর কোনোটিতে রয়েছে এমন সব উপাদান, যা থেকে মৃত্যুও হতে পারে।
প্রসাধন সামগ্রীর মাঝে রয়েছে বহু ক্ষতিকর উপাদান, এ উপাদানগুলোর কয়েকটি তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো।
১. প্যারাবেন
পাওয়া যায় : ময়েশ্চারাইজার, স্কিন স্ক্রাব ও ডিওডোরেন্টে।
প্যারাবেন উপাদানটি সাধারণত কসমেটিক্স ইন্ডাস্ট্রিতে ‘প্রিজারভেটিভ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ডারমাটোলজিস্ট ও কসমো ফিজিশিয়ান ড. মাধুরি আগরওয়াল বলেন, ‘এ মিশ্রণ হরমোনের কাজ ব্যাহত করে। এর ফলে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ে। এ ছাড়াও রিপ্রোডাক্টিভ টক্সিসিটি, ইমোউনটক্সিসিটি ও নিউরোটক্সিসিটির সম্ভাবনা বাড়ে।
এ পদার্থটি কিভাবে দেহের এমন ক্ষতি করতে পারে? যখন ময়েশ্চারাইজার ত্বকের সংস্পর্শে আসে তখন প্যারাবেন ত্বকের মাধ্যমে দেহের ভেতর প্রবেশ করে এবং রক্তকনিকার সঙ্গে মিশে যায়।
২. হাইড্রোকুইনন
পাওয়া যায় : ফেয়ারনেস ক্রিম ও ত্বক ফর্সা করার প্রসাধনীতে
হাইড্রোকুইনন এক ধরনের অ্যারোমেটিক অর্গানিক কমপাউন্ড।
ডারমাটোলজিস্ট ড. অমিত লুথরা বলেন, ‘হাইড্রোকুইনন থেকে মারাত্মক অ্যালার্জি হতে পারে। বহুদিন ধরে এটির নিয়মিত ব্যবহার ত্বকে নীল-ধূসর বর্ণচ্ছটা দেখা দিতে পারে, যার কোনো চিকিৎসা হয় না।’
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অনেকে এ উপাদানটির কারণে শ্বাসকষ্ট, বুকে যন্ত্রণা এবং মুখ ও জিহ্বা ফুলে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। কিছু ক্ষেত্রে এ উপাদান ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকের মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত করার কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও ইউভিবি এ সমস্যা হতে পারে।
৩. সোডিয়াম লউরেট সালফেট
পাওয়া যায় : শ্যাম্পু, বাবল বাথ পণ্য, টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশ।
এ উপাদানটির ভুল ব্যবহার করার কারণে আপনার মৃত্যুও হতে পারে। মূলত উপাদানটি ফেনা তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
এ বিষয়ে ডারমাটোলজিস্ট ও কসমো ফিজিশিয়ান ড. মাধুরি আগরওয়াল বলেন, ‘মানুষ যা জানে না তা হলো, এ উপাদানটি ত্বকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত করে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা তৈরি করে। আমরা এমন রোগীও পাই, যারা শরীরে এর বাজে প্রভাবের কারণে বিষণ্নতায়ও আক্রান্ত হন।’
উদ্বেগের বিষয় হলো, এ উপাদানটি কিছু টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশেও ব্যবহৃত হয়।
৪. প্যারা-ফেনিলেনিডিয়ামিন, পারদ ও সীসা
পাওয়া যায় : হেয়ার ডাই, হেয়ার কালার, লিপস্টিক ও মাসকারা
আপনি নিজেই চুলে রং করুন কিংবা সেলুন থেকে করুন, যাই হোক না কেন প্যারা-ফেনিলেনিডিয়ামিন (Para-Phenylenediamine ) উপাদানটি থেকে সাবধান। এটি অনেক সময় বাজার থেকে কেনা প্রক্রিয়াজাতকৃত মেহেদিতেও পাওয়া যায়।
এ উপাদানটি দেহের নানা ক্ষতি করে। এমনকি মস্তিষ্কের জন্যও এটি ক্ষতিকর। কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যান্সারের জন্যও দায়ী।
ডার্মাটোলজিস্ট ড. স্বাতী শ্রীবাস্তব জানান, লিপস্টিকে এ উপাদানটি রয়েছে কিনা, পরীক্ষা করুন। কিছু লিপস্টিকে সীসা থাকে, যা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। সামান্য পরিমাণে এ উপাদানটিও দেহের জন্য ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মানবদেহে সীসা বৈকল্য আনতে পারে। এতে শিক্ষা, ভাষা ও আচরণগত সমস্যা তৈরি হয়।
সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস।

 

শুরু হলো ৮ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব।

images
অপরাজিতা ডেস্কঃ  ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামীর স্বপ্ন’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ৮ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব। শনিবার রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরিতে সপ্তাহব্যাপী এ উত্সবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবারের উত্সবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ১০টি ভেন্যুতে ৪৮টি দেশের দুই শতাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত উত্সবটি আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। শিশুদের জন্য উত্সব উন্মুক্ত। প্রতিদিন বিকাল ৩টা , ৫টা ও ৭টায় শো অনুষ্ঠিত হবে। উত্সবে সারাদেশ থেকে ৫০ জন খুদে নির্মাতাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এরা চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা, সেমিনারসহ নানা আয়োজনে অংশ নেবে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ চলচ্চিত্র উত্সব আমাদের শিশুদের মন ও মানসের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ছবি নির্মাণের কাজে শিশুদের অংশগ্রহণের ফলে নতুন ধারণা জন্মাবে, জাগ্রত হবে নতুন চিন্তা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, উত্সবে অংশগ্রহণকারী শিশুরা বিশাল কর্মযজ্ঞে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখছে। এতে করে শিশুদের একটি ভাল মন তৈরিতে সহায়ক হবে।
উত্সব উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মুস্তফা মনোয়ার বলেন, যেদিন থেকে ছবি আকা শুরু হয়েছে সেদিনই মানুষ মানুষে পরিণত হয়েছে। চলচ্চিত্র মানেই সকল শিল্পকলার সমন্বিত রূপ। শিল্পকলা জানা মানে মানুষ হওয়া। মানুষ হতে হলে আমাদেরকে শিল্পকলার সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।
চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এ উত্সব শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এ উত্সবের মাধ্যমে শিশুরা সৃজনশীলতা ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুননী, উত্সব পরিচালক রায়িদ মোরশেদ প্রমুখ।

 

পুরস্কার প্রাপ্ত দেশের ১০ নারী ফ্রিল্যান্সার।

অপরাজিতা ডেস্কঃ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আউটসোর্সিংয়ে অবদান রাখায় ১০ নারীকে সংবর্ধনা দিয়েছে । বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং জগতে নারীদের অবস্থান প্রায় ৯% যার মধ্যে সম্ভাবনাময়ী এবং প্রতিষ্ঠিত এই দশ টি মুখ। অপরাজিতাবিডির আজকের সংখ্যায় আজ আমরা জানবো তাদের সম্পর্কে ,তাদের কাজ সম্পর্কে এবং এই পেশায় তাদের অবস্থান সম্পর্কে …

তানিয়া তাহমিনা

10385274_987552751260063_1845829035155788451_n

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) কম্পিউটার বিজ্ঞানে এমএসসি করছেন তানিয়া। বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে যুক্ত হন অনলাইন মার্কেট প্লেসে। কাজ শুরু করেন এসইও নিয়ে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ক্লায়েন্ট পান। এখন কাজ করছেন এইচটিএমএল কোডিং নিয়ে। মাসে আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আরো ভালো করতে শিখছেন গ্রাফিকস, জাভাস্ক্রিপট, পিএইচপি। চাকরি করার কোনো ইচ্ছাই নেই। নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন তানিয়া। প্রতিষ্ঠা করতে চান একটি আউটসোর্সিং ফার্ম।

জুঁই সাহা
2_179125
ইডেন মহিলা কলেজে গণিতে স্নাতকোত্তর করছেন জুঁই সাহা। মায়ের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন ২০১১ সালে। এসইও দিয়ে শুরু তাঁর ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের। বিভিন্ন বাংলা ব্লগ আর ইউটিউব ছিল তাঁর কাজ শেখার প্রধান উৎস। কয়েক মাসের মধ্যেই নিজের দক্ষতায় এসইও কাজ দিয়ে মার্কেটপ্লেসেও ভালো একটা অবস্থান পেয়ে যান। পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং আর ই-মেইল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করেন। ফলে সরাসরি বায়ারদের সঙ্গেও কাজ করার সুযোগ হয়ে যায়। ভবিষ্যতে আরো ভালো ক্যারিয়ারের জন্য কাজ করার পাশাপাশি ওয়ার্ডপ্লেস ডেভেলপমেন্টের কাজও শিখছেন। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন জুঁই।
ফারজানা তিথি
3_179126
মূলত চিত্রশিল্পী। তাই গ্রাফিকসে আগ্রহ বেশি। হাইটেক পার্কের অর্থায়নে বৃত্তি পেয়ে বিনা মূল্যে গ্রাফিকস প্রশিক্ষণ নেন ক্রিয়েটিভ আইটিতে। এরপর ২০১৪ থেকে শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং। তিথি বলেন, ‘আমি কাজ করি দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। দিনের কাজ শুরু হয় ক্লায়েন্টের ই-মেইল চেক ও উত্তর দিয়ে। প্রতিদিন গড়ে ছয় ঘণ্টা কাজ করি।’ বর্তমানে ক্রিয়েটিভ কিটেন্স নামে একটি গ্রুপের হয়ে কাজ করছেন। নতুনদের জন্য পরামর্শ দিতে গিয়ে তিথি বলেন, ‘ভালো ইংরেজি বলতে ও পড়তে শিখুন। কাজ যা শিখেছেন তার বাইরেও গুগল সার্চ করে টিউটরিয়ালগুলো দেখুন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাজগুলোর স্টাইল, রং, ফন্ট দেখুন। দক্ষতা বাড়বে।’
শবনম ইয়াসমিন
10338846_1588036561411036_375320732933279130_n
কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়ায় অনলাইন সম্পর্কে আগেই জানাশোনা ছিল। শিক্ষকদের কাছে শুনেছিলেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা। পরে নিজ আগ্রহেই ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট খোলেন। ২০১০ সালে এভাবেই শুরু হয় শবনমের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার। পরে চাকরিজীবনে প্রবেশ করায় তা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর বাচ্চার দেখাশোনা করতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আবারও ফ্রিল্যান্সিংয়ে মনোনিবেশ করেন। ঘরের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি দিনে তিন-চার ঘণ্টা ফ্রিল্যান্সিং কাজে ব্যয় করেন। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। শবনম বলেন, অনেকেরই ধারণা শুধু কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যবহার জানা থাকলেই সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট বিষয়ে স্পেশালাইজড না হতে পারলে কাজ পাওয়া খুব কঠিন।
ফৌজিয়া ইয়াসমিন
5_179128
ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্বাধীন ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল। তাই কলেজে থাকাকালেই একটি ফ্যাশন হাউস খোলেন ফৌজিয়া। কিন্তু পড়াশোনার চাপে সেটি বন্ধ করে দিতে হয়। তাঁর বোন ওডেক্সে এসইওর কাজ করতেন। তাঁকে দেখে একসময় তিনিও শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিবিসি) থেকে ওয়েব ডিজাইন ও এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ই-মার্কেটিং কোর্সও শেষ করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। ২০১১ সালে এসইও দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করা ফৌজিয়া এখন পুরোদস্তুর অনলাইন পেশাজীবী। মাসে আয় গড়ে ৬০ হাজার টাকা। ফ্রিলান্সিংয়ে আসতে চান এমন মেয়েদের ধৈর্য ও ইংরেজিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তাঁর।
আমেনা আক্তার
10389356_425344570954259_7565731174149690949_n
বাংলাদেশে চাকরি করতে গিয়ে নারীদের হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা বিরল নয়। এ প্রেক্ষাপটে চাকরি করার চেয়ে ঘরে বসে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংকে নারীদের জন্য উপযুক্ত মনে করেন আমেনা আক্তার। ২০১১ থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। প্রথমবার লিংকবিল্ডিংয়ের কাজ করে আয় করেন ১৫ ডলার। এর পরেরবার চারটি কাজের জন্য একসঙ্গে উত্তোলন করেছিলেন ৫৩৫ ডলার। এভাবেই এগিয়ে চলা। বর্তমানে প্রতি মাসে তাঁর গড় আয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। ফ্রিল্যান্সিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও কাজ করছেন তিনি। তাই এ বিষয়ে নারীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে খুলেছেন টেরিস্ট্রিয়াল আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
জিনিয়া সওদাগর
8_179131
ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রথম কাজেই ৭৬ ডলার আয় করেছিলেন আশা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষার্থী জিনিয়া। পড়াশোনার পাশাপাশিই ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন। উৎসাহ পেয়েছিলেন মায়ের কাছ থেকে। আর কাজ শিখেছেন নিজে নিজেই, অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করে। শুরু করেন ২০১৩ সালে। বর্তমানে ওয়েব রিসার্চ, আর্টিকেল রাইটিং, এসইও বিষয়ে কাজ করছেন। পড়াশোনার বিষয় ইংরেজি সাহিত্য হওয়ায় বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন সহজেই। পারদর্শিতা আছে ইন্টারনেট ব্যবহারেও। পড়াশোনার পাশাপাশি জিনিয়া মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকার মতো আয় করেন।
তানজিন আক্তার
7_179130
মার্চেন্ডাইজার হিসেবে চাকরি করছিলেন তানজিন। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর চাকরিটা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ল। অনলাইন মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারণা ছিল আগে থেকেই। তাই ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন। প্রশিক্ষণ নিলেন এসইও আর ওয়েব ডিজাইনের ওপর। প্রথম কাজ মেডিক্যাল ইলাস্টেশনের জন্য সম্মানী পান ১০০ ডলার। এখন মাসে আয় করছেন ৬০ হাজার টাকারও বেশি। ঘরে বসে না থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে উপার্জনকে নারীর জন্য ভালো সুযোগ বলে মনে করেন তিনি।
আয়েশা সিদ্দিকা
9_179132
আয়েশা ২০১০ সাল থেকে শখের বশে লেখালেখি করলেও আর্টিকেল রাইটার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন মূলত ২০১১ সালের শেষ দিকে। পাশাপাশি নিজের ফ্যাশন ব্লগ সাইটের ইমেজ এডিটিংয়ের কাজটাও করতেন নিজেই। শুরুতে গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজগুলো শেখেন গুগল আর ইউটিউব দেখে। এরপর দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ নেন ক্রিয়েটিভ আইটিতে। মার্কেটপ্লেসে প্রথম কাজে আয় করেন ৬০ ডলার। এখন দৈনিক পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অনলাইনে কাজ করে মাসে আয় করছেন ৪০ হাজার টাকার মতো।
নাঈমা চৌধুরী
10_179133
চাকরি পরাধীনতা না হলেও এটি আত্মতৃপ্তি দিতে পারে না। চাকরি করে এমন উপলব্ধিই স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহী করে তুলে নাইমা চৌধুরীকে। একসময় ফ্রিল্যান্সিংকেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। আউটসোর্সিংয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন ২০১৩ সালে। এরপর গ্রাফিকস ডিজাইনিংয়ের কোর্স করেন তিন মাস। কোর্স শেষে ভার্চুয়াল ওয়েব ডিজাইন-সংশ্লিষ্ট কাজ শুরু করেন। এখন তাঁর আয় মাসে ৩০ হাজার টাকার মতো। ভবিষ্যতে নারীদের নিয়ে নিজের একটা ছোট্ট টিম গড়ার স্বপ্ন দেখেন নাইমা।

 

বখাটের অত্যাচারে নিভে গেলো আরেকটি জীবন প্রদীপ!

অপরাজিতা ডেস্কঃ বখাটের অত্যাচারে দশম শ্রেণিতে উঠে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন নাহিদা আক্তার। যৌন হয়রানির ভয়ে লেখাপড়া ছেড়ে তিন বছর ধরে বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু বখাটে নাহিদ ছৈয়াল (২৬) পিছু ছাড়েনি। পথে-ঘাটে কোথাও সুযোগ পেলেই কুপ্রস্তাব দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল নাহিদ। একই সুযোগ নিতে বাড়ির একটি বিয়ে অনুষ্ঠানেও হাজির হয় নাহিদ ছৈয়াল। এখানে এসেও যৌন হয়রানি শুরু করলে প্রতিবেশীরা দোষারোপ করেন নাহিদাকেই। শেষ পর্যন্ত অপবাদ আর অপমান সইতে না পেরে বিয়েবাড়িতেই আত্মহত্যা করে বসেন নাহিদা আক্তার (১৮)।
গতকাল বুধবার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দিনারা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
প্রতিবেশী বাবলু গাজীর ঘরে গোপনে কীটনাশক পান করে তিনি আত্মহত্যা করেন। বাবলু গাজী নিজেও নাহিদাকে অপবাদ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বখাটে নাহিদ একই গ্রামের আলী আকবর ছৈয়ালের ছেলে। এ ঘটনায় নাহিদার মা-বাবা আত্মহত্যার প্ররোচনায় নাহিদ ছৈয়ালসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
নিহত নাহিদার পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনারা গ্রামের দিনমজুর মোখলেছ গাজীর মেয়ে নাহিদা আক্তার। প্রায় চার বছর আগে থেকে নাহিদাকে বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল নাহিদ ছৈয়াল। তখন (২০১১ সাল) নাহিদা একই গ্রামের শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে তাকে যৌন হয়রানি করত নাহিদ। এক পর্যায়ে নাহিদের অত্যাচার সহ্য সহ্য করতে না পেরে দশম শ্রেণিতে উঠে ২০১২ সালে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন নাহিদা। এর পরেও বিভিন্ন সময় নাহিদাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকে নাহিদ ছৈয়াল। কিন্তু নাহিদ গ্রাম-সম্পর্কে ভাগ্নে হওয়ায় তার প্রস্তাবে রাজি হননি নাহিদা। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নাহিদা সম্পর্কে বিভিন্ন কুৎসা রটাতে শুরু করে বখাটে নাহিদ।
মঙ্গলবার রাতে নাহিদাদের বাড়ির আবু তাহের গাজীর মেয়ে আলো আক্তারের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আসে নাহিদ ছৈয়াল। এ সময় বাড়ির অনুষ্ঠানে নাহিদাও অংশ নেন। রাতে নাহিদা একই বাড়ির বাবলু গাজীর ঘরে গেলে নাহিদ ছৈয়াল তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। এভাবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাঁকে উত্ত্যক্ত করে ও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। নাহিদা বিষয়টি তাঁর বান্ধবী জান্নাতকে জানান। পরে জান্নাতের সহায়তায় তিনি ওই ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। বিষয়টি পরে নাহিদা তাঁর মা-বাবাকেও জানান। কিন্তু পরিবারকে জানানোর কারণে গতকাল সকালে বাবলু গাজী ও বখাটে নাহিদের মামা নান্নুগাজী নাহিদাকে গালিগালাজ করে খারাপ অপবাদ দেন। ফলে মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে বাবলু গাজীর ঘরেই নাহিদা অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাঁর গায়ে পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনা হয়। জ্ঞান ফিরে আসার পর নাহিদাকে তাঁর মা নিজেদের ঘরে নিয়ে যান। কিন্তু ঘরের মধ্যে মেয়েকে রেখে আবার বিয়ে বাড়িতে আসেন নাহিদার মা আনোয়ারা বেগম। এই ফাঁকে খালি ঘরে ধানক্ষেতে দেওয়ার জন্য রাখা কীটনাশক নিয়ে তা বাবলু গাজীর ঘরে গিয়ে পান করেন নাহিদা। কীটনাশক পান করার পরে নাহিদা যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকলে বাড়ির লোকজন ছুটে আসে। প্রথমে তাঁকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থার অবনতি দেখে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। আর হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি মারা যান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। নাহিদার বান্ধবী জান্নাত আক্তার বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। সে সময় স্কুলে যাওয়ার পথে নাহিদ ছৈয়াল নাহিদাকে উত্ত্যক্ত করত।’ নাহিদার মা আনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিন বছর ধরে নাহিদ ছৈয়াল আমার মেয়েটাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ওর জন্য মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েটিকে বখাটে নাহিদ বাঁচতে দিল না। ওই বখাটের উৎপাতেই আমার মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’ এ ব্যাপারে কথা বলতে নাহিদ ছৈয়ালের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। নাহিদের মা জানুয়া  বেগম বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনাই আমার জানা নেই। এমন কোনো অভিযোগ নিয়ে মেয়ের পরিবার থেকে কেউ আমাদের কাছেও আসেনি।’
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ কবিরুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ‘অ্যালোভেরা’

প্রায় প্রতিদিনই বাইরে যেতে হয় নানা প্রয়োজনে। কিন্তু বাইরে বেরুলেই ধূলা-বালিতে ত্বকের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। ব্যস্ততার কারণে হয়তো পার্লারে গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সুযোগও হয়না।
 বিশেষজ্ঞরা বলেন, ত্বকের যত্নে সবচেয়ে ভাল প্রাকৃতিক উপাদান। কারণ প্রাকৃতিক উপাদানের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। তাই ত্বককে সুন্দর রাখতে প্রাকৃতিক উপাদান বেশি ব্যবহার করা উচিত।
অ্যালোভেরা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। এটি ত্বকের যত্নে খুবই উপকারী। ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে, মসৃণ রাখতে, দাগ মুক্ত করতে এবং ত্বকে ব্রণের উপদ্রব কমাতে অ্যালোভেরার তুলনা কম।
 বিশেষ করে যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তারা কেমিকেল ব্যবহার না করে নাইট ক্রিম হিসেবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহার করতে বাসা/বাড়িতেই লাগাতে পারেন অ্যালোভেরা গাছ। এতে প্রতিদিন তাজা পাতা পাওয়া নিশ্চিত হবে।
অ্যালোভেরা ত্বকে লাগাতে হলে প্রথমেই মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটি তাজা অ্যালোভেরার ভেতরের অংশ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। সেই রস তুলোর সাহায্যে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন।
 অ্যালোভেরার রস শুকিয়ে গেলে এভাবেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। সারারাত অ্যালোভেরার রস ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখবে।
তবে, তুলো বা সুতি কাপড় ছাড়া অন্যকিছু দিয়ে ত্বকে অ্যালোভেরা লাগানো ঠিক নয়। তাতে অ্যালার্জী হওয়ার ঝুকি তৈরি হয়।
 অনেক সময় ত্বকে ক্ষত দেখা দেয়। এ ধরনের ক্ষতে নির্ভয়ে ব্যবহার করা যায় অ্যালোভেরা। এতে ক্ষত স্থান দ্রুত মসৃন হয়।
তবে শুধু মুখের জন্য নয়, পুরো শরীরে ব্যবহার করা যায় অ্যালোভেরা। এক্ষেত্রে সাবধানতা হলো, অ্যালোভেরার রস ত্বকে লাগিয়ে রোদে যাওয়া যাবে না। তাতে উল্টো ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
সূত্র: আমেরিকানকি

 

ছুটির দিনে বিকেলের নাস্তা

ছুটির দিন মানেই খাবারে থাকবে ভিন্ন আমেজ! প্রায় ছুটির দিন ই হয়তো বাইরে খাওয়া হয়। কিন্তু যখন বাসায় থাকা হয় তখন পরিবারের সবাই মিলে ছুটির দিনের বিকেলে অন্যান্য দিনের চাইতে একটু ভিন্ন স্বাদের নাশতা করতে পারলে মন্দ কি?
চিকেন বল শাসলিক

যা লাগবে : চিকেন কিমা ২৫ গ্রাম, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচি ৪ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, বাঁশের কাঠি কয়েকটি, তেল পরিমাণমতো, বেবিকর্ণ ছোট ছোট টুকরা করা আধা কাপ, ব্রকলি অল্প সিদ্ধ করা ছোট ছোট টুকরা আধা কাপ, গাজর ছোট ছোট টুকরা ৮-১০টি, সয়াসস ১ চা চামচ, সস ১ টেবিল চামচ।

যেভাবে করবেন : চিকেন কিমার সঙ্গে অন্যান্য উপকরণ মাখিয়ে নিন। ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে গোল গোল করে অল্প সিদ্ধ করে নিন। চিকেন বলের সঙ্গে সব সবজি, লবণ, সস, সয়াসস মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এরপর লাঠিতে পর্যায়ক্রমে গেঁথে নিন। প্যানে অল্প তেল দিন। সব শাসলিকগুলো ভেজে তুলুন। পরিবেশন করুন সাজিয়ে।

10922613_913295602028737_3958580934994440925_n এগ-ব্রেড-রোল

ডিমের রুটি রোল

যা লাগবে : আটা ২০০ গ্রাম, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, ডিম ২টি, ধনেপাতা কুচি ১ চা চামচ। পেঁয়াজ কুচি ১ চা চামচ, তেল পরিমাণমতো, সস ১ টেবিল চামচ, পানি পরিমাণমতো।

