banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

সঠিক ভাবে পোষাকের রঙ নির্বাচন

aj_Eid

ফ্যাশনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে পোশাকের রঙ। পোশাকের রঙ নির্বাচন সঠিক হলে ফ্যাশন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফ্যাশন সচেতন প্রতিটি ব্যক্তি পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে রঙ নির্বাচনে তত্পর। পোশাকের রঙ সঠিক হলে নিজেকে মানানসই করে ফুটিয়ে তোলা সহজ হয়ে পড়ে। রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবহাওয়া একটি বিবেচ্য বিষয়। সব মিলিয়ে পোশাকে রঙ এর ছটা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে।

প্রতিটি রঙের একটি নিজস্ব ভাষা আছে এবং যা শরীর ও মনের উপর প্রভাব রাখে। লাল রং শক্তি, কর্মোদ্যোগ এবং পরিবর্তনের প্রতীক। আনন্দ ও সুখের রং কমলা। নিরপেক্ষতা-নির্লিপ্ততা এবং বুদ্ধির রং হলুদ। সবুজ রং ঐক্য, সমবেদনা এবং প্রশান্তির প্রতীক। শান্তির রং নীল। আসমানি রং কল্পনা এবং অনুমানশক্তি বৃদ্ধি করে। বেগুনী রং অনুভূতিশীল এবং শিল্পমনা হতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। প্রতিটি রঙেরই আলাদা আলাদা আবেদন রয়েছে। পোশাকের ক্ষেত্রে রঙের নির্বাচন তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ঋতু বৈচিত্রের উপর রং নির্বাচন করা হয়ে থাকে।

শীতকালে লাল, হলুদ, উজ্জ্বল সবুজ অথবা নীল রং। গরমকালে হালকা গোলাপি, নীল রং। বর্ষাকালে হালকা কাপড়ের গাঢ় রং। বসন্তে গোলাপি, হলুদ, আকাশী অথবা হালকা সবুজ রং ব্যবহার করুন। এছাড়া গায়ের রঙের উপরও রং নির্বাচন করা হয়ে থাকে। যাদের গায়ের রং কালো তারা সবসময় গাঢ় রং এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। ফর্সাদের ক্ষেত্রে অবশ্য সব রঙই মানানসই। তাদেরকে যেকোনো গাঢ় রঙেই বেশি মানাবে। এছাড়া রাতের কোনো উত্সবে যেতে হলে অবশ্যই গাঢ় রং এবং দিনের বেলা হালকা রং আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক হবে। আপনাকে অবশ্যই হাল-ফ্যাশনের দিকে লক্ষ রেখে পোশাক নির্বাচন করতে হবে। তবে সেই সঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে পোশাক যেন আপনাকে সমালোচিত না করতে পারে। আমাদের দেশে সচরাচর যে সকল বর্ণের রং ব্যবহার করতে লক্ষ করা যায় গরমের সময় তার কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটে। এই ব্যতিক্রম মূলত অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার জন্য। আমরা গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন সময় ও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক পরিধান করি। সেসব পোশাকের রং বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে। তবে এ সময় কখনও কখনও ক্ষেত্রবিশেষে পোশাকের রং নির্বাচন করি। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই পোশাকের রং হিসেবে প্রথম পছন্দ আরামদায়ক রং। আসুন জেনে নিই কোন অবস্থায় কেমন রং আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে।

ফ্যামিলি পার্টিতে

পার্টির পোশাক তুলনামূলক গর্জিয়াস হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পোশাকের রং উজ্জ্বল বর্ণের হলেই ভালো। তবে গরমের সময় রাতের বেলায় আবহাওয়া কিছুটা শীতল থাকে। সে সময় পোশাকের রং হাল্কা উজ্জ্বল হলে ততটা সমস্যাদায়ক হয়ে ওঠে না। ফ্যামিলি পার্টিতে গাঢ় বর্ণের পোশাক পরিধান স্বস্তিদায়ক এবং বেশ আকর্ষণীয় হয়। হাল্কা মেরুন, গাঢ় স্কাই, মেজেন্ডা, সিলভার, বলটপ গ্রিন, গাঢ় গোলাপি, মাটি বর্ণের রং এ ধরনের পার্টির পোশাকে ব্যবহার করা যেতে পারে; যা পরিধানে আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং মানানসই হবে।

বেড়াতে যাবার সময়

বেড়াতে গেলে সাধারণত বেশ কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করতে হয়। দীর্ঘভ্রমণ ও ভিন্ন আবহাওয়া তখন বেশ ক্লান্ত করে তোলে। তাই এ ক্ষেত্রে আরামদায়ক রঙের পোশাক পরিধান বেশ কার্যকর। যার ফলে স্বতস্ফূর্তভাবে বেড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া বেশ গরম থাকায় মানানসই ও হাল্কা বর্ণের পোশাক পরিধান বেশ প্রাণবন্ত করে তুলবে আপনাকে।

অফিসের ক্ষেত্রে

সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অফিসে তুমুল কর্মব্যস্ত থাকতে হয়। আর গরমে মানুষ এই কর্মব্যস্ততার মধ্যে হাঁপিয়ে ওঠে। এ সময়টুকু যদি আরামদায়ক রঙের পোশাক পরিধান করা না হয়, তাহলে গরম আবহাওয়া প্রচণ্ডভাবে দেহ ও মনকে বিধ্বস্ত করে তুলবে। আবহাওয়ার প্রতি লক্ষ রেখে অফিসের পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাদা, পেস্ট, অ্যাশ, লাইট স্কাই, ঘিয়ে, মিষ্টি গোলাপি ইত্যাদি রং প্রাধান্য দিতে হবে। বিশেষ করে হাল্কা বর্ণের পোশাক পরিধানে সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তিতে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দেয়। অফিশিয়াল পোশাকের ক্ষেত্রে ফুল স্লিভ শার্ট, থ্রি-পিস ইত্যাদি ব্যবহার করতে হয়। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের হাল্কা বর্ণের পোশাক বেশ মানানসই করে তোলে।

ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে

সাধারণত ক্যাম্পাসের পোশাক হিসেবে অধিকাংশ ছাত্ররা শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট এবং ছাত্রীরা থ্রি-পিস পরিধান করে থাকে। দীর্ঘক্ষণ ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হয় তাদের। সাধারণত অধিকাংশ ক্যাম্পাসের ক্লাস হয় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। গ্রীষ্মকালে এ সময় প্রচণ্ড তাপদাহ থাকে। তাই গরম আবহাওয়া সবাইকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পোশাকের রং নির্বাচন অতি জরুরি। হাল্কা বর্ণের পোশাক পরিধানে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়। হাল্কা সবুজ, সাদা, অ্যাশ, হলুদ, গোলাপি, ঘিয়ে, কলাপাতা বর্ণের পোশাক পরিধান করলে গরম আবহাওয়ায় বেশ প্রফুল্ল মনে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা যায়। হাল্কা বর্ণের পোশাকের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম থাকায় গরম আবহাওয়ায় দেহকে বেশ শীতল রাখে। তাই হাল্কা বর্ণের পোশাক গ্রীষ্মকালে পরা তাই বেশ আরামদায়ক।

আড্ডার ক্ষেত্রে

তরুণ প্রজন্ম মানেই আড্ডাপ্রিয়। এ সময় বিভিন্ন সাম্প্রতিক ও শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে তারা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বিকেল বা সন্ধ্যায় আড্ডায় মেতে ওঠে। এ সময় আবহাওয়ায় কিছুটা ঠাণ্ডা পরিলক্ষিত হয়। আবহাওয়ায় গরম না থাকায় পোশাক পরিধানে তেমন সমস্যা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণদের আড্ডার সময় হাফ স্লিভ টি-শার্ট পরিধান করতে লক্ষ করা যায়। এ সকল টি-শার্টের রং হয় সাধারণত হোয়াইট, পেস্ট, পেক্টোল, ক্রিম, বিস্কিট, সিলভার, ফিরোজা, হলুদ, হাল্কা সবুজ। বিকেল ও সন্ধ্যায় আড্ডার সময় এ সকল রঙের হাফ স্লিভ টি-শার্ট পরিধানে নিজেকে বেশ প্রাণবন্ত ও উত্ফুল্ল ভাবে উপস্থাপন করা যায়। যা আড্ডাকেও বেশ আনন্দঘন করে তোলে।

আরো কিছু টিপস

 আপানার গায়ের রং, উচ্চতা, ওজন সবকিছুর সাথে মিলিয়েই পোশাক নির্বাচন করুন।

 অনেকের থাই মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে টাইট সালোয়ার না পরে, সেমি ফিট বা ঢোলা সালোয়ার পরা উচিত। তাদের লেগিংস এড়িয়ে চলাই ভালো।

 অনেকের হাত শুধু মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে ছোট হাতার পোশাক না পরে কোয়ার্টার বা লং হাতার পোশাক পরা উচিত।

 মোটা হলে শাড়িতে কুচি একটু কম দিতে হবে, আঁচল বড় রাখতে হবে। চিকন হলে কুচি বেশি দিতে হবে।

 ব্লাউজের ক্ষেত্রে যারা মোটা, তারা ছোট প্রিন্টের বা চেকের স্ট্রেইট কাটের থ্রিকোয়ার্টার ব্লাউজ পরতে পারেন।

 যাদের কাঁধ চওড়া তারা ভি শেপের গলা দিতে পারেন। এতে চওড়া কম দেখাবে। পোশাক আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং আপনি হয়ে উঠবেন নিজ ভুবনে অনন্য।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

পিডোফেলিয়া, পর্নোগ্রাফি ও শিশু পর্নোগ্রাফি আইন

কোন সংবাদটি আমাদের পীড়িত করছে বেশি? বাংলাদেশে শিশুপর্নো-বাণিজ্য? নাকি একজন শিশুসাহিত্যিক টিপু কিবরিয়ার শিশুপর্নো-বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতা? কোনো সন্দেহ নেই দ্বিতীয় খবরটি আমাদের ভয়াবহ নাড়া দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ পর্নোগ্রাফিমুক্ত, এমন ধারণা কারও থাকলে তাকে অসচেতন নাগরিক বলা চলে। একটা বুলেট প্রশ্ন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও। সব সংবাদেই এসেছে, ইন্টারপোলের রিপোর্টের পরই বাংলাদেশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে এবং টিপু কিবরিয়াকে তার শিশুপর্নো উৎপাদন ডেরায় হাতেনাতে আটক করে।

আশ্চর্যজনক হল, এদেশে শিশুপর্নোর পেশাদার চক্র আছে, এদেশ থেকেই শিশুপর্নো পাচার হচ্ছে, এদেশের শিশুদের পর্নোগ্রাফি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে সজাগ-সক্রিয় নয় কেন?

বিকারগ্রস্ত যৌনতায় শিশুদের অপব্যবহার নতুন কিছু নয়। যেমন, বিলুপ্ত ঘেটুদলের, বিশেষত বালকদের যৌননিপীড়ন করা হত। যখন অনলাইন প্রযুক্তিনির্ভরতা ছিল না, তখন সিনেমা হলে ‘কাটপিস’ জুড়ে পর্নোগ্রাফি চলেছে। টু-জি প্রযুক্তি বিস্তারকালে উপযুক্ত আইনি কাঠামো না থাকায় সাইবার ক্যাফে, মোবাইল ফোন, অনলাইন সাইটে পর্নোগ্রাফি ছড়াতে থাকে দুষ্টক্ষতের মতো। এর ধরন দুটো– অ্যামেচার পর্নোগ্রাফি ও পর্নোগ্রাফি সিন্ডিকেট। অ্যামেচার পর্নোগ্রাফিতে নারীর অসম্মতিতে মোবাইলে, গোপনে ধারণকৃত ভিডিও আপলোড করে নারীর পারিবারিক-সামাজিক অবস্থান হেয় করার চেষ্টা থাকে। পর্নোগ্রাফি সিন্ডিকেট মূলত শক্তিশালী পর্নোগ্রাফি বাণিজ্যচক্র।

rape victim - 2

ধরণ যাই হোক না কেন, যৌনবিকারগ্রস্ত ব্যক্তিরা সহজেই এসব অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে– পর্নো ভোক্তা হিসেবে, পর্নোব্যবসায়ী হিসেবে। গুগলে ‘বাংলায়’ অনেক ধরনের কী-ওয়ার্ড খুঁজতে গেলে যে ধরনের সার্চ রেজাল্ট আসে তা বিব্রতকর। পর্নোর লিখিত (বাংলায়) সংস্করণ যাকে ‘চটি’ বলা হয় তা অনলাইনে মহামারির মতো বিস্তৃত। ফেক্সিলোডের মতো মোবাইলে পর্নোগ্রাফি লোড করে নেওয়া যায়।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলাজনিত সংবাদগুলোতে বহুবার উঠে এসেছে স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা। পরিণতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েদের বেছে নিতে হয়েছে আত্মহননের পথ। গ্রামাঞ্চলে ও শ্রমিক শ্রেণির বিনোদনে পর্নো সহজ্যলভ্য হয়ে যাওয়ায় পর্নো-আসক্ত কমিউনিটি গড়ে উঠছে ক্রমাগত।

শিশুরাও এই আসক্তিমুক্ত নয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যম গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়ংকর পরিসংখ্যান। ৮২ শতাংশ শিশু মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখে থাকে। ক্লাসের মাঝে মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখে শতকরা ৬২ জন শিশু। পর্নোগ্রাফি আসক্তি উঠতি বয়সের এই শিশুদের মানসিক ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটাবে তো বটেই, অনুসন্ধিৎসু আচরণ এদের ‘ভিকটিম’ হওয়ার পথ করবে সুগম।

সুনির্দিষ্টভাবে শিশুদের সঙ্গে যৌনাচার প্রসঙ্গে মেডিকেল সায়েন্স পিডোফেলিয়া (Paedophilia) টার্মটি ব্যবহার করে থাকে। পিডোফেলিয়া হচ্ছে শিশুদের প্রতি তীব্র যৌনমনোকাঙ্ক্ষা, যা অবশ্যই মানসিক বিকারগ্রস্ততা। যারা পিডোফাইল (Paedophile), তারা চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইট ছাড়াও ফেসবুকে শিশুদের প্রোফাইল, ছবি থেকে তাদের পরবর্তী শিকার বেছে নেয়। মিশ্র চরিত্রের পিডোফাইল বয়স্ক এবং শিশু উভয়ের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে থাকলেও, এমন পিডোফাইল আছে যারা কেবলমাত্র শিশুদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে আগ্রহী হয়।

বস্তুত শিশুরা পিডোফাইল দ্বারা যৌননির্যাতনের (Child molestation) শিকার হয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলে, আপনার প্রতিবেশিটিও একজন পিডোফাইল হতে পারে। ছেলেশিশু এবং মেয়েশিশু উভয়েই পিডোফাইল দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ২০০৩ সালে ব্রিটিশ পুলিশের একটি বিশেষ দল জানিয়েছিল, তারা মাত্র ৪ সপ্তাহে ১০০ জনকে শিশুপর্নোগ্রাফি ডাউনলোডকালে গ্রেপ্তার করেছে। মুম্বাইতে এক সুইস দম্পতি পুলিশ কর্তৃক ধৃত হয়, যারা বস্তির ছেলেমেয়েদের আপত্তিকর ভঙ্গিমায় ছবি তুলতে বাধ্য করত। এ সব ছবি বিশেষত পিডোফাইলদের জন্য তৈরি পর্নোসাইটগুলোতে প্রকাশিত হত।

ব্রিটেনের আইনি ইতিহাসে অপারেশন ওরে (Operation Ore) কে সর্ববৃহৎ অপরাধ তদন্ত বলে গণ্য করা হয়। এই তদন্তে অসংখ্য ক্রেডিট কার্ড চিহ্নিত হয়েছিল, যেগুলো শিশুপর্নোগ্রাফি ক্রয়ে ব্যবহৃত হত। এই তদন্তে সন্দেহভাজন তালিকায় পুলিশ অফিসার, ডাক্তার, সেলিব্রেটিরাও ছিল। ২০১২-২০১৩ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি তদন্ত টিম ২৫ থেকে ৭২ বছর বয়সী ৩৮৪ জন অপরাধীকে আটক করে যাদের মধ্যে ডাক্তার, নার্স, এমনকি যাজকও ছিল। সাড়ে তিন লাখ স্থিরচিত্র এবং ৯০০০ ভিডিওচিত্র জব্দ করা হয় তদন্তে। ভারতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির আর্মি অফিসারও চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে জড়িত থাকায় ধৃত হয়।

শিশু পর্নোগ্রাফির দ্রুত বিস্তার জাপানকে নাজুক পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে। ২০১০ সালে জাপানে শিশুপর্নোগ্রাফির হার ছিল ৪০ শতাংশ। ইইউ-এর জরিপ মতে, ২০০৮ সালে ১০০০ বাণিজ্যিক ও ৫০০ অবাণিজ্যিক শিশুপর্নো সাইট চিহ্নিত করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় বিকারগ্রস্তরা যৌনবৈচিত্র্য খুঁজে নিচ্ছে পর্নোসাইটগুলোতে। শিশুপর্নো বা চাইল্ড পর্নোগ্রাফি নিয়ে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট এভাবে তাদের নেটওয়ার্ক প্রসারিত করছে।

আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্তে পিডোফাইল, পর্নোগ্রাফি, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, পর্নোগ্রাফি আইন নিয়ে নানাবিধ কেসস্টাডি, পরিসংখ্যান, মন্তব্য, সরকারি উদ্যোগ চোখে পড়ে। বাংলাদেশে পিডোফাইল সংক্রান্ত একাডেমিক গবেষণা সমৃদ্ধ নয়, এটা অনলাইন ঘাঁটলে বোঝা যায়। শিশু পর্নোগ্রাফি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায় না।

একটি জাতীয় দৈনিকে ২০১১ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, বাংলাদেশে ৬.৬ শতাংশ ছেলেশিশু এবং ১৫.৩ শতাংশ মেয়েশিশু যৌননিপীড়নের শিকার হয় বন্ধু, শিক্ষক, আত্মীয়, পরিচিতজন কর্তৃক। আশংকার বিষয় হল, অধিকাংশ ঘটনা থানা-পুলিশ পর্যন্ত নথিভুক্ত হয় না।

সরকারি ওয়েবসাইট থেকে (নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫) শিশুনির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, যা মূলত জাতীয় দৈনিকগুলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের সংকলন, কোনো সরকারি জরিপ নয়। নিচের চিত্রে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের ‘শিশু’ কলামগুলোতে শিশুনিপীড়ন পরিসংখ্যান রয়েছে। শিশুনিপীড়নের পাঁচটি প্রকরণের মধ্যে প্রথম চারটিই শিশুর উপর শারীরিক ও যৌন আক্রমণজনিত।

Chart

দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ ভাগ শিশু। এদের শৈশব-কৈশোরের নির্মলতা রক্ষা করা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের দেশে প্রচলিত ধারণা আছেই, দেশে আইন আছে বাস্তবায়ন নেই। কিছু আনুষ্ঠানিক নীতিমালা, আইন, সনদে শিশুদের নিয়ে তৎপরতা দেখা গেলেও বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অজ্ঞতা রয়েছে। এক নজরে নিচের তালিকা থেকে জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশে শিশুদের জন্য কী ধরনের আইন, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম রয়েছে।

– শিশু আইন, ২০১৩

– জাতীয় শিশু নীতি ২০১১

– নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫

– জাতীয় শিশুশ্রম নীতি-২০১০

– নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল

– শিশু আদালত

– নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০

সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ এ শারীরিক নির্যাতনের বিবরণে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শরীরের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যৌনহয়রানির তালিকায় রয়েছে পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন এবং স্থির অথবা ভিডিওচিত্র ধারণ। পর্নোগ্রাফি, মোবাইলে পর্নো ছবি ধারণ প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ বিধায় প্রযুক্তি আইন বা সাইবার আইনের শাখায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে। কিন্তু এতে যে পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধি পাবে তা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতি কী? দুটো আইন উল্লেখ করতে হয়–

– পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২

– তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬

তথ্য ও প্রযুক্তি (সংশোধিত) আইন ২০১৩

আমেরিকায় ফেডারেল আইনের আওতায় চাইল্ড পর্নোগ্রাফি আইনকে আনা হয়েছে। জার্মানি দ্রুততার সঙ্গে আইন প্রণয়ন করে শিশু পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০০৯ সালে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনে কেবল শিশু পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও প্রচারই নয়, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট দেখাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ‘নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধকল্পে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে’ প্রণীত পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এ দণ্ডবিধির ৮(৬) ধারায় শিশু পর্নোগ্রাফি বিষয়ক শাস্তি বর্ণিত রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে পর্নোগ্রাফি ও চা্ইল্ড পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিধি যুক্ত নেই। প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে, অপরাধ-অপরাধী শনাক্তকরণ, তদন্ত প্রক্রিয়া, বিচার প্রক্রিয়া, ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিতে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি নিয়ে সয়ংসম্পূর্ণ আইন প্রস্তাব-প্রণয়ন-বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আবেদন জানাই ।

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায়, অপরাধীরাও আধুনিক পদ্ধতিতে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ পায়। অনেক ক্ষেত্রেই ‘অ্যানোনিমিটি’ রক্ষার্থে টর নেটওয়ার্কের (Tor network) আওতায় চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলো পরিচালিত হয়। তাই সরকারকে উন্নত প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে। পর্নোগ্রাফির এই ক্যান্সার সমাজকে আরও অসুস্থ করার পূর্বেই আন্তর্জাতিক কেস স্টাডির পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে গৃহিত বৈশ্বিক ব্যবস্থাগুলোর মডেল অনুসরণ করা সরকারের অবশ্য করণীয়। সরকারের আশু যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা হল–

(১) সাইবার ফরেনসিক ল্যাব গঠন। সন্দেহভাজন ‘আইপি বা সার্ভার অ্যাকটিভিটি’ পর্যবেক্ষণ করতে উন্নত ‘সিসটেম বা সফটওয়্যার’ দরকার। এ ধরনের ল্যাবে সাইবার অপরাধের ‘ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস’ করা সহজ হবে।

(২) শিশু পর্নোগ্রাফি সম্বলিত সাইট আটকে (Block) দিতে আইএসপি (Internet Service Provider) গুলোকে নির্দেশ প্রদান।

(৩) সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শিশু পর্নোগ্রাফি, পিডোফেলিয়া বিষয়ে গবেষণা ও পরিসংখ্যান প্রস্তুতকরণ।

(৪) ১৮ বছরের পূর্ব পর্যন্ত শিশুদের মোবাইল, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধায়ন নিশ্চিত করা।

(৫) শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে বিশেষ টিম গঠন এবং এ ধরনের টিমে শিক্ষক ও মনোচিকিৎসক অন্তর্ভূক্তিকরণ।

(৬) গুগল সার্চ বক্সে যে শব্দ লিখলে শিশু পর্নোগ্রাফির লিংক, ভিডিও বা অবৈধ কোনো ওয়েবসাইটে চলে যাওয়া সম্ভব এ ধরনের ১৫০ ভাষার এক লাখ সার্চ শব্দকে সরিয়ে ফেলার কথা জানিয়েছিল গুগল। ধারণা করা হয়, এর বাস্তবায়নে শিশু পর্নোগ্রাফি বিক্রেতাদের ব্যবসা ৩০ শতাংশ কমে যাবে। বাংলা ভাষায় পর্নোগ্রাফি সাইট সার্চ রোধে গুগলের সহায়তা নিতে প্রস্তাব করা যেতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে।

(৭) শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে ব্রিটেন-আমেরিকা জোটবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেরও দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক পর্যায়ে এবং অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের জোটে শরিক হওয়া আবশ্যক।

(৮) সাইবার জগৎ একটি সীমানাহীন বিশ্ব। সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি চক্র প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট নির্ভর হওয়ায়, এর পরিচালনা, বিস্তার, প্রভাব, ক্ষতি পৃথিবীর যে কোনো স্থানে হতে পারে। তাই সরকারকে মূলত কাজ করতে হবে ‘ক্রস-বর্ডার সাইবার ল’ (Cross Border Cyber Laws) গঠনে।

(৯) সামাজিক, মানসিক সুস্থ বিকাশ ব্যতীত অপরাধ প্রবণতা বাড়তেই থাকবে। সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার স্লোগানের পাশাপাশি ‘সাইবার ইথিকস’ নিয়ে সচেতনতা গঠন আবশ্যক।

(১০) বাংলাদেশও যোগ দিক ইউনিসেফ (জাপান)-এর ‘নো’ (No) ক্যাম্পেইনে। আমরাও সচেতন স্লোগান তুলি, শিশু পর্নোগ্রাফিকে ‘না’ বলুন [Say ‘No’ to Child Pornography]।

ফিরে আসা যাক পিডোফেলিয়া প্রসঙ্গে। একজন পিডোফাইল নিশ্চিতভাবেই মানসিকভাবে অসুস্থ। শিশুকালের তিক্ত অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ব্যর্থতা– এমন অনেক কারণে এই মানসিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। পিডোফাইলদের চিকিৎসাও হয়। তবে একজন পিডোফাইল কতটা আক্রান্ত তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসা সফলতা। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনি শাস্তি প্রযোজ্য না চিকিৎসা?

একজন কারগার মনোচিকিৎসক (Dr. Mace Knapp, Nevada State Prison Psychologist) বলেছেন, শিশুকে যৌননির্যাতনকারীর আর একজন সিরিয়াল কিলারের ব্যক্তিত্বে একই বৈশিষ্ট বিদ্যমান। একটি মতবাদ আছে, পিডোফাইল মাত্রই একজন শিশুনিপীড়ক, তবে শিশুনিপীড়ক মাত্রেই পিডোফাইল নয়। আইনি কার্যক্রমে অপরাধীর মানসিক অবস্থা চিকিৎসক কর্তৃক পরীক্ষিত হলে এ নিয়ে দ্বিধান্বিত হওয়ার সুযোগ কম।

শিশুকে যৌন নির্যাতনকারীর, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি উৎপাদনকারীর দ্রুত বিচার পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্তি ঘটুক।

আইরিন সুলতানা: ব্লগার।

তথ্যসূত্র:

http://www.bbc.com/news/magazine-20237564

http://www.crisisconnectioninc.org/sexualassault/pedophilia_and_molestation.htm

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=1119

http://www.mowca.gov.bd/wp-content/uploads/Bangla-National-Actional-Plan-2013-2025.pdf

http://www.mowca.gov.bd/wp-content/uploads/Bangla-National-Actional-Plan-2013-2025.pdf

http://www.smh.com.au/national/348-arrested-in-global-child-porn-investigation-20131115-2xke5.html

http://www.thehindu.com/news/army-officer-arrested-for-child-pornography/article424433.ece

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=1091


http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=950

http://zeenews.india.com/news/net-news/us-dismantles-huge-international-child-porn-website_918868.html

http://daffodilvarsity.edu.bd/nccis/pdf/TS2_Paper_05.pdf

http://www.crisisconnectioninc.org/sexualassault/pedophilia_and_molestation.htm

http://www.unicef.org/infobycountry/japan_46426.html

৪০ লাখ রুপীর শাড়ি!!

1413284541Shary

 

মিডিয়া ডেস্ক : বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীতা আম্বানি আইপিএল সিজনের পর আবার সংবাদ শিরোনামে চলে এসেছেন। হবে নাই বা কেন। ভারতীয় ফুটবলের এক অভিনব উদ্যোগ আইএসএল যে তারই ব্রেন চাইল্ড! কিন্তু এই সবের বাইরেও নীতা আম্বানির নাম সংবাদ শিরোনামে অনায়াসেই চলে আসতে পারে।

কেন? কারণ, একটি শাড়ি পরেই তিনি নাম লিখিয়েছেন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ। কীভাবে? বেশ কয়েকদিন আগে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-এর গ্রুপ সিইও পরিমল নাথওয়ানির ছেলের বিয়েতে তিনি যে শাড়িটি পরে গিয়েছিলেন তার মূল্য মাত্র ৪০ লাখ রুপি!

কী এমন আছে সেই শাড়িতে? এই শাড়িটি ডিজাইন করেছেন চেন্নাই সিল্কের ডিরেক্টর শিবালিঙ্গম। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী রাজা রবি বর্মার এগারোটি ছবি এই শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাতে বোনা এই শাড়িটি শেষ করতে এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন ৩৬ জন শিল্পী।

শাড়িটি তৈরি হয়েছে কাঞ্চিপুরমের চেন্নাই সিল্ক মিলের কর্মশালায়। নামটিও খাসা বিবাহ পাতু। ওজনও নেহাত কম নয়! ৮ কেজি ওজনের এই শাড়িটির ব্লাউজে রয়েছে নাথদ্বারার ছবি। এখানেই শেষ, নয়। সোনার সুতোয় বোনা এই শাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন মূল্যবান রত্নও! সূত্র : টাইমস

কাজে সৃজনশীলতা সফলতার গুরুত্বপূর্ণ সোপান

একটা কোম্পানি নতুন সিইও বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। বর্তমান দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্য থেকেই একজনকে সিইও করতে চাচ্ছে কোম্পানিটি। দুজনই স্মার্ট, অভিজ্ঞ ও সম্ভাবনাময়। কোম্পানিতে হঠাৎ বাজেট ঘাটতি দেখা দেওয়ায় একজন তাঁর বিশ্লেষণী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খুঁজে বের করলেন কোথায় কোথায় খরচ কমানো যেতে পারে। আরেকজন হিসাব করে দেখালেন কী কী উপায়ে নতুন সুযোগ তৈরি এবং আয় বাড়ানো সম্ভব। এ অবস্থায় দুজনের কাকে সিইও বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে কোম্পানিটি?

এমন পরিস্থিতিতেই ওই কোম্পানিটি পরামর্শক হিসেবে ডেকেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথের ‘টাক স্কুল অব বিজনেস’-এর কৌশল ও নেতৃত্ববিষয়ক অধ্যাপক সিডনি ফিনকেলস্টাইনকে। পেশাগত জীবনে সৃজনশীল হওয়ার গুরুত্ব বিষয়ে মতামত তুলে ধরতে গিয়ে ‘বিবিসি ক্যাপিটাল’-কে এ ঘটনা জানিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক ও পরামর্শক ফিনকেলস্টাইনের এই লেখা থেকে জেনে নিতে পারেন সৃজনশীলতা কীভাবে পেশা জীবনে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে আর সৃজনশীল হয়ে উঠতে একজন ব্যক্তি কী-ই বা করতে পারেন।

পাঠক নিশ্চয়ই ভাবছেন ওই কোম্পানিটির সিইও বাছাই প্রক্রিয়ায় ফিনকেলস্টাইন কার পক্ষে মত দিয়েছিলেন? তাঁর মুখ থেকেই শুনি বাকি গল্পটাও। ‘দুই প্রার্থীর বিষয়ে কোম্পানিটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ছিল না। কিন্তু আমার বাজি অবশ্যই খরচ কমানোর জন্য কাটছাঁটের পরামর্শ দেওয়া বিশ্লেষক নেতার পক্ষে না গিয়ে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে চাওয়া সৃষ্টিশীল নেতার পক্ষেই ছিল।’

সৃজনশীল মানুষেরাই সৃজন করেন
যেসব কর্মীরা দুই ধরনের নেতার সঙ্গেই কাজ করেছেন তাঁরা সবাই-ই জানেন যে, কাটছাঁট করার চেয়ে নতুন কিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করাটাই অনেক বেশি আনন্দের ও চ্যালেঞ্জের। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টেকসই উন্নয়নের জন্য সৃজনশীলতাই একমাত্র পথ। কাটছাঁট করে সাময়িকভাবে মুনাফা বাড়িয়ে ব্যবসায়ের অংশীদারদের সন্তুষ্ট রাখা যেতে পারে কিন্তু এর চেয়ে বেশি এগোনোর সুযোগ নেই।

কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, তিনি বিশ্লেষণী ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছেন, সৃজনী ক্ষমতা নিয়ে নয়, তাই তাঁর পক্ষে ওই পথে পা বাড়ানোর সুযোগ নেই। অনেকেই এমন ভেবে থাকেন। কিন্তু সৃজনশীলতার চমত্কার গোপন রহস্যটি হলো, এটা শেখা যায়, এটা শিখতে হয়, এটা চর্চা করতে হয়। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই সম্ভাবনা আছে সমস্যা মোকাবিলায় নতুন সব চিন্তা হাজির করার, নতুন ভাবনা হাজির করার, বিশ্বটাকে ভিন্নভাবে দেখার। কিন্তু সাহস করে চেষ্টা শুরু না করলে সেটা বোঝা যাবে না।

সময় দিন, সময় কাজে লাগান
বিষয়টা এমন না যে, আপনি নিজেকে একটা ঘরে আটকে রাখলেন আর কোনো একদিন হঠাৎ অপার সৃজনী ক্ষমতা নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। একটা বিষয় সামনে এলে সেটার পেছনে সময় দিন। বিষয়টা নিয়ে ভাবতে শুরু করুন। ভাবনা যেমন আপনাকে তাড়া করে বেড়াবে, তেমনি আপনিও ভাবনাকে তাড়া দিয়ে বেড়ান। ভাবতে থাকলে কোনো একসময় হঠাৎই সে আপনার কাছে ধরা দেবে। কেউ কেউ আছেন, সকালে আনমনে দাঁত মাজতে মাজতেই ভাবনার জগতের সোনা-রুপার কাঠিটা হাতে পেয়ে যান। কেউ কেউ হয়তো সেটা পান ঘুমোতে যাওয়ার সময় বিছানায় শুয়ে ভাবতে ভাবতেই।

এভাবে হঠাৎ আলোর দেখা পেয়ে গেলে কেউ কেউ কাগজ-কলম হাতে নিয়ে নোট করতে বসে যান সেগুলো টুকে রাখার জন্য। আবার কেউ কেউ মনে করেন, টোকাটুকির পেছনে ছুটতে গিয়ে তাঁদের ভাবনার ঘোরটাই টুটে যেতে পারে। তাই তাঁরা ভাবনাটাকে আপন মনে গড়াতে দেন আর ভাবনার আরও গভীরে ঢুকে যান, বিষয়টি আত্মস্থ করে ফেলেন। কাজের জগত্টাকে সৃজনশীল করতে হলে তা নিয়ে ভাবতে হবে, সময় দিতে হবে।

সহজ কিছু প্রশ্ন দিয়ে শুরু করুন
তাহলে কি আমরা সৃজনশীল হওয়ার ভাবনায় মজে থাকব আর অপেক্ষা করব, কবে সেই সোনার হরিণ ধরা দেবে! মোটেই না। আমাদের চেষ্টা করতে হবে। হাতের সামনে যে কাজ আসবে, তা নিয়েই শুরু করতে হবে। ওই কাজ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নোত্তর দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।

১. কাজটাকে কীভাবে ভিন্নভাবে করা যেতে পারে, ভিন্ন মাত্রা দেওয়া যেতে পারে?
২. এই কাজে আপনার প্রয়োজন মেটানোর জন্য কীভাবে অন্যদের ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়?
৩. আপনার পণ্য বা কাজের মধ্যে আপনি নতুন কি যুক্ত করতে পারছেন?
৪. আপনি কী কী বাদ দিতে পারেন, দূর করতে পারেন?
৫. নতুন কিছু তৈরি করার জন্য, কাজের প্রক্রিয়া বা ধরনটাকে আপনি কীভাবে পাল্টাতে পারেন?

এই প্রশ্নগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে কিংবা এর বদলে আরও ভিন্ন ভিন্ন কিছু প্রশ্ন হাজির হতে পারে। কিন্তু আপনাকে কোনো কিছুর উত্তর খুঁজে পেতে হলে তো প্রশ্ন দিয়েই শুরু করতে হবে। তা-ই করুন। যে কাজের মুখোমুখি হয়েছেন তা নিয়ে যতভাবে পারেন নিজেকে প্রশ্ন করুন। এর পরে কাজ কেবল বানের জলের মতো আসতে থাকা উত্তরের স্রোতটাকে নিয়ন্ত্রণ করা, সেটাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া। সত্য কথাটা হলো, শিখতে চাইলে আর শেখার চর্চাটা করলে যে কেউই সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারেন। আর এই শেখার কাজটাও অনেকে অনেকভাবেই করতে পারেন। আসলে সৃজনশীল হতে হলে সৃজনশীল হওয়ার চেষ্টা করা ছাড়া আর কিছুই করতে হয় না!