banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

শীতের সবজির মজাদার রেসিপি

সবজির কোরমা

সবজির ন’রতন কোরমা
উপকরণ: ফুলকপি, আলু, গাজর, মাশরুম, টমেটো, ফ্রেঞ্চ বিন বা বরবটি, পেঁপে, ক্যাপসিকাম, পুঁই অথবা পালংপাতা। পছন্দের নানা রকম সবজি আধা কাপ করে হালকা সেদ্ধ করে ঠান্ডা (বরফ) পানিতে ধুয়ে নিন। কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, চিনি ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, ঘি ও তেল প্রয়োজনমতো। (পছন্দমতো যেকোনো সবজি দেওয়া যায়)।
কোরমা পেস্ট তৈরি: টক দই ১ কাপ, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, ভাজা রসুন ১টা, চামচ, আদা কুচি ভাজা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা-চামচ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদা ঘি দিয়ে ভেজে নিতে হবে। এবার সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে কোরমা পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে।
প্রণালি: কড়াই চুলায় দিয়ে তাতে ঘি ও তেল দিন। তেল গরম হলে কোরমা পেস্ট দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে সবজিগুলো দিয়ে কষিয়ে নিন। আধা কাপ গরম পানি দিয়ে কাঁচা মরিচ, লবণ ও চিনি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন ন’রতন কোরমা।

f4a4196f02392aa0d07a2ebcf20db61f-22

পুরভরা শিম
উপকরণ: শিম ১০-১২টি, পেঁয়াজ বাটা ২ চা-চামচ, রসুন বাটা আধা চা-চামচ, জিরা বাটা আধা চা-চামচ, নারকেল বাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো।
প্রণািল: শিম হালকা সেদ্ধ করে নিন। শিমের মধ্যে পুর ভরে দিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ, রসুন, জিরা, নারকেল, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া দিয়ে একটু কষিয়ে নিন। তাতে ১ কাপ পানি দিয়ে দিন। পানি ফুটে ঝোল ঘন হয়ে এলে পুরভরা শিম দিন।। কিছুক্ষণ চুলায় রেখে নামিয়ে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
পুর তৈরি: চিংড়ি মাছ কুচি ২ টেবিল চামচ, নারকেল বাটা ২ টেবিল চামচ, সরিষা বাটা সামান্য, কাঁচা মরিচ মিহি কুচি ২টি, পেঁয়াজ মিহি কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। সব উপকরণ ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে ভেজে পুর তৈরি করে ঠান্ডা করে নিতে হবে।

রেসিপি- শাহানা পারভিন।

 

এমবিএম- ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোর্স

 