যেভাবে করবেন : আটার সঙেগ স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং পানি দিয়ে ভাল করে মাীখয়ে ডো তৈরি করুন। গোল গোল করে রুটির মত বেলে তাওয়াতে সেকে নিন। ডিমের সঙ্গে লবণ পেঁয়াচ মিশিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে রাখুন। তেল গরম করুন। এতে ফেটানো ডিম দিয়ে ওমলেট তৈরি করে নামিয়ে ফেলুন। তৈরি করা রুটির মাঝখানে ওমলেট ও সস দিন। এরপর রোলের মত করে মাঝখান দিয়ে কেটে পরিবেশন করুন।

 

কোথায় এবং কি কি কেনাকাটা করবে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য…

বিয়ের ষোলো আনা পূর্ণ করতে বিয়ে-অনুষঙ্গের ব্যবহার যুগ-যুগান্তরের। রীতিমতো বরের হাত ধরে কনের বাড়িতে বিয়ের উপকরণের পসরা বসে। তাই তো বিয়ে-পূর্ব অনুষঙ্গের কেনাকাটার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাজধানীর বিয়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, শহরটির বিভিন্ন মার্কেট ও ফ্যাশন হাউসসহ বেশকিছু দোকানে বিয়ের উপকরণের মেলা বসেছে। এগুলোর মধ্যে এলিফ্যান্ট রোডে রয়েছে ৩০টিরও বেশি দোকান। আর হিন্দুদের বিয়ের জন্য শাঁখারীপট্টির প্রায় পুরোটাজুড়ে রয়েছে অগণিত দোকান। এ ছাড়া বিয়ের অনুষঙ্গ পাইকারি কেনার জন্য ঢাকার চকবাজারে রয়েছে বেশ কিছু দোকান।
বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় উপকরণ
black leather label on a black suitcase
*লাগেজ
বিয়ের উপকরণ হিসেবে বিয়ের লিস্টের প্রথমেই থাকে বিভিন্ন আকারের লাগেজ। সহজে কেনাকাটা করতে এই লাগেজ আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। প্রেসিডেন্ট, ডেসি মিলানসহ অসংখ্য ব্র্যান্ডের লাগেজ বাজারে পাওয়া যায়। এরমধ্যে আপনার পছন্দের লাগেজটি প্রথমেই সংগ্রহ করে নিন। ব্র্যান্ডেড লাগেজগুলোর দাম শুরু হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে। তবে আকারভেদে এর দাম হতে পারে ৯ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। চাইলে নন-ব্র্যান্ডেড লাগেজ কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লাগেজের দাম শুরু হবে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে।
2.0_154519_0 untitled-1_105579
*শেরওয়ানী,পাগড়ী,নাগরা
এরপর প্রয়োজন বরের শেরওয়ানি। বিভিন্ন মানের শেরওয়ানির দাম পড়বে ৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বরের শেরওয়ানির সঙ্গে পায়জামার দাম পড়বে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। বরের শেরওয়ানির জৌলুস আরও ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন পড়ে ওড়নার। এর দাম ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর পাগড়ির দাম পড়বে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বিয়ের উপকরণ বিক্রেতা মেহজাবিন তামান্না বলেন, বিয়েতে আরও কিছু উপকরণের প্রয়োজন রয়েছে, যা প্রতিটি বিয়ের আয়োজনকে পরিপূর্ণ করে তুলবে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বরের নাগরা জুতা। এর দাম পড়বে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা।
pan-supari  pinterest-680x450 untitled-1_31423
*ডালা-কুলা,পালকী ইত্যাদি 
গায়ে হলুদ এবং বিয়ের অন্যান্য আয়োজনে বাহারী ডিজাইনের ডালা,কুলা ইত্যাদি খুবই প্রয়োজনীয়। এলিফ্যান্ট রোডে বিয়ের ডালা, কুলা, বাটি/প্রদীপ, রাঁখি ইত্যাদির দাম পড়বে ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। বিয়ের উপটান, সোন্দা, চন্দন, চন্দন তেল, সোহাগপুরী ইত্যাদির দাম পড়বে ৩৫০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। কনের জন্য আলতা ৩০ থেকে ৬০ টাকা, মেহেদি ৪০ থেকে ১২০ টাকা, পাটি ১৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, হলুদ তোয়ালে ১২০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।
বিয়ের অনুষঙ্গের মধ্যে আরও রয়েছে আফসান, রুমাল, পালকি ও ঝুড়ি। এগুলোর দাম পড়বে ১০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়াও পান-সুপারী, মাছডালা ২৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টুথপিক ২০ থেকে ৫০ টাকা, তাজা গোলাপ ফুল প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকা, সাদা ফুল প্রতি পিস ৪ থেকে ৬ টাকা, রজনীগন্ধা প্রতি স্টিক ৫ থেকে ১০ টাকা।
wedding_jamdani3image_255_459261_3
*কনের শাড়ী
এ ছাড়া বিয়ের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কনের শাড়ি তো থাকছেই। বিয়েতে কনের জন্য লাল, সাদা, নীল, মেরুন, ভারী কাজের শিফন, জামদানি, বেনারসি বা জর্জেট শাড়ি থাকতে পারে। শাড়ির মধ্যে কমলা বা সবুজ রঙের শাড়িও রাখতে পারেন। বিয়ের শাড়ির সঙ্গে অতিরিক্ত দুটি সুতি বা হাফ সিল্কের শাড়ি রাখতে হয়। স্বর্ণের গহনার পাশাপাশি শাড়ির সঙ্গে অ্যান্টিক লুক বিভিন্ন পাথরের তৈরি নেকলেস বা কানের দুলও দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে কনের বিয়ের বেনারসি, শিফন, জর্জেট ও জলপাই রঙের শাড়িসহ বিয়ের সব শাড়ির দাম পড়বে ৬ হাজার থেকে ৭০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর জুতার দাম পড়বে ১ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।
কোথায় পাবেন
বিয়ের যাবতীয় উপকরণ কিনতে আপনাকে যেতে হবে রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লুবনান, বাংলার মেলা, ইনফিনিটি, ও টু, রঙ, অঞ্জন’স, কে-ক্র্যাফট প্রভৃতি। এ ছাড়া যেতে পারেন রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, বেইলি স্টার, ফরচুন, টুইন টাওয়ার, মৌচাক, গুলশান, বনানী, হাতিরপুল, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, চাঁদনীচকসহ বিভিন্ন মার্কেটের শোরুমগুলোতে। তাই আর দেরি কেন! দিনক্ষণ ঠিক রেখে বাজেট করে বিয়ের বাজারে এখনই নেমে পড়ুন।
app[arance111 be1c6ed3-b1dc-46b9-82ed-b44c3b41da61
জুতা
বিয়ের অনুষ্ঠানে সাজসজ্জা ও পোশাকের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে হয়। আর তা হলো জুতা। বর-কনে উভয়ের জুতা হতে হবে অনুষ্ঠানের উপযোগী। অনেক জুতা আছে যা খুব কষ্ট করে পরতে হয়। বিয়েতে এমন জুতা পরিহার করাই উত্তম। এতে সহজেই পায়ে দাগ পড়ে যেতে পারে। কনে শাড়ি বা লেহেঙ্গার সাথে উঁচু হিল পরতে পারে। ফ্ল্যাট স্যান্ডেল শাড়ির সাথে মানানসই হবে না। আর বরের জন্য বিয়েতে পাঞ্জাবির সাথে নাগরা মানানসই হতে পারে। বউভাতে স্যুট প্যান্টের সাথে মানানসই জুতা। এক্ষেত্রে জুতার রং স্যুট-প্যান্টের বিপরীত রং হলে ভালো হয়। তবে যাই পড়া হোক না কেন, খেয়াল রাখতে হবে তা যেন আরামদায়ক হয়।

 

বিয়ের আগে ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্ন

বিয়ের আগে থেকেই শরীরের যত্নের পাশাপাশি চুলেরও যত্ন নিতে হবে সমানভাবে। চুলের যত্নে প্রথম ও শেষ কথাই হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। প্রত্যেকের চুলের ধরন এক নয়, তাই চুলের ধরন অনুযায়ী যত্নের প্রয়োজন। চুলের বাড়তি যত্ন নিয়ে এবারের আয়োজন—
শুষ্ক চুল
শ্যাম্পুর ২/৩ ঘণ্টা আগে পুরো মাথায় উষ্ণ হেয়ার অয়েল লাগিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। ১৫/২০ মিনিট। ডিমের সাদা অংশ, ১ চামচ আমলকির গুঁড়ো, ১ চা চামচ মেথি গুঁড়ো, ২ চামচ টকদই, ২ চামচ মধু, একটি জবাফুল বাটা—একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে পুরো চুলে এক ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ভেষজ কোনো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আর খুশকি থাকলে প্যাকটির সঙ্গে লেবুর রস মেশান। শুষ্ক চুলে কোমলতা ও মসৃণতা ফিরিয়ে আনতে পাকা কলা, পাকা পেঁপে ও মধু একসঙ্গে পেস্ট করে প্যাক বানিয়ে মাথায় লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
তৈলাক্ত চুল
শ্যাম্পুর আগের রাতে রিটা, শিকাকাই, আমলকি ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ফুটিয়ে সেই পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন। এমন চুলে তেল ও কন্ডিশনার ব্যবহার না করলেও চলে। ২ চামচ ভিনেগার, ১টা ভিটামিন ই ক্যাপসুল, ১ চামচ লেবুর রস, ১টা ডিমের কুসুম মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ৩০-৪০ মিনিট পুরো মাথায় লাগিয়ে রেখে হার্বাল শ্যাম্পুতে চুল ধুয়ে ফেলুন। শেষে এক মগ পানিতে চায়ের লিকার, ভিনেগার মিশিয়ে পুরোচুল ধুয়ে ফেলুন। এত চুলের তেলতেলে ভাব, প্রাণহীনতা দূর হয়ে ফিরে আসবে বাউন্স; যা চুল আছে দেখাবে তার থেকে অনেক বেশি। খুশকির সমস্যা থাকলে এক চামচ নিপাতার রস, আধা চামচ তুলসিপাতার রস, দু-চামচ মেথি বাটা, এক চামচ ভৃঙ্গরাজ, এক চামচ ভিনেগার ও এক চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে পুরো চুলে আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। যেদিন প্রথম প্যাকটি লাগাবেন তার দ্বিতীয় দিন দ্বিতীয় প্যাকটি লাগাবেন।
স্বাভাবিক চুল
উজ্জ্বলতা বাড়াতে সপ্তাহে দু-দিন, ২ চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ চামচ কেশুতপাতা বাটা, ২ চামচ মধু, ১ চামচ আমলা ও ব্রাহ্মীতেল, ১ চামচ ভিনেগার, আধা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন চল্লিশ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগান। চুল চিকন করতে মেথি ও লেটুসপাতা ফোটানো পানিতে ১ চামচ ভিনেগার, আধা কাপ চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
পারফিউম
বিয়ের সাজকে আরও বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বেছে নেয়া যেতে পারে বিভিন্ন সুগন্ধি। সুগন্ধি নারী-পুরুষ উভয়েরই খুব পছন্দের সামগ্রী, যা ব্যক্তিত্বে নতুন মাত্রা এনে দেয়। শীত মৌসুমে আম্বার, ভ্যানিলা বা সিনামন জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া উল ওয়াটার, স্কাটা, বারবারি, কোরাস ক্যালাভিন পারফিউম ব্যবহার করা পারে। হলুদ উত্সবে নিজেকে আরও প্রাণবন্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে ফুলের মিষ্টি সুগন্ধি। বিয়ের অনুষ্ঠান যদি দিনে হয়, তবে হালকা ধরনের সুগন্ধি বেছে নেওয়া উচিত। আর রাতের জমকালো অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা যেতে পারে কড়া কোনো পারফিউম। বিয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত একটু গাঢ় সৌরভের পারফিউম ব্যবহার করাই উত্তম। তা না হলে এত মানুষের ভিড়ে আপনার সুগন্ধির উপস্থিতি হারিয়ে যেতে পারে।
চুল ভালো রাখতে কিছু নিয়মাবলি
l ভিজা চুল আঁচড়াবেন না বা বাঁধবেন না। চুল আঁচড়াবেন ধীরে ধীরে। বিয়ের আগে চুল ট্রিম করুন।
l প্রয়োজনে শ্যাম্পু করুন প্রতিদিনই। চুল ধোবেন প্রচুর পানি দিয়ে। যাতে শ্যাম্পু চুলে থেকে না যায়। ময়লা চুলে তেল দেবেন না। এতে চুল বেশি পড়ে।
l নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
l কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট (চুল কালার) করালে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন চুলের বাড়তি যত্নের।
l ব্যবহূত হেয়ার ব্রাশ বা চিরুনি নিয়মিত পরিষ্কার রাখবেন।
l ২ মাসে একবার অন্তত চুল ট্রিম করানো ভালো। বেশি হেয়ার ড্রায়ারের ব্যবহার চুলের জন্য ক্ষতিকারক।
l ভিটামিন বি, সি, ই ও প্রোটিনযুক্ত খাবার চুলের জন্য ভালো।
l পানি বেশি পরিমাণে খান। শাকসবজি ও ফলে চুলের চিকনতা বাড়ে। রাতে টানা অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।
l শ্যাম্পুর এক-দু ঘণ্টা আগে মাথায় তেল লাগিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। গরম পানিতে টাওয়েল ভিজিয়ে পানি নিংড়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। কয়েকবার করুন, তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চায়ের লিকারে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পুর পরে এই মিশ্রণে মাথা ধুলে চুলের মসৃণতা ফিরে এসে চুল পড়াও বন্ধ হবে।
l ক্লিপ, হেয়ার ব্যান্ড ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখবেন সেগুলো চুলের গোড়ায় যেন টান সৃষ্টি না করে। এতে চুল ছিঁড়ে বা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
l সূর্যতাপে চুল রুক্ষ হয়। তাই রোদে বেরোলে ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। বৃষ্টির পানিতে চুল ভিজলে শ্যাম্পু করে নিন।
কসমেটিকস
বিয়ে প্রতিটা মেয়ের জন্যেই অতি আকাঙ্ক্ষিত একটি দিন। বিয়ের হাজারো ধুমধামের বড় একটি অংশ হলো কনের সাজগোজ। আর বিয়ের শপিং লিস্টে হাজারো জিনিসের ভিড়ে উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে থাকে কসমেটিকস আইটেম। শুধু হলুদ, বিয়ে আর বউ-ভাতের দিনই নয়, বিয়ের পরও কসমেটিক্সের প্রয়োজন পড়ে। ঘরোয়া অনুষ্ঠানগুলোতে ন্যাচারাল লুক বেশি মানানসই। তাই বেছে নিতে হবে লাইট ফাউন্ডেশন যা আপনার ত্বকের সাথে সহজেই মানিয়ে যায়। মেকআপকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে ভালো ফেসপাউডার বেছে নিতে হবে, যা টাচআপ হিসেবে কাজ করে। চোখ সাজানোর জন্য আইলাইনার, কাজল মাশকারা ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠোঁটের জন্য শাড়ির সাথে মানানসই কিংবা উজ্জ্বল রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে হবে। নিন উজ্জ্বল, ন্যাচারাল শেডের আইশ্যাডো। আলাদা না কিনে বেছে নিন বক্স বা প্যালেট। যা ঝটপট তৈরি হতে সাহায্য করবে। নেইল পালিশ হিসেবে লাল গোল্ডেন ব্যবহারে হাতের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে। তবে সব কিছুর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো মেকআপ রিমুভার। প্রতিবার মেকআপ ব্যবহারের পর রিমুভার দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।
সূত্র- ইত্তেফাক

 

মধ্যরাতে পেট্রোলবোমা হামলায় মা-মেয়ে দগ্ধ

লাগাতার অবরোধের মধ্যে রাজশাহীতে মধ্যরাতে ঢাকাগামী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় মা-মেয়ে দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর ভদ্রা ভাংড়িপট্টি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় থাকা গাড়িবহরের মধ্যে ওই বাসে এ হামলা হয় বলে বোয়ালিয়া থানার ওসি খন্দকার নূর হোসেন জানিয়েছেন। বোমা হামলার পর বাস থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আরো দুজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
দগ্ধ মা আম্বিয়া বেগম (৪৫) ও মেয়ে রিফাতসহ (১৭) আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
আম্বিয়া বেগমের দুই হাতসহ মুখের বাঁ অংশ এবং রিফাতের বাঁ হাতের কিছু অংশ ঝলসে গেছে। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর গ্রামে। ইসরাইল হোসেনের মেয়ে রিফাত ঢাকা পলিটেকনিকের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্রী। পরীক্ষায় অংশ নিতে অবরোধের মধ্যেই মাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার পথে ছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি অপর দুজন হলেন : সুফিয়ান (৫০) ও তার ছেলে মাইনুল (২০)।
ওসি নূর হোসেন জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় শিশির এন্টারপ্রাইজের ওই বাসসহ ১৫/১৬টি যানবাহন ঢাকা যাচ্ছিল। ওই বাসের পেছনে আরো দুটি বাস ও একটি ট্রাক ছিল। গাড়িবহরটি রাত ১২টার দিকে রাজশাহী টার্মিনাল থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই বাসটিতে হামলা হয়। কয়েকজন দুর্বৃত্ত গলির ভেতর থেকে বাসটি লক্ষ্য করে একটি পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। বাসের মাঝের একটি জানালার কাচ ভেঙে বোমাটি ভেতরে ঢুকে ছয়টি আসন পুড়ে যায়। এ সময় মা-মেয়ে দগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আসার আগেই বাসের লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে।
বিরোধী দলের গত ৫ জানুয়ারি সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেওয়ার পর প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি ভোররাতে রংপুরের মিঠাপুকুরে ঢাকামুখী একটি বাসে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
সূত্র- ইত্তেফাক

 

হাতের কাছেই থাকুক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের খুঁটিনাটি!

বছরজুড়ে এখন লেগে থাকে রাজ্যের অনুষ্ঠান। হই-হুল্লোড়ে চলে নানা আয়োজন। সেসব আয়োজন সুন্দর ও রুচিশীল করতে অনেকেই মুখোমুখি হন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের। বিয়েশাদির ঝক্কি কম নয়। ক্যামেরা, রং-তুলি, থালা-বাসন, হলুদ-মরিচ, পায়জামা-কুর্তা, লাইট-গেট অনেক কিছু মিলিয়ে তবেই না বিয়ে! এখনকার ব্যস্ত সময়ে বর-কনের তো কবুল বলার ফুরসতও সহসা মেলে না। যারা একটু গোছগাছ স্বভাবের তারা কিন্তু কাজটা করে দিতে পারেন। আর এরকমই কিছু মানুষের সহায়তা নিয়ে আপনার অনুষ্ঠানটিও সুন্দর করে তুলতে পারেন। কয়েকটির নাম, ঠিকানা দেখে নিন।
l এ ওয়ান মিডিয়া ইডিজিই
৪২/২, পরীবাগ রোড, বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন :০১৯১১৩১৩১৪১
l অ্যারেঞ্জারস
এল/২, ব্লক-ই, কাজী নজরুল ইসলাম রোড
মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।
ফোন :৯১০৩১৬৮
l ইভেন্ট জকি
২১৮, সাহেরা সার্কেল, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন-৮৬৩১৩১৬
l ফিউশন ইভেন্টস সলিউশন
৬৫, গৌরনদী হাউস, পশ্চিম ধানমন্ডি, শংকর, ঢাকা-১২০৯।
ফোন :০১৯১৫৪১০১৭৪
l লুসিড
বাড়ি-৪৬৯, সড়ক-৮, বারিধারা ডিওএইচএস, ঢাকা।
ফোন :০১৭১৬৬১১২৩০
l ওয়াটারমেলন কমিউনিকেশন
বাড়ি-২৩/এ, সড়ক-৩, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫। ফোন :৯৬৭২৯৪২

 

আপনার শিশু কি কনভার্সন ডিসঅর্ডারে ভুগছে?

কেস হিস্ট্রি-এক

দশ বছরের মার্জিয়া প্রতিবছর পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করছে। লেখাপড়ায় ভালো, তাই সবার কাছে যথেষ্ট আদর-স্নেহ পায়। কিন্তু এ বছর বার্ষিক পরীক্ষার আগে হঠাৎ করে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর পড়াশোনা হচ্ছে না। শারীরিক অবস্থার কারণে প্রথম স্থান ধরে রাখা নিয়ে মার্জিয়া ভীষণভাবে চিন্তিত। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। ডাক্তার জানালেন, তাঁর কনভার্সন ডিসঅর্ডার হয়েছে।

কেস হিস্ট্রি-দুই

সিলভিয়া ১৪ বছরের প্রাণবন্ত মেয়ে। হঠাৎ তার হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। সে হাতে-পায়ে শক্তি পাচ্ছে না। তাকেও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হলো। মার্জিয়ার মতো সিলভিয়ারও শারীরিক পরীক্ষায় কোনো রোগ ধরা পড়েনি। তবে ডাক্তার জানালেন, এটি কনভার্সন ডিসঅর্ডার। ডাক্তারের পরামর্শে তাকে সাইকোথেরাপির জন্য আনা হলে কয়েক সপ্তাহের সাইকোথেরাপি শেষে সিলভিয়া সম্পূর্ণ ভালো হয়ে ওঠে।

অনেক শিশু মার্জিয়া ও সিলভিয়ার মতো বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে কনভার্সন ডিসঅর্ডারে ভুগছে। যথেষ্ট সচেতনতার অভাবে তাঁরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। ফলে তাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এর প্রভাবে পরবর্তী জীবনেও নানা ধরনের শারীরিক ও আবেগীয় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। কনভার্সন ডিসঅর্ডার সম্পর্কে সচেতন হলে শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। জেনে নিই কনভার্সন ডিসঅর্ডার বিষয়ে।

লক্ষণ

কনভার্সন ডিসঅর্ডারের উপসর্গ দেখলে মনে হবে, নিউরোলজিক্যাল কোনো সমস্যা হয়েছে। হয় সে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সংবেদন করতে পারছে না, নয়তো শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াতে পারছে না বা শক্তি পাচ্ছে না। আবার খিঁচুনি বা সংজ্ঞা হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয় কনভার্সন ডিসঅর্ডারে। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সংবেদন করতে না পারার মধ্যে রয়েছে-চোখে দেখতে না পাওয়া বা ঝাপসা দেখা, কানে না শোনা, ত্বকে স্পর্শের অনুভূতি না পাওয়া বা কম বা বেশি পাওয়া, শরীরে কোনো অংশে ব্যথা অনুভব করা ইত্যাদি।

ক্রিয়াগত বা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে-সম্পূর্ণ বা আংশিক প্যারালাইসিসের মতো উপসর্গগুলো, লেখার সময় হাত কাঁপা বা আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া, কোনো মাংসপেশির স্পন্দন, খিঁচুনি, হাঁটতে অসুবিধা, বাকশক্তি কাজ না করা বা ফিসফিস করে কথা বলা, মূর্ছা যাওয়া ইত্যাদি।
কেন হয়

মানসিক কোনো চাপ বা দ্বন্দ্ব প্রকাশ করতে বা সেগুলো দূর করতে না পারলে মনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যখন এই মানসিক প্রতিক্রিয়াগুলো প্রকাশও করতে পারে না আবার সহ্যও করতে পারে না, তখন শারীরিক লক্ষণ হিসেবে সেগুলো প্রকাশ পায়। এটিকেই কনভার্সন ডিসঅর্ডার বলে। শিশুরা তাদের আবেগ-অনুভূতি ও মতামত প্রকাশ করতে না পারায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা দেয়। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা কনভার্সন ডিসঅর্ডারে বেশি আক্রান্ত হয়।

বিশ্লেষণ

মার্জিয়ার মনের ভেতরে প্রথম স্থান হারানোর তীব্র ভয় জন্ম নেয়। কিন্তু মার্জিয়া ভয়টি স্বীকার করে না। কারণ সে প্রথম স্থান পাবে না, তা ভাবতেও পারে না। সে মনে করে, প্রথম স্থান না পেলে পরিবারে তাঁর কোনো গুরুত্ব থাকবে না। ভয়টি স্বীকার না করায় সে তা প্রকাশও করতে পারে না। মনের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব একাকী সামলাতে না পেরে শারীরিক উপসর্গ হিসেবে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তবে এর কিছুই তাঁর সচেতন মন জানে না। অর্থাৎ সে এগুলো ইচ্ছা করে করছে না।

চিকিৎসা

শারীরিক কারণ খুঁজে না পেয়ে অনেকে মনে করেন, এটি জিন-ভূতের আছর। ফলে শিশুটির ওপর কবিরাজি চিকিৎসা চলে। যা কখনো কখনো রোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বা নতুন কোনো রোগের সৃষ্টি করে। অথচ কনভার্সন ডিসঅর্ডারের প্রধান চিকিৎসা হলো সাইকোথেরাপি। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ওষুধের চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। সাইকোথেরাপিতে বিভিন্ন সাইকোলজিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর বা শিশুর ভেতরের না-বলা কথাগুলো অত্যন্ত দক্ষতা ও যত্নের সঙ্গে শোনা হয়। শিশু বা কিশোরীটির অন্তর্দ্বন্দ্বগুলো নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয় ও তা নিরসন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়। সাইকোথেরাপিতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শিশুটির প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পেইনগুলো খুঁজে বের করেন এবং সেগুলো কমানোর জন্য মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এভাবে শিশুটির সঙ্গে সরাসরি ও মা-বাবার মাধ্যমে দেওয়া চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

লেখক- তানজির আহমেদ তুষার। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সহকারী অধ্যাপক,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মহিলাদের থাইরয়েড সমস্যা।

মহিলাদের থাইরয়েড সমস্যা বেশি হয়। থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা মেয়েদের বেশি হওয়ার কারণ কি? এর লক্ষণসমূহ কি কি? এবং তা কিভাবে প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্ভব।
থাইরয়েড গ্রন্থি একটি নালীবিহীন গ্রন্থি; যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। থাইরয়েড শব্দটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ বর্ম। এটি গলার সামনে নিচের দিকে ও দু’পাশে থাকে। দেখতে প্রজাপ্রতির মত। এ হরমোন শরীরের বিপাক ক্রিয়া, শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, ক্যালসিয়াম-এর বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
বাংলাদেশ আয়োডিনের অভাবজনিত এলাকা, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে আয়োডিনের অভাব বেশি, সর্বশেষ জাতীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ লোক থাইরয়েডের বিভিন্ন রোগে ভুগছে।
এ সমস্যাটিকে আয়োডিন ডিফিসিয়েন্সি গয়টার বলা হয়। এই সমস্যার কারণে মেয়েদের ওজন বেড়ে যেতে থাকে, শীত অসহ্য লাগে, শরীরে ব্যথা হতে পারে, চুল পড়ে যেতে পারে, প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব হয়। মাসিক অনিয়মিত হবে, গলা ফুলে যাবে এবং পরবর্তী সময়ে বাচ্চা উত্পাদন ক্ষমতা হ্রাস পাতে পারে, বার বার গর্ভপাতের মত বিষয়ও হতে পারে, মেয়েটির মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্যহীন হয়ে যেতে পারে, বৃদ্ধি  হ্রাস পেতে পারে, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পেতে পারে।
উপরোক্ত  থাইরয়েড সমস্যাসমূহ খুব সহজেই প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব, প্রতিরোধের উপায় হলো যেসব তরল খাদ্যে বেশি পরিমাণ আয়োডিন থাকে তা খাওয়া। যেমন পানীয় জল, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, কর্ড লিভার অয়েল, আয়োডিন যুক্ত লবণ। রুটি, বিস্কুট, বাঁধাকপি ও ফুলকপি না খাওয়া। হাইপোথাইরয়েডের চিকিত্সা খুবই সহজ। আপনি ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে থাইরয়েড হরমোনের ঔষধ নিয়মিত সেবন করলে এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর চেকআপ করলে সারাজীবন সুন্থ জীবন-যাপন করা সম্ভব।
ডা: একেএম ফজলুল বারী
সহযোগী অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

ক্ষুদে বই পড়ুয়া,একদিনে যার পড়া হয় ৪৬৪পৃষ্ঠা!

