banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

দেশ-বিদেশে ধুনটের নারীদের তৈরি টুপি

Bogra-Cap

 

আলমগীর হোসেন, বগুড়া : এক সময় ধুনট উপজেলার অনেক নারী সংসারের কাজ সেরে দিনের অনেকটা সময় ঘরে বসে বা পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প গুজবে কাটাতেন। এখন তারা টুপি সেলাইয়ে এত ব্যস্ত যে, কারও সঙ্গে কথা বলার সময় নেই। তবে ঈদের আগে ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। টুপি তৈরিতে শুধু গৃহিনীরাই নন, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরাও ব্যস্ত।

 

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, টুপি সেলাই করার এসব দৃশ্য। তাদের তৈরি টুপি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির পাশাপাশি রফতানি হচ্ছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এখানকার ২১৫টি গ্রামের প্রায় ৭৫ হাজার নারী টুপি সেলাইয়ে যুক্ত। আয় করে সংসারে কাজে লাগাচ্ছেন ও শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন। সেলাই কাজে ব্যস্ত মহিলারা জানান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার কারণে এখন টুপির চাহিদা বেশি।

 

চৌকিবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ মোমেনা খাতুন বলেন, ‘ছেলের বাবার একলার কামাই দিয়া আগে আমাগোরে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছিল। কিন্তু এখন আর আমাগোরে তেমন কোনো কষ্ট করতে হচ্ছে না।’ তিনি ৫-৬ বছর আগে থেকে টুপি সেলাই শুরু করেছেন। ঘরের কাজ শেষ করেও দৈনিক ৩-৪টা টুপি সেলাই করেন। তিনি জানান, টুপি বিক্রিতে হাটে-বাজারে যেতে হয় না। বাড়িতেই পাইকারারা এসে প্রতি সপ্তাহে টুপি কিনে নিয়ে যায়। সব খরচ বাদে প্রতিমাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় হয়।

 

ওই গ্রামের রাশেদা খাতুন বলেন, ‘আগে হাত খরচের ৫/১০ টাকা স্বামীর কাছ থেকে চেয়ে নিতে হতো। অভাবের সংসারে কোনো কোনো দিন ৫ টাকাও দিতে পারত না। কিন্তু যখন থেকে টুপি সেলাই শুরু করছি, তখন থেকে আর কারও কাছে হাত পাততে হয় না।’ তিনি প্রতিমাসে প্রায় ৩ হাজার টাকা আয় করেন।

 

timthumb

 

মোমেনা ও রাশেদা খাতুনের মতো ওই গ্রামের গৃহবধূ লাকি, সনি, কুলসুম, রানু, পারুলসহ আরও অনেকেই টুপি সেলাই করে এখন স্বাবলম্বী। চৌকিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সাথি খাতুন মায়ের কাছে টুপি সেলাই শিখেছে। এখন প্রতিমাসে ৩০টি টুপি সেলাই করে ৫/৬শ’ টাকা আয় হয়। লেখাপড়ার খরচ বাবা-মার কাছ থেকে নিতে হয় না। ধেরুয়াহাটি গ্রামের নিবারন চন্দ্রের মেয়ে রত্না রায় টুপি সেলাইয়ের টাকা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। রত্না গত বছর মথুরাপুর জিএমসি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

 

টুপি সেলাইয়ের কাঁচামাল সুতা ও ক্রুস কাটা পাইকাররা সরবরাহ করেন। ক্রুস কাটার দাম ২৫ টাকা ও সুতার ডলার ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কারও টাকা না থাকলেও বাকিতে কাঁচামাল যোগান দেন তারা। পরে টুপি কেনার কাঁচামালের দাম কেটে রেখে বাকি টাকা দেন।

 

