banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

হার না মানা শাহনাজ এর গল্প

52a8b72344d8a-8

রাশিদা খাতুনঃ আপনার নামটা বদলে কী লেখা যায় বলেন তো?
প্রশ্ন শুনেই একটু থমকে যান তিনি। বলেন, ‘আমার গল্প আরেকজনের নামে কেন লিখবেন? আমি কি আপনাদের থেকে ভিন্ন কেউ। কেন পরিচয় লুকাতে হবে। আমার চেহারায় কি মানুষের ছাপ নেই?’ কথাগুলো বলছিলেন শাহনাজ বেগম। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত বেসরকারি সংস্থা দুর্জয় নারী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক শাহনাজ বেগম। জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসেছেন তিনি।
শাহনাজের জীবনকাহিনি শুনতে ১৮ নভেম্বর যাই তাঁর শ্যামলীর বাসায়। শাহনাজ জানান, চার ভাই ও দুই বোন নিয়ে আগে একটা সুখের সংসারই ছিল তাঁদের। থাকতেন মিরপুরে। বাবা ছিলেন মাছের ব্যবসায়ী। মা মারা গেলেন ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তখন শাহনাজের বয়স ১২ বছর। ঠিক ৪০ দিন পর বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। সৎমা এসে শাহনাজদের নির্যাতন করা শুরু করেন। মা-বাবা ভাত খেলেও তাঁদের দেওয়া হতো শাক আর আটার ঘন্ট। এরপর বাবা এক বোনকে যেন কোথায় দিয়ে দেন। তাঁর খোঁজ আর কোনো দিন পাওয়া যায়নি। সংসারে সৎমায়ের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য তিনি দূর সম্পর্কের এক মামার কাছে কাজ চেয়েছিলেন। মামা যে কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন সেটা ছিল যৌনকর্ম। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে এ পেশায় থাকতে হয়েছে। যার অধীনে তাঁকে কাজ করতে হতো তিনিই নিয়ে যেতেন শাহনাজের অর্জিত সব টাকা। বিনিময়ে থাকা-খাওয়া মিলত বিনা পয়সায়। সে সময়ের স্মৃতি উল্লেখ করে শাহনাজ বলেন, বয়স কম হওয়ায় তিনি ভালোভাবে খদ্দেরের চাহিদা মেটাতে পারতেন না। এর ফলে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। বস্তিবাসী এবং ভবঘুরেদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৯৯৬ সালে মেরী স্টোপস ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শাহনাজকে এলাকাভিত্তিক মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়। শাহনাজ নিয়োগ পান মেরী স্টোপস ক্লিনিকের মহাখালী শাখায়। সে সূত্রে তিনি মহাখালী, শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর বস্তির নারীদের পাশাপাশি, যৌনকর্মীদের ক্লিনিকে নিয়ে আসতেন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য। পূর্বপরিচিত একজন তাঁকে ঘর করার স্বপ্ন দেখালেন। শাহনাজ বিয়ে করলেন তাঁকে। ২০০১ সালের জন্ম নিল এক পুত্রসন্তান। সে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে। তবে শাহনাজ বুঝতেন এ ঘরে টিকে থাকা কঠিন হবে। হলোও তা-ই। স্বামীর নিষেধ সত্ত্বেও শাহনাজ দিন-রাত কাজের পিছে ছুুটেছেন। শাহনাজের স্বামী তাঁর ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। তিনি আবার বিয়ে করেছেন। ফিরে গেছেন নিজ গ্রামে। এ সময়ের মধ্যে কেয়ার বাংলাদেশ ও মেরী স্টোপস ক্লিনিকের যৌথ প্রজেক্ট ‘শক্তিতে’ কাজ করেন শাহনাজ। এইচআইভি প্রতিরোধসহ যৌন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারীর নিজস্ব উদ্যোগ কী হওয়া উচিত বুঝতে পারেন শাহনাজ। শাহনাজের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে ১৯৯৭ সালে কেয়ার বাংলাদেশ তাঁকে ভারতের যৌনপল্লি ‘সোনাগাছি’ পরিদর্শনে পাঠায়। ওই যৌনপল্লির কর্মীরা গড়ে তুলেছেন দুর্বার মহিলা সংগঠন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য। শাহনাজের মনে হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেও দরকার। ফিরে এসে কেয়ার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পরামর্শ ও সহযোগিতায় ঢাকার শ্যামলীতে গড়ে তুললেন ‘দুর্জয় নারী সংঘ’। এই সংঘ যৌনকর্মীদের স্বার্থে কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সেলাই প্রশিক্ষণ, মোমবাতি তৈরি, ব্যাগ তৈরি শেখাচ্ছেন তাঁদের। যাঁদের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে ফিরে গেছেন ঘরে। প্রতিবছর ৫০ জন বা তাঁরও বেশি যৌনকর্মীর লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হয়ে যায়। তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পারলে আইনি লড়াই করেন শাহনাজ। শাহনাজের স্বপ্ন, যেন কোনো মেয়ে ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে এসে যৌনকর্মী না হয়। এইচআইভি/ এইডস প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য কানাডা থেকে দুর্জয় নারী সংঘ পায় ‘রেড রিবন’ পুরস্কার। ইউক্রেন, থাইল্যান্ড
, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এই সংস্থা ‘রেড রিবন’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় ২০০৬ সালে।

