banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

নারী পুলিশদের জন্য অপমানকর পরীক্ষা!

Article Lead - wide6327881011ovovimage.related.articleLeadwide.729x410.11oa8q.png1416272517633.jpg-620x349

সেটা ‘টু-ফিঙ্গার এক্সামিনেশন’ নামে পরিচিত। এই পরীক্ষায় একজন নারী যন্ত্রণাবোধ করেন, সম্ভ্রমহানির গ্লানিতে আহত হন, সব শেষে অবসাদে ভরে যায় মনটা। এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় ইন্দোনেশিয়ার নারী পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় সতীত্বের পরীক্ষা দিতে গিয়ে। এ নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রথা বাতিলের দাবি উঠেছে।

আল জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কথিত সতীত্ব পরীক্ষাকে নারীর জন্য অবমাননাকর, বৈষম্যমূলক ও বেদনাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তা অচিরেই বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এইচআরডব্লিউয়ের ওই বিবৃতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ বিভাগ।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুলিশের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পুলিশে যোগ দিতে হলে অন্যান্য পরীক্ষার পাশাপাশি নারীদের অবশ্যই সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হবে। অর্থাৎ, যেসব নারী পুলিশ হতে চান, তাঁদের অবশ্যই সতীত্ব বজায় রাখতে হবে।
ভুক্তভোগী একজন নারীর ভাষ্য, ‘সতীত্ব পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের মতো কষ্টদায়ক আর কিছু নেই।’
অপর এক নারীর ভাষ্য, ‘আমি আর সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করতে চাই না। এটা অবমাননাকর।’
দেশটির পুলিশের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও এই ‘সতীত্ব পরীক্ষা’ প্রথার বিরুদ্ধে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এবার নিন্দা জানাল এইচআরডব্লিউ।
ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের এক মুখপাত্রের দাবি, পুলিশে যোগ দিতে আসা নারী প্রার্থীদের মধ্যে যে যৌনবাহিত রোগ নেই, তা নিশ্চিত করতেই ওই পরীক্ষা করা হয়। পেশাদারি প্রক্রিয়ায় করা সতীত্ব পরীক্ষায় কারও কোনো ক্ষতি হয় না।

 

গত এক বছরে সাড়ে ৫হাজারেরও বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

6-svaw06square

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস’ উদ্যাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ পালন করছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নবেম্বর ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতিসংঘ দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামসহ বিভিন্ন নারী সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের নানা আয়োজনে দেশব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ পালিত হচ্ছে। নারী নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০১৪ পালন করা হবে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এ্যাগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ২০১৪ থেকে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ শুরু হলো মঙ্গলবার। ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০১৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ যৌথ উদ্যোগে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে নারী নির্যাতনবিরোধী পোস্টার, স্টিকার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, পরিবর্তিত হচ্ছে সমাজ কাঠামো, বিকশিত হচ্ছে সভ্যতা। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে মানুষের জীবন যাত্রায় বরং নারী শব্দটিই যেন নির্যাতন ও শোষণের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা অনুপাতে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইরানের নাম আছে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বপরিসংখ্যানে প্রথম সারিতে। এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশে ৯৫% পরিবার তাদের কন্যার বিয়েতে যৌতুক দিতে বাধ্য হন। যৌতুক দিলেও নারীরা নানা অজুহাতে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে উইকিপিডিয়াতে। পাকিস্তানের পরেই নারী নির্যাতনের দেশ হিসেবে উইকিপিডিয়াতে উঠে এসেছে বাংলাাদেশের নাম। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৪শ’৭ জন নারী যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে বলে প্রকাশ করেছে উইকিপিডিয়া।

 

সুস্থ-নিরাপদ ডে-কেয়ার ব্যবস্থা,কর্মজীবি নারীদের জন্য দিন দিন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে

image_104369

তিন বছরের নিঝুম ঘুম থেকে ওঠার আগেই তার মা-বাবা নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যায়। এমন দিন খুব কমই আছে সে তার মা-বাবা বা দুজনকেই সকালে উঠে দেখতে পেয়েছে। বাড়ির কাছাকাছি কর্মস্থল হওয়ায় দুপুরে খাবার খেতে মা-বাবা বাড়িতে এলেও তা কিছু সময়ের জন্য। অবুঝ নিঝুম তাদের সঙ্গ চাইলেও মা-বাবার তাড়া থাকে আবার অফিসে যাওয়ার। কাজের লোক তাকে আড়ালে নিয়ে গেলে তারা আবার বেরিয়ে পড়েন কাজের উদ্দেশ্যে। তাই নিঝুমকে দিনের প্রায় সবটা সময়ই কাটাতে হয় বুয়ার কাছে। বাড়িতে প্রায় নিঃসঙ্গ থাকে বলে দরজায় কোনো শব্দ হলেই সে ছুটে যায় কে এলো তা দেখার জন্য। সন্ধ্যায় মা-বাবা ফিরে এলে সংসারের নানা দিকও দেখতে হয় তাদের। এছাড়া থাকে সারা দিনের ক্লান্তি। চাকরি, সন্তান ও সংসার সব দিক সমন্বয় করার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা তাদের সন্তানের স্বভাবিক বিকাশের জন্য যেটুকু সময় ও সংস্পর্শ দরকার তা দিতে পারছেন না। ফলে এ তিন বছর বয়সেও নিঝুম শুধু কিছু শব্দ উচ্চারণ করা ছাড়া কোনো প্রশড়ব বোঝা বা তার উত্তর দেয়ার মতো ক্ষমতা অর্জন করেনি। এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকে আকারে ইঙ্গিতে যোগাযোগ করতে হয়, যা এই বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নয়। 

নিঝুমের মতো সাড়ে তিন বছরের হেমা এক চিকিৎসক দম্পতির সন্তান। কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় হেমাকেও কাজের লোকের কাছে থাকতে হয়। হেমার বাবা একাধিক প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ করেন। কারণ তাকে তার নিজের পরিবার ছাড়াও গ্রামে বসবাসকারী মা-বাবা ও ভাই- বোনদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হয়। হেমার মা রাজশাহী মেডিকেলে চাকরি করেন। মেধাবী ছাত্রী হওয়ায় তিনি চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য পড়াশোনা করছেন। ফলে হেমার জন্য তার মা-বাবার সময় নিঝুমের চেয়েও কম। মা দুপুরে অফিসের পর বাড়িতে এলেও তার চেষ্টা থাকে বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে লাইব্রেরিতে পড়তে যাওয়ার। ফিরে আসেন রাত নয়টা-দশটায়। আবার মাঝে মাঝেই তাকে রাতে হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়। মা-বাবার যথেষ্ট সময় না দিতে পারা এবং বাড়িতে বেশিরভাগ সময় একা থাকার ফলে সে একগুয়ে স্বভাবের হয়ে গেছে। সে যখন যা করতে চায় তখন তাই তাকে করতে দিতে হয়। 
একক পরিবারের প্রচলন বাংলাদেশে বেশ আগে হলেও বর্তমানে এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সেই সাথে আধুনিক জীবন যাপনের আকাক্সক্ষা, ব্যয়বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি কারণে নারীরা এখন অনেক বেশি চাকরির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে।

বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ ২০০২-০৩ অনুসারে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ০ দশমিক ৯৮ কোটি নারী বিভিনড়ব পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। এই শ্রমশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শিল্পে কাজ করছে। এখানকার মোট শ্রমশক্তির ৯০ শতাংশেরও বেশি নারী শ্রমিক। 
বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মজীবী নারীদের মধ্যে অনেকেরই শিশু সন্তান রয়েছে। মায়ের অবর্তমানে যাদের দেখাশোনার জন্য কেউ থাকে না, বা কাজের লোকের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই নারীদের কর্মক্ষেত্রে আসা অব্যাহত রাখতে এবং কাজে মনোযোগী করতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রয়োজন অনুসারে মানসম্পনড়ব ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মজীবী মায়েদের বাচ্চাদের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের যথেষ্ট অভাব রয়ে গেছে। 

জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে কোনো প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন নারী থাকলেই সেখানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার থাকার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠানেই ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। আবার সরকারি ও বেসরকারিভাবে যে ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেগুলোর প্রায় সবই রাজধানীকেন্দ্রিক। চাহিদা ও প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে এখনও পর্যন্ত ভালো মানের ডে-কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা খুবই কম। ডে-কেয়ার সেন্টারের মানের ক্ষেত্রে দেখা যায় খোদ ঢাকা শহরেই যেসব ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে তার কিছু সংখ্যক ছাড়া বেশিরভাগই মানসম্পনড়ব নয়। অর্থাৎ বিভিনড়ব বয়সী শিশুদের উপযোগী পরিবেশ, শিশু অনুপাতে প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীদের সংখ্যা, নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়বতা, পর্যাপ্ত জায়গা, স্কুলপূর্ব শিশুদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়গুলোর সমন্বয়ের অভাব রয়ে গেছে এসব ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে। ব্যাপক সংখ্যক নারী যে পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত সেখানে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ কারখানাতেই ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। বেসরকারি সংস্থা কর্মজীবী নারী ২০০৭ সালের জুন মাসে ৫৫টি পোশাক কারখানায় একটি জরিপ চালায়। সেখানে দেখা গেছে, ৫৫টির মধ্যে মাত্র ১৫টি কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। তবে কর্মজীবী নারীর মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ক আরিফা আক্তার অনু বললেন, ‘যেসব কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা রয়েছে তার অধিকাংশই শিশুদের বসবাসের উপযোগী নয়। শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য এসব ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবার অনেক সময় বিদেশিদের আকৃষ্ট করার জন্য এসব ডে-কেয়ার সেন্টার অস্থায়ী ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।’ 
তিনি আরো বললেন, ‘তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে, নারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা মা হওয়ার পর অধিকাংশই তাদের কাজ ছেড়ে দেয় এবং বাচ্চা বড় না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে বসেই উপার্জনমূলক অন্য কাজে শ্রম দেয়। এছাড়া এদের বাচ্চারা দেখাশোনার অভাবে শিশু অবস্থায় বেশি মারা যায় এবং এদের মধ্যে অপরাধী হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়। মায়েরা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য একটু বড় হওয়ার পর গ্রামে আত্মীয়- স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেয় অথবা তালাবন্ধ করে বা শেকল দিয়ে বাড়িতে বেঁধে রেখে আসেন।’ সরকারি উদ্যোগে এ পর্যন্ত নি¤ড়ববিত্ত ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য ৩২টি ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মধ্যবিত্তদের জন্য যার সবই ঢাকা শহরে অবস্থিত। নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য বাকি ১৮টির মধ্যে ঢাকা শহরে ৭টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি এবং বিভিনড়ব জেলা শহরে ১৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি উদ্যোগ এক্ষেত্রে খুব কম। এছাড়া মধ্যবিত্তদের জন্য ঢাকার বাইরে কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার নেই।  

সরকারি যে ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো আছে সেগুলোতেও লোকবলের অভাব রয়েছে। আবার নি¤ড়ববিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য প্রতিষ্ঠত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে রয়েছে বৈষম্য। মধ্যবিত্তদের জন্য নির্ধারিত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ৫০টি শিশুকে দেখাশোনার জন্য যেখানে দুজন কাজ করছে, সেখানে নি¤ড়ববিত্তদের ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে শিশুর সংখ্যা ৮০ হলেও আয়ার সংখ্যা বাড়েনি অর্থাৎ এখানেও দুজন আয়া রাখা হয়েছে। এছাড়া সকল সরকারি ডে-কেয়ার সেন্টারে দুজন কুকের পদ থাকার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে নি¤ড়ববিত্তদের ডে-কেয়ার সেন্টারে একটি কুকের পদ বাদ দেয়া হয়েছে এবং এখানে কোনো স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়নি। 

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের শিশু উনড়বয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক শামীমা খানম এ সম্পর্কে বলেন, ‘ডে-কেয়ার সেন্টারের মানের ক্ষেত্রে শিশু অনুপাতে যথেষ্ট লোকবল অবশ্যই থাকা উচিত। তবে সরকার অর্থের অপর্যাপ্ততার কারণ দেখিয়ে লোকবল কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অধিদফতরের ডে-কেয়ার সেন্টারটিতে ৫০টি শিশু থাকার ব্যবস্থা থাকলেও রয়েছে ১৫টি শিশু।’ শিশুদের রাখতে আসার সমস্যার কথাটিও তিনি এ সেন্টারে শিশু কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেন। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের আইইআরে অবস্থিত ছায়ানীড় নামে যে ডে-কেয়ার সেন্টারটি রয়েছে সেখানে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের থাকার ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে চাকরিজীবী মায়েদের চার মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অনেক মা তার প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকা সত্ত্বেও তাদের দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের সেখানে রাখতে পারছেন না। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে কর্মজীবী মায়েরা তাদের শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকা ও এগুলোর বিভিনড়ব সমস্যার কারণে বাবা-মা তাদের বাচ্চাকে সেখানে রাখতে পারছেন না। ফলে মা ও শিশু উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মা তার সন্তানের চিন্তায় যথেষ্ট দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ মানের কাজ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ক্যারিয়ার ও সন্তান কোনোদিকেই তারা যথার্থ মনোযোগ দিতে পারছেন না। উভয় দিক সামলাতে না পেরে কর্মজীবী মায়েরা অনেক সময় নিজেদের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে বাধ্য হন। কেউ চাকরি ছেড়ে দেন, আবার কেউ সন্তান একটু বড় না হওয়া পর্যন্ত উচ্চশিক্ষা নেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রেও নানা বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।

লিখেছেন- শামিম আরা বেগম।

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের বিবেক জাগ্রত হোক

6-svaw06square

নারী নির্যাতন প্রতিরোধের আন্দোলন কেবল নারীদের নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের শিক্ষিত বিবেকবান সকল মানুষের সামাজিক দায়িত্ব। তাই নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারীদের প্রতি সকল প্রকার সহিংসতারোধে দেশের তরুণ-যুবসমাজকে সচেতন, বলিষ্ঠ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৪ উপলক্ষে এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে নারী নির্যাতন বিরোধী এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরুষ সমাবেশের  আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ (বিএমপি)। ‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের বিবেক জাগ্রত হোক’ এ আহবান জানিয়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৪ পালিত হচ্ছে।

বিএমপির উদ্যোগে গত ২৫ নভেম্বর থেকে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই প্রতীকী পুরুষ সমাবেশ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকার সামাজিক রাজনৈতিক নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সক্রিয় উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ যা নারী নির্যাতনের সংস্কৃতিকে সমর্থন করে তা প্রতিরোধ ও নিরোধের লক্ষ্যে জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক গবেষক জনাব মফিদুল হক, এডভোকেট এস এম এ সবুর, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সামন্তলাল সেন, সাবেক ছাত্রনেতা জনাব মাহবুব জামান, মিরপুর থানা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি দেওয়ান আবদুল মান্নান ও আহমদনগর পাইকপাড়ার আরিফ হোসেন প্রমুখ। সমাবেশে গণসঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএমপির ডিরেক্টর লিগ্যাল এডভোকেসি এন্ড লবি এডভোকেট মাকছুদা আখতার। আয়শা খানম বলেন, নারীর বিষয়ে সমাজের পুরুষদের যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতা সেখান থেকে আধুনিক যুক্তিযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্যে সচেতনতার প্রয়োজন। সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী।  সকল ক্ষেত্রে সম অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলে এবং নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারবে না। নারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, এসিড সন্ত্রাস, যৌতুকের দাবি, পারিবারিক সহিংসতা-এসব প্রতিরোধে যেসব আইন রয়েছে তার বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের ঘোষণায় বলা হয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতার অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, এসিড নিক্ষেপ, উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন, বে-আইনী ফতোয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সকল নির্যাতন বন্ধে নিরবতা ভেঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সচেতনতামূূলক কর্মসূচিতে নারী ও কন্যাশিশুদের যুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষদেরও যুক্ত করে সাধারণ গণমানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

ঘোষণায় আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক সিডও সনদের অনুচ্ছেদ- ২ ও ১৬(১)(গ) -এর উপর থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং ওসিসির কার্যক্রম আরও বিস্তৃতি করতে হবে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু করার লক্ষ্যে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এর অবকাঠামো তৈরি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খাতে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবার থেকে নারী নির্যাতন বিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয় ঘোষণাপত্রে।

 

২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

২০২০ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হবে বলেও আশা করেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দেশে দৈনিক এক হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হতো। এখন ২০১৪ সালে গ্যাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। তিনি বলেন, ‘আমরা সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও রূপগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছি। এই গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নকাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৭১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।’
সেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী প্রমুখ।
বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
এর আগে প্রধামন্ত্রী বিবিয়ানা গ্যাস সম্প্রসারণ প্রকল্প ও ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বিদ্যুৎ প্রকল্প-৩ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া বিবিয়ানা-ধুনুয়া ৩৬ ইঞ্চি গ্যাসবিশিষ্ট উচ্চচাপ পাইপ সঞ্চালন লাইন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক (এন-২) থেকে বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সংযোগ সড়ক, বিজনা সেতু রসুলগঞ্জ ভায়া রইছগঞ্জ পানিউমদা ৯০ দশমিক ১০০ মিটার গার্ডার আরসিসি সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরসহ নয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

বিকেল তিনটার দিকে হবিগঞ্জ নিউফিল্ড মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন।

 

ধবলধোলাইয়ের-বাকি-মাত্র-এক

স্টিভেন ম্যাঙ্গোঙ্গো, গিভমোর মাকোনি ও মুফারো চিতুরুমানি। প্রথমজন জিম্বাবুয়ে দলের কোচ, দ্বিতীয়জন প্রধান নির্বাচক আর তৃতীয়জন ম্যানেজার। প্রতিটি ম্যাচেই টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায় ড্রেসিংরুমের সামনে বসে থাকা এই ত্রয়ীর করুণ মুখ। যেন তাঁদের কেউ জোর করে বসিয়ে রেখেছে। ম্যাচ-ট্যাচ বাদ দিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারলেই বাঁচেন সবাই!
একের পর এক হারে জিম্বাবুয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের সময়টা নিরানন্দ কাটাই স্বাভাবিক। আগের ম্যাচেই সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর কাল ব্যবধান বেড়ে হলো ৪-০। শেষ পর্যন্ত এটি ৫-০ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। চোখের সামনে দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখে ম্যাঙ্গোঙ্গো-মাকোনি-চিতুরুমানির মন খারাপ হতেই পারে। তবে একটা জায়গায় কাল তাঁরাও নিশ্চয়ই খুঁজে পেয়েছেন ‘উন্নতি’র লক্ষণ? ওয়ানডে সিরিজে কালই যে প্রথম দুই শর ওপরে রান করল জিম্বাবুয়ে! বাংলাদেশের ২৫৬ রানের জবাবে তারা ৮ উইকেটে করতে পেরেছে ২৩৫, হার ২১ রানে।
এই ২৩৫-এ সবচেয়ে বড় অবদান চতুর্থ উইকেটে ব্রেন্ডন টেলর ও সলোমন মায়ারের ১০৬ রানের জুটির। ৬০ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর ওই জুটির সৌজন্যেই ম্যাচে টিকে থাকতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দলের ১৬৬ রানের সময় মায়ারকে কাভারে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে জুটিটা ভেঙে দেন ওয়ানডেতে অভিষিক্ত লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন। এর আগে টিমিচেন মারুমার উইকেটটিও নেওয়ায় জুবায়েরের বোলিং বিশ্লেষণ ৬-০-৪২-২। প্রথম ম্যাচ হিসেবে বোলিংটা একেবারে খারাপ নয়। তবে বাংলাদেশের সফলতম বোলার বলতে হয় সাকিব আল হাসানকেই। ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
বাংলাদেশে আসার একটি লক্ষ্য তো অবশ্যই দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা। কিন্তু এখানে আসার পর জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের সামনে চলে আসে আরেকটা লক্ষ্যও, ভালো খেলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাবে ডাক পাওয়া। সে লক্ষ্য পূরণে এর মধ্যেই সফল চার ক্রিকেটার। সিরিজ শেষে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা খেলবেন আবাহনীর হয়ে, ব্রেন্ডন টেলরকে দেখা যাবে প্রাইম ব্যাংকে, এলটন চিগুম্বুরাকে প্রাইম দোলেশ্বরে এবং রেজিস চাকাভার খেলার কথা মোহামেডানে।
বিসিবি দুবাইয়ে সহযোগী দেশগুলোর টুর্নামেন্টে দল পাঠাবে না বলে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্যও নিজেদের প্রমাণ করার একমাত্র জায়গা এখন প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আত্মবিশ্বাস যা নেওয়ার নিতে হবে ১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই। তা সেটিতে এখন পর্যন্ত দারুণ সফল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। যদিও কাল চতুর্থ ওয়ানডের শুরুটা হয়েছিল হোঁচট খেয়ে।
আগের দুই ম্যাচেই ওপেনিং জুটিতে এক শর বেশি রান হয়েছে। কিন্তু কাল ব্যর্থ দুই ওপেনারই। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে নেভিল মাদজিভার বলে এলবিডব্লু এনামুল হক। ১১তম ওভারে দলকে ৩১ রানে রেখে মায়ারের বলে মাসাকাদজার ক্যাচ হন তামিম ইকবাল। এর পরের দুই ওভারে নেই হয়ে গেল আরও ২ উইকেট। তিন নম্বরে মুমিনুল হকের জায়গায় সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে পারেননি ইমরুল কায়েস। পরের ওভারে সাকিবও বিদায় নিলে রীতিমতো খাদে পড়ার উপক্রম হয় বাংলাদেশ দলের। ৩২ রানে ৪ উইকেট নেই প্রতিপক্ষের—জিম্বাবুয়ে নিশ্চয়ই সান্ত্বনার জয় খুঁজে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল তখন?
কিন্তু বাংলাদেশ হারতে চাইলেও জিম্বাবুয়েকে তো জিততে চাইতে হবে! সেটা তারা চাচ্ছে বলে মনেই হলো না। তাদের সামনে পর্বত হয়ে দাঁড়াল দুই ভায়রা মাহমুদউল্লাহ আর মুশফিকুর রহিমের পঞ্চম উইকেট জুটি। ওভারপ্রতি ৫.৩২ করে নিয়ে এই জুটিতে এল ১৩৪ রান। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের তৃতীয় ওভারে কামুনগোজিকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মুশফিক কাভারে ক্যাচ তুলে না দিলে আরও বড় হতে পারত জুটিটা, বড় হতে পারত বাংলাদেশের স্কোরও। মুশফিকের আউটে সেটি হলো না, বরং ব্যাটিং পাওয়ার প্লের মধ্যে বিদায় নিলেন নতুন ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমানও। ৩৬ থেকে ৪০—ব্যাটিং পাওয়ার প্লের এই ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছে মাত্র ২১ রান।
পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরের ওভারে আবুল হাসানও বিদায় নিলে মনে হচ্ছিল এবার বুঝি বাংলাদেশের দুই শর নিচে অলআউট হওয়ার পালা। ৭ উইকেটে ১৭৭ রানে ও রকম শঙ্কা জাগাই স্বাভাবিক ছিল তখন। দলকে সেই লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। অষ্টম উইকেটে ৮ ওভার একসঙ্গে থেকে ৬৫ রান যোগ করেছেন দুজনে মিলে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত ৮২ রানে অপরাজিত। আর মাশরাফি মাদজিভার বলে কট বিহাইন্ড হয়ে গেলেও দুই ছক্কা আর চার বাউন্ডারিতে মাত্র ২৫ বলে করে গেছেন ৩৯ রান।
ম্যাচটা শুরু হয়েছিল ফিল হিউজের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। জিম্বাবুয়ের জন্য ম্যাচের শেষটাও হলো শোকের। বাংলাদেশ তাদের জেতার সুযোগ দিলেও চিগুম্বুরার দল যেন জিততে ভুলে গেছে! অবশ্য বাংলাদেশে এসেই তো হার আর হার, এত দিনে পরাজয়ের সঙ্গে তাদের মিতালিই হয়ে যাওয়ার কথা।

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৫৬/৮; জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৩৫/৮; ফল: বাংলাদেশ ২১ রানে জয়ী

আহ! শামারুখ!!

 

Mahjabin (1)

 

নাজমা ফেরদৌসী, অপরাজিতাবিডি ডটকম : বাংলাদেশের প্রথমসারির এক দৈনিকে ডা. শামারুখকে নিয়ে শেষ পৃষ্ঠায় আজকের (১৯.১১.২০১৪) খবর ছিল “ছয়দিনেও প্রধান আসামিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।”

 

যশোরের বর্তমান সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা: শামারুখ মাহজাবিন আত্মহত্যা করেছেন মর্মে তাঁর গ্রেফতারকৃত স্বামী হুমায়ুন সুলতান উল্লেখ করেছেন। আত্মহত্যা বলে প্রতিষ্ঠিত করা গেলে এই মৃত্যুর দায় হতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ রেহাই পেয়ে যায়। আর তারই মহড়া হচ্ছে এসব উক্তি। আত্মহত্যাকারী আত্মহননের জন্য নিজেই দায়ী। তখন এটির জন্য একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে। তারপর কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

 

উল্লিখিত দৈনিকের ভাষ্য মতে, “মৃত্যুর একদিন আগেও চিকিৎসক শামারুখ মাহজাবিন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে খুন হওয়ার আশংকা করে নিজের বাবাকে ফোন করেছিলেন। শামারুখের বাবা সুনির্দিষ্টভাবে একথা উল্লেখ করে হত্যা মামলা করলেও সেই বিষয়ে ওই মামলার প্রধান আসামি , শামারুখের শ্বশুর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ খান টিপু সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদই করেনি পুলিশ।”

 

ডা: শামারুখের স্বামী হুমায়ুন সুলতানের দাবী অনুযায়ী চিকিৎসক শামারুখ যদি আত্মহত্যাই করবে, তবে খুন হওয়ার আশংকায় তাঁর পিতাকে কেন ফোন করেছিল? এই একটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেলেই হয়তো মিলে যাবে কতটা মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত ছিলেন মৃত্যুর নীল বেদনায় আচ্ছাদিত শামারুখ।

 

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের কথা মনে পড়ছে। যাকে সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণের শত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে মিডিয়াগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়। লিমনের প্রতি মিডিয়ার নিরবচ্ছিন্ন সহানুভূতিতে যেমন সত্য উদ্ঘাটিত হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে লিমন সন্ত্রাসী নয়। তেমনি মিডিয়ার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় কি ডা: শামারুখের উপর নির্মম নির্যাতনের সত্য উদ্ঘাটিত হতে পারেনা? বেচে থাকার ন্যূনতম সহানুভূতি বঞ্চিত শামারুখ কি মরেও আমাদের সহানুভূতি পাবে না?

 

আহ! শামারুখ!! কতটা নিষ্ঠুর ছিল তোমার হত্যাকারীরা!!! হত্যাকারীদের বুকের ভেতর লালিত আদর্শ এদেরকে কতটা নিষ্ঠুর হতে শিখিয়েছে!! ইসলামতো এমন কোনো শিক্ষা মানুষকে দেয় না। যদি দুজনার দুটি পথ কখনো বেকে যায়, ফিরানো না যায়; তবে তাকে সরে যেতে কিংবা নিজে সরে গিয়ে সুযোগ করে দিতেই ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে। ইসলামের শ্বাশত এই মানবিকতাকে প্রগতিশীলতার মোড়কে অধার্মিক হবার প্রতিযোগিতায় উপনীত হয়ে ইসলামের মানবিক শিক্ষাকে যতটুকু আমরা এড়িয়ে চলছি, নিষ্ঠুরতা আমাদের সমাজকে ততটুকু গ্রাস করে নিচ্ছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/নভেম্বর২০১৪.

 

 

  

দেশি কায়দায় চায়নিজ খাবার তৈরী পদ্ধতি।

Fried-Fice

ফ্রাইড রাইস

উপকরণ: বাসমতি বা পোলাওয়ের চাল আধা কেজি। ডিম ২টি। গাজর আধা কাপ। লবণ ২ চা-চামচ। গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ। পেঁয়াজ এক কাপের চারভাগের একভাগ। স্বাদ-লবণ বা টেস্টিং সল্ট চা-চামচের সিকিভাগ। পেঁয়াজকলি এক কাপের চারভাগের একভাগ। সয়া সস ১ চা-চামচ। সয়াবিন তেল ৪ টেবিল-চামচ। চিনি ২ টেবিল-চামচ।

পদ্ধতি: ভাত ঝরঝরে করে রান্না করতে হবে। গাজর এবং পেঁয়াজকলি কুচি করে নিন। ডিমে লবণ এবং গোলমরিচ দিয়ে ফেটে আলাদাভাবে ভেজে ছোট টুকরা করে নিন। বড় হাঁড়ি বা কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ এবং গাজর ভাজুন। তারপর ভাত দিয়ে একে একে বাকি সব উপকরণ দিয়ে দিন। ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করে নামিয়ে ফেলুন।

P1200768চায়নিজ সবজি

উপকরণ: চালকুমড়া এক কাপের চারভাগের একভাগ। গাজর ও আলু ১টি করে। ১টি পেঁয়াজ। নিজের পছন্দমতো কাঁচামরিচ। ধনেপাতা নিজের পছন্দমতো। আদা চা-চামচের চারভাগের একভাগ। রসুন চা-চামচের চারভাগের একভাগ। লবণ স্বাদমতো। তেল ৪ টেবিল-চামচ। চিনি মিষ্টি বুঝে। গোলমরিচের গুঁড়া চা-চামচের চারভাগের একভাগ। কর্নফ্লাওয়ার ১ চা-চামচ।

পদ্ধতি: প্রথমে প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ হালকা ভাজতে হবে। এরপর চালকুমড়া, গাজর, আলু দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিন। তারপর আদা, রসুন, গোলমরিচের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভাজতে থাকুন। বেশখানিকটা পানি বের হবে। পানি কিছুটা শুকিয়ে আসলে চিনি, কর্নফ্লাওয়ার, কাঁচামরিচ এবং ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

রেসিপি দিয়েছেন,নদী সিনা।

গত এক বছরে সাড়ে ৫হাজারেরও বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

 বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস’ উদ্যাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ পালন করছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নবেম্বর ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতিসংঘ দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামসহ বিভিন্ন নারী সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের নানা আয়োজনে দেশব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ পালিত হচ্ছে। নারী নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০১৪ পালন করা হবে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এ্যাগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ২০১৪ থেকে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ শুরু হলো মঙ্গলবার। ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০১৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ যৌথ উদ্যোগে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে নারী নির্যাতনবিরোধী পোস্টার, স্টিকার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, পরিবর্তিত হচ্ছে সমাজ কাঠামো, বিকশিত হচ্ছে সভ্যতা। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে মানুষের জীবন যাত্রায় বরং নারী শব্দটিই যেন নির্যাতন ও শোষণের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা অনুপাতে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইরানের নাম আছে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বপরিসংখ্যানে প্রথম সারিতে। এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশে ৯৫% পরিবার তাদের কন্যার বিয়েতে যৌতুক দিতে বাধ্য হন। যৌতুক দিলেও নারীরা নানা অজুহাতে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে উইকিপিডিয়াতে। পাকিস্তানের পরেই নারী নির্যাতনের দেশ হিসেবে উইকিপিডিয়াতে উঠে এসেছে বাংলাাদেশের নাম। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৪শ’৭ জন নারী যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে বলে প্রকাশ করেছে উইকিপিডিয়া।

 

untitled-13_100063
২০১৩-২০১৪ এক বছরে বাংলাদেশে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তৈরি করা পরিসংখ্যানমতে, নির্যাতিত নারীদের মাত্র ২% আইনের আশ্রয় নেন। এ ছাড়া লোকলজ্জার ভয়ে নির্যাতনের কথা লুকিয়ে রাখার প্রবণতার কারণে গণমাধ্যমে অনেক খবরই প্রকাশ পায় না। প্রকৃত ঘটনার চিত্র এবং পরিসংখ্যান অনেক ভয়াবহ বলে মনে করেন মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ। ২০০৮ সালে যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২শ’ ৬৯টি। ২০১২ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৭শ’ ৭১টি। অর্থাৎ ২০০৮-২০১২ সালে নারী নির্যাতনের হার বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ধর্ষণের হার বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নযয়ন অন্বেষণ’-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।

‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’-২০১৪ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘যৌন হয়রানি, নিপীড়ন ও সকল প্রকার সহিংসতা মুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই’ আহ্বান জানিয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালির শুরুতে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তানিয়া হক। র‌্যালিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ মোট ৫০০ জন উপস্থিত ছিলেন। ‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের বিবেক জাগ্রত হোক’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে র‌্যালি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বটতলায় যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক পটগান পরিবেশন করে ‘রূপান্তর’-এর শিল্পীবৃন্দ। র‌্যালির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, নীলক্ষেত মোড়, নিউমার্কেট এলাকা, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আজিমপুর মোড়, আজিমপুর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও গণমানুষের মাঝে নারী নির্যাতনবিরোধী পোস্টার, স্টিকার ও লিফলেট বিলি করা হয়।নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি অপরাজেয় বাংলা থেকে শুরু হয়ে টিএসসি ঘুরে পুনরায় অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও বয়সের শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয়। 

এর আগে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। এতে উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপার্সন তানিয়া হক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আয়েশা খানম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে-শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, পটগান পরিবেশন, ছাত্র-শিক্ষক মতবিনিময় ইত্যাদি।

বখাটেদের হুমকিতে স্কুল যাওয়া বন্ধ!!

