banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

মসলার খোঁজ-খবর

nawshaba

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: মসলা ছাড়া আমাদের এক দিনও চলে না। প্রায় প্রতিটি রান্নায়ই মসলার প্রয়োজন হয়। তবে ঈদের সময়ের প্রয়োজনটা একটু বেশিই বটে। যেহেতু এ সময় সবার ঘরেই বিশেষ আয়োজন, তাই মসলার প্রয়োজন বেড়ে যায়।

 

মসলা ছাড়া আমাদের এক দিনও চলে না। প্রায় প্রতিটি রান্নায়ই মসলার প্রয়োজন হয়। তবে ঈদের সময়ের প্রয়োজনটা একটু বেশিই বটে। এ ছাড়া ঈদে যেসব খাবার রান্না করা হয় সেগুলোর মধ্যে এমন আইটেম খুব কমই আছে, যেগুলোতে মসলা দিতে হয় না। মসলার এসব প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে আমাদের ছুটতে হয় মসলার বাজারে। তাই আসুন আগেভাগে জেনে নেয়া যাক বিভিন্ন রকম মসলার বাজারদর। ঝাল তরকারি মরিচ ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বাজারে এখন নানা ধরনের ঝালমরিচ পাওয়া যায়। যেমন- সূর্যমুখী, কামরাঙা, ধানী, গোল ও পাটনাই। প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়বে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে এখন মরিচগুঁড়া প্যাকেটেও পাওয়া যায়। প্যাকেটজাত মরিচের গুঁড়া একটু উন্নতমানের বলে দামটাও একটু বেশি পড়বে। ভেষজ-সমৃদ্ধ হওয়ায় ঘরোয়া ওষুধ ও রান্নাবান্নায় ব্যবহার হয়ে আসছে হলুদ। স্বাদ ও রঙের বৈচিত্র্যে হলুদ সাধারণত দুই রকমের হয়ে থাকে। গাঢ় ও হালকা রঙ। রাঁধুনি, পিওর, প্রমি, টাইগার, রানীসহ আরো বেশ কিছু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এখন প্যাকেটজাত হলুদও বিক্রি করে। ধনের উৎপাদন সর্বপ্রথম শুরু হয় মরক্কোতে। তখন এটি সম্পর্কে আমাদের মানুষ ততটা জানত না, ব্যবহারও করত না। কিন্তু এখন এর ব্যবহার বেড়ে গেছে সবখানেই। কারণ তরকারির রঙ, গন্ধ ও স্বাদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ধনের জুড়ি নেই। ১০০ গ্রাম ওজনের ধনের প্যাকেট পাওয়া যাবে ২৫ টাকায়। পেঁয়াজের দাম কখনো বাড়ে কখনো কমে। এমনকি বাজারের ভিন্নতার জন্যও পেঁয়াজের দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে সাধারণভাবে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের দাম পড়বে ৪৫ টাকা। প্রতি কেজি রসুন পাওয়া যাবে ৮৫ টাকায়। আর আদার কেজি পড়বে ২৭৫ টাকা। এবার আসা যাক গরম মসলার দরদাম প্রসঙ্গে। গরম মসলার দাম এখন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। গত ঈদের তুলনায় এই ঈদে কোনো কোনো গরম মসলা বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ, তিন গুণ দামে। এলাচ ১০০ গ্রাম ২৫০ টাকা, জিরা ১০০ গ্রাম ৫৮ টাকা, লবঙ্গ ১০০ গ্রাম ২২০ টাকা, গোলমরিচ ১০০ গ্রাম ১৩০ টাকা, দারুচিনি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা, মহুরি ১০০ গ্রাম ২৫ টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে জায়ফল, জয়ত্রী, পোস্তদানা, তেজপাতা, শাহী জিরা ইত্যাদি। এগুলো তোলা হিসাবে কিনলে দামে কম পড়বে।

 

কোথায় পাবেন : প্রয়োজনীয় মসলা পাওয়ার জন্য তেমন কোনো খোঁজাখুঁজির দরকার হয় না। এগুলো ঢাকা শহরের যেকোনো মুদির দোকানেই পাওয়া যায়। তবে নিউমার্কেটসহ কিছু কিছু মার্কেটে আলাদা মসলার দোকানই রয়েছে। এসব দোকানে দেশী খাবার তৈরির মসলার পাশাপাশি বিদেশী খাবার তৈরির মসলাও পাওয়া যায় সুলভমূল্যে। আবার কিছু কিছু দোকান আছে, যারা সরাসরি গ্রাম থেকে মসলা সরবরাহ করে থাকে। এসব মসলার স্বাদ-গন্ধ অন্য যেকোনো মসলার চেয়ে উন্নত হয়। আর এগুলো সাধারণত পুরান ঢাকার দোকানেই বেশি পাওয়া যায়। তবে যেখান থেকেই মসলা কেনা হোক না কেন, বিশ্বস্ত দোকান থেকে কেনা উচিত। এতে মসলায় ময়লা কিংবা ভেজাল থাকার আশঙ্কা কম থাকে।

 

কিছু পরামর্শ : এখনো ঈদ আসতে বেশ কয়েক দিন বাকি। তাই এখন মসলা কিনলে সেটা ঘরে সংরণ করে রাখতে হবে। এমনিতেও মসলা একবার কিনে নিলে অনেক দিন চলে যায়। মসলার ক্ষেত্রে সব সময়ই যে সমস্যাটি দেখা দেয়, সেটি হলো কিছু দিন পরই এটা নষ্ট হয়ে যাওয়া। তবে একটু সচেতন হলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। মসলা পরিষ্কার ও শুকনো পাত্রে রাখতে হবে। আর ঢাকনা কিংবা মুখটাকে এমনভাবে বন্ধ করবেন যাতে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। আলোহীন এবং ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। চুলার পাশে এবং খোলামেলা র‌্যাকে রাখবেন না। আদা বা এই জাতীয় মসলা দীর্ঘ দিন স্বাদ এবং ঘ্রাণযুক্ত রাখতে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। মাচার ওপরও ছড়িয়ে রাখতে পারেন। কেউ কেউ অনেক দিনের জন্য মসলা সংরণ করতে গিয়ে সেটি রোদে শুকিয়ে নেন। মনে রাখবেন গরম মসলা রোদে শুকাতে দিলে স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। লঙ্কা গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া শুকনো তাওয়ায় ভেজে সংরণ করুন। এতে বেশি দিন তাজা থাকবে। বাটা মসলা সংরণ করতে হলে ওপরে অল্প লবণ ছড়িয়ে সংরণ করুন। এতে অনেক দিন ভালো থাকবে। যেসব মসলায় পোকামাকড়ের আক্রমণ হওয়ার ভয় থাকে সেগুলোর পাশে কয়েকটা নিম পাতা রেখে সংরণ করুন। নিমপাতা আপনার গরম মসলাকে অনেক দিন ধরে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখবে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুল‍াই ২০১৪ই.

তারকারা কোথায় ঈদ করছেন?

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : ঈদ উৎসবের উচ্ছ্বাসে তারকাদের খবরাখবর ছাড়া কেমন যেন জমে না। ঈদে কী করছেন প্রিয় তারকা? কোথায় ঘুরবেন? আর কী তাদের পরিকল্পনা? এসব জানার আগ্রহ বরাবরের চেয়ে বেশি থাকে ঈদের সময়ে।

 

bindu

বিন্দু
সজলের মতো বিন্দুও ঈদ করবেন ঢাকায়। সারা বছর নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় রান্নাঘরে ঢোকা হয় না একদমই। তাই ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই রান্নাঘরে প্রবেশ করার ইচ্ছে এই মডেল অভিনেত্রীর। বিন্দু বলেন, ‘গরুর গোশত দিয়ে আমি খুব ভালো শাহী টুকরা বানাতে পারি। এবারের ঈদে সেটা বানিয়েই সবাইকে আপ্যায়ন করব।’ তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার বাইরে আমার দু-তিনজন ভালো বন্ধু আছে। তারা আমার বাসায় বেড়াতে আসবে। আমি নিজে ঈদের দিন বাইরে কোথাও বের হবো না। তবে ঈদের পরদিন বাইরে ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা আছে।’
 ‍

mahi

মাহিয়া মাহি
বাবা-মায়ের সাথে গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে ঈদ করার ইচ্ছে দেশীয় চলচ্চিত্রের ব্যস্ততম নায়িকা মাহিয়া মাহির। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহি বলেন, ‘হাতে এখন একাধিক চলচ্চিত্র। শুটিং হচ্ছে নিয়মিত। ছুটি পাবো সব মিলিয়ে চার দিন। এই সময়টা পরিবারের সবার সাথে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে, তবে কান্তি যদি চেপে ধরে, শেষ পর্যন্ত ঢাকাতেই থাকা হবে। তবে যেখানেই থাকি ঈদের আনন্দ হবে সবার সাথে হৈহল্লা করে।

 azmeri-hoque-badhon

বাঁধন
অভিনেত্রী বাঁধনের শ্বশুরবাড়ি ঢাকায়। তাই স্বভাবতই তিনি ঢাকায় ঈদ করছেন। শুটিংয়ের কারণে পরিবারকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। এ বিষয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে অনুযোগের শেষ নেই। তাই ঈদের সময়টুকু পরিবারের সাথে থেকে তার দায় কিছুটা কমাতে চান তিনি। বলেন, ‘আগে ঈদ ছিল নিজের আনন্দের জন্য। সেই আনন্দ এখন মহা দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। এই দায়িত্বের জায়গা থেকেই আমি আমার পরিবারের সাথে ঈদের সময়টুকু কাটাতে চাই।’
ঈদের খুশির কথা বলতে গিয়ে সবার আগে বলেন তার ছোট মেয়ের কথা। ‘ঈদের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমি আমার মেয়ের সাথে থাকতে পারব, এটাই আমার ঈদ আনন্দ। তবে ঈদে রান্নার কিছু ঝামেলা থাকে সেটাও করতে হবে। তবুও তো আমার মেয়েটা আমার কাছে থাকবে।’

 

mehjabi-1

মেহজাবিন
ঢাকাতেই ঈদের সময় কাটাবেন অভিনেত্রী মেহজাবিন। বন্ধুদের সাথে বিকেলে বেড়াতে বেরোনোর ইচ্ছে রয়েছে তার। তার কাছে ঈদের আনন্দ মানে ঢাকার ফাকা রাস্তা। বন্ধুবান্ধব নিয়ে লংড্রাইভে বের হতে পারলে তার কাছে উৎসবের উচ্ছ্বাস পূর্ণতা পায়। মেহজাবিন বলেন, ‘অবসর বা ছুটিতে লংড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছে সব সময় জাগে মনে। কিন্তু ঢাকার যে জ্যাম তাতে এই ইচ্ছেটা মনের মধ্যে সুপ্ত বাসনা হিসেবেই রেখে দিতে হয়। ঈদের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাওয়া যায়।’

 

moushumi-hamid
মৌসুমী হামিদ
গ্রামের বাড়ি খুলনাতেই প্রতি বছর ঈদের সময় কাটান অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পরিবারের সবার সাথে ঈদের আনন্দ শেয়ার করতে ঈদের আগের দিনই পৌঁছে যাবেন বাড়ি।  

 

sagota

স্বাগতা
এ ছাড়া ঢাকায় পরিবারের সাথেই ঈদের উৎসব উৎযাপন করবেন অভিনেত্রী স্বাগতা। তার কাছে ‘ঈদ মানেই শান্তির ঘুম। পরিবারের সাথে থাকতে পারি অনেকটা সময়, এটা ঈদের আনন্দের মধ্যে অন্যতম।’ ঈদে ভালো লাগার সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগার মুহূর্ত বলতে পারব না, তবে একটা তৃপ্তি অনুভব করি যখন মনে হয় আমাকে কেউ শটের জন্য ডাকে না। অর্থাৎ শুটিংয়ের জন্য আমার কোনো পিছুটান থাকে না।’

 

nawshaba

নওশাবা
অভিনেত্রী নওশাবা বলেন, ‘আগেরবারের মতোই এবারো ঢাকায় পরিবারের সাথে ঈদ করব। ঈদের রুটিনের সবটুকু সময়জুড়ে থাকবে আমার মেয়ে আর রান্নাবান্না।’ সবচেয়ে আনন্দের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত আমার ভালো লাগে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারি বলে।’

 

konal

কোনাল
পরিবারের সাথে ঢাকায় ঈদ করবেন কণ্ঠশিল্পী কোনাল। তার কাছে ঈদের সবচেয়ে আনন্দের দি হলো, সকালবেলা উঠে গোসল সেড়ে নতুন জামা ছোট-বড় সবার সাথে কুশল বিনিময় করা। তিনি বলেন, ‘সকালবেলা শুভেচ্ছার সাথে ঈদি আদায় করার মজা করার আনন্দ আমি কখনোই মিস করি না।’

 

kkon

কণা
কণা ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে বিকেলের দিকে দাদার বাড়ি গাজীপুরে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে তার।
কণা বলেন, ‘ঈদ মানেই অবসর। ব্যস্ততার মাঝে যেটুকু অবসর সময় কাটাতে পারি, তার পুরোটুকুই আমার ভালো লাগার মুহূর্তের মধ্যে পড়ে। ঈদের এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই.

রঙিন সুতার কারিগরদের রঙহীন ঈদ

 

36

 

আবদুর রাজ্জাক ঘিওর, মানিকগঞ্জ: আমার ১২ বছরের ছেলে নাইম বায়না ধরছে। মা এরকম সুন্দর একটা পাঞ্জাবি আমারে দিতে হবে। কিন্তু কেমনে বুঝাবো ছেলেরে, এগুলো অনেক দামি, এগুলো আমাগো মতো মানুষের জন্য না। কথাগুলো বলতে বলতে ছালমা আক্তার অশ্র“ সংবরণ করতে পারলেন না। ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন। বাড়ইল গ্রামের ছালমা আক্তার অনেকটা আবেগের সুরে জানালেন তার জীবনের করুণ কাহিনী। তিন বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সেলাইয়ের কাজ করে এক ছেলেকে নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বাড়িতে এনে পাঞ্জাবির নকশার কাজ করেন। আর সেই টাকায় চলে সংসার।

 

রোজার এ শেষ সময় ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার নারী থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়ায় নকশা তোলার কাজে ব্যস্ত। ঈদ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে তাদের এই ব্যস্ততা। এখানকার নকশাতোলা পাঞ্জাবি, ফতুয়া বিক্রি হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। রফতানি হয় কানাডা, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে।
যাদের শ্রম ও ঘামে আর স্বপ্নের মাধুরী মিশ্রিত সুনিপুণ হাতের সেলাই ও নকশা করা ড্রেসে দেশের অভিজাত মানুষের মন বর্ণিল হয়ে ওঠে, তাদের কথা আমরা কি কেউ ভাবি? তারা যে কতটা দৈন্যদশার আবর্তে জীবনযাপন করছেন তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই।  

 

রাথুরা গ্রামের অজিফা বেগম বলেন, ‘আমাদের হাতে সুন্দর সুন্দর পাঞ্জাবি তৈরি হয়, সেগুলো অনেক দাম দিয়ে দামীদামি মানুষেরা পরেন; কিন্তু আমরা খালি চাইয়াই থাকি, পরনের ভাগ্য হয় না।’ তার সাথে আলাপকালে জানা যায়, একটি পাঞ্জাবিতে সুইসুতার নকশা করে তারা পান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। একটি পাঞ্জাবির কাজ শেষ করতে তাদের তিন-চার দিন লাগে। তিনি বলেন, ‘এই অল্প আয় দিয়ে কি আর দামি কাপড় চোপড় কিনা যায়। অসুস্থ স্বামীর জন্য একটি লুঙ্গি আর ছেলে মেয়ের জন্য ফুটপাথ থেকে জামা কাপড় কিনছি।’