চালাপাড়া গ্রামের পাইকারী ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে গ্রামে গ্রামে সুতা ও ক্রুস কাটা সরবরাহ করতে হয়। পরের সপ্তাহে সেলাই করা টুপি কিনে আনি। প্রতিটি টুপির দাম প্রকারভেদে ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়। আগে শুধু এক ডিজাইনের টুপি তৈরি হতো। এখন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে টুপিরও বাহারি নাম ও ডিজাইন দেওয়া হয়েছে। যেমন- নব্বইফুল, কলারফুল, বকুলফুল, তালাচাবি, স্টার, গুটি, বিস্কুট, আনারস, মৌচাক ও মাকড়শার জাল। সবচেয়ে বেশি দাম নব্বইফুল ও আনারসের। নব্বইফুলের দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আনারস ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মৌচাক ২৮ থেকে ৩০ টাকা, মাকড়শার জাল ২০ থেকে ২৫ টাকা, বিস্কুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব টুপি ঢাকার চকবাজার, বাইতুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করেন। সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রেও রফতানি হয়।’

 

টুপি তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ধুনট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ফর পুওর পিপলস (ডিসিপি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। ডিসিপি টুপি সেলাই প্রকল্পটি তত্ত্বাবধায়ন ও সহজ শর্তে উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এর নির্বাহী পরিচালক এনামুল বারী সরকার বলেন, ‘পাইকারদের তুলনায় আমরা কমদামে ভালো সুতা সরবরাহ করি এবং বেশি দামে টুপি ক্রয় করে থাকি। তাছাড়া নতুন নতুন বিভিন্ন ডিজাইনের টুপিসহ কারুশিল্প বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। টুপি সেলাইয়ের পাশাপাশি কারুশিল্পে প্রশিক্ষিত দরিদ্র মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।’

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ১০ জুলাই ২০১৪

কাকডাকা ভোরেই কাজে ছুটতে হয়

2_119288

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : স্বামীর আয়ে স্কুলগামী একমাত্র সন্তান সাব্বিরের লেখাপড়া চালানো সম্ভব নয়। কাকডাকা ভোরে ছালমাকে ছুটতে হয় কাজে। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারকেল খোলার কাজ।

 

মা-মনসা ডাল ও তেল মিলের শ্রমিক ছালমা বেগম বলেন, সংসারে সচ্ছলতা আনতে পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি। দিনমজুর স্বামীর প্রতিদিন কাজ জোটে না। প্রতিদিন দুই ঘণ্টায় প্রায় ২শ’ নারকেল খুলতে পারি। এরপর বাড়ি গিয়ে রান্নাবান্না করে খেয়ে-দেয়ে বিকেল ৪টায় এসে রাত পর্যন্ত কাজ করি। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬শ’ নারকেল খুলতে পারি। নারকেল খুলে মজুরি পাই একশ’ থেকে ১২০ টাকা। বিসিকের বিভিন্ন মিলে কখনও ডাল ভাঙা, কখনও নারকেল খোলার কাজ করি। কোনো না কোনো মিলে কাজ থাকেই। আগে একশ’ নারকেল খুললে পেতাম মাত্র ১৫ টাকা। এ নিয়ে বিভিন্ন মিলের নারকেল খোলার কাজে জড়িত শ্রমিকরা আন্দোলন করলে অনেকটা বাধ্য হয়ে মালিকরা এক মাস আগে মজুরি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছেন। এখন নারকেলের মৌসুম। এখানকার মিলগুলোতে প্রায় সারা বছরই নারকেল তেল উৎপাদনের কাজ চলে। তাই কাজ পেতে সমস্যা হয় না। তার পাশে বসেই ছুরি দিয়ে মালই থেকে নারকেল ফালি করছিলেন পিয়ারা বেগম। তাকে সহযোগিতা করছে মেয়ে তন্বী। তন্বী বাগেরহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। মায়ের সহযোগিতার জন্য সকাল সাড়ে ৫টায় নারকেল ভাঙতে সেও মিলে এসেছে। পিয়ারা বেগম বলেন, নয়জনের সংসার। স্বামী শহিদুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি। স্বামীর নির্যাতন ও দ্বিতীয় বিয়ের কারণে মেয়ে কাজরী তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রুকসীকে নিয়ে বছর দুই আগে আমার বাড়িতে চলে আসে। সংসারের হাল ধরতে আমিও ঘরের বাইরে এসে শ্রমিকের কাজ নিয়েছি। এখানে মাস চুক্তিতে কোনো কাজ নেই। প্রতিদিনের কাজের ওপর মালিকরা টাকা দেয়।

