banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

রাজশাহীতে বাহারি নামে মেয়েদের পোশাক

 

Rajshahi-Eid-Market-Inner

 

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী: ময়ুরপঙ্খী, পাখি, লুঙ্গি ড্যান্স, মধুবালা, পানকৌড়ি, মনিকা, দীপিকা ও কারিনা- এগুলো কোনো টেলিভিশনের সিরিয়াল কিংবা সিনেমার নাম নয়। মেয়েদের বাহারি ডিজাইনের পোশাকের নাম। এ সব পোশাক নিয়ে রাজশাহীতে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। ঈদ বেশ দূরে থাকলেও এখন থেকেই বাড়তে শুরু করেছে মেয়েদের পোশাক কেনার ব্যস্ততা।

 

অনেকে আবার পোশাক পছন্দ করে রাখছেন আর কিছুদিন পর কেনার জন্য। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকায় বিপণিবিতানগুলোতে শিক্ষার্থীদের পদচারণা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাদের কেউ আসছেন পোশাক দেখতে আবার কেউ আসছেন কিনতে।

 

বিক্রেতারা জানান, জমতে শুরু করেছে ঈদ বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই নগরীতে আসছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। নগরীর মেয়েদের পোশাকের দোকনগুলোতে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

 

রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের গোল্ডেন কালেকশনের সেলসম্যান কনক জানান, ভারতীয় বিভিন্ন অভিনেত্রীর নামে মেয়েদের পোশাকের চাহিদা বেশি। যেমন- আনারকলি, আদিতি, পাখি, ময়ুরপঙ্খী, লুঙ্গি ড্যান্স, মধুবালা, পানকৌড়ি, মনিকা, দীপিকা ও কারিনা ইত্যাদি। দাম ১৫শ’ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে দেশীয় পোশাকের দাম তুলনামূলক কম। ৩০০ থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এ সব পোশাক।

 

তিনি আরও জানান, শিশুদেরও পোশাক রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন সিনেমা, সিনেমার গানের নামে। যেমন- বেবি ডল, চেন্নাই এক্সপ্রেস, স্কুভি ফ্রগ ও ফ্লোর টার্চসহ বিভিন্ন নামের পোশাক। এগুলোর দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

নগরীর হেতেম খাঁ এলাকার রাজশাহী কলেজের এইচএসসির ছাত্রী সাদিয়া আফরিন জানান, পোশাকের দোকানে এসে ভারতীয় নাম দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি। কারণ আমাদের দেশের পোশাক কারখানার পোশাকের সুনাম সারা বিশ্বে রয়েছে। এ সব পোশাক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। অথচ আমরা আমাদের পোশাকে কোনো দেশিও নাম রাখছি না, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই.

স্বামীর ঘরে তালাবন্দি ৪৩ বছর!

bagerhat20140630213608

আরিফ সাওন : স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন শেখ নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির ছোট স্ত্রী পারভীন আকতার। পরে নুর মোহাম্মদ তার অনুগতদের সহযোগিতায় পারভীনকে ধরে এনে শিকলে বেধে রাখেন। আর পর্দার দোহাই দিয়ে বড় স্ত্রী কুলসুম বেগমকে ৪৩ বছর ধরে ঘরে তালাবন্দি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে।

 

বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কাছে গত ২৬ জুন এই অভিযোগ করেন শেখ নুর মোহাম্মদের ছেলে বাকি বিল্লাহ। তিনি  তার এই দুই মা’কে উদ্ধার করার আবেদন জানিয়েছেন।

 

অভিযোগ পেয়ে বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা ও সহকারী পুলিশ সুপার (বাগেরহাট সদর) সাদিয়া আফরোজ বাগেরহাট সদরে সরুই এলাকায় নুর মোহাম্মদের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নুর মোহাম্মদ সরুই খানকা শরীফের খাদেম। তিনি নিজেকে পীর বলে দাবি করেন। তার অনেক মুরিদ আছেন।

 

বাকি বিল্লাহ লিখিত অভিযোগে বলেছেন, তার বাবার দুই স্ত্রী। বাবা তাদেরকে কখনো ঘরের বাইরে বের হতে দেন না। সবসময় বাইরে থেকে ঘর তালা দিয়ে রাখেন, তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। শরীরে অলংকার তো দূরের কথা প্রয়োজনীয় জিনিসও দেন না। বাইরের কাউকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন না। কোন আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বা দেখা-সাক্ষাৎ করতে দেন না।

 

বাকি বিল্লাহ আরো বলেছেন, তার বোনরাও ঘরের বাইরে যেতে পারেন না। তাদেরকে লেখাপড়া করার সুযোগ দেয়া হয় নি। বড় বোন ফাতেমা আকতারের বয়স প্রায় ৩৫। ফাতেমা ও আরেক বোন ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। কঠোর পর্দায় রাখতে পারবে- এমন ছেলে না পাওয়ায় দুই বোনকে আজো বিয়ে দেয়া হয় নি।

 

সহকারী পুলিশ সুপার সাদিয়া আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি ২৯ জুন ওই বাড়ি গিয়েছিলেন। বাড়ির একটি ভবন দুই কক্ষের। কোন কক্ষেই জানালা নেই। একটি কক্ষে বাতি নেই। নেই কোন আসবাবপত্র। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকে। এগুলো বাস করার উপযোগী নয়।

 

সাদিয়া আফরোজকে পেয়ে নুর মোহাম্মদের বড় স্ত্রী কুলসুম বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। কুলসুম বেগম তাকে জানান, তিনি বিয়ের পর থেকে ৪৩ বছর তালাবন্দি অবস্থায় আছেন।

 

বাকি বিল্লাহ ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে এই লেখকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন করে জানান, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়ায় তার বাবা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। বাকি বিল্লাহ তার বাবার হাত থেকে দুই মা ও বোনদের রক্ষার দাবি জানান।

 

এ ব্যাপারে নুর মোহাম্মদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তাকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন।

 

বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা জানিয়েছেন, নুর মোহাম্মদকে তিনি ডেকেছিলেন। পুরো বিষয়টি নুর মোহাম্মদ অস্বীকার করেছেন। এ সময় ওই ওয়ার্ডের কমিশনার তার অনুকুলে কথা বলতে এসেছিলেন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘এটা এক ধরনের ব্যাধি। এ থেকে তাদেরকে উদ্ধার করতে হবে।’

 
লেখক : বাগেরহাটের স্থানীয় সাংবাদিক।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই.

বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল মৌসুমি

Child-Marriage20140712095404

অপরাজিতাবিডি ডটকম, দিনাজপুর : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনিরুজ্জামান আল মাসউদের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল মৌসুমি ( ১২)। মৌসুমি উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যাললের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। দুর্গাপুর গ্রামের মদন কর্মকারের মেয়ে সে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুর মশাই পঞ্জিকা অনুযায়ী ৪ জুলাই শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে বিয়ের লগ্ন ছিল । সেই কথা অনুসারে বিয়ের প্রস্তুতি শেষ। বরপক্ষও হাজির। প্রাথমিক বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ।

 

বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ডেভেলপ দ্য ভিলেজের (ডিভি) নির্বাহী পরিচালক মোরশেদ মানিকের আন্তরিক সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলামকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। বিরামপুর থানার এসআই শামসুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মদন কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। মৌসুমির বাবা মদন কর্মকারকে আটক করা হয়। এ অবস্থা দেখে বরপক্ষের লোকেরা বরসহ পালিয়ে যায়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনিরুজ্জামান আল মাসাউদ বাল্যবিবাহ দেবেন না বলে লিখিত মুচলেকা নেন। সেই সঙ্গে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করে মৌসুমির বাবাকে ছেড়ে দেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মনিরুজ্জামান আল মাসাউদ এনজিও নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই.

গাসিকের নারী কাউন্সিলর নিখোঁজ

3

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, গাজীপুর : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পারভীন আক্তার শুক্রবার সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। রাতে তার স্বজনেরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পারভীন আক্তারের বাড়ি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায়।

 

কাউন্সিলরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারভীন আক্তারের মুঠোফোনে শুক্রবার সকালে একটি ফোন আসে। পরে তিনি বাড়িতে বলে যান, পানিশাইল ব্যাটারি ফ্যাক্টরির পাশে একটি গ্রাম্য সালিশ আছে। সেখানে যাচ্ছেন বলে তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

 

কিন্তু রাত হয়ে গেলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় রাত ৯টার দিকে তার স্বামী মিনহাজ উদ্দিন জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

 

পারভীনের ভাই মো. রফিক মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিকেলের পর থেকে যেসব আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে তার যাওয়ার সম্ভবনা আছে; সেসব স্থানে তাকে খোঁজা হয়েছে। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান জানান, পারভীন আক্তারকে উদ্ধার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই

রমজানে পানিশূন্যতা

drinking-water

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা :  পানি আমাদের শরীরের জন্য অতীব দরকারি উপাদান। সারাদিন একজন ব্যক্তির কমপক্ষে ৭-৮ গ্লাস পানি পানকরা দরকার হয়। তা না হলে তিনি পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হন। যা তার স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। শরীর-মন দুর্বল হয়ে যায়। রমজানের সময় আমাদের সারাদিনই পানি না পান করে থাকতে হয়। এর শারীরিক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে রমজানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগাযোগের কারণে রোজাদাররা মানসিক শক্তিতে বিষয়টি এড়িযে যান। কিন্তু ঠিকই শরীরে এর প্রভাব পড়ে, অস্বস্তি জাগায়।

পর্যাপ্ত পানি পান না করা শুধু পানিশূন্যতা তৈরি করে তা নয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিবিধ সমস্যা হয়। শরীরের পর্যাপ্ত পানি নেই তা বোঝার সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং। প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীরে পানি নেই। বিশেষ করে রমজানে এটি দেখা যায়।

রমজানে যেভাবে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করবেন

– লবণাক্ত, বেশি মিষ্ট, ভাজা ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। এ সবের জন্য শরীরে বেশি পানির দরকার পড়ে।
– প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করুন। ইফতারে দুই গ্লাস পানি পান করুন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রতিঘণ্টায় কমপক্ষে ১ গ্লাস করে পানি পান করুন। সেহেরিতে বেশি পানি পান করতে ভুলবেন না।
– যদি ব্যায়াম বা বাইরের গরমে কাজ করেন তবে শরীর প্রচুর পানি হারায়। এ ক্ষেত্রে শরীরে বেশি পানি দরকার হয়।
– খাবার তালিকায় তাজা মাছ ও সবজি রাখুন। এ সব খাবারে প্রচুর পানি আছে। ইফতারের পর সালাদ ও তাজা ফল ডেজার্ট হিসেবে খেতে পারেন।
– দোকানের মিষ্টি জুসের চেয়ে ঘরে তৈরি তাজা ফলের রস পান করুন।
– ইফতারে স্যুপ খেতে পারেন। এটা পানিশূন্যতা দূর করার ভাল উৎস।
– ইফতারের দুই ঘণ্টা পর এককাপ কফি খেতে পারেন।
– সেহেরিতে সুষম পুষ্টি বজায় রাখুন।

অনেকের মধ্যে একটি ধারণা আছে- সেহেরিতে বেশি পানি পান করলে সারাদিন আর তৃষ্ণা পাবে না। ধারণাটি কি ঠিক?

এটা ঠিক যে, সেহেরির সময় প্রচুর পনি পান করলে তা আমাদের তৃষ্ণা দূরে সাহায্য করে। পানি ছাড়া অনেকটা সময় টিকে থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এটি সারাদিনের তৃষ্ণা দূর করবে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১২ জুলাই ২০১৪ই.