 

এবার ঈদে নিজের জন্য কী কিনবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জাবরা গ্রামের বিধবা শরীফা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দিন রাইত খাইটা যা পাই তা দিয়া সংসারই চলে না। তার পরও কিছু টেকা (টাকা) ছেলেমেয়ের মুখের দিকে চাইয়া জমাইছি। মানিকগঞ্জ হকার্স মার্কেট থেইকা কিছু নতুন জামাকাপড় কিনা দিমু। দুঃখ অয় আমাগো হাতের কাজের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, থ্রিপিস শুনি অনেক দামি আর বিদেশ যায়, আর আমরাই ঈদ করি জাকাতের কাপড় দিয়া।’

 

প্রায় এক যুগ আগে মানিকগঞ্জে শুরু হয়েছিল পাঞ্জাবির গায়ে সুইসুতা দিয়ে নকশা তোলার কাজ। প্রথম দিকে অনেকেই বাঁকা চোখে দেখতেন নারীদের এ কাজকে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। গত এক দশকে এ নকশার কাজে নীরব বিপ্লব ঘটেছে মানিকগঞ্জ জেলায়। এখন প্রায় ৩০ হাজার নারী যুক্ত আছেন এ কাজে।
ব্র্যাকের ম্যানেজার শ্যামল কুমার দাশ জানান, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে এ জেলায় সর্বপ্রথম বেকার ও দুস্থ নারীদের পোশাকের ভরাট কাজের ওপর প্রশিণ দেয়া হয়। আয়শা আবেদ সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার নারীকে প্রশিণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ সেন্টারের আওতায় পাঁচ হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের কারো কারো মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি আরো বলেন, এ বছর ঈদকে সামনে রেখে শুধু ব্্র্যাকই দেড় লাখ পিসের ওপরে পণ্য সরবরাহ করবে।

ুদ্র ও কুটির শিল্পে দেশের একমাত্র সিআইপি জননী ক্রাফটস অ্যান্ড ফ্যাশনের মালিক রফিকুল ইসলাম পরান জানান, তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরে বসে সারা বছর কাজ করেন প্রায় চার হাজার নারী।

 

নকশীর অন্যতম কর্ণধার রফিকুল ইসলাম বিশ্বাস মাসুদ জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার মহিলা পাঞ্জাবি-ফতুয়ায় ভরাট কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। ইউসুফ-ইব্রাহিম হ্যান্ডিক্র্যাফটের পরিচালক মো: ইউসুফ জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন। বর্ণালী প্রিন্টার্সের মালিক মো: ইছহাক জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এ বছর ঈদ সামনে রেখে প্রায় ৫০ হাজার পিস পণ্য বাজারজাত করা হবে।
কেউ কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে আবার কয়েকজন মিলে ুদ্র ুদ্র সঞ্চয় এক করে শুরু করেছেন এই হ্যান্ডিক্র্যাফটের ব্যবসা। জেলার সদর উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নে, শিবালয়, ঘিওর, সাটুরিয়া, হরিরামপুর, সিংগাইর ও দৌলতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চলছে এই ভরাটের কাজ। কোথাও টিনের শেড তুলে আবার কোথাও নিজ ঘরে বসেই চলছে সুইসুতার এই নান্দনিক কাজ। অনেকেই সারা বছর এ কাজ না করলেও ঈদ সামনে রেখে লেগে যান সুইসুতা হাতে। স্কুল-কলেজের ছাত্রী, গৃহবধূসহ অনেকেই হয়ে যান মওসুমি কারিগর। এ সময়টি অনেকটা উৎসবে রূপ নেয় এই অঞ্চলে।

 

ন্যায্য মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন এসব নারী। একটি পাঞ্জাবিতে সুইসুতার নকশা করে তারা পান ৯০-১৫০ টাকা। একটি পাঞ্জাবির কাজ শেষ করতে তাদের চার-পাঁচ দিন লাগে। প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাত ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সে হিসেবে তাদের মজুরি খুবই কম।

