banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

এ কেমন বর্বরতা

(1)বর্বরতার শিকার গৃহবধূ জেসমিন (ছবি : লোকমান আলী )

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, লোকমান আলী, নওগাঁ : যৌতুকের দাবিতে নওগাঁর মান্দায় জেসমিন নামের এক গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিয়েছেন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন।

 

বর্বর এ ঘটনা ঘটিয়ে ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ডরা, এক শিশুসন্তানসহ জেসমিনকে পাঠিয়ে দিয়েছে তার বাবার বাড়িতে। ন্যায়বিচারের আশায় ওই গৃহবধূ মামলা করে আসামিদের হুমকি আর আতঙ্কে পার করছেন দিন।

 

এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হলেও পুলিশ এখনো ঘটনার মূল হোতা শাশুড়ি ও ননদকে আটক করতে পারেনি।

 

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের দিনমজুর আব্বাস আলীর মেয়ে জেসমিনের সাত বছর আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গ্রামের খলিলের ছেলে রুবেলের সঙ্গে। বিয়ের সময় আব্বাস আলী তার সহায়সম্বল বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন জামাই রুবেলের হাতে।

 

যৌতুকের এ টাকা কিছুদিনের মধ্য ফুরিয়ে গেলে শুরু হয় জেসমিনের ওপর আরো টাকা এনে দেওয়ার চাপ। জেসমিন জানিয়ে দেয় তার দরিদ্র বাবার পক্ষে আর কোনো টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে আরো বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা।

 

সবশেষ গত ১৩ জুলাই স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ যৌতুকের টাকা না পেয়ে জোরপূর্বক জেসমিনের মাথার চুল কেটে পাঠিয়ে দেয় বাবার বাড়িতে। বর্বর এ ঘটনায় জেসমিনের বাবা আব্বাস আলী মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ রুবেলকে আটক করে আদালতে দিয়েছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনার পর থেকে জেসমিনের শাশুড়ি রাহেলা বেগম এবং ননদ বেবী খাতুন পলাতক।

 

মান্দা ইউপি চেয়ারম্যান এজাজ আহম্মেদ হিন্দোল জানান, ঘটনার পর জেসমিনকে আইনগত সহায়তার জন্য সব রকম সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারী নির্যাতনের এমন বর্বর ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, মামলা করার পর আসামি রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুই আসামিকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.

মহেশপুরে শ্বাশুড়ীর অত্যাচারে স্বামীর ঘর ছাড়া আনেহার

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে অনন্তপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের কন্যা আনেহার খাতুন (২২) কে শ্বাশুড়ী অত্যাচার করে ঘর ছাড়া করেছে। জানা গেছে, উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মো. আলী হোসেনের পুত্র বাবুল হোসেন (২৫) এর সাথে গত ৪ জানুয়ারী ২০১৪ তারিখে ১ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্যে আনেহার খাতুনের বিবাহ হয়। কিন্তু বিবাহের ২ মাস পার হতে না হতেই পিতৃহারা আনেহার শ্বাশুড়ী কর্তৃক শারিরীক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতিত হয়ে বর্তমানে পিতার বাস গৃহে অবস্থান করছে।

 

পিতৃহারা আনেহারের সুখের কথা চিন্তা করে তার বড় দুলা ভাই মো. শুকুর আলী বাবুলকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও সংসারের যাবতীয় জিনিস দেয়। বিবাহের ১৫ দিন পর বাবুল ঢাকা চলে যায়। সেখানে সে গাড়ী চালায় বলে জানা গেছে। এদিকে আনেহারের অর্থলোভী শ্বাশুড়ী ফুলমতি খাতুন বউকে আরো যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে এমতাবস্থায় পিতৃহারা আনেহার টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার শ্বাশুড়ী শারিরীক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন শুরু করলে অতিষ্ট হয়ে সে পিত্রালয়ে ফিরে আসে। স্বামী আনেহারের কোন খোঁজ খবর রাখে না। এ ব্যাপারে অসহায় আনেহার ন্যায় বিচার পাবার জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.

যৌতুকের বলি হল কোটচাঁদপুরের মুক্তা রায় মিতু

nnn

অপরাজিতাবিডি ডটকম : যৌতুকের বলি হল মুক্তা রায় (মিতু)। তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার পায়তারা চালাচ্ছে স্বামী চিরঞ্জিত বিশ্বাস। মিতু কোটচাঁদপুর সলেমানপুরের ভজন রায়ের মেয়ে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

 

মিতুর পিতা ভজন রায় জানান, ২০০৮ সালের দিকে যশোরের মনিরামপুর খেদাপাড়া গ্রামের চিত্ত বিশ্বাসের ছেলে চিরঞ্জিতের সাথে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে দেয়া হয় নগদ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণাংলকার, কাপড়-চোপড়, ও আসবাবপত্র। বিয়ের প্রথম বছর তাদের সংসার জীবন ভালই কাটে। শুরু হয় জামাই চিরঞ্জিতের যৌতুক দাবী। মাঝে মধ্যে সে মেয়ে পাঠিয়ে কখনও ১০ হাজার, কখনও ২০ হাজার টাকার নিয়ে যেত। 

 

তবুও তাঁর যৌতুকের নেশা বন্ধ হয়। সে প্রায়ই মেয়েকে মারধর করত। গেল দুই বছর যাবৎ তাঁর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে। আর তার বহির প্রকাশ ঘটে গত ৯ জুলাই তাঁর নিজ বাড়ি খেদাপাড়ায়। মিতুকে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ী মিলে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আড়াই ঝুলিয়ে রাখে। পরে তারা আমাকে খবর দেয় তোমার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলাম মেয়ে মাটিতে শুয়ে আছে। বাড়িতে আর লোকজন নাই। তারা মেয়ে কে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। এরমধ্যে এলাকায় একটা বিষয় চাউর হতে থাকে। সেটা হল তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছে। যেন তারা বিষয়টি নিয়ে ঘাটা ঘাটি না করে। এদিকে মিতুর মা তাঁর শোকে পাগল প্রায়। আর পিতা ভজন রায় বিচারের আশায় ছুটছে সাংবাদিক, সমাজপ্রতি ও রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে। কারন তার অঘাত টাকা নেয়। টাকা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়তে পারবে না। এ ব্যাপারে মনিরামপুর থানায় অপমৃতুর মামলা হয়েছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.

নীলফামারীতে ছাত্রী নিবাসে কলেজ ছাত্রীর আত্নহত্যা

attohotta

অপরাজিতাবিডি ডটকম : নীলফামারীতে ঝণা রাণী রায় (১৯) নামের এক কলেজ ছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। সে নীলফামারী সরকারী অর্নাস কলেজের দর্শণ বিভাগের অর্নাস ১ম বর্ষের ছাত্রী ও জেলার ডিমলা উপজেলার সুন্দরখাতা গ্রামের সুবাস রায়ের মেয়ে। আজ বুধবার সকালে পুলিশ ঝর্ণার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। নীলফামারী থানার উপ-পরির্দশক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝর্না রায় জেলা শহরের কলেজপাড়া এলাকার বৃষ্টি ছাত্রী নিবাসে থেকে পড়ালেখা করতো। 

 

গতকাল মঙ্গলবার রাতে সে সবার অজান্তে ছাত্রী নিবাসের নিজরুমে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেছিয়ে আত্নহত্যা করে। আজ সকালে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে প্রেমঘটিত কারণে আত্নহত্যা করেছে। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.