১০বছর বয়সী মেয়ে ফেইথ জ্যাকসন বই পড়তে ভালোবাসে। কিন্তু কতটা?!

২০১৪সালে ফেইথ এর পড়া বইয়ের সংখ্যা সর্বমোট ৯৪২টা! এবং গড়ে প্রতিদিন আর পড়া বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় ৪৬৪ পৃষ্ঠার মতো! যা সত্যিই কৃতিত্বপূর্ণ কাজ!

যেখানে মানুষ ছোট থেকে বড় হতে হতে পড়ুয়া বইয়ের সংখ্যা হয়তো হয় এতোটা,সেখানে মাত্র এক বছরেই ফেইথ পড়ে শেষ করেছে এমন অস্বাভাবিক সংখ্যার বই!অবাককর ব্যাপার ই বটে! মজার ব্যাপার হলো,এতো এতো বই পড়ার পর এই ক্ষুদে বইয়ের পোকা এখন আর একলা একলা পড়তে পছন্দ করে না। আর তাই সে এখন বই পড়ে তার মতোই আরো কিছু বই পোকার সাথে।

ফেইথের এমন পড়ুয়া অভ্যাস কিন্তু একদিনে হয় নি। ফেইথের মা মিসেস জ্যাকসন এর ভাষ্যমতে, ‘ ফেইথ যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করে,তখন সে রিডিং পড়তে খুব ইতস্তত বোধ করতো,এবং সহজে সে পড়তে চাইতো না।’ ফেইথ এর এই সমস্যা দূর করার জন্য মিঃ এবং মিসেস জ্যাকসন মিলে ঘর ভর্তি স্কুলের বই এর বদলে যখন যে ধরনের বই পড়তে ফেইথ পছন্দ করে সেই সেই বই গুলো আনতে শুরু করলেন। আর সব সময় খেয়াল রাখতেন,যে কোন মূল্যে যেনো ফেইথ বই পড়তে বিরক্ত না হয়। যদি স্কুলের বই ভালো না লাগে তাহলে গল্পের বই পড়বে,গল্পের বই ভালো না লাগলে ফিকশন পড়বে,না হলে কমিকস পড়বে,ম্যাগাজিন পড়বে এই চিন্তা মাথায় রেখে তারা  নানান রকমের বই দিয়ে তারা ফেইথের জন্য লাইব্রেরি সাজিয়েছেন। আর এই লাইব্রেরি ই তৈরী করেছে আজকের এই ‘বই পড়ুয়া ফেইথ’ কে।

ফেইথ যখন ধীরে ধীরে বই পড়ায় অভ্যস্থ হয়ে গেলো,তখন থেকে সে বাছাই করতে শুরু করলো কি কি ধরনের এবং কার কার লেখা বই তার ভালো লাগে। ফেইথের বাবা-মা,তার সেই লিস্ট দেখে আর জন্য দুর্লভ থেকে শুরু করে সর্বশেষ পর্যন্ত সব রকমের কালেকশন লাইব্রেরীতে এনে রাখতেন এবং বিভিন্ন অকেশনে সুযোগ বুঝে মেয়েকে তার প্রিয় প্রিয় লেখকদের সাথে সাক্ষাৎ করাতে নিয়ে যেতেন,যাতে করে আরো বেশি বেশি বই পড়তে এবং  নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরী করতে ফেইথ সাহায্য ও উৎসাহ পায়।

ফেইথের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ এবং এই ছোট্ট বয়সেই জ্ঞানের পারদর্শীতায় মুগ্ধ হয়ে ফেইথ এর প্রিয় রাইটার হলি ওয়েব তার একটা বই উৎসর্গ করেন ফেইথ কে। বইটির নাম হচ্ছে, ‘দ্যা ফরগটেন পাপ্পি’। প্রিয় লেখকের কাছ থেকে এমন অনাকাংখিত আর অসাধারন উপহার পেয়ে ফেইথ অসম্ভব খুশী হয়।

বই পড়ার সংখ্যা যতো বাড়ছে দিনে দিনে ফেইথ ততোই কনফিউসড হচ্ছে,আসলে তার প্রিয় লেখক কে!! এবং সে এখন এই প্রশ্নের জবাব দিতে খুবই হিমশিম খায়! সেই সাথে আজকাল তো ফেইথ বিছানায় যেয়ে ঘুমাতেও ভুলে যায়,দেখা যায় বই পড়তে পড়তে সে চেয়ারেই বা বইয়ের স্তুপে ঘুমিয়ে গেছে!

বই মানুষের জীবন কে আলোকিত করে,মানুষকে আর জন্য সঠিক পথ খুঁজতে এবং সে পথে চলতে সাহায্য করে। এ কথাটার একটা উজ্জ্বল প্রমাণ হচ্ছে আজকের ছোট্ট মেয়ে ফেইথ জ্যাকসন। যে মেয়েটি ছোট্ট বেলায় রিডিং পড়তে চাইতো না আর আজ সে এক দিনেই ৫০০ এর কাছাকাছি বই পড়ছে এবং সে আফসোস করে যে সে এখনো ১০০০ পৃষ্ঠা করে একদিনে বই পড়তে শিখেনি তাই!!

ফেইথের বাবা-মা মেয়েকে বই পড়তে শিখিয়েছেন আর এই অভ্যাস ফেইথ কে শিখিয়েছে জীবনে  অনেক অনেক বড় হবার ইচ্ছে থাকতে হবে আর থাকতে হবে উপযুক্ত পরিকল্পনা। আর তাই ফেইথ যতই পড়ুক না কেন,জীবনে বড় হবার জন্য যা যা গুণ অর্জন করা দরকার তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে সে ভুলে না।

যার ফলাফল স্বরুপ,ক্লাসে ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি সাঁতারে,কারাতে এবং ম্যাথমেটিকস চর্চাত ফেইথ এর অবস্থান প্রথম সারিতে। সেই সাথে ফেইথ খুব পছন্দ করে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে। বিশেষ করে ছোট ভাই-বোন এলসা,জেমস,কর্ম্যাক এর সাথে গল্প করতে,তাদের কে বই পড়ে শুনাতে খুব ভালোবাসে।

এতো এতো বই পড়ুয়া মেয়েটি একদিন নিশ্চয়ই ভালো লেখক হবে,এমন চিন্তা অন্যরা করলেই এখন পর্যন্ত ফেইথ কেবল পড়তেই ভালোবাসে! কিন্তু বড়দের প্রত্যাশা আর উৎসাহ-সহযোগিতা থাকলে মনে হয় না খুব বেশিদিন সময় লাগবে এই ক্ষুদে পড়ুয়ার মেধা সারা বিশ্বকে নত্নুন প্রতিভাবান লেখক-বিজ্ঞানী আর সমাজ নির্মানের কারিগর উপহার দিতে।

সূত্র- ম্যানচেষ্টার ইভেনিং নিউজ। অনুবাদ করেছেন স্বপ্নকথা।

 

শীতের সবজি দিয়ে তৈরী করুন ভেজিটেবল বিরিয়ানী

প্রাকৃতিক ঋতু পরিবর্তনে আমাদের দেশে এখন শীতকাল। শীতের সময়ের সব চেয়ে বড় উপহার মনে হয় টাটকা পুষ্টিকর সব সবজি। কিন্তু আমাদের অনেকের বাড়িতেই যত উৎসাহ নিয়ে সবজি কেনা হয় সেভাবে আগ্রহ করে খাওয়া আর হয় না। পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সবজি খেতে না চাইলে একটু অন্যভাবে চেষ্টা করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারেন। খুবসহজে টেবিলে ভিন্ন স্বাধ যোগ করতে রান্না করতে পারেন চিকেন  ভেজিটেবল বিরিয়ানি।

MINOLTA DIGITAL CAMERA
উপরকণ : পোলাও এর চাল আধা কেজি, ফুলকপি ১টি, গাজর কুঁচি ১ কাপ, আলু কিউব করে কাটা ১ কাপ, বরবটি কুঁচি ১কাপ, মটরশুঁটি ১ কাপ, মুরগির মাংস কিউব ২ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ৬টি, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া সামান্য, জয়ফল ও ছোট এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাজু বাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ ঘি বা তেল পরিমাণমতো, লবণ ও পানি পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রাণালী : প্রথমে চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। সবজিগুলো ধুয়ে সেদ্ধ করে নিয়ে মসলায় মাংস দিয়ে নেড়ে কিছুক্ষণ পর সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন।
এবার আলাদা পাত্রে পোলাও রান্না করুন। কিছু পোলাও তুলে রেখে মাংসসহ সবজিগুলো কয়েক ধাপ সাজিয়ে ওপরে পোলাও দিয়ে পাত্রে ঢাকনা দিয়ে চুলার আচ কমিয়ে ১৫ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল দারুন মজার পুষ্টিকর ডিস চিকেন ভেজিটেবল বিরিয়ানি।

রেসিপি- মেহরিন কুইন।

 

ফেনীতে ৯বছরের গৃহকর্মীর উপর অমানুষিক নির্যাতন!

ফেনীতে শারমিন নামে নয় বছরের এক শিশু গৃহকর্মীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে এক গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে মোহনা আক্তার প্রিয়া (২৬) নামে ওই গৃহবধূকে আটক করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। আটক গৃহবধূ মোহনা আক্তার প্রিয়া ফেনী শহরের পেট্রোবাংলা এলাকার মাহি হাউজের রানার স্ত্রী।

শিশু শারমিন কুমিল্লার টমচম ব্রীজ এলাকার দরিদ্র রিপনের মেয়ে। মোহনা আক্তার প্রিয়ার বাসায় গত দুই বছর ধরে কাজ করছে সে। মাঝে মধ্যেই নানা অজুহাতে শারমিনের ওপর ফুটন্ত গরম পানি, কখনো গরম খুন্তির ছেঁকা দিয়ে নির্যাতন চালাতেন প্রিয়া ও তার স্বামী।
শিশু শারমিন জানায়, সামান্য ভুল-ভ্রান্তি কিংবা অমনোযোগী হলেই তার শরীরে গরম পানি ঢেলে ও খুন্তির ছেঁকা দিয়ে নির্যাতন করা হতো। আশ-পাশের লোকজন এসব জানলেও মাঝে মধ্যে প্রতিবাদ করতো। অবশেষে প্রতিবেশীদের খবরে পুলিশ শনিবার রাতে তাকে উদ্ধার করে। পরে শারমিন পুলিশকে তার উপর চালানো সব নির্যাতনের বর্ণনা দিলে তাকে পুলিশ হেফাজতে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
ফেনী মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহবুব মোরশেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শহরের পেট্রোবাংলা এলাকার মাহি হাউজ থেকে শনিবার রাতে শিশুটি টিউবওয়েলে পানি নিতে এলে প্রতিবেশীরা তার অবস্থা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রিয়াকে আটক করে।
ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের ডাঃ ইকবাল হোসেন সিরাজী জানান, শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

মেয়েদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘বাড়ি বসে বড়লোক’

আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে মেয়েদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘বাড়ি বসে বড়লোক’। চলতি বছরের মার্চ মাসে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়ে দেশের ৬৪ জেলা ও ২৭৬ উপজেলায় নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস। প্রশিক্ষণে প্রতিটি উপজেলার ৪৫ জন করে মোট বার হাজার চারশ বিশ জনকে দুই দিনের বেসিক প্রশিক্ষণ ও এদের মধ্য থেকে বাছাই করে প্রতি জেলার ৩৫ জনকে প্রদান করা হবে অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ।

টিএমএসএস-এর পরিচালক ও কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট নিগার সুলতানা বলেন, ‘সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।’ আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘মেয়েদের আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করতে চাই। সে লক্ষ্যেই এটি একটি পাইলট কর্মসূচি। এর সাফল্যের উপর ভিত্তি করে আমরা আরও বড় কর্মসূচি গ্রহণ করব।’

 

এবারের বাণিজ্য মেলায় মা ও শিশুদের জন্য খাওয়া ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

শিশুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর দুধ পান করানো, শিশুর নির্ধারিত খাবার খাওয়ানো বা শিশুর শরীরের কাপড় পরিবর্তন কোন মা নিশ্চয়ই এড়াতে পারেন না। আর সেজন্য কেনাকাটা বা ঘোরাঘুরির ইচ্ছে থাকলেও শিশুকে বাসায় রেখে মেলায় আসতে চান না অনেক মা। তবে এবারের মেলায় শিশুকে সাথে নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না তাদের মায়েদের। শিশুকে দুধ পান করাতে বা শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করতে মা ও শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টলের ব্যবস্থা।
নির্ধারিত ওই স্টলে গিয়ে মা তার শিশুকে দুধ পান করাতে বা শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করাতে পারছেন। শিশুর ক্ষুধা পেলেই কেনাকাটার ফাঁকে মা খুঁজে নিচ্ছেন নির্ধারিত এই স্টলগুলো। শিশুর ক্ষুধা নিবারণ করে নিশ্চিন্তে মেলায় ঘোরাঘুরি বা কেনাকাটা করছেন শিশুর মা। মেলায় স্কয়ারের ব্রেস্ট ফিডিং অ্যান্ড ডায়াপার চেঞ্জিং কর্নার নামক স্টলে কাজটি সম্ভব হচ্ছে। এবারের মেলায় স্কয়ারের দুটি স্টলে মা ও শিশুর জন্য একই সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৩শ ৫০ জন মা তার শিশুকে নিয়ে এখানে আসেন এবং ক্ষুধার্থ শিশুকে দুধ পান করান। ছুটির দিনে এর সংখ্যা বেড়ে ৫শ ছাড়িয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্টলের দায়িত্বরত সমন্বয়কারী সোহেবুল। তিনি আরো বলেন, বিনামূল্যে মা ও শিশুদের জন্য মাসব্যাপী এ মেলায় এ ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছে। স্টলে যারা তালিকাভুক্ত হচ্ছেন তাদের বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে স্কয়ার সুপার মম।
এদিকে এসিআই প্রতিষ্ঠানের উইমেন হেলথ কেয়ারে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মহিলাদের ফ্রি চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। স্টলে রাখা খাতায় যারা তালিকাভুক্ত হচ্ছেন তাদের একটি ফ্রিডম ফ্রি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা ক্রয় করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাদের কাছে ফ্রিডম বিক্রিও করা হচ্ছে। বিক্রয়কর্মী জাকিয়া সুলতানা বলেন, মহিলারা এই উদ্যোগকে ভালোভাবে গ্রহণ করছেন। প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন স্টল থেকে বিনামূল্যে চিকিত্সা নিচ্ছেন।
এদিকে মেলায় নভো নরডিক্সে ফার্স্ট এইড নামক মিনি প্যাভিলিয়নে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগীদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন দায়িত্বরত চিকিত্সক। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার রোগী এখান থেকে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করান বলে জানান ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস ছাড়াও অন্যান্য রোগেরও ফ্রি চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছে। ইমারজেন্সি রোগীর জন্য রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা।
রাজধানীর মিরপুর থেকে মেলায় এসে কেনাকাটা শেষে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে বাসায় ফিরছিলেন আব্দুল মান্নান। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মেলায় ফ্রি চিকিত্সা সেবা একটা ভালো উদ্যোগ। কেনাকাটাও হলো আর বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো হলো। এবার নিশ্চিন্তে বাসায় ফিরতে পারি। এক ঢিলে দুই পাখি বলতে পারেন। এছাড়া মেলায় রয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আলাদা বুথ। যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে চান তারা এখানে রক্ত দিচ্ছেন। কোন রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে মেলার প্রচার মাইকে জানিয়ে দেয়া হয়। ইচ্ছুক রক্তদাতা বুথে গিয়ে রক্ত দান করেন।

 

নারী অধিকার রক্ষায় পুরুষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নারী অধিকার রক্ষায় পুরুষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে গত বুধবার থেকে জেন্ডার সাম্যবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংস্থার সদর দপ্তরে ‘বারবারশপ কনফারেন্স’ নামে এ সম্মেলনের আয়োজক আইসল্যান্ড। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে এবং ব্যাপকতর সাম্য প্রতিষ্ঠায় পুরুষের করণীয় নিয়ে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সম্মেলন এরই মধ্যে ‘বিতর্কিত’ তকমা অর্জন করেছে। শুরুতে শুধু পুরুষদের নিয়ে সম্মেলন করার কথা ভেবেছিল আইসল্যান্ড, পরে তীব্র সমালোচনার মুখে কয়েকটি অধিবেশনে নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জাতিসংঘে আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গ্রেতা গুন্নার্সদত্রির বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এ বিষয়টিতে পুরুষদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জেন্ডার সাম্যবিষয়ক যেকোনো সম্মেলনে আপনি দেখবেন অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগই নারী। মূল বিষয়টি নারীকে বাদ দেওয়া নয় বরং পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা।’ পুরুষদের সহজে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এ সম্মেলনের আয়োজন।

emma-watson

জাতিসংঘের মতো একটি সংস্থাতেও মোট ১৯৩ সদস্যের মধ্যে পুরুষ প্রতিনিধিত্ব করে ১৬০টি দেশের। গত বছর ব্রিটিশ অভিনেত্রী ইমা টমসন ‘হি ফর শি’ নামের একটি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তিনি বলেন, জেন্ডার নিয়ে গতানুগতিক ধারণা থেকে বের হয়ে পুরুষদেরও কথা বলতে হবে। সম্মেলনে ইমার এই প্রচারের ওপরও আলো ফেলা হবে। সম্মেলনের গতকালের অধিবেশনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রদূতরা তাঁদের সরকারের পক্ষ থেকে জেন্ডার ইস্যুদের পুরুষদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। গুন্নার্সদত্রির বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’

বেইজিং নারী সম্মেলনের ২০ বছর পূর্তির প্রস্তুতির মধ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করল জাতিসংঘ। এই মধ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ জেন্ডার বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বজুড়ে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইতি টানার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়া পুরুষদের সংগঠন হোয়াইট রিবন ক্যাম্পেইনের পরিচালক টড মিনেরসন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জেন্ডার সাম্য নিয়ে কাজ করার বিষয়টি আরো একটু এগিয়ে দেবে এই সম্মেলন। সম্মেলনে মিনারসনের ‘হোয়াট মেকস আ ম্যান’ নামের একটি কর্মশালায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এ অধিবেশনে নারীরাও যোগ দেবেন। ইউরোপের প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের দেশ আইসল্যান্ড বিশ্ব জেন্ডার ব্যবধান সূচকেও কমের দিক থেকে প্রথম। এই ধারাক্রমে পরের দেশগুলো হলো ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক। এ সূচকে জার্মানির অবস্থান ১২তম, যুক্তরাষ্ট্র ২০তম, যুক্তরাজ্য ২৬তম। সর্বশেষ ইয়েমেন (১৪২)।

সূত্র : এএফপি

 

রাষ্ট্রপ্রধান নারীদের দেশ সমূহ

গত শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা পেয়েছিল ভোটাধিকার। কর্ম ও পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা থেকে এখনো অনেক দেশেই বঞ্চিত তারা। তবে সুযোগ পেলে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে কার্পণ্য করছে না নারীরা। এ মুহূর্তে বিশ্বের ১৯টি দেশের কর্তৃত্ব এখন তাদের হাতে। গৌরবের বিষয়, এ তালিকায় নাম রয়েছে বাংলাদেশেরও।

kolinda-kitarović

 

সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নারী নির্বাচিত হওয়ার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে ক্রোয়েশিয়াতে। দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ। এর আগে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিতারোভিচ হচ্ছেন দ্বিতীয় নারী প্রেসিডেন্ট, যিনি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ তালিকায় সর্বপ্রথম নাম নিকারাগুয়ার ভিয়োনেতা বামেরো। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের মধ্যে যে দেশগুলোর সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান নারী সেগুলো হলো জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ব্রাজিল, চিলি, আর্জেন্টিনা, লাইবেরিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নরওয়ে, স্কটল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া, মাল্টা, পোল্যান্ড, কসোভো, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া।

kz1 p-8

এর মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দু’জন ই পর পর তিনবার সরকারপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

5472793857_aeb541e4d8 isabel-presidente

শ্রীলঙ্কার শ্রীমাভো বন্দরনায়েক ছিলেন বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আর আর্জেন্টিনার ইসাবেলা মার্তিনেজ ছিলেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

সূত্র : বিবিসি।

 

 

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা

অপরাজিতা ডেস্কঃ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চিত্রকড়া এলাকায় গত সোমবার রাতে যৌতুকের জন্য স্ত্রী সীমা আক্তারকে (২২) স্বামী শাহীন শেখ শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী শাহীনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার নিহত সীমার মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর লৌহজং উপজেলার কলমা এলাকার প্রয়াত মোখলেস মিয়ার মেয়ে সীমা আক্তারের সঙ্গে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চিত্রকড়া এলাকার এসহাক শেখের ছেলে শাহীন শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীকে কয়েক দফা যৌতুকের টাকা দেওয়া হয়। সম্প্রতি স্বামীর বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এই টাকা না দেওয়ায় তারা সীমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। ঘটনার দিন গত সোমবার রাতে শাহীন শেখ তাঁর স্ত্রী সীমাকে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাঁকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ জানায়, শাহীনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
টঙ্গিবাড়ী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে শাহীনের বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হবে। এর আগে আমরা বলতে পারব না যে শাহীন তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছে। এখন তাঁকে কেবল সন্দেহ করা হচ্ছে।’

 

ক্রোয়েশিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হলেন কিতারোভিচ।

ক্রোয়েশিয়ার নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর অবশেষে বিরোধী প্রার্থী কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল কিতারোভিচের (৪৬) মূল নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের রুগ্ণ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা।

গত রবিবার ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন যে ফলাফল ঘোষণা করে তাতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ন্যাটো কর্মকর্তা কিতারোভিচ ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মধ্য বামপন্থী আইভো জোসিপোভিচ পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।

জাগরেভ সদর দপ্তরে জোসিপোভিচ (৫৭) সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নাটকীয় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কিতারোভিচ নির্বাচিত হয়েছেন। আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই।’

এদিকে কিতারোভিচ রাজধানীতে উৎফুল্ল সমর্থকদের উদ্দেশে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি কারো কাছে শুনতে চাই না যে ক্রোয়েশিয়া সমৃদ্ধ ও সম্পদশালী হবে না। বরং আমি সবাইকে, বিশেষ করে যারা আমাকে ভোট দেয়নি তাদের প্রতিও ক্রোয়েশিয়ার উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

যুগোশ্লাভিয়া থেকে ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হলেন কিতারোভিচ।

দুই সপ্তাহ আগে দেশটিতে প্রথম দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দেয় যা প্রথম দফার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

চলে গেলেন মা,একবারো দেখতে এলো না সন্তানেরা!