 

ছালমা, পিয়ারা বেগম একা নয় তাদের মতো আকলিমা, সুমি, সোনিয়া, বেগম খাতুনসহ অসংখ্য নারী বাগেরহাট বিসিক শিল্প নগরীর পরিশ্রমী নারকেল মিলের শ্রমিক। বাগেরহাট শহরের দড়াটানা নদীর পাশে বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে উঠেছে এই মিল।

 

মেঝের এক পাশে চট বিছিয়ে বছর দেড়েকের ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে কাজ করছিলেন সুমি আক্তার। সুমির সঙ্গে তার মা আকলিমা বেগমও কাজ করছিলেন। সুমির বাবা মান্নান খা কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। তাই কাজ করতে পারেন না। সুমি বলেন, ডাক্তার আব্বাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যেতে বলেছেন। টাকা-পয়সা নেই চিকিৎসা করাব কোথা থেকে। অভাবের কারণে আমাকে পরিণত বয়সের আগেই বিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় আমি মা হয়েছি। স্বামী আসলাম নেশা করে। সংসারের কোনো খোঁজই রাখে না। প্রায়ই আমাকে মারধর করে। বিয়ের কয়েক মাস পরেই আমার ওপর আসলামের নির্যাতন শুরু হয়। সংসারের হাল ধরতে, পেটের আহার জোগাতে দুধের শিশু রবিউলকে নিয়ে কাজে এসেছি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ১০ জুলাই ২০১৪

যোগ্যতার বলেই জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে মেয়েরা

1_119287

 

জাহিদ সুলতান লিখন, ঢাকা : গণিত, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জটিল সংকট থেকে শুরু করে পারিবারিক নানা সমস্যাও নারী সুন্দরভাবে সমাধান করার যোগ্যতা রাখেন। এখন নারী বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। নারীর উন্নয়নে এটা একটি ভালো দিক বললেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার মেয়ে ড. ফারজানা কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক হিসাবে। কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাইতেন না তিনি এত দূরে গিয়ে শিক্ষকতা করেন। কিন্তু তিনি তার মেধা যাতে কাজে লাগাতে পারেন সে সুযোগ করে দিয়েছিলেন তার শ্বশুর। তার শ্বশুর স্থানীয়ভাবে একটি কলেজ চালু করেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার প্রস্তাবও দেন তাকে। তিনি শ্বশুরের প্রস্তাবটি বিনীতভাবে নাকচ করেন। ১৯৮৬ সালের ১৪ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৯ সালে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৯৯ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৬ সালের ২৮ জানুয়ারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

 

অধ্যাপক ড. ফারজানা মানবাধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর চেয়ারপারসন হিসেবে কাজ করছেন। তিনি নগর গবেষণা কেন্দ্রের আজীবন সদস্য ও এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশের সদস্য। তিনি বর্তমানে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত। এছাড়া তিনি হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক ড. ফারজানা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একজন সক্রিয় সদস্য।

 

বরাবর গণিতভীতি ফারজানা ইসলাম এসএসসি পরীক্ষায় গণিতে ৮৫ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। চর্চা-অনুশীলন করলে যে কোনোকিছুই কঠিন নয় তা তিনি গণিতে বেশি নম্বর পেয়ে প্রমাণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে বিএসএস পড়তে গিয়ে আবার পরিসংখ্যানের মুখোমুখি হন। এবারও তিনি সর্বোচ্চ ৭৩ নম্বর পান। নিজের শ্রম, মেধা আর একাগ্রতার মাধ্যমে আজ তিনি সফলতার শীর্ষে। আঠাশ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিরলস শ্রম দিয়েছেন তিনি। এই সেবার মাধ্যমে তিনি একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষক হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ প্রশাসকও হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য না হয়েও অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ‘উপাচার্য প্যানেল’ নির্বাচনে ৪৩ ভোট পেয়ে প্যানেলে প্রথম হন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩-এর ১১(১) ধারা মোতাবেক গত ২ মার্চ তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন।
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশিনগর গ্রামের মেয়ে ড. ফারজানা ইসলামের জন্ম ঢাকায় ১৯৫৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তার বাবা আবদুল কাদের ও মা ফাতেমা খাতুন। চার ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। ১৯৭৩ সালে ধানমন্ডি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৭৫ সালে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম, ১৯৮০ সালে এমএসএস পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

 

ড. ফারজানা ইসলাম মনে প্রাণে একজন বাঙালি। বাঙালি সংস্কৃতিকে তিনি তার হৃদয়ে লালন করেন। তার পছন্দের পোশাক শাড়ি। শাড়ি পরতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমি। ওই বছরের পহেলা বৈশাখে প্রথম শাড়ি পরি আমি। সেই যে শাড়ি পরা শুরু করলাম, তারপর আর কোনোদিন শাড়ি ছাড়া অন্য পোশাক পরিনি। সময় পেলেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে, ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে। কিন্তু উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর অবসর নেই বললেই চলে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর দাফতরিক কাজকর্ম নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয় আমাকে। তবে একটা জিনিস আমাকে প্রেরণা দেয়, আমাদের মেয়েরা জেগেছে, তাই হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। তারা যোগ্যতার বলে নিজের সমতা, সম্ভাবনার জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে। : যুগান্তর

জমকালো ঈদের পোশাক

1_120254

হাবীবাহ্ নাসরীন, ঢাকা :  ঈদের পোশাকটি একটু নজরকাড়া না হলে কি হয়? গরম ও বর্ষার কথা মাথায় রেখে এবার আরামের পোশাকটি তো কিনবেনই, সেইসঙ্গে খেয়াল রাখবেন, আপনার পছন্দের বসনটি যেন বেশ জমকালো হয়।

