banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

পিকেটারদের ঢিলের আঘাতে শিক্ষিকার মৃত্যু

বিএনপি জোটের হরতালের মধ্যে নোয়াখালীর মাইজদী পৌরবাজারে পিকেটারদের ঢিলের আঘাতে নিহত হয়েছেন ঢাকার এক স্কুল শিক্ষিকা। নিহত শামসুন্নাহার ঝর্ণা (৩৭) ঢাকার আগারগাঁওয়ের তাওহীদ ল্যাবরেটরি স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। হামলায় তার স্বামী আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজও আহত হয়েছেন।

সুধারাম থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, পিকেটারদের ঢিলে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে গত সোমবার সকাল সোয়া ১০টার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর বিডিনিউজের।

শাহজাহান সিরাজ জানান, তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতির পোড়াগাছা এলাকায়। সম্প্রতি তাকে ঢাকা থেকে নোয়াখালীতে বদলি করায় কভার্ড ভ্যানে মালপত্র নিয়ে তিনি বাড়ি যাচ্ছিলেন। ওই ভ্যানেই তার স্ত্রী ও ছেলে প্রিন্সও ছিলেন। তিনি জানান, সকালে হরতালের মধ্যে মাইজদী পৌরবাজারের মোড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হরতালকারীরা গাড়ির দিকে ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এতে শামসুন্নাহারের মাথা থেকে রক্তপাত হতে থাকে এবং তিনি নিজেও আঘাত পান। শামসুন্নাহারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি মারা গেছেন।

জেলার পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। দুপুর পর্যন্ত ছাত্রদলের দুই কর্মীকে আটক করেছেন তারা।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল বাঙ্গালী নারীমুখ

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ পুরস্কার।

 18126

ওয়াসফিয়া নাজরীন

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ‘অ্যাডভেঞ্চারার্স অব দ্য ইয়ার ২০১৪-১৫’-এর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ী বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন। ২০১২ সালের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার গৌরব অর্জন করেন। বাংলাদেশী হিসেবে তিনি প্রথম দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে উঁচু পর্বত মাউন্ট অ্যাকোনকাগুয়া, উত্তর আমেরিকার ডেনালি, ইউরোপের মাউন্ট এলব্রাস ও অ্যান্টার্কটিকার ভিনসন মাসিফে আরোহণ করেন।

 2012-07-09-22-07-12-4ffb561039b63-untitled-1

সারজিনা তৃমা ও আজরিন আফরিন

৬ষ্ঠ বার্ষিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে পাঁচটি বিভাগের মধ্যে পোর্ট্রেট ও লাইফ দুটি বিভাগেই সেরা আলোকচিত্রীর পুরস্কার পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী সারজিনা তৃমা। ফেস্টিভ্যাল বিভাগে শ্রেষ্ঠ আলোকচিত্রীর পুরস্কার পান ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী আজরিন আফরিন।

 1622795_581170805297775_1381567668_n 10696404_825465440838354_7259026154770832119_n

অর্পা, মাশা ও মাহমুদা

এলডিসি অন্তর্ভুক্ত দেশের ২০১৫ পরবর্তী কাঠামোগত উন্নয়ন অগ্রাধিকার শীর্ষক ব্রিটিশ কাউন্সিলের অ্যাকটিভ সিটিজেনের তিন মেয়ে সদস্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফর উপলক্ষে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেন। বাংলাদেশের তিন শিক্ষার্থী অর্পা রহমান, মাশা আল-আইরিন খান ও মাহমুদা সামানজার চৌধুরী ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি এলডিসি অন্তর্ভুক্ত দেশের তরুণদের অংশগ্রহণে উইলটন পার্ক কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 1391506_828169927209976_1492329284_n 10376057_10204064242995694_6080455561046925174_n10868045_10204658032805133_1534719536879057800_n

আজিজা বেগম

নবজাতক শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়ার জন্য হবিগঞ্জের স্বাস্থ্যকর্মী আজিজা বেগম পান গ্লোবাল লিগ্যাসি অ্যাওয়ার্ড। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের ইলোমিনেশন গালায় যুক্তরাজ্যের নিউইয়র্কে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। আজিজা বেগম হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের একজন স্বাস্থ্যসেবী। বিশ বছর ধরে তিনি শিশুস্বাস্থ্যসেবায় কাজ করছেন।

তাসলিমা আখতার

সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের শিকার দুই শ্রমিকের আঁকড়ে ধরে থাকা আলোচিত আলোকচিত্রের জন্য আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার পান জার্মানির লিড অ্যাওয়ার্ড। তিনি বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক। জার্মানির স্টার্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত শেষ আলিঙ্গন নামে পরিচিত তার আলোকচিত্রটি ১৯টি ক্যাটাগরির মধ্যে বছরের সেরা আলোকচিত্র নির্বাচিত হয়।

সোনা রানী রায়

দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার পশ্চিম সাহতারা গ্রামের সোনা রানী রায় কেয়ার বাংলাদেশ প্রকল্প ‘নিজেরা কটেজ এন্ড ভিলেজ ইন্ডাস্টিজ’-এর মাধ্যমে আমেরিকার সান্থাফেতে আন্তর্জাতিক লোকশিল্প মেলায় অংশ নেন। তার সেলাইকৃত নকশিকাঁথা এ মেলায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

নাবিরা রহমান এবং কাশফিয়া নেহরীন

জাতিসংঘের সদর দফতর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসোক) ইয়ুথ ফোরাম ২০১৪। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাবিরা রহমান ও বুয়েটের কাশফিয়া নেহরীন। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সেই পৃথিবী আমরা চাই, যে পৃথিবী আমাদের চায়।’ নাবিরা রহমান অংশ নেন শিক্ষাবিষয়ক সেশনে। কাশফিয়া নেহরীন অংশ নেন কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগবিষয়ক সেশনে। এ সেশনে আলোচিত হয় কীভাবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও একত্রে কাজ করতে পারে।

 সূত্র- যুগান্তর।

 

কিছু বিষয় জানা উচিত ২বছরের কম বয়সী শিশুর মায়েদের

যারা সন্তানকে স্তনের দুধ খাওয়ান তাদের কয়েকটি বিষয় জানা থাকা উচিত। এ লেখায় থাকছে তেমন কয়েকটি তথ্য।

১. মায়ের দুধ সব সময় সাদা নয়
সাধারণত মায়ের দুধ সাদা বা ক্রিম রঙের হয়ে থাকে। তবে এটা সব সময় নয়। মাঝে মাঝে তা সবুজ, নীল, হলদে বা কমলা রঙেরও হতে পারে। এ দুধের ঘনত্বও পরিবর্তিত হয়।
২. একটি স্তনে বেশি দুধ হয়
আপনার দুই হাত যেমন দুই রকম, তেমন দুটি স্তনও ভিন্ন। এর একটিতে বেশি এবং অন্যটিতে কম দুধ হতে পারে। তাই সন্তানকে দুধ দেয়ার সময় বিষয়টি লক্ষ করলে ভালো হয়।
৩. সন্তানকে দুধ দানের সময় বড় স্তন
স্বাভাবিক অবস্থায় একজন নারীর স্তনের যে আকার থাকে, সন্তান ধারণ করার পর তা পরিবর্তিত হয়। সন্তানকে দুগ্ধদান শুরু করলে এর আকার হয় সবচেয়ে বড়। এর মাত্রা নির্ভর করে আপনার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতার ওপর। এর ওপরই নির্ভর করে সন্তানকে দুধ দান বন্ধ করার পর স্তন আগের অবস্থায় যাবে নাকি কিছুটা বড় থাকবে।
৪. শুধু স্তনবৃন্ত দিয়েই দুধ নয়
স্তনবৃন্তের একটি মাত্র ছিদ্র দিয়েই দুধ নির্গত হয় না। বেশ কিছুটা এলাকা জুড়ে থাকে দুধ নির্গত হওয়ার ছিদ্র।
৫. নিজে নিজেই নির্গত হতে পারে দুধ
অনভিজ্ঞ মায়েদের প্রায়ই এমনটা হতে দেখা যায়। বিশেষ করে সন্তান যদি কান্নাকাটি করে কিংবা সন্তানের দিকে তাকিয়ে থাকলে নিজে থেকেই স্তনের দুধ নির্গত হতে পারে। এছাড়া বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় হয়ে গেলেও এমনটা হতে পারে।
৬. যৌনতা কষ্টকর হতে পারে
এস্ট্রোজেন হরমোনটির অভাবে স্তন্যদানকারী মায়েদের যোনীপথে শুষ্কতা তৈরি হতে পারে। এতে অনেক সময় যৌনতা কষ্টকর অনুভূতি দিতে পারে।
৭. অতিরিক্ত দুধ হতে পারে
কোনো কোনো মায়ের অতিরিক্ত দুধ উৎপাদিত হতে দেখা যায়। এ ছাড়াও কারো স্তন থেকে ফিনকি দিয়ে দুধ বের হওয়ার প্রবণতা থাকে। এক্ষেত্রে সন্তানের অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে দুগ্ধ দান শিখে নিতে হয়।
৮. মানসিক উত্থান-পতন হয়
সন্তানকে দুগ্ধ দান করলে মায়ের দেহের হরমোনজনিত কিছু পরিবর্তন হয়। এতে অক্সিটোসিন নামে একটি হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়াও কিছু নারী দুর্বলতা, ঘাম, উদ্বেগ, পিপাশা ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন।
৯. মাত্রাতিরিক্ত ক্যালসিয়াম প্রয়োজন নেই
গরুর দুধ পান করলেও তা মায়ের দুধ সেভাবে বাড়াবে না। শিশুকে স্তনের দুধ পান করালে তাতে মায়ের দেহের হাড় হালকা হয়ে যায়। অবশ্য সন্তান বড় হওয়ার পর এটি বন্ধ করলেই তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।
১০. যৌনতায় লিক হতে পারে
যৌনতার ফলে স্তন্যদানকারী মায়ের স্তন থেকে সামান্য দুগ্ধ বের হতে পারে। তবে এতে অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নেই।
১১. বাড়তি খাওয়া
শিশুকে স্তন্য পান করানোর জন্য একজন মায়ের দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ ক্যালরি বাড়তি খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য বাড়তি কোনো টেনশন না নিয়ে নিজের শরীরের চাহিদামতো কাজ করলেই চলে। অর্থাৎ ক্ষুধা লাগলে খেতে হবে, ক্ষুধা না লাগলে খেতে হবে না।
১২. পিরিয়ড বন্ধ হতে পারে
সন্তানকে স্তন্য দান করা হলে তার ফলে কখনো কখনো মায়ের পিরিয়ড বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এতে উদ্বেগের কিছু নেই।

সূত্র- ফক্স নিউজ।

 

এই মৌসুমে বিয়ের সাজ

অপরাজিতা ডেস্কঃ শীতকাল বিয়ের মৌসুম। তাই হরহামেশাই লেগে থাকে বিয়ের আয়োজন। এ আয়োজনে পাত্র-পাত্রীর ভালোলাগা-ভালোবাসা যেমন মুখ্য, তেমনই বিয়ের দিনে কনের সাজটিও গুরুত্ব বহন করে।

এ সময়ের বিয়ের বিশেষ কিছু সাজ সম্পর্কে রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন বলেন, বিয়ের সাজের ক্ষেত্রে দুই পরিবারের মতামত থাকাটা জরুরি। বিয়ের সাজে কনের কাপড়ের ধরনটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শাড়ি দেখেই কনের বিয়ের সাজের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। আবার কনের পেশা বা পছন্দের ওপর নির্ভর করে স্পেশাল লুক আনা সম্ভব হয়। বিয়ের সাজের তিনটি অনুষ্ঠানকে মাথায় রেখেই সাজে পরিবর্তন আসে। গায়েহলুদ, বিয়ে ও বউভাতের সাজকে তিনটি ট্রেন্ডি, ফিউশন ও ট্র্যাডিশনে ভাগ করা হয়েছে। কনের একেক অনুষ্ঠানে একেক লুক দিতেই সাজে এই ভিন্নতা। তিনটি লুকের মধ্যে ট্র্যাডিশন লুকে চোখের ওপর বেশি কাজ করা হয়। ঠোঁট গাঢ় লাল করা হয়। চুল ফুলিয়ে ট্র্র্যাডিশনাল করা হয়। আর মডার্ন লুকে কনের সাজে স্মোকি ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়। যা এ সময়ের কনেদের বেশ পছন্দের।
কনের ফিউশন সাজে যাদের চোখ ছোট তাদের চোখের শেপে পরিবর্তন আনা হয়। চোখ বড় করিয়ে দেখানো হয়। তাই দেখতেও ভালো দেখায়। এই সাজে ঠোঁটের সাজকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মুখের বিভিন্ন অংশে মেকআপ ফুটিয়ে তুলতেই এই সাজটি বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

 

ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের ডিরেক্টর রূপবিশেষজ্ঞ ফারনাজ আলম বলেন, ‘ভালোবাসার সঙ্গে লাল রঙটি বিশেষভাবে জড়িত। আগেকার দিনে বিয়ের সাজে লাল শাড়ি, লাল লিপস্টিক ও লালটিপ ছাড়া বউয়ের সাজ ভাবাই যেত না। দিন বদলেছে, বউ সাজে এসেছে অনেক রঙ। আমি ট্র্যাডিশনাল লুক থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আধুনিক বউ সাজে তুলে এনেছি লাল রঙটির ব্যবহার।’
বউ সাজে লাল রঙ নিয়ে ফারনাজ আলম বলেন, মডার্ন ব্রাইডাল লুকে রেড কালারের থ্রুতে ফেসের শার্পনেস বের করে আনা যায়। এ সাজে সাজতে হলে ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কনসিলার লাগান চোখের নিচে, মুখের কালো দাগ বা ব্রণে। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন দিন সারা মুখে। এক শেড হালকা রঙের ফাউন্ডেশন দিন গালে, কপালের মাঝে, থুতনি ও নাকের ওপরের অংশে। ডার্ক কালারড ফাউন্ডেশন দিয়ে কন্টোরিং করুন চিকবোন, নাকের দু’পাশ ও গালের যে কোনো ফোলা অংশ। গালে লাগান ব্রাউন বল্গাশন।
চোখের সাজ নিয়ে ফারনাজ আলম বলেন, প্রথমেই আইব্রো প্লাক করে নিন। ব্রাইডাল সাজে শার্পনেস আনতে এ কাজটি মাস্ট। আইব্রো পেন্সিল দিয়ে সূক্ষ্ম রেখায় আইব্রো আঁকুন। গ্রে ও ব্ল্যাক শ্যাডো লাগান। আইব্রোর ঠিক নিচে হাইলাইট করুন গোল্ডেন আইশ্যাডো বা হাইলাইটার দিয়ে। রেড আইশ্যাডো দিয়ে রাঙিয়ে নিন চোখের ওপরের পাতা। ব্ল্যাক শ্যাডো দিন চোখের ভাঁজে ও বাইরের কোনায়। চোখের ভেতরের কোনায় অল্প সিলভার আইশ্যাডো দিন। কালো লিকুইড আইলাইনার দিয়ে মোটা রেখায় চোখ আঁকুন। নিচের পাতায় মোটা রেখায় কাজল লাগান। ঘন করে মাশকারা লাগান চোখের পাপড়িতে। ব্রাইডাল লুকে লিপ প্রমিনেন্ট করতে রেড লিপলাইনার দিয়ে লিপ আঁকুন। এরপর রেড লিপস্টিক দিয়ে ঠোঁট দু’টোকে ভরুন।

রূপ বিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল মনে করেন, এ সময়ের কনেরা বিয়ের সাজে ট্র্যাডিশনাল লুককে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারার মাধ্যমেও তাদের সাজে ভিন্নরূপ ফুটে উঠছে।

167880_10150376668485300_440905_n

বিয়ের সাজ নিয়ে গল্গামার্স বিউটি পার্লারের কর্ণধার জেসিকা মিথিলা হালদার বলেন, বিয়েতে কনে সাজের বিভিন্ন শাড়ি, লেহেঙ্গা ইত্যাদিতে খুব একটা পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে বিয়ের শাড়ি বা এর অনুষঙ্গ উজ্জ্বল রঙের হওয়া চাই। কনের উজ্জ্বল পোশাকের সঙ্গে চাই একটুখানি আলতো মেকআপের ছোঁয়া। তাই কনের সাজে মেকআপের জন্য বল্গাশন ও চোখের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হয়। নন-শেড স্মোকি চোখের মেকআপ আমাদের মেকআপের ধরনের মূল আকর্ষণ হয়ে ফুটে উঠবে। আইল্যাশ এবং কাজল অবশ্যই মুখের গড়নের সঙ্গে মানানসই করে ফুটিয়ে তুলতে হবে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালি কনেকে তার স্মরণীয় দিনে আকর্ষণীয় করে ফুটিয়ে তোলাটাই আমাদের নিবিড় চেষ্টা বলেও মিথিলা হালদার মনে করেন।

150470_10153027302465300_964473579_n

এ সময়ের কনে সাজ নিয়ে হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের কর্ণধার তানজিমা শারমিন মিউনী বলেন, কনে সাজ প্রত্যেক নারীর জীবনের প্রত্যাশিত স্বপ্ন। তা ছাড়া বিয়ে জীবনের বিশেষ একটি মুহূর্ত। তাই বিয়ের সাজে বিশেষত্ব থাকা চাই। বিয়ের সাজে কনের চোখ বা ঠোঁট সুন্দর করে সাজানো যেতে পারে। চাইলে চুলের ভিন্নতায় বিশেষ পরিবর্তনও আনা যেতে পারে। সুন্দর হাসি আর সেই সঙ্গে সুন্দর সাজ_ সব মিলিয়ে কনে অপূর্ব হয়ে ফুটে উঠবে। তবে চাইলে এই সৌন্দর্যকে সাধারণ সাজের আদলে আরও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারী মেকআপের দিকে খেয়াল না রাখাই ভালো। তাই নিজের সৌন্দর্য পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে নিজের ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও নিজের বা প্রিয়জনের পছন্দকে প্রাধান্য দিতে পারেন। তবে সাজের ক্ষেত্রে ত্বকের স্কিনটোনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সাজে নিজস্ব কোনো পছন্দ থাকলে তা বিউটিশিয়ানকে ভালো করেই বুঝিয়ে দিতে হবে।

 

নারীর ক্ষমতায়ন- অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ৩০বছর পূর্তি

কেমন ছিল সত্তরের দশকে বাংলাদেশের গ্রামীণ তৃণমূল নারীদের অবস্থা? পটুয়াখালীর চর মন্তাজের সালেহা বেগমের কথাই ধরি। তাঁকে সবাই সালেহা চাচি হিসেবেই জানে। ৩০ বছর আগে তিনি ছিলেন মুখের ওপর লম্বা ঘোমটা টেনে থাকা লাজুক নারী। অচেনা পুরুষের সঙ্গে কথা বলতেন পর্দার আড়ালে থেকে। পরবর্তী সময়ে এই সালেহা চাচিই চর মন্তাজের পরিবর্তনের অগ্রদূত হন। বয়স্ক শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতায়নের সূত্রপাত। তবে তিনি বয়স্কদের শিক্ষার পরিবর্তে ভাবলেন শিশুদের শিক্ষার অধিকারের কথা। কিন্তু দুর্গম চরে বিদ্যালয় কোথায় যে শিশুরা শিক্ষায় আলোকিত হবে? সালেহা চাচি নিজেই সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি নয়, নয়-নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি অবদান রেখেছেন। সরকারি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে আদায় করে নিয়েছেন অনুমোদন ও নিবন্ধন। চর মন্তাজের শিশুদের শিক্ষার অধিকার আজ সুপ্রতিষ্ঠিত।
সালেহা চাচির মতো অগণিত নারীর ক্ষমতায়ন সমাজের পিছিয়ে রাখা নারীসমাজের অগ্রগতিই শুধু সাধন করেনি, তারা অবদান রেখে চলেছে বৈষম্যহীন, কল্যাণকর ও সংবেদনশীল সমাজ গড়তে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন নারীদের সক্রিয় বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। কারণ, নারীরা শুধু নিজের কথা ভাবেন না, ভাবেন পরিবার ও সমাজের সবার স্বার্থ ও অধিকারের কথা। এর প্রমাণও মেলে বিভিন্ন গবেষণায়। ইউনিয়ন পরিষদের পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অন্তর্ভুক্তি তাঁদের এলাকার পিছিয়ে পড়া সব গোষ্ঠীর স্বার্থ ও অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত করে। তাঁদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের দাবিদাওয়া প্রতিফলিত হয় পরিকল্পনা আর বাজেটে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় অধিকারবঞ্চিত প্রতিবন্ধী, আদিবাসী কিংবা দলিত নারীর কার্যকর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের দাবিদাওয়াও পরিকল্পনা ও বাজেটে সহজেই প্রতিফলিত হতে পারে।
বাংলাদেশে অ্যাকশনএইড তার কার্যক্রমের ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছে। দারিদ্র্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংস্থাটি নারীর ক্ষমতায়নকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছে। গড়ে তুলেছে সালেহা চাচির মতো অগণিত সক্রিয় সমাজ পরিবর্তনের বাহক। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সে প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিবর্তনের বাহকেরা নারীর প্রতি বৈষম্য, অবিচার, সহিংসতা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। অধিকারবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন কিংবা স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে মানসম্পন্ন সেবা প্রদানে উদ্যোগী করতেও সক্রিয় তারা।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ নানা প্রক্রিয়ায় নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অংশগ্রহণ কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাকাঠামোয় কার্যকর অন্তর্ভুক্তিতে নারী নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমেও নারীর ক্ষমতায়নের ধারণা এগিয়ে নিয়েছে অ্যাকশনএইড। নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যুক্ত করেছে তার সহযোগী সংস্থা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ এবং সংবাদমাধ্যমকে। তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

10450011_822230891152997_6977322731021705059_o
এ সাফল্য কারও একার অর্জন নয়। বরং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগসমূহের মিলিত প্রচেষ্টায়ই আজকের এ অর্জন। গত ৩০ বছরে বাংলাদেশের নারীদের ক্ষমতায়নে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটলেও এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে বিদ্যমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব এবং অগণতান্ত্রিক আচার-আচরণের কারণে প্রান্তিক নারীরা পরিপূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করতে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ ও ভূমিকা পালনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো আসেনি। ভাষা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য প্রস্তাবে নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার মৃদু প্রয়াস লক্ষ করা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে পরিশেষে সেটা ব্যর্থ হয়। মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় গেলে দেখা যায় যে প্রস্তাবিত বা প্রণীত আইনগুলো নারী উন্নয়ন বা তাঁদের ক্ষমতায়নকে উল্টো বাধাগ্রস্ত করছে। অতিসম্প্রতি বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর বয়সসীমা কমানোর যে প্রস্তাব করা হয়, তা উদাহরণ হিসেবে এখানে উল্লেখ করা যায়। যদিও নাগরিক সমাজের ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে সরকার সিদ্ধান্ত বদলায়।
প্রকৃতপক্ষে, নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত কতকগুলো জরুরি বিষয় এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। যেমন নারীর পারিবারিক গণ্ডিতে তথাকথিত জেন্ডার ভূমিকার কি পরিবর্তন হয়েছে? নারীর গৃহস্থালি কাজকে কি উত্পাদনমূলক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়? কৃষিতে নিয়োজিত নারী কি কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পান কিংবা প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পান? ভূমি ও অন্যান্য উত্পাদনমুখী সম্পদে নারীর অধিকার কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও চলাচলে শহরে কিংবা গ্রামে নারী কি নিরাপদ? প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে নারীর বিপদাপন্নতা কি এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্ব পায়? প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাকাঠামোয় নারীর অন্তর্ভুক্তি কি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ও কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত এবং তাঁরা কি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম?
এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদেরই খুঁজতে হবে এবং কাজ করতে হবে সম্মিলিতভাবেই। প্রশ্ন হলো, সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন কিংবা সংশোধন করেই কি এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব? নাকি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা অন্যায় রীতিনীতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও
আচার-আচরণের পরিবর্তন ঘটানো জরুরি?

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আহ্বান জানাই—আসুন, ফিরে দেখি আমাদের স্বপ্নগুলোকে। সাজাই নতুন করে। জাগি এবং জাগাই সবাইকে। সমাজকে গড়ে তুলি ন্যায্যতা, যুক্তি আর জ্ঞানের ভিত্তিতে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে গড়ে তুলি মানুষকে। এ দেশকে গড়ে তুলি সবার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করে। সলিল চৌধুরীর গানে কণ্ঠ মিলাই:

সেদিন আর কত দূরে/ যখন প্রাণের সৌরভে/ সবার গৌরবে ভরে/ রবে এই দেশ ধনধান্যে/ শিক্ষায় জ্ঞানে মান্যে
আনন্দের গানে গানে সুরে…

লিখেছেন-ফারাহ্ কবির: কান্ট্রি ডিরেক্টর, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।

 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেশি শাড়ি

দাওয়াতে বা বন্ধুর বাড়িতে মেয়েটিকে দেখা যেত কুর্তা-লেগিংস বা জিনস ও টি-শার্টেই স্বচ্ছন্দ। শখ করে শাড়ি পরা বলতে বড়জোর পয়লা বৈশাখে বা কোনো বিয়ের নিমন্ত্রণে। তবে এখন এ ধারাটা বদলেছে। অনেক কিশোরী বা তরুণীই পরছেন শাড়ি। দেশি ধাঁচের তাঁত বা সুতির শাড়ি, তবে সাজটা একদম আধুনিক। তাতে নিজস্ব স্টাইলের ছাপ। কোনো উপলক্ষ নয়, এমনিতেই শাড়িতে দেখা যাচ্ছে অনেককে।

সুতি বা তাঁতের শাড়ি মানেই তার সঙ্গে পরতে হবে ঐতিহ্যবাহী গয়না, কাচের চুড়ি আর কপালে গোল টিপ—এমন ধারা থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে এখন। দেশি শাড়ির সঙ্গে একটু ফাঙ্কি বা পশ্চিমা ধাঁচের অনুষঙ্গ ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। হাতে চুড়ির বদলে দেখা যাচ্ছে মোটা বালা বা ব্রেসলেট, গলায় বিব নেকলেস অথবা বড় কোনো লকেট। চুলটা হয়তো সাজিয়ে নিচ্ছেন স্টাইলিশ কোনো খোঁপা বা বেণির বাঁধনে।

কথা হলো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইভলিন জয়িতার সঙ্গে। ক্লাসে ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাকই পরেন তিনি; কিন্তু শাড়ি তাঁর ভীষণ প্রিয় বলেই বিভিন্ন উৎসবে শাড়ি পরার সুযোগ হাতছাড়া করেন না। আগে শাড়ির সঙ্গে শুধু ঝুমকা, মাটির গয়না, কাচের চুড়ি—এসবই সবাই পরতেন। কিন্তু অন্য পোশাকের সঙ্গে যে গয়নাগুলো পরা হয়, তা-ই যদি পরেন শাড়ির সঙ্গেও, তাহলে বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়, সেটিই পরখ করে দেখতে চেয়েছিলেন বলে জানালেন তিনি। সাদামাটা সুতির শাড়ির সঙ্গে তিনি কড়ি, সুতা ও মেটালের আধুনিক গয়না পরেন। হাতে বালা ও বড় ডায়ালের কোনো ঘড়ি পরতে পছন্দ করেন। চুলটা এক পাশে এলোমেলো খোঁপা করে একটা মেসি লুক আনার চেষ্টা করেন। কখনো বা সাজে ভিন্নতা আনেন বড় আকৃতির কালো ফ্রেমের চশমা পরে। আর এর সঙ্গে মেকআপটা হয় একদমই হালকা, শুধু ঠোঁট রাঙিয়ে থাকেন উজ্জ্বল কোনো রঙে। তাঁর ব্লাউজগুলোও গতানুগতিক কাটের থেকে ভিন্ন হয় বলে জানা গেল।

image_15651

সাধারণত চিকন পাড়ের সুতি, তাঁত বা অ্যান্ডি কাপড়ের শাড়িই তরুণীরা বেশি পরছেন। প্রাকৃতিক রঙে রাঙানো শাড়ির চাহিদাও কম নয়। চেক বা গামছা কাপড়ের শাড়িও নতুনরূপে জনপ্রিয় হয়েছে। এই শাড়িগুলোতে ব্লকপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি বা এ ধরনের কাজ তেমন থাকে না। বুননেই বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। হালকা ও উজ্জ্বল—দুই রকম রংই তাঁরা বেশ পছন্দ করছেন।
ফ্যাশন হাউস যাত্রার ফ্যাশন ডিজাইনার মাধুরী সঞ্চিতা জানালেন, সাধারণ সুতির শাড়িকে আকর্ষণীয় করা যায় তার সঙ্গে গামছা প্রিন্ট, চেক, পোলকা ডটসহ বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট, বাটিক ও বিপরীত রঙের ব্লাউজ বেছে নিয়ে। তাঁর মতে, বয়স কম হলে যে কেবল উজ্জ্বল রংই বেছে নিতে হবে তা নয়; বরং চাপা সাদা, ছাই বা হালকা কোনো রঙের শাড়ির সঙ্গে রংচংয়ে ব্লাউজেও স্টাইলিশ লুক আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্লাউজের কাটছাঁটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের শাড়ির সঙ্গে তরুণীদের হাইনেক, স্লিভলেস, বেন্ড কলার, বোট কলার, শার্টের কলার দেওয়া ব্লাউজ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। কোমর পর্যন্ত ঝুল ও দুই পাশের কাটা একটু বেশি দেওয়া ব্লাউজ পরলেও বেশ ভালো দেখাবে বলে মনে করেন তিনি।

BlogyMate.comIm_2011201364655
এ ধরনের সাজে আদিবাসী ধাঁচের গয়না, গলায় বিভিন্ন রঙের পুঁতির মালা, হাতে মোটা বালা অথবা শুধু কানে এক জোড়া বড় দুলে বেশ মানিয়ে যাবে; বললেন তিনি। নৃত্যশিল্পী ও উপস্থাপিকা শ্রীমন্তি পূজা সেনগুপ্ত সুতি শাড়ি পরতেই বেশি স্বাছন্দ্য বোধ করেন, শাড়ির সঙ্গে হল্টার নেক টপ ও ব্যাকলেস ব্লাউজ তাঁর খুব প্রিয়। নাচের অনুষ্ঠানে শাড়ির সঙ্গে স্বভাবতই একটু ভারী গয়না পরতে হয়। কিন্তু অন্যান্য সময় তিনি সুতি শাড়ির সঙ্গে খুব ছিমছাম সাজ ও অনুষঙ্গ বেছে নেন বলে জানালেন। ঘরোয়া কোনো আয়োজনে যে শাড়ির সঙ্গে হালকা গয়না পরেন, সেই শাড়ির সঙ্গেই আবার ভারী গয়না পরে পার্টিতে হাজির হন তিনি।

দেশাল, অরণ্য, আড়ং, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির ও অন্যান্য দেশি শাড়ির দোকানে পেয়ে যাবেন এ ধরনের ছিমছাম নকশার শাড়ি। আজিজ সুপার মার্কেটের দোকানগুলোতেও চোখে পড়বে। ব্লাউজের কাপড় আলাদাভাবে কিনে বানিয়ে নিতে পারেন। ম্যাচিং নয়, বরং কন্ট্রাস্টই ভালো মানাবে।

সূত্র- নকশা।

 

মুক্তিযুদ্ধ ও নারী

 

আলম শামস,অপরাজিতা ডেস্কঃ ১৯৭১। পৃথিবীর ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন দেশ। নাম তার বাংলাদেশ। আমরা পেলাম নতুন মানচিত্র, লাল-সবুজ পতাকা, স্বাধীন ভূখ-। আর এ বিজয় এসেছে এই মাসের ১৬ তারিখে। অনেক অনেক ত্যাগ, লাখ লাখ জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে কাক্সিক্ষত বিজয়। স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল সমগ্র জনগণের আন্দোলন। এই আন্দোলনে সশস্ত্র যুদ্ধে অনেক নারীর অবদান ছিল।

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী যেমন ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে, তেমনি অসংখ্য নারী নিবেদিত প্রাণে কাজ করেছেন নেপথ্যে। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন, খাবার, ওষুধ-পত্র সরবরাহ করে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন বিপুলসংখ্যক নারী। স্বামী, ভাই, সন্তানকে প্রেরণা দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছেন অগণিত নারী। তাদের সহযোগিতায় আন্দোলন, স্বাধীনতা, বিজয় সফল হয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে, নারী জাতির যে অবদান রয়েছে, তা শুধু আমাদের দেশেই নয়, মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুগে যুগে অন্ধকার, পশ্চাৎপদতা ও পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রামের যে ইতিহাস রয়েছে তা নারী-পুরুষের যূথবদ্ধ সংগ্রামের ইতিহাস।

full_2088743678_1393838210

 

সভ্যতা বিনির্মাণে নারী ও পুরুষ কেউই একক কৃতিত্বের দাবিদার নয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মহান ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো কিছুতেই নারীরা পিছিয়ে থাকেননি। আন্দোলন করতে গিয়ে তারা জেল খেটেছেন, সশস্ত্র অভিযানে অংশ নিয়েছেন, বর্বর, অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেন। আমাদের দেশে বিজয়ের ৪৩ বছর পরও নারীরা বঞ্চিত অহহেলিত নির্যাতিত ও শোষিত হচ্ছেন। নারীর আর্তনাদ আজও আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নারী নিজ ঘরে অর্থাৎ পরিবারের সদস্য যেমন বাবা, মা, ভাই, বোন, স্বামী, শ্বশুর, দেবর, ননদ এদের দ্বারাই নির্যাতিত হচ্ছেন। পরিবারে যেন মেয়েদের নিজস্ব কোনো অধিকার নেই। প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় দেখা যায় স্বামী, শশুর-শাশুড়ি, ননদ কর্তৃক নির্যাতনের খবর। নির্যাতনের কথা বলার মতো জায়গা ঘরে-বাইরে কোথাও নেই। সাহস করে বললে আপন লোকেরাও দোষারোপ করে। এ নির্যাতন গ্রাম থেকে শহরে, বিত্তহীন থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের সর্বত্র বিরাজমান। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা সামাজিক ও পারিবারিক চাপে পরিবারের নির্যাতনকে স্বাভাবিক মনে করেন। পরিবারের গ-ি থেকে বের হওয়া দুরূহ ব্যাপার। একদিকে সামাজিক অপবাদ, অপরদিকে আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তার অভাবে একজন নারী তার স্বাভাবিক প্রতিভা বা গুণ বিকাশে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

মানুষ হিসেবে নারী তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অধস্তন ও বৈষম্যমূলক অবস্থায় আছে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সুস্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন। অনেক সময় দেখা যায় ইভটিজিংয়ের কারণে প্রাণ পর্যন্ত হারাতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। সমাজে বিভিন্ন স্তরে যে যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা যদি নারী প্রসঙ্গে নেতিবাচক কথা না বলেন, ইতিবাচক মন্তব্য করেন, বক্তৃতা বিবৃতিতে যা বলেছেন তা যদি কার্যকরী করেন তবে অনেকটা সহজ হবে নারী-পুরুষের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক সময় দেখা যায়, কথা ও কাজে মিল নেই। যিনি নারীদেরকে ভোগের সামগ্রী হিসেবেই দেখেন ব্যক্তিগত জীবনে এমন একজন যদি কোনো এক এলাকায় নেতা বা শাসক থাকেন তার কাছে নারী নির্যাতনের কথা বললে হেসে উড়িয়ে দেয়ারই কথা। তিনি তো বলবেনই ‘এখন তো পুরুষরা নির্যাতিত হচ্ছে। তাই পুরুষ নির্যাতন আইন হওয়া উচিত।’ আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের মাঝে বৈষম্য বিরাজ করলেও আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রগতিও কম হয়নি।

সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ উচ্চতর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করছেন হাজার হাজার ছাত্রী। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন অগণিত ছাত্রী। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ছাত্র সংখ্যার অর্ধেক ছাত্রী। সরকারি বেসরকারি অফিসগুলোতেও কাজ করছে অসংখ্য নারী। উচ্চতর পদগুলোতেও নারীরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত গার্মেন্ট শিল্প মূলত টিকে আছে নারীর শ্রম সাধনায়। কিন্তু এই শিল্প নিয়েও চলেছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। গার্মেন্ট ও অন্যান্য শিল্পে নারী শোষিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধেও লড়াই ও আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে এবং সুফল হবে এটা নিশ্চিত। কারণ কোনো আন্দোলনই বৃথা যায় না। সুফল পেতে শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। দেশের জনগণ পত্র-পত্রিকায় এবং টিভি খুললেই দেখেছেন অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও হরতালের সময় বিনা কারণে কীভাবে নারীদের গ্রেফতার এবং লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এমপি, আইনজীবীসহ অসংখ্য নারীকে গ্রেফতার এবং নির্যাতন করা হচ্ছে অথচ মানবাধিকার তথা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়েই এদেশের আপামর জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। সমাজের ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হলেই আমাদের বিজয় সার্থক হবে। কিন্তু আমরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি নারী অধিকার তথা মানবাধিকারের গলা টিপে হত্যা করে বিজয়ের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। নারীর প্রতি সম্মান, সহযোগিতা, সহমর্মিতা প্রদর্শন করে নারীকে এগিয়ে যেতে দেশে সকল নাগরিক স্ব স্ব স্থান থেকে এগিয়ে আসবেন মহান বিজয়ের মাসে এটাই নারী সমাজের প্রত্যাশা।

সূত্র- ইনকিলাব।

 

ঘরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে পোড়ামাটির জিনিসপত্র

প্রাকৃতিক পরিবেশ আর জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই ঘরদোর বানানোর রীতি একসময় দুনিয়াজুড়েই ঐতিহ্য ছিল। আধুনিক বাস্তুকলায় আমরা নানা কারণেই এসব থেকে দূরে সরে এসেছি। কিন্তু অনেক কিছু ছেড়ে এলেও সব তো আর ভোলা যায় না। তাই এখনো ঐতিহ্য হাতড়ে ফেরে নাগরিক মন। আর এভাবেই একসময় যা ছিল ঐতিহ্য, এখন তা ফিরে আসে হাল আমলের স্টাইল হয়ে। এখন কুমারপাড়ার সব মাটির তৈজসপত্রেরই যেন একটা নাগরিক সংস্করণ পাওয়া যায় রাজধানীসহ বড় বড় নগর-বন্দরে। আটপৌরে প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা উপকরণ বিক্রি হচ্ছে পথের ধারের ফুটপাত, বিপণিবিতান আর বিশেষায়িত পটারি শপগুলোতে। কেউ চাইলেই ঘরের মেঝে থেকে শুরু করে দেয়াল পর্যন্ত সাজাতে পারেন মাটির জিনিস দিয়ে।

ফুলদানি

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফুলদানি কে না পছন্দ করে। আর মাটির ফুলদানি তো ধ্রুপদি সুন্দর। মাটির ফুলদানি ছোট, মাঝারি ও বড়—সব আকারেরই পাওয়া যায়। কিছু ফুলদানিতে মাটির গায়ে খোদাই আর রিলিফের কাজ। হালকা আর গাঢ় রঙে পোড়ানো। আর কিছু মাটির ফুলদানিতে গাঢ় রঙের ওপর জরির কাজ করা। কেউ চাইলে কৃত্রিম ফুলও রাখতে পারেন। আবার পানি দিয়ে তাজা ফুলও রাখতে পারেন মাটির ফুলদানিতে। শোবার ঘর, বসার ঘর—যেকোনো স্থানেই রাখতে পারেন সুদৃশ্য মাটির ফুলদানি। ৬০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে নানা আকৃতির ভিন্ন ভিন্ন নকশার মাটির ফুলদানি।

টেরাকোটা

বাহারি নকশা করা পোড়ামাটির ফলক ঘরের দেয়ালে। আছে ফুল-লতা-পাতা, আছে গ্রামীণ জীবনের ছবি আঁকা। এ ছাড়া পাওয়া যায় বিমূর্ত নানা নকশার টেরাকোটাও। ছোট ছোট বিভিন্ন মাপের টেরাকোটা প্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায় মৃিশল্পের দোকানে। এ ছাড়া এমন মৃিশল্পের দোকান বা শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিজের পছন্দমতো বানিয়ে নিতে পারেন মনের মতো টেরাকোটাও। সে ক্ষেত্রে খরচ করতে হবে প্রতি বর্গফুট হিসাবে। বসার ঘরের দেয়ালের কোনো একটা পাশে এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত লাগিয়ে নিতে পারেন টানা একটা টেরাকোটার কাজ। আবার শোবার ঘরের পেছনের দেয়ালেও রাখতে পারেন টেরাকোটা।

শোপিস

এখন সুন্দর সুন্দর মাটির শোপিস পাওয়া যায়। টেপা পুতুল, ছোট হাতি, ঘোড়া থেকে শুরু করে লোক-মোটিফের পোড়ামাটির নানা কাজ কিনতে পাওয়া যায় দোকানগুলোতে। কেউ চাইলেই এগুলো দিয়ে সাজাতে পারেন আপনার শোকেস। অথবা বসার ঘরের কোনো একটি কোনায় ছোট একটি নিচু টেবিল রেখে সাজাতে পারেন মাটির শোপিসে। এগুলোর দাম ৪০-৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকার মধ্যেই।

images (4)

মাটির ব্যাংক

শুধু শখের বশে খুচরা পয়সা বা টাকা জমানোর জন্যই নয়, মাটির ব্যাংক দিয়ে সাজাতে পারেন ঘরও। বিভিন্ন ফল, ব্যাঙ, হাতি, ঘোড়াসহ নানা আকৃতির ব্যাংক পাওয়া যায় মাটির। এগুলোতেও ঘরের শোভা বাড়াতে পারেন আপনি। দাম পড়বে ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