সন্তান,নাড়ি ছেঁড়া ধন!কলিজার টুকরো! নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চায় মা,আর কিচ্ছু না। কিন্তু দুর্ভাগ্য তখন ই যখন সেই সন্তান একটা বারো ফিরে চায় না মায়ের দিকে,জানতে চায় না কেমন আছেন মা? ঠিক তেমনি একজন হতভাগী মা আরাফাতুন নেছা!
গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বরিশালের গৌরনদীর রাস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছা (৮৬) গাজীপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে শনিবার সকালে মারা গেছেন। গত এক বছরেও তার সন্তানরা অসুস্থ বৃদ্ধ মায়ের খবর নেয়নি।
গাজীপুরের মনিপুর বিশিয়া-কুড়িবাড়ি মনিপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আবু শরীফ মোবাইল ফোনে জানান, আরাফাতুন নেছার ছবিসহ বিষয়টি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও সন্তানরা মায়ের খোঁজ নিতে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসেনি। কিন্তু মৃত্যুর আগেও তিনি স্বজনদের দেখার জন্য কাকুতি-মিনতি করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ না পাওয়ার কারণে তার লাশ শনিবার বাদ জোহর দাফন করা হয়েছে গাজীপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের কবরস্থানে।
জানা গেছে, বৃদ্ধার শামীম ও জাহিদ নাসের নামের ২ পুত্র গত বছরের ৩০ জানুয়ারি তাকে গৌরনদীর টরকীর রাস্তায় ফেলে যায়। এক কাপড়ে অসুস্থ অবস্থায় ৮/১০ দিন রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আরাফাতুন নেছার এই করুণ কাহিনী জানতে পেরে এগিয়ে আসেন গাজীপুরের মনিপুর বিশিয়া-কুড়িবাড়ি মনিপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জাহিদ হাসান মুকুল। মৃত্যুর আগেও সন্তানদের নাম বারবার তিনি উচ্চারণ করেছেন।

 

রাজবাড়িতে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন,ভাটারায় স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার দুই দিন পর গত শুক্রবার বিকেলে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করা হয়েছে।
স্কুলছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ফৈজদ্দিন মাতুব্বরপাড়ার রাসেল মোল্যা (১৯) কয়েক মাস ধরে মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বুধবার সকালে রাসেলদের বাড়ির কাছে ওই ছাত্রী তার এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাসেল ঘরে ডেকে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হুমকিও দেয়। জানালে তাকে বিয়ে করবে না বলে জানায় রাসেল। মেয়েটি বাড়ি ফিরেই সবার কাছে ঘটনা খুলে বললে তার বাবা বিষয়টি প্রথমে রাসেলের পরিবার, পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। রাসেলের পরিবার বিয়ের পরিবর্তে কিছু টাকা নিয়ে আপসের প্রস্তাব দেয়। আর স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ অন্যরা মীমাংসার কথা বলেন। এতে তাঁদের আইনগত পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে বলে জানান তাঁরা। পরে শুক্রবার বিকেলে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
স্থানীয় ইউপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শুনেছি ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। দুই পক্ষই গরিব। আমরা স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল বাসার মোল্যা জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত রাসেল পলাতক।

লাশ উদ্ধার

রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গতকাল মিম আক্তার শিউলি (১০) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা। ঢাকায় মায়ের সঙ্গে সে বসবাস করত। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

একজন গর্ভবতী মায়ের পরিপূর্ণ যত্ন

মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। এ সময় অপর্যাপ্ত খাদ্য ও অপুষ্টি, মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত মায়েরা যে সন্তানের জন্ম দেয়, তাদের জন্ম ওজন কম হয়, বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয় ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। গর্ভাবস্থায় মা নিজের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে গর্ভের শিশুকে যথাযথভাবে গড়ে তুলে। এক্ষেত্রে মায়ের দেহে যে ক্ষয় হয় তা পূরণ করা না হলে মায়ের স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

এজন্য গর্ভাবস্থায় মাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণ খাবার খেতে হবে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ মেয়েরা কম বয়সে গর্ভধারণ করে এবং প্রায় সবাই অপুষ্টির শিকার হয়। এর ফলে অপুষ্ট সন্তান জন্মগ্রহণ করে বা কখনও কখনও মহিলারা মৃত সন্তানও প্রসব করে।

গর্ভকালীন সেবা

* গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারের সঙ্গে নিয়মিত কমপক্ষে এক মুঠ বেশি খাবার খেতে হবে।

* মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, কলিজা, ঘন ডাল, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ও মৌসুমি দেশী ফল খেতে হবে। রান্নায় যথেষ্ট পরিমাণ তেল ব্যবহার করতে হবে।

* গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন রাতের খাবারের পরপরই ১টি করে আয়রন ফলিক এসিড ট্যাবলেট খেতে হবে।

* গর্ভাবস্থায় ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেতে হবে।

* গর্ভাবস্থায় তিন মাসের পর থেকে প্রতিদিন (সকালে এবং দুপুরে) ২টি করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ভরা পেটে খেতে হবে।

* গর্ভাবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম (দুপুরে খাবারের পর ২ ঘণ্টা এবং রাতে ৮ ঘণ্টা) নিতে হবে।

* গর্ভবতী মহিলাকে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তিতে রাখতে হবে, এতে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে

* ভারী কাজ (যেমন : টিউবওয়েল চাপা, ধান ভানা, ভারী জিনিস তোলা, অতিরিক্ত/ভারী কাপড় ধোয়া) থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কষ্টকর পরিশ্রম বর্জন করতে হবে।

* আয়োডিন যুক্ত লবণ খেতে হবে

* প্রথম তিন মাসের পর প্রয়োজনে ১টি কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেতে হবে

* পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় অন্তত চারবার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে (মায়ের ওজন, রক্তস্বল্পতা, রক্তচাপ, গর্ভে শিশুর অবস্থান পরীক্ষা করা)

* ১ম স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ১৬ সপ্তাহে (৪ মাস)

* ২য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ২৪-২৮ সপ্তাহে (৬-৭ মাস)

* ৩য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ৩২ সপ্তাহে (৮ মাস)

* ৪র্থ স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ৩৬ সপ্তাহে (৯ মাস)

* রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা

যদি আপনি কোনো টিটি টিকা না দিয়ে থাকেন তাহলে টিকা শুরু করতে হবে এবং গর্ভাবস্থায় ৫ মাস পর ২টি টিটি টিকা নিতে হবে, সিডিউল অনুযায়ী বাকি টিকাগুলো নিতে হবে।

দীর্ঘস্থায়ী ইমিউনিটির জন্য ৫টি টিটি টিকার নির্ধারিত সময়সূচি :

১ম ডোজ (TT1) : ১৫ বছর বয়সে অথবা প্রসব পূর্ববর্তী প্রথম ভিজিটে

২য় ডোজ (TT2) : ১ম ডোজ নেয়ার অন্তত ১ মাস (৪ সপ্তাহ) পর

৩য় ডোজ (TT3) : ২য় ডোজ নেয়ার অন্তত ৬ মাস পর

৪র্থ ডোজ (TT4) : ৩য় ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ১ বছর পর

৫ম ডোজ (TT5) : ৪র্থ ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ১ বছর পর

গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি না হওয়ার কারণ

* শিশু ও কিশোরী বয়সে দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে এবং রক্তস্বল্পতায় ভোগা

* কিশোরী বা অল্প বয়সে গর্ভধারণ করা

* ঘন ঘন সন্তান ধারণ করা

* গর্ভাবস্থায় কম খাদ্য গ্রহণ ও সুষম খাদ্য গ্রহণ না করা

* গর্ভকালীন সময়ে রক্তস্বল্পতায় ভোগা

* বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ও কৃমিতে আক্রান্ত হওয়া

* শারীরিক পরিশ্রম বেশি করা ও মানসিক উদ্বেগ থাকা

* খাদ্য সংক্রান্ত কুসংস্কার ও পরিবারে অসম খাদ্য বণ্টন

প্রসূতিকালীন পরিচর্যা ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি

প্রসবোত্তর সেবা নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের একটি অপরিহার্য অংশ। প্রসবের পর থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে ‘প্রসবোত্তর কাল’ বলা হয়। এ সময় মায়ের বিশেষ সেবা প্রয়োজন। কারণ এই সময় শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের শরীরের ক্ষয় হয়।

শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান মায়ের দুধে বিদ্যমান; যা শিশু মায়ের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। এজন্য এ অবস্থায় মায়ের শরীর সুস্থ রাখার জন্য সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার এবং বাড়তি যত্নের প্রয়োজন।

প্রসব পরবর্তী যত্ন

প্রত্যেক বার খাবারের সময় প্রসূতি মাকে স্বাভাবিকের তুলনায় কমপক্ষে ২ মুঠ বেশি পরিমাণে খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত খাবার শিশুর জন্য মায়ের দুধ তৈরি করতে সহায়তা করে এবং মায়ের নিজের শরীরের ঘাটতি পূরণ করে

* দুগ্ধদানকারী মাকে সব ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ (আয়রন, ভিটামিন-এ, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি) খাবার খেতে হবে

* দুগ্ধদানকারী মায়ের কাজে পরিবারের সব সদস্যকে সহযোগিতা করতে হবে

* গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিবারের সবার (স্বামী, শাশুড়ি) করণীয় :

* গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের জন্য গর্ভবতী মহিলার সঙ্গে সেবা কেন্দ্রে যাওয়া এবং আয়রন ফলিক এসিড খাওয়ার জন্য গর্ভবতী মহিলাকে মনে করিয়ে দেয়া

* গর্ভবতী মহিলা/দুগ্ধদানকারী মাকে অতিরিক্ত খাবার খেতে উৎসাহিত করা

* ঘরের দৈনন্দিন টুকিটাকি কাজে গর্ভবতী মহিলাকে সাহায্য করে তার কাজের বোঝা কমানো

* হাসপাতালে প্রসব করানোর বিষয়ে গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা

* হাসপাতালে প্রসবের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেয়া

* জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা

* জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়ানোর জন্য গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা

* মা শিশুকে যথেষ্ট সময় নিয়ে দুধ খাওয়াতে পারে তার জন্য দুগ্ধদানকারী মাকে সুযোগ করে দেয়া

গর্ভবতী মহিলার ৫টি বিপদ চিহ্ন

একজন গর্ভবতী নারীর যে কোনো সময় যে কোনো বিপদ দেখা দিতে পারে। পরিবারের সবার গর্ভকালীন ৫টি বিপদ চিহ্ন সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে এবং যে কোনো একটি দেখা দেয়া মাত্র তাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

* রক্তক্ষরণ* প্রচণ্ড জ্বর*তীব্র মাথাব্যথা এবং চোখে ঝাপসা দেখা* খিঁচুনি* অনেকক্ষণ ধরে প্রসব বেদনা/বিলম্বিত প্রসব (১২ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে থাকলে)

প্রসবকালীন বিপদ লক্ষণ

* প্রসবের সময় মাথা ব্যতীত অন্য কোনো অঙ্গ বের হয়ে আসা

* বিলম্বিত প্রসব

* অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ

* খিঁচুনি

* গর্ভফুল বের হতে বিলম্ব হওয়া ।

লেখা- ডা. বেদৌরা শারমিন। স্ত্রী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ।

 

দেশের মুখ উজ্জ্বল করলো সাবিরা,মাবিয়া,রেশমা

ইরাক, সৌদি আরব, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছেন। এশিয়ার বড় দেশগুলোর সেরা ভারোত্তোলকদের হারিয়ে মোল্লা সাবিরা, মাবিয়া আক্তার ও জোহরা আক্তার রেশমারা জিতেছেন রুপা ও ব্রোঞ্জ। দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশে ফিরেছেন ভারোত্তোলকরা। মোল্লা সাবিরা বলেন, ‘আমি আগেও এশিয়ার সেরা দেশগুলোর সঙ্গে খেলে পদক জিতেছি। এবারও এশিয়ার দেশগুলোর সেরা ভারোত্তোলকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি আমরা। তাদের হারিয়ে পদকও জিতেছি। বিদেশে গিয়ে পদক জেতাটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’

সেই ২০০২ সাল থেকে আজ অবধি ভারোত্তোলন খেলছেন মোল্লা সাবিরা। ২০০২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতে আসছেন দেশসেরা এ মহিলা ভারোত্তোলক। শুধু দেশেই নয়, ২০০৫ সালে জর্ডানের আম্মানে এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে রুপা জিতেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু সাবিরার। মাঝে অনেক বছর কেটেছে। আন্তর্জাতিক অনেক আসরেই অংশ নিয়েছেন। ঝুলিতে জমা পড়েছে অনেক পদক। এবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত কাতার দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল কাপ ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে রুপা জেতেন মোল্লা সাবিরা সুলতানা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত এ ভারোত্তোলক বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক কারণেই মেয়েরা ভারোত্তোলনে এগিয়ে আসছে না। কারণ ভারোত্তোলন খেলতে যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, তা জেলাগুলোতে নেই। বাহিনীগুলোতে কারিগরি সুবিধাগুলো থাকায় ভারোত্তোলনে জেলাগুলোর চেয়ে সার্ভিসেস দলগুলোর মেয়েরাই বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ভালো করতে হলে চাই দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন। এর কোনো বিকল্প নেই।’

কাতারে ১৭তম ইয়ুথ এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে অংশ নিয়ে রুপা জেতেন উদীয়মান ভারোত্তোলক জোহরা আক্তার রেশমা। এর আগে ২০১১ সালে থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৪৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে ইয়ুথ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক জেতেন তিনি। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়াতেও একই ওজন শ্রেণীতে কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনের ইয়ুথ বিভাগে রুপা জেতেন রেশমা। তিনি বলেন, ‘বিদেশে পদক জেতার আনন্দই আলাদা। এ নিয়ে তৃতীয়বার বিদেশের মাটিতে পদক জিতেছি। ভবিষ্যতে অলিম্পিকে খেলতে চাই।’ একই স্বপ্ন এশিয়ান অ্যান্ড আরব ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় ৬৩ কেজিতে ব্রোঞ্জজয়ী মাবিয়া আক্তার সিমান্তরও। তার কথায়, ‘আমার লক্ষ্য ভবিষ্যতে অলিম্পিকে পদক জেতা। ফেডারেশন সহযোগিতা করলে সে লক্ষ্যেই আমি খেলে যেতে চাই।’ ২০১১ সালে ভারোত্তোলনে আসা সিমান্ত বলেন, ‘২০১২ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ এবং ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনের জুনিয়রে রুপা ও ইয়ুথ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। ভবিষ্যতে অলিম্পিকে পদক জেতাই আমার লক্ষ্য।’ তবে রেশমা ও সিমান্তের সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে মনে করেন মোল্লা সাবিরা। তার কথায়, ‘দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের মধ্যে থাকলে অনেককিছুই সম্ভব। অলিম্পিকে পদক জয় খুব কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। এজন্য একজন ভারোত্তোলককে কম করে হলেও চার থেকে পাঁচ বছরের কঠোর অনুশীলনের মধ্যে থাকতে হবে। সাধনা করতে হবে। আমি মনে করি, রেশমা ও সিমান্তের সেই সুযোগ রয়েছে। তাদের বয়স কম। তারা দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের সুযোগ পেলে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’

 

নারীবাদী নয়,সমতাবাদী

প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতা থেকে হ্যারি পটারখ্যাত অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন ‘হি ফর শি’ নামের কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেল। তিনি বলেছেন,

‘আমি যত বেশি ফেমিনিজম বা নারীবাদ নিয়ে কথা বলি, তত বেশি বুঝতে পারি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীর অধিকারের লড়াইকে পুরুষবিদ্বেষী ভাবা হয়। আমি একটা কথাই বিশ্বাস করি, সব ধরনের বিদ্বেষ রুখতে হবে। নারী ও পুরুষের সম–অধিকার ও সমান সুযোগই নারীবাদের ভাবাদর্শ।’
৫০ থেকে ৬০ বছর আগে কাউকে ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে জানতে পারলে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষজন আঁতকে উঠত। নুরজাহান বোসের আগুনমুখার মেয়ে বইটিতে এ রকম উল্লেখ আছে যে একটা বাড়িতে এক কমিউনিস্ট এসেছেন জানতে পেরে কেউ আর ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে রাজি নয়। ইদানীং আবার উল্টোটাও দেখা যায়, কোনো কট্টর মৌলবাদী বেড়াতে আসবে জানতে পেরে সে বাড়ির আধুনিক ছেলেমেয়েরা আগেভাগেই কেটে পড়ে। ‘নারীবাদী’ শব্দটাও অনেকের কাছে ও রকমই ভীতিপ্রদ। যেন নারীবাদী মানেই তসলিমা নাসরিন।

নারীবাদী মানেই পুরুষবিদ্বেষী। অনেক প্রগতিশীল পুরুষও নারীবাদীদের এড়িয়ে চলেন, আর যেসব পুরুষ নারীবাদী, তাঁদের পৌরুষ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। আবার এমনও অনেক নারীবাদী নারী-পুরুষ আছেন, যাঁরা কেবল তাত্ত্বিক নারীবাদিত্বের বড়াই করেন কিন্তু ব্যবহারিক জীবনাচরণে নারীকে দেখেন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিতে। অল্প কিছুসংখ্যক ঠিকই বোঝেন যে নারীবাদীরা যেসব যুক্তিতে সমতার কথা বলে, তার ষোলো আনাই সঠিক, কিন্তু পারিপার্শ্বিকতাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর মতো সৎ সাহস তাদের নেই বলে তারা মুখ বুঝে থাকে। কিন্তু এ কথা তো ঠিক যে নারী যেমনভাবে নারীর কথা বলতে পারবেন, পুরুষ তা পারবেন না। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো যেখানে পুরুষপ্রাধান্য, সেখানে খামোখা শত্রু বাড়িয়ে লাভ কী?
একসময় উইড (উইমেন ইন ডেভেলপমেন্ট) বেশ সরব ভূমিকা পালন করলেও পরবর্তী সময়ে গ্যাড (জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অধিক জনপ্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। জেন্ডার উন্নয়নে নারী-পুরুষ উভয়ের কথাই বলা হয়। তার পরও জেন্ডার পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞদের (নারীই এসব পদে বেশি বহাল আছেন) নারীবাদীরূপেই বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিবের কাছে এক নারী কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী তাঁর পদোন্নতির কথা বলতে গেলে সচিব ‘নারীর ক্ষমতায়ন?’ বলে এমন অবজ্ঞামিশ্রিত এক হাসি দিলেন যে সে নারী দ্বিতীয়বার আর অনুরোধের সাহস করলেন না। অথচ সে নারী কর্মকর্তার চেয়ে পদমর্যাদায় জ্যেষ্ঠ একজন পুরুষ কর্মকর্তা কেবল সরকারদলীয় বিবেচনায় বছরের পর বছর পদোন্নতির সুবিধা ভোগ করে আসছেন। নারীর ক্ষমতায়ন যেখানে এ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির একটি, সেখানে নারীদের তাঁদের ন্যায্য পাওনাটার জন্যও লড়াই করতে হচ্ছে। তাহলে ক্ষমতায়নের আগে দরকার সমতায়ন?
নারীরা যেমন নারীশক্তির মাহাত্ম্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত, পৃথিবীতে পুরুষদের বিজয়গাথা নিয়েও পুরুষেরা গর্বিত। যেসব নারী জানেন পুরুষের গৌরবগাথা ভুলে থাকার বিষয় নয় এবং যেসব পুরুষ জানেন নারীর শক্তিও কালে কালে আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দিয়েছে, কেবল তাঁরাই একত্রে অভিন্ন মতাদর্শ নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। একে অন্যের সুকৃতি ও পথচলাকে শ্রদ্ধা করতে না পারলে বাহ্যিক ইতিবাচকতা অন্তর্গত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তেমন উল্লেখযোগ্য ছাপ রেখে যেতে পারবে না। অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর শেষ প্রশ্ন উপন্যাসে শতাধিক বছর আগেও যা বলে গেছেন, আজকের দিনেও তা আমরা অনেককেই বলতে শুনি না। উপন্যাসের নায়িকা কমল বলছেন, ‘মানুষ তো কেবল নরও নয় নারীও নয়—এ দুয়ে মিলেই তবে সে এক।’
সহমর্মী পুরুষেরা নারীদের শক্তি। তাদের ভালো দিকগুলোকে উদ্ভাসিত না করে কেবল খারাপ দিকগুলো নিয়ে আক্রমণ করে গেলে সমব্যথিতা হারানোর ভয় থাকে। পুরুষতন্ত্র অবশ্যই বর্জনীয়, তা বলে পুরুষমাত্রই পুরুষতান্ত্রিক নন, অন্যদিকে নারীজীবনের বঞ্চনা ও নির্যাতনের মধ্যে কাল কাটিয়েও সব নারীই নারীবাদী নন। শাশুড়ি, ননদ, জা যখন নিপীড়ক ও হন্তারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন জেন্ডারকানারা বলেন, ‘এত যে পুরুষতন্ত্র পুরুষতন্ত্র বলে যুদ্ধ ঘোষণা করা, এরা তবে কারা?’ তাঁরা আসলে নারী হলেও পুরুষতন্ত্রেরই ধ্বজাধারী। পুরুষতন্ত্র হচ্ছে পুরুষ কর্তৃত্বের একটি নীতি, যে নীতি তার সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নারীকে নিপীড়ন করে। আজ নারীবাদী হিসেবে যাঁরা বিশ্বে খ্যাতি বা অপবাদ কুড়াচ্ছেন, তাঁরাও কম দুঃখে নারীবাদী হননি। নারীবাদের ধারণা, নারীর ওপর নিপীড়ন ও তা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচিত মতের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তবে প্রণোদনায় হোক বা নগরায়ণ-শিল্পায়ন অথবা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের জয়জয়কারেই হোক, দুটির বেশি সন্তান নিতে চাইছেন না মা-বাবারা। উন্নত বিশ্বে তো শিক্ষা ও পেশাকে অগ্রাধিকারে রেখে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যাপারে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। এতে ছোট পরিবারগুলোর মধ্যে মেয়েসন্তান ও ছেলেসন্তানের সঙ্গে আচরণে বৈষম্য কমে আসছে। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরাই বৃদ্ধ বয়সের মা-বাবার দেখাশোনা-সেবাযত্ন করেন বলে মেয়েদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগও আছে। অনেক নারী নিজের বা তাঁর মায়ের জীবনের অবহেলা-নিপীড়নের কথা চিন্তা করে বা সমাজে নারীর দুঃসহ অবস্থান দেখে নিজের সন্তানদের মধ্যে কন্যাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। সার্বিকভাবে এ চিত্র যদিও নগণ্য, তবু কারও প্রতি বৈষম্যই কাম্য হওয়া উচিত নয়।

এমা ওয়াটসন বাস্তবিকই বলেছেন, ‘আমাদের এমন মানুষই দরকার বেশি করে, যারাই পৃথিবীতে সম–অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। লিঙ্গভিত্তিক সম–অধিকার প্রতিষ্ঠাই নারীবাদের মূল লক্ষ্য। নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধারণ মানুষ পুরুষবিদ্বেষী হিসেবে দেখে থাকেন। শুধু নারীদের একার পক্ষে অধিকারের জন্য লড়াই করা সম্ভব নয়। পুরুষদেরও নারীর সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পুরুষেরাও নানা কারণে অধিকারবঞ্চিত। নানা কারণে নারীর মতো পুরুষেরাও নির্যাতনের শিকার। আমরা একজন আরেকজনের জন্য দাঁড়িয়ে বৈষম্য বিলোপ করার চেষ্টা করতে পারি।’
হ্যারি পটার–এর সেই ছোট্ট মেয়েটি, যিনি এখন জাতিসংঘের নারী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন, সেই মেয়েটিকে আমাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেওয়ার জন্য অজস্র ধন্যবাদ।

লেখা– উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় ২নারী পুলিশ নিহত।

রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুল মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের দুই নারী সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নয়জন। আজ রোববার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মতিঝিল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) স্বপনের ভাষ্য, ফকিরাপুল মোড়ে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত অবস্থায় পুলিশের ১১ জন নারী সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল মনিরা আক্তার (২২) ও আকলিমা বেগম (২২) মারা যান।
আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফরিদা, লিলি, সোহাগা, ইয়াসমিন, সীমা, শাহনাজ, আলফা, লিজা ও সালমা। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাঁরা সবাই কনস্টেবল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-১-এর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বলেন, নিহত মনিরা ও আকলিমার লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

সূত্র- প্রথম আলো।

 

চট্ট্রগ্রামে নার্সিং কলেজ শিক্ষিকা কে হত্যা

চট্টগ্রামে নার্সিং কলেজের এক শিক্ষিকা কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার চকবাজার তেলপট্টি মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ঐ শিক্ষিকার নাম অঞ্জলী রানী দেবী (৫৭)। তিনি পাঁচলাইশের তেলিপট্টি এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। অঞ্জলী তেলিপট্টি মোড় এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুরে বেল পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক অঞ্জলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মাহমুদ জানিয়েছেন, অঞ্জলীর ব্যাগ ও মোবাইল পাশেই পড়ে ছিল। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

গাজীপুরে গৃহবধুকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা

গাজীপুরে এক গৃহবধূকে শনিবার সকালে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনা ধামাচপা দিতে লাশে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ গৃহবধূর স্বামীসহ দু’জনকে আটক করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত গৃহবধূ আনোয়ারা আক্তার (৩২) এর স্বামীর নাম আয়নাল হক। তারা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকার বাসিন্দা। আটক আয়নাল পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকার নয়াব আলীর মেয়ে আনোয়ারার সঙ্গে কিছু দিন আগে একই এলাকার আয়নালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আনোয়ারার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে আয়নাল ও তার বড় ভাই আমজাদ হোসেনের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। ওই জমি তাঁদের নামে লিখে না দেওয়ায় আনোয়ারাকে হত্যা করা হয়েছে।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বছরের শিশু নিহত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় গতকাল শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় সানিয়া আকতার (৫) নামের একটি শিশু নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও চারজন।
একটি বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সানিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মালিয়ায়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন: শিশুটির মা খালেদা আকতার (৩০) ও ভাই আসিফ (৮) এবং প্রতিবেশী মুসলিম বেগম (৪৫) ও বেবী আকতার (৩০)। তাঁদের মধ্যে খালেদা আকতার ও আসিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের বিনিনিহারা বোর্ড অফিসের সামনের কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। কনেপক্ষের আত্মীয় খালেদা আকতারসহ কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। বেলা দুইটার দিকে কমিউনিটি সেন্টার থেকে ১০০ গজ দূরে চট্টগ্রামগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়।

এতে সানিয়া আকতার ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার পর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিকসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সফিকুর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

ফ্যাশনে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী ‘কেপ কোট’

অপরাজিতা ডেস্কঃ পোষাক হিসেবে ‘কেপ কোট’ বেশ প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী একটি ডিজাইন। আগের দিনে রাজকীয় এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের জন্য এই ‘কেপ কোট’ পোষাক প্রচলিত ছিলো। বৃটেন ইউরোপ সহ পাশ্চাত্যের দেশ গুলোর রাজ পরিবার এবং অভিজাত পরিবার গুলোতে এখনো ‘কেপ কোট’ বেশ জনপ্রিয়। অনেকের ই ধারণা এটি শীতের পোষাক,কিন্তু ফ্যাশন ডিজাইনের ঐতিহ্য বলে,’কেপ কোট’ মূলত সব সময় ই পড়ার জন্য। শুধু স্টাইল টা পরিবর্তন করতে হয় এই যা!

