banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

রুমটা থাকুক ছিমছাম

শোবার ঘরের জন্য হালকা রঙের বিছানার চাদরই ভালো। ছবি: অধুনা

ক্লান্ত থাকলে সবার আগে মনে হয় ইস, বিছানায় যদি একটু শরীর এলিয়ে দিতে পারতাম। গৃহিণী বা কর্মজীবী—ব্যস্ত দিনশেষে শোবার ঘরটাই বেশি প্রিয় মনে হয়। ফলে শোবার ঘরটা পরিপাটি ছিমছাম না থাকলে মেজাজ যে বিগড়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্থপতি বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা তাই বাড়ির অন্যান্য ঘরের থেকে শোবার ঘরটাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মন-মেজাজ ভালো থাকবে কি না, তা অনেকটা নির্ভর করে শোবার ঘরসজ্জার ওপর। মনে রাখতে হবে, শোবার ঘরে যতটা সম্ভব কম আসবাব রাখতে হবে। চারদিকে জায়গা থাকলে গুমোট মনে হবে না।

সকালে যাঁরা তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়েন, তাঁরা হয়তো শোবার ঘরটা এলোমেলো করে বের হন। দিনশেষে যখন ফিরলেন বাসায়, দেখলেন এদিক-সেদিক সকালের ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তখন ক্লান্ত শরীরে ইচ্ছা করে না ঘরটা গোছানোর। তাই সকালে বের হওয়ার আগে যতটা সম্ভব যেখানকার জিনিস সেখানে রেখে যেতে হবে। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোরশেদা বেগম বলেন, সকালের অপরিচ্ছন্ন কাপড়গুলো একটা ঝুড়িতে রেখে দিতে পারেন। তাহলে ঘরে ঢুকেই দেখতে হবে না ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাপড়। এ ছাড়া আসবাবের বাহুল্য না থাকাই ভালো। সবচেয়ে বড় কথা পরিচ্ছন্ন পরিপাটি রাখতে হবে।

শোবার ঘরে দেয়ালের রং গাঢ় থাকলে বিছানার চাদর হবে হালকা রঙের।মেঝের টাইলসের রংটাও হালকা হতে হবে। হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়। এমনটা অনেকে ভাবেন। তাঁরা চাইলে ছোট ম্যাট বা শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে বিছানার চাদর কম ময়লা হবে। তবে ম্যাট বা শতরঞ্জি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ফর্ম থ্রি আর্কিটেক্টস-এর অ্যাসোসিয়েট স্থপতি আন্তা শরীফ বলেন, শোবার ঘর পুরোপুরি ব্যক্তিগত জায়গা। একেকজন একেকভাবে সাজাতে পারেন। শোবার ঘরের দেয়ালের রং হালকা হওয়া ভালো। বিশেষ করে হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘরে স্নিগ্ধভাব থাকবে।

শোবার ঘরে আলো-আঁধারি পরিবেশ তৈরি করতে হলে ঘরের কোণে বড় কোনো ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। অনেকে বিছানার পাশের টেবিলে ল্যাম্পশেড রাখতে চান। সেটিও করতে পারেন। এ ছাড়া এই ঘরে মৃদু নরম আলো ব্যবহার করা ভালো। চোখে বিরক্তি লাগবে না।

শোবার ঘরের বিছানা সাধারণত একটু বড় আকারের হয়ে থাকে। ফলে আলমারি, ড্রেসিং টেবিল ও গান শোনার যন্ত্র রাখতে পারেন। কেউ কেউ টিভি রাখেন। আবার অনেকে টিভি রাখতে চান না।

শোবার ঘরের সঙ্গে কমবেশি সবারই বারান্দা থাকে। এই বারান্দায় ফুলের গাছ ও গাছগাছালি রাখলে মনটা ফুরফুরে ও সতেজ থাকবে। বাইরে থেকে ফিরে বারান্দার দরজা খুলে দিলে ফুলের গন্ধ ঘরে একধরনের প্রশান্তি এনে দেবে।

সূত্র- নকশা।

শিশুদের নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি স্লাম ডগ

দিন দিন বাড়ছে দেশের শিশু অপরাধ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সম্প্রতি জটিল রূপ ধারণ করেছে। এ ধরনেরই একটি প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশে নির্মিত হচ্ছে শিশু অপরাধবিষয়ক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্লাম ডগ।

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে স্বল্পদৈর্ঘ্য এ চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়েছে। শিশু অপরাধের বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রটির মূল ভাবনা শাহরিয়ার লালনের। পরিচালনা করছেন ইমারাত হোসেন ও শাহরিয়ার লালন।
স্লাম ডগ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে শিশু অপরাধ নিয়ে। নগরের বিভিন্ন ফুটপাতে এবং বস্তিতে বেড়ে ওঠা শিশুরা কীভাবে অস্ত্র, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এ বিষয়টিকেই তুলে ধরা হয়েছে এতে।
এ চলচ্চিত্রে দুজন শিশুকে দেখানো হয়েছে, যারা একটি রেলস্টেশনের মাদকের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরে তারা ধীরে ধীরে মাদকসহ বড় ধরনের চোরাচালান ও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। পেটের দায়ে এসব পথশিশু বাধ্য হয় নানা ধরনের অপরাধ করতে। একশ্রেণির মুনাফালোভী এই কোমলমতি শিশুদের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির দুটি কেন্দ্রীয় শিশু চরিত্রে অভিনয় করেছে এনটিভির মার্কস অলরাউন্ডার-২০১০ প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ স্থান অধিকারী সারিকা এবং চ্যানেল আইয়ের খুদে গানরাজ-২০১১ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অধিকারী রাফি। এই দুই শিশু একটি রেলস্টেশনে বড় হতে থাকে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, কষ্টে তাদের বেঁচে থাকা বড় দায়। তাদের এই দরিদ্রতার সুযোগ নেয় মুনাফালোভী একশ্রেণির মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী।

সহিংসতায় প্রতি পাঁচ মিনিটে ১জন শিশুর মৃত্যু

child-death
বিশ্বব্যাপী প্রতি ৫ মিনিটে এক শিশুর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে সহিংসতা। আরও ভীতিজনক তথ্য হলো, এ মৃত্যুর হার যুদ্ধাঞ্চলের বাইরেই বেশি। সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের যুক্তরাজ্য শাখা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ বছর বয়সের নিচে লাখ লাখ তরুণ তাদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়গুলোতে নিরাপত্তার অভাববোধ করছে।

এ অবস্থার জন্য দ্রুত নগরায়ন, কর্মসংস্থানের অভাব ও বৈষম্য বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সকল ধরনের শিশু নিপীড়ন বন্ধে ২০৩০ সালকে নতুন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশের সরকারগুলো যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আগামী বছর সহিংসতার কারণে প্রতিদিন গড়ে ২০ বছরের কম বয়সী ৩৪৫ শিশু মৃত্যুবরণ করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দরিদ্র দেশগুলোতে এ সহিংসতার হার বেশি। সহিংসতার শিকার শিশুদের মস্তিষ্কে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের মাত্র ৪১টি দেশ শিশুদের ওপর সহিংসতা নিষিদ্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

সন্তানের সাথে আপনার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব

Happy family and house at sunset in a meadow

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আমাদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে প্রথম চিন্তার বিষয় হলো তারা কথা বলার জন্য মানুষ খুঁজে পায়না। এটা তাদের বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। আপনার সন্তানকে আপনি স্কুলে পাঠান; ধরে নিই তারা পাবলিক স্কুলে যায়। অধিকাংশ মুসলিম অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পাবলিক স্কুলে পাঠিয়ে থাকেন, কারণ যেকোনো কারণেই হোক তাদের সন্তানদেরকে ইসলামিক স্কুলে পাঠানোর সামর্থ্য বা সুযোগ হয়ে ওঠেনা। এজন্য আমরা তাদের দোষারোপ করব না। এটা তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণ। তো আপনি সন্তানদের পাবলিক স্কুলে ভর্তি করান; ক্লাস ফাইভ-সিক্সে উঠতে উঠতেই তারা এ দেশে বিভিন্ন নোংরা শব্দ শিখে ফেলে; আপনি যে শহরেরই হন না কেন। তারা খুব জঘন্য ভাষা আয়ত্ত করে ফেলে; তারা কিছু বাজে ওয়েবসাইটে ঢোকা শিখে যায়; তারা তাদের পিএসপি, আইপড, আইফোনে বিভিন্ন নোংরা জিনিষ ডাউনলোড করা শেখে। তারা কম বয়সেই এসবে পারদর্শী হয়ে যায়। যেসব জিনিস আপনি ২৫ বছর বয়সেও শেখেননি সেগুলো তারা ১২ বছর বয়সেই জানতে পারে। এটাই বাস্তবতা। এগুলোই এখন হচ্ছে।

 

এখানে কোন কোন অভিভাবক জানেন যে ফেসবুক কী? একটু হাত দেখান প্লিজ। আচ্ছা, টুইটার কী জিনিস কেউ বলতে পারবেন? (its not when your eye bugs out, something else) তো আপনার সন্তান এসব সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে যায়, যেখানে অচেনা শিকারিরা আপনার কিশোর মেয়ে বা ছেলের সাথে কথা বলতে পারে। একসময় তারা সম্পর্কে জড়িয়ে যায় আর একে অপরের সাথে দেখাও করে। এরপর বিভিন্ন কিছু ঘটে যায়। এটা বর্তমানে আমাদের মুসলিম ছেলেমেয়েদের বাস্তবতা। এগুলোই ঘটছে। এসবের ব্যাপারে আমাদের চোখ বুজে থাকলে হবেনা, আমাদের চোখ খুলতে হবে। আপনি হয়তো বলতে পারেন, “না না, আমার সন্তানরা এমন না।” প্লিজ জেগে উঠুন! বড় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার আগে এসব ব্যাপারে কিছু প্রাথমিক সমাধান যা আমাদের করতে হবে তা হল, বাসায় ওপেন এক্সেস ইন্টারনেট রাখবেন না। বিশেষ করে ১২ বছরের ছোট বাচ্চা থাকলে, এটা রাখবেন না! এটা একটা ভয়ানক কাজ। তাদের ল্যাপটপ দেবেন না। দিতে চাইলে এমন মোবাইল দেবেন যেটাতে কেবল ফোন নাম্বার লেখা যায়, কোন টেক্সট ম্যাসেজ বা ইন্টারনেট চালানো যায়না। নতুবা আপনি নিজেই বিপদ দেকে আনছেন। এ নিয়ে আপনিই পরবর্তীতে আফসোস করবেন। আপনি ভাবছেন এগুলো আপনি তাদের ভালবেসে কিনে দিয়েছেন; আসলে আপনি তাদের ধ্বংস করছেন। তারা এখনো অতো বড় হয়নি যে নিজেরাই বুঝে নেবে যে এটা আমার করা উচিত নাকি উচিত না। ধরে নেবেন না যে তারা একাই সব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে কারণ আপনি ভালো পরিবার থেকে এসেছেন। প্লিজ এই ফাঁদে পড়বেন না। আল্লাহর দোহাই এসব জিনিস নিয়ে নিন। আপনার সন্তানদের বিনোদনের জন্য অন্যান্য পথ আছে। এটা প্রথম বিষয়।

 

যাই হোক যখন আপনার সন্তান বয়ঃসন্ধিতে পা রাখে, যেটা প্রায় সময়েই হয়ে থাকে, তাইনা? আমাদের সন্তানেরা টিনেজে/কৈশোরে উপনীত হয় আর আমি বিভিন্ন দেশে ঘুরে যেটা দেখি, অনেক অভিভাবক আমার কাছে এসে বলেন, “আমার একটা টিনেজ মেয়ে আছে”, “আমার একটা টিনেজ ছেলে আছে”, “আমি চাই আপনি তাঁর সাথে কথা বলেন”। এরকম ঘটনা আমার সাথে শতবার ঘটেছে। আক্ষরিক অর্থেই শতবার ঘটেছে।

 

আপনি জানেন কেন তারা আমার কাছে আসে? আর আমি কাউকে বিচার করছি না, ওয়াল্লাহি, আমি কাউকে বিচার করছি না। জানেন কেন তারা আমার কাছে আসে? কারণ বয়ঃসন্ধিতে আসলে তারা স্বাধীন হয়ে যায়, যখন তারা স্বাধীন হয়ে যায় তখন তারা আর আপনার কথা শোনেনা, যখন তারা আপনার কথা শোনেনা তখন আপনি এমন কাউকে চান যার কথা তারা শুনবে। নৌকা ইতিমধ্যেই ভেসে গেছে। কখন আপনার হাতে সুযোগ ছিল? কখন? যখনও তারা Semi-adult এ পরিণত হয়নি, তখন। সেসময় আপনার সুযোগ ছিল। একে হাতছাড়া করবেন না। আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা ভিন্ন পৃথিবীতে বাস করছি। দেশে থাকতে আপনি তাদের সাথে যে রকম আচরণ করতে পারতেন, এখানে তেমনটি পারবেন না। আগে আপনি তাদের বকতে পারতেন, মারতে পারতেন, আপনার ইচ্ছে মতো। এমনটিই সবাই করে এসেছে। এখানে আপনি তাদের সামান্য বকুনি দেবেন আর তারা বলে বেড়াবে, “আরে আমার বাবা পুরো ফালতু একটা মানুষ”। তারা আপনার সম্পর্কে বন্ধুদের এরকম বলে বেড়াবে।

 

আমি একটা সান্ডে স্কুল চালাতাম, সেখানকার হেড ছিলাম। আর জানেন আমার প্রাইমারী কাজ কী ছিল? বাচ্চাদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করা; কারিকুলাম ঠিক করা, আকিদা শেখানো বা বই অর্ডার আমার কাজ ছিলোনা, না না না। এগুলো পরের বিষয়। আগে দেখা যাক তারা স্কুলে বিরতির সময় কি নিয়ে কথাবার্তা বলে। “আমার মা আমাকে NC17 ভিডিও গেম কিনে দিয়েছে”, “আর আমার বয়স মাত্র ৮ বছর। মা আমাকে খুব ভালবাসে” না সে ভালবাসে না। হা হা। “আমার গ্র্যান্ড থেফট অটো আছে”, “তুমি ঐ মুভিটা দেখেছো? ওটা PG-13 ! ওটা দেখতেই হবে!” বা “মুভিটা Rated-R আর আমি দেখেছি। সেটার ডিভিডি-ও আমার কাছে আছে।”

 

বাচ্চারা এসব নিয়েই কথা বলছে। তারা আপনার সন্তানদের নষ্ট করে ফেলছে। আর একে আপনি ভালবাসা বলেন? ইব্রাহিম (আঃ), তিনি কি কখনো এগুলোর কাছাকাছিও কোন কিছুর জন্য অনুমতি দিতেন? একে বাচ্চাদের জন্য উদ্বেগ বলে? চোখ খুলুন! সত্যিই, চোখ খুলুন!

 

আমরা সন্তানদের এমন সব জিনিসের সামনে উন্মুক্ত করে দিচ্ছি, আর এটা ধীরে ধীরে খারাপের দিকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে মিডিয়াতে, যেই মুভিটা ১০ বছর আগে ১৩ বছর বয়সের নিচে অনুমোদিত ছিলোনা সেটা এখন অনুমোদিত হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড নিচে নেমে গেছে। আমি না, তারাই এসব নিয়ে কথা বলছে। এখন সমকামিতার মত বাজে বিষয়গুলো এমনকি কার্টুনেও সাধারণ হয়ে গেছে। টম অ্যান্ড জেরিও আর আগের মতো নেই। সবকিছু বদলেছে। চারিদিকে কী হচ্ছে সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সন্তানরা কী দেখছে, তারা কী ভাষায় কথা বলছে, যেসব জিনিস তাদের কাছে নরমাল মনে হয়, যেগুলো তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। যখন আপনি মসজিদে যান তখন আপনি দাড়িওয়ালা মানুষদের দেখেন; তারা নামায পড়ে, ভিন্নভাবে কথা বলে। আপনার বাচ্চারা কী তাদের বেশী দেখতে পায় নাকি বাইরের পৃথিবীকে? তারা যেটা বেশী দেখতে পায় সেটাকেই স্বাভাবিক ধরে নেয়। তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক না, ঐটা স্বাভাবিক। আর এটাই সমস্যা। এটাই আসল সমস্যা। তারা এগুলোকে স্বাভাবিক মনে করেনা। তারা বাইরের পৃথিবীকে স্বাভাবিক মনে করে।

 

আমরা কীভাবে সন্তানদের জন্য একে পরিবর্তন করতে পারি? প্রথমে এ সব বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে হবে। তারপর এসব সমাধানের ব্যাপারে কথা বলা যাবে।

 

আমাদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে প্রথম চিন্তার বিষয় কী যেটা আমি বলেছিলাম? তারা কথা বলার জন্য মানুষ পায়না। যখন আপনার সন্তান পাবলিক স্কুলে যায় আর একটা ছেলে আর মেয়েকে একসাথে দেখে বা কোন মেয়ে আপনার ছেলের কাছে এসে বলে, “আমার সাথে সিনেমা দেখতে যাবে?” অথবা “আমরা একটা রেস্টুরেন্টে খেতে যাচ্ছি, তুমি যাবে? তুমি দেখতে অনেক কিউট।” এসব আপনার ক্লাস ফাইভের বা সেভেনের সন্তানের সাথেই হচ্ছে। তারা কি বাসায় এসে আপনার সাথে এগুলো নিয়ে কথা বলবে? না। “আব্বু, একটা মেয়ে না আমাকে বলেছে আমি দেখতে কিউট।” “কী! তোমাকে কি এইজন্যেই আম্রিকায় নিয়ে এসেছিলাম?” ঠাশ! ঠাশ! এই বাচ্চা জানে যে তাঁর বাবা-মা এগুলো শুনে মেনে নিতে পারবে না। কিন্তু এসব কথা তো কারো সাথে শেয়ার করতে হবে। সে কাকে এগুলো বলবে? সে বন্ধুদের সাথে এগুলো শেয়ার করবে। আর পাবলিক স্কুলে তাঁর বন্ধুরা মুসলিম নাকি অমুসলিম? অমুসলিম। তারা তাকে ইসলামিক পরামর্শ দেবে নাকি অনৈসলামিক? অনৈসলামিক পরামর্শ। “আরে চালিয়ে যা দোস্ত” তারা এইরকম পরামর্শই দেবে। আর এখন আপনার বাচ্চারা আপনাদের থেকে তাদের বন্ধুদের সাথে বেশী খোলামেলাভাবে চলতে পারছে কারণ আপনি বেশী কঠোর। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন না। আপনি তাদের জন্য সেই দরজাটা খোলা রাখেননি। কারণ আপনি তাদের ওপর সেই আধিপত্য দেখাতেন যা আপনার বাবা আপনার ওপর খাটিয়েছিল। কিন্তু সেটাতো আপনার দেশ ছিলো ভাই, এখানে সবকিছু ভিন্ন। আমাদেরকে সন্তানদের বন্ধু হতে হবে। তারা যেন খোলামেলাভাবে কথা বলতে পারে সেই পরিবেশ তৈরী করতে হবে।

 

এই সমস্যা আমার আছে; আমি তিন মেয়ের বাবা, ঠিক আছে? আরা আমি অনেকটা রক্ষনশীল বাবা। তাই যখন আমার মেয়ে প্রি-স্কুলে ছিলো, তখন একটা ছেলে তাঁর পাশে বসেছিল। আর সে বাড়ী ফিরে বলেছিল, “হামজা আজকে আমার পাশে বসেছিল আর আমরা একসাথে রঙ করেছিলাম”। আমি বললাম “কী??” আর আমার স্ত্রী আমার দিকে তাকিয়ে বললো “তুমি এখান থেকে যাও, আমি ওর সাথে কথা বলছি” কারণ আমি যদি এখন রাগ দেখায় তাহলে সে বুঝে ফেলবে আমার বাবা হামজার ব্যাপারে কিছু শুনতে পছন্দ করেনা। তাই এর পরে হামজা যদি কোন কিছু বলে বা করে তখন কি আমার মেয়ে সেটা আমাকে বলবে? না। সুতরাং সেটা বলে আমি নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছি।

 

আমাদের এসব ব্যাপার মোকাবেলা করা শিখতে হবে। এর কিছু কৌশল আছে। আমাদেরকে সন্তানদের এসব ব্যাপারে ধৈর্য ধরতে হবে। এটা তাদের দোষ না। আমরাই তাদের সেই স্কুলে পাঠিয়েছি। আমরাই তো তাদের সেই পরিবেশে পাঠিয়েছি। তারা এটা চায়নি। তাই তারা যদি খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় সেটা কাদের কারণে হবে? আমাদের। তাই আমাদের নিজেদেরও এসবের দায়িত্ব নিতে হবে। “তুমি এমন কথা বলতে পারলে?” “তুমি কোত্থেকে এসব শব্দ শিখেছো?” এসব বলেই পার পাওয়া যাবে না। “আরে তোমরাই তো আমাকে এই স্কুলে পাঠিয়েছো, তোমরাই আমাকে এমন অবস্থায় ফেলেছো” “তোমরাই আমাকে ঐ মুভিটা দেখতে দিয়েছো” “তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করো নি যে আমার বন্ধুরা কেমন, তারা কোথায় থাকে, আমরা একসাথে কি করি। তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করো নি, এটা তোমাদের সমস্যা।”

 

তাই আপনার সন্তানদের জন্য কথা বলার দরজা খুলে দিন। দেরি হবার আগেই এটা করুন। অনেক ছেলেমেয়েরা তাদের ঘর ছেড়ে চলে গেছে। আমাদের অনেক মেয়েরা তাদের বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে গেছে। অনেক। অনেক। আমি জানি এসব শুনতে খুপ খারাপ লাগে, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। আমাদের এর মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের অনেক ছেলেদের অন্যের সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে। এটা পুরো অসুস্থ বাস্তবতা। শুধু কাঁদলেই চলবে না, আমাদের এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।