 

এ ব্যাপারে মির্জাপুর রাজবংশী পাড়ার স্বামী পরিত্যক্তা সন্ধ্যা রানী রাজবংশী বলেন, ‘তিনটি পাঞ্জাবিতে নকশার কাজ করতে গিয়ে ডিজাইন ভুল হয়েছিল। এর জন্য আমারে কোনো মজুরি দেয় নাই। হিন্দু অইলেও প্রত্যেক ঈদে নতুন কাপড় কিনে মুসলমান বান্ধবীদের বাড়ি বেড়াইতে যাই, কিন্তু এবার আর তা অইলো না।’ ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী গ্রামের মুক্তা আক্তার, নারগিছ বেগম, নাছিমা, সীমা আক্তার জানান, ‘পেটের ভাতই জুটে না আবার দামি কাপড়চোপড় কিনব কেমনে।’

 

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, হাতের কাজের নকশা করা পাঞ্জাবির ৭০ শতাংশই মানিকগঞ্জ থেকে সরবরাহ করা হয়। এ এলাকায় এ কাজ হওয়ায় অনেক নারীরই সামান্য হলেও আয় করতে পারছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন কি-না। তাদের  ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা গেলে তারাও ভালোভাবে ঈদ করতে পারত। বঞ্চিত হতো না ঈদের আনন্দ থেকে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই

বিজ্ঞান মানেই চার মলাটে বাঁধা : ড. জেবা ইসলাম সেরাজ

 

55

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: শৈশবে বাবা-মা উভয়েই আমাকে মজার মজার বই উপহার দিতেন। পড়াটা ছিল আমার কাছে মজার বিষয়। আমার মেয়েরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়েছে। ওদের বিজ্ঞানবিষয়ক বইগুলো ছবিসহ অনেক সুন্দর ও সহজ পাঠ্য ছিল। ওরা কৌতূহলভরে বইগুলো পড়ত। ওদেরই বন্ধু যারা বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা করত তাদের বিজ্ঞানবিষয়ক বইগুলো ছিল সাদামাটা। পাঠের সঙ্গে কোনো ছবি নেই। বিষয়গুলো পড়ার প্রতি আগ্রহ জাগাবে এমনভাবে উপস্থাপনও করা হয়নি। তাদের কেউ কেউ শিক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে বিজ্ঞানে ভালো ফলাফল করেছে। যাদের শিক্ষক রাখার সামর্থ্য নেই তারা ভালো ফলাফল তো দূরের কথা ভালো করে বিজ্ঞানকে জানতেও পারছে না। অথচ প্রত্যেক শিশুর কাছেই পড়াটা মজার বিষয় হওয়া দরকার। যে কোনো বিষয়ে শেখা আনন্দের হওয়া জরুরি। আর এই আনন্দ কয়েক গুণ বেশি হওয়া উচিত যখন বিষয়টি হয় বিজ্ঞান। কারণ, বিজ্ঞান মানেই চার মলাটে বাঁধা শুধু একটা বই নয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চলতে, ফিরতে বিজ্ঞানের ভূরি ভূরি বাস্তব উদাহরণ আমরা দেখি। সেটিই বিজ্ঞান শিক্ষাকে প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় করে তোলে। আবার উল্টো দিক থেকে দেখলে, বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে করে তোলে সহজ ও আরামপ্রদ। বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজ।

 

জেবা ইসলামের শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে দেশ এবং দেশের বাইরে। তার বাবা আহমেদ শামসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণা এবং লেখালেখিও করেন। তার বাবা বাংলায় বায়োটেকনোলজি বিষয়ক একটি বই সম্পাদনা এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জেনেটিক্স বিষয়ক একটি বই লিখেন। যেটি উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অনার্সে পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। মা হুমায়রা ইসলাম ছিলেন শিক্ষক। বাবা-মা উভয়ই শিক্ষকতা পেশায় জড়িত থাকার কারণে তার বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ ছিল। সেই পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে জেবা ইসলাম পেশাগত জীবনে শিক্ষকতার পেশা বেছে নেন। ভাই-বোনদের মধ্যে জেবা ইসলাম সেরাজ মেঝো। বড় ভাই ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক। ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী। পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ।