7986-1

দক্ষিণ এশিয়ার অভিজাত পরিবার গুলোতে ও মেয়েদের পোষাক হিসেবে ‘কেপ কোট’ প্রাচীন কাল থেকেই জনপ্রিয়। এমনকি তৎকালীন বাংলা প্রদেশের নবাব পত্নীগণ সহ জমিদার বাড়ির মেয়েরাও শাড়ির সাথে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ‘কেপ কোট’ পড়তেন। নাটোরের রাণী ভবানী সহ বাংলার উল্লেখযোগ্য অভিজাত পরিবারের মেয়েরা শাড়ির সাথে ‘কেপ কোট’ পড়তেন।

কালক্রমে এই পোষাকটি অনেকটাই অ-প্রচলিত হয়ে গেলেও বর্তমানে তা আবারো ফিরে এসেছে। আর তাই ফ্যাশন জগতে এবং বর্তমান সময়ে ‘কেপ কোটের’ চাহিদা এখন অনেক বাড়ছে। সেই সাথে এসেছে ‘কেপ কোটের’ নানান রকম  ডিজাইন। কথা হলো ডিজাইনার রুপো শামসের সঙ্গে। এই শীতে লেইস এবং ভেলভেটের তৈরি কামিজ, কেপ কোটের ট্রেন্ড চলছে বলে জানালেন তিনি। শাড়ি, কামিজ ও কেপ কোটে ঐতিহ্যবাহী জারদৌসি, জাল কাজ, স্ট্যাম্পড এমব্রয়ডারির কাজ চলছে। নকশায় ব্যবহৃত হচ্ছে পাথর, চুমকি, মুক্তা, আইলেট লেইস ও ক্রুশকাটার লেইস। কাশ্মীরি ও পার্শিয়ান এমব্রয়ডারির নকশা কেবল শালে নয়, নজর কাড়ছে পোশাকেও।

রুপো বলেন, কেপ কোট আন্তর্জাতিক ফ্যাশনেও এখন বেশ জনপ্রিয়। আমাদের দেশে এটি ফিউশনের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। চাপা প্যান্ট এবং ঢিলেঢালা গারারার সঙ্গে তো বটেই, এমনকি চাইলে শাড়ি বা কামিজের সঙ্গেও এটি অনায়াসে পরা যেতে পারে। এটি ভিক্টোরিয়ান যুগে যেমন চলেছে, তেমনি চলেছে রাবীন্দ্রিক যুগেও। নাটোরের রানী ভবানী থেকে শুরু করে ঢাকার নবাববাড়ির মেয়েদের গায়েও চড়েছে এই কেপ কোট। সেই ফ্যাশন এখন আবার ফিরে এসেছে।

6ffaec18a9d37523ae3caed9a8e34ef8-Untitled-34 bollywood-indian-movies-famous-celebrities-stars-59th-idea-filmfare-awards-photo-pictures-1

কেপ কোট সাধারন সব ধরনের পোষাকের সাথেই পড়া যায়। লন কামিজ থেকে শুরু করে আনারকলি স্যূট এমনকি ল্যাহেঙ্গার সাথেও পড়া যায়। কোন পার্টিতে পড়ার ক্ষেত্রে ‘কেপ কোটের’ ডিজাইন টা আরেকটু গর্জিয়াস হতে পারে।

শাড়ি বা ড্রেসের কালারের সাথে ম্যাচ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কালারের হতে পারে। ভেলভেট কাপড়ের সাথে কালার ফুল লেস বসানো যেতে পারে। এবং এক্ষেত্রে লেসের কালার টা শাড়ি বা ড্রেসের কালারের সাথে ম্যাচ হতে পারে।

শাড়ির সাথে কেপ কোট পড়লে গলায় কোন ভারি গহনা না পড়াই ভালো,এক্ষেত্রে কানে পড়া যেতে পারে বড় বা ছোট সাইজের কালারফুল টব। যেহেতু কেপ কোট ফুলহাতা পড়া হয়,সেক্ষেত্রে হাতে চূড়ির চাইতে বড় সাইজের আংটি ভালো মানাবে আর সাথে আকর্ষনিয় পার্স।

4sareejacket

ডিজাইনার ল্যাহেঙ্গা বা আনারকলি ডিজাইনের সাথে কেপ কোট একটা বাড়তি সৌন্দর্য্য বহন করে। বর্তমান সময়ের তরুনীরা তাই ড্রেসের কারুকার্যের সাথে সাথে কেপ কোট ও চান আকর্ষনীয়। যারা হিজাব পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য কেপ কোট খুবই মানানসই একটি পোষাক।

বলা হয়,হাল ফ্যাশনের যুগে কোন কিছুই পুরনো নয়,আর যদি তা পুরনো হয় তবে ধরে নিতে হবে খুব শীঘ্রই পুরনো ফিরে আসবে নতুন আঙ্গিকে!

লেখা- স্বপ্নকথা।

 

কেক তৈরী করতে চাচ্ছেন?খেয়াল রাখুন কিছু বিষয়!

শীত মানেই নানা রকমের অনুষ্ঠানের মওসুম। এ সময়টায় অনুষ্ঠানের কোনো শেষ নেই। আর এসব আনুষ্ঠানুকতায় নানা ধরনের মজাদার খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। যদি ঘরে বসে মজাদার ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। যেমন- কেক বা পেস্ট্রি। অনেক সময় বাড়িতে মান সম্মত কেক বা পেস্ট্রি তৈরি করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। তখন মনে হয়, কেন যে বাড়িতে কেক বানাতে চেষ্টা করলাম, দোকান থেকে কিনে আনলেই হতো। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এসব সমস্যা পোহাতে হবে না।

* কেক তৈরির বাটার ঠিকমতো বিট হয়েছে কিনা বুঝতে হলে ১ ফোঁটা পানি বাটারের উপরে ছেড়ে দিন। যদি পানির ফোঁটা ওপরে ভেসে ওঠে তাহলে বুঝবেন বিট করা ঠিক হয়েছে।

* বাচ্চারা ফল খেতে চায় না। তাই বাড়িতে ফ্রুট কেক বানাতে পারেন। এতে করে শীতকালের বিভিন্ন ফল মিশিয়ে কেক তৈরি করতে পারেন।

* অনেক সময় কেক তৈরি করার পর বেকিং টিনের মধ্যে কেক আটকে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই সুতির নরম কাপড় গরম পানিতে ডুবিয়ে কিছুক্ষণ ট্রের নিচে রাখুন। খুব সহজেই কেক প্যানের মধ্যে থেকে উঠে আসবে।

* অনেক সময় ফল কেটে রাখলে কালো হয়ে যায়। তখন কেকের সঙ্গে ফল মিশলে রঙটা ঠিক বোঝা যায় না। তাই ফল কাটার পর সামান্য লেবুর রস দিয়ে রাখলে রং নষ্ট হবে না।

* কেকে খেজুরও মেশানো হয়। কিন্তু ছুরি দিয়ে খেজুর কাটতে অসুবিধা হয়। ছুরিতে মাখন লাগিয়ে খেজুর কাটুন। কাটতে সুবিধা হবে।

 ckake-lg20141219155740

* সবুজ এলাচি- খোসা কেক তৈরির বাটারের সঙ্গে বিট করতে পারেন। এতে দারুণ ফ্লেভার হবে কেকটিতে।

* অনেক সময় কেকে ব্যবহার করা ময়দা আঠালো হয়ে যায়। তাই কেক তৈরি করার সময় অল্প লেবুর রস মিশিয়ে নিলে আর আঠালো হবে না।

* মনে রাখবেন জেলাটিনের সঙ্গে কখনও আনারস ব্যবহার করবেন না। তাহলে কেকে জেলাটিন সহজে সেট করতে পারবেন না।

* কেক ডেকোরেশনের সময় জেলি ও বাটারের সঙ্গে বাদাম ও আখরোট মিশিয়ে নিয়ে ডেকোরেশন করুন। এতে কেক দেখতে সুন্দর ও লোভনীয় লাগবে।

* সবশেষে কেক তৈরি হয়েছে কিনা বুঝতে হলে টুথপিক ব্যবহার করতে পারেন। টুথপিকের বদলে শুকনো স্প্যাগাটি ব্যবহার করতে পারেন।

লিখেছেন- হাবীবা বেগম

 

অ্যান এস মুর- একজন সফল সিইও থেকে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্নপ্রকাশ।

বর্তমান বিশ্বের ব্যবসা জগতের অন্যতম নারীমুখ অ্যান মুর মনে করেন, একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কখনোই খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না এবং প্রতিটা  সফলতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উপযুক্ত পরিকল্পনা। আর তাই কর্মজীবনের শুরুটা যেভাবেই হোক না কেন,নিজের সঠিক পরিকল্পনাই পারে ব্যক্তিকে তার কাংখিত সফলতা এনে দিতে।

বিশ্ব বিখ্যাত মিডিয়া কোম্পানী টাইম ইঙ্ক ডট কম এর প্রথম মহিলা সিইও এবং চেয়ারম্যান অ্যান মুর এর কর্মজীবন শুরু হয়েছিলো হার্ভার্ড থেকে এমবিএ শেষ করে ১৯৭৮ সালে ‘টাইম ইঙ্ক ডট কম’ এ একজন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস্ট হিসেবে। দীর্ঘ ৩৫বছরের কর্মজীবনে পরিশ্রমী,প্রচন্ড আগ্রহী এবং সফল পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে অ্যান মুরের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ১৯৯১সালে তিনি ‘পিপল’স ম্যাগাজিনের’ প্রকাশক হিসেবে আত্নপ্রাকাশ করেন,১৯৯৩ সালে তাকে নাম দেয়া হয় ‘পিপল’স প্রেসিডেন্ট’,এরপর ২০০১ সালে তিনি টাইম ইঙ্ক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।

ছাত্রজীবন থেকেই অ্যান ‘টাইম ইঙ্ক’ ম্যাগাজিনের নিয়মিত পাঠক ছিলেন,এবং তিনি তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে। আর তাই অনেক ভালো ভালো অফার থাকা স্বত্বেও ‘টাইম ইঙ্ক’ থেকে অফার পাওয়া মাত্রই তুলনামূলক কম স্যালারী হওয়া স্বত্ত্বেও জয়েন করে ফেলেন এবং কর্মজীবনের পুরো সময়টা তিনি এখানেই ব্যয় করেন।

অ্যান এর এই রকম সিদ্ধান্তে তখন তার বন্ধুরা যথেষ্ট অবাক হয়েছিলো!কেউ কেউ তো তাকে ‘বোকা’ ‘পাগল’ ভেবেই বসেছিলো! কিন্তু অ্যান সব রকমের মন্তব্য কে এক পাশে রেখে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগিয়ে যাওয়ায় মনোযোগী ছিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন,তার পরিকল্পনা আর টিকে থাকার আগ্রহ তাকে নিয়ে গিয়েছে সফলতার শীর্ষে।

অ্যান মুর ২০০২ সালের জুলাই মাসে ‘টাইম ইঙ্ক’ এর ইতিহাসে প্রথম মহিলা সিইও হিসেবে জয়েন করেন, কৃতিত্বের সাথে দীর্ঘ সময় সিইও এবং ‘টাইম ইঙ্ক ডট কম’ এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১০ সাল পর্যন্ত।

IMG_0119-1

বিখ্যাত ‘ফরচুন ম্যাগাজিন’ মোট দশবার অ্যান মুর কে ‘আমেরিকার পাওয়ার ফুল বিজনেস উইমেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবং ‘ফোর্বস ম্যাগাজিনে’ এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১০০জন ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে অ্যান মুর একজন।

অ্যান মুর এর খুব বিখ্যাত একটি উক্তি যা তিনি প্রায় প্রোগ্রামেই বলে থাকেন আর তা হলো,’ তোমার জীবন নিয়ে অবশ্যই তোমার কোন পরিকল্পনা থাকতে হবে,তোমার সম্পূর্ণ জীবনের জন্য তুমি,একমাত্র তুমিই রেসপন্সিবল বা দায়ী।’

২০১০ সালে চাকরী জীবন থেকে অবসর নেবার পর অ্যান নিজেকে বললেন নেলসন ম্যান্ডেলার সেই বিখ্যাত স্টেটমেন্ট ‘No is a complete sentence’ । এবং প্রায় ৪বছর অ্যান মুর সময় কাটালেন তার সম্পূর্ণ জীবনের অর্জন,অপ্রাপ্তি নিয়ে গবেষনা করেন,দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি গুলো নিয়ে। অ্যান তার সেই অবসর সময়েই পরিকল্পনা নিলেন,এমন কিছু করার যা তার বাকী জীবনের কর্মক্ষম সময়কে উজ্জ্বল করবে এবং তার মৃত্যুর পরেও টিকে থাকবে সগৌরবে।

আর তার ই ধারাবাহিকতায় তিনি শুরু করলেন তার নিজস্ব উদ্যোগে ‘দ্যা কিউরেটোর গ্যালারী’। সেই সাথে একজন সফল সিইও এরপর নিজের নামের সাথে যুক্ত করলেন একজন সফল ‘উদ্যোক্তা’ উপাধি। খুব শীঘ্রই ‘কিউরেটোর গ্যালারী’ সানফ্রান্সিসকোর পর নিউ ইয়র্কে শুরু করতে যাচ্ছে তাদের ‘আর্ট কালেকশন সেন্টার’। নিজের ছেলেকে সাথে নিয়ে শুরু করা অ্যান মুরের ‘কিউরেটোর গ্যালারী’ লক্ষ্য হচ্ছে,এমন কিছু ছবি বা শিল্পকর্মের আত্নপ্রকাশ করানো যা তৈরী করতে নতুন উদ্দ্যোম এবং এগিয়ে যাবার প্রত্যাশা,সেই সাথে সফল শিল্প কর্ম গুলো কে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া।

মার্কিন বিজনেস কমিউনিটি অ্যান মুর এর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিজনেস আর শিল্প জগতে নতুন দ্বার উন্মোচনের সূচনা হিসেবে প্রত্যাশা করছেন। একজন ‘উইমেন এন্টারপ্রেনার বা নারী উদ্যোক্তা’ হিসেবে আত্নপ্রকাশের পর অ্যান মুর মনে করেন, ‘কোন কিছু করার পরিকল্পনা যদি থাকে,তাহলে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য খুব সময়ের প্রয়োজন কখনোই হয় না। দরকার সঠিক পরিকল্পনা এবং টিকে থাকার আগ্রহ আর জানা থাকতে হবে,সময়ের সাথে নিজের ব্যবসা কে এগিয়ে নেবার কৌশল।’

সূত্র- ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনকে দেয়া অ্যান মুর এর একটি সাক্ষাৎকার। সম্পাদনা করেছেন, স্বপ্নকথা।

 

 

 

কাজ যা ই হোক না কেন,তাকে ছোট ভাবার কিছু নেই- স্মৃতি ইরানি।

যেকোনো কাজ করার মধ্যে যে অগৌরব নেই সে কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দিলেন ভারতের মানবসম্পদমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

গতকাল মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সম্মেলনে যেকোনো কাজ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে স্মৃতি বলেন, ‘আপনি পানির কলের মিস্ত্রিই হোন বা মেকানিকই হোন, কোনো কাজেই লজ্জা থাকা উচিৎ নয়। আমি একজন মন্ত্রী হয়ে বলতে পারি ১৫ বছর আগে আমি মুম্বাইয়ের হোটেলে বাসন মেজেছি।’

যেকোনো কাজকেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কাজ যাই হোক না কেন। এটাকে মোটেই ছোট করবেন না।’

একটি ‘দক্ষ ভারত’ তৈরি করাই তাদের সরকারের প্রধান কাজ মন্তব্য করে স্মৃতি বলেন, ‘এই দক্ষ ভারত তৈরিতে সবার আগে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে কাজকে। সমাজ যখন কাজকে মূল্যায়ন করবে তখন যেকোনো কাজ হবে সম্মানের।’

এ ধারণা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানান সাবেক এ টিভি অভিনেত্রী।

সূত্র: এনডিটিভি

 

সুস্বাদু ফল হিসেবে ‘সফেদার’ ৬টি গুণ

‘সফেদা’ ফল নামেও পরিচিত ‘সবেদা’। গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে এ ফলটি ভীষণ জনপ্রিয়। নরম শাঁসযুক্ত ও সুমিষ্ট এ ফলটিকে স্বাদের বিচারে সেরা ফলের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে শুধু স্বাদে নয়, গুণেও অনন্য এ ফলটি। নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ সবেদা। শক্তির উৎস এ ফলটি শরীরে নবশক্তি সঞ্চারের মাধ্যমে শরীর-মনকে চাঙ্গা ও পুনরুজ্জীবিত করে। বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, ভিটামিন এ, সি ও ই এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, কপার ও আয়রনসহ অপরিহার্য বহু পুষ্টি উপাদান রয়েছে ফলটিতে। নিচে সবেদার ৬টি স্বাস্থ্যকর উপকারী দিক উপস্থাপন করা হলো:

ক) চোখের জন্য: চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ভিটামিন-এ’র দারুণ উৎস সবেদা। নিয়মিত ফলটি খাওয়ার অভ্যাসে দৃষ্টিশক্তি ভালো হতে থাকে।
খ) হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে: সবেদায় রয়েছে প্রয়োজনীয় আঁশ জাতীয় উপাদান, যা উপকারি প্রাকৃতিক ল্যাক্সাটিভিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং হজমে সহায়তা করে। হজমের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও মুক্তি দিতে পারে সবেদা খাওয়ার অভ্যাস।
গ) ক্যান্সার প্রতিরোধে: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আঁশ ও নানা পুষ্টি উপাদানের অন্যতম উৎস সবেদা সুনির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ক্যান্সারগুলোর মধ্যে রয়েছে, ফুসফুসের ক্যান্সার, মুখ-গহ্বরের ক্যান্সার ইত্যাদি।
ঘ) হাড় মজবুত করে: গ্রীষ্মকালীন এ ফলটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। হাড়কে মজবুত করার পাশাপাশি শক্তিশালী করে সবেদা। কারণ, এ ফলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের মতো খনিজ উপাদান, যা হাড়ের ঘনত্ব ও সহ্যক্ষমতা বাড়ায়।
ঙ) রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: সবেদা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল, যা শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং নবশক্তি সঞ্চার করে। ফলে, ত্বকে বলিরেখা পড়ে না এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
চ) কিডনি রোগ প্রতিরোধে: কিডনির রোগও প্রতিরোধ করে সবেদা। মূত্রবর্ধক ওষুধ হিসেবে সবেদার দানা অত্যন্ত কার্যকর। কিডনি ও মূত্রথলির পাথর অপসারণে সহায়ক এ ফলটি।

 

বছরের শুরুতে উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার তারিখ

 ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা
পরীক্ষার তারিখ : মার্চ ০৬, ২০১৫ ইং

জনতা ব্যাংক লিমিটেড
(ক)পদের নাম : এ্যাসিস্টেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার
পরীক্ষার তারিখ : জানুয়ারি ০৯, ২০১৫ ইং
(খ)পদের নাম : এ্যাসিস্টেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার(টেলর)
পরীক্ষার তারিখ : জানুয়ারি ২৩, ২০১৫ ইং

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
পদের নাম : ডাটা এন্ট্রি অপারেটর
আবেদনের শেষ তারিখ: ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৫ ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লিঙ্ক : http://www.dpe.gov.bd
আবেদন করার লিঙ্ক : http://dpe.teletalk.com.bd

প্রাথমকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়
পদের নাম : সহকারী শিক্ষক (প্রাক প্রাথমিক)
আবেদনের শেষ তারিখ : জানুয়ারি ১২, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লিঙ্ক : http://www.dpe.gov.bd
আবেদন করার লিঙ্ক : http://dpe.teletalk.com.bd

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন
আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ : জানুয়ারি ২১, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন করার লিঙ্ক :http://www.bpsc.gov.bd

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড
আবেদনের শেষ তারিখ: জানুয়ারি ১৭, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন করার লিঙ্ক : http://www.premierbankltd.com/pbl/career.php

বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস
আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ : জানুয়ারি ২৫, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লিঙ্ক : http://www.ais.gov.bd

হাইড্রো-কার্বন ইউনিট, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ
আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লিঙ্ক : http://www.hcu.org.bd

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ
আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ : জানুয়ারি ১৫, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লিঙ্ক : http://www.bcsir.gov.bd

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি
আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ : জানুয়ারি ১৫, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লিঙ্ক : http://buft.edu.bd/job-opportunity-3

ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
আবেদনের শেষ তারিখ: জানুয়ারি ১৫, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন করার লিঙ্ক : http://www.dutchbanglabank.com/Online_Job/currentJob

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র (সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ : জানুয়ারি ১৫, ২০১৫ইং
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লিঙ্ক : http://www.nbc.org.bd

সমবায় অধিদপ্তর
আবেদনপত্র পৌঁছানোর শেষ তারিখ : জানুয়ারি ২৯, ২০১৫ইং
ওয়েবসাইট লিঙ্ক : http://www.coop.gov.bd

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
আবেদনের শেষ তারিখ : জানুয়ারি ২৪, ২০১৫ইং
আবেদন করার লিঙ্ক : http://www.joinbangladesharmy.mil.bd/current-jobs

বাংলাদেশ নৌবাহিনী
আবেদনের শেষ তারিখ : জানুয়ারি ৩০, ২০১৫ইং
আবেদন করার লিঙ্ক : http://www.joinnavy.mil.bd

সূত্র- জাতীয় দৈনিক সমূহ।

 

এই শীতে বাতের ব্যাথায় করনীয়

শীতকালে অনেক সময় জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে ওঠে এবং জোড়া বা বাতের ব্যথা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়। বয়স্ক লোকজন, বিশেষ করে যারা প্রদাহ আর্থ্রাইটিস, রিওমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছেন তাঁদের কষ্ট বহুলাংশে বেড়ে যায়। এ ছাড়াও পেশী, লিগামেন্ট, হাড় ও স্নায়ুর ব্যথা তীব্ররূপ ধারণ করে। শীতকালে স্বাভাবিক নড়াচড়া কম হয় এবং বায়ুর চাপ কম থাকে বলে মানুষের টিস্যু ফুলে যায়। ফলে জোড়া জমে যায় এবং ব্যথার উদ্রেক করে। শীতের প্রকোপে শরীরের রক্তনালীর খিঁচুনি ও সঙ্কুচিত হলে জোড়া, পেশী ও হাড়ে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং ব্যথা বেড়ে যায়। শীতকালে স্নায়ুর সহ্য ক্ষমতা কম থাকে এবং অল্পতেই উত্তেজিত হয় বিধায় ব্যথার অনুভূতি বেড়ে যায়। শীতকালে ঘাড়, কোমর ও হাঁটুর ব্যথা বেশি বাড়ে। এছাড়াও কটি, গোড়ালি, কাঁধ, কনুই, কবজি ও আঙুলের জোড়া ব্যথাসহ জমে যায়। হাত সামনে পেছনে নেয়া ও হাত দিয়ে কিছু তোলা কষ্টকর। হাঁটু ও কোমর সোজা ভাঁজ করতে এবং বসতে-উঠতে ভীষণ অসুবিধা হয়।
গরম কাপড় পরিধান করে শীত থেকে জোড়াকে রক্ষা করতে হবে। ব্যথা নাশক জেল বা মলম দিয়ে হাল্কাভাবে জোড়ায় ম্যাসেজ করলে ব্যথা নিরাময় হবে। কুসুম গরম পানির সেঁক (ময়েস্ট হিট) আর্থ্রাইটিসের ব্যথার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের অন্যান্য ওষুধ সেবন করতে হবে। ব্যথা নিরাময়ে জয়েন্টে ইনজেকশন (স্টেরয়েড ও হায়ালুরোনিক এ্যাসিড) পুশের প্রয়োজন হয়। এক অবস্থায় (বসা, দাঁড়ানো) আক্রান্ত জোড়াকে বেশিক্ষণ রাখা যাবে না। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কম করতে হবে। প্রয়োজনে হাতে স্টিক, পায়ে কুশনযুক্ত জুতা এবং গোড়ালি, হাঁটু, কোমর, ঘাড়, কাঁধ, কনুই ও কবজিতে সাপোর্ট বা ব্রেচ ব্যবহার করতে হবে। হাল্কা ব্যায়াম জোড়া ব্যথা উপশমে মোক্ষম ভূমিকা পালন করে। শীতকালে কঠোর ব্যায়াম আক্রান্ত জোড়ায় রক্ত চলাচল কমিয়ে ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। জোড়ার স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং পেশী, টেনডন ও লিগামেন্টের নমনীয়তা জোড়াকে ব্যথামুক্ত রাখে।

শীতকালে উপযুক্ত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে আর্থ্রাইটিস বা বাত ব্যথার তীব্রতা কমে আসে। সতেজ শাক-সবজি ও ফলমূল ব্যথা নিরাময়ে খুবই উপকারী। গাজর, শসা, মুলা ইত্যাদি ব্যথা সৃষ্টিকারী পদার্থগুলোকে শরীর থেকে সহজেই বের করে দেয়। প্রতিনিয়ত ফলের রস সেবন জোড়াকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। শীতকালে সকালে খালিপেটে রসুন সেবন করলে রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জোড়ায় রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে বলে ব্যথা কমে যায়। আদা ও লেবুর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকালে এবং রাতে সেবন করলে আর্থ্রাইটিস ব্যথা আস্তে আস্তে কমে আসে। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, এ ও সি সেবন করতে হবে। এতদ সত্ত্বেও ব্যথা উপশম না হলে উপযুক্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
ডা. জিএম জাহাঙ্গীর হোসেন
হাড়, ট্রমা ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং অর্থোস্কোপিক সার্জন
ডিজিল্যাব মেডিক্যাল সার্ভিসেস, মিরপুর

 

কি কি ধরনের বিউটি ট্রেন্ড ছিলো ২০১৪ সালে…

ফারজানা শাকিল
বিউটি এক্সপার্ট এবং এমডি, ফারজানা শাকিলস মেকওভার
‘এবার বছরজুড়ে একটা সফট ভাবই চেয়েছিল সবাই মেকআপে। খুব বেশি পরিবর্তন না এনে নিজের ত্বকের রঙটাই সুন্দর করে চেয়েছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা। ন্যাচারাল লুকটাই প্রাধান্য পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন। লিপস্টিকের রঙ বাছাইয়েও ছিল এই সফট ভাব। তবে এবার চুল নিয়ে সবাই বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। যেমন চুল বাধায় এসেছে অনেক স্টাইল। খোপা করলেও তাতে ছিল ভিন্নতা। রিং খোঁপাসহ ছিল অনেক ডিজাইন। চুলের কাটেও ছিল অনেক কিছুই। তবে চুলের দৈর্ঘ্য ঠিক রেখে সামনে ফ্রেঞ্চ, স্ট্রেট চলেছে। তবে নিজেকে অন্যরকম করতে চুলের কালারটা বেশ ফ্যশনেবল ছিল। রেড, ব্লুু, পিংক কালার ছিল চুলে। এগুলো নিচের দিকে ডার্ক হলে উপরে লাইট আবার ওপরে ডার্ক হলে নিচে লাইট করে ব্যালেন্স করা হয়েছে।’

img-single_6492make-up-adult-beautiful
আফরোজা পারভিন
সিইও, রেড বিউটি স্যালুন
২০১৪ সাল শেষ হয়ে গেলেও চলতি মেকআপ ট্রেন্ডের একটি রেশ থেকে যাবে বলে মনে করেন তিনি। এবার সবচেয়ে বেশি চলেছে ন্যাচারাল লুকের ট্রেন্ড। সব বয়সীরা এটিতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে ন্যাচারালের মধ্যেও ছিল ওরিয়েন্টালের ছোঁয়া। তবে এ বছর চোখের সাজেও ভিন্নতা পাওয়া গেছে। স্মোকি লুক আনতে চেয়েছেন অনেকেই। তাই ব্রাউন, গোল্ডেন, ধূসর শ্যাডো অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। স্পেশাল চোখের সাজের মাঝে ছিল ইরানি বা অ্যারাবিয়ান লুকে চোখ টানা। এটির বৈশিষ্ট্য চোখটির দুই ভাগ আলাদা করে। চোখ বড় দেখায়, পুরো চেহারাতেই আসে পরিবর্তন। মেকআপ হাইলাইট করতে অনেকেই বেছে নিয়েছেন এই লুকটি। উল্লেখযোগ্য ছিল লিপস্টিকের রঙ। ন্যাচারাল রঙের সঙ্গে সঙ্গে একটু ভিন্নতা আনতে অনেকেই ব্যবহার করেছেন লালের শেড। হয়তো সেটা কখনও হয়েছে টকটকে লাল, কখনও মেরুন, আবার লালচে গোলাপি।

1116
তানজিমা শারমিন মিউনি
সিইও, মিউনিজ ব্রাইডাল
এবার খুব থিম বেজ মেকআপ ও সাজটা চলেছে বলে তিনি মনে করেন। যখন যেমন সময়, তখন ঠিক সেই রকম সাজটা নিতে আগ্রহ ছিল সবার। তবে সাজ মানে নিজেকে একবারে পাল্টে ফেলা নয়। বরং নিজেকে গুছিয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা উচিত বলেই তিনি মনে করেন। আর তার প্রতিটি কাজই ছিল সেই রকম। চাহিদা অনুযায়ী তিনি তার প্রতিটি মেকআপে রেখেছিলেন ন্যাচারালের ছোঁয়া। তবে এ বছর সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে চুলের স্টাইলে। খোলা চুলের চেয়ে চুল বাঁধা ধরনটাই চলেছে বেশি। সাধারণ খোঁপার মধ্যেও ছিল বৈচিত্র্য। এক পাশের খোঁপা ছিল বেশ জনপ্রিয়। আবার বেণি সাধারণত চুল তিনটি ভাগ করে হয়, তবে এ বছর চুলের চারটি পার্ট করেও করা হয়েছে। আর হেয়ার কাটিং স্টাইলের কথা বললে ব্যাঙস্ কাটটা বেশ চলেছে।

42266_sat-1

সোনালি ফেরদৌসি মজুমদার
সিইও, সোনালি এইচডি মেকআপ অ্যান্ড স্টুডিও
এ বছর গৎবাঁধা কিছু জিনিস থেকে মানুষ বের হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এ বছর বেশ জনপ্রিয় ছিল এইচডি মেকআপ। এটি গতানুগতিক ধারা থেকে একটু ভিন্ন, তাই মানুষ এটি গ্রহণ করেছে। এইচডি মেকআপের এয়ার ব্রাশের বিষয়টি অনেকের জন্যই নতুন কিন্তু গ্রহণযোগ্য ছিল বলে তিনি জানান। তিনি আরও যোগ করলেন, এবার চুলটা খুব পরিপাটি করে রাখার চেয়ে একটু এলোমেলো ভাবটাই বেশি চলেছে। যাই হোক চুল বাঁধা ও খোঁপাটাকে একটু ঢিলা করে রাখতে সবাই বেশি চেয়েছেন।

সূত্র- লাইফ স্টাইল

ট্রাক চাপায় ৪জন নারী নিহত

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ওয়াজ মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় চার নারী নিহত ও অপর তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টায় উপজেলার দরিয়াপাড়া ঈদগাহ’র সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁরা বুড়িচংয়ের বারেশ্বর এলাকায় বারেশ্বর দরবার শরীফের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ এ মিলাদুন্নবী (স.) মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

নিহতরা হলেন: বুড়িচং সদরের কুর্ণমতি এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী সালমা আক্তার (৩০),  মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৫৫), মৃত সেকান্দার আলীর ভূঞার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬৫) এবং আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুড়িচংয়ের কুর্ণমতি গ্রামের প্রতিবেশী সাত নারী ওয়াজ  মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লাগামী একটি ট্রাক তাদের পেছন থেকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। আহত হন আরো তিনজন। হতাহতদের প্রথমে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বুড়িচং থানার ওসি জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চলছে।

 

স্মোকি চিকেন সালাদ

চিকেন সালাদ শুধু দেশেই নয় এর জনপ্রিয়তা গোটা বিশ্বেই। এ সালাদ খেতে শুধু সু-স্বাদুই না স্বাস্থ্যকরও বটে। দেশের ভিন্নতায় চিকেন সালাদ তৈরির প্রণালীটাও ভিন্ন। বিদেশের চিকেন সালাদ স্বাদে কিছুটা ম্যাড়ম্যাড়ে হয়। তাছাড় এদের সালাদে মশলার ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। যার কারণে খেতে স্বাদ লাগে না।

স্বাদ ও স্বাস্থ্যের দিকটা মাথায় রেখে আজ আমরা বানাব স্মোকি চিকেন সালাদ। চলুন চটপট দেখে নেওয়া যাক কীভাবে বানাবেন স্মোকি চিকেন সালাদ।

পরিবেশন – ২ জনের জন্য
প্রস্তুতির সময় – ২০ মিনিট
রান্নার সময় – ২০ মিনিট

উপকরণ
মুরগীর মাংস (বোনলেস) – ৪০০ গ্রাম (ছোট ছোট টুকরো)
গোলমরিচের গুঁড়ো – ১ চা চামচ
প্যাপরিকা – ১/২ চা চামচ
লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
অলিভ অয়েল – ১ টেবিল চামচ
অরিগ্যানো শেরি – ২ টেবিল চামচ
লাল বেল পেপার – ১ টি (ইচ্ছেমতো আকারে কাটুন)
পার্সলে – ১ কাপ
পুদিনা – ১০ থেকে ১২ টি পাতা
লেটুস – ৪ টি পাতা
লবণ – স্বাদ মতো

প্রণালী
লবণ ও গোল মরিচ দিয়ে মাংসটা ভালো করে সিদ্ধ করে নিন। এবার সালাদ প্লেটে লেটুসের পাতাগুলো দিয়ে প্লেটের সাদা জায়গা ঢেকে দিন। তাতে লাল বেলপেপার গুলো সাজিয়ে দিন। অন্যদিকে মুরগীর মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে স্টক থেকে ভালো করে পানি ঝরিয়ে মাংসের টুকরোগুলো তুলে নিন। এতে প্যাপরিকা, অরিগ্যানো, লেবুর রস, অলিভ ওয়েল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। হাল্কা লবণ উপর থেকে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

এবার মাংসের টুকরোগুলো সেঁকে নিন। এর ফলে মাংস থেকে একটি স্মোকি ফ্লেভার উৎপন্ন হবে। এবার সালাদ প্লেটের উপর মাংসগুলো সাজিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখবেন- যাতে লাল বেলপেপার ঢেকে না যায়। পার্সলে ও পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিন। এবার শেরিতে লেবুর রস ও অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মেশান। এবার তৈরি ড্রেসিং সালাদের উপর একটি চামচ দিয়ে ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

শীতে গরম পানিতে গোসল

ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার কারণে অনেকে শীতকালই পছন্দ করেন না। কনকনে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে নিয়মিত গরম পানিতে গোসল করেন। তবে গরম পানিতে গোসল নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ বলে থাকেন আপাতত স্বস্তি মিললেও তেমন উপকার নেই। আসলে কি তাই?

গরম পানিতে গোসলে উপকারিতা ও অপকারিতা- দুইই রয়েছে। তেমন কিছু বিষয় নিচে জানানো হল-

গরম পানিতে গোসলের উপকারিতা

  • যাদের বুকে ব্যথা ও শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য গরম পানিতে গোসল বেশ উপকারী। এ ছাড়া যাদের নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা আছে- তাদের জন্যও ভাল। গরম পানিতে ইউক্যালিপ্টাস বা অন্যান্য তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও উপকার পাবেন।
  • গরম পানি পেশি জড়তা কাটাতে সাহায্য করে। ফলে অবসাদ দূর হয় সহজে। অবসাদ দূর মানে ধীর স্থির ভাবে জাগে মনে। এ ছাড়া রক্তচাপ কমিয়ে পার্লস রেটকে আরামদায়ক পর্যায়ে নিয়ে আসে। সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ ঘুমের জন্য গরম পানিতে গোসল ভাল।
  • গরম পানি ত্বকের ছিদ্র খুলে দেয়। যা ত্বককে নরম ও দ্রুত পরিষ্কার করে। ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে কার্যকরী ফল পাওয়া যায়।
  • পেশি জড়তা দূর হওয়ার কারণে রক্ত চলাচল ব্যবস্থা উন্নত হয়। এ ছাড়া গরম পানিতে গোসল যৌন জীবনে ভাল প্রভাব ফেলে। এর কারণে যৌন উত্তেজনা বাড়ে।

গরম পানিতে গোসলের অপকারিতা

  • গরম পানিতে গোসল কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যাদের হাইপারটেনশনসহ হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য গরম পানিতে গোসল ভাল নয়।
  • গরম পানিতে গোসল ত্বকের ছিদ্র খুলে দিলেও সহজে ময়লা জমে। এর কারণে ব্রনসহ নানান সমস্যা তৈরি হয়। গরম পানি চুলের জন্য ক্ষতিকর। চুল দুর্বল হয়ে সহজে ভেঙ্গে যায়।
  • গরম পানি বিষণ্নতার জন্যও দায়ি। গরম পানি শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। যা শুধু এসিডিটির সমস্যাই তৈরি করে না, মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

 

শত কষ্টের পর এখন স্বাবলম্বী নুরজাহান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কোনো এক বর্ষণের দিনে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চরনিকলা গ্রামে জন্ম নূরজাহান বেগমের। চার ভাই তিন বোনের সংসারে তার অবস্থান পাঁচ। জন্মের সময় পরিবারের আর কেউ তেমনভাবে খুশি হতে না পারলেও তার বাবা অনেক খুশি হয়েছিলেন। জন্মের পর পরই বাবা ঘোষণা দিয়েছিলেন তার এ মেয়েটিকে এমএ পাস করাবেন।
নূরজাহান বেগম এমএ পাস ঠিকই করেছেন কিন্তু তার বটবৃক্ষ, সব থেকে ভালোবাসার মানুষটি তা দেখে যেতে পারেননি। তিনি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন তখন তার বাবা মমতাজ আলী শেখ মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর কিছুটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল তাদের পরিবার। সপ্তম শ্রেণিতেই হয়তো থেমে যেত তার লেখাপড়া। কিন্তু মা হালিমা বেওয়ার দৃঢ়চেতা মনোভাবে সব ঠিক হয়ে যায়। ১৯৮৪ সালে ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৬ সালে ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও একই কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে বিএ পাস করেন।
এরপর তার জীবনে বয়ে যায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের এক ঝড়। সবকিছু উলট পালট হয়ে যায়। থমকে যায় প্রতিদিনের জীবনের গতি। কিন্তু যোদ্ধা মানুষ কি যুদ্ধ না করেই সমাজ জীবনের কাছে হারতে পারেন? না, তিনিও ঝড়ের অস্বাভাবিকতা কাটিয়ে ওঠার জন্য ২০০০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরে যোগ দেন ব্র্যাকের মাইক্রো ফিন্যান্স প্রোগ্রামে। সেখানে থেকে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন ব্র্যাকের আরেকটি প্রোগ্রামে। মূলত এই প্রোগ্রামে কাজ করতে করতেই পাল্টে যেতে থাকে জীবনের গতি। নিবিড়ভাবে শিখতে থাকেন তার ভালোবাসার কাজটি।
কৃষির প্রতি ভালোবাসা আর চাকরিতে মোটরসাইকেল চালনায় শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে খুঁজে পান ফিরে আসার পথ। পরিবারের শত বাধা উপেক্ষা করে ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারির এক পিকআপ ভ্যান চায়না-৩ জাতের লিচু কলমের চারা নিয়ে হাজির হন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চরনিকলা গ্রামের নিজ বাড়িতে।
শুরু করেন নতুন জীবন। বাবার দেয়া ২০ শতক জমি আর নগদ ১ লাখ টাকা দিয়ে গড়ে তুললেন ‘তোয়া’ নামের এক নার্সারি। বাড়ির সবাই বিরোধিতা করলেও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোটভাই ফরিদ সাহস জুগিয়েছেন নানাভাবে। শুরুতেই সফলতা পাননি নার্সারিকন্যা নূরজাহান বেগম। প্রথম বছর লিচু কলমের চারা ছাড়া আর সবই ছিল বনজ গাছের চারা। চারা বিক্রির সময় হলে তিনি দেখলেন বনজ গাছের চারায় যত টাকা ব্যয় করেছিলেন সবই লোকসান। কারণ হিসেবে তিনি বললেন, মানুষ যে ধরনের গাছের চারা চায় তিনি সে ধরনের চারা তার নার্সারিতে ঠাঁই দেননি। মানুষের চাহিদা ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি গাছের চারা আর তিনি করেছেন নিম থেকে শুরু করে দেশীয় জাতের বনজ চারা। পাড়া-প্রতিবেশীদের টাকা ছাড়া চারা দিতে চেয়েও দিতে পারেননি। সবাই এক বাক্যে বলেছেন কি হবে এই চারা দিয়ে? এক দিকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান আর অন্যদিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিদেশি কোনো জাতের চারা না করার অঙ্গীকার। বড়ই টালমাটাল অবস্থা। কি করবেন জানা নেই। আবার হেরে যেতেও তার বড় লজ্জা।
নূরজাহান বেগম জেলা পর্যায়ে চারবার সেরা নার্সারির পুরস্কার পেয়েছেন। সার্বক্ষণিক ২ জন কর্মচারী আর ৬ হাজার বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারায় ভরপুর তার নার্সারি। ১ লাখ টাকা মূলধনের নার্সারি নিষ্ঠা আর সাধনায় ফুলে-ফেঁপে হয়েছে ১০ গুণ। এতকিছুর পরেও আর বিয়ে করেননি নার্সারিকন্যা নূরজাহান বেগম। করতেও চান না। তার ভাষায়, ‘রক্তের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাওয়া এই নার্সারিই আমার পরিবার, আর সব ফলদ গাছের চারা আমার সন্তান।’

 

মানসিক চাপ কমাতে বিশেষ কিছু খাবার

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলায়। কিন্তু কিছু সমস্যার যেন কোনো সমাধান নেই! কখনোই পিছু ছাড়ে না! ভুলে থাকার চেষ্টা করেও আমরা ভুলতে পারি না। সমস্যার সমাধান না করা গেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিক চাপ থেকে মুক্তির পথই বা কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের ওপর ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে মনকেও অনেকটাই বশ মানানো যায়। আর এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কিছু খাবারের বিশেষ পুষ্টি উপাদানগুলো আমাদের স্নায়ুকে শীতল রাখতে সহায়তা করে, সাময়িকভাবে হলেও তা কিছুটা মানসিক চাপ কমায়।

কাজুবাদাম
কাজুবাদাম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দস্তার একটা ভালো উৎস। দুশ্চিন্তা আর বিষাদগ্রস্ততা দূর করতে খুবই কার্যকর এই দস্তা। শরীরে দস্তার চাহিদা পূরণ করতে পারলে, নিয়মিত এই দস্তার জোগান দিতে পারলে স্নায়ুতন্ত্রকে ঠান্ডা রাখার কাজটা অনেক সহজ হয়। আজকাল বাজারের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার দোকানেও প্যাকেটজাত কাজুবাদাম পাওয়া যায়। নিয়মিত কাজুবাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন, মানসিক চাপ মোকাবিলায় নিজেকে প্রস্তুত করুন।

mjid047._kaju-and-badam-diwali-gifts

ওট
ওট বা জইয়ের দানা খুবই স্বাস্থ্যকর খাবার। প্রচুর আঁশযুক্ত এই খাবার শরীরের নানা চাহিদা মেটায়। বিশেষত মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তৈরিতে খুবই সহায়ক ওট। সেরোটোনিন এমন এক রাসায়নিক যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ভালো লাগার’ রাসায়নিক হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। সকালের নাশতায় কিংবা রাতেও নিয়ম করে ওট খেতে পারেন। দুধে ভিজিয়ে হোক বা কেবল পানিতে ভিজিয়ে হলেও ওট খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে অনেক উপকার পাবেন। বড় বিপণিবিতানসহ নানা চেইন শপে টিনজাত ওট পাওয়া যায়।

oats-400x400-300x300

আখরোট
আখরোটের নানা পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসহ অন্যান্য পলিফেনোল। এসব উপাদান মস্তিষ্কের চিন্তা ক্ষমতাকে বাড়ায়, প্রখর করে। ফলে নিয়মিত কিছুটা আখরোট খেতে পারলে আপনার চিন্তা ক্ষমতা বাড়বে আর তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। বড় বাজারগুলোতে শুকনো খাবারের দোকানে খোলা আখরোটের পাশাপাশি প্যাকেটজাত আখরোটও পাওয়া যায়। কিনে এনে বাড়িতে রেখে দিন, মাঝেমধ্যে খেতে থাকুন। এভাবে শুকনো খাবারের অভ্যাস করাটা খাদ্যাভ্যাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

image03

কমলা লেবু
ভিটামিন-সিসমৃদ্ধ কমলা লেবুর অনেক উপকারের কথা তো আমরা জানিই। মন বিষণ্ন থাকলে, শরীর অবসাদগ্রস্ত হলে খানিকটা কমলা লেবুর রস মুহূর্তেই চাঙা করে দিতে পারে। হাতের কাছের এই ফল কেবল সাময়িক প্রশান্তিই দেয় না, নিয়মিত অল্পস্বল্প কমলা লেবু খান শরীর মন দুই চাঙা থাকবে। শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা কমানো, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো এবং কিডনি ভালো রাখতেও কমলা লেবু খেতে পারেন। শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও সহজ।

512px-Ambersweet_oranges

রসুন
রসুনের অনেক গুণ। রসুনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই সহায়ক। মানসিক চাপে ভুগলে আমরা নানা অনিয়ম করি আর এতে শরীর ভেঙে পড়ে। এই দুর্বলতার সুযোগে শরীরে বাসা বাঁধে নানা অসুখ-বিসুখ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রসুন খান। এটা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি মানসিক চাপে থাকা মানুষদের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক। তাই খাবারদাবারে নিয়মিত কিছুটা রসুন খান, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন।

ripe garlic fruits with green parsley leaves

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম নারী ALM সালমা সিদ্দিকা

অপরাজিতা ডেস্কঃ ছোটবেলা থেকেই ট্রেন জিনিসটা ছিল উম্মে সালমা সিদ্দিকার কাছে এক দুর্বার আকর্ষণের বিষয়। চিটাগং শহরস্থ বাসায় থাকাকালে যখনই ট্রেনের হুইসেলটা তার কানে ভেসে আসতো, তার মধ্যে বয়ে যেত এক আনন্দের স্রোত। বড় হতে থাকা সত্ত্বেও তার মধ্যে এই বিশ্বাসটা সবসময় প্রগাঢ় ছিল যে, সব ট্রেনই স্ব-চালিত, এর কোন ড্রাইভার লাগে না।  বুদ্ধিমান হওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার প্রতিদিনের দেখা ট্রেনের রহস্য আসলে তিনি যা ভেবে এসেছেন তা না।

২০১১ তে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তিনি ট্রেনচালক হবেন, এবং তিনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগদানও করলেন।

তারই পথ ধরে আজ তিনি ট্রেনচালক হবার পথে, এমন এক পেশা, যে পেশাটি এতকাল পুরুষের একচ্ছত্র করায়ত্তে ছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এই মুহূর্তে ১২ জন নারী সহকারী রয়েছেন যাদের পদমর্যাদা হলো এসিস্ট্যান্ট লোকোমোটিভ মাস্টার্স (ALMs),  তবে এখনো কোন পূর্ণ-পদপ্রাপ্ত নারী লোকো (Loco) মাস্টার নেই।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আরো ৩জন নারী গত নভেম্বরে ALM রিক্রুটমেন্ট টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছেন। টাঙ্গাইলের সালমা সিদ্দিকা হলেন প্রথম বাংলাদেশী নারী যিনি ২০০৪ এ ALM পদে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেন।

10433283_10152920369735661_7648133574752800566_n

উম্মে সালমা সিদ্দিকার এখনকার কাজ হলো ট্রেন ড্রাইভারদেরকে তাদের চালনায় সহযোগিতা করা এবং সহযোগিতা করার তার এ অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে হবে ট্রেনচালক হবার নিয়ামক। তার চাকুরীর দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো, যে সময়টায় Loco Master ট্রেন চালাচ্ছেন রেলওয়ে সিগনালগুলোর এবং রেল ট্র্যাকের পজিশন খেয়াল রাখা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের East Zone এর চীফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হারুন-আর-রাশিদ আমাদের জানান যে, একজন ALM এর ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে একজন LM (Loco Master) হওয়ার জন্য।

বৃটিশ ঔপনিবেশকরা যখন এই উপমহাদেশে রেলপথের সূচনা করেছিল, সে ট্রেনগুলোর শক্তির উৎস হিসেবে ছিলো কয়লা-চালিত বাষ্প ইঞ্জিন। সে সময়ের ট্রেন চালনা ছিল নারীদের জন্য অত্যন্ত শ্রমসাধ্য একটা কাজ এবং তাদেরকে বিবেচনায়ও আনা হতো না। বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়, মানুষের মন-মানসিকতাও পরিবর্তন হয় এবং সেই সাথে লোকোমোটিভদেরও।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রাক্তন মহা-পরিচালক মোহাম্মদ তফাজ্জল হোসাইন বলেন, স্বল্প সংখ্যায় করে হলেও বাংলাদেশের নারীসমাজ যে এই পেশার দিকে ঝুঁকছে, পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিছে, ব্যপারটা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। তার ভাষ্যে, এই মেয়েরাই হলো নারীসমাজের যোগ্যতার উজ্জ্বল নিদর্শন; এরা সব কাজ করতে সক্ষম।

সিদ্দিকা যে ট্রেনটির লোকো মাস্টারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন সে ট্রেনটি হলো চিটাগং ইউনিভার্সিটি কম্যুটার ট্রেন যা যাতায়াত করে ইউনিভার্সিটি এবং বন্দর নগরী এ দুয়ের মধ্যে।

“আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে এ পেশায় আছি এবং এটা বেশ রোমাঞ্চকর”, তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন। সেই সাথে তার ফ্যামিলি তাকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে তিনি নিজ পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কিন্তু নারী ALMদের জন্য সবসময়ে পরিস্থিতি এতটা সহজ ছিলো না।

ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে ম্যাথমেটিকসে অধ্যনকারী কুলসুম আখতার ALM আমাদের জানান, কর্তব্য পালনকালে তিনি নানান বিপত্তির সম্মুখীন হন। তিনি বলেন, “লোকজন প্রায়ই লোকোমোটিভের মধ্যে একজন মেয়েকে কাজ করতে দেখলে আপত্তিকর মন্তব্য ছুঁড়ে মারে”।

কুলসুমের মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী এবং তাদেরও একই রকম চাকুরীর প্রয়োজন হয়। তাই নারীদের প্রতি এধরণের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যাবশ্যকীয়ভাবে পরিবর্তন হওয়া দরকার।

তিনি আরো জানান, শুধুমাত্র এসব সামাজিক ও চিরাচরিত বিধি নিষেধের দরুন নারীদেরকে অনেক সময়ই ট্রেন চালনার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক নারী ALM বলেন, এই নিরাপত্তা বিষয়ক দুশ্চিন্তার অবকাশ থাকার কারণেই এত অল্প সংখ্যক মেয়ে এই পেশায় আসে।

তিনি এও যোগ করেন, “নারীর নিরাপত্তা সর্বক্ষেত্রে নিশ্চিত করা এটা সরকারেরই কর্তব্য”।

সূত্র- ডেইলি স্টার।

অনুবাদ করেছেন- মুসবিহা।

 

 

 

জীবনের প্রথম স্কুলে যাওয়া আর হলো না মেহেরাবের!

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন বছরের শুরুর দিন গত বৃহস্পতিবার বই নিয়েছিল শিশুটি। মাঝখানে শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ। গতকাল শনিবার জীবনের প্রথম ক্লাস করার জন্য বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ক্লাসে আর বসা হয়নি। বিদ্যালয় থেকে মাত্র পাঁচ গজ দূরে থাকতে বাসের চাপায় প্রাণ গেল ছোট্ট শিশুটির।
ওই শিশুর নাম মো. মেহেরাব হোসেন (৬)। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গি ইউনিয়নের শ্রীঙ্গাল নামক জায়গায় এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ে আসার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় ফরিদপুর থেকে টেকেরহাটগামী দিশারী পরিবহনের একটি বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মেহেরাব হোসেন ডাঙ্গি ইউনিয়নের বাশাগাড়ি গ্রামের আসমত মুন্সীর ছেলে। আসমত মুন্সী সিঙ্গাপুরপ্রবাসী। দুই ছেলে মো. মেহেদী হাসান (১১) ও মেহেরাবকে নিয়ে বাশাগাড়িতে থাকেন আসমতের স্ত্রী রেহানা বেগম।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহেরা খান জানান, বৃহস্পতিবার শিশুটি নতুন বই নিয়ে বাড়ি যায়। গতকাল ক্লাস করার জন্য স্কুলে আসার পথে সে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এলাকাবাসী জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত চলে যায়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এবং গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি টেম্পো ভাঙচুর করে। পরে নগরকান্দার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল আজিজ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে গতিরোধক নির্মাণের আশ্বাস দিলে বেলা একটার দিকে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফসারউদ্দিন বলেন, বাসটি শনাক্ত করা গেছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অটিজম শিশুদের জন্য নতুন অ্যাপ

অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নতুন অ্যাপ আনল গুগল গ্লাস। এই অ্যাপের মাধ্যমে ওই শিশুদের শিক্ষা দেয়ার সুবিধা হবে বলে দাবি করা হয়েছে গুগলের তরফ থেকে। নতুন এই অ্যাপের নাম দেয়া হয়েছে ‘ব্রেন পাওয়ার’।

এই অ্যাপ নিয়ে আপাতত গবেষণা চলছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে।

আগামী বছরেই চালু হবে এই অ্যাপ।

অ্যাপটির মাধ্যমে অটিজম আক্রান্তদের মনের কথা বুঝে নেয়া যাবে। তারা কোন দিকে তাকিয়ে আছে, কোনদিকে মনঃসংযোগ করছে তা বোঝা যাবে। এর ফলে এদের সাথে কথা বার্তা বলা সহজ হবে।
সূত্র : ইন্টারনেট

ধর্ষনের চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে শিশুকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা!

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রিয়া খাতুন (১০) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত রিয়া উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে ও লক্ষ্মীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে গ্রামের একটি সরিষাক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে।

 বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান, শুক্রবার দুপুরে স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ক্ষেতে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় হয়ে গেলেও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে সরিষা ক্ষেতের মধ্যে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ফেলে গেছে।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুস সালাম বাদি হয়ে বেলকুচি থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেছেন।

 সূত্র- যুগান্তর।

 

অন্তত শিশুদের কথা শুনুন। কেননা, শিশুরা মিথ্যা কথা বলে না।

নিকট অতীতে বাংলাদেশ নিয়ে যেসব আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তাদের প্রায় সবাই আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। কেউ বলেছে, বাংলাদেশ একটি ধাঁধা। কেউ বলেছে, বাংলাদেশ পারে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, সামাজিক খাত ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ভারত যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে।
একদা খাদ্যঘাটতির বাংলাদেশ চাল রপ্তানি করে অনেককে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কেবল চাল নয়, মাছ, সবজি ও ছাগল উৎপাদনেও বাংলাদেশ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আগে বাজেটের আকার ছোট ছিল, তাও বিদেশি সাহায্য ছাড়া তৈরি করা ছিল অসম্ভব। এখন বাজেটের আকার দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়ালেও বিদেশের ওপর তেমন নির্ভর করতে হয় না। পাঁচ বছরের ব্যবধানে জাতীয় বাজেটের আকার দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ গত এক দশক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশে ধরে রেখেছে। বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম।
বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা, গবেষকেরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানা মাত্রায় কৃতিত্বের ছাপ রেখে চলেছেন। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে। বিজিএমইএ আশা করছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমান ২৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে রূপান্তরিত করতে পারবে। এই শিল্পে ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যার ৯০ ভাগ নারী শ্রমিক। বাংলাদেশের তৈরি জাহাজ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও যে পারেন, পাট ও ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করে তা দেখিয়েছেন ড. মাকসুদুল আলম এবং তাঁর সহকর্মীরা। তিনি মারা না গেলে হয়তো আরও অনেক উদ্ভাবন তাঁর কাছ থেকে আমরা পেতাম। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কারেও ভূষিত হবেন।

২.
বাংলাদেশের এই উন্নতি, অগ্রগতির পেছনে আছে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় আমাদের অর্থনীতিকে পুষ্ট করছে, সামাজিক সূচককে এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণেরা যেখানেই যান, সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন। বাংলাদেশের তরুণ কম্পিউটর প্রোগ্রামার সালমান খান ও সুমাইয়া কাজী আমেরিকাকে মাতিয়েছে। আমাদের যেসব তরুণ দেশের বাইরে পড়াশোনা করেন, তাঁদের অধিকাংশ নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনেক উঁচু পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের শ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের সুফল পাচ্ছেন বিদেশিরা। যদি আমরা তাঁদের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারতাম, তাহলে তাঁরা দেশেই ফিরে আসতেন, দেশের মানুষের সেবা করতেন।
কিন্তু ফিরে না আসার বড় কারণ অস্থির, অনিশ্চিত ও সংঘাতময় রাজনীতি। এই রাজনীতি আমাদের সমাজ, সভ্যতা ও মানুষের চাহিদা মেটাতে পারছে না। এ রাজনীতি মেধাবী তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। ক্ষমতাসীনেরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখালেও তারা দেশ, প্রশাসন, শিক্ষাঙ্গন—সবই চালাচ্ছে অ্যানালগ কায়দায়। এ কারণেই আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুকযুদ্ধে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুন হতে দেখি, সরকারি অফিসে টেন্ডারবাজি এবং সর্বত্র দখলবাজির মহড়া চলতে দেখি।
আধুনিক মানুষের জীবনযাপন, দৈনন্দিন কাজ-কর্ম সব তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর হলেও আমাদের রাজনীতিটা রয়ে গেছে সেই মান্ধাতার আমলে। রাজনীতিকেরা একে অপরকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন, জিবের ধার পরীক্ষা করেন। তাঁদের এই বাগ্যুদ্ধে মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণের কথা নেই। মানুষের স্বপ্ন ও ভালোবাসার কথা নেই। আছে কেবল হিংসা-দ্বেষ, ঘৃণা ও জিঘাংসা। রাজনীতি এখন বিদ্যাচর্চার মাধ্যম নয়, বুদ্ধিনাশ ও পেশিশক্তি চাষের মাধ্যম।
এ কথা সত্য যে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ধ্যানধারণা, নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী। যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা দলীয় আদর্শ বাস্তবায়ন করবেন, এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ তাদের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কঠিন বাধার মুখে পড়েছে, এমন নয়। বরং তারাই কখনো রাষ্ট্রধর্ম রেখে, কখনো নারীনীতি সংশোধন করে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সঙ্গে আপস করছে। আপস করছে পরিত্যক্ত স্বৈরাচারের সঙ্গেও।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যেসব উপাদান অপরিহার্য, যা কোনো দলই উপেক্ষা করতে পারে না, সেগুলো হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সব নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ, মানুষের মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকারগুলো সমুন্নত করা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী বলে দাবিদার সরকার সেই কাজগুলো কেন করছে না, সেটি আমরা বুঝতে অপারগ। কেন আমরা ৪৩ বছরেও একটি সরকারপদ্ধতি, নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্যে আসতে পারলাম না? বন্দুকের জোরে যাঁরা ক্ষমতাসীন হয়েছেন, তাঁদের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু যাঁরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন (লক্ষ করুন ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের নির্বাচন), তাঁরা কেন গণতন্ত্রকে টেকসই ভিতের ওপর দাঁড় করতে পারলেন না? আমাদের গণতন্ত্রীরা এতটাই অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছেন যে পরিত্যক্ত স্বৈরাচারও আজ গণতন্ত্রের সবক দেওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। যে দেশে গণতন্ত্র থাকে, সে দেশে গণতন্ত্র হত্যা দিবস কিংবা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করতে হয় না। গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এ নিয়ে এত হাঙ্গামা, এত মারামারি, এত ঝগড়াঝাঁটি হয় না। এখানে হচ্ছে, কেননা সত্যিকার গণতন্ত্র নেই। এখানে হচ্ছে, কেননা যেকোনো উপায়ে আমরা ক্ষমতায় থাকতে চাই বা যেতে চাই।

৩.
২০১৪ সালটি জাতির জীবনে ভালো গেছে বলা যাবে না। তবে আগের বছরের চেয়ে কম খারাপ গেছে। এখন প্রশ্ন, ২০১৫ সাল কেমন যাবে? বছরের শুরুটা হয়েছে জামায়াতের হরতাল দিয়ে। তার আগে ২০ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল। হরতাল-অবরোধ, হাঙ্গামা, বাসে আগুন, ভাঙচুর চলবে কি না, সেটি নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর। তাদের শুভবুদ্ধি হলে এগুলো এড়ানো যায়। দুর্বুদ্ধি বজায় থাকলে এ থেকে রেহাই নেই। সংকট সমাধানে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। আলোচনার কথা বলেছেন। সরকারি দল পাল্টা ১৪ দফা দিয়ে তার অসারতা প্রমাণ করতে পারত। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে তারা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। যেমনটি গত বছর নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া করেছিলেন। এই পাল্টাপাল্টির নাম গণতন্ত্র নয়। খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা বলেছেন, সেটি তো আগামী নির্বাচনের আগে করতেই হবে। সংবিধান অনুযায়ী কোনোভাবে এ কমিশন পাঁচ বছরের বেশি থাকতে পারবে না। কমিশনের মেয়াদ তিন বছর পার হয়ে গেছে।
নির্বাচন কবে হবে, কোন সরকারের অধীনে হবে, সে সমস্যা অমীমাংসিত রেখেও সরকার ও বিরোধী দল অন্তত দুটি বিষয়ে সন্ধি বা সমঝোতা করতে পারে। এক, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দেবে না, দুই, বিরোধী দল এমন কোনো কর্মসূচি নেবে না, যাতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত এবং জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
ক্ষমতাসীনদের মধ্যে একটি ধারণা বদ্ধমূল যে যারাই তাঁদের সমালোচনা করে, ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়, তারা দেশের শত্রু, সমাজের শত্রু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। তারা এও মনে করেন যে, একমাত্র তারাই দেশের ভালো চান। কল্যাণ চান। আর কেউ দেশ নিয়ে ভাবেন না। দেশের জন্য আর কারও দরদ নেই। ভালোবাসা নেই। গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ—সবাই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের কোনো ভুল পদক্ষেপের সমালোচনা করলেও তাঁরা সেটি মানতে পারেন না। দেশের সাধারণ মানুষ, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কী চায়, তাও তাঁরা বুঝতে চান না। গত এক বছরে বিএনপি জোট আন্দোলন করতে পারেনি বলে সরকারি দলের নেতারা বাহবা নেন। কিন্তু বিরোধী দলের আন্দোলনহীন গত এক বছরে যত খুন, গুম হয়েছে, তার দায় তো সরকারকেই নিতে হবে।

৪.
গত বছর ৩০ ডিসেম্বর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ পেয়েছে। সেই পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে, এ রকম চারজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে প্রথম আলোয়। গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংস্থা, বিদেশি কূটনীতিক—যাঁরাই সরকারের সমালোচনা করছেন, তাঁদেরই ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এই শিশু–কিশোরদের সরল সত্য ভাষণ সরকার কীভাবে নেবে?
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্রী তাকীয়া এহসান বলেছে, ‘আমি নতুন বছরটি আনন্দে কাটাতে চাই। শান্তিতে থাকতে চাই। আর দেশকে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।…আমি চাইলেও সন্ধ্যার পর একা বের হতে পারি না। আমার সমাজ ও রাষ্ট্র এখনো এভাবে নিরাপত্তা দিতে পারেনি।’
চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী আদিল আহমেদ বলেছে, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়, সেটি ২০১৩ সালে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।…ওই বছর অনেক দিন স্কুলে যেতে পারিনি।…আমরা দেশে হানাহানি দেখতে চাই না। আমরা দেশ গড়ার রাজনীতি চাই। গাড়িতে ঢিল ছুড়ে একজন শিক্ষিকাকে খুন করা হয়েছে। এই বীভৎস চিত্র আমাদের মর্মাহত করেছে। আপনারা সমঝোতা করে শান্তি আনুন দেশে।’
রাজশাহী পিএন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নাফিসা বিনতে আসিফ বলেছে, ‘চারদিকে যেভাবে পরিবেশদূষণ হচ্ছে, তা দেখে মন খারাপ হয়। তার চেয়েও বেশি খারাপ হয় দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখে।’
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাওহিদ আহসান বলেছে, ‘ঢাকা শহরের নোংরা পরিবেশ আর ট্রাফিক জ্যামটা সবচেয়ে খারাপ লাগে। যতই পরীক্ষা হোক না কেন, যেন প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়। তাহলে দেশে মেধাবীদের সংখ্যা কমে যাবে। পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাওয়া একটি প্রতারণা।’
তাই সরকারকে বলব, গণমাধ্যমের সমালোচনা কানে না নিন, নাগরিক সমাজের উদ্বেগ অগ্রাহ্য করুন, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিন, অন্তত এই কোমলমতি শিশুদের চাওয়া-পাওয়ার কথাটি ভাবুন। তারা নোংরা ঢাকা শহরের মতো নোংরা রাজনীতিও অপছন্দ করে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে ঘৃণা করে। তারা ঘরে-বাইরে নিরাপত্তা চায়।
অন্তত শিশুদের কথা শুনুন। কেননা, শিশুরা মিথ্যা কথা বলে না।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।

 

শিশুরা কি শিখবে?মূল্য নাকি মূল্যায়ন!

বেশ কয়েকদিন আগে স্কুল থেকে ফেরার পথে নাকীবের এক ক্লাস ফ্রেন্ড ড্রাভিদও হাঁটছিল আমাদের সাথে! হাঁটতে হাঁটতে নানান বিষয়ে কথা বলছিলাম দুজনের সাথে! একসময় নাকীব ওর মামা ওকে নতুন খেলনা কিনে দিয়েছে সেকথা জানালো। খেলনাটির মূল্য কত জানতে চাইলো ড্রাভিদ। নাকিব মূল্য বলার পর ড্রাভিদ বলল, আমার কাছে ২৯ ইউরো আছে। আর ১৬ ইউরো জমালেই আমিও তোমার খেলনাটি কিনতে পারবো। কিন্তু আমি কিনবো না। ১৮ তারিখে আমার মাম্মার বার্থডে। আমি মাম্মাকে উপহার কিনে দেবার জন্য ইউরো জমাচ্ছি দুই মাস ধরে। মাকে উপহার কিনে দেবার জন্য টাকা জমাচ্ছে শুনেই কেমন যেন মুগ্ধতার ভরে গেলো মনটা। মনে পড়ে গিয়েছিল নিজের টাকা দিয়ে যেদিন প্রথম মামণিকে আর বাবাকে উপহার কিনে দিয়েছিলাম সেই দিনের কথা! স্মৃতিটা নাকীবের সাথে শেয়ার করার জন্য ওর দিকে তাকাতেই নাকীব হড়বড় করে বলতে শুরু করলো, আম্মুতা আমিও কিন্তু তোমাকে সবসময় ভালোবাসা উপহার দিই। ভালোবাসা সবচেয়ে সুন্দর উপহার। ভালোবাসা অমূল্য তাই এটা অর্থের বিনিময়ে কেনাও যায় না। চাইনি কিন্তু চেপে রাখতে না পেরে হেসে ফেলেছিলাম আমি! নাকীব মুখ একটু কালো করে বলল, তুমিই তো বলেছিলে কাউকে দেবার ভালোবাসার চেয়ে সুন্দর কোন উপহার নেই। তাই যারা আমার অনেক আপন তাদেরকে যেন সবসময় অনেক অনেক ভালোবাসা দেই! আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, অবশ্যই বাবা ভালোবাসার চেয়ে সুন্দর, পবিত্র ও অনন্য কোন উপহার নেই পৃথিবীতে। তোমার ভালোবাসা উপহার স্বরূপ পেয়ে আম্মুতা অনেক অনেক খুশি হই সবসময় আলহামদুলিল্লাহ।

বেশ কয়েক বছর আগে এক ক্লাস ফ্রেন্ড ভালোবাসার কারণে নিজ পরিবার পরিজন সবকিছু তুচ্ছ করে, চলে গিয়েছিল ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে ভালোবাসাময় জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। সেই ভালোবাসার মানুষটি যখন ভালোবাসা ছাড়া জীবন ধারণের নিত্য প্রয়োজনীয় বিলাশ বাসন দিতে ব্যর্থ হচ্ছিলো। এবং ভালোবাসার দ্বারা সবকিছুই অভাব পূরণ করার চেষ্টা করছিল কয়েকমাস যেতে না যেতেই সেই ক্লাস ফ্রেন্ডটি হাঁপিয়ে উঠেছিলো ভালোবাসার মানুষটির দেয়া ভালোবাসার আতিশায্যে। সংসারে শুরু হয়ে গিয়েছিল ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়াকে ঘিরে দ্বন্দ্ব-কলহ। যেই ভালোবাসার জন্য পরিবার ছেড়েছিল সেই ভালোবাসাতেই অতিষ্ট হয়ে সংসার ভেঙে সে ফিরে এসেছিল। এই ঘটনাটি দেখে গভীর চিন্তায় নিমজ্জিত হয়েছিলাম আমি। বার বার মনে প্রশ্ন জাগছিল যে, ভালোবাসার জন্য পরিবারকে ছেড়ে দেবার মত ত্যাগ স্বীকার করতে পারলে, নিজের ছোট ছোট চাহিদাকে কেন ত্যাগ করতে পারলো না?! সমস্যাটা কোথায়? ভাইয়া হেসে বলেছিলেন, সমস্যাটা হচ্ছে শাড়ি-গহনা ইত্যাদিও মেয়েদের কাছে ভালোবাসার উপকরণ। বলেছিলাম, আমি এমনটা মনে করি না। ভাইয়া বলেছিলেন, কারণ তোমাকে এমনটা মনে করার শিক্ষা দেয়া হয়নি। তোমাকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে, ‘সবার উপরে ভালোবাসা সত্য, সুখের জন্য শুধু ভালোবাসা প্রয়োজন নিত্য’। হেসেছিলাম তখন খুব। আসলেই এই শিক্ষাটাই দেয়া হয়েছে আমাদের সব ভাইবোনদেরকে। মামণি, বাবা, ভাইয়া, হাসানজ্বি, থেকে নিয়ে শুরু করে পরিবারের সবাই কবে আমাকে কি উপহার দিয়েছে মনে করতে হলে আমাকে ভাবতে হবে। যেহেতু ঐসব উপহার আমার কাছে কখনোই তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না। কিন্তু উনাদের দেয়া সুন্দর সুন্দর ভালোবাসাময় মূহুর্ত আমি ননস্টপ বলে বা লিখে যেতে পারবো। কারণ আপনজনদের ভালোবাসা আমার জীবনের অমূল্য সম্পদ।

জীবনে ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা আমরা কেউই অস্বীকার করতে পারি না। ভালোবাসা মনে এমন এক আশার জন্ম দেয় যা মানুষকে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আমরা জানি জীবনের ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তাকে কিন্তু তবুও কেন জানি ঠিক গুরুত্ব দিতে পারিনা সেভাবে। কাউকে ভালোবাসি ভালোবাসি করে জীবন দিয়ে দেই। অথচ সেই ভালোবাসার মানুষটি যদি শুধু ভালোবাসা নিয়ে কাছে আসে আমাদের মুখ কালো হয়ে যায়। এর কারণ আসলে আমরা শুধু ভালোবাসা পেয়েই সুখী বা তৃপ্ত হতে শিখি না বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকে। আমরা ভালোবাসাকে মূল্যায়ন করতে শিখি অর্থের মূল্যে। যে যত বেশি দামের উপহার দেয় বা দিতে পারে। সে আমাদের কাছে ততবেশি গুরুত্ব ও ভালোবাসার দাবীদার হিসেবে গণ্য হয়। এর প্রভাব গিয়ে পড়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে। জীবনকে ঘিরে ঘূর্ণায়মান প্রতিটি সম্পর্কের উপরেও। ছোটবেলা থেকেই তাই শিশুদেরকে কোনকিছুর মূল্য নয় মূল্যায়ন করা শেখাতে হবে। যাতে জীবনের চলার পথে মানুষকে তার ভালোবাসার দ্বারা বিবেচনা করে। কাউকে দেবার ক্ষেত্রে এবং নিজে পাবার ক্ষেত্রেও।

লিখেছেন – ডা.আফরোজা হাসান,শিশু-মনোবিজ্ঞানী। মাদ্রিদ,স্পেন।

পুত্রবধুর গায়ের রঙ কালো আর তাই লাশ হতে হলো ছেলেকে!