 

তাই প্রথম কাজ হল সন্তানদের জন্য কথা বলার দ্বার খোলা রাখা।

 

দ্বিতীয় ব্যাপারটা টিনেজ ছেলেমেয়ের জন্য।

 

আর এখানে আমি ইয়াকুব (আঃ) এর উদাহরণ দেবো। তিনি একজন অসাধারণ নবী। তাঁর ছেলেরা কি কোন অন্যায় কাজ করেছিল? হ্যাঁ। সেটা কি, কারো মনে আছে? তারা তাদের ভাইকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, বনের মধ্যে গিয়ে তাকে কুয়ায় ফেলে দিয়েছিল আর নকল রক্ত মাখা জামা নিয়ে এসেছিল।

 

ইয়াকুব (আঃ) কি বুঝতে পারেননি যে তারা মিথ্যে বলছিল? আচ্ছা এই হল অবস্থা। এখানে কয়েকজন তরুন ছেলে আছে, একজন পিতা আছে। তিনি জানেন যে তাঁর ছেলেরা খুব খারাপ কিছু করেছে। তিনি কী বলেছিলেন, “বদমাইশের দল! এক্ষুনি তাকে নিয়ে আসো!”আপনি কি তাকে এমন কিছু বলতে দেখেছেন? আপনি কী দেখলেন? ‘ফা সাবরুন জামিল’ (অনুপম ধৈর্য) আমি যখন তাঁর এমন সাড়া দেখি তখন ভাবি “তিনি কেমন পিতা ছিলেন! তিনি তাদের বকলেন না, ধমক দিলেন না।”

 

কেন জানেন? কারণ তিনি একজন জিনিয়াস পিতা ছিলেন। একজন সচেতন পিতা জানেন যে কোন বয়স পর্যন্ত সন্তানদের উপদেশ দেয়া যায় আর কোন বয়সে তারা স্বাধীন হয়ে যায় যখন তাদের কিছু বললেও তারা শুনবে না। তিনি জানেন। সেই অবস্থায় আপনি কী করতে পারেন? সাবরুন জামিল। এটুকুই করতে পারেন। সময় আগেই পার হয়ে গেছে। তাই আপনার দায়িত্ব হল এর আগেই তাদের প্রতি খেয়াল রাখা। এখন তারা যদি সেই বয়স পার করেই ফেলে, তখন আপনি সর্বোচ্চ যা করতে পারেন তা হল তাদেরকে ভালো সঙ্গীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া।

 

আর মুসলিম তরুণদের সংস্থাগুলোকে উৎসাহ দিন। এরাই আমাদের সন্তানদেরকে দাওয়াহ দেওয়ার হাতিয়ার। আমরা তাদের সাহায্য না করলে তারাও হারিয়ে যাবে। আপাতত ফিকহের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন। তারাবিহ ৮ রাকাত হোক বা ২০ রাকাত, আপনার সন্তান এসবকে পাত্তা দেয়না। অবস্থার উন্নতি হলে তখন সেগুলো নিয়েও আলোচনা করা যাবে। এখন সময় ভালো যাচ্ছেনা। আমাদের সন্তানেরা আর বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এটাকেই অগ্রাধিকার দিন।

  নুমান আলী খানের এই লেকচার টি অনুবাদ করেছেনঃ ইফাত

লেকচারটির ইউটিউব লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=hWymBJ9XpxA

পরিবর্তন করুন নিজের চিন্তা পদ্ধতি

145_bra

সিবিটি তথা ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ারেল থেরাপি’ নামের সেলফ-হেলপ টেকনিক অর্থাৎ নিজে নিজে প্রয়োগ করার কৌশল কাজে লাগিয়ে অর্থহীন চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তন করা যায়। এটি নজর দেয় ‘here and now’ সমস্যার ওপর। এবং এর তাগিদ আপনার বর্তমান মনের অবস্থা উন্নয়নের ওপর। যদিও এর প্রতিশ্রুতি শারীরিক অসুস্থতা দূর করা, তবুও এটি বেশি পরিচিত মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা চিকিৎসার জন্য, বিশেষ করে ডিপ্রেশন তথা বিষন্নতা দূর করার জন্য। অর্থহীন চিন্তা স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর। অার তা দূর করতে নিজে নিজে এসব চিন্তা দূর করার কেৌশল রপ্ত করতে হবে।

নেগেটিভ ক্যালোরি নিয়ে বিভ্রান্তি

গোশত দিয়ে তৈরি একটি বার্গারে কয়েকটি সেলারি স্টিক বা শাকডাঁটা যোগ করে কি এ থেকে ক্যালোরি কমানো যায়? বড় এক প্লেট নুড্ল্সের সাথে বেশি করে সালাদ খেলেই কি চর্র্বি কমিয়ে দিতে পারে? আহা যদি তেমনটি সত্যি হতো, তাহলে ভালোই হতো। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই সমীক্ষায় অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবকদের খুব স্বাস্থ্যপ্রদ খাবার না দিলেও তাদের শরীরে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে গেছে।

সমীক্ষায় অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে যারা তাদের ওজন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তাদের ক্যালোরির হিসাবে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তারা ধরে নিয়েছিলেন এক থালা সালাদে রয়েছে ৬২৩ ক্যালোরি এবং একটি বার্গারে রয়েছে ১১৫ ক্যালোরি, যখন এর সাথে ছিল সেলারি স্টিক বা শাকডাঁটাও। এই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রণেতা আলেক্সান্ডার চেরনেভ বলেন, খাবারকে ভালো কিংবা মন্দ বিবেচনা করা পথ্য গ্রহণকারীকে এ ব্যাপারে বিপথগামী করে তুলতে পারে যে তারা কতটুকু খাবার খাবেন।

প্রযুক্তি জেনে সমাধান
প্রযুক্তিজানা মানুষ তথা টেক-সেভি পিপল স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর যেমন আরো ভালো উপায়ে নজর রাখতে পারেন, ঠিক তেমন সুস্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণও করতে পারেন। যাদের টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে, তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে অব্যাহত ব্লাডসুগার পরীক্ষা করা। ব্লাডসুগারের মাত্রা যাতে নিরাপদসীমা না পার হয়, সে জন্য এদের অনেকেই দিনে চারবার কিংবা তার চেয়েও বেশিবার ব্লাডসুগার চেক করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি সিজিএম তথা ‘কনটিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর’ চামড়ার ঠিক নিচে ঢুকিয়ে দিলে তা প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর গড় গ্লুকোজ মাত্রা রেকর্ড করে। এটি এ ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি। এর ফলে পুরনো আমলের ফিঙ্গার-প্রিক টেস্টিংয়ের আর দরকার হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের জুবিনাইল ডায়াবেটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব লোক সিজিএম ব্যবহার করেছেন তারা ফিঙ্গার-প্রিক টেস্টিংয়ের ওপর নির্ভরশীলদের তুলনায় প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সময় বেশি খরচ করেছেন ব্লাডসুগার মাত্রা টার্গেট করার জন্য। এই ফাউন্ডেশনের অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, ইনসুলিন পাম্পিং থেরাপির পাশাপাশি সিজিএম ব্যবহার করে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বিভিন্ন কেন্দ্রের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস ওয়ান রোগীরা মাল্টিপল ডেইলি ইনসুলিন ইনজেকশন ব্যবহারকারীদের তুলনায় আরো ভালো উপায়ে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে একটি সেন্সর-অগমেন্টেড ইনসুলিন পাম্প ব্যবহার করে। এই ব্লাডগ্লুকোজ লেভেলের উন্নয়ন ঘটেছে হাইপোগ্লাইকেমিয়ার হার না বাড়িয়েই।

রাজধানীতে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

images (1)

হাতের মেহেদি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই লাশ হতে হলো গৃহবধু কে! নতুন জীবন শুরু হতে না হতেই একে বারেই নিভে গেলো জীবন প্রদীপ! রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে ইসরাত জাহান ওরফে নিপা (১৯) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিয়ের দুই মাস পর এ ঘটনা ঘটল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, খবর পেয়ে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুরের মুন্সিরোড এলাকার একটি বাড়ির চারতলা বাসার দরজা ভেঙে ইসরাতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল।
লাশ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইসরাতের স্বামী শহীদুল্লাহ ইতালিপ্রবাসী। দক্ষিণখানের বাসায় ইসরাতের শ্বশুর-শাশুড়ি ও এক দেবর থাকেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, গত রোববার রাত ১২টার দিকে খাওয়া-দাওয়া করে ইসরাত তাঁর কক্ষে ঘুমাতে যান। গতকাল অনেক বেলা হলেও ঘুম থেকে না ওঠায় তাঁরা দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখেন, ভেতর থেকে বন্ধ। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এসআই বলেন, লাশের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ইসরাত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কারণ জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মর্গে ইসরাতের বাবা মো. ইউসুফ জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরের ফরহাদ নগরে। ইসরাত ফেনী সদরের একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ফেনী সদরের বাসিন্দা শহীদুল্লাহর সঙ্গে দুই মাস আগে বিয়ে হয় ইসরাতের। এর পর থেকে ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কিছুদিন আগে ইতালি চলে যান শহীদুল্লাহ।
ইউসুফ বলেন, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে বিয়ে হলেও কিছুদিন পর অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা বিয়ে মেনে নেন। এরপর ইসরাত তাঁর মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতেন। প্রায় সময় ইসরাত মায়ের কাছে শাশুড়ির মানসিক নির্যাতনের কথা বলতেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই সাইফুর বলেন, মানসিক নির্যাতনের বিষয়ে ইসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তে সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষন,অভিযোগ করলেও আমলে নেয়নি পুলিশ!

1402155849.

মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে মেয়েটি। সুমন নামে এক বখাটে তাকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। দিয়েছিল অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকিও। মেয়েটির মা অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরে তারা বাসা বদল করে অন্য পাড়ায় চলে যায়। সেই বাসা খুঁজে বের করে মেয়েটিকে কৌশলে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ধর্ষণ করে এবং লুকিয়ে রাখে বখাটে সুমন। পুলিশ নয়, পাঁচ দিন পর পরিবারই পাশের উপজেলা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। 
মেয়েটির গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায়। তারা থাকে শহরের একটি ভাড়া বাসায়। গত মঙ্গলবার তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরে মেয়েটির মা বাদী হয়ে শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের নিশ্চিন্তপুর মহল্লার মো. সুমন, বসিরপাড়ার সোহেল রানা ও বাজারপাড়ার নাদিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাতেই বসিরপাড়ার একটি মেস থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে।
শনিবার রাতেই মেয়েটিকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তার শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ খুরশীদ জাহান হক বলেন, মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন হয়েছে। রক্তক্ষরণে শারীরিকভাবে দুর্বল ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে সে। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
গতকাল বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক জুলফিকার আলী খান মেয়েটির জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। মেয়েটির (১৩) বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সুমন তার দুই সহযোগী সোহেল ও নাদিমকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে তাদের ভাড়া বাসার সামনে যায়। কৌশলে তাকে বাসার বাইরে ডেকে এনে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে বসিরপাড়ার একটি মেসে নিয়ে যায়। সেখানে হাত-পা বেঁধে সুমন ও তার দুই সহযোগী তাকে ধর্ষণ করে।
অসুস্থ হয়ে পড়লে বখাটেরা বুধবার সকালে মেয়েটিকে পীরগঞ্জের লোহাগাড়ায় সুমনদের আত্মীয় জবেদ আলীর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
মেয়েটির মা জানান, বখাটে সুমন তাঁর মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। সম্প্রতি সে তাঁর মেয়ের হাতে দুই হাজার টাকা গুঁজে দিয়ে একটি মুঠোফোন সেট কিনে নিতে বলে। কিন্তু মেয়ে টাকা নিতে রাজি না হলে সুমন অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।
এই মা জানান, মেয়ে বাসায় এসে বলার পর তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রথমে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে চান। কিন্তু পড়ালেখার কথা চিন্তা করে দ্রুত বাসা বদল করে অন্য পাড়ায় চলে যান। ঈদের ছুটির পর সুমন সেই বাসাও খুঁজে বের করে আবার উত্ত্যক্ত করা শুরু করে।
গত শনিবার রাতে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নানের উপস্থিতিতে মেয়েটির মা দাবি করেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি নিজেই আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে সন্ধানে নামেন। কারণ, এর আগে সুমনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ নিয়ে এলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মেয়েটির মা জানান, বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর একটা ঘটনার সূত্র ধরে তিনি শনিবার সন্ধ্যায় পীরগঞ্জের লোহাগাড়া গ্রাম থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন এবং থানায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে নেওয়া হয় হাসপাতালে।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মেহেদী হাসান স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুচরিতা দেব জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁরা মেয়েটিকে সব ধরনের সহায়তা দেবেন।