ঈদ বলে কথা! তবে পোশাকে আরামদায়ক ভাবটা চাইলে সাদামাটা পোশাকের কথাই সবার আগে মনে পড়ে। জমকালো এবং স্বস্তিদায়ক, এই দুই মিলিয়ে ঈদের পোশাক বাছাই করা একটু যেন কষ্টকর। ঈদ এবং বর্ষা ঋতুর কথা মাথায় রেখেই ঈদের পোশাকের ডিজাইন করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। বেছে নিয়েছেন একই সঙ্গে জমকালো আর স্বস্তিদায়ক কাপড়। যেমনটা বলছিলেন ফ্যাশন হাউস মুমু মারিয়ার কর্নধার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার মারিয়া সুলতানা মুমু, ‘এবার ঈদ যেহেতু বর্ষায় তাই বর্ষার আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই ঈদের পোশাকগুলোর ডিজাইন করেছি। ব্রাইট তবে ক্যাটক্যাটে নয়, এমন সব কালার বেছে নিয়েছি। রাতে লাল, কালো, নীল, মেজেন্টা, কমলা এবং দিনে গোলাপি, বেগুনি, আকাশী, অ্যাশ রঙয়ের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কাপড় হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছি শিফন, মসলিন, জর্জেট কাপড়কে। আর তাতে জমকালো ভাব ফুটিয়ে তুলতে করা হয়েছে জারদৌসির কাজ। কামিজের ক্ষেত্রে প্যাটার্ন হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছি লং, এ লাইন, মেক্সি স্টাইলকে। ঈদের সকালে অনেকে একটু হালকা ধরনের পোশাক পরতে চান। তাদের জন্য হালকা রঙের সুতির পোশাকও রয়েছে। ঈদের সকালে কিংবা দিনেরবেলায় পরার জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের টপস পাওয়া যাবে। যারা শাড়ি পরতে ভালোবাসেন তাদের জন্য রয়েছে জমকালো কিছু শাড়ি। মুমু মারিয়ায় টপস এবং থ্রিপিস পাবেন ১৮০০-৭৫০০ টাকার মধ্যে। তবে একটু গর্জিয়াস পোশাক কিনতে চাইলে টাকার অংকটা আরেকটু বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে ৮০০০ টাকা থেকে শুরু। মুমু মারিয়ার শোরুম রয়েছে শুধু যমুনা ফিউচার পার্কেই।’ ফ্যাশন ডিজাইনাররা মনে করেন, যে পোশাকটা দেখতে ভালো লাগে, সেটা পরেও আরাম। তাই এ সময়ের পোশাকের রঙ হালকা হলেই দেখতে ভালো লাগবে। হালকা নীল, নীল, সাদা, গোলাপি, হালকা বেগুনী, আকাশী, শ্যাওলা, হালকা লাল, সবুজ, কমলা, হলুদ ও লেবু রঙের পোশাক তৈরি করেছেন তারা। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজে কারুকাজ হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে অ্যামব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক, ব্লক, হাতের কাজ, স্প্রে, হ্যান্ডপেইন্ট, টাইডাই প্রভৃতি। কাটিংয়েও আনা হয়েছে নতুনত্ব। সুতার কাজে মেশিন অ্যামব্রয়ডারি, কারচুপি, অ্যাপলিকের মাধ্যমে অধিক রঙ ব্যবহার করার ফলে প্রতিটি পোশাক হয়ে উঠেছে আধুনিক আঙ্গিকের।

নিজেই যখন ডিজাইনার : যারা চাচ্ছেন নিজের পোশাকটি নিজেই ডিজাইন করবেন অর্থাৎ কাপড় কিনে পছন্দমতো পোশাক বানিয়ে নেবেন, তারা পোশাকে জমকালো ভাব এবং ঈদের আমেজ দুটোই ধরে রাখতে বেছে নিতে পারেন মসলিন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, মটকা, সুতি, খাদি, শিফন, জর্জেট, কাতানের পোশাক। বর্ষার দিকটা মাথায় রেখে সিল্ক, শিফন ও জর্জেট কাপড়কে পছন্দের প্রথম দিকে রাখতে পারেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের তাঁতের কাপড়ও ব্যবহার করতে পারেন। আর তাতে মেশিন ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি ছাড়াও স্ক্রিন প্রিন্ট, পুঁতি, জরি, মেটাল, কাঠ ও পুঁতির কাজের ব্যবহারে পোশাকে বৈচিত্র আনতে পারেন। পাশাপাশি রাজশাহী সিল্ক বা হাফসিল্ক, সুতি জর্জেট বা বেক্সি জর্জেটের তৈরি পোশাকগুলোও বর্ষার দিনে আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা দেবে। তা ছাড়া সুতি অ্যান্ডি কাপড়ের তৈরি পোশাকেও বেশ অভিজাত দেখাবে আপনাকে। ঈদের রাতে জমকালো আয়োজনেও পরা যাবে এসব কাপড়ের পোশাক।

কাটছাঁট : কামিজের কাটিংয়ে গেল বছরের তুলনায় এ বছর খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। এ বছরও কামিজের দৈর্ঘ্যরে জায়গাটায় লংকামিজেরই একক আধিপত্য। চাইলে সেমি লং কামিজও বেছে নিতে পারেন। কামিজ, টপস, ব্লাউজে উঁচু গলার পাশাপাশি চার কোনা, পানপাতা ও ভি-আকৃতির গলাও বেশ চলছে। হাতার ক্ষেত্রে ফুলস্লিভ, থ্রি কোয়ার্টার, স্লিভলেস কিংবা ম্যাগি হাতা বেছে নিতে পারেন। সালোয়ারের ক্ষেত্রে ধুতি ও প্যান্ট-ধাঁচের সালোয়ার বেশ পছন্দ করছে সবাই। বিশেষ করে ওপরের দিকটা চাপা এবং নিচের দিকটা ছড়ানো পালাজ্জো ধাঁচের সালোয়ারের দিকেই ঝুঁকছেন তরুণীরা।
তবে আর দেরি কেন! হাঁটি হাঁটি করে সময় কিন্তু ঠিকই চলে যাচ্ছে। বাজার ঘুরে পছন্দের পোশাকটি বাছাই করতে হলে হাতে একটু সময় নিয়েই কেনাকাটা সেরে ফেলতে হবে। ঈদে একটু জমকালো আর আরামদায়ক পোশাক চাই তো? আপনি চাইলে সেটা খুব সম্ভব। বাজার ঘুরে মনের মতো পোশাকটি কিনে ফেলুন। এই ঈদে আপনার পছন্দের পোশাকটিই উঠুক আপনার গায়ে।

স্বল্প খরচে দারুণ মজাদার আলুর বড়া

aloo

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম,ঢাকা: ইফতারি তৈরিতে অনেকেরই সময়ের ভীষণ অভাব। আর হবে নাই বা কেন? সারাদিনের দৌড়ঝাঁপ ও রোজা রাখার শেষে কার এত এনার্জি থাকে যে হরেক পদ তৈরি করবেন? আর এইজন্যই চাই ঝটপট তৈরি করা যায় এমন মজাদার রেসিপি। আজ রইলো রেসিপি আলু বড়ার। খুব অল্প সময়ে ও অল্প খরচে তৈরি করা যায় এই খাবারটি, কিন্তু দিনভর রোজা রাখার শেষে খেতে লাগে দারুণ!

 

উপকরণ:
৪টি মাঝারি মাপের আলু খোসা ছাড়িয়ে রাখা,
আধ চাচামচ ধনেগুড়ো,
১ চাচামচ শুকনো মরিচ গুঁড়ো,
২ টেবিলচামচ ধনেপাতাকুচি,
১ চাচামচ লবণ,
তেল ভাজার জন্য

 

ব্যাটার তৈরির জন্য-
২০০ গ্রাম বেসন, আধ চাচামচ লবণ, আধ চাচামচ মরিচ গুঁড়ো, আধ চাচামচ রসুন বাটা, আধ চাচামচ আদা কুচি, ১ টেবিলচামচ ধনেপাতাকুচি, ৪০০ মিলি পানি

 

প্রণালী:
-আলু সেদ্ধ করে নিন। এবার সেদ্ধ আলু চটকে তার সঙ্গে সব উপকরণ দিয়ে মেখে নিন।
-এবার একটা আলাদা বাটিতে ব্যাটার তৈরি করতে হবে। বেসনের সঙ্গে ব্যাটার তৈরির সব উপকরণ মিশিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে মেশাতে থাকুন। মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন।
-এবার কড়াইতে বেশি করে তেল দিন।
-আলুর মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট বল গড়ে নিন। এবার এই বল গুলিতে ব্যাটারে ডুবিয়ে ধীরে ধীরে তেলে ছেড়ে দিন।
-এবার বল গুলিকে কড়া করে ভেজে নিন। বাদামী রঙ না ধরা পর্যন্ত ডিপ ফ্রাই করুন। এবার বলগুলি থেকে অতিরিক্ত তেল ঝড়িয়ে নিয়ে নিন। ইচ্ছে মতো গার্নিশ করে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার আলুর বড়া।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১০ জুলাই ২০১৪