গায়ের রং কালো হওয়ায় পুত্রবধূ রুপালীকে মেনে নিতে পারেননি শ্বশুর আমিনুল ইসলাম (৫০)। তিনি ছেলে রায়হানকে চাপ দেন রুপালীকে তালাক দেওয়ার জন্য। কিন্তু বাবার আদেশ অমান্য করে রায়হান কালো স্ত্রীকে নিয়েই সংসার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব। একপর্যায়ে স্ত্রীকে নিয়ে ঘর ছাড়েন ছেলে রায়হান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, কালো স্ত্রী নিয়ে সংসার করার কারণে শেষ পর্যন্ত বাবার হাতে খুন হয়েছেন রায়হান (২৮)।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সোডাপীর নয়াপাড়া গ্রামে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। ছেলে রায়হানকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় অন্য দুই ছেলে তাঁকে আটক করে পুলিশে দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠায়। নিহত রায়হানের দুই মাস বয়সী একটি পূত্রসন্তান রয়েছে।

ছেলে হত্যায় অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামের সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। মাঝে মধ্যে তিনি কৃষিকাজ করেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আমিনুল অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত। তিনি সড়ক-ডাকাতদের একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তিনি নেশা করেন। তবে এ ব্যাপারে আমিনুলের ছেলেরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, একই জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের আটুরিয়া গ্রামের রুপালীকে বিয়ে করেন রায়হান। বিয়ের পর রুপালীকে বাড়িতে নিয়ে এসে আমিনুল ইসলাম দেখেন ছেলের বউয়ের গায়ের রং অনেক কালো। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে রুপালীকে তালাক দেওয়ার জন্য ছেলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন আমিনুল। কিন্তু রায়হান তাঁর বাবার নির্দেশ শোনেননি। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর নেমে আসে নানা অত্যাচার। পারিবারিকভাবে নির্যাতন সইতে না পেরে রায়হান স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যান। সেখানে কিছুদিন থাকার পর স্ত্রী রুপালীকে নিয়ে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ নেন রায়হান। দীর্ঘদিন রায়হানের সঙ্গে তাঁর বাবা আমিনুল ইসলামের যোগাযোগ ছিল না।

জানা গেছে, দুই মাস আগে রুপালীর পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। রুপালী সন্তান নিয়ে মিঠাপুকুরের আটুরিয়ায় বাবার বাড়ি আসেন। গত বুধবার তাঁদের ঢাকায় চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু রায়হানের মা রেহানা বেগম নাতিকে এক নজর দেখার জন্য রায়হানকে ডেকে আনেন। গত মঙ্গলবার নিজ বাড়ির টানে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে আসেন রায়হান। বুধবার জামায়াতের ডাকা হরতালে তাঁরা আটকা পড়েন। আর ওই রাতই রায়হানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ওই দিন রায়হান তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে বাবার বাড়িতে নিয়ে এলে বাবা আমিনুল উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কেন কালো বউকে বাড়িতে আনা হলো এ নিয়ে বাবা-ছেলের কথাকাটাকাটি হয়।

রায়হান বলেন, ‘কালো হলেও আমার স্ত্রী। আমি ওর সঙ্গেই সংসার করব।’ এ নিয়ে উত্তেজিত হয়ে আমিনুল ঘরে রাখা ধারালো ছুরি নিয়ে রায়হানকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে আমিনুল ছেলে রায়হানের বুকে ছুরি বসিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান রায়হান। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে আমিনুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাঁর অন্য দুই ছেলে লিমন ও রাকিব ঘাতক বাবা আমিনুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে দেন।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, রায়হানের স্ত্রী রুপালী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সুত্র- কালের কন্ঠ।

 

চাকরী প্রার্থীর ৪টি সাধারন দুর্বলতা!

চাকরি খুঁজছেন? কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্নের সোনার হরিণটির কাছাকাছি গিয়েও আপনাকে বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে? একদমই হতাশ হবেন না। মনে রাখবেন, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দুর্বলতা আছে। আবার বিশেষ কিছু গুণও আছে সবার মধ্যে। তাই এসব দুর্বলতাকেই শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। তাহলেই নাগাল পাবেন সোনার হরিণের।
চাকরিপ্রার্থীরা চারটি সাধারণ দুর্বলতার কারণে প্রতিযোগিতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন। জেনে নিন সেই সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী এবং কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন।

অভিজ্ঞতার ঘাটতি
যে পেশায় কাজ করার জন্য আবেদন করছেন, সে বিষয়ে হয়তো আপনার অভিজ্ঞতা খুব কম। তাই অন্যান্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনাকে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে আবেদনপত্র ও সাক্ষাৎকারে (ইন্টারভিউ) নিজের অন্যান্য দক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখ করুন। আর নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন, যাতে মনে হয়, নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে আপনি যথেষ্ট আন্তরিক এবং ওই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আপনি দ্রুত পূরণ করে নিতে পারবেন। মনে রাখবেন, অনভিজ্ঞতা আপনার জন্য সুফলও এনে দিতে পারে। দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রশিক্ষণ আপনি সব সময়ই নিতে পারবেন, কিন্তু ব্যক্তিত্বের ব্যাপারটা অন্য রকম।


চাকরির মাঝখানে বিরতি
এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই একটু কঠিন। চাকরি চলে গেলে বা স্বেচ্ছায় কোনো চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর নতুন আরেকটি পদে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা বিরতি হিসেবে গণ্য হয়। এই সময় স্বেচ্ছাসেবামূলক কোনো কাজ বা প্রশিক্ষণ নেওয়ার কাজে যুক্ত হতে হবে। এতে বিরতির সময়টা আপনার জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) ইতিবাচক বা দক্ষতা অর্জনের পর্যায় হিসেবে বিশেষ মূল্যায়ন পাবে। সিভি পড়ে সাধারণত কেউ জিজ্ঞেস করবে না, ওই বিরতির সময় আপনি বেতন পেয়েছেন কি না। কিন্তু নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার এসব কাজে ব্যস্ত থাকার তাৎপর্য হিসেবে আপনাকে ক্যারিয়ার-সচেতন এবং উদ্যমী হিসেবে বিবেচনা করবে।


দ্রুত ও ক্রমাগত চাকরি বদল
একটা চাকরি হঠাৎ করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীর কারও পছন্দ নয়। বারবার ও দ্রুত চাকরি পরিবর্তন করার ফলে একজন কর্মীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষেত্রে তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি যথেষ্ট অঙ্গীকারবদ্ধ নন বলে মনে করা হতে পারে। ক্যারিয়ার গঠন ও দক্ষতা অর্জনের ব্যাপারে শক্তিশালী মনোভাব রাখার পাশাপাশি কাজেও তার প্রমাণ দিতে হবে। চাকরির বাইরে (ফ্রিল্যান্সার হিসেবে) নিজ উদ্যোগে কিছু ইতিবাচক কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সেগুলো সিভিতে গুছিয়ে তুলে ধরুন। এতে আপনি বারবার চাকরি বদল করে থাকলেও ব্যাপারটাকে তুলনামূলক কম নেতিবাচক মনে হবে।


প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব
আপনি কাঙ্ক্ষিত কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বপ্নের চাকরিটা করার সুযোগ পেয়ে যাওয়ার পরও আপনার মনটা যদি খুঁত খুঁত করে এই মনে করে যে আপনি কাজটার জন্য যথেষ্ট যোগ্য নন, তাহলে দুর্ভাবনা ও হীনম্মন্যতা ঝেড়ে ফেলুন। নিজের ঘাটতিগুলো ভিন্ন উপায়ে পুষিয়ে নিতে হবে। অতীতে গঠনমূলক বিভিন্ন কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য একজন আদর্শ কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করুন। সিভিতেই বর্ণনা করুন, আপনার আগের কাজকর্ম নতুন প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত পদে চাকরির উপযোগী অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজে লাগবে।
মনস্টার ডট কম অবলম্বনে

 

চ্যানেল আইতে জমকালো বিয়ে উৎসব

পন্ডস-নকশা বিয়ে উৎসব নিয়ে নির্মিত অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আইতে দেখানো হবে আজ বেলা ১১টা ৫ মিনিটে। গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় বিয়ে উৎসব। ইউনিলিভার ও প্রথম আলোর এই আয়োজনে দিনভর ছিল বিয়ের নানা বিষয় নিয়ে মেলা।

সন্ধ্যায় ছিল জমকালো ফ্যাশন শো, নাচ ও গানের অনুষ্ঠান। দেশসেরা মডেলদের পাশাপাশি ফ্যাশন শোতে বিয়ের সাজে হেঁটেছেন ফেরদৌস, অপু বিশ্বাস, হৃদয় খান, সুজানা, আরিফিন শুভ ও মেহজাবীন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন তাহসান ও মিথিলা। অনুষ্ঠানে গান গেয়েছে ব্যান্ড দল চিরকুট আর বিয়ের গানের সঙ্গে ছিল অভিনেত্রী ভাবনার নাচ।

ফিরে দেখা ২০১৪ সাল…

অপরাজিতা ডেস্কঃ দেখতে দেখতে বিদায় নিয়েছে ২০১৪ সাল। সময়ের পাতা থেকে চলে গেছে আরও একটি বছর। পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায় বছর বিদায় নিয়েছে ঠিকই তবে ইতিহাসের পাতায় রেখে গেছে অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা। কিছু কিছু ঘটনা জাতিকে করেছে বিমোহিত। আবার কিছু ঘটনা এনে দিয়েছে দুঃখ-বেদনা। কিছু ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালি জাতিকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। আবার কিছু ঘটনা সেই সম্মানকে ম্লান করেছে। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সংবলিত গত বছরের আলোচিত ঘটনা গুলোর মধ্য থেকে কিছু ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হল।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন : বছরের শুরুটা হয়েছিল বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন রোধেই ছিল সেই কর্মসূচি। বছরের শুরুতে যে সহিংসতা তাও সেই নির্বাচন ঘিরেই। বিএনপি নেতৃত্বাধীন প্রধান রাজনৈতিক জোটের বয়কটের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এত কম ভোটারের উপস্থিতি, অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া এবং সহিংসতার কারণে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয় এ নির্বাচন। নির্বাচনের দিনেই সহিংসতায় নিহত হন ২২ জন। দেশে-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই নির্বাচন।

ফিল্মি স্টাইলে জঙ্গি ছিনতাই : গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে গুলি চালিয়ে ও বোমা মেরে পুলিশের কাছ থেকে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের তিনজন (জেএমবি) দুর্ধর্ষ ক্যাডারকে ছিনিয়ে নিয়েছে জঙ্গিরা। ছিনিয়ে নেয়া তিন জেএমবি সদস্য- সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮), মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান (৩৫) এবং রাকিবুল হাসান ওরফে রাকিব ওরফে হাফিজ মাহমুদ (৩৫)। সালাউদ্দিন তিন মামলায় ও রাকিব এক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং মিজান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি। এদের মুক্তাগাছা থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও কোতোয়ালি থানার সিরিজ বোমা হামলাসহ ৫ মামলায় হাজিরা দিতে ময়মনসিংহের আদালতে নেয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়।

লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা : গত ২৬ মার্চ ৪৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ এদিন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জনের বিশাল মানবপতাকা তৈরি করে বিশ্বে এক অনন্য রেকর্ড গড়া হয়। সর্ববৃহৎ মানবপতাকা তৈরি ও সবচেয়ে বেশি মানুষের কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার এই বিরল ঘটনা স্থান করে নেয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে। অনেক অঘটনের মধ্যে এই একটি ঘটনা আমাদের নতুন পরিচিতি এনে দেয় বিশ্বের বুকে।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন : বছরের সবচেয়ে নৃশংস ঘটনা ছিল এটি। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে। এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছিল রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাবের হাতে। এই অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যা পর্যন্ত র‌্যাব-১১’র তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল (বরখাস্তকৃত) তারেক সাঈদ ও মেজর (বরখাস্তকৃত) আরিফ হোসেন সরাসরি জড়িত ছিলেন। আর অপহরণে জড়িত ছিলেন লে. কমান্ডার (বরখাস্তকৃত) এমএম রানা। র‌্যাবের বিভাগীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ঘটনায় মোট ২১ জন র‌্যাব সদস্য জড়িত ছিলেন। সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন র‌্যাবের কয়েকজন অসৎ কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে এই লোমহর্ষক খুনের ঘটনা ঘটায়। টাকার বিনিময়ে র‌্যাবের মানুষ খুনের ঘটনা দেশ-বিদেশের সব বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করে তোলে।

ফুলগাজী ট্রাজেডি : গত ২০ মে দিনদুপুরে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা : দীর্ঘ এক মাস ধরে দেশ মেতেছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায়। প্রিয় দলের পতাকা স্থান করে নেয় গাড়ির সামনে, বাড়ির ছাদে এমনকি কপালেও। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। রাত জেগে, চা স্টলে, নানা তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে চলে এই খেলা। ১৩ জুলাই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে এই উন্মাদনার সমাপ্তি ঘটে।

সবচেয়ে বড় নৌদুর্ঘটনা : বছরের সবচেয়ে বড় নৌদুর্ঘটনা ছিল মাওয়া ঘাটে প্রায় আড়াইশ’ যাত্রী নিয়ে পিনাক-৬ নামের লঞ্চডুবির ঘটনাটি। গত ৪ আগস্ট লৌহজং চ্যানেলের এই মর্মান্তিক ঘটনায় যাত্রীদের বেশির ভাগই হারিয়ে যায় প্রবল সে াতে। এত বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির হৃদয়বিদারক ঘটনায় সারা দেশের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

বড়াইগ্রামের বেদনা : গত ২০ অক্টোবর নাটোরের বড়াইগ্রামে কেয়া ও অথৈ পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ৩৭ জন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটিকে চাপা দেয় হানিফ পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনা বড়াইগ্রামের মানুষের জন্য বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বিচারে এটিই ছিল এ বছরের সবচেয়ে বড় সড়ক দুর্ঘটনা।

আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জনের মাস : দেশ নানা অঘটনের মধ্য দিয়ে পার হলেও গত অক্টোবর মাসের দুটি ঘটনা বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম বাড়িয়ে তোলে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাস এটি। এ মাসে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ৯ অক্টোবর ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যারিবীয় অঞ্চলের কেইম্যান আইসল্যান্ডসের স্পিকার জুলিয়ানা ও’কনর পেয়েছিলেন ৬৭ ভোট। এছাড়া ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি নির্বাচিত হন সাবের হোসেন চৌধুরী। ১৬ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইপিইউর ১৩১তম সম্মেলনে সাবের হোসেন চৌধুরী পান ১৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার ব্রনউইন বিশপ পান ৯৫ ভোট।

কিংবদন্তিদের বিদায়ঃ ২০১৪ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন বেশ কিছু কিংবদন্তি মুখ। যাদের অমর কীর্তিগুলো চির আসন তৈরী করে আছে হাজারো মানুষের হৃদয়ে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত নায়িকা সুচিত্রা সেন, কিংবদন্তি অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস,

নোবেলজয়ী গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, নাদিন গার্ডিমার,বেলজিয়ামের সাবেক রাণী ফাবিওলা ব্রাসেলেস। এছাড়াও চলে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মুখ অভিনেতা খলীল আহমেদ,সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগম,চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ,ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন,সাংবাদিক এমিএম মূসা  প্রমুখ।
খেলাধূলোয় সাফল্যঃ এ বছরটা খেলার জগতে টাইগারস টিমের জন্য বেশ ভালোই ছিলো বলা চলে। তিন ভার্সনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুলোতে সাকিব,মুমিনুলদের পারফর্মেন্স ছিলো অসাধারন। এবং সেই সাথে টাইগারস টিম নতুন করে আরেকবার নাম লিখিয়েছি সফল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অংগনে। তবে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অংগনটা বছরের শেষ সময় জুড়ে যথেষ্ট শোকের ছিলো বলা চলে! ক্রিকেটের বল কেড়ে নিয়েছিলো দেশে এবং বিদেশে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের প্রাণ! দক্ষিণ আফ্রিকার ড্যারেন র‍্যান্ডাল,বাংলাদেশের রবিন আহমেদ এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের মৃত্য গুলো গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে শোকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো।

জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যু : বছরের শেষ মুহূর্তের একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ছিল রাজধানীর শাহজাহানপুরে ওয়াসার পাইপ থেকে জিহাদকে জীবিত উদ্ধারের ব্যর্থতা। ২৬ ডিসেম্বর বিকালে জিহাদ পড়ে যায় গভীর পাইপের ভেতরে। ২৩ ঘণ্টা চেষ্টা করেও চার বছরের এই ছোট্ট সোনামণিকে উদ্ধারে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যর্থ হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনী তাদের উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় পাঁচ তরুণের সাহসী ভূমিকা আর দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জিহাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এমন উল্লেখযোগ্য অসংখ্য ঘটনাই ঘটেছে গত বছর যা কেবল ২০১৪ সাল কে ই শুধু নয়,অনেক গুলো বছর জুড়ে আমাদের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যাবে।
প্রতিভাবান মহিলা ডাক্তার শামাররুখ মেহজাবিনের মৃত্যুর মতো অনেক মহিলা ডাক্তার কে আমরা হারিয়েছি শুধুমাত্র শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে। যা ছিলো ২০১৪ সালের আলোচিত অনেক গুলো ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

বর্তমান সময়ের তরুণীদের জন্য বিশ্বসুন্দরীর পক্ষ থেকে খোলা চিঠি

যেসব তরুণী ফেসবুক নিয়ে দিনরাত পড়ে থাকেন বা ফেসবুককেই তাঁদের জীবনযাপন বানিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের কাছে ২০১৪ সালের মিস ওয়ার্ল্ড নির্বাচিত হওয়া রলিন স্ট্রস একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তিনি লিখেছেন
ঠিক আছে! আমি রেগে আছি!! আমি আনুষ্ঠানিকভাবেই বলছি!!! আমি যে কথাগুলো বলব, তা শুনতে ভালো লাগবে না…কারণ, যে মেয়েরা নিজেদের মূল্য নিজেরাই দিতে পারেন না, তাঁদের কথা ভেবে আমার বিরক্ত ও অসুস্থ লাগছে…এই মেয়েগুলো কেমন করে যে ভুলে যায় তাঁরাই তো রাজকন্যা…রানি…সম্মানীয়…মূল্যবান…ব্যয়বহুল…এবং বিক্রির জন্য নয়…
ওইসব তরুণীদের বলছি:
সংক্ষিপ্ত পোশাক পরে তোলা ছবি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে পোস্ট করার অর্থ এই নয় যে, আপনি অন্তর্বাসের মডেল হয়ে যাচ্ছেন। এটার কোনো মানেও হয় না… এ রকম করার অর্থ দাঁড়ায়, নিজেকে সস্তা, সহজ এবং যাচ্ছে-তাই করে তোলা।
গোপন তথ্য: ভিক্টোরিয়া সিক্রেট মডেলরা পণ্য বিক্রির জন্য ফটো সেটের সামনে দাঁড়ায় এবং এই মডেলিং করার জন্য তাঁর অর্থও পায়…তাঁরা বাথরুমের আলোয় ছবি তুলে তা ফোনে রেখে সাইবার দুর্বৃত্ত বা অনলাইনে সাইবার অপরাধীদের হাতে তুলে দেয় না।

বাথরুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন দিয়ে নিজের বক্ষের ছবি তুললে তা নিজেকে এবারকম্বির (মার্কিন ফ্যাশন হাউস) মডেল হিসেবে তৈরি করে দেবে না…এতে ফেসবুকে অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য নিজেকে মরিয়া মনে হবে।

আমার পরামর্শ: যদি একজন মডেল হতে চাও, তবে মডেল হও। নিজের পোর্টফলিও তৈরি করো। নিজেকে তৈরি করো এবং নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটো। আর যদি তা না করো, তবে অন্যেকে সস্তা আনন্দ দেওয়ার জন্য নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। ফেসবুকে দেওয়া ছবি অন্যের লাইক পাবার আশায় পোস্ট করে মনোবল বাড়ানোর ভান করেই কাটাতে হবে। যদি আলাদা আলাদা ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ লাইক মেলে, তাতে কী লাভ?…শিশুর মতো আচরণ নয়? সুইটহার্ট, তোমার দাম কী এটাই??? শুধু লাইক???
বাস্তবতা: ফেসবুকে নিজের শরীরের কিছু অংশ দেখিয়ে ছবি দেওয়া মানে সেই ছবি অনলাইনে অনেকেই দেখবে, অনেক ভিউ পাবেন… কিন্তু সুইটহার্ট, এটা নিশ্চয় তোমাকে বিশেষ কেউ বানিয়ে দেবে না… বরং এটা কী করবে তা ভেবে দেখো… এটা তোমাকে সফট পর্নোর রানি করে তুলবে, যা তোমার জন্য খুবই খারাপ অভিজ্ঞতা হবে আর এর জন্য তুমি কোনো অর্থও পাবে না।

পোশাকে গুরুত্ব দাও: নিজের একটি ক্লাস তৈরি করে নাও… নিজের দেহ বিক্রি বন্ধ করে দাও। যেখানে দুটি রুমাল দিয়ে গাউন তৈরি করা হয়, সে ধরনের পোশাক পরা ছবি পোস্ট করা ছেড়ে দাও…
তুমি অনেক সুন্দর… যখন তোমার পোশাক পরনে থাকে, তখন আরও বেশি সুন্দর তুমি… এবং অনেক মর্যাদাবান…
নিজের ভেতরের নিজেকে তৈরি করো… অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য বাইরে নগ্ন হওয়ার দরকার হবে না।
আমি নিজেও একজন কম বয়সী নারী… আমি রলিন স্ট্রস… আমার সঠিক পোশাকে আমাকে সুন্দর দেখায়। হ্যাসট্যাগ গেটড্রেসড!

অনুবাদিত।

২০১৪ সালে মোট নির্যাতিত নারীর সংখ্যা ৪হাজার ৬৫৪জন

গত বছর মোট ৪ হাজার ৬৫৪ জন নারী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হন ৪৩১ জন। যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয় ২৩৬ জনকে। উত্ত্যক্তের শিকার হন ৪৬৫ জন। এঁদের মধ্যে আত্মহত্যা করেন ২১ জন। ফতোয়ার শিকার হয়েছেন ২৯ জন।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ১৩টি দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে এসব তথ্য সংরক্ষণ করেছে সংস্থাটি।

মহিলা পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বছরটিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৯৩৯টি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হন ১৭৪ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৯৯ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১১৫ জনকে। বছরটিতে শ্লীলতাহানির শিকার হন ১১৬ জন। যৌন নির্যাতনের শিকার হন ৪৪ জন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বছরটিতে অ্যাসিডদগ্ধ হন ৫৫ জন। অ্যাসিডদগ্ধ হয়ে মারা যান চারজন। ৫৮ জন অগ্নিদগ্ধের মধ্যে মারা যান ৩৬ জন। অপহরণের শিকার হন ১১৮ জন। ৩০ জন নারী ও শিশু পাচারের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে যৌনপল্লিতে বিক্রি করা হয় ১৯ জনকে। বছরটিতে ৮৯৮ জন নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়। এ বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৬ জন গৃহপরিচারিকা। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৩৯ জনকে। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ৩৪১ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। ১৮৩ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে ৯৩ জন। পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫৩ জন। শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ২৫৮ জনকে।

বছরটিতে মোট ২৭৭টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

সূত্র- বাসস।