banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

ঘরের সাজে ঝাড়বাতি

 

40923124611

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: অন্দর সাজ দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকতার ছোঁয়া আপনার রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এজন্য ঘর সাজাতে কারুকাজ খচিত ফার্ণিচারের সঙ্গে থাকা চাই ঝাড়বাতি। যা আপনার ঘরের সৌন্দর্যই একধাপ বাড়িয়ে দিবে। তবে তা যেন হয় ঘরের সঙ্গে মানানসই।

 

বসার ঘরেই ঝাড়বাতি বেশি প্রয়োজন। মাঝারি ধরনের ঘরে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝাড়বাতি ব্যবহার করতে পারেন। বিভিন্ন ফুলের নকশা বা চারকোণা আকৃতির ঝাড়বাতি লাগানো যেতে পারে। আর যদি বসার ঘরটি বড় আকারের হয় তাহলে বড় ঝাড়বাতি লাগালেই ভালো লাগবে।

 

বাড়িতে কোনো অতিথি এলে প্রথমে বসতে দিতে হয় এই ঘরটাতে। তাই এই ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোটা একটু বেশি প্রয়োজন। তবে যে ঘরে ঝাড়বাতি লাগাতে হবে সে ঘরে অবশ্যই একটু ভারি ফার্ণিচার থাকা চাই। কারণ সাদামাটা ফার্ণিচার থাকলে ওই ঘরে ঝাড়বাতি লাগালে খুব একটা মানানসই হবে না।

 

ঝাড়বাতি সাধারণত হলুদ রঙের লাইট হলেই বেশি ভালো দেখায়। হলুদ আলো ঘরে একটি সুন্দর আবহ তৈরি করে। দেয়ালের রং যাই হোক, হলুদ লাইট তার সঙ্গে মানিয়ে যাবে। তবে যাদের দেয়াল সাদা বা অফ হোয়াইট, তারা চাইলে সাদা লাইটও ব্যবহার করতে পারেন। দেয়াল হালকা রঙের হলে ইউনিক গ্লাসের ঝাড়বাতি লাগাতে পারেন। ঘরে রোমান্টিক আলোর প্রবাহ আনতে চাইলে বাটারফ্লাই মোটিফের ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি হবে যুতসই।

 

আকার অনুযায়ী ঝাড়বাতির দরদামে ভিন্নতা রয়েছে। হ্যাঙ্গিং ঝাড়বাতি পাওয়া যাবে এক হাজার তিন হাজার টাকার মধ্যে। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন আকারের ক্রিস্টালের ঝাড়বাতির দাম পড়বে ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। কাঁচের সঙ্গে কাঠ কিংবা মেটালের সংযোজনে বিভিন্ন আকারের ঝাড়বাতি পাবেন আট হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়। সিলিং ঝাড়বাতি পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়।

 

যেখানে পাওয়া যাবে:

রাজধানীর নিউমার্কেট, পল্টন, গুলশান ১-, বনানী, বসুন্ধরা সিটি, মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গাতে পাবেন এসব ঝাড়বাতি।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

চোখের যত্নে যা খাবেন

 

20130910050314

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: চোখ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। দৃষ্টিশক্তি না থাকলে পৃথিবী অন্ধকার। আজকাল আমরা কমবেশি সবাই চোখের সমস্যায় ভুগি। শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো চোখের যত্ন নেয়াটাও খুব জরুরি। বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও হয় চোখের সমস্যা। অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদেরও দেখা যায় মোটা লেন্সের চশমা পরতে। তবে আমরা যদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনি তাহলে চোখের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়। চোখকে সুস্থ রাখতে আসলে নিয়মিতই কিছু খাবার দরকার।

Frozen-Carrot-Sliced

 

গাজর
গাজর অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর একটি সবজি। এটি কাঁচা বা রান্না- দুভাবেই খাওয়া যায়। সুস্থ্ চোখ পেতে হলে যেসব খাবার খাওয়া উচিত তার মধ্যে অন্যতম হলো গাজর। এতে রয়েছে ভিটামিন-এ এবং বিটা ক্যারোটিন; যা চোখকে সুস্থ্ রাখতে সাহায্য করে। বিটা ক্যারোটিন অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি ছানি পড়া, বয়সের কারণে চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া গাজরে রয়েছে ফাইবার ও পটাশিয়াম। এ দুটি উপাদানও কিন্তু শরীরের জন্য ভালো। গাজর ক্যান্সার প্রতিরোধক। আর আপনি যদি ওজন কমানোর চিন্তা করে থাকেন তবে গাজর আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
 

Pui_shak

 

সবুজ শাক
সমস্যায় পড়লে আমরা ওষুধে মুক্তি খুঁজি। অথচ অনেক খাবারে রয়েছে বহু সমস্যার সমাধান। আমাদের দেশের নানা রকম সবুজ শাক যেমন, পালং, পুই, কচু, লাউ ইত্যাদিকে অবহেলা করবেন না। সবুজ শাকে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। সেই সাথে এটি ম্যাঙ্গানিজের খুব ভালো উৎস। এগুলো চোখের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখের রেটিনাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে সবুজ শাক। দৃষ্টিশক্তি ভালো করতেও সাহায্য করে এটি।

 

Corn_59903

 

ভুট্টা
 
ভুট্টায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন এ, সি ও লাইকোপিন; যা দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে৷আধ-কাপ রান্না ভুট্টায় একজন মানুষের চোখের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। তাই নিয়মিত ভুট্টা খেতে পারেন। আর নিয়মিত ভুট্টা খেলে চোখের হলুদ পিগমেন্ট হারানোর কোন ঝুঁকি থাকে না। এমনকি ছানি পড়ার ঝুঁকি কমে যায়।
 

 

tomtom

 

টমেটো
টমেটো এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন-এ, বি, সি, কে, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লাইকোপিন, ক্রোমিয়ামসহ নানা উপাদান। টমেটো যেমন কাঁচা খাওয়া যায়, তেমনি রান্না করেও খাওয়া যায়। সালাদে টমেটো অতুলনীয়। চোখের যত্নে যা খাবেন
টমটো খেলে অনেক লাভ। এক গবেষণায় দেখা গেছে টমেটোতে থাকা লাইকোপিন চোখের রেটিনাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়।

 

rr

 

মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলু দেখে নাক সিটকানোর দিন এখন শেষ। কারণ মিষ্টি আলু পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি, ই ও ডি। চোখের যত্নে মিষ্টি আলু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এটি চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে এর তুলনা হয়না। প্রতিদিন একজন মানুষের যতটুকু পুষ্টি দরকার তার বেশিরভাগই মেলে মাঝারি আকারের একটি মিষ্টি আলুতে। এতে রয়েছে প্রতিদিনের চাহিদার ২৮ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ ও ৪০ শতাংশ ভিটামিন- সি। আর মিষ্টি আলু শুধু চোখের যত্নেই কাজে লাগে না; হাড়ের ক্ষয়রোধেও সাহায্য করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও মিষ্টি আলু বেশ উপকারী। সূত্র- আমেরিকানকি

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

বর্ষায় শিশুর যত্ন

 

AmarJibon_Barsha-Bhishu

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: প্রকৃতিতে চলছে এখন বর্ষাকাল। আর বর্ষাকাল মানেই যখন-তখন ঝরঝর বৃষ্টি। আর হুটহাট এই ঝুম বৃষ্টিতে বাচ্চারা ভিজতে পছন্দ করে। বৃষ্টিতে ভিজে বাচ্চারা হৈহুল্লোড় করতে ব্যাকুল থাকে। তাছাড়া বাচ্চারা ছাতা মাথায় দিতে চায় না, রেইন কোটও পরতে চায় না।

 

কিন্তু বৃষ্টির পানিতে ভিজলে বাচ্চাদের নানা অসুখ-বিসুখ হতে পারে। তাই বাচ্চাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে ছাতা ও রেইনকোট ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। বাচ্চাদের এসব বৃষ্টির পানি নিরোধক জিনিস ব্যবহারে উত্সাহী করে তুলতে রঙিন, নানা ধরনের প্রিন্টের বর্ণিল ছাতা ও রেইন কোট কিনে দিতে পারেন।

 

বাচ্চাদের স্বভাব হচ্ছে—হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির পানি ধরবে। বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে পা ডোবাবে। আর একটু খেয়াল না করলে দৌড়ে কোন ফাঁকে ভিজে গোসল সেরে আসবে সেটা আপনি টেরই পাবেন না। তাই বর্ষাকালে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে বাচ্চাদের ওপর। বাচ্চার সঙ্গে সঙ্গে নিজেও ছাতা ও রেইনকোট ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে তার আগ্রহ বাড়বে। কারণ বাচ্চারা বড়দের অনুকরণ করতে পছন্দ করে। বর্ষাকালে হঠাত্ যখন-তখন বৃষ্টি নেমে যেতে পারে। তাই ছাতা ও রেইনকোট সবসময় সঙ্গেই রাখা ভালো। কোনো কারণে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার মাথা ভালো করে মুছিয়ে দিন।

 

যদি খুব সমস্যা না হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে গোসলও করিয়ে দেয়া যেতে পারে। অনেকে মনে করেন গোসল করালে ঠাণ্ডা লাগবে; কিন্তু ন, বৃষ্টির পানি ধুয়ে ফেলাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সম্ভব হলে সরষের তেল মেখে গোসল করাতে পারেন। এতে ঠাণ্ডা কেটে যাবে। শুকনো জায়গা রেখে পানিতে পা দিয়ে হাঁটতেই বাচ্চাদের বেশি আগ্রহ থাকে, ভালো লাগে। আপনি খেয়ালও করতে পারবেন না, আপনার পাশে হাঁটা বাচ্চাটি কখন লাফ দিয়ে পানিতে পা ডুবিয়েছে। তাই যদি পা ডুবিয়েই ফেলে তো আর কি করা! ভেজা জুতা বেশিক্ষণ পায়ে রাখবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জুতা খুলে দিয়ে পা ভালো করে ধুয়ে-মুছিয়ে দিন।

 

আঙ্গুলের ভেতরেও যেন পানি না থাকে। জুতা-মোজাও ভালো করে শুকিয়ে নিন। একটু সতর্ক হলেই দেখবেন এই বর্ষায়ও আপনার শিশু থাকবে সুস্থ ও সুন্দর। বর্ষায় আপনার শিশুকে সুস্থ-সবল রাখতে মায়েদের সচেতনতাই যথেষ্ট। সেই সঙ্গে বাবাদেরও সন্তানের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখা উচিত।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

শ্যাম্পু ছাড়াই চুলের যত্ন

 

pic-3_87377_0

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: চুল পরিস্কার করতে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন না- এমন লোক খুব কম। একটা সময়ে সাবান দিয়েই হতো চুল পরিষ্কারের কাজটি। কিন্তু শ্যাম্পু এখন এতোটাই সহজলভ্য যে চুল সুন্দর রাখতে কেউই আর সাবান ব্যবহার করেন না।

 

কিন্তু শ্যাম্পু কি ঠিকঠাক মতো পারছে আপনার চুলের যত্ন নিতে? নামী-দামী ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ব্যবহার করেও প্রাণহীন আর অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ছে চুল? তাহলে শ্যাম্পু সরিয়ে রাখুন- চুলের যত্নের দায়িত্ব তুলে দিন কিছু ভেষজ উপাদানের হাতে; যা দেবে শ্যাম্পুর চেয়েও বেশি উপকারিতা।

 

 

সুফল মিলছে না শ্যাম্পুতে?

চিন্তিত হওয়ার নেই প্রয়োজন- এসব ভেষজের খোঁজে বনে-জঙ্গলে যেতে হবে না। সব উপাদান পাওয়া যায় হাতের নাগালেই।

 

ক্যামোমিল চা
ক্যামোমিল চা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি চুলের জন্যও। এক ধরনের ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি এই বিশেষ চাপাতা মাথার রুক্ষ ত্বককে সতেজ করে এবং চুল মোলায়েম করে তুলতে পারে। এজন্য ক্যামোমিল চা ফুটিয়ে ছেঁকে পানিটুকু শ্যাম্পুর মতো চুলে ঘষে মেখে ধুয়ে নিন। অথবা পানিতে চা পাতা ভিজিয়ে রেখে, সেই পানি দিয়েও চুল ম্যাসেজ করতে পারেন। যে পদ্ধতিই অনুসরণ করুন, উপকার পাবেন নিশ্চিত।

 

 

pic-2_87377_1

 

আমলকি, লেবু ও ক্যামোমিল চা চুলকে সুন্দর সতেজ করে তুলতে সক্ষম আমলকি
ভেষজ হিসেবে আমলকির গুণাবলীর তালিকা দীর্ঘ। চুলের যত্নেও এই ভেষজ ফলটি তুলনাহীন। আজকাল তেল কিংবা শ্যাম্পু থেকে শুরু করে চুলের বিভিন্ন প্রসাধনেও ব্যবহৃত হচ্ছে আমলকি। এতে আছে ভিটামিন সি। যা মাথার ত্বকে তৈরি যে কোন ইনফেকশন সারাতে সহায়তা করে। চুলকে করে তোলে সুন্দর ঝরঝরে। খুশকির দৌরাত্ম্য দমনেও আমলকি উপকারি।আমলকি কেটে দুধে ভিজিয়ে রাখুন ঘণ্টা কয়েক। ভিজিয়ে রাখা আমলকি বেটে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর সেই পেস্ট চুলে বিলি কেটে কেটে একেবারে চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে মাখুন। এক ঘণ্টা রেখে দিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। পারলে আমলকির পেস্টের সঙ্গে মেহেদি পাতাও যোগ করতে পারেন। আরো ভালো চুল পাবেন।

 

 

লেবু
চুলের যত্নে লেবুও ভীষণ কার্যকর। ক্লিনজার হিসেবে লেবু খুব ভালো কাজ করে। মাথার ত্বকের ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও লেবু সাহায্য করতে পারে। এজন্য এক মগ পানিতে একটি লেবু রস চিপে নিন। সেই পানি চুলে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। তৈলাক্ত চুল ঝরঝরে করে তুলতে লেবুর রসের তুলনা নেই। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

শিরিনের স্বপ্নের সঙ্গে…

 

156cbbb26428a4368c5644375aff0a85-Untitled-7

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: শেখ আবদুল মজিদ ও আঙ্গুরা বেগমের চার মেয়ে। চার মেয়েকে নিয়ে তাঁদের অনেক স্বপ্ন ছিল। তবে সেই স্বপ্ন ‘ভালো ঘরে বিয়ে দেওয়া’। আর সেখান থেকেই এসেছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী। দেশ-সেরার মুকুট এখন তাঁর মাথায়। মা-বাবার সেই স্বপ্নকে নড়বড়ে করে দিয়ে সাফল্যের মুকুট মাথায় করে এগিয়ে চলছেন শিরিন আকতার।

 

অবশ্য গতির সঙ্গে যুদ্ধ করা এই মেয়েটিকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি! যুদ্ধটা ছোটবেলাতেই শুরু হয়েছিল তাঁর। সেই সাতক্ষীরা দহখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ার সময় থেকে। ওইটুকুন বয়সে শিরিন নাম লেখান স্কুলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। দৌড়, হাইজাম্প, লংজাম্প থেকে শুরু করে স্কুলের নানা ধরনের খেলাধুলার সঙ্গে নিত্য দেখা-সাক্ষাৎ ঘটে তাঁর। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার দিন হাতভর্তি পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবুও মা-বাবার ভয়—তাঁদের সেই স্বপ্নভঙ্গ হবে না তো! এ কারণেই খেলাধুলার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আসে।

শিরিন পুরোনো কথা মনে করে খানিকটা বিচলিত হন। ‘জানেন, এমনও হয়েছে দুপুরবেলা মা-বাবার সঙ্গে ঘুমিয়েছি। তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেই, আমি চুপিচুপি উঠে পড়েছি। দরজা ডিঙিয়ে বাইরে এসে জানালায় দাঁড়িয়েছি, তখনই আমার বড় বোন জানালা দিয়ে খেলার পোশাক পার করে দিয়েছে। পোশাক হাতে সোজা নানুবাড়ি। আমার সৌভাগ্য নানুবাড়ির কাছেই ছিল। সেখানে পোশাক পরিবর্তন করে মাঠে দৌড়। এভাবে কত দিন যে লুকিয়ে লুকিয়ে মাঠে গিয়েছি তার হিসাব নেই। আমার জন্য বড় বোন পর্যন্ত বকা খেয়েছে।’ বলেন শিরিন।

 

একসময় খেলাধুলাই ভাগ্য ফিরিয়ে দেয় শিরিনের। প্রাথমিক স্কুল পার করে ভর্তি হন সাতক্ষীরার একটি মাধ্যমিক স্কুলে। সেখান থেকে সোজা বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। ভর্তি হওয়ার সময়ও মা-বাবা চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু শিরিনের ধারাবাহিক সাফল্য আর তাঁর বড় বোন, ছোট মামা ও নানির কথার ওপরে কথা বলতে পারেননি। তাই ২০০৭ সাল থেকেই শিরিনের ঠিকানা হয় বিকেএসপি। সেখান থেকেই অংশ নেন বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা খেলোয়াড়ের কৃতিত্ব তাঁর দখলে ছিল। মাঝখানের এক বছর বাদ দিয়ে আবার ২০১২ সালে সেরা হন শিরিন। ২০১৩ সালে অংশ নেন বাংলাদেশ গেমসে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে। ২০১৪ সালে এখন পর্যন্ত অংশ নেন দুটি প্রতিযোগিতায়। একটি ৩৮তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস ও ১২তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস। প্রতিটি প্রতিযোগিতার ১০০ মিটার স্পিন্টে সোনা জয় করে দ্রুততম মানবীর খেতাব জয় করেন তিনি। বর্তমানে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। তাদের হয়েই খেলবেন সামনের দিনগুলোতে। এইচএসসি পাস করেছেন বিকেএসপি থেকে। সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি শিরিনের স্বপ্ন অলিম্পিক গেমসে অংশ নেওয়া। শুধু অংশই নয়, দেশের হয়েই সেরা হতে চান সাতক্ষীরার এই মেয়ে। শিরিনের সেই স্বপ্নের সঙ্গে এখন হেঁটে চলেছেন তাঁর পরিবার, সাতক্ষীরা ও বাংলাদেশের মানুষ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪

স্ত্রী সম্পর্কে সবার সামনে ৯টি কথা কখনোই বলবেন না

 

tansihq-wedding-photography-india-brid-groom (8).preview

ছবি: প্রতিকী

 

অপরাজিতা ডেস্ক: রাতুল ও সাবিহা বিয়ে হয়েছে পরিবারের সম্মতিতে। বিয়ের এক মাস পরেই সাবিহা আবিস্কার করলো রাতুল ভীষণ খুঁতখুঁতে। কেবল বাসাতেই নয়, বরং কোন আত্মীয় বা কলিগের বাসাতে গেলেও সাবিহার নানা দোষ নিয়ে আলোচনা করে ও সবার সামনেই। সাবিহার রান্না ভালো না, সাবিহা শুধু শপিং করে টাকা ওড়ায়, সারাক্ষণ ফোনে কথা বলে ইত্যাদি, এমনকি একদিন এক নারী কলিগের সামন এতো বলেই বসলো, “ইশ! আমার বউটা যদি আপনার মত সুন্দর হতো!”

 

সাবিহার ভীষণ কষ্ট হয়। কিন্তু কাউকে বলতেও পারে না ও! ওর শুধু মনে হয়, রাতুল তো তার স্বামী, সবার সামনে এভাবে ওর দোষ নিয়ে আলোচনা না করে, ও কি পারতো না শুধু সাবিহাকে একা একটু বুঝিয়ে বলতে!আর এতে তো রাতুলকে নিয়েও আত্মীয়রা হাসাহাসি করে। সেটাও ভালো লাগে না সাবিহার। সম্পর্কটা এভাবেই দিন দিন খারাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

পাঠক, রাতুল-সাবিহার ঘটনা একটা উদাহরণ মাত্র! কিন্তু এমনটা ঘটে প্রায়শই। তাই একটু খেয়াল রাখুন, নিজের স্ত্রী সম্পর্কে সবার সামনে কিছু বিষয় আলোচনা থেকে বিরত থাকুনঃ

 

১। আপনার রান্নার সাথে তো ওর রান্নার তুলনাই হয় নাঃ
কোথাও গেলেন, হতে পারে আত্মীয় বা কলিগের বাসায়। সেই ভদ্রমহিলা হয়তো অনেক ভালো রান্না করেন আর তা আপনার ভালোও লেগেছে। কিন্তু তাই বলে তার প্রশংসা করার জন্যে নিজের স্ত্রীর রান্নার সাথে তুলনা দিতে যাবেন না। আপনার স্ত্রীকে খাটো করে হয়তো আপনি অন্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন, কিন্তু আপনার জন্যে সব সময় ভালোবেসে খাবার তৈরী করার মানুষটি কি এতে কষ্ট পান না? যার প্রশংসা করছেন, তার প্রশংসাই করুন। অযথা নিজের স্ত্রীর সাথে তুলনা দিয়ে কেবল তাকে আপনি কষ্টই দেন না, বরং নিজেও নিজের অজান্তেই সামনের মানুষটির সামনে অনেকখানিই ছোট হয়ে যান!

 

২। ও ভীষণ ঝগড়াটেঃ
মান অভিমান হোক বা মনোমালিন্য, দাম্পত্যে সবারই এমনটা থাকে। একটু আধটু ঝগড়া ঝাঁটি বরং সম্পর্ককে মজবুত করতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এটি আপনার ও আপনার স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা সবার সামনে বলে স্ত্রীর ওপর দায় চাপাতে চান অনেকেই। যা আপনার সুন্দর মানসিকতার পরিচয় দেয় না।

 

৩। ইশ! আমার স্ত্রী যদি আপনার মতন হতোঃ
অন্য কোন নারীর সামনে এ কথাটা বলছেন আপনি। এর ফলে প্রথমত আপনার স্ত্রী যে কী ভীষণ কষ্ট পান, তা কি আপনই জানেন? আর যাকে বলছেন, তিনিও আপনাকে একজন হীনমন্যতায় ভোগা অসুখী ব্যক্তি ভেবে করুণা ছাড়া আর কিছুই করবেন না।

 

৪। ও আগে পারতো এখন আর পারে নাঃ
আপনার স্ত্রী হয়তো আগে গান গাইতেন, লেখালিখি বা নাচ করতেন। বিয়ের পর সাংসারিক ঝামেলায় হয়তো তার চর্চা নেই। কিন্তু তাই বলে সবার সামনে তার প্রতিভাকে ব্যর্থতায় ঢেকে দেবেন না। কেননা তিনি যা প্রতিভার অধিকারী তার চর্চা করলে আবারো পারবেন। তাই তার প্রতিভার সম্মান দিন।

 

৫। আমার স্ত্রী তো আপনার স্ত্রীর মত সুন্দরী নাঃ
এটির মত নোংরা কথা জগতে দ্বিতীয়টি নেই। আপনার স্ত্রীর সামনেই যদি অন্য কোন নারীকে এ কথা বলার অভ্যাস থাকে। তবে এটি তো আপনার স্ত্রীকে কষ্ট দেয়ই আর সবার সামনে আপনাকে কিছুটা চারিত্রিক ত্রুটিসম্পন্ন হিসেবেও প্রমাণ করে।

 

৬। আমার বাসার বাইরে বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতেই ভালো লাগেঃ
এর মানে আপনি যাই দাঁড় করাতে চান না কেন, সবার সামনে এর একটাই মানে দাঁড়ায়, আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে দাম্পত্যজীবনে সুখী নন। এ কথাটি আপনার মনেই রাখুন।

 

৭। ওকে সব পোষাক মানায় নাঃ
আপনার স্ত্রী হয়তো অতিরিক্ত মোটা বা শুকনো। তাই বলে সবার সামনে তার ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা কি উচিত বলুন? আপনার স্ত্রীকে কোন বিশেষ পোষাক না মানালে তাকে সেটি ঘরেই বলুন। ব্যক্তিগত কথা সবার সামনে প্রচারের কোন মহিমা নেই।

 

৮। ওর চেয়ে ভালো মেয়েকে বিয়ে করতে পারতাম আমিঃ
“পারতেন তো করেন নি কেন?” শুধু আপনার স্ত্রীই নয়। এমন কথায় হাসবে অনেকেই। এতে আপনার নিজের অসম্মান ছাড়া আপনার স্ত্রীর কোন অসম্মান নেই। এসব কথা বলে যতটা না আপনার স্ত্রীকে কষ্ট দিচ্ছেন আত্র চেয়ে সবার সামন এহাসির পাত্রেই পরিণত হচ্ছেন আপনি।

 

৯। ও তো অনেক খরচ করে, মিথ্যা বলেঃ
দয়া করে বাইরের মানুষকে নালিশ করা বন্ধ করুন। আপনার স্ত্রীকে ওরা পরিবর্তণ করতে পারবে না। পারলে আপনিই পারবেন। তাই খরচ কমাতে বাজেট করুন। মিথ্যা কমাতে আপনার উপর আস্থা তৈরীর চেষ্টা করুন।
স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক একান্তই ব্যক্তিগত। তাই নিজ স্ত্রীর সম্পর্কে সবার সামনে এমন কোন কথা বলবেন না, যা তাকে হেয় করে। তিনি হেয় হলে কিন্তু আপনারও ইমেজ কমে বৈ বাড়ে না। ভালো থাকুন।সূত্র: ওয়েবসাইট।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

সাতক্ষীরার বেতনা তীরের ভূমিহীন নারী

 

2_147958

 

অপরাজিতা ডেস্ক: ‘বান, জলোচ্ছাস, ঝড় বাদল তো লেগেই আছে । আর সেই সাথে আমাদেরও যাযাবরের মতো এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছুটাছুটি। কতোবার কুঁড়ে তৈরি করা যায়। কেউ একবার ফিরেও দেখেনা । ঈদ এলে কয়েক কেজি চাল দেয় । আবার যিনি এখানকার ভোটার নন মেম্বর সাহেব তাকে চাল দেন না ।’ সাতক্ষীরার বেতনা পাড়ের মানুষগুলোর এমনই দুর্দশা । বিশেষ করে নারীদের ভোগান্তি যে কতো তার কোনো শেষ নেই বললেন সাতক্ষীরার বেতনা পাড়ের রাবেয়া।

 

 

এই বেতনা পাড়ের আরেক নারী রুবিয়া। একচালা কুঁড়ে ঘরেই তার বাস । তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে । ঝড় এলে ছন উড়ে যায় । এখানকার নারীরা বসবাসের জন্য জমি পেলেও তা চলে যায় অন্যের দখলে । সরকারের এই খাস জমির দখল নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগেই আছে । খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করেছে সরকার । আগে থেকে যারা আছে তারাই টিকে রয়েছে এখানে। আমাদের কোনো শৌচাগার নেই। খাবার পানিও নেই । দু-থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে পানি আনতে হয় । নদীর নোনা পানি । এই নদী ভাঙ্গে আর গড়ে । সেই সাথে আমাদের কপালও ভাঙ্গে । কারও গড়ে কারও গড়েনা ।

 

রেহানা, সুফিয়া, ফিরোজা, আলেয়া, রুবিনা, রাবেয়া, মুক্তার মতো ভিটেমাটি হারা এমন কয়েক শ’ পরিবারের আশ্রয় এখানে । কেউ নিয়েছে সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত । কেউ বন্দোবস্ত ছাড়াই বসবাস করছে সরকারি খাস জমিতে ।

 

ছোট বয়সেই মাকে হারিয়েছে রেহানা । দুটি সন্তান জন্মের পরই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন রেহানা । তার এই অবস্থায় স্বামী তাকে ফেলে রেখে চলে যায় তৈলকুপিতে। স্বামী ফের বিয়ে করে । রেহানা বলেন, একরকম ভাসমান অবস্থায় ঘর বেঁধেছি বেতনা তীরে । সরকার পাঁচ শতক জমি আমার নামে একসনা বন্দোবস্ত দেন । কিছুদিন পর নদী খনন শুরু হলে ঘর ভেঙ্গে যায় । সেই জমিও চলে যায় নদীর মধ্যে। কোথায় দাঁড়াবেন। ভিক্ষে করেই দিন চলে । যদিও কিছুটা জমি স্থানীয় মেম্বর খুঁজে দিয়েছেন, সেখানে ঘর তুলবেন যে টাকা কোথায়! বেতনা তীরের আরেক নারী আলেয়া বেগম। তার পাঁচ জনের সংসারে আয় করার লোক নেই। কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। তাই পরিশ্রমের কাজ করতে পারেন না । বাপের বাড়ি থানাঘাটায় । তারা গরিব, সাহায্য করার সামর্থ্য নেই তাদের।

 

আর সুফিয়া খাতুন নিজেই জোন দেয় মাঠে ঘাটে । মজুরি আসে একশ’ থেকে জোর বেশি দেড় শ’ টাকা। কিন্তু কাজ সব দিন হয়না। রুবিনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন । স্বামীও জোন দেয় । রুবিনা বলেন, খড়পাতার বুননের কাজ করে মাসে আটশ’ টাকা আয় হয়। ছেলে কাজ করে ঘেরে ।

 

মুক্তার চারজনের সংসার । রিশিল্পীর খড়পাতা বুননের কাজ করে যা পায় তাই দিয়েই চলে তার সংসার।
ছয় জনের সংসারে আলেয়া বেগম মাঠে ঘাটে জোন মজুরি খেটে সংসারে যোগান দিয়েও স্বামীর ভালো মুখ পায়না। আর ফিরোজার স্বামী ভ্যান চালায়। সে নিজেও মাঠে জোন দেয় । আলেয়া বেগম বলেন, এরপরও স্বামীর মারধর খেতে হয় আমাদের। কথায় কথায় তালাকের হুমকি আসে। নীরবে সব সহ্য করতে হয় । আর দুর্যোগকালে অত্যাচারের মাত্রা যেন আরও বেড়ে যায় । নারী হিসাবে এভাবেই নানা দুর্ভোগের শিকার হই । প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা জেঁকে বসে বেতনা তীরে । পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে যায় সব । তখন আশ্রয় নিতে হয় কাছাকাছি এক গোডাউনে । কাছে কোনো স্কুল নেই । আমাদের ছেলেমেয়েদের তাই লেখাপড়ার সুযোগও নেই । খাবার পানি যোগাড় করতে না পারলে ভোগ করতে হয় স্বামীর নির্যাতন । ঘরে চাল না থাকলেও ভাত চাই স্বামীর । এতো যন্ত্রণার মধ্যেও সরকার থেকে এলাকায় একটি গভীর নলকুপ বসালে অন্ততঃ বিশুদ্ধ পানি পেতাম পান করার জন্য।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

এশিয়ায় কিশোরী নির্যাতনে বাংলাদেশ শীর্ষে

 

c406de8aaf771ef829d25e4e360ec6ba_35901

 

অপরাজিতা ডেস্ক: মানবাধিকার সমুন্নত রাখ, মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা কর এই স্লোগানকে সামনে রেখে ৬৮টি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

 

 

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অনেক উল্লেখযোগ্য অর্জন আছে। কিন্তু পাশাপাশি গুম, হত্যাসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর নির্যাতন চলছে।

 

 

 

আমরা লক্ষ্য করছি নির্যাতনকারীকে যখন আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি, তখনই তা আর পারা যাচ্ছে না। রাষ্ট্র, প্রশাসন নিজে যদি আইন প্রতিষ্ঠা না করে, আইন মেনে না চলে তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। যে তরুণী নিয়ে আমরা এমডিজির প্রশংসাপত্র নিয়ে আসছি, সেখানে তারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমাদের আলোর পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য পরিবারে নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সব শ্রেণীপেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমা বলেন, আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতন যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা উদ্বেগজনক। ২০১৪-এর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতনের ২১টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৪টি ঘটনা ঘটেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং বাকিগুলো বিভিন্ন জায়গায়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, সংবিধানে এখনও আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।

 

 

আইন সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক অ্যাডভোকেট রওশন জাহান পারভীন বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনের জন্য আমরা কখনও একক কখনও বা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সংবিধান আমাদের মানবাধিকার দিয়েছে। কিন্তু তারপরও ক্রমাগত তা খর্ব হচ্ছে।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

নারীরা পরিবারে পুরুষের ৭ গুণ কাজ করেন

 

Chumki

অপরাজিতাবিডি ডটকম : গ্রামীণ প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের পারিবারিক কাজ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেন্ডার স্টাডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন (সিজিএসটি)। গবেষণায় বলা হয়েছে, পরিবারের অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজে নারীরা মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৭ ঘণ্টা ব্যয় করেন। অপরদিকে পুরুষরা এ কাজ করেন এক ঘণ্টা।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুধবার গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাহিন সুলতান। গবেষণার ক্ষেত্র উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ এলাকা।

 

গবেষণায় বলা হয়, নারীর এ কাজের স্বীকৃতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নেই। কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ পান না। এটি নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিবন্ধক।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নারীদের তুলনায় পুরুষরা উৎপাদনশীল কাজে বেশি সময় দেন, যে কারণে পরিবারের কর্তৃত্ব পুরুষের হাতে। পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি অবসর সময় পার করেন বিনোদন বা অন্য কাজে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে পুরুষের ওপর নারী সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হচ্ছে। প্রতিটি নারীকে শিক্ষার সুযোগ দিলে ও অর্থনৈতিক কাজে সুযোগ দিলে নারীর অবস্থানের পরিবর্তন হবে। সরকার এই দুদিকে খেয়াল দিচ্ছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের ঘরের কাজ করতে হয়। পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেয় নারীরা কোন ধরনের কাজ করবে আর সেটির স্বীকৃতি হবে কি-না। ফলে পুরুষের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ে, নারীরা পায় না কাজের স্বীকৃতি।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার নিকোল মালপাস বলেন, ‘বাংলাদেশের জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে নারীর অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন দরকার। যদি নারী ও পুরুষের কাজের ভাগাভাগি করা হয় তবে দেশের উন্নতি হবেই।’
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

 

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক প্রতিমা পাল মজুমদার প্রমুখ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

বেকারত্ব ও জনসচেতনার অভাবে নারী নির্যাতন বাড়ছে

 

 

Nari

 

অপরাজিতা প্রতিবেদক : যুবকদের বেকারত্ব ও নারী-পুরুষ উভয়ের সচেতনার অভাবেই নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এই নির্যাতন প্রতিরোধ করতে হলে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। তা না হলে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

 

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীদের প্রতি সহযোগিতা জোরদারে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব মতামত দেন।

 

বাংলাদেশ নারী সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম, খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী, সুফিয়া কামাল নারী ক্লাবের সদস্য আরাফাত বেগম, জাহানারা ইমাম নারী ক্লাবের সদস্য দুলহ বেগম প্রমুখ।

 

ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর এই আন্দোলনে পুরুষদেরও সঙ্গী করে নিতে হবে। শুধু নারীরাই আন্দোলন করলে হবে না।

 

তিনি অনুষ্ঠানের উপস্থিত নারীদের প্রতি বলেন, আপনারা বা আপনাদের পরিচিত কেউ নির্যাতনের শিকার হলে প্রথমে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করবেন। আর সেখানে যদি কোনো অসহযোগিতা পান কিংবা থানায় যেতে না চান, তাহলে সরাসরি ঢাকার ডিসি কার্যালয়ে চলে আসবেন। আপনাদের সেবার জন্য সেখানে আলাদা একটি শাখা সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে।

 

সুফিয়া কামাল নারী ক্লাবের সদস্য আরাফাত বেগম বলেন, বেকারত্বের কারণেই নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পড়া লেখা শেষে যুবকরা যখন বেকার থাকেন তখন তাদের মধ্যে কু-চিন্তাচেতনা কাজ করে। এর ফলে তারা এই নারী নির্যাতনের দিকে ধাবিত হয়। সুতরাং, নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারকে আগে বেকারত্ব দূর করতে হবে।

 

নারী আন্দোলনের এই নেত্রী আরও বলেন, নারী নির্যাতনের আরেকটি কারণ হলো মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মার অসচেতনতা। তারা যখন মেয়েকে বিয়ে দেন তখন যদি জামাইয়ের চরিত্র ও তার পারিবারিক বন্ধন বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নেন তা হলে বিয়ের পরে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা কম ঘটত।
একই সঙ্গে নির্যাতনের পর মামলা বা অভিযোগ দিতে গিয়ে পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়ার নামে যেন দ্বিতীয় নির্যাতনের শিকার হতে না হয় সে জন্য আহ্বান জানান তিনি।

 

জাহানারা ইমাম নারী ক্লাবের সদস্য দুলহ বেগম বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধে নারী-পুরুষ সবাইকেই সচেতন হতে হবে। নারী নির্যাতন যে শুধু পুরুষরাই করেন তা নয়। পরিবারে শাশুড়ি ও ননদসহ বিভিন্ন সম্পর্কের নারীরাও গৃহবধূকে নির্যাতন করে থাকে। তাই পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও এ ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।

 

খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিয়াকত আলী বলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় আসার পরে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করি সহযোগিতা করার জন্য। তবে মামলা করতে এসে যেন কেউ থানার দারোয়ান বা অন্য কোনো নিম্ন পদস্থের সহযোগিতা না চান, সে বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আপনারা সরাসরি ওসি তদন্ত অথবা অপারেশন অফিসারের কক্ষে গিয়ে অভিযোগ দিবেন।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি নারী নেত্রী রোকেয়া কবীর বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারীদের সংঘবদ্ধ হতে হবে। এই সংঘবদ্ধ নারী প্রতিনিধিরা যদি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলেই এই সামজিক ব্যাধি প্রতিরোধ সম্ভব।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

সর্দি-জ্বর দ্রুত দূর করবে যে খাবারটি

 

resize_1410664789

 

অপরাজিতা ডেস্ক: মৌসুমটাই যেন খারাপ চলছে। ঘরে ঘরে লেগে আছে সর্দি-জ্বর-কাশি। ওষুধ খেয়ে জ্বরটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শরীরটা যেন ভীষণ দুর্বল। মাথা ঘোরায়, কোন কিছুতে উৎসাহ লাগে না, হতচ্ছাড়া সর্দিটাও যেন সারতে চায় না কিছুতেই। এমন অবস্থায় সেরা পদ্ধতি হচ্ছে ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ হওয়া। এবং এর জন্য খেতে হবে পুষ্টিকর ও সর্দি-জ্বরে উপকারী এমন কিছু খাবার, যা আপনাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলবে আর যোগাবে অসুখের সাথে লড়াই করার ক্ষমতা। আর তেমনই এই বিশেষ রেসিপি রইলো আজ।

 

সর্দি-জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসায় চিকেন স্যুপ বহু বছর যাবত সেরা পথ্য হিসাবে পরিচিত। তবে বাজারের কেনা কৃত্রিম স্যুপ নয়, হতে হবে যত্ন করে ঘরে তৈরি। দিনে অন্তত একবার এই স্যুপ আপনাকে যোগাবে শক্তি ও পুষ্টি, সাহায্য করবে দ্রুত সুস্থ হতে। আসুন, জেনে নেই রেসিপিটি।

 

ধাপ-১ (উপকরণ ও প্রণালি)

 

বাচ্চা মুরগি ১ টি

পানি ২ লিটার বা ইচ্ছামত
আদা ও রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ করে
আস্ত গোলমরিচ ৮/১০ টি
লবণ

 

-মুরগিকে ছোট টুকরো করে ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার হাড় সহ পাটায় ছেঁচে নিন। ছেঁচে হয়ে গেলে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে অল্প জ্বালে সিদ্ধ হতে বসিয়ে দিন।

 

-প্রয়োজনে আরও পানি দিন। কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা জ্বাল দেবেন। মুরগির সমস্ত পুষ্টি উপাদান আস্তে আস্তে বের হয়ে মিশে যাবে স্যুপে। দুই লিটার পানি শুকিয়ে এক লিটারের কম হলে নামিয়ে ছেঁকে নিন।

 

ধাপ-২ (উপকরণ ও প্রণালি)

প্রথম ধাপে তৈরি করা স্যুপ
স্যুপ ছেঁকে নেয়ার পর পাওয়া মাংস
গাজর টুকরো ১/২ কাপ
কর্ণ ফ্লাওয়ার সামান্য
সয়াসস সামান্য
মাশরুম, বেবি কর্ণ, স্প্রিং অনিয়ন ইত্যাদি যা আপনার ভালো লাগে ১/২ কাপ

-হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে কুচি করে নিন। এবার ছেঁকে নেয়া স্যুপের মাঝে মাংস দিয়ে চুলায় বসান। গাজর ও অন্যান্য সবজিগুলো দিয়ে দিন।

-স্যুপ ফুটে উঠলে সয়াসস ও কর্ণ ফ্লাওয়ার দিয়ে দিন।
-স্যুপ ঘন হলে পরিবেশন করুন গরম গরম। চাইলে নুডুলস ছেড়ে দিয়ে নুডুলস স্যুপ করে ফেলতে পারেন।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিনিধি/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

ঈশ্বরগঞ্জে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল শান্তা

 

ballo_27781_0

 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শান্তা আক্তার।

 

মঙ্গলবার দুপুরে পৌর সদরের দত্তপাড়া গ্রামে গিয়ে এ বাল্যবিবাহ ভেঙে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যট রাশেদ হোসেন চৌধুরী।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী দত্তপাড়া গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে শান্তা আক্তারকে মঙ্গলবার বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল পাশের মধুপুর গ্রামের রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে।

 

শান্তার বান্ধবীরা এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিম উদ্দিনকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।

 

পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ হোসেন চৌধুরী ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে বর আসার আগেই এ বাল্যবিবাহ ভেঙে দেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) রাশেদ হোসেন চৌধুরী জানান, শান্তার বাবা-মা ১৮ বছরের আগে তার মেয়েকে আর বিয়ে দেবে না বলে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। পরে স্কুলছাত্রী শান্তাকে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামছুদ্দিনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিনিধি/আরএ/এ/সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমকে চিরবিদায়

 

1_145964

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা: অগণিত ভক্ত, অনুরাগী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা অকৃত্রিম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় চোখের জলে বিদায় জানালেন নজরুলের গানের পাখি কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমকে। কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগম তার শেষ আশ্রয় খুঁজে নিলেন বনানী কবরস্থানে। 

 

 

বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নেমেছিল। ফুলে, শ্রদ্ধায়, স্মরণে শিল্পী ও তার সুরের প্রতি ভক্তদের অনুরাগ ও আবেগ বড় মায়াময় হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা শহীদ মিনারে। শুধু ভক্তরাই নয়, গোটা এলাকাই বেদনাবিধুর হয়ে উঠেছিল নজরুলসঙ্গীত সম্রাজ্ঞীর চলে যাওয়ার ব্যথায়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে বেলা দেড়টায় তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
শিল্পীকে শেষ বিদায় জানাতে আগে থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অপেক্ষারত ছিলেন তার ভক্তরা। সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শিল্পীর বাসভবনে যান এবং পরিবারের সদস্যেদের সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শিল্পীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করায় সরকারের সমালোচনা করেন।
বেলা দুইটায় শুরু হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ, একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর ও সামরিক সচিব কর্নেল মাহবুব।

 

এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসরকারি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।

 

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। বিএনপির পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ড. মঈন খান, ডা. জাহিদ হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, নায়ক উজ্জ্বল, হেলাল খান ও কণ্ঠশিল্পী মনির খান।

 

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে লিয়াকত আলী লাকী ও সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, জাতীয় জাদুঘরের পক্ষে মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষে মফিদুল হক, গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক শিরিন আখতার, ছায়ানটের পক্ষ থেকে খায়রুল আনাম শাকিল শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জনপ্রশাসন সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সংস্কৃতিসচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, ইমেরিটাস প্রফেসর আনিুসজ্জামান, ইমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, হাশেম খান, রামেন্দু মজুমদার, রাশেদা কে চৌধুরী, মনসুর মূসা, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, লাইসা আহমেদ লিসা, ইয়াকুব আলী খান, খালিদ হোসেন, আবদুল জব্বার, সালাউদ্দিন আহমেদ, সুজিত মোস্তফা, আইয়ুব বাচ্চু, আফরোজা বানু, শাহীন সামাদ, পাপিয়া সারোয়ার, খিলখিল কাজী, শহীদুল্লাহ ফরায়জী প্রমুখ।

 

শ্রদ্ধা নিবেদন করে নজরুল ইন্সটিটিউট, নজরুল একাডেমি, নজরুলসঙ্গীত শিল্পী পরিষদ, নজরুলসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্র, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, সোনারগাঁও জাদুঘর, বিএমএ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, উদীচী, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী, বাসদ, কর্মজীবী নারী, মহিলা পরিষদ, সংস্কৃতি বিকাশ চর্চা কেন্দ্র, নৃত্যশিল্পী সংস্থা, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গ্রাম থিয়েটার, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, প্রতিধ্বনি, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, বামবা, ঋষিজ, পদাতিক নাট্য সংসদ (টিএসসি), সাংস্কৃতি ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, লেবার পার্টি, লেজার ভিশন, এটিএন বাংলা, আরটিভি, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, গান বাংলা টেলিভিশন, গণফোরাম, বিশ্ব কবিতা পরিষদ, স্রোত আবৃত্তি সংসদ, প্রজন্ম একাত্তর, আর্কাইভ ও গ্রন্থাগার অধিদফতর, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, ভিন্ন ধারা, প্রকাশ আবৃত্তি সংগঠন, প্রতিসৃষ্টি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় নারী জোট, জাসদ ছাত্রলীগ, রাইজিং বিডি ডট কম, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, দেশ নাটক, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, আওয়ামী উলামা লীগসহ অসংখ্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দল। সেখানে বেলা দুইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলে শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব। শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয় শিল্পীকে। এর আগে সকাল আটটায় এ্যাপোলো হাসপাতালের হিমাগার থেকে শিল্পীর মরদেহ নিয়ে আসা হয় তার ইন্দিরা রোডের বাসভবনে। বেলা দেড়টায় সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

 

নীরবতা পালন : বেলা দুইটা থেকে শুরু হওয়া শ্রদ্ধাঞ্জলি বিকাল চারটায় এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর আগে সব শিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ। নাগরিক শোকগাঁথা শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ফিরোজা বেগমের মরদেহের পাশে সার্বক্ষণিক উপস্থিত ছিলেন হামিন আহমেদ, সাফিন আহমেদসহ পরিবারের সদস্যরা। তার আগে ফিরোজা বেগমের ছেলে হামিন আহমেদ পরিবারের পক্ষ থেকে তার মায়ের প্রতি দেশবাসীর এত ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

 

ফিরোজা বেগমের ভাই আসাফদ্দৌলা বলেন, ‘তিনি চলে যাওয়াতে শুধু আমাদের পরিবার নয়, বাঙালি জাতির পরম ক্ষতি হল।’ শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘তার গায়কী ও সুন্দর চিন্তাকে লালন করা উচিত।’
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের শোক : দেশের বিশিষ্ট নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার রাজনৈতিক ও তথ্য উপদেষ্টা সুজিত ঘোষ পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার এইচই পঙ্কজ শরণ। বিজ্ঞপ্তিতে হাইকমিশনার বলেছেন, ফিরোজা বেগম ছিলেন একজন প্রবাদপ্রতিম নজরুলসঙ্গীত শিল্পী। কিংবদন্তি এই শিল্পী শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও ছিলেন সবার শ্রদ্ধারপাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এক শোক বার্তায় বলেন, কিংবদন্তি এই শিল্পী মাত্র ১২ বছর বয়সে সঙ্গীত জীবনের সূচনা করেন। তিনি তার সঙ্গীত জীবনে পেয়েছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুর্লভ সান্নিধ্য।

 

ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের শোক : ফরিদপুরের কৃতী সন্তান নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। ফরিদপুর নজরুল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক তার শোকবার্তায় বলেন, শিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতে সৃষ্টি হল এক বিরাট শূন্যতা। যা পূরণ হাওয়ার নয়। এছাড়া শোক প্রকাশ করেছে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, তমুদ্দন মজলিশ, ফরিদপুর প্রেস ক্লাব, ফরিদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, ফরিদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফরিদপুর প্রেস মিডিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

বয়সের ছাপ কি দূরে রাখা যায়

 

Anti-ageing

 

অপরাজিতা ডেস্ক : এমন কথা অনেকবারই শুনে থাকবেন অ্যান্টি এজিং কসমেটিক ব্যবহার করুন ৪০-৫০ বছর বয়সে। কিন্তু এ ধরনের প্রসাধনী প্রায়ই আপনাকে প্রলুব্ধ করে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনগুলো বলে এগুলো আপনারই জন্য। আসলে কি তাই? এমন সংশয় আর নয়। সব বয়সেই আপনি অ্যান্টি এজিং প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। তবে মূল বিষয় হলো কোনটি কোন বয়সে করা যাবে বা যাবে না তা জানতে হবে। এ ছাড়া আপনার ত্বক কী চায় সেটা হলো প্রধান বিবেচ্য।

 

এটা শুধু বয়স নয়, লাইফস্টাইল, পেশা ও প্রতিদিনের শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে জড়িত। তাই প্রসাধন মূল বিষয় নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস দিতে পারে উজ্জ্বল ও তারুণ্যদীপ্ত ত্বক। ভুল খাবারে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। প্রচুর মৌসুমী ফল ও শাক সবজি খান, যা ত্বককে কোমল ও নমনীয় রাখে। পর্যাপ্ত পানি ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করে, ত্বককে রাখে মসৃণ।

এবার দেখা যাক কোন বয়সে কোন ধরনের অ্যান্টি এজিং সমাধান বেছে নিতে পারেন-

 

যাদের বয়স বিশের ঘরে : তরুণ ত্বকের জন্য নাইট ক্রিম ও সিরাম বেশি হয়ে যায়। যদি ত্বকে কোনো সমস্যা না থাকে, তবে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ একদম অনুচিত। স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য সিরামের ব্যবহার খুবই খারাপ। এটি ত্বককে তৈলাক্ত ও ভঙ্গুর করে তোলে। তবে বিভিন্ন ব্রান্ডের ভালো অ্যান্টি এজিং ক্রিম বাজারে মিলে, যা এ বয়সের তরুণীরা দিনের বেলায় ব্যবহার করতে পারেন। এ বয়সে ত্বকের স্বাস্থ্য সবচেয়ে ভালো থাকে। ত্বকে কোলেজেনের উৎপাদনও বেশি হয়, যা ত্বককে নমনীয় রাখে। তাই দরকার না হলে অ্যান্টি এজিং প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো।

 

যাদের বয়স ত্রিশের কোটায় : ত্রিশের শুরুতে চোখ ও ঠোঁটের কোণে কিছু রেখা দেখা যায়। এটা নিয়ে ভয়ের তেমন কিছু নেই। এটা বয়সের চিহ্নের প্রথম লক্ষণ। সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন ও খাদ্যাভ্যাস বয়সের এ ছাপ কমাতে পারে। কিন্তু একেবারে মুছে যাবে এমনটা ভাবা ভুল। এ ক্ষেত্রে সিরাম ব্যবহার করতে না চাইলে অ্যান্টি এজিং নাইট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি নিয়মিত ব্যবহার করুন। এতে ত্বক পাবে সঠিক পুষ্টি, হবে স্বাস্থ্যবান।

 

যারা চল্লিশে পড়েছেন : নিশ্চয় বুঝতে পারছেন কোলেজেনের উৎপাদন ও ত্বকের টানটান ভাব কমে আসছে। ক্রিম ও সিরামের ব্যবহার ছাড়াও আপনি ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার প্রতিদিন ব্যবহার করুন। মাঝ মাঝে অ্যান্টি এজিং ফেসিয়াল করুন, যা ত্বকে টানটান ভাব ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

 

পঞ্চাশ অথবা তার ঊর্ধ্বে : ত্বকে টানটান ভাব আর নেই। কিন্তু এ বয়সে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সূর্যের ইউভি রশ্মির কারণে তৈরি জটিলতা। যা ত্বকের রং নষ্ট করে দেয়। এ ছাড়া মেনোপজও ত্বকে প্রভাব ফেলে। এ সময় একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। নিয়মিত ফেসিয়াল ও অন্যান্য চিকিৎসা খানিকটা সাহায্য করতে পারেন।সূত্র ওয়েবসাইট

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

প্রতিদিনের খাবারকে করে তুলুন আরও স্বাস্থ্যকর

 

অপরাজিতা ডেস্ক : আমরা যে ধরণের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত তা থেকে সরে আসা আমাদের জন্য বেশ কষ্টকর। খাবার খাওয়ার সময় স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ব্যাপারটা আমাদের কাছে আসে স্বাদের পরে। ফলে খাবারের মাধ্যমে সুস্থ দেহের আশা অনেকেই ছেড়ে দিয়ে ইচ্ছে মতো নানা ধরণের খাবার খেয়ে ফেলেন যা দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। কিন্তু একটু সতর্ক থাকলে পছন্দের খাবারটিকেও করে তোলা যায় স্বাস্থ্যকর।

১

 

আমরা যাই খেয়ে থাকি না কেন তার মধ্যে সামান্য পরিবর্তন এনে খাবারটিকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারি আমারা নিমেষেই। জানতে চান কিভাবে? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক।

 

২

 

চা/কফি বা পানীয়তে ১ চামচ কম চিনি নিন

চা/কফি কিংবা শরবত জাতীয় পানীয়তে চিনি ব্যবহার করতেই হয়। এখানেও একটু সাবধানতা আপনার চা।কফি ও শরবত পানের পদ্ধতিকে করে তুলবে স্বাস্থ্যকর। আপনাকে শুধুমাত্র ১ চামচ চিনি কম ব্যবহার করতে হবে। অভ্যাস করুন, দেহ থাকবে সুস্থ।

 

লবণের ব্যবহার কিছুটা কম করুন

চিপস খেতে মন চাচ্ছে? কিংবা স্বাদের জন্য পাতে নিচ্ছেন কিছুটা বাড়তি লবণ? তাহলে এক কাজ করুন এই কাজটি কম করে করুন। লবণের ব্যবহার খাবারে কম করে ফেলুন। লবণ ছাড়া চিপস অথবা পাতে আলাদা করে লবণ নেয়া বাদ দিন। একই খাবার খাবেন কিন্তু খাবারটা হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যকর।

 

 

শুধুমাত্র ফলের রস পান করুন

ফল খেতে ইচ্ছে না হলে অনেকেই ফলের জুস পান করেন। কিন্তু সমস্যা হলো শুধুমাত্র ফলের রস কেউ পান করতে চান না। স্বাদের জন্য এতে মিশিয়ে নেন চিনি কিংবা মধু। এতে করে দেহে সুগার ও ফ্রুক্টোজের মাত্রা যাচ্ছে বেড়ে। তাই ফলের রসটা খাওয়ার চেষ্টা করুন কোনো ধরণের চিনি বা মধু বাদে। এতে ফলের রসের আসল পুষ্টি পাবেন।

 

৩

 

স্যুপ বা তরকারিতে সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন
স্যুপ খেতে ইচ্ছে হচ্ছে? তাহলে এক কাজ করুন অনেক ধরণের এবং অনেক বেশি পরিমাণে স্যুপের জন্য উপকারী সবজি দিয়ে ভেজিটেবল স্যুপ তৈরি করে ফেলুন। মাছ, মাংসের তরকারিতে বুদ্ধি খাটিয়ে সবজি যোগ করে দিন। এতে করে কিছুটা ভিন্ন ভাবেই দেহে পৌঁছে যাবে সবজির পুষ্টিগুন।

 

 

তেলের ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন

বিকেলের নাস্তায় তেলে ভাজা কিছু খেতে ইচ্ছে হচ্ছে? তাহলে এই ইচ্ছেটাকে কিছুটা পরিবর্তন করে বেকড কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। ডুবো তেলে ভাজা চিপসের চাইতে বেকড চিপস স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো। এছাড়াও যে কোনো রান্নায় তেলের পরিমাণটা একটু কমিয়েই দেখুন না। স্বাদ থাকবে এবং সুস্বাস্থ্যও নিশ্চিত হবে।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

 

বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন ন্যান্সি

 

Nanci-top20140911171347

 

অপরাজিতা ডেস্ক : বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন সংগীত শিল্পী ন্যান্সি। সম্প্রতি একটি টিভি অনুষ্ঠানে এসে ন্যান্সি রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা জানান।

 

১০ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা [জাসাস] এর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি’র পদ পেয়েছেন তিনি।

বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে  ন্যান্সি জানান- রাজনীতি এবং গান দুটোতেই সক্রিয় থাকতে চান তিনি। এখন বেশ কিছু স্টেজ শো’তে ব্যস্ত আছেন এ শিল্পী। এছাড়া বেশ কিছু সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিচ্ছেন তিনি।

 

 অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

ভাজাভাজির টুকিটাকি

 

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: রান্নার অন্যতম অংশ ভাজাভাজি। প্রতিদিনই এ কাজ করতে হয়। তবে ভাজার কাজটি করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়েন অনেকেই।

১. সবজি বা মসলা দেয়ার আগে তেল ভালো করে গরম করে নিন, ভাজা ভালো হবে।
২. যদি ভাজতে দেয়ার পর দেখা যায় প্যানে লেগে যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে আরো তেল প্রয়োজন।
৩. ভাজার উপকরণে যদি নারকেল থাকে তাহলে বেশিক্ষণ ধরে না ভাজাই ভালো। এতে নারকেলের অংশ শুষ্ক হয়ে যায়।
৪. আলুর টিক্কা ভাজার আগে দেখে নিন আলু ভালোমতো সেদ্ধ করা ছিল কি না। সবচেয়ে ভালো হয়, ভাজার আগে এগুলো কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। এতে ভাজার সময় টিক্কা ভেঙে যাবে না।
৫. সরিষার তেল দিয়ে রান্না করতে চাইলে আগে তেল ভালোভাবে গরম করে নিন। এতে তেলের গন্ধ চলে যাবে। তেলের রঙ হলদেটে থেকে সাদা হওয়া পর্যন্ত গরম করবেন।
৬. পুরি বা লুচি বানিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিন। সার্ভ করার আগে ভেজে গরম গরম পরিবেশন করুন।
৭. পুরিকে মচমচে করতে চাইলে ময়দার সাথে কিছুটা চালের গুঁড়া মেখে নিন।
৮. পাকোড়া তৈরির বেসনের সাথে কিছুটা কর্নফাওয়ার মিশিয়ে নিন। এই বাটার দিয়ে ভাজলে পাকোড়া মচমচে হবে।
৯. ননস্টিক প্যানে ডিম ভাজার সময় প্যানে মাখন কিছুটা বেশি দিন এবং ফেটানো ডিম ঢেলে কাঁটাচামচ দিয়ে কিছুটা নাড়–ন, অমলেট ফুলে উঠবে ও বড় হবে।
১০. প্যানে বা কড়াইয়ে কিছু ভাজার আগে কিছুটা লবণ ছড়িয়ে নিন। তাহলে লেগে যাবে না।
১১. গোশত ভাজার সময় বড় ও ডিপ প্যান নিন। রান্নার সময় তেল ছড়াবে না।
১২. রান্নায় ঘি ব্যবহার করতে চাইলে সাথে তেল দিন, এতে সুগন্ধ বাড়বে। মসলা কষানোর সময় চুলার জ্বাল কমিয়ে দিন। মসলার রঙ ও স্বাদ ভালো হবে। সূত্র : ওয়েবসাইট

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

যে ১৫ ধরণের পুরুষকে আজই বিদায় করবেন জীবন থেকে!

 

sajal

অপরাজিতা ডেস্ক : শিরোনাম পড়ে একটু চমকে যাওয়াই স্বাভাবিক। তবে যতই চমকান না কেন, এই ১৫ ধরণের পুরুষকে চিনে রাখা এবং নিজের জীবন থেকে বিদায় করা আসলেই প্রত্যেক নারীর জন্য জরুরী। পুরুষটি আপনার প্রেমিক হোক কিংবা বিশেষ বন্ধু, এই ১৫ ধরণের পুরুষ থেকে একশ হাত দূরত্ব বজায় রাখবেন অবশ্যই। আর জীবনে থেকে থাকলে আজই বিদায় করবেন।

কেন? সেই “কেন”-টার জবাব পেয়ে যাবেন এই ফিচারটি পড়লেই।

১) সবদিক ভালো, কিন্তু আপনার পিতামাতা নিয়ে কটু মন্তব্য করে
সে হয়তো সবদিক দিয়েই দারুণ ভালো। দেখতে হ্যান্ডসাম, শিক্ষিত, ভালো একটা উপার্জন উৎস আছে, আচরণও ভালো। কিন্তু সে কারণে-অকারণে আপনার মা বাবাকে নিয়ে কটু মন্তব্য করে। এমন কাউকে কি চেনেন আপনি? তাহলে আজই ১০০ হাত দূরত্ব বজায় রাখুন।

২) কেবলই যৌনতার বিষয়ে আলাপ করতে চায়
আপনার বন্ধু হোক বা প্রেমিক, যে মানুষটি শুধুই যৌনতা নিয়ে আলাপ করতে চায় তার থেকে যত দূরে থাকবেন, তত নিরাপদ আপনি। প্রেমের সম্পর্কে যৌনতার প্রসঙ্গ থাকবেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সারাক্ষণ থাকবে বা শুধু সেই ব্যাপারেই আগ্রহ দেখাতে হবে।

৩) যে আপনাকে অকারণে হাসাতে পারে না
লক্ষ্য করে দেখুন তো, মানুষটা কি আপনাকে হাসাতে পারে? যদি তার সংস্পর্শে থাকলে আপনি হাসতেই না পারেন, তাহলে তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা করবেন না কখনো। জীবনটা রাম গরুরের ছানা হয়ে কাটাতে হবে!

৪) যার কথা চিন্তা করে আপনার মন ভালো হয়ে যায় না
আপনার বিশেষ বন্ধু হোক কিংবা প্রেমিক, তার কথা চিন্তা করলেই কি আপনার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক টুকরো হাসি? যদি তা না হয় তাহলে তার সাথে সম্পর্ক করার ভাবনা আজই ত্যাগ করুন।

৫) সে বেশ হ্যান্ডসাম, কিন্তু বিয়ে করার জন্য যোগ্য নয়
শুধু দেখতে ভালো হওয়াটাই স্বামী হবার জন্য যথেষ্ট নয়। অনেক মেয়েই কেবল রূপ দেখে ছেলেদের প্রেমে পড়ে যান, যা চরম ভুল। একজন যোগ্য স্বামী হবার জন্য ভালো মানুষ, ধৈর্যশীল এবং যত্নশীল হওয়া সবার আগে প্রয়োজন।

৬) যার সাথে কথা বলার বিষয় পান না
কিছুক্ষণ কথা বলার পর আর বলার মত কোন বিষয় খুঁজে পান না? কিংবা কথোপকথন চালিয়ে যেতে কষ্ট হয়? নাকি আপনি একলাই বলেন আর সে হু হ্যাঁ করে? এমন মানুষ আপনাকে বিরক্ত করে ফেলবে জীবনের পথে। তাই দূরে থাকুন।

৭) আপনার বন্ধুদের সাথে সহজ নয়
এই মানুষটি আগে আসেনি জীবনে, আগে বন্ধুরাই এসেছে। আর প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর মানে এই নয় যে বন্ধুদের ভুলে যেতে হবে। যে আপনার বন্ধুদের পছন্দ করে না, সে একসময় তাঁদেরকে নিয়ে সন্দেহ করে করে জীবন ঝালাপালা করে দেবে।

৮) যে আপনার পরোয়া করে না
যে আপনাকে যত্ন করতে পারে না তার সাথে সম্পর্ক রাখা মানে যেচে গিয়ে অবহেলিত হওয়া।

৯) স্বার্থপর
স্বার্থপর একজন মানুষ কোন সম্পর্কেই ভালো নয়, বিশেষ সম্পর্কে কীভাবে হবেন?

১০) যে আপনাকে ভালোবেসে ছোটখাট উপহার দেয় না
উপহার দামী মানেই কি ভালোবাসা? বরং ছোট্ট উপহারে জড়িয়ে থাকে অনেকখানি আদর। একটা ফুল, একটা কাজল, এক পাতা টিপ কিংবা একটি বই কিংবা গানের মত ছোট্ট উপহার যিনি দিতে জানেন না; তিনি আসলে আপনাকে নিয়ে ভাবেনই না।

১১) যে আপনাকে সম্মান করে না
ভালোবাসা অনেক পরে, আগে তো সম্মান চাই। সম্মান যে কোন সম্পর্কের ভিত্তি।

১২) যে আপনার নীরব অভিমান বোঝে না
অভিমান করে গাল ফুলিয়েছেন, সে সেটা না বুঝে পাল্টা ঝগড়া শুরু করে দিলেন। এমন মানুষের সাথে জীবনটা ঝগড়া করেই কাটবে।

১৩) আপনার কথা কখনো না শুনে নিজেই বলে যায়
আপনার ব্যাপারে জানতে চায় না, আপনার কথা শোনে না। তার জগত জুড়ে শুধু “আমি আমি আমি”। আপনার বিশেষ পুরুষটি কি এমন? আজই ত্যাগ করুন।

১৪) যাকে বিশ্বাস করতে পারেন না মন থেকে
বিশ্বাস না থাকলে সম্পর্কের প্রশ্নই ওঠে না!

১৫) আপনার ভাইবোনদের যার ভালো লাগে না
প্রেম করবেন নিশ্চয়ই বিয়ে করার জন্য? আর বিয়ের পর আপনার ভাইবোনদের মানুষটা অপছন্দ করলে ভালো লাগবে আপনার? একদমই তো না। যে এখন পছন্দ করছেন না, তিনি বিয়ের পর আরও অপছন্দ করবেন। সূত্র: ওয়েবসাইট

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ই.

 

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া মেটাতে করণীয়

 

husband

অপরাজিতা ডেস্ক : সংসার মানেই হাসি-কান্না ও সুখ-দুঃখের সম্মিলন। সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মধুর দাম্পত্য সম্পর্কের পাশাপাশি মনোমালিন্য হওয়াও স্বাভাবিক। কিন্তু এই মনোমালিন্য যদি হয় নিয়মিত তাহলে তা মোটেও সুখকর নয়।
খেয়াল রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন রাগ দীর্ঘস্থায়ী না হয়। মনোমালিন্য খুবই খারাপ সমস্যা, যা সুন্দর সম্পর্ককে নষ্ট করে দিতে পারে। তবে কিছু কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে সচেতন স্বামীরা সহজেই স্ত্রীর রাগ সামলে নিতে পারেন।
নিচে তেমন কিছু বিষয় জানান হলো-
স্ত্রী কিসে খুশি হয় সেটি খুঁজে বের করুন : প্রতিটি নারীর কিছু দুর্বল জায়গা থাকে। কিছু কিছু সাধারণ বিষয় থাকে, যাতে স্ত্রীরা খুব অল্পতে পটে যায়। তার একটি তালিকা তৈরি করুন। নিয়মিত তা চর্চার চেষ্টা করুন।
প্রতিজ্ঞা রক্ষার চেষ্টা করুন : স্ত্রীর কাছে কোনো প্রতিজ্ঞা করলে বা প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করার চেষ্টা করুন। ভুলবশত তার রাগের কারণে বড় কোনো অঙ্গীকার করা ঠিক না। যদি কখনও কোনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করেই থাকেন তবে তা না লুকিয়ে বরং তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করুন।
রাগের সময় যুক্তি দিতে যাবেন না : যখন আপনার স্ত্রী প্রচণ্ড রেগে যান, তখন কোনো কথা সে শুনতে পছন্দ করবে না। তাই কথা না বলে শুধু তার দিকেই দৃষ্টি রাখুন। এমন কিছু করবেন না যাতে সে আরও রেগে যায়। আবার তার রাগকে তাচ্ছিল্যও করবেন না। রেগে গেলে তর্ক করবেন না বা পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করবেন না বরং আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন অনেক সময় রাগান্বিত অবস্থায় কোনো যুক্তি উপস্থাপন করলে তা আরও রাগের হয়ে দাঁড়ায়। স্ত্রীর পাশে বসুন, স্ত্রী শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাগের বিষয় জানতে চাইবেন না। রাগের কারণ জানার জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনার স্ত্রী শান্ত বা প্রাণবন্ত না হয়।
একমত হন, প্রয়োজনে আত্মসমর্পন করুন : আপনি আপনার স্ত্রীর মতের সঙ্গে একমত নন। কিন্তু শান্ত করার জন্য একমতের ভান করতে পারেন। জানান তার কথার সঙ্গে আপনি একমত। হতে পারে তা আপনার মাথা নাড়ানোর মাধ্যমে, মাঝে মাঝে বশ্যতা প্রকাশ করুন।
আঘাত করবেন না : অনেক সময় স্ত্রী আবেগ প্রকাশের জন্যও রাগ দেখায়। বিশ্বজুড়ে এটি স্ত্রীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তার রাগের কারণ হতে পারে আপনার আচরণ, চাকরি কিংবা খোঁচা মেরে কথা বলা। আবার এও হতে পারে, সে যা বলে তা সম্পর্কে নিজেও অবহিত নন। এ সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। পরবর্তী সময়ে দুজনে বিষয়টি নিয়ে বসুন, নতুন করে আলাপ করুন।
মনে রাখবেন, ভুলেও স্ত্রীর গায়ে হাত তুলবেন না। এটি কাপুরুষতার অন্যতম লক্ষণ।
খোঁচা নয় পরামর্শ দরকার : অনেক কারণেই আপনার স্ত্রীর মনে রাগ ক্ষোভ-জমে থাকতে পারে। হতে পারে এটি আপনার বাবা-মায়ের কারণেও। তাই হঠাৎ আপনার সঙ্গে কঠিন করে কথা বললে তার প্রতিউত্তর না দেওয়ারই চেষ্টা করবেন। তাকে তার অতীত, পাবিারিক অবস্থা, স্বভাব নিয়ে খোঁচা দিবেন না বরং কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় বা সে নিজেকে শুধরে নিতে পারে সে বিষয়ে পরামর্শ দিন।
মনে রাখবেন, অধিকাংশ নারী রেগে গেলে তা মুখে প্রকাশ করে। এটি হরমোনের কারণে হয়ে থাকে। রাগের সময় তাকে শান্ত হতে সাহায্য করুন, যা সবার জন্য ভাল। দেখবেন তিনি বলছেন, ঝগড়ার দৃশ্য তাকেও বিরক্ত ও হতাশ করে। সূত্র: ওয়েবসাইট

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ই.

 

রেসিপি: নারিকেল দুধে হাঁসের মাংস

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: আপনি কি ভোজন রসিক? রান্না করতে ভালবাসেন? যারা নতুন নতুন রান্না শিখতে এবং শেখাতে ভালবাসেন তাদের জন্য নতুন ও মজাদার রেসিপি’র মধ্যে নারিকেল দুধে হাঁসের মাংস অন্যতম।

 

resize_1409579135

 

উপকরণ
হাঁস ২টি, নারিকেল বাটা ২ কাপ, আদা বাটা ২ চা চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরাগুঁড়ো ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পোস্ত বাটা আধা চা চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়ো ১ চা চামচ, তেল আধা কাপ, তেজপাতা ৩টি, লবণ ১ চা চামচ, হলুদগুঁড়ো আধা চা চামচ, চিনি আধা চা চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ।

 

 

যেভাবে তৈরি করবেন

১. মাংস মাঝারি ধরনের টুকরো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে লবণ ও মরিচ দিয়ে মাখিয়ে রাখুন।
২. তেল গরম হলে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে তেজপাতা ও সব মসলা দিয়ে কিছুক্ষণ কষান।
৩. নারিকেল বেটে গরম পানিতে দুধ করে নিন। মাংসের পানি শুকিয়ে তেল ওপরে উঠলে নারিকেল দুধ দিন।
৪. ঢেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। মাংস সিদ্ধ হয়ে ঝোলমাখা হলে জিরাগুঁড়ো ও ঘি দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

সমুদ্র জয়ের স্বপ্নযাত্রায় ১৩ মেরিন ক্যাডেট

 

5_141944

 

 

সীমাহীন সমুদ্রে ভেলার মতো ভাসতে পারি : উম্মে সালমা

‘ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল আকাশে পাখির মতো ডানা মেলে ওড়ার, যেখানে থাকবে না কোনো বাধা, উড়ে উড়ে দেখব পৃথিবীর নানা দৃশ্য আর সৌন্দর্য। আকাশে ওড়ার সেই স্বপ্নটি পূরণ করতে না পারলেও এখন সীমাহীন সমুদ্রে ভেলার মতো ভেসে বেড়াতে পারি আমি। পৃথিবীর বিস্তৃত এ অংশটিই আমার কাছে এখন সবচেয়ে আপন’। বললেন বাংলাদেশে মেরিন একাডেমি থেকে প্রথমবারের মতো পাস করে বের হওয়া ১৩ জন নারী ক্যাডেটের একজন উম্মে সালমা।

 

নোয়াখালীর সেনবাগে সালমার গ্রামের বাড়ি, তবে বাবার কর্মস্থলের কারণে চট্টগ্রাম শহরেই তার বেড়ে ওঠা। সালমা ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সালমা মেজ। বাবা-মাকে না জানিয়ে টিউশনির টাকা জমিয়ে সেই টাকায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ফরম কেনেন। পূরণ করে জমাও দেন। ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগও পেয়ে যান।

 

এ প্রসঙ্গে উম্মে সালমা বলেন, ঘটনাটি আমার বাবা-মা জানলে আর দ্বিমত করেননি। আমার মেরিন একাডেমিতে পড়ার আগ্রহ দেখে তারা উৎসাহ দেন। যদিও তাদের ইচ্ছা ছিল আমাকে সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াবেন। আমার বাবা একটি বেসরকারি শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। আমার দাদাও একটি বিদেশী শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। দাদা এবং বাবার সীমাহীন সাগরের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর ও দুঃসাহসিক গল্প শুনে আমারও মনের মণিকোঠায় ঠাঁই নিয়েছিল সাগর পাড়ি দেয়ার ইচ্ছা। প্রথমদিকে একটু ভয় পেতাম, কিভাবে সাগরে কাজ করব। বিষয়টিকে মানুষ কিভাবে দেখবে। তারপরও সিদ্ধান্ত নেই একজন নারী সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ বাহিনীতে তার সাহসিকতার পরিচয় দিলে আমি কেন মেরিন অফিসার হিসেবে কাজ করতে পারব না। সব সংশয় দূরে ঠেলে নির্ভীক চিত্তে ২০১২ সালে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে ভর্তি হই। প্রথম ব্যাচে আমরা মোট ১৬ জন মেয়ে ভর্তি হই। এরপর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরীক্ষায় ৩ জন অকৃতকার্য হলে আমরা মোট ১৩ জন নারী ক্যাডেট শেষ পর্যন্ত টিকে থাকি। সফলভাবে মেরিন ক্যাডেট হিসেবে পাস করে বের হই। এরপর অনেকের মনের মধ্যে হতাশা ও ভয় কাজ করতে থাকে। যেহেতু এ পেশায় আগে কোনো নারী ছিল না। তার পরও মনের মধ্যে একটি সাহস কাজ করে, পারতেই হবে আমাদের।

 

বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হলাম : ফাহিমা আশরাফ
ক্যাডেট ফাহিমা আশরাফ জানান, এখন আমাদের অনেক ভালো লাগছে। আমরা নারী ক্যাডেটরা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলাম। তারপরও আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করা। নারী নাবিকদের নিয়ে যেসব আশংকার কথা বলা হচ্ছে, আশা করি ধীরে ধীরে সেসব ধারণা মিথ্যে প্রমাণিত হবে। আমরা সমুদ্র জয় করতে চাই, দেশের স্বাধীনতা ও সমুদ্রসীমা অক্ষুণ্ন রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। এখন আর আমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র ভয় কাজ করে না। দেশের অন্য মেয়েদের অনুরোধ করব, তারাও যেন এগিয়ে আসে এ দুঃসাহসিক অভিযাত্রায়। তাহলেই এগিয়ে যাবে নারী। এগিয়ে যাবে দেশ।

 

প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হওয়াত ভালো লাগছে : লাভলী দাশ
লাভলী দাশ বলেন, নারী ক্যাডেটদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হওয়াতে অনেক ভালো লাগছে। কেননা আমাদের ব্যাচের কথা মানুষ অনেকদিন মনে রাখবে। আমরা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলাম।
তিনি আরও বলেন, ভারত নারীদের এই পেশায় উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ফি ৫০ ভাগ কমিয়েছে আর বয়স দুই বছর শিথিল করেছে। ফলে ভারতে নারী ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশের নারী ক্যাডেটরাও যাতে এ পেশায় বেশি আসতে পারেন সরকারের সে ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

 

বিশেষজ্ঞরা যা বললেন

 

ইউসুফ হোসেন
চিফ ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
নারী ক্যাডেটরা চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও এটি দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে । প্রথমবারের মতো ১৩ বাংলাদেশী নারী নাবিক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের বিভিন্ন জাহাজে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন যুগের উন্মোচন। অবশ্য তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত হতে আর এক বছর সময় লাগবে। এখন ক্যাডেট হিসেবে শিপিং কর্পোরেশনে যোগ দিয়ে তারা এক বছরের প্রশিক্ষণ নেবেন। তারপর বিভিন্ন জাহাজে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। মেরিন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ১৩ জন নারী মেরিন ক্যাডেট জাহাজে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। তাদের আবেদন বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের প্রতিটি জাহাজে দু’জন করে নারী মেরিন অফিসার নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এটি হলেই বাণিজ্যিক জাহাজে নারীদের মেরিন অফিসারের চাকরি বাংলাদেশে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

 

কমান্ড্যান্ট ড. সাজিদ হোসাইন
বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ২০১২ সালে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে প্রথম নারী ক্যাডেটদের নিয়ে প্রথম ব্যাচ শুরু করি। তখন একাডেমিতে থাকার পরিবেশ ও একোমোডেশনসহ নানাবিধ সমস্যা ছিল। তারপরও আমরা তাদের পুরুষ ক্যাডেটদের সমকক্ষ করে ট্রেন্ডআপ করতে পেরেছি। বিশ্বে ২০টি দেশের আড়াই হাজার নারী এ পেশায় কর্মরত আছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৯৯৯ সালে নারীরা জাহাজে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে প্রধান প্রকৌশলী ও ক্যাপ্টেন পদেও কাজ করছেন নারী মেরিন কর্মকর্তারা।

সিংড়ায় মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

timthumb

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, নাটোর: জেলার সিংড়া উপজেলায় মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার দমদমা পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজনে লেখাপড়ার মানোন্নয়ন ও পরীক্ষার ফলাফল ভাল করার লক্ষ্যে ভোকেশনাল শাখার ৯ম ও ২০১৫ সালের এস এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ‘মা’ দের নিয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক আফসারুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।

এসময় উন্মুক্ত বক্তব্যে অভিভাবকদের মধ্যে নিলুফা ইয়াসমিন ও শাহিদা আরজু শিক্ষকদের সৃজনশীল বিষয়গুলো অধিক গুরুত্বের সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে এবং ভালো ও দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের বাছাই করে দূর্বলদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, শিক্ষক শ্রী রতন কুমার সরকার।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিনিধি/আরএ/এ/০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

বিকেলের নাস্তায় চটজলদি মিনি স্পিনাচ অন্থুন

 

nnn

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : বাচ্চারা তো শাকসবজি মোটেই খেতে চায় না, এমনকি অনেক বড় মানুষও শাকসবজি দেখলে চোখমুখ কুঁচকে ফেলেন। বিস্বাদ এই শাকসবজিকে নতুন রূপে উপস্থাপন করতে জুড়ি নেই শৌখিন রাঁধুনি সায়মা সুলতানার। আজ তিনি নিয়ে এসেছেন মিনি অন্থুন রেসিপি। এক কাপ চা কিংবা কফির সাথে দারুণ জমবে স্ন্যাক্স হিসাবে। ডায়েট করতে চাইলে ডিপ ফ্রাই না করে কেবল সিদ্ধ করেও খেতে পারেন সসের সাথে।

ধাপ-১ (উপকরণ ও প্রণালি)
পালং শাক ২ কাপ, সিদ্ধ আলু হাফ কাপ রশুন কুচি ৩ চা চামচ, অল্প তেল লবণ- স্বাদ মত

 

_n

 

-প্রথমে প্যানে তেল দিয়ে রশুন কুচি দিন। হাল্কা লাল হলে পালং শাক ২ কাপ দিয়ে দিন। সাথে সিদ্ধ আলু হাফ কাপ। লবণ স্বাদ মত দিয়ে রান্না করুন। ভর্তার মত নরম করে রান্না করবেন।
ধাপ-২ (উপকরণ ও প্রণালি)
ময়দা ১ কাপ
গোলমরিচ গুঁড়ো হাফ চা চামচ
এরারুট ৪ চা চামচ,
১ টা ডিম
অল্প পানি
লবণ স্বাদ মত

-একটা বাটিতে নিয়ে খামির বানিয়ে নিন।
-ছোট রুটি বানিয়ে ভেতরে পালং শাক এর পুর দিন। অন্থুনের শেপ দিন কিংবা আপনার পছন্দমত যে কোন শেপ। সমুচা আকৃতিও করতে পারেন।
-গরম ডুবো তেলে ভেজে যে কোনো সস-এর সাথে পরিবেশন করুন। ভাজতে না চাইলে ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে দিন। ভেসে উঠলে বুঝবেন সিদ্ধ হয়ে গেছে। ব্যাস, তৈরি স্টিমড অন্থুন।

 

 

সবজি রাজ্যের ছালেহা

আবু আক্তার করন, মেহেরপুর : অবহেলিত নারীর জীবন সংগ্রামের দৃষ্টান্ত হতে পারেন জেলার সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের চাঁদবিল গ্রামের ছালেহা বেগম। স্বামীর অবহেলাকে তোয়াক্কা না করে উঠানের পাশে জমিতে গড়ে তুলেছেন রকমারি সবজির বাগান। এলাকাবাসী বাগানটির নাম দিয়েছে ছালেহা বেগমের জীবন্ত সবজি বাজার।

 

Shofolota-01

 

সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের চাঁদবিল গ্রামের ছালেহা বেগমের বিবাহিত জীবনের প্রথমদিকটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ১০ বছর আগে স্বামী লিয়াকত আলী অন্যত্র বিয়ে করে বিদেশ চলে যান। এরপর ঠাঁই হয় বাবার বাড়িতে। বাবা ও ভাইদের কাছ থেকে পান একটি ছোট বাড়ি ও বাড়ি সংলগ্ন এক টুকরো জমি। ওই টুকরো জমিতে গড়ে তোলেন বিভিন্ন সবজিসহ ফলের বাগান। সবজি বিক্রি করে মাসে ৫-৬ হাজার টাকা আয় হয়। ফল বিক্রি করে বছরে আরও ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হয়। নিজের খরচ বাদে ওই টাকা দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নাতনী তামান্নাকে সহায়তা করে আসছেন। এ সফলতা দেখে স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানান।

 

Shofolota-02

 

ছালেহা খাতুন বলেন, স্বামী আমাকে ফেলে বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকে বাবার বাড়িতে এসে পৌনে দুই বিঘা জমির উপরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি। এখন এ সবজি চাষ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে আমি চলি এবং তামান্নাকে সহযোগিতা করি। তিনি আরও বলেন, আমার বাগানের সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাহিদা। যার কারণে আমাকে সবজি বিক্রি করতে বাজারে যাওয়া লাগে না। বাড়ি থেকেই বিক্রি হয়ে যায়।

 

Shofolota-03

 

সবজি কিনতে আসা রেখা খাতুন জানান, আমরা এখান থেকে প্রতিদিন সবজি কিনে নিয়ে যাই। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকলেও আমাদের সমস্যা হয় না। বাড়িতে কোনো মেহমান আসলে তাৎক্ষণিক নিজ হাতে সবজি তুলে নিয়ে যাই। এ ছাড়া সবজিতে কোনো প্রকার বিষ দেওয়া থাকে না, এ কারণে আমরা বিষমুক্ত সবজি খেতে পারি। আরেক প্রতিবেশী শেফালী খাতুন জানান, সালেহার সবজি বাজারটা হওয়ায় এলাকার অনেকের উপকার হয়েছে। আমাদের যখন মন চায় আমরা ইচ্ছামতো সবজি এখান থেকে কিনে নিতে পারি। আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় যদি এ ধরনের জমি থাকত তাহলে আমিও সবজির আবাদ করতাম। এখন গ্রামের অনেক গৃহবধূ বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ শুরু করেছেন।

 

Shofolota-03

 

ছালেহা খাতুনের নাতনী শাহেনা আক্তার তামান্না মোবাইলে জানান, নানী প্রতি মাসে লেখাপড়ার খরচ বাবদ আড়াই হাজার টাকা দেন। তিনি জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন, এখন অনেক ভালো আছেন।

 

Shofolota-02

 

ছালেহার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কৃষি বিভাগ। সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আমরা কৃষি বিভাগ সালেহা বেগমের সবজি চাষে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের চাঁদবিল গ্রামের সালেহা বেগম নিজ উদ্যোগে তার বসত বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশে সবজি চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি নজিরবিহীন। আমার ইউনিয়নসহ সারা জেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে যদি একজন করে সালেহা বেগম থাকেন, তাহলে আমাদের দেশের খাদ্য ঘাটতিসহ পুষ্টিহীনতা দূর হবে।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/৪ সেপ্টম্বর ২০১৪ই.

কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ৮ ছাত্রী অসুস্থ

 

 

জেলা প্রতিনিধি

অপরাজিতাবিডি ডটকম
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওদাপাড়া চৌদুয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বেত্রাঘাতে ওই বিদ্যালয়ের ৮ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

 

রোববার সকালে বিদ্যালয়ের কোচিংয়ে না আসায় প্রধান শিক্ষক এনামুল হক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হোসনেয়ারা খাতুন (১৪), আঁখি খাতুন (১৪), বৃষ্টি (১৪), ইসমত আরা (১৪), বন্যা (১৪), লাবনী (১৪), মারুফা (১৪) ও দশম শ্রেণির ছাত্রী রেশমা খাতুনকে (১৬) বেত্রাঘাত করেন।

 

এতে ওই ৮ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অভিভাবকরা সংবাদ পেয়ে অসুস্থ ছাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে হোসনেয়ারা খাতুনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে আসা হয়।

 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক থেকে প্রধান শিক্ষকের সাঙ্গ-পাঙ্গরা তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীতে অবস্থিত সাদালী ডায়াগনস্টিকে ভর্তি করে।

 

সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান অসুস্থ ছাত্রীকে দেখতে সাদালী ডায়াগনস্টিকে উপস্থিত হলে ডায়াগনস্টিকের মালিক নাজমুল পিছনের দরজা দিয়ে ওই ছাত্রীকে বের করে দেয়।

 

এ ব্যাপারে হোসনেয়ারা খাতুন জানান, কোচিংয়ে আসতে বিলম্ব হওয়ায় প্রধান শিক্ষক এনামুল হক আমাদেরকে বেত্রাঘাত করেন।

 

হোসনেয়ারার বাবা মারফত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বেত্রাঘাতে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে তিনি জানান।

 

এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ধর্ষিতাকে বিয়ে করল ধর্ষক

 

গাজী হানিফ
অপরাজিতাবিডি ডটকম

marage

বর মো. আলমগীর মুন্সি ও কনে

 

 

নরসিংদী : প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অবশেষে ধর্ষিতা কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করতে বাধ্য হলেন ধর্ষক মো. আলমগীর মুন্সি।

 

সোমবার নরসিংদীর নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে হলফ নামার মাধ্যমে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় বর, কনে, তাদের নিযুক্ত আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম কামাল, নোটারী পাবলিক নরসিংদীর আইনজীবি এ.কে.এম রিয়াজুল করিমসহ উভয় পক্ষের লোকজন এবং সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

 

নরসিংদী সদর উপজেলার কোতালিরচর গ্রামের মৃত হাছেন আলীর মেয়েকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই উত্যক্ত করত একই গ্রামের তমুজ উদ্দিনের ছেলে মো. আলমগীর মুন্সি (৪২)। ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েও যখন মেয়েটিকে বাগে আনতে পারেনি, তখন সে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

 

মেয়েটিকে সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নরসিংদী শহরের বন বিভাগের পাশে তার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে আলমগীর। এরপর প্রায় ছয় মাস কেটে যাওয়ার পর মেয়েটি আলমগীরকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তবে নানা তালবাহানা করতে থাকে আলমগীর। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ে করবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

 

এলাকাবাসী এবং পুলিশের সহযোগীতা কামনা করেও ব্যর্থ হয় ওই মেয়ে। অবশেষে বাধ্য হয়ে মেয়েটি প্রধান মন্ত্রীর নজরে আনার জন্য একাকি ছুটে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে গত ৮ আগস্ট বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনতে সক্ষম হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আশু সমাধানের লক্ষ্যে তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর পি এস-২ সাইফুজ্জামান শেখর নরসিংদীর পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানান।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোশারেফ হোসেন মেয়েটির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আলমগীর মুন্সিকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০১০(সংশোধনী/০৩)এর ৯(১) ধারা মোতাবেক গত ১১ আগস্ট মামলা নং ৩২ দায়ের করেন।

 

মামলার সাথে সাথে ঐদিনই আলমগীর মুন্সিকে মাধবদী বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন ১২ আগস্ট মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ বর্ণিত আসামির কার্যকলাপের তথ্য সংগ্রহ করার নিমিত্তে তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির করাহয়। সেখানে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তার অসুস্থতার কারণ বিবেচনা করে জেল গেটে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

 

এদিকে জেল-হাজতে থাকা আলমগীর তার ভুল বুঝতে পেরে লোক মারফত ওই মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এরপর গত ২৮ আগস্ট মেয়েটি জেল গেটে গিয়ে আলমগীরের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে তারা বিয়ের ব্যাপারে একমত পোষণ করে।

 

এরপর আলমগীরের জামিনের জন্য আদালতের শরনাপন্ন হয় মেয়েটি। সেখানে বিষয়টি আপোষে মিমাংসা করা হয়েছে মর্মে আবেদন জানালে আদালত গত ৩১ আগস্ট আলমগীরকে জামিন দেয়।

 

অতঃপর সোমবার উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.

হার না মানা অদম্য মেধাবীরা

 

মো: শহীদুল হক সরকার

অপরাজিতাবিডি ডটকম 

65233_nari-1

 

 

শুধু অর্থই রুমার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:

রুমা খাতুন। নাটোর সদরের কাফুরিয়া এলাকার জোলারপাড়া গ্রামের মো: আলাউদ্দিন ও মোছা: জাহানারা বেগমের বড় মেয়ে। রুমা এবারের এইচএসসি পরীায় স্থানীয় কাফুরিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে রুমা স্থানীয় কাফুরিয়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। রুমার যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবা তাদের দুই বোন ও তার মাকে ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে দেশ ছাড়ে। এ পর্যন্ত সে রুমা ও রুনার কোনো খোঁজখবর নেয়নি। তাদেরকে কোনো দিন দেখতেও আসেনি। রুমার ছোটবোন রুনা এবার এসএসসিতে মানবিক বিভাগে জিটিএ ৫ পেয়েছে। রুমার মা জাহানারা বেগমের অরজ্ঞান নেই। হয়নি স্কুলে যাওয়ার সুযোগ। তার পরও দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ, পোশাক, খাতা-কলম কেনার টাকা জোগাতে মা এখনো দিনের পর দিন অন্যের বাড়িতে সামান্য বেতনে ঝিয়ের কাজ করে। মেধাবী দুই মেয়ে কান্ত মাকে একটু শান্তি দিতে এখনো অন্যের বাড়ি গিয়ে মায়ের বদলে ঝিয়ের কাজ করে দেয়। রুমা আর রুনা জানায়, অনেকেই বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না। কিন্তু এই কাজের জন্য তাদের মা যেটুকু বিশ্্রাম পায়, সেটাই তাদের জন্য এখন বড় সান্ত্বনা। মা, মামা ও স্কুল-কলেজের শিক ছাড়াও স্থানীয় প্রাইভেট শিক আব্দুস সাত্তারের সহযোগিতা দুই বোনকে এতটা পথ আনলেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এরা হতাশাগ্রস্ত। রুমা এখন দেশের প্রতিষ্ঠিত একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়তে চায়। শুধু অর্থই এই স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে সে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে
সুবর্ণা খাতুন। সুবর্ণা। এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী শিবপুর গুচ্ছগ্রামের সুবর্ণা খাতুনকে দারিদ্র্য এবারো দমাতে পারেনি। কেরোসিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় দিনের আলোয় লেখাপড়া করে ২০১২ সালে এসএসসিতে সে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। আধপেটা খেয়ে না খেয়ে চলে তাদের সংসার। এসএসসি পাস করার পর সুবর্ণার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সুবর্ণার মনের ভেতরে চেপে রাখা উচ্চশিার স্বপ্ন যখন ধূলিসাৎ হওয়ার পথে তখন ২০১২ সালের ১২ জুন নয়া দিগন্তে তার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের পরিবারের করুণ কাহিনীসহ উচ্চশিার জন্য সুবর্ণার আকুতি ছিল। এইচএসসিতে সুবর্ণা ভর্তি হয় নাটোরের রানী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজে। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সে আবারো যুদ্ধ শুরু করে। ছাত্রীনিবাসে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যায় সে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত বাবা কালাম এখনো সুস্থ হয়ে ওঠেননি। অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মা সারোয়ারা খাতুনের আনা অর্থেই চলে তাদের সংসার। খরচের জন্য মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে সুবর্ণাদের পুরো পরিবারকে। দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে এবারো সে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করেছে। গত দুই বছর যারা তাকে সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি সে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। সুবর্ণা জানায়, কলেজের ইংরেজি শিক খালিদ হোসেন তাকে বিনা পয়সায় পড়িয়েছেন। মানবিক বিভাগের ছাত্রী সুবর্ণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স করতে চায়। তার সেই স্বপ্ন পূরণে আবারো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। তাই সে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়েছে। সুবর্ণাদের প্রতিবেশী ও ছাতনী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক আবদুল আলীম জানান, এইচএসসিতে সুবর্ণার ঈর্ষান্বিত ফলাফলে এলাকার মানুষ মহাখুশি। সবার সহায়তা পেলে দরিদ্র পরিবারের এই মেয়ে উচ্চশিায় শিতি হয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে বলে তারা মনে করেন। তিনি অদম্য মেধাবী সুবর্ণা যাতে দমে না যায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

মেয়েটার লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে রাস্তায় রাস্তায় মাটি কেটে খরচ দিতাম
লাভলী খাতুন। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চকপাড়া গ্রামের হাবিল মণ্ডলের মেয়ে। লাভলী খাতুন দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বড়াইগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। লাভলীর বাবা ভ্যান চালাতেন। বছর তিনেক আগে কোমরে ব্যথা পাওয়ায় তিনি এখন প্রায় শয্যাগত। সংসার খরচ আর মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে মা জরিনা বেগম গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করতেন। কোমরের হাড় য় আর কিডনিতে পাথর হওয়ায় তাকে কাজ থেকে বাদ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। স্ত্রী ও নিজের চিকিৎসা আর সংসারের ব্যয় মেটাতে পৈতৃক নিবাস একই এলাকার মামুদপুর গ্রামের মাত্র দুই শতক জমির বাড়ির ভিটাটি বিক্রি করে দেন হাবিল মণ্ডল। তারপর থেকে চকপাড়া গ্রামে শ্বশুরের বাড়িতে একটি ঘর তুলে কোনো রকমে ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেঁচে আছেন। দারিদ্র্য যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে তাদের। কখনো এক বেলা খাবার জুটলে আরেক বেলা জোটে না। ক্ষুধার্ত অসুস্থ বাবা-মায়ের মুখের মলিন চাহনি তার লেখাপড়ার একমাত্র অনুপ্রেরণা। বড় হয়ে সে বিসিএস ক্যাডার হতে চায়। কিন্তু এত অভাবের মধ্যে তার কলেজের ভর্তির খরচই তাদের নেই। তাই কিভাবে মেয়েকে লেখাপড়া করাবেন, এ দুশ্চিন্তার কাছে ভালো ফলাফলের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। তার মা জরিনা বেগম আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়েটার লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে রাস্তায় রাস্তায় মাটি কেটে খরচ দিতাম। কিন্তু এখন কাজ করতে পারি না। মেয়েটা এত ভালো রেজাল্ট করেও লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কাঁদছে। অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না।’

 

গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়া কারিমার উচ্চশিার স্বপ্ন কি শুধু অর্থাভাবে থমকে যাবে
কারিমা খাতুন। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা মহিলা কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীায় মানবিক বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে একই উপজেলার তমালতলার কাজীর চক মালঞ্চি গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। ছোটবোন নবম শ্রেণীতে আর ছোট ভাই পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ছে। একটি মাত্র টিনের ছোট ছাপরাঘরে বাবা-মা ও ভাইবোন মিলে পাঁচজনকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয়। সেই ঘরেই তিন ভাইবোন মিলে একটি মাত্র কেরোসিনের বাতির আলোয় পড়ালেখা করে জিপিএ ৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কারিমা। মেধাবী কারিমা এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে উচ্চশিা গ্রহণ করতে চায়। তার বাবা আবুল কালাম আজাদ সাইকেল মেরামতের কাজ করে কোনো রকমে পাঁচ সদস্যের পরিবারের সংসারের খরচ চালায়। সংসার খরচের পাশাপাশি মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালানোই তার জন্য কষ্টকর। দরিদ্র এই বাবার পে মেয়ের উচ্চশিা গ্রহণের খরচ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারিমার মা আছমা বেগম বলেছেন, সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদের সহযোগিতা না পেলে তার মেয়ে কারিমার উচ্চশিা গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়া মেধাবী ছাত্রী কারিমার উচ্চশিার স্বপ্ন কি শুধু অর্থাভাবে থমকে যাবে, এটাই এখন তার বাবা-মা ও স্বজনদের একমাত্র চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন শঙ্কা আর উদ্বিগ্নতা তাড়া করছে কারিমা আর তার হতদরিদ্র বাবা-মাকে।

 

উচ্চশিক্ষার খরচ কোথা থেকে আসবে, ভেবেই হতাশ আয়শা
আয়শা খাতুন। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের নৈশপ্রহরী মো: নুরুল ইসলামের মেয়ে। আয়শা খাতুন এবার মৌখাড়া ইসলামিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে ইতঃপূর্বে এসএসসি পরীাতেও জিপিএ ৫ পেয়েছিল। তার বাবা স্থানীয় বেসরকারি জননী হাসপাতালে সামান্য বেতনে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন। বাড়ি-ভিটা ছাড়া তাদের তেমন কোনো সম্পদ নেই। একমাত্র ছেলেকে মাস্টার্স পাস করালেও এখন পর্যন্ত চাকরি মেলেনি। ফলে শিতি বেকার ছেলের ব্যয়ভারও তাকে বহন করতে হচ্ছে। সামান্য বেতনে সংসার খরচ চালানোই তার জন্য যেখানে কষ্টকর, সেখানে মেয়ের উচ্চশিার ব্যয় নির্বাহ তার জন্য রীতিমতো দুঃসাধ্য। আয়শা এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার পর দু’টি প্রাইভেট ব্যাংকে বৃত্তির জন্য আবেদন করলেও কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান তার পাশে দাঁড়ায়নি। কলেজের শিকেরা তাকে কিছু বই, খাতা-কলম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এবার উচ্চশিা গ্রহণের জন্য জেলার বাইরে গিয়ে অবস্থান করা, কোচিং করা বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালানোর খরচ কোথা থেকে কিভাবে আসবে, সেটা ভেবেই হতাশ আয়শা ও তার বাবা-মা।

 

ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন মুক্তিয়ারার কাছে যেন শুধুই মরীচিকা
মুক্তিয়ারা খাতুন। বড়াইগ্রাম উপজেলার একইমাড়িয়া গ্রামের দরিদ্র রাজমিস্ত্রি আলম সরকারের মেয়ে মুক্তিয়ারা খাতুন বড়াইগ্রাম মহিলা কারিগরি অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার বাবা অন্যের অট্টালিকা গড়ে দিলেও নিজস্ব জমি না থাকায় একখণ্ড খাস জমিতে বাড়ি করে বসবাস করছেন। রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে কোমরে আঘাত পেয়ে ডান পায়ে ঠিকমতো রক্ত চলাচল করছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ফলে প্রায় ছয় মাস কোনো কাজ করতে পারছেন না তিনি। তিন বেলা ঠিকমতো খাবার জোটানোই যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে মেয়ের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন তার কাছে যেন শুধুই মরীচিকা।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/এসআই/আরআই/এ/০১সেপ্টেম্বর ২০১৪ই.