banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

রুমটা থাকুক ছিমছাম

শোবার ঘরের জন্য হালকা রঙের বিছানার চাদরই ভালো। ছবি: অধুনা

ক্লান্ত থাকলে সবার আগে মনে হয় ইস, বিছানায় যদি একটু শরীর এলিয়ে দিতে পারতাম। গৃহিণী বা কর্মজীবী—ব্যস্ত দিনশেষে শোবার ঘরটাই বেশি প্রিয় মনে হয়। ফলে শোবার ঘরটা পরিপাটি ছিমছাম না থাকলে মেজাজ যে বিগড়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্থপতি বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা তাই বাড়ির অন্যান্য ঘরের থেকে শোবার ঘরটাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মন-মেজাজ ভালো থাকবে কি না, তা অনেকটা নির্ভর করে শোবার ঘরসজ্জার ওপর। মনে রাখতে হবে, শোবার ঘরে যতটা সম্ভব কম আসবাব রাখতে হবে। চারদিকে জায়গা থাকলে গুমোট মনে হবে না।

সকালে যাঁরা তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়েন, তাঁরা হয়তো শোবার ঘরটা এলোমেলো করে বের হন। দিনশেষে যখন ফিরলেন বাসায়, দেখলেন এদিক-সেদিক সকালের ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তখন ক্লান্ত শরীরে ইচ্ছা করে না ঘরটা গোছানোর। তাই সকালে বের হওয়ার আগে যতটা সম্ভব যেখানকার জিনিস সেখানে রেখে যেতে হবে। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোরশেদা বেগম বলেন, সকালের অপরিচ্ছন্ন কাপড়গুলো একটা ঝুড়িতে রেখে দিতে পারেন। তাহলে ঘরে ঢুকেই দেখতে হবে না ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাপড়। এ ছাড়া আসবাবের বাহুল্য না থাকাই ভালো। সবচেয়ে বড় কথা পরিচ্ছন্ন পরিপাটি রাখতে হবে।

শোবার ঘরে দেয়ালের রং গাঢ় থাকলে বিছানার চাদর হবে হালকা রঙের।মেঝের টাইলসের রংটাও হালকা হতে হবে। হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়। এমনটা অনেকে ভাবেন। তাঁরা চাইলে ছোট ম্যাট বা শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে বিছানার চাদর কম ময়লা হবে। তবে ম্যাট বা শতরঞ্জি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ফর্ম থ্রি আর্কিটেক্টস-এর অ্যাসোসিয়েট স্থপতি আন্তা শরীফ বলেন, শোবার ঘর পুরোপুরি ব্যক্তিগত জায়গা। একেকজন একেকভাবে সাজাতে পারেন। শোবার ঘরের দেয়ালের রং হালকা হওয়া ভালো। বিশেষ করে হালকা রঙের বিছানার চাদর ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘরে স্নিগ্ধভাব থাকবে।

শোবার ঘরে আলো-আঁধারি পরিবেশ তৈরি করতে হলে ঘরের কোণে বড় কোনো ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। অনেকে বিছানার পাশের টেবিলে ল্যাম্পশেড রাখতে চান। সেটিও করতে পারেন। এ ছাড়া এই ঘরে মৃদু নরম আলো ব্যবহার করা ভালো। চোখে বিরক্তি লাগবে না।

শোবার ঘরের বিছানা সাধারণত একটু বড় আকারের হয়ে থাকে। ফলে আলমারি, ড্রেসিং টেবিল ও গান শোনার যন্ত্র রাখতে পারেন। কেউ কেউ টিভি রাখেন। আবার অনেকে টিভি রাখতে চান না।

শোবার ঘরের সঙ্গে কমবেশি সবারই বারান্দা থাকে। এই বারান্দায় ফুলের গাছ ও গাছগাছালি রাখলে মনটা ফুরফুরে ও সতেজ থাকবে। বাইরে থেকে ফিরে বারান্দার দরজা খুলে দিলে ফুলের গন্ধ ঘরে একধরনের প্রশান্তি এনে দেবে।

সূত্র- নকশা।

শিশুদের নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি স্লাম ডগ

দিন দিন বাড়ছে দেশের শিশু অপরাধ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সম্প্রতি জটিল রূপ ধারণ করেছে। এ ধরনেরই একটি প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশে নির্মিত হচ্ছে শিশু অপরাধবিষয়ক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্লাম ডগ।

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে স্বল্পদৈর্ঘ্য এ চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়েছে। শিশু অপরাধের বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রটির মূল ভাবনা শাহরিয়ার লালনের। পরিচালনা করছেন ইমারাত হোসেন ও শাহরিয়ার লালন।
স্লাম ডগ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে শিশু অপরাধ নিয়ে। নগরের বিভিন্ন ফুটপাতে এবং বস্তিতে বেড়ে ওঠা শিশুরা কীভাবে অস্ত্র, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এ বিষয়টিকেই তুলে ধরা হয়েছে এতে।
এ চলচ্চিত্রে দুজন শিশুকে দেখানো হয়েছে, যারা একটি রেলস্টেশনের মাদকের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরে তারা ধীরে ধীরে মাদকসহ বড় ধরনের চোরাচালান ও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। পেটের দায়ে এসব পথশিশু বাধ্য হয় নানা ধরনের অপরাধ করতে। একশ্রেণির মুনাফালোভী এই কোমলমতি শিশুদের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির দুটি কেন্দ্রীয় শিশু চরিত্রে অভিনয় করেছে এনটিভির মার্কস অলরাউন্ডার-২০১০ প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ স্থান অধিকারী সারিকা এবং চ্যানেল আইয়ের খুদে গানরাজ-২০১১ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অধিকারী রাফি। এই দুই শিশু একটি রেলস্টেশনে বড় হতে থাকে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, কষ্টে তাদের বেঁচে থাকা বড় দায়। তাদের এই দরিদ্রতার সুযোগ নেয় মুনাফালোভী একশ্রেণির মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী।

সহিংসতায় প্রতি পাঁচ মিনিটে ১জন শিশুর মৃত্যু

child-death
বিশ্বব্যাপী প্রতি ৫ মিনিটে এক শিশুর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে সহিংসতা। আরও ভীতিজনক তথ্য হলো, এ মৃত্যুর হার যুদ্ধাঞ্চলের বাইরেই বেশি। সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের যুক্তরাজ্য শাখা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ বছর বয়সের নিচে লাখ লাখ তরুণ তাদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়গুলোতে নিরাপত্তার অভাববোধ করছে।

এ অবস্থার জন্য দ্রুত নগরায়ন, কর্মসংস্থানের অভাব ও বৈষম্য বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সকল ধরনের শিশু নিপীড়ন বন্ধে ২০৩০ সালকে নতুন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশের সরকারগুলো যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আগামী বছর সহিংসতার কারণে প্রতিদিন গড়ে ২০ বছরের কম বয়সী ৩৪৫ শিশু মৃত্যুবরণ করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দরিদ্র দেশগুলোতে এ সহিংসতার হার বেশি। সহিংসতার শিকার শিশুদের মস্তিষ্কে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের মাত্র ৪১টি দেশ শিশুদের ওপর সহিংসতা নিষিদ্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

সন্তানের সাথে আপনার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব

Happy family and house at sunset in a meadow

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আমাদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে প্রথম চিন্তার বিষয় হলো তারা কথা বলার জন্য মানুষ খুঁজে পায়না। এটা তাদের বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। আপনার সন্তানকে আপনি স্কুলে পাঠান; ধরে নিই তারা পাবলিক স্কুলে যায়। অধিকাংশ মুসলিম অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পাবলিক স্কুলে পাঠিয়ে থাকেন, কারণ যেকোনো কারণেই হোক তাদের সন্তানদেরকে ইসলামিক স্কুলে পাঠানোর সামর্থ্য বা সুযোগ হয়ে ওঠেনা। এজন্য আমরা তাদের দোষারোপ করব না। এটা তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণ। তো আপনি সন্তানদের পাবলিক স্কুলে ভর্তি করান; ক্লাস ফাইভ-সিক্সে উঠতে উঠতেই তারা এ দেশে বিভিন্ন নোংরা শব্দ শিখে ফেলে; আপনি যে শহরেরই হন না কেন। তারা খুব জঘন্য ভাষা আয়ত্ত করে ফেলে; তারা কিছু বাজে ওয়েবসাইটে ঢোকা শিখে যায়; তারা তাদের পিএসপি, আইপড, আইফোনে বিভিন্ন নোংরা জিনিষ ডাউনলোড করা শেখে। তারা কম বয়সেই এসবে পারদর্শী হয়ে যায়। যেসব জিনিস আপনি ২৫ বছর বয়সেও শেখেননি সেগুলো তারা ১২ বছর বয়সেই জানতে পারে। এটাই বাস্তবতা। এগুলোই এখন হচ্ছে।

 

এখানে কোন কোন অভিভাবক জানেন যে ফেসবুক কী? একটু হাত দেখান প্লিজ। আচ্ছা, টুইটার কী জিনিস কেউ বলতে পারবেন? (its not when your eye bugs out, something else) তো আপনার সন্তান এসব সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে যায়, যেখানে অচেনা শিকারিরা আপনার কিশোর মেয়ে বা ছেলের সাথে কথা বলতে পারে। একসময় তারা সম্পর্কে জড়িয়ে যায় আর একে অপরের সাথে দেখাও করে। এরপর বিভিন্ন কিছু ঘটে যায়। এটা বর্তমানে আমাদের মুসলিম ছেলেমেয়েদের বাস্তবতা। এগুলোই ঘটছে। এসবের ব্যাপারে আমাদের চোখ বুজে থাকলে হবেনা, আমাদের চোখ খুলতে হবে। আপনি হয়তো বলতে পারেন, “না না, আমার সন্তানরা এমন না।” প্লিজ জেগে উঠুন! বড় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার আগে এসব ব্যাপারে কিছু প্রাথমিক সমাধান যা আমাদের করতে হবে তা হল, বাসায় ওপেন এক্সেস ইন্টারনেট রাখবেন না। বিশেষ করে ১২ বছরের ছোট বাচ্চা থাকলে, এটা রাখবেন না! এটা একটা ভয়ানক কাজ। তাদের ল্যাপটপ দেবেন না। দিতে চাইলে এমন মোবাইল দেবেন যেটাতে কেবল ফোন নাম্বার লেখা যায়, কোন টেক্সট ম্যাসেজ বা ইন্টারনেট চালানো যায়না। নতুবা আপনি নিজেই বিপদ দেকে আনছেন। এ নিয়ে আপনিই পরবর্তীতে আফসোস করবেন। আপনি ভাবছেন এগুলো আপনি তাদের ভালবেসে কিনে দিয়েছেন; আসলে আপনি তাদের ধ্বংস করছেন। তারা এখনো অতো বড় হয়নি যে নিজেরাই বুঝে নেবে যে এটা আমার করা উচিত নাকি উচিত না। ধরে নেবেন না যে তারা একাই সব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে কারণ আপনি ভালো পরিবার থেকে এসেছেন। প্লিজ এই ফাঁদে পড়বেন না। আল্লাহর দোহাই এসব জিনিস নিয়ে নিন। আপনার সন্তানদের বিনোদনের জন্য অন্যান্য পথ আছে। এটা প্রথম বিষয়।

 

যাই হোক যখন আপনার সন্তান বয়ঃসন্ধিতে পা রাখে, যেটা প্রায় সময়েই হয়ে থাকে, তাইনা? আমাদের সন্তানেরা টিনেজে/কৈশোরে উপনীত হয় আর আমি বিভিন্ন দেশে ঘুরে যেটা দেখি, অনেক অভিভাবক আমার কাছে এসে বলেন, “আমার একটা টিনেজ মেয়ে আছে”, “আমার একটা টিনেজ ছেলে আছে”, “আমি চাই আপনি তাঁর সাথে কথা বলেন”। এরকম ঘটনা আমার সাথে শতবার ঘটেছে। আক্ষরিক অর্থেই শতবার ঘটেছে।

 

আপনি জানেন কেন তারা আমার কাছে আসে? আর আমি কাউকে বিচার করছি না, ওয়াল্লাহি, আমি কাউকে বিচার করছি না। জানেন কেন তারা আমার কাছে আসে? কারণ বয়ঃসন্ধিতে আসলে তারা স্বাধীন হয়ে যায়, যখন তারা স্বাধীন হয়ে যায় তখন তারা আর আপনার কথা শোনেনা, যখন তারা আপনার কথা শোনেনা তখন আপনি এমন কাউকে চান যার কথা তারা শুনবে। নৌকা ইতিমধ্যেই ভেসে গেছে। কখন আপনার হাতে সুযোগ ছিল? কখন? যখনও তারা Semi-adult এ পরিণত হয়নি, তখন। সেসময় আপনার সুযোগ ছিল। একে হাতছাড়া করবেন না। আমাদের বুঝতে হবে যে, আমরা ভিন্ন পৃথিবীতে বাস করছি। দেশে থাকতে আপনি তাদের সাথে যে রকম আচরণ করতে পারতেন, এখানে তেমনটি পারবেন না। আগে আপনি তাদের বকতে পারতেন, মারতে পারতেন, আপনার ইচ্ছে মতো। এমনটিই সবাই করে এসেছে। এখানে আপনি তাদের সামান্য বকুনি দেবেন আর তারা বলে বেড়াবে, “আরে আমার বাবা পুরো ফালতু একটা মানুষ”। তারা আপনার সম্পর্কে বন্ধুদের এরকম বলে বেড়াবে।

 

আমি একটা সান্ডে স্কুল চালাতাম, সেখানকার হেড ছিলাম। আর জানেন আমার প্রাইমারী কাজ কী ছিল? বাচ্চাদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করা; কারিকুলাম ঠিক করা, আকিদা শেখানো বা বই অর্ডার আমার কাজ ছিলোনা, না না না। এগুলো পরের বিষয়। আগে দেখা যাক তারা স্কুলে বিরতির সময় কি নিয়ে কথাবার্তা বলে। “আমার মা আমাকে NC17 ভিডিও গেম কিনে দিয়েছে”, “আর আমার বয়স মাত্র ৮ বছর। মা আমাকে খুব ভালবাসে” না সে ভালবাসে না। হা হা। “আমার গ্র্যান্ড থেফট অটো আছে”, “তুমি ঐ মুভিটা দেখেছো? ওটা PG-13 ! ওটা দেখতেই হবে!” বা “মুভিটা Rated-R আর আমি দেখেছি। সেটার ডিভিডি-ও আমার কাছে আছে।”

 

বাচ্চারা এসব নিয়েই কথা বলছে। তারা আপনার সন্তানদের নষ্ট করে ফেলছে। আর একে আপনি ভালবাসা বলেন? ইব্রাহিম (আঃ), তিনি কি কখনো এগুলোর কাছাকাছিও কোন কিছুর জন্য অনুমতি দিতেন? একে বাচ্চাদের জন্য উদ্বেগ বলে? চোখ খুলুন! সত্যিই, চোখ খুলুন!

 

আমরা সন্তানদের এমন সব জিনিসের সামনে উন্মুক্ত করে দিচ্ছি, আর এটা ধীরে ধীরে খারাপের দিকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে মিডিয়াতে, যেই মুভিটা ১০ বছর আগে ১৩ বছর বয়সের নিচে অনুমোদিত ছিলোনা সেটা এখন অনুমোদিত হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড নিচে নেমে গেছে। আমি না, তারাই এসব নিয়ে কথা বলছে। এখন সমকামিতার মত বাজে বিষয়গুলো এমনকি কার্টুনেও সাধারণ হয়ে গেছে। টম অ্যান্ড জেরিও আর আগের মতো নেই। সবকিছু বদলেছে। চারিদিকে কী হচ্ছে সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সন্তানরা কী দেখছে, তারা কী ভাষায় কথা বলছে, যেসব জিনিস তাদের কাছে নরমাল মনে হয়, যেগুলো তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। যখন আপনি মসজিদে যান তখন আপনি দাড়িওয়ালা মানুষদের দেখেন; তারা নামায পড়ে, ভিন্নভাবে কথা বলে। আপনার বাচ্চারা কী তাদের বেশী দেখতে পায় নাকি বাইরের পৃথিবীকে? তারা যেটা বেশী দেখতে পায় সেটাকেই স্বাভাবিক ধরে নেয়। তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক না, ঐটা স্বাভাবিক। আর এটাই সমস্যা। এটাই আসল সমস্যা। তারা এগুলোকে স্বাভাবিক মনে করেনা। তারা বাইরের পৃথিবীকে স্বাভাবিক মনে করে।

 

আমরা কীভাবে সন্তানদের জন্য একে পরিবর্তন করতে পারি? প্রথমে এ সব বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে হবে। তারপর এসব সমাধানের ব্যাপারে কথা বলা যাবে।

 

আমাদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে প্রথম চিন্তার বিষয় কী যেটা আমি বলেছিলাম? তারা কথা বলার জন্য মানুষ পায়না। যখন আপনার সন্তান পাবলিক স্কুলে যায় আর একটা ছেলে আর মেয়েকে একসাথে দেখে বা কোন মেয়ে আপনার ছেলের কাছে এসে বলে, “আমার সাথে সিনেমা দেখতে যাবে?” অথবা “আমরা একটা রেস্টুরেন্টে খেতে যাচ্ছি, তুমি যাবে? তুমি দেখতে অনেক কিউট।” এসব আপনার ক্লাস ফাইভের বা সেভেনের সন্তানের সাথেই হচ্ছে। তারা কি বাসায় এসে আপনার সাথে এগুলো নিয়ে কথা বলবে? না। “আব্বু, একটা মেয়ে না আমাকে বলেছে আমি দেখতে কিউট।” “কী! তোমাকে কি এইজন্যেই আম্রিকায় নিয়ে এসেছিলাম?” ঠাশ! ঠাশ! এই বাচ্চা জানে যে তাঁর বাবা-মা এগুলো শুনে মেনে নিতে পারবে না। কিন্তু এসব কথা তো কারো সাথে শেয়ার করতে হবে। সে কাকে এগুলো বলবে? সে বন্ধুদের সাথে এগুলো শেয়ার করবে। আর পাবলিক স্কুলে তাঁর বন্ধুরা মুসলিম নাকি অমুসলিম? অমুসলিম। তারা তাকে ইসলামিক পরামর্শ দেবে নাকি অনৈসলামিক? অনৈসলামিক পরামর্শ। “আরে চালিয়ে যা দোস্ত” তারা এইরকম পরামর্শই দেবে। আর এখন আপনার বাচ্চারা আপনাদের থেকে তাদের বন্ধুদের সাথে বেশী খোলামেলাভাবে চলতে পারছে কারণ আপনি বেশী কঠোর। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন না। আপনি তাদের জন্য সেই দরজাটা খোলা রাখেননি। কারণ আপনি তাদের ওপর সেই আধিপত্য দেখাতেন যা আপনার বাবা আপনার ওপর খাটিয়েছিল। কিন্তু সেটাতো আপনার দেশ ছিলো ভাই, এখানে সবকিছু ভিন্ন। আমাদেরকে সন্তানদের বন্ধু হতে হবে। তারা যেন খোলামেলাভাবে কথা বলতে পারে সেই পরিবেশ তৈরী করতে হবে।

 

এই সমস্যা আমার আছে; আমি তিন মেয়ের বাবা, ঠিক আছে? আরা আমি অনেকটা রক্ষনশীল বাবা। তাই যখন আমার মেয়ে প্রি-স্কুলে ছিলো, তখন একটা ছেলে তাঁর পাশে বসেছিল। আর সে বাড়ী ফিরে বলেছিল, “হামজা আজকে আমার পাশে বসেছিল আর আমরা একসাথে রঙ করেছিলাম”। আমি বললাম “কী??” আর আমার স্ত্রী আমার দিকে তাকিয়ে বললো “তুমি এখান থেকে যাও, আমি ওর সাথে কথা বলছি” কারণ আমি যদি এখন রাগ দেখায় তাহলে সে বুঝে ফেলবে আমার বাবা হামজার ব্যাপারে কিছু শুনতে পছন্দ করেনা। তাই এর পরে হামজা যদি কোন কিছু বলে বা করে তখন কি আমার মেয়ে সেটা আমাকে বলবে? না। সুতরাং সেটা বলে আমি নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছি।

 

আমাদের এসব ব্যাপার মোকাবেলা করা শিখতে হবে। এর কিছু কৌশল আছে। আমাদেরকে সন্তানদের এসব ব্যাপারে ধৈর্য ধরতে হবে। এটা তাদের দোষ না। আমরাই তাদের সেই স্কুলে পাঠিয়েছি। আমরাই তো তাদের সেই পরিবেশে পাঠিয়েছি। তারা এটা চায়নি। তাই তারা যদি খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় সেটা কাদের কারণে হবে? আমাদের। তাই আমাদের নিজেদেরও এসবের দায়িত্ব নিতে হবে। “তুমি এমন কথা বলতে পারলে?” “তুমি কোত্থেকে এসব শব্দ শিখেছো?” এসব বলেই পার পাওয়া যাবে না। “আরে তোমরাই তো আমাকে এই স্কুলে পাঠিয়েছো, তোমরাই আমাকে এমন অবস্থায় ফেলেছো” “তোমরাই আমাকে ঐ মুভিটা দেখতে দিয়েছো” “তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করো নি যে আমার বন্ধুরা কেমন, তারা কোথায় থাকে, আমরা একসাথে কি করি। তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করো নি, এটা তোমাদের সমস্যা।”

 

তাই আপনার সন্তানদের জন্য কথা বলার দরজা খুলে দিন। দেরি হবার আগেই এটা করুন। অনেক ছেলেমেয়েরা তাদের ঘর ছেড়ে চলে গেছে। আমাদের অনেক মেয়েরা তাদের বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে গেছে। অনেক। অনেক। আমি জানি এসব শুনতে খুপ খারাপ লাগে, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। আমাদের এর মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের অনেক ছেলেদের অন্যের সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে। এটা পুরো অসুস্থ বাস্তবতা। শুধু কাঁদলেই চলবে না, আমাদের এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।

 

তাই প্রথম কাজ হল সন্তানদের জন্য কথা বলার দ্বার খোলা রাখা।

 

দ্বিতীয় ব্যাপারটা টিনেজ ছেলেমেয়ের জন্য।

 

আর এখানে আমি ইয়াকুব (আঃ) এর উদাহরণ দেবো। তিনি একজন অসাধারণ নবী। তাঁর ছেলেরা কি কোন অন্যায় কাজ করেছিল? হ্যাঁ। সেটা কি, কারো মনে আছে? তারা তাদের ভাইকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, বনের মধ্যে গিয়ে তাকে কুয়ায় ফেলে দিয়েছিল আর নকল রক্ত মাখা জামা নিয়ে এসেছিল।

 

ইয়াকুব (আঃ) কি বুঝতে পারেননি যে তারা মিথ্যে বলছিল? আচ্ছা এই হল অবস্থা। এখানে কয়েকজন তরুন ছেলে আছে, একজন পিতা আছে। তিনি জানেন যে তাঁর ছেলেরা খুব খারাপ কিছু করেছে। তিনি কী বলেছিলেন, “বদমাইশের দল! এক্ষুনি তাকে নিয়ে আসো!”আপনি কি তাকে এমন কিছু বলতে দেখেছেন? আপনি কী দেখলেন? ‘ফা সাবরুন জামিল’ (অনুপম ধৈর্য) আমি যখন তাঁর এমন সাড়া দেখি তখন ভাবি “তিনি কেমন পিতা ছিলেন! তিনি তাদের বকলেন না, ধমক দিলেন না।”

 

কেন জানেন? কারণ তিনি একজন জিনিয়াস পিতা ছিলেন। একজন সচেতন পিতা জানেন যে কোন বয়স পর্যন্ত সন্তানদের উপদেশ দেয়া যায় আর কোন বয়সে তারা স্বাধীন হয়ে যায় যখন তাদের কিছু বললেও তারা শুনবে না। তিনি জানেন। সেই অবস্থায় আপনি কী করতে পারেন? সাবরুন জামিল। এটুকুই করতে পারেন। সময় আগেই পার হয়ে গেছে। তাই আপনার দায়িত্ব হল এর আগেই তাদের প্রতি খেয়াল রাখা। এখন তারা যদি সেই বয়স পার করেই ফেলে, তখন আপনি সর্বোচ্চ যা করতে পারেন তা হল তাদেরকে ভালো সঙ্গীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া।

 

আর মুসলিম তরুণদের সংস্থাগুলোকে উৎসাহ দিন। এরাই আমাদের সন্তানদেরকে দাওয়াহ দেওয়ার হাতিয়ার। আমরা তাদের সাহায্য না করলে তারাও হারিয়ে যাবে। আপাতত ফিকহের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন। তারাবিহ ৮ রাকাত হোক বা ২০ রাকাত, আপনার সন্তান এসবকে পাত্তা দেয়না। অবস্থার উন্নতি হলে তখন সেগুলো নিয়েও আলোচনা করা যাবে। এখন সময় ভালো যাচ্ছেনা। আমাদের সন্তানেরা আর বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এটাকেই অগ্রাধিকার দিন।

  নুমান আলী খানের এই লেকচার টি অনুবাদ করেছেনঃ ইফাত

লেকচারটির ইউটিউব লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=hWymBJ9XpxA

পরিবর্তন করুন নিজের চিন্তা পদ্ধতি

145_bra

সিবিটি তথা ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ারেল থেরাপি’ নামের সেলফ-হেলপ টেকনিক অর্থাৎ নিজে নিজে প্রয়োগ করার কৌশল কাজে লাগিয়ে অর্থহীন চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তন করা যায়। এটি নজর দেয় ‘here and now’ সমস্যার ওপর। এবং এর তাগিদ আপনার বর্তমান মনের অবস্থা উন্নয়নের ওপর। যদিও এর প্রতিশ্রুতি শারীরিক অসুস্থতা দূর করা, তবুও এটি বেশি পরিচিত মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা চিকিৎসার জন্য, বিশেষ করে ডিপ্রেশন তথা বিষন্নতা দূর করার জন্য। অর্থহীন চিন্তা স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর। অার তা দূর করতে নিজে নিজে এসব চিন্তা দূর করার কেৌশল রপ্ত করতে হবে।

নেগেটিভ ক্যালোরি নিয়ে বিভ্রান্তি

গোশত দিয়ে তৈরি একটি বার্গারে কয়েকটি সেলারি স্টিক বা শাকডাঁটা যোগ করে কি এ থেকে ক্যালোরি কমানো যায়? বড় এক প্লেট নুড্ল্সের সাথে বেশি করে সালাদ খেলেই কি চর্র্বি কমিয়ে দিতে পারে? আহা যদি তেমনটি সত্যি হতো, তাহলে ভালোই হতো। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই সমীক্ষায় অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবকদের খুব স্বাস্থ্যপ্রদ খাবার না দিলেও তাদের শরীরে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে গেছে।

সমীক্ষায় অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে যারা তাদের ওজন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তাদের ক্যালোরির হিসাবে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তারা ধরে নিয়েছিলেন এক থালা সালাদে রয়েছে ৬২৩ ক্যালোরি এবং একটি বার্গারে রয়েছে ১১৫ ক্যালোরি, যখন এর সাথে ছিল সেলারি স্টিক বা শাকডাঁটাও। এই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রণেতা আলেক্সান্ডার চেরনেভ বলেন, খাবারকে ভালো কিংবা মন্দ বিবেচনা করা পথ্য গ্রহণকারীকে এ ব্যাপারে বিপথগামী করে তুলতে পারে যে তারা কতটুকু খাবার খাবেন।

প্রযুক্তি জেনে সমাধান
প্রযুক্তিজানা মানুষ তথা টেক-সেভি পিপল স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর যেমন আরো ভালো উপায়ে নজর রাখতে পারেন, ঠিক তেমন সুস্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণও করতে পারেন। যাদের টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে, তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে অব্যাহত ব্লাডসুগার পরীক্ষা করা। ব্লাডসুগারের মাত্রা যাতে নিরাপদসীমা না পার হয়, সে জন্য এদের অনেকেই দিনে চারবার কিংবা তার চেয়েও বেশিবার ব্লাডসুগার চেক করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি সিজিএম তথা ‘কনটিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর’ চামড়ার ঠিক নিচে ঢুকিয়ে দিলে তা প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর গড় গ্লুকোজ মাত্রা রেকর্ড করে। এটি এ ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি। এর ফলে পুরনো আমলের ফিঙ্গার-প্রিক টেস্টিংয়ের আর দরকার হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের জুবিনাইল ডায়াবেটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব লোক সিজিএম ব্যবহার করেছেন তারা ফিঙ্গার-প্রিক টেস্টিংয়ের ওপর নির্ভরশীলদের তুলনায় প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সময় বেশি খরচ করেছেন ব্লাডসুগার মাত্রা টার্গেট করার জন্য। এই ফাউন্ডেশনের অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, ইনসুলিন পাম্পিং থেরাপির পাশাপাশি সিজিএম ব্যবহার করে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বিভিন্ন কেন্দ্রের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস ওয়ান রোগীরা মাল্টিপল ডেইলি ইনসুলিন ইনজেকশন ব্যবহারকারীদের তুলনায় আরো ভালো উপায়ে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে একটি সেন্সর-অগমেন্টেড ইনসুলিন পাম্প ব্যবহার করে। এই ব্লাডগ্লুকোজ লেভেলের উন্নয়ন ঘটেছে হাইপোগ্লাইকেমিয়ার হার না বাড়িয়েই।

রাজধানীতে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

images (1)

হাতের মেহেদি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই লাশ হতে হলো গৃহবধু কে! নতুন জীবন শুরু হতে না হতেই একে বারেই নিভে গেলো জীবন প্রদীপ! রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে ইসরাত জাহান ওরফে নিপা (১৯) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিয়ের দুই মাস পর এ ঘটনা ঘটল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, খবর পেয়ে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুরের মুন্সিরোড এলাকার একটি বাড়ির চারতলা বাসার দরজা ভেঙে ইসরাতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল।
লাশ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইসরাতের স্বামী শহীদুল্লাহ ইতালিপ্রবাসী। দক্ষিণখানের বাসায় ইসরাতের শ্বশুর-শাশুড়ি ও এক দেবর থাকেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, গত রোববার রাত ১২টার দিকে খাওয়া-দাওয়া করে ইসরাত তাঁর কক্ষে ঘুমাতে যান। গতকাল অনেক বেলা হলেও ঘুম থেকে না ওঠায় তাঁরা দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখেন, ভেতর থেকে বন্ধ। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এসআই বলেন, লাশের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ইসরাত আত্মহত্যা করেছেন। তবে কারণ জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মর্গে ইসরাতের বাবা মো. ইউসুফ জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরের ফরহাদ নগরে। ইসরাত ফেনী সদরের একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ফেনী সদরের বাসিন্দা শহীদুল্লাহর সঙ্গে দুই মাস আগে বিয়ে হয় ইসরাতের। এর পর থেকে ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কিছুদিন আগে ইতালি চলে যান শহীদুল্লাহ।
ইউসুফ বলেন, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে বিয়ে হলেও কিছুদিন পর অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা বিয়ে মেনে নেন। এরপর ইসরাত তাঁর মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতেন। প্রায় সময় ইসরাত মায়ের কাছে শাশুড়ির মানসিক নির্যাতনের কথা বলতেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই সাইফুর বলেন, মানসিক নির্যাতনের বিষয়ে ইসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তে সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষন,অভিযোগ করলেও আমলে নেয়নি পুলিশ!

1402155849.

মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে মেয়েটি। সুমন নামে এক বখাটে তাকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। দিয়েছিল অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকিও। মেয়েটির মা অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরে তারা বাসা বদল করে অন্য পাড়ায় চলে যায়। সেই বাসা খুঁজে বের করে মেয়েটিকে কৌশলে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ধর্ষণ করে এবং লুকিয়ে রাখে বখাটে সুমন। পুলিশ নয়, পাঁচ দিন পর পরিবারই পাশের উপজেলা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। 
মেয়েটির গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায়। তারা থাকে শহরের একটি ভাড়া বাসায়। গত মঙ্গলবার তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরে মেয়েটির মা বাদী হয়ে শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের নিশ্চিন্তপুর মহল্লার মো. সুমন, বসিরপাড়ার সোহেল রানা ও বাজারপাড়ার নাদিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাতেই বসিরপাড়ার একটি মেস থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে।
শনিবার রাতেই মেয়েটিকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তার শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ খুরশীদ জাহান হক বলেন, মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন হয়েছে। রক্তক্ষরণে শারীরিকভাবে দুর্বল ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে সে। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
গতকাল বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক জুলফিকার আলী খান মেয়েটির জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। মেয়েটির (১৩) বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সুমন তার দুই সহযোগী সোহেল ও নাদিমকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে তাদের ভাড়া বাসার সামনে যায়। কৌশলে তাকে বাসার বাইরে ডেকে এনে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে বসিরপাড়ার একটি মেসে নিয়ে যায়। সেখানে হাত-পা বেঁধে সুমন ও তার দুই সহযোগী তাকে ধর্ষণ করে।
অসুস্থ হয়ে পড়লে বখাটেরা বুধবার সকালে মেয়েটিকে পীরগঞ্জের লোহাগাড়ায় সুমনদের আত্মীয় জবেদ আলীর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
মেয়েটির মা জানান, বখাটে সুমন তাঁর মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। সম্প্রতি সে তাঁর মেয়ের হাতে দুই হাজার টাকা গুঁজে দিয়ে একটি মুঠোফোন সেট কিনে নিতে বলে। কিন্তু মেয়ে টাকা নিতে রাজি না হলে সুমন অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।
এই মা জানান, মেয়ে বাসায় এসে বলার পর তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রথমে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে চান। কিন্তু পড়ালেখার কথা চিন্তা করে দ্রুত বাসা বদল করে অন্য পাড়ায় চলে যান। ঈদের ছুটির পর সুমন সেই বাসাও খুঁজে বের করে আবার উত্ত্যক্ত করা শুরু করে।
গত শনিবার রাতে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নানের উপস্থিতিতে মেয়েটির মা দাবি করেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি নিজেই আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে সন্ধানে নামেন। কারণ, এর আগে সুমনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ নিয়ে এলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মেয়েটির মা জানান, বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর একটা ঘটনার সূত্র ধরে তিনি শনিবার সন্ধ্যায় পীরগঞ্জের লোহাগাড়া গ্রাম থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন এবং থানায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে নেওয়া হয় হাসপাতালে।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মেহেদী হাসান স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুচরিতা দেব জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁরা মেয়েটিকে সব ধরনের সহায়তা দেবেন।

নিজের সাময়িক অবর্তমানে কিভাবে সামলাবেন সংসার

2012-10-30-17-22-46-50900ce6320e0-untitled-23

ঢাকায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন দুই সন্তানের মা আফসানা রহমান (ছদ্ম নাম)। তাঁর স্বামীও চাকরিজীবী। বড় ছেলে অরিনের বয়স সাত বছর আর ছোট অর্ণবের দুই চলছে। অফিসের কাজে মাঝেমধ্যেই তাঁকে দু-তিন দিন বা এক সপ্তাহের জন্য যেতে হয় ঢাকার বাইরে। ঘর-সন্তান সবকিছুর ব্যবস্থাপনা করে আফসানা বাইরে যান।
আফসানা বললেন, ‘আমার স্বামী সব সময় এ বিষয়ে আমাকে সহযোগিতা করেন। তবে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এটা খুব একটা পছন্দ করেন না।’ আফসানা বলেন, ‘যে কদিন থাকি না, আমার স্বামী প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে বাচ্চাদের গোসল করিয়ে খাইয়ে দেন, স্কুলে নিয়ে যান, আবার ছোট ছেলেকে পরে কী খাওয়াতে হবে, সে বিষয়ে আমার মাকে পরামর্শ দিয়ে যান। ঢাকার বাইরে গেলে আমার মাকে বাসায় এনে রেখে যাই। কারণ ওদের বাবা যতক্ষণ অফিসে থাকবেন, ততক্ষণ আমার ছোট বাচ্চাকে দেখভাল করা, বড় ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসা—এসব মা করে দেন।’
অফিসের কাজে প্রায়ই বাইরে যেতে হয়, এমন নারীদের স্বামীরা সহজভাবে যেমন মেনে নেন, আবার কোনো কোনো পরিবারে এ নিয়ে সমস্যার সৃষ্টিও হয়। ‘বিয়ের আগেই স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে একটা বোঝাপড়া থাকা দরকার। যেহেতু চাকরিজীবী, তাই অফিসের প্রয়োজনে দুজনকেই ট্যুরে যেতে হতে পারে। দুজনেরই উচিত আলাপ করে সে রকম মানসিকতা আগে থেকেই তৈরি করে রাখা। বিয়ের পরে সংসার, বাচ্চা রেখে ট্যুরে যাওয়া যাবে না—এসব বিষয় নিয়ে মন-কষাকষি কিংবা সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। তাই বিয়ের আগে কিংবা বিয়ের পরই এ বিষয়ে দুজনকে পরিষ্কার থাকতে হবে। অফিসের কাজে বাইরে গেলে স্বামীর সহযোগিতা একজন নারীর জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার।’ বলছিলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া। অফিসের প্রয়োজনে কর্মস্থলের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঘরের প্রতিটি বিষয় গুছিয়ে রেখে যেতে হবে। নিজেকেও গুছিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারের বড় কাউকে কিংবা মুরব্বি কাউকে বাসায় এনে রাখা যেতে পারে, যে কয় দিনের জন্য বাসার বাইরে থাকবেন তিনি—এমনই পরামর্শ রীনাত ফওজিয়ার।

নিজেকে গুছিয়ে নিতে হবে
অল্প কিছুদিনের জন্য কর্মস্থলের বাইরে গেলে বাক্সপেটরা যেন ভারী না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছোট ট্রলিব্যাগ হলে সেটি বহন করা সুবিধা।
ব্যাগে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কী কী নেবেন, সেসবের একটা তালিকা আগে করে নেওয়া ভালো। টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, পাউডার, হালকা কসমেটিকস, লিপস্টিক, আয়না, টিস্যু পেপার, সানস্ক্রিন লোশন ইত্যাদি জিনিস নিয়ে যেতে হবে; আবার ফেরার সময় তালিকা ধরে সবকিছু নিয়ে আসা যাবে।
দু-তিন দিনের জন্য বাইরে গেলে দু-তিন সেট পোশাক, রাতের পোশাক নেওয়া যেতে পারে। আবার সাত দিনের জন্য সাত সেট পোশাক লাগবে তেমন নয়। চার সেট পোশাক নিলেই চলে।
সাধারণত ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে সে কোন পোশাক পরবে না-পরবে; যেমন জিনস, প্যান্ট, কুর্তা, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ। পোশাক পরার মধ্যে সে যেটা বেশি আরামদায়ক মনে করে, সেটা সঙ্গে করে নেবেন।
যাওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে কিছু সাধারণ অসুখের ওষুধ সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন: জ্বর, ব্যথা, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা, টনসিলের ইনফেকশন—এসব অসুখের ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত। আর যদি কোনো ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়, তবে সেটা দিন গুনে হিসাবমতো নিয়ে যেতে হবে।

ঘর গুছিয়ে রেখে যাওয়া
বাইরে যাওয়ার আগে কয়েক দিনের জন্য কিছু খাবার রান্না করে ছোট ছোট বাক্সে রেফ্রিজারেটরে রেখে যাওয়া ভালো। স্বামী বা বড় কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া কখন কোন খাবারটা কোন বেলায় পরিবেশন করবে। একেকটা বাক্সে একবেলার পরিমাণ খাবার রান্না করে রেখে দিলে পরে খাবারটা গরম করে নিলেই চলে। বড় পাত্রে একবারের বেশি খাবার রান্না করে ফ্রিজে রাখা যাবে না।
দু-তিন বছরের ছোট বাচ্চাদের ধরে ধরে খাওয়াতে হয়। মায়ের অনুপস্থিতিতে বাবা কিংবা বাড়িতে বড় যিনি থাকবেন, তাঁকে বুঝিয়ে দিতে হবে কোন খাবার কী পরিমাণে কখন বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনে ট্যুরে যাওয়ার আগের দিন একটা নির্দেশনা লিখে দেয়ালে বা ফ্রিজের গায়ে টাঙিয়ে দিলে ভালো হয়।
বাচ্চার বাবাকে তার দিকে অতিরিক্ত মনোযোগী হতে হবে। প্রয়োজনে বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতে হবে।
গৃহকর্মী থাকলে তাকে রুটিন ধরে প্রতিদিনের কাজ করার কথা বলে যেতে হবে। বাড়তি কাজ যেন না করে।
প্রতিদিনের কাপড়-চোপড়, মোজা, রুমাল প্রতিদিন ধুয়ে আলমারিতে যার যার তাকে গুছিয়ে রাখতে হবে, যেন পরের দিন খুঁজলে সহজে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে স্বামীকে জানিয়ে রাখা যেতে পারে।
স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের পড়ালেখার ব্যাপারে মায়ের অবর্তমানে বাবাকে দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষক থাকলে তাঁকে বলে যাওয়া এবং পড়ালেখার দিকে খেয়াল রাখা। বাচ্চাকেও বলতে হবে বাড়ির কাজ দিনেরটা দিনে শেষ করে ফেলতে হবে।

দরকার সবার সচেতনতা

 
১ অক্টোবর ২০১৪। ৩য় বারের মত পালিত হল বিশ্ব সেরিব্রাল পলসি দিবস। সেরিব্রাল পলসি এক ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় সচেতনতার অভাবে সেরিব্রাল পলসিকে অন্য প্রতিবন্ধিতার সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়, আমাদের সকলের ভুল ধারণা না হওয়ার লক্ষ্যে নিচে সেরিব্রাল পলসি কি এবং এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করছি। মস্তিষ্কে বিশষত গুরুমষ্কি (সেরিব্রাল) অঞ্চলে কোন প্রকার পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিস হওয়াকে সেরিব্রাল পলসি (C.P.) বলে। মস্তিষ্কের গুরুমস্তিষ্কের মোটর অঞ্চলে অর্থাত্ যে অঞ্চলটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের নড়াচড়ার জন্য দায়ী, সেখানে কোন পক্ষাঘাত হলে ব্যক্তি সেরিব্রাল পলসি-তে আক্রান্ত হয়। দেখা যায় যে, শরীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে প্রায় ৩০-৪০% শিশুই সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত। 
রুদ্র (ছদ্মনাম) দশ বছরে পা দিয়েছে। সে সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত শিশু। আজকাল অনেক বেশি কান্নাকাটি, জেদ করে। যে ছেলেটি লক্স্মী, শান্ত প্রকৃতির ছিল সে হঠাত্ করেই কেন জানি বদলে যেতে শুরু করেছে। মা-বাবা তার নিজস্ব কর্মস্থলের দয়িত্ব, আরো একটি সন্তানের দেখভাল, সংসারিক কর্মকাণ্ড সবকিছু সামলাতে সামলাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন। আর তার সাথে যদি পরিবারে একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু থাকে তাহলে সেই পরিবারের প্রতিদিনকার চিত্র একটু ভিন্ন রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক। রুদ্র প্রায় সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে ‘আমার কিছু ভাল লাগে না, আমাকে তোমরা বোঝাও আমি কেন কাঁদছি? আমার কান্না করা ঠিক হচ্ছে না’ ইত্যাদি। রুদ্র নিজ থেকে বোঝে তার কান্না করা ঠিক নয়। অথচ আমাদের মতো তথাকথিত সুস্থ মানুষেরা ওর চাহিদা ও মনকে বুঝতে চেষ্টা করি না। আমরা বড়রা অনেক সময় মনের অজান্তে বলে ফেলি ‘তুমি যদি কান্না করো তাহলে তোমাকে রেখে আমি চলে যাব’ সামান্য এই কথাটায় অনেক সময় ওদের শিশু মনে ভয়ের সৃষ্টি করে ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের অনেক ছোট ছোট ঘটনা আছে যা ওকে খুব পীড়া দেয় কিন্তু তা আমরা উপলব্ধি করি না বা বুঝতে চেষ্টা করি না, যার ফলশ্রুতিতে ওর সব কষ্টের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কান্না, জেদের মাধ্যমে।
আমাদের দেশের সমাজ কাঠামো, পরিবেশ প্রতিবন্ধী বান্ধব নয়। প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার রক্ষায় আইন হয়েছে কিন্তু তার সঠিক প্রয়োগ কখন হবে তা আমাদের সবার অজানা। আমাদের দেশের অধিকাংশ স্কুলগুলো সার্বিকভাবে প্রতিবন্ধী-বান্ধব নয়। কিছু সরকারি স্কুল আছে যেখানে Ramp আছে কিন্তু যে শিশু ৪/৫ ঘন্টা স্কুলে কাটাবে তার জন্যে কোন প্রতিবন্ধী-বান্ধব টয়লেটের সুব্যবস্থা সেখানে নেই। বাসে সংরক্ষিত আসন আছে কিন্তু Wheel Chair উঠানোর মত Accessible বাস নেই। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই সর্বস্তরে প্রবেশগম্যতা নেই, ফলে ৩/ ৪ তলায় ক্লাস করতে  হলে কষ্ট করে অন্যের উপর ভর করে উঁচু ভবনে উঠে ক্লাস করতে হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ ভবন সরকারের ইমারত বিধিমালা মান্য না করে গড়ে উঠা, সেসব ভবনে প্রবেশগম্যতা নেই।
সুতারাং যে সকল স্কুল এসব ভবনে পাঠ্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারেও সরকারের কোন যথাযথ তদারকী নেই। যে দেশে আপামর মানুষেরই মৌলিক অধিকারগুলো পেতে গলদঘর্ম হতে হয় সেখানে ওদের মত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু যারা অনেক কাজেই অন্যের উপর নির্ভরশীল, সে সকল শিশুর ভবিষ্যতের কথা মনে হলে কষ্টে বুক ভারী হয়ে যায়। বিষণ্ন্নতায় ভরে উঠে মন। অন্তত একজন মা হিসাবে আমার সন্তান যাতে বাস্তবতার নিষ্ঠুুর রূপ দেখতে না পায় সেই চেষ্টা করে যাব সারা জীবন। আমার সন্তানকে এমনভাবে গড়ে তুলব যাতে সে বাস্তবতাকে নিজেই মোকাবেলা করতে পারে। প্রতিবন্ধিতা কোন দোষ, পাপ বা অভিশাপ নয়। সৃষ্টি কর্তার সৃষ্টিতে কোন ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই সৃষ্টি বৈচিত্র্যের অংশ। যে কেউই যে কোন সময় প্রতিবন্ধিতার শিকার হতে পারে। এক্ষেত্রে সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কোন বিকল্প নেই। আমাদের সবাইকে এসব বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর কথা মনযোগের সহিত শুনতে হবে, তাদের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকসহ সকলকে সহানুভূতিশীল হতে হবে। নেতিবাচক  আচরণ ও মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিবন্ধী মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে সঠিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে।
সমাজের একটা বিরাট অংশকে আলাদা রেখে কোন রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয়। এসকল বিশেষ শিশু, কিশোর, ব্যক্তিদের সমাজের বোঝা না ভেবে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা রাষ্ট্রসহ সকলের দায়িত্ব। প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিবন্ধিতা না দেখে তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রতি করুণা নয়, প্রয়োজন আমার-আপনার সকলের সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। এ ক্ষেত্রে সকল ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংগঠনসহ বিশিষ্ট জনদের এক সাথে কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুদ্র, নাবিলা আর জুয়েলসহ সকল প্রতিবন্ধী মানুষের বসবাস উপযোগী সার্বজনীন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
সূত্র- ইত্তেফাক।

রূপচর্চা-কেলেঙ্কারিতে মন্ত্রীর পদত্যাগ

ইউকো ওবুচি। ফইল ছবিইউকো ওবুচি। ছবি: রয়টার্স

রাজনৈতিক তহবিলের অর্থ রূপচর্চাসহ অরাজনৈতিক কাজে অপব্যবহার করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের শিল্পমন্ত্রী ইউকো ওবুচি আজ সোমবার পদত্যাগ করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ওবুচি। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনাকে অ্যাবের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকে জানায়, ওবুচিকে জাপানের সম্ভাব্য প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। আজ অ্যাবের সঙ্গে আধঘণ্টার বৈঠকের সময় পদত্যাগপত্র দেন তিনি।
পরে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ওবুচি। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে অ্যাবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য এই প্রথম পদত্যাগ করলেন। গত মাসে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেন অ্যাবে। এতে পাঁচজন নারী অন্তর্ভুক্ত হন। পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভায় প্রথম কোনো নারী হিসেবে দেশটির অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ওবুচি। জ্বালানি খাতেরও দেখভাল করতেন তিনি।
৪০ বছর বয়সী ওবুচি ছিলেন তারকা মন্ত্রী। কিন্তু গত সপ্তাহে অভিযোগ ওঠে, তাঁর কর্মীরা রাজনৈতিক তহবিলের এক কোটি ইয়েনেরও অধিক অর্থ রূপচর্চা ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীসহ অরাজনৈতিক কাজে ব্যয় করেছেন। এ ছাড়া তাঁর নির্বাচনী এলাকার অধিবাসীদের টোকিওতে বাসে করে নিয়ে নামমাত্র খরচে নাটক দেখার জন্য আমন্ত্রণ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। একে ‘ভোট কেনা’ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা।

সূত্র- প্রথম আলো।

প্লাষ্টিকে মুড়ানো নবজাতকের লাশ! অন্যদিকে অপারেশনের পর বাচ্চা নেই!!

প্রসব ব্যথায় হাসপাতালে নেয়া হয় রেবেকা বেগমকে। ভর্তির পর হলো অস্ত্রোপচার। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানালেন, প্রসূতির পেটে সন্তান নেই। চিকিৎসকের এমন কথা শুনে প্রসূতি রেবেকা হতবাক। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। আর হয়রানির ভয়ে হতাশ স্বজনরাও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ অক্টোবর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসকের এমন কথায় বিশ্বাস করতে পারছেন না অনেকেই।

এদিকে হাসপাতালের ১নং গেইটের পাশ থেকে গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো ছিলনবজাতকটি।

এ ঘটনায় পরে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটির মৃতদেহটি হাসপাতালের হিমাগারে রয়েছে বলে জানায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

১৩ অক্টোবর রাতে অস্ত্রোপচার, পরদিন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো একটি নবজতকের লাশ উদ্ধার- এ দু’টি ঘটনায় কোনো যোগসূত্র আছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারো কারো মুখে শোনা গেছে, ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে হয়তো নবজাতকের মৃত্যু হওয়ায় তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণের আসকর আলীর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা রেবেকা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে ১১ অক্টোবর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ১৫নং ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হলেও পরে সেখান থেকে তৃতীয় তলার ১৪নং ওয়ার্ডে (গাইনী বিভাগে) স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকরা ১৩ অক্টোবর রেবেকা বেগমের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণের পর পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। রাত ৮টায় রেবেকাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অপরারেশন শুরু হয় রাত সাড়ে ১১টায়।

দীর্ঘ সময় ধরে চলে অস্ত্রোপচার। একপর্যায়ে চিকিৎসকসহ অস্ত্রোপচারে সংশ্লিষ্টরা বাইরে এসে রেবেকার স্বজনদের জানান, সিজার করে সন্তান পাওয়া যায়নি!

এতে উপস্থিত লোকজনসহ রেবেকার স্বজনরা হতবাক হয়ে যান। এ ব্যাপারে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সুযোগ দেয়া হয়নি। এ নিয়ে উপস্থিত লোকজনের মনে সন্দেহ দেখা দেয়।

এদিকে চিকিৎসকদের কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না রেবেকা। সন্তানের নড়াচড়া স্পষ্ট অনুভব করেছেন তিনি।

রেবেকা বেগমের স্বামী আসকর আলী গণমাধ্যমকে জানান, অস্ত্রোপচারের পর সন্তান পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকরা জানান। চিকিৎসকদের কথা শুনে অবাক হয়ে যাই। খুবই রহস্যজনক ঘটনা।

এ ব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তার জানা নেই। অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

কিংবদন্তী নারী, ক্যাথেরিন দ্যা গ্রেট

অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। রাশিয়ান ক্রীতদাসদের পক্ষে করা তার কাজ আজও কিংবদন্তী। তিনি রাশিয়াকে ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে গড়ে তুলেছেন, সাহিত্যকে করেছেন পৃষ্ঠপোষকতা। বলছি ক্যাথেরিন দ্যা গ্রেট নামের এক কিংবদন্তী নারীর কথা। ১৭৬২ থেকে ১৭৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাশিয়াতে রাজত্ব করেছেন। রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশি সময় রাজত্ব করা এই নারী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন একজন সফল শাসক। তার শাসন আমলে রাশিয়া একদিকে হয়েছে শক্তিশালী, অপরদিকে শিক্ষা আর প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে অনেকটা পথ।
বর্তমান পোল্যান্ডের ভন আনহাল্ট-জার্বস্ট অঞ্চলে ১৭২৯ সালের আগস্ট মাসে জন্ম এই মহীয়সী নারীর। জন্মের সময় তার নাম ছিল সফি ফ্রেড্রিক। ১৭৪৫ সালে তিনি তার নাম পরিবর্তন করে ক্যাথেরিন রাখেন এবং অর্থডক্স খ্রিষ্টান হন। এসময় তিনি রাশিয়ান সিংহাসনের উত্তরাধিকারী পিটার দ্যা গ্রেটের নাতি গ্র্যান্ড ডিউক পিটারকে বিয়ে করেন। শুরুর দিকে রাশিয়ান আদালত ক্যাথেরিনকে সন্দেহের চোখে দেখতো। কারণ একটাই, সে রাশিয়ার মেয়ে নন। রাশিয়ার সংস্কৃতি আর উদার মনোভাবের অভাব ছিল তার আচরণে। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজেকে তৈরি করে ফেলেন রাশিয়ান হিসাবে। আর রাশিয়ান আদালতের সাথে গড়ে তোলেন সুসম্পর্ক। তার জন্ম পরিচয় পেছনে পড়ে যায়। কূটনৈতিক দক্ষতায় তিনি ছাড়িয়ে যান তার স্বামী সম্রাট তৃতীয় পিটারকে। তার স্বামী ছিলেন দুর্বল, শিশুসুলভ আর অপদার্থ ধরনের মানুষ। তাদের মধ্যে সম্পর্কও ছিল দুর্বল। কথিত আছে ক্যাথেরিন এই সময়ে রাশিয়ান আদালতের অনেক শীর্ষ ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। শুরু হয় ক্যাথেরিন দ্যা গ্রেটের রাজত্ব। তার রাজত্বের সীমানা ছড়িয়ে পড়ে বেলারুশ, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ড পর্যন্ত।
ক্যাথেরিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গ্রেগরি পটেমকিন। যদিও তাদের মধ্যে একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, তবুও তা রাজনৈতিক দিক দিয়েও ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পটেমকিনের সামরিক দক্ষতা ছিল অসাধারণ। তিনি রাশিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলের একজন শক্তিশালী নেতা হয়ে উঠেছিলেন। তার সাহায্যেই ক্যাথেরিন ক্রিমিয়ার জয় করেন। আর এই বিজয় রাশিয়াকে ইউরোপের নতুন পরাশক্তি হয়ে উঠতে সাহায্য করে।
জীবনের প্রথম দিনগুলোতেই ক্যাথেরিন উদার মনোভাব নিয়ে বড় হয়ে ওঠে। মানবাধিকার এবং ন্যায় বিচারের পক্ষে ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। বেশ কিছু আইন এবং নির্দেশনা তিনি তৈরি করেন, যা ছিল ঐতিহাসিক আইন। কিন্তু ১৭৬৮ সালের অটোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে তা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। ক্যাথেরিনের সাম্রাজ্য বিস্তার নীতির একটি খারাপ দিক আবির্ভূত হয়। সামরিক খাতে বেশি ব্যয় হওয়াতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয় রাশিয়াতে। ফলে সাধারণ মানুষ রাজ্য বিস্তারের কোন মানে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। ফলে ১৭৭৪-৭৫ সালের দিকে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিদ্রোহের জন্ম হয়। কিন্তু ক্যাথেরিন তার রাজনৈতিক দক্ষতা আর মহত্ব কাজে লাগিয়ে এসব বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হন। তিনি দেশের জনগণের ক্ষমতায়ন এবং অতিরিক্ত অধিকারের ব্যবস্থা করেন। ক্যাথেরিনকে রাশিয়ার অন্য শাসকদের চেয়ে আলাদা করা যায় তার শিক্ষা, শিল্প এবং সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা দেখে। তিনি অধ্যয়নের জন্য ব্যয় করেছেন জীবনের অধিকাংশ সময়। তার সবচেয়ে বড় অবদান হল— তিনিই প্রথম নারীদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনামলে রাশিয়া পান ভলতেয়ার ও Diderot-এর মতো অসাধারণ কিছু সাহিত্যিক। ১৭৯৬ সালে মারা যান মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই রাজনৈতিক নেতা।
 
সূত্র- দৈনিক ইত্তেফাক।

দিন শেষে ভালোভাবে পরিস্কার করুন নিজের হাত

আপনজনদের জন্য রান্নাবান্না ছাড়াও কত কী করেন আপনি। সারাটা দিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকে আপনার হাত। এত সব কাজের মধ্যে হাতেরও চাই যত্ন। হাতের যত্ন প্রসঙ্গে সোনালীস এইচডি মেকআপ স্টুডিও’র রূপবিশেষজ্ঞ সোনালী ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘হাত পরিষ্কার করার জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। একেবারে গরম পানি হাতে ব্যবহার করা ঠিক নয়।’
হাতের যত্নে তিনি দিয়েছেন আরও কিছু পরামর্শ—
পরিষ্কার রাখুন হাত
 হাতে লবণ ঘষে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এতে হাতের ত্বক পরিষ্কার থাকবে।
 সব কাজ যখন শেষ হয়ে যাবে, তখন তরল সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সময় ব্রাশের সাহায্যে হাতের আঙুল ও নখ পরিষ্কার করতে পারেন।
.বিশেষ যত্ন
 কমলালেবুর রস এবং মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে হাতে ম্যাসাজ করুন। তারপর হাত পরিষ্কার করে ফেলুন।
 যাঁদের হাতের ত্বক শুষ্ক অথবা পানি নাড়াচাড়া করার ফলে যাঁদের হাতের ত্বকে শুষ্কভাব চলে আসে, তাঁরা হাতে চিনি এবং অলিভ অয়েলের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। এ মিশ্রণটি তৈরি করতে চা-চামচের চার ভাগের এক ভাগ চিনির সঙ্গে সমপরিমাণ অলিভ অয়েল মেশাতে হবে। মিশ্রণটি ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখলে হাতের শুষ্কভাব দূর হবে। এ ছাড়া বাজারে বিশেষ একধরনের লোশন (ইউসেরিন) কিনতে পাওয়া যায়, হাতের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক মনে হলে এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এ লোশন নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে, এক-দুই দিন ব্যবহার করলে চলবে না।
 হাতের ত্বক তৈলাক্ত হলে শসা অথবা লেবুর রসের সাহায্যে হাত পরিষ্কার করুন।

কাজের মধ্যে
 হাতের ত্বক যেমনই হোক না কেন, বাসন-কোসন ধোয়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। এতে হাতের ত্বক ভালো থাকবে। মাংস কাটার সময়ও গ্লাভস ব্যবহার করুন।

হাতের ত্বক নরম রাখতে
 সব কাজ শেষে হাত ধোয়া ও শুকিয়ে নেওয়ার পর হাতে ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে গ্লাভস পরে থাকতে পারেন। এতে হাতের ত্বক কোমল থাকবে।
 অতিরিক্ত ক্ষারসমৃদ্ধ সাবান ব্যবহার করবেন না।
 দিনে অন্তত চারবার হাত পরিষ্কার করে নিয়ে শুকানোর পর ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
কালো ছোপ যখন হাতে
 বিভিন্ন কারণে হাতে কালো ছোপ হতে পারে। কালো ছোপ দূর করার জন্য হাতে ফেয়ার পলিশ করাতে পারেন। ফেয়ার পলিশ করালে ধীরে ধীরে কালচে ভাব কমে আসবে। আর যেসব সবজি কাটলে হাতে কালচে ভাব আসতে পারে, সেগুলো কাটার সময় গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র- প্রথম আলো।

ফাতিমা হত্যাকান্ডঃ খুনীদের ফাঁসির দাবীতে নয়টি স্থানে মানববন্ধন

410086a20af8e17ad96c348adf4cb8aa-MATHBARIA..PIC..3

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বুখাইতলা হাতেমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাতিমা আক্তারকে (৯) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার উপজেলার নয়টি স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।
সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে উপজেলা সদর, তুষখালী, সাফা, মিরুখালী, গুলিসাখালী, সোনাখালী, সাপলেজা, বেতমোর ও বড়মাছুয়ায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলা সদরে মানববন্ধন শেষে কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান খানের সভাপতিত্বে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবিব, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মল্লিক, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ উল হক, নিহত ফাতিমার বাবা ফুল মিয়া প্রমুখ। মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাক রুহুল আমিন, মানবাধিকার কমিশন পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন পোদ্দার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সংহতি জানায়।
ওসি নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ফাতিমা বুখাইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। ৫ অক্টোবর সকালে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন প্রতিবেশী শাহজাহান জমাদ্দারের বাগান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত ফাতিমার মামাতো ভাই মো. স্বপন (২০) ও তাঁর বন্ধু সুমন জমাদ্দারকে (১৮) গ্রেপ্তার করে।

সূত্র- প্রথম আলো।

অনলাইনে ধারাবাহিক

না, কোনো টিভি চ্যানেলে নয়, ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হবে অনলাইনে। যখন খুশি তখন নির্দিষ্ট সাইটে গিয়ে দেখা যাবে ধারাবাহিক নাটক সাইন আপ। এ রকম একটি উদ্যোগ নিয়ে চালু হচ্ছে নতুন ওয়েবসাইট www.3rdbell.com। যেকোনো সময় দর্শকেরা ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিতে পারবেন আপলোড করা পর্বগুলো। ধারাবাহিকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন রুবায়েত মাহমুদ। তিনি জানান, কেবিন ব্যাগ এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। অনলাইনে ধারাবাহিকের প্রচার প্রসঙ্গে কেবিন ব্যাগ এন্টারটেইনমেন্টের স্বত্বাধিকারী অভিনেত্রী নওশীন বলেন, ‘আমরা দিন দিন অনলাইননির্ভর হয়ে যাচ্ছি। বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি এই মাধ্যমকে। তাই দর্শকদের কথা বিবেচনা করেই অনলাইনে আপলোড করা হবে নাটক। শুধু তা-ই নয়, নানা ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণেরও পরিকল্পনা চলছে।’

নওশীন জানান, সাইন আপ-এর প্রতিটি পর্ব সাত মিনিট করে। আর প্রতিদিন একটি করে পর্ব আপলোড করা হবে সাইটে। দর্শক যেকোনো সময় বসে নতুন ও পুরোনো পর্ব দেখে নিতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরের শেষ দিকে চালু হচ্ছে www.3rdbell.com।

সূত্র- প্রথম আলো।

অদৃশ্য ছাতা!

rupcare_air umbrella

 

অঝোর ঝড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আটকে পড়লেন। চোখ গেল বৃষ্টিমুখোর ঢাকার রাজপথে এক প্রেমিক-প্রেমিকা হাতে হাত ধরে দিব্যি হেঁটে চলেছে। কিন্তু কোনওভাবেই তারা ভেজেনি। এমন দৃশ্য দেখলে অবাক হবেন না। তাদের হাতে রয়েছে ‘অদৃশ্য ছাতা’।
অদৃশ্য ছাতা শুনে পাগলের প্রলাপ বলবেন। কিন্তু না। এর বাস্তব রূপ দিয়েছে চীনের এক বিজ্ঞানী ছোয়াঙ ওয়াঙ। আপনার হাতে থাকবে একটা জাদুছড়ি। জাদুছড়ির সুইচ টিপলেই বৃষ্টি আপনার মাথায় আর পড়বে না।

ছড়ি’। এই ছড়ির তলায় রয়েছে একটি সুইচ ও বায়ু নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যন্ত্র। মাঝখানে রয়েছে লিথিয়াম ব্যাটারি। একদম উপরে আছে পাম্প। সুইচ টিপলে পাম্প থেকে হাওয়া নির্গত হয়। আপনি সুইচের মাধ্যম দিয়ে হাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। বৃষ্টি দিক অনুযায়ী হাওয়ার দিক পরিচালিত করা যায়।

হতে পারে ‘অদৃশ্য ছাতার’? এই ছাতার দাম ভারতীয় মুদ্রায় পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার রুপি। সেপ্টেম্বর, ২০১৫-র মধ্যে বাজারে আসবে ‘অদৃশ্য ছাতা’।

শিশু ধর্ষণকারী গ্রেপ্তার হয়নি তিন সপ্তাহেও, মামলা তুলতে হুমকি!

1402155849.

ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত জাবেদ আলীকে (২৬) গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া জাবেদ মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বলে ওই শিশুর পরিবার জানিয়েছে।

শিশুটির পরিবার জানায়, জাবেদ প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ে শিশুটির বাবা গত শুক্রবার ভোরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ওই শিশুর মা জানান, একদিকে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু, অন্যদিকে ধর্ষণের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি। এ পরিস্থিতিতে সাত ছেলেমেয়ে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। প্রশাসনের কাছে তাঁর প্রশ্ন, ‘তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা এখন কে দেবে? ধর্ষক জাবেদের কি বিচার হবে না?’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের শহীদনগরের সুকুমপট্টিতে ওই শিশুকে ভিডিও গেমস খেলতে দেবে বলে জাবেদ আলী তার ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো হয়। পরদিন সকালে তার মা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জাবেদকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ওই দিনই মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ শিশুটিকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চাঁদনি রূপমের আদালতে মেয়েটির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।

সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, শিগগির মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। জাবেদকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র- প্রথম আলো।

রোহিঙ্গাদের সাথে বিয়ে নিষেধ!!

url.jpg-7
বাংলাদেশিদের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না রোহিঙ্গারা ৷এ ধরনের বিয়ে অবৈধ৷ এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ এ নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করেছে৷

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সে সময় জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের বিয়ের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে৷ সেই আদেশ অনুযায়ী, কোনো কাজি রোহিঙ্গাদের বিয়ে নিবন্ধনে আবদ্ধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

তিনি বলেন, কাজি ছাড়াও যারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হবেন, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে৷অবশ্য এই আদেশ জারির আগে কোনো বিয়ে হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা  তা স্পষ্ট করেননি আইনমন্ত্রী৷

সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগ!

vivah-ballo

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক গ্রামে স্কুলছাত্রীকে (১২) ধরে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা মামলা করার পর বর-কনেকে পুলিশ উদ্ধার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর ওই ছাত্রী মুসলিম ব্লক গ্রামে প্রাইভেট পড়তে যায়। এ সময় রাস্তায় কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করে। পরে তুলাবান উচ্চবিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক নেয়ামত উল্লাহর বাড়িতে ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে ছাত্রীকে কাচালং দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র মো. আলী হোসেনের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই ছাত্রী কিছু বুঝে ওঠার আগেই তুলাবান উচ্চবিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক নেয়ামত উল্লাহ কাজি হয়ে বিয়ে পড়ান। এ সময় ছেলের চাচা আবদুল গফুরকে কনের বাবা ও দাদা মো. মমতাজ আলীকে বরের বাবা সাজানো হয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ছাত্রীর বাবা নারী নির্যাতন আইনে থানায় মামলা করেন। এতে তুলাবান উচ্চবিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক নেয়ামত উল্লাহ, ছেলের চাচা মো. আবদুল গফুর, দাদা মো. মমতাজ আলী ও বর মো. আলী হোসেনকে আসামি করা হয়। মামলার পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মো. আলী হোসেন ও ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। গতকাল শনিবার সকালে দুজনকে রাঙামাটি আদালতে পাঠানো হয়। অন্য তিন আসামিকে পুলিশ আটক করতে পারেনি।
তুলাবান উচ্চবিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক নেয়ামত উল্লাহ (কাজি) বলেন, ‘আমার কাছে কে কোন ক্লাসে পড়ে জানার বিষয় নয়, তারা আমার কাছে জন্ম নিবন্ধনে ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ে বসয় ১৮ দেখানোর পর বিয়ে পড়িয়ে দিই। আমি আদালতেও এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারব।’
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ছেলে ও মেয়েকে উদ্ধার করি। আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।’

-সূত্রঃ প্রথম আলো।

বাচ্চাকে যে জিনিস গুলো অবশ্যই শেখাবেন

dev-bg-home-2
আমাদের পরিবারই হচ্ছে প্রতিটি বাচ্চার প্রথম স্কুল। বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষায় তার জীবনাচারণের মূল ভিত প্রতিষ্ঠা করে। তার আগত ভবিষ্যৎ নির্দিষ্ট হয় এখান থেকেই। সুশিক্ষিত সচেতন বাবা-মা পারেন তার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে। এ জন্য তাদেরকে কিছু বিষয় অবশ্যই পালন করতে হবে তা হলো-

ভাষায় নম্রতা বজায় রাখা : বাচ্চার সঙ্গে সব সময় নম্রতা বজায় রেখে কথা বলা উচিৎ। এতে তার মনের ভিতরে গড়ে উঠবে বিনয় এবং ভদ্রতা। নিচু স্বরে কথা বলার অভ্যাস তাকে সবার কাছে করবে সমাদৃত। উগ্র মেজাজী হতে বাধা দিবে। শান্ত স্বভাবে করবে সব কিছুর সমাধান।

ছায়ার মতো পাশে থাকা : আপনি সব সময়ই সন্তানের পাশে থাকুন ছায়ার মতো। তাকে যেকোন অনাহূত ভবিষ্যতের হাত থেকে রক্ষা করতে একমাত্র আপনারই সচেতনতা দরকার। তাকে সাধ্যেরমধ্যে সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে বড় করুন।তার খাবার, পোশাকসহ আনুসঙ্গিক কোন কিছুতেই কার্পণ্য নয়।এতে বাচ্চার মনেও জন্মাবে অপরের প্রতি মমতা আর ভালোবাসা।

সত্য বলা : মা-বাবার সব সময় সত্য বলার অভ্যাস থাকলে বাচ্চাও সত্য বলা শেখে। তাই ভুলেও কখনো বাচ্চার সামনে কোন লুকোচুরি বা মিথ্যার আশ্রয় নেয়া ঠিক নয়। কারন বয়সটাই তাদের অনুকরণের। যা দেখবে তাই শিখবে।

বিনোদনের সঙ্গে থাকা : সন্তানের হাঁসি নিশ্চিত করতে তার বিনোদনের ব্যবস্থা করুন। তার সঙ্গে খেলুন, কথা বলুন। সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেলে বাচ্চার মধ্যে সামাজিকতা বোধ গড়ে উঠবে। সে আত্মকেন্দ্রিক হবে না। সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলা শিখবে।

ধর্মীয় শিক্ষা : কোন মানুষই বন্ধনের উর্ধ্বে নন। ধর্ম তেমনি এক বন্ধন যা পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনকে বেধে রাখে একই সুতোয়। তাছাড়া পৃথিবীর কোন ধর্মেই হিংসা, হানাহানি বা মানব বিদ্বেসের শিক্ষা দেয় না। তাই শিশু মনকে ছোট বেলা থেকেই একটি নৈতিকতার ছাঁচে গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই।

বাল্যবিবাহ বন্ধ

অপরাজিতা ডেস্ক- নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চাচড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. আনিচুর রহমান জানান, শুক্রবার চাচড়া পশ্চিমপাড়ার সুলতান মোল্যার মেয়ে রহিমা খাতুনের (১৪) সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাহেব আলীর ছেলে আলামিন মোল্যার (১৮) বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. জাকির হোসেন উভয়ের অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। এ সময় ছেলে-মেয়ের বাবাকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

 

সঠিক ভাবে পোষাকের রঙ নির্বাচন

aj_Eid

ফ্যাশনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে পোশাকের রঙ। পোশাকের রঙ নির্বাচন সঠিক হলে ফ্যাশন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফ্যাশন সচেতন প্রতিটি ব্যক্তি পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে রঙ নির্বাচনে তত্পর। পোশাকের রঙ সঠিক হলে নিজেকে মানানসই করে ফুটিয়ে তোলা সহজ হয়ে পড়ে। রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবহাওয়া একটি বিবেচ্য বিষয়। সব মিলিয়ে পোশাকে রঙ এর ছটা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে।

প্রতিটি রঙের একটি নিজস্ব ভাষা আছে এবং যা শরীর ও মনের উপর প্রভাব রাখে। লাল রং শক্তি, কর্মোদ্যোগ এবং পরিবর্তনের প্রতীক। আনন্দ ও সুখের রং কমলা। নিরপেক্ষতা-নির্লিপ্ততা এবং বুদ্ধির রং হলুদ। সবুজ রং ঐক্য, সমবেদনা এবং প্রশান্তির প্রতীক। শান্তির রং নীল। আসমানি রং কল্পনা এবং অনুমানশক্তি বৃদ্ধি করে। বেগুনী রং অনুভূতিশীল এবং শিল্পমনা হতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। প্রতিটি রঙেরই আলাদা আলাদা আবেদন রয়েছে। পোশাকের ক্ষেত্রে রঙের নির্বাচন তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ঋতু বৈচিত্রের উপর রং নির্বাচন করা হয়ে থাকে।

শীতকালে লাল, হলুদ, উজ্জ্বল সবুজ অথবা নীল রং। গরমকালে হালকা গোলাপি, নীল রং। বর্ষাকালে হালকা কাপড়ের গাঢ় রং। বসন্তে গোলাপি, হলুদ, আকাশী অথবা হালকা সবুজ রং ব্যবহার করুন। এছাড়া গায়ের রঙের উপরও রং নির্বাচন করা হয়ে থাকে। যাদের গায়ের রং কালো তারা সবসময় গাঢ় রং এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। ফর্সাদের ক্ষেত্রে অবশ্য সব রঙই মানানসই। তাদেরকে যেকোনো গাঢ় রঙেই বেশি মানাবে। এছাড়া রাতের কোনো উত্সবে যেতে হলে অবশ্যই গাঢ় রং এবং দিনের বেলা হালকা রং আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক হবে। আপনাকে অবশ্যই হাল-ফ্যাশনের দিকে লক্ষ রেখে পোশাক নির্বাচন করতে হবে। তবে সেই সঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে পোশাক যেন আপনাকে সমালোচিত না করতে পারে। আমাদের দেশে সচরাচর যে সকল বর্ণের রং ব্যবহার করতে লক্ষ করা যায় গরমের সময় তার কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটে। এই ব্যতিক্রম মূলত অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার জন্য। আমরা গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন সময় ও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক পরিধান করি। সেসব পোশাকের রং বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে। তবে এ সময় কখনও কখনও ক্ষেত্রবিশেষে পোশাকের রং নির্বাচন করি। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই পোশাকের রং হিসেবে প্রথম পছন্দ আরামদায়ক রং। আসুন জেনে নিই কোন অবস্থায় কেমন রং আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে।

ফ্যামিলি পার্টিতে

পার্টির পোশাক তুলনামূলক গর্জিয়াস হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পোশাকের রং উজ্জ্বল বর্ণের হলেই ভালো। তবে গরমের সময় রাতের বেলায় আবহাওয়া কিছুটা শীতল থাকে। সে সময় পোশাকের রং হাল্কা উজ্জ্বল হলে ততটা সমস্যাদায়ক হয়ে ওঠে না। ফ্যামিলি পার্টিতে গাঢ় বর্ণের পোশাক পরিধান স্বস্তিদায়ক এবং বেশ আকর্ষণীয় হয়। হাল্কা মেরুন, গাঢ় স্কাই, মেজেন্ডা, সিলভার, বলটপ গ্রিন, গাঢ় গোলাপি, মাটি বর্ণের রং এ ধরনের পার্টির পোশাকে ব্যবহার করা যেতে পারে; যা পরিধানে আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং মানানসই হবে।

বেড়াতে যাবার সময়

বেড়াতে গেলে সাধারণত বেশ কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করতে হয়। দীর্ঘভ্রমণ ও ভিন্ন আবহাওয়া তখন বেশ ক্লান্ত করে তোলে। তাই এ ক্ষেত্রে আরামদায়ক রঙের পোশাক পরিধান বেশ কার্যকর। যার ফলে স্বতস্ফূর্তভাবে বেড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া বেশ গরম থাকায় মানানসই ও হাল্কা বর্ণের পোশাক পরিধান বেশ প্রাণবন্ত করে তুলবে আপনাকে।

অফিসের ক্ষেত্রে

সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অফিসে তুমুল কর্মব্যস্ত থাকতে হয়। আর গরমে মানুষ এই কর্মব্যস্ততার মধ্যে হাঁপিয়ে ওঠে। এ সময়টুকু যদি আরামদায়ক রঙের পোশাক পরিধান করা না হয়, তাহলে গরম আবহাওয়া প্রচণ্ডভাবে দেহ ও মনকে বিধ্বস্ত করে তুলবে। আবহাওয়ার প্রতি লক্ষ রেখে অফিসের পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাদা, পেস্ট, অ্যাশ, লাইট স্কাই, ঘিয়ে, মিষ্টি গোলাপি ইত্যাদি রং প্রাধান্য দিতে হবে। বিশেষ করে হাল্কা বর্ণের পোশাক পরিধানে সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তিতে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দেয়। অফিশিয়াল পোশাকের ক্ষেত্রে ফুল স্লিভ শার্ট, থ্রি-পিস ইত্যাদি ব্যবহার করতে হয়। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের হাল্কা বর্ণের পোশাক বেশ মানানসই করে তোলে।

ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে

সাধারণত ক্যাম্পাসের পোশাক হিসেবে অধিকাংশ ছাত্ররা শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট এবং ছাত্রীরা থ্রি-পিস পরিধান করে থাকে। দীর্ঘক্ষণ ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হয় তাদের। সাধারণত অধিকাংশ ক্যাম্পাসের ক্লাস হয় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। গ্রীষ্মকালে এ সময় প্রচণ্ড তাপদাহ থাকে। তাই গরম আবহাওয়া সবাইকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পোশাকের রং নির্বাচন অতি জরুরি। হাল্কা বর্ণের পোশাক পরিধানে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়। হাল্কা সবুজ, সাদা, অ্যাশ, হলুদ, গোলাপি, ঘিয়ে, কলাপাতা বর্ণের পোশাক পরিধান করলে গরম আবহাওয়ায় বেশ প্রফুল্ল মনে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা যায়। হাল্কা বর্ণের পোশাকের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম থাকায় গরম আবহাওয়ায় দেহকে বেশ শীতল রাখে। তাই হাল্কা বর্ণের পোশাক গ্রীষ্মকালে পরা তাই বেশ আরামদায়ক।

আড্ডার ক্ষেত্রে

তরুণ প্রজন্ম মানেই আড্ডাপ্রিয়। এ সময় বিভিন্ন সাম্প্রতিক ও শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে তারা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বিকেল বা সন্ধ্যায় আড্ডায় মেতে ওঠে। এ সময় আবহাওয়ায় কিছুটা ঠাণ্ডা পরিলক্ষিত হয়। আবহাওয়ায় গরম না থাকায় পোশাক পরিধানে তেমন সমস্যা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণদের আড্ডার সময় হাফ স্লিভ টি-শার্ট পরিধান করতে লক্ষ করা যায়। এ সকল টি-শার্টের রং হয় সাধারণত হোয়াইট, পেস্ট, পেক্টোল, ক্রিম, বিস্কিট, সিলভার, ফিরোজা, হলুদ, হাল্কা সবুজ। বিকেল ও সন্ধ্যায় আড্ডার সময় এ সকল রঙের হাফ স্লিভ টি-শার্ট পরিধানে নিজেকে বেশ প্রাণবন্ত ও উত্ফুল্ল ভাবে উপস্থাপন করা যায়। যা আড্ডাকেও বেশ আনন্দঘন করে তোলে।

আরো কিছু টিপস

 আপানার গায়ের রং, উচ্চতা, ওজন সবকিছুর সাথে মিলিয়েই পোশাক নির্বাচন করুন।

 অনেকের থাই মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে টাইট সালোয়ার না পরে, সেমি ফিট বা ঢোলা সালোয়ার পরা উচিত। তাদের লেগিংস এড়িয়ে চলাই ভালো।

 অনেকের হাত শুধু মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে ছোট হাতার পোশাক না পরে কোয়ার্টার বা লং হাতার পোশাক পরা উচিত।

 মোটা হলে শাড়িতে কুচি একটু কম দিতে হবে, আঁচল বড় রাখতে হবে। চিকন হলে কুচি বেশি দিতে হবে।

 ব্লাউজের ক্ষেত্রে যারা মোটা, তারা ছোট প্রিন্টের বা চেকের স্ট্রেইট কাটের থ্রিকোয়ার্টার ব্লাউজ পরতে পারেন।

 যাদের কাঁধ চওড়া তারা ভি শেপের গলা দিতে পারেন। এতে চওড়া কম দেখাবে। পোশাক আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং আপনি হয়ে উঠবেন নিজ ভুবনে অনন্য।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

পিডোফেলিয়া, পর্নোগ্রাফি ও শিশু পর্নোগ্রাফি আইন

কোন সংবাদটি আমাদের পীড়িত করছে বেশি? বাংলাদেশে শিশুপর্নো-বাণিজ্য? নাকি একজন শিশুসাহিত্যিক টিপু কিবরিয়ার শিশুপর্নো-বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতা? কোনো সন্দেহ নেই দ্বিতীয় খবরটি আমাদের ভয়াবহ নাড়া দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ পর্নোগ্রাফিমুক্ত, এমন ধারণা কারও থাকলে তাকে অসচেতন নাগরিক বলা চলে। একটা বুলেট প্রশ্ন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও। সব সংবাদেই এসেছে, ইন্টারপোলের রিপোর্টের পরই বাংলাদেশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে এবং টিপু কিবরিয়াকে তার শিশুপর্নো উৎপাদন ডেরায় হাতেনাতে আটক করে।

আশ্চর্যজনক হল, এদেশে শিশুপর্নোর পেশাদার চক্র আছে, এদেশ থেকেই শিশুপর্নো পাচার হচ্ছে, এদেশের শিশুদের পর্নোগ্রাফি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে সজাগ-সক্রিয় নয় কেন?

বিকারগ্রস্ত যৌনতায় শিশুদের অপব্যবহার নতুন কিছু নয়। যেমন, বিলুপ্ত ঘেটুদলের, বিশেষত বালকদের যৌননিপীড়ন করা হত। যখন অনলাইন প্রযুক্তিনির্ভরতা ছিল না, তখন সিনেমা হলে ‘কাটপিস’ জুড়ে পর্নোগ্রাফি চলেছে। টু-জি প্রযুক্তি বিস্তারকালে উপযুক্ত আইনি কাঠামো না থাকায় সাইবার ক্যাফে, মোবাইল ফোন, অনলাইন সাইটে পর্নোগ্রাফি ছড়াতে থাকে দুষ্টক্ষতের মতো। এর ধরন দুটো– অ্যামেচার পর্নোগ্রাফি ও পর্নোগ্রাফি সিন্ডিকেট। অ্যামেচার পর্নোগ্রাফিতে নারীর অসম্মতিতে মোবাইলে, গোপনে ধারণকৃত ভিডিও আপলোড করে নারীর পারিবারিক-সামাজিক অবস্থান হেয় করার চেষ্টা থাকে। পর্নোগ্রাফি সিন্ডিকেট মূলত শক্তিশালী পর্নোগ্রাফি বাণিজ্যচক্র।

rape victim - 2

ধরণ যাই হোক না কেন, যৌনবিকারগ্রস্ত ব্যক্তিরা সহজেই এসব অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে– পর্নো ভোক্তা হিসেবে, পর্নোব্যবসায়ী হিসেবে। গুগলে ‘বাংলায়’ অনেক ধরনের কী-ওয়ার্ড খুঁজতে গেলে যে ধরনের সার্চ রেজাল্ট আসে তা বিব্রতকর। পর্নোর লিখিত (বাংলায়) সংস্করণ যাকে ‘চটি’ বলা হয় তা অনলাইনে মহামারির মতো বিস্তৃত। ফেক্সিলোডের মতো মোবাইলে পর্নোগ্রাফি লোড করে নেওয়া যায়।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলাজনিত সংবাদগুলোতে বহুবার উঠে এসেছে স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা। পরিণতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েদের বেছে নিতে হয়েছে আত্মহননের পথ। গ্রামাঞ্চলে ও শ্রমিক শ্রেণির বিনোদনে পর্নো সহজ্যলভ্য হয়ে যাওয়ায় পর্নো-আসক্ত কমিউনিটি গড়ে উঠছে ক্রমাগত।

শিশুরাও এই আসক্তিমুক্ত নয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যম গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়ংকর পরিসংখ্যান। ৮২ শতাংশ শিশু মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখে থাকে। ক্লাসের মাঝে মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখে শতকরা ৬২ জন শিশু। পর্নোগ্রাফি আসক্তি উঠতি বয়সের এই শিশুদের মানসিক ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটাবে তো বটেই, অনুসন্ধিৎসু আচরণ এদের ‘ভিকটিম’ হওয়ার পথ করবে সুগম।

সুনির্দিষ্টভাবে শিশুদের সঙ্গে যৌনাচার প্রসঙ্গে মেডিকেল সায়েন্স পিডোফেলিয়া (Paedophilia) টার্মটি ব্যবহার করে থাকে। পিডোফেলিয়া হচ্ছে শিশুদের প্রতি তীব্র যৌনমনোকাঙ্ক্ষা, যা অবশ্যই মানসিক বিকারগ্রস্ততা। যারা পিডোফাইল (Paedophile), তারা চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইট ছাড়াও ফেসবুকে শিশুদের প্রোফাইল, ছবি থেকে তাদের পরবর্তী শিকার বেছে নেয়। মিশ্র চরিত্রের পিডোফাইল বয়স্ক এবং শিশু উভয়ের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে থাকলেও, এমন পিডোফাইল আছে যারা কেবলমাত্র শিশুদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে আগ্রহী হয়।

বস্তুত শিশুরা পিডোফাইল দ্বারা যৌননির্যাতনের (Child molestation) শিকার হয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলে, আপনার প্রতিবেশিটিও একজন পিডোফাইল হতে পারে। ছেলেশিশু এবং মেয়েশিশু উভয়েই পিডোফাইল দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ২০০৩ সালে ব্রিটিশ পুলিশের একটি বিশেষ দল জানিয়েছিল, তারা মাত্র ৪ সপ্তাহে ১০০ জনকে শিশুপর্নোগ্রাফি ডাউনলোডকালে গ্রেপ্তার করেছে। মুম্বাইতে এক সুইস দম্পতি পুলিশ কর্তৃক ধৃত হয়, যারা বস্তির ছেলেমেয়েদের আপত্তিকর ভঙ্গিমায় ছবি তুলতে বাধ্য করত। এ সব ছবি বিশেষত পিডোফাইলদের জন্য তৈরি পর্নোসাইটগুলোতে প্রকাশিত হত।

ব্রিটেনের আইনি ইতিহাসে অপারেশন ওরে (Operation Ore) কে সর্ববৃহৎ অপরাধ তদন্ত বলে গণ্য করা হয়। এই তদন্তে অসংখ্য ক্রেডিট কার্ড চিহ্নিত হয়েছিল, যেগুলো শিশুপর্নোগ্রাফি ক্রয়ে ব্যবহৃত হত। এই তদন্তে সন্দেহভাজন তালিকায় পুলিশ অফিসার, ডাক্তার, সেলিব্রেটিরাও ছিল। ২০১২-২০১৩ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি তদন্ত টিম ২৫ থেকে ৭২ বছর বয়সী ৩৮৪ জন অপরাধীকে আটক করে যাদের মধ্যে ডাক্তার, নার্স, এমনকি যাজকও ছিল। সাড়ে তিন লাখ স্থিরচিত্র এবং ৯০০০ ভিডিওচিত্র জব্দ করা হয় তদন্তে। ভারতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির আর্মি অফিসারও চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে জড়িত থাকায় ধৃত হয়।

শিশু পর্নোগ্রাফির দ্রুত বিস্তার জাপানকে নাজুক পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে। ২০১০ সালে জাপানে শিশুপর্নোগ্রাফির হার ছিল ৪০ শতাংশ। ইইউ-এর জরিপ মতে, ২০০৮ সালে ১০০০ বাণিজ্যিক ও ৫০০ অবাণিজ্যিক শিশুপর্নো সাইট চিহ্নিত করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় বিকারগ্রস্তরা যৌনবৈচিত্র্য খুঁজে নিচ্ছে পর্নোসাইটগুলোতে। শিশুপর্নো বা চাইল্ড পর্নোগ্রাফি নিয়ে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট এভাবে তাদের নেটওয়ার্ক প্রসারিত করছে।

আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্তে পিডোফাইল, পর্নোগ্রাফি, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, পর্নোগ্রাফি আইন নিয়ে নানাবিধ কেসস্টাডি, পরিসংখ্যান, মন্তব্য, সরকারি উদ্যোগ চোখে পড়ে। বাংলাদেশে পিডোফাইল সংক্রান্ত একাডেমিক গবেষণা সমৃদ্ধ নয়, এটা অনলাইন ঘাঁটলে বোঝা যায়। শিশু পর্নোগ্রাফি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায় না।

একটি জাতীয় দৈনিকে ২০১১ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, বাংলাদেশে ৬.৬ শতাংশ ছেলেশিশু এবং ১৫.৩ শতাংশ মেয়েশিশু যৌননিপীড়নের শিকার হয় বন্ধু, শিক্ষক, আত্মীয়, পরিচিতজন কর্তৃক। আশংকার বিষয় হল, অধিকাংশ ঘটনা থানা-পুলিশ পর্যন্ত নথিভুক্ত হয় না।

সরকারি ওয়েবসাইট থেকে (নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫) শিশুনির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, যা মূলত জাতীয় দৈনিকগুলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের সংকলন, কোনো সরকারি জরিপ নয়। নিচের চিত্রে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের ‘শিশু’ কলামগুলোতে শিশুনিপীড়ন পরিসংখ্যান রয়েছে। শিশুনিপীড়নের পাঁচটি প্রকরণের মধ্যে প্রথম চারটিই শিশুর উপর শারীরিক ও যৌন আক্রমণজনিত।

Chart

দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ ভাগ শিশু। এদের শৈশব-কৈশোরের নির্মলতা রক্ষা করা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের দেশে প্রচলিত ধারণা আছেই, দেশে আইন আছে বাস্তবায়ন নেই। কিছু আনুষ্ঠানিক নীতিমালা, আইন, সনদে শিশুদের নিয়ে তৎপরতা দেখা গেলেও বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অজ্ঞতা রয়েছে। এক নজরে নিচের তালিকা থেকে জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশে শিশুদের জন্য কী ধরনের আইন, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম রয়েছে।

– শিশু আইন, ২০১৩

– জাতীয় শিশু নীতি ২০১১

– নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫

– জাতীয় শিশুশ্রম নীতি-২০১০

– নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল

– শিশু আদালত

– নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০

সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ এ শারীরিক নির্যাতনের বিবরণে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শরীরের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যৌনহয়রানির তালিকায় রয়েছে পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন এবং স্থির অথবা ভিডিওচিত্র ধারণ। পর্নোগ্রাফি, মোবাইলে পর্নো ছবি ধারণ প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ বিধায় প্রযুক্তি আইন বা সাইবার আইনের শাখায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে। কিন্তু এতে যে পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধি পাবে তা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতি কী? দুটো আইন উল্লেখ করতে হয়–

– পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২

– তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬

তথ্য ও প্রযুক্তি (সংশোধিত) আইন ২০১৩

আমেরিকায় ফেডারেল আইনের আওতায় চাইল্ড পর্নোগ্রাফি আইনকে আনা হয়েছে। জার্মানি দ্রুততার সঙ্গে আইন প্রণয়ন করে শিশু পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০০৯ সালে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনে কেবল শিশু পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও প্রচারই নয়, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট দেখাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ‘নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধকল্পে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে’ প্রণীত পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এ দণ্ডবিধির ৮(৬) ধারায় শিশু পর্নোগ্রাফি বিষয়ক শাস্তি বর্ণিত রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে পর্নোগ্রাফি ও চা্ইল্ড পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিধি যুক্ত নেই। প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে, অপরাধ-অপরাধী শনাক্তকরণ, তদন্ত প্রক্রিয়া, বিচার প্রক্রিয়া, ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিতে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি নিয়ে সয়ংসম্পূর্ণ আইন প্রস্তাব-প্রণয়ন-বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আবেদন জানাই ।

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায়, অপরাধীরাও আধুনিক পদ্ধতিতে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ পায়। অনেক ক্ষেত্রেই ‘অ্যানোনিমিটি’ রক্ষার্থে টর নেটওয়ার্কের (Tor network) আওতায় চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলো পরিচালিত হয়। তাই সরকারকে উন্নত প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে। পর্নোগ্রাফির এই ক্যান্সার সমাজকে আরও অসুস্থ করার পূর্বেই আন্তর্জাতিক কেস স্টাডির পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে গৃহিত বৈশ্বিক ব্যবস্থাগুলোর মডেল অনুসরণ করা সরকারের অবশ্য করণীয়। সরকারের আশু যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা হল–

(১) সাইবার ফরেনসিক ল্যাব গঠন। সন্দেহভাজন ‘আইপি বা সার্ভার অ্যাকটিভিটি’ পর্যবেক্ষণ করতে উন্নত ‘সিসটেম বা সফটওয়্যার’ দরকার। এ ধরনের ল্যাবে সাইবার অপরাধের ‘ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস’ করা সহজ হবে।

(২) শিশু পর্নোগ্রাফি সম্বলিত সাইট আটকে (Block) দিতে আইএসপি (Internet Service Provider) গুলোকে নির্দেশ প্রদান।

(৩) সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শিশু পর্নোগ্রাফি, পিডোফেলিয়া বিষয়ে গবেষণা ও পরিসংখ্যান প্রস্তুতকরণ।

(৪) ১৮ বছরের পূর্ব পর্যন্ত শিশুদের মোবাইল, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধায়ন নিশ্চিত করা।

(৫) শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে বিশেষ টিম গঠন এবং এ ধরনের টিমে শিক্ষক ও মনোচিকিৎসক অন্তর্ভূক্তিকরণ।

(৬) গুগল সার্চ বক্সে যে শব্দ লিখলে শিশু পর্নোগ্রাফির লিংক, ভিডিও বা অবৈধ কোনো ওয়েবসাইটে চলে যাওয়া সম্ভব এ ধরনের ১৫০ ভাষার এক লাখ সার্চ শব্দকে সরিয়ে ফেলার কথা জানিয়েছিল গুগল। ধারণা করা হয়, এর বাস্তবায়নে শিশু পর্নোগ্রাফি বিক্রেতাদের ব্যবসা ৩০ শতাংশ কমে যাবে। বাংলা ভাষায় পর্নোগ্রাফি সাইট সার্চ রোধে গুগলের সহায়তা নিতে প্রস্তাব করা যেতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে।

(৭) শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে ব্রিটেন-আমেরিকা জোটবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেরও দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক পর্যায়ে এবং অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের জোটে শরিক হওয়া আবশ্যক।

(৮) সাইবার জগৎ একটি সীমানাহীন বিশ্ব। সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি চক্র প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট নির্ভর হওয়ায়, এর পরিচালনা, বিস্তার, প্রভাব, ক্ষতি পৃথিবীর যে কোনো স্থানে হতে পারে। তাই সরকারকে মূলত কাজ করতে হবে ‘ক্রস-বর্ডার সাইবার ল’ (Cross Border Cyber Laws) গঠনে।

(৯) সামাজিক, মানসিক সুস্থ বিকাশ ব্যতীত অপরাধ প্রবণতা বাড়তেই থাকবে। সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার স্লোগানের পাশাপাশি ‘সাইবার ইথিকস’ নিয়ে সচেতনতা গঠন আবশ্যক।

(১০) বাংলাদেশও যোগ দিক ইউনিসেফ (জাপান)-এর ‘নো’ (No) ক্যাম্পেইনে। আমরাও সচেতন স্লোগান তুলি, শিশু পর্নোগ্রাফিকে ‘না’ বলুন [Say ‘No’ to Child Pornography]।

ফিরে আসা যাক পিডোফেলিয়া প্রসঙ্গে। একজন পিডোফাইল নিশ্চিতভাবেই মানসিকভাবে অসুস্থ। শিশুকালের তিক্ত অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ব্যর্থতা– এমন অনেক কারণে এই মানসিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। পিডোফাইলদের চিকিৎসাও হয়। তবে একজন পিডোফাইল কতটা আক্রান্ত তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসা সফলতা। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনি শাস্তি প্রযোজ্য না চিকিৎসা?

একজন কারগার মনোচিকিৎসক (Dr. Mace Knapp, Nevada State Prison Psychologist) বলেছেন, শিশুকে যৌননির্যাতনকারীর আর একজন সিরিয়াল কিলারের ব্যক্তিত্বে একই বৈশিষ্ট বিদ্যমান। একটি মতবাদ আছে, পিডোফাইল মাত্রই একজন শিশুনিপীড়ক, তবে শিশুনিপীড়ক মাত্রেই পিডোফাইল নয়। আইনি কার্যক্রমে অপরাধীর মানসিক অবস্থা চিকিৎসক কর্তৃক পরীক্ষিত হলে এ নিয়ে দ্বিধান্বিত হওয়ার সুযোগ কম।

শিশুকে যৌন নির্যাতনকারীর, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি উৎপাদনকারীর দ্রুত বিচার পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্তি ঘটুক।

আইরিন সুলতানা: ব্লগার।

তথ্যসূত্র:

http://www.bbc.com/news/magazine-20237564

http://www.crisisconnectioninc.org/sexualassault/pedophilia_and_molestation.htm

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=1119

http://www.mowca.gov.bd/wp-content/uploads/Bangla-National-Actional-Plan-2013-2025.pdf

http://www.mowca.gov.bd/wp-content/uploads/Bangla-National-Actional-Plan-2013-2025.pdf

http://www.smh.com.au/national/348-arrested-in-global-child-porn-investigation-20131115-2xke5.html

http://www.thehindu.com/news/army-officer-arrested-for-child-pornography/article424433.ece

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=1091


http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=950

http://zeenews.india.com/news/net-news/us-dismantles-huge-international-child-porn-website_918868.html

http://daffodilvarsity.edu.bd/nccis/pdf/TS2_Paper_05.pdf

http://www.crisisconnectioninc.org/sexualassault/pedophilia_and_molestation.htm

http://www.unicef.org/infobycountry/japan_46426.html

৪০ লাখ রুপীর শাড়ি!!

1413284541Shary

 

মিডিয়া ডেস্ক : বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীতা আম্বানি আইপিএল সিজনের পর আবার সংবাদ শিরোনামে চলে এসেছেন। হবে নাই বা কেন। ভারতীয় ফুটবলের এক অভিনব উদ্যোগ আইএসএল যে তারই ব্রেন চাইল্ড! কিন্তু এই সবের বাইরেও নীতা আম্বানির নাম সংবাদ শিরোনামে অনায়াসেই চলে আসতে পারে।

কেন? কারণ, একটি শাড়ি পরেই তিনি নাম লিখিয়েছেন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ। কীভাবে? বেশ কয়েকদিন আগে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-এর গ্রুপ সিইও পরিমল নাথওয়ানির ছেলের বিয়েতে তিনি যে শাড়িটি পরে গিয়েছিলেন তার মূল্য মাত্র ৪০ লাখ রুপি!

কী এমন আছে সেই শাড়িতে? এই শাড়িটি ডিজাইন করেছেন চেন্নাই সিল্কের ডিরেক্টর শিবালিঙ্গম। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী রাজা রবি বর্মার এগারোটি ছবি এই শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাতে বোনা এই শাড়িটি শেষ করতে এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন ৩৬ জন শিল্পী।

শাড়িটি তৈরি হয়েছে কাঞ্চিপুরমের চেন্নাই সিল্ক মিলের কর্মশালায়। নামটিও খাসা বিবাহ পাতু। ওজনও নেহাত কম নয়! ৮ কেজি ওজনের এই শাড়িটির ব্লাউজে রয়েছে নাথদ্বারার ছবি। এখানেই শেষ, নয়। সোনার সুতোয় বোনা এই শাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন মূল্যবান রত্নও! সূত্র : টাইমস

কাজে সৃজনশীলতা সফলতার গুরুত্বপূর্ণ সোপান

একটা কোম্পানি নতুন সিইও বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। বর্তমান দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্য থেকেই একজনকে সিইও করতে চাচ্ছে কোম্পানিটি। দুজনই স্মার্ট, অভিজ্ঞ ও সম্ভাবনাময়। কোম্পানিতে হঠাৎ বাজেট ঘাটতি দেখা দেওয়ায় একজন তাঁর বিশ্লেষণী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খুঁজে বের করলেন কোথায় কোথায় খরচ কমানো যেতে পারে। আরেকজন হিসাব করে দেখালেন কী কী উপায়ে নতুন সুযোগ তৈরি এবং আয় বাড়ানো সম্ভব। এ অবস্থায় দুজনের কাকে সিইও বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে কোম্পানিটি?

এমন পরিস্থিতিতেই ওই কোম্পানিটি পরামর্শক হিসেবে ডেকেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথের ‘টাক স্কুল অব বিজনেস’-এর কৌশল ও নেতৃত্ববিষয়ক অধ্যাপক সিডনি ফিনকেলস্টাইনকে। পেশাগত জীবনে সৃজনশীল হওয়ার গুরুত্ব বিষয়ে মতামত তুলে ধরতে গিয়ে ‘বিবিসি ক্যাপিটাল’-কে এ ঘটনা জানিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক ও পরামর্শক ফিনকেলস্টাইনের এই লেখা থেকে জেনে নিতে পারেন সৃজনশীলতা কীভাবে পেশা জীবনে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে আর সৃজনশীল হয়ে উঠতে একজন ব্যক্তি কী-ই বা করতে পারেন।

পাঠক নিশ্চয়ই ভাবছেন ওই কোম্পানিটির সিইও বাছাই প্রক্রিয়ায় ফিনকেলস্টাইন কার পক্ষে মত দিয়েছিলেন? তাঁর মুখ থেকেই শুনি বাকি গল্পটাও। ‘দুই প্রার্থীর বিষয়ে কোম্পানিটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ছিল না। কিন্তু আমার বাজি অবশ্যই খরচ কমানোর জন্য কাটছাঁটের পরামর্শ দেওয়া বিশ্লেষক নেতার পক্ষে না গিয়ে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে চাওয়া সৃষ্টিশীল নেতার পক্ষেই ছিল।’

সৃজনশীল মানুষেরাই সৃজন করেন
যেসব কর্মীরা দুই ধরনের নেতার সঙ্গেই কাজ করেছেন তাঁরা সবাই-ই জানেন যে, কাটছাঁট করার চেয়ে নতুন কিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করাটাই অনেক বেশি আনন্দের ও চ্যালেঞ্জের। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টেকসই উন্নয়নের জন্য সৃজনশীলতাই একমাত্র পথ। কাটছাঁট করে সাময়িকভাবে মুনাফা বাড়িয়ে ব্যবসায়ের অংশীদারদের সন্তুষ্ট রাখা যেতে পারে কিন্তু এর চেয়ে বেশি এগোনোর সুযোগ নেই।

কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, তিনি বিশ্লেষণী ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছেন, সৃজনী ক্ষমতা নিয়ে নয়, তাই তাঁর পক্ষে ওই পথে পা বাড়ানোর সুযোগ নেই। অনেকেই এমন ভেবে থাকেন। কিন্তু সৃজনশীলতার চমত্কার গোপন রহস্যটি হলো, এটা শেখা যায়, এটা শিখতে হয়, এটা চর্চা করতে হয়। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই সম্ভাবনা আছে সমস্যা মোকাবিলায় নতুন সব চিন্তা হাজির করার, নতুন ভাবনা হাজির করার, বিশ্বটাকে ভিন্নভাবে দেখার। কিন্তু সাহস করে চেষ্টা শুরু না করলে সেটা বোঝা যাবে না।

সময় দিন, সময় কাজে লাগান
বিষয়টা এমন না যে, আপনি নিজেকে একটা ঘরে আটকে রাখলেন আর কোনো একদিন হঠাৎ অপার সৃজনী ক্ষমতা নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। একটা বিষয় সামনে এলে সেটার পেছনে সময় দিন। বিষয়টা নিয়ে ভাবতে শুরু করুন। ভাবনা যেমন আপনাকে তাড়া করে বেড়াবে, তেমনি আপনিও ভাবনাকে তাড়া দিয়ে বেড়ান। ভাবতে থাকলে কোনো একসময় হঠাৎই সে আপনার কাছে ধরা দেবে। কেউ কেউ আছেন, সকালে আনমনে দাঁত মাজতে মাজতেই ভাবনার জগতের সোনা-রুপার কাঠিটা হাতে পেয়ে যান। কেউ কেউ হয়তো সেটা পান ঘুমোতে যাওয়ার সময় বিছানায় শুয়ে ভাবতে ভাবতেই।

এভাবে হঠাৎ আলোর দেখা পেয়ে গেলে কেউ কেউ কাগজ-কলম হাতে নিয়ে নোট করতে বসে যান সেগুলো টুকে রাখার জন্য। আবার কেউ কেউ মনে করেন, টোকাটুকির পেছনে ছুটতে গিয়ে তাঁদের ভাবনার ঘোরটাই টুটে যেতে পারে। তাই তাঁরা ভাবনাটাকে আপন মনে গড়াতে দেন আর ভাবনার আরও গভীরে ঢুকে যান, বিষয়টি আত্মস্থ করে ফেলেন। কাজের জগত্টাকে সৃজনশীল করতে হলে তা নিয়ে ভাবতে হবে, সময় দিতে হবে।

সহজ কিছু প্রশ্ন দিয়ে শুরু করুন
তাহলে কি আমরা সৃজনশীল হওয়ার ভাবনায় মজে থাকব আর অপেক্ষা করব, কবে সেই সোনার হরিণ ধরা দেবে! মোটেই না। আমাদের চেষ্টা করতে হবে। হাতের সামনে যে কাজ আসবে, তা নিয়েই শুরু করতে হবে। ওই কাজ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নোত্তর দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।

১. কাজটাকে কীভাবে ভিন্নভাবে করা যেতে পারে, ভিন্ন মাত্রা দেওয়া যেতে পারে?
২. এই কাজে আপনার প্রয়োজন মেটানোর জন্য কীভাবে অন্যদের ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়?
৩. আপনার পণ্য বা কাজের মধ্যে আপনি নতুন কি যুক্ত করতে পারছেন?
৪. আপনি কী কী বাদ দিতে পারেন, দূর করতে পারেন?
৫. নতুন কিছু তৈরি করার জন্য, কাজের প্রক্রিয়া বা ধরনটাকে আপনি কীভাবে পাল্টাতে পারেন?

এই প্রশ্নগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে কিংবা এর বদলে আরও ভিন্ন ভিন্ন কিছু প্রশ্ন হাজির হতে পারে। কিন্তু আপনাকে কোনো কিছুর উত্তর খুঁজে পেতে হলে তো প্রশ্ন দিয়েই শুরু করতে হবে। তা-ই করুন। যে কাজের মুখোমুখি হয়েছেন তা নিয়ে যতভাবে পারেন নিজেকে প্রশ্ন করুন। এর পরে কাজ কেবল বানের জলের মতো আসতে থাকা উত্তরের স্রোতটাকে নিয়ন্ত্রণ করা, সেটাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া। সত্য কথাটা হলো, শিখতে চাইলে আর শেখার চর্চাটা করলে যে কেউই সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারেন। আর এই শেখার কাজটাও অনেকে অনেকভাবেই করতে পারেন। আসলে সৃজনশীল হতে হলে সৃজনশীল হওয়ার চেষ্টা করা ছাড়া আর কিছুই করতে হয় না!

সহজেই তৈরী করুন মনমা্তানো সৌরভ সমৃদ্ধ এয়ার ফ্রেশনার

ঘরে ঢুকেই মন ভালো হয়ে যায় যদি পুরো ঘরে থাকে মনোমুগ্ধকর সুঘ্রাণ। পুরো দিনের ক্লান্তি এবং মানসিক চাপও এক নিমেষে দূর হয়ে যায় একটি ভালো সুগন্ধে। একারণে অনেকেই ঘরে ব্যবহার করেন এয়ার ফ্রেশনার। কিন্তু বাজারের কৃত্রিম এইসব এয়ার ফ্রেশনার আপনার পছন্দের সুঘ্রাণের হয় না এবং বেশির ভাগ সময়েই দেখা যায় ঘ্রাণটি ভালো লাগছে না কিছুক্ষণ পরেই। তাছাড়া অতিরিক্ত দাম তো আছেই।

এই সমস্যার সমাধান আপনি কিন্তু চাইলেই করে ফেলতে পারেন। নিজের পছন্দের অসাধারণ সব এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন একদম স্বল্প খরচে। জানতে চান কিভাবে? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক।

সুইট মিন্ট ফ্লেভারের এয়ার ফ্রেশনার তৈরি

– প্রথমে একটি পাত্রে ২ কাপ পানি দিয়ে এতে একটি পুরো লেবু খণ্ড করে দিয়ে দিন।
– এতে দিন ভ্যানিলা এসেন্স (বাজারে কেক তৈরির জন্য কিনতে পাওয়া যায়)।
– ফুটে উঠলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিয়ে নেড়ে নিন ভালো করে। এতে আরও পানি দিয়ে জ্বাল দিন।
– ১ কাপ পুদিনা পাতা ছেঁচে নিয়ে নিয়ে ছেঁকে এর রস বের করে নিন।
– ৫ মিনিট পর চুলা থেকে লেবুর পানি নামিয়ে পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে ফেলুন ভালো করে নেড়ে এবং ঠাণ্ডা হতে দিন।
– ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন এবং সাধারণ এয়ার ফ্রেশনারের মতো ব্যবহার করুন। এটি ১ সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারবেন।

ফল ওয়ান্ডারল্যান্ড ফ্লেভারের এয়ার ফ্রেশনার তৈরি

– একটি পাত্রে ২ কাপ পানি দিন। পুরো একটি কমলা বা মালটা খোসা সহ কেটে দিয়ে দিন। এতে আরও দিন ৫ টুকরো বড় আকারের দারুচিনি এবং ২ টেবিল চামচ লবঙ্গ।
– ফুটে উঠা পর্যন্ত সময় দিন। পানি ফুটে উঠলে এতে আরও ৪ কাপ পরিমাণ পানি দিয়ে অল্প আঁচে ফুটাতে থাকুন।
– ৫ মিনিট এভাবে ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন এবং সাধারণ এয়ার ফ্রেশনারের মতো ব্যবহার করুন। এটিও ১ সপ্তাহের মতো ব্যবহার করতে পারবেন।

লেমনগ্রাস হেভেন ফ্লেভারের এয়ার ফ্রেশনার তৈরি

– একটি পাত্রে ২ কাপ পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে চুলায় দিন। এতে ৬/৭ টি লেমনগ্রাস পাতা কুচি করে দিয়ে দিন।
– ১ টেবিল চামচ ভ্যানিলা এসেন্স এবং ২ খণ্ড লেবু দিয়ে ফুটতে দিন।
– পানি ফুটে উঠার সাথে সাথে চুলার আঁচ অল্প করে নাড়তে থাকুন।
– এতে প্রয়োজন মতো আরও বেশ খানিকটা পানি দিয়ে অল্প আঁচেই ফুটাতে থাকুন ১০ মিনিট।
– এভাবে ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন এবং সাধারণ এয়ার ফ্রেশনারের মতো ব্যবহার করুন।

কিছু টিপসঃ

– প্রথমবার পানি ফুটে গেলে সাথে সাথে চুলার আঁচ কমিয়ে দেবেন একেবারে নতুবা পোড়া গন্ধ চলে আসবে।
– লেবু, কমলালেবু, মালটা ইত্যাদির সাথে নিজের পছন্দের আদা, স্ট্রবেরী ও আপেল দিতে পারেন। এতে ঘ্রাণ ভালো আসবে।
– চাইলে চা বা কফি ফ্লেভারও আনতে পারেন।

বীরাঙ্গনাদের দেয়া হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

images

 

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত নারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যাদের এতদিন বীরাঙ্গনা বলে ডাকা হত।

সেই সঙ্গে একাত্তর সালে যাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞা ঠিক করা হয়।

সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কার্যালয়ে জামুকার ২৫তম সভায় এই সব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যাদের বয়স কমপক্ষে ১৫ ছিল তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

“যুদ্ধকালীন ১৫ বছর বয়সের নিচে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্তির আবেদন করতে পারবেন না।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেমেছিল এক লাখের বেশি মানুষ, যার মধ্যে অনেক কিশোরও ছিল। এদের একজন ১৩ বছর বয়সী শহীদুল ইসলাম লালু বীর প্রতীক খেতাবও পেয়েছেন।

বয়স নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা হিসেব করেছি একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অস্ত্র নিয়ে ট্রেনিং নিতে হলে তার বয়স ১৫ বছর না হলে রাইফেল চালানো শেখা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব না।”

 

বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধুর কোলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম লালু বীর প্রতীক। এই ছবিটি আলোকচিত্রী আফতাব আহমেদের তোলা।

বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধুর কোলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম লালু বীর প্রতীক। এই ছবিটি আলোকচিত্রী আফতাব আহমেদের তোলা।

তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে স্বীকার করে তিনি সেই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

“মুক্তিযুদ্ধের সময় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের বয়স ১৫ বছরের মধ্যে ছিল, তবে ব্যতিক্রম কিছু থাকতে পারে। সেই সংখ্যা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হবে, এখন না।”

বয়স নির্ধারণে একাত্তরের ২৬ মার্চকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসাবে মোজাম্মেল বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল।

“তবে ওই সময়েও বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অনেকে আত্মাহুতি দিয়েছেন। তবে ২৬ মার্চের আগে ধরলে স্বাধীনতার আগে হয়ে যায়।”

নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ না থাকায় অনেকেই মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েছেন। এজন্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কথা উঠছে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় থাকা অনেকে ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ার পর নানা সময় তা নিয়ে বিতর্ক উঠছিল। তাই বিভিন্ন তালিকা সন্নিবেশিত করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাই কোর্ট এক আদেশে বীরাঙ্গনাদের কেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না, তা জানতে চায় সরকারের কাছে।

নতুন সংজ্ঞায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতিত নারীরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হতে পারবেন।

স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না দেওয়াকে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেন মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল।

“দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। কারণ অনেকেই মারা গেছেন, সম্মান ভোগ করে বা জেনেও যেতে পারেননি।”

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষকদের কাছে বীরঙ্গনাদের এলাকাভিত্তিক তালিকা থাকলেও তা সম্পূর্ণ নয়। বিভিন্নভাবে মন্ত্রণালয় বীরাঙ্গনাদের তালিকা সংগ্রহ করেছে। উপজেলাভিত্তিক কমিটি ও নারী সদস্যদের দিয়ে বীরাঙ্গনাদের বিষয়টি যাচাই করা হবে।

“কোন উপজেলায় কে ধর্ষিতা হয়েছিলেন তা আর অজানা থাকার কথা নয়। তবে গোপনীয়তার সঙ্গেই এগুলো সংগ্রহ করা হবে। কারণ অনেকে বৃদ্ধ বয়সে এসে প্রকাশ্যে তা বলতে চাইবেন না।”

বীরাঙ্গনাদের তথ্য সংগ্রহ করাকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তবে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রকাশ্যে এটা করা হবে না। নারী মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক সংস্থার কর্মী আছেন তাদের দিয়েই এই কাজটি করা হবে।

 

 

নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী লাল মুক্তিবার্তা, ভারতের তালিকা (বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের), প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত সনদধারী, প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশের সীমানা পার হয়ে ভারতে গিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তকারীরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।

স্বাধীনতার পক্ষে যেসব পেশাজীবী জনমত গঠন করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি পাবেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলী, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়, স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা গ্রহণকারী সাংবাদিকরা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত হতে পারবেন।

আহত মুক্তিযোদ্ধাদের শুশ্রূষাকারী চিকিৎসক, নার্স ও তাদের সহকারীরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।  

মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, এমএলএ ও এমপিরা নতুন সংজ্ঞার আলোকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বিবেচিত হবেন।

বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অধীনে স্থাপিত অফিসগুলোর দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও নতুন সংজ্ঞার আলোকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত হতে পারবেন।

নতুন সংজ্ঞার আলোকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

তিনি বলেন, নতুন সংজ্ঞার আলোকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত হওয়ার জন্য আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাইয়ের পর আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে বলে আগে জানিয়েছিলেন মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।

জামুকের সভায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সাবেক প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান সভায় উপস্থিত ছিলেন।

মায়ের অকাল মৃত্যু,অনিশ্চিয়তার যাত্রা…

DMC_Child_121014_0001
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোববার ‘চুরি’ হতে গিয়ে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতকটির মা মারা গেছেন।

সোমবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ওই নবজাতকের মা আসমা বেগম (২৫) মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুর রহমান।

তিনি বলেন, “আসমার কিউনি ও যকৃতে সমস্যা ছিল। দুপুরেই ২১২ নম্বর কক্ষ থেকে আসমাকে আইসিইউতে আনা হয়েছিল।”

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, “সকালে আসমা অবস্থার অবনতি হলে কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করে আসমাকে।”

শুক্রবার টঙ্গী থেকে এসে হাসপাতালে আসমা ভর্তি হন আসমা। ওইদিন রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তান প্রসব করেন। এটি ছিল আসমার তৃতীয় অস্ত্রোপচার।

রোববার ভোরে আসমার বোন সুমি আক্তার (১৯) শিশুটিকে নিয়ে  হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ‘চোর’ সন্দেহে আটক করেন কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা।

পরে হাসপাতালের জমাদার লাল দাস শাহবাগ থানায় ‘মানবপাচার’-এর অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আটকের পর হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে সুমি বলেছে, শিশুটিকে সে টঙ্গিতে একজনের কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল।”

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিল হোসেন বলেন, “সোমবার সুমিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।”

এসময় তাকে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ কর্মকর্তা হাবিল বলেন, “আমার মনে হচ্ছেনা যে, সুমি চুরির উদ্দেশ্যে নবজাতকটি বের করছিল।”

আসমার গ্রামের বাড়ি নারায়গঞ্জের আড়াইহাজারে। থাকতেন টঙ্গীতে। তার স্বামী জহির পেশায় একজন রিকশাচালক।

বাচ্চাটি বর্তমানে নানী তাছলিমা বেগম ও নানা আউয়াল মিয়ার কাছে রয়েছে বলে হাসপাতাল পুলিশ জানিয়েছে।

ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়ন্ত্রিত পরিণতি” পর্ব-৭

 

 images

 

 

নাসরিন সিমা:

 

 

দুই সপ্তাহ পর,
নাদিমের বাসায় ঢুকলো রাজিব, নাদিম বিছানায় শুয়ে আছে, মা দুদিন হলো বাড়ি গেছে থাকবে দুমাসের মতো। মামা বাড়ি আর ছেলেদের বাড়ি সহ। রাজিব খেয়াল করলো কারেন্ট নেই, তবুও নির্বিকার ভাবে শুয়ে কিছু একটা ভাবছে। দরোজায় টোকা দেয়,
-নাদিম আসবো?
দ্রুত উঠে পড়ে নাদিম, হাতের কাছে একটা গেন্জি ছিলো পরে নেয়,
-হ্যা হ্যা এসো।
ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে,
-এতো গরমের মধ্যে শুয়ে শুয়ে কী ভাবছো?
-না কিছু না, চলো বাইরে যাই তুমি এতো গরম সহ্য করতে পারবেনা।
-না নাদিম ভুল বলছো, তুমি আমার খুব প্রিয় বন্ধু, যা তুমি পারো তা আমার না পারলে চলবে? একটু হাসে রাজিব,
-স্মৃতির কথা ভাবছিলে বুঝি?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে নাদিম,
-যার তিনবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই সে কী স্বপ্ন দেখতে পারে রাজিব?
-অবশ্যই পারে কেন পারবেনা, যিশুর কৃপা যার উপর একবার হয় সে কিছুতেই বন্চিত হতে পারেনা। তুমি খ্রিষ্টান হয়ে যাও দেখ………
রাজিবের হাত চেপে ধরে নাদিম,
-খ্রিষ্টান না হলে হয়না রাজিব?
রাজিব ভ্রু কুঁচকে নাদিমের দিকে তাকায়,
-যিশু ঈশ্বরের কাছে খ্রিষ্টানদের জন্যই প্রার্থণা করেন।
-না মানে বলছিলাম কি আমি বেশী কিছু চাইনা, তেমাদের কনফারেন্স গুলোতে আ্যটেন্ড করবো, প্রোগ্রাম গুলোতে, শুধু খ্রিষ্টান হতে বলোনা আমায়…
রাজিবের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, নাদিম ওর মুখের দিকে তাকাতে ভয় পায় যেন, কারণ নাদিম নিজেও জানে টাকা নেয়ার সময় এসব কথা হয়নি, আর পরে বলার কথাও ছিলোনা। -সেটা তোমার ইচ্ছা নাদিম, তবে ভুলে যেওনা খ্রি্ষ্টান না হলে এ যাবৎ ভোগ করা সমস্ত অর্থ ফেরত নেবেন রিলিজিওন প্রিষ্ট।
চমকে রাজিবের দিকে তাকায় নাদিম, প্রায় পাঁচ লাখের মতো টাকা খরচ হয়ে গেছে, বিভিন্ন ভাবে টাকা দিয়েছে ওরা। টেনশনে মাথা ব্যাথা শুরু হয় নাদিমের, কী করবে সে এখন!
এক পর্যায়ে রাজিব উঠে চলে যায়।
চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে নাদিমের, বাইবেল ষ্টাডি করে যা পেয়েছে তাতে খ্রিষ্টান হওয়ার প্রশ্ণই আসেনা, কারণ সেখানে ষ্পস্ট লেখা আছে, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)………
ভাবতে পারেনা নাদিম এ সময় নাদিমের এক বন্ধু ইমরাণ আসে, রাজিবকে পেয়ে এই বন্ধুকে ভুলে গিয়েছিলো নাদিম, নাদিমকে চিন্তিত দেখে,
-কী হয়েছে নাদিম?
ইমরানকে দেখেই দ্রুত ওর কাছে এসে জড়িয়ে ধরে,
-কেমন আছো ইমরান? অনেকদিন আসোনা যে!
-ভালো আছি, কিন্তু তোমার কী হয়েছে বলোতো, প্রায় সময় খুব অন্যমনষ্ক দেখি। তেমার বন্ধু এসেছিলো মনে হয়, নাম কী?
-রাজিব রোজারিও, হ্যা এসেছিলো………
-খ্রিষ্টান! ভ্রু কুঁচকে যায় ইমরানের,
-একটু সাবধানে থেকো নাদিম, এখন কিন্তু খ্রিষ্টানরা, ফাঁদে ফেলে মুসলমানদেরকে খ্রিষ্টান বানাচ্ছে।
-ফাঁদ! মানে? আসলে ফাঁদই হয়তোবা, কিন্তু রাজিব আমাকে ফাঁদে ফেলবে আমি ভাবতে পারিনা। কিন্তু ওদের শর্তটা মানাও আমার পক্ষে কোনমতেই সম্ভব নয়।
নাদিমের কাঁধে হাত রাখে ইমরান,
-এসব নির্মূল করতে হবে!
নাদিম অবাক হয়ে,
-কিভাবে?
-ভাবতে হবে, চলো বাইরে যাই খালাম্মা কী বাড়িতে?
-হ্যা। চলবে……

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২০১৪ই.

বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়েই তৈরি করে ফেলুন সুস্বাদু খাবার

 

অপরাজিতা ডেস্ক: প্রত্যেক বাসায়ই খাওয়ার পর ভাত বেঁচে যায়। এই ভাত অনেকেই ফ্রিজে রেখে দেন, আবার অনেকে বাসি ভাত খেতে চান না বলে ফেলেই দিয়ে থাকেন। এখনো খুঁজলে হয়তো দুপুরের খানিকটা বেঁচে যাওয়া ভাত পাওয়া যাবে ঘরে। কিন্তু এই বেঁচে যাওয়া ভাত ফ্রিজে না রেখে কিংবা ফেলে না দিয়ে সেটা দিয়ে বেশ সুস্বাদু কিছু তৈরি করতে পারবেন মাত্র ১০ মিনিটে। ভাবছেন কিভাবে? চলুন তবে দেখে নিন।

vat2
উপকরণঃ
– ৩ কাপ ভাত
– ১ টি ক্যাপসিকাম কুচি
– ২ টি পেঁয়াজ কুচি
– ১ ইঞ্চি পরিমাণে আদা কুচি
– ২ টি কাঁচামরিচ কুচি
– ৪ কোয়া রসুন
– লবণ স্বাদমতো
– ২ টেবিল চামচ পানি
– ৩ টেবিল চামচ তেল
– আধা চা চামচ সরিষা দানা
– ১ চা চামচ পুদিনা বা ধনে পাতা কুচি (ইচ্ছা)
– ২ টেবিল চামচ চীনাবাদাম

 

vat1

 

পদ্ধতিঃ
– প্রথমে আদা, রসুন, কাঁচামরিচ এবং সামান্য পেঁয়াজ একসাথে বেটে বা ব্লেন্ড করে নিন।
– একটি প্যানে তেল গরম করে সরিষা দানা দিয়ে দিন। যখন তা ফুটতে শুরু করবে তখন ধনে বা পুদিনা পাতা দিয়ে নেড়ে নিন। যদি তা না চান তবে বাদাম দিয়ে ভেজে নিন খানিকক্ষণ।
– পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখবেন পেঁয়াজ কুচি যেন শক্ত পোড়া পোড়া না হয়ে যায়। এরপর ব্লেন্ড করা মসলা দিয়ে দিন। নেড়ে নিয়ে কিছু পানি ছিটিয়ে দিন।
– খানিকক্ষণ নেড়ে ক্যাপসিকাম দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন। ক্যাপসিকাম খানিকক্ষণ সেদ্ধ হতে দিন। ২ টেবিল চামচ পানি ও লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
– আঁচ কমিয়ে দলা ছাড়ানো ভাত দিয়ে দিন প্যানে।
– ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে নিন পুরোটা। তবে দেখবেন ভাতে যেনো দলা না থাকে।
– এরপর চুলা থেকে মানিয়ে গরম গরম যে কোনো তরকারীর সাথে মজা নিন।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২০১৪ই.

 

দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার সাত মন্ত্র

অপরাজিতা ডেস্ক: দিন বদলের সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের ধ্যান ধারনার। বদলাচ্ছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ। দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার অনেক মূল মন্ত্র রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো একজন আরেকজনকে বোঝা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। জেনে নিন বিবাহিত যুগলের জন্য সুখী হওয়ার তেমনি ৭ টি মন্ত্র :

 

১. আকর্ষণ বজায় রাখুন : বিবাহিত জীবন যতদিনের হোকনা কেন একে অপরের প্রতি আকর্ষণ বজায় রাখুন। সাধারণ কিছু ভালোবাসা আর আবেগে জড়িয়ে রাখুন নিজেদের। নতুনত্বের প্রয়োজন নেই, রোমান্টিক মুহূর্ত তৈরি করুন আর উপভোগ করুন।

 

২. ঝগড়া নয় কখনও : বিবাহিত যুগলের মধ্যে ঝগড়া হওয়া নতুন কোনো ব্যাপার নয়। ঝগড়া কিন্তু বড় কোনো বিষয় নিয়ে হয় না। কিন্তু মাঝে মাঝে এই সামান্য ব্যাপারে বেঁধে যাওয়া ঝগড়া মারাত্মক আকার ধারণ করে থাকে।

 

আশ্চর্যের বিষয় হলো, একটু বুদ্ধি খাটিয়ে চললেই এই সব সামান্য ব্যাপারের বড় ঝগড়া খুব সহজে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এইসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করার চাইতে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে হাসি ঠাট্টার ছলে সমাধান করে ফেলাই উত্তম।

 

৩. নিজেদের মতো করে সময় কাটান : প্রতিটি মানুষের নিজস্ব একটি দুনিয়া থাকে। একে অপরকে যতই ভালবাসুন না কেন, উভয়েরই একটু বিরতির প্রয়োজন আছে। এটি বিশ্বাসঘাতকতা নয়, শুধু নিজেদেরই কিছু সময় দেওয়া। বেশিরভাগ দম্পতিদের মতে এতে করে তাদের সম্পর্ক আরও ভালো হয়েছে।

 

৪. পারস্পরিক শখ : স্বামী-স্ত্রী দুজনের শখ যে একই হবে তা কিন্তু নয়। আলাদা শখ বা পছন্দগুলো প্রকাশ করুন একে অপরের কাছে। এতে করে একে অপরকে জানার আকর্ষণ আরও বাড়বে।

 

৫. ভবিষ্যতের কথা : দাম্পত্য জীবনে সব চাইতে বড় বিষয় হচ্ছে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবা। ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনা দুজনে একসঙ্গে তৈরি করা। এতে করে সম্পর্কে গভীরতা বাড়ে এবং দাম্পত্য জীবনে একজন অপরজনের গুরুত্ব বুঝতে পারেন। এতে সুখি হন দম্পতিরা।

 

৬. একসঙ্গে ঘুমানো : স্বামী-স্ত্রীকে একই বিছানায় ঘুমাতেই হবে এমন কোন কথা নেই। সবার আরাম একই রকমে হয় না তাই প্রয়োজনে আলাদা ঘুমানোকে বড় ব্যাপার করে না দেখে সুবিধার কথা ভাবুন।

 

৭. সত্য এড়ানো : সত্য এড়ানো মানে মিথ্যা বলা নয়। সততা বজায় রাখুন, তার মানে এই নয় স্বামী/স্ত্রী কে দেখতে খারাপ লাগলে মুখের উপর তা বলা। সত্য বলুন কিন্তু তা যেন অপরের খারাপ না লাগে।

বিষয় গুলো খুব সাধারন হলেও, যেসকল দম্পতির মধ্যে এরূপ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়ে থাকে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২০১৪ই.

যে ১০টি জিনিস ফ্রিজে রাখবেন না

 

1L20141011164142

 

অপরাজিতা ডেস্ক: গরমে নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে অনেক কিছুই ফ্রিজে রাখা হয়। তবে এমন বেশ কিছু জিনিস রয়েছে, যেগুলো আমরা অনেকেই ফ্রিজে রাখলেও, আসলে সেগুলো ফ্রিজে রাখা মোটেও উচিত নয়। চলুন দেখে নিই এমন কিছু দ্রব্যের তালিকা।

 

শীতের স্কোয়াশ : অ্যাক্রন, বাটারনাট, ডেলিকাটা, স্প্যাগেটির মত শীতকালীন স্কোয়াশ মোটেও ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।

download

নেল পলিশ : নেল পলিশ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে অনেকেই একে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু ফ্রিজের ঠান্ডায় নেল পলিশ জমে যায়। সূর্যের আলো থেকে দূরে, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নেল পলিশ রাখুন, অনেকদিন ভালো থাকবে।

কফি : ফ্রিজের ঠান্ডা কফি ফ্লেভার নষ্ট করে দেয়। তাই একে ফ্রিজে না রাখাই ভালো।

টমেটো : টমেটো ফ্রিজে রাখলে তা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। সবচেয়ে ভালো হয় কাগজে মুড়ে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় টমেটো রাখলে।

download (1)

রসুন : ফ্রিজের পরিবর্তে রান্নাঘরে স্বাভাবিক খোলা হাওয়া চলাচল করে, এমন জায়গায় রসুন রাখুন। দু-মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।

পেঁয়াজ : পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখবেন না। রান্নাঘরে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। তবে আলুর সঙ্গে পেয়াজ রাখলে, সহজে পেয়াজ নষ্ট হয়ে যায়।

download (2)

ব্যাটারি : ব্যাটারি ফ্রিজে রাখলে তার কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

পাঁউরুটি : ফ্রিজে রাখলে পাঁউরুটি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। তাই বাইরেই রাখুন।

আলু : ফ্রিজের ঠান্ডা আলু নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাইরেই রাখুন।

হট সস : ফ্রিজ নয়, বাইরে রাখুন। অন্তত তিন বছর পর্যন্ত ভালো থাকবে।

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২০১৪ই.

মাংসের পুষ্টি

 

4

 

পুষ্টিবিদ এ বি সিদ্দিক: গরু-খাসি প্রভৃতি গবাদিপশুর মাংস বা গোশত কতটা স্বাস্থ্যকর এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এতে যেমন আছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, তেমনি চর্বিও। তবে চর্বিবিহীন মাংস বা লিন মিট খাওয়া সুস্থ মানুষের জন্য ভালো। একটু পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই মুটিয়ে গেছেন, হার্টের অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি সমস্যা আছে তাঁদের যথাসম্ভব এটা কম খাওয়াই ভালো।

 

সতর্কতা

* পেট ফাঁপা ও কিডনিতে পাথর থাকলে মাংস একেবারে বাদ দিতে হবে।

* বাত হলে মগজ, গুর্দা, কলিজা ও সংরক্ষণ করা গোশত খাওয়া নিষেধ। তবে তাজা গোশত পরিমিত খেলে ক্ষতি নেই।

* কিডনির অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের অসুখে গোশত যত কম খাওয়া যায় তত ভালো।

* লিভার, গলব্লাডার ও অগ্ন্যাশয়ের অসুখে প্রাণিজ চর্বি বাদ দেওয়া উচিত।

* যাদের ওজন বেশি তাদের গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকা দরকার।

* প্রতিদিন ৯০-১০০ গ্রামের বেশি প্রাণিজ আমিষ না খাওয়াই ভালো।

 

5

 

মনে রাখা ভালো

* কোরবানির ঈদে যেহেতু গোশত একটু বেশিই খাওয়া পড়ে, তাই এই সময় বিশুদ্ধ পানি পান করার পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া দরকার। গোশত শরীরে বিপাক প্রক্রিয়ায় শোষণ হওয়ার পর আমিষের অপ্রয়োজনীয় অংশ কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে শরীর থেকে মূত্রের আকারে বের হয়ে যায়। পরিমাণমতো পানি এ কাজে সহযোগিতা করে

* গোশতের সঙ্গে কাঁচা সালাদ খান, লেবু, কাঁচা পেঁপে রাখুন।

* প্রতিদিন কিছু সবজি খেতে ভুলবেন না।

* কাঁচা পেঁপে ও আনারস আমিষ জাতীয় খাবার হজমে সহায়তা করে।

* খাবার শেষে মৌরি খাওয়া হজমের জন্য ভা

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/অক্টোবর২০১৪

৬ ধাপে ফ্রিজ পরিষ্কার

 

 

অপরাজিতা প্রতিবেদক: কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের প্রয়োজন পড়ে। তেমনি সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে খাবারদাবার রাখার দরকারি জিনিস ফ্রিজটি সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার রাখা উচিত। অপরিষ্কার অবস্থায় খাবার রাখলে খাবারের গুণ, মান নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক খাবারের গন্ধ অন্য খাবারে চলে যায়। ফ্রিজ পরিষ্কার রাখতে হলে সঠিক নিয়ম জানা জরুরি। আসুন জেনে নেই কিভাবে ফ্রিজ পরিষ্কার করবেন।

 

1410944661

প্রথমে খালি করুন
আপনার ফ্রিজ পরিষ্কার করার প্রথম ধাপ হলো ফ্রিজ খালি করে ফেলা। ফ্রিজের সব খাবার বাইরে বের করে নিন। পরিষ্কার করার আগে এটা নিশ্চিত করুন যে আপনার ফ্রিজটি সম্পূর্ণ খালি হয়েছে কি না।

 

ফ্রিজ থেকে বরফ সরিয়ে ফেলুন
সম্পূর্ণ জিনিস ফ্রিজ থেকে নামিয়ে ফেলার পর বরফ সরাতে ফ্রিজের পাওয়ার লাইনটি খুলে ফেলুন। কমপক্ষে আধা ঘণ্টা ফ্রিজটি বন্ধ অবস্থায় রাখলে ফ্রিজের সব বরফ গলে যাবে। তা ছাড়া খাবার নামিয়ে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে বরফ জমানোর ট্রেগুলোও সরিয়ে ফেলুন। যে বরফগুলো ফ্রিজের গায়ে খুব বেশি লেগে থাকবে, সেগুলো ফ্রিজের গা থেকে আস্তে আস্তে খুলে ফেলুন।

 

এবার পরিষ্কারের পালা
বরফ সরানোর পর এবার ফ্রিজটি পরিষ্কার করতে হবে। গরম পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্পঞ্জ দিয়ে আপনার ফ্রিজের ভেতরটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন। খেয়াল রাখুন ফ্রিজের ভেতরে যেন কোনো ময়লা না থাকে। পরিষ্কারের সুবিধার জন্য পুরনো ব্রাশও ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রিজের ড্রয়ারগুলো আলাদাভাবে খুলে নিয়ে পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করুন। ফ্রিজের ভেতরে পরিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দরজা ও বাইরের অংশও পরিষ্কার করে ফেলুন।

 

গন্ধ দূর করুন
ফ্রিজ পরিষ্কার করার পর যেকোনো ধরনের গন্ধ দূর করতে পানির সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে কাপড়ে লাগিয়ে আরেকবার ফ্রিজটি মুছে নিন। এতে সব ধরনের গন্ধ দূরে হয়ে যাবে।

 

মুছে ফেলুন
পরিষ্কার হয়ে গেলে এবার একটি নরম তোয়ালে দিয়ে ফ্রিজটি মুছে ফেলুন। খুলে ফেলা ড্রয়ারগুলো ভালো করে মুছে প্রতিস্থাপন করুন। খেয়াল করে দেখুন যেন ফ্রিজের কোনো অংশ ভিজে না থাকে।

 

খাবারদাবার ফ্রিজে তুলে রাখুন
সব কাজ শেষে এবার খাবারদাবার জায়গামতো তুলে রাখুন। যেমন : মাংস আলাদা ড্রয়ারে, মাছ আলাদা, সবজি আলাদা ও অন্যান্য জিনিস আলাদা করে রাখুন। এতে এক খাবারে অন্য খাবারের গন্ধ মিশবে না। সব শেষে পাওয়ার লাইন লাগাতে ভুলবেন না। খাবারের মান বজায় রাখতে এবং ফ্রিজটি একটু বেশি স্থায়ী করতে যত্ন নিন। মাসে অন্তত একবার ফ্রিজটি সঠিক নিয়মে পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/অক্টোবর ২০১৪ই.

ঈদের সাজ

 

eid320130806003317

 

অপরাজিতা ডেস্ক: রোজার ঈদের রেশ কাটতেই না কাটতেই কোরবানির ঈদ চলে এসেছে। রোজার ঈদ মানেই কোনাকাটা, সাজগোজ আর ঘুরাঘুরি। তবে কোরবানির ঈদে এর পরিমান কিছুটা কমে যায়।

তবে সারাদিন কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিকাল বা সন্ধ্যায় কিছুটা হলেও বেড়ানো হয়। আর ঈদে ঘুরতে বের হলে সাজ তো করতেই হয়।

ঈদের ঘোরাঘুরিতে মেইকআপ কীভাবে মানাবে তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিন্দিয়া বিউটি পার্লারের কর্ণধার শারমিন কচি।

তিনি বলেন, “ঈদুল আজহায় সারাদিন কাজের পর বিকালে বা সন্ধ্যায় ঘুরাঘুরি করতে চাইলে হালকা মেইকআপই ভালো। তবে রাতের অনুষ্ঠান হলে ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক বা চোখে উজ্জ্বল রংয়ের শ্যাডো লাগানো যেতে পারে।”

ঈদে মেইকআপের কিছু কৌশল জানালেন শারমিন কচি।

প্রথমেই মুখ ভালো করে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মানানসই ফাউন্ডেশন মুখে লাগিয়ে ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে পুরো মুখে ভালো করে মিশিয়ে নিন। স্পঞ্জ না থাকলে হাতের আঙুলে সামান্য পানি নিয়ে ত্বকের সঙ্গে ফাউন্ডেশন মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

খেয়াল রাখতে হবে ফাউন্ডেশন যেনো নিখুঁতভাবে ত্বকে মিশে যায়। যাদের ত্বক তেলতেলে তারা ত্বকে অ্যাসট্রিনজান্ট (Astringent) লোশন লাগিয়ে তারপর ফাউন্ডেশন লাগাতে হবে।

এরপর কম্প্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিতে হবে পুরো মুখে। চিকবোনের ঠিক নীচে অর্থাৎ গাল ও চিবুকের নীচের অংশে এবং নাকের দুপাশে গাঢ় প্যানকেক বা ব্রোঞ্জার লাগিয়ে নিতে হবে অল্প করে। খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ত্বকের ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।

ব্রোঞ্জার ব্যবহারের ফলে মুখের শেইপ আরও স্পষ্ট ও নিখুঁত হবে।

ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মানানসই ফাউন্ডেশন মুখে লাগিয়ে ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে পুরো মুখে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মডেল: জাকিয়া উর্মি। ছবি: ঋতিকা আলী/বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মানানসই ফাউন্ডেশন মুখে লাগিয়ে ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে পুরো মুখে ভালো করে মিশিয়ে নিন।

 

 

খেয়াল রাখতে হবে ফাউন্ডেশন যেনো নিখুঁতভাবে ত্বকে মিশে যায়।

এরপর পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে চোখে আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। ভ্রু’র নীচে রূপালি বা ওই শেইডের কোনো রং লাগাতে পারেন। চোখের পাতার কাছে কিছুটা গাঢ় রংয়ের শেইড ব্যবহার করতে হবে। চোখের পাতায় যে শেইডগুলো ব্যবহার করা হবে, খেয়াল রাখতে হবে যেন রংগুলো একটা অন্যটার সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়। নাহলে দেখতে খারাপ দেখাবে।

এরপর চোখের উপরে আইলাইনার লাগিয়ে নিতে হবে পছন্দ মতো। চাইলে কালো ছাড়াও নীল, বাদামি বা সবুজ লাইনার ব্যবহার করা যাবে। আর চোখের নীচে লাগানো যাবে কাজল। সব শেষে চোখের পাপড়িতে মাসকারা লাগালেই চোখের মেইকআপ হয়ে যাবে।

এরপর চিক বোনোর উপরে পছন্দের রংয়ের ব্লাশ নিয়ে ব্রাশের সাহায্যে লাগিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন গালে বেশি গোলাপি ভাব না হয়। খুব অল্প পরিমাণে ব্লাশ গালে ভালোভাবে মিশিয়ে লাগাতে হবে।

এরপর নাকের ঠিক মাঝে এবং চোখের নীচে অল্প করে হাইলাইটার লাগিয়ে নিন।

চোখে বেশি গাঢ় শ্যাডো ব্যবহার করলে ঠোঁটে হালকা রংয়ের লিপস্টিক লাগালে মেইকআপের সামঞ্জস্য বজায় থাকবে।

তবে চোখে ন্যুড বা হালকা শ্যাডো লাগালে এবং সন্ধ্যার অনুষ্ঠান হলে গাঢ় লিপস্টিকও ভালো লাগবে। মেইকআপ হয়ে গেলে, পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে কানে, গলায় ও হাতে হালকা অলংকার পরে নেওয়া যাবে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ.

সহজেই গরুর মাংসের বিরিয়ানি

 

 

অপরাজিতা ডেস্ক: বিরিয়ানি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার প্রভৃতি দেশে প্রচলিত এক বিশেষ প্রকারের খাবার যা সুগন্ধি চাল, ঘি, গরম মশলা এবং মাংস মিশিয়ে রান্না করা হয়। মুরগী, খাসি, গরু, পাঁঠা… এমনকি হরিণের মাংস দিয়েও রান্না করার হয় এই খাদ্য। সাধারনত বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নেই পরিবেশিত হয়।। আর কে না জানে যে বিরিয়ানি ব্যাতিত আমাদের দেশের উৎসব অনুষ্ঠান গুলো একেবারেই জমে না !

 

গরুর মাংসের বিরিয়ানি

 

গরুর মাংসের তেহারীর সাথে গরুর বিরিয়ানির মূল পার্থক্য হলো এই যে এতে মাংসের টুকরা বেশ বড় করে কাটা হয়, এবং আলু ব্যবহার করা হয় রান্নায়। আসুন জেনে নেই গরুর মাংসের বিরিয়ানির রাঁধবার একটি চমৎকার রেসিপি।

 

উপকরণ-
গরুর মাংস- ১ কেজি
পোলাওর চাল- ১ কেজি
পিঁয়াজ বেরেস্তা- ১ কাপ
আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
জিরা বাটা- ১ চা চামচ
শাহি জিরা বাটা- ১/২ চা চামচ
জায়ফল ও জয়ত্রী বাটা- ১ চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ
মরিচে গুঁড়া- ১ চা চামচ
গরম মসলা গুঁড়া- ১ চা চামচ
তেল- ১/৪ কাপ
ঘি- ৩/৪ টেবিল চামচ
চিনি সামান্য
লবণ স্বাদ মত
টক দই- ১/২ কাপ
আস্ত গরম মশলা (এলাচ দারচিনি লবঙ্গও)- ৩/৪ টি করে
আলু বোখারা- ১০ টি
আলু- ৮/১০ টুকরা
কিসমিস- ইচ্ছা মতন
জাফরান- অল্প একটু (২ টেবিল চামচ দুধে গোলানো)
পানি- ৭ কাপ
কেওড়া পানি- ইচ্ছা
কাঁচা মরিচ- ৫/৬ টি
এছাড়াও কালো এলাচ ১ টি, সাদা এলাচ ৫ টি, গোল মরিচ ১০/১২ টা, কাঠ বাদাম ১৫ টি একত্রে বেটে নিতে হবে।

প্রণালী-
মাংস বড় টুকরো করে কেটে নিতে হবে। তারপর টক দই, আদা- রসুন বাটা, ১/২ কাপ বেরেস্তা বেরেশ্তা, জিরা বাটা, শাহী জিরা বাটা, জায়ফল- জয়ত্রী বাটা, মরিচের গুরা, ধনিয়ার গুঁড়া, কালো এলাচ-লবঙ্গ- সবুজ এলাচ-দারচিনি- কালো গোল মরিচ- কাঠ বাদাম বাটা, গরম মশলা গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে রাখতে হবে ২/৩ ঘণ্টা। চাইলে আগের দিন রাতেও মাখিয়ে রাখতে পারেন। তারপর তেল গরম করে আস্ত গরম মশলার ফোড়ন দিয়ে মাংস কশিয়ে অল্প পানি দিয়ে রেঁধে নিতে হবে। আলু লাল করে ভেজে সাথে দিয়ে দিতে হবে। মাংসে ঝোল থাকবে না, মাখা মাখা হয়ে তেল ভেসে উঠবে।

 

এবার হাঁড়িতে ঘি গরম করে আবার আস্ত গরম মশলা দিতে হবে। আগে থেকে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখা চাল দিয়ে দিতে হবে। বাকি বেরেস্তা গুলো দিয়ে চাল ভালো করে ভাজতে হবে। কিসমিস, চিনি ও আলু বোখারা দিতে হবে। চাল ভাজা হয়ে গন্ধ ছড়ালে ফুটন্ত গরম পানি দিয়ে দিতে হবে। এরপর মাংস ঢেলে দিয়ে নারতে হবে ভালো করে। ফলে চাল ও মাংস মিলে যাবে। আঁচ থাকবে মাঝারি। পানি শুকিয়ে আধা সিদ্ধ চাল ভেসে উঠলে জাফরান গোলানো দুধ ছিটিয়ে হাঁড়ির মুখ ঢেকে দিতে হবে। হাঁড়ির নিচে একটি তাওয়া বসিয়ে চুলার আঁচ একদম কম করে বিরিয়ানি দমে দিতে হবে।

 

১৫/২০ মিনিট পর ঢাকনা সরিয়ে উলটে পালটে দিতে হবে বিরিয়ানি। কেওড়া পানি ও কাচা মরিচ ছিটিয়ে আরও ১০ মিনিট দম দিয়ে পরিবেশন করতে হবে গরম গরম। অপরে ছিটিয়ে দিতে পারেন বাদাম কুচি ও বেরেশ্তা। সাজাবার জন্য ব্যবহার করতে পারেন ডিম। এই বিরিয়ানি ফ্রিজেও ভালো থাকে বেশ কিছুদিন। তাই ঢাকনা দেয়া পাত্রে সংরক্ষণ করতে পারেন। খাবার পূর্বে অল্প আঁচে দমে দিয়ে দিবেন হাঁড়ির মুখে ঢাকনা দিয়ে। দেখবেন কেমন সুন্দর গরম হয়েছে। মনেই হবে না যে ফ্রিজে রাখা বিরিয়ানি!

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২০১৪

খাসির মাংসের তিন পদ

 

Untitled-

 

অপরাজিতা ডেস্ক: আর দুদিন বাদেই কোরবানির ঈদ। আর এই ঈদে অনেকেই খাসি কোরবানি করেন। এবার ঈদে যারা খাসি কোরবানি করছেন তাদের জন্য উপস্থাপন করছে খাসির মাংসের তিন পদ রান্নার রেসিপি। আসুন জেনে নেওয়া যাক, খাসির ঝাল মাংস, রেজালা ও কোরমা রান্নার প্রক্রিয়া।

ঝাল মাংস

খাসির ঝাল মাংস
উপকরণ :

    খাসির মাংস ১ কেজি,
    ছোট আলু ১৫টি,
    টক দই আধা কাপ,
    আদা বাটা ১ টেবিল চামচ,
    রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ,
    মরিচের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ,
    এলাচি ৩টি,
    দারুচিনি ৪-৫টি,
    তেজপাতা ৩টি,
    ধনের গুঁড়া ১ চা-চামচ,
    হলুদের গুঁড়া ১ চা-চামচ,
    পেঁয়াজের কুচি আধা কাপ,
    তেল আধা কাপ,
    লবণ পরিমাণমতো,
    জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ,
    কাঁচা মরিচ ৪-৫টি।

 

প্রণালি :
খাসির মাংসগুলো কেটে ধুয়ে টক দই দিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর আদা বাটা, রসুন বাটা ও লবণ মাখিয়ে আরও ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। পাত্রে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজের কুচি ভেজে বাদামি করতে হবে। এবার এর মধ্যে আবার আদা বাটা, রসুন বাটা, মরিচের গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা ও লবণ একসঙ্গে মিশিয়ে সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে মসলাগুলো কষিয়ে নিতে হবে। ছোট আলুগুলো আগেই সেদ্ধ করে নিতে হবে। এবার কষানো মসলায় ছোট আলু ও মাংসগুলো ঢেলে দিন। সামান্য পানি দিয়ে সেদ্ধ করতে দিন। পানি কমে এলে তাতে জিরার গুঁড়া ও কাঁচা মরিচ দিয়ে আবার ঢেকে দিন। ভুনা ভুনা হলে নামিয়ে ফেলুন।

 
খাসির রেজালা

খাসির রেজালা

উপকরণ :
    মাটন হাড় ছাড়া ১ কেজি,
    পেঁয়াজ ২০০ গ্রাম,
    আদা বাটা ৩ টেবিল চামচ,
    রসুন বাটা ৩ টেবিল চামচ,
    কাজুবাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ,
    তেল ৫০ গ্রাম,
    টক দই ১০০ গ্রাম,
    মরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ,
    টমেটো ২ পিস,
    এলাচ ৫ পিস,
    তেজপাতা ৫ পিস,
    দারুচিনি ১০ গ্রাম,
    জয়ত্রী ৫ পিস,
    জায়ফল আধা পিস,
    জিরা গুঁড়া ২ টেবিল চামচ,
    লবণ পরিমাণমতো,
    ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ,
    গুঁড়াদুধ ১০০ গ্রাম,
    ঘি ২ টেবিল চামচ ও
    হলুদ ১ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি :

হাড় ছাড়া খাসির মাংসের মধ্যে পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, কাজুবাদাম বাটা, টক দই, তেল, লবণ, জায়ফল, জয়ত্রী বাটা, মরিচ গুঁড়া, হলুদ, জিরা গুঁড়া ও ধনিয়া গুঁড়া দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। আস্তে আস্তে নাড়তে নাড়তে রান্না করুন। মাংস সিদ্ধ হলে গরম মসলার গুঁড়া, ঘি এবং ভাজা জিরার গুঁড়া, গুঁড়া দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ পর নামিয়ে নিন। একটু বেরেস্তা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন খাসির রেজালা।

 
খাসির কোরমা

খাসির কোরমা
উপকরণ :

    খাসির মাংস এক কেজি,
    আদাবাটা এক টেবিল-চামচ,
    দারচিনি বড় চার টুকরা,
    তেজপাতা দুটি,
    লবণ দুই চা-চামচ,
    ঘি আধা কাপ,
    কাঁচা মরিচ আটটি,
    কেওড়া দুই টেবিল-চামচ,
    তরল দুধ দুই টেবিল-চামচ,
    পেঁয়াজবাটা সিকি কাপ,
    রসুনবাটা দুই চা-চামচ,
    এলাচি চারটি,
    টক দই আধা কাপ,
    চিনি চার চা-চামচ,
    দেশি পেঁয়াজকুচি আধ কাপ,
    লেবুর রস এক টেবিল-চামচ,
    জাফরান আধা চা-চামচ, (দুই টেবিল-চামচ তরল দুধে ভিজিয়ে ঢেকে রাখুন)।

 

প্রণালি:

মাংস টুকরো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সব বাটা মসলা, গরম মসলা, টক দই, সিকি কাপ ঘি ও লবণ দিয়ে মেখে হাত ধোয়া পানি দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে চুলায় বসিয়ে দিন। মাংস সেদ্ধ না হলে আরও পানি দিন।

পানি অর্ধেক টেনে গেলে কেওড়া ও কাঁচা মরিচ দিয়ে আবার হালকা নেড়ে ঢেকে দিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পাশের চুলায় বাকি ঘি গরম করে পেঁয়াজকুচি সোনালি রং করে ভেজে মাংসের হাঁড়িতে দিয়ে বাগার দিন। তারপর চিনি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। পাঁচ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দুধে ভেজানো জাফরান ওপর থেকে ছিটিয়ে দিয়ে আরও পাঁচ মিনিট ঢেকে রাখুন। তারপর ঢাকনা খুলে লেবুর রস দিয়ে হালকা নেড়ে আঁচ একেবারে কমিয়ে তাওয়ার ওপর ঢেকে প্রায় ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টার মতো দমে রাখুন। যখন কোরমা মাখা মাখা হয়ে বাদামি রং হবে এবং মসলা থেকে তেল ছাড়া শুরু করবে, তখন নামিয়ে পরিবেশন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২০১৪

এবারের ঈদ ফ্যাশনে ‘সিঙ্গেল কামিজ’

 

1

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা: এবারের ঈদ বাজারে বিভিন্ন ফ্যাশনের সালওয়ার কামিজের সঙ্গে যোগ হয়েছে সিঙ্গেল কামিজ। সাধারণত বাজারে যে টু-পিস বা থ্রি-পিস পাওয়া যায় তা থেকে  সিঙ্গেল কামিজ একটু ভিন্ন হয়ে থাকে।

 

2

 

যেমন দেখতে সিঙ্গেল কামিজ : সাধারণত সিঙ্গেল কামিজের প্যাটার্ন কিছুটা ভিন্ন হয়। গলায় ভারী কাজ, স্ক্রিন প্রিন্টেড বা সুতার ভা কাজ দিয়ে নকশা করা থাকে। কিছু আবার ডাবল পার্টের সিঙ্গেল কামিজের নকশাও পাওয়া যাচ্ছে। কেউ যদি নিজে পছন্দের মতো সিঙ্গেল কামিজ তৈরি করাতে চান তাহলে মার্কেট বা অনলাইনেও পাবেন ওয়ান পিস হিসেবে বিভিন্ন ধরনের কাপড়। আপনার পছন্দের সিঙ্গেল কামিজের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কিনে নিন লাগিন্স বা পালাজো।

 

যেখানে পাবেন : ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও বড় বড় ডিজাইনার বা ফ্যাশন হাউসগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের ও নকশার সিঙ্গেল কামিজ। তাই আসছে ঈদে বেছে নিন আপনার পছন্দ মতো সিঙ্গেল কামিজ।

 

3

 

বাজার দর : সিঙ্গেল কামিজের ধরণ ও কোয়ালিটি অনুযায়ি দাম পড়বে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২০১৪

শুরু হোক কোরবানির প্রস্তুতি

 

 Untitled-Untitled-

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। অল্প ক’দিন বাকি। ঈদ এলে ঘরে ঘরে উৎসবের আনন্দ বিরাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কোরবানির ঈদে কাজ একটু বেশিই থাকে।  তাই প্রস্তুতিটা আগে ভাগেই নিয়ে রাখা ভালো। তাহলে ঈদের দিনের কাজ এগিয়ে থাকবে। কারণ ঈদের নামাজ শেষে তোরজোর শুরু হয় পবিত্র কোরবানির।

 

কোরবানির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা আগেই করে ফেলুন। বাসায় থাকা চাকু-ছুরি, বঁটি ও চাপাতিগুলো ভালো আছে কি না তা অবশ্যই দেখে নিন। ছুরি, চাপাতিগুলো মরিচা পড়ে গেলে আপনার আশপাশের কামারশালা থেকে শাণ করিয়ে নিন। এছাড়াও আপনি চাইলে, শাণ করার যন্ত্র কিনে বাসায় নিজেই শাণ দিয়ে নিতে পারেন। ঈদের আগের দিন পশু জবাই করার ছুরি, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি, চাপাতি, প্লাস্টিক ম্যাট, গাছের গুঁড়িসহ সবকিছু প্রস্তুত রাখুন। ছুরি-চাপাতি কোনো কিছু না থাকলে আশপাশের কামারশালা বা দোকান থেকে কিনে নিন। সবকিছু প্রস্তুত থাকলে ঈদের দিন আর বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না।

 

দরদাম  বাজারে বিভিন্ন দামের ছুরি, চাপাতি পাওয়া যায়। ছোট ছুরি (প্রতি পিছ) ১২০-৪০০ টাকা। বড় ছুরি ৪০০-১০০০ টাকা। গরু জবাই করার ৪০০-১২০০ টাকা। দেশি চাপাতি ৬৫০-৯৫০ টাকা। বিদেশি চাপাতি ৬৫০-১৮৫০ টাকা। বঁটি ২০০-৫০০ টাকা। হাড় কাটার ছোট চায়নিজ কুঁড়াল ৫৫০-৭০০ টাকা। গাছের গুঁড়ি পাবেন ৩০০-৮০০ টাকায়। মাংস রাখার পলি ও প্লাস্টিক ম্যাট কিনতে পারবেন ২০০-৩০০ টাকায়।

 

রান্নাঘরের অনুষঙ্গ : কোরবানির ঈদে তুলনামূলক বেশি চাহিদা বাড়ে রান্নাঘরের বিভিন্ন অনুষঙ্গের। চপিং বোর্ড, মিট হ্যামার, কিমা মেশিন ইত্যাদি কিনে নিতে পারেন। কাঠের চপিং বোর্ড প্রতিটির মূল্য ৪৫০-৬০০ টাকা। ফাইবার চপিং বোর্ড প্রতিটি ৭০০-১২০০ টাকা। কাচের চপিং বোর্ড প্রতিটি ১৬০০ টাকা। মিট হ্যামার ২৮০-৪০০ টাকা। কিমা মেশিন ১৬৫০- ৪০০০ টাকা। হ্যান্ড মিট কাটার ২৫০-৫০০ টাকা। জীবাণু ও দুর্গন্ধনাশক তরল এক বোতল ১৮৫ টাকা। জীবাণু ও দুর্গন্ধনাশক ক্লোরেক্সের দাম ২৫০-৬০০ টাকা। গার্বেজ ব্যাগ ১০০টি ২০০ টাকায় পাবেন।

 

যেখানে পাবেন : ছুরি, বঁটি, চাপাতিসহ সব জিনিসই পাবেন রাজধানীর নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, কারওয়ান বাজার, গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেট, গুলশান অ্যাভিনিউর ফিক্স ইট, চকবাজার, ঠাটারীবাজারে। এছাড়া আপনার  আশপাশের কামারশালা থেকেও কিছু জিনিস সংগ্রহে নিতে পারেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২০১৪

প্রথম নারী হিসেবে বিএসসিতে যোগ দিলেন ১৬ মেরিন ক্যাডেট

 

CTG-NEWS

অপরাজিতাবিডি ডটকম, চট্টগ্রাম : প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) আট জাহাজে যোগদান করেছেন ১৬ নারী মেরিন ক্যাডেট। গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কাজ শুরু করেন।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি থেকে পাস করা এ সব নারী ক্যাডেট তাদের পড়ালেখার প্রায়োগিক কাজের (ইন্টার্নশিপ) অংশ হিসেবে কাজ করবেন।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমোডর মকসুমুল কাদির বলেন, ‌’শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আমাদের সচল আটটি জাহাজে তারা প্রথমবারের মতো কাজে যোগ দেন।’

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিএসসি কার্যালয়ে এ উপলক্ষে নারী ক্যাডেটদের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন হয়। দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিষয় বিবেচনায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘জাহাজে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে তিনজন করে নারী মেরিন ক্যাডেট পুরুষ ক্যাডেটদের পাশাপাশি কাজ করবেন।’

বিএসসির যেসব জাহাজে নারী ক্যাডেটরা যোগ দেবেন সেগুলো হলো- এমভি বাংলার সৌরভ, বাংলার জ্যোতি, বাংলার শিখা, বাংলার কল্লোল, বাংলার মণি, বাংলার মমতা, বাংলার কাকলি ও বাংলার দূত। দুপুরে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিবেন বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট প্রকৌশলী ড. সাজিদ হুসাইন বলেন, ‘২০১২ সালে ৪৮তম ব্যাচে প্রথমবারের মতো মেরিন একাডেমিতে ২০জন নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সায়েন্স এর একাডেমিক পড়াশোনা শেষ হয়েছে তাদের। এক বছরের শিক্ষানবিস সময়কালের চাকরির অংশ হিসেবে তারা বিএসসির জাহাজে যোগ দিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস- প্রথমবারের মতো জাহাজে ক্যাডেট হিসেবে যুক্ত হওয়া এসব নারী, পুরুষদের পাশাপাশি সমান ভূমিকা রাখতে পারবেন। ২০১২ সালের পর ২০১৩ তে ২০ এবং ২০১৪ সালে ১৪ জন নারী একাডেমিতে ভর্তি হয়েছেন।’

 

(JPEG Image, 300 × 150 pixels)

তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর সময়ে তাদের অর্জিত জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে একজন ভালো ক্যাডেট হিসেবে গড়ে উঠে পরবর্তীতে তারা দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাহাজে সুনামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন বলে আশা করি।’

তিনি জানান, সারাবিশ্বে বর্তমানে বিভিন্ন বড়-ছোট জাহাজে ১২ লাখ নাবিক কর্মরত রয়েছেন, তার মধ্যে পাঁচ লাখ অফিসার পদমর্যাদার। আর এর মধ্যে নারী অফিসার রয়েছেন মাত্র আড়াই হাজার।

বিশ্বের ২০টি দেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে এ সব নারী কর্মকর্তা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রতিবেশী ভারত থেকে এ পর্যন্ত ৮০ জন নারী ক্যাডেট জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই.

১৯ দিন পর ৩ তরুণী উদ্ধার

Satkhira-0920140927131616

উদ্ধার হওয়া তিন তরুণী (ছবি : এম শাহীন গোলদার)

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, সাতক্ষীরা : গোপালগঞ্জের তিন তরুণীকে ভারতের মুম্বাই শহরে পাচার হওয়ার ১৯ দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কলারোয়া থানার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার করা হয়েছে।

 

ওই তিন তরুণী যশোরে একটি মার্কেটে  দীর্ঘদিন চাকরি করতেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ওই এলাকার একটি ছেলের পরিচয় হয়।

 

উদ্ধার হওয়া তরুণীরা জানান, ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঢাকায় বেশি বেতনে চাকরি করার প্রলোভনে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে ভারতে চলে যান। তাদের বিভিন্ন স্থানে রেখে বিক্রি করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে ভারতীয় একটি লোক তাদের আটক রাখে তার বাড়িতে। এরপর তিনি মোবাইল ফোনে প্রত্যেকের বাড়িতে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।

 

খবর পেয়ে পাচার হওয়া তরুণীর পরিবার ২০ হাজার টাকা করে বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেয়। এরপর সেই ব্যক্তি আরো ১০ হাজার টাকা মোবাইল ফোনে দাবি করে। পরে ওই ব্যক্তি জানান, তার বাড়ি কলারোয়া উপজেলায়।

 

এ ঘটনার সূত্র ধরে ওই তরুণীদের অভিভাবকরা কলারোয়া থানায় আশ্রয় নিলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিমের নেতৃত্বে থানার এসআই হারাধন কুন্ডু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার চান্দুড়িয়া বাজার এলাকার মাহবুবকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাচার হওয়া তিন তরুণীকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় কোনো মামলা হয়নি।

 

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই.

রান্নার কাজ সহজ করতে

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: শুধু রাঁধলে আর চুল বাঁধলেই চলে না, ঘরের বাইরেও অনেক কাজ এখন নারীদের। অফিস, আদালতে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অনেক কাজে ঝক্কি সামলে বাড়ি ফিরে পরিবারের জন্য রান্নাবান্না করার কাজটা নারীদের জন্য বেশ পরিশ্রমসাধ্য ব্যাপারই বটে। সেই পরিশ্রমের কাজটিকে কিছুটা সহজ করে নিতে রান্নাঘরে ব্যবহার করতে পারেন নিচের সরঞ্জামগুলোরান্নার কাজ সহজ করতে

vegetables--chefs-knife-lrg_90314_0

ছুরি
রান্না মানেই কাটাকুটির ব্যাপার! এমনিতে এই কাজে আমাদের দেশে দা-বটি ব্যবহৃত হয় বেশি। অথচ কাটাকুটির জন্য ছুরিতেই সুবিধা বেশি। বটি দিয়ে কাটতে গেলে মেঝেতে বসা ছাড়া উপায় নেই। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা বারবার ওঠাবসার কারণে অনেকেরই ব্যথা হয় কোমড়ে। এসব ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি জন্য ছুরির বিকল্প নেই- দাঁড়িয়ে থেকেই সেরে নেবেন যাবতীয় কাটাকুটি। কোমড়ের ব্যথা ছাড়াই।

মাপার জন্য কাপ
যারা নতুন রাঁধুনি তাদের জন্য এটা খুব দরকারি জিনিস। বই দেখে রান্না করেতে গেলেও আপনার হাতের কাছে মাপামাপির জন্য একটা আলাদা কিছু থাকা খুব প্রয়োজনীও বটে। পোলাও রান্না করতে গেলে কতটুকু চালে কতটুকু পানি দিতে হবে কিংবা পুডিং বানাতে গেলে কয়টা ডিমের সাথে কতটুকু দুধ, চিনি আর ময়দা দিবেন সেগুলো সহজেই হিসাব করতে পারবেন এই কাপ দিয়ে।রান্নার কাজ সহজ করতে

ycnp-597388-1_90314_1

সবজি পিলার
সবজি বা ফলের খোসা ছাড়ানোর কাজটা মোটেও সহজ নয়। তবে হাতের কাছে যদি একটা পিলার রাখেন, তাহলে অনায়াসেই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন, অল্প সময়েই। সবজি পিলারের দামও খুব বেশি নয়। শখানেক টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় কাজ চালানোর মতো পিলার। অবশ্য চাইলে বেশি দামের পিলারও পারবেন কিনতে।

 

হামান দিস্তা
হামান দিস্তা ব্যবহার শুরু করেননি এখনো? তাহলে আজই শুরু করুন, এর উপকারিতার কথা কয়েক দিন পর নিজে নিজেই অনুধাবন করতে পারবেন। ধরুন মাংস রান্না বসালেন, হুট করে মনে হল আরো একটু গরম মসলার গুঁড়ো প্রয়োজন। তখন আবার শিলপাটা নিয়ে বসবেন? ভুলে যান সে কথা, গরম মসলা নিয়ে হামান দিস্তায় পিষে নিন মুহূর্তেই।

basil-and-blender_90314_2

ব্লেন্ডাররান্নার কাজ সহজ করতে
ভাবছেন রান্নার কাজে ব্লেন্ডার কিভাবে সাহায্য করতে পারে? মসলা পেস্ট করার গুরুদায়িত্ব ব্লেন্ডারের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে। আদা, রসুন, হলুদ, মরিচ কিংবা যে কোন ধরনের জুস, লাচ্ছি সহজেই বানাতে পারেন ব্লেন্ডার দিয়ে। চাইলে মাংসের কিমাও করা যায় ব্লেন্ডারে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই.