banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

নারী পুলিশদের জন্য অপমানকর পরীক্ষা!

Article Lead - wide6327881011ovovimage.related.articleLeadwide.729x410.11oa8q.png1416272517633.jpg-620x349

সেটা ‘টু-ফিঙ্গার এক্সামিনেশন’ নামে পরিচিত। এই পরীক্ষায় একজন নারী যন্ত্রণাবোধ করেন, সম্ভ্রমহানির গ্লানিতে আহত হন, সব শেষে অবসাদে ভরে যায় মনটা। এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় ইন্দোনেশিয়ার নারী পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় সতীত্বের পরীক্ষা দিতে গিয়ে। এ নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রথা বাতিলের দাবি উঠেছে।

আল জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কথিত সতীত্ব পরীক্ষাকে নারীর জন্য অবমাননাকর, বৈষম্যমূলক ও বেদনাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তা অচিরেই বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এইচআরডব্লিউয়ের ওই বিবৃতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ বিভাগ।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুলিশের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পুলিশে যোগ দিতে হলে অন্যান্য পরীক্ষার পাশাপাশি নারীদের অবশ্যই সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হবে। অর্থাৎ, যেসব নারী পুলিশ হতে চান, তাঁদের অবশ্যই সতীত্ব বজায় রাখতে হবে।
ভুক্তভোগী একজন নারীর ভাষ্য, ‘সতীত্ব পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের মতো কষ্টদায়ক আর কিছু নেই।’
অপর এক নারীর ভাষ্য, ‘আমি আর সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করতে চাই না। এটা অবমাননাকর।’
দেশটির পুলিশের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও এই ‘সতীত্ব পরীক্ষা’ প্রথার বিরুদ্ধে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এবার নিন্দা জানাল এইচআরডব্লিউ।
ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের এক মুখপাত্রের দাবি, পুলিশে যোগ দিতে আসা নারী প্রার্থীদের মধ্যে যে যৌনবাহিত রোগ নেই, তা নিশ্চিত করতেই ওই পরীক্ষা করা হয়। পেশাদারি প্রক্রিয়ায় করা সতীত্ব পরীক্ষায় কারও কোনো ক্ষতি হয় না।

 

গত এক বছরে সাড়ে ৫হাজারেরও বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

6-svaw06square

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস’ উদ্যাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ পালন করছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নবেম্বর ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতিসংঘ দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামসহ বিভিন্ন নারী সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের নানা আয়োজনে দেশব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ পালিত হচ্ছে। নারী নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০১৪ পালন করা হবে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এ্যাগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ২০১৪ থেকে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ শুরু হলো মঙ্গলবার। ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০১৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ যৌথ উদ্যোগে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে নারী নির্যাতনবিরোধী পোস্টার, স্টিকার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, পরিবর্তিত হচ্ছে সমাজ কাঠামো, বিকশিত হচ্ছে সভ্যতা। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে মানুষের জীবন যাত্রায় বরং নারী শব্দটিই যেন নির্যাতন ও শোষণের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা অনুপাতে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইরানের নাম আছে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বপরিসংখ্যানে প্রথম সারিতে। এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশে ৯৫% পরিবার তাদের কন্যার বিয়েতে যৌতুক দিতে বাধ্য হন। যৌতুক দিলেও নারীরা নানা অজুহাতে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে উইকিপিডিয়াতে। পাকিস্তানের পরেই নারী নির্যাতনের দেশ হিসেবে উইকিপিডিয়াতে উঠে এসেছে বাংলাাদেশের নাম। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৪শ’৭ জন নারী যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে বলে প্রকাশ করেছে উইকিপিডিয়া।

 

সুস্থ-নিরাপদ ডে-কেয়ার ব্যবস্থা,কর্মজীবি নারীদের জন্য দিন দিন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে

image_104369

তিন বছরের নিঝুম ঘুম থেকে ওঠার আগেই তার মা-বাবা নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যায়। এমন দিন খুব কমই আছে সে তার মা-বাবা বা দুজনকেই সকালে উঠে দেখতে পেয়েছে। বাড়ির কাছাকাছি কর্মস্থল হওয়ায় দুপুরে খাবার খেতে মা-বাবা বাড়িতে এলেও তা কিছু সময়ের জন্য। অবুঝ নিঝুম তাদের সঙ্গ চাইলেও মা-বাবার তাড়া থাকে আবার অফিসে যাওয়ার। কাজের লোক তাকে আড়ালে নিয়ে গেলে তারা আবার বেরিয়ে পড়েন কাজের উদ্দেশ্যে। তাই নিঝুমকে দিনের প্রায় সবটা সময়ই কাটাতে হয় বুয়ার কাছে। বাড়িতে প্রায় নিঃসঙ্গ থাকে বলে দরজায় কোনো শব্দ হলেই সে ছুটে যায় কে এলো তা দেখার জন্য। সন্ধ্যায় মা-বাবা ফিরে এলে সংসারের নানা দিকও দেখতে হয় তাদের। এছাড়া থাকে সারা দিনের ক্লান্তি। চাকরি, সন্তান ও সংসার সব দিক সমন্বয় করার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা তাদের সন্তানের স্বভাবিক বিকাশের জন্য যেটুকু সময় ও সংস্পর্শ দরকার তা দিতে পারছেন না। ফলে এ তিন বছর বয়সেও নিঝুম শুধু কিছু শব্দ উচ্চারণ করা ছাড়া কোনো প্রশড়ব বোঝা বা তার উত্তর দেয়ার মতো ক্ষমতা অর্জন করেনি। এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকে আকারে ইঙ্গিতে যোগাযোগ করতে হয়, যা এই বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নয়। 

নিঝুমের মতো সাড়ে তিন বছরের হেমা এক চিকিৎসক দম্পতির সন্তান। কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় হেমাকেও কাজের লোকের কাছে থাকতে হয়। হেমার বাবা একাধিক প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ করেন। কারণ তাকে তার নিজের পরিবার ছাড়াও গ্রামে বসবাসকারী মা-বাবা ও ভাই- বোনদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হয়। হেমার মা রাজশাহী মেডিকেলে চাকরি করেন। মেধাবী ছাত্রী হওয়ায় তিনি চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য পড়াশোনা করছেন। ফলে হেমার জন্য তার মা-বাবার সময় নিঝুমের চেয়েও কম। মা দুপুরে অফিসের পর বাড়িতে এলেও তার চেষ্টা থাকে বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে লাইব্রেরিতে পড়তে যাওয়ার। ফিরে আসেন রাত নয়টা-দশটায়। আবার মাঝে মাঝেই তাকে রাতে হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়। মা-বাবার যথেষ্ট সময় না দিতে পারা এবং বাড়িতে বেশিরভাগ সময় একা থাকার ফলে সে একগুয়ে স্বভাবের হয়ে গেছে। সে যখন যা করতে চায় তখন তাই তাকে করতে দিতে হয়। 
একক পরিবারের প্রচলন বাংলাদেশে বেশ আগে হলেও বর্তমানে এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সেই সাথে আধুনিক জীবন যাপনের আকাক্সক্ষা, ব্যয়বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি কারণে নারীরা এখন অনেক বেশি চাকরির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে।

বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ ২০০২-০৩ অনুসারে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ০ দশমিক ৯৮ কোটি নারী বিভিনড়ব পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। এই শ্রমশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শিল্পে কাজ করছে। এখানকার মোট শ্রমশক্তির ৯০ শতাংশেরও বেশি নারী শ্রমিক। 
বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মজীবী নারীদের মধ্যে অনেকেরই শিশু সন্তান রয়েছে। মায়ের অবর্তমানে যাদের দেখাশোনার জন্য কেউ থাকে না, বা কাজের লোকের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই নারীদের কর্মক্ষেত্রে আসা অব্যাহত রাখতে এবং কাজে মনোযোগী করতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রয়োজন অনুসারে মানসম্পনড়ব ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মজীবী মায়েদের বাচ্চাদের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের যথেষ্ট অভাব রয়ে গেছে। 

জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে কোনো প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন নারী থাকলেই সেখানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার থাকার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠানেই ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। আবার সরকারি ও বেসরকারিভাবে যে ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেগুলোর প্রায় সবই রাজধানীকেন্দ্রিক। চাহিদা ও প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে এখনও পর্যন্ত ভালো মানের ডে-কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা খুবই কম। ডে-কেয়ার সেন্টারের মানের ক্ষেত্রে দেখা যায় খোদ ঢাকা শহরেই যেসব ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে তার কিছু সংখ্যক ছাড়া বেশিরভাগই মানসম্পনড়ব নয়। অর্থাৎ বিভিনড়ব বয়সী শিশুদের উপযোগী পরিবেশ, শিশু অনুপাতে প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীদের সংখ্যা, নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়বতা, পর্যাপ্ত জায়গা, স্কুলপূর্ব শিশুদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়গুলোর সমন্বয়ের অভাব রয়ে গেছে এসব ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে। ব্যাপক সংখ্যক নারী যে পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত সেখানে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ কারখানাতেই ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। বেসরকারি সংস্থা কর্মজীবী নারী ২০০৭ সালের জুন মাসে ৫৫টি পোশাক কারখানায় একটি জরিপ চালায়। সেখানে দেখা গেছে, ৫৫টির মধ্যে মাত্র ১৫টি কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। তবে কর্মজীবী নারীর মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ক আরিফা আক্তার অনু বললেন, ‘যেসব কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা রয়েছে তার অধিকাংশই শিশুদের বসবাসের উপযোগী নয়। শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য এসব ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবার অনেক সময় বিদেশিদের আকৃষ্ট করার জন্য এসব ডে-কেয়ার সেন্টার অস্থায়ী ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।’ 
তিনি আরো বললেন, ‘তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে, নারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা মা হওয়ার পর অধিকাংশই তাদের কাজ ছেড়ে দেয় এবং বাচ্চা বড় না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে বসেই উপার্জনমূলক অন্য কাজে শ্রম দেয়। এছাড়া এদের বাচ্চারা দেখাশোনার অভাবে শিশু অবস্থায় বেশি মারা যায় এবং এদের মধ্যে অপরাধী হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়। মায়েরা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য একটু বড় হওয়ার পর গ্রামে আত্মীয়- স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেয় অথবা তালাবন্ধ করে বা শেকল দিয়ে বাড়িতে বেঁধে রেখে আসেন।’ সরকারি উদ্যোগে এ পর্যন্ত নি¤ড়ববিত্ত ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য ৩২টি ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মধ্যবিত্তদের জন্য যার সবই ঢাকা শহরে অবস্থিত। নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য বাকি ১৮টির মধ্যে ঢাকা শহরে ৭টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি এবং বিভিনড়ব জেলা শহরে ১৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি উদ্যোগ এক্ষেত্রে খুব কম। এছাড়া মধ্যবিত্তদের জন্য ঢাকার বাইরে কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার নেই।  

সরকারি যে ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো আছে সেগুলোতেও লোকবলের অভাব রয়েছে। আবার নি¤ড়ববিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য প্রতিষ্ঠত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে রয়েছে বৈষম্য। মধ্যবিত্তদের জন্য নির্ধারিত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ৫০টি শিশুকে দেখাশোনার জন্য যেখানে দুজন কাজ করছে, সেখানে নি¤ড়ববিত্তদের ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে শিশুর সংখ্যা ৮০ হলেও আয়ার সংখ্যা বাড়েনি অর্থাৎ এখানেও দুজন আয়া রাখা হয়েছে। এছাড়া সকল সরকারি ডে-কেয়ার সেন্টারে দুজন কুকের পদ থাকার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে নি¤ড়ববিত্তদের ডে-কেয়ার সেন্টারে একটি কুকের পদ বাদ দেয়া হয়েছে এবং এখানে কোনো স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়নি। 

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের শিশু উনড়বয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক শামীমা খানম এ সম্পর্কে বলেন, ‘ডে-কেয়ার সেন্টারের মানের ক্ষেত্রে শিশু অনুপাতে যথেষ্ট লোকবল অবশ্যই থাকা উচিত। তবে সরকার অর্থের অপর্যাপ্ততার কারণ দেখিয়ে লোকবল কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অধিদফতরের ডে-কেয়ার সেন্টারটিতে ৫০টি শিশু থাকার ব্যবস্থা থাকলেও রয়েছে ১৫টি শিশু।’ শিশুদের রাখতে আসার সমস্যার কথাটিও তিনি এ সেন্টারে শিশু কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেন। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের আইইআরে অবস্থিত ছায়ানীড় নামে যে ডে-কেয়ার সেন্টারটি রয়েছে সেখানে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের থাকার ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে চাকরিজীবী মায়েদের চার মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অনেক মা তার প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকা সত্ত্বেও তাদের দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের সেখানে রাখতে পারছেন না। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে কর্মজীবী মায়েরা তাদের শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকা ও এগুলোর বিভিনড়ব সমস্যার কারণে বাবা-মা তাদের বাচ্চাকে সেখানে রাখতে পারছেন না। ফলে মা ও শিশু উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মা তার সন্তানের চিন্তায় যথেষ্ট দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ মানের কাজ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ক্যারিয়ার ও সন্তান কোনোদিকেই তারা যথার্থ মনোযোগ দিতে পারছেন না। উভয় দিক সামলাতে না পেরে কর্মজীবী মায়েরা অনেক সময় নিজেদের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে বাধ্য হন। কেউ চাকরি ছেড়ে দেন, আবার কেউ সন্তান একটু বড় না হওয়া পর্যন্ত উচ্চশিক্ষা নেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রেও নানা বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।

লিখেছেন- শামিম আরা বেগম।

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের বিবেক জাগ্রত হোক

6-svaw06square

নারী নির্যাতন প্রতিরোধের আন্দোলন কেবল নারীদের নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের শিক্ষিত বিবেকবান সকল মানুষের সামাজিক দায়িত্ব। তাই নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারীদের প্রতি সকল প্রকার সহিংসতারোধে দেশের তরুণ-যুবসমাজকে সচেতন, বলিষ্ঠ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৪ উপলক্ষে এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে নারী নির্যাতন বিরোধী এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরুষ সমাবেশের  আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ (বিএমপি)। ‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের বিবেক জাগ্রত হোক’ এ আহবান জানিয়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৪ পালিত হচ্ছে।

বিএমপির উদ্যোগে গত ২৫ নভেম্বর থেকে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই প্রতীকী পুরুষ সমাবেশ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকার সামাজিক রাজনৈতিক নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সক্রিয় উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ যা নারী নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে তা প্রতিরোধ ও নিরোধের লক্ষ্যে জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক গবেষক জনাব মফিদুল হক, এডভোকেট এস এম এ সবুর, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সামন্তলাল সেন, সাবেক ছাত্রনেতা জনাব মাহবুব জামান, মিরপুর থানা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি দেওয়ান আবদুল মান্নান ও আহমদনগর পাইকপাড়ার আরিফ হোসেন প্রমুখ। সমাবেশে গণসঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএমপির ডিরেক্টর লিগ্যাল এডভোকেসি এন্ড লবি এডভোকেট মাকছুদা আখতার। আয়শা খানম বলেন, নারীর বিষয়ে সমাজের পুরুষদের যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতা সেখান থেকে আধুনিক যুক্তিযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্যে সচেতনতার প্রয়োজন। সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী।  সকল ক্ষেত্রে সম অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলে এবং নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারবে না। নারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, এসিড সন্ত্রাস, যৌতুকের দাবি, পারিবারিক সহিংসতা-এসব প্রতিরোধে যেসব আইন রয়েছে তার বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের ঘোষণায় বলা হয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতার অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, এসিড নিক্ষেপ, উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন, বে-আইনী ফতোয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সকল নির্যাতন বন্ধে নিরবতা ভেঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সচেতনতামূূলক কর্মসূচিতে নারী ও কন্যাশিশুদের যুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষদেরও যুক্ত করে সাধারণ গণমানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

ঘোষণায় আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক সিডও সনদের অনুচ্ছেদ- ২ ও ১৬(১)(গ) -এর উপর থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং ওসিসির কার্যক্রম আরও বিস্তৃতি করতে হবে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু করার লক্ষ্যে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এর অবকাঠামো তৈরি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খাতে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবার থেকে নারী নির্যাতন বিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয় ঘোষণাপত্রে।