দেয়াল সাজানো
অনেকেই ঘরে মাটির জিনিস রাখতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে থাকার কথা বলেন। তাঁরা চাইলেই কিন্তু দেয়ালে টাঙানোর উপযোগী মাটির নানান জিনিস কিনে সাজাতে পারেন ঘরের দেয়াল। পর পর তিনটি তিন সাইজের মাটির মাছ দিয়েই সাজানো যেতে পারে দেয়ালের একটা দিক। তার আগে শিশুর ছবি আঁকার প্যাস্টেল রঙে কয়টা ঢেউ এঁকে নিতে পারেন দেয়ালে। আর মাছের ওপরেই উড়িয়ে দিতে পারেন মাটির রঙিন প্রজাপতি। যেকোনো ঘরেই এগুলো ভালো লাগবে। দাম পড়বে ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।
মাটির ঘণ্টি
বসার ঘরের সিলিংয়ে কিংবা প্যাসেজের দরজায় ঝুলিয়ে দিতে পারেন টুংটাং মাটির ঘণ্টি। দুই বা তিনটি ঘণ্টি অথবা অনেকগুলো ঘণ্টি দিয়ে একটি সুন্দর চাইমও। ঘণ্টিগুলো সুতা বা ফিতে দিয়ে বেঁধে নিজের মনের মতো করে যেমন সাজাতে পারেন, তেমনি কিনে নিতে পারেন নানান ডিজাইনে বানানো এমন চাইমও। মিষ্টি একটা টুংটাং আওয়াজের এই মাটির ঘণ্টির দাম ২০ টাকা থেকে ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে।
অ্যাশট্রে
ধূমপান না করাই ভালো। কেউ যদি এখনো এই অভ্যাস ছাড়তে না-ই পারেন, আর অতিথি হয়ে আসেন আপনার বাড়িতে, তাহলে কী করবেন। একটা কর্নার টেবিলে রেখে দিতে পারেন একটা মাটির অ্যাশট্রে। এই অ্যাশট্রেও কিন্তু এখন পাওয়া যায় নানান জিনিসের আকৃতিতে। আছে বাহারি নকশা করা মাটির অ্যাশট্রেও। এতে যেমন সৌন্দর্য বাড়বে, তেমনি হঠাত্ প্রয়োজনও মিটবে। ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় মাটির অ্যাশট্রে।

বড় চাড়ি ছোট বাটি

মাটির পাত্রে স্বচ্ছ টলটলে পানি রেখে দিয়ে ঘর ঠান্ডা করার পদ্ধতি অনেক পুরোনো হলেও এখন তা আবার ফিরে এসেছে নগর জীবনেও। গরমের দিনে একটা বড় চাড়িতে পানি দিয়ে তা ঘরের মাঝখানে রেখে দিতে পারেন। আর তাতে ছোট ছোট ফুল ও ফুলের পাপড়ি ছেড়ে দিতে পারেন। ভাসাতে পারেন দু-একটা কাগজের নৌকাও। সন্ধ্যায় কয়েকটি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলে ঘরের পরিবেশই পাল্টে যাবে।

আর ছোট ছোট মাটির বাটি অনেক কাজেই লাগে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বাটিতে রাখতে পারেন টুকিটাকি নানা জিনিস। বিভিন্ন আকৃতির একদম সাধারণ বা কিছুটা নকশা করা মাটির বাটির দাম ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

ফুলের টব

টব তো মাটিরই হওয়া দরকার। এখন অনেক আকৃতির আর নানা নকশার টব পাওয়া যায়। আছে গোল ও চৌকো আকৃতির মাটির টবও। ওপরে-নিচে কিংবা সারা গাজুড়ে নকশা করা মাটির টব পাওয়া যায় বিভিন্ন রঙের। এসব টবে শুধু ফুল কিংবা পাতা বাহারই নয়, বারান্দাটা একটু বড় হলে লাগিয়ে দিতে পারেন কোনো একটা ফলের গাছও। ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন আপনার মনের মতো টব।

মাটির-হাঁড়ি-পাতিল

আয়না

দিনের মধ্যে সবারই একবার হলেও আয়নার সামনে যেতেই হয়। আর আয়নাতেও রাখতে পারেন মাটির কারুকাজের ছোঁয়া। গোল, চার কোনা—নানা আকৃতির আয়না পাওয়া যায় মাটির ফ্রেমে। খাবার ঘরের হাত ধোয়ার স্থানে কিংবা প্যাসেজেও রেখে দিতে পারেন একটা ছোট মাটির ফ্রেমের আয়না। এ ধরনের আয়নার দাম ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে।

মাটির থালাবাসন

পুরো ঘরদোরই যদি মাটির জিনিসে সাজিয়ে ফেলেন এই গরমের দিনে, তাহলে আবার খাবার টেবিলটাই বা বাদ যাবে কেন! আপনি চাইলেই বাসায় রেখে দিতে পারেন একটা মাটির ডিনার সেট। বিশেষ দিনে অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহার করতে পারেন এই মাটির থালা-বাসন-গ্লাস বা কাপ-পিরিচ।

মাটির জিনিস ব্যবহারে সতর্কতা ও যত্ন

মাটির জিনিস ব্যবহারে একটু তো সতর্ক থাকতেই হবে। মাটির চাড়ি বা ফুলদানিতে পানি রাখলে তা অবশ্যই নিয়মিত পালটাতে হবে। কারণ পানি নোংরা হলে তাতে মশা হতে পারে। আবার চাইলে ফুলদানির ভেতরে একটা পলিথিন দিয়ে তাতে পানি দিতে পারেন। এতে পাত্রে সামান্য পানি চুঁইয়ে পড়ার সুযোগ থাকলে সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে। আর মাটির জিনিসে ধুলোবালি একটু বেশিই চোখে পড়ে। তাই নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখতে হবে মাটির জিনিস। এসবে ভেজা কাপড় ব্যবহার না করাই ভালো।

যেখানে পাবেন

মাটির জিনিস এখন অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়। শিশু একাডেমির সামনে দোয়েল চত্বর, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজের সামনে, ধানমন্ডি ৬ নম্বর সড়কের ফুটপাত, কলাবাগান, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটেও পাওয়া যায় মাটির জিনিস। তবে কিনতে হবে একটু দরদাম করে।

সবশেষে বলে রাখতে চাই একটা ছোট্ট টিপস। নানান ঘরোয়া আড্ডায়-অনুষ্ঠানে জ্বালিয়ে দিন মাটির কয়েকটি ছোট্ট প্রদীপ। এ ছাড়া ব্যবহার করতে পারেন মাটির মোমদানিও। আর শুধু নিজের ঘরের জন্যই নয় চাইলে বন্ধুকেও উপহার দিতে পারেন পোড়ামাটির এসব খাঁটি জিনিস।

 

লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচার

যুক্তরাজ্যের একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন লৌহমানবী নামে।

১৯২৫ সালের ১৩ অক্টোবর জন্ম নেওয়া থ্যাচারের বাবার নাম অ্যালফ্রেড রবার্টস। পেশায় দোকানদার হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে বাবার সক্রিয়তার কারণে বেশ অল্প বয়স থেকেই রাজনীতিকে কাছ থেকে দেখেছেন থ্যাচার। ১৯৫১ সালে ১৯৫১ সালে তাঁর বিয়ে হয় ডেনিস থ্যাচারের সাথে। বিয়ের পরই তিনি আইন পড়া শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে ব্যারিস্টারি পাশ করেন। ঐ বছরই তার জমজ সন্তান মার্ক এবং ক্যারলের জন্ম হয়। বিয়ের পর তাঁর নামের শেষে যুক্ত হয় থ্যাচার। এর আগ পর্যন্ত তিনি পরিচিত ছিলেন মার্গারেট হিলডা রবার্টস নামে। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ভালো ছিলেন তিনি। অঙ্ফোর্ডের সামারভিল কলেজে রসায়নের ওপর পড়াশোনা করেছেন তিনি। ১৯৫৯ সালে রক্ষণশীল দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক জীবনে আরেক ধাপ উন্নতি হয় তাঁর। অ্যাডওয়ার্ড হিথকে পরাজিত করায় দলের নেতৃত্ব আসে তাঁর হাতে।

130408135927_thatcher_14bbc

এরপর ১৯৭৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস রচনা করেন থ্যাচার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন যে পরপর তিনবার তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেন। বিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও এ সময়টায় তিনি যে শুধু মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন এমন নয়। নানা নীতির কারণে বহু সমালোচনার শিকারও হতে হয় ব্রিটেনের এই একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রীকে। তবে যেসব কারণে মার্গারেট থ্যাচার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন, এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপের বিভক্তি জয়, স্নায়ুযুদ্ধাবসান, ফকল্যান্ড যুদ্ধ ইত্যাদি।

তাঁর বিরুদ্ধে আনীত বড় অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, তাঁর সময়ে একদিকে ধনীরা যেমন আরো সম্পত্তির পাহাড় গড়েছে, অন্যদিকে গরিবরা হয়েছে আরো গরিব।২০০২ সালে ছোটখাটো একটি স্ট্রোক করার পর থেকে অনেকটা নিভৃত জীবনযাবন করে আসছিলেন,৮৭ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন লৌহমানবীখ্যাত মার্গারেট থ্যাচার।

 

নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

মহিলা উদ্যোক্তা তৈরিতে বিসিকের প্রশিক্ষণ

দেশের শিক্ষিত বেকার মহিলাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (স্কিটি)।

২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আবেদনের যোগ্যতা এসএসসি পাস। কোর্স ফি ৫০০ টাকা। শিল্প বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কোর্সটি সহায়ক হবে। কোর্স শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সহায়তা করা হবে। আবেদনের শেষ সময় ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০টা।

যোগাযোগ : স্কিটি, বিসিক, প্লট-২৪/এ, রোড-১৩/এ, সেক্টর-৬, উত্তরা, ঢাকা।

ফোন : ০১৯১৫১৬৭০২৪.

বেসিক ওয়েব ডিজাইনের উপর ১মাস ব্যাপি ফ্রি প্রশিক্ষণ 

8973_755643557848467_4106716444139039084_n

‘জাগো হে নারী জাগো’ এই শ্লোগান নিয়ে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ১মাস ব্যাপি নারীদের জন্য বেসিক ওয়েব ডিজাইনের উপর ফ্রি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। যার আয়োজক হচ্ছে, ওয়েবকোড ইনস্টিটিউট।

ভাষার মাসে শেখাবো ওয়েব ডিজাইনের ভাষা।
স্বাধীনতার মাসে শুরু হোক স্বাধীনভাবে নারীর পথচলা…

নারীদের জন্য ওয়েব কোড নিয়ে এলো ১ মাসব্যাপী বেসিক ওয়েব ডিজাইন শেখার ফ্রি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ৩০ জন নারী পাবেন এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনের সুবর্ণ সুযোগ।

কে হতে চান সেই ৩০ জনের একজন??

প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবেন গল্পে গল্পে কোডিং শিখি গ্রুপের শিউলী ইয়াসিন এবং সাদিয়া আহমেদ মনিকা।

বি:দ্র : সবার কাছে অনুরোধ আপনাদের পরিচিত যেসকল নারীর পক্ষে বেসিক ওয়েব ডিজাইন শেখা সম্ভব মনে করেন তাদেরকে জানার সুযোগ করে দিবেন।

হতে চাইলে ৩০ জনের একজন……
আজই রেজিষ্ট্রেশন করুন। রেজিষ্ট্রেশন লিংক : https://docs.google.com/forms/d/1aolfDlKpycL9tBp5q3Xe986I19LLks2oKF24QCgu2Nk/viewform

প্রশিক্ষণের বিস্তারিতঃ
রেজিষ্ট্রেশনের শেষ তারিখ : ১৫ জানুয়ারী-২০১৪
প্রশিক্ষণ শুরু : ১লা ফেব্রুয়ারী- ২০১৫
সময়ঃ সকাল : পরবর্তীতে জানানো হবে।
আসন সংখ্যাঃ ৩০টি

প্রশিক্ষণের স্থান :

ওয়েবকোড ইনস্টিটিউট
রুম – ০২ (১৩ তলা)
সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
২১৮, নিউ এলিফ্যান্ট রোড (বাটা সিগন্যাল)
ঢাকা – ১২০৫

প্রয়োজনে : ০১৬৭৮-১৭০-৫৯৩। 

চট্টগ্রামে ১১জন সফল নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান।

 ১১ সফল নারী উদ্যোক্তাকে অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানালো চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিডব্লিউসিসিআই)। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ব্যবসা শুরু করে সফলতা অর্জন করায় তাদের এ সম্মান জানালো প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের ১১জন সফল নারীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড.আতিউর রহমান। এর আগে এফবিসিসিআই এর প্রথম সহ সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, এক সময় চট্টগ্রামে নারী উদ্যোক্তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন হাজার হাজার উদ্যোক্তা।

সফল এই নারী উদ্যোক্তারা হলেনচট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের সভাপতি কামরুন মালেক(চট্টগ্রাম), নুর জাহান আক্তার চামেলি(কুমিল্লা), শামসুন্নাহার রানী(চাঁদপুর), রোকসানা হক সুচি(ব্রাহ্মণ বাড়িয়া), জোহরা বেগম (ফেনী), সুপ্তা চাকমা(খাগড়াছড়ি), মমতাজ বেগম(লক্ষীপুর), পপি রহমান(নোয়াখালী), সুশীলা চাকমা(রাঙামাটি), জাহানারা বেগম(কক্সবাজার) এবং শার্লী প্রো(বান্দরবান)

সম্মাননা প্রদানের সময় চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের সভাপতি কামরুন মালেকের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও সফলতার গল্প প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

১৯৮০ সালে পিতার লবন ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। সুযোগ পেলে নারীরাও যে পুরুষের থেকে পিছিয়ে থাকে না, তা প্রমাণের চ্যালেঞ্জটাও কাজ করেছিল নিজের মধ্যে। প্রথম চ্যালেঞ্জ সফলতার সাথে মোকাবেলার পর ১৯৮৫ সাল থেকে খলিফাপট্টিতে ডেইরি ফার্ম ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। আর উদ্যোক্তা হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি আসে ১৯৯২ সালে। ডেইরি ফার্ম ব্যবসার জন্য ওই বছর সরকারিভাবে পুরকৃত হন তিনি।

নিজের কর্মস্পৃহা, স্বামীর অনুপ্রেরনার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার তাগিদে যুক্ত হন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। ১৯৮০ সাল থেকে লায়ন্সের সাথে যুক্ত আছেন। ছিলেন চিটাগাং লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। দায়িত্ব পালন করেছেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ৩১৫/বি৪ এর জোন চেয়ারম্যান ও রিজিওন চেয়ারম্যান হিসেবে। বর্তমানে তিনি গভর্নর এডভাইজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৩ সালে উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, চিটাগংয়ের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট মিসেস মনোয়ারা হাকিম আলীর অনুরোধে যুক্ত হন তিনি এ সংগঠনের সাথে। ২০১৩ সাল থেকে উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, চিটাগং এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের সফলতার প্রমাণ রেখে চলেছেন সাবলীল দক্ষতায়। আজাদী প্রিন্টার্স ও কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি ডায়াবেটিক সমিতি, চট্টগ্রাম, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে অবহেলিত চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন অবিরাম।

কামরুন মালেক বিশ্বাস করেন, সমাজের প্রতি প্রত্যেক মানুষেরই কিছু দায়িত্ব থাকে, যা পালনে তিনি দায়বদ্ধ। তাঁর আজকের সামাজিক অবস্থানের জন্য তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ করুণা বলেই মনে করেন। পাশাপাশি স্বামী এম এ মালেকের সার্বক্ষনিক উৎসাহ দা তো আছেই। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি আমৃত্যু চট্টগ্রামের অবহেলিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত নারীদের পাশে থাকতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন সকল বৈষম্যের অবসান হবে, নারী পুরুষ, ধনীগরীব সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবহেলিত চট্টগ্রামকে পৌঁছে দেবে তার কাঙিক্ষত ঠিকানায়।

সফল এই নারী উদ্যোক্তার জন্ম দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়িতে ১৯৪৮ সালের ১০ জুন। মাবাবা আদর করে নাম রেেেখছিলেন কামরুন নাহার। গৃহীনি মা সামশুন নাহার আর বাবা মরহুম বজলুল করিম চৌধুরী ছিলেন এলাকার জমিদার। তবে এলাকার যে কারো বিপদে পাশে দাঁড়াতে ছিলেন তিনি সদা তৎপর। পিতার এই গুণটুকু পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের ১৯৬৪ সালে পেকুয়া জিএমসি ইন্সটিটিউশন থেকে মাধ্যমিক পাশের পর নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ অঞ্চলের প্রথম মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের সন্তান এম এ মালেকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকে তিনি কামরুল মালেক নামেই পরিচিত। 

সূত্র- আজাদী।

 

 

সব সময় শি্খতে থাকো,এক মুহুর্তের জন্যেও থেমো না- ইন্দ্রা কে নুই।

 

পেপসিকোর চেয়ারপার্সন ও সিইও ইন্দ্রা কে নুই। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে। তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন মাদ্রাজ ক্রিশ্চিয়ান কলেজ, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কলকাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে। ২০১১ সালের ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটিতে তিনি এই বক্তৃতা দেন।

পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার শপথ নিয়ে আজ তোমাদের পথচলা শুরু হবে। তোমাদের এমন সব সুযোগ ও সম্ভাবনা আছে, যা আজ অবধি কোনো প্রজন্মেরই ছিল না। সামাজিক নেটওয়ার্কিং, তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে অর্থনৈতিক আর সামাজিক সমস্যার সমাধান এখন সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই উঠে আসছে, যা এর আগে সম্ভব ছিল না। তোমাদের সামনে সমস্যাগুলো পুরোনো হলেও পুরোনো ধাঁচের সমাধানের মধ্যে তোমাদের সীমাবদ্ধ থাকার কোনো কারণ নেই। এ প্রজন্ম পুরোনোকে ভেঙে নতুন পথ তৈরি করবে।
এই যাত্রার শুরুতে আজ আমি তোমাদের কিছু পরামর্শ দিতে চাই, যা তোমাদের পথ চলতে সাহায্য করবে। প্রথমেই আমি বলব, সব সময় শিখতে থাকো, এক মুহূর্তের জন্যও থেমো না। তোমাদের ভেতরে যে কৌতূহলী সত্তাটি লুকিয়ে আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে তাকে হারিয়ে ফেলো না। শৈশবের সবচেয়ে অসাধারণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে পৃথিবীকে জানার, বোঝার তীব্র ইচ্ছা, যা বেশির ভাগ মানুষই বড় হতে হতে হারিয়ে ফেলে। ‘কেন?’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার উৎসাহ ফুরিয়ে যায়। হ্যাঁ, আজকে তোমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হচ্ছে, কিন্তু সত্যিকারের শিক্ষার কোনো শেষ নেই, পূর্ণতা নেই। বাইরের পৃথিবী থেকে তোমরা যা শিখবে, তা এক অনন্ত বিস্ময়ের উৎস হয়ে তোমাদের জীবন ভরে তুলতে পারে, যদি তোমরা তাকে গ্রহণ কর।
১৯৮৬ সালে আমি বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ থেকে মটোরোলার অটোমোটিভ ইলেকট্রনিকস ডিভিশনের হেড অব স্ট্র্যাটেজি পদে যোগদান করি। তখন কোম্পানির উঁচু পর্যায়ের হাতে গোনা নারীদের মধ্যে আমি ছিলাম একজন। প্রথম মিটিংয়ে এসে আমি হতভম্ব; উপস্থিত সবার মুখে ইলেকট্রনিকস আর গাড়ি ছাড়া কোনো কথা নেই—আর এ দুটির কোনোটি নিয়েই আমার ধারণা প্রায় ছিল না বললেই চলে। আমি কিছু গৎবাঁধা প্রশ্ন করে, কতগুলো মডেল বানিয়েই হয়তো পার পেয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু আমি আরও বেশি কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমি কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চাইছিলাম, এর ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় করতে চাইছিলাম।
নতুন জিনিস শেখার ইচ্ছেটাকে ধরে রাখো, আর তোমার কাজের বিষয়ের গভীরে ডুব দেওয়ার আগে চারপাশটাও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়ো। ব্যবসার জগৎ নিয়ে আমার সবচেয়ে সেরা উপলব্ধিগুলোর মধ্যে বেশ কিছু এসেছে অন্যান্য বিষয়ে পড়তে পড়তে, কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো কিছুকে বিচার করতে গিয়ে। ব্যবসার ক্ষেত্রে আমাকে যেসব জ্ঞান এগিয়ে দিয়েছে, তার মধ্যে অনেক কিছু এসেছে ইতিহাস, মনোবিজ্ঞান, এমনকি রসায়নের মতো বিষয় থেকে। যেসব জিনিস আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় সম্পর্কহীন, বিচ্ছিন্ন, তাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে পারার ক্ষমতা আমাকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে।
আজকের পৃথিবীতে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা খুব প্রয়োজন। তোমরা আজ যা জানো, কালই তা সেকেলে হয়ে পড়বে। কেবল একটি জিনিস শিখে টিকে থাকা এখন মুশকিল। আর এর অর্থ একটাই, প্রতিনিয়ত শিখতে হবে।

indra-nooyi_660_070314124400_081314021500

তোমাদের জন্য আমার দ্বিতীয় পরামর্শ হলো সবকিছুকে সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে—তা ব্যর্থতা, কোনো একঘেয়ে কাজ, ক্যারিয়ারে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন, যা-ই হোক না কেন। প্রতিটি অভিজ্ঞতাই নতুন কিছু শেখার এবং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার এক দারুণ সুযোগ। আর শুধু সুযোগগুলোকে চিনতে শিখলেই হবে না, নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে সেগুলোর সদ্ব্যবহার করতে হবে। অনেক আগে থেকে ক্যারিয়ারের আগাগোড়া পরিকল্পনা করে রাখা সম্ভব নয়, তা উচিতও নয়। কোনো নির্দিষ্ট চাকরিই করতে হবে, এমন বদ্ধমূল ধারণা মনে গেঁথে চোখ-কান বুজে সেই চাকরির দিকে ছুটে চললে পথের আশপাশে ছড়িয়ে থাকা হাজারো সুযোগ চোখ এড়িয়ে যায়, যা করাটা বোকামি।
৯০-এর দশকের শেষের কথা, তখন আমি পেপসিকোর করপোরেট স্ট্র্যাটেজি ও ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান। স্টিভ রেইনমান্ড, আমার সাবেক বস, একদিন সোজা আমার অফিসে এসে বললেন, ‘আমি চাই তুমি ফ্রিটো-লেতে যাও এবং আমাদের পণ্য সরবরাহের পদ্ধতি বদলে ফেলার প্রকল্পের নেতৃত্ব দাও।’ আমার সামনে দুটি পথ ছিল—কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা অথবা যেখানে ছিলাম সেখানেই থেকে যাওয়া। আমি চ্যালেঞ্জকে বেছে নিয়েছিলাম এবং আমার আজকের অবস্থানের পেছনে সেই সাহসী সিদ্ধান্তের অবদান অপরিসীম।
তবে শুধু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেই হবে না, নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে ভালো কাজ করতে হবে। হোক সেটা প্রথম চাকরি বা নিজের ব্যবসা, বা একটা ফটোকপি মেশিন চালানো—যে কাজই করো না কেন, সেখানে নিজের ১১০ ভাগ সামর্থ্য উজাড় করে দেবে। বহুদিন আগে ঠিক করে রাখা ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে আরও সম্ভাবনাময় কোনো দরজা ভুলে বন্ধ করে ফেলো না।
আমার তৃতীয় পরামর্শ হলো, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে। কাজ করতে গিয়ে ভিন্ন মতের, ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে দেখা হবে, তাদের সঙ্গে মিশতে হবে। সে ক্ষেত্রে অন্যদের সঙ্গে অমিলগুলো না খুঁজে, সবার ভালো দিকগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। তুমি যখন অন্যদের ভালো ব্যাপারগুলোকে প্রাধান্য দেবে, বিনিময়ে তারাও তোমাকে ভালো চোখে দেখবে। এটা ঠিক যে কর্মক্ষেত্রে সমালোচনা থাকবেই, সেটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। তোমার যদি নিজের ওপর দৃঢ়বিশ্বাস ও আস্থা থাকে, তবে সমালোচনা, সমস্যা, ব্যর্থতা—যা-ই আসুক না কেন, সেখান থেকেই তুমি নতুন কিছু শিখতে পারবে এবং পরেরবার ঠিকই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে এমনভাবে কাছে টানে যে সুসময় বা দুঃসময়, যা-ই আসুক না কেন, তুমি কখনো একা হবে না।
নিজের ভেতরে সুপ্ত কৌতূহলকে জাগিয়ে রেখো আর সব সময় শিখতে থেকো, কখনো থেমে যেয়ো না। নিজের সবটুকু উজাড় করে কাজ করো, সুযোগ তৈরি করে নাও। সবকিছুকে ইতিবাচকভাবে নিতে শেখো। তুমি পৃথিবীকে যা দেবে, তা-ই তুমি ফিরে পাবে। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, তোমরাই এ পৃথিবী বদলে দেবে।

সূত্র: ওয়েবসাইট। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার। 

 

রাজধানীতে ‘নারী নেতৃত্ব এবং ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী বলেছেন, কাজের সহায়ক পরিবেশ পেলে নারী প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে পারে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের মানবসম্পদ নীতি জেন্ডার নিরপেক্ষ।

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল শনিবার ‘ডিএইচএল ওমেনস নেটওয়ার্ক (ডিডব্লিউএন)’ আয়োজিত ‘নারী, নেতৃত্ব এবং ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাবেক এই উপদেষ্টা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর জীবনসংগ্রাম এবং কীভাবে তিনি ব্যবসায়িক নেতা হয়ে উঠলেন, সে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী বলেন, নারীদের আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে ‘আপনি কি পারবেন’ এমন প্রশ্নে মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, নারীদের বিষয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডিএইচএল ওমেনস নেটওয়ার্ক যাত্রা শুরু করল। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডিএইচএলের নারী কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে আরও তথ্য ও সহযোগিতা দিয়ে উৎসাহ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন, চট্টগ্রামের উপাচার্য ফাতেমা আজিজ ‘নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে নারী নেতৃত্ব, নারী ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক উপস্থাপনার সময় বলেন, নারীরা পরিবারে বেশি সময় দেয় বলে উচ্চপদে কাজ করতে বেশি আগ্রহ দেখায় না। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএইচএল এক্সপ্রেসের দেশি ব্যবস্থাপক ডেসমন্ড কুইয়াহ, ডিএইচএলের গ্লোবাল ফরওয়ার্ডিংয়ের (ডিজিএফ) ব্যবস্থাপক নূরুদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

 

যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুকে নির্যাতন!

 

অপরাজিতা ডেস্কঃ রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় ফাতেমা আক্তার (২১) নামের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ওপর তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাতেমার স্বামী গুলজার আলম গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ অভিযোগ করেন।
গুলজারের অভিযোগ, তাঁর বাবা-মা ও বোনেরা যৌতুকের জন্য তাঁর স্ত্রীর ওপর বিভিন্ন সময়ে মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন। যৌতুক না নেওয়ায় তাঁকে (গুলজার) বাসা থেকে বের করে দিতে চেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে স্ত্রীর পেটে গরম পাতিলের ছ্যাঁক ও পায়ে গরম ভাতের ফেন ঢেলে দেওয়া হয়।
গুলজার সাংবাদিকদের জানান, গত ২৮ মার্চ পারিবারিকভাবে ফাতেমাকে বিয়ে করেন তিনি। ফাতেমা উত্তরায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে শাহবাগ থানা এলাকার একটি বাসায় থাকেন তিনি।
ফাতেমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী যৌতুক নেয়নি বলে তাঁর বাবা-মা-বোনেরা আমাদের বাসায় রাখতে নারাজ। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আমার ওপর ও আমার স্বামীর ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছেন।’
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম  বলেন, ‘বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ছেলেটি আগেও একটা জিডি করেছিল। অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

তিন নারী মুক্তিযোদ্ধার জীবন নিয়ে প্রামান্যচিত্র

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। ফারজানা ববির পরিচিত একজন গবেষক গবেষণা করছিলেন যুদ্ধাহত বীর নারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। সেই গবেষণার আর্কাইভ তৈরির কাজটি করেন ফারজানা। এ কাজ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অনেক নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন। আবার বিভিন্ন বই ঘেঁটেও মুক্তিযুদ্ধে বীর নারী মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতিত হওয়ার অজানা তথ্যও জানতে পারেন।
‘আর্কাইভের কাজ করার পর থেকেই মনে হচ্ছিল এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। এভাবে শুরু করি বিষকাঁটার কাজ।’ বললেন বিষকাঁটা প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা ফারজানা ববি। ঢাকার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে ৬ ডিসেম্বর দেখানো হয় বিষকাঁটা ছবিটি। নির্মাতা ফারজানা এর আগে বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন মেহেরজান চলচ্চিত্রে।

তিন বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিতা মল্লিক, রমা চৌধুরী আর হালিমা খাতুনের বর্তমান জীবনের বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে বিষকাঁটায়। নিজের এলাকা খুলনা থেকেই কাজ শুরু করেন ফারজানা ববি। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন মুক্তিযুদ্ধের সময় সেখানকার নির্যাতিত নারীদের। ফারজানা বলেন, ‘খুলনার লেখক বাবর আলীর স্বাধীনতার দুর্জয় অভিযান বইটি থেকে জানতে পারি বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিতা মল্লিকের কথা। এরপর তাঁকে খুঁজতে থাকি। একসময় তাঁকে পেয়েও যাই। রূপসার পাথরঘাটার যে বাড়িতে নির্যাতিত হয়েছিলেন রঞ্জিতা সেই বাড়িতে হয় বিষকাঁটার পুরো শুটিং।’
যুদ্ধ শেষে স্থানীয়রা রঞ্জিতার জায়গাজমি দখল করে সেখান থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করে। পুরো সমাজ থেকে আলাদা হয়ে ৪৩ বছর ধরে রঞ্জিতা অসম্মানের জীবন যাপন করলেও মাথা উঁচু করে সসম্মানে বেঁচে আছে সেই স্বাধীনতা বিরোধীরা।

ফারজানা জানান, বীর শব্দের যোগ নিয়ে আপত্তি আছে রমা চৌধুরীর। তিনি সব সময় বলতেন বীর হলে এত অপমান আর পাশবিক অত্যাচারের শিকার হতে হতো না তাঁদের।
এখন বিশেষ দিনগুলোয় বীর নারী মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে প্রদীপ প্রজ্বলন বা পুনর্বাসনের যে কথা বলা হয়, সেটাও একধরনের প্রহসন মনে হয় ফারজানার কাছে। কারণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দলিলে যে ২২ জন নারী মুক্তিযোদ্ধার কথা আছে তার মধ্যে মাত্র ছয়জন যুদ্ধাহত বীর নারীর নাম রয়েছে।
যে কারণে দেশের জন্য নিজের সম্মানটুকু হারিয়েও হালিমার মতো মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। ফারাজনা বললেন, ‘অথচ মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে পা হারিয়েছিলেন হালিমা। যুদ্ধে ক্ষত সৃষ্টি হয় তাঁর দুপায়ে। টাকার অভাবে পায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। গত ৪৩ বছরে তাঁদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা উঠে এসেছে এই প্রামাণ্যচিত্রে।’

সূত্র- প্রথম আলো।

 

কমছে সৌদী আরবে নারী শ্রমিক সংখ্যা

রক্ষণশীল মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরবের সরকার নীরবে সামাজিকভাবে বৈপ্লবিক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যার বাস্তবায়নে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নারীদের সৌদি আরবে গিয়ে কর্ম গ্রহণ করার সুযোগ কমে যাবে। সৌদি সমাজ এখন বিপুল সংখ্যায় বিদেশী পুরুষ ও নারীদের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করে নিজেরা আয়েশী জীবন কাটাতে অভ্যস্ত। সৌদি আরবের জনসংখ্যা দুই কোটি দেশজ আরব বা ‘ওয়াতানি’। এদের পাশাপাশি লাখ লাখ বিদেশী পুরুষ ও নারী সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছে ‘ওয়ার্ক ভিসা’ ভিত্তিতে। এরা প্রতি মাসে তাদের বেতন থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিজ নিজ দেশে পাঠায়। বাংলাদেশ প্রবাসীদের পাঠানো থেকে যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে তার বেশির ভাগ আসে সৌদি আরব থেকে।

 

সৌদি সরকারের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, সৌদি আরবে ৪০ লাখ সৌদি পুরুষ কর্মরত রয়েছে, কিন্তু এর পাশে কর্মরত রয়েছে মাত্র ছয় লাখ ৮০ হাজার সৌদি নারী যারা মোট নারী জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ! কর্মরত সৌদি নারীদের সংখ্যা দ্রুততম সময়ে বৃদ্ধি করার জন্য সৌদি সরকার এই সামাজিকভাবে বৈপ্লবিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

 

সৌদি সরকারের শ্রম ও জনসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহা কে তাইবা বলেন, এই প্রকল্প দ্বারা সরকার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে কর্মরত সৌদি নারীদের সংখ্যা দ্বিগুণে উন্নীত করার আশা করছে। যেসব খাতে সরকার সৌদি নারীদের কর্ম সুযোগ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে তার মধ্যে আছে স্বাস্থ্য খাত, ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তি। এর পাশাপাশি সৌদি নারীদের কর্মস্থলের পাশেই শিশুদের জন্য ‘ডে কেয়ার’ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

 

তাইবা বলেন, ‘বর্তমানে সৌদি নারীরা মনে করে গৃহে অবস্থান করাই তাদের জন্য সঠিক কাজ।’ দীর্ঘকাল ধরে ভিনদেশী নারী-পুরুষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবনযাপনে অভ্যস্ত সৌদি সমাজে কর্মরত পুরুষ ও নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য সৌদি সরকার যে ব্যাপক আকারের প্রকল্প গ্রহণ করেছে তারই একটি অংশ সৌদি নারীদের গৃহের বাইরে কর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সৌদি সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডের ‘কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট’কে তালিকাভুক্ত করেছে সৌদি সরকারকে পরামর্শ দানের জন্য।

 

সৌদি সরকারের কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বহু সৌদি নারী আসলেই গৃহের বাইরে কাজ করতে আগ্রহী। ব্যাচেলর ডিগ্রিপ্রাপ্ত সৌদি নারীদের এক-তৃতীয়াংশ চাকরি খুঁজে পাচ্ছে না। সৌদি সরকারের প্রকল্পের অন্যতম প্রধান রোহিনী পান্ডে বলেন, ‘কেনেডি স্কুল’ এবং সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখছে ‘রিটেইল’ চাকরিতে সৌদি নারীদের তাদের যোগ্যতানুযায়ী কর্ম জোগাড়ে যেসব সমস্যা রয়েছে তা কিভাবে অপসারণ করা যায়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কিছু বিশিষ্ট অধ্যাপিকা সৌদি সরকারের সাথে যৌথভাবে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সৌদি নারীরা তাদের যোগ্যতানুযায়ী কর্ম গ্রহণ করার পথে যেসব বাধার সম্মুখীন হয় তা অপসারণে তাদের সহায়তা করার জন্য। সৌদি সমাজ অতি রণশীল এবং নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এমন কঠোর যে, সৌদি নারীদের গাড়ি ড্রাইভ করার অনুমতি দেয়া হয় না। সমাজের এমন রণশীলতা এবং নারীদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবেশের সাথে কিভাবে মানিয়ে নিয়ে সৌদি নারীদের গৃহের বাইরে কর্মে নিয়োগ করা যায় তার উপায় উদ্ভাবন করছেন এসব পাশ্চাত্যের উচ্চ শিাবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা। এদের অন্যতম হার্ভার্ডের অধ্যাপিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কডিয়া গোল্ডিন যখন সৌদি সরকারের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন তখন সৌদি নারীদের রেওয়াজ অনুযায়ী ‘আবায়া’ (শরীর সম্পূর্ণ আবৃত করে সৌদি নারীরা যে পোশাক পরে) পরে তার শরীরকে সম্পূর্ণভাবে আব্র“ আবৃত রাখেন।

 

কিন্তু যে জটিল বাধাটা প্রধান হয়ে উঠেছে তা হলো ‘রিটেইল’ কর্ম গ্রহণে সৌদি নারীদের অনীহা, কারণ তাদের ধারণা, এসব কর্ম শুধু বিদেশ থেকে আগত নারীরাই করে। আরেকটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে সৌদি নারীদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার কী ব্যবস্থা করা যায়।

 

এ সমস্যার সমাধানে সৌদি সরকার রিয়াদের একটি প্রধান শপিং মলে কর্মে যোগদানকারী সৌদি নারীদের আসা-যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি ভাড়ায় আংশিক ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু এ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করতে গেলে যে বিপুল অঙ্ক ব্যয় হবে তা হিসাব করে সৌদি সরকার পিছু হটেছে। এখন সৌদি সরকার ভাবছে পাবলিক বাস সার্ভিস চালু করবে কি না, অথবা শুধু নারীদের বহন করার জন্য বাস সার্ভিস চালু করা সম্ভব কি না।

 

পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, কর্মেেত্র সৌদি নারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় প্রবেশের ফলে সৌদি সমাজে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। কর্মেেত্র প্রভূত সংখ্যায় সৌদি নারীদের উপস্থিতি সৌদি সমাজে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। পাশাপাশি কর্মেেত্র বিদেশী নারীদের সংখ্যা লণীয়ভাবে কমে যাবে।

 

লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, কানাডা প্রবাসী

 

বিশ্ব অপরিণত শিশু দিবস

শাহনাজ বেগম : আগাম জন্মের কারণে বা অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া শিশুরা সরচেয়ে বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকে। এক গবেষণায় দেখা যায়, সারাবিশ্বে প্রতিদিন তিন হাজারেরও বেশি শিশু মারা যায়।
প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগাম জন্ম বা মাতৃগর্ভে ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ করার আগে জন্মগ্রহণ করার ফলে শিশুদের শরীরে যেসব জটিলতা তৈরি হয়, তাতে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশু মারা যায়। গত ১৭ নভেম্বরকে ‘বিশ্ব অপরিণত শিশু দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

২০১৩ সালে সারা পৃথিবীতে পাঁচ বছরের কমবয়সী প্রায় ৬৩ লাখ শিশু মারা গেছে, যাদের মধ্যে ১১ লাখ আগাম জন্ম সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং জন্সহপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের একটি গবেষণা দল যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। নতুন এই গবেষণায় বলা হচ্ছে, ২০১৩ সালে সারা পৃথিবীতে আগাম জন্মের ফলে সৃষ্ট জটিলতায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুমৃত্যু ঘটে জন্মের প্রথম আটাশ দিনের মধ্যেই।
ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিওনাটলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে মোট শিশুমৃত্যুর শতকরা ৪৫ শতাংশই হয় এ সংক্রান্ত জটিলতায়। কয়েকটি উন্নত দেশেও আগাম জন্ম সংক্রান্ত জটিলতাই শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অনুন্নত দেশগুলোতে জীবাণু সংক্রমণসহ নানা কারণে শিশুমৃত্যু হলেও উন্নত দেশগুলোতে শিশুমৃত্যু হয় মূলত আগাম জন্মের কারণেই।
গবেষকরা শিশু মৃত্যুর অন্যান্য প্রধান কারণগুলোর মধ্যে নিউমোনিয়া, জন্মের সময়ে এবং তার পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতাকে চিহ্নিত করেছেন। আগাম জন্ম জটিলতায় প্রতিবছর পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুমৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয় ভারতে। দেশটিতে বছরে গড়ে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি এমন শিশু মারা যায়। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। বাংলাদেশেও আগাম জন্ম সংক্রান্ত জটিলতাই এখন শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ।
এ সংক্রান্ত জটিলতার ফলে শিশুমৃত্যুর শতকরা হারের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে মেসিডোনিয়া, যেখানে শিশুমৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি ঘটে আগাম জন্ম নেয়া শিশুদের ক্ষেত্রে। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে স্লোভেনিয়া, ডেনমার্ক, সার্বিয়া, যুক্তরাজ্য এবং হাঙ্গেরি।

-সূত্রঃ ইনকিলাব।

 

মায়েদের সচেতনতাই পারে শিশুকে সুন্দর জীবনের হাসি হাসতে

 

যশোর থেকে হাসান সোহেল : পাপিয়া আক্তারের (৩০) দ্বিতীয় সন্তান রীতার বয়স ৫ মাস। এ পর্যন্ত তিনি রীতাকে বুকের দুধ ব্যতীত পানিও খাওয়াননি। পাপিয়া জানান, তার প্রথম সন্তান ঋত্মিকের জন্মের পর এ সব নিয়ম মানেননি। বুকের দুধও ঠিক মত হয়নি। তাই জন্মের কয়েকমাসের মধ্যেই গরুর দুধ খাওয়াতেন। এতে তার প্রথম সন্তানের সব সময়ই অসুখ লেগে থাকতো। ওজনও তেমনি বাড়েনি। স্বাস্থ্য কর্মীদের সহায়তায় রীতা গর্ভে থাকা অবস্থা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সব ধরনের নিয়ম মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলছেন। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় অনেক খুশি বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অন্যান্য শিশুদের চেয়ে তার শিশু অনেক সুস্থ। কীভাবে সুস্থতা বোঝা যায়, জানতে চাইলে তিনি জানান, দিনে ৬ বারের বেশি প্রসাব, হাসি-খুশি এবং শান্ত থাকা। একই সঙ্গে শিশু জন্মের কিছু সময় পর শাল দুধ খাওয়ানোসহ কিছু নিয়ম মেনে চলায়ই স্বাভাবিকভাবে বুকের দুধ আসে। যা তাকে প্রথম সন্তান জন্মের পর পর করানো হয়নি।
কথা হয় একই এলাকার গর্ভবতী সাবিনা ইয়াসমিনের (৩২) সঙ্গে। তিনি জানান, বর্তমানে গর্ভকালীন শিশুর ৭ মাস চলছে। তিনি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী খাবার, দুপুরে খাবারের পর বিশ্রামসহ নিয়মিত যা করা দরকার অনাগত সন্তানের জন্য তার সবই করছেন। একই সঙ্গে শারীরিকভাবে তিনি সুস্থ আছেন বলে উল্লেখ করেন।
১১ দিন বয়সের শিশু আহ্নিকার মা কুলসুম বেগম (২৫) জানান, দ্বিতীয় সন্তান আহ্নিকার জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত বুকের দুধ সঠিকভাবে খাওয়াচ্ছেন। শিশুও সুস্থ।
বিউটি আক্তার ও ফারুক হোসেন দম্পতির সন্তান সাইম ফারদিনের বয়স ১০ মাস। বর্তমানে শিশুকে দিনে ৩ বার বুকের দুধের পাশাপাশি ভাত, মাছ, মাংস, ডিমসহ প্রাণীজ খাবার খাওয়ানো হয়। বাইরের কোন খাবার খাওয়ান না বলে জানান। তিনি জানান, জন্মের পর থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ খাইয়েছেন। এখন পর্যন্ত শিশু সুস্থ। ওজনও স্বাভাবিক।

এভাবেই পুরো শার্শা উপজেলায় শিশুদের পুষ্টির ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। এলাকায় ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী এবং সেবিকাদের সহায়তায় গর্ভবতী নারী এবং মায়েরা জানেন শিশু জন্মের আগে এবং পরে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে ও শিশুর সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিজেরাই ভূমিকা পালন করছেন। শুধু শার্মা নয়; সরকারি, বেসরকারি ও অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টি নিরসনে সমন্বিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, মা ও নবজাতকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ গর্ভবতী মা’কে কমপক্ষে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং এ সময়ে মায়েদেরকে চারবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
শার্শা উপজেলায় পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্র্যাকের পুষ্টি প্রকল্পের কর্মসূচি সমন্বয়ক ফায়জুল হাসান বলেন, এই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পুষ্টি উন্নয়ন কার্যক্রম বেশ ভালো। একসময়ে এই এলাকায় বিকল্প শিশুখাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অপতৎপরতা বিদ্যমান ছিল। ওদের প্ররোচনায় শিশুর জন্মের পর বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে কোন ধরনের নিয়ম মানা হত না। মায়ের দুধের পরিবর্তে বিকল্প শিশুখাদ্য খাওয়ানো হতো। ৩ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার এই উপজেলায় ব্র্যাকের ৩২ জন স্বাস্থ্য কর্মী, ২৬৩ জন সেবিকা এবং সরকারি পর্যায়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। যাদের নির্দেশনায় এখন শিশুদের পুষ্টির ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এলাকার মায়েরাও অনেক সচেতন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

image_153486
পুষ্টি সম্পর্কিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর পুষ্টিমান ধরে রাখতে গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রয়োজন অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান যা শিশুর ভ্রুণের মস্তিষ্ক, হাড় ও অঙ্গ-প্রতঙ্গ গঠন ও বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে জন্মের পর একটি শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের অন্যতম মাধ্যম ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো। পরে শিশুর বয়স ৬মাস পূর্ণ হলে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে উঠার জন্য মায়ের দুধের পাশাপাশি সুষম বাড়তি খাবার প্রদান করা। গবেষণায় আরও ওঠে এসেছে, অপুষ্টির কারণে শিশুর জীবনের প্রথম ১০০ দিনের যে ক্ষতি হয় তা অপূরণীয়। এর ফলে মস্তিষ্কের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শিশুর বুদ্ধি কম হয়, লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ে। শারীরিক গঠন দুর্বল ও অপরিণত এবং পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শিশুর এই সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, মা ও শিশুদের অপুষ্টি  থেকে রক্ষায় পুষ্টিকে মূল ধারায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং পুষ্টি কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৩টি মন্ত্রণালয় পুষ্টি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এদের একত্র করে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটি ব্যাপকভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক প্রতিবেদনে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর অপুষ্টি, প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির তথ্য ওঠে এসেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিলসহ (ইউনিসেফ) বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বলছে, স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ উল্লেযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে শিশু ও মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৬৭ শতাংশ কমেছে।
যশোর জেলার সিভিল সার্জন ডা. আতিকুর রহমান খান বলেন, শিশুদের অপুষ্টির বিষয়ে গ্রামে গ্রামে বৈঠক করে দীর্ঘদিন থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে এখনো অনেক সচেতনতার অভাব রয়েছে। আমরা যতই মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করি শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো ততই চাতুর্য্যপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করছে। তাই এই সব কোম্পানির বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হতে হবে।
বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম কিউ কে তালুকদার মা ও শিশু অপুষ্টি রোধে প্রাথমিক ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে শিশুদের ৬ মাস বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ৬ মাস পর থেকে শিশুদের ঘরে তৈরি সুষম খাবার দিতে হবে। একই সঙ্গে মা ও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর খাবারের ব্যাপারে নজরদারি রাখতে হবে। এটা করতে পারলেই সুস্থ-সুন্দর প্রজন্ম তৈরি হবে। তিনি বলেন, মায়ের দুধ শিশুদের সুন্দরভাবে, সুস্থ হিসেবে গড়ে তোলার একমাত্র খাবার। মায়ের দুধের বিকল্প আল্লাহ সৃষ্টি করেননি। তাই এর গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে বেশি করে বোঝাতে হবে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রাইসুল হক বলেন, পুষ্টি কার্যক্রমে অনেক সফলতা এসেছে। এরপরও এ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে হবে। এছাড়াও তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মা’দের পৃথকভাবে কাউন্সিলিং করানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

 

 

প্রথম নারী সামরিক পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন অফিসার তামান্না ও নাইমা

 

অপরাজিতা ডেস্কঃ বাংলাদেশের প্রথম নারী সামরিক পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ফ্লাইং অফিসার তামান্না-ই-লুৎফী ও ফ্লাইট লে. নাইমা হক। বুধবার দুপুর সোয়া একটায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে সর্বশেষ স্লো টেস্টে সফলতা দেখিয়ে তারা এই স্বীকৃতি পান। পরে তারা দুজনেই একা একা ফ্লাইং করেও সফল হন। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এটি একটি মাইল ফলক। দেশে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নারী পাইলট থাকলেও সামরিক ক্ষেত্রে এর আগে কোন নারী এই স্বীকৃতি আর্জন করতে পারেননি।

স্বীকৃতি আর্জনের পর তামান্না ও নাইমা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই আর্জনে আমরা খুবই আনন্দিত। দেশের প্রথম সামরিক নারী বৈমানিক হতে পেরে অনেক ভাল লাগছে। ঝুকিপূর্ণ হলেও দেশে জন্য আনন্দচিত্তে আমরা এই কাজ করব। দেশের যেকোন দুর্যোগে আমরা এগিয়ে যাব।
তারা আরো বলেন, আমাদের এই অর্জন শুধু সামরিক বাহিনীর নয়, পুরো দেশের, নারী সমাজের। আমরা আশা করবো আমাদের এই অর্জনে অন্য নারীরাও অনুপ্রানিত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, এয়ার কমোডর সাঈদ, এয়ার কমোডর হাসান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন হাবিবুর রহমান, তামান্নার প্রশিক্ষক উইং কমান্ডার আসিফ ও নাইমার প্রশিক্ষক স্কোয়াড্রন লিডার আবুল বাসার।

সূত্র- ইত্তেফাক

 

সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বগুড়ার তামান্না

 

অপরাজিতা ডেস্কঃ দিনাজপুর থেকে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে ইংরেজিতে অনার্স পড়তেন তাজরীন তামান্না ইসলাম। সেখানেই তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী ব্যবসায়িক কাজে সারা দিন বাইরে থাকতেন। সে সময় অনলাইনে চোখে পড়ে অনলাইনভিত্তিক বুটিক হাউস, ডিজাইন ও হ্যান্ডিক্রাফটসের সাইটে। এখান থেকে ডিজাইন শিখতে থাকেন। বাজার থেকে কাপড় কিনে নিজের মতো ডিজাইন ও হাতের কাজ শুরু করেন। এতে প্রতিবেশীদের প্রশংসা পেলেন। উৎসাহ বাড়ল।
তাজরীন তামান্না বলেন, ‘২০০৭ সালে ৫০ হাজার টাকা আর আটজন কর্মী নিয়ে বুটিকের কাজ শুরু করি। শুরুতে শুধু ডিজাইন করতাম। কর্মীরা আমার করা ডিজাইনের ওপর হাতের কাজ করতেন। ডিজাইন করা পোশাক বাসা থেকেই বিক্রি হতো।’
তামান্না প্রথম দিকে থ্রি-পিস, বিছানার চাদর, শাড়ি, কুশন কভার, জানালার পর্দা ডিজাইন করে বিক্রি করতেন। ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বেড়ে যাওয়ায় বাসার নিচতলায় একটা বুটিক শপ খোলেন। নাম দেন ‘ট্রেন্ডি বগুড়া’। ২০১১ সালে ফেসবুকে ‘ট্রেন্ডি বগুড়া’ নামে একটি ফেসবুক পেজ (www.facebook.com/pages/Trendybogra/353733991387700?ref=br_rs) খোলেন।

10409137_763735990387496_103552542471618500_n10395191_765684353525993_4544214494424266631_n

 

তিনি বলেন, ‘ওই পেজে আমার ডিজাইন করা পণ্যের ছবি দামসহ আপলোড করতাম। অনলাইনে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর অর্ডার আসতে থাকল। এখন দেশে-বিদেশে প্রচুর ক্রেতা আমার।’ অনলাইনে নিয়মিত তিনি অর্ডার পাচ্ছেন বিদেশ থেকে। অর্ডার অনুযায়ী ইএমএসের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠান তিনি।
তামান্না জানান, বর্তমানে তাঁর বুটিক হাউসে প্রায় ৫০ জন নারী কর্মী কাজ করেন। আগামী দিনে বড় পরিসরে অনলাইন কেনাকাটার একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন তাঁর।

ভারতে পাচার হওয়া ৪৮ জন নারী দেশে ফিরেছেন।

অপরাজিতা ডেস্কঃ ভারতে বিভিন্ন সময় পাচার হওয়া ৪৮ জন নারী দেশে ফিরেছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের অভিবাসন ব্যুরোর কর্মকর্তারা বেনাপোল অভিবাসন পুলিশের কাছে তাঁদের হস্থান্তর করেন।
আরও অন্তত ১৮০ জন নারী ভারতের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। তাঁদেরও দ্রুত দেশে ফেরত আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। স্বজনেরা এলেই তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক জানান, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারী চক্র ওই নারীদের দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ভারতে নিয়ে যায়। তাঁদের বেশির ভাগই আগে তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে যাওয়ার পর পাচারকারীরা তাঁদের অসম্মানজনক পেশায় জড়িত হতে বাধ্য করে। একসময় তাঁরা ভারতের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পরে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা রেসকিউ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা তাঁদের নিজেদের আশ্রয়ে নেন।

বেনাপোল অভিবাসন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি করে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

 

শীতের সবজির মজাদার রেসিপি

সবজির কোরমা

সবজির ন’রতন কোরমা
উপকরণ: ফুলকপি, আলু, গাজর, মাশরুম, টমেটো, ফ্রেঞ্চ বিন বা বরবটি, পেঁপে, ক্যাপসিকাম, পুঁই অথবা পালংপাতা। পছন্দের নানা রকম সবজি আধা কাপ করে হালকা সেদ্ধ করে ঠান্ডা (বরফ) পানিতে ধুয়ে নিন। কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, চিনি ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, ঘি ও তেল প্রয়োজনমতো। (পছন্দমতো যেকোনো সবজি দেওয়া যায়)।
কোরমা পেস্ট তৈরি: টক দই ১ কাপ, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, ভাজা রসুন ১টা, চামচ, আদা কুচি ভাজা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা-চামচ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদা ঘি দিয়ে ভেজে নিতে হবে। এবার সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে কোরমা পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে।
প্রণালি: কড়াই চুলায় দিয়ে তাতে ঘি ও তেল দিন। তেল গরম হলে কোরমা পেস্ট দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে সবজিগুলো দিয়ে কষিয়ে নিন। আধা কাপ গরম পানি দিয়ে কাঁচা মরিচ, লবণ ও চিনি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন ন’রতন কোরমা।

f4a4196f02392aa0d07a2ebcf20db61f-22

পুরভরা শিম
উপকরণ: শিম ১০-১২টি, পেঁয়াজ বাটা ২ চা-চামচ, রসুন বাটা আধা চা-চামচ, জিরা বাটা আধা চা-চামচ, নারকেল বাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো।
প্রণািল: শিম হালকা সেদ্ধ করে নিন। শিমের মধ্যে পুর ভরে দিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ, রসুন, জিরা, নারকেল, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া দিয়ে একটু কষিয়ে নিন। তাতে ১ কাপ পানি দিয়ে দিন। পানি ফুটে ঝোল ঘন হয়ে এলে পুরভরা শিম দিন।। কিছুক্ষণ চুলায় রেখে নামিয়ে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
পুর তৈরি: চিংড়ি মাছ কুচি ২ টেবিল চামচ, নারকেল বাটা ২ টেবিল চামচ, সরিষা বাটা সামান্য, কাঁচা মরিচ মিহি কুচি ২টি, পেঁয়াজ মিহি কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। সব উপকরণ ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে ভেজে পুর তৈরি করে ঠান্ডা করে নিতে হবে।

রেসিপি- শাহানা পারভিন।

 

এমবিএম- ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোর্স

 

বাংলাদেশে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাংকিং ডিগ্রি দেওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। বিআইবিএম থেকে ব্যাংকিংয়ের জন্য রয়েছে মাস্টার্স অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (এমবিএম) নামের দুই বছর মেয়াদি বিশেষায়িত কোর্স। এ পর্যন্ত বিআইবিএম থেকে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
কোর্সের সুবিধা: এমবিএম-এর শিক্ষা পদ্ধতি বহুলাংশে প্রায়োগিক হওয়ায় এর শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিংয়ে দক্ষ হওয়ার সুযোগ বেশি পান। এ ছাড়া তাঁরা ব্যাংকিং খাতের দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পান।
যা থাকছে কোর্সটিতে: এমবিএম দিবা (ডে) প্রোগ্রামের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে দুই বছরে মোট ২০টি বিষয়ে ৬৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে কোর্স ওয়ার্ক, প্রজেক্ট পেপার ও মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। চার মাস মেয়াদি মোট ছয়টি টার্মে এই কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীদের কোর্সের মেয়াদ দুই বছর আট মাস। ইভিনিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের চার মাস মেয়াদি মোট আটটি টার্মে কোর্সটি সম্পন্ন করতে হয়।
ভর্তির যোগ্যতা: এমবিএম কোর্সে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে কমপক্ষে স্নাতক হতে হয়। তবে ভর্তির আবেদনের জন্য শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে একটি প্রথম বিভাগ থাকতে হবে এবং কোনো তৃতীয় বিভাগ থাকলে হবে না।
আবেদনের পদ্ধতি: বছরে দুবার এমবিএম প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। আগস্টে শুরু হয় সান্ধ্য প্রোগ্রাম এবং জানুয়ারিতে দিবা প্রোগ্রাম। দিবা প্রোগ্রামের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে এবং সান্ধ্য প্রোগ্রামের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় এপ্রিল থেকে। এই কোর্সে ভর্তির জন্য বিআইবিএম অফিস থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে আবেদন ফরম কিনে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করে জমা দিতে হয়।
ভর্তি পদ্ধতি: ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীকে দেড় ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই পরীক্ষার মধ্যে ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকে এমসিকিউ বা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর করার জন্য এবং ৬০ মিনিটের মধ্যে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। নৈর্ব্যক্তিক অংশের প্রশ্ন করা হয় ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি এবং ম্যাথমেটিক্যাল অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটির বিভিন্ন অংশ থেকে আর লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর ইংরেজি লেখার ওপর দক্ষতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ভর্তি পরীক্ষা থেকে প্রথম ২০০ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে প্রথম ৫০ জন ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।
খরচ: এই কোর্সের জন্য একজন শিক্ষার্থীর মোট খরচ পড়বে প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ও খাওয়া বাবদ আরও বেশি লাগবে, দৈনিক প্রায় ৩৫০ টাকা।
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ব্যাংক অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট
মিরপুর-২, ঢাকা-১২১৬
ফোন নম্বর-৯০০৩০৩১-৩৫ ওয়েবসাইট-www.bibm.org.bd

 

বুদ্ধিজীবী বাবার সন্তানদের কথা…

 

”বাবা ডাকতে পারিনি এটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়” নাহিদ গুলশান সোমা বাবা ক্যাপ্টেন শফিকুল আনোয়ার ছিলেন পিআইএ’র প্রকৌশলী। তার পোস্টিং ছিল ঢাকায়। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর তিনি আর চাকরিতে ফিরে যাননি। তিনি বলেছিলেন, এই পাকিস্তানিদের সঙ্গে আর নয়। স্বাধীন দেশে নিজস্ব এয়ারলাইনস গড়ে তুলব। যতদিন তা দাঁড় করতে না পারব ততদিন বিনা বেতনে কাজ করব।

বাবা বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাসায় বন্ধুদের নিয়ে গোপন মিটিং করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল। বাবা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে একপর্যায়ে ফেনীর লেমুয়াতে নানু বাড়িতে নিয়ে যান।সে সময়ে লেমুয়া গ্রামে প্রতি সপ্তাহে একদিন হাট বসত। অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার, হাটবার। বাবা হাটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি শুনতে পান মুক্তিযোদ্ধার একটি দল হাটে আসছে। লেমুয়া বাজারের কাছে কালিদহ আর্মি ক্যাম্প ছিল। পাক আর্মি এবং রাজাকাররা হাটে এসে গোলাগুলি শুরু করে। বাবা গোলাগুলির শব্দে লেমুয়া বাজার থেকে বের হওয়ার জন্য ছুটতে থাকেন। পেছন থেকে পাকসেনারা তাকে গুলি করে। গোলাগুলির পরেই এলাকায় কারফিউ দেয়া হয়। ঘর থেকে কেউ বের হতে পারেনি সেদিন। পরের দিন ধানক্ষেতে বাবার উপুড় হওয়া লাশ পাওয়া যায়। আমার বয়স তখন ১৩ দিন। আমাদের চার ভাই-বোনকে নিয়ে শুরু হল আমার মায়ের আরেক যুদ্ধ। পরিবারকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। আমাদের মানুষ করার জন্য গৃহিণী থেকে বাংলাদেশ বিমানে যোগদান করেন। চাকরি করে চার সন্তান মানুষ করলেন।আমি কখনও বাবা ডাকতে পারিনি। বাবার ভালোবাসা কেমন হয় অনুভব করতে পারিনি। এটা ভীষণ কষ্ট দেয় আমাকে। যদিও মা আমাদের বাবা-মা উভয়ের দায়িত্বই পালন করেছেন। বাবার পেশা প্রকৌশলী হওয়ায় জীবনযাপনের ধরনও ছিল উন্নতমানের। তার মৃত্যুর পর সেই জীবনযাপনে সন্তানদের মানুষ করা মায়ের জন্য ছিল কষ্টকর। ফলে বাবার অপূরণে সবকিছু পাল্টে যায়। কিন্তু মা আমাদের ভাই-বোনদের কষ্ট দেননি।

মা বড় মেয়েকে ব্যবসায়ী, বড় ছেলেকে প্রকৌশলী, মেজ মেয়েকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এম.কম করিয়েছেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত ও নাট্যকলা বিভাগ থেকে এমএ করি। স্বামী, এক মেয়ে নিয়েই আমার সংসার। মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ওকে আমি মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাই। মায়ের মুখে শোনা আমার বাবার কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা। ও অবাক হয়ে শোনে।

বাবার মৃত্যু খবর শুনে মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন সখিনা খন্দকার দীপু আমার বাবা খন্দকার আবু তালেবের গল্পগ্রন্থ ‘কাগজের মানুষ’। তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও আইনজীবী। শখের বশে গল্প লিখতেন। মিরপুরে ১০ নম্বরের বাড়িটা আব্বা সবেমাত্র করেছেন। পুরো এলাকাটা ছিল বিহারি এলাকা। মার্চ মাস থেকেই মিরপুর এলাকার বিহারিরা বাঙালিদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। আব্বা আমাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে মা’সহ আমাদের তিন ভাই-বোনকে ২৪ মার্চ রাজারবাগ ফুফুর বাড়িতে রেখে আসেন। বড় ভাই খন্দকার আবুল হাসান আইএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমি মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে আমি ছোট। বাবা ফুফুর বাড়ি যান ২৫ মার্চ। ২৯ মার্চ বাবা মিরপুরে আসেন। বাবার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি, তার ক্ষতিও কেউ করতে পারবে না।

২৯ মার্চ কাদের মোল্লার লোকজন মিরপুর থেকে বাবাকে ধরে জল্লাদখানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করে। বাবাকে যে কেউ মারতে পারে এটা তার ধারণার বাইরে ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা সত্যি হল না। বাবার কোনো খোঁজ নেই। আমরা বাবার খোঁজ পেতে হন্যে হয়ে খুঁজছি। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন বিহারি। ড্রাইভারের কাছে সংবাদ পাই বাবাকে হত্যা করেছে। বাবার মৃত্যু খবর শুনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মা। বাবার মৃত্যুশোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বড় ভাই মা, ভাই-বোনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। পয়সার অভাবে মায়ের সুচিকিৎসা করাতে পারেননি। কিন্তু সন্তানের মতো দেখাশোনা করেছেন। তখন চালের দাম ছিল চড়া। একবেলা ভাত খেলে আরেক বেলা রুটি খেয়েছি। বিহারিরা আমাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ঘরের দরজা-জানালা সব পুড়ে যায়। তারা ভাবেনি নয় মাসে দেশ স্বাধীন হবে। আমাদের প্রতিটি ঘরে গর্ত করে বিহারিরা বেনারসির তাঁত বসায়।

১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু মিরপুরে নিজের বাড়িতে আসতে পারিনি আমরা। তখনও হানাদাররা মিরপুর দখল করে রেখেছে। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি মিরপুর হানাদারমুক্ত হয়। বাবা খুব রসিক, মিশুক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। লেখাপড়া খুব পছন্দ করতেন। আমাদের সময় দিতেন। বাবার স্মৃতি আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বাবার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো। সেই ছোট্ট বয়সেই এলাকার লোকজন আমাকে চিনতেন। বাবা বলতেন, তোকে নির্বাচনে দাঁড় করালে জিতে যাবি।

সূত্র- যুগান্তর। আলোকচিত্রী ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য ও তানভীর ফেরদৌস।

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্মারকগুলো চিহ্নিত হবে কবে?

