banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

অপরাজিতা সেলিনা

কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ৩০ শতক জমির ওপর নয়ন সেলিনা গড়ে তুলেছেন পোলট্রি ও ডেইরি ফার্ম। মুরগি ও গরু প্রতিপালনের পাশাপাশি এর বিষ্ঠা এবং গোবরকেও তিনি কাজে লাগিয়েছেন। এ দিয়েই তিনি তৈরি করেছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। কক্সবাজারের প্রথম নারী উদ্যোক্তা সেলিনা বলেন, প্রথম অবস্থায় যতখানি গ্যাস উৎপাদন হতো তা দিয়ে আমার সংসারের পুরো মাসের জ্বালানির চাহিদা মিটে যেত। ভাবলাম প্রতিবেশীদের জন্যও এটা করা যেতে পারে। তাদেরও জ্বালানি সমস্যা থাকবে না। নিজ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করি। একটু একটু করে আমার স্বপ্নের পরিকল্পনাগুলো সত্যি হয়।
একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে সুনাম কুড়িয়েছেন সেলিনা। চারপাশের কোনো বাঁধাই তাকে দমাতে পারেনি। এখন তিনি কক্সবাজারে একজন মডেল নারী উদ্যোক্তা। তার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে ১০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে। বর্তমানে তার পোলট্রি ফার্মে লেয়ার মুরগি ৬ হাজার, ব্রয়লার মুরগি রয়েছে ৪ হাজার, ডেইরি ফার্মে রয়েছে ১৮টি পিজিয়াম বিদেশী গাভী। গরু থেকে প্রতিদিন দুধ পান ৮০ লিটারের মতো। এই দুধ শহরবাসীর দুধের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এই ব্যবসার পাশাপাশি তার ১০টি ছাগল, প্রায় ১০০ জোড়া কবুতরও রয়েছে। প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন পর পর এই কবুতর থেকে ২০ জোড়া কবুতরের বাচ্চা পান। এ থেকে তার বছরে রোজগার হয় ২ লাখ টাকা।
সেলিনা বলেন, ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে। এই খামারে ৮ জন শ্রমিক নিয়মিত মাসিক বেতনে কাজ করছেন। ৬ হাজার লেয়ার মুরগি থেকে প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। ব্রয়লার মুরগির অধিক পরিচর্যা আর যত্নের কারণে মাত্র ২৮ দিনে প্রতি মুরগির ওজন ২ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত বাড়ে। এ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে না পারায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কৃষি ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ আর্থিক ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তা এখনও পাননি। তাই এই প্রকল্পের কাজ স্থগিত রয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেলেও কিছুটা এগুতে পারতাম। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।
 
– সূত্রঃ সুরঞ্জনা।

পরিমিত মরিচের পরিমিত ব্যবহার

14b5bd188fbf20e53e492c8765b4afd7

আমাদের দেশে রান্নায় সব মশলার মধ্যে লবণের পরই কাঁচামরিচের স্থান। যেকোনো রান্নাতে কাঁচামরিচের ব্যবহার যথেষ্ট। তবে অনেকেই ঝাল পছন্দ করেন না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, লঙ্কার ঝালের জন্যই খাওয়ার সময় যে লালা নিঃসৃত হয়, তা খাবার হজম হতে সাহায্য করে। বর্তমানে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ বা মেজবানির খাবারের মধ্যে লাল লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কার ব্যবহার হয়। তাতে পেট জ্বালা, গ্যাস্ট্রিক আলসার বা আমাসার ভয় থাকে। সেদিক থেকে কাঁচামরিচ অনেকটাই নির্দোষ। আবার কিছু সমস্যাও আছে।

পরিমিত কাঁচামরিচ খেলে মুখের স্বাদ বদলে দেয়। খাওয়ার রুচিও বাড়িয়ে দেয়। কাঁচালঙ্কার বহু গুণাবলী রয়েছে। সেগুলোর দিকে একটু তাকানো যাক।

 ১. শরীর থেকে যাবতীয় নোংরা ফেলে দিতে সাহায্য করে কাঁচালঙ্কা। যেমন লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে।

২. শুকনোমরিচের শুষ্ক খোসা খেলে ডায়াবেটিস সেরে যায়। এছাড়া আমাশয়, বমির প্রবৃত্তি নষ্ট করে দেয়।

৩. ব্যথা ও বাতের মালিশের জন্য কাঁচামরিচ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

৪. পেট ব্যাথা করলে পানির মধ্যে লঙ্কা মিশিয়ে খেলে উপকার মেলে।

৫. ছারপোকার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে মরিচের ব্যবহার করতে পারেন। শুকনো লঙ্কা পানিতে ফুটিয়ে ক্কাথ তৈরি করুন। এবার যেখানে যেখানে ছারপোকার উপদ্রব সেখানে সেখানে ওই ক্কাথ লাগিয়ে দিলে ছারপোকা মরে যায়।

৬. কুকুর কামড়ালে সাথে সাথে লালমচির পিষে ক্ষতস্থানে দিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিষ পুড়ে যায়।

৭. অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। কাঁচামরিচ বেশি খেলে যকৃৎ বা লিভার গরম হয়ে যায়। তাতে নানা রকম রোগ দেখা দিতে পারে।

৮. অতিরিক্ত মরিচ খেলে শুক্র তরল হয়ে যায়। এছাড়া রতি শক্তি হ্রাস পায়।

৯. বেশি পরিমানে মরিচ খেলে শরীর গরম হয়, মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে যায়। এছাড়া পাকস্থলীতে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়ে যায়।

১০. লঙ্কা বেশি খেলে হজম শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। ভয়ঙ্কর রকমর অজীর্ণ রোগ দেখা যেতে পারে। যে রোগ সারানো প্রায় দুঃসাধ্য!

সূত্র- নয়া দিগন্ত।