banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

প্রথম নারী প্রধান

প্রথম নারী হিসেবে ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থার (সার্ন) কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের শীর্ষ পদে গত মঙ্গলবার নির্বাচিত হয়েছেন ফাবিওলা জানোত্তি।

ইতালির এই পদার্থবিজ্ঞানী ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেবেন। সার্নের অধীনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘হিগস-বোসন কণা’ আবিষ্কারের ঘটনাটি গণমাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা করার মধ্য দিয়ে ২০১২ সালে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন জানোত্তি।

সার্ন হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ৫২ বছর বয়সী জানোত্তি ১৯৮৭ সালে সার্নে যোগ দেন।

রয়টার্স

প্রসূতি সেবায় অনন্য এরা

রেহানা বেগম (বাঁয়ে) ও মমতাজ বেগম

দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বরগুনা সদরের গৌরিচন্না ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ বারান্দায় অনেক নারী সেবার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রসূতিও রয়েছেন। পাশেই একটি কক্ষে দেখা গেল, দুজন পরিবারকল্যাণকর্মী তিন-চারজন নারীর সঙ্গে কথা বলছেন। বোঝা গেল, কর্মীরা নারীদের কাছ থেকে তাঁদের নানা সমস্যার কথা জেনে নিচ্ছেন।
নারী কর্মীদের একজনের নাম রেহানা বেগম (৪৫), অপরজন মমতাজ বেগম (৫০)। তাঁরা দুজনই পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। ৩০ অক্টোবর সরেজমিনে ওই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে অপেক্ষমাণ নারীদের মধ্যে একজনের কাছে সেখানকার সেবার মান কেমন তা জানতে চাইলে আগ বাড়িয়ে অপর এক নারী বলেন, ‘এই দুই আফার হাতযশ আছে। মনে অয় হ্যাগো হাতে জাদু আছে।’
ওই কেন্দ্রের সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের দুজনের প্রচেষ্টা ও পরিচর্যায় এই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে গত এক বছরে ২৪৪ জন প্রসূতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসব করেছেন। আর এরই স্বীকৃতি হিসেবে এই কেন্দ্রটি স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে সারা দেশে দ্বিতীয় এবং বরিশাল বিভাগে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। শুধু তা-ই নয়, মা ও শিশুসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনা সদর ও জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া মমতাজ বেগম একই কার্যক্রমের সফলতার জন্য জাতীয় পর্যায়ে তিনবার পুরস্কৃত হয়েছেন।
কয়েকজন প্রসূতি জানান, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রসূতিসেবার জন্য উন্মুক্ত এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যখনই প্রয়োজন পড়ে, তখনই জরুরি প্রসূতিসেবা দিতে ছুটে আসেন এই দুই নারী কর্মী। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা নিজেদের বেতনের টাকায় গরিব পরিবারের প্রসূতিদের জন্য অস্ত্রোপচার ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার খরচও দেন। কোনো প্রসূতির সন্তান প্রসবে জটিলতা দেখা দিলে তাঁরাই বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
রেহানা বেগম বললেন, ‘চাকরিই বড় কথা নয়; বড় হলো একজন মানুষ কতটা দায়িত্বশীল, সেটা। সারা দিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলে যদি কোনো রোগীর জটিলতার কথা শুনি, তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারি না। ক্লান্তিও আর ঘরে আটকে রাখতে পারে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে আসি। পরিশ্রমের পর যখন ফুটফুটে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, তখন সব ক্লান্তি মুছে যায়।’
মমতাজ বেগম বলেন, ‘চাকরির সময় সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত হলেও জীবন কোনো সময়সীমার মধ্যে আটকে থাকে না। একজন প্রসূতি কখন প্রসববেদনায় কাতর হবেন, তার ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। তাই পুরো সময়টাকে দায়িত্ব মনে করে কাজ করছি। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখন কেবল গৌরিচন্না ইউনিয়ন নয়, পাশের বদরখালী, ফুলঝুরি ইউনিয়নের প্রসূতিরাও ছুটে আসেন।’
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিরবণী ঘেঁটে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে এই কেন্দ্রে সেবা নিয়েছেন এক হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে ২৭২ জন প্রসূতির সেবা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জন স্বাভাবিক প্রসব করেছেন। ৪৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রসবোত্তর সেবা নিয়েছেন ১১০ জন। এর মধ্যে ৮৩ জন কিশোরীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
গৌরিচন্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধারাবাহিক সফলতার পেছনে দুই পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা রয়েছে। সে জন্য এ বছর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ব্যয় করে একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তৈরি করা হচ্ছে। যাতে দরিদ্র প্রসূতিদের দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা যায়।

-প্রথম আলো। 

বিচারহীন অবস্থা ই নারী নির্যাতন কে উৎসাহিত করছে

1402155849.
দেশে ধর্ষণের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৪৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হলেও অক্টোবর মাসে তা হয়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান মতে, গত অক্টোবর মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে মোট ১০৩টি । তার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৯ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১১ জনকে। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৭ জনকে। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সূচকই বেড়েছে। এমতাবস্থায় সমাজের বিশিষ্টজন মনে করেন, বিচারহীনতা ধর্ষণসহ সকল ধরনের নারী নির্যাতনকে উত্সাহিত করছে। আর সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল জানায়, তারা নারী নির্যাতনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পূর্বের তুলনায় প্রকাশ বেশি হওয়ায় মনে হচ্ছে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে।
মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৩টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে নারী নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্টে আরও দেখা যায়, শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৭ নারী এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ জন। এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছেন ১১ জন । তার মধ্যে এসিডদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৯ জন । তার মধ্যে অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬ জন নারীর ক্ষেত্রে। নারী ও শিশু পাচার করা হয়েছেন ২ জন। তার মধ্যে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে ১ জনকে। ৯৪ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪০ জন নারী।  এদের মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ১৬ জনকে। গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮ জন । তার মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৫ জনকে। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ৩৮ জনকে। ফতোয়ার শিকার হয়েছেন ৩ জন। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ২২ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে এবং ২১ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ১২ কিশোরী। নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই পুলিশ বাহিনীও। গত অক্টোবর মাসে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫ নারী। শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ১২ জনকে। এছাড়া অন্যরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এ মাসে ১৯টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় বাড়ি, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
কেন দিনদিন ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান ইত্তেফাকে বলেন, সকলের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে নারী নির্য়াতন হতো না। বিচারহীনতা নারী নির্যাতনকে উত্সাহিত করে। আমাদের এখানে ধর্ষণ করে কেউ শাস্তি পায় না। ধর্ষণের মামলা পুলিশ নিতে চায় না। দুই একটা যদিও নেয় তা শেষ পর্যন্ত শাস্তি দিতে পারে না অপরাধীকে। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীর প্রতি চিরায়ত লোলুপ দৃষ্টিভঙ্গি ধর্ষণসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতনের জন্য দায়ী । তারপর যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কারণ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কারণেও আজ নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। নারীকে অপদস্ত করার প্রধান হাতিয়ার হিসাবে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য উপায় বেছে নেয়া হচ্ছে। শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত নয় , ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ শেষে তা প্রচার করেও তারা অর্থ উপার্জন করছে। এই সকল ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের অভাব আছে। তা রোধ করতে সরকারের কঠোর হওয়ার আহবান জানান তিনি।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল -ইসলাম বলেন, ধর্ষণের মামলা গ্রহণ ও শাস্তি দানের জন্য যথেষ্ট প্রশাসন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে দোষী ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা যায় না। তবে সরকার এই বিষয়গুলো উতরে ওঠারও চেষ্টা করছে।
সূত্র- ইত্তেফাক।