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কোমরভাঙ্গি সরকারপাড়া গ্রামে বখাটে শহীদুল ইসলামের এ্যাসিড ছোড়ার হুমকিতে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী স্কুলে যেতে পারছে না এক সপ্তাহ ধরে। তার দরিদ্র বাবা আবু বক্কর রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয়নি। অজ্ঞাত কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা বখাটের পরিবারের পক্ষ নিয়ে স্কুলছাত্রীর পরিবারকে মীমাংসা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। স্কুলছাত্রীর বাবা পুলিশে অভিযোগ করায়, বখাটের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলছাত্রীর পরিবারের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে। দিনমজুর আবু বক্করকে গ্রামের কেউ যাতে কাজে না নেয়, এমন হুমকিতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। রৌমারী উপজেলার কোমরভাঙ্গি সরকারপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবু বক্করের কন্যা মমতাজ খাতুন কোররভাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের পথে একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র শহীদুল ইসলাম মেয়েটির পথ আটকে নানাভাবে উত্যক্ত করে, তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ১৭ নবেম্বর ওই বখাটে ওই স্কুলছাত্রীর পথ আটকে এসিডে মুখ ঝলসে দেয়ার হুমকি দেয়। এরপর থেকে মেয়েটি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। 
কোমরভাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু ছাত্রী মমতাজ আমার কাছে আসেনি। তবে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব।’
দিনমজুর পিতা আবু বক্কর জানান, মেয়েটি ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না। থানায় অভিযোগ করলাম পুলিশও কিছু করে না। তিনি আরও বলেনÑ পুলিশে অভিযোগ করার কারণে শহীদুল ইসলামের বাবা গোলাম হোসেন, চাচা রফিকুল ইসলাম ও আবু শামা গ্রামে না থাকার হুমকি দিচ্ছে। দুইদিন থেকে গ্রামে কেউ কাজ দিচ্ছে না। বখাটে শহীদুল ইসলামের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, সব মিথ্যা কথা। পুলিশ বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেছে। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম হাসান সরদার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

নারী নির্যাতন,ঘর থেকে বাইরে!

6-svaw06square

আজ ২৫শে নভেম্বর,আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায়,বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবং সেই সাথে ২৫শে নভেম্বর থেকে ১০ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পালিত হবে,নারী নির্যাতন প্রতিবাদ পক্ষ। এই উপলক্ষ্যে লিখেছেন,কলামিষ্ট মাসুদুল আলম তুষার।

ঘরে-বাইরে নানা রূপে নারীর ওপর নির্যাতন চলছে। প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেষ্টায় নির্যাতন আরো বাড়ছে; ভয়ংকর সহিংস রূপ নিচ্ছে তা। দিন পেরিয়ে সপ্তাহ, মাস; মাস পেরিয়ে বছর। সময় গড়াচ্ছে; কিন্তু দেশে নারী নির্যাতনের চিত্র রয়ে যাচ্ছে প্রায় আগের মতোই। যেটুকু বদল ঘটছে, তা নির্যাতনের কৌশলে। অসহনীয় পারিবারিক নির্যাতনে অসহায় নারী ‘আত্মহত্যা’ করছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে সেসব। হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, এসিড নিক্ষেপ প্রভৃতি ঘটনার পরিসংখ্যান বাড়তির দিকেই।

অপরাধ বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সমাজ পরিবর্তন ও আধুনিকতার সূত্রে নারী নির্যাতনের ঘটনা কমার কথা; কিন্তু কমছে না, বরং বেড়ে যাচ্ছে। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষয়ে যাচ্ছে, দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরছে বিবিধ কারণে। এসবের সুবাদে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে নারীর সুরক্ষা বিধানের পথে।
গত দুই মাসের শতাধিক ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পারিবারিক সহিংসতা ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর এ সহিংসতার প্রধান শিকার নারী।
যৌতুক অথবা মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে স্বামী আগুন দিচ্ছে স্ত্রীর গায়ে; নৃশংসভাবে হত্যা করছে। পরকীয় সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতেও দাম্পত্য-বিরোধ দেখা দিচ্ছে, ঘটছে বীভৎস ঘটনা। নৃশংসতা মাত্রা ছাড়াচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনে শিথিলতা দেখা দেওয়ায় সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, শিথিলতা প্রভৃতি নারীর প্রতি সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক-পারিবারিক মূল্যবোধ জোরালো করতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে পারিবারিক অনুশাসন। আর সার্বিক সচেতনতা সৃষ্টির যে প্রক্রিয়া, তা ঢেলে সাজাতে হবে। সরকারকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এ ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ গাফিলতি আছে বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান এ প্রসঙ্গে  বলেন, ‘নারী নির্যাতনের ধরন পাল্টেছে, তবে কমেনি। সমাজে সচেতনতা তৈরিতে যারা কাজ করছি, তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। পুরুষের মাধ্যমে নির্যাতনের পাশাপাশি এখন নারীর মাধ্যমে নারী নির্যাতনের অভিযোগও অহরহ আসছে। পরকীয় সম্পর্ক ও লিভ টুগেদার বাড়ছে, যা নারী নির্যাতনের সহায়ক কারণ। অন্যদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমেও নারী নির্যাতন ঘটছে। বর্তমানে নারীর প্রতি যে ধরনের সহিংস আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা আগে এতটা তীব্র ছিল না। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।’
যৌতুকের টাকার জন্য বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় স্বামীর দেওয়া আগুনে পুড়ে গত রবিবার মারা গেছেন নরসিংদীর গৃহবধূ সুবর্ণা আক্তার (১৮)। নরসিংদী সরকারি কলেজের এ ছাত্রীর বিয়ে হয়েছিল ইলিয়াস হোসেন (২১) নামের এক বেকার যুবকের সঙ্গে। দাবীকৃত দুই লাখ টাকা না পেয়ে ইলিয়াস ক্ষিপ্ত হয়ে আগুন দেয় বলে মৃত্যুকালে দেওয়া জবানবন্দিতে সুবর্ণা জানিয়েছেন। গত ৮ অক্টোবর রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুরে চম্পা বেগম নামের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা করা হয়। জমিসংক্রান্ত বিরোধে চাচাশ্বশুর এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ। এ মাসেই নরসিংদীতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে সালেহা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূকে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত ৬ অক্টোবর ঘটে এক পৈশাচিক ঘটনা। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একই পরিবারের চারজনকে ঘরে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বখাটেরা। গৃহবধূ হাসনা বেগম (৩৫), তাঁর তিন মেয়ে মনিরা আক্তার (১৪), মীম আক্তার (১১) ও মলি আক্তার (৭) ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এ নিষ্ঠুরতার শিকার হয়।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক ও পারিবারিক সহিংসতা বাড়ার অন্যতম কারণ মাদক ও পরকীয় সম্পর্ক। যৌতুক, সামাজিক ও পারিবারিক বৈষম্য, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার, সমাজ পরিবর্তনের অসুস্থ ধারা, অস্বাভাবিক আর্থিক পরিবর্তন, সামাজিক ও পারিবারিক বৈষম্য প্রভৃতি কারণে অসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এরই প্রকাশ ঘটছে সহিংস-রূপে। এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতাকেও দায়ী করেছেন অনেকে। আর এ সহিংসতার প্রধান শিকার হচ্ছে নারী।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক  বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই মূলত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সমাজ পরিবর্তনের ধারা অস্বাভাবিক হওয়ায় পারিবারিক অনুশাসন ও মূল্যবোধ ক্ষয়ে গেছে। আর মাদকের প্রভাব ও আকাশ সংস্কৃতির কারণে নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতার বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং তা গড়াচ্ছে নির্যাতনের দিকে। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতা বাড়ছে। তাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার দায়ও রয়েছে। কখনো দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্রোধবশত অনেকে নৃশংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। শুধু আইনি প্রচেষ্টায় এ অবস্থার উন্নতি হবে না। পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মূল্যবোধ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। নারীর অধিকার রক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’
সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দেখানো হয়েছে শীর্ষে। ৪৭ শতাংশ বিবাহিত নারী স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে এ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ হার ৩৪ শতাংশ।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। এ বছর জানুয়ারি মাসে সারা দেশে এক হাজার ১২৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ২৫৬, মার্চে এক হাজার ৬৬৯, এপ্রিলে এক হাজার ৯৮৮,  মে মাসে দুই হাজার ৬৯, জুনে এক হাজার ৯৮১, জুলাইয়ে এক হাজার ৮২৩, আগস্টে দুই হাজার ২১৩ জন, সেপ্টেম্বরে দুই হাজার ৩১৭ ও অক্টোবরে দুই হাজার ৭৩ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে, ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশে শুধু ধর্ষণের শিকার হয়েছে পাঁচ হাজার ১৬৬ জন নারী ও শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৮৫০টি।
মহিলা পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪৩১টি এবং এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮২ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৫ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরো ৫১ জন।
কর্মীরা বলছেন, এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে কঠোর আইনও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর মধ্যে একটি কারণ হলো, আইনের ফাঁক-ফোকরের কারণে শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা যায় না। সে জন্যই ‘ভিকটিম অ্যান্ড উইটনেস প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামে নতুন আইনের দাবি জানানো হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। প্রয়োজন সুরক্ষা আইনও। এ আইনের মাধ্যমে নারী ও শিশুর সহিংসতা বা অন্য কোনো অপরাধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যার বা যাদের কারণে সহিংসতার অপরাধ ঘটবে, তার বা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তি দিতে হবে।
 

শীতে নারীর পারফিউম।

পারফিউম

সুগন্ধি ছাড়া নারীর সাজের সৌন্দর্য অপূর্ণ রয়ে যায়। পরিবর্তিত ঋতুতে চাই পারফিউমের বৈচিত্র্য। প্রত্যেক ঋতুর জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সুগন্ধি। কোনোটা ফুলেল আবার কোনোটা কস্তরী গন্ধযুক্ত।

পারফিউম পছন্দের বিষয়ে পারফিউম ক্রিস্টিয়ান ডিউর এর ম্যানেজার ফিওনা ক্যারোলিন বললেন, শীতে বেশি পোশাক পরার জন্য সব পারফিউম তার সুবাস ছড়াতে পারেনা। তাই আপনার দৈহিক গঠনের ওপর ভিত্তি করে পারফিউম পছন্দ করবেন। শুকনো ও আর্দ্রতাশুন্য ত্বকে পারফিউমের সুগন্ধি বেশিক্ষণ ¯স্থায়ীও হয়না, এজন্য কড়া কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করাটাই ভালো।

যারা একটু গম্ভির প্রকৃতির তারা কস্তরী গন্ধযুক্ত পারফিউম ব্যবহার করে দেখতে পারেন, এটা আপনার মুডের সাথে ভালই মানিয়ে যাবে। আর রোমান্টিকদের জন্য রয়েছে, ভালো ফুলের গন্ধযুক্ত পারফিউমগুলো।

সেলিব্রেটি মেকআপ এক্সপার্ট রিমা সাবলক বললেন, এই শীতে আপনি অ্যাম্বার, ভেনিলা এবং সিনামন জাতীয় সুগন্ধীগুলো ব্যবহার করতে পারেন যেগুলো অরেঞ্জ, ক্যারামেল, লেমন অথবা ফ্রুটস এর গন্ধযুক্ত।

আমাদের দেশেও শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়ছে, আর সচেতন নারীরা এ সময়ের জন্য বেছে নিচ্ছেন বিভিন্ন ব্যান্ডের পারফিউম।

রাজধানীর ইনফিনিটি মেগা শপের কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, এই শীতে নারীরা উল ওয়াটার -২৯৯০, কোরাস ক্যালভিন ক্লিনার -২৪৫০ বারবারি ৩২০০ স্কাটা ৩১৫০ এই পারফিউমগুলোই বেশি ব্যবহার করছেন।

ক্রেতাদের পারফিউম কেনার সময়, এগুলো কোন দেশে তৈরি হয়েছে এবং কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় তা নিশ্চিত হতে হবে। পারফিউম কেনার জন্য অবশ্যই কোনো ভালো ব্র্যান্ডের শোরুম থেকে নিতে হবে।

সূত্র- বাংলা নিউজ।

 

গণিতের নোবেল বিজয়ী বিশ্বের প্রথম নারী।

Iranian-math-scientist-Maryam-Mirzakhani

ইরানি গণিতবিদ মারিয়াম মির্জাখানি। বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে ‘গণিতের নোবেল’ হিসেবে খ্যাত ফিল্ডস পদক পেয়েছেন। জ্যামিতিশাস্ত্রের জটিল বিষয়ে অবদানের জন্য তিনি চলতি বছর এই পুরস্কার পান। মির্জাখানি ছাড়াও ফিল্ডস পদকজয়ী অন্যরা হলেন যুক্তরাজ্যের মার্টিন হায়ারার, ফ্রান্সের আর্তুর আভিলা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত গণিতবিদ মঞ্জুল ভার্গব।

জ্যামিতি ও গতিশীলতা, বিশেষ করে বাঁকা পৃষ্ঠতলের প্রতিসাম্য ব্যাখ্যায় মির্জাখানির বিশেষ অবদানের জন্য ফিল্ডস পদক দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে ইরানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। ইরানের তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে স্নাতক এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আরেক ফিল্ডস পদকজয়ী কুরটিস ম্যাকমুলানের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক এবং ক্লে ম্যাথমেটিকস ইনস্টিটিউটে রিসার্চ ফেলো হিসেবেও কাজ করেছেন।

মির্জাখানি ১৯৯৪ সালে হংকংয়ে এবং ১৯৯৫ সালে কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) স্বর্ণপদক অর্জন করেছিলেন। ফিল্ডস পদকের আগে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একাধিক পদক ও সম্মাননা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্লে রিসার্চ পুরস্কার, এএমএস ব্লুমেন্থাল পুরস্কার, হার্ভার্ড জুনিয়র ফেলোশিপ, মেরিট ফেলোশিপ ইত্যাদি। এ ছাড়া গণিত বিষয়ের বিভিন্ন আয়োজনে বক্তা হিসেবেও নামডাক আছে মির্জাখানির।

ব্যক্তিগত জীবনে আইবিএম আলমাডেন গবেষণা কেন্দ্রের তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞানী জ্যান ভনড্রাককে বিয়ে করেছেন তিনি। এ দম্পতির আনাহিতা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ফিল্ডস পদক পেয়ে খুশি মির্জাখানি। তিনি মনে করেন, এই পথচলা শুরু হলো মাত্র। তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অনেকেই ভবিষ্যতে এ পদক পাবেন। ভবিষ্যতে গণিত নিয়ে আরও কাজ করে যেতে চান তিনি।

অপরাজিতার পক্ষ থেকে মির্জাখানির জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।

সুত্র- উইকিপিডিয়া,নিউইয়র্ক টাইমস। 

বিয়ের ১৫দিনের মাথায় যৌতুকের জন্য লাশ হতে হলো নববধূ কে!

856080307135211741

যৌতুকের টাকার জন্য বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেলেন এক নববধূ। আজ রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত ওই নববধূ সুবর্ণা আক্তার (১৮)। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের ২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাহেরচর গ্রামে তাঁদের বাড়ি। সুবর্ণার স্বামীর নাম মো. ইলিয়াস (২১)। তিনি বেকার ছিলেন। ইলিয়াসের বাড়ি নরসিংদী পৌরসভা এলাকায়।

গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে সুবর্ণাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা, চাচা ও অন্য স্বজনদের উপস্থিতিতে সুবর্ণা বলেন, গতকাল টেস্ট পরীক্ষা দিতে কলেজে যাওয়ার পথে ইলিয়াস তাঁকে ফোন করেন। ফোনে ইলিয়াস যৌতুক বাবদ দুই লাখ টাকা দাবি করেন। সুবর্ণা বলেন, তাঁর বাবা কৃষক। বাবার পক্ষে দ্রুত এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর বিকেলে বাসায় আসছি বলে ইলিয়াস মোবাইল কেটে দেন।

সুবর্ণার ভাষ্য, বাবার বাড়িতে একটি পৃথক ঘরে তিনি থাকতেন। বিকেল পাঁচটার দিকে পরীক্ষা দিয়ে কলেজ থেকে তিনি বাড়ি আসেন। ঘরে ঢোকা মাত্রই হাজির হন ইলিয়াস। ইলিয়াস তৎক্ষণাৎ টাকার কথা জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি আর বাবাকে তিনি টাকার কথা বলতে পারবেন না। ইলিয়াস তখন বলেন, টাকা না দিলে কিন্তু শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেব। সুবর্ণা বলেন, ‘ভালোবেসে বিয়ে করেছ, আবার পুড়িয়ে মারবে? তুমি চাইলে দাও।’ সঙ্গে সঙ্গেই ইলিয়াস একটি বোতলে করে নিয়ে আসা কেরোসিন সুবর্ণার গায়ে ঢেলে দেশলাই দিয়ে আগুন জ্বেলে দেন। এরপরই পালিয়ে যান।

সুবর্ণার বাবা আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, সুবর্ণার চিৎকার শুনে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসতে বললে রাত ১০টার দিকে সুবর্ণাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তিনি আরও বলেন, কলেজে যাওয়ার পথে ইলিয়াস সুবর্ণাকে উত্ত্যক্ত করত। এতে অনেকটা অতিষ্ঠ হয়েই দুই পরিবারের সমঝোতায় ৮ নভেম্বর সুবর্ণার সঙ্গে ইলিয়াসের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কথা ছিল, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর সুবর্ণাকে তুলে দেওয়া হবে। বিয়ের সময় যৌতুকের ব্যাপারে কোনো কথা ছিল না।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা যায়, আগুনে সুবর্ণার শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি মারা যান। তাঁর মরদেহ বার্ন ইউনিটের লাশঘরে রাখা হয়েছে।

বাবা আমজাদ হোসেনের দাবি, এ ব্যাপারটি তিনি রায়পুরা থানায় অবহিত করেছেন এবং থানা থেকে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় তিনি একটি মামলা করবেন।

ওয়ার্ল্ড মুসলিমাহ হলেন,তিউনিসিয়ার ফাতেমা।

untitled-8_100270_100282_0

ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিমাহ অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিযোগিতায় তিউনিসিয়ার তরুণী ফাতমা বেন গুয়েফ্রাচ সেরা মুসলিমার (মুসলিম সুন্দরী) মুকুট জিতেছেন। পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার পাল্টা শুধু মুসলমান নারীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় ১৮ জন ফাইনালিস্টের মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে যান ২৫ বছর বয়সী এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী।        

পুরস্কার হিসেবে তাকে দেওয়া হয় একটি সোনার ঘড়ি, সোনার ডিনার সেট ও কাবাঘরের একটি ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি। ওয়ার্ল্ড মুসলিমাহ খেতাব জিতে উচ্ছ্বসিত তিউনিসিয়ান তরুণী ফাতমা বলেন, ‘আল্লাহর সহায়তায় আমি এতদূর এসেছি। আমার চাওয়া হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং সিরিয়ার মানুষের মুক্তি।’ ১৮ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং ডাক্তারের মতো পেশাজীবী তরুণীরাও ছিলেন। বাংলাদেশি তরুণী তারান্নুমও ছিলেন ১৮ জনের একজন। তারান্নুম পেশায় একজন চিকিৎসক। ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী নারীদের জন্যই এ প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত ছিল।

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগীদের সবার মাথায় ছিল স্কার্ফ। বিচারকরা শুধু চেহারা বা সৌষ্ঠব দেখেই শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচন করেননি। তারা কতটা নির্ভুলভাবে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করতে পারেন সে পরীক্ষাও দিতে হয়। এ ছাড়া ইসলাম এবং আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কে তাদের জানাশোনার পরিধিও ছিল বিচার্য বিষয়।

আয়োজকদের একজন জামেয়াহ শেরিফ বলেন, ‘আমরা দেখতে চেয়েছিলাম তারা ইসলামি জীবনাচার সম্পর্কে কতটা ওয়াকিবহাল। জানতে চেয়েছি তারা কী খায়, কী পরে এবং কীভাবে জীবন কাটায়।”ওয়ার্ল্ড মুসলিমা অ্যাওয়ার্ড’ ২০১৩ সালে প্রচার মাধ্যমে স্থান পায়। প্রচলিত বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে তা ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত হয়।

মূলত পশ্চিমাদের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নারীদের বিকিনি পরিয়ে উপস্থাপন করার প্রতিবাদ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ব্রিটিশ প্রতিযোগী দিনা তরকিয়া বলেন, ‘আশা করি, এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমা বিশ্বে সুন্দরী প্রতিযোগিতার চিরাচরিত ধারণা যেমন পাল্টাবে, তেমনি ইসলাম সম্পর্কেও তাদের কুসংস্কার দূর হবে।’প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিযোগীদের অনলাইন অডিশনের মাধ্যমে শুক্রবার ফাইনালে অংশগ্রহণকারীদের চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

মেয়েদের জন্য পেশা হিসেবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং

 1525404_1448245098730288_1597213802_n
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং! শোনা মাত্রই গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিগুলোর ভারী ভারী যন্ত্রের কথা মাথায় চলে আসতে পারে অনেকেরই। আর অ্যাডমিশন টেস্টের সময়টাতে এই ইউনিভার্সিটি-সেই ইউনিভার্সিটি-এই সাবজেক্ট-সেই সাবজেক্টের হাতছানিতে দ্বিধায় পড়ে যায় ছেলেমেয়েরা। মেয়েদের মধ্যে যারা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-কে ক্যারিয়ার সূচনার মূলমন্ত্র হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী তাদের চোখেমুখে যেন কনফিউশনের ছাপটা একটু বেশিই লেগে থাকে! সত্যি কথা বলতে কি, সব ইঞ্জিনিয়ারিং-ই মেয়েদের জন্য একটু টাফতো বটেই। তাই বলে কি মেয়েরা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়বে না? নাকি পড়ছেনা?? মেয়ে বলে পিছিয়ে পড়লে চলবে কেন?

অন্য ইঞ্জিনিয়ারিং যদি পড়তে পারো তবে নির্দ্বিধায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংও পড়তে পারবে। তোমার মেধা আর মনোবলটাই আসল, আর কিছুনা। তাছাড়া আগের তুলনায় এখন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মেয়েদের সংখ্যা চোখে পড়ার মত। টেক্সটাইলে পড়তে আসবে কিন্তু মেয়ে বলে ভয় পাচ্ছো? জেনে নাও টেক্সটাইল সেক্টরে সফল মেয়েদের কিছু কথা।
 
আজিজা রহমান। বাংলাদেশের প্রথম মেয়ে টেক্সটাইল প্রযুক্তিবিদ। তিনি ছিলেন বগুড়ার মেয়ে। ১৯৮১-৮২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কলেজ অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি হতে টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে ৪ বছর মেয়াদী ডিগ্রী কোর্সে শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন।
 
ড. হোসনে আরা বেগম। বুটেক্সের একজন সহকারী অধ্যাপিকা এবং ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের প্রধান। কলেজ অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে পড়াশুনা করেছেন।  ITETএর একজন নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনি।
 
তারান্নুম আফরীন। বুটেক্সের গর্ব। শৈশবের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন ঢাকার মগবাজারে। পেশা হিসেবে তার প্রিয় কাজটি হচ্ছে গবেষণা। গান এবং বিতর্ক করতে পছন্দ করেন। ১৬তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে প্রথম হয়েছিলেন টেক্সটাইল কলেজে পড়ার সময়। বর্তমানে পি.এইচ.ডি. করছেন অস্ট্রেলিয়ার Deakin বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার গবেষণার বিষয় ”বাঁশের আঁশের প্রস্তুতির পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি উদ্ভাবন ও এর বহুমুখী ব্যবহার”। টেক্সটাইল বিশ্বে তার এই গবেষণা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রকাশ পেয়েছে বেশ কয়েকটি প্রচার মাধ্যমে।
 
আরো উদাহরণের কি দরকার আছে? মনে হয় না। টেক্সটাইল থেকে পড়াশুনা করে যে মিল-ফ্যাক্টরিতেই কাজ করতে হবে এমন কোন কথা নেই। ইউনিভার্সিটি লেকচারার হতে পারো, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সেক্টরে কাজ করতে পারো, কর্পোরেট জব করতে পারো, এমনকি নিজেই হয়ে যেতে পারো একজন উদ্যোক্তা! আর একটা কথা মাথায় রেখো, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়লে কর্মক্ষেত্র হিসেবে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্ব রয়েছে তোমার সামনে।
 
 
টেক্সটাইল সেক্টরকে বলা হয় বাংলাদেশের ”সোনার ডিম পাড়া হাঁস”। বিগত সময়ের রাজনৈতিক ডামাডোল আর একটার পর একটা দূর্ঘটনার কারণে আমাদের টেক্সটাইল সেক্টর কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঠিকই তবে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা মোটেই অসম্ভব কিছুনা। আর টেক্সটাইল শিল্প এমন একটি শিল্প যার ধ্বংস নেই। এখানে ধ্বংস হলে তা অন্য জায়গায় গড়ে উঠবে, উঠবেই। ইতোমধ্যে মায়ানমার, ভিয়েতনাম, জাপান, কোরিয়া সহ আরো অনেক দেশ টেক্সটাইল শিল্প নিয়ে জোরেসোরেই কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে।
 
সুতরাং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়বে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় থাকলে এখনি তা ঝেড়ে ফেলো আর হয়ে যাও টেক্সটাইল বিশ্বের একজন গর্বিত সদস্য। আমাদের জগতে স্বাগতম, অনেক শুভকামনা রইলো ।
 
লিখেছেন- তনিমা রহমান,৩৯তম ব্যাচ,বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজধানীর দৃক গ্যালারীতে শুরু হতে যাচ্ছে 'বিবাহ উৎসবঃসেশন-২'

10486239_580197762112986_9025239225348547020_o

বিয়ে শব্দটা খুব ছোট হলেও বিশাল এক পরিসরে বাঁধা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের নাম। দু’জন মানুষের চলার নতুন পথের সাথে সূচনা হয়,অনেক গুলো মানুষের আবেগ-অনুভূতির বন্ধন। আর তাই,বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই হচ্ছে,নতুন জীবনের স্বপ্নিল সূচনা,এবং আনন্দ-উৎসবে মুখরিত অনেক গুলো মনের আনাগোনা। দিন বদলের সাথে সাথে বদলেছে বিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা,আয়োজন,যুক্ত হয়েছে অনেক অনেক নতুন কিছু মাধ্যম। যা বিয়ের অনুষ্ঠান কে করে তুলে আরো বেশি উৎসব মুখর ও আনন্দময়।

আর সেই উৎসব এবং আনন্দ কে আরেকটু নতুন আঙ্গিকে,স্বপ্নের সহজ বাস্তবায়োনের পথ টা কে আরো বর্ণিল করতে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে, ‘বিবাহ উৎসবঃসেশন-২’।

ধানমন্ডির দৃক গ্যালারীতে আগামী ২৮-৩০ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবের আয়োজন করেছে,জনপ্রিয় ফটোগ্রাফি এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা, ‘ড্রিম ওয়েভার’ এবং ‘শাহজাহান ওয়েডিং প্ল্যানার এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’। উৎসবে থাকছে,বিয়ের অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফি,স্টেজ ডেকোরেশন,গ্রুম-ব্রাইডাল এক্সক্লুসিভ ডিজাইনার ড্রেস কালেকশন,ব্রাইডাল মেকওভার,মেহেদি ডিজাইন,এন্টারটেইনমেন্ট সহ বিয়ের আয়োজনের উল্লেখযোগ্য সব দিকের আয়োজনের খুঁটিনাটি।

উৎসব চলবে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। উৎসবটির স্পন্সর হিসেবে রয়েছে, আরটিভি,জাহিদ খান মেকওভার,শো স্টোপার,আযাদ প্রোডাক্টস সহ অনেক গুলো সংস্থা।

অপরাজিতা সেলিনা

কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ৩০ শতক জমির ওপর নয়ন সেলিনা গড়ে তুলেছেন পোলট্রি ও ডেইরি ফার্ম। মুরগি ও গরু প্রতিপালনের পাশাপাশি এর বিষ্ঠা এবং গোবরকেও তিনি কাজে লাগিয়েছেন। এ দিয়েই তিনি তৈরি করেছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। কক্সবাজারের প্রথম নারী উদ্যোক্তা সেলিনা বলেন, প্রথম অবস্থায় যতখানি গ্যাস উৎপাদন হতো তা দিয়ে আমার সংসারের পুরো মাসের জ্বালানির চাহিদা মিটে যেত। ভাবলাম প্রতিবেশীদের জন্যও এটা করা যেতে পারে। তাদেরও জ্বালানি সমস্যা থাকবে না। নিজ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করি। একটু একটু করে আমার স্বপ্নের পরিকল্পনাগুলো সত্যি হয়।
একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে সুনাম কুড়িয়েছেন সেলিনা। চারপাশের কোনো বাঁধাই তাকে দমাতে পারেনি। এখন তিনি কক্সবাজারে একজন মডেল নারী উদ্যোক্তা। তার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে ১০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে। বর্তমানে তার পোলট্রি ফার্মে লেয়ার মুরগি ৬ হাজার, ব্রয়লার মুরগি রয়েছে ৪ হাজার, ডেইরি ফার্মে রয়েছে ১৮টি পিজিয়াম বিদেশী গাভী। গরু থেকে প্রতিদিন দুধ পান ৮০ লিটারের মতো। এই দুধ শহরবাসীর দুধের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এই ব্যবসার পাশাপাশি তার ১০টি ছাগল, প্রায় ১০০ জোড়া কবুতরও রয়েছে। প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন পর পর এই কবুতর থেকে ২০ জোড়া কবুতরের বাচ্চা পান। এ থেকে তার বছরে রোজগার হয় ২ লাখ টাকা।
সেলিনা বলেন, ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে। এই খামারে ৮ জন শ্রমিক নিয়মিত মাসিক বেতনে কাজ করছেন। ৬ হাজার লেয়ার মুরগি থেকে প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। ব্রয়লার মুরগির অধিক পরিচর্যা আর যত্নের কারণে মাত্র ২৮ দিনে প্রতি মুরগির ওজন ২ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত বাড়ে। এ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে না পারায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কৃষি ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ আর্থিক ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তা এখনও পাননি। তাই এই প্রকল্পের কাজ স্থগিত রয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেলেও কিছুটা এগুতে পারতাম। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।
 
– সূত্রঃ সুরঞ্জনা।

পরিমিত মরিচের পরিমিত ব্যবহার

14b5bd188fbf20e53e492c8765b4afd7

আমাদের দেশে রান্নায় সব মশলার মধ্যে লবণের পরই কাঁচামরিচের স্থান। যেকোনো রান্নাতে কাঁচামরিচের ব্যবহার যথেষ্ট। তবে অনেকেই ঝাল পছন্দ করেন না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, লঙ্কার ঝালের জন্যই খাওয়ার সময় যে লালা নিঃসৃত হয়, তা খাবার হজম হতে সাহায্য করে। বর্তমানে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ বা মেজবানির খাবারের মধ্যে লাল লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কার ব্যবহার হয়। তাতে পেট জ্বালা, গ্যাস্ট্রিক আলসার বা আমাসার ভয় থাকে। সেদিক থেকে কাঁচামরিচ অনেকটাই নির্দোষ। আবার কিছু সমস্যাও আছে।

পরিমিত কাঁচামরিচ খেলে মুখের স্বাদ বদলে দেয়। খাওয়ার রুচিও বাড়িয়ে দেয়। কাঁচালঙ্কার বহু গুণাবলী রয়েছে। সেগুলোর দিকে একটু তাকানো যাক।

 ১. শরীর থেকে যাবতীয় নোংরা ফেলে দিতে সাহায্য করে কাঁচালঙ্কা। যেমন লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে।

২. শুকনোমরিচের শুষ্ক খোসা খেলে ডায়াবেটিস সেরে যায়। এছাড়া আমাশয়, বমির প্রবৃত্তি নষ্ট করে দেয়।

৩. ব্যথা ও বাতের মালিশের জন্য কাঁচামরিচ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

৪. পেট ব্যাথা করলে পানির মধ্যে লঙ্কা মিশিয়ে খেলে উপকার মেলে।

৫. ছারপোকার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে মরিচের ব্যবহার করতে পারেন। শুকনো লঙ্কা পানিতে ফুটিয়ে ক্কাথ তৈরি করুন। এবার যেখানে যেখানে ছারপোকার উপদ্রব সেখানে সেখানে ওই ক্কাথ লাগিয়ে দিলে ছারপোকা মরে যায়।

৬. কুকুর কামড়ালে সাথে সাথে লালমচির পিষে ক্ষতস্থানে দিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিষ পুড়ে যায়।

৭. অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। কাঁচামরিচ বেশি খেলে যকৃৎ বা লিভার গরম হয়ে যায়। তাতে নানা রকম রোগ দেখা দিতে পারে।

৮. অতিরিক্ত মরিচ খেলে শুক্র তরল হয়ে যায়। এছাড়া রতি শক্তি হ্রাস পায়।

৯. বেশি পরিমানে মরিচ খেলে শরীর গরম হয়, মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে যায়। এছাড়া পাকস্থলীতে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়ে যায়।

১০. লঙ্কা বেশি খেলে হজম শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। ভয়ঙ্কর রকমর অজীর্ণ রোগ দেখা যেতে পারে। যে রোগ সারানো প্রায় দুঃসাধ্য!

সূত্র- নয়া দিগন্ত।

ভালোবাসুন নিজেকে,দূরে থাকুন অবসাদ থেকে!

অবসাদগ্রস্ততার কারণ

2057_1

আমরা নানা কারণে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ফ্যাটিগ সিনড্রোম। কারণ জানা থাকলে নিজেই কাটিয়ে উঠতে পারেন অবসাদগ্রস্ততা। বিস্তারিত জানালেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ফারুক হোসাইন

কম ঘুম : ঘুম মানে কর্মহীনতা নয়, নতুন করে কর্মে ফিরে যাওয়ার শক্তি জোগায় ঘুম। তাই যাঁরা কম ঘুমান, কাজকর্মে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয় না। সুস্থ থাকতে চাইলে প্রতি রাতে কমপক্ষে সাত-আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

সমাধান : প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। ঘুমানোর কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে থেকে চা-কফি খাওয়া বন্ধ রাখুন। ঘুমানোর আগে টিভি দেখা, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করা বন্ধ করুন।

অপরিমিত খাদ্য গ্রহণ : সকালের নাশতা না খেয়ে থাকলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আবার খাবার গ্রহণ পরিমিত বা সঠিক না হলে দেহে অবসাদ ভর করতে পারে। যেমন চর্বিযুক্ত বিরিয়ানি খেলে অবসাদ লাগে। কারণ এই খাবার ভেঙে গ্লুকোজ উৎপাদন করতে শরীরের বেশি সময় লাগে।

সমাধান :তেল-চর্বিযুক্ত খাবার না খেয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করুন। যখন খুশি তখন খাবার গ্রহণ না করে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অতিরিক্ত ওজন : স্থূল মানুষের শরীরের বাড়তি ওজনের কারণে তাদের হাঁটাচলা থেকে শুরু করে যেকোনো কাজেই বেশি শক্তি খরচ হয়। তা ছাড়া বাড়তি ওজন হলে অসুখবিসুখও বেশি হয়।

সমাধান : ওজন কমাতে ডায়েটিং করুন, ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

কর্মহীনতা : কর্মহীন দেহে অবসাদ দ্রুত ভিড় করে। কর্মহীন ব্যক্তি নানা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। ফলে তিনি কাজকর্মে উদ্যম হারিয়ে ফেলেন। নিজের অজান্তেই তাঁর মধ্যে এ পরিবর্তন ঘটে। আবার অনেক রোগে আক্রান্ত হন।

সমাধান : পছন্দ হোক আর না হোক, যেকোনো একটি কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

পানিশূন্যতা : পানিশূন্যতা অবসাদগ্রস্ততার অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত ঘাম, পাতলা পায়খানা, বমি, দীর্ঘ সময় পানি না খেয়ে থাকা পানিশূন্যতার কারণ।

সমাধান : পানিশূন্যতা পূরণে ঘন ঘন পানি পান করুন। দেহকে সুস্থ, কর্মময় রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি গ্রহণ করা উচিত।

অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ : ঠাণ্ডার কারণে বা অ্যালার্জির কারণে অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খেলে কর্মক্ষমতা কমে যায়। অন্যদিকে যাঁরা টেনশন কমানোর ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছেন, তাঁরাও ঘুম ঘুম ভাবের কারণে অবসাদে ভুগতে পারেন।

সমাধান : ঘুম ঘুম ভাব করে না এমন অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়, তা সেবন করা।

খাবারে অ্যালার্জি : অনেক খাবারে অ্যালার্জি হয়। এসব খাবার খেলে শরীর চুলকাবে, ত্বকে লালচে র‌্যাশ উঠবে এমন কথা নেই। কাজকর্মে শক্তি বা মনোযোগ হারিয়ে ফেলা এসব অ্যালার্জির কারণে হতে পারে।

সমাধান : খেয়াল করুন কোন খাবার খেলে আপনার দুর্বল লাগে। যদি তা নির্ণয় করতে পারেন, তবে তা এড়িয়ে চলুন।

আরো যা করবেন

যদি ছয় মাসের অধিক সময় ধরে অবসাদগ্রস্ততায় ভোগে, তবে ধরে নেওয়া যায় তিনি ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমে ভুগছেন। এসব রোগী প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে রোগীকে কাজের ধরন পাল্টাতে হয়। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হয়। ঘুম যাতে ফ্রেশ হয়, সে ব্যবস্থা করতে হয়। কর্মে উদ্দীপনা ফিরে পেতে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।

এ ছাড়া গৃহিণীরা দৈনন্দিন কাজের একটি রুটিন করে নিন। কখনোই ভাববেন না আপনার ঘরের কাজের কোনো মূল্য নেই। নিজের কাজের মধ্যে নিজেই আনন্দ খুঁজে নিন। অবসাদ ঝেড়ে ফেলে নতুন প্রাণে জেগে উঠতে ব্যায়াম করুন, বেড়াতে যান, ঘর গোছান, গান শুনুন, বই পড়ুন, সিনেমা দেখুন ও রান্না করুন। মনে রাখবেন কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।

সূত্র- কালের কন্ঠ।

শিশুর প্রতি মানসিক নির্যাতন- যা অনেক সময় নিজের অজান্তেই করা হয়!

Cute-School-Children-Photo-5

সাধারণত মা-বাবা জেনেবুঝে শিশুর ওপর নির্যাতন করেন না। কিন্তু তাঁদের অসচেতনতা, শিশু লালন-পালনের অদক্ষতা, মানসিক চাপ, অসুস্থতা, পারিবারিক বা অর্থনৈতিক ঝামেলা, নিজে শৈশবে নির্যাতনের শিকার হওয়া ইত্যাদি কারণে শিশুর ওপর নির্যাতন করে ফেলেন। মা-বাবা একটু সচেতন থাকলে শিশুর ওপর মানসিক নির্যাতন অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যাপারে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, সাইকোলজিষ্ট তানজির আহমেদ তুষার। 

আসুন জেনে নিই, কিভাবে অভিভাবকরা শিশুর ওপর নির্যাতন করে ফেলেন এবং এর প্রভাবই বা কী।

কথা দিয়ে নির্যাতন

অনেক মা-বাবা বা অভিভাবক প্রায়ই শিশুকে বকাঝকা করেন, উঠতে-বসতে খোঁটা বা গালি দেন। এ ছাড়া অপমানজনক কথা বলেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তিরস্কার করেন। এতে শিশু কথার মাধ্যমে নির্যাতিত হয়। এসবের মাত্রা বেশি হলে শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তি

শিশুকে কথায় কথায় শাস্তি দিলে তা-ও মানসিক নির্যাতন। অনেক অভিভাবক হাসি বা কোনো সৃজনশীল কাজের জন্যও শিশুকে বকা দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার শিশুকে কাছে আসতে দেন না বা ‘খারাপ’ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কারো সঙ্গে মিশতে দেন না। এগুলোও মানসিক নির্যাতন। কারণ শিশু মা-বাবার শারীরিক সংস্পর্শে না যেতে পারলে নিঃসঙ্গ বোধ করে। তার সমবয়সী ও চাচাতো-খালাতো-মামাতো-ফুপাতো ভাইবোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে না পারলে তার সঠিক বিকাশ হয় না।

অবজ্ঞা করা

শিশুকে অবজ্ঞা করাও মানসিক নির্যাতন। কারণ এতে শিশুর সব ধরনের বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েক ধরনের অবজ্ঞাজনিত নির্যাতন রয়েছে। যেমন-

মৌলিক অধিকারের বেলায়

প্রতিটি শিশুরই খাদ্য, পোশাক, বাসস্থানের নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর বিষয় থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সে অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব অভিভাবকের। সেটি রক্ষা না হলে তা হবে শিশুর জন্য অবজ্ঞাজনিত নির্যাতন।

আবেগীয় অবজ্ঞা

শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রয়োজনীয় ভালোবাসা, আদর-স্নেহ, বুদ্ধি ও আবেগের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দীপনাসহ যথেষ্ট যত্ন করা না হলে সেটা হবে আবেগীয় অবজ্ঞা বা নির্যাতন।

তদারকির ক্ষেত্রে

অভিভাবকরা একটি ছোট শিশুকে বেশ কিছু সময়ের জন্য একাকী বা খালি বাসায় রেখে কোথাও গেলে শিশুকে তদারকির ক্ষেত্রে অবজ্ঞা করছেন বলে ধরা হয়। এটিও শিশুর জন্য নির্যাতন।

চিকিৎসাগত অবজ্ঞা

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে শিশুর চিকিৎসা না করানো বা টিকা দিতে বিলম্ব হলে তা হবে চিকিৎসাগত অবজ্ঞাজনিত মানসিক নির্যাতন।

শিক্ষাক্ষেত্রে

শিশুকে তাঁর শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে, তাঁর স্কুল বা পড়াশোনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর না রাখলে, স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক ও সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা না করা হলে এবং সময়মতো স্কুলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না করা হলে শিশু মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়।

মানসিক নির্যাতনের কুফল

শারীরিক নির্যাতনের মতো মানসিক নির্যাতনও শিশুর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনের তুলনায় মানসিক নির্যাতনের প্রভাব বেশি হয়। এটি শিশুর বুদ্ধি, ব্যক্তিত্ব, আচরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ছাড়া তাকে সমাজে মানিয়ে নিতে সমস্যায় ফেলতে পারে। পরে দাম্পত্য, পারিবারিক ও কর্মজীবনে নানা ধরনের অসুবিধায় ফেলে। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তার মতো মানসিক রোগও হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে শিশুর।

৭ বছর পর,কেমন আছে সিডরে বিধ্বস্ত পরিবারের শিশুরা?

RTX3H7H1

ঘূর্ণিঝড় সিডরের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনায় এখনো স্বজনহারা পরিবারের আহাজারি থামেনি। নিহতদের সন্তানেরা লেখাপাড়া শিখে বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা মানুষ হতে চায়।

বরগুনার তালতলীর কবিরাজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান তার মেয়ে ডলি (৭) ও কলিকে (১১) নিয়ে বেঁচে আছেন। তার পরিবারের বাকি ১১ জন সদস্যের সবাই মারা গেছেন। বেঁচে থাকা মেয়ে দু’টি মায়ের আদর যত ছাড়াই বড় হয়েছে। ছোট মেয়ে নানার বাড়িতে থেকে কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের আরেক পরিবারের নয়জন নিহত হন। তাদের পরিবারে বেঁচে থাকা আলমগীর বলেন, পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আজ আমি অসহায়। লেখাপড়া করার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও পারিনি। পরিবারের অভিভাবক হারিয়ে সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়েছি। 

বরগুনার আমতলী ঘটখালী গ্রামের ১৪ জন দিনমজুর পানের বরজের ধানশি লতা সংগ্রহের জন্য ট্রলার নিয়ে সাগর কাছে চরনিদ্রা ছকিনা গিয়েছিলেন। সিডরের ভয়াল সেই রাতে সবাই জলোচ্ছ্বাসে হারিয়ে যান। তাদের মধ্যে চারজন ফিরে এলেও ১০ জন আর ফিরে আসেননি। তারা হলেন ইউসুফ (৪০), জব্বার (৫৫), ছোবাহান (৪২), হোসেন (৫০), খলিল (৩৫), রতন (৪০), সোহেল (১৮), মনিরুল (২৫), দেলোয়ার (২৫) ও আলতাফ (২০)।

আমতলীর দিনমজুর ইউসুফ সরদার ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র অভিভাবক। তিনি রেখে গেছেন তিন সন্তান ও স্ত্রী আমেনা বেগমকে। আমেনা বেগম জানান, তার বড় মেয়ে সারমিন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে এ বছর এসএসসি পরীার্থী। ছোট মেয়ে নীল দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী এবং ছেলে শাওন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে। আমেনা বেগম আরো বলেন, আমি স্বামী হারিয়েছি, এতিম সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করতে পারছি না।

নিহত মনিরুলের স্ত্রী হামিদা বেগম বলেন, আমি দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র মেয়ে সাইফাকে (৯) লেখাপাড়া শেখানোর স্বপ্ন নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছি। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া সাইফা জানায়, বাবাকে হারিয়েছি। মায়ের মধ্যেই বাবার স্মৃতি খুঁজে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপাড়া করছি। নিহত রত্তনের বাবা আবদুর বারেক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মোর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নাই, মোর পোয়ায় দুই ছেলে রাইখ্যা গেছে, হ্যাগো ল্যাহাপাড়া হরাইতে বড় কষ্ট অইতেছে। সরকার এই এতিম সন্তানদের দিকে তাকাইলে বড় ভালো অইত।’

বৈঠাকাটা গ্রামের একই পরিবারের দুই ছেলে দেলোয়ার ও আলতাফ সিডরে নিহত হয়েছে। তাদের প্রতিবন্ধী বাবা আলী আজম গত বছর মারা গেছেন। দেলোয়ারের দুই ছেলে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

সোবাহানের দুই ছেলে। বড় ছেলে রাসেল ঘটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে আমতলী ডিগ্রি কলেজে লেখাপাড়া করছে। অর্থের অভাবে ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছে না। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে। কাজের ফাঁকে লেখাপড়া করে। রাসেল জানান, ‘বাবা ছিলেন দিনমজুর। অর্থের সন্ধানে সাগরে গিয়ে আর ফেরেননি। আমার পরিবারের আর যেন কোনো সদস্যের সাগরের বুকে হারিয়ে যেতে না হয় এ জন্যই লেখাপড়া করছি। কষ্ট হলেও একদিন সমাজের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াব।’

ঘটখালীর সমাজসেবক আলমগীর হোসেন জানান, নিহত পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর অদম্য বাসনা নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকে মেধাবী ও প্রতিভাবান। আমার বিশ্বাস তারা উচ্চশিা গ্রহণে সহযোগিতা পেলে দেশের সুনাগরিক হয়ে উঠবে।

ঘটখালী ও বৈঠাকাটা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে সিডরে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের আজো তারা ভুলেনি। এখনো মাঝে মধ্যেই তাদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

সূত্র- নয়া দিগন্ত

একটি মৃত্যু- আর প্রশ্নবিদ্ধ সমাজের চির নীরবতা!

86323_sumi with husband

৪দিন আগেও যে মানুষটির সরব পদচারণায় মুখর ছিলো হাসপাতাল,বাড়ির আঙ্গিনা,আজ সে মানুষটির হাসিমুখ কেবলই ছবি হয়ে থাকে দেয়ালে টাকানো ফ্রেমে! নিষ্ঠুর বাস্তবতার কাছে হার মেনে হারিয়ে গিয়েছে আগামীর স্বনামধন্য ডাক্তার,মা হারানো বাবার আদরের একমাত্র মেয়ে,ভাইয়ের কাছের বন্ধু প্রিয় বোন,হাসপাতালের আঙ্গিনার হাস্যজ্জ্বল মুখ ডা.শামারুখ মাহজাবিন সুমি।

গত ১৩ই নভেম্বর দুপুরে শ্বশুড়বাড়ির বাথরুমের গ্রিলে ঝুলানো সুমীর দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে,কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। কিন্তু এটা কি কোন আত্নহত্যা ছিলো?আদৌ কি সুমী নিজ গলায় ফাঁসি নিয়ে নিজের জীবন শেষ করেছিলেন? নাকি কোন এক ভয়ানক সত্য জেনে ফেলার নিষ্ঠুর শাস্তি দেয়া হয়েছিলো তাকে? নাকি সত্য প্রকাশ করে দেবার ভয়েই নির্মম ভাবে খুন করা হয়েছিলো সুমীকে? প্রশ্ন গুলো কোন ভাবেই অযৌক্তিক না,বরং এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়াই এখন সময়ের দাবী।

কেন এভাবে চলে যতে হলো একজন প্রতিভাবান ডাক্তার কে?কেন বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই লাশ হতে হলো একজন গৃহবধু কে? আর কেন ই বা তার মৃত্যুর কারণ গুলো অনুসন্ধান করতে যেয়ে কর্তৃপক্ষ কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোবার ভয় করছে?

ডা শামারুখ মাহজাবীন যশোরের পুরাতন কসবা এলাকার প্রকৌশলী নূরুল ইসলামের মেয়ে। রাজধানীর হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন,মৃত্যুর আগে সদ্য ইন্টার্নী শেষ করে,এফসিপিএস ডিগ্রী নেয়ার জন্য পড়াশুনা শুরু করেছিলেন। সুমী তার মেডিকেল কলেজের ডিবেট ক্লাবের প্রেসিডেন্টও ছিলেন। ন্যাশনাল ডিবেট ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও কাজ করেছেন। শালীন ও ভদ্র ব্যবহারের জন্য পুরো কলেজে সুনাম ছিল তার। সুমীর মেধা আর ব্যবহার দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলো তারই কলেজের শিক্ষিকা ডা জেসমিন আরা ম্যাডামের। ডা জেসমিন আরা যশোরের-৫ আসনের সাবেক এমপি টিপু সুলতান সাহেবের স্ত্রী। ডা জেসমিন আরা সুমী কে তার ছেলে হুমায়ন সুলতান সাদাব এর জন্য বউ করে আনেন। উচ্চ শিক্ষিত,প্রভাবশালী পরিবারের ব্যারিষ্টার ছেলের কাছে একমাত্র মেয়েকে অনেক আশা আর নির্ভরতার সাথেই বিয়ে দিয়েছেল নুরুল ইসলাম সাহেব। কিন্তু কে জানতো,এতো সব ভালো পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে এদের কি নিষ্ঠুর আর ভয়ানক পরিচয়!!

বিয়ের পর সুমীর পরিবার জানতে পারে,হুমায়ন সুলতান কোন ব্যারিষ্টার নন,তিনি ঢাকার একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে ল’পাশ করেছেন মাত্র!এবং তিনি পুরোদস্তর একজন মাদকাসক্ত! সব কিছু জানার পরেও সুমী আপ্রান চেষ্টা করছিলো স্বামীকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য,একটা সুন্দর সংসার সাজানোর জন্য কিন্তু গাছের গোড়াতেই যখন গলদ তখন আগাছা ছেঁটে কি আর ফল পাওয়া যায়? 

আর তাই নির্মম ভাবে হারিয়ে গেলেন সুমী!বিয়ের পর থেকেই শুরু হয়েছিলো সুমীর নরক বাস! দুর্নীতিবাজ শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি আর মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচারে জীবন অতিষ্ট হয়েছিলো শামারুখের!পড়াশুনা করতে বাঁধা দেয়া থেকে শুরু করে কাজের মেয়ের মতো খাঁটুনী করিয়েও স্বস্তি পেতেন না তারা,আর তাই চলতো মানুষিকের পাশাপাশি শারিরিক অত্যাচারও! বাবার কাছে ফোন করে প্রায়ই কান্নাকাটি করত মা-হারা ডা. শামারুখ মাহজাবীন সুমী। মৃত্যুর আগের দিনও ফোনে বাবা নুরুল ইসলামকে বলেছিলেন, আব্বু, এটা আমার শ্বশুর বাড়ি নয় টর্চার সেল, তোমরা ঢাকায় চলে আসো। আমাকে টর্চার সেল থেকে নিয়ে যাও। আমি তোমাদের কাছে থেকে এফসিপিএস করব।
ডা. শামারুখ তার বাবাকে বলতেন, তারা (শ্বশুরবাড়ির লোকজন) আমাকে বাসায় চাকরানীর মতো সব কাজ করায়। সকালে নাস্তা বানানো, দুপুর ও রাতের খাবার সব রান্না করায়। পান থেকে চুন খসলেই গালিগালাজ আর চড়-থাপ্পড় দেয়।
শামারুখের বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, এসব শোনার পরও মানসম্মান আর লোকলজ্জার ভয়ে সব মুখ বুঝে সহ্য করে যাওয়ার পরামর্শ দিতাম। কিন্তু সেই মুখ বুঝে থাকার পরিণতি এত ভয়াবহ হবে সেটা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারিনি। শ্বশুরবাড়িতে প্রায়ই নির্যাতন করত শামারুখের স্বামী হুমায়ুন সুলতান সাদাব, শ্বশুর খান টিপু সুলতান ও শাশুড়ি ডা. জেসমিন আরা। সব নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করত শামারুখ। সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তা আর নিজের মধ্যে চেপে রাখতে পারছিল না। তখন আমাকে জানায়, তার লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে। শ্বশুরবাড়ি তার জন্য টর্চার সেল-এ পরিণত হয়েছে।
বাবা নুরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আমি যদি আমার মেয়েকে নিয়ে আসতাম, তাহলে তাকে আজ এই নির্মম ঘটনার শিকার হতে হতো না।

এমন অনেক আফসোস ই আজ চারপাশে সবার মুখে মুখে! এখনো পর্যন্ত শামারুখের শ্বশুড়-শ্বাশুরি কে গ্রেফতার করা হয়নি,কারন তারা অনেক শক্তিশালী!লোক দেখানোর জন্য স্বামীকে গ্রেফতার করা হলেও মামলায় নেই কোন অগ্রগতি

শামারুখের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করতে যেয়ে জানা যায়,ক্ষমতাশীল শ্বশুড় টিপু সুলতানের গোপন দুর্নীতির তথ্য জেনে ফেলাটাই কাল হয়েছিলো,শামারুখ যাতে সে সব তথ্য বাইরে ফাঁস করে দিতে না পারে,সে কারণেই মেরে ফেলা হয় তাকে! সুমীর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, যে দিন সুমিকে হত্যা করা হয় সে দিন তার সাথে ফোনে ৩৫ মিনিট তার কথা হয়। ওই সময় মেয়ে তাকে জানায়, বাসার কাগজপত্রের মাঝে খান টিপু সুলতানের দুর্নীতিসংক্রান্ত কিছু তথ্য-উপাত্ত সুমি দেখে ফেলে। এর পর থেকে তার ওপর অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে। সুমি ফোনে কাঁদতে কাঁদতে বারবার বাবাকে অনুরোধ করেন তাকে দ্রুত সেখান থেকে না সরালে ওরা তাকে মেরে ফেলবে। সুমির আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্য হয়েছে।

নুরুল ইসলাম আরো জানান, একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও খান টিপু সুলতান যে কত নিচু প্রকৃতির মানুষ তা সুমির বিয়ের পর তিনি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। তিনি বিয়ের পর মেয়েকে ১২ ভরি সোনার অলঙ্কার দিয়েছেন। এই সোনাকে টিপু সুলতান পিতল বলে আখ্যায়িত করতে দ্বিধা করেননি।সম্প্রতি সুমির স্বামী হুমায়ুন সুলতান সাদাব নুরুল ইসলামকে জানান, তারা নতুন ফ্যাটে উঠবেন, এ জন্য ফার্নিচার দিতে হবে। নুরুল ইসলাম বিয়ের পর মেয়ে-জামাইয়ের জন্য ফার্নিচার তৈরি করেছিলেন। সেই ফার্নিচার নিয়ে যাওয়ার কথা বললে টিপু সুলতান ক্ষেপে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন। তিনি ফোনে নুরুল ইসলামকে বলেন, নতুন ফ্যাটের জন্য নতুন ফার্নিচার দিতে হবে। আর নিজের দোষ ঢাকতে সুমিকে শাসিয়ে বলে দেন তার বাবার কাছে বলতে হবে সেই (সুমি) নতুন ফার্নিচার দাবি করেছে। মেয়ের সুখের কথা ভেবে নিরুপায় হয়ে তিনি নতুন ফার্নিচার তৈরি করে দেন। যার চার হাজার টাকা এখনো দোকানে বাকি রয়েছে। অল্প কিছু দিন হলো এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ফ্রিজও কিনে দিয়েছেন বলে নুরুল ইসলাম জানান।

ডা শামারুখের মৃত্যু অনেক গুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়ে গেছে,চোখে আঙ্গুল দিয়ে আরেকবার দেখিয়ে দিয়ে গেলো,আমাদের সমাজে নারীর অসহায় অবস্থানের কথা! শিক্ষিত-অশিক্ষিত ভেদে আজো নারীর অবস্থান কতোটা অমানুষিক পর্যায়ে রয়েছে তা আরেকটা বার আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে!

হয়তো ক্ষমতা-টাকার দাপটে শামারুখের স্বামী-শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা পার পেয়ে যাবে,যুগের পর যুগ কেঁদে যাবে শামারুখের আত্না,কিন্তু আমাদের সমাজ কি বন্ধ করতে পারবে জীবিত শামারুখদের কান্না? পারবে কি সমাজের অসহায় সেই বাবা-মায়েদের বুকের জ্বালা কমাতে? আজো অনেক আশা নিয়ে বাব-মায়েরা মেয়েকে শ্বশুড়বাড়ি পাঠান,মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখার জন্যে নয়,কিন্তু যে সমাজে টিপু সুলতান-জেসমিন আরাদের মতো শ্বশুড়-শ্বাশুড়িদের নামে নরপশুদের বাস সেখানে কি করে থামবে সুমীদের বাবাদের আর্তনাদ?

আমরা বিচার চাই ডা সুমীর হত্যাকারীদের,এবং আমরা পরিবর্তন চাই এই সমাজের।

বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্নহত্যা

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকায় গতকাল রোববার নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। শারমিন সুলতানা নামের ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।
শারমিন সুলতানা (১৪) মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকার আবদুর রবের মেয়ে এবং স্থানীয় এ ভি জে এম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রী ছিল।
শারমিনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় শারমিনকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত এলাকার বখাটে অনিক। অন্যদের দিয়েও সে শারমিনকে উত্ত্যক্ত করাত। গতকাল সকালেও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় কাটাখালী সড়কে শারমিনকে উত্ত্যক্ত করে অনিক। এর প্রতিবাদ করলে শারমিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অনিক। বেলা ১১টার দিকে বাড়ি ফিরে গোসলখানার ঝরনার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে শারমিন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা গোসলখানায় ঝুলতে দেখে শারমিনকে উদ্ধার করে দ্রুত মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ফকির জানান, এ ঘটনায় শারমিনের মা অনিককে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অনিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজে!

Maria-Sharapova-img20981_668

মারিয়া শারাপোভা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত টেনিস খেলোয়াড়। শারাপোভার জন্ম রাশিয়ায়, ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল। এ যাবৎ তিনি টেনিসের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম জয় করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে মারিয়া জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন।

১৭ বছর বয়সে আমি উইম্বলডন জয় করি। এর কয়েক বছরের মধ্যেই মারাত্মকভাবে কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে আমার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমার সামনে অনেক কারণ ছিল, যার জন্য টেনিস খেলাই ছেড়ে দেওয়ার কথা তুলেছিল অনেকে। ইচ্ছা করলেই তখন খেলা ছেড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু হাল না ছেড়ে আবার কোর্টে নামার সাহস করি।
সত্যিকার অর্থে, আমার বেড়ে ওঠা ছিল ছাই থেকে। আবর্জনা থেকে আমার পরিবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। আমার শিকড় কোথায়, সেটা আমি জানি। আমার শুরুর সেই কষ্টের দিনগুলো আমি কখনোই ভুলতে পারব না। আমার বাবা-মা দুজনেই বেলারুশ থেকে আসেন। আমি যখন মায়ের পেটে, তখন চেরনোবিল দুর্যোগ ঘটে। বাবা আর মায়ের কাজ চলে যায়। তাঁদের বাকি জীবনটা অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছে। আমি তাঁদের মেয়ে। বাবা চার বছর বয়সে আমার হাতে টেনিস র্যাকেট তুলে দেন। বাবাই ছিলেন আমার প্রথম কোচ। স্কুলে পড়াশোনা আর বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন টেনিস অনুশীলনে নামতাম।

maria-sharapova1
আমি কোনো কিছু ধরলে তা ছাড়ি না। আমার বিখ্যাত কোনো বন্ধু ছিল না, যার মাধ্যমে আমি খ্যাতি অর্জন করতে পারি। কিংবা আমি ফ্যাশন মডেল নই, যাকে কোনো লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন বিখ্যাত করেছে। মূল কথা হচ্ছে, টেনিসই আমাকে সব দিয়েছে। ইনজুরিতে থাকার সময় যখন ম্যাগাজিন আর পত্রিকায় আমার ছবি দেখতাম, তখন ঠিক থাকতে পারতাম না। হাসপাতালে বসে কোর্টে দৌড়ানোর শব্দ পেতাম। আর দৌড়াব বলেই টেনিস কোর্টে ফিরে আসি।
আমি সব সময় মাঠে থাকতে চাই। প্রতিদিন। জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবি না। মাঠে থাকাই সব। খেলা শেষে ঘেমে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।
আমার বেড়ে ওঠা ছিল রাশিয়ার সোচি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে সোচি নামের বানান করে বলতে হতো। কেউ জানত না সোচি মানচিত্রের কোথায়। এখন আমার জন্য অনেকেই মানচিত্রে সোচি শহরকে চেনে। এটা অনেক আনন্দের। আমি যখন রাশিয়ার পতাকা নিয়ে কোথাও দাঁড়াই, তখন আমার চেয়ে গর্বিত আর কে হয় বলুন?
খেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক টেনিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলাম। যার জন্য মায়ের সঙ্গে প্রায় দুই বছর দেখা হয়নি। তখন আমাদের মুঠোফোন ছিল না, কোনো ই-মেইলও ছিল না। একটা কলম আর এক টুকরা কাগজই ছিল আমার সব। মাকে চিঠি লিখতাম। চিঠি যখন মায়ের কাছে যেত, তখন আমার যে অনুভূতি হতো, তা এখনো শিহরিত করে।
টেনিস খেলার একাডেমিতে অন্য মেয়েরা আমাকে নিয়ে হাসত। বেশি ছোট ছিলাম বলে র্যাগিংয়ের শিকার হতাম। আমাকে টিজ করা হতো। তখন আমি হতাশ হয়ে একা একা কাঁদতাম, কিন্তু আমার লক্ষ্য আমি জানতাম। রেগে দেশে ফিরে গেলে আমি হয়তো আজকের আমি হতাম না। সব সময় আশাবাদী হয়ে থাকলে বিপদে পড়লেও নিজেকে নিজে উদ্ধার করা যায়। কষ্ট করে লেগে থাকতে হয় স্বপ্নের পেছনে।
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জেতা ছিল আমার জন্য বিস্ময়। এটা স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। কখনোই চিন্তা করিনি মাত্র দুই সপ্তাহে পৃথিবীর সেরা সব টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে দেব! ফাইনালে আমি সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে দিই। আমি কতটা দুর্ধর্ষ টেনিস খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলাম, তা ভাবলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। কোনো দিকে মন না দিয়ে টেনিস বলেই আঘাতের পর আঘাত করে গিয়েছি। ফলে ফাইনালে আমার হাতেই ছিল সেরার পদকটি।
বেঁচে থাকার জন্য আমি টেনিস বলকে আঘাত করি, পরিশ্রম করি। আমি সব সময় সবার কাছ থেকে শেখার আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি। বাবা আর মায়ের কাছ থেকেই আমি কৌতূহলী হয়ে ওঠার নেশাটি পেয়েছি। আমার কাছে সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বের বিষয় হলো, প্রথমে ভালো মানুষ হওয়া, তারপর পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে হবে। এটা সত্যি অনন্য এক চ্যালেঞ্জ।
বেঁচে থাকার জন্য বন্ধুর বিকল্প নেই। আমি সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাই, গান গাই। টেনিস নিয়ে পড়ে থাকলেও পরিবারকে সময় দিই। যখন খুব হতাশায় ভুগি, তখন নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিই। নেইলপলিশ হাতে গ্র্যান্ড স্লামের ট্রফিগুলো তোলার স্মৃতি বারবার মনে করে নিজেকে সাহস দিই। আর হতাশার মাত্রা চরমে উঠলে গলা ছেড়ে গান গাই। প্রতিদিন সকালে আমি গান শুনে বাড়ি থেকে বের হই। আমার দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মায়ের হাতের রান্না। মায়ের হাতের বৈচিত্র্যময় রান্নার জন্য বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে আমার। আমি সময় পেলেই বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাই। একই বই কয়েকবার পড়ার বাতিক আছে আমার।
আমাকে কেউ কেউ ‘সুগারপোভা’ নামে ডাকে। অনেক ছোটবেলা থেকে আমি চকলেটের ভক্ত। আমার দাঁতে সব সময় চিনি লেগে থাকত। আমি চাইতাম বড় হয়ে আমি চকলেটের দোকান দেব। বড় হয়ে ব্যবসায়ী হব। সত্যি সত্যি টেনিস খেলার ক্যারিয়ার শেষ করে ব্যবসা করতে নামব।

মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই। নিজেকে সাফল্যের চূড়ায় দেখতে চাইলে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। যখন যা করো, তা-ই উপভোগ করো। বাড়িতে থাকলে টিভি দেখো, সিনেমা উপভোগ করো। হাসো। কিন্তু যখন কাজ করবে, তখন তাকে উপভোগ করো। নিজের প্রতিভা আর বুদ্ধি দিয়ে কঠিন সব কাজকে আয়ত্তে আনাই সফল ব্যক্তিদের কাজ। নিজের জীবনকে নিজেকেই আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়। গণ্ডির মধ্যে না থেকে মাঝেমধ্যে পাগলামি করো। পাগলামি করা শেখো। সামান্য কিছুতেই হাসতে শেখো। হাসিই সবচেয়ে বড় ওষুধ। ঝুঁকি নিতে শেখো। দাঁতে পোকা ধরার ঝুঁকি থাকলেও মাঝেমধ্যে চকলেট খাও। নিজেকে নিয়ে খুশি থাকো!
কিশোর বয়সে যারা টেনিস খেলতে চায়, তাদের জন্য আমার পরামর্শ, লেগে থাকতে হবে। পড়তে হবে, জানতে হবে, খেলতে হবে। সবকিছুর জন্য চাই কঠিন অনুশীলন। ব্যর্থ হলেও লেগে থাকতেই হবে। সফল হলেও লেগে থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন
জাহিদ হোসাইন খান

এই শীতে প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্যের তালিকা

veg1

দেখতে দেখতে শীতের আনাগোনা শুরু হয়ে গেলো,আর ক’দিন পরেই শুরু হয়ে যাবে পুরোদুস্তর শীত। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি-কাশি হওয়া খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু সর্তকতার সাথে চলতে পারলে এই স্বাভাবিক ব্যাপারটিও রুখে দেয়া সম্ভব। খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার যোগ করে শীতের সর্দি-কাশি থেকে খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারেন। চলুন তবে চিনে নেয়া যাক শীতের সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে কাজ করে এমন সুপারফুডগুলো। 

মাছ
মাছের ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি দেহে বাসা বাঁধতে পারে না।

রসুন
কাঁচা রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাধারণ ঋতু পরিবর্তনের সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে সবচাইতে ভালো কাজ করে। তাই প্রতিদিন ১-২ কোয়া কাসা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন।

আদা চা
শীতের সর্দি-কাশি রুখে দিতে সাধারণ দুধ চা পান কড়া ছেড়ে দিন। আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং গরম গরম চা ফ্লুয়ের বিরুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করে।

মাশরুম
মাশরুমে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ভিটামিন এবং ফাইবার যা সর্দি-কাশি রোধের পাশাপাশি দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে।

মিষ্টি আলু
শীতের খাবার এই মিষ্টি আলুর রয়েছে এই শীতকালের নানা ফ্লু জনিত রোগের হাত থেকে মুক্তির ক্ষমতা। এর ভিটামিন এ আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করতে বেশ কার্যকরী।

সূত্র: প্রিয় লাইফ

রাজধানীতে আগুনে দগ্ধ হয়ে নারীর মৃত্যু

রাজধানীর শ্যামপুরে গরম পানিতে দগ্ধ হওয়া জাহানারা বেগম (৩৫) গত শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, জাহানারা রাজধানীর শ্যামপুরের ওয়াসা গেট এলাকায় চাঁদনী পাকিজা ফ্যাক্টরি নামে একটি শাড়ি তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। শুক্রবার ভোরে শাড়ি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত ফুটন্ত পানিতে পড়ে যান তিনি। এতে দগ্ধ হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত দুইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের তত্ত্বাবধায়ক পরিদর্শক মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের কাছে জাহানারার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। তাঁর স্বামী আলাউদ্দিন একজন দিনমজুর।

হাতের মেহেদি না শুকোতেই লাশ হলো গৃহবধু ইয়াসমিন!

বিয়ের দুই মাসের মাথায় ইয়াসমিন আক্তার (১৮) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর কদমতলী থানার দনিয়ার এক বাসা থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর স্বামী তুহিন মোল্লা পলাতক।

দনিয়ার পাটেরবাগে ইয়াসমিনদের বাসা। গত ১২ সেপ্টেম্বর একই এলাকার তুহিন মোল্লার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর ইয়াসমিন স্বামীর সঙ্গে পাটেরবাগের একটি বাড়ির তিনতলায় থাকতেন।
লাশ উদ্ধারকারী কদমতলী থানার এসআই ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাসায় খেয়েছেন ইয়াসমিন। তখন পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। রাত ১১টার দিকে ইয়াসমিন স্বামীর বাসায় চলে যান। গতকাল ভোরে তুহিন ইয়াসমিনের বাবার পরিচিত বাদশা নামের একজনকে ফোন করে জানতে চান, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না। তুহিনের কথায় সন্দেহ হওয়ায় বাদশা বিষয়টি ইয়াসমিনের বাবা দুরুল ইসলামকে জানান। দুরুল মেয়ের বাসায় গিয়ে তা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ওই বাসার তালা ভেঙে দেখে, বিছানায় গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ইয়াসমিন পড়ে আছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওই থানার এসআই রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে তুহিন স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছেন। তাঁকে ধরার চেষ্টা চলছে।

বিয়ে যদি আবার করতেই হয়!

164

সঙ্গী হারিয়ে কিংবা জীবনের অন্য কোনো বাস্তবতায় দ্বিতীয়বার যদি বিয়ে করতেই হয়, তখন অবশ্যই সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে। তাদের মন বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জীবনচিত্র ১: সন্তানের নিষেধাজ্ঞা
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীবিয়োগের পর ১৩ বছরের একমাত্র মেয়ে অহনাকে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে রইলেন নিজাম হোসেন। বুকের নোঙর উপড়ে প্রিয়জনেরা এভাবেই চলে যায়। চলে যেতে হবে সবাইকে—এই সত্য উপলব্ধি করে শোক সামলে ঘুরে দাঁড়ালেন ৩৯ বছরের নিজাম।
মায়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে শোকে বিহ্বল অহনাও একসময় আবার শুরু করল স্কুলে আসা-যাওয়া। বাবা ছাড়া কিছুই বোঝে না সে। কোনো বিষয়ে ছাড় দিতে চায় না বাবাকে। একদিন খাবারের টেবিলে খোশমেজাজে বাবার উদ্দেশে বলল, ‘তুমি কিন্তু আর কখনোই বিয়ে করতে পারবে না। বিয়ের জন্য আমার অনুমতিও পাবে না, জানিয়ে রাখলাম। মায়ের আসনে আর কাউকে বসতে দেব না আমি, বুঝেছ?’
‘বুঝেছি।’ বললেন নিজাম।

জীবনচিত্র ২: বাপের বাড়ির চাপ
জীবনের বাঁধ ভেঙে গেছে। আচমকা সড়ক দুর্ঘটনায় একেবারেই চলে গেছেন প্রতিষ্ঠিত আস্থাবান স্বামী। কষ্ট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তবু চলে জীবন। সময় যায়, শোক স্থিত হতে না হতেই ১০ বছরের মেয়ে আর ১২ বছরের ছেলেকে লালন-পালনের দায়িত্বের শৃঙ্খলে আটকে পড়েন ৩৫ বছরের সানজানা। ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট আছে নিজের নামেই। ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকাসহ আর্থিক নিরাপত্তাও রয়েছে তাঁর। রয়েছে বিত্তশালী বাবা-মায়ের নিঃশর্ত সহায়তা। বেঁচে থাকার জন্য, সন্তানদের মানুষ করার জন্য কোনো বেগ পাওয়ার কথা নয় তাঁর। তবু সানজানার চলার পথে তৈরি হতে লাগল জীবনের নতুন ঘূর্ণি।

স্বামী মারা যাওয়ার দুই বছর পর ঘনিষ্ঠজনেরা আবার বিয়ে করার জন্য ‘স্কাড’ ছুড়তে লাগলেন সানজানার দিকে। আশপাশের পুরুষেরাও নানা কৌশলে ফাঁদ পাততে লাগলেন, প্রলোভিত করতে লাগলেন সানজানাকে। পুরুষদের পাতা ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও স্বজনদের পীড়াপীড়ি থেকে রেহাই পেলেন না তিনি। বিপত্নীক এক প্রকৌশলীকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলেন। সন্তানদের অনুমতি চাইলেন। নীরব হয়ে গেল তারা। হ্যাঁ-না কিছুই না—কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখাল না আচরণে।

জীবনচিত্র ৩: চেনা-অচেনা পুরুষের লোভ-লালসা
শ্বশুরবাড়িতে পা দেওয়ার পরই স্বপ্নের পতন ঘটল রাহার। কানকথা ভেসে এল কানে, ‘কেবল চেহারা ফরসা হলে হয়? উচ্চশিক্ষিত হলেই চলবে? মেয়ে তো দেখছি খাটো!’ নতুন জীবনের উচ্ছ্বসিত আনন্দময় মুহূর্তগুলো আচমকা থেমে গেল কানকথার বিষবাণে। জীবনের নোঙর গেড়ে বসেনি আর শ্বশুরবাড়িতে। নিজের বাড়িতে ফিরে আসার পর আর যাননি ওই বাড়ি। আরও নানা তিক্ত কাহিনির পর তালাকনামা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ডিভোর্সের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই টের পেতে লাগলেন চারপাশের চাপ। মুঠোফোন, ফেসবুক প্রযুক্তির অশুভ আক্রমণসহ চেনা-অচেনা মানুষের আনাগোনা, লোভ-লালসা যেন অরক্ষিত করে তুলল তাঁকে। একই সঙ্গে যুক্ত হলো নিজের বাড়িতে একমাত্র ভাইয়ের বউয়ের নানা কূটচাল। দুর্বিষহ হয়ে উঠল রাহার জীবন।

মনোবিশ্লেষণ
মেয়ে অহনাকে দেওয়া কথা রাখতে পারেননি নিজাম হোসেন। নৈতিকভাবে পুরুষ সত্তার জৈবিক চাহিদা মেটানো, সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে বিয়ে করে ফেললেন অবিবাহিত এক তরুণীকে।
আরেকবার জখমপ্রাপ্ত হলো অহনার আবেগ। তার চিন্তার জগৎ ছেয়ে গেল অনিশ্চয়তার কালো মেঘে। মাকে সে হারিয়েছে রোগের কারণে। আর বাবা আবার বিয়ের করার পর তার মনে হতে লাগল, বাবাকে হারাচ্ছে অন্য নারীর কারণে। নিজেকে জখমের পর জখম করে ভুল উপায়ে উপশম ঘটাতে চাইল রক্তাক্ত মনের।
নিজাম কি ভুল করেছেন?
না, বিয়ে করে ভুল করেননি—এই বয়সে আবার বিয়ে করে শরীর-মন, সমাজের দৃষ্টিমতে ঠিক কাজটিই করেছেন তিনি। কিন্তু একটি বড় ভুল করে ফেলেছেন তিনি। বিয়ের আগে অবশ্যই অহনাকে রাজি করিয়ে নেওয়া উচিত ছিল তাঁর। নিজে না পারলে, স্বজনদের উদ্যোগও ব্যর্থ হলে তাঁদের উচিত ছিল অহনাকে মনোচিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা। তবে নানা জীবনযন্ত্রণা ভোগ করে একসময় অহনা মেনে নেয় সৎমাকে। কিন্তু বাবাকে গোপনে এক শর্ত দেয় সে—যেন নতুন মায়ের কোলে কোনো সন্তান না আসে।
কথা দিয়েও সেই শর্ত রাখতে পারেননি নিজাম। নতুন স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি জেনে যায় অহনা। এবার সে আত্মহননের জন্য চূড়ান্ত চেষ্টা করে। হাসপাতাল থেকে জান নিয়ে ফেরত আসে অহনা। উন্নতির একপর্যায়ে মনোচিকিৎসার একটি ধাপে মনোবিদ তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার সবচেয়ে আপন কে?’
‘বাবা ছাড়া কেউ নেই আর।’ সহজ উত্তর অহনার।
‘বাবা কেন তোমার অতি আপন?’
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি সে। উত্তরটা দিলেন মনোবিদই, ‘তোমার দেহমন জুড়ে রয়েছে তোমার বাবা-মায়ের জিনগত অস্তিত্ব। জিনের তীব্র টানেই বাবার প্রতি তুমি মমত্ববোধ অনুভব করো। তুমিই বলো, বাবা কি চিরকাল বেঁচে থাকবে?’
উত্তর না দিয়ে মাথা নত করে থাকে অহনা।
মনোবিদ আবার বললেন, ‘যে নতুন শিশু তোমার সৎমায়ের পেটে বেড়ে উঠছে, সেও কিন্তু ধারণ করছে তোমার বাবার জিন। মায়ের অংশ না থাকলেও সেই শিশুর মধ্যে জিনগতভাবে তোমার মতোই একই বাবার অস্তিত্ব প্রবহমান থাকবে না? সেই অস্তিত্ব কি তোমার আপন হবে না? কেউ নেইয়ের জগতে কেউ একজন কি আপন হয়ে তোমার পাশে দাঁড়াবে না জেনেটিক কোডের টানের কারণে, কী বলো তুমি?’
এবারও উত্তর দেয়নি অহনা। মনোবিদের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল কেবল। চোখ থেকে ছিটকে বেরোচ্ছিল নতুন আলো, মুখ থেকে নেমে গেল অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। আনন্দে মন ভরে না উঠলেও নতুন অতিথিকে মেনে নিয়েছিল সে।
দ্বিতীয় জীবনচিত্রের সানজানাও ভুল করেননি। তবে ভুল করেছিলেন সন্তানের মনোজগৎ যথাযথভাবে বুঝতে না পেরে। ফলে দুই সন্তান মায়ের বিয়ের পর নিরুদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছিল। অনেক ভোগান্তির পর তাদের পাওয়া গেলেও ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল ব্যাপক। সেই ক্ষতি পূরণের জন্য এখনো কেঁদে বেড়ান সানজানা। বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান মনোচিকিৎসকদের চেম্বারে।
তৃতীয় জীবনচিত্রের রাহা পুনরায় বিয়ে না করে বাবা-মায়ের আকুতি-মিনতি উপেক্ষা করে একা চলতে থাকার কারণে জড়িয়ে যান অশুভ জালে—অনৈতিক যৌনতা, মাদক ও অপরাধজগতের জালে জড়িয়ে যান নিজেরই অজান্তে।

তাড়াহুড়া নয়
বিপত্নীক কিংবা বিধবা হলে, ডিভোর্স হলে ঠিক বয়সে, ঠিক সময়ে আবার বিয়ে করা মনস্তাত্ত্বিকভাবে একটা দরকারি পদক্ষেপ। জোর করে বিয়ে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনে। ডিভোর্স অনিবার্য হলে তা মেনে নিয়ে পরিণতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চিন্তা করে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আবার ঠিক সময়ে পুনরায় বিয়ে না হলে নানা সংকটে জড়িয়ে যেতে থাকেন ভুক্তভোগী—এটিও মাথায় রাখতে হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী না ঘটলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, বিষণ্নতাসহ আত্মহননের মতো প্রবণতা ঘনীভূত হতে থাকে মনে। দৈহিক সমস্যা এবং দৈহিক রোগও চক্রবৃদ্ধি হারে জটিল হতে থাকে। সন্তান না থাকলে ডিভোর্সি, বিধবা বা বিপত্নীকদের অবশ্যই দেখেশুনে পুনরায় বিয়ে করা উচিত। শুধু চাপে পড়ে আবেগের বশে যেনতেনভাবে বিয়ে করা বা কারও সঙ্গে তাড়াহুড়া করে জড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর মোটামুটি বোঝার বয়সী সন্তান থাকলে তাদের রাজি করিয়ে বা অনুমতি নিয়ে আবার বিয়ের জন্য এগোনো উচিত। এ ক্ষেত্রেও সময় নেওয়া জরুরি। অবুঝ সন্তান থাকলে আবার বিয়ে করা বা না-করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে অবশ্যই। এ ক্ষেত্রে সামাজিকতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে। বিয়ে না করে থাকলে যেমন ভেতরের জৈবিক তাড়না বা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তেমনিভাবে বাইরের জগতের চাপও আবেগে তৈরি করে অনিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণি। এ অবস্থায় যখন-তখন মেজাজের বিস্ফোরণ ঘটে, রাগ-ক্রোধ উসকে ওঠে, চারপাশের সম্পর্কগুলো তখন জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে।

সন্তান অধিকৃত সম্পত্তি নয়
অনেকে দৃঢ়ভাবে সন্তানকে বুকে নিয়ে পার করে দিতে চান পুরো জীবন। তাঁরা সন্তানকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চান, অধিকৃত সম্পত্তি হিসেবে ভাবতে চান নিজেদের অজান্তে। কিন্তু সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের আবেগ ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তার কারণে প্রকৃতিগতভাবে জড়িয়ে যায় অন্য তরুণ-তরুণীর সঙ্গে। অনেক ক্ষেত্রে মা আরও বেশি একা হয়ে পড়েন এ সময়। এই একাকিত্ব তখন তাঁদের কুরে কুরে খায়। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে ভুক্তভোগীদের আর কিছুই করার থাকে না। হতাশা ও বিষণ্নতা হয় তাদের জীবনের নিত্য সঙ্গী। মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক রীতিনীতির কারণে নর-নারী আবার বিয়ের কথা ভাবতেই পারেন।
*লেখায় উল্লেখ করা সব চরিত্রে ছদ্মনাম দেওয়া হয়েছে।
লেখক: অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও কথাসাহিত্যিক।
drmohitkamal@yahoo.com

যে গল্প অংকুরেই শেষ হতে চায়!!

8432ae2233db91de2e505fef35253341-Untitled-2

‘ভেবেছিলাম একটু থিতু হয়ে জীবনটাকে উপভোগ করব। বিয়ের বয়স এক বছর পাঁচ মাস। হানিমুনে যাওয়া হয়নি। টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম। কোথায় যাব, তা নিয়ে চলছিল আলাপ-আলোচনা। তবে দেশের বাইরে যাব বলে ঠিক করেছিলাম। হানিমুনের সেই টাকা দিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসা করেছি।’

এ কথা বলার সময় গভীর হতাশা ফুটে ওঠে চিকিৎসক মুনতাহিদ আহসানের মধ্যে। তাঁর স্ত্রী চিকিৎসক সানজানা জেরিনের চিকিৎসার কথাই বলছিলেন তিনি। বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে হানিমুনে যাবেন বলে যে টাকা জমিয়েছিলেন, সবই খরচ হয়ে গেছে তাঁর চিকিৎসায়।

জেরিন এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। গত ২৪ আগস্টের ছিনতাইয়ের ঘটনা শুধু জেরিনের নয়, তাঁর স্বামীর জীবনটাকেও তছনছ করে দিয়েছে। হারিয়ে গেছে নববিবাহিত দম্পতির ঘরবাঁধার সুখ।

সেদিন ভোর ছয়টার দিকে রিকশায় করে স্বামীর সঙ্গে জেরিন তাঁর কর্মস্থল ফেনীর পরশুরামে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। রাজধানীর কমলাপুর ফুটবল স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাদা রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে জেরিনের হাতব্যাগে হেঁচকা টান দেওয়া হয়। এতে জেরিন ১০-১৫ ফিট দূরে গিয়ে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।

মুনতাহিদের ভাষ্য, ‘আমার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা, আমার মাথার সিটিস্ক্যান করাও’—এ কথা বলেই জ্ঞান হারান জেরিন। এটাই ছিল জেরিনের মুখ থেকে শোনা শেষ কথা। এরপর থেকে তিনি নির্বাক, নিথর। জেরিনের মাথায় এর মধ্যে দুবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হয়নি।

জেরিন এখনো চোখ মেলে তাঁর প্রিয়জনদের দেখেন বটে, কিন্তু সেই চোখের কোনো ভাষা নেই। এক মাস লাইফ সাপোর্টে ছিলেন জেরিন। এখন অবশ্য সে ব্যবস্থা খুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জেরিনের যন্ত্রণা কমেনি। মাঝেমধ্যে তাঁর এতটাই জ্বর ওঠে, ছটফট শুরু করেন জেরিন।

বিএসএমএমইউর অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল হাই প্রথম আলো অনলাইনকে বলেন, ‘মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পাওয়া এমন রোগীর সুস্থতার বিষয়ে কিছুই বলা যায় না। রোগীকে চোখ মেলে তাকাতে দেখে সুস্থ মনে হলেও ভালো বলার উপায় নেই। আবার অসুস্থ মনে হওয়ার পরও অনেকে সুস্থ হন। এমন পরিস্থিতিতে এক রোগীর ৪২ বছর বেঁচে থাকার নজিরও আছে। আমরা চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। কত দিন চিকিৎসা চালাতে হবে, তা বলাও সম্ভব নয়।’

৩৩তম বিসিএস উত্তীর্ণ এ এই দম্পতি চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জেরিনকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগ করা হয়। মুনতাহিদকে ফেনীতে নিয়োগ করা হয়।

ঘটনার পর মুনতাহিদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্বামী ও স্ত্রীকে একই জায়গায় দিতে আবেদন করেন।

ঘটনার পর জেরিনকে প্রথমে আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সে ভর্তি করা হয়। পরে নেওয়া হয় কাকরাইলের ইসলামিয়া ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে। তারপর বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। আবেদন করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় আইসিইউর ভাড়া নিচ্ছে না। এর পরও এ পর্যন্ত জেরিনের চিকিৎসার পেছনে খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। প্রতিদিনই ওষুধসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

মুনতাহিদ ও জেরিনের দুজনের পরিবারই মধ্যবিত্ত। এই দম্পতি পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। তাঁরা ছিলেন একই ব্যাচের শিক্ষার্থী। সেখানকার শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনরাই জেরিনের চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাঁরাই বা আর কত দেবেন? মুনতাহিদ বুঝতে পারছেন না
স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ আর কত দিন চালাতে পারবেন।

মুনতাহিদ বলেন, ‘জেরিন মাত্র ১০ বছর বয়সে তার মাকে হারায়। ছেলেমেয়ের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে বাবা আর বিয়ে করেননি। জেরিনের চাহিদা খুবই কম। সময়ের কাজ সময়ে করতে ভালোবাসে। গোছানো জীবনে অভ্যস্ত। আমার অগোছালো জীবনটাকেও গোছাতে চেয়েছিল। তবে সেই মেয়ের জীবনটাই এখন অগোছালো হয়ে গেল।’

জেরিনের বাবার স্বপ্ন ছিল একটাই—তা হলো জেরিন চিকিৎসক হয়ে মানুষকে সেবা করবেন। জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফল করা জেরিনের বাবার সেই আশা পূরণ করতে চলেছিলেন। কিন্তু শুধু একটি ঘটনায় সব শেষ হতে চলেছে।

ঘটনার পর মুগদা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে মামলা করেছেন মুনতাহিদ। থানা থেকে সন্দেহভাজন ধরে মুনতাহিদকে ফোন দেওয়া হয়। মুনতাহিদ বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি শুধু একটি হাত দেখেছি। তা দেখে তো আর কাউকে দোষী বলা যায় না।’

মুনতাহিদ বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগে রাজধানীতে আরেকজন নারী ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মারাই গেলেন। আমার স্ত্রী মারা যাননি তফাৎ শুধু এইটুকু। নগরীর কোন কোন জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তা পুলিশ প্রশাসন জানে। তারা একটু তৎপর হলেই আমাদের আর এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে হয় না। এখন ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা তো দূরের কথা, স্ত্রী বাঁচবে কি না, এটাই তো অনিশ্চিত।’

ছিনতাইকারীদের উদ্দেশে মুনতাহিদ বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা কী মানুষ না?’

জেরিন আর মুনতাহিদের জীবনের গল্পের এমন অজস্র গল্প অংকুরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে!প্রতিদিন ছিনতাই-দুর্ঘটনা এমন অনেক দম্পতির জীবনটা কে নিঃশ্ব করে দিচ্ছি! কিন্তু আমরা এভাবে জেরিনের গল্প টা কে ফুরিয়ে যেতে দিতে পারিনা…
 
জেরিনের সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসতে চাইলে মোহাম্মদ মুনতাহিদ আহসান ভূঞা, ব্র্যাক ব্যাংক, মতিঝিল শাখা, হিসাব নম্বর-১৫১৩২০২৫০৬৬৮১০০১ এই ঠিকানায় আর্থিক সহায়তা করতে পারেন।

চা শ্রমিক- মানুষ হলেও যাদের জীবন ক্রীতদাসের ন্যায়!

3103

চা বাগান। সবুজের মোহন দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। একই মাপের চা-গাছ ঢেউ খেলে পাহাড়-টিলার বুকে। ২৬ ইঞ্চির বেশি বাড়তে দেয়া হয় না সবুজের এ ঢেউকে। বাড়লেই ছেঁটে ফেলা হয়। গাছগুলোর মতোই যেন চা শ্রমিকদের জীবনও ছেঁটে ফেলা। যেখানে প্রশ্রয় নেই হাসি-আনন্দের। বেঁচে থাকা শুধু বেঁচে থাকার জন্যই। সমাজের মূল স্রোতে তারা মিশতে পারেননি কখনওই।

প্রায় ১৭৫ বছর ধরে পুরুষানুক্রমে গ্লানিমাখা জীবনের ঘানি টানছেন তারা। কোন মূল্যই যেন নেই তাদের জীবনের। প্রতি ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটনির দাম মাত্র সাড়ে আট টাকা। তাও অনেক আন্দোলন, অনেক তপস্যার পর শ্রমের এ মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। এর মাঝেও কিন্তু আছে। আট ঘণ্টায় যদি নিরিখ (প্রতিদিন যে পরিমাণ পাতা তুলতেই হবে) পূর্ণ হয় তবেই পড়ে ঘণ্টার এ দাম। নিরিখ পূর্ণ না হলে ঘণ্টার মূল্য কমে আরও। 

চা শ্রমিকরা দীর্ঘ দিন ধরেই মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। হাড়ভাঙা খাটুনির বিপরীতে নামমাত্র মজুরি জুটে চা শ্রমিকদের ভাগ্যে। কোন রকমে বেঁচে থাকার হিসাব কষে তাদের উপলব্ধি দৈনিক ৩শ’ টাকার কম মজুরি হলে বেঁচে থাকাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। অথচ বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬৯ টাকা। অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে দফায় দফায় বেড়ে মজুরি এ পর্যন্ত এসেছে। এর আগে ২০১৩ সালের মে পর্যন্ত দৈনিক মজুরি ছিল ৬২ টাকা। তার আগে ৫৫ টাকা। এরও আগে ছিল ৪৮ টাকা। অর্থাৎ যতই আন্দোলন হোক এক দফায় ৭ টাকার বেশি মজুরি বাড়ছে না। ২০০৯ থেকে ৫ বছরে চার দফায় মজুরি বেড়েছে ২১ টাকা। সে হিসেবে ৩০০ টাকা মজুরি পেতে হলে চ শ্রমিকদের অপেক্ষা করতে হবে আর ৫৭ বছর।
শ্রমিকদের কম মজুরির বিষয়টি সামনে এলেই বাগান মালিকরা বরাবর ‘রেশন সিস্টেম’কে ঢাল হিসেবে নিয়ে আসেন। তবে তারা এ ‘রেশন সিস্টেমে’র বিস্তারিত কখনওই কারও সামনে তুলে ধরেন না- শুভঙ্করের ফাঁকি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে। চা শ্রমিকদের তথ্যমতে, রেশন ব্যবস্থায় একজন শ্রমিক সপ্তাহে ৩ কেজি চাল বা আটা বরাদ্দ পান। সেগুলো খাওয়ার উপযোগী নয়। তবে বেঁচে থাকার তাগিদে তা-ও গিলতে হয় তাদের। এ বরাদ্দ দিয়েই দৈনিক ৬৯ টাকায় বাঁধা জীবনের হিসাব মেলাতে হয় তাদের।

হিসাবের তিনটি রুটি নিয়ে কাজে বের হন তারা। এর একটি সকালে নাশতা  হিসাবে খান, সঙ্গে থাকে কাঁচা চায়ের পাতার সঙ্গে  মরিচ মেখে তৈরি করা ভর্তা। বাকি রুটিগুলো জমা থাকে দুপুরের খাবারের জন্য। ৬৯ টাকার হিসাবে ফাঁক আছে আরও। এ ৬৯ টাকা থেকেই বাঁচিয়ে রাখতে হয় ছুটির দিনের খরচ। বাংলাদেশে একমাত্র চা শ্রমিকরাই ছুটির দিনে কোন মজুরি পান না। ছুটির দিনের মজুরি যাতে না দিতে হয় তাই ‘হপ্তা’ (সাপ্তাহিক বেতন) সিস্টেম ভাঙতে চান না বাগানের কর্ণধাররা। তাই কোনভাবেই জীবনের হিসাব মেলাতে পারেন না চা শ্রমিকরা। অন্যান্য এলাকার চেয়ে চা বাগানগুলোতে শীতের আধিক্য বেশি থাকলেও সাধ্য না থাকায় শীতের পোশাক কেনারও সামর্থ্য থাকে না তাদের। পুরনো ছেঁড়া-ফাটা পোশাক কিনে বা সংগ্রহ করে শীতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় তাদের।

চা শ্রমিকদের থাকার ঘরগুলোর বেশির ভাগেরই মাটির দেয়াল। দেয়াল গলে সহজেই ঢুকে পড়ে শীত। আর বর্ষায় থাকে দেয়াল ধসে মৃত্যুর ঝুঁকি। ঘরের মতো বাইরেও একই অবস্থা। চা শ্রমিকদের এমন সংগ্রামী জীবনের গল্প প্রায় ১৭৫ বছরের পুরনো। সময়টা উনিশ শতকের মাঝামাঝি। উপমহাদেশ জুড়ে তখন বৃটিশ রাজত্ব। বাংলায় রেল লাইন বসবে। নিজেদের স্বার্থেই গ্রামের পথ চিরে রেলের লাইন টানছে বৃটিশ শাসক। লাইন বসানোর জন্য বাংলার বাইরে থেকে মূলত বিহার, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শ্রমিক আনা হয়। 
রেল লাইনের কাজ শেষ হলেও সেই শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ বাংলাতেই থেকে যায়। এমনই সময় চা বাগানের ভাবনা আসে বৃটিশদের মাথায়। নেপালিসহ আরও কিছু অবাঙালি শ্রমিক পাঠানো হয়। থেকে যাওয়া অবাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের পাঠানো হয় সিলেট-আসাম অঞ্চলে। উদ্দেশ্য, জঙ্গল সাফ করে পাহাড়ি টিলায় চায়ের বাগান তৈরী। শুধু বাগান নয় জনবসতি বিস্তারের লক্ষ্যেও বৃটিশদের এ চিন্তা। পাহাড়-টিলায় জায়গা করে নেয়া সেসব অবাঙালির পরিচয় হয় চা-শ্রমিক হিসেবে। আর তাদের খাটনির শুরুও সেই থেকেই।

১৭৫ বছর আগে যে জীবনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়েছিল সে জীবনের ঘানি আজও টানছেন তারা। এ সময়ে বাইরের জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এলেও তার কোন ছোঁয়া লাগেনি চা শ্রমিকদের জীবনে।  
এখনও তাদের পথ চলতে হয় সামনের জঙ্গল কেটে কেটে। রোদে জ্বলে, বৃষ্টিতে ভিজে কেবলই কাজ করতে হয় তাদের। কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য একটু ছায়ারও ব্যবস্থা থাকে না তাদের জন্য। বৃটিশ তাড়িয়ে, পাকিস্তানের পতাকা সরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হলেও স্বাধীনতার পরশ পড়েনি চা শ্রমিকদের খেটে খাওয়া দেহে। 
চা শ্রমিকদের জীবন এখনও চলছে বৃটিশদের বেঁধে দেয়া নিয়মেই। তারা এখনও শ্রমদাস হয়ে আছেন। চেয়ে চেয়ে দেখেছেন শুধু মালিকানার পরিবর্তন, ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এতটুকুও। বৃটিশ বিদায়ের পর চা বাগানের দখল নেন পাকিস্তানি পুঁজিপতিরা। এরপর দেশ স্বাধীন হলে ইস্পাহানি, বাওয়ানি, কাশ্মীরি পরিবারের হাতে থাকা বাগানের মালিকানা আসে বাংলাদেশী মালিকদের কাছে। তবে চা শ্রমিকদের ভাগ্য রয়ে গেছে একই। সাদা চামড়ার বৃটিশ মালিকদের চেয়ে কম নন বাদামি রঙের বাংলাদেশী মালিকরাও। বৃটিশদের বাবুয়ানা ষোলো আনাই ধরে রেখেছেন বাবু নামে পরিচিত এ কালের ম্যানেজাররাও। বড় বাবু, ছোট বাবুুদের সামনে বসার অধিকার চা শ্রমিকদের নেই। ডাক পড়লে তবেই কেবল ঘরে ঢোকা যায়। তা-ও ঢুকতে হয় খালি পায়ে। 
বাবুরা বিলাসিতার চরমে ভাসলেও চা শ্রমিকদের জীবনে তার সামান্য ছিটেফোঁটাও পড়ে না। এমনকি নিজেদের পরিশ্রমের ফসল চায়ের পূর্ণ স্বাদও তারা পান না কখনও। চা শ্রমিকরা পরম মমতায় সন্তানের মতো আগলে রেখে কুঁড়ি থেকে বড় করে তোলেন চায়ের পাতা। প্রক্রিয়াজাত হয়ে বাহারি মোড়কে ঢাকা সে চা পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে। শুধু পৌঁছে না শ্রমিকদের ঘরে। তাদের কাছে চা বলতে চায়ের কাঁচা পাতাই। বাগান থেকে ছিঁড়ে আনা চায়ের কাঁচা পাতা লবণ-পানিতে গুলে তাই পান করেন তারা। চা শ্রমিকরা যাতে বাইরের ভুবনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সজাগ হতে না পারেন সে পথ বৃটিশরাই তৈরি করে রেখেছিল। শ্রমিকদের বাগানের মাঝে বন্দি করে রাখার কৌশল হিসেবে প্রতিটি বাগানের ভেতর মদের দোকান গড়ে তোলা হয়। হাড়ভাঙা খাটুনির পর জীবনের যেটুকু উদ্যম বেঁচে থাকে তা-ও নিংড়ে নেয় স্থানীয়ভাবে পাট্টা নামে পরিচিত এসব মদের দোকান। চা বাগানের বর্তমান মালিকরাও নিজেদের স্বার্থে বাঁচিয়ে রাখছেন এসব পাট্টা।
চা শ্রমিকদের জীবনে আলোর পরশ যাতে না লাগে বৃটিশদের দেখিয়ে দেয়া পথ অনুসরণ করে তার সব রকম যোগানই করে রাখছেন বাগান মালিকরা। তাদের অনাগ্রহের কারণেই পর্যাপ্ত স্কুলের অভাব রয়েছে বাগান এলাকায়। যদিও এখন অনেক এনজিও বাগানের ভেতরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে তবে তা-ও চলে অনেক তদারকের ভেতর দিয়ে। বাগান মালিকরা কখনই চান না আলো পড়ুক শ্রমিকদের নগ্ন ‘কালো’ গায়ে।

সূত্র- মানবজমিন

ডিসলেক্সিয়া এবং ডিসলেক্সিক শিশু

dev-bg-home-2

‘তারে জামিন পার’ নামের হিন্দি মুভিটির কথা মনে আছে? যারা দেখেছেন তারা অবশ্যই ডিসলেক্সিয়া শব্দটির সাথে পরিচিত। মুভির প্রধান চরিত্র ঈশান নামের ছেলেটি পড়া ও লেখার ক্ষেত্রে যে সমস্যায় পড়েছিল তা-ই হলো ডিসলেক্সিয়া। আমাদের দেশে অনেক শিশু এই সমস্যায় ভুগে থাকে। এটি একটি স্নায়ুগত সমস্যা যা জন্মগত ভাবেই অনেক শিশুর মধ্যে থাকে। এর সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দেয়ার জন্যই এই লেখা।

ডিসলেক্সিয়া কি?

ডিসলেক্সিয়া (Dyslexia) বা স্পেসিফিক লার্নিং ডিজেএবিলিটি (শিখনমূলক অক্ষমতা) হলো এমন এক ধরনের সমস্যা, যা হলে শিশুর পড়তে অসুবিধা হয়। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজিস্টের মতে, এটা শিশুদের একটা সমস্যা যেখানে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা ঠিক থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো কিছু লেখা বা পড়ায় সমবয়সী অন্য শিশুদের মতো সক্ষম হয় না। বিকাশগত ডিসলেক্সিয়া প্রথমবার বর্ণিত হয়েছিল ১৮৮৬ সালে একটি ১৪ বছরের ছেলের ঘটনায়, যে পড়তে শিখছিল না। ১৯৬০ সালের পরেই এটি গবেষণা চিকিত্‍সার ক্ষেত্র থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে সরে এসেছিল, এবং ইউএসএ -তে ৮০ এর দশকে “পড়ার অক্ষমতা” শব্দটির দ্বারা ডিসলেক্সিয়া শব্দটিকে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছিল।

ডিসলেক্সিয়ার কারণ ও ধরন 

আঘাতজনিত ডিসলেক্সিয়া: মস্তিস্কের একটি নির্দিষ্ট স্থান থাকে যেটি পড়ালেখার ক্ষমতা কন্ট্রোল করে। শিশুর জন্মের সময় অথবা অন্য কোনো কারণে মস্তিস্কের সেই স্থানে আঘাত পেলে ডিসলেক্সিয়া হতে পারে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার অগ্রগতির সাথে সাথে বর্তমানে এ ধরনের ডিসলেক্সিয়া খুব একটা দেখা যায় না।

প্রাথমিক ডিসলেক্সিয়া: প্রাথমিক ডিসলেক্সিয়াতেই শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে ব্রেইনের বাম দিকের একটি অংশ কোনো কারণ ছাড়াই ঠিকভাবে কাজ করে না। বয়স বাড়লেও ব্রেইনের ওই অংশ ঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে বড় হয়েও এরা ঠিকমতো লিখতে, পড়তে ও বলতে পারে না। এ সমস্যা বংশ পরম্পরায় ছড়াতে পারে। মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।

সেকেন্ডারি বা জন্মগত ডিসলেক্সিয়া: শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় হরমোনগত কারণে এ সমস্যা হতে পারে। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। এ ধরনের সমস্যা ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে।

লক্ষণসমূহঃ

আমরা যেটা দেখি তার আকার-আকৃতি ব্রেইনে স্থায়ীভাবে গেথে যায়। সে কারণে চারপাশের জিনিসগুলো আলাদাভাবে চিনতে পারি। কাউকে না দেখেও শুধু তার কথা শুনে বলে দিতে পারি সেটা কার কণ্ঠস্বর। কিন্তু ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ব্রেইন এ ধরনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে ভালো স্কুল, ভালো শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করালেও এরা পড়াশোনায় পিছিয়ে যায়। বর্ণমালার অক্ষরগুলো ঠিকমতো চিনতে পারে না বা উল্টা-পাল্টা দেখে। এমনকি ক্লাসে বসে শত চেষ্টা সত্ত্বেও শিক্ষকের পড়া ঠিকমতো বুঝতে পারে না। এরা স্কুলে বোর্ড দেখে দেখে খাতায় লিখতে খুব অসুবিধা অনুভব করে। একটি প্রশ্ন করলে অনেক সময় উত্তর করতে সমর্থ হলেও এক সঙ্গে অনেক প্রশ্ন করলে এরা কোনোটিরই উত্তর দিতে পারে না। কানে তেমন সমস্যা না থাকলেও এরা কোনো কিছু শুনে মনে রাখতে পারে না। একটি বাক্য বলার সময় মাঝের কিছু শব্দ তারা ভুলে যায় অথবা হারিয়ে ফেলে। ফলে বাক্যের অর্থ এমন হয়ে যায় যে, অনেকের কাছে তা হাস্যকর মনে হয়। তারা জানে তারা কি বলতে চাচ্ছে কিন্তু প্রকাশ করে ফেলে ভিন্ন কিছু। যার কারণে এরা পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ে। একসময় পরিবার তথা শিক্ষকদের রোষানলে পড়ে। ফলে তারা নিজেদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। সাধারনত শিশুরা ডান কিংবা বাম হাতে শক্তিশালী হলেও এরা দুই হাতে মোটামুটি সমান শক্তি প্রকাশ করে থাকে। যেহেতু সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এই সমস্যাগুলো সারা জীবন থাকে, তাই বড় হলে সে বিষণ্নতায় ভোগে।

অথচ বুদ্ধির দিক থেকে এদের কোনো ঘাটতি থাকে না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এসব শিশুর না আছে কোনো চোখে সমস্যা, না আছে কোনো কানে সমস্যা। এমনকি মানসিকভাবে এরা বিকারগ্রস্ত থাকে না।

যদি আপনার শিশু 

–      অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায় দেরিতে কথা বলতে শেখে।

–      দিক নির্দেশনা বুঝতে সমস্যা হয়। ডান ও বাম দিকের মধ্যে তফাত ধরতে পারে না।

–      সাধারনত যে বয়সে জামার বোতাম লাগাতে এবং জুতার ফিতা বাঁধতে পারার কথা তা না পারে বা করতে সমস্যা হয়।

–      অকারণেই হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়।

–      প্রতিটা শব্দ ধরে ধরে পড়ে কিন্তু মানে বুঝতে পারে না বা বুঝতে দেরি হয়।

–      দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ইত্যাদির মানে বুঝতে পারে না।

–      কোনো কিছু বানান করে পড়তে তারা দুর্বলতা প্রকাশ করে।

–       শুদ্ধ উচ্চারনে সমস্যা

–      পড়া, দেখে বা শুনে লেখা সঠিকভাবে অন্যরা যত দ্রুত পারে, তত দ্রুত পারেনা। তাই তাদের লেখা অসুন্দর হয়। এক পৃষ্ঠায় একই শব্দ বিভিন্ন ভুল বানানে লেখে বা এক বানানের সাথে অন্য বানান মিলেনা।

–      কখনো কখনো উল্টো বা বিভিন্ন প্যাটার্নে শব্দ লেখে।

–      অনেক সময় পড়তে গিয়ে লেখা শব্দের জায়গায় বেশি চেনা অন্য শব্দ ব্যবহার করে।

–      পড়তে পড়তে লাইন বাদ দিয়ে যায়। অনেক সময় নিজের থেকে শব্দে অতিরিক্ত অক্ষর যোগ করে দিতে পারে। আবার অনেক সময় বাদও দিতে পারে।

–      পড়তে পড়তে অন্য দিকে তাকালে যে লাইনটা পড়ছিল সেটা আর খুঁজে পায় না।

–     কোনো কিছুর সঙ্গে এরা তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। এমনকি মিউজিকের তালেও এরা শরীর দোলাতে পারে না।

এই সমস্যার পাশাপাশি এই শিশুদের আরো কিছু উপসর্গও থাকে। যেমনঃ

* সামষ্টিক কাজে অনগ্রসরতা এবং অমনোযোগ

* অতিরিক্ত লজ্জা ও একা থাকার প্রবনতা

* গতি ও অবস্থান নির্ণয়ে অসামন্জস্যতার কারনে খেলায় অপারদর্শিতা

* দিবাস্বপ্ন দেখার প্রবণতা

* প্রচণ্ড স্কুল-ভীতি

 

ওপরের লক্ষণগুলো যদি থাকে, তাহলে হতে পারে যে শিশুটি ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে বাড়তে থাকতে পারে। এমনটি হলে যথাশীঘ্র শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এবং সঠিক দিকনির্দেশনা মত চলতে হবে।

চিকিৎসা ও করনীয়ঃ

ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জন্য প্রথম চিকিৎসাই হলো তার সমস্যাকে শনাক্ত করা। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগটি নির্ণয় করা বেশ কঠিন। মা-বাবা কিংবা ক্লাসের শিক্ষক রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরতে পারেন না। তবে মানসিক বিশেষজ্ঞ কিংবা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগটি সহজেই নির্ণয় করতে পারেন। শিশুর ডিসলেক্সিয়া থাকলে তা সাধারণত বোঝা যায় স্কুলে ভর্তি করার পর। তাই এ সময়ে শিশুর  দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। এর চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ তেমন কার্যকরী ভুমিকা রাখতে সক্ষম হয় নি। ডিসলেক্সিয়ার কোনো নির্দিষ্ট চিকিত্‍সা হয় না। কবে কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে শিশুদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে তোলা যেতে পারে।

–       শিশুর ঠিক কোন জায়গায় সমস্যা তা বোঝার চেষ্টা করুন। সেই অনুযায়ী স্ট্র্যাটেজি ঠিক করুন।

–      নির্দিষ্ট পড়ানোর স্টাইল ছেড়ে ইন্টারঅ্যাক্টিভ স্টাইলের আশ্রয় নিন। সম্ভব হলে কমপিউটারের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

–      ডিসলেক্সিক শিশুরা যেন সহজে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য বড়দের আচরণ ঠিক রাখতে হবে। পড়াশোনা নিয়ে শিশুকে বেশি চাপ দেবেন না। আবার এত বেশি ছুট দেবেন যাতে আর পড়তেই না চায়।

–      হোমওয়ার্ক একটানা না করে কিছুটা বিরতি দিয়ে করানো উচিত। কোনো পড়া ঠিকমতো করলে শিশুর প্রশংসা করুন।

–      পড়ার সমস্যা কমাতে শিক্ষক-ছাত্র একসঙ্গে বসে পড়লে ভালো হয়। যেটা পড়া হবে সেটার মানে যদি শিক্ষক বুঝিয়ে দেয়, তাহলে বাচ্চার পড়তে সুবিধে হয়। দুজনকেই একসাথে শুরু করতে হবে, যাতে শিক্ষকের গলার আওয়াজ শিশুর কাছে সাপোর্টের কাজ করে। শিক্ষকের গলার আওয়াজ আস্তে আস্তে কমিয়ে দিতে হবে যেন শিশু একাই পড়তে পারে।

–      একটানা ক্লাস না নিয়ে বিরতি দিয়ে ক্লাস করতে হবে।

–      যেসব শিশুরা পড়তে পড়তে খেই হারিয়ে ফেলে তাদের আঙুল ব্যবহার করে পড়তে শেখানো যেতে পারে। এতে লাইন বাদ দেবার প্রবণতা কমে যাবে।

–      অনেক সময় স্পিচ মাসল ঠিকমতো কাজ করে না বলে শিশু ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না। অনেক ব্যায়াম আছে যেগুলো স্পিচ মাসল শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।  শিশুকে এসব ব্যায়াম করান।

–      ছোট ছোট খেলাও অনেক সময় উপকারী হয়। যেমন- শিশুর সাথে শব্দের পাজেল/ লেগো থেকে লুকানো শব্দ খুঁজে বের করার খেলা খেলুন।

 

ডিসলেক্সিক শিশু ও অভিভাবকের করণীয়ঃ

পৃথিবীতে সব শিশুই সমান ব্রেইন কিংবা মেধা নিয়ে আসে। এরপরও সে-ই ভালো ছাত্র/ছাত্রী হয় যে বেশি চর্চা করে। কিন্তু ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশু চর্চা করার ক্ষমতা হারায়। শিশুর এ সমস্যা কাটাতে মা-বাবার ভূমিকাই প্রধান। শিশুর আশপাশের লোকজনের সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি। প্রথমে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে স্কুল শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন। তবে একজন চাইল্ড সাইকিয়াট্রিস্টের সহায়তা নিলে খুব ভালো হয়। শিশুকে তার ব্যর্থতার জন্য কোনোভাবেই গালমন্দ কিংবা মারধর করবেন না। পড়াশোনা না করার জন্য বকুনি শুনতে শুনতে হারিয়ে যায় ওদের ‘আমিও পারি’ বোধটা। তাই ‘ফাঁকিবাজ’রা এড়িয়ে চলতে শুরু করে ভালবাসার জিনিসও। সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে ‘কনডাক্ট ডিসঅর্ডার’ বা আচরণের অসঙ্গতি। হয়ে উঠতে পারে আত্মহত্যাপ্রবণও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিসলেক্সিয়া অসুখ নয়। অক্ষমতা মাত্র। এই অক্ষমতা পুরোটা সারে না, তবে সচেতনতাই আসল। ফাঁকিবাজি না অন্য কিছু, তা বুঝতে হবে বাবা-মাকে, স্কুলকে, বিশেষত শিক্ষককে। ডিসলেক্সিকদের ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ খুব কম। তবে ডিসলেক্সিক বাচ্চারা খুব প্রতিভাবান হয়। তাদের খুবই ভাল চিন্তাশক্তি/কল্পনাশক্তি এবং কখনো কখনো ভাল গানিতিক প্রতিভা থাকে। বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে তাদের অসাধারন আগ্রহ ও পারদর্শিতা দেখা যায়। ওদের যে দিকে আগ্রহ সে দিকে উৎসাহ পেলে দারুণ উন্নতি করে।  ‘স্পেশ্যাল লার্নিং’ ও ‘স্পেশ্যাল কেয়ার’ও এই সমস্যার বেশ খানিকটা সমাধান হতে পারে। অনেক সময়ই দেখা যায়, ওপেন স্কুল ব্যাপারটা ডিসলেক্সিকদের ক্ষেত্রে খুব খেটে যায়। কারণ, সেখানে পছন্দসই বিষয় বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকে। যা প্রচলিত কাঠামোয় নেই। তা ছাড়া উৎসাহ দিয়ে যেতে হবে ওদের ভাল লাগার বিষয়ে। সে দিকে বইতে দিলে সফল হয় ওরা। দেখা গিয়েছে, ওদের পিছনে লেগে থাকলে, অর্থাৎ সমস্যাটা বুঝে ওদের একটু সময় দিলে, সাহায্য করলে ওরা সফল হয়। সুতরাং শিশুর ডিসলেক্সিয়া থাকলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দরকার ভালবাসা, উৎসাহ আর বোঝার মন। সমস্যা গুলো জন্মগত হলেও বিশেষ ভাবে দেখলে সেগুলো অনেকাংশে দুর করা যায়। আর তাদের গুণগুলো এগিয়ে নিতে পারলে মেধাবী কিছু মানুষ পাওয়া সম্ভব।

লিখেছেন- সিফাত মাহজাবিন,নিউট্রেশনিস্ট।

পরকীয়া- দিন দিন যার বৃদ্ধি ভয়ংকর!

htta

কিঞ্চিৎ ভুল বোঝাবুঝিতে সুখের ঘরে ঢুকে পড়ছে দুখের আগুন। পারিবারিক বন্ধন ভেঙে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। পরকীয়ার ঘটনায় একের পর এক তছনছ হচ্ছে সাজানো সংসার। ঘটছে খুনোখুনির ঘটনাও। বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহের জেরে বিবাহবিচ্ছেদ অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত করছে নিষ্পাপ শিশুসন্তানদের। পরবর্তীতে এ শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। শিশুকাল থেকে পিতৃ-মাতৃহীনতার কারণে ঢুকে যাচ্ছে অন্ধকার নেশার জগতে। আক্রান্ত হচ্ছে নানা মানসিক রোগে। ঝরে পড়ছে বিদ্যাপীঠ থেকে। বহুবিধ কারণে সারা দেশে নারী নির্যাতন, তালাক ও পরকীয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। 
গত প্রায় ৫ বছরে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে ৫৪ হাজার ৪৯৫টি। পরিসংখ্যান বলছে গ্রামের চেয়ে শহরে তালাকের ঘটনা বেশি। তালাকে পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে। 
পরকীয়ার জেরে গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে গিয়াসউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী খুন হন। পুলিশ জানায়, গিয়াসউদ্দিনের স্ত্রী লিনা তার প্রেমিক তানভীর ও তানভীরের বন্ধুদের দিয়ে স্বামীকে হত্যা করান। একই কারণে গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর মধ্য পাইকপাড়ায় ৭ বছরের ছেলে সাবিদ হোসেন ও স্ত্রী আইরিন আক্তার আরজুকে হত্যা করেন তার স্বামী। স্ত্রীর পরকীয়ার খেসারত হিসেবে ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিনকে লাশ হতে হয়েছে। তার সন্তানদের ভবিষ্যৎও নষ্ট হওয়ার পথে। অন্যদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা বাবার পরকীয়ার জেরে মায়ের সঙ্গে সাবিদকে শুধু প্রাণই দিতে হয়নি, তার দেড় বছরের ছোট ভাই সানভীরের জীবন এখন অনিশ্চয়তায় ঘুরপাক খাচ্ছে। 
অপরাধ বিশ্লেষক ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মোবাইল ফোন, চ্যাটবক্স, ফেসবুক, যৌতুক, নেশার উন্মাদনা, বিপরীত লিঙ্গ থেকে যৌন চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে দাম্পত্য কলহ, পরকীয়া, আর্থিক দৈন্য, বিদেশি বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেলের নাটক-সিনেমার প্রভাবসহ মানসিক হীনম্মন্যতার কারণে পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে। এর ফলে ভাঙছে সংসার। বাড়ছে নারীর ওপর নির্যাতন। পারিবারিক এ ভাঙনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। যে সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল থাকে, সেখানকার সন্তানরাও মানসিক সমস্যায় ভোগে। ভবিষ্যতে ওই সন্তান জড়িয়ে পড়ে বহুবিধ অপরাধে। 
সমাজবিজ্ঞানীরা এও বলছেন, নারী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় সে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। তাই স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতন তারা এখন আর মুখ বুজে সহ্য করছে না। তাই বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৬৬টি তালাকের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৩১৬টি তালাক দেওয়া হয় নারীর পক্ষ থেকে। আর পুরুষের পক্ষ থেকে ৪ হাজার ২৫০টি। এতসব ঘটনার মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক ও আইনি মীমাংসায় মাত্র ৩০৬টি তালাক প্রত্যাহার করা হয়। 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫টি অঞ্চলে একই সময়ে ১০ হাজার ৬৪৯টি তালাকের নোটিশ জমা পড়ে। সেখানেও তালাক প্রদানে নারীরা এগিয়ে। তালাক দেওয়ার েেত্র বেশিরভাগ নারীর বয়সই ২৫ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। আর ২০১০ সাল থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫ বছরে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে ৫৪ হাজার ৪৯৫টি। পরিসংখ্যান বলছে গ্রামের চেয়ে শহরে তালাকের ঘটনা বেশি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০১২ সালে ২ হাজার ৮৭৯টি তালাকের ঘটনা ঘটলেও পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৮০টিতে।  
বিবাহবিচ্ছেদ বৃদ্ধির ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ এহসান হাবিব বলেন, পারিবারিক ভাঙনের একক ও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। নারীর ক্ষমতায়ন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, প্রযুক্তির বিপ্লব ও বৈশ্বিক পরিবর্তনে মানুষের রুচি বদল হচ্
ছে। আর এ কারণেই ঘর ভাঙছে। তিনি বলেন, উচ্চবিত্ত পরিবারে ঘর ভাঙছে পারস্পরিক অঙ্গীকার থেকে কারো সরে আসা ও রুচির পার্থক্যের কারণে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে মূল সমস্যা ভরণ-পোষণ মেটানো। তবে সব শ্রেণির পরিবারেই স্বামী-স্ত্রী পরস্পর সঙ্গ না পাওয়া, জৈবিক চাহিদা পূরণে অক্ষমতা, হীনম্মন্যতা ও অতি আবেগ বিবাহবিচ্ছেদের মূল কারণ। এ জন্য নারী-পুরুষ পরকীয়ায়ও জড়িয়ে পড়ছে।  
ড. শাহ এহসান হাবিবের মতে, সংসার টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন পারিবারিক বোঝাপড়া। এছাড়াও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সহায়তায় অন্তত জেলায়-জেলায় স্থায়ীভাবে পারিবারিক কাউন্সেলিং আয়োজনের মত দেন তিনি। 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অবস্থায় অনেকেই প্রেমে জড়িয়ে পড়ে গোপনে বিয়ে সেরে ফেলছে। এরপর কয়েক বছর যেতে না যেতেই পরিবারের মন রক্ষা অথবা নানা দৈন্যদশায় পড়ে তারা তালাকের দিকে যাচ্ছে। ওই কর্মকর্তা জানান, নগর এলাকায় তালাক অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নারী-পুরুষের স্থায়ী ঠিকানায় জনপ্রতিনিধির কাছে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু গোপনে বিয়ে করা ছেলেমেয়েরা এক্ষেত্রে তাদের ঠিকানায় চিঠি না পাঠাতে অনুরোধ করে থাকে। প্রতিদিনই এ রকম ঘটনা ঘটছে। 
সূত্র আরও জানায়, রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরায় ধনাঢ্য পরিবারে সবচেয়ে বেশি বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। বাদ পড়ছে না মডেল-তারকা পরিবারও। কিন্তু সম্মান বাঁচাতে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে তা গোপন রাখা হচ্ছে। 
দিনদিন পারিবারিক বন্ধন ন্যুব্জ হয়ে পড়ায় নারী নির্যাতনের ঘটনাও বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে সৎ মা, পাড়া-প্রতিবেশীসহ বহুবিধ কারণে শিশুর ওপরও অত্যাচার বাড়ছে। 
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ‘নারীর প্রতি সহায়তা সেল কর্মসূচি’ দেশের ৬টি বিভাগে গত এক বছরে সারা দেশে ৫ হাজার ২৫৪ নারী ও ৪ হাজার ৮৭৩ শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছে। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন সেল সূত্র জানায়, বিবাহবিচ্ছেদের পর আপন রক্ত-মাংসে গড়া শিশুটি যাতে নির্যাতনের শিকার না হয় সে কথা ভেবে ৬০ শতাংশ নারী চান সন্তান তাদের কাছে থাক। 
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিন আহমেদ চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, নারীরা শিক্ষাগ্রহণ করে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম হচ্ছে। এখন সে তার ভালো-মন্দ বিচার করতে জানে। আর অর্থনৈতিকভাবে সক্ষমতার কারণে নারী তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারের জবাব দিতে শিখেছে। এছাড়া যৌতুকের দাবিসহ অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়ারও ভিন্নতা আছে। ইন্টারনেটের বদৌলতে সামাজিক অবক্ষয় বাড়ায় ঘর ভাঙছে। এতে শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

লিখেছেন- হাসান জাভেদ।

কম্পিউটার ইউজারদের ১০টি বাজে ভুল!

real-issues

জেনেশুনেও একই ভুল আমরা বারবার করি। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্যগুলোর ক্ষেত্রে এই কিছু অতি সাধারণ ভুলও কিন্তু আমাদের বড় ধরনের ঝামেলায় ফেলে। প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারের সময় গড়ে ওঠা কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়—এমনই ১০ কু-অভ্যাস থেকে মুক্তির উপায় জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডারে এ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন।

সবকিছুতে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার
এই একটি ভুল প্রায় অধিকাংশ মানুষই করেন। বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন অনেকেই। এতে একটি পাসওয়ার্ড দুর্বৃত্তদের হাতে পড়ে গেলে তারা সব অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে। একটি পাসওয়ার্ড মনে রাখা সহজ বলে সব অ্যাকাউন্টে ওই একই পাসওয়ার্ড দিয়ে পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে চান অনেকে। এ অভ্যাসটিকে বিপজ্জনক অভ্যাস বলছেন প্রযুক্তি গবেষকেরা। যদি নতুন পাসওয়ার্ড মনে রাখতে সমস্যা হয়, তবে লাস্ট পাসের মতো পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্য নিতে পারেন।

কোনোদিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করা
একই পাসওয়ার্ড যেমন—বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার ঠিক তেমনি একই পাসওয়ার্ড বেশিদিন ব্যবহার করাও উচিত নয়। পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত। মাইক্রোসফটের পরামর্শ হচ্ছে, প্রতি মাসে একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। মাসে একবার না পারলে নিরাপদ থাকতে প্রতি তিন মাসে হলেও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা সক্রিয় না করা
সাইবার দুর্বৃত্তদের রাজত্বের এই সময়ে দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার না করা বোকামি। অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘টু-স্টেপ অথেনটিকেশন’ সক্রিয় করা প্রয়োজন। অনলাইনে আপনি যে যে সার্ভিস ব্যবহার করেন তাতে যদি দ্বিস্তরযুক্ত শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ থাকে তা কাজে লাগাবেন। ম্যাকাফির অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রবার্ট সিসিলিয়ানোর পরামর্শ হচ্ছে এটা। তাঁর মতে, দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরও একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না, সে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে।

ছবি মুছতে ভুলে যাওয়া
আপনার মোবাইল ফোনের জায়গা নষ্ট হওয়ার জন্য ছবি মুছে ফেলতে ভুলে যাওয়ার অভ্যাস দায়ী। বেশি পুরোনো ছবি মোবাইলে না রেখে তা মুছে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনার পুরোনো ছবি বা গানগুলোকে অনলাইনে ক্লাউড সার্ভিসে রেখে দিতে পারেন।

কাজের সময় কম্পিউটারে ঠিকভাবে না বসা
যাঁরা নয়টা-পাঁচটা অফিস করেন তারা কম্পিউটারে বসার নিয়ম কানুন অনেক সময় মেনে চলেন না। গবেষকেরা জানিয়েছেন, টানা ৮ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে স্থূলতা, ডায়াবেটিসের মতো নানা সমস্যার ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটানা কম্পিউটার ব্যবহারের পরিবর্তে মাঝে মাঝে বিরতি দিন। এ ছাড়া কম্পিউটার মনিটরটির অবস্থান আপনার চোখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থাপন করুন।

লগ আউট করা হয়নি!

অনেকেই ফেসবুক, জিমেইলের মতো অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোতে যাওয়ার পর লগ আউট করতে ভুলে যান। শিক্ষার্থীরা এই ভুল বেশি করে বসেন। সাইবার ক্যাফে. লাইব্রেরি কম্পিউটার কিংবা বন্ধুর কোনো কম্পিউটারে লগ ইন করার পর অনেক সময় তা ব্যবহার করে আর লগ আউট করেন না। অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট হওয়া এবং ব্রাউজিং হিস্ট্রি মুছে মুছে ফেলার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার বিষয়টি অনিরাপদ কোনো পিসি থেকে না করাই ভালো। গুগল, ফেসবুক, স্কাইপে দূর থেকে কীভাবে লগ আউট করা যায় তার ভিডিও টিউটোরিয়াল পাবেন।

কম্পিউটার কখনো রিস্টার্ট না দেওয়া
টানা কম্পিউটার ব্যবহার করে যাচ্ছেন কিন্তু পিসিকে মোটেও বিশ্রাম দিচ্ছেন না। এতে পিসির মারাত্মক ক্ষতি না হলেও পিসির গতি কমে যাবে। কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দেয় এ ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ করতে রিস্টার্ট একটি উত্তম উপায়। অবশ্য, ঘন ঘন রিস্টার্ট দেওয়া বা পিসি বন্ধ করার অভ্যাস করাও ঠিক নয় এতে আপনি অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারেন।

বারবার মোবাইল দেখা
ঘুমানোর আগে অনেকেই বারবার মোবাইল দেখতে থাকেন যা মোটেও ঠিক নয়। গবেষকেরা বলেন, কৃত্রিম এই আলো ঘুম নষ্ট করার জন্য এই আলো দায়ী। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর আগে ট্যাব বা স্মার্টফোনের ব্যবহার ঘুমের চক্রকে নষ্ট করে দেয়।

আপডেট নিতে ভয় করা
সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করতে অনেক সময় বিরক্তিবোধ হয়। বেশি সময় লাগে বলে গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটা অনেকেই করতে চান না। কিন্তু সফটওয়্যার সবসময় হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করা উচিত। মোবাইল ফোনের অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার আপডেটে অনেক সময় সফটওয়্যার বাগ দূর করা হয় এবং অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে বলে হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করা উচিত।

ফাইল ব্যাকআপ না রাখা
অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল ব্যাকআপ রাখেন না যা তার বাজে অভ্যাসের মধ্যে পড়ে। যদিও এখনকার ফোনে বেশির ভাগ ছবি, কন্টাক্ট ও বার্তা ব্যাকআপ রাখার সুবিধা থাকে কিন্তু ডেস্কটপে যখন মাইক্রোসফট অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয় তখন তা দ্রুত ব্যাকআপ করে রাখা উচিত। এখন অনেক ক্লাউড সার্ভিস রয়েছে যার সুবিধা নিয়ে আপনি সহজেই তথ্য ব্যাকআপ রাখতে পারবেন।

নারী- সামাজিক মনস্তত্ব

2454

 ‘নারী বা পুরুষ হয়ে কেউ জন্মায় না : সামাজিক পরিবেশ, প্রথা, সংস্কৃতি একটি শিশুকে ধীরে ধীরে নারী বা পুরুষ করে তোলে।’ সামাজিক মনস্তত্ত্ব হচ্ছে জনমনে প্রতিদিন উদিত তাৎক্ষণিক ধ্যানধারণা, মতামত, আবেগ ও খেয়াল যার মধ্যদিয়ে প্রতিফলিত হয় সমাজে জনগণের অবস্থান এবং যা তাদের সামাজিক ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনে চালিত করেশ্রেণিবিভক্ত শোষণমূলক প্রতিটি সমাজে প্রতিটি শ্রেণি, গোষ্ঠী বা স্তরের একটি নির্দিষ্ট অবস্থান ও নির্দিষ্ট অবস্থান ও নির্দিষ্ট স্বার্থ থাকে, পাশাপাশি থাকে ধ্যানধারণা, মতামত ও ভাবাবেগ। এগুলোই তার সামাজিক মনস্তত্ত্ব। পুঁজিবাদী সমাজে মালিক আর শ্রমজীবীর মনস্তত্ত্ব এক নয়, এক নয় পুরুষ ও নারীর মনস্তত্ত্ব। সভ্যতার শুরু থেকেই নারী এক অবহেলিত প্রাণী হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এ কারণেই অনেকে বলে থাকেন পৃথিবী যখন অসভ্য ছিল নারীর তখন সুখ ছিল, ক্ষমতা ছিল, পরিচয় ছিল। সে-ই ছিল পরিবার ও সমাজের মধ্যমণি।

যখন থেকে সভ্যতার শুরু হলো, নারী তখন থেকেই ধীরে ধীরে নিক্ষিপ্ত হলো পরিবার ও সমাজের অাঁস্তাকুড়ে। পুরুষ প্রধান এ সমাজে কন্যাশিশুর জন্ম প্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত। কন্যাশিশুর এ অবস্থার পেছনে কাজ করে পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক মনস্তত্ত্ব। পরিবার ও সমাজে এমন একটা বোধ গড়ে উঠেছে যে_

১. কন্যাশিশুরা পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী নয়;

২. প্রধান অর্থ উপার্জনকারী নয় বলেই তার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি বিষয়ে ব্যয় করা অযৌক্তিক;

৩. কন্যাশিশু মানেই বোঝা, কারণ তার বিয়ের সময় বিপুল ব্যয়;

৪. ভবিষ্যতে ছেলেশিশুরাই পিতামাতার ভরণ-পোষণ করে;

৫. কন্যাশিশুদের মেধা কম।

আজ যে কন্যাশিশু আগামীকাল তাকেই নানা সামাজিক প্রথার ও দৃষ্টিভঙ্গির বন্ধনে জড়িয়ে নারী হিসেবে সমাজে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রথা ও দৃষ্টিভঙ্গি আবহমান কাল থেকে আমাদের সমাজ ধারণ করে আসছে, লালন-পালন করে আসছে। সমাজের এসব প্রথা কন্যাশিশুকে শুধু অবদমিতই করে না, তাকে পারিবারিক, মানসিক এবং শারীরিকভাবেও দুর্বল করে তোলে। যুগ যুগ ধরে এর খেসারত দিতে হচ্ছে নারীকেই। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মভীরু। ধর্ম মানুষের অন্তরের বিশ্বাস। এখানে যুক্তি অর্থহীন। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভবের প্রাথমিক পর্যায়েই নারী-পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। সম্পত্তিতে অধিকার না থাকার ফলে নারী এখনো পরজীবী হিসেবে সমাজে পরিচিত। শুধু তা-ই নয়_ এখনো অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা বস্তু বা পণ্য হিসেবে বিবেচিত। সুতরাং তার স্বত্বা, মেধা বা মননকে নয় বরং দৈহিক রূপকেই বড় করে দেখা হয়। শরৎচন্দ্র তার ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধে লিখেছেন_ ‘কি পরিমাণে তিনি সেবা পায় না, স্নেহশীলা, সতী এবং দুঃখে কষ্টে মোনা। অর্থাৎ তাহাকে লইয়া কি পরিমাণে মানুষের সুখ ও সুবিধা ঘটিবে। এবং কি পরিমাণে তিনি রূপসী’ অর্থাৎ পুরুষের লালসা ও প্রবৃত্তি কতটা পরিমাণে তিনি নিবদ্ধ ও তৃপ্ত রাখিতে পারিবেন।

সিমঁ দ্য ব্যুভুয়া তার ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’-তে দেখিয়েছেন_ ‘বুর্জোয়ারা সেই পুরনো নীতিবোধকেই অাঁকড়ে ধরে থাকে যে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি পারিবারিক সংবদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে নারীর তেমন কোনো অধিকার নেই।’ আমাদের দেশের সব আইন পরিচালিত হয় সংবিধান অনুযায়ী, কিন্তু সম্পত্তিতে অধিকারের আইনের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয় ধর্মীয় প্রথা। এ দেশের সমাজব্যবস্থায় মনে করা হয় বিয়েই হচ্ছে সম্পদহীন কন্যাসন্তানের চূড়ান্ত গন্তব্য। ধর্মীয় বিধানও তাই বলে। বিয়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন নারীর শুধু ঠিকানাই বদলায় না, তার পরিচয়ও বদলে যায়; অধিকাংশ ক্ষেত্রে নামটা পর্যন্ত। আর এই বদলের মধ্যদিয়েই আমৃত্যু নারীকে বরণ করতে হয় পরিচয় সঙ্কট। পাশাপাশি পুরুষকে কিছুই বদলাতে হয় না। সম্পত্তির উত্তরাধিকার যেহেতু প্রজন্মের পর প্রজন্ম পুরুষ সন্তানের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দরকার হয় সে কারণে কন্যাসন্তানের জন্মকে সামাজিক মনস্তত্ত্ব স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না, তাকে স্বাগত জানাতে পারে না। আমাদের দেশের পরিবারগুলোয় এ অবস্থা অনেকটা মনোসামাজিক বিকারের পর্যায়ে অবস্থান করছে। অন্যদিকে আজকের যুগে এসেও নারীর মুখ কালো হয়ে যায় তখন তারা জানতে পারে তার গর্ভে বেড়ে উঠছে কন্যাশিশুসন্তান। কারণ এখনো ঘরের পুরুষটিকে তারা সুখী করতে চায়, ঘরের পুরুষের কালো মুখ দেখতে তারা ভয় পায়। আত্মপরিচয়ের সঙ্কটে থাকা নারীর মনস্তত্ত্ব গড়ে ওঠে পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাবে। পুরুষের অত্যাচারে, নারী-পুুরুষের সব কাজে ‘হ্যাঁ’ বলতে শিখেছিল কোনো বিবেচনা ছাড়াই। সে বুঝেছিল পুরুষের সব কাজে ‘হ্যাঁ’ না বললে এ সমাজে বা পরিবারে তার অস্তিত্ব থাকবে না। হাজার বছর ধরে চর্চিত এই ব্যবস্থার ফলে নারীর মনোবিকাশ ভোঁতা হয়ে পড়েছে।

কোনো আত্মবিশ্লেষণ ছাড়াই নারী বিশ্বাস করে পুরুষের তুলনায় তার যোগ্যতার অভাব, বুদ্ধির ঘাটতি, কর্মদক্ষতার অভাব রয়েছে। এর ফলে নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এ থেকেই মনে হয় পরিবারে পুরুষ হলো বুর্জোয়া আর নারী হচ্ছে সর্বহারা। নারীর সঙ্গে পুরুষের সম্পর্ক আসলে অধীনতার সম্পর্ক। সৃষ্টির ধারাবাহিকতাকে ধারণ করে পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখে যে নারী তার সার্বিক পরিস্থিতি, তার বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া খুবই ভয়াবহ। এই চরম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় কেবল নারীর মনোবিকাশ নয়, পুরো সভ্যতার বিকাশই থমকে যেতে বাধ্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু নারী-পুরুষের সৃষ্টিশীলতায় যে সভ্যতা আজ গড়ে উঠেছে তাকে অর্থবহ করতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস। এই প্রয়াসকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই লিঙ্গ বৈষম্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে সব শিশুর সমবিকাশের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের কর্তব্য হওয়া উচিত। এ কাজ কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন গতানুগতিকতার বাইরে এসে সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি ঢেলে সাজানো, প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচলিত সংস্কৃতির বাইরে সমঅধিকারের চর্চায় বাধ্য করানো। সর্বোপরি সমাজ ও পরিবারের মনোজগতের পরিবর্তনের জন্য দেশব্যাপী একটি ব্যাপক ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

লিখেছেন- সুতপা বেদজ্ঞ

আগে সামাজিক বিবেককে জাগিয়ে তুলতে হবে- রুলা গণি

84454_nari-2
এমন এক সময় ছিল যখন আফগানিস্তানের নারীদের লোকসমাগমে প্রায় দেখাই যেত না। এমনকি নেতাদের স্ত্রীদেরও নয়। হয়তো কদাচিৎ কোনো কারণে এমন পরিবেশ বা অবস্থায় কোনো নারীর দেখা মিললেও তারা থাকতেন আবরু রক্ষা করে। মনে করা হতো, এটি আফগানিস্তানের ঐতিহ্য। এমনকি একসময়ে দেশটির ফার্স্ট লেডিও এমন রীতিকে স্বাগত জানাতেন। তবে ক্রমে দেশটির সমাজে এ ধ্যানধারণায় পরিবর্তন আসতে থাকে। এমন পরিবর্তনের পক্ষে নানা মত প্রকাশ করেন দেশটির নতুন ফার্স্ট লেডি রুলা গনি। এসব ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমের সামনেও কথা বলেন।
রুলা বলেন, দেশটির নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে আমাদের আরো সচেষ্ট হতে হবে। এ ব্যাপারে আমি সবাইকে উৎসাহিত করতে চাই। নারীদের চলার পথে নানা ভালো সুযোগ করে দেয়া গেলে তাদের জীবনে অগ্রগতি আসবে। রুলা গনি মনে করেন, নানা কুসংস্কারের দেয়াল ভাঙতে প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনসমর্থন। এ জন্য উপযুক্ত সময় প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন সুযোগ কাজে লাগালে ভালো ফল আসতে পারে। সেই ইচ্ছাও তার পূরণ হয়। চলতি বছর (২০১৪) অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আশরাফ গনির নির্বাচনী প্রচারণায় রুলা জনসম্মুখে উপস্থিত থেকে এ সংক্রান্ত নানা কথা বলেন। এ দিকে আশরাফ গনিও নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে এক আবেগময় বক্তৃতা দেন। এটি ছিল মূলত স্ত্রী রুলা গনির উদ্দেশে। আর তখনই রুলা পরিণত হন গোটা দেশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। রুলা খুশির সাথে বলেন, আমার স্বামী (আশরাফ গনি) আমাকে সবার সামনে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তাতে এটাই বোঝা যায় যে আমি আফগানিস্তানের মেয়েদের আরো সচেতন হতে অনুপ্রেরণা জোগানোর কথা বলতে চাই। তবে তিনি যা করতে চাইছেন তা মোটেই সামাজিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের বিপরীত বা সাংঘর্ষিক নয়। অর্থাৎ বর্তমান সমাজের ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে না। রুলা গনি বলেন, আমি পশ্চিমে বড় হয়েছি ঠিকই, তবে সেখানাকার সমাজের রক্ষণশীলতার মনোভাব আমাকে প্রভাবিত করতে পারেনি মোটেই; বরং এসব দেশে থেকে এসংক্রান্ত অনেক শিক্ষা বা ধারণা হয়েছে আমার। তবে আমার যেটুকু কষ্ট তা হলো আমার পুরো পরিবারকে আমি একসাথে পাইনি। তারপরও মনে করি, সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভালোই রেখেছেন। আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তখনই যখন দেখি আমার কথা, উপদেশ, পরামর্শ ইত্যাদি মানুষ মনোযোগ সহকারে শুনছেন। আর মনোযোগ সহকারে শোনা মানেই এসবের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির (আফগানিস্তান) অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তারপরও এখনো অনেক শক্ত আছে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক অনেক দিক। আর এটিই হচ্ছে বিরাট ইতিবাচক দিক। রুলা গনির জন্ম লেবাননের এক খ্রিষ্টান পরিবারে। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। রাজধানী বৈরুতের যুক্তরাষ্ট্র ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন ১৯৭০-এর দিকে। পড়াশোনার ফাঁকে পরিচয় ঘটে আশরাফ গনির সাথে। রুলা প্রায় এক বছরের পড়াশোনা করে বৈরুতে যান। প্রতিষ্ঠানটি ছিল ফ্রান্সের প্যারিসের সায়েন্সের পো ইনস্টিটিউট। এক সময় ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। এমনকি এক বিক্ষোভে গ্রেফতারও হন রুলা। তারা দু’জন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১৯৭০-এর শেষের দিকে। সেখানেই আশরাফ গনি শেষ করেন পিএইচডি। আর ক্যারিয়ার শুরু করেন বিশ্বব্যাংকে। তারা দুই সন্তানের বাবা-মা। ছেলে তারেক উন্নয়ন গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আর মেয়ে মরিয়ম ভিডিও আর্টিস্ট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তারা খুবই গর্বিত নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য নিয়ে। বলা যেতে পারে মা রুলার দেখাশোনার কারণে নিজ সন্তানেরাও ব্যাপক পরিচিতি ঘটাতে পেরেছেন দেশে। রুলা গনি নারীদের পাশাপাশি শিশুদের উন্নয়নেও কাজ করেন। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুরা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সে জন্য তাদের (শিশু ও মায়েদের) নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। রুলা মাঝে মধ্যেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়ান এবং সেখানকার লোকেদের সাথে তাদের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জন্য ভালো কিছু করা খুবই জরুরি। অনেক সাধারণ নারী আছেন যারা সমাজে মিশে প্রচুর কাজ করেন। রুলা মনে করেন, দেশটি যুদ্ধবিধ্বস্ত হলেও সামাজিক কাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্ত আছে। এর ওপর ভর করেই অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া মোটেই কঠিন নয়। রুলা গনি আফগানিস্তানে ফিরে আসেন তার (রুলা) বিয়ের পর। বসবাস করতে থাকেন কাবুলে। এর বছর তিন পর আশরাফ গনি কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এর ফাঁকে সিদ্ধান্ত নেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানথ্রোপলজিতে ডক্টরেট ডিগ্রি নেবেন। তারা দুই বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত হস্তক্ষেপ ও অভ্যুত্থানে তাদের সব কিছু পাল্টে যায়।
বিভিন্ন যুক্তিতে তাদেরকে ফেরত না আসতে বলা হয়। রুলা বলেন, আমার স্বামীর পরিবারের অনেক সদস্য পুল-ই চারখি কারাগারে বন্দী ছিল এবং ভয় ছিল যে আমরা ফেরত এলে তাকেও (আশরাফ) কারাগারে নিক্ষেপ করা হবে। সুতরাং আমরা যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাই, যে থাকা দুই বছরের স্থলে টানা প্রায় ৩০ বছর হয়ে যায়।
সূত্র- নয়া দিগন্ত

মেয়েদের বিয়ের বয়স নূন্যতম ১৮ রাখার দাবী।

মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদিত ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪’ এ বিয়ের বয়স কমানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে ৬৮টি নারী ও মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম  সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। একইসঙ্গে প্রস্তাবিত  বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এ মেয়েদের  বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ রাখার দাবি জানিয়েছে কমিটি। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম সাংবাদিক সম্মেলন পরিচালনা করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ হতে গত ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নিকট বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিয়ের বয়স না কমানোর  দাবি জানিয়ে যে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় তা পাঠ করে শোনান বাংলাদেশ নারী প্রগতির সংঘের উপ-পরিচালক শাহানাজ সুমী।
বক্তব্য রাখেন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী  পরিচালক রঞ্জন কর্মকার। উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র, মহিলা পরিষদ, নারী প্রগতি সংঘ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, বাউশি, ঢাকা ওয়াই ডাব্লিউসিএ, নাগরিক উদ্যোগ, নারী মৈত্রী, আরডি আরএসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

'অ্যাডভেঞ্চারার অফ দ্যা ইয়ার' তালিকাভূক্ত হলেন,বাংলাদেশী নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন

wasfia-nazreen-mount-everest-winning-amazing-history-pic10

অপরাজিতা ডেস্কঃ ১৯৫৩ সালের মে মাসের ২৯ তারিখে হিমালয়ের এই পর্বতশৃঙ্গে প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের স্যার অ্যাডমন্ড হিলারি এবং নেপালের শেরপা তেনজিংয়ের। প্রথম মানব পদচিহ্ন পড়ার পর দীর্ঘদিন চলে গেছে। অনেকেই হিলারি আর তেনজিংয়ের পথ ধরে সেখানে পৌঁছেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ হিমালয়ের কাছাকাছি দেশ হওয়ার পরও বাঙালির কাছে হিমালয় চূড়ায় পৌঁছানোটা ছিল স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই প্রথম পূরণ করেন বাংলাদেশের তরুণ মুসা ইব্রাহীম। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ২০১০ সালের মে মাসে। দ্বিতীয় আরোহণকারী এম এ মুহিত গিয়েছিলেন পরের বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের ২৩ মে। ২০১২ সালের ১৯ মে নিশাত মজুমদারের এবং সর্বশেষ ওয়াসফিয়া নাজরীন ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্ট চূড়া জয় করেন। 

এভাবেই শুরু হয়েছিলো ওয়াসফিয়ার পর্বত যাত্রার স্বর্নাজ্জ্বল অধ্যায়,যার ই ধারাবাহিকতায় ওয়াসফিয়া একে একে আরোহন করেছেন, ”সেভেন সামিট” এর পাঁচ টি চূড়ায়।  

মাউন্ট এভারেষ্ট,কিলিমানজারো,অ্যাকোনকাগুয়া,ভিনসন ম্যাসিফ,মাউন্ট এলব্রুস এই ৫টি পর্বত আরোহনের পর ওয়াসফিয়া পৌছে গেলেন আন্তর্জাতিক চ্যানেল ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ‘অ্যাডভেঞ্চারার অফ দ্যা ইয়ার’ এর তালিকায়। 

ন্যাশনাল জিওগ্রাফী প্রতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০ জন অভিযাত্রীকে এ সম্মাননা দিয়ে থাকে। সাইটে জানানো হয়, ওয়াসফিয়া তার অভিযানের মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছেন তারই স্বীকৃতি স্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হলো।

wasfia nazreen

এ দিকে এ ধরনের কাজের জন্য পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডও দিয়ে থাকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। ভোট দেওয়ার লিংক- http://on.natgeo.com/1E8oMz3। এ পুরস্কার ঘোষণা হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এভারেস্টের পর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় পর্বত মাউন্ট দেনালিও জয় করেন ওয়াসফিয়া।

ওয়াসফিয়া নাজরীন হচ্ছেন বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বয়স্ক এভারেস্ট জয়ী মহিলা তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৯। ওয়াসফিয়া প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশী মহিলা যিনি হিমালয়ের বাইরে সর্বোচ্চ পর্বত আফ্রিকার একনকাগুয়া জয় করেন। তিনি একই সঙ্গে এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ভিনসনে আরোহণ করেন। ওয়াসফিয়া নাজরীন ১৯৮২ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ফেনীতে। ওয়াসফিয়া নাজরীনের পিতার নাম নাজসি জামান চৌধুরী এবং মা মালিহা চৌধুরী। তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ে ওয়াসফিয়া নাজরীন। ওয়াসফিয়ার মা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বাবা বাংলাদেশের মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফরএভার লিভিং প্রডাক্টসের কান্ট্রি হেড। ওয়াসফিয়ার শৈশব-কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের মেয়ে ওয়াসফিয়া নাজরীন। বাবা-মার আদরে কোনো কিছুতেই বাধা পাননি তিনি।  ঢাকার স্কলাসটিকা স্কুল থেকে ও এবং এ লেভেল সম্পন্ন করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন।

২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এগনেস স্কট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান ওয়াসফিয়া। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওয়াসফিয়া যান স্কটল্যান্ডে। পড়ার বিষয় সামাজিক মনোবিজ্ঞান আর স্টুডিও আর্ট। পেশায় তিনি একটি এনজিওর উন্নয়ন কর্মী, কিন্তু নেশা তার পর্বতারোহণ। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট’ নামে একটি ফাউন্ডেশন। সেই থেকেই চলছে পর্বত অভিযান।

একজন নারী হিসেবে পর্বত আরোহী হওয়াটা ওয়াসফিয়ার জন্য খুব যে সহজ ছিলো তা না,আর্থিক অসুবিধা সহ,নানান রকমের সমস্যার মুখোমুখি তাকে হতে হয়েছে। কিন্তু ওয়াসফিয়া কোন বাঁধার লাছেই হার মানেননি,ওয়াসফিয়া তার অদোম্য উৎসাহ,সাহস এবং আত্নবিশ্বাস এর মাধ্যমে পেরেছেন আজ নিজেকে একজন নারী হিসেবে,এবং একজন বাংলাদেশী হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করতে,পেরেছেন পৃথিবীর শত কোটি মানুষের জন্য,এই দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরনীয়,অনুপ্রেরণা হতে।

ওয়াসফিয়া নাজরীন আজ এমন একটি নাম,যা সাহস,কোন বাঁধার কাছেই হার না মেনে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। আর তাই প্রবল আশা,এবং বিশ্বাস এর সাথে আমরা বলতে পারি, ওয়াসফিয়া হবেন এবারের ‘অ্যাডভেঞ্চারার অফ দ্যা ইয়ার’ এবং ‘সেভেন সামিট’ জয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী। 

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো,ওয়াসফিয়া নাজরীনের জন্য।   

 

চুল নিয়ে কিছু সমস্যার চট জলদি সমাধান

2012-09-24-17-31-08-506098dc5ac10-27

চুল সামলানো সহজ নয়। পশ্চিমা ফ্যাশনে তো ‘ব্যাড হেয়ার ডে’ নামে রীতিমতো প্রবাদই চালু আছে। যেদিন চুলের স্টাইলটা ঠিকঠাক হয় না, সেদিন যেন কোনো কিছুই মনের মতো হয় না। তবে এমন দিনের হ্যাপা যাতে আপনাকে পোহাতে না হয়, সে জন্য রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি ও তানজিমা শারমীন দিয়েছেন কিছু পরামর্শ।

সকালে অফিস আবার বিকেলে বন্ধুর বাড়ির নিমন্ত্রণ, মাঝখানে হয়তো আর আলাদা করে সময় নেই বিশেষভাবে চুলের যত্ন নেওয়ার। বাইরের ধুলাবালি আর রোদে এরই মধ্যে দেখলেন নেতিয়ে পড়েছে চুলগুলো। এ অবস্থায় অফিস থেকে বের হওয়ার আগে  হালকা পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে মুজ লাগাতে পারেন।

সাজগোজের পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলেন চুলের আগা ফাটা মনে হচ্ছে। এবারও চুলগুলোকে একটু ভিজিয়ে নিয়ে রোলার চিরুনি দিয়ে ঘুরিয়ে আঁচড়ান; যাতে আগা ফেটে যাওয়া চুলগুলো ভেতরে ঢুকে যায়। 

পাকা চুল নিয়ে কমবেশি সবাইকে সমস্যায় পড়তে হয়। পাকা চুলগুলোকে ঢাকতে ব্যবহার করতে পারেন স্প্রে কালার। এদিকে শ্যাম্পু করার পরও নেতিয়ে থাকে অনেকের চুল। সে ক্ষেত্রে হালকা করে লিভন বা এ ধরনের কোনো কন্ডিশনার লাগিয়ে আয়রন করে নিতে পারেন চুলগুলো।

তবে আয়রন করা যদি সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে চুলগুলোকে উল্টো করে আঁচড়ে নিয়ে ট্যালকম পাউডার লাগানোর পরামর্শ দিলেন রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমীন। পাউডার লাগানো শেষে তোয়ালে দিয়ে ভালো করে চুলগুলো মুছে নিন। খেয়াল রাখবেন, পাউডার যেন চুলের গোড়ায় লেগে না থাকে। এতে চুলের গোড়ার ঘাম বের হতে না পেরে ফুসকুড়ি উঠতে পারে।

অনেকেরই সামনের চুলগুলো বেশ পাতলা থাকার কারণে মাথার তালু দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে সামনের চুলগুলোকে চিরুনি দিয়ে হালকা পাফ করে নিন। আর যদি সম্ভব হয় তা হলে চুল কাটার সময় ভেতরের দিকে একটু বেশি করে লেয়ার কাট দিয়ে ফুলিয়ে দিতে পারেন। অনেকে কালো আইশ্যাডো বা হালকা কাজলের টান দিয়েও মাথার তালু ঢেকে দেন।

সামনের দিকে চুলগুলো হয়তো ছোট করে ছাঁটলেন, কিন্তু সেই চুলগুলোই চোখে-কপালে পড়ে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠছে। গোসল করার পরপরই সামনের চুলগুলোকে গোল করে পেঁচিয়ে ক্লিপ আটকে নিন। বাইরে বের হওয়ার আগে ক্লিপগুলো খুলে নেওয়ার পর দেখুন কী সুন্দর ঢেউ খেলানো হয়ে কপালে এক দিকে পড়ে আছে চুলগুলো।

 বিউটি পারলার থেকে চুল বেঁধে এলে সেটা খোলা বেশ কঠিন হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে হাতে তেল নিয়ে হালকাভাবে আঙুল দিয়ে ছাড়িয়ে নিন চুলগুলোকে।

অনেক সময় বাইরে বের হওয়ার আগে হয়তো চুলগুলো ঠিকমতো শুকানোর সময় হয় না। সে সময় চুলগুলোকে হালকা পাঞ্চ করে বেঁধে নিন। তারপর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে মোটা দাঁতের চিরুনি বা আঙুল দিয়ে বারবার আঁচড়ে নিন।

এদিকে যাঁদের কোঁকড়া চুল, তাঁদের জন্যও রূপবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, এ ধরনের চুলে বের হওয়ার আগে হালকা পানি দিয়ে আঙুল চালিয়ে নিতে হবে। এতে করে যেভাবে রাখতে চাইবেন, ঠিক সেভাবেই থাকবে আপনার চুলগুলো।

সূত্র-নকশা।

৪র্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু কে ধর্ষন

শৈলকুপা থানার ওসি ছগির মিঞা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মেয়েটি (পরিচয় প্রকাশ করা হলো না) স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।

ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় সাইদুল মোল্লা ওরফে টিক্কা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মেয়েটির বড় ভাই থানায় একটি মামলা করেছেন।

ওসি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর হতদরিদ্র পরিবারের দুই বোন রান্না ঘরে শুয়েছিল। রাতে টিক্কা বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র ধরে ছোট বোনটিকে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে।

গভীর রাতে কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন জোয়ার্দ্দার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করলেও পালিয়ে যায় টিক্কা।

মামলার আসামি টিক্কাকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ আটক করতে পারেনি বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ছগির।

২ শিশু কে ধর্ষনের চেষ্টা! মা গুরুত্বর আহত

Dorson

বরগুনার তালতলী উপজেলায় গত শুক্রবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার্থী এক রাখাইন শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে তিন বখাটে যুবক। এতে বাধা দেওয়ায় ওই শিশু ও তার মাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। ঘটনার পর দুজনকেই আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
একই দিন গোপালগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হিরু মোল্লা (৩২) নামের এক বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অসুস্থ ওই শিশুকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আদিবাসী শিশুর পরিবার সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তালতলীর একটি গ্রামে মং চুং ম্যান, লা ওয়ে মং ও অ উ চান নামের তিন রাখাইন যুবক মাতাল হয়ে কবিরাজপাড়া গ্রামে এসে শিশুটির ঘরে ঢোকে। একপর্যায়ে শিশুটিকে তারা ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রচণ্ড মারধর করে শিশুটির কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলে তারা। শিশুটির চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে বখাটে যুবকেরা তাঁকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়।
শিশুটির মা জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় তিন যুবক হঠাৎ ঘরে ঢুকে তাঁর মেয়ের ওপর হামলে পড়ে। এ সময় তিন যুবক মিলে মারধর করতে থাকলে শিশুটি চিৎকার শুনে তিনি ছুটে আসেন। তিনি মেয়েকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে তাঁর ওপরও হামলা চালায় যুবকেরা। প্রচণ্ড মারধরের কারণে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। প্রথমে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের বাড়িতে দুজনের চিকিৎসা করানো হয়। শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে দুজনকেই তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলে রাত একটার দিকে পুলিশ প্রহরায় দুজনকেই সেখানে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এখন তাঁর মেয়ের যে অবস্থা, তাতে কোনোক্রমেই মেয়েটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইসমত আরা গতকাল শনিবার দুপুরে বলেন, ‘শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আতঙ্ক আর গুরুতর অসুস্থতার কারণে সে কথা বলতে পারছে না। আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি।’
তালতলী থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদ মিয়া জানান, মা ও মেয়ে দুজনই চিকিৎসাধীন থাকায় এ ঘটনায় গতকাল বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
এদিকে গোপালগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে হিরু মোল্লাকে আসামি করে শুক্রবার রাতেই গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। শিশুটির মা বলেন, তারা এবং হিরু মোল্লা একই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁর স্বামী ঢাকায় থাকেন। শুক্রবার বিকেলে পাশের বাজারে তিনি পেঁয়াজ কিনতে যান। এ সুযোগে তাঁর মেয়েকে হিরু মোল্লা ধর্ষণ করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে (হিরু) আটক করে পুলিশে দেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, শিশুটিকে চিকিৎসাসহ ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রথম নারী প্রধান

প্রথম নারী হিসেবে ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থার (সার্ন) কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের শীর্ষ পদে গত মঙ্গলবার নির্বাচিত হয়েছেন ফাবিওলা জানোত্তি।

ইতালির এই পদার্থবিজ্ঞানী ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেবেন। সার্নের অধীনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘হিগস-বোসন কণা’ আবিষ্কারের ঘটনাটি গণমাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা করার মধ্য দিয়ে ২০১২ সালে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন জানোত্তি।

সার্ন হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ৫২ বছর বয়সী জানোত্তি ১৯৮৭ সালে সার্নে যোগ দেন।

রয়টার্স

প্রসূতি সেবায় অনন্য এরা

রেহানা বেগম (বাঁয়ে) ও মমতাজ বেগম

দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বরগুনা সদরের গৌরিচন্না ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ বারান্দায় অনেক নারী সেবার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রসূতিও রয়েছেন। পাশেই একটি কক্ষে দেখা গেল, দুজন পরিবারকল্যাণকর্মী তিন-চারজন নারীর সঙ্গে কথা বলছেন। বোঝা গেল, কর্মীরা নারীদের কাছ থেকে তাঁদের নানা সমস্যার কথা জেনে নিচ্ছেন।
নারী কর্মীদের একজনের নাম রেহানা বেগম (৪৫), অপরজন মমতাজ বেগম (৫০)। তাঁরা দুজনই পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। ৩০ অক্টোবর সরেজমিনে ওই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে অপেক্ষমাণ নারীদের মধ্যে একজনের কাছে সেখানকার সেবার মান কেমন তা জানতে চাইলে আগ বাড়িয়ে অপর এক নারী বলেন, ‘এই দুই আফার হাতযশ আছে। মনে অয় হ্যাগো হাতে জাদু আছে।’
ওই কেন্দ্রের সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের দুজনের প্রচেষ্টা ও পরিচর্যায় এই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে গত এক বছরে ২৪৪ জন প্রসূতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসব করেছেন। আর এরই স্বীকৃতি হিসেবে এই কেন্দ্রটি স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে সারা দেশে দ্বিতীয় এবং বরিশাল বিভাগে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। শুধু তা-ই নয়, মা ও শিশুসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনা সদর ও জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া মমতাজ বেগম একই কার্যক্রমের সফলতার জন্য জাতীয় পর্যায়ে তিনবার পুরস্কৃত হয়েছেন।
কয়েকজন প্রসূতি জানান, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রসূতিসেবার জন্য উন্মুক্ত এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যখনই প্রয়োজন পড়ে, তখনই জরুরি প্রসূতিসেবা দিতে ছুটে আসেন এই দুই নারী কর্মী। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা নিজেদের বেতনের টাকায় গরিব পরিবারের প্রসূতিদের জন্য অস্ত্রোপচার ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার খরচও দেন। কোনো প্রসূতির সন্তান প্রসবে জটিলতা দেখা দিলে তাঁরাই বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
রেহানা বেগম বললেন, ‘চাকরিই বড় কথা নয়; বড় হলো একজন মানুষ কতটা দায়িত্বশীল, সেটা। সারা দিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলে যদি কোনো রোগীর জটিলতার কথা শুনি, তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারি না। ক্লান্তিও আর ঘরে আটকে রাখতে পারে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে আসি। পরিশ্রমের পর যখন ফুটফুটে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, তখন সব ক্লান্তি মুছে যায়।’
মমতাজ বেগম বলেন, ‘চাকরির সময় সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত হলেও জীবন কোনো সময়সীমার মধ্যে আটকে থাকে না। একজন প্রসূতি কখন প্রসববেদনায় কাতর হবেন, তার ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। তাই পুরো সময়টাকে দায়িত্ব মনে করে কাজ করছি। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখন কেবল গৌরিচন্না ইউনিয়ন নয়, পাশের বদরখালী, ফুলঝুরি ইউনিয়নের প্রসূতিরাও ছুটে আসেন।’
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিরবণী ঘেঁটে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে এই কেন্দ্রে সেবা নিয়েছেন এক হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে ২৭২ জন প্রসূতির সেবা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জন স্বাভাবিক প্রসব করেছেন। ৪৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রসবোত্তর সেবা নিয়েছেন ১১০ জন। এর মধ্যে ৮৩ জন কিশোরীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
গৌরিচন্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধারাবাহিক সফলতার পেছনে দুই পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা রয়েছে। সে জন্য এ বছর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ব্যয় করে একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান তৈরি করা হচ্ছে। যাতে দরিদ্র প্রসূতিদের দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা যায়।

-প্রথম আলো। 

বিচারহীন অবস্থা ই নারী নির্যাতন কে উৎসাহিত করছে

1402155849.
দেশে ধর্ষণের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৪৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হলেও অক্টোবর মাসে তা হয়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান মতে, গত অক্টোবর মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে মোট ১০৩টি । তার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৯ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১১ জনকে। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৭ জনকে। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সূচকই বেড়েছে। এমতাবস্থায় সমাজের বিশিষ্টজন মনে করেন, বিচারহীনতা ধর্ষণসহ সকল ধরনের নারী নির্যাতনকে উত্সাহিত করছে। আর সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল জানায়, তারা নারী নির্যাতনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পূর্বের তুলনায় প্রকাশ বেশি হওয়ায় মনে হচ্ছে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে।
মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৩টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে নারী নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্টে আরও দেখা যায়, শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৭ নারী এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ জন। এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছেন ১১ জন । তার মধ্যে এসিডদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৯ জন । তার মধ্যে অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬ জন নারীর ক্ষেত্রে। নারী ও শিশু পাচার করা হয়েছেন ২ জন। তার মধ্যে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে ১ জনকে। ৯৪ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪০ জন নারী।  এদের মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ১৬ জনকে। গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮ জন । তার মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৫ জনকে। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ৩৮ জনকে। ফতোয়ার শিকার হয়েছেন ৩ জন। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ২২ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে এবং ২১ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ১২ কিশোরী। নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই পুলিশ বাহিনীও। গত অক্টোবর মাসে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫ নারী। শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ১২ জনকে। এছাড়া অন্যরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এ মাসে ১৯টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় বাড়ি, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
কেন দিনদিন ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান ইত্তেফাকে বলেন, সকলের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে নারী নির্য়াতন হতো না। বিচারহীনতা নারী নির্যাতনকে উত্সাহিত করে। আমাদের এখানে ধর্ষণ করে কেউ শাস্তি পায় না। ধর্ষণের মামলা পুলিশ নিতে চায় না। দুই একটা যদিও নেয় তা শেষ পর্যন্ত শাস্তি দিতে পারে না অপরাধীকে। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীর প্রতি চিরায়ত লোলুপ দৃষ্টিভঙ্গি ধর্ষণসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতনের জন্য দায়ী । তারপর যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কারণ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কারণেও আজ নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। নারীকে অপদস্ত করার প্রধান হাতিয়ার হিসাবে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য উপায় বেছে নেয়া হচ্ছে। শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত নয় , ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ শেষে তা প্রচার করেও তারা অর্থ উপার্জন করছে। এই সকল ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের অভাব আছে। তা রোধ করতে সরকারের কঠোর হওয়ার আহবান জানান তিনি।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল -ইসলাম বলেন, ধর্ষণের মামলা গ্রহণ ও শাস্তি দানের জন্য যথেষ্ট প্রশাসন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে দোষী ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা যায় না। তবে সরকার এই বিষয়গুলো উতরে ওঠারও চেষ্টা করছে।
সূত্র- ইত্তেফাক। 

দু'সন্তান কে হারিয়ে মনে হলো,আমি এক ব্যার্থ নারী!

6c2084980419c05326ae502a4679d0a2

দু’সন্তান হারিয়ে মনে হলো আমি এক ব্যর্থ নারী। মা হতে চেয়ে দু’ দু’বার গর্ভপাতের শিকার হয়ে আমার হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। নিজের লেখা বই ‘এক্সট্রাক্টেড ফ্রম ইয়েস্টারডে, টুডে, টুমোরো’তে এমনই লিখেছেন এক সময়কার তুমুল জনপ্রিয় ইতালিয়ান তারকা অভিনেত্রী সোফিয়া লোরেন। তার লেখা বইয়ের খ-াংশ ছাপা হচ্ছে ডেইলি মেইলে।

সেখানে তিনি আরও লিখেছেন, ২৯ বছর বয়স যখন ছুঁয়েছি আমি, তখন থেকেই আমার সন্তান লাভের ইচ্ছা প্রচ- তীব্র হয়ে উঠলো। আমি শিশুদের খুব পছন্দ করতাম। ছবির সেটে, শিশুশিল্পীদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে যেত। শুটিং শেষ হওয়ার অনেক পরও তাদের সঙ্গে থাকতাম আমি। ১৯৫৭ সালে ‘হাউজবোট’ চলচ্চিত্রে আমার সঙ্গে একটি ছোট্ট মেয়ে অভিনয় করেছিল। সমপ্রতি সে জানালো যে, সে দাদী হয়েছে। কিন্তু ১৯৬৩ সালে ২৯ বছর বয়সী কেউ প্রথম মা হবে, বিষয়টি বেমানান ছিল। আমি তখন দ্বিধান্বিত ছিলাম আদৌ আমি মা হতে পারবো কিনা। কাকতালীয়ভাবে ইতালির নেপলসে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মা হিসেবে অভিনয় করতে গিয়ে আমি গর্ভধারণের লক্ষণ অনুভব করি। বেশ কয়েকদিন ধরে আমার মধ্যে এমন মা হওয়ার একটা আলাদা বোধের জন্ম নেয়। শেষ পর্যন্ত আমি ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। কিছু পরীক্ষার পর জানা গেল আসলে আমার অনুমান সত্য নয়। তবে এরপরও আমার সেই অদ্ভুত অনুভূতি রয়ে যায়।

এরপর রোম থেকে একজন ‘বিশেষজ্ঞ’ এলেন। তার হাতে একটি কালো চামড়ার ব্রিফকেস ছিল। যখন সে এটি খুললো, আমি চমকে উঠলাম! এর ভেতর একটি ছোটো সবুজ ব্যাঙ ছিল, যেটি আমার দিকে তাকিয়ে ছিল! আমাকে আরও হতভম্ব করে দিয়ে ডাক্তার আমার সামান্য মূত্র নিয়ে ব্যাঙের শরীরে ঢুকিয়ে দিলো। এরপর আমাকে বললো, যদি ব্যাঙটি মারা যায়, তবে বোঝা যাবে তুমি গর্ভবতী! বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাঙটি নড়াচড়া করতে লাগলো অদ্ভুতভাবে। মনে হচ্ছিল যেন, এর মাথায় কেউ ঘা দিয়েছে! কিন্তু এটি মারা যায় নি! বিরক্ত হয়ে আমি চলে এলাম এবং কিছুক্ষণের জন্য হাঁটতে বের হলাম। একই সঙ্গে বেচারা ব্যাঙকে একটি পুকুরে ছেড়ে দেয়া হলো। ‘খুব খারাপ’- আমি নিজেকে নিজে বললাম। কিছুক্ষণের জন্য ভাবলাম আমি বোধ হয় গর্ভবতী। সত্যি কথা হলো, আমি আসলেই গর্ভবতী ছিলাম। যখন ব্যাপারটি নিশ্চিত হলো, আমি খুবই খুশি হলাম। এতটা খুশি আমি এর আগে কখনই হই নি। আমি আমার সন্তানের মুখ দেখার জন্য কিছুতেই অপেক্ষা করতে পারছিলাম না! কিন্তু এর পরের দিনগুলো এত সুখের সঙ্গে অতিক্রম করি নি আমি। সত্যি বলতে কি, সে দিনগুলো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ ও বিষণ্ন দিন। আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারি, কিছু একটা ঠিক ছিল না। এরপর আমি আরেক ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করলেন এবং পরামর্শ দিলেন যাতে আমি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কোথাও না যাই। তাই আমি আমার ছবির পরবর্তী লোকেশন মিলানে গিয়েছিলাম ট্রেনে করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমার প্রথম দৃশ্য ছিল একটি গাড়িতে চড়ে বাধা বিপত্তি অতিক্রম করা। এটা সত্যিকার গাড়ি ছিল না। তবে নকল হলেও, সত্যিকার গাড়ির চেয়েও খারাপ ছিল! মিলানে প্রথম দিনই আমি মারাত্মক যন্ত্রণায় ভুগি। হোটেলের লিফটে চড়তে না চড়তেই আমি প্রায় অচেতন হয়ে পড়ি। আমি এখনও হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা আমাকে কল্পনা করতে পারি। হাসপাতালের আলো, সাদা দেয়াল এবং অদ্ভুত এক গন্ধ আমার হৃদয়কে যেন ছেদ করে যাচ্ছিল।

সেদিন রাতে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা পেয়েছি এক নার্সের ঘৃণাপূর্ণ মুখ দেখে। তারা সবাই আমাকে দোষী মনে করছিল। বিশ্বের আর সবার মতো, তারাও জানতো যে আমি আমার পার্টনার প্রযোজক কার্লো পন্টিকে বিয়ে করি নি। কিন্তু এর কারণও ছিল। তার আগের বিবাহিত জীবন বহু আগেই ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু ইতালিতে তখনও ডিভোর্স ছিল অবৈধ। সে সব নার্সরা ভেবেছিল যে, তারা সত্যিকার গল্প জানে। কিন্তু তারা আসলে আমার সমপর্কে বা আমার ইচ্ছা ও ভয় সমপর্কে কিছুই জানে না। তারা ছিল অমানবিক ও অনুভূতি বিবর্জিত মানুষ। আমার সমপর্কে তাদের এই ভিত্তিহীন অপমান ছিল কুসংস্কার ও অজ্ঞতার ফসল। শেষ পর্যন্ত আমি সন্তান জন্ম দিতে পারি নি। তার আগেই আমার সন্তান মারা যায়। এরপর আমি সোজা কাজে চলে যাই। কিন্তু এরপর আমি অনেকটা শূন্যতা বোধ করি। আমি সামনে তাকাবার মতো কিছু খুঁজে পাই না। আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো কিছুই যেন ছিল না। সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে প্রস্তুত হতে চলা নতুন মায়ের যে সুখ, সে তুলনায় তারকা হিসেবে আমার জীবন যেন কিছুই মনে হচ্ছিল না আমার কাছে।

চার বছর পর ‘মোর দ্যান অ্যা মিরাকল’-এর শ্যুটিং চলাকালে আমি আবার গর্ভবতী হই। এবার আমি আরও প্রস্তুত ছিলাম। প্রথম লক্ষণ দেখা যাওয়া মাত্রই আমি কার্লোকে ডাকলাম। বলে উঠলাম, আমি গর্ভবতী! কিন্তু এবার আমি আরও সতর্ক থাকবো। আমি কোন ঝুঁকি নিতে চাই না। আমি নিজেকে বাধ্য করলাম বিছানায় শুয়ে থাকতে। আমি কিছুই করি নি। আমি কিছু পড়ি নি, টিভি দেখি নি। আমি এমনকি যতটা সম্ভব খুব আস্তে কথা বলছিলাম এবং আমার পেট সপর্শ করাটাও এড়িয়ে যাচ্ছিলাম। যদি আবার এতে আমার সন্তানের কোন ক্ষতি হয়! কিন্তু মনের ভেতর কে যেন বলছিল যে, একই জিনিস বোধ হয় আবার ঘটবে। যন্ত্রণার প্রথম লক্ষণ ভালোই ছিল, এখনও আমি খুব ভালো করে মনে করতে পারি। আমাদের রোমান পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত সুন্দর প্রাসাদে আমার পাশে ছিল প্রিয় বন্ধু বাসিলো। কার্লো তখন লন্ডনে ছিল কাজে। বাসিলো ডাক্তার ডেকে এনেছিল। ডাক্তারকে সে বলছিল, তাড়াতাড়ি আসুন। সে কুঁচকে যাচ্ছে, ভূতের মতো সাদা হয়ে যাচ্ছে। তার বোধ হয় অসহ্য লাগছে। কিন্তু আমার মহান ও জ্ঞানী ডাক্তার  অহংকারী আত্মবিশ্বাসী সুরে বললেন, চিন্তার কোন কারণ নেই। তাকে কিছু ক্যামোমিল খাওয়ান। আমরা এ নিয়ে আগামীকাল কথা বলবো। 

আগামী পর্ব- আমার কক্ষে তখন অন্যরকম উষ্ণতা

সূত্র- মানবজমিন। 

উন্নত কৃষিখাত তৈরীতে পিছিয়ে নেই গ্রামীণ নারীরা

1403685253_nari

দেশে ৭০ শতাংশের বেশি ভূমিহীন নারী কৃষিকাজে জড়িত। জীবন-জীবিকার তাগিদে গ্রামীণ নারীরা (গৃহিণী) ঘর ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন কৃষিকাজ, ব্যবসা বা চাকরিতে। নারীই এখন প্রতিদিন আয় করছেন গড়ে ১৫০-২০০ টাকা। প্রত্যেকের প্রত্যাশা, দিনকয়েক বাদে দৈনিক এ আয় দাঁড়াবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সারা বছরই নানা ধরনের কৃষিকাজে শ্রম দিয়ে উপার্জন করেন তারা। মজুরির ক্ষেত্রে পান পুরুষের অর্ধেক। এরপরও লড়ে চলেছে গ্রামীণ জনপদের সুবিধাবঞ্চিত নারীসমাজ। বৈষম্য ঘোচানের লড়াইয়ে আমরা তাদের শ্রদ্ধা জানাই।
নারীপ্রধান পরিবারের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণই হচ্ছে টিকে থাকার লড়াই যা বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চরিত্র। গত এক দশকের ব্যবধানে কৃষিকাজে প্রত্যক্ষভাবে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বেড়েছে ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০০১ সালের জরিপ অনুযায়ী, কৃষিকাজে নারীর অংশগ্রহণ ছিল মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আর সংস্থাটির সর্বশেষ ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশে।
তুলনামূলক নিম্নমজুরি কৃষিকাজে নারীদের যুক্ত হতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীর মজুরি এখনও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম। ২০১১ সালের জুলাই-আগস্টে একজন নারীর খাবার ছাড়া দৈনিক মজুরি ছিল ১৭৭ থেকে ১৭৯ এবং পুরুষের ছিল ২৩৬ থেকে ২৩৯ টাকা।
কৃষিকাজে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জেলায় বৈষম্য রয়েছে। এখনও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয় কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। তবে অগ্রগতি হয়েছে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায়- বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাটে। এছাড়া কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোয় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জেও কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে।
জীবন-জীবিকার তাগিদে গ্রামীণ নারী ঘর ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন কৃষিকাজ, ব্যবসা বা চাকরিতে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচি কিংবা ক্ষুদ্র ঋণ ও কৃষিব্যবস্থায় পরিবর্তনশীলতা একে আরও ত্বরান্বিত করছে। বর্তমানে ৭০ শতাংশের বেশি ভূমিহীন নারী কৃষিকাজে জড়িত। পারিবারিক ভাঙন সমাজে স্বামী পরিত্যক্ত ও বিধবা নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ন্যূনতম প্রশিক্ষণহীন এক নারীকে কৃষিজীবী নারীতে পরিণত করছে প্রতিদিন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো দায়িত্বশীল পুরুষ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলের নারীপ্রধান ৫৮ শতাংশ পরিবার। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, বিধবার হার উত্তরবঙ্গে সর্বোচ্চ। ফলে এ অঞ্চলের জেলাগুলোয় নারীপ্রধান পরিবারের আধিক্য রয়েছে।
আর ৭২ শতাংশ পরিবারের নারীপ্রধানের বয়স ৩০ থেকে ৪৯ বছর। আবার পরিবারপ্রধান হওয়ার পর ৯০ শতাংশ নারীর পেশা পরিবর্তন হচ্ছে, যারা আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত করছেন।
পেশা পরিবর্তনে অগ্রাধিকার পাচ্ছে বসতবাড়িকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা কৃষিকাজ। উত্তরাঞ্চলের ৬৫ শতাংশ পরিবারপ্রধান নারী এখন এ দুটি খাতে কাজ করছেন। পরিবর্তিত গ্রামীণ অর্থনীতির কারণে কৃষিক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৪৬ শতাংশই ব্যয় করা হচ্ছে নারীর উন্নয়নে। কৃষি খাতের মোট বাজেটের ৩৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে একই কাজে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এসএম নাজমুল ইসলাম বলেন, কৃষি উন্নয়নে নারীর অবদান বিবেচনা করেই বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকেও সচ

প্রাথমিক-মাধ্যমিকে এগিয়েছে মেয়েরা

bnimg-209771-2012-11-05

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ঠিক করা সময়সূচির আগেই বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রছাত্রীর সমতা অর্জিত হয়েছে। উপরন্তু মাধ্যমিক স্তরে মোট শিক্ষার্থীর ৫৩ শতাংশই ছাত্রী। উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায়ও মেয়েদের অংশগ্রহণ প্রতিবছর বাড়ছে। 
জেনেভাভিত্তিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘বিশ্ব লিঙ্গবৈষম্য প্রতিবেদন ২০১৪’-এ প্রাথমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের (এনরোলমেন্ট) সূচকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মাধ্যমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের সূচকেও এই অঞ্চলের প্রথম সারির ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদনে নারীশিক্ষায় গত বছর ১৩৬টি দেশের মধ্যে ১১৫তম অবস্থানে থাকলেও এবার বাংলাদেশ ১১১তম অবস্থানে উঠে এসেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, আগামী তিন বছরে উচ্চমাধ্যমিক ও সাত বছরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ সমান করা হবে। তিনি বলেন, মানুষের সচেতনতা ও উপবৃত্তিসহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের ফলে নারীশিক্ষায় এই অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে এখন ওপরের শ্রেণিগুলোতেও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে যত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, তার মধ্যে ৫০ দশমিক ১ শতাংশ ছাত্রী। বাকিরা ছাত্র। সংখ্যার হিসাবে প্রাথমিকে এখন ৯৮ লাখ চার হাজার ২০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে। আর ছাত্র পড়ছে ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৩ জন।
ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীর সংখ্যা আরও বেশি; ৫৩ শতাংশ। আর ছাত্র ৪৭ শতাংশ। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি)
পরীক্ষায় পাসের হারেও ছাত্রীরা প্রতিবছর এগিয়ে চলছে। ২০০৯ সালে যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, সেখানে ২০১৪ সালের পরীক্ষায় ছাত্রীদের পাসের হার ৯২ দশমিক ১২ শতাংশ। অবশ্য গত কয়েক বছরে মোট পাসের হারও বাড়ছে।

2b94dd45146d65245057891c9a461a6e-42
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নারীশিক্ষার সমতা অর্জনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তন হলেও শিক্ষা, বিশেষ করে নারীশিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারটি আরও শক্ত হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, আগে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা অবৈতনিক ছিল। নব্বইয়ের পর বিএনপি সরকার প্রথম মেয়াদে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের অবৈতনিক করল। আওয়ামী লীগ সরকার এসে সেটাকে প্রথমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত করল। এখন ডিগ্রিতেও (পাসকোর্স) নারীশিক্ষা অবৈতনিক। এর মধ্যে উপবৃত্তি এই অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এ ছাড়া শিক্ষার প্রতি জনমানুষের মধ্যে বিরাট চাহিদা তৈরি হয়েছে। এটাও কাজে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছে।
ব্যানবেইসের হিসাবে, কলেজশিক্ষায় ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে কিছুটা কম। এই স্তরে মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ শতাংশ ছাত্রী, মানে ৩ শতাংশ পিছিয়ে আছে ছাত্রীরা। তবে পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছরই কলেজ পর্যায়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০১২ সালেও ছাত্রীদের হার ছিল ৪৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মাদ্রাসাশিক্ষায়ও ছাত্রী বেশি। মোট শিক্ষার্থীর ৫৩ দশমিক ১৪ শতাংশ ছাত্রী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, গত মহাজোট ও বর্তমান সরকার সম্মান কোর্স চালু, পাঠ্যক্রম সংশোধনসহ মাদ্রাসাশিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে এখন মাদ্রাসায়ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে।
ব্যানবেইসের হিসাবে চিকিৎসা, আইনসহ পেশাগত শিক্ষায়ও এগিয়ে চলছে নারী। তিন বছর আগে ২০১১ সালে পেশাগত শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৩৬ শতাংশের কিছু বেশি। ২০১৩ সালে এসে এই হার ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখন যত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে তার ৩৩ শতাংশ নারী। ২০১২ সালেও এই হার ছিল ৩০ শতাংশ।
তবে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গিয়ে নারীর অংশগ্রহণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম বাড়ছে।
এর কারণ জানতে চাইলে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, নিরাপত্তার অভাবের কারণে এখনো অনেক মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের উচিত হবে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সচেতনতা বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সচেতনতা ও উদ্যোগ বাড়ালে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ওপরের শ্রেণিতে নারীর অংশগ্রহণ কম থাকার বিষয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু বাধার কারণে এটা হচ্ছে। যেমন মেয়েদের বাড়ির বাইরে গিয়ে পড়ার জন্য প্রথমত থাকার বিষয়টি একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের জন্য আবাসিক সুবিধাও পর্যাপ্ত নয়। এ জন্য এখন সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ছাত্রদের জন্য একটি ছাত্রাবাস করলে ছাত্রীদের জন্যও আরেকটি করা হবে।

হার না মানা শাহনাজ এর গল্প

52a8b72344d8a-8

রাশিদা খাতুনঃ আপনার নামটা বদলে কী লেখা যায় বলেন তো?
প্রশ্ন শুনেই একটু থমকে যান তিনি। বলেন, ‘আমার গল্প আরেকজনের নামে কেন লিখবেন? আমি কি আপনাদের থেকে ভিন্ন কেউ। কেন পরিচয় লুকাতে হবে। আমার চেহারায় কি মানুষের ছাপ নেই?’ কথাগুলো বলছিলেন শাহনাজ বেগম। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত বেসরকারি সংস্থা দুর্জয় নারী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক শাহনাজ বেগম। জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসেছেন তিনি।
শাহনাজের জীবনকাহিনি শুনতে ১৮ নভেম্বর যাই তাঁর শ্যামলীর বাসায়। শাহনাজ জানান, চার ভাই ও দুই বোন নিয়ে আগে একটা সুখের সংসারই ছিল তাঁদের। থাকতেন মিরপুরে। বাবা ছিলেন মাছের ব্যবসায়ী। মা মারা গেলেন ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তখন শাহনাজের বয়স ১২ বছর। ঠিক ৪০ দিন পর বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। সৎমা এসে শাহনাজদের নির্যাতন করা শুরু করেন। মা-বাবা ভাত খেলেও তাঁদের দেওয়া হতো শাক আর আটার ঘন্ট। এরপর বাবা এক বোনকে যেন কোথায় দিয়ে দেন। তাঁর খোঁজ আর কোনো দিন পাওয়া যায়নি। সংসারে সৎমায়ের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য তিনি দূর সম্পর্কের এক মামার কাছে কাজ চেয়েছিলেন। মামা যে কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন সেটা ছিল যৌনকর্ম। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে এ পেশায় থাকতে হয়েছে। যার অধীনে তাঁকে কাজ করতে হতো তিনিই নিয়ে যেতেন শাহনাজের অর্জিত সব টাকা। বিনিময়ে থাকা-খাওয়া মিলত বিনা পয়সায়। সে সময়ের স্মৃতি উল্লেখ করে শাহনাজ বলেন, বয়স কম হওয়ায় তিনি ভালোভাবে খদ্দেরের চাহিদা মেটাতে পারতেন না। এর ফলে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। বস্তিবাসী এবং ভবঘুরেদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৯৯৬ সালে মেরী স্টোপস ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শাহনাজকে এলাকাভিত্তিক মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়। শাহনাজ নিয়োগ পান মেরী স্টোপস ক্লিনিকের মহাখালী শাখায়। সে সূত্রে তিনি মহাখালী, শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর বস্তির নারীদের পাশাপাশি, যৌনকর্মীদের ক্লিনিকে নিয়ে আসতেন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য। পূর্বপরিচিত একজন তাঁকে ঘর করার স্বপ্ন দেখালেন। শাহনাজ বিয়ে করলেন তাঁকে। ২০০১ সালের জন্ম নিল এক পুত্রসন্তান। সে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে। তবে শাহনাজ বুঝতেন এ ঘরে টিকে থাকা কঠিন হবে। হলোও তা-ই। স্বামীর নিষেধ সত্ত্বেও শাহনাজ দিন-রাত কাজের পিছে ছুুটেছেন। শাহনাজের স্বামী তাঁর ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। তিনি আবার বিয়ে করেছেন। ফিরে গেছেন নিজ গ্রামে। এ সময়ের মধ্যে কেয়ার বাংলাদেশ ও মেরী স্টোপস ক্লিনিকের যৌথ প্রজেক্ট ‘শক্তিতে’ কাজ করেন শাহনাজ। এইচআইভি প্রতিরোধসহ যৌন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারীর নিজস্ব উদ্যোগ কী হওয়া উচিত বুঝতে পারেন শাহনাজ। শাহনাজের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে ১৯৯৭ সালে কেয়ার বাংলাদেশ তাঁকে ভারতের যৌনপল্লি ‘সোনাগাছি’ পরিদর্শনে পাঠায়। ওই যৌনপল্লির কর্মীরা গড়ে তুলেছেন দুর্বার মহিলা সংগঠন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য। শাহনাজের মনে হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেও দরকার। ফিরে এসে কেয়ার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পরামর্শ ও সহযোগিতায় ঢাকার শ্যামলীতে গড়ে তুললেন ‘দুর্জয় নারী সংঘ’। এই সংঘ যৌনকর্মীদের স্বার্থে কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সেলাই প্রশিক্ষণ, মোমবাতি তৈরি, ব্যাগ তৈরি শেখাচ্ছেন তাঁদের। যাঁদের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে ফিরে গেছেন ঘরে। প্রতিবছর ৫০ জন বা তাঁরও বেশি যৌনকর্মীর লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হয়ে যায়। তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পারলে আইনি লড়াই করেন শাহনাজ। শাহনাজের স্বপ্ন, যেন কোনো মেয়ে ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে এসে যৌনকর্মী না হয়। এইচআইভি/ এইডস প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য কানাডা থেকে দুর্জয় নারী সংঘ পায় ‘রেড রিবন’ পুরস্কার। ইউক্রেন, থাইল্যান্ড
, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এই সংস্থা ‘রেড রিবন’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় ২০০৬ সালে।

শাহনাজের পুঁথিগত বিদ্যা নেই। কিন্তু জীবনের কাছে শিখে নিয়েছেন হার না মানার শিক্ষা।

শীতের ৫টি সমস্যার সমাধান করবে লবন!

images

শীতকাল এসেছে। আবহাওয়ার রুক্ষতার দরুন নানান ধরণের রোগ শোকের প্রবণতাও বেড়েছে। অল্পতেই গলায় খুশখুশে কাশি, কিংবা হঠাৎই ফ্লুয়ের আক্রমণ- এই সবই শীতকালের অংশ। আবার ত্বকের অবস্থাও বেশ নাজুক হয়ে যায় এই শীতে। এই সব থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে থাকেন সবাই। কিন্তু অনেকেই জানেন না মজার একটি তথ্য। রান্নাঘরের যে ছোট বয়ামে আপনি লবন রাখেন, সেখানেই আছে আপনার সকল সমস্যার সমাধান। লবণ যেমন রান্নার কাজে অতি দরকারি একটি জিনিষ ঠিক তেমনি এই শীতে শীতকালীন অনেক সমস্যার সমাধানেও লবন অতি জরুরী। আজ জেনে নিন লবণের ব্যাতিক্রম কিছু উপকারের কথা… 

কানের ইনফেকশন জনিত ব্যথা দূর করতে লবণ
শীতকালে কানে ব্যথা রোগে ভুগে থাকেন অনেকেই। কানের ইনফেকশনের জন্য হয়ে থাকে এই ব্যথা যা অনেক কষ্টদায়ক। অনেকেই কানের ব্যথায় তেল ব্যবহার করে থাকেন কিন্তু এটা একটি ভুল চিকিৎসা। কানের ব্যথা উপশমে আপনার দরকার শুধুমাত্র লবন।

এক কাপ পরিমাণ লবণ গরম করে নিন প্যানে কিংবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে। একটি মোটা কাপড়ে গরম লবণ নিয়ে কানে সহ্য করার মতো তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা হতে দিন। এরপরে শুয়ে থেকে ৫ মিনিট ধরে এই লবণের ভাপ নিতে থাকুন কানে। এভাবে প্রতিদিন ৩/৪ বার ভাপ নিন। কানের ইনফেকশন দূর হবে ।

ফ্লু রোধে লবন
শীতকালে সব চাইতে যন্ত্রণাদায়ক রোগ হচ্ছে ফ্লু। আর ফ্লু হওয়া মানেই ৩/৪ দিনের বিছানাবাস। নাক বন্ধ হয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হওয়া জনিত এই ফ্লু থেকে অতি সহজেই নিস্তার পেতে পারেন লবনের মাধ্যমে।
২৫০ মিলি লিটার হালকা গরম পানিতে ১/৪ চা চামচ লবন ও ১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এরপরে একটি পাম্প সিরিঞ্জের মাধ্যমে এই হালকা গরম পানি নাকে প্রবেশ করান। একপাশের নাক আঙুল দিয়ে চেপে ধরে অন্য পাশে এই হালকা গরম পানি প্রবেশ করান ও বয়ে যেতে দিন। এতে করে নাক বন্ধ সমস্যা দূর হবে। এবং পাশাপাশি ফ্লুয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস মুক্ত হবে।

গলার খুশখুশে কাশি দূর করতে লবনের ব্যবহার
গলার খুশখুশে অনুভূতি ও কাশি দূর করার সব চাইতে প্রচলিত ও সর্বজন স্বীকৃত সহজ উপায় হচ্ছে লবণ গরম পানির গারগল। অনেকেই মনে করে থাকেন গারগলে তেমন উপকার পাওয়া যায় না। কিন্তু এটি অনেক কার্যকরী একটি ঔষধ শীতকালীন এই সমস্যা দূরীকরণে।

২৫০ মিলি লিটার গরম পানিতে ১ চা চামচ লবন দিয়ে মিশিয়ে নিন। পানির গরম আপনি যতটুকু সহ্য করতে পারবেন ততোটুকু নিন। এরপর এই গরম পানি দিয়ে গারগল করুন দিনে ৩/৪বার। সব চাইতে সহজ হলেও গলার খুশখুশে অনুভূতি ও কাশি দূর করার সব থেকে দ্রুত উপায় হচ্ছে লবন গরম পানির গারগল।

ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে লবন
শীতকালে সবার ত্বকেই আসে শুষ্কতা। এই শুস্কতা দূর করার অনেক উপায়ের মধ্যে সবচাইতে সহজ উপায় হচ্ছে লবনের ব্যবহার। শীতকালে কম বেশি সবাই গরম পানিতে গোসল করে থাকেন। এই গরম পানির মধ্যে লবন মিশিয়ে নিন। এতে করে ত্বকের আদ্রর্তা বজায় থাকবে ও ত্বক নরম ও কোমল হবে।

সাইনাসের সমস্যা দূর করতে লবন
শীতকালে সাইনাসের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। যাদের এই সমস্যা আছে একমাত্র তারাই জানেন কতোটা দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই জন্য। কিন্তু শীতে সাইনাসের সমস্যাও কমাতে পারে লবন।

একটি পাত্রে ১ লিটার ফুটন্ত গরম পানিতে ১ চা চামচ লবন ও ১ চা চামচ বোরিক পাউডার দিয়ে মিশিয়ে নিন। এরপর এই পানির ভাপ নিতে থাকুন নাক দিয়ে। এতে করে অনেক উপশম হবে সাইনাসের সমস্যার।

তথ্যসূত্র: প্রিয় লাইফ

শীতে শিশুর নিউমোনিয়া!

524985_438087176202447_238645559479944_1690669_614473801_n

আমাদের দেশে সাধারন শীতের শুরু দিকে অনেকেই বিশেষ করে শিশুরা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। ঋতু পরিবর্তন সেই সাথে এই ঠান্ডা আবার গরম সব মিলিয়ে শিশুরা সহজেই সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে,যে সর্দিকাশি মানেই নিউমোনিয়া নয়! তবে যদি তেমন কিছু হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কি করনীয়? 

ঘটনা-১
বেশ কদিন ধরেই ঐশী (কাল্পনিক নাম) দারুণ সর্দিকাশিতে ভুগছে। সঙ্গে জ্বরও আছে। সারা রাত ঘুম নেই। ওষুধেও কিছু হচ্ছে না। তাঁর অভিভাবকদের আশঙ্কা এটা কি নিউমোনিয়া?

ঘটনা-২
স্কুলে শান্তর (কাল্পনিক নাম) এক বন্ধুর নিউমোনিয়া হয়েছে। সে নিজেও কয়েক সপ্তাহ আগে জ্বর থেকে উঠল। শান্তরও নিউমোনিয়া হতে পারে কি?

এটা কি ছোঁয়াচে রোগ?
নিউমোনিয়া নিয়ে এমন অনেক প্রশ্ন আসে আমাদের মনে। এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগ মিলিয়ে শিশুমৃত্যুর চেয়ে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি।

নিউমোনিয়া কী?
নিউমোনিয়া হচ্ছে ফুসফুসের ইনফেকশন। ভাইরাল ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ শিশুদের শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম। দ্বিতীয়ত, পরিবেশগত ও অন্যান্য কারণে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি কখন বাড়ে?
*শিশুদের ফুসফুসের রোগ থাকলে-যেমন অ্যাজমা, সিস্টিক ফাইব্রোসিস (যেখানে পাকস্থলী, প্যানক্রিয়াস প্রভৃতি জায়গায় দেহের মিউকোসাল) সিক্রেশন চটচটে হয় বলে ফুসফুসে ইনফেকশন হয়।

* শিশুর শ্বাসনালি ও খাদ্যনালি জোড়া থাকলে নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে খাবার খেলে সেটা শ্বাসনালিতে ঢুকে যায়।
শিশু যা খায় তা-ই বমি করে ফেলে দেয় বা খাবার পেট থেকে ফুসফুসে ফেরত চলে যায়।

* পেশি দুর্বল থাকলে আক্রান্ত শিশুরা ভালো করে কাশি দিয়ে কফ বের করতে পারে না। খাবার শ্বাসনালিতে ঢুকলেও কাশি দিতে পারে না।
অনেক ক্ষেত্রে জ্নগতভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ ছাড়া এইডস, থেলাসেমিয়া হলেও প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় নিউমোনিয়া
হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সাধারণ সর্দিকাশি ও নিউমোনিয়া
শিশুদের সাধারণত সর্দি-কাশি, জ্বর লেগেই থাকে। বিশেষ কয়েকটি লক্ষণ থেকে বোঝা যাবে শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে কি-না।

প্রথমত সর্দিকাশি, জ্বরের সঙ্গে শিশু যদি খুব দ্রুত নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে, দুই বছরের কম বয়সের শিশু যদি প্রতি মিনিটে ৫০ বারের বেশি নিঃশ্বাস নেয় এবং দুই বছরের বেশি বয়সের শিশু যদি প্রতি মিনিটে ৪০ বারের বেশি নিঃশ্বাস নেয়, তাহলে বুঝতে হবে এটা সাধারণ সর্দিজ্বর নয়।

দ্বিতীয়ত, শান্ত থাকা অবস্থায় শিশুর যদি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, নিঃশ্বাস নিতে গেলে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, তাহলে তা নিউমোনিয়ার লক্ষণ।

নিউমোনিয়া কি ছোঁয়াচে?
শিশুদের যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাই ছোঁয়াচে বলা যেতে পারে। শিশুদের নাকে-কানে নিউমোনিয়া হওয়ার ব্যাকটেরিয়া মজুদ থাকে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?
* নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর পেট ভেতরে ঢুকে গেলে।
* নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নাক ফুলে উঠলে।
* মুখ ও ঠোঁটের চারপাশ নীল হলে, সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হলে।
* বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হলে। এ অবস্থায় সাধারণত শিশু বুকের যেদিকে ব্যথা করে সেদিকটা ধরে থাকে। যেদিকে ব্যথা সেই দিকে পাশ ফিরে শুয়ে থাকে। হাঁটু মুড়ে, হাঁটুটাকে বুকের কাছে এনে পাশ ফিরে থাকে।
* ঘন ঘন শুকনো কাশি হলে। কাশি হতে থাকলেও কফ বের করতে না পারলে।
* সব সময় মনে একটা অস্বস্তি, দুশ্চিন্তার মতো থাকলে।

চিকিৎসা
প্রথমেই রুটিন রক্ত পরীক্ষা আর বুকের এক্স-রে করা দরকার। এক্স-রেতে জানা যায় নিউমোনিয়া হয়েছে কি না, আর রুটিন রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়বে শিশুর ভাইরাল না ব্যাকটেরিয়াল, কোন ধরনের নিউমোনিয়া হয়েছে। তারপর চিকিৎসকের পরামর্শমতো তাড়াতাড়ি অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করতে হবে।

প্রয়োজন হলে শিশুকে স্টিম ভেপার দেওয়া যেতে পারে; কাফ মেডিসিনও নিতে হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রথম থেকেই ভালোভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। খাওয়া-দাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ-সব দিকেই বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার।

খাওয়া-দাওয়া
মায়ের দুধ খাওয়ানো অপরিহার্য। এর কোনো বিকল্প নেই। অপুষ্টির হাত থেকে বাঁচতে শাকসবজি, তাজা ফল, টাটকা মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রয়োজনে ভিটামিন সিরাপও খাওয়ানো যেতে পারে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, খাবারে যেন যথেষ্ট পরিমাণে জিংক থাকে। এ জন্য শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে কচি মুরগির মাংস, পনির, মসুর ডাল, শিম, কর্নফ্লেক্স, চিঁড়া ইত্যাদি।

পরিবেশ
বহু লোকের ভিড়ে শিশুকে বেশি না নিয়ে যাওয়াই ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখুন শিশুদের। বিশেষ করে ধূমপান করা হয় এমন পরিবেশে থাকলে শিশুদের ফুসফুসে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভ্যাকসিন
নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করার জন্য ভ্যাকসিনের চল এখন বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিন ব্যবহারে শিশুদের নিউমোনিয়া কমেছে।
মিজলস ভ্যাকসিন, হেমোফেলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন, নিউমোক্কাল ভ্যাকসিন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিলে ভালো। এর মধ্যে হেমোফেলাস ও নিউমোক্কাল ভ্যাকসিন দেওয়া হয় দুই মাস বয়সে। মিজলস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নয় মাস বয়সে।

এভাবে প্রতিরোধ করা হলেও নিউমোনিয়া যে একেবারে হবে না তা নয়। বারবার নিউমোনিয়া হলে শিশুর মেনিনজাইটিস, অস্টিওম্যালাইটিস, আর্থাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লেখকঃ ডাঃ গৌতম দাশগুপ্ত
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

শাকে দিন আলোর কিরণ

image_631_89953

পরের বার যখন সুপার মার্কেটে কিংবা অন্য কোথাও পাতাওয়ালা শাক কিনতে যাবেন, তখন দেখবেন এ শাকে আলোর কিরণ পড়ছে কি না। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাক করা শাকের মধ্যে রেফ্রিজারেটরের উজ্জ্বল আলোর কিরণ তিন দিন ফেলা হয়, তবে সে শাকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ভিটামিন সি, কে, ই এবং ফোলিক অ্যাসিড থাকে।

এর মধ্যে বেশি মাত্রায় থাকে carolenoids lutein Ges zeaxanthen।
অপর দিকে শাক যদি অন্ধকারে মজুদ রাখা হয় তখন এতে হয় প্রোটিনের মাত্রা কমে যায় কিংবা স্থির থাকে, বাড়ে না। পাতাময় শাকে ক্ষেত থেকে তুলে আনার পরও সালোক সংশ্লেষণ ঘটে। জানিয়েছেন প্ল্যান্ট ফিজিওলজিস্ট ড. জিন লেস্টার।

তিনি উপরোল্লিখিত গবেষণা পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘সুপার মার্কেটে শাক সম্পূর্ণ ভালো পরিবেশে রাখা হয়, বিশেষ করে শাকের ওপর জ্বালানো থাকে ২৪/৭ লাইট।’ সব ধরনের শাকসবজির জন্যই আলোর কিরণ তেমনি উপকারী।

খাবার খেয়ে সারুন হাঁটুর ব্যথা

লাখো মানুষ ভোগে হাঁটুর ব্যথায়। এর কারণ অস্টিও-আর্থ্রাইটিস। সোজা কথায় হাড়সংশ্লিষ্ট বাত রোগের কারণে তা হয়। এ থেকে রেহাই পেতে অনেকে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে বাড়তি ওজন কমান। কেউ কেউ সার্জারির আশ্রয়ও নেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার খেয়ে আরো মজাদার উপায়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ফল : মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফল খাওয়ার ফলে bone marrow lesion তথা হাড়ের মজ্জার সমস্যা সৃষ্টির ঝুঁকি কমে। এর ফলে সাধারণত হাঁটুর ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। হাঁটু সুস্থ রাখার জন্য চাই শহবব-knee-friendly fruit তথা হাঁটুবান্ধব ফল। আর এই হাঁটুবান্ধব ফল হচ্ছে সেগুলো, যেগুলোতে রয়েছে ভিটামিন সি। যেমন কমলালেবু, কিউই ফল, আঙুর ও পেঁপে।

সয়া : ওকলাহামা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোক তিন মাস ধরে প্রতিদিন খাবারের পর সয়াপ্রোটিন সেবন করেন ও অন্যান্য ওষুধ সেবন কমিয়ে দেন, তাদের হাঁটুর ব্যথা কম হয়। এই সমীক্ষায় অংশ নেয়া লোকদের খেতে দেয়া হয় গুঁড়ো সয়াপ্রোটিন, যাতে রয়েছে ৪০ গ্রাম প্রোটিন। একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে সয়াদুধ পান করেও। সয়াশস্য ও সয়া বার্গার খেয়েও একই সুফল পাওয়া যায়। এমনটিই জানিয়েছেন এ গবেষক দল।

মাছ : এক গবেষণা সমীক্ষায় জানা গেছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থামিয়ে দিতে পারে সেই রাসায়নিককে যা কার্যত ওস্টিও-আর্থ্রাইটিস। এটি হাঁটুর কোমলাস্থি সুষ্ঠু রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তৈলাক্ত মাছ খান যেমন মেকাবল কিংবা রুইজাতীয় মাছ। ১ গ্রাম ওমেগা-৩ ক্যাপসুল সেবন করুন প্রতিদিন।

 

কেমন আছে,বিদেশে আমাদের নারী শ্রমিকেরা?

 65233_nari-1

বাংলাদেশ থেকে এক হাজার নারী শ্রমিক সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আরব আমিরাত সফরে এই চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে নারী শ্রমিক পাঠানোর চুক্তিকে সাফল্য হিসাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিদেশে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা কেমন আছে? সে চিত্র আমরা খুব কমই জানি।

এখন নারী শ্রমিক যাচ্ছে হংকং সিঙ্গাপুর ও আরব দেশগুলোতে।  নারী শ্রমিকের জীবনের অভিজ্ঞতা আমরা জেনে নেই। কেমন আছে তারা।

১.
১৬ বছরের পারভীন। পাসপোর্টে ২৬ বছর বয়স দেখিয়ে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে লেবাননে গিয়েছিল কাজ নিয়ে। সেখানে মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হতো তাকে। কাজ করতে না পারলে চলতো শারীরিক নির্যাতন। পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল না তার। সেখান থেকে মুক্তির আশায় অন্য চাকরি খুঁজতে থাকে সে। এ সময় এক ব্যক্তি তার দুর্ভোগের কথা শুনে ভাল একটি চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সে ছিল এক দুর্বৃত্ত। তার খপ্পরে পড়ে গণধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি। এরপর নানা ঘটনার জন্ম।

২.
আমাতন বিবি। ৩৫ বছরের এ বিধবার ৩ ছেলে। ছেলেদের ভবিষ্যৎ গড়তে দালালের প্রলোভনে পড়ে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে স্থানীয় দালালকে দেন ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু দালালের প্রতারণায় বিদেশেও যেতে পারেননি। টাকাও ফেরত পাননি। টাকা ফেরত পেতে এলাকার মাতব্বরদের কাছে ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। ওই টাকার সুদও বেড়েই চলছে। আমাতন ওই টাকা ফেরত পেতে প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।

৩.
২০০৮ সালের ৩১শে অক্টোবর লেবাননে কর্মরত অবস্থায় নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান বাংলাদেশী নারী কর্মী মনোয়ারা। ওই সময় বলা হয় তিনি ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১২ সালের মে মাসে প্রমাণ হয় মনোয়ারা কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু আজও ক্ষতিপূরণ পাননি ৪ সন্তানের জননী মনোয়ারার স্বামী ওমর আলী। মনোয়ারার অভিভাবক হিসেবে প্রমাণ করতে তিনি এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

৪.
বিদেশে নারী শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কাজ করে তাদের পরিচালিত একটি গবেষনা প্রতিবেদনে ভয়বাহ চিত্র পাওয়া গেছে। গত বছরের শুরু থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) পরিচালিত গবেষণাটি গত ৩০শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের মেঘনা হল রুমে বিভিন্ন অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়। ‘এক দশকে বাংলাদেশের নারী অভিবাসন: অর্জন, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওই গবেষণায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের নারী কর্মীরা কাজ নিয়ে যেসব দেশে যাচ্ছেন সেখানে তারা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা সেখানে শিকার হচ্ছেন শারীরিক, যৌন এবং মৌখিক নির্যাতনের। অনেকে কাজের বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না, যা পাচ্ছেন তা খুবই কম। আবার অনেকে বিনা বেতনেই কাজ করে যাচ্ছেন মাসের পর মাস। নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ভিকটিম ২৬৪ জন নারী শ্রমিকের মধ্যে ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এছাড়া ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কোন বেতন পাননি এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগেছেন ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে, গত দুই বছরে বিদেশে মহিলা কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুণ। আর এসব কর্মী মূলত যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। যেখানে ১৯৯১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত গড়ে প্রতিবছর বিদেশে নারী কর্মী গেছেন ১৪শ’ ৭৯ জন করে। সেখানে ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে গেছে ২৫ হাজার ৭০২ জন। এসব কর্মীর ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ বিধবা, ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ তালাকপ্রাপ্ত, বিচ্ছিন্ন এবং স্বামী পরিত্যক্তা। ৬৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বিবাহিত এবং ৯ শতাংশ অবিবাহিত। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। দেখা গেছে, তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ২০১১ সালে ০.৫০ শতাংশ, ২০১২ সালে ০.৫২ শতাংশ। আর ২০১৩ সালে মোট রেমিটেন্সে তাদের অবদান ০.৮১ শতাংশ। বেশিরভাগই গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বেশ কিছু গার্মেন্টকর্মী হিসেবেও যাচ্ছেন।

সূত্র : মানবজমিন

ইয়াবার ভয়ংকর ছোবল!আসক্ত হচ্ছে স্কুল ছাত্রীরাও!

mojnubhaiblog_1316253447_1-_YABA_~1
অপরাজিতা ডেস্কঃ বি.বাড়িয়ায় মারণনেশা ইয়াবার আসক্তি দিন দিন বাড়ছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সীরা এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। সাম্প্রতিককালে স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের এ নেশায় আসক্ত হয়ে  পড়ার ঘটনায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি জেলা শহরের একটি গার্লস স্কুলের এক ছাত্রীর ব্যাগে ইয়াবা পাওয়ার পরই এ নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশিষ্ট চিকিৎসক, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ডাক্তার মো: বজলুর রহমান গত ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্কুলছাত্রীদের ইয়াবা আসক্ত হওয়ার কথা উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভ: মডেল গার্লস স্কুল ও আনন্দময়ী (নিতাই পাল) বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া গেছে। ওই স্কুলের ছাত্রীরা ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েছে। ওই সভায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধনাঢ্য পরিবারের এক মেয়ে নিজের ঘর থেকে টাকা চুরি করে নিয়ে এসে ধরা পড়ে স্কুলে। তার স্কুলব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় অনেক টাকা। ওই ছাত্রী শিক্ষককের কাছে অকপটে স্বীকার করে, ওই টাকায় ইয়াবা কেনাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
এইচএসসির প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী বেশ কয়েক দিন ধরে পড়ালেখায় অমনোযোগী। মা তাকে নিয়ে আসেন চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসকের জিজ্ঞাসার মুখে ওই ছাত্রী জানায়, সে ইয়াবার আসক্ত। ইয়াবা আসক্তির পর থেকেই সে অস্থিরতায় ভুগছে।
ওই দুই ছাত্রীর মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরো অনেক ছাত্রীই এখন ইয়াবায় আসক্ত। জেলার সুধীজনেরা এ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনও ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এ ব্যাপারে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ডা: বজলুর রহমান বলেন, ছাত্রীদের ইয়াবা আসক্তির বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। মূলত ছেলেবন্ধুদের প্ররোচনায় তারা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবার আগে অভিভাবকদেরই সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।
ইয়াবা ট্যাবলেট সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্যান্য মাদকের মতো কারো ইয়াবার আসক্তির বিষয়টি খুব তাড়াতাড়ি বুঝা যায় না। এ মাদক তিলে তিলে একজন মানুষকে শেষ করে দেয়। ইয়াবার টাকা জোগাড়ের জন্য খুন, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই করতেও আসক্তরা দ্বিধা করে না। ইয়াবা আসক্তিতে অকাল মৃত্যু অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভ: মডেল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা পারভীন আক্তার বলেন, আমাদের স্কুলের মেয়েদের ব্যাগে ইয়াবা পাওয়ার বিষয়টি একটা গুজব। তবে আমরা অনেক দিন ধরেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সন্দেহ করছিলাম। কিন্তু তাদের স্কুল ব্যাগ চেক করে মোবাইলফোন ছাড়া কিছু পাইনি। একটি মেয়ের কাছে বেশি টাকা পাওয়া গেলে অভিভাবককে ডেকে বুঝিয়ে দিই। তাকে বেশ কিছু দিন স্কুলে আসতে দেয়া হয়নি। তবে এখন সে পরীক্ষাও দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ওঠায় আমরা সতর্ক আছি। এমনকি প্রতিনিয়তই মেয়েদের নজরদারি করা হচ্ছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই একদিন মেয়েদের স্কুলব্যাগ চেক করা হয়। কিন্তু তখনো কিছুই মেলেনি। মূলত মেয়েরা ফেসবুকের
দিকে আসক্ত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত বলেন, একটি মেয়ের স্কুলব্যাগ থেকে ইয়াবা পাওয়ার পর বিষয়টি এখানেই শেষ তা ভাবলে আমরা ভুল করব। স্কুলের মেয়েদের ইয়াবা আসক্তির বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। একজন জনপ্রতিনিধি তার মেয়ের বরাত দিয়ে এক ছাত্রীর স্কুলব্যাগে ইয়াবা পাওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ইয়াবা প্রতিরোধে কিভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করব।
এ দিকে গত চার মাসে পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ১৩ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রায় ৩০ জন মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে। 

আত্নদ্বন্দ্ব

quote-canvas-art_10483-3অনেকক্ষণ থেকেই মনের ভেতর খচখচ করছে রুহির। কিছুতেই স্বস্থি পাচ্ছে না। কোন কাজে মনও বসাতে পারছে না। রুহির সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী নায়লা এসেছিল আজ। নায়লা যাবার পর থেকেই মনের মধ্যে এই অস্থিরতা ভর করেছে। কথায় কথায় নায়লাকে বলেছিল স্বামী রাহিবের বিশাল একান্নবর্তি পরিবারের কথা। বাড়ির বড় ছেলে হিসেবে ধরতে গেলে রাহিবের উপরই পুরো পরিবারের দায়িত্ব। এখনো দুটা ননদ আর ছোট দেবর পড়াশোনা করছে। শ্বশুর-শ্বাশুড়িও প্রায়ই অসুস্থ্য থাকেন। এই সবকিছুই রাহিবকে দেখতে হয়। পরিবারের প্রতি রাহিবের প্রচন্ড টান। রুহির অবশ্য ভালোই লাগতো পরিবারকে ঘিরে রাহিবের ভালোবাসা ও দায়িত্ব সচেতনতা দেখে। কিন্তু আজ নায়লা এসে সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো করে দিয়ে গেলো।

নায়লা আর খুব ভালো করেই রুহিকে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে ওদের নিজেদেরও যে নিজস্ব একটা ভবিষ্যৎ আছে। উপার্জনের সমস্ত অর্থ এভাবে পরিবারে বিলিয়ে দিলে চলবে না। পরিবারের লোকজনের চাহিদা থাকবেই। তাই বলে সবার সব চাহিদা তো পূরণ করা যাবে না। আর গেলেও করা উচিত নয়। এতে সবার চাহিদা আরো বেড়ে যাবে। রোজ রোজ নানা বাহানায় এসে হাজির হবে। এখন থেকেই তাই রুহির এসব ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। শ্বশুরবাড়ির সবার সব সমস্যা দেখার কোন প্রয়োজন নেই। চোখের সামনে পড়ে গেলেও এড়িয়ে যেতে হবে। রাহিবও যাতে সবকিছু না দেখে সে ব্যাপারেও তাকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

রুহির একবার মনেহচ্ছে নায়লার পরামর্শগুলো খুবই বাস্তব এবং সঠিক। এতদিন সেভাবে খেয়াল করেনি কিন্তু আজ বুঝতে পারছে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাহিব প্রায়ই ব্যর্থ হয় রুহির ছোট ছোট ইচ্ছেগুলোকে পূরণ করতে। কিন্তু আবার মনেহচ্ছে যে, রাহিব যদি সাহায্য না করে তাহলে শ্বশুরবাড়ির সবাইকে অনেক সমস্যায় পড়ে যেতে হবে। বাবা-মার কত স্বপ্ন, কত আশা রাহিবকে ঘিরে। দোয়া ছাড়া কোন শব্দই বের হয় না উনাদের মুখে রাহিবের জন্য। তাছাড়া চমৎকার পারস্পরিক বন্ধন রাহিবদের পরিবারের সবার ভেতর। এই সবকিছুই কি প্রভাবিত হবে না রুহি এমন কিছু করতে চেষ্টা করলে?

মানুষ অভিজ্ঞতার গন্ডিতে আবদ্ধ। নিজ অভিজ্ঞতার গন্ডিতে আমি মনেহয় একটু বেশি মাত্রায়ই আবদ্ধ। তাই নেতিবাচক কিছু লিখতে গেলে মনোভাব ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হই সবসময়ই। যাইহোক, এই ঘটনাটা বাস্তব। শুধু রুহির আত্মদ্বন্দ্বটুকু কাল্পনিক। রুহির মত এই ধরণের সাংসারিক পরামর্শ মেয়েরা যখন পায়। বেশির ভাগ সময়ই তাদের মনে আত্মদ্বন্দ্বের উদ্রেক হয় না বিধায় তারা পরামর্শটিকেই স্বাদরে গ্রহণ করে ফেলে।

মনের মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়াটা আসলে খুবই প্রয়োজন। কেননা যে পর্যন্ত মনে দ্বন্দ্ব তৈরি না হয় মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসে না। চিন্তা-ভাবনা ডাল-পালা ছড়াতে পারে না। নিজের সাথে নিজের দ্বন্দ্বের গুরুত্ব তাই অনস্বীকার্য। কিন্তু এই দ্বন্দ্ব যাতে আমাদেরকে সঠিক পথ বা কাজ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজন সঠিক বিচারবোধ সম্পন্ন জ্ঞানের। আমাদের চিন্তার শক্তিশালী ধারাটা আমাদেরকে যেদিকে নিয়ে যায়, আমরা ঠিক তেমন মানুষই হই। চিন্তা আসে জ্ঞান থেকে। তাই জ্ঞানের উৎসটি যদি সঠিক হয় তাহলে চিন্তার গতি বেঠিক হবার সম্ভাবনা যথেষ্ট কম থাকে।

লিখেছেন- আফরোজা হাসান,মনোবিজ্ঞানী। 

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর উপর নির্যাতন

c406de8aaf771ef829d25e4e360ec6ba_35901

যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক আছেন।
গৃহবধূর বাবা আবু তালেব মোল্লা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের শরীফ মোল্লার সঙ্গে তাঁর মেয়ে হুরুন নাহারের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও কিছু গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়। বছর খানেক পর থেকে শরীফ প্রায়ই বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য হুরুনকে চাপ দিতেন। বৃহস্পতিবার সকালে নাহারকে দুই লাখ টাকা আনতে বলে শরীফ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। দুপুরে বাড়ি ফিরে টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে নাহার তাঁকে টাকা এনে দিতে পারবেন না বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটান। ওই দিন রাতেই নাহারকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মকছেদুল মোমিন বলেন, ওই গৃহবধূর মাথার এক পাশ আঘাতের কারণে কেটে গেছে। তা ছাড়া, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে আঘাত গুরুতর নয়।

চট্রগ্রামে শুরু হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা মেলা ২০১৪

চট্টগ্রামের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে অষ্টমবারের মতো শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী নারী উদ্যোক্তাদের মেলা। ৮ নভেম্বর বেলা তিনটায় মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মেলার আয়োজক চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। মেলার সহযোগিতায় রয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), এসএমই ফাউন্ডেশন, জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার ও এফবিসিসিআই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবার মেলায় মোট ৩০০টি স্টল ও ২০টি প্যাভিলিয়ন থাকছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ১৫ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে উইম্যান চেম্বারের প্রেসিডেন্ট কামরুন মালেক, মেলা কমিটির চেয়ারপারসন রোকসানা আকতার চৌধুরী, উইম্যান চেম্বারের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খালেদা আওয়াল, ভাইস প্রেসিডেন্ট আইভি হাসান, পরিচালক শামীমা হারুন, জাহেদা আকতার, আকতার বানু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।