বাংলাদেশে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাংকিং ডিগ্রি দেওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। বিআইবিএম থেকে ব্যাংকিংয়ের জন্য রয়েছে মাস্টার্স অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (এমবিএম) নামের দুই বছর মেয়াদি বিশেষায়িত কোর্স। এ পর্যন্ত বিআইবিএম থেকে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
কোর্সের সুবিধা: এমবিএম-এর শিক্ষা পদ্ধতি বহুলাংশে প্রায়োগিক হওয়ায় এর শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিংয়ে দক্ষ হওয়ার সুযোগ বেশি পান। এ ছাড়া তাঁরা ব্যাংকিং খাতের দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পান।
যা থাকছে কোর্সটিতে: এমবিএম দিবা (ডে) প্রোগ্রামের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে দুই বছরে মোট ২০টি বিষয়ে ৬৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে কোর্স ওয়ার্ক, প্রজেক্ট পেপার ও মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। চার মাস মেয়াদি মোট ছয়টি টার্মে এই কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীদের কোর্সের মেয়াদ দুই বছর আট মাস। ইভিনিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের চার মাস মেয়াদি মোট আটটি টার্মে কোর্সটি সম্পন্ন করতে হয়।
ভর্তির যোগ্যতা: এমবিএম কোর্সে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে কমপক্ষে স্নাতক হতে হয়। তবে ভর্তির আবেদনের জন্য শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে একটি প্রথম বিভাগ থাকতে হবে এবং কোনো তৃতীয় বিভাগ থাকলে হবে না।
আবেদনের পদ্ধতি: বছরে দুবার এমবিএম প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। আগস্টে শুরু হয় সান্ধ্য প্রোগ্রাম এবং জানুয়ারিতে দিবা প্রোগ্রাম। দিবা প্রোগ্রামের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে এবং সান্ধ্য প্রোগ্রামের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় এপ্রিল থেকে। এই কোর্সে ভর্তির জন্য বিআইবিএম অফিস থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে আবেদন ফরম কিনে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করে জমা দিতে হয়।
ভর্তি পদ্ধতি: ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীকে দেড় ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই পরীক্ষার মধ্যে ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকে এমসিকিউ বা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর করার জন্য এবং ৬০ মিনিটের মধ্যে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। নৈর্ব্যক্তিক অংশের প্রশ্ন করা হয় ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি এবং ম্যাথমেটিক্যাল অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটির বিভিন্ন অংশ থেকে আর লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর ইংরেজি লেখার ওপর দক্ষতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ভর্তি পরীক্ষা থেকে প্রথম ২০০ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে প্রথম ৫০ জন ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।
খরচ: এই কোর্সের জন্য একজন শিক্ষার্থীর মোট খরচ পড়বে প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ও খাওয়া বাবদ আরও বেশি লাগবে, দৈনিক প্রায় ৩৫০ টাকা।
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ব্যাংক অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট
মিরপুর-২, ঢাকা-১২১৬
ফোন নম্বর-৯০০৩০৩১-৩৫ ওয়েবসাইট-www.bibm.org.bd

 

বুদ্ধিজীবী বাবার সন্তানদের কথা…

 

”বাবা ডাকতে পারিনি এটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়” নাহিদ গুলশান সোমা বাবা ক্যাপ্টেন শফিকুল আনোয়ার ছিলেন পিআইএ’র প্রকৌশলী। তার পোস্টিং ছিল ঢাকায়। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর তিনি আর চাকরিতে ফিরে যাননি। তিনি বলেছিলেন, এই পাকিস্তানিদের সঙ্গে আর নয়। স্বাধীন দেশে নিজস্ব এয়ারলাইনস গড়ে তুলব। যতদিন তা দাঁড় করতে না পারব ততদিন বিনা বেতনে কাজ করব।

বাবা বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাসায় বন্ধুদের নিয়ে গোপন মিটিং করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল। বাবা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে একপর্যায়ে ফেনীর লেমুয়াতে নানু বাড়িতে নিয়ে যান।সে সময়ে লেমুয়া গ্রামে প্রতি সপ্তাহে একদিন হাট বসত। অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার, হাটবার। বাবা হাটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি শুনতে পান মুক্তিযোদ্ধার একটি দল হাটে আসছে। লেমুয়া বাজারের কাছে কালিদহ আর্মি ক্যাম্প ছিল। পাক আর্মি এবং রাজাকাররা হাটে এসে গোলাগুলি শুরু করে। বাবা গোলাগুলির শব্দে লেমুয়া বাজার থেকে বের হওয়ার জন্য ছুটতে থাকেন। পেছন থেকে পাকসেনারা তাকে গুলি করে। গোলাগুলির পরেই এলাকায় কারফিউ দেয়া হয়। ঘর থেকে কেউ বের হতে পারেনি সেদিন। পরের দিন ধানক্ষেতে বাবার উপুড় হওয়া লাশ পাওয়া যায়। আমার বয়স তখন ১৩ দিন। আমাদের চার ভাই-বোনকে নিয়ে শুরু হল আমার মায়ের আরেক যুদ্ধ। পরিবারকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। আমাদের মানুষ করার জন্য গৃহিণী থেকে বাংলাদেশ বিমানে যোগদান করেন। চাকরি করে চার সন্তান মানুষ করলেন।আমি কখনও বাবা ডাকতে পারিনি। বাবার ভালোবাসা কেমন হয় অনুভব করতে পারিনি। এটা ভীষণ কষ্ট দেয় আমাকে। যদিও মা আমাদের বাবা-মা উভয়ের দায়িত্বই পালন করেছেন। বাবার পেশা প্রকৌশলী হওয়ায় জীবনযাপনের ধরনও ছিল উন্নতমানের। তার মৃত্যুর পর সেই জীবনযাপনে সন্তানদের মানুষ করা মায়ের জন্য ছিল কষ্টকর। ফলে বাবার অপূরণে সবকিছু পাল্টে যায়। কিন্তু মা আমাদের ভাই-বোনদের কষ্ট দেননি।