শাহনাজের পুঁথিগত বিদ্যা নেই। কিন্তু জীবনের কাছে শিখে নিয়েছেন হার না মানার শিক্ষা।

শীতের ৫টি সমস্যার সমাধান করবে লবন!

images

শীতকাল এসেছে। আবহাওয়ার রুক্ষতার দরুন নানান ধরণের রোগ শোকের প্রবণতাও বেড়েছে। অল্পতেই গলায় খুশখুশে কাশি, কিংবা হঠাৎই ফ্লুয়ের আক্রমণ- এই সবই শীতকালের অংশ। আবার ত্বকের অবস্থাও বেশ নাজুক হয়ে যায় এই শীতে। এই সব থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে থাকেন সবাই। কিন্তু অনেকেই জানেন না মজার একটি তথ্য। রান্নাঘরের যে ছোট বয়ামে আপনি লবন রাখেন, সেখানেই আছে আপনার সকল সমস্যার সমাধান। লবণ যেমন রান্নার কাজে অতি দরকারি একটি জিনিষ ঠিক তেমনি এই শীতে শীতকালীন অনেক সমস্যার সমাধানেও লবন অতি জরুরী। আজ জেনে নিন লবণের ব্যাতিক্রম কিছু উপকারের কথা… 

কানের ইনফেকশন জনিত ব্যথা দূর করতে লবণ
শীতকালে কানে ব্যথা রোগে ভুগে থাকেন অনেকেই। কানের ইনফেকশনের জন্য হয়ে থাকে এই ব্যথা যা অনেক কষ্টদায়ক। অনেকেই কানের ব্যথায় তেল ব্যবহার করে থাকেন কিন্তু এটা একটি ভুল চিকিৎসা। কানের ব্যথা উপশমে আপনার দরকার শুধুমাত্র লবন।

এক কাপ পরিমাণ লবণ গরম করে নিন প্যানে কিংবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে। একটি মোটা কাপড়ে গরম লবণ নিয়ে কানে সহ্য করার মতো তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা হতে দিন। এরপরে শুয়ে থেকে ৫ মিনিট ধরে এই লবণের ভাপ নিতে থাকুন কানে। এভাবে প্রতিদিন ৩/৪ বার ভাপ নিন। কানের ইনফেকশন দূর হবে ।

ফ্লু রোধে লবন
শীতকালে সব চাইতে যন্ত্রণাদায়ক রোগ হচ্ছে ফ্লু। আর ফ্লু হওয়া মানেই ৩/৪ দিনের বিছানাবাস। নাক বন্ধ হয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হওয়া জনিত এই ফ্লু থেকে অতি সহজেই নিস্তার পেতে পারেন লবনের মাধ্যমে।
২৫০ মিলি লিটার হালকা গরম পানিতে ১/৪ চা চামচ লবন ও ১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এরপরে একটি পাম্প সিরিঞ্জের মাধ্যমে এই হালকা গরম পানি নাকে প্রবেশ করান। একপাশের নাক আঙুল দিয়ে চেপে ধরে অন্য পাশে এই হালকা গরম পানি প্রবেশ করান ও বয়ে যেতে দিন। এতে করে নাক বন্ধ সমস্যা দূর হবে। এবং পাশাপাশি ফ্লুয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস মুক্ত হবে।

গলার খুশখুশে কাশি দূর করতে লবনের ব্যবহার
গলার খুশখুশে অনুভূতি ও কাশি দূর করার সব চাইতে প্রচলিত ও সর্বজন স্বীকৃত সহজ উপায় হচ্ছে লবণ গরম পানির গারগল। অনেকেই মনে করে থাকেন গারগলে তেমন উপকার পাওয়া যায় না। কিন্তু এটি অনেক কার্যকরী একটি ঔষধ শীতকালীন এই সমস্যা দূরীকরণে।

২৫০ মিলি লিটার গরম পানিতে ১ চা চামচ লবন দিয়ে মিশিয়ে নিন। পানির গরম আপনি যতটুকু সহ্য করতে পারবেন ততোটুকু নিন। এরপর এই গরম পানি দিয়ে গারগল করুন দিনে ৩/৪বার। সব চাইতে সহজ হলেও গলার খুশখুশে অনুভূতি ও কাশি দূর করার সব থেকে দ্রুত উপায় হচ্ছে লবন গরম পানির গারগল।

ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে লবন
শীতকালে সবার ত্বকেই আসে শুষ্কতা। এই শুস্কতা দূর করার অনেক উপায়ের মধ্যে সবচাইতে সহজ উপায় হচ্ছে লবনের ব্যবহার। শীতকালে কম বেশি সবাই গরম পানিতে গোসল করে থাকেন। এই গরম পানির মধ্যে লবন মিশিয়ে নিন। এতে করে ত্বকের আদ্রর্তা বজায় থাকবে ও ত্বক নরম ও কোমল হবে।

সাইনাসের সমস্যা দূর করতে লবন
শীতকালে সাইনাসের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। যাদের এই সমস্যা আছে একমাত্র তারাই জানেন কতোটা দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই জন্য। কিন্তু শীতে সাইনাসের সমস্যাও কমাতে পারে লবন।

একটি পাত্রে ১ লিটার ফুটন্ত গরম পানিতে ১ চা চামচ লবন ও ১ চা চামচ বোরিক পাউডার দিয়ে মিশিয়ে নিন। এরপর এই পানির ভাপ নিতে থাকুন নাক দিয়ে। এতে করে অনেক উপশম হবে সাইনাসের সমস্যার।

তথ্যসূত্র: প্রিয় লাইফ

শীতে শিশুর নিউমোনিয়া!

524985_438087176202447_238645559479944_1690669_614473801_n

আমাদের দেশে সাধারন শীতের শুরু দিকে অনেকেই বিশেষ করে শিশুরা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। ঋতু পরিবর্তন সেই সাথে এই ঠান্ডা আবার গরম সব মিলিয়ে শিশুরা সহজেই সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে,যে সর্দিকাশি মানেই নিউমোনিয়া নয়! তবে যদি তেমন কিছু হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কি করনীয়? 

ঘটনা-১
বেশ কদিন ধরেই ঐশী (কাল্পনিক নাম) দারুণ সর্দিকাশিতে ভুগছে। সঙ্গে জ্বরও আছে। সারা রাত ঘুম নেই। ওষুধেও কিছু হচ্ছে না। তাঁর অভিভাবকদের আশঙ্কা এটা কি নিউমোনিয়া?

ঘটনা-২
স্কুলে শান্তর (কাল্পনিক নাম) এক বন্ধুর নিউমোনিয়া হয়েছে। সে নিজেও কয়েক সপ্তাহ আগে জ্বর থেকে উঠল। শান্তরও নিউমোনিয়া হতে পারে কি?

এটা কি ছোঁয়াচে রোগ?
নিউমোনিয়া নিয়ে এমন অনেক প্রশ্ন আসে আমাদের মনে। এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগ মিলিয়ে শিশুমৃত্যুর চেয়ে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি।

নিউমোনিয়া কী?
নিউমোনিয়া হচ্ছে ফুসফুসের ইনফেকশন। ভাইরাল ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ শিশুদের শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম। দ্বিতীয়ত, পরিবেশগত ও অন্যান্য কারণে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি কখন বাড়ে?
*শিশুদের ফুসফুসের রোগ থাকলে-যেমন অ্যাজমা, সিস্টিক ফাইব্রোসিস (যেখানে পাকস্থলী, প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি জায়গায় দেহের মিউকোসাল) সিক্রেশন চটচটে হয় বলে ফুসফুসে ইনফেকশন হয়।

* শিশুর শ্বাসনালি ও খাদ্যনালি জোড়া থাকলে নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে খাবার খেলে সেটা শ্বাসনালিতে ঢুকে যায়।
শিশু যা খায় তা-ই বমি করে ফেলে দেয় বা খাবার পেট থেকে ফুসফুসে ফেরত চলে যায়।

* পেশি দুর্বল থাকলে আক্রান্ত শিশুরা ভালো করে কাশি দিয়ে কফ বের করতে পারে না। খাবার শ্বাসনালিতে ঢুকলেও কাশি দিতে পারে না।
অনেক ক্ষেত্রে জ্নগতভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ ছাড়া এইডস, থেলাসেমিয়া হলেও প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় নিউমোনিয়া
হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সাধারণ সর্দিকাশি ও নিউমোনিয়া
শিশুদের সাধারণত সর্দি-কাশি, জ্বর লেগেই থাকে। বিশেষ কয়েকটি লক্ষণ থেকে বোঝা যাবে শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে কি-না।

প্রথমত সর্দিকাশি, জ্বরের সঙ্গে শিশু যদি খুব দ্রুত নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে, দুই বছরের কম বয়সের শিশু যদি প্রতি মিনিটে ৫০ বারের বেশি নিঃশ্বাস নেয় এবং দুই বছরের বেশি বয়সের শিশু যদি প্রতি মিনিটে ৪০ বারের বেশি নিঃশ্বাস নেয়, তাহলে বুঝতে হবে এটা সাধারণ সর্দিজ্বর নয়।

দ্বিতীয়ত, শান্ত থাকা অবস্থায় শিশুর যদি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, নিঃশ্বাস নিতে গেলে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, তাহলে তা নিউমোনিয়ার লক্ষণ।

নিউমোনিয়া কি ছোঁয়াচে?
শিশুদের যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাই ছোঁয়াচে বলা যেতে পারে। শিশুদের নাকে-কানে নিউমোনিয়া হওয়ার ব্যাকটেরিয়া মজুদ থাকে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?
* নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর পেট ভেতরে ঢুকে গেলে।
* নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নাক ফুলে উঠলে।
* মুখ ও ঠোঁটের চারপাশ নীল হলে, সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হলে।
* বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হলে। এ অবস্থায় সাধারণত শিশু বুকের যেদিকে ব্যথা করে সেদিকটা ধরে থাকে। যেদিকে ব্যথা সেই দিকে পাশ ফিরে শুয়ে থাকে। হাঁটু মুড়ে, হাঁটুটাকে বুকের কাছে এনে পাশ ফিরে থাকে।
* ঘন ঘন শুকনো কাশি হলে। কাশি হতে থাকলেও কফ বের করতে না পারলে।
* সব সময় মনে একটা অস্বস্তি, দুশ্চিন্তার মতো থাকলে।

চিকিৎসা
প্রথমেই রুটিন রক্ত পরীক্ষা আর বুকের এক্স-রে করা দরকার। এক্স-রেতে জানা যায় নিউমোনিয়া হয়েছে কি না, আর রুটিন রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়বে শিশুর ভাইরাল না ব্যাকটেরিয়াল, কোন ধরনের নিউমোনিয়া হয়েছে। তারপর চিকিৎসকের পরামর্শমতো তাড়াতাড়ি অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করতে হবে।

প্রয়োজন হলে শিশুকে স্টিম ভেপার দেওয়া যেতে পারে; কাফ মেডিসিনও নিতে হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রথম থেকেই ভালোভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। খাওয়া-দাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ-সব দিকেই বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার।

খাওয়া-দাওয়া
মায়ের দুধ খাওয়ানো অপরিহার্য। এর কোনো বিকল্প নেই। অপুষ্টির হাত থেকে বাঁচতে শাকসবজি, তাজা ফল, টাটকা মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রয়োজনে ভিটামিন সিরাপও খাওয়ানো যেতে পারে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, খাবারে যেন যথেষ্ট পরিমাণে জিংক থাকে। এ জন্য শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে কচি মুরগির মাংস, পনির, মসুর ডাল, শিম, কর্নফ্লেক্স, চিঁড়া ইত্যাদি।

পরিবেশ
বহু লোকের ভিড়ে শিশুকে বেশি না নিয়ে যাওয়াই ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখুন শিশুদের। বিশেষ করে ধূমপান করা হয় এমন পরিবেশে থাকলে শিশুদের ফুসফুসে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভ্যাকসিন
নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করার জন্য ভ্যাকসিনের চল এখন বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিন ব্যবহারে শিশুদের নিউমোনিয়া কমেছে।
মিজলস ভ্যাকসিন, হেমোফেলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন, নিউমোক্কাল ভ্যাকসিন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিলে ভালো। এর মধ্যে হেমোফেলাস ও নিউমোক্কাল ভ্যাকসিন দেওয়া হয় দুই মাস বয়সে। মিজলস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নয় মাস বয়সে।

এভাবে প্রতিরোধ করা হলেও নিউমোনিয়া যে একেবারে হবে না তা নয়। বারবার নিউমোনিয়া হলে শিশুর মেনিনজাইটিস, অস্টিওম্যালাইটিস, আর্থাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লেখকঃ ডাঃ গৌতম দাশগুপ্ত
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

শাকে দিন আলোর কিরণ

image_631_89953

পরের বার যখন সুপার মার্কেটে কিংবা অন্য কোথাও পাতাওয়ালা শাক কিনতে যাবেন, তখন দেখবেন এ শাকে আলোর কিরণ পড়ছে কি না। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাক করা শাকের মধ্যে রেফ্রিজারেটরের উজ্জ্বল আলোর কিরণ তিন দিন ফেলা হয়, তবে সে শাকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ভিটামিন সি, কে, ই এবং ফোলিক অ্যাসিড থাকে।

এর মধ্যে বেশি মাত্রায় থাকে carolenoids lutein Ges zeaxanthen।
অপর দিকে শাক যদি অন্ধকারে মজুদ রাখা হয় তখন এতে হয় প্রোটিনের মাত্রা কমে যায় কিংবা স্থির থাকে, বাড়ে না। পাতাময় শাকে ক্ষেত থেকে তুলে আনার পরও সালোক সংশ্লেষণ ঘটে। জানিয়েছেন প্ল্যান্ট ফিজিওলজিস্ট ড. জিন লেস্টার।

তিনি উপরোল্লিখিত গবেষণা পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘সুপার মার্কেটে শাক সম্পূর্ণ ভালো পরিবেশে রাখা হয়, বিশেষ করে শাকের ওপর জ্বালানো থাকে ২৪/৭ লাইট।’ সব ধরনের শাকসবজির জন্যই আলোর কিরণ তেমনি উপকারী।

খাবার খেয়ে সারুন হাঁটুর ব্যথা

লাখো মানুষ ভোগে হাঁটুর ব্যথায়। এর কারণ অস্টিও-আর্থ্রাইটিস। সোজা কথায় হাড়সংশ্লিষ্ট বাত রোগের কারণে তা হয়। এ থেকে রেহাই পেতে অনেকে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে বাড়তি ওজন কমান। কেউ কেউ সার্জারির আশ্রয়ও নেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার খেয়ে আরো মজাদার উপায়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ফল : মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফল খাওয়ার ফলে bone marrow lesion তথা হাড়ের মজ্জার সমস্যা সৃষ্টির ঝুঁকি কমে। এর ফলে সাধারণত হাঁটুর ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। হাঁটু সুস্থ রাখার জন্য চাই শহবব-knee-friendly fruit তথা হাঁটুবান্ধব ফল। আর এই হাঁটুবান্ধব ফল হচ্ছে সেগুলো, যেগুলোতে রয়েছে ভিটামিন সি। যেমন কমলালেবু, কিউই ফল, আঙুর ও পেঁপে।

সয়া : ওকলাহামা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোক তিন মাস ধরে প্রতিদিন খাবারের পর সয়াপ্রোটিন সেবন করেন ও অন্যান্য ওষুধ সেবন কমিয়ে দেন, তাদের হাঁটুর ব্যথা কম হয়। এই সমীক্ষায় অংশ নেয়া লোকদের খেতে দেয়া হয় গুঁড়ো সয়াপ্রোটিন, যাতে রয়েছে ৪০ গ্রাম প্রোটিন। একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে সয়াদুধ পান করেও। সয়াশস্য ও সয়া বার্গার খেয়েও একই সুফল পাওয়া যায়। এমনটিই জানিয়েছেন এ গবেষক দল।

মাছ : এক গবেষণা সমীক্ষায় জানা গেছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থামিয়ে দিতে পারে সেই রাসায়নিককে যা কার্যত ওস্টিও-আর্থ্রাইটিস। এটি হাঁটুর কোমলাস্থি সুষ্ঠু রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তৈলাক্ত মাছ খান যেমন মেকাবল কিংবা রুইজাতীয় মাছ। ১ গ্রাম ওমেগা-৩ ক্যাপসুল সেবন করুন প্রতিদিন।

 

কেমন আছে,বিদেশে আমাদের নারী শ্রমিকেরা?

 65233_nari-1

বাংলাদেশ থেকে এক হাজার নারী শ্রমিক সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আরব আমিরাত সফরে এই চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে নারী শ্রমিক পাঠানোর চুক্তিকে সাফল্য হিসাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিদেশে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা কেমন আছে? সে চিত্র আমরা খুব কমই জানি।

এখন নারী শ্রমিক যাচ্ছে হংকং সিঙ্গাপুর ও আরব দেশগুলোতে।  নারী শ্রমিকের জীবনের অভিজ্ঞতা আমরা জেনে নেই। কেমন আছে তারা।

১.
১৬ বছরের পারভীন। পাসপোর্টে ২৬ বছর বয়স দেখিয়ে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে লেবাননে গিয়েছিল কাজ নিয়ে। সেখানে মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হতো তাকে। কাজ করতে না পারলে চলতো শারীরিক নির্যাতন। পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল না তার। সেখান থেকে মুক্তির আশায় অন্য চাকরি খুঁজতে থাকে সে। এ সময় এক ব্যক্তি তার দুর্ভোগের কথা শুনে ভাল একটি চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সে ছিল এক দুর্বৃত্ত। তার খপ্পরে পড়ে গণধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি। এরপর নানা ঘটনার জন্ম।

২.
আমাতন বিবি। ৩৫ বছরের এ বিধবার ৩ ছেলে। ছেলেদের ভবিষ্যৎ গড়তে দালালের প্রলোভনে পড়ে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে স্থানীয় দালালকে দেন ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু দালালের প্রতারণায় বিদেশেও যেতে পারেননি। টাকাও ফেরত পাননি। টাকা ফেরত পেতে এলাকার মাতব্বরদের কাছে ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। ওই টাকার সুদও বেড়েই চলছে। আমাতন ওই টাকা ফেরত পেতে প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।

৩.
২০০৮ সালের ৩১শে অক্টোবর লেবাননে কর্মরত অবস্থায় নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান বাংলাদেশী নারী কর্মী মনোয়ারা। ওই সময় বলা হয় তিনি ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১২ সালের মে মাসে প্রমাণ হয় মনোয়ারা কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু আজও ক্ষতিপূরণ পাননি ৪ সন্তানের জননী মনোয়ারার স্বামী ওমর আলী। মনোয়ারার অভিভাবক হিসেবে প্রমাণ করতে তিনি এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

৪.
বিদেশে নারী শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কাজ করে তাদের পরিচালিত একটি গবেষনা প্রতিবেদনে ভয়বাহ চিত্র পাওয়া গেছে। গত বছরের শুরু থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) পরিচালিত গবেষণাটি গত ৩০শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের মেঘনা হল রুমে বিভিন্ন অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়। ‘এক দশকে বাংলাদেশের নারী অভিবাসন: অর্জন, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওই গবেষণায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের নারী কর্মীরা কাজ নিয়ে যেসব দেশে যাচ্ছেন সেখানে তারা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা সেখানে শিকার হচ্ছেন শারীরিক, যৌন এবং মৌখিক নির্যাতনের। অনেকে কাজের বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না, যা পাচ্ছেন তা খুবই কম। আবার অনেকে বিনা বেতনেই কাজ করে যাচ্ছেন মাসের পর মাস। নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ভিকটিম ২৬৪ জন নারী শ্রমিকের মধ্যে ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এছাড়া ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কোন বেতন পাননি এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগেছেন ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে, গত দুই বছরে বিদেশে মহিলা কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুণ। আর এসব কর্মী মূলত যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। যেখানে ১৯৯১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত গড়ে প্রতিবছর বিদেশে নারী কর্মী গেছেন ১৪শ’ ৭৯ জন করে। সেখানে ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে গেছে ২৫ হাজার ৭০২ জন। এসব কর্মীর ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ বিধবা, ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ তালাকপ্রাপ্ত, বিচ্ছিন্ন এবং স্বামী পরিত্যক্তা। ৬৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বিবাহিত এবং ৯ শতাংশ অবিবাহিত। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। দেখা গেছে, তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ২০১১ সালে ০.৫০ শতাংশ, ২০১২ সালে ০.৫২ শতাংশ। আর ২০১৩ সালে মোট রেমিটেন্সে তাদের অবদান ০.৮১ শতাংশ। বেশিরভাগই গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বেশ কিছু গার্মেন্টকর্মী হিসেবেও যাচ্ছেন।

সূত্র : মানবজমিন

ইয়াবার ভয়ংকর ছোবল!আসক্ত হচ্ছে স্কুল ছাত্রীরাও!

mojnubhaiblog_1316253447_1-_YABA_~1
অপরাজিতা ডেস্কঃ বি.বাড়িয়ায় মারণনেশা ইয়াবার আসক্তি দিন দিন বাড়ছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সীরা এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। সাম্প্রতিককালে স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের এ নেশায় আসক্ত হয়ে  পড়ার ঘটনায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি জেলা শহরের একটি গার্লস স্কুলের এক ছাত্রীর ব্যাগে ইয়াবা পাওয়ার পরই এ নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশিষ্ট চিকিৎসক, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ডাক্তার মো: বজলুর রহমান গত ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্কুলছাত্রীদের ইয়াবা আসক্ত হওয়ার কথা উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভ: মডেল গার্লস স্কুল ও আনন্দময়ী (নিতাই পাল) বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া গেছে। ওই স্কুলের ছাত্রীরা ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েছে। ওই সভায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধনাঢ্য পরিবারের এক মেয়ে নিজের ঘর থেকে টাকা চুরি করে নিয়ে এসে ধরা পড়ে স্কুলে। তার স্কুলব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় অনেক টাকা। ওই ছাত্রী শিক্ষককের কাছে অকপটে স্বীকার করে, ওই টাকায় ইয়াবা কেনাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
এইচএসসির প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী বেশ কয়েক দিন ধরে পড়ালেখায় অমনোযোগী। মা তাকে নিয়ে আসেন চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসকের জিজ্ঞাসার মুখে ওই ছাত্রী জানায়, সে ইয়াবার আসক্ত। ইয়াবা আসক্তির পর থেকেই সে অস্থিরতায় ভুগছে।
ওই দুই ছাত্রীর মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরো অনেক ছাত্রীই এখন ইয়াবায় আসক্ত। জেলার সুধীজনেরা এ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনও ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এ ব্যাপারে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ডা: বজলুর রহমান বলেন, ছাত্রীদের ইয়াবা আসক্তির বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। মূলত ছেলেবন্ধুদের প্ররোচনায় তারা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবার আগে অভিভাবকদেরই সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।
ইয়াবা ট্যাবলেট সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্যান্য মাদকের মতো কারো ইয়াবার আসক্তির বিষয়টি খুব তাড়াতাড়ি বুঝা যায় না। এ মাদক তিলে তিলে একজন মানুষকে শেষ করে দেয়। ইয়াবার টাকা জোগাড়ের জন্য খুন, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই করতেও আসক্তরা দ্বিধা করে না। ইয়াবা আসক্তিতে অকাল মৃত্যু অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভ: মডেল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা পারভীন আক্তার বলেন, আমাদের স্কুলের মেয়েদের ব্যাগে ইয়াবা পাওয়ার বিষয়টি একটা গুজব। তবে আমরা অনেক দিন ধরেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সন্দেহ করছিলাম। কিন্তু তাদের স্কুল ব্যাগ চেক করে মোবাইলফোন ছাড়া কিছু পাইনি। একটি মেয়ের কাছে বেশি টাকা পাওয়া গেলে অভিভাবককে ডেকে বুঝিয়ে দিই। তাকে বেশ কিছু দিন স্কুলে আসতে দেয়া হয়নি। তবে এখন সে পরীক্ষাও দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ওঠায় আমরা সতর্ক আছি। এমনকি প্রতিনিয়তই মেয়েদের নজরদারি করা হচ্ছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই একদিন মেয়েদের স্কুলব্যাগ চেক করা হয়। কিন্তু তখনো কিছুই মেলেনি। মূলত মেয়েরা ফেসবুকের
দিকে আসক্ত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত বলেন, একটি মেয়ের স্কুলব্যাগ থেকে ইয়াবা পাওয়ার পর বিষয়টি এখানেই শেষ তা ভাবলে আমরা ভুল করব। স্কুলের মেয়েদের ইয়াবা আসক্তির বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। একজন জনপ্রতিনিধি তার মেয়ের বরাত দিয়ে এক ছাত্রীর স্কুলব্যাগে ইয়াবা পাওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ইয়াবা প্রতিরোধে কিভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করব।
এ দিকে গত চার মাসে পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ১৩ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রায় ৩০ জন মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে।