banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

ভালোবাসুন নিজেকে,দূরে থাকুন অবসাদ থেকে!

অবসাদগ্রস্ততার কারণ

2057_1

আমরা নানা কারণে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ফ্যাটিগ সিনড্রোম। কারণ জানা থাকলে নিজেই কাটিয়ে উঠতে পারেন অবসাদগ্রস্ততা। বিস্তারিত জানালেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ফারুক হোসাইন

কম ঘুম : ঘুম মানে কর্মহীনতা নয়, নতুন করে কর্মে ফিরে যাওয়ার শক্তি জোগায় ঘুম। তাই যাঁরা কম ঘুমান, কাজকর্মে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয় না। সুস্থ থাকতে চাইলে প্রতি রাতে কমপক্ষে সাত-আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

সমাধান : প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। ঘুমানোর কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে থেকে চা-কফি খাওয়া বন্ধ রাখুন। ঘুমানোর আগে টিভি দেখা, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করা বন্ধ করুন।

অপরিমিত খাদ্য গ্রহণ : সকালের নাশতা না খেয়ে থাকলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আবার খাবার গ্রহণ পরিমিত বা সঠিক না হলে দেহে অবসাদ ভর করতে পারে। যেমন চর্বিযুক্ত বিরিয়ানি খেলে অবসাদ লাগে। কারণ এই খাবার ভেঙে গ্লুকোজ উৎপাদন করতে শরীরের বেশি সময় লাগে।

সমাধান :তেল-চর্বিযুক্ত খাবার না খেয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করুন। যখন খুশি তখন খাবার গ্রহণ না করে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অতিরিক্ত ওজন : স্থূল মানুষের শরীরের বাড়তি ওজনের কারণে তাদের হাঁটাচলা থেকে শুরু করে যেকোনো কাজেই বেশি শক্তি খরচ হয়। তা ছাড়া বাড়তি ওজন হলে অসুখবিসুখও বেশি হয়।

সমাধান : ওজন কমাতে ডায়েটিং করুন, ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

কর্মহীনতা : কর্মহীন দেহে অবসাদ দ্রুত ভিড় করে। কর্মহীন ব্যক্তি নানা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। ফলে তিনি কাজকর্মে উদ্যম হারিয়ে ফেলেন। নিজের অজান্তেই তাঁর মধ্যে এ পরিবর্তন ঘটে। আবার অনেক রোগে আক্রান্ত হন।

সমাধান : পছন্দ হোক আর না হোক, যেকোনো একটি কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

পানিশূন্যতা : পানিশূন্যতা অবসাদগ্রস্ততার অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত ঘাম, পাতলা পায়খানা, বমি, দীর্ঘ সময় পানি না খেয়ে থাকা পানিশূন্যতার কারণ।

সমাধান : পানিশূন্যতা পূরণে ঘন ঘন পানি পান করুন। দেহকে সুস্থ, কর্মময় রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি গ্রহণ করা উচিত।

অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ : ঠাণ্ডার কারণে বা অ্যালার্জির কারণে অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খেলে কর্মক্ষমতা কমে যায়। অন্যদিকে যাঁরা টেনশন কমানোর ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছেন, তাঁরাও ঘুম ঘুম ভাবের কারণে অবসাদে ভুগতে পারেন।

সমাধান : ঘুম ঘুম ভাব করে না এমন অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়, তা সেবন করা।

খাবারে অ্যালার্জি : অনেক খাবারে অ্যালার্জি হয়। এসব খাবার খেলে শরীর চুলকাবে, ত্বকে লালচে র‌্যাশ উঠবে এমন কথা নেই। কাজকর্মে শক্তি বা মনোযোগ হারিয়ে ফেলা এসব অ্যালার্জির কারণে হতে পারে।

সমাধান : খেয়াল করুন কোন খাবার খেলে আপনার দুর্বল লাগে। যদি তা নির্ণয় করতে পারেন, তবে তা এড়িয়ে চলুন।

আরো যা করবেন

যদি ছয় মাসের অধিক সময় ধরে অবসাদগ্রস্ততায় ভোগে, তবে ধরে নেওয়া যায় তিনি ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমে ভুগছেন। এসব রোগী প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে রোগীকে কাজের ধরন পাল্টাতে হয়। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হয়। ঘুম যাতে ফ্রেশ হয়, সে ব্যবস্থা করতে হয়। কর্মে উদ্দীপনা ফিরে পেতে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।

এ ছাড়া গৃহিণীরা দৈনন্দিন কাজের একটি রুটিন করে নিন। কখনোই ভাববেন না আপনার ঘরের কাজের কোনো মূল্য নেই। নিজের কাজের মধ্যে নিজেই আনন্দ খুঁজে নিন। অবসাদ ঝেড়ে ফেলে নতুন প্রাণে জেগে উঠতে ব্যায়াম করুন, বেড়াতে যান, ঘর গোছান, গান শুনুন, বই পড়ুন, সিনেমা দেখুন ও রান্না করুন। মনে রাখবেন কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।

সূত্র- কালের কন্ঠ।

শিশুর প্রতি মানসিক নির্যাতন- যা অনেক সময় নিজের অজান্তেই করা হয়!

Cute-School-Children-Photo-5

সাধারণত মা-বাবা জেনেবুঝে শিশুর ওপর নির্যাতন করেন না। কিন্তু তাঁদের অসচেতনতা, শিশু লালন-পালনের অদক্ষতা, মানসিক চাপ, অসুস্থতা, পারিবারিক বা অর্থনৈতিক ঝামেলা, নিজে শৈশবে নির্যাতনের শিকার হওয়া ইত্যাদি কারণে শিশুর ওপর নির্যাতন করে ফেলেন। মা-বাবা একটু সচেতন থাকলে শিশুর ওপর মানসিক নির্যাতন অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যাপারে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, সাইকোলজিষ্ট তানজির আহমেদ তুষার। 

আসুন জেনে নিই, কিভাবে অভিভাবকরা শিশুর ওপর নির্যাতন করে ফেলেন এবং এর প্রভাবই বা কী।

কথা দিয়ে নির্যাতন

অনেক মা-বাবা বা অভিভাবক প্রায়ই শিশুকে বকাঝকা করেন, উঠতে-বসতে খোঁটা বা গালি দেন। এ ছাড়া অপমানজনক কথা বলেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তিরস্কার করেন। এতে শিশু কথার মাধ্যমে নির্যাতিত হয়। এসবের মাত্রা বেশি হলে শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তি

শিশুকে কথায় কথায় শাস্তি দিলে তা-ও মানসিক নির্যাতন। অনেক অভিভাবক হাসি বা কোনো সৃজনশীল কাজের জন্যও শিশুকে বকা দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার শিশুকে কাছে আসতে দেন না বা ‘খারাপ’ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কারো সঙ্গে মিশতে দেন না। এগুলোও মানসিক নির্যাতন। কারণ শিশু মা-বাবার শারীরিক সংস্পর্শে না যেতে পারলে নিঃসঙ্গ বোধ করে। তার সমবয়সী ও চাচাতো-খালাতো-মামাতো-ফুপাতো ভাইবোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে না পারলে তার সঠিক বিকাশ হয় না।

অবজ্ঞা করা

শিশুকে অবজ্ঞা করাও মানসিক নির্যাতন। কারণ এতে শিশুর সব ধরনের বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েক ধরনের অবজ্ঞাজনিত নির্যাতন রয়েছে। যেমন-

মৌলিক অধিকারের বেলায়

প্রতিটি শিশুরই খাদ্য, পোশাক, বাসস্থানের নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর বিষয় থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সে অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব অভিভাবকের। সেটি রক্ষা না হলে তা হবে শিশুর জন্য অবজ্ঞাজনিত নির্যাতন।

আবেগীয় অবজ্ঞা

শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রয়োজনীয় ভালোবাসা, আদর-স্নেহ, বুদ্ধি ও আবেগের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দীপনাসহ যথেষ্ট যত্ন করা না হলে সেটা হবে আবেগীয় অবজ্ঞা বা নির্যাতন।

তদারকির ক্ষেত্রে

অভিভাবকরা একটি ছোট শিশুকে বেশ কিছু সময়ের জন্য একাকী বা খালি বাসায় রেখে কোথাও গেলে শিশুকে তদারকির ক্ষেত্রে অবজ্ঞা করছেন বলে ধরা হয়। এটিও শিশুর জন্য নির্যাতন।

চিকিৎসাগত অবজ্ঞা

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে শিশুর চিকিৎসা না করানো বা টিকা দিতে বিলম্ব হলে তা হবে চিকিৎসাগত অবজ্ঞাজনিত মানসিক নির্যাতন।

শিক্ষাক্ষেত্রে

শিশুকে তাঁর শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে, তাঁর স্কুল বা পড়াশোনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর না রাখলে, স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক ও সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা না করা হলে এবং সময়মতো স্কুলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না করা হলে শিশু মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়।

মানসিক নির্যাতনের কুফল

শারীরিক নির্যাতনের মতো মানসিক নির্যাতনও শিশুর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনের তুলনায় মানসিক নির্যাতনের প্রভাব বেশি হয়। এটি শিশুর বুদ্ধি, ব্যক্তিত্ব, আচরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ছাড়া তাকে সমাজে মানিয়ে নিতে সমস্যায় ফেলতে পারে। পরে দাম্পত্য, পারিবারিক ও কর্মজীবনে নানা ধরনের অসুবিধায় ফেলে। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তার মতো মানসিক রোগও হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে শিশুর।