মা বড় মেয়েকে ব্যবসায়ী, বড় ছেলেকে প্রকৌশলী, মেজ মেয়েকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এম.কম করিয়েছেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত ও নাট্যকলা বিভাগ থেকে এমএ করি। স্বামী, এক মেয়ে নিয়েই আমার সংসার। মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ওকে আমি মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাই। মায়ের মুখে শোনা আমার বাবার কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা। ও অবাক হয়ে শোনে।

বাবার মৃত্যু খবর শুনে মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন সখিনা খন্দকার দীপু আমার বাবা খন্দকার আবু তালেবের গল্পগ্রন্থ ‘কাগজের মানুষ’। তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও আইনজীবী। শখের বশে গল্প লিখতেন। মিরপুরে ১০ নম্বরের বাড়িটা আব্বা সবেমাত্র করেছেন। পুরো এলাকাটা ছিল বিহারি এলাকা। মার্চ মাস থেকেই মিরপুর এলাকার বিহারিরা বাঙালিদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। আব্বা আমাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে মা’সহ আমাদের তিন ভাই-বোনকে ২৪ মার্চ রাজারবাগ ফুফুর বাড়িতে রেখে আসেন। বড় ভাই খন্দকার আবুল হাসান আইএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমি মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে আমি ছোট। বাবা ফুফুর বাড়ি যান ২৫ মার্চ। ২৯ মার্চ বাবা মিরপুরে আসেন। বাবার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি, তার ক্ষতিও কেউ করতে পারবে না।

২৯ মার্চ কাদের মোল্লার লোকজন মিরপুর থেকে বাবাকে ধরে জল্লাদখানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করে। বাবাকে যে কেউ মারতে পারে এটা তার ধারণার বাইরে ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা সত্যি হল না। বাবার কোনো খোঁজ নেই। আমরা বাবার খোঁজ পেতে হন্যে হয়ে খুঁজছি। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন বিহারি। ড্রাইভারের কাছে সংবাদ পাই বাবাকে হত্যা করেছে। বাবার মৃত্যু খবর শুনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মা। বাবার মৃত্যুশোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বড় ভাই মা, ভাই-বোনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। পয়সার অভাবে মায়ের সুচিকিৎসা করাতে পারেননি। কিন্তু সন্তানের মতো দেখাশোনা করেছেন। তখন চালের দাম ছিল চড়া। একবেলা ভাত খেলে আরেক বেলা রুটি খেয়েছি। বিহারিরা আমাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ঘরের দরজা-জানালা সব পুড়ে যায়। তারা ভাবেনি নয় মাসে দেশ স্বাধীন হবে। আমাদের প্রতিটি ঘরে গর্ত করে বিহারিরা বেনারসির তাঁত বসায়।

১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু মিরপুরে নিজের বাড়িতে আসতে পারিনি আমরা। তখনও হানাদাররা মিরপুর দখল করে রেখেছে। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি মিরপুর হানাদারমুক্ত হয়। বাবা খুব রসিক, মিশুক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। লেখাপড়া খুব পছন্দ করতেন। আমাদের সময় দিতেন। বাবার স্মৃতি আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বাবার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো। সেই ছোট্ট বয়সেই এলাকার লোকজন আমাকে চিনতেন। বাবা বলতেন, তোকে নির্বাচনে দাঁড় করালে জিতে যাবি।

সূত্র- যুগান্তর। আলোকচিত্রী ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য ও তানভীর ফেরদৌস।