banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

নারী- সামাজিক মনস্তত্ব

2454

 ‘নারী বা পুরুষ হয়ে কেউ জন্মায় না : সামাজিক পরিবেশ, প্রথা, সংস্কৃতি একটি শিশুকে ধীরে ধীরে নারী বা পুরুষ করে তোলে।’ সামাজিক মনস্তত্ত্ব হচ্ছে জনমনে প্রতিদিন উদিত তাৎক্ষণিক ধ্যানধারণা, মতামত, আবেগ ও খেয়াল যার মধ্যদিয়ে প্রতিফলিত হয় সমাজে জনগণের অবস্থান এবং যা তাদের সামাজিক ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনে চালিত করেশ্রেণিবিভক্ত শোষণমূলক প্রতিটি সমাজে প্রতিটি শ্রেণি, গোষ্ঠী বা স্তরের একটি নির্দিষ্ট অবস্থান ও নির্দিষ্ট অবস্থান ও নির্দিষ্ট স্বার্থ থাকে, পাশাপাশি থাকে ধ্যানধারণা, মতামত ও ভাবাবেগ। এগুলোই তার সামাজিক মনস্তত্ত্ব। পুঁজিবাদী সমাজে মালিক আর শ্রমজীবীর মনস্তত্ত্ব এক নয়, এক নয় পুরুষ ও নারীর মনস্তত্ত্ব। সভ্যতার শুরু থেকেই নারী এক অবহেলিত প্রাণী হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এ কারণেই অনেকে বলে থাকেন পৃথিবী যখন অসভ্য ছিল নারীর তখন সুখ ছিল, ক্ষমতা ছিল, পরিচয় ছিল। সে-ই ছিল পরিবার ও সমাজের মধ্যমণি।

যখন থেকে সভ্যতার শুরু হলো, নারী তখন থেকেই ধীরে ধীরে নিক্ষিপ্ত হলো পরিবার ও সমাজের অাঁস্তাকুড়ে। পুরুষ প্রধান এ সমাজে কন্যাশিশুর জন্ম প্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত। কন্যাশিশুর এ অবস্থার পেছনে কাজ করে পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক মনস্তত্ত্ব। পরিবার ও সমাজে এমন একটা বোধ গড়ে উঠেছে যে_

১. কন্যাশিশুরা পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী নয়;

২. প্রধান অর্থ উপার্জনকারী নয় বলেই তার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি বিষয়ে ব্যয় করা অযৌক্তিক;

৩. কন্যাশিশু মানেই বোঝা, কারণ তার বিয়ের সময় বিপুল ব্যয়;

৪. ভবিষ্যতে ছেলেশিশুরাই পিতামাতার ভরণ-পোষণ করে;

৫. কন্যাশিশুদের মেধা কম।

আজ যে কন্যাশিশু আগামীকাল তাকেই নানা সামাজিক প্রথার ও দৃষ্টিভঙ্গির বন্ধনে জড়িয়ে নারী হিসেবে সমাজে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রথা ও দৃষ্টিভঙ্গি আবহমান কাল থেকে আমাদের সমাজ ধারণ করে আসছে, লালন-পালন করে আসছে। সমাজের এসব প্রথা কন্যাশিশুকে শুধু অবদমিতই করে না, তাকে পারিবারিক, মানসিক এবং শারীরিকভাবেও দুর্বল করে তোলে। যুগ যুগ ধরে এর খেসারত দিতে হচ্ছে নারীকেই। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মভীরু। ধর্ম মানুষের অন্তরের বিশ্বাস। এখানে যুক্তি অর্থহীন। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভবের প্রাথমিক পর্যায়েই নারী-পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। সম্পত্তিতে অধিকার না থাকার ফলে নারী এখনো পরজীবী হিসেবে সমাজে পরিচিত। শুধু তা-ই নয়_ এখনো অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা বস্তু বা পণ্য হিসেবে বিবেচিত। সুতরাং তার স্বত্বা, মেধা বা মননকে নয় বরং দৈহিক রূপকেই বড় করে দেখা হয়। শরৎচন্দ্র তার ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধে লিখেছেন_ ‘কি পরিমাণে তিনি সেবা পায় না, স্নেহশীলা, সতী এবং দুঃখে কষ্টে মোনা। অর্থাৎ তাহাকে লইয়া কি পরিমাণে মানুষের সুখ ও সুবিধা ঘটিবে। এবং কি পরিমাণে তিনি রূপসী’ অর্থাৎ পুরুষের লালসা ও প্রবৃত্তি কতটা পরিমাণে তিনি নিবদ্ধ ও তৃপ্ত রাখিতে পারিবেন।

সিমঁ দ্য ব্যুভুয়া তার ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’-তে দেখিয়েছেন_ ‘বুর্জোয়ারা সেই পুরনো নীতিবোধকেই অাঁকড়ে ধরে থাকে যে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি পারিবারিক সংবদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে নারীর তেমন কোনো অধিকার নেই।’ আমাদের দেশের সব আইন পরিচালিত হয় সংবিধান অনুযায়ী, কিন্তু সম্পত্তিতে অধিকারের আইনের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয় ধর্মীয় প্রথা। এ দেশের সমাজব্যবস্থায় মনে করা হয় বিয়েই হচ্ছে সম্পদহীন কন্যাসন্তানের চূড়ান্ত গন্তব্য। ধর্মীয় বিধানও তাই বলে। বিয়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন নারীর শুধু ঠিকানাই বদলায় না, তার পরিচয়ও বদলে যায়; অধিকাংশ ক্ষেত্রে নামটা পর্যন্ত। আর এই বদলের মধ্যদিয়েই আমৃত্যু নারীকে বরণ করতে হয় পরিচয় সঙ্কট। পাশাপাশি পুরুষকে কিছুই বদলাতে হয় না। সম্পত্তির উত্তরাধিকার যেহেতু প্রজন্মের পর প্রজন্ম পুরুষ সন্তানের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দরকার হয় সে কারণে কন্যাসন্তানের জন্মকে সামাজিক মনস্তত্ত্ব স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না, তাকে স্বাগত জানাতে পারে না। আমাদের দেশের পরিবারগুলোয় এ অবস্থা অনেকটা মনোসামাজিক বিকারের পর্যায়ে অবস্থান করছে। অন্যদিকে আজকের যুগে এসেও নারীর মুখ কালো হয়ে যায় তখন তারা জানতে পারে তার গর্ভে বেড়ে উঠছে কন্যাশিশুসন্তান। কারণ এখনো ঘরের পুরুষটিকে তারা সুখী করতে চায়, ঘরের পুরুষের কালো মুখ দেখতে তারা ভয় পায়। আত্মপরিচয়ের সঙ্কটে থাকা নারীর মনস্তত্ত্ব গড়ে ওঠে পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাবে। পুরুষের অত্যাচারে, নারী-পুুরুষের সব কাজে ‘হ্যাঁ’ বলতে শিখেছিল কোনো বিবেচনা ছাড়াই। সে বুঝেছিল পুরুষের সব কাজে ‘হ্যাঁ’ না বললে এ সমাজে বা পরিবারে তার অস্তিত্ব থাকবে না। হাজার বছর ধরে চর্চিত এই ব্যবস্থার ফলে নারীর মনোবিকাশ ভোঁতা হয়ে পড়েছে।

কোনো আত্মবিশ্লেষণ ছাড়াই নারী বিশ্বাস করে পুরুষের তুলনায় তার যোগ্যতার অভাব, বুদ্ধির ঘাটতি, কর্মদক্ষতার অভাব রয়েছে। এর ফলে নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এ থেকেই মনে হয় পরিবারে পুরুষ হলো বুর্জোয়া আর নারী হচ্ছে সর্বহারা। নারীর সঙ্গে পুরুষের সম্পর্ক আসলে অধীনতার সম্পর্ক। সৃষ্টির ধারাবাহিকতাকে ধারণ করে পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখে যে নারী তার সার্বিক পরিস্থিতি, তার বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া খুবই ভয়াবহ। এই চরম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় কেবল নারীর মনোবিকাশ নয়, পুরো সভ্যতার বিকাশই থমকে যেতে বাধ্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু নারী-পুরুষের সৃষ্টিশীলতায় যে সভ্যতা আজ গড়ে উঠেছে তাকে অর্থবহ করতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস। এই প্রয়াসকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই লিঙ্গ বৈষম্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে সব শিশুর সমবিকাশের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের কর্তব্য হওয়া উচিত। এ কাজ কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন গতানুগতিকতার বাইরে এসে সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি ঢেলে সাজানো, প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচলিত সংস্কৃতির বাইরে সমঅধিকারের চর্চায় বাধ্য করানো। সর্বোপরি সমাজ ও পরিবারের মনোজগতের পরিবর্তনের জন্য দেশব্যাপী একটি ব্যাপক ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

লিখেছেন- সুতপা বেদজ্ঞ

আগে সামাজিক বিবেককে জাগিয়ে তুলতে হবে- রুলা গণি

84454_nari-2
এমন এক সময় ছিল যখন আফগানিস্তানের নারীদের লোকসমাগমে প্রায় দেখাই যেত না। এমনকি নেতাদের স্ত্রীদেরও নয়। হয়তো কদাচিৎ কোনো কারণে এমন পরিবেশ বা অবস্থায় কোনো নারীর দেখা মিললেও তারা থাকতেন আবরু রক্ষা করে। মনে করা হতো, এটি আফগানিস্তানের ঐতিহ্য। এমনকি একসময়ে দেশটির ফার্স্ট লেডিও এমন রীতিকে স্বাগত জানাতেন। তবে ক্রমে দেশটির সমাজে এ ধ্যানধারণায় পরিবর্তন আসতে থাকে। এমন পরিবর্তনের পক্ষে নানা মত প্রকাশ করেন দেশটির নতুন ফার্স্ট লেডি রুলা গনি। এসব ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমের সামনেও কথা বলেন।
রুলা বলেন, দেশটির নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে আমাদের আরো সচেষ্ট হতে হবে। এ ব্যাপারে আমি সবাইকে উৎসাহিত করতে চাই। নারীদের চলার পথে নানা ভালো সুযোগ করে দেয়া গেলে তাদের জীবনে অগ্রগতি আসবে। রুলা গনি মনে করেন, নানা কুসংস্কারের দেয়াল ভাঙতে প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনসমর্থন। এ জন্য উপযুক্ত সময় প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন সুযোগ কাজে লাগালে ভালো ফল আসতে পারে। সেই ইচ্ছাও তার পূরণ হয়। চলতি বছর (২০১৪) অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আশরাফ গনির নির্বাচনী প্রচারণায় রুলা জনসম্মুখে উপস্থিত থেকে এ সংক্রান্ত নানা কথা বলেন। এ দিকে আশরাফ গনিও নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে এক আবেগময় বক্তৃতা দেন। এটি ছিল মূলত স্ত্রী রুলা গনির উদ্দেশে। আর তখনই রুলা পরিণত হন গোটা দেশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। রুলা খুশির সাথে বলেন, আমার স্বামী (আশরাফ গনি) আমাকে সবার সামনে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাতে এটাই বোঝা যায় যে আমি আফগানিস্তানের মেয়েদের আরো সচেতন হতে অনুপ্রেরণা জোগানোর কথা বলতে চাই। তবে তিনি যা করতে চাইছেন তা মোটেই সামাজিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের বিপরীত বা সাংঘর্ষিক নয়। অর্থাৎ বর্তমান সমাজের ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে না। রুলা গনি বলেন, আমি পশ্চিমে বড় হয়েছি ঠিকই, তবে সেখানাকার সমাজের রক্ষণশীলতার মনোভাব আমাকে প্রভাবিত করতে পারেনি মোটেই; বরং এসব দেশে থেকে এসংক্রান্ত অনেক শিক্ষা বা ধারণা হয়েছে আমার। তবে আমার যেটুকু কষ্ট তা হলো আমার পুরো পরিবারকে আমি একসাথে পাইনি। তারপরও মনে করি, সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভালোই রেখেছেন। আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তখনই যখন দেখি আমার কথা, উপদেশ, পরামর্শ ইত্যাদি মানুষ মনোযোগ সহকারে শুনছেন। আর মনোযোগ সহকারে শোনা মানেই এসবের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির (আফগানিস্তান) অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তারপরও এখনো অনেক শক্ত আছে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক অনেক দিক। আর এটিই হচ্ছে বিরাট ইতিবাচক দিক। রুলা গনির জন্ম লেবাননের এক খ্রিষ্টান পরিবারে। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। রাজধানী বৈরুতের যুক্তরাষ্ট্র ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন ১৯৭০-এর দিকে। পড়াশোনার ফাঁকে পরিচয় ঘটে আশরাফ গনির সাথে। রুলা প্রায় এক বছরের পড়াশোনা করে বৈরুতে যান। প্রতিষ্ঠানটি ছিল ফ্রান্সের প্যারিসের সায়েন্সের পো ইনস্টিটিউট। এক সময় ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। এমনকি এক বিক্ষোভে গ্রেফতারও হন রুলা। তারা দু’জন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১৯৭০-এর শেষের দিকে। সেখানেই আশরাফ গনি শেষ করেন পিএইচডি। আর ক্যারিয়ার শুরু করেন বিশ্বব্যাংকে। তারা দুই সন্তানের বাবা-মা। ছেলে তারেক উন্নয়ন গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আর মেয়ে মরিয়ম ভিডিও আর্টিস্ট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তারা খুবই গর্বিত নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য নিয়ে। বলা যেতে পারে মা রুলার দেখাশোনার কারণে নিজ সন্তানেরাও ব্যাপক পরিচিতি ঘটাতে পেরেছেন দেশে। রুলা গনি নারীদের পাশাপাশি শিশুদের উন্নয়নেও কাজ করেন। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুরা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সে জন্য তাদের (শিশু ও মায়েদের) নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। রুলা মাঝে মধ্যেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়ান এবং সেখানকার লোকেদের সাথে তাদের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জন্য ভালো কিছু করা খুবই জরুরি। অনেক সাধারণ নারী আছেন যারা সমাজে মিশে প্রচুর কাজ করেন। রুলা মনে করেন, দেশটি যুদ্ধবিধ্বস্ত হলেও সামাজিক কাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্ত আছে। এর ওপর ভর করেই অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া মোটেই কঠিন নয়। রুলা গনি আফগানিস্তানে ফিরে আসেন তার (রুলা) বিয়ের পর। বসবাস করতে থাকেন কাবুলে। এর বছর তিন পর আশরাফ গনি কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এর ফাঁকে সিদ্ধান্ত নেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানথ্রোপলজিতে ডক্টরেট ডিগ্রি নেবেন। তারা দুই বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত হস্তক্ষেপ ও অভ্যুত্থানে তাদের সব কিছু পাল্টে যায়।
বিভিন্ন যুক্তিতে তাদেরকে ফেরত না আসতে বলা হয়। রুলা বলেন, আমার স্বামীর পরিবারের অনেক সদস্য পুল-ই চারখি কারাগারে বন্দী ছিল এবং ভয় ছিল যে আমরা ফেরত এলে তাকেও (আশরাফ) কারাগারে নিক্ষেপ করা হবে। সুতরাং আমরা যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাই, যে থাকা দুই বছরের স্থলে টানা প্রায় ৩০ বছর হয়ে যায়।
সূত্র- নয়া দিগন্ত

মেয়েদের বিয়ের বয়স নূন্যতম ১৮ রাখার দাবী।

মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদিত ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪’ এ বিয়ের বয়স কমানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে ৬৮টি নারী ও মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম  সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। একইসঙ্গে প্রস্তাবিত  বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এ মেয়েদের  বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ রাখার দাবি জানিয়েছে কমিটি। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম সাংবাদিক সম্মেলন পরিচালনা করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ হতে গত ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নিকট বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিয়ের বয়স না কমানোর  দাবি জানিয়ে যে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় তা পাঠ করে শোনান বাংলাদেশ নারী প্রগতির সংঘের উপ-পরিচালক শাহানাজ সুমী।
বক্তব্য রাখেন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী  পরিচালক রঞ্জন কর্মকার। উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র, মহিলা পরিষদ, নারী প্রগতি সংঘ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, বাউশি, ঢাকা ওয়াই ডাব্লিউসিএ, নাগরিক উদ্যোগ, নারী মৈত্রী, আরডি আরএসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।