 

জেবা ইসলাম মুক্তিযুদ্ধকালীন বছর দুয়েক হলিক্রস, বছর দুয়েক জেভিয়ার্স সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলে পড়েন। এরপর চলে যান দেশের বাইরে। কেনিয়ার একটি স্কুল থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল করেন। দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানে বিএসসি অনার্স ভর্তি হন। ১৯৮১ সালে প্রথম শ্রেণীতে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৮২ সালে প্রথম শ্রেণীতে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এমএসসির ফলাফল বের হলে ওই বছরই তিনি পিএইচডি পড়ার জন্য গ্লাসগও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। ১৯৮৬ সালে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে লিভারপুল ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট ডক্টরালের জন্য ভর্তি হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পনের মাসের পোস্ট ডক্টরাল করেন তিনি। দেশে ফিরে ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণা এবং লবণ সহনশীল ধান উদ্ভাবনে কাজ করছেন। এ দেশের সাধারণ বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান পড়াকে আরও আনন্দময় করে তোলার জন্য চমৎকার ইলাস্ট্রেশন সমৃদ্ধ একটি বই বের করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার দুই মেয়ে সামিয়া সেরাজ ও সারাহ সেরাজ। তার স্বামী ড. তৌফিক এম সেরাজ বই প্রকাশ করেন।

 

জেবা ইসলাম সেরাজ বলেন, নাসরীন সুলতানা মিতু, আতিয়ার রহমান ও আমি বিজ্ঞানের মজার পাঠশালা বইটি লিখেছি। বইয়ে সুন্দর সুন্দর ইলাসট্রেশন করেছেন নাসরীন সুলতানা মিতু। বইটির দুই হাজার কপি ছাপানো হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বইটি দেয়া হেব। সবার সহযোগিতা পেলে এই বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বইটি তুলে দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। শিশুরা বিজ্ঞানকে সহজভাবে জানুক, বিজ্ঞানকে ভালোবাসুক সেটা ভেবেই বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

পারিবারিক জীবনে জেবা ইসলাম সেরাজের স্বামী ড. তৌফিক এম সেরাজ শেলটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দুই মেয়ে সামিয়া সেরাজ ও সারাহ সেরাজ দু’জনেই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। সামিয়া মেটারিয়াল সায়েন্সে পিএইচডি করছেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই

ন্যায্য মজুরি বঞ্চিত নারী শ্রমিকরা

 

 

4_125584

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম:‍ খেজুরডাঙ্গার শাহিদা খাতুনের স্বামী নিয়ামত আলী গ্রামপুলিশে চাকরি করেন। দুই মেয়ের মধ্যে লিপিয়া দশম ও পাপিয়া পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে। পাঁচ বছর ধরে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে শাহিদা কাজ করেন সুন্দরবন টেক্সটাইলে। ভিটাবাড়ির দুই কাঠা জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। ন্যায্য মজুরি পান না এ ব্যাপারে মালিক পক্ষকে কিছু বলেন না জানতে চাইলে শাহিদা খাতুন বলেন, পরিবারের এতগুলো মানুষের মুখের ভাত জোগানো কি চাট্টিখানি কথা। নিরুপায় হয়ে এখানে কাজ করি। রাতে কাজ করলে আরও ১০ টাকা বেশি পাই। তবে এখানে চাকরির নিশ্চয়তা আছে, নিরাপত্তা আছে।

 

পুরাতন সাতক্ষীরার আঞ্জুয়ারা বেগম এখানে কাজ করে ১৯ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ে নাজমুন নাহারকে বড় করে তুলেছেন। আরেক মেয়ে তাজমিরা ও দুই ছেলে মাহমুদ ফিরোজ ও ইমরান কলেজ ও কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। স্বামী ওসমান তরফদার ভ্যান চালান। পাঁচ বছর ধরে মিলশ্রমিকের চাকরি করেন। আঞ্জুয়ারা বলেন, এখানে সম্মান আছে কিন্তু ন্যায্য মজুরি নেই। কোনো কাজ নেই বলে বেছে নিয়েছি সুন্দরবন বস্ত্রকলের এই চাকরি। ভিটেবাড়ি বলতে সামান্য জমি আছে।

 

১৪ বছর ধরে দৈনিক টানা ৮ ঘণ্টা কাজ করেন সখিনা খাতুন। মজুরি পান ১১০ টাকা। স্বামী মোসলেম সরদার দিনমজুর। দুই ছেলে শাজাহান ও সুজন তারাও কাজ করে মাঠেঘাটে।

 

সখিনা জানান, এতগুলো মানুষের মুখের গ্রাস তুলে দিতে স্বামী-সন্তান সবাই মিলে কাজ করেও টেনে উঠতে পারছেন না। অভাবের কারণে মিলে এসেছেন। এই চুক্তিতে কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হবে তাদের।
শহরের কাটিয়ায় ভাড়া বাড়িতে কাজের জন্য থাকেন হাসিনা খাতুন। হাসিনার দিনপ্রতি আয় ১১০ টাকা আর ভ্যানচালক দিনমজুর স্বামীর কোনো দিন আয় ১০০ টাকা কোনো দিন কম অথবা বেশি। নিজের জমি বলতে কিছুই নেই হাসিনার। কাজের খোঁজে সাতক্ষীরায় এসে সুন্দরবন বস্ত্রকলে চাকরি নেন তিনি। সংসারে অভাব লেগেই থাকে। অসুখ-বিসুখ তো আছেই। এভাবেই কাটে আট বছর। হাসিনা বলেন, বস্ত্রকলে কাজ করতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনায় পড়েছি। শাড়ি, ওড়না অনেক সময় মেশিনে পেঁচিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছি।

 

সাতক্ষীরার অদূরে নলকূড়া গ্রামের দুই কাঠা জমিতে মনোয়ারার বসতভিটা। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে ছেলে দিনমজুর আর মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। ঘরে স্বামী আবদুল মজিদ ও শাশুড়িও অসুস্থ। সাত বছর ধরে মিলে কাজ করেন মনোয়ারা। মনোয়ারা বলেন, ১১০ টাকায় সংসার চলে না।

 

ইটাগাছার সুচিত্রা মণ্ডল সুন্দরবন বস্ত্রকলে শ্রমিক, স্বামী নির্মল মণ্ডল পৌরসভা, আর ছেলে সমীর মণ্ডল হাসপাতালের সুইপার হিসেবে কাজ করে।

 

সুচিত্রা বলেন, আশাশুনির বলাবাড়িয়ায় শ্বশুরবাড়ি। সেখানে কাজ না থাকায় সাতক্ষীরায় চলে আসি সপরিবারে। মাত্র ১০০ টাকায় দিনমজুর খেটে সংসার চালিয়েও দেড় শতক জমি কিনে ছোট্ট একটি বাড়ি করেছি। কিন্তু এত শ্রম দিয়েও ন্যায্য মজুরি পাই না।

 

সাতক্ষীরার দেবনগরের আকলিমা খাতুন এক ছেলে, এক মেয়ের মা। কালিগঞ্জের শ্বশুরবাড়িতে কোনো সহায় সম্পদ নেই। স্বামী জিল্লুর দিনমজুরি খেটে যা আয় করে তার সঙ্গে নিজেরটা মিলিয়ে বাপের ভিটেতেই রয়েছেন তিনি। আকলিমা বলেন, দৈনিক ১০০ টাকা মজুরিতে কাজ করি। সকাল ৬টায় তিন কিলোমিটার হেঁটে মিলে কাজ করতে আসি। এই মিলে দুই শতাধিক নারী শ্রমিক রয়েছেন। সবার অবস্থায়ই তার মতো। রাষ্ট্রায়ত্ত এই মিলটি বর্তমানে সার্ভিস চার্জের ভিত্তিতে চালু থাকায় তারা সামান্য টাকা মজুরি পান।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই