banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

গৃহকর্তা কর্তৃক যৌন নির্যাতন,১৪বছরের গৃহকর্মীর আত্নহত্যা!

Dorson

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : গৃহকর্তা কর্তৃক যৌন নির্যাতন ও মায়ের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়ার বদলে উল্টো মারধরের অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে গৃহকর্মী শিশু রুনা(১৪)। টানা চারদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেকহাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে পরাজিত হল ছোট শিশুটি। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সে মারা যায় বলে চমেক হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ঘটনায় নগরীর সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গৃহকর্তার যৌন নির্যাতন সইতে না পেরে অপমানে গত ২৯ নভেম্বর রুনা গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চারদিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করার পর গতকাল সে মারা যায়।

এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছেরুনা আক্তার নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ হাতিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। তার মা রোকেয়া আক্তার নগরীর কর্ণফুলী থানার জহির মাঝির কলোনী সৈন্যেরটেক এলাকায় থাকেন। প্রায় ৬ মাস আগে রোকেয়া তার মেয়েকে সদরঘাটস‘ আমিন আহমেদের বাসায় কাজ করতে দেন। বেতন ছিল মাসিক দেড় হাজার টাকা। প্রত্যেক মাসের শেষে রোকেয়া মেয়েকে দেখতে ওই বাসায় যেতেন।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়গত ২৯ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে রোকেয়া দেখতে গেলে রুনা তাকে জানায়গৃহকর্তা আমিন তাকে প্রায়ই যৌন হয়রানি করে। সে আর ওই বাসায় কাজ করবে না। কিন্তুরোকেয়া তাকে আরও কয়েকমাস ওই বাসায় কাজ করার জন্য অনুরোধ করে। রুনা এতে রাজি না হওয়ায় রোকেয়া তাকে চড় দেন। এদিকে গৃহকর্তা আমিনও ক্ষুব্ধ হয়ে রুনাকে লাথি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে রুনা রান্নাঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় রুনার মা রোকেয়া ও গৃহকর্তা আমিন ভেজা কাপড় ও কম্বল চাপা দিয়ে আগুন নেভান। রোকেয়া মেয়ের আগুনে পোড়া শরীর দেখে সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এরপর ওই বাসার অন্যান্য লোকজন রুনাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এদিকে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর ২৯ নভেম্বর রাতে রোকেয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এতে আমিন আহমেদের বিরুদ্ধে রুনার সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্তসদীপ কুমার দাশ বলেনরুনা আক্তার নামে এক গৃহকর্মী গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। মঙ্গলবার সকালে সে মারা গেছে। এ ঘটনায় থানায় গৃহকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ১৪২১ পেলেন,কথা সাহিত্যিক জাহানারা নওশিন।

4_47328

অপরাজিতা ডেস্কঃ সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ১৪২১’ পেয়েছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক জাহানারা নওশিন। গত ২ই ডিসেম্বর জাতীয় যাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন,বরেণ্য সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক।

পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক ও দৈনিক ‘ইত্তেফাকে’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী ও কবি শামীম আজাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান কালে সৈয়দ শামসুল হক বলেন,অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারের ধারাবাহিক তালিকা দেখে বোঝা যায় নামের দিকে নয় গুণ বিবেচনায়ই এ পুরস্কার দেয়া হয়। অনন্যা অপরিচিত গুণসম্পন্ন নারী লেখকদের অনন্য সম্মাননা দিয়ে আমাদের সামনে নিয়ে আসে। নারী লেখকদের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করে। অনন্যা যেন নিজেকে বলে আমি দশজনের মধ্যে নই। আমি একাদশতম। সাহিত্যে নারীর আত্মপ্রকাশ ঐতিহ্যগতভাবে এক কুণ্ঠার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে নারী সাহিত্যে নিজের নাম লেখাতে বড়ই কুণ্ঠাবোধ করে। তাদের কুণ্ঠা ভাঙতে সওগাত সম্পাদক নাসির উদ্দিন বেগম প্রকাশ করেছেন। সেই লেখাগুলো পড়লে মনে হতো বড়ই কাঁচা সাহিত্য। কিন্তু তার গভীরে ছিল তাদের জীবনের উপলব্ধি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ। আজ কথাসাহিত্যিক জাহানারা নওশিনও সেই কুণ্ঠার কথা বললেন। কুণ্ঠার জন্যই তিনি বড় দেরি করে সাহিত্যের জগতে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু তার লেখাগুলো মান বিচারে অসামান্য। তাই তিনি বেশি সময় ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন। যারা অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই আমাদের সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনন্যা প্রায় উপেক্ষিত ও আড়ালে থাকাদের সামনে এনে পুরস্কার দিয়ে সম্মাননা জানিয়ে আসছে।

কবি আসাদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন,জাহানারা নওশিন বিনয় করে বললেন, তিনি লেখা প্রকাশ করতে লজ্জা পেতেন। তিনি আসলে নিজেকে তৈরি করেছেন। তার গদ্যের ডিটেলিং, প্রকৃতির বর্ণনা এসব ক্ষেত্রে অনেকের থেকে আলাদা। প্রেম ও পারিজাত-এ তিনি পুরুষ মনস্তত্বকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার দেশের নারী সাহিত্যিকদের দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মজা করে বলেন, এই পুরস্কারটি কেবল নারীদের দেয়ায় আমরা উপেক্ষিত থাকছি।

সভাপতির ভাষণে অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, আমরা সাহিত্যে অবদান রাখার ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকাটা তার উপলব্ধি থেকে দেখার চেষ্টা করি। ‘অনন্যা’ অন্য এক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় প্রতি বছর লোকচক্ষুর অন্তরালের নারী লেখকদের মনোনীত করে। যারা সাহিত্য জগেক সমৃদ্ধ করার জন্য সত্যিকার অর্থে কাজ করেন এমন একজনকে মনোনীত করতে পেরে  প্রতি বছরই এই সময় এমন ভাললাগা কাজ করে।
কথাসাহিত্যিক জাহানারা নওশিন ৬ মার্চ ১৯৩২ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় শিক্ষক জাহানারা নওশিনের প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য মিলে এযাবত্ প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৯টি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ বৃক্ষে বৃক্ষে বিষকরবী, পিতামহীর পাখি, দুহিতা, প্রেম ও পারিজাত, হাড়িকাঠ, আহা ভূত বাহা ভূত ইত্যাদি। গত বছর তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান।

বাংলা ১৪০১ সন (১৯৯৩ সাল) থেকে ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’ প্রবর্তন করা হয়েছে। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর একজন কৃতী নারী, সাহিত্যিক অথবা সাহিত্য গবেষককে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে তরুণ কবিরা স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।