banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

স্ত্রী সম্পর্কে সবার সামনে ৯টি কথা কখনোই বলবেন না

 

tansihq-wedding-photography-india-brid-groom (8).preview

ছবি: প্রতিকী

 

অপরাজিতা ডেস্ক: রাতুল ও সাবিহা বিয়ে হয়েছে পরিবারের সম্মতিতে। বিয়ের এক মাস পরেই সাবিহা আবিস্কার করলো রাতুল ভীষণ খুঁতখুঁতে। কেবল বাসাতেই নয়, বরং কোন আত্মীয় বা কলিগের বাসাতে গেলেও সাবিহার নানা দোষ নিয়ে আলোচনা করে ও সবার সামনেই। সাবিহার রান্না ভালো না, সাবিহা শুধু শপিং করে টাকা ওড়ায়, সারাক্ষণ ফোনে কথা বলে ইত্যাদি, এমনকি একদিন এক নারী কলিগের সামন এতো বলেই বসলো, “ইশ! আমার বউটা যদি আপনার মত সুন্দর হতো!”

 

সাবিহার ভীষণ কষ্ট হয়। কিন্তু কাউকে বলতেও পারে না ও! ওর শুধু মনে হয়, রাতুল তো তার স্বামী, সবার সামনে এভাবে ওর দোষ নিয়ে আলোচনা না করে, ও কি পারতো না শুধু সাবিহাকে একা একটু বুঝিয়ে বলতে!আর এতে তো রাতুলকে নিয়েও আত্মীয়রা হাসাহাসি করে। সেটাও ভালো লাগে না সাবিহার। সম্পর্কটা এভাবেই দিন দিন খারাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

পাঠক, রাতুল-সাবিহার ঘটনা একটা উদাহরণ মাত্র! কিন্তু এমনটা ঘটে প্রায়শই। তাই একটু খেয়াল রাখুন, নিজের স্ত্রী সম্পর্কে সবার সামনে কিছু বিষয় আলোচনা থেকে বিরত থাকুনঃ

 

১। আপনার রান্নার সাথে তো ওর রান্নার তুলনাই হয় নাঃ
কোথাও গেলেন, হতে পারে আত্মীয় বা কলিগের বাসায়। সেই ভদ্রমহিলা হয়তো অনেক ভালো রান্না করেন আর তা আপনার ভালোও লেগেছে। কিন্তু তাই বলে তার প্রশংসা করার জন্যে নিজের স্ত্রীর রান্নার সাথে তুলনা দিতে যাবেন না। আপনার স্ত্রীকে খাটো করে হয়তো আপনি অন্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন, কিন্তু আপনার জন্যে সব সময় ভালোবেসে খাবার তৈরী করার মানুষটি কি এতে কষ্ট পান না? যার প্রশংসা করছেন, তার প্রশংসাই করুন। অযথা নিজের স্ত্রীর সাথে তুলনা দিয়ে কেবল তাকে আপনি কষ্টই দেন না, বরং নিজেও নিজের অজান্তেই সামনের মানুষটির সামনে অনেকখানিই ছোট হয়ে যান!

 

২। ও ভীষণ ঝগড়াটেঃ
মান অভিমান হোক বা মনোমালিন্য, দাম্পত্যে সবারই এমনটা থাকে। একটু আধটু ঝগড়া ঝাঁটি বরং সম্পর্ককে মজবুত করতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এটি আপনার ও আপনার স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা সবার সামনে বলে স্ত্রীর ওপর দায় চাপাতে চান অনেকেই। যা আপনার সুন্দর মানসিকতার পরিচয় দেয় না।

 

৩। ইশ! আমার স্ত্রী যদি আপনার মতন হতোঃ
অন্য কোন নারীর সামনে এ কথাটা বলছেন আপনি। এর ফলে প্রথমত আপনার স্ত্রী যে কী ভীষণ কষ্ট পান, তা কি আপনই জানেন? আর যাকে বলছেন, তিনিও আপনাকে একজন হীনমন্যতায় ভোগা অসুখী ব্যক্তি ভেবে করুণা ছাড়া আর কিছুই করবেন না।

 

৪। ও আগে পারতো এখন আর পারে নাঃ
আপনার স্ত্রী হয়তো আগে গান গাইতেন, লেখালিখি বা নাচ করতেন। বিয়ের পর সাংসারিক ঝামেলায় হয়তো তার চর্চা নেই। কিন্তু তাই বলে সবার সামনে তার প্রতিভাকে ব্যর্থতায় ঢেকে দেবেন না। কেননা তিনি যা প্রতিভার অধিকারী তার চর্চা করলে আবারো পারবেন। তাই তার প্রতিভার সম্মান দিন।

 

৫। আমার স্ত্রী তো আপনার স্ত্রীর মত সুন্দরী নাঃ
এটির মত নোংরা কথা জগতে দ্বিতীয়টি নেই। আপনার স্ত্রীর সামনেই যদি অন্য কোন নারীকে এ কথা বলার অভ্যাস থাকে। তবে এটি তো আপনার স্ত্রীকে কষ্ট দেয়ই আর সবার সামনে আপনাকে কিছুটা চারিত্রিক ত্রুটিসম্পন্ন হিসেবেও প্রমাণ করে।

 

৬। আমার বাসার বাইরে বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতেই ভালো লাগেঃ
এর মানে আপনি যাই দাঁড় করাতে চান না কেন, সবার সামনে এর একটাই মানে দাঁড়ায়, আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে দাম্পত্যজীবনে সুখী নন। এ কথাটি আপনার মনেই রাখুন।

 

৭। ওকে সব পোষাক মানায় নাঃ
আপনার স্ত্রী হয়তো অতিরিক্ত মোটা বা শুকনো। তাই বলে সবার সামনে তার ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা কি উচিত বলুন? আপনার স্ত্রীকে কোন বিশেষ পোষাক না মানালে তাকে সেটি ঘরেই বলুন। ব্যক্তিগত কথা সবার সামনে প্রচারের কোন মহিমা নেই।

 

৮। ওর চেয়ে ভালো মেয়েকে বিয়ে করতে পারতাম আমিঃ
“পারতেন তো করেন নি কেন?” শুধু আপনার স্ত্রীই নয়। এমন কথায় হাসবে অনেকেই। এতে আপনার নিজের অসম্মান ছাড়া আপনার স্ত্রীর কোন অসম্মান নেই। এসব কথা বলে যতটা না আপনার স্ত্রীকে কষ্ট দিচ্ছেন আত্র চেয়ে সবার সামন এহাসির পাত্রেই পরিণত হচ্ছেন আপনি।

 

৯। ও তো অনেক খরচ করে, মিথ্যা বলেঃ
দয়া করে বাইরের মানুষকে নালিশ করা বন্ধ করুন। আপনার স্ত্রীকে ওরা পরিবর্তণ করতে পারবে না। পারলে আপনিই পারবেন। তাই খরচ কমাতে বাজেট করুন। মিথ্যা কমাতে আপনার উপর আস্থা তৈরীর চেষ্টা করুন।
স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক একান্তই ব্যক্তিগত। তাই নিজ স্ত্রীর সম্পর্কে সবার সামনে এমন কোন কথা বলবেন না, যা তাকে হেয় করে। তিনি হেয় হলে কিন্তু আপনারও ইমেজ কমে বৈ বাড়ে না। ভালো থাকুন।সূত্র: ওয়েবসাইট।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

সাতক্ষীরার বেতনা তীরের ভূমিহীন নারী

 

2_147958

 

অপরাজিতা ডেস্ক: ‘বান, জলোচ্ছাস, ঝড় বাদল তো লেগেই আছে । আর সেই সাথে আমাদেরও যাযাবরের মতো এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছুটাছুটি। কতোবার কুঁড়ে তৈরি করা যায়। কেউ একবার ফিরেও দেখেনা । ঈদ এলে কয়েক কেজি চাল দেয় । আবার যিনি এখানকার ভোটার নন মেম্বর সাহেব তাকে চাল দেন না ।’ সাতক্ষীরার বেতনা পাড়ের মানুষগুলোর এমনই দুর্দশা । বিশেষ করে নারীদের ভোগান্তি যে কতো তার কোনো শেষ নেই বললেন সাতক্ষীরার বেতনা পাড়ের রাবেয়া।

 

 

এই বেতনা পাড়ের আরেক নারী রুবিয়া। একচালা কুঁড়ে ঘরেই তার বাস । তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে । ঝড় এলে ছন উড়ে যায় । এখানকার নারীরা বসবাসের জন্য জমি পেলেও তা চলে যায় অন্যের দখলে । সরকারের এই খাস জমির দখল নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগেই আছে । খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করেছে সরকার । আগে থেকে যারা আছে তারাই টিকে রয়েছে এখানে। আমাদের কোনো শৌচাগার নেই। খাবার পানিও নেই । দু-থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে পানি আনতে হয় । নদীর নোনা পানি । এই নদী ভাঙ্গে আর গড়ে । সেই সাথে আমাদের কপালও ভাঙ্গে । কারও গড়ে কারও গড়েনা ।

 

রেহানা, সুফিয়া, ফিরোজা, আলেয়া, রুবিনা, রাবেয়া, মুক্তার মতো ভিটেমাটি হারা এমন কয়েক শ’ পরিবারের আশ্রয় এখানে । কেউ নিয়েছে সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত । কেউ বন্দোবস্ত ছাড়াই বসবাস করছে সরকারি খাস জমিতে ।

 

ছোট বয়সেই মাকে হারিয়েছে রেহানা । দুটি সন্তান জন্মের পরই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন রেহানা । তার এই অবস্থায় স্বামী তাকে ফেলে রেখে চলে যায় তৈলকুপিতে। স্বামী ফের বিয়ে করে । রেহানা বলেন, একরকম ভাসমান অবস্থায় ঘর বেঁধেছি বেতনা তীরে । সরকার পাঁচ শতক জমি আমার নামে একসনা বন্দোবস্ত দেন । কিছুদিন পর নদী খনন শুরু হলে ঘর ভেঙ্গে যায় । সেই জমিও চলে যায় নদীর মধ্যে। কোথায় দাঁড়াবেন। ভিক্ষে করেই দিন চলে । যদিও কিছুটা জমি স্থানীয় মেম্বর খুঁজে দিয়েছেন, সেখানে ঘর তুলবেন যে টাকা কোথায়! বেতনা তীরের আরেক নারী আলেয়া বেগম। তার পাঁচ জনের সংসারে আয় করার লোক নেই। কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। তাই পরিশ্রমের কাজ করতে পারেন না । বাপের বাড়ি থানাঘাটায় । তারা গরিব, সাহায্য করার সামর্থ্য নেই তাদের।

 

আর সুফিয়া খাতুন নিজেই জোন দেয় মাঠে ঘাটে । মজুরি আসে একশ’ থেকে জোর বেশি দেড় শ’ টাকা। কিন্তু কাজ সব দিন হয়না। রুবিনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন । স্বামীও জোন দেয় । রুবিনা বলেন, খড়পাতার বুননের কাজ করে মাসে আটশ’ টাকা আয় হয়। ছেলে কাজ করে ঘেরে ।

 

মুক্তার চারজনের সংসার । রিশিল্পীর খড়পাতা বুননের কাজ করে যা পায় তাই দিয়েই চলে তার সংসার।
ছয় জনের সংসারে আলেয়া বেগম মাঠে ঘাটে জোন মজুরি খেটে সংসারে যোগান দিয়েও স্বামীর ভালো মুখ পায়না। আর ফিরোজার স্বামী ভ্যান চালায়। সে নিজেও মাঠে জোন দেয় । আলেয়া বেগম বলেন, এরপরও স্বামীর মারধর খেতে হয় আমাদের। কথায় কথায় তালাকের হুমকি আসে। নীরবে সব সহ্য করতে হয় । আর দুর্যোগকালে অত্যাচারের মাত্রা যেন আরও বেড়ে যায় । নারী হিসাবে এভাবেই নানা দুর্ভোগের শিকার হই । প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা জেঁকে বসে বেতনা তীরে । পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে যায় সব । তখন আশ্রয় নিতে হয় কাছাকাছি এক গোডাউনে । কাছে কোনো স্কুল নেই । আমাদের ছেলেমেয়েদের তাই লেখাপড়ার সুযোগও নেই । খাবার পানি যোগাড় করতে না পারলে ভোগ করতে হয় স্বামীর নির্যাতন । ঘরে চাল না থাকলেও ভাত চাই স্বামীর । এতো যন্ত্রণার মধ্যেও সরকার থেকে এলাকায় একটি গভীর নলকুপ বসালে অন্ততঃ বিশুদ্ধ পানি পেতাম পান করার জন্য।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

এশিয়ায় কিশোরী নির্যাতনে বাংলাদেশ শীর্ষে

 

c406de8aaf771ef829d25e4e360ec6ba_35901

 

অপরাজিতা ডেস্ক: মানবাধিকার সমুন্নত রাখ, মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা কর এই স্লোগানকে সামনে রেখে ৬৮টি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

 

 

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অনেক উল্লেখযোগ্য অর্জন আছে। কিন্তু পাশাপাশি গুম, হত্যাসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর নির্যাতন চলছে।

 

 

 

আমরা লক্ষ্য করছি নির্যাতনকারীকে যখন আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি, তখনই তা আর পারা যাচ্ছে না। রাষ্ট্র, প্রশাসন নিজে যদি আইন প্রতিষ্ঠা না করে, আইন মেনে না চলে তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। যে তরুণী নিয়ে আমরা এমডিজির প্রশংসাপত্র নিয়ে আসছি, সেখানে তারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমাদের আলোর পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য পরিবারে নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সব শ্রেণীপেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমা বলেন, আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতন যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা উদ্বেগজনক। ২০১৪-এর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতনের ২১টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৪টি ঘটনা ঘটেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং বাকিগুলো বিভিন্ন জায়গায়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, সংবিধানে এখনও আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।

 

 

আইন সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক অ্যাডভোকেট রওশন জাহান পারভীন বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনের জন্য আমরা কখনও একক কখনও বা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সংবিধান আমাদের মানবাধিকার দিয়েছে। কিন্তু তারপরও ক্রমাগত তা খর্ব হচ্ছে।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

নারীরা পরিবারে পুরুষের ৭ গুণ কাজ করেন

 

Chumki

অপরাজিতাবিডি ডটকম : গ্রামীণ প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের পারিবারিক কাজ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেন্ডার স্টাডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন (সিজিএসটি)। গবেষণায় বলা হয়েছে, পরিবারের অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজে নারীরা মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৭ ঘণ্টা ব্যয় করেন। অপরদিকে পুরুষরা এ কাজ করেন এক ঘণ্টা।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুধবার গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাহিন সুলতান। গবেষণার ক্ষেত্র উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ এলাকা।

 

গবেষণায় বলা হয়, নারীর এ কাজের স্বীকৃতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নেই। কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ পান না। এটি নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিবন্ধক।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নারীদের তুলনায় পুরুষরা উৎপাদনশীল কাজে বেশি সময় দেন, যে কারণে পরিবারের কর্তৃত্ব পুরুষের হাতে। পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি অবসর সময় পার করেন বিনোদন বা অন্য কাজে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে পুরুষের ওপর নারী সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হচ্ছে। প্রতিটি নারীকে শিক্ষার সুযোগ দিলে ও অর্থনৈতিক কাজে সুযোগ দিলে নারীর অবস্থানের পরিবর্তন হবে। সরকার এই দুদিকে খেয়াল দিচ্ছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের ঘরের কাজ করতে হয়। পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেয় নারীরা কোন ধরনের কাজ করবে আর সেটির স্বীকৃতি হবে কি-না। ফলে পুরুষের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ে, নারীরা পায় না কাজের স্বীকৃতি।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার নিকোল মালপাস বলেন, ‘বাংলাদেশের জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে নারীর অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন দরকার। যদি নারী ও পুরুষের কাজের ভাগাভাগি করা হয় তবে দেশের উন্নতি হবেই।’
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

 

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক প্রতিমা পাল মজুমদার প্রমুখ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.