রাত পোহালেই ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর সে সময়কার রেসকোর্স ময়দানে (এখনকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল হানাদার পাকিস্তানি সেনারা।
কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঠিক কোন জায়গায় আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল তা অনেকেরই অজানা। উদ্যানে গিয়েও জায়গাটি খুঁজে পাওয়ার কোনো উপায় নেই। কারণ সেই নির্দিষ্ট স্থানটির কোনো চিহ্ন বা স্মারক নেই।
অথচ ওই জায়গাটি চিহ্নিত করতে চার বছর আগে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। পাশাপাশি ওই অংশটিকে ‘স্বাধীনতা উদ্যান বা লিবার্টি স্কয়ার’ করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
সোহরাওয়াদী উদ্যানের এই স্থান থেকেই  মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ডাক দেওয়া হয়েছিল। আজ ওই স্মারকটি দাঁড়িয়ে আছে এই অবস্থায়। ছবি: মনিরুল আলমরাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালের ২৫ জুন হাইকোর্টে রিট করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। ওই বছরের ৮ জুলাই আদালত রায় দেন এবং ২০১০ সালের জুলাই মাসে লিখিত রায় প্রকাশিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী ১৯৯৫ সালে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় স্তম্ভ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিন। সেটি পড়ে আছে এই অবস্থায় ছবি: মনিরুল আলমএ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কে এম সফিউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবকিছু করব করব করে ফেলা রাখা ঠিক না। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার জন্য আমরা এ কাজটি করতে চেয়েছিলাম। তা এখনো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অবশ্য প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, আত্মসমর্পণের জায়গাটিসহ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতটি ঐতিহাসিক স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো ফলক বা স্তম্ভ বসানো হয়নি। শিগগির এ কাজ শুরু হবে।
এই স্মারক স্তম্ভটিতে কী লেখা হয়েছিল তা এখন আর উদ্ধার করা সম্ভব না। শিশু পার্কের দেয়াল ঘেসে এভাবে অনাদরে, অবহেলায় পড়ে আছে। ছবি: মনিরুল আলমহাইকোর্টের ওই রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে জায়গায় বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন সেই জায়গা এবং ১৬ ডিসেম্বর যে জায়গায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল সে জায়গাসহ ঐতিহাসিক সাতটি স্থান চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, এখনো আদালতের ওই রায়ের বাস্তবায়ন হয়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সাতটি স্থান চিহ্নিত করার কথা বললেও উদ্যানে তার কোনো চিহ্ন নেই। বঙ্গবন্ধু ঠিক কোন জায়গায় ভাষণ দিয়েছিলেন, কোন জায়গায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল তা বোঝার উপায় নেই।
তবে শিখা চিরন্তনের উত্তর পাশে শিশুপার্কের সীমানার কাছাকাছি একটি স্তম্ভ দেখা যায়। তাতে লেখা আছে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ডাক, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ওই স্তম্ভটিও আছে অবহেলায়। শেওলা পড়ে গেছে, লেখাও অনেকটা মুছে গেছে। এর পশ্চিমে আরেকটি ছোট স্তম্ভ আছে। কিন্তু তাতে কী লেখা আছে, তা এখন উদ্ধার করা দুরূহ।
এ ছাড়া শিখা চিরন্তনের কিছু আগে আরেকটি স্তম্ভ আছে। তা হলো ‘বিজয় স্তম্ভ’। ১৯৯৫ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এখনো শুধু ভিত্তিপ্রস্তরটিই আছে।

 

কম খরচে হালের ফ্যাশন ‘কুর্তা ‘

24618-exclusive-black-short-sleeve-designer-kurtis-at-low-cost

বিপাশা রায়ঃ সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত বাইরে বেরোতে হয় যাঁদের, তাঁদের পক্ষে কী রোজ রোজ নতুন পোশাক পরা সম্ভব? নতুন পোশাক না হোক, নতুন একটা ভাব আনা তো খুবই সম্ভব। এমনই মনে করেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এ জন্য চাই কয়েক রকম কুর্তা আর তার সঙ্গে পরার জন্য পালাজ্জো বা লেগিংস। খুব বেশি খরচও পড়বে না, নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন নিজের বাজেটের মধ্যে কুর্তা। সে উপায় বাতলে দিয়েছেন ডিজাইনাররাই।

কয়েক বছর ধরে শুধু কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই ছিল কুর্তার জনপ্রিয়তা। তবে এখন অফিসে পরার পোশাক হিসেবেও মেয়েরা বেছে নিচ্ছেন কুর্তা। এর নকশাতেও এখন আসছে নানা পরিবর্তন। গলায় যোগ করা হচ্ছে লেস, কাটছাঁটে আছে ভিন্নতা।
নকশাটা যেমনই হোক না কেন সব সময় ব্যবহারের জন্য কুর্তার কাপড়টা সুতি হওয়াই ভালো বলে জানালেন অনলাইন পোশাকের দোকান ওয়ালীজের ডিজাইনার ওয়ালী উদ্দীন আহমেদ। এ ক্ষেত্রে আকািশ, সাদা, হালকা-সবুজ রংগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। কাপড়ের রংটা সাদা হলে গলা আর হাতায় লাগাতে পারেন কালো রঙের পাইপিং। পাইপিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারেন কালো রঙের বাটিক প্রিন্টের কাপড়, না হলে কালোর ওপর সোনালি রঙের সুতার কাজের লেস। কাপড়টা যদি প্রিন্টের হয় সে ক্ষেত্রে গলাটা হাইনেক রেখে সামনের দিকের বেশ কিছু অংশ কাটা রাখতে পারেন। কুর্তা বানানোর সময় আরও কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন হাতার পাইপিংয়ের দৈর্ঘ্য দেড় ইঞ্চি হলে এবং কুর্তার িনচের দিকে আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি পাইপিং লাগালে তা দেখতে ভালো দেখাবে। কুর্তার দুপাশের কাটা অংশ ১৮ ইঞ্চির কম এবং ঘেরটা হবে ৩৬ ইঞ্চি। এ ছাড়াও কুর্তার দৈর্ঘ্য ৩৪ ইঞ্চির বেশি না করার পরামর্শ দিলেন তিনি। থ্রি-কোয়ার্টার হাতায় কুর্তাটা সবাইকে বেশ মানিয়ে যায় বলেও জানালেন তিনি। অফিসে পরতে পারেন থ্রি-কোয়ার্টার হাতার কুর্তা।
তিনটি কুর্তা থাকলে সপ্তাহে কোনোদিন তা একরঙা লেগিংসের সঙ্গে পরতে পারেন, আবার কোনোদিন না হয় পরুন প্রিন্ট নকশার পালাজ্জোর সঙ্গে। ভিন্ন ভিন্ন স্কার্ফ বেঁধেও একই কুর্তাটি নানাভাবে পরতে পারেন।

68e2708b4ea31c976c39a9769fac90eb-17

 

এদিকে প্রতিদিনের কাজে যাঁদের বাইরে বের হতে হয়, তাঁদের জন্য বিবিয়ানার ডিজাইনার লিপি খন্দকারের পরামর্শ হলো, প্রতিটি কুর্তার জন্য আলাদা রং নয়, বরং একটি রঙের লেগিংস বা সালোয়ারের সঙ্গে পরতে পারবেন যেকোনো ধরনের কুর্তা। এ ক্ষেত্রে লেগিংস, জিনস বা পালাজ্জোর জন্য কালো বা হালকা সাদা রং বেছে নিন। মোটামুটি সব রঙের কুর্তার সঙ্গেই তাহলে মানিয়ে যাবে। সব ধরনের কুর্তার সঙ্গেই পরতে পারেন প্রিন্টের নকশার সিল্কের স্কার্ফ। এ ক্ষেত্রে শুধু মনের মতো নকশায় কুর্তাটি বানিয়ে নিলেই কম বাজেটের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার প্রতিদিনকার পোশাক।
কুর্তার সঙ্গে সাজগোজটা হালকা হলেই ভালো দেখাবে এমনটা জানালেন রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। যেমন যাঁদের চুল একটু লম্বা তাঁরা লেগিংসের সঙ্গে কুর্তা পরলে একটু উঁচু করে পনিটেল বেঁধে নিতে পারেন। পালাজ্জোর সঙ্গে খোলা রাখতে পারেন চুলগুলোকে।

begin101-womens-cream-kurti-300X420-5X7-2cfc4e5705ba4f2b8dfac1b356612743
কুর্তার বাজেট

ওয়ালী উদ্দীন আহমেদ জানালেন, সাধারণত কুর্তা বানাতে দেড় থেকে আড়াই গজ কাপড় লাগবে। এ ক্ষেত্রে বহর তিন হাত হলে কাপড় লাগবে দেড় গজ আবার বহর যদি আড়াই হাত হয় তাহলে সোয়া দুই গজ কাপড় দিয়েই বানাতে পারেন কুর্তা। ঢাকার চাঁদনী চক ও ইসলামপুরের কাপড়ের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেল, সুতির ওপর ছাপা নকশার কাপড়ের দাম পড়বে গজপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। হাতে বোনা তাঁতের কাপড় পাবেন গজপ্রতি ১২০ টাকায়। আর ৭০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে মিলবে এক রঙা কাপড়। পাইপিং লাগাতে কলারের জন্য লেস বা রিবন লাগবে ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চি। হাতার জন্য লাগবে ১০ ইঞ্চি লেস। নকশার ওপর নির্ভর করবে এই লেসের দাম। আর কুর্তা বানানোর মজুরিটা এলাকাভেদে পড়বে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা। তবে পাড়ার বা স্থানীয় কোনো দোকানে বানালে ১২০ টাকার মধ্যেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন আপনার পছন্দের কুর্তাটি।

 

একাত্তরের নাটক বীরাঙ্গনা: দ্য উইম্যান অব ওয়ার

অপরাজিতা ডেস্কঃ সময় ১৯৭১। মরিয়মরা থাকে ছোট্ট একটা গ্রামে। পাক হানাদারদের ভয়ে সারাক্ষণ তটস্থ থাকতে হয় তাদের। রাতেরবেলা তারা লুকিয়ে থাকে বাড়ির পেছনের পুকুরে। একদিন সত্যি হয় মরিয়মের আশঙ্কা। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যায় মরিয়ম। তারপর কী ঘটল মরিয়মের জীবনে?

একাত্তরের সেই বীরাঙ্গনার গল্প নিয়ে নাটক বীরাঙ্গনা: দ্য উইম্যান অব ওয়ার। নাটকটি ঢাকায় মঞ্চস্থ করবে লন্ডনভিত্তিক সাংস্কৃতিক দল কমলা কালেক্টিভ। সব ঠিক থাকলে, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হবে এর প্রথম মঞ্চায়ন। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাটকটি চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানেও প্রদর্শিত হওয়ার কথা।
‘ক্ষ’ ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী সোহিনী আলম, অভিনেত্রী লীসা গাজী, ফিলিজ ওজজান ও ক্যাটলিন অ্যাবোট—চার বন্ধু মিলে ২০১২ সালে ইংল্যান্ডে শুরু করেন সাংস্কৃতিক দল কমলা কালেক্টিভ।

বীরাঙ্গনা: দ্য উইম্যান অব ওয়ার মঞ্চায়নের জন্য দলটি এখন অবস্থান করছে ঢাকায়। দলের সদস্য সোহিনী আলম জানান, বাংলা ভাষায় কমলা কালেক্টিভের এটি প্রথম প্রযোজনা। কমলা কালেক্টিভ শুরু করার পর ওই বছরই লীসা গাজী আসেন বাংলাদেশে। সিরাজগঞ্জে গিয়ে কথা বলেন কয়েকজন বীরাঙ্গনার সঙ্গে। বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিয়ে তৈরি করা হয় ছোট ছোট ভিডিওচিত্র, যা যুক্ত করা হয় নাটকটির সঙ্গে। এর আগে ইংরেজি ভাষায় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এটি মঞ্চস্থ হয়। সেখানে মঞ্চায়নের পর বেশ প্রশংসিত হয় বীরাঙ্গনা। মনোনীত হয় ইংল্যান্ডের দ্য অফ ওয়েস্ট অ্যান্ড থিয়েটার অ্যাওয়ার্ডের জন্য।
বীরাঙ্গনা নাটকটি রচনা করেছেন সামিনা লুত্ফা ও লীসা গাজী। রচনার পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করেছেন লীসা গাজী। সঙ্গে থাকবেন অমিথ রহমান। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ফিলিজ ওজজান। নাটকের সংগীতায়োজনে রয়েছেন আহসান রেজা খান। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সোহিনী আলম।

 

মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৪ হলেন সাউথ আফ্রিকার রোলেন স্ট্রাউস

অপরাজিতা ডেস্কঃ এবার বিশ্ব সুন্দরীদের মধ্য থেকে মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৪ এর সেরার মুকুট মাথায় পরলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রোলেনে স্ট্রাউস। লন্ডনের স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে সেরা পাঁচের চারজনকে টপকে জয়ী হন তিনি। গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড ফিলিপাইনের সুন্দরী মেগান ইয়ং তাকে মুকুট পরিয়ে দেন।
রোলেনে স্ট্রাউস এবার ১২১ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব লাভ করেছেন। প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছেন হাঙ্গেরির এডিনা ক‍ল্কজার এবং তৃতীয় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুন্দরী এলিজাবেথ সাফরিট।
মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৪ এর টপ পাঁচে ছিলেন : হাঙ্গেরির এডিন কুল্কজার, অস্ট্রেলিয়ার কোর্টনি থর্প, দক্ষিণ আফ্রিকা রোলেনে স্ট্রাউস, যুক্তরাষ্ট্রের এলিজাবেথ সাফরিট এবং ইংল্যান্ডের কারিনা টাইরেল। তবে মালয়েশিয়ার তরুণী দেওয়ি লায়ানা সেরিয়েস্থা দর্শক ভোটে সরাসরি সেরা ছয়-এ স্থান করে নিয়েছেন।
এদিকে সেমিফাইনালে শীর্ষে থাকলেও টপ পাঁচ থেকে বাদ পড়েন এবারের মিস ওয়ার্ল্ডে অংশ নেওয়া ভারতের প্রতিযোগী কোয়েল রানা। তবে ‘বিউটি উইথ এ পারপাজ’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন এই ভারতীয় সুন্দরী।

অনলাইন টিভি চ্যানেল ‘পপকর্ন লাইভের’ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু

আজ থেকে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করছে বিনোদনভিত্তিক অনলাইন টিভি চ্যানেল পপকর্ন লাইভ।www.popcornlive.tv তে গিয়ে কম্পিউটার, আইপ্যাড, ট্যাবসহ যেকোনো স্মার্টফোন থেকে দেখা যাবে এই চ্যানেলের অনুষ্ঠান।
পপকর্ন লাইভের অন্যতম উদ্যেক্তা নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘খুব শিগগির আমরা পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারে যাব। এটি পুরোপুরি একটি বিনোদনভিত্তিক চ্যানেল হবে। অনলাইন ব্যবহারকারীদের উপযোগী করে আমরা সব অনুষ্ঠান সাজাচ্ছি।’
রনি জানান, অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি এখানে আর্কাইভের ব্যবস্থাও থাকবে।
www.popcornlive.tv তে প্রচারিত শুভেচ্ছাবার্তায় অভিনেতা সাজু খাদেম বলেন, ‘বিনোদনজগৎকে ঘিরে আমাদের যেই প্রত্যাশা অপূর্ণ ছিল, আশা করছি পপকর্ন লাইভের মাধ্যমে তার কিছুটা হলেও পূরণ হবে।’ অভিনেত্রী জেনি বলেছেন, ‘আমরা যারা বিজ্ঞাপন ছাড়া টিভি দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, তাদের জন্য অনেক ভালো একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে পপকর্ন লাইভ টিভি।’
পপকর্ন লাইভের অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকবে নতুন টিভি ধারাবাহিক, সালমান শো, কমেডি শো মিস্টার মিসফিট, মিউজিক প্রোগ্রাম আন্ডারগ্রাউন্ড লেভেল ৬ ইত্যাদি।

শীতে গরম গরম মাশরুম আর টমেটো ক্রিম স্যুপ

1406100274মাশরুম স্যুপ
উপকরণ: মাশরুম ১০০ গ্রাম, কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ২টি, সিরকা ১ চা-চামচ, স্বাদলবণ সিকি চা-চামচ, সয়াসস ১ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, ডিম ১টি, মুরগির স্টক ৮ কাপ।
প্রণালি: মাশরুম হালকা গরম পানিতে ধুয়ে কুচি করে নিন। সসপ্যানে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি ও মাশরুম কুচি দিয়ে নাড়তে হবে। সব উপকরণ নরম হয়ে গেলে তাতে সয়াসস দিতে হবে। এরপর স্টক দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। এবার ১ কাপ ঠান্ডা পানিতে কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে স্যুপের মধ্যে ঢেলে চামচ দিয়ে অনবরত নাড়তে হবে। ডিম ফেটিয়ে নিয়ে ফুটে ওঠা স্যুপের মধ্যে মিশিয়ে দিতে হবে। সব শেষে সিরকা ও স্বাদলবণ মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে।

টমেটো-স্যুপ

টমেটো ক্রিম স্যুপ
উপকরণ: টমেটো ৪টি, মুরগির স্টক ৫ কাপ, লবঙ্গ ৫টি, মাখন ১ টেবিল চামচ, ভাঁজ খোলা পেঁয়াজ ২টি, কাঁচা মরিচ ২টি, গোলমরিচ ১ চা-চামচ, চিনি ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, রসুন কুচি ১ চা-চামচ, ক্রিম ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: টমেটো সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। সসপ্যানে টমেটো পেস্ট ও মুরগির স্টক দিয়ে চুলায় দিতে হবে। ফুটে উঠলে অন্য সব উপকরণ দিয়ে আবার ফুটতে দিতে হবে। অন্য একটি ফ্রাইপ্যানে মাখন গরম করে তাতে রসুন কুচি দিতে হবে। হালকা বাদামি হলে স্যুপের ওপর ঢেলে দিতে হবে। গরম গরম ব্রেড টোস্টের সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে টমেটো ক্রিম স্যুপ।

সুত্র- রান্না-বান্না

 

আউটসোর্সিং এ অবদান রাখায় ১০ নারীকে সংবর্ধনা।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচি বৃত্তির আওতায় প্রায় ২০০ নারীকে গ্রাফিক ডিজাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে আউটসোর্সিংয়ে অবদান রাখায় ১০ নারীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও ক্রিয়েটিভ আইটি।

সংবর্ধনাপ্রাপ্তরা হলেন ফওজিয়া ইয়াসমিন, জিনিয়া সওদাগর, তানজিন আকতার, আমেনা আকতার, আয়েশা সিদ্দিকী, জুই সাহা, তানিয়া তাহমিনা, তিথি, নাইমা চৌধুরী ও শবনম ইয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ জানান, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের ৯ শতাংশ নারী। এই সংখ্যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম এবং ক্রিয়েটিভ আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র- কালের কন্ঠ।

 

গৃহসজ্জায় কার্পেটের ব্যবহার,প্রয়োজন সতর্কতা ।

বর্ষা বা গরমকালে দরকার না হলেও এই শীতে ঠান্ডা মেঝে ঢেকে রাখতে কার্পেটের তুলনা হয় না।

জন্ম সনদ পেলো যুদ্ধশিশু মনোয়ারা

শুধু ঘুম কম হওয়াটাই ক্লান্তির কারণ নয়…

শীতে ত্বকের যত্ন

winter-skin-care (1)
অপরাজিতাবিডি ডটকম: শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাস জানান দিচ্ছে, শীতের আগমন। ঋতু পরিবর্তনের কারণে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে এ সময় ত্বকের জন্য দরকার একটু বাড়তি যত্ন। ত্বক এসময় অনেকটা রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল হয়ে যেতে পারে এবং ত্বকে র্যা শ ও ব্রণের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এমনভাবে ত্বকের যত্ন প্রয়োজন যা ত্বককে উজ্জ্বল করবে এবং শীতের প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রসাধনী, প্রাকৃতিক উপাদান, খাবার সব দিক বিবেচনা করতে হবে। তবে এজন্য আমাদের অধিক সময় বা অর্থ কোনটারই দরকার নেই। একটু সচেতন হলেই এই শীতেও আপনার ত্বক থাকবে সজীব, সতেজ ও প্রাণবন্ত।

* শীতে গোসলের সময় অত্যধিক গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি ত্বকের তেল শোষণ করে ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। তাই এই শীতে গোসলের সময় ত্বকের জন্য সহনীয় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন।

* প্রতিদিন গোসলের আগে অয়েল ম্যাসাজ করতে পারেন। এক্ষেত্রে নারকেল তেল, বাদাম তেল (আমন্ড অয়েল), তিলের তেল বা যে কোনও ভালো মানের হারবাল তেল ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে অয়েল ম্যাসাজের আধ ঘণ্টা পর গোসল করুন, যাতে ত্বক তেলটুকু শোষণ করে নিতে পারে।

* পাকা কলা, পাকা পেঁপে, সয়াবিনের গুঁড়ো অথবা ময়দা পেস্ট করে মুখে লাগান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে টানটান ভাব আসবে।

* শীতে মুখ ধোয়ার ক্ষেত্রে সাবানের পরিবর্তে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার ব্যবহার করুন। দুধ, ময়দা এবং ঘিয়ের মিশ্রণ একটি ভালো ক্লিনজার যা আপনার ত্বককে আর্দ্রতা থেকে বাঁচাবে।

* ঠোঁট ফাটা থেকে রক্ষা পেতে রাতে ঘুমোতে যাবার আগে মধু এবং গ্লিসারিন একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান।

* শীতে চুলের দরকার বিশেষ যত্ন। সপ্তাহে একদিন হট অয়েল ট্রিটমেন্ট করুন। নারকেল তেল গরম করে স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ঘষুন। গরম পানিতে তোয়ালে ডুবিয়ে নিংড়ে নিন। তারপর তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে রাখুন। সহজে তেল চুলের গোড়ায় ঢুকে যাবে। পরের দিন শ্যাম্পু করে নিন।

* আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এ সময় খুশকি বাড়ে। খুশকি কমাতে লেবুর রস চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করতে পারেন। তেলের সঙ্গে আমলকি মিশিয়ে লাগান। বেশি কেমিক্যাল সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। হেনা, লেবুর রস, ডিম মিশিয়ে চুলে এক ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করে নিন।

* খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি এবং ফলমূল রাখুন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আর/এ/ডিসেম্বর২০১৪

 

কিশোরী নির্যাতন : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

নাছিমা আক্তার জলি : বর্তমানে কিশোরী নির্যাতন আমাদের সামাজিক, পারিবারিক এবং রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি এখন এমন এক স্বাভাবিকতায় রূপান্তরিত হয়েছে যে, এটি আমাদের চোখে ও মনে কোনো প্রতিক্রিয়াই তৈরি করে না। আমরা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন করি না, প্রতিবাদ করি না, কখনও গভীরভাবে ভাবিও না। সাম্প্রতিককালে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো খুললেই যে সকল তথ্য পাওয়া যায়, তা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কিশোরী নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কিশোরী নির্যাতনের ধরন বাড়ছে, বাড়ছে এর মাত্রাও। প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হওয়ার ঝুঁকি কিশোরীদের মনে এক গভীর নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিচ্ছে। ফলে কিশোরীর বাধাহীন মানসিক বিকাশ এক প্রকার অসম্ভব হয়ে উঠছে। তার পৃথিবী হয়ে আসছে সঙ্কুচিত। তার প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ক্রমশ দূরবর্তী করে তুলছে ‘উন্নয়ন, শান্তি ও সমতা’র অভিষ্ঠ লক্ষ্যকে।

02b33139078b975029239544d821fa1f

একজন কিশোরীর অস্তিত্ব যদি হুমকীর সম্মুখীন হয়, তার স্বাধীনতা যদি খণ্ডিত হয়, শারীরিক, মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ যদি ব্যাহত হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তার অমিত সম্ভবনার দ্বারগুলো রুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বাধাগ্রস্ত হয় জাতীয় উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়ন। এজন্যই প্রয়োজন কিশোরী নির্যাতনের কারণ ও ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যেনো সমাজে বিদ্যমান প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গী, সামাজিক ও পারিবারিক কুসংস্কারচ্ছন্নতা, ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ফলে উদ্ভূুত ঘৃণ্যতম কার্যক্রমগুলোর অবসান ঘটে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন নতুন কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও লক্ষণীয় বিষয় হলো, কিশোরী নির্যাতনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০০ সালে প্রকাশিত দক্ষিণ এশিয়ার মানব উন্নয়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থান তৃতীয়। অনেকের ধারণা, বর্তমানে এ বিষয়ে জরিপ পরিচালনা করা হলে, বিশ্বে নারী নির্যাতনে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশ হিসেবে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করবে বাংলাদেশ।

 

একটি দেশের সাধারণ মানুষের অসচেতনতা, শিক্ষার অভাব, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা সর্বোপরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অসচ্ছতা, দায়িত্বহীনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণে বাংলাদেশের কিশোরী নির্যাতনসহ নারী নির্যাতনের মাত্রা ও ধরন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিশেষত, কিশোরী মেয়েদের পথে ঘাটে উত্ত্যক্ত করা, বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব দেয়া, এসকল প্রস্তাবে রাজি না হলে এসিড নিক্ষেপ করা, ধর্ষণ করা, ধর্ষণের পর হত্যা করা ইত্যাদি ভয়বহ আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

জাতিসংঘের তথ্য মতে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ওপর তার পুরুষ সঙ্গীর শারীরিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। বিবাহিতা নারীদের শতকরা ৬০ ভাগ স্বামীর হাতে মার খায়। ইউনিসেফ-এর তথ্য মোতাবেক, ১৮ বছর বয়সের মধ্যে বাংলাদেশের শতকরা ৫০ ভাগ কিশোরী বিবাহিতা। অল্প বয়সে বিয়ে, প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, জড়তা ইত্যাদি কারণে প্রতিনিয়তই তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। ফলে কিশোরী বধূর ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবন হয়ে উঠে সংঘাতময় এবং সঙ্কটাপন্ন।

 

অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিশোরী নির্যাতন শুরু হয় পরিবার থেকে। পরিবার থেকে যেসকল নির্যাতন করা হয় সেগুলোকে অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে মনে করা হয়। এছাড়া তারা সামাজিক নির্যাতন এবং কোনো কোনো সময় রাষ্ট্রীয়ভাবেও তারা নির্যাতনের শিকার হয়। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন গবেষণা ও অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বেরিয়ে এসেছে যে, আমাদের দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কিশোরী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবারের নিকটতম আত্মীয়ের দ্বারা সংঘটিত হয়। এসকল ক্ষেত্রে নির্যাতকরা সম্পূর্ণরূপে নাগালের বাইরে থাকে। কেননা কিশোরীরা লোকচক্ষুর ভয় এবং নালিশ করলে উল্টো অপবাদের ভয়ে মুখ খোলে না। অনেক সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বিষয়গুলো বিশ্বাস করতে চায় না। এরূপ অবস্থায় কিশোরীর আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। তাদের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের পুরুষ বিদ্বেষী মনোভাব সৃষ্টি হয়, যা তাদের পরবর্তী জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে।

 

কিশোরী নির্যাতনের কারণ ও ধরন
কিশোরী নির্যাতনের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম কারণগুলো হলোÑ সমাজে প্রচলিত অপসংস্কৃতি, রেডিও-টিভিসহ গণমাধ্যমের কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, পুরুষের বেকারত্ব, কিশোরীর বেকারত্ব, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, পুরুষের ‘পৌরুষ’ বা ক্ষমতার প্রভাব খাটাবার এক অপপ্রয়াস ইত্যাদি।

 

পারিবারিক নির্যাতন: শিশুর জন্য সবচাইতে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো পরিবার। অথচ এই পরিবারই অনেক ক্ষেত্রে কিশোরীর নির্যাতনের প্রথম সোপান হয়ে দাঁড়ায়। কিশোরীর প্রয়োজনের তুলনায় পুষ্টি কম দেয়া হয়। শিক্ষার সুযোগ থেকে বি ত করা, স্বাস্থ্য এমনকি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও যথাযথ যতœ নেওয়া হয় না। পরিবারের নিকট আত্মীয়দের দ্বারা বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়। যা তারা প্রকাশ করে না বা করতে পারে না। এসকল সংঘটিত সহিংসতামূলক ঘটনাগুলো অনেক সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দৃষ্টির অগোচরেই রয়ে যায়।

 

দৈহিক নির্যাতন: বয়ঃসন্ধিকালে স্বভাবজাতভাবেই কিশোরীরা চনচল হয়ে উঠে। নিজেদের বোঝার অস্পষ্টতা ও অজ্ঞতার কারণে এমন কিছু কাজ করে যা তার ব্যক্তিগত জীবন এবং পারিবারিক জীবনকে বিড়ম্বনার বেড়াজালে আবদ্ধ করে। সামাজিকভাবেও এজন্য মাশুল দিতে হয়। কিশোরীকে গৃহে বা বাইরে দৈহিকভাবে আঘাত বা মারধর করা হয়।

 

মানসিক নির্যাতন: পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে প্রায়ই কিশোরীর উপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। অধিকাংশ সময়ই কিশোরীকে যেহেতু একজন মানুষ হিসেবে মনে করা হয় না, তাই তার মন বা স্বত্ত্বাকেও স্বীকার করা হয় না। পরিবারে তার মতামত প্রকাশের কোনো সুযোগ থাকে না। যদি ক্ষেত্র বিশেষে কোনো কিশোরী হঠাৎ কোনো মতামত প্রকাশও করে তাহলে তাকে ‘ইঁচরে পাকা’ বলে অভিযুক্ত করা হয়। পরিবারের সুনাম-খ্যাতি নষ্ট হবে এই অজুহাত প্রদর্শন করে অনেক সময়ই কিশোরীর স্বাভাবিক চলাফেরাকে প্রতিরোধ করা হয়। গৃহ নামক জেলখানায় বন্দী করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। একজন কিশোরের ন্যায় খোলা মাঠে কিশোরী কখনই খেলতে পারে না। ইচ্ছে হলেই সে গাছের ডালে উঠতে পারে না, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারে না। কারণ তার প্রতি আঙ্গুল উঁচিয়ে বলা হয় Ñ গেছো মেয়ে, নষ্টা মেয়ে, পথভ্রষ্টা। ফলে কিশোরীর শারীরিক, মানসিক বিকাশসহ বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশও ব্যাহত হয়।

 

যৌন নির্যাতন: ধর্ষণ, গণধর্ষণ ঘরে বাইরে যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানী। কু-প্রস্তাব বা উত্ত্যক্তকরণের মাধ্যমে নির্যাতন: পথে ঘাটে বখাটে ছেলে, কখনো কখনো বয়স্ক পুরুষ কর্তৃকও বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব প্রদান ও উত্ত্যক্ত করার মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়। কু-প্রস্তাবে রাজি না হলেই কিশোরীর জীবন হুমকীর সম্মখীন হয়ে পড়ে।

 

প্রজনন অধিকারহরণ সংক্রান্ত নির্যাতন: কিশোরী বয়সে বিয়ে, গর্ভধারণ, গর্ভপাত এবং গর্ভনিরোধক ব্যবহারে বাধ্য করানো। ইউনিসেফ-এর তথ্য মোতাবেক, ১০-১৪ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীর শতকরা ১৫.৬ ভাগ গর্ভনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণ করে।

 

প্রচলিত রীতি-নীতি বা কুপ্রথাভিত্তিক নির্যাতন: যৌতুক সংক্রান্ত নির্যাতন, পারিবারিকভাবে পুত্রশিশুর তুলনায় কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের মাধ্যমে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা। একতরফা বিচার করে কিশোরীসহ তার পরিবারকে এক ঘরে করা, দোররা মারা, রাস্তায় কু-প্রস্তাব বা উত্ত্যক্তকরণের পেছনেও কিশোরীকে দায়ী করে পারিবারিক সম্মান রক্ষার্থে কিশোরীকে হত্যা করা বা আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়া।
কিশোরীকে পণ্যে পরিণত করে নির্যাতন: দেহ ব্যবসা, পাচার, উটের জঁকি, বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে নারী দেহের যৌন আবেদনমূলক ব্যবহার, পর্ণোগ্রাফি বা নীল ছবি তৈরি ইত্যাদি।

 

যুদ্ধ-বিগ্রহ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতকালীন সময়ে কিশোরী নির্যাতন: যুদ্ধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নানাভাবে কিশোরীরা নির্যাতনের শিকার হয়। যুদ্ধ, জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হামলার সময়েও একটি বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে যে, কিশোরীরা সবসময়েই নির্যাতনের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

 

 

কিশোরী নির্যাতনের খেসারত বা মাশুল

কিশোরী নির্যাতনের ফলে কেবল মাত্র কিশোরীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে না, এর মাশুল গোটা পরিবার, সমাজ তথা সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই প্রদান করতে হচ্ছে। কিশোরী নির্যাতনের ফলে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে পারস্পারিক অবিশ্বাস ও অনাস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে পড়ছে। ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও তারা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। রাষ্ট্রযন্ত্রটিকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে আছে।

 

ইউনিনেফ-এর তথ্য মোতাবেক, কন্যাশিশুর খাদ্য ও পুষ্টির প্রতি অবহেলার কারণে কিশোরদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে কিশোরীরা যে সকল রোগে ভুগছে তা হলো- বাতজ্বর, সাধারণ জ্বর, আমাশয় এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা। ১৩-১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের অর্ধেকের বেশি স্বাভাবিকের তুলনায় কৃশ। পরবর্তীতে এরাই ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির কারণে অধিক সময় অসুস্থ থাকে, গর্ভাবস্থায় মৃত্যু ঘটে এবং কর্মক্ষমতা কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আমাদের দেশে ২০ বছর বয়সী বা তার উর্ধ্বে নারীদের তুলনায় ১৮ বছর বয়সের কম প্রসূতিদের মৃত্যুর সম্ভবনা প্রায় ২-৫ গুণ বেশি।

 

কিশোরী নির্যাতনের হার ঘরে-বাইরে, সমাজে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের হারাতে হচ্ছে রিমি, সীমি, মিমি, মহিমা, পিংকি, সিনথিয়া, কিশোরী বধূ জেনিদেরকে। এসিড সন্ত্রাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

এর ফলে আমাদের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় নিজেদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। ফলে নিজের সঙ্গে নিজে যুদ্ধ করে অনেক কিশোরীর পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কেউ কেউ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে।

 

কিশোরী তথা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় ও সামাজিক উদ্যোগসমূহ
কিশোরী তথা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বেশ কিছু জাতীয় উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৩ (খসড়া), এসিড নিক্ষেপ আইন ২০০২, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেমনামূলক রায়, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০, মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯৭৪। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও কিশোরী নির্যাতন ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানসহ আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য বিষয়েও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 

 

আমাদের করণীয়

আমাদের দেশে ব্যাপক হারে কিশোরী নির্যাতন সংঘটিত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটিকে কোনো সমস্যাই মনে করা হয় না। বিশেষ করে গৃহাভ্যন্তরে সংঘটিত শারীরিক নির্যাতনকে একটি সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। মানসিক নির্যাতনের ক্ষেত্রেও এটি সমভাবে প্রযোজ্য। অথচ এই নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়ে কিশোরীরা হারাচ্ছে তাদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা এবং গতিময়তা। তাদের সামনে যে অফুরন্ত সম্ভবনার আলো রয়েছে তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এখনই সময়। কিশোরী নির্যাতনকে প্রতিহত করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের গণজাগরণ সৃষ্টি করা। এ জাগরণের লক্ষ্য হলো সকল প্রকার নির্যাতনের অবসান করে ক্ষুধামুক্ত আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ডিসেম্বর ২০১৪ই.

গৃহকর্তা কর্তৃক যৌন নির্যাতন,১৪বছরের গৃহকর্মীর আত্নহত্যা!

Dorson

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : গৃহকর্তা কর্তৃক যৌন নির্যাতন ও মায়ের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়ার বদলে উল্টো মারধরের অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে গৃহকর্মী শিশু রুনা(১৪)। টানা চারদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেকহাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে পরাজিত হল ছোট শিশুটি। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সে মারা যায় বলে চমেক হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ঘটনায় নগরীর সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গৃহকর্তার যৌন নির্যাতন সইতে না পেরে অপমানে গত ২৯ নভেম্বর রুনা গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চারদিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করার পর গতকাল সে মারা যায়।

এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছেরুনা আক্তার নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ হাতিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। তার মা রোকেয়া আক্তার নগরীর কর্ণফুলী থানার জহির মাঝির কলোনী সৈন্যেরটেক এলাকায় থাকেন। প্রায় ৬ মাস আগে রোকেয়া তার মেয়েকে সদরঘাটস‘ আমিন আহমেদের বাসায় কাজ করতে দেন। বেতন ছিল মাসিক দেড় হাজার টাকা। প্রত্যেক মাসের শেষে রোকেয়া মেয়েকে দেখতে ওই বাসায় যেতেন।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়গত ২৯ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে রোকেয়া দেখতে গেলে রুনা তাকে জানায়গৃহকর্তা আমিন তাকে প্রায়ই যৌন হয়রানি করে। সে আর ওই বাসায় কাজ করবে না। কিন্তুরোকেয়া তাকে আরও কয়েকমাস ওই বাসায় কাজ করার জন্য অনুরোধ করে। রুনা এতে রাজি না হওয়ায় রোকেয়া তাকে চড় দেন। এদিকে গৃহকর্তা আমিনও ক্ষুব্ধ হয়ে রুনাকে লাথি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে রুনা রান্নাঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় রুনার মা রোকেয়া ও গৃহকর্তা আমিন ভেজা কাপড় ও কম্বল চাপা দিয়ে আগুন নেভান। রোকেয়া মেয়ের আগুনে পোড়া শরীর দেখে সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এরপর ওই বাসার অন্যান্য লোকজন রুনাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এদিকে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর ২৯ নভেম্বর রাতে রোকেয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এতে আমিন আহমেদের বিরুদ্ধে রুনার সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্তসদীপ কুমার দাশ বলেনরুনা আক্তার নামে এক গৃহকর্মী গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। মঙ্গলবার সকালে সে মারা গেছে। এ ঘটনায় থানায় গৃহকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ১৪২১ পেলেন,কথা সাহিত্যিক জাহানারা নওশিন।

4_47328

অপরাজিতা ডেস্কঃ সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ১৪২১’ পেয়েছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক জাহানারা নওশিন। গত ২ই ডিসেম্বর জাতীয় যাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন,বরেণ্য সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক।

পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক ও দৈনিক ‘ইত্তেফাকে’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী ও কবি শামীম আজাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান কালে সৈয়দ শামসুল হক বলেন,অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারের ধারাবাহিক তালিকা দেখে বোঝা যায় নামের দিকে নয় গুণ বিবেচনায়ই এ পুরস্কার দেয়া হয়। অনন্যা অপরিচিত গুণসম্পন্ন নারী লেখকদের অনন্য সম্মাননা দিয়ে আমাদের সামনে নিয়ে আসে। নারী লেখকদের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করে। অনন্যা যেন নিজেকে বলে আমি দশজনের মধ্যে নই। আমি একাদশতম। সাহিত্যে নারীর আত্মপ্রকাশ ঐতিহ্যগতভাবে এক কুণ্ঠার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে নারী সাহিত্যে নিজের নাম লেখাতে বড়ই কুণ্ঠাবোধ করে। তাদের কুণ্ঠা ভাঙতে সওগাত সম্পাদক নাসির উদ্দিন বেগম প্রকাশ করেছেন। সেই লেখাগুলো পড়লে মনে হতো বড়ই কাঁচা সাহিত্য। কিন্তু তার গভীরে ছিল তাদের জীবনের উপলব্ধি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ। আজ কথাসাহিত্যিক জাহানারা নওশিনও সেই কুণ্ঠার কথা বললেন। কুণ্ঠার জন্যই তিনি বড় দেরি করে সাহিত্যের জগতে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু তার লেখাগুলো মান বিচারে অসামান্য। তাই তিনি বেশি সময় ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন। যারা অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই আমাদের সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনন্যা প্রায় উপেক্ষিত ও আড়ালে থাকাদের সামনে এনে পুরস্কার দিয়ে সম্মাননা জানিয়ে আসছে।

কবি আসাদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন,জাহানারা নওশিন বিনয় করে বললেন, তিনি লেখা প্রকাশ করতে লজ্জা পেতেন। তিনি আসলে নিজেকে তৈরি করেছেন। তার গদ্যের ডিটেলিং, প্রকৃতির বর্ণনা এসব ক্ষেত্রে অনেকের থেকে আলাদা। প্রেম ও পারিজাত-এ তিনি পুরুষ মনস্তত্বকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার দেশের নারী সাহিত্যিকদের দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মজা করে বলেন, এই পুরস্কারটি কেবল নারীদের দেয়ায় আমরা উপেক্ষিত থাকছি।

সভাপতির ভাষণে অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, আমরা সাহিত্যে অবদান রাখার ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকাটা তার উপলব্ধি থেকে দেখার চেষ্টা করি। ‘অনন্যা’ অন্য এক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় প্রতি বছর লোকচক্ষুর অন্তরালের নারী লেখকদের মনোনীত করে। যারা সাহিত্য জগেক সমৃদ্ধ করার জন্য সত্যিকার অর্থে কাজ করেন এমন একজনকে মনোনীত করতে পেরে  প্রতি বছরই এই সময় এমন ভাললাগা কাজ করে।
কথাসাহিত্যিক জাহানারা নওশিন ৬ মার্চ ১৯৩২ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় শিক্ষক জাহানারা নওশিনের প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য মিলে এযাবত্ প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৯টি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ বৃক্ষে বৃক্ষে বিষকরবী, পিতামহীর পাখি, দুহিতা, প্রেম ও পারিজাত, হাড়িকাঠ, আহা ভূত বাহা ভূত ইত্যাদি। গত বছর তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান।

বাংলা ১৪০১ সন (১৯৯৩ সাল) থেকে ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’ প্রবর্তন করা হয়েছে। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর একজন কৃতী নারী, সাহিত্যিক অথবা সাহিত্য গবেষককে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে তরুণ কবিরা স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।

 

নভেম্বরে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে ১৮জন নারীকে!

6-svaw06square

নভেম্বর মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ও কারা হেফাজতে ১১ জন মারা গেছেন। বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন চারজন। গুম হয়েছেন দুজন। যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে ১৮ জন নারীকে।
গতকাল সোমবার মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের ১ থেকে ৩০ নভেম্বরের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা, যৌতুকের জন্য অত্যাচার, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অ্যাসিড-সন্ত্রাস, গণপিটুনি এবং তৈরি পোশাকশ্রমিকদের হতাহতের ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি নয়জন নিহত এবং ৮৫৪ জন আহত হন। গত এক মাসে যৌতুকের কারণে ১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং দুজন আত্মহত্যা করেছেন৷ ১৯ জন নারী ও ৩৩ জন মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে৷ এর মধ্যে তিনজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে৷
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে গুম করা, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে বাধা, মত প্রকাশ ও ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, দেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের ওপর গোপন নজরদারি, ঠুনকো বিষয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে জেলগেট থেকে গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, সহিংসতার দায় একে অন্যের ওপর চাপানো বন্ধ করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিচারের সম্মুখীন করা এবং পুলিশ বা র্যাব পরিচয় দিয়ে গুম-হত্যার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাবদিহি সৃষ্টিসহ প্রতিবেদনে আরও কিছু সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, আইনানুযায়ী কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও তা করছে না।

সূত্র- প্রথম আলো।

শিশুর জন্ডিস

1397640673jaundice.jpg-320x200

প্রকৃতপক্ষে জণ্ডিস কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ মাত্র। ত্বক, মিউকাস মেমব্রেণ এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়াকে জণ্ডিস বলে। শরীরে বিলিরুবিন নামে হলুদ রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে জণ্ডিস হয়।

লক্ষণ

  • জণ্ডিসে আক্রান্ত শিশুর চোখের সাদা অংশ, হাত-পা এর তালু মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে পুরো শরীর হলুদ বর্ণের হয়ে যেতে পারে।
  • শিশু খুব দুর্বল হয়ে পড়ে
  • গা ম্যাজ ম্যাজ করে।
  • বমি বমি ভাব
  • রুচিহীনতা
  • পায়খানার রঙ ফ্যাঁকাসে হয়ে যাওয়া।
  • জ্বর জ্বর অনুভূতি বা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।

কী করবেন?
জণ্ডিস হলে শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাভাবিক খাবার দিন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো ধরনের প্যারাসিটামল কিংবা ভেষজ ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।
জণ্ডিস হলে অনেকেই কবিরাজি চিকিৎসা করেন, যা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলোতে জণ্ডিস কখনও ভালো হয় না। তাই শিশুর জণ্ডিস হলে মালা পরানো, চুনের পানি দিয়ে হাতধোয়া প্রভৃতি কবিরাজি চিকিৎসা থেকে দূরে থাকুন।
জণ্ডিস হলে বমি হয়ে অনেক সময় শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে। তবে অতিরিক্ত নয়। দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করানো যেতে পারে।
শিশুকে প্রোটিন, ক্যালরি পাবে এমন খাবর বেশি বেশি খেতে দিন।
পানিশূন্যতা দেখা দিলে স্যালাইন পান করান।
কম তেল মশলায় রান্না করা খাবার খাওয়াতে হবে।
শিশু জণ্ডিসে আক্রান্ত হলে কয়েকদিন পর পর টেস্ট করে দেখতে হবে লিভার ক্ষতি হয়েছে কি না এবং বিলিরুবিনের পরিমাণ কমেছে কিনা।
স্কুলের সামনের ফুচকা, চটপটি প্রভৃতি খাওয়ার কারণে শিশুদের টাইপ এ জণ্ডিস বেশি হয়ে থাকে। তাই শিশুকে এগুলো খাওয়া থেকে দূরে রাখুন।

নবজাতকের জণ্ডিস
জম্মের পর পর সব শিশুরই জণ্ডিস হয়ে থাকে। সাধারণত জম্মের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই এ জণ্ডিস হয় এবং সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে সেরে যায়। শিশুর এ ধরনের জণ্ডিসকে বলা হয় ফিজিওলজিক্যাল জণ্ডিস। সদ্যোজাত শিশুদের যকৃতে যে এনজাইমগুলো বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণ করার কথা শিশু জম্মের অব্যাহতি পর সে এনজাইগুলো তাদের কাজ ঠিকমতো শুরু করতে পারে না। তাই সদ্যোজাত শিশুদের বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে এতে চিন্তার কোনো কারণ নেই। শিশুর এ জণ্ডিস আপনা আপনি সেরে যায়। এ সময় শিশুকে প্রতিদিন সকালে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে ২ থেকে ৩ বার রোদে রাখুন (ঘরের মধ্যে গ্লাসের জানাল দিয়ে যে রোদ আসে সেখানে রাখা ভালো)। তবে এ সময় শিশুর মাথায় যেন রোদ না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। কয়েকবার এপাশ-ওপাশ করে দিন। এই কটা দিন শিশুকে বেশি বেশি মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ত্বক ও চোখের হলুদ বর্ণ বা জণ্ডিসের লক্ষণ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জণ্ডিসের টিকা
শিশু-কিশোরদের জণ্ডিসের টিকা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ইনফেকশনের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয়। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ইনফেকশনের প্রাথমিক প্রতিষেধক হিসেবে তিনটি ডোজ দিতে হয়। প্রথম ডোজটি যে দিন দেয়া হবে তার এক মাস পর দ্বিতীয়টি এবং তৃতীয়টি দিতে হবে প্রথম ডোজ দেয়ার দিন থেকে ৬ মাস পর। প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন করার ৫ বছর পর বুস্টারের এক ডোজ দেয়া যেতে পারে।

লিখেছেন- আঞ্জুমান আরা কেয়া।

 

গর্ভাবস্থায় মায়েদের যে খাবার গুলো এড়িয়ে চলা ভালো

file45878597_dc8668fc

গর্ভাবস্থায় নারীদের অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে খাবারের দিকে নজর দিতে হয় বেশি। কারণ এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো গর্ভবতী মায়েদের একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। কারণ এই খাবারগুলোই গর্ভপাতের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জেনে নিন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. গর্ভবতী মায়েদের তাদের গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে আনারস একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। আনারসে ‘ব্রোমেলাইন’ নামের এক ধরণের উপাদান থাকে। এটি মায়ের ডায়েরিয়া, এলার্জি থেকে শুরু করে গর্ভপাতের কারণও হতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এই ফল খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া উচিত।

২. অত্যাধিক ক্যাফেইন মায়ের হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও এটি অনিদ্রাও মাথা ব্যথার উদ্রেক করতে পারে। এর ফলে প্রিম্যাচিওর বেবি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় ক্যাফেইনের কারণে গর্ভপাতও হতে পারে।

৩. চিকিৎসকেরা গর্ভধারণের প্রথম দিকে আনারসের পাশাপাশি কাঁচা পেঁপে খেতেও নিষেধ করেন। কারণ এতে বিভিন্ন রকমের এনজাইম থাকে যা গর্ভপাতের সহায়ক।

৪. গর্ভকালীন সময়ে পনির জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এতে বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলোও গর্ভপাত ঘটাতে পারে।

সূত্র : ইন্টারনেট

নারীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

130919_AMIN_IN_HEALTH

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, রোগ থাকলে তা আগেই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা সহজ হয়। ১৮ বছর বয়স থেকেই একজন নারীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। বিস্তারিত জানিয়েছেন ডাক্তার রেজাউল করিম কাজল।

রক্তচাপ পরীক্ষা

১৮ থেকে ৩৯ বছর পর্যন্ত প্রতি দুই বছর পর পর একজন নারীর রক্তচাপ মাপা উচিত। যাঁদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাঁরা এ ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকা জরুরি। আর যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শমতো রক্তচাপ মাপা। আর ৪০ থেকে ৬৪ বছর বয়স হলে প্রতিবছর একবার রক্তচাপ মাপতে হবে।

রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা পঁয়তাল্লিশোর্ধ নারীর প্রতিবছর একবার করে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখে নেওয়া উচিত।

ডায়াবেটিস পরীক্ষা

যদি রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে প্রতি তিন বছর পর পর এবং চল্লিশের পরে প্রতি দুই বছর পর পর রক্তের সুগার বা ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা উচিত।

দাঁতের চেকআপ

যেকোনো বয়সের নারীর প্রতিবছর দাঁত ও মাড়ির পরীক্ষা করা দরকার। এতে দাঁতের বিভিন্ন রোগ, মুখগহ্বর, জিহ্বার ক্যান্সারের লক্ষণ অনেক আগেই ধরা পড়তে পারে।

দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা

২০ থেকে ৪০ বছরের একজন নারীর প্রতি দুই বছর পর পর চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা দরকার। চল্লিশের পরে সাধারণত প্রতিবছর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

শৈশবে সরকার প্রদত্ত সব টিকা অবশ্যই নিতে হবে। মেয়েদের জন্য বিশেষভাবে দুটি টিকা অপরিহার্য। একটি রুবেলা অন্যটি সারভাইক্যাল ক্যান্সার। এ দুটি টিকা বয়ঃসন্ধিকালে নিলে ভালো। অন্যদিকে অধিক বয়সে অন্ত্র বা কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি রোগ দেখা দেয়। এসব রোগের জন্য নিয়মিত কোনো পরীক্ষা করতে বলা হয় না। শুধু যাঁদের বংশে এসব রোগের ইতিহাস আছে বা যাঁরা এসব রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তাঁদেরই বিশেষ কিছু পরীক্ষা করতে চিকিৎসক পরামর্শ দেন। অন্যদিকে যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি অসুখ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনিজনিত সমস্যা, লিভার রোগে ভুগছেন, তাঁদের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক করবেন।

দেশের ৪০ শতাংশ শিশু কম ওজন ও অপুষ্টিতে ভুগছে!

Poverty_7678

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অনেক সূচকেই এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে শিশুর অপুষ্টি ও ওজনহীনতার চিত্র কাক্সিক্ষত নয় বলে মনে করছে সরকার। মা ও শিশুপুষ্টি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক মানচিত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

মানচিত্র অনুসারে, বান্দরবান জেলায় সবচেয়ে বেশি পুষ্টিহীন শিশুর বসবাস। ফলে জেলার ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু বেটে। সিলেটের সুনামগঞ্জে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু কম ওজনের। যা অন্যান্য জেলার তুলনায় সর্বোচ্চ। শিশুপুষ্টি নিশ্চিত করতে সম্পদের সুষম বণ্টন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশিত ম্যাপ সহায়ক হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ ম্যাপ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করেন।
পুষ্টিহীনতার কারণে বেটে শিশুর হার সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বান্দরবান জেলায়। এ হার ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

পাশাপাশি কম ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলা। এ হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে অপুষ্টি ও কম ওজনের ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে ঢাকা জেলা। চাইল্ড অ্যান্ড মাদার নিউট্রিশন সার্ভের (সিএমএনএস) ফলাফলের ভিত্তিতে অপুষ্টিসংক্রান্ত ম্যাপে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), ওয়ার্ল্ডফুড প্রোগ্রাম এবং ইফাদ যৌথভাবে পুষ্টিম্যাপ প্রকাশ করেছে।
এমএ মান্নান বলেন, এসব তথ্য কোনো সমস্যার সমাধান নয়। তবে সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেসব এলাকায় পুষ্টির অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে সেসব এলাকায় বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টি সমস্যা সমাধান করা যাবে। তিনি জানান, ২ দশক আগে দেশে অপুষ্টির হার ছিল ৭০ শতাংশ। কিন্তু এখন সেটি ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তারপরও এটি সন্তোষজনক নয়। তিনি আরও বলেন, এমডিজির অনেক লক্ষ্যই যখন পূরনের পথে তখন অপুষ্টি ও কম ওজনের শিশুর এ চিত্র কাক্সিক্ষত নয়। তারপরও বলব এ চিত্র ঠিক হলে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

ম্যাপ অনুযায়ী দেখা যায়, বেটে শিশুর ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ ভোলা জেলায় ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সর্বনিু ঝালকাঠি জেলায় ৩৭ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান জেলায় সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ (জাতীয়ভাবেও সর্বোচ্চ) এবং সর্বনিু চাঁদপুর জেলায় ৪০ দশমিক ১ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ কিশোরগঞ্জ জেলায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ। খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ কুষ্টিয়া জেলায় ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সর্বনিু ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সিরাজগঞ্জ জেলায় ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং সর্বনিু ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ। রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ নীলফামারী জেলায় ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সর্বনিু পঞ্চগড় জেলায় ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ সুনামগঞ্জ জেলায় ৪৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং সর্বনিু মৌলভীবাজারে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

কম ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি কম ওজনের শিশু রয়েছে ভোলা জেলায়, এ হার ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ। সবচেয়ে কম রয়েছে ঝালকাঠি জেলা, এ হার ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম রাঙ্গামাটি জেলায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি নেত্রকোনা জেলায় ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ।
খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং খুলনা জেলায় সবচেয়ে কম ২৯ দশমিক ১ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি সিরাজগঞ্জ জেলায় ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম জয়পুরহাট জেলায় ৩০ দশমিক ১ শতাংশ। রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি কুড়িগ্রাম জেলায় ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম দিনাজপুর জেলায় ৩৩ শতাংশ।
সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ (জাতীয়ভাবে সর্বোচ্চ) আর সবচেয়ে কম মৌলভীবাজার জেলায় ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া বেগম বলেন, আগে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে থাকলেও এখন সিলেট বিভাগ পুষ্টির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।
এমডিজির লক্ষ্য পূরণে এ ম্যাপ অনুযায়ী সম্পদের সুষম বণ্টন করতে হবে। তিনি বলেন বাস্তবতার ভিত্তিতে এ ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, ২০২৫-৩০ সালের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য হার সর্বনিু পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় সরকার।

সূত্র- যুগান্তর।

 

সবজি রাজ্যের ছালেহা

আবু আক্তার করন, মেহেরপুর : অবহেলিত নারীর জীবন সংগ্রামের দৃষ্টান্ত হতে পারেন জেলার সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের চাঁদবিল গ্রামের ছালেহা বেগম। স্বামীর অবহেলাকে তোয়াক্কা না করে উঠানের পাশে জমিতে গড়ে তুলেছেন রকমারি সবজির বাগান। এলাকাবাসী বাগানটির নাম দিয়েছে ছালেহা বেগমের জীবন্ত সবজি বাজার।

 

Shofolota-01

 

সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের চাঁদবিল গ্রামের ছালেহা বেগমের বিবাহিত জীবনের প্রথমদিকটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ১০ বছর আগে স্বামী লিয়াকত আলী অন্যত্র বিয়ে করে বিদেশ চলে যান। এরপর ঠাঁই হয় বাবার বাড়িতে। বাবা ও ভাইদের কাছ থেকে পান একটি ছোট বাড়ি ও বাড়ি সংলগ্ন এক টুকরো জমি। ওই টুকরো জমিতে গড়ে তোলেন বিভিন্ন সবজিসহ ফলের বাগান। সবজি বিক্রি করে মাসে ৫-৬ হাজার টাকা আয় হয়। ফল বিক্রি করে বছরে আরও ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হয়। নিজের খরচ বাদে ওই টাকা দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নাতনী তামান্নাকে সহায়তা করে আসছেন। এ সফলতা দেখে স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানান।

 

Shofolota-02

 

ছালেহা খাতুন বলেন, স্বামী আমাকে ফেলে বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকে বাবার বাড়িতে এসে পৌনে দুই বিঘা জমির উপরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি। এখন এ সবজি চাষ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে আমি চলি এবং তামান্নাকে সহযোগিতা করি। তিনি আরও বলেন, আমার বাগানের সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাহিদা। যার কারণে আমাকে সবজি বিক্রি করতে বাজারে যাওয়া লাগে না। বাড়ি থেকেই বিক্রি হয়ে যায়।

 

Shofolota-03

 

সবজি কিনতে আসা রেখা খাতুন জানান, আমরা এখান থেকে প্রতিদিন সবজি কিনে নিয়ে যাই। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকলেও আমাদের সমস্যা হয় না। বাড়িতে কোনো মেহমান আসলে তাৎক্ষণিক নিজ হাতে সবজি তুলে নিয়ে যাই। এ ছাড়া সবজিতে কোনো প্রকার বিষ দেওয়া থাকে না, এ কারণে আমরা বিষমুক্ত সবজি খেতে পারি। আরেক প্রতিবেশী শেফালী খাতুন জানান, সালেহার সবজি বাজারটা হওয়ায় এলাকার অনেকের উপকার হয়েছে। আমাদের যখন মন চায় আমরা ইচ্ছামতো সবজি এখান থেকে কিনে নিতে পারি। আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় যদি এ ধরনের জমি থাকত তাহলে আমিও সবজির আবাদ করতাম। এখন গ্রামের অনেক গৃহবধূ বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ শুরু করেছেন।

 

Shofolota-03

 

ছালেহা খাতুনের নাতনী শাহেনা আক্তার তামান্না মোবাইলে জানান, নানী প্রতি মাসে লেখাপড়ার খরচ বাবদ আড়াই হাজার টাকা দেন। তিনি জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন, এখন অনেক ভালো আছেন।

 

Shofolota-02

 

ছালেহার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কৃষি বিভাগ। সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আমরা কৃষি বিভাগ সালেহা বেগমের সবজি চাষে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের চাঁদবিল গ্রামের সালেহা বেগম নিজ উদ্যোগে তার বসত বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশে সবজি চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি নজিরবিহীন। আমার ইউনিয়নসহ সারা জেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে যদি একজন করে সালেহা বেগম থাকেন, তাহলে আমাদের দেশের খাদ্য ঘাটতিসহ পুষ্টিহীনতা দূর হবে।