banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

ঈদের দিনের সাজ !

 

resize_1406438670

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: ঈদের আর বাকি মাত্র কয়েকটি দিন। কেনাকাটা প্রায় শেষ চাকুরীজীবি স্বর্ণার। অফিস এবং রোযার ফাঁকে শপিংয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাকে। তবে এবার নিজেকে সুন্দর করে নেওয়ার ব্যস্ত তিনি। ইফতারের পরে প্রায় দিনই ছুটছেন বিউটি পার্লারে। আজ চুল কাটছেন তো কাল মেনিকিওর-পেডিকিওরে ব্যস্ত থাকছেন। অন্যদিন আবার যেতে হচ্ছে ফেসিয়ালের জন্যে। এভাবেই চলছে ঈদের আগ মুহুর্তের প্রস্তুতি। বছরের ওই দিনটিতে নিজেকে সবচেয়ে সেরা সাজাতে তরুণীদের চলে বিরামহীন পরিশ্রম।

 

ঈদের সাজের প্রথম কথাই হচ্ছে, সাজ যেনো আপনার ব্যক্তিত্বে সঙ্গে মানানসই হয়। বাসায় অতিথি এলে যেনো আপনার চেহারায় অভ্যর্থনাসূচক একটা ইমেজ দেখতে পায়। আবার আপনি কোথাও গেলে সাজটা করুন এমনভাবে, যেন আপনাকে দেখে অন্যের ক্লান্তি মিটে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা নিজের চেহারা, রং, সাজ নিয়ে হীনমন্যতায় কখনো বা দুর্ভাবনায় ভোগেন। তাদের জন্য ঈদের সাজের প্রথম কথাই হচ্ছে এসব ত্রুটির কথা ভুলে যান। ঈদ এসেছে আনন্দের জন্য যাবতীয় দায়িত্ব পালনের পর সেই আনন্দ উপভোগ করুন।

 

আপনি গৃহিণী বা তরুণী বা টিনেজার যে বয়সেরই হোন না কেন সাজটাকে অন্তত দু’তিনভাবে ভাগ করে নিন। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন সকাল, দুপুর এবং রাতের সাজ এবং পোশাক কী হবে।

 

সকালে বাড়িতে কাজের চাপ বেশি থাকে এসময় সালোয়ার কামিজ অথবা সুতি শাড়ি পরুন। হালকা ফাউন্ডেশন, ফেস পাউডার, লিপিস্টিক আর কাজল দিয়ে সাজ শেষ করুন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ছোট একটি টিপও দিতে পারেন।

 

গরমের সময় ঈদ হচ্ছে, এজন্যে দুপুরে হালকা রঙের পোশাক নির্বাচন করুন। আর সাজের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পাউডার মেখে হালকা করে ব্লাশন বুলিয়ে নিন দুই গালে। আর ঠোঁটে একে নিনন লিপগ্লস। চোখের সাজে ভিন্নতা আনতে স্যাডো আর আইলাইনার দিন। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে কানে আর গলায় ছোট গহনা পরুন।

 

রাতে ভারী সাজ দিতে পারেন। বাইরে গেলে শাড়ি পুরন। মুখ, গলায় ফাউন্ডেশন কমপ্যাক্ট পাউডার দিন। সাজ বেশি সময় স্থায়ী করতে স্পঞ্জ পানিতে ভিজিয়ে মুখে চেপে মেকাপ বসিয়ে নিন।

 

চোখে মাশকারা, আইলাইনার এবং গাঢ় রংয়ের স্যাডো ব্যবহার করুন। ঠোঁটে লিপস্টিক দিন। হাত ভর্তি চুড়ি পরুন। গলায় এবং কানে ভারি গয়না পরুন। বড় একটি টিপ দিন। এবার ব্লাশন দিয়ে সাজ পূর্ণ করুন।

 

পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় বেছে নিতে পরেন গোলাপি, নীল, সাদা, অফহোয়াইট, স্কিন কালার, পিচ ইত্যাদি হাল্কা শেডের রংগুলো। রাতের অনুষ্ঠানের জন্য পরতে পারেন উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের পোশাক যেমন- গাঢ় নীল, ম্যাজেন্টা, লাল, খয়েরি, মেরুন, কালো, গাঢ় হলুদ, সবুজ ইত্যাদি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৭ জুলাই ২০১৪ই.

জাতিসংঘের নারীবিষয়ক কমিটিতে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ

 Ismot-Jahan

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের ‘নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বর্জন’ (COMMITTEE ON THE ELIMINATION OF DISCRIMINATION AGAINST WOMEN) সংক্রান্ত কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের পক্ষে ব্রাসেলসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশের কোনো বিশেষজ্ঞের দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কমিটিতে নির্বাচিত হওয়ায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এতে প্রমাণিত হচ্ছে, এমডিজির (সহস্রাব্দ লক্ষ্য অর্জন) অন্যতম লক্ষ্য নারী শিক্ষা ও নারীদের কাজের ক্ষেত্র প্রসারে বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী পথপ্রদর্শক।

 

জানা গেছে, জাতিসংঘের ‘নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বর্জন’ বিষয়ক কমিটির ১২টি শূন্যপদে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নির্বাচন হয়। ১৮ জন প্রার্থী এতে অংশ নেন।

 

রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

এর আগে ইসমত জাহান উক্ত কমিটির সদস্য হিসেবে ২০১১-২০১৪ মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৭ জুলাই ২০১৪ই.

রমজানে নারীর আমল

 

Ramadan-14

 

এ.কে.এম মহিউদ্দীন : রমজানের ১৩তম দিন শনিবার। মাগফেরাতের দশকের তিনটি দিবস অতিক্রান্ত হচ্ছে। রোজাগুলো যত প্রান্তরেখার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বেশি বেশি দোয়া, ইবাদত ও আমলের। আমাদের খোদাবন্দ তায়ালা অতিশয় দাতা ও দয়ালু, ক্ষমা মার্জনার সব থেকে নির্ভরযোগ্য স্থল। সুতরাং তার দিকে বান্দাকে অবশ্যই ঝুঁকতে হবে। এটা মানবকুলের কাছে প্রতিভাত বিষয় : ‘বিশ্বে যাহা কিছু চির কল্যাণকর/অর্ধেক তাহার আনিয়াছে নারী অর্ধেক তাহার নর।’ নারী এবং নর একজন আরেকজনের পরিপূরক। একাকী পুরুষের পক্ষে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাশাপাশি ইবাদতের ক্ষেত্রেও একইভাবে এটা প্রযোজ্য-উভয়কেই জবাবদিহিতা করতে হবে। তবে আজকের কলামে বিশেষভাবে নারীদের রমজানের কিছু আমল পৃথকভাবে এখানে আমরা উল্লেখ করতে চাই। ইসলামের কিছু চিন্তক সিয়াম সাধনার বিষয়ে পুরুষের কর্মব্যস্ততাজনিত কারণ দেখিয়ে বলছেন, রোজার দায়িত্ব-কর্তব্য ও আমলের দিক থেকে নারীদের বিষয়টি একটু আলাদা। কেননা পুরুষরা বাইরের নানা দিক সামাল দিতে গিয়ে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও রমজানের পরিপূর্ণ দাবি পূরণে অনেকাংশে ব্যর্থ হয়। সাধারণত নারীদের বাইরের ব্যস্ততা কম থাকে। বাইরে বেরুলেও বেশি সময় বাইরে থাকতে হয় না। ঘরোয়া পরিবেশেই কাটে রোজার দিনগুলো। ফলে তাদের পক্ষে রমজানের পূর্ণ ফায়েজ ও বরকত লাভ করা অনেকাংশে সহজ।

 

যেহেতু নারীদের জন্য কিছুটা বাড়তি সুযোগ রয়েছে, তাই তাদের জন্য উচিত হলো রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে জীবনের সফলতার দ্বার উন্মোচন করা। রমজানের দিনগুলোর সদ্ব্যবহার করতে হলে রমজানের শুরুতেই রমজান কাটানোর একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার। কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেতে হলে নারীদের রমজান মাসে কিছু জিনিসের প্রতি গভীরভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

 

এক. ইবাদতের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য আনতে হবে। রমজানে প্রতিটি ইবাদতেই সত্তর গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। রোজাই হচ্ছে রমজানের প্রধান ইবাদত। তবে রোজার চেয়ে নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। রোজা রাখার ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে এটা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু অনেকেই আছেন রোজা রাখেন কিন্তু নামাজ ঠিকমত পড়েন না, এটা খুবই অন্যায়। অন্য সময় তো নামাজ পড়বেনই, রমজানে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন। তা ছাড়া অন্যান্য ইবাদতের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে হবে।

 

দুই. বাকসংযম করতে হবে। অধিক বাকপ্রবণ বলে নারীদের একটি বদনাম আছে। পরচর্চা, কুৎসা, নিরর্থক বিষয় নিয়ে মাতামাতি ইত্যাদি তাদের চিরায়ত অভ্যাস। কিন্তু এগুলো রোজার জন্য খুবই ক্ষতিকারক। না খেয়ে উপোস থাকা যেমন রোজার অংশ তেমনি বাকসংযমও। তাই রমজানে নারীদের জন্য উচিত হলো যথাসম্ভব বাকসংযম করা।

 

তিন. চলাফেরা ও চালচলনে শালীন হতে হবে। জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকা ও এ ধরনের যে কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন না হওয়া রোজার একটি অংশ। নারীদের খোলামেলা চালচলন তাদের নিজেদের রোজার পবিত্রতার জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি পর পুরুষের রোজা নষ্ট কিংবা হালকা করার জন্যও দায়ী। এ জন্য রমজানের দিনে নারীদের বাইরে বের হতে হলে শালীনতার সঙ্গে বের হওয়া উচিত।

 

চার. অধিকহারে দান-সদকা করা। কেননা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় রমজানে দান-সদকার ফজিলত অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে নারীদের রয়েছে দারুণ সুযোগ। সংসারের নিয়ন্তা হিসেবে তারা ইচ্ছে করলে এ মাসে গরিব-দুঃখীর দিকে সহানুভূতির হাত প্রসারিত করতে পারেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র বিশেষ কৃপা কুড়ানোর আশা করা যায়।

 

পাঁচ. সবার সঙ্গে মার্জিত আচরণ করা। রোজা রাখলে ক্ষুধা লাগবে, পিপাসা পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এর প্রভাব যেন কোনোভাবেই আচরণে প্রকাশ না পায়। সাংসারিক কাজের ঝামেলার কারণে অনেক মহিলা রোজা রেখে মেজাজ খারাপ করে রাখেন।

 

ছয়. রোজা রেখে অহেতুক কাজ বর্জন করা উচিত। হাদিসে রোজাদারকে নিরর্থক কাজ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ করা হয়েছে। রোজা রেখে অনেকের দিন কাটতে চায় না এই অজুহাতে বিভিন্ন আজেবাজে কাজে সময় ব্যয় করেন। কিন্তু এটা সমীচীন নয়। কেননা রোজাদারের সারাদিন হবে ইবাদতের শামিল। বাহ্যিক কোনো ইবাদত না করলেও তার ধ্যান-ধারণা থাকবে ইবাদতের প্রতি। রোজার পবিত্রতা নষ্ট করে এমন কোনো কাজ যেন না হয়।
সাত. সংসারের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতি খেয়াল করা। বছরের অন্যান্য সময় থেকে যেহেতু রমজানের রুটিন কিছুটা ভিন্ন সেজন্য সাংসারিক কাজকর্ম কিংবা পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তা নিরসন করার দায়িত্ব নারীদের ওপর। অন্যের সুবিধার কথা চিন্তা করে, নিজে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করে হলেও সংসারের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

 

আট. বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা। রমজান হচ্ছে কোরআন নাজিলের মাস। এ মাসের সঙ্গে কোরআনের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। রমজানে কোরআন তেলাওয়াতের সওয়াব অনেক গুণ বেশি। যারা কোরআন পড়তে পারেন তারা বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করবেন। আর যারা কোরআন পড়তে পারেন না, তারা এ মাসে তা শিখে নিতে পারেন।

 

নয়. অপচয় রোধ করা। রমজানে যত খুশি খরচ কর, তাতে কোনো বাধা নেই, এ ধরনের একটি কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত। এর ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি পরিবারেই খরচের মাত্রা বেড়ে যায়, যা অপচয়ের গণ্ডি স্পর্শ করে। কিন্তু মূলত এ কথাটি ঠিক নয়। রমজান সংযমের মাস হিসেবে সব কিছুতেই সংযমতা আনতে হবে।
দশ. শেষ দশকে ইতিকাফ করা। ইতিকাফ রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। নারীরাও ইচ্ছে করলে ইতিফাক করতে পারেন। তবে তা অন্দরমহলে পূর্ণ পর্দা বজায় রেখে। এর মাধ্যমে রমজানের দাবি যেমন ভালোভাবে আদায় করা যায় তেমনি মহিমান্বিত রাত শবে কদরের ফয়েজ ও বরকত লাভে ধন্য হওয়া যায়। তাই নারীদের জন্য এ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। উৎস: দ্য.রি:

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৭ জুলাই ২০১৪ই.

গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মাড়ির যত্ন

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: গর্ভাবস্থা একটি চরম উত্তেজনা ও উত্কণ্ঠার সময়কাল। বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের কথা শোনা এবং ডাক্তারের উপদেশ মেনে চলাও আর একটি কাজ। অনেক গর্ভবতী এই সময়ে দাঁত ও মাড়ি নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকেন। দাঁতের যত্নে কয়েকটি বিষয় এখানে আলোকপাত করা হলো যা গর্ভাবস্থায় গর্ভবতীর দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারেঃ-

 

image_148456

 

মাড়ির যত্ন

অনেক গর্ভবতী হয়ত লক্ষ্য করেছেন দাঁত ব্রাশের সময় মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়। এটা অস্বাভাবিক কোনো কিছু নয়। গর্ভাবস্থায় দেহ হরমোনের পরিবর্তন হয় এবং তার প্রতিক্রিয়া মাড়িতেও দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় দুই মাস থেকে আট মাস পর্যন্ত এটি বেশী লক্ষণীয়। তাছাড়া উপদাহে বা উত্তেজন (Irritaion) কোনো কিছুতে মাড়ি খুব বেশী সংবেদী হয় এবং খুব সহজেই রক্তপাত হয়। তাই দেখা যায় গর্ভবতীর মাড়ির প্রদাহ বা (Gingivitis) এই অবস্থাকে বলা হয় গর্ভাবস্থার মাড়ির প্রদাহ। এই অসুবিধা মোকাবিলা করার জন্য সর্বাগ্রে যা করণীয় তা হলো গর্ভাবস্থার শুরু থেকে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ বা পরিষ্কার করাকে নিশ্চিত করা যাতে ডেন্টাল প্লাক সৃষ্টি না হয়। এ ক্ষেত্রে দন্ত চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে গর্ভাবস্থার পুর্বেই দাঁত স্কেলিং করা এবং সঠিক ব্রাশ চালনা পদ্ধতি জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

 

গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা

গর্ভাবস্থায় যেমন নিয়মিত একজন স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন তেমনি একজন দন্ত চিকিত্সকের কাছ থেকেও দাঁত ও মুখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

 

দাঁত কি ক্যালসিয়াম হারাচ্ছে

গর্ভবতী দাঁতের ক্যালসিয়াম কখনোই গর্ভের শিশুর দাঁতে চলে যায় না। বরং এটা নির্ভর করবে গর্ভবতী ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করছেন কিনা। তাই এই সময়ে গর্ভবতীকে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসব্জি (সালাদ বানিয়ে) ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন, যেমন- লাল শাক, পালং শাক, পুই শাক, গাজর, টমেটো, ঝিঙ্গা, পটল, আলু, লেটুস পাতা, কপি, সীম, বরবটি, লেবু শশা, আপেল, কমলা, জাম্মুরা, কলা পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি।

 

শর্করা জাতীয় খাদ্য

আহারের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এতে যেমন দেহের বাড়তি ওজন কমানো সম্ভব তেমনি দাঁতের ক্ষয়রোগ রোধ করা সহজ। তবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ একান্ত পয়োজন।

 

প্রসুতি মা ও শিশুর যত্ন

আমাদের দেশে মায়েদের মধ্যে শিশুকে ফিডার দিয়ে চিনি বা মিশ্রি মিশ্রিত দুধ খাওয়ানোর একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এর ভয়াবহ পরিনাম হচ্ছে এই ফিডারের কৃত্রিম দুধ শিশুর অভ্যাসে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে এই অভ্যাস ছাড়ানো খুব কষ্টকর হয়। বিজ্ঞানের দীর্ঘ গবেষণা কাজ প্রমাণ করেছে যে, শিশু জন্ম গ্রহণের পর থেকে তাঁর আহার্য হিসেবে মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। মায়ের বুকের দুধে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা শিশুকে বেড়ে উঠতে, রোগ প্রতিরোধ শক্তি জোগাতে ও মজবুত দাঁত গড়তে সর্বোপরী সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে যথেষ্ট এই ভিটামিনের অভাবে দাঁত ডেন্টাল ক্যারিজ রোগে বেশী আক্তান্ত হবে। তাই জন্মের পর থেকে শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ দিয়ে উত্সাহিত করা প্রয়োজন। এছাড়া শিশুর মুখে চিনি মিশ্রিত দুধের ফিডার রেখে ঘুম পাড়ানোর অভ্যাস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এতে শিশুর ৬ মাস সময় উদ্গত দুধ দাঁতেও ক্যারিজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রাতে দুধ খাওয়ানো শেষ হলে পাতলা ফ্লানেলের কাপড় অথবা তুলা দিয়ে দাঁতের উপর থেকে দুধের আবরণ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

 

 

দাঁত উদগম কালে সাবধানতা

৬ মাস বয়সে দাঁতের উদগম শুরু হওয়ার আগেই শিশু খুব চঞ্চল ও অস্থির হয়ে উঠে। এই সময়ে শিশু যা কিছু সামনে পায় সেটাই কামড়াতে চায়। তাই এই সময় শিশুরর হাতের কাছে বিষাক্ত বা ধারালো কোনো দ্রব্য অথবা ওষুধ পত্র রাখা উচিত নয়। মায়েদের লক্ষ্য রাখা

প্রয়োজন এ সমস্ত জিনিষ শিশুর নাগালের বাইরে আছে।

 

দাঁত ব্রাশ

মা সকালে ও রাতে শিশুর সামনেই দাঁত ব্রাশ করবেন। মনে রাখা প্রয়োজন শিশু খুব বেশী অনুকরণ প্রিয়। সে যা দেখবে তাই করতে চাইবে। তাই শিশুর হাতে ছয় মাস বয়সে অর্থাত্ দাঁত উঠার শুরু থেকেই একটা ব্রাশ দেওয়া ভালো। শিশু তখন বড়দের দেখে তা অনুকরণ করতে চাইবে এবং পরবর্তীতে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। এর পর থেকে শিশুকে হাতে ধরিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ চালনা শিক্ষা দিতে হবে। প্রসবের পর মা নবজাতক শিশুকে নিয়ে একটু বেশী ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন এবং এই সময়ে দাঁতের পরিচর্যা ও নিয়মিত করতে পারেন না। মাকে ভুললে চলবে না যে নিয়মিত সকালে ও রাতে দাঁত পরিস্কার না করলে মাড়ির সংক্রমণ এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়া আবার শুরু হতে পারে। তাই মাকে এই সময়ে সন্তান পরিচর্যার সাথে সাথে নিজের পরিচর্যা করা প্রয়োজন।

 

ফ্লুরাইড

ফ্লুরাইড বাড়ন্ত শিশুর দাঁতের ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকর, তাই শিশুর ৬ মাস বয়সের পর থেকে দুধ দাঁতকে রোগ মুক্ত রাখবার জন্য ফ্লুরাইড মিশ্রিত টুথপেষ্ট দেয়া প্রয়োজন। লক্ষ্য রাখতে হবে শিশু যেন ফ্লুরাইড মিশ্রিত টুথপেষ্ট বেশী না খেয়ে ফেলে।

 

শিশুর দাঁত

শিশুর দুধ দাঁত কখনো কখনো ১১ বত্সর বয়স পর্যন্ত মুখে অবস্থান করে। সুতরাং লক্ষ্য রাখতে হবে শিশুর দুধ দাঁতগুলো ঠিকমত রক্ষিত আছে কিনা যাতে পরবর্তী স্থায়ী দাঁতগুলো সঠিকভাবে তাদের স্থানে আসতে পারে। কারণ দুধ দাঁতের শিকড়ে প্রদাহ অনেকদিন স্থায়ী থাকলে স্থায়ী দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। যদি দুধ দাঁত অন্য পথ বেছে নেয় তবে দন্ত চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া ভালো, এই দুধ দাঁত পড়া ও স্থায়ী দাঁত উঠার সময়ে শিশুর দিকে নজর রাখা প্রয়োজন নতুবা পরবর্তীতে স্থায়ী দাঁত গুলো আঁকাবাঁকা বা অসমানভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

 

গর্ভবতী মায়ের দায়িত্ব

একজন গর্ভবতী মা যেমন ভবিষত্ শিশুর ভূমিষ্ট হওয়ার পর নিয়মিত একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন তেমনি ভালো, সুস্থ্য, সুন্দর দাঁত ও মাড়ির জন্য একজন দন্ত চিকিত্সকের পরামর্শও যদি মেনে চলেন তবেই হবে পূর্ণাঙ্গ সার্থকতা। এই সমস্ত কথা বিবেচনা করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯৪ সালের জন্য স্লোগান ছিল (ORAL HEALTH FOR HEALTHY LIFE) অর্থাত্ মুখ এবং দাঁতের যত্ন নিন সুস্থ থাকুন এবং আমরা যদি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সত্যিকার অর্থে নিশ্চিত করতে চাই তবে বছরের একটি দিবসে নয় প্রতিদিনের কাজকর্মের সাথে দাঁত ও মুখের যত্নের অভ্যাসকে প্রতিদিন প্রতিবার আহারের সাথে সংম্পৃক্ত করতে হবে এবং মাকে যেমন নিজের যত্নের অনুশীলন করতে হবে তেমনি শিশুকেও সামনে রেখে শিক্ষা দিতে হবে যে শিক্ষা থাকবে তার আজীবন সাথী হয়ে।

 

 

অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী

সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান

ডিপার্টমেন্ট অব ডেন্টিষ্ট্রি, বারডেম হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/ইত্তেফাক/আরএ/এ/২৬ জুলাই ২০১৪ই.

জেনে নিন শসার হাজার গুণ

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: শসার রয়েছে হাজারো গুণ। খাওয়ার পাশাপাশি রূপচর্চার কাজেও লাগে এই সবজি। ওজন কমাতেও শসার জুড়ি নেই। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শসা থাকা উচিৎ। বিশেষজ্ঞরা শসার অনেক উপকারীতা সম্পর্কে জানান। এর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ-

 

reasons-to-eat-cucumbers_74333_0

 

১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রক্তচাপ

শসা উচ্চ ও নিম্ন দু’ধরনের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। শসাতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। এই তিনটি উপাদান ক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।শসার হাজার গুণ

 

২. কিডনির সুস্থতায়

শসার মধ্যে জলীয় উপাদানই বেশি। এই জলীয় অংশ শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এতে কিডনি সুস্থ থাকে। তাছাড়া কিডনির পাথর প্রতিরোধেও শসার তুলনা নেই।

 

৩. ক্যানসার প্রতিরোধ

বিভিন্ন রকম ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে শসা। তার মধ্যে প্রধানত জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থির ক্যানসার প্রতিরোধে শসা বেশি কার্যকর।

 

Cucumber on a white background

 

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

প্রতিদিন নিয়ম করে শসা খেলে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। তাই যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের প্রতিদিন অন্তত একটি করে শসা খাওয়া দরকার।

 

৫. ওজন কমাতেশসার হাজার গুণ

শসার মধ্যে কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই নিশ্চিন্তে যত খুশি খেতে পারেন শসা। এতে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে। আর যারা একটু মোটা তাদের ওজনও কমাতে সাহায্য করবে শসা।

 

৬. পানির চাহিদা মেটাতে

শসার প্রায় ৯০ শতাংশই হচ্ছে পানি। তাই পানির চাহিদা মেটাতে শসার তুলনা নেই। সারাদিনে যে পরিমাণ পানি দরকার তা যদি পান না করতে পারেন তবে শসা খেয়ে নিন। শসা পানির চাহিদা মেটাবে।

 

 

৭. দেহের তাপ শোষণ

প্রচণ্ড গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত! একটি শসা খেলে জুড়িয়ে যাবে আপনার শরীর। শসা দেহের তাপ শোষণ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে ত্বকে ঘষে নিন। নিশ্চিত ভালো ফল পাওয়া যাবে।

 

cucumbers_74333_1

 

৮. রূপ চর্চায়

রূপচর্চার অংশ হিসেবে শসা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখলে চোখের নিচের কালো দাগ দূর হয়। তাছাড়া শসা মুখে ঘষে দিলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। সূ্ত্র-আমেরিকানকি

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৬ জুলাই ২০১৪ই.

শিখে নিন মেহেদীর দারুণ একটি ডিজাইনের পদ্ধতি (ভিডিওসহ)

 

url.jpg-7

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: ঈদের সাজের অন্যতম অনুসঙ্গ হলো মেহেদী। ঈদের আগে হাতে মেহেদীর রং এর ছোঁয়া না থাকলে যেন ঈদের আনন্দটাই পুরো হয়না। আর তাই ঈদের কেনাকাটার শেষ মূহূর্তে তরুণীরা দোকানে ছুটছেন নানান রকমের মেহেদী কেনার জন্য।

ঈদের মেহেদির বাজারে এবারও আলমাস মেহেদির চাহিদা অনেক বেশি। সেই সঙ্গে পুরো মার্কেট ছেয়ে গিয়েছে ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি মেহেদীতে। দেশী মেহেদী গুলোও খুব কম সময়েই বেশি রং হওয়ার জন্য নানান রকমের মেহেদী বাজারে ছেড়েছে। সেই সঙ্গে গতবারের মতো এইবারও পাওয়া যাচ্ছে কালো, নীল, সবুজ রং মেহেদী। সেই সঙ্গে মেহেদী রাঙা হাতকে আরো বেশি জমকালো করে তুলতে গ্লিটারের চাহিদাও প্রচুর।

যারা মেহেদী নিজেরা দিতে পারেন তারা তো চাঁদ রাতে ঘরেই মেহেদী লাগিয়ে ফেলেন দুই হাত ভরে। আর যারা নিজেরা দিতে পারেন না তাদের যেতে হয় পার্লারে। আর পার্লারে খুব অল্প মেহেদী দিতেও খরচ করতে হয় অনেকগুলো টাকা। সেই সঙ্গে অনেকটা সময় নষ্ট হয় পার্লারের সিরিয়াল পাওয়ার জন্য।

একটু চেষ্টা করলেই নিজেই লাগিয়ে ফেলা যায় নিজের হাতের মেহেদী। বিশেষ করে যারা একটু ছিমছাম ডিজাইন ভালোবাসেন তারা অযথা পার্লারে না গিয়ে নিজের হাতের মেহেদী নিজেই লাগানোর চেষ্টা করতে পারেন। যারা এই ঈদে নিজের হাতের মেহেদী নিজেই চেষ্টা করে লাগিয়ে ফেলতে চান তারা দেখে নিতে পারেন খুব ছিমছাম সহজ মেহেদীর ডিজাইনের এই ভিডিও টিউটোরিয়ালটি। ভিডিও টিউটোরিয়ালটি অনুসরণ করে ঈদের রাতে খুব সহজেই মেহেদী দিতে পারবেন আপনি নিজের হাতে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রিয়/আরএ/এ/২৫ জুলাই ২০১৪ই.

 

খুব সহজে ঝটপট অসাধারণ ফিশ বিরিয়ানি

অপরাজিতাবিডি ডটকম: ঈদ মানেই নতুন নতুন খাবার তৈরি করে প্রিয়জনদের খুশি করে দেয়ার একটি উৎসব। আর ইফতারির টেবিলেও তাই। সুস্বাদু খাবার তৈরি করে পরিবারের সামনে পরিবেশন করতে সব গৃহিণীই চান। মুরগি-গরু-খাসির বিরিয়ানি তো অনেক হলো, চলুন আজ হয়ে যাক মাছের বিরিয়ানি। মাংসের সাথে অনেক গুণে স্বাস্থ্যকর তো বটেই, স্বাদে মোটেও কম নয়। দারুণ এই রেসিপিটি দিয়েছেন সায়মা সুলতানা।

10424072_10152509976018232_1078342345_o  

উপকরণ-
রুই/স্যামন মাছ এর পেটির ৪ টুকরা
বাসমতি/ চিনিগুঁড়ো চাল ১ কাপ
ঘি/তেল ৪ টেবিল চামচ
পেয়াজ কুচি ১ কাপ
আদা রসুন বাটা ২ চা চামচ
টক দই ৪ টেবিল চামচ
জয়ফল ও জয়ত্রী গুঁড়া ২ চা চামুচ
পোস্ত বাটা ১ চা চামুচ
এলাচি ৪-৫ টি
দারুচিনি ২ স্টিক
দুধ হাফ কাপ
লেবু পাতলা করে কাটা কয়েক টুকরা
বেরেস্তা হাফ কাপ
খাবার রং অল্প ( ইচ্ছা )
লবণ স্বাদ মত

 

10474658_10152509976123232_554059265_n

প্রণালি-
-প্রথমে মাছের টুকরা গুলোকে একদম অল্প তেলে হালকা লাল ভেজে নিন। এতে মাছের আঁশটে ভাবটা চলে যাবে। মাছ আলাদা করে উঠিয়ে রাখুন।

-একটা বাটিতে টক দই এর সাথে ১/৪ কাপ বেরেস্তার সাথে আদা রসুনবাটা, জয়ফল ,জয়ত্রী গুঁড়ো,পোস্ত বাটা দিয়ে মেখে রাখুন।

-অন্য একটা পাত্রে চাল গুলোকে লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। চাল বেশি সিদ্ধ করবেন না। বেশি সিদ্ধ হলে বিরিয়ানি ঝরঝরে হবে না।

-এবার অন্য প্যান এ তেল/ ঘি দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি ও দারুচিনি এলাচ দিন। একদম লাল করে বেরেস্তার মত করে ভেজে নিন। এই পেয়াজ এর সাথে মেখে রাখা দই আর হাফ কাপ দুধ দিয়ে দিন। লবণ দিন। রান্না করুন ১০ মিনিট। মশলা কষে আসলে মাছের টুকরা গুলোকে দিয়ে রান্না করুন আরো ৫ মিনিট। যখন একটু লাল হয়ে আসবে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।

 

10544914_10152509975723232_186405314_n

 

-একটা ওভেন প্রুফ বাটিতে বা একটা ভারি হাঁড়িতে প্রথমে কিছু ভাত ঢালুন। এর পর লেবুর পিস ছড়িয়ে দিন। এর পর মাছের পিসগুলো আর ঝোলটা দিন। সাথে বেরেস্তা ছিটিয়ে দিন। আবার রান্না করা ভাত দিয়ে তার উপর অল্প করে রং ছিটিয়ে ফয়েল পেপার দিয়ে ভালো ভাবে মুড়িয়ে নিন যাতে ভাপ না বের হতে পারে।

 

-হাঁড়ি হলে ভালো করে ঢেকে খুবই মৃদু আঁচে দমে বসিয়ে দিন চুলায়। ভাত সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। নাড়বেন না, এতে মাছ ভেঙে যাবে। ওভেন হলে ১৮০ ডিগ্রীতে ২০ মিনিট বেক করুন। গরম পরিবেশন করুন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রিয়/আরএ/এ/২৫ জুলাই ২০১৪ই.

ঈদে ঝটপট আচার হবে না?

অপরাজিতাবিডি ডটকম: ঈদে পোলাও-কোরমা-বিরিয়ানি ইত্যাদি কত কিছুই তো রাঁধবেন। কিন্তু সেটার সাথে একটু আচার না হলে জমবে কি? এই গ্রীষ্মে অনেকেই তৈরি করেছেন বাহারি আচার। আর যারা আচার করেননি, বা ভিন্নরকম কিছু চান তারা করে ফেলুন এই চটপটে রসুনের আচার। তবে নাম, এই রসুনের আচার‍টি স্বাদে গন্ধে একেবারেই ভিন্ন। রোমান্টিক কিচেন স্টোরি’জ এর সৌজন্যে রেসিপিটি দেয়া হলো আপনাদের জন্য।

 

current food12

 

 

যা লাগবে

হাফ কাপ রসুন কোয়া
১/৪ চা চামচ হলুদ
২ টেবিল চামচ লেবুর রস
১ টেবিল চামচ লাল মরিচ গুড়া
১ চা চামচ গুড়
৩ টেবিল চামচ সরিষা বাটা
হাফ কাপ সরিষার তেল
লবণ স্বাদমত

এবং ১/৪ চা চামচ মেথি + ১/৪ চা চামচ জিরা + ১/৪ চা চামুচ আস্ত ধনিয়া ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে নিন।

 

10565926_10152535679788232_940007659_n

 

প্রণালি-
-প্রথমে হাঁড়িতে তেল দিন। সাথেই রসুন এর কোয়া, হলুদ , মরিচ গুঁড়ো দিন। একটু নাড়াচাড়া করে লেবুর রস। এটা এখন ৩ মিনিট রান্না করুন।
-এরপর একে একে সব মসলা দিন। ব্লেন্ড করা মশলাটাও দেবেন। লবণ ,অল্প পানি দিয়ে খুব ভালো ভাবে কষান।
-কম আঁচে রান্না করুন ২০ মিনিট। তেল উপরে উঠে আসলেই বুঝবেন এটা হয়ে গেছে। এবার যেকোনো কাঁচের বয়মে ভরে উপরে সরিষার তেল দিয়ে রেখে দিন।
ডাল ভাত , খিচুরী ,পোলাও এর সাথে দারুন মজা এই আচার।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৫ জুলাই ২০১৪ই.

বেবী মওদুদ আর নেই

babay-maudud-1

অপরাজিতাবিডি ডটকম: সাংবাদিক ও সাবেক সংসদ সদস্য এন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ আর নেই। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

 

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। বেবী মওদুদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

১৯৪৮ সালের ২৩ জুন কলকাতার বর্ধমান জেলার পার্ক সার্কাসের থিয়েটার রোডের একটি বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন বেবী মওদুদ। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ছিল বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলায়। তার বাবা বিচারপতি আবদুল মওদুদ ও মা হেদায়েতুন নেসা। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বেবী মওদুদ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মারজি-উল হক-এর ছোট বোন। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলীর অকাল মৃত্যুর পর বেবী মওদুদ নিজেই দুই ছেলের দায়িত্ব নেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্সসহ এমএ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত হন।

 

বেবী মওদুদ কিশোরদের জন্য প্রচুর লেখালেখি করেছেন। শিশুসাহিত্যিক হিসেবেই তার খ্যাতি সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্সসহ মাস্টার্স করা বেবী মওদুদ পেশাগত জীবনে কাজ করেছেন ‘সাপ্তাহিক ললনা’, ‘ দৈনিক সংবাদ’, ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, ‘দৈনিক মুক্তকণ্ঠ’ ও ‘বিবিসি’-তে। বেবী মওদুদ ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বাংলা বিভাগ’টি গড়ে তুলেছেন প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে। ছিলেন ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। সর্বশেষ তিনি ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’-এর সোস্যাল এফেয়ার সম্পাদক ছিলেন।

 

বেবী মওদুদ-এর উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো- মনে মনে (ছোট গল্প), শেখ মুজিবের ছেলেবেলা, দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, পবিত্র রোকেয়া পাঠ, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, দুঃখ-কষ্ট ভালোবাসা, পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাচার, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা, শান্তুর আনন্দ, এক যে ছেলে আনু, মুক্তিযোদ্ধা মানিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবার, আমার রোকেয়া, কিশোর সাহিত্য সমগ্র, আবু আর তার ও জল দিয়ে লিখি নাম প্রভৃতি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৫ জুলাই ২০১৪ই.

 

সুখে আছেন কুষ্টিয়ার শেফালী

 

Kustia-820140724125613

নিজের টেইলার্সে শেফালী খাতুন (কাঁঠালি রঙের শাড়ি পরা)

 

 

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া : সংগ্রামী এক নারীর নাম শেফালী খাতুন। জীবন-জীবিকার তাগিদে উপজেলার আমলা বাজারে মহিলা টেইলার্স এ্যান্ড এ্যমব্রোডারি নামের একটি দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই সে আজ স্বাবলম্বী।

শেফালী খাতুন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আমলা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী ফরাজীর মেয়ে।

 

১৯৯২ সালের দিকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে তার অমতে পরিবারের লোকজন বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর নির্যাতন ও যৌতুকের দাবিতে তার আর সংসার করা হয়নি।

 

১৯৯৬ সালে দুইটি মেয়েসহ তাকে তালাক দিয়ে দেয় তার স্বামী। শেফালী ফিরে আসে তার বাবার বাড়ী। তারপর থেকেই শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম। সেলাই কাজের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০০৪ সালে আমলা বাজারে মহিলা টেইলার্স এ্যান্ড এ্যামব্রয়ডারি নামের দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার দোকানে কাজ করে এলাকার অসহায় স্বামী পরিত্যাক্তা আরো ৭-৮ জন নারী।

 

শেফালী খাতুন জানান, এই ব্যবসা করেই বড় মেয়ে বৈশাখী খাতুনকে প্রতিষ্ঠিত পাত্রের সাথে বিয়ে দিয়েছি। বড় মেয়ে কুষ্টিয়া সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্স পড়ছে। আর ছোট মেয়ে পুষ্প খাতুন আমলা জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। সেই সাথে আমলা ওয়াপদা কলোনির পাশে ৭ কাঠা জমি কিনে প্রাচীর দিয়ে পাকা বাড়ী নির্মান করে বসবাস করছি।

 

আর কেন বিয়ে করেননি এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে আজ আমি স্বাবলম্বী হয়ে জামাই মেয়ে নিয়ে সুখে আছি। বাকী জীবনটা এভাবেই কাটাতে চাই। বিয়ে টিয়ে আর করবো না।

 

আমলা ইউপি চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে জানান, শেফালী খাতুন আজ স্বাবলম্বী নারীদের মধ্যে একজন। সে রোকেয়া দিবসে আমলা ইউনিয়ন, মিরপুর উপজেলা পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা ও খুলনা বিভাগীয় পর্যায় থেকে জয়ীতা নির্বাচিত হয়েছেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৫ জুলাই ২০১৪

ঘরের সাজ

 

6_126032

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: অপেক্ষার পালা শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। হাতে আর বেশি সময় নেই। সারা দিন কাজে ব্যস্ত থাকা, সেই সঙ্গে ঈদের শপিং এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে কীভাবে যে রোজার মাসটা শেষ হতে যাচ্ছে টেরই পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন পরই ঈদ। আর ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদের দিন আমরা সবাই সেজেগুজে পরিচ্ছন্ন পরিপাটি হয়ে থাকতে পছন্দ করি। শুধু নিজে সাজলেই হবে? নিজের ভালোবাসার ঘরেও আনতে হবে ঈদের আনন্দ। তা না হলে ঈদের সব আনন্দই মাটি হয়ে যাবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রুচিরও পরিবর্তন হচ্ছে। তাই তো আজকাল সবাই সচেতন। তাই ঈদের দিন ঘরের সাজটা কেমন হবে সেটা নিয়ে রইল আজকের আয়োজন।

 

ড্রইং রুম : ঈদের দিন যে ঘরটি বেশি অতিথিদের চোখে পড়ে সেটি হল ড্রইং রুম। কারণ প্রথমেই যখন কোনো গেস্ট ঈদের দিন বাসায় বেড়াতে আসে তখন আমরা তাকে সাধারণত ড্রইং রুমেই প্রথমে নিয়ে যাই। তাই ড্রইং রুমকে সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে হবে। তবে যেভাবেই সাজই না কেন প্রথমে যেটা খেয়াল রাখতে হবে সেটি হল ঘরের আয়তন। এর ওপর ভিত্তি করে সোফা, কার্পেট, পর্দা, ঝাড়বাতি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। যেমন ঘরের আয়তন যদি বড় হয় তাহলে আমরা বড় সোফা রাখতে পারি। এর সঙ্গে মিলিয়ে সেন্টার টেবিল, ল্যাম্পশেডও রাখা যেতে পারে। এছাড়া বসার ঘরটিতে আরও নান্দনিকতার ছোঁয়া আনতে হলে সিলিংয়ে যদি বিম থাকে তবে সেখানে স্পটলাইটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর ফলে ঘরটি উজ্জ্বল ও আরও বড় লাগবে। এছাড়া আমরা কিছু তাজা ফুলও ইনডোর প্লান্ট ও ড্রইং রুমে রাখতে পারি। ফুল পবিত্রতার প্রতীক। ফুলের স্নিগ্ধ গন্ধ অতিথির মন যেমন কেড়ে নেবে সেইসঙ্গে বাড়িতে বসবাসকারী সদস্যদের মনমানসিকতারও পরিচয় বহন করবে।

 

ডাইনিং রুম : ডাইনিং রুমটিও খুব ছিমছাম ও পরিপাটিভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে হবে ঈদের দিন। খাওয়া-দাওয়ার প্রতি বাঙালির ভালোবাসা চিরকালীন। আর সেই খাওয়ার জায়গাটি যদি নিখুঁত, পরিপাটি হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। তাই ঘরে কোনো বাড়তি জিনিসপত্র না রেখে ডাইনিং রুমের একপাশে ডিনার ওয়াগন রেখে সেখানে সব থালাবাসন, চামচ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে পারেন। এতে করে ঈদের দিন যে কোনো সময় অতিথি এলে সেগুলো সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।

 

খাবার ঘরে আলো পর্যাপ্ত থাকলে ভালো হয়। এখানেও ফলস সিলিংয়ে আলোর ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ডাইনিং রুমের দেয়াল কোনো ফলের ছবি দিয়ে সাজাতে পারেন। আবার ডাইনিং টেবিলে রানার ব্যবহার করতে পারেন। রানার বিভিন্ন মার্কেটেও পাওয়া যায়। ইচ্ছে করলে আপনি নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন। রানারে লেস বা কাতান কাপড়ও ব্যবহার করতে পারেন নিজের পছন্দমতো। এছাড়া পর্দা, ডেকোরেশনগুলোও ফার্নিচারের সঙ্গে মিল রেখে সাজাতে পারেন। ঈদের আগের রাতে সবকিছু গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার অতিথিদের মুগ্ধ দৃষ্টি ঈদের আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। শেষ কথা হল- যেভাবেই ঈদের দিন ঘর সাজান না কেন, সবকিছুতেই যেন আন্তরিকতার ছোঁয়া থাকে। আনন্দে থাকুন। সবার জন্য রইল ঈদের শুভেচ্ছা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/যুগা/আরএ/এ/২৪জুলাই ২০১৪.

ঈদের কেনাকাটায় নারীর ব্যস্ততা

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম:  ঈদ সামনে রেখে পুরোদমে শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা। নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতে রাজধানীর শপিং মলগুলোয় দিন দিন বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। আর এ কেনাকাটায় এগিয়ে রয়েছে মধ্য বয়স্ক নারী ও তরুণীরা।

 

tmth

 

নতুন ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ : রাজধানীর নিউমার্কেট, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সেসহ সকল শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে নতুন ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ শোভা পাচ্ছে। তবে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ঈদকে কেন্দ্র করে হিন্দি সিনেমা, সিরিয়াল, বিভিন্ন চরিত্রের নামে ও নায়ক-নায়িকার নামে নাম রাখা হয়েছে শাড়ি ও থ্রিপিসের।

বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ধুম-থ্রি, লুঙ্গিড্যান্স, রামলীলাসহ হিন্দি সিরিয়ালের চরিত্র পাখি, গুঞ্জন, বিড়া, মধুরমা, মনের খুশি, তেরেঙ্গা, ফড়িং, কলকাতার নায়িকা কোয়েল মল্লিকের নামেও পোশাকের নামকরণ করা হয়েছে।

 

রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, নয়াপল্টন, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডির শপিংমল, বসুন্ধরা সিটি, কর্ণফুলি গার্ডেন সিটি, গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় এ সব পোশাক। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমদানিকারকরাই পোশাকের বিচিত্র নাম দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

গাউছিয়া মার্কেটের শাড়ি মেলার স্বত্বাধিকারী ওসমান ফারুক বলেন, ‘ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মূলত এ সব নাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরেই ঈদের বাজারের পোশাকের নাম ভারতীয় নায়িকা, সিরিয়ালের নামে নামকরণ করা হচ্ছে। ক্রেতারা খুশি হয়েও নতুন নামের পোশাকে কিনতেই এখন পছন্দ করে।’

 

দেখা যায়, এ সব পোশাকের জৌলুস বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে লেইস, চুমকি, পুঁতি, ব্লক, পট্টি, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, অ্যাপলিক, কুচি এবং হরেক রকমের সুতোর বুনন। এদিকে গরমের সিজন হওয়ায় ডিজাইনাররা লাল-নীল-হলুদ-সাদা-গোলাপীসহ অনেক উজ্জল রং বেছে নিয়েছেন।

 

timthumb (2) 

 

নিউমার্কেটে আসা ক্রেতা তানিয়া জাহান বলেন, ‘এবার ঈদে নতুন ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ এসেছে। তবে পোশাকের দাম যাই হোক, ওই দামেই তিনি কিনবেন।’

ওড়নার ফ্যাশন : কামিজের সঙ্গে তো বটেই, ফতুয়া দিয়ে ওড়না পরার ফ্যাশনও এখন বেশ চলছে। পাশাপাশি ছেলেদের টি-শার্ট কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গেও মানানসই ওড়নার ব্যবহার নজরকাড়া। আর ঈদে তো চাই বাড়তি ফ্যাশন। ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর গাউছিয়া ও চাঁদনী চকে হরেক রকমের ওড়না পাওয়া যাচ্ছে।

 

চাঁদনী চকের ওড়না ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে মসলিনের ওড়না বিশেষ করে সাদা ও সোনালি রঙের মসলিন ওড়নাই বেশি চলছে। মসলিনের ওড়নাগুলো সাত-আটটি রঙে পাওয়া যায়। এ ছাড়া চুনট ওড়না ১১০ টাকা, এমব্রয়ডারির কাজ করা ও পাড়সহ জর্জেটের ওড়না ২৫০ টাকা, নাইলনের টানা সুতি ও বিন্দু ওড়না ১৫০ টাকা, খাদি ও তাঁতের ওড়না ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

নিউমার্কেটের ওড়না ক্রেতা নাজনীন নাহার জানান, তৈরি পোশাকের চেয়ে দর্জি দিয়ে তৈরি পোশাকের মান অনেক ভালো। তাই এখান থেকে কাপড় কিনেছি। এখন ম্যাচিং করে শিফনের ওড়না কিনছি।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় এখানে অল্প দামে ভালো ওড়না পাওয়া যায়। কাপড় অনুপাতে দাম রাখছে। এ ছাড়া অন্যান্য পোশাকের চেয়ে ওড়নার দাম অনেক কম।’

 

ফ্যাশন হাউস নগরদোলায় রয়েছে মসলিনের স্ক্রিন প্রিন্টের ওড়না, সুতির ওড়না, খাদির ওড়না, বিভিন্ন শেড ও এক কালারের ওড়না, মণিপুরি ওড়না পাওয়া যাচ্ছে। এ সব ওড়না ২৭০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

 

ফ্যাশন হাউসে বাঙালিয়ানা পোশাক : ঈদকে কেন্দ্র করে ফ্যাশন হাউসগুলোতে খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না এ ট্রেন্ড বা ধারার। সিজনটা গরমের হওয়ায় সালোয়ার-কামিজের কাপড় হিসেবে সুতিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানালেন ডিজাইনাররা। এ ছাড়া অ্যান্ডি কটন, তাঁত, সিল্ক, হাফসিল্ক, শিফন, চিনন আর কাতানটাও চলছে বেশি। রঙেও এসেছে বৈচিত্র্য। লাল, নীল, মেরুন, সবুজ, ফিরোজা, ম্যাজেন্টা, কমলা, গোলাপিসহ নানা উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা হচ্ছে কাপড়ে।

 

আজিজ সুপার মার্কেটের ফ্যাশন ডিজাইনার নীপা খালিদ জানান, এবার নরমাল ছাঁটের কামিজে ভ্যালু অ্যাডিশন হিসেবে কারচুপি, লেইস, পট্টি ব্যবহার করা হয়েছে। আর কামিজ হচ্ছে লম্বায় ছোট। শর্ট চুড়িদার ও সামান্য একটু ভাঁজ করা ধুতি সালোয়ারের পাশাপাশি নরমাল সালোয়ারতো আছেই। কামিজের সঙ্গে মিল রেখে সালোয়ারে করা হয়েছে মেশিন এমব্রয়ডারি।

 

আড়ং, মায়াসির, কে-ক্রাফট, প্রবর্তনা, রঙ, বাংলার মেলা, চরকা, অন্যমেলা, অঞ্জনস, নগরদোলা, সাদাকালো, বিবিয়ানা, ক্রিয়েশনস, কীত্তনখোলা, ওজি, দেশাল, বাঙ্গাল, মাঠসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে বিভিন্ন ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ উঠেছে। আর এ সব পোশাকের দাম নিম্নে ১৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

পছন্দের শীর্ষে শাড়ি : ঈদকে ঘিরে এবার ফ্যাশন হাউসগুলো এবং দোকানিরা বাহারি নাম আর ডিজাইনের শাড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এর সঙ্গে মিরপুরের বেনারসী পল্লীর ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী কাতান, জামদানি, তাঁত ইত্যাদি শাড়ির।

 

নিউমার্কেটের রাজশাহী সিল্ক-এর দোকানি মাহবুব হায়দার জানান, ঐতিহ্যবাহী শাড়ির চাহিদা সব সময়ই থাকে। তবে ঈদ মৌসুমে শাড়ি বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। এর মধ্যে আবার রাজশাহী সিল্কের শাড়ি নারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। এ সব শাড়ির দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা।

 

জানা যায়, ঢাকাই জামদানি আড়াই হাজার থেকে ৮-৯ হাজার টাকা, সুতি তাঁতের শাড়ির দাম ২৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মিরপুরের তৈরি কাতানের দাম দেড় হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

 timthumb

এদিকে বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের শো-রুমগুলোতে আনা হয়েছে হাজার রকমের বুটিক, চুমকি, অ্যাপ্লিক, কারচুপি, প্যাঁচওয়ার্ক ও হাতের কাজ করা বাহারি ডিজাইনের শাড়ি। ডিজাইনের পাশাপাশি দামটাও বেশ চড়া হওয়ায় অনেক ক্রেতা এখনও এই শাড়িগুলো দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এখানকার শাড়ির দাম নিম্নে ৮ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

 

জামদানি শাড়ি কুটিরের বিক্রেতা সাইফুল আহমেদ জানান, তার দোকানে সর্বনিম্ন ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের জামদানি শাড়ি রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ি, সুতির জামদানি শাড়ি ইত্যাদি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/দ্য:রি:/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই.

খুশির ঈদে মেহেদি রাঙা হাত

অপরাজিতাবিডি ডটকম: এসেছে খুশির ঈদ। ঈদের আনন্দ আর মেহেদির রঙ, যেন একে অন্যের পরিপূরক। মেহেদি ছাড়া ঈদ কল্পনাও করা যায় না। এবার ঈদেও নিশ্চয়ই প্রিয় দু’টি হাত রাঙাবেন মেহেদির রঙে? তাহলে চলুন জেনে নিই মেহেদি পরার টুকিটাকি।

11_126034

কেমন নকশা
লম্বা হাতার পোশাক পরলে কনুই পর্যন্ত মেহেদি না পরাই ভালো। কালো মেহেদি হাতের তালুতে না দিয়ে ওপরে দিতে পারেন। কালো মেহেদির ক্ষেত্রে জ্যামিতিক নকশা চলছে এখন। জ্যামিতিক ছাড়াও একটু চেক ধাঁচের, কোনাকুনি নকশাও পরতে পারেন। তবে লাল মেহেদি যে কোনো নকশা করেই দিতে পারেন। পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে কালো মেহেদি দিয়ে অঙ্কিত অল্প নকশাই ভালো লাগবে। যারা শাড়ি অথবা সালোয়ার-কামিজ পরবেন, তাদের জন্য নকশা হবে কিছুটা ভিন্ন। হাতভর্তি কিংবা একটু বেশি নকশা মানিয়ে যাবে পুরোদমে। কারুকার্যে প্রাধান্য পেতে পারে লতাপাতা, ফুল বা কলকা। মেহেদি লাগানোর আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এরপর শুকনো করে হাত মুছে ফেলুন। মেহেদি লাগানোর আগে হাতে ক্রিম বা তেল লাগাবেন না। পছন্দমতো নকশায় এবার এঁকে ফেলুন দুই হাত। হাতে লাগানো মেহেদি পুরোপুরি শুকাতে দিন। ঈদের যত কম ব্যবধানে মেহেদি লাগান যাবে, ততই ভালো। সবচেয়ে ভালো হবে যদি চাঁদরাতে লাগান।

 

মেহেদির রঙ কীভাবে গাঢ় করবেন

মেহেদি লাগানোর পরে যখন মেহেদি একটু একটু করে শুকাতে শুরু করবে তখন একটি পাত্রে সামান্য লেবুর রস আর চিনি মিশিয়ে তুলার বল দিয়ে হাতে মিশ্রণটি লাগান। মেহেদির ওপর ঘষাঘষি করবেন না। আলত করে শুকিয়ে যাওয়া মেহেদির একটু ওপর থেকে তুলার বল চিপে ফোঁটা ফোঁটা করে লেবু আর চিনির মিশ্রণটি পুরো হাতে লাগাবেন। লেবুর রস মেহেদির রঙটা পুরোপুরি মেহেদির পেস্ট থেকে বের করতে সাহায্য করে আর চিনি সেই রঙ আর মেহেদি অনেক্ষণ হাতে আটকে রাখতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ২/৩ ঘণ্টা আগে লাগান, এবং সারা রাত হাতে মেহেদি রেখে দিন। মেহেদি শুকিয়ে গেলেও হাত ধুবেন না। আপনা আপনি কিছু পড়ে যাবে আর বাকিগুলো হাতে রেখেই ঘুমাতে পারেন অথবা হাত ঘষে মেহেদি ফেলে দিতে পারেন। অন্তত ৮ ঘণ্টা পানি থেকে হাত দূরে রাখুন। যত দেরিতে পানি লাগাবেন হাতে তত বেশি রঙ গাঢ় হবে।
কোথায় পাবেন
বাজারে বিভিন্ন আকারের বিভিন্ন মেহেদি পাওয়া যায়। এসব মেহেদির দাম পড়ে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত। যে কোনো কসমেটিকসের দোকান কিংবা সুপার শপ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন আপনার পছন্দেও মেহেদি। বাজারে অনেক ব্র্যান্ডেও মেহেদি পাওয়া যায়। এর মধ্য থেকে আপনি হাতে দীর্ঘস্থায়ী রঙ রাখতে বেছে নিতে পারেন আলমাস মেহেদি। আর মেহেদির রঙে আকর্ষণীয় আউটলুক আনতে বেছে নিতে পারেন গিলিটার। বাজারে পাওয়া যাবে বিভিন্ন রঙের গিলিটার, যেগুলো আপনার মেহেদির সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। আবার একেক রূপচর্চাকেন্দ্রে একেক দামে মেহেদি পরান হয়। সেটি নকশা ও হাতে কতটুকু দিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে। আর মেহেদি পাতা পাওয়া যায় প্রায় সব কাঁচা বাজারেই। বাজার থেকে মেহেদি পাতা কিনে এনে বেটেও মেহেদি পরতে পারেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই.

মসলার খোঁজ-খবর

nawshaba

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: মসলা ছাড়া আমাদের এক দিনও চলে না। প্রায় প্রতিটি রান্নায়ই মসলার প্রয়োজন হয়। তবে ঈদের সময়ের প্রয়োজনটা একটু বেশিই বটে। যেহেতু এ সময় সবার ঘরেই বিশেষ আয়োজন, তাই মসলার প্রয়োজন বেড়ে যায়।

 

মসলা ছাড়া আমাদের এক দিনও চলে না। প্রায় প্রতিটি রান্নায়ই মসলার প্রয়োজন হয়। তবে ঈদের সময়ের প্রয়োজনটা একটু বেশিই বটে। এ ছাড়া ঈদে যেসব খাবার রান্না করা হয় সেগুলোর মধ্যে এমন আইটেম খুব কমই আছে, যেগুলোতে মসলা দিতে হয় না। মসলার এসব প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে আমাদের ছুটতে হয় মসলার বাজারে। তাই আসুন আগেভাগে জেনে নেয়া যাক বিভিন্ন রকম মসলার বাজারদর। ঝাল তরকারি মরিচ ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বাজারে এখন নানা ধরনের ঝালমরিচ পাওয়া যায়। যেমন- সূর্যমুখী, কামরাঙা, ধানী, গোল ও পাটনাই। প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়বে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে এখন মরিচগুঁড়া প্যাকেটেও পাওয়া যায়। প্যাকেটজাত মরিচের গুঁড়া একটু উন্নতমানের বলে দামটাও একটু বেশি পড়বে। ভেষজ-সমৃদ্ধ হওয়ায় ঘরোয়া ওষুধ ও রান্নাবান্নায় ব্যবহার হয়ে আসছে হলুদ। স্বাদ ও রঙের বৈচিত্র্যে হলুদ সাধারণত দুই রকমের হয়ে থাকে। গাঢ় ও হালকা রঙ। রাঁধুনি, পিওর, প্রমি, টাইগার, রানীসহ আরো বেশ কিছু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এখন প্যাকেটজাত হলুদও বিক্রি করে। ধনের উৎপাদন সর্বপ্রথম শুরু হয় মরক্কোতে। তখন এটি সম্পর্কে আমাদের মানুষ ততটা জানত না, ব্যবহারও করত না। কিন্তু এখন এর ব্যবহার বেড়ে গেছে সবখানেই। কারণ তরকারির রঙ, গন্ধ ও স্বাদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ধনের জুড়ি নেই। ১০০ গ্রাম ওজনের ধনের প্যাকেট পাওয়া যাবে ২৫ টাকায়। পেঁয়াজের দাম কখনো বাড়ে কখনো কমে। এমনকি বাজারের ভিন্নতার জন্যও পেঁয়াজের দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে সাধারণভাবে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের দাম পড়বে ৪৫ টাকা। প্রতি কেজি রসুন পাওয়া যাবে ৮৫ টাকায়। আর আদার কেজি পড়বে ২৭৫ টাকা। এবার আসা যাক গরম মসলার দরদাম প্রসঙ্গে। গরম মসলার দাম এখন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। গত ঈদের তুলনায় এই ঈদে কোনো কোনো গরম মসলা বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ, তিন গুণ দামে। এলাচ ১০০ গ্রাম ২৫০ টাকা, জিরা ১০০ গ্রাম ৫৮ টাকা, লবঙ্গ ১০০ গ্রাম ২২০ টাকা, গোলমরিচ ১০০ গ্রাম ১৩০ টাকা, দারুচিনি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা, মহুরি ১০০ গ্রাম ২৫ টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে জায়ফল, জয়ত্রী, পোস্তদানা, তেজপাতা, শাহী জিরা ইত্যাদি। এগুলো তোলা হিসাবে কিনলে দামে কম পড়বে।

 

কোথায় পাবেন : প্রয়োজনীয় মসলা পাওয়ার জন্য তেমন কোনো খোঁজাখুঁজির দরকার হয় না। এগুলো ঢাকা শহরের যেকোনো মুদির দোকানেই পাওয়া যায়। তবে নিউমার্কেটসহ কিছু কিছু মার্কেটে আলাদা মসলার দোকানই রয়েছে। এসব দোকানে দেশী খাবার তৈরির মসলার পাশাপাশি বিদেশী খাবার তৈরির মসলাও পাওয়া যায় সুলভমূল্যে। আবার কিছু কিছু দোকান আছে, যারা সরাসরি গ্রাম থেকে মসলা সরবরাহ করে থাকে। এসব মসলার স্বাদ-গন্ধ অন্য যেকোনো মসলার চেয়ে উন্নত হয়। আর এগুলো সাধারণত পুরান ঢাকার দোকানেই বেশি পাওয়া যায়। তবে যেখান থেকেই মসলা কেনা হোক না কেন, বিশ্বস্ত দোকান থেকে কেনা উচিত। এতে মসলায় ময়লা কিংবা ভেজাল থাকার আশঙ্কা কম থাকে।

 

কিছু পরামর্শ : এখনো ঈদ আসতে বেশ কয়েক দিন বাকি। তাই এখন মসলা কিনলে সেটা ঘরে সংরণ করে রাখতে হবে। এমনিতেও মসলা একবার কিনে নিলে অনেক দিন চলে যায়। মসলার ক্ষেত্রে সব সময়ই যে সমস্যাটি দেখা দেয়, সেটি হলো কিছু দিন পরই এটা নষ্ট হয়ে যাওয়া। তবে একটু সচেতন হলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। মসলা পরিষ্কার ও শুকনো পাত্রে রাখতে হবে। আর ঢাকনা কিংবা মুখটাকে এমনভাবে বন্ধ করবেন যাতে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। আলোহীন এবং ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। চুলার পাশে এবং খোলামেলা র‌্যাকে রাখবেন না। আদা বা এই জাতীয় মসলা দীর্ঘ দিন স্বাদ এবং ঘ্রাণযুক্ত রাখতে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। মাচার ওপরও ছড়িয়ে রাখতে পারেন। কেউ কেউ অনেক দিনের জন্য মসলা সংরণ করতে গিয়ে সেটি রোদে শুকিয়ে নেন। মনে রাখবেন গরম মসলা রোদে শুকাতে দিলে স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। লঙ্কা গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া শুকনো তাওয়ায় ভেজে সংরণ করুন। এতে বেশি দিন তাজা থাকবে। বাটা মসলা সংরণ করতে হলে ওপরে অল্প লবণ ছড়িয়ে সংরণ করুন। এতে অনেক দিন ভালো থাকবে। যেসব মসলায় পোকামাকড়ের আক্রমণ হওয়ার ভয় থাকে সেগুলোর পাশে কয়েকটা নিম পাতা রেখে সংরণ করুন। নিমপাতা আপনার গরম মসলাকে অনেক দিন ধরে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখবে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুল‍াই ২০১৪ই.

তারকারা কোথায় ঈদ করছেন?

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : ঈদ উৎসবের উচ্ছ্বাসে তারকাদের খবরাখবর ছাড়া কেমন যেন জমে না। ঈদে কী করছেন প্রিয় তারকা? কোথায় ঘুরবেন? আর কী তাদের পরিকল্পনা? এসব জানার আগ্রহ বরাবরের চেয়ে বেশি থাকে ঈদের সময়ে।

 

bindu

বিন্দু
সজলের মতো বিন্দুও ঈদ করবেন ঢাকায়। সারা বছর নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় রান্নাঘরে ঢোকা হয় না একদমই। তাই ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই রান্নাঘরে প্রবেশ করার ইচ্ছে এই মডেল অভিনেত্রীর। বিন্দু বলেন, ‘গরুর গোশত দিয়ে আমি খুব ভালো শাহী টুকরা বানাতে পারি। এবারের ঈদে সেটা বানিয়েই সবাইকে আপ্যায়ন করব।’ তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার বাইরে আমার দু-তিনজন ভালো বন্ধু আছে। তারা আমার বাসায় বেড়াতে আসবে। আমি নিজে ঈদের দিন বাইরে কোথাও বের হবো না। তবে ঈদের পরদিন বাইরে ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা আছে।’
 ‍

mahi

মাহিয়া মাহি
বাবা-মায়ের সাথে গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে ঈদ করার ইচ্ছে দেশীয় চলচ্চিত্রের ব্যস্ততম নায়িকা মাহিয়া মাহির। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহি বলেন, ‘হাতে এখন একাধিক চলচ্চিত্র। শুটিং হচ্ছে নিয়মিত। ছুটি পাবো সব মিলিয়ে চার দিন। এই সময়টা পরিবারের সবার সাথে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে, তবে কান্তি যদি চেপে ধরে, শেষ পর্যন্ত ঢাকাতেই থাকা হবে। তবে যেখানেই থাকি ঈদের আনন্দ হবে সবার সাথে হৈহল্লা করে।

 azmeri-hoque-badhon

বাঁধন
অভিনেত্রী বাঁধনের শ্বশুরবাড়ি ঢাকায়। তাই স্বভাবতই তিনি ঢাকায় ঈদ করছেন। শুটিংয়ের কারণে পরিবারকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। এ বিষয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে অনুযোগের শেষ নেই। তাই ঈদের সময়টুকু পরিবারের সাথে থেকে তার দায় কিছুটা কমাতে চান তিনি। বলেন, ‘আগে ঈদ ছিল নিজের আনন্দের জন্য। সেই আনন্দ এখন মহা দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। এই দায়িত্বের জায়গা থেকেই আমি আমার পরিবারের সাথে ঈদের সময়টুকু কাটাতে চাই।’
ঈদের খুশির কথা বলতে গিয়ে সবার আগে বলেন তার ছোট মেয়ের কথা। ‘ঈদের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমি আমার মেয়ের সাথে থাকতে পারব, এটাই আমার ঈদ আনন্দ। তবে ঈদে রান্নার কিছু ঝামেলা থাকে সেটাও করতে হবে। তবুও তো আমার মেয়েটা আমার কাছে থাকবে।’

 

mehjabi-1

মেহজাবিন
ঢাকাতেই ঈদের সময় কাটাবেন অভিনেত্রী মেহজাবিন। বন্ধুদের সাথে বিকেলে বেড়াতে বেরোনোর ইচ্ছে রয়েছে তার। তার কাছে ঈদের আনন্দ মানে ঢাকার ফাকা রাস্তা। বন্ধুবান্ধব নিয়ে লংড্রাইভে বের হতে পারলে তার কাছে উৎসবের উচ্ছ্বাস পূর্ণতা পায়। মেহজাবিন বলেন, ‘অবসর বা ছুটিতে লংড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছে সব সময় জাগে মনে। কিন্তু ঢাকার যে জ্যাম তাতে এই ইচ্ছেটা মনের মধ্যে সুপ্ত বাসনা হিসেবেই রেখে দিতে হয়। ঈদের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাওয়া যায়।’

 

moushumi-hamid
মৌসুমী হামিদ
গ্রামের বাড়ি খুলনাতেই প্রতি বছর ঈদের সময় কাটান অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পরিবারের সবার সাথে ঈদের আনন্দ শেয়ার করতে ঈদের আগের দিনই পৌঁছে যাবেন বাড়ি।  

 

sagota

স্বাগতা
এ ছাড়া ঢাকায় পরিবারের সাথেই ঈদের উৎসব উৎযাপন করবেন অভিনেত্রী স্বাগতা। তার কাছে ‘ঈদ মানেই শান্তির ঘুম। পরিবারের সাথে থাকতে পারি অনেকটা সময়, এটা ঈদের আনন্দের মধ্যে অন্যতম।’ ঈদে ভালো লাগার সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগার মুহূর্ত বলতে পারব না, তবে একটা তৃপ্তি অনুভব করি যখন মনে হয় আমাকে কেউ শটের জন্য ডাকে না। অর্থাৎ শুটিংয়ের জন্য আমার কোনো পিছুটান থাকে না।’

 

nawshaba

নওশাবা
অভিনেত্রী নওশাবা বলেন, ‘আগেরবারের মতোই এবারো ঢাকায় পরিবারের সাথে ঈদ করব। ঈদের রুটিনের সবটুকু সময়জুড়ে থাকবে আমার মেয়ে আর রান্নাবান্না।’ সবচেয়ে আনন্দের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত আমার ভালো লাগে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারি বলে।’

 

konal

কোনাল
পরিবারের সাথে ঢাকায় ঈদ করবেন কণ্ঠশিল্পী কোনাল। তার কাছে ঈদের সবচেয়ে আনন্দের দি হলো, সকালবেলা উঠে গোসল সেড়ে নতুন জামা ছোট-বড় সবার সাথে কুশল বিনিময় করা। তিনি বলেন, ‘সকালবেলা শুভেচ্ছার সাথে ঈদি আদায় করার মজা করার আনন্দ আমি কখনোই মিস করি না।’

 

kkon

কণা
কণা ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে বিকেলের দিকে দাদার বাড়ি গাজীপুরে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে তার।
কণা বলেন, ‘ঈদ মানেই অবসর। ব্যস্ততার মাঝে যেটুকু অবসর সময় কাটাতে পারি, তার পুরোটুকুই আমার ভালো লাগার মুহূর্তের মধ্যে পড়ে। ঈদের এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই.

রঙিন সুতার কারিগরদের রঙহীন ঈদ

 

36

 

আবদুর রাজ্জাক ঘিওর, মানিকগঞ্জ: আমার ১২ বছরের ছেলে নাইম বায়না ধরছে। মা এরকম সুন্দর একটা পাঞ্জাবি আমারে দিতে হবে। কিন্তু কেমনে বুঝাবো ছেলেরে, এগুলো অনেক দামি, এগুলো আমাগো মতো মানুষের জন্য না। কথাগুলো বলতে বলতে ছালমা আক্তার অশ্র“ সংবরণ করতে পারলেন না। ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন। বাড়ইল গ্রামের ছালমা আক্তার অনেকটা আবেগের সুরে জানালেন তার জীবনের করুণ কাহিনী। তিন বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সেলাইয়ের কাজ করে এক ছেলেকে নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বাড়িতে এনে পাঞ্জাবির নকশার কাজ করেন। আর সেই টাকায় চলে সংসার।

 

রোজার এ শেষ সময় ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার নারী থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়ায় নকশা তোলার কাজে ব্যস্ত। ঈদ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে তাদের এই ব্যস্ততা। এখানকার নকশাতোলা পাঞ্জাবি, ফতুয়া বিক্রি হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। রফতানি হয় কানাডা, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে।
যাদের শ্রম ও ঘামে আর স্বপ্নের মাধুরী মিশ্রিত সুনিপুণ হাতের সেলাই ও নকশা করা ড্রেসে দেশের অভিজাত মানুষের মন বর্ণিল হয়ে ওঠে, তাদের কথা আমরা কি কেউ ভাবি? তারা যে কতটা দৈন্যদশার আবর্তে জীবনযাপন করছেন তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই।  

 

রাথুরা গ্রামের অজিফা বেগম বলেন, ‘আমাদের হাতে সুন্দর সুন্দর পাঞ্জাবি তৈরি হয়, সেগুলো অনেক দাম দিয়ে দামীদামি মানুষেরা পরেন; কিন্তু আমরা খালি চাইয়াই থাকি, পরনের ভাগ্য হয় না।’ তার সাথে আলাপকালে জানা যায়, একটি পাঞ্জাবিতে সুইসুতার নকশা করে তারা পান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। একটি পাঞ্জাবির কাজ শেষ করতে তাদের তিন-চার দিন লাগে। তিনি বলেন, ‘এই অল্প আয় দিয়ে কি আর দামি কাপড় চোপড় কিনা যায়। অসুস্থ স্বামীর জন্য একটি লুঙ্গি আর ছেলে মেয়ের জন্য ফুটপাথ থেকে জামা কাপড় কিনছি।’

 

এবার ঈদে নিজের জন্য কী কিনবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জাবরা গ্রামের বিধবা শরীফা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দিন রাইত খাইটা যা পাই তা দিয়া সংসারই চলে না। তার পরও কিছু টেকা (টাকা) ছেলেমেয়ের মুখের দিকে চাইয়া জমাইছি। মানিকগঞ্জ হকার্স মার্কেট থেইকা কিছু নতুন জামাকাপড় কিনা দিমু। দুঃখ অয় আমাগো হাতের কাজের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, থ্রিপিস শুনি অনেক দামি আর বিদেশ যায়, আর আমরাই ঈদ করি জাকাতের কাপড় দিয়া।’

 

প্রায় এক যুগ আগে মানিকগঞ্জে শুরু হয়েছিল পাঞ্জাবির গায়ে সুইসুতা দিয়ে নকশা তোলার কাজ। প্রথম দিকে অনেকেই বাঁকা চোখে দেখতেন নারীদের এ কাজকে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। গত এক দশকে এ নকশার কাজে নীরব বিপ্লব ঘটেছে মানিকগঞ্জ জেলায়। এখন প্রায় ৩০ হাজার নারী যুক্ত আছেন এ কাজে।
ব্র্যাকের ম্যানেজার শ্যামল কুমার দাশ জানান, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে এ জেলায় সর্বপ্রথম বেকার ও দুস্থ নারীদের পোশাকের ভরাট কাজের ওপর প্রশিণ দেয়া হয়। আয়শা আবেদ সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার নারীকে প্রশিণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ সেন্টারের আওতায় পাঁচ হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের কারো কারো মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি আরো বলেন, এ বছর ঈদকে সামনে রেখে শুধু ব্্র্যাকই দেড় লাখ পিসের ওপরে পণ্য সরবরাহ করবে।

ুদ্র ও কুটির শিল্পে দেশের একমাত্র সিআইপি জননী ক্রাফটস অ্যান্ড ফ্যাশনের মালিক রফিকুল ইসলাম পরান জানান, তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরে বসে সারা বছর কাজ করেন প্রায় চার হাজার নারী।

 

নকশীর অন্যতম কর্ণধার রফিকুল ইসলাম বিশ্বাস মাসুদ জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার মহিলা পাঞ্জাবি-ফতুয়ায় ভরাট কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। ইউসুফ-ইব্রাহিম হ্যান্ডিক্র্যাফটের পরিচালক মো: ইউসুফ জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন। বর্ণালী প্রিন্টার্সের মালিক মো: ইছহাক জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এ বছর ঈদ সামনে রেখে প্রায় ৫০ হাজার পিস পণ্য বাজারজাত করা হবে।
কেউ কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে আবার কয়েকজন মিলে ুদ্র ুদ্র সঞ্চয় এক করে শুরু করেছেন এই হ্যান্ডিক্র্যাফটের ব্যবসা। জেলার সদর উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নে, শিবালয়, ঘিওর, সাটুরিয়া, হরিরামপুর, সিংগাইর ও দৌলতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চলছে এই ভরাটের কাজ। কোথাও টিনের শেড তুলে আবার কোথাও নিজ ঘরে বসেই চলছে সুইসুতার এই নান্দনিক কাজ। অনেকেই সারা বছর এ কাজ না করলেও ঈদ সামনে রেখে লেগে যান সুইসুতা হাতে। স্কুল-কলেজের ছাত্রী, গৃহবধূসহ অনেকেই হয়ে যান মওসুমি কারিগর। এ সময়টি অনেকটা উৎসবে রূপ নেয় এই অঞ্চলে।

 

ন্যায্য মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন এসব নারী। একটি পাঞ্জাবিতে সুইসুতার নকশা করে তারা পান ৯০-১৫০ টাকা। একটি পাঞ্জাবির কাজ শেষ করতে তাদের চার-পাঁচ দিন লাগে। প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাত ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সে হিসেবে তাদের মজুরি খুবই কম।

 

এ ব্যাপারে মির্জাপুর রাজবংশী পাড়ার স্বামী পরিত্যক্তা সন্ধ্যা রানী রাজবংশী বলেন, ‘তিনটি পাঞ্জাবিতে নকশার কাজ করতে গিয়ে ডিজাইন ভুল হয়েছিল। এর জন্য আমারে কোনো মজুরি দেয় নাই। হিন্দু অইলেও প্রত্যেক ঈদে নতুন কাপড় কিনে মুসলমান বান্ধবীদের বাড়ি বেড়াইতে যাই, কিন্তু এবার আর তা অইলো না।’ ঘিওর উপজেলার সাইংজুরী গ্রামের মুক্তা আক্তার, নারগিছ বেগম, নাছিমা, সীমা আক্তার জানান, ‘পেটের ভাতই জুটে না আবার দামি কাপড়চোপড় কিনব কেমনে।’

 

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, হাতের কাজের নকশা করা পাঞ্জাবির ৭০ শতাংশই মানিকগঞ্জ থেকে সরবরাহ করা হয়। এ এলাকায় এ কাজ হওয়ায় অনেক নারীরই সামান্য হলেও আয় করতে পারছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন কি-না। তাদের  ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা গেলে তারাও ভালোভাবে ঈদ করতে পারত। বঞ্চিত হতো না ঈদের আনন্দ থেকে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই

বিজ্ঞান মানেই চার মলাটে বাঁধা : ড. জেবা ইসলাম সেরাজ

 

55

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: শৈশবে বাবা-মা উভয়েই আমাকে মজার মজার বই উপহার দিতেন। পড়াটা ছিল আমার কাছে মজার বিষয়। আমার মেয়েরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়েছে। ওদের বিজ্ঞানবিষয়ক বইগুলো ছবিসহ অনেক সুন্দর ও সহজ পাঠ্য ছিল। ওরা কৌতূহলভরে বইগুলো পড়ত। ওদেরই বন্ধু যারা বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা করত তাদের বিজ্ঞানবিষয়ক বইগুলো ছিল সাদামাটা। পাঠের সঙ্গে কোনো ছবি নেই। বিষয়গুলো পড়ার প্রতি আগ্রহ জাগাবে এমনভাবে উপস্থাপনও করা হয়নি। তাদের কেউ কেউ শিক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে বিজ্ঞানে ভালো ফলাফল করেছে। যাদের শিক্ষক রাখার সামর্থ্য নেই তারা ভালো ফলাফল তো দূরের কথা ভালো করে বিজ্ঞানকে জানতেও পারছে না। অথচ প্রত্যেক শিশুর কাছেই পড়াটা মজার বিষয় হওয়া দরকার। যে কোনো বিষয়ে শেখা আনন্দের হওয়া জরুরি। আর এই আনন্দ কয়েক গুণ বেশি হওয়া উচিত যখন বিষয়টি হয় বিজ্ঞান। কারণ, বিজ্ঞান মানেই চার মলাটে বাঁধা শুধু একটা বই নয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চলতে, ফিরতে বিজ্ঞানের ভূরি ভূরি বাস্তব উদাহরণ আমরা দেখি। সেটিই বিজ্ঞান শিক্ষাকে প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় করে তোলে। আবার উল্টো দিক থেকে দেখলে, বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে করে তোলে সহজ ও আরামপ্রদ। বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজ।

 

জেবা ইসলামের শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে দেশ এবং দেশের বাইরে। তার বাবা আহমেদ শামসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণা এবং লেখালেখিও করেন। তার বাবা বাংলায় বায়োটেকনোলজি বিষয়ক একটি বই সম্পাদনা এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জেনেটিক্স বিষয়ক একটি বই লিখেন। যেটি উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অনার্সে পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। মা হুমায়রা ইসলাম ছিলেন শিক্ষক। বাবা-মা উভয়ই শিক্ষকতা পেশায় জড়িত থাকার কারণে তার বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ ছিল। সেই পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে জেবা ইসলাম পেশাগত জীবনে শিক্ষকতার পেশা বেছে নেন। ভাই-বোনদের মধ্যে জেবা ইসলাম সেরাজ মেঝো। বড় ভাই ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক। ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী। পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ।

 

জেবা ইসলাম মুক্তিযুদ্ধকালীন বছর দুয়েক হলিক্রস, বছর দুয়েক জেভিয়ার্স সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলে পড়েন। এরপর চলে যান দেশের বাইরে। কেনিয়ার একটি স্কুল থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল করেন। দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানে বিএসসি অনার্স ভর্তি হন। ১৯৮১ সালে প্রথম শ্রেণীতে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৮২ সালে প্রথম শ্রেণীতে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এমএসসির ফলাফল বের হলে ওই বছরই তিনি পিএইচডি পড়ার জন্য গ্লাসগও ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। ১৯৮৬ সালে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে লিভারপুল ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট ডক্টরালের জন্য ভর্তি হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পনের মাসের পোস্ট ডক্টরাল করেন তিনি। দেশে ফিরে ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণা এবং লবণ সহনশীল ধান উদ্ভাবনে কাজ করছেন। এ দেশের সাধারণ বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান পড়াকে আরও আনন্দময় করে তোলার জন্য চমৎকার ইলাস্ট্রেশন সমৃদ্ধ একটি বই বের করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার দুই মেয়ে সামিয়া সেরাজ ও সারাহ সেরাজ। তার স্বামী ড. তৌফিক এম সেরাজ বই প্রকাশ করেন।

 

জেবা ইসলাম সেরাজ বলেন, নাসরীন সুলতানা মিতু, আতিয়ার রহমান ও আমি বিজ্ঞানের মজার পাঠশালা বইটি লিখেছি। বইয়ে সুন্দর সুন্দর ইলাসট্রেশন করেছেন নাসরীন সুলতানা মিতু। বইটির দুই হাজার কপি ছাপানো হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বইটি দেয়া হেব। সবার সহযোগিতা পেলে এই বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বইটি তুলে দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। শিশুরা বিজ্ঞানকে সহজভাবে জানুক, বিজ্ঞানকে ভালোবাসুক সেটা ভেবেই বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

পারিবারিক জীবনে জেবা ইসলাম সেরাজের স্বামী ড. তৌফিক এম সেরাজ শেলটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দুই মেয়ে সামিয়া সেরাজ ও সারাহ সেরাজ দু’জনেই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। সামিয়া মেটারিয়াল সায়েন্সে পিএইচডি করছেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই

ন্যায্য মজুরি বঞ্চিত নারী শ্রমিকরা

 

 

4_125584

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম:‍ খেজুরডাঙ্গার শাহিদা খাতুনের স্বামী নিয়ামত আলী গ্রামপুলিশে চাকরি করেন। দুই মেয়ের মধ্যে লিপিয়া দশম ও পাপিয়া পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে। পাঁচ বছর ধরে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে শাহিদা কাজ করেন সুন্দরবন টেক্সটাইলে। ভিটাবাড়ির দুই কাঠা জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। ন্যায্য মজুরি পান না এ ব্যাপারে মালিক পক্ষকে কিছু বলেন না জানতে চাইলে শাহিদা খাতুন বলেন, পরিবারের এতগুলো মানুষের মুখের ভাত জোগানো কি চাট্টিখানি কথা। নিরুপায় হয়ে এখানে কাজ করি। রাতে কাজ করলে আরও ১০ টাকা বেশি পাই। তবে এখানে চাকরির নিশ্চয়তা আছে, নিরাপত্তা আছে।

 

পুরাতন সাতক্ষীরার আঞ্জুয়ারা বেগম এখানে কাজ করে ১৯ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ে নাজমুন নাহারকে বড় করে তুলেছেন। আরেক মেয়ে তাজমিরা ও দুই ছেলে মাহমুদ ফিরোজ ও ইমরান কলেজ ও কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। স্বামী ওসমান তরফদার ভ্যান চালান। পাঁচ বছর ধরে মিলশ্রমিকের চাকরি করেন। আঞ্জুয়ারা বলেন, এখানে সম্মান আছে কিন্তু ন্যায্য মজুরি নেই। কোনো কাজ নেই বলে বেছে নিয়েছি সুন্দরবন বস্ত্রকলের এই চাকরি। ভিটেবাড়ি বলতে সামান্য জমি আছে।

 

১৪ বছর ধরে দৈনিক টানা ৮ ঘণ্টা কাজ করেন সখিনা খাতুন। মজুরি পান ১১০ টাকা। স্বামী মোসলেম সরদার দিনমজুর। দুই ছেলে শাজাহান ও সুজন তারাও কাজ করে মাঠেঘাটে।

 

সখিনা জানান, এতগুলো মানুষের মুখের গ্রাস তুলে দিতে স্বামী-সন্তান সবাই মিলে কাজ করেও টেনে উঠতে পারছেন না। অভাবের কারণে মিলে এসেছেন। এই চুক্তিতে কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হবে তাদের।
শহরের কাটিয়ায় ভাড়া বাড়িতে কাজের জন্য থাকেন হাসিনা খাতুন। হাসিনার দিনপ্রতি আয় ১১০ টাকা আর ভ্যানচালক দিনমজুর স্বামীর কোনো দিন আয় ১০০ টাকা কোনো দিন কম অথবা বেশি। নিজের জমি বলতে কিছুই নেই হাসিনার। কাজের খোঁজে সাতক্ষীরায় এসে সুন্দরবন বস্ত্রকলে চাকরি নেন তিনি। সংসারে অভাব লেগেই থাকে। অসুখ-বিসুখ তো আছেই। এভাবেই কাটে আট বছর। হাসিনা বলেন, বস্ত্রকলে কাজ করতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনায় পড়েছি। শাড়ি, ওড়না অনেক সময় মেশিনে পেঁচিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছি।

 

সাতক্ষীরার অদূরে নলকূড়া গ্রামের দুই কাঠা জমিতে মনোয়ারার বসতভিটা। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে ছেলে দিনমজুর আর মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। ঘরে স্বামী আবদুল মজিদ ও শাশুড়িও অসুস্থ। সাত বছর ধরে মিলে কাজ করেন মনোয়ারা। মনোয়ারা বলেন, ১১০ টাকায় সংসার চলে না।

 

ইটাগাছার সুচিত্রা মণ্ডল সুন্দরবন বস্ত্রকলে শ্রমিক, স্বামী নির্মল মণ্ডল পৌরসভা, আর ছেলে সমীর মণ্ডল হাসপাতালের সুইপার হিসেবে কাজ করে।

 

সুচিত্রা বলেন, আশাশুনির বলাবাড়িয়ায় শ্বশুরবাড়ি। সেখানে কাজ না থাকায় সাতক্ষীরায় চলে আসি সপরিবারে। মাত্র ১০০ টাকায় দিনমজুর খেটে সংসার চালিয়েও দেড় শতক জমি কিনে ছোট্ট একটি বাড়ি করেছি। কিন্তু এত শ্রম দিয়েও ন্যায্য মজুরি পাই না।

 

সাতক্ষীরার দেবনগরের আকলিমা খাতুন এক ছেলে, এক মেয়ের মা। কালিগঞ্জের শ্বশুরবাড়িতে কোনো সহায় সম্পদ নেই। স্বামী জিল্লুর দিনমজুরি খেটে যা আয় করে তার সঙ্গে নিজেরটা মিলিয়ে বাপের ভিটেতেই রয়েছেন তিনি। আকলিমা বলেন, দৈনিক ১০০ টাকা মজুরিতে কাজ করি। সকাল ৬টায় তিন কিলোমিটার হেঁটে মিলে কাজ করতে আসি। এই মিলে দুই শতাধিক নারী শ্রমিক রয়েছেন। সবার অবস্থায়ই তার মতো। রাষ্ট্রায়ত্ত এই মিলটি বর্তমানে সার্ভিস চার্জের ভিত্তিতে চালু থাকায় তারা সামান্য টাকা মজুরি পান।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৪ জুলাই ২০১৪ই

ঈদের সকালে হালকা মেকআপ

pinku

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: ঈদ মানেই আনন্দের দিন। আর এই আনন্দের দিনে নতুন পোশাকের সাথে একটু সাজগোজ না করলে কি হয়? আর তাই ঈদের দিনকে কেন্দ্র করে পার্লার গুলো রেখেছে সাজের নানান অফার। কিন্তু পার্লারে গিয়ে সাজতে হলে তো প্রয়োজন অনেক অর্থ এবং সময়ের। ইচ্ছে করলে নিজেই করে নিতে পারবেন ঈদের সকালের মেকআপ। জানতে চান কীভাবে? জেনে নিন ঈদের সকালের মেকআপের সহজ পদ্ধতি –

 

প্রথমে পুরো ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করে মুছে নিন। এরপর ত্বকের রং এর সাথে মিলিয়ে ন্যুড রং এর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি ফাউন্ডেশন ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন তাহলে গার্নিয়ার বি বি ক্রিম অথবা ত্বকের রং এর সাথে মিলিয়ে প্যানকেক ও ব্যবহার করতে পারেন বেস মেকআপের জন্য। বেস মেকআপ অবশ্যই ভালো করে মিশাবেন।

 

চোখের উপরে পাতায় কাজল একে নিন। এতে চোখের পাতা বেশ ঘন মনে হবে। এরপর চোখের পাতায় লাইট গোল্ডেন আই শ্যাডো দিন। ভালো করে মিশিয়ে নিন ব্রাশ দিয়ে। ব্রাউন আই শ্যাডো চোখের পাতার মাঝের ভাজের বাইরের ও ভেতরের দিকে লাগিয়ে নিন। মাঝের অংশ বাদ দিয়ে লাগাবেন।

 

এরপর একটি ব্রাশ দিয়ে ভালো করে আই শ্যাডো মিশিয়ে নিন। এতে ন্যাচারাল লুক আসবে। এরপর আগের স্থানেই আরেকটু গাঢ় ব্রাউন আই শ্যাডো লাগিয়ে আবারও মিশিয়ে নিন।

 

চোখের পাতায় কালো আইলাইনার দিন পছন্দের শেপে। এরপর ইচ্ছে করলে আইলাইনার এর নিচে রুপালী আই লাইনার অথবা সাদা কাজল দিয়ে চিকন করে টান দিয়ে নিন। এর নিচে আবার কালো আইলাইনার দিয়ে চিকন লাইন একে দিন। এতে উৎসবের আমেজ আসবে সাজে। এরপর চোখের নিচে ব্রাউন আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। চোখের উপরের ও নিচের পাপড়িতে মাসকারা লাগিয়ে নিন। ইচ্ছে করলে আইল্যাশ গ্লু দিয়ে আইলাইনারের পাশে স্টোন লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে পার্টি না থাকলে স্টোন না লাগানোই ভালো।

 

চোখের নিচের কোলে কালো কাজল লাগিয়ে নিন। এরপর পুরো মুখে লুস পাউডার লাগিয়ে নিন। আরেকটু গর্জিয়াস লুক চাইলে সামান্য শিমার মিশিয়ে নিতে পারেন। এরপর মুখের আকৃতি আরেকটু সুন্দর ও স্লিম দেখাতে গালের দুই পাশে ব্রোঞ্জার ব্যবহার করুন। এরপর গালের উপরে হালকা গোলাপি অথবা পিচ ব্লাশন লাগিয়ে নিন। আপনার নাক যদি খাঁড়া না হয় তাহলে নাকের দুই পাশেও সামান্য খয়েরী রং এর ব্লাশন লাগিয়ে নিন। এতে নাক খাড়া দেখাবে। সব শেষে ঠোটে লাগিয়ে নিন লাল অথবা কমলা রং এর লিপস্টিক। ব্যাস হয়ে গেলো আপনার ঈদের দিনের সকালের মেকআপ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৯ জুলাই ২০১৪ই.

ঈদে নকশা'য় নানা নকশার ফার্নিচার

C5Edh

অপরাজিতাবিডি ডটকম: ঈদ উপলক্ষে নকশা ফার্নিচার লিমিটেড নিয়ে এসেছে নতুন ডিজাইনের ফার্নিচার। তাদের মিরপুরের শোরুমে সাজানো ফার্নিচারগুলো দেখে নিজের পছন্দ মতো বেছে নিতে পারেন। নকশা ফার্নিচার লিমিটেডের কার্যক্রম শুধু দেশেই না; তারা জাপান, যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, ইতালি, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে ফার্নিচার রপ্তানি করে আসছে সুনামের সাথে। ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে সুখ্যাতির সাথে ফার্নিচার জগতে অনন্য হয়ে উঠছে প্রতিষ্ঠানটি।

নকশা’র সেলস ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, নকশার স্লোগান হচ্ছে – “It’s All About Design”। আমাদের ফার্নিচারের ডিজাইন নান্দনিক ও শৈল্পিক। উন্নত কাঠ দিয়ে কাঠের ফার্নিচারগুলো তৈরি হয়।

গুণগত মানের ক্ষেত্রে নকশা কখনো কম্প্রোমাইজ করে না।

তিন আরো জানান যে তাদের রয়েছে হোম ফার্নিচার, অফিস ফার্নিচার, ডোর এন্ড ফ্লোর, কিচেন ইন্টারিওর আর গার্ডেন ফার্নিচারের কালেকশন। এগুলো তৈরি করা হয় চট্টগ্রামের কারখানায়।
হোম ফার্নিচারের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের সোফা, ডিভাইন, সেন্টার টেবিল, ওয়ার্ড্রব, ডায়নিং টেবিল, সোকেস, টিভি কেবনেট, মিনি কেবিনেট, কর্নার টেবিল, ডিনার ওয়াগন। রয়েছে অফিস ফার্নিচারের বিশাল সম্ভার।

DSC_0

 

ডিজাইন অনুযায়ী দামের রকমফের আছে। তবে ম্যানেজার ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে আমরা এবার ৪০% পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি। পাঠকরা দেখে আসতে পারেন নকশা ফার্নিচার লিমিটেডের ওয়েব সাইট থেকে তাদের বৈচিত্রময় ফার্নিচার কালেকশন। তবে শোরুমে গিয়ে দেখলে আপনি পাবেন কাঠের মান ও রঙ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা। আসছে ঈদে আপনার ঘর সাজিয়ে তুলুন নতুন ফার্নিচারে। ঈদ হোক আনন্দের। অগ্রিম ঈদ মুবারক।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৮জুলাই ২০১৪ই.

রঙের হাতব্যাগ কালেকশন

1

অপরাজিতাবিডি ডটকম : দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষে ১৯৯৪ সালের ২০’ শে ডিসেম্বর চার জন তরুণ রঙ ফ্যাশন হাউজ প্রতিষ্ঠা করেন। রঙ ফ্যাশন হাউজের প্রধান কার্যালয় নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে রঙ ফ্যাশন হাউজের ১১ টি শাখা রয়েছে। রঙ ফ্যাশন হাউজ মূলত একটি বুটিক হাউজ। ফ্যাশন হাউজটি বিশেষ কারুকার্য ও নকশার জন্য সুপরিচিত।

ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউজ রঙে এসেছে দারুণ জমকালো ব্যাগের একটা বিশাল কালেকশন। মার্কেট ঘুরে বোঝা গেল, অন্য যে কোন হাউজের চাইতে রঙের কালেকশনটাই সবচাইতে বেশি আকর্ষণীয় ব্যাগের ক্ষেত্রে। ডলার বসানো ও সুতার কাজ করা বটুয়া ব্যাগ ছাড়াও আকারে ছোট একাধিক পকেটবিশিষ্ট সুতায় বোনা পার্টি ব্যাগ পাওয়া যাবে এখানে। দাম ২৯০-৭০০ টাকা আছে হরেক রকম নকশা ও রঙের বাহার। আসুন, দেখি রঙের হাত ব্যাগ কালেকশন থেকে দারুণ কিছু ডিজাইন।

2

লেদারের তৈরি ভিন্ন ধর্মী ব্যাগ। দামটাও হাতের নাগালে।

3এই ব্যাগটিও লেদারের। তবে অনেক রঙে বাহারি।

8

দারুণ একটি হাল ফ্যাশনের ব্যাগ।
4
ভেলভেটের আভিজাত্য।
5
ব্যাগের কারুকাজে কাতান কাপড়ের ব্যবহার চোখে পড়ার মত।
6
নীল রঙের আধিক্য চোখে পড়ছে বেশ।
7
বহনে সুবিধা ও স্টাইলিশ।
 
অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৮ জুলাই ২০১৪ই.

 

 

তাদের ঈদ ব্যস্ততা

jori20140714194514শাড়িতে জরি ও পুঁতি বসানোর কাজ চলছে

 

 

তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও : আসন্ন ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কয়েকটি গ্রামের নারীরা। সংসারের কাজের পাশাপাশি দিনরাত পরিশ্রম করে শাড়ি ও বিভিন্ন কাপড়ে জরি, পুঁতি বসানোর কাজ করছেন তারা। প্রত্যাশা বাড়তি আয় করে সংসারে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য আনা। তবে মজুরি কম পাওয়ায় অনেকটাই হতাশ তারা।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ, মুন্সিরহাট, চিলারংসহ আশপাশের ৭টি গ্রামের ৭ শতাধিক নারী এখন হাতের কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। শাড়িতে জরি ও পুঁতি বসানোর কাজ করে সংসারে কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন এসব নারী।

 

সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে এই কাজ করছেন তারা। অভাবের সংসারে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে এমন অনেক কিশোরীও যুক্ত হয়েছে এই শিল্পের সঙ্গে। আবার স্বামীহারা অনেক নারী থেমে যাওয়া সংসারের চাকা সচল করতে নেমে পড়েছেন এই কাজে। তাদের নকশা করা হাজার হাজার শাড়ি প্রতিসপ্তাহে চলে যাচ্ছে রাজধানীর অভিজাত বিপণী বিতানগুলোতে। সেখানে প্রতিটি শাড়ি বিক্রি হয় ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

প্রতিটি শাড়িতে হাতের কাজ করতে সময় লাগে কমপক্ষে ৫ দিন। এ কাজ পেতে হলে শাড়িপ্রতি জামানত রাখতে হয় এক হাজার টাকা। কোনোভাবে শাড়ির কোনো ক্ষতি হলে সেখান থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। তাদের মজুরি দেওয়া হয় ১৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

 

সালেহা ও নাজনীন বেগম জানান, এ কাজে যে পরিশ্রম, সে অনুযায়ী মজুরি কম পাচ্ছি। তবে বসে না থেকে সংসারের প্রয়োজনেই এ কাজ করছি। এই শিল্পে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা এগিয়ে আসতো তাহলে সংস্থাটির পাশাপাশি আমরাও লাভবান হতে পারতাম।

 

মুন্সিরহাট এলাকার সাইফুল আলম জানান, সংসারে অভাব, তাই স্ত্রী এ কাজ করছেন। তবে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়া গেলে সংসারে স্বচ্ছলতা আসতো।

 

দরিদ্র এসব নারীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার যুবক সোহেল খান। তিনি শাড়িতে নকশার সিল বসিয়ে পাঠিয়ে দেন ঠাকুরগাঁওয়ের ওই নারী কর্মীদের কাছে। তারা সেই শাড়িতে নিপুণ হাতে জরি ও পুঁতি বসান। এই নারী কর্মীদের কাজ করা শাড়ি ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোরশেদ আলী জানান, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা হাতের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কিন্তু অনেক নারী তাদের শ্রমের নায্যমূল্য পাচ্ছেন না। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাইরের কাজ যোগাড় করা গেলে হয়তো তাদের কাছ থেকে ন্যায্য মজুরি পাওয়া যেত। তবে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউ এগিয়ে এলে এই নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লড়াই অনেকদূর অবধি যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৮ জুলাই ২০১৪ই.

এ কেমন বর্বরতা

(1)বর্বরতার শিকার গৃহবধূ জেসমিন (ছবি : লোকমান আলী )

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, লোকমান আলী, নওগাঁ : যৌতুকের দাবিতে নওগাঁর মান্দায় জেসমিন নামের এক গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিয়েছেন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন।

 

বর্বর এ ঘটনা ঘটিয়ে ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ডরা, এক শিশুসন্তানসহ জেসমিনকে পাঠিয়ে দিয়েছে তার বাবার বাড়িতে। ন্যায়বিচারের আশায় ওই গৃহবধূ মামলা করে আসামিদের হুমকি আর আতঙ্কে পার করছেন দিন।

 

এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হলেও পুলিশ এখনো ঘটনার মূল হোতা শাশুড়ি ও ননদকে আটক করতে পারেনি।

 

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের দিনমজুর আব্বাস আলীর মেয়ে জেসমিনের সাত বছর আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গ্রামের খলিলের ছেলে রুবেলের সঙ্গে। বিয়ের সময় আব্বাস আলী তার সহায়সম্বল বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন জামাই রুবেলের হাতে।

 

যৌতুকের এ টাকা কিছুদিনের মধ্য ফুরিয়ে গেলে শুরু হয় জেসমিনের ওপর আরো টাকা এনে দেওয়ার চাপ। জেসমিন জানিয়ে দেয় তার দরিদ্র বাবার পক্ষে আর কোনো টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে আরো বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা।

 

সবশেষ গত ১৩ জুলাই স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ যৌতুকের টাকা না পেয়ে জোরপূর্বক জেসমিনের মাথার চুল কেটে পাঠিয়ে দেয় বাবার বাড়িতে। বর্বর এ ঘটনায় জেসমিনের বাবা আব্বাস আলী মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ রুবেলকে আটক করে আদালতে দিয়েছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনার পর থেকে জেসমিনের শাশুড়ি রাহেলা বেগম এবং ননদ বেবী খাতুন পলাতক।

 

মান্দা ইউপি চেয়ারম্যান এজাজ আহম্মেদ হিন্দোল জানান, ঘটনার পর জেসমিনকে আইনগত সহায়তার জন্য সব রকম সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারী নির্যাতনের এমন বর্বর ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, মামলা করার পর আসামি রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুই আসামিকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.

মহেশপুরে শ্বাশুড়ীর অত্যাচারে স্বামীর ঘর ছাড়া আনেহার

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে অনন্তপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের কন্যা আনেহার খাতুন (২২) কে শ্বাশুড়ী অত্যাচার করে ঘর ছাড়া করেছে। জানা গেছে, উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মো. আলী হোসেনের পুত্র বাবুল হোসেন (২৫) এর সাথে গত ৪ জানুয়ারী ২০১৪ তারিখে ১ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্যে আনেহার খাতুনের বিবাহ হয়। কিন্তু বিবাহের ২ মাস পার হতে না হতেই পিতৃহারা আনেহার শ্বাশুড়ী কর্তৃক শারিরীক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতিত হয়ে বর্তমানে পিতার বাস গৃহে অবস্থান করছে।

 

পিতৃহারা আনেহারের সুখের কথা চিন্তা করে তার বড় দুলা ভাই মো. শুকুর আলী বাবুলকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও সংসারের যাবতীয় জিনিস দেয়। বিবাহের ১৫ দিন পর বাবুল ঢাকা চলে যায়। সেখানে সে গাড়ী চালায় বলে জানা গেছে। এদিকে আনেহারের অর্থলোভী শ্বাশুড়ী ফুলমতি খাতুন বউকে আরো যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে এমতাবস্থায় পিতৃহারা আনেহার টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার শ্বাশুড়ী শারিরীক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন শুরু করলে অতিষ্ট হয়ে সে পিত্রালয়ে ফিরে আসে। স্বামী আনেহারের কোন খোঁজ খবর রাখে না। এ ব্যাপারে অসহায় আনেহার ন্যায় বিচার পাবার জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.

যৌতুকের বলি হল কোটচাঁদপুরের মুক্তা রায় মিতু

nnn

অপরাজিতাবিডি ডটকম : যৌতুকের বলি হল মুক্তা রায় (মিতু)। তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার পায়তারা চালাচ্ছে স্বামী চিরঞ্জিত বিশ্বাস। মিতু কোটচাঁদপুর সলেমানপুরের ভজন রায়ের মেয়ে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

 

মিতুর পিতা ভজন রায় জানান, ২০০৮ সালের দিকে যশোরের মনিরামপুর খেদাপাড়া গ্রামের চিত্ত বিশ্বাসের ছেলে চিরঞ্জিতের সাথে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে দেয়া হয় নগদ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণাংলকার, কাপড়-চোপড়, ও আসবাবপত্র। বিয়ের প্রথম বছর তাদের সংসার জীবন ভালই কাটে। শুরু হয় জামাই চিরঞ্জিতের যৌতুক দাবী। মাঝে মধ্যে সে মেয়ে পাঠিয়ে কখনও ১০ হাজার, কখনও ২০ হাজার টাকার নিয়ে যেত। 

 

তবুও তাঁর যৌতুকের নেশা বন্ধ হয়। সে প্রায়ই মেয়েকে মারধর করত। গেল দুই বছর যাবৎ তাঁর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে। আর তার বহির প্রকাশ ঘটে গত ৯ জুলাই তাঁর নিজ বাড়ি খেদাপাড়ায়। মিতুকে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ী মিলে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আড়াই ঝুলিয়ে রাখে। পরে তারা আমাকে খবর দেয় তোমার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলাম মেয়ে মাটিতে শুয়ে আছে। বাড়িতে আর লোকজন নাই। তারা মেয়ে কে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। এরমধ্যে এলাকায় একটা বিষয় চাউর হতে থাকে। সেটা হল তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছে। যেন তারা বিষয়টি নিয়ে ঘাটা ঘাটি না করে। এদিকে মিতুর মা তাঁর শোকে পাগল প্রায়। আর পিতা ভজন রায় বিচারের আশায় ছুটছে সাংবাদিক, সমাজপ্রতি ও রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে। কারন তার অঘাত টাকা নেয়। টাকা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়তে পারবে না। এ ব্যাপারে মনিরামপুর থানায় অপমৃতুর মামলা হয়েছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.

নীলফামারীতে ছাত্রী নিবাসে কলেজ ছাত্রীর আত্নহত্যা

attohotta

অপরাজিতাবিডি ডটকম : নীলফামারীতে ঝণা রাণী রায় (১৯) নামের এক কলেজ ছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। সে নীলফামারী সরকারী অর্নাস কলেজের দর্শণ বিভাগের অর্নাস ১ম বর্ষের ছাত্রী ও জেলার ডিমলা উপজেলার সুন্দরখাতা গ্রামের সুবাস রায়ের মেয়ে। আজ বুধবার সকালে পুলিশ ঝর্ণার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। নীলফামারী থানার উপ-পরির্দশক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝর্না রায় জেলা শহরের কলেজপাড়া এলাকার বৃষ্টি ছাত্রী নিবাসে থেকে পড়ালেখা করতো। 

 

গতকাল মঙ্গলবার রাতে সে সবার অজান্তে ছাত্রী নিবাসের নিজরুমে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেছিয়ে আত্নহত্যা করে। আজ সকালে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে প্রেমঘটিত কারণে আত্নহত্যা করেছে। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৭ জুলাই ২০১৪ ই.

রঙ ফর্সা করার তিনটি সহজ উপায়

 1

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম: টানা রোজা রেখে রমজান মাসে চেহারার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেন অনেকেই। সেই সাথে বাইরে ঘোরাঘুরি, বাড়তি কাজের চাপ তো আছেই। সব মিলিয়ে ঈদের আগে কোথায় চেহারাটা একটু ভালো হবে, তা না হয়ে হয় উল্টো। ক্রমশ যেন আরও কালো হতে শুরু করেন আপনি। ঈদের আগে পার্লারে একদিনের রূপচর্চায় কি ফিরবে ত্বকের জৌলুস? একদম না। বরং খরচ হবে অনেকগুলো টাকা। তাহলে এখন উপায়?

 

উপায় আছে। আর তা হলো প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের রঙ ফর্সা করে নেয়া। কীভাবে করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত। রইলো তিনটি ফেস মাস্কের কথা। ঈদের আগে নিয়ম মেনে সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করুন এই ৩ টি। নিজের ত্বকের উজ্জ্বলতা দেখে অবাক হবেন নিজেই।

2

ঘরোয়া ব্লিচ:
ঘরোয়া ব্লিচ করা সবচাইতে সহজ কাজ। আর এই জন্য কেবল লাগবে টমেটো। চটজলদি রঙ ফর্সা করতে এই ব্লিচের জুড়ি নেই।

 

-টমেটোর ভেতর থেকে পাল্প বের করে ভালো মত চটকে নিন। একটু লেবুর রস মিশিয়ে পুরো মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। সাবান লাগাবেন না। দেখবেন চেহারাটা কেমন ঝলমলে হয়ে উঠেছে।
ফ্রুট মাস্ক

বাড়িতে বসে একসঙ্গে ত্বকে পরিষ্কার করতে, পোড়া ভাব দূর করতে, ক্লান্তি কাটাতে ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে রাখতে ব্যবহার করুন শশা ও তরমুজের মাস্ক।

কী কী লাগবে-
শশার রস ২ টেবিল চামচ
তরমুজের রস ২ টেবিল চামচ
টক দই ১ চা চামচ

 

-সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মুখে ভাল করে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানিতে ভাল করে মুখ ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। তরমুজ ত্বক পরিষ্কার করে। পোড়া ভাব তুলে টোনারের কাজও করে। ত্বকের কালো ভাব কাটায় শশাও। ত্বককে নরম ও টানটান রাখে দই।

 

প্রোটিন ফেসপ্যাক:
দই, কলা, ডিম-এই নামগুলো শুধু স্বাস্থ্যের পক্ষেই উপকারী নয়, ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও এদের কেরামতি কিছু কম নয়। এই প্যাক পার্লারের ফেসিয়ালের উজ্জ্বলতা এনে দেয় ত্বকে।

কী কী লাগবে-
অর্ধেক কলা
১টি ডিমের সাদা অংশ
দই ১ টেবিল চামচ

-কলা ভাল করে চটকে নিয়ে ডিমের সাদা অংশ ও দইয়ের সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। পুরো মুখে ভাল করে সমান ভাবে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা জলে মুখে ধুয়ে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ১৪ জুলাই ২০১৪ই.

রঙ ফর্সা করার ৩টি সহজ উপায়

ইফতারে ভিন্নধর্মী দুটি পানীয়

অপরাজিতাবিডি ডটকম: ইফতারের টেবিলে একটু প্রাণ জুড়ানো পানীয় খোঁজেন সবাই। আবার কেউ কেউ খোঁজে একটু মুখরোচক পানীয়। ধুই রকমের স্বাদের কথা মাথায় রেখেই আজ নিয়ে এলাম দুটি ভিন্ন স্বাদের পানীয়। একটি হচ্ছে মশালাদার নোনতা লাচ্ছি, এবং অপরটি মিষ্টি আম-কলা স্মুদি। খুব ঝটপট তৈরি হওয়া পানীয় দুটির রেসিপি জেনে নেই চলুন।

1

আম-কলা স্মুদি

উপকরণ : আমের রস দুই কাপ, কলা চারটা, চিনি ২০০ গ্রাম, দুধ ১ লিটার, আইসক্রিম পছন্দমতো।

 

প্রণালী : আইসক্রিম ছাড়া অন্য সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। গ্লাসে ঢেলে আইসক্রিম ওপরে দিয়ে পরিবেশন করুন।

 

2

নোনতা লাচ্ছি
উপকরণ : টকদই তিন কাপ, পানি এক কাপ, কাঁচামরিচকুচি একটা, ভাজা জিরাগুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ ও গোলমরিচ স্বাদ অনুসারে, পুদিনাপাতা সাজানোর জন্য।

 

প্রণালী : প্রথমে ব্লেন্ডারে দই ও পানি নিয়ে বেল্ড করুন ২ মিনিট। এবার বাকি সব উপকরণ দিয়ে আরো ৫ মিনিট ব্লেন্ড করুন। বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ১৪ জুলাই ২০১৪ই.

এই ঈদে ব্যালেরিনার ফ্যাশন

n

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : ব্যালেরিনা স্যু গুলো বেশ কয়েকবছর ধরেই তরুণীদের পছন্দের তালিকা জুড়ে আছে। বেশ আরাম ও দেখতে অনেক ট্রেন্ডি বলে ব্যালেরিনার ফ্যাশনটা একটুও বিবর্ন হচ্ছে না। ব্যালেরিনাকে অনেকেই পাম্প স্যু ও বলে। তবে ব্যালেরিনার আসল নাম কোর্ট স্যু। পাশ্চাত্যে ব্যালে ডান্সের সময়ে ব্যালেরিনা স্যু এর ব্যবহার হত। সেই থেকে ব্যালেরিনা জুতো ফ্যাশনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে।
নানান রকমের ব্যালেরিনা পাওয়া যায় মার্কেটে। হিল সহ, ফ্ল্যাট, ওয়েজ হিল, গ্লাস বা এক ইঞ্চির ছোট্ট হিল যুক্ত ব্যালেরিনা পাওয়া যায় ছোট বড় জুতার দোকান গুলোতে। ডিজাইনেও আছে নানান রকমের বৈচিত্র্য। কোনোটা সামনে কিছুটা খোলা আবার কোনোটা বন্ধ। ব্যালেরিনার সামনের দিকের আকারকে ওপেন টো, ক্লোজ টো, পয়েন্টি টো, রাউন্ড টোসহ নানান রকম নামে অভিহিত করা হয়। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মনে রেখে লাল, নীল, কালো, হলুদ, গাঢ় সবুজ, সাদা সহ আরো নানান রং এর ব্যালেরিনা পাওয়া যাচ্ছে। প্রিন্ট, মেটাল, পুঁতি, বিডস প্রভৃতি দ্বারা অলংকৃত করা হচ্ছে ব্যালেরিনাকে।

 

যে সব বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবেঃ
জুতো কেনার সময়ে দেখে কিনুন আরামদায়ক কিনা। যাদের পা সামনের দিকে চওড়া তারা ব্যালেরিনা পরে সাধারণত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সামনের দিকে খোলা ব্যালেরিনা করলে অবশ্যই পায়ে নেইলপলিশ দিতে হবে। নাহলে জুতোর সৌন্দর্য পুরোই মাটি হয়ে যাবে। জমকালো পার্টি ছাড়া বেশি কাজ করা গর্জিয়াস ব্যালেরিনা না পরাই ভালো।
সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে একটু চোখা আছে সামনে, এ ধরনের ব্যালেরিনা ভালো লাগে। এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে কিটেন হিল ও সেমি ওয়েজেস ব্যালেরিনাও মানানসই হবে।

DRVFDH5

যেখানে পাবেনঃ
বসুন্ধরা সিটি, পিঙ্ক সিটি, মেট্রো শপিং মল, নাভানা টাওয়ার, উত্তরা আরএকে টাওয়ার, পলওয়েল কার্নেশন, অটোবি-ক্লোজেট(গুলশান শো-রুম), ক্যাটস আই, স্পোর্টস গিয়ার, বাটা( বড় শো-রুম গুলোতে), অ্যাপেক্স গ্যালারি, এছাড়া বিভিন্ন বড় শপিং-মলগুলোতে পেয়ে যাবেন এ ধরণের জুতা। এছাড়াও ফেসবুকে কিছু অনলাইন শপিং পেজ আছে যারা ঢাকা ও বাংলাদেশের মধ্যে ডেলিভারি করে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ১৪ জুলাই ২০১৪ই.

রাজশাহীতে বাহারি নামে মেয়েদের পোশাক

 

Rajshahi-Eid-Market-Inner

 

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী: ময়ুরপঙ্খী, পাখি, লুঙ্গি ড্যান্স, মধুবালা, পানকৌড়ি, মনিকা, দীপিকা ও কারিনা- এগুলো কোনো টেলিভিশনের সিরিয়াল কিংবা সিনেমার নাম নয়। মেয়েদের বাহারি ডিজাইনের পোশাকের নাম। এ সব পোশাক নিয়ে রাজশাহীতে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। ঈদ বেশ দূরে থাকলেও এখন থেকেই বাড়তে শুরু করেছে মেয়েদের পোশাক কেনার ব্যস্ততা।

 

অনেকে আবার পোশাক পছন্দ করে রাখছেন আর কিছুদিন পর কেনার জন্য। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকায় বিপণিবিতানগুলোতে শিক্ষার্থীদের পদচারণা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাদের কেউ আসছেন পোশাক দেখতে আবার কেউ আসছেন কিনতে।

 

বিক্রেতারা জানান, জমতে শুরু করেছে ঈদ বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই নগরীতে আসছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। নগরীর মেয়েদের পোশাকের দোকনগুলোতে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

 

রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের গোল্ডেন কালেকশনের সেলসম্যান কনক জানান, ভারতীয় বিভিন্ন অভিনেত্রীর নামে মেয়েদের পোশাকের চাহিদা বেশি। যেমন- আনারকলি, আদিতি, পাখি, ময়ুরপঙ্খী, লুঙ্গি ড্যান্স, মধুবালা, পানকৌড়ি, মনিকা, দীপিকা ও কারিনা ইত্যাদি। দাম ১৫শ’ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে দেশীয় পোশাকের দাম তুলনামূলক কম। ৩০০ থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এ সব পোশাক।

 

তিনি আরও জানান, শিশুদেরও পোশাক রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন সিনেমা, সিনেমার গানের নামে। যেমন- বেবি ডল, চেন্নাই এক্সপ্রেস, স্কুভি ফ্রগ ও ফ্লোর টার্চসহ বিভিন্ন নামের পোশাক। এগুলোর দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

নগরীর হেতেম খাঁ এলাকার রাজশাহী কলেজের এইচএসসির ছাত্রী সাদিয়া আফরিন জানান, পোশাকের দোকানে এসে ভারতীয় নাম দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি। কারণ আমাদের দেশের পোশাক কারখানার পোশাকের সুনাম সারা বিশ্বে রয়েছে। এ সব পোশাক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। অথচ আমরা আমাদের পোশাকে কোনো দেশিও নাম রাখছি না, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই.

স্বামীর ঘরে তালাবন্দি ৪৩ বছর!

bagerhat20140630213608

আরিফ সাওন : স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন শেখ নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির ছোট স্ত্রী পারভীন আকতার। পরে নুর মোহাম্মদ তার অনুগতদের সহযোগিতায় পারভীনকে ধরে এনে শিকলে বেধে রাখেন। আর পর্দার দোহাই দিয়ে বড় স্ত্রী কুলসুম বেগমকে ৪৩ বছর ধরে ঘরে তালাবন্দি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে।

 

বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কাছে গত ২৬ জুন এই অভিযোগ করেন শেখ নুর মোহাম্মদের ছেলে বাকি বিল্লাহ। তিনি  তার এই দুই মা’কে উদ্ধার করার আবেদন জানিয়েছেন।

 

অভিযোগ পেয়ে বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা ও সহকারী পুলিশ সুপার (বাগেরহাট সদর) সাদিয়া আফরোজ বাগেরহাট সদরে সরুই এলাকায় নুর মোহাম্মদের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নুর মোহাম্মদ সরুই খানকা শরীফের খাদেম। তিনি নিজেকে পীর বলে দাবি করেন। তার অনেক মুরিদ আছেন।

 

বাকি বিল্লাহ লিখিত অভিযোগে বলেছেন, তার বাবার দুই স্ত্রী। বাবা তাদেরকে কখনো ঘরের বাইরে বের হতে দেন না। সবসময় বাইরে থেকে ঘর তালা দিয়ে রাখেন, তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। শরীরে অলংকার তো দূরের কথা প্রয়োজনীয় জিনিসও দেন না। বাইরের কাউকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন না। কোন আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বা দেখা-সাক্ষাৎ করতে দেন না।

 

বাকি বিল্লাহ আরো বলেছেন, তার বোনরাও ঘরের বাইরে যেতে পারেন না। তাদেরকে লেখাপড়া করার সুযোগ দেয়া হয় নি। বড় বোন ফাতেমা আকতারের বয়স প্রায় ৩৫। ফাতেমা ও আরেক বোন ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। কঠোর পর্দায় রাখতে পারবে- এমন ছেলে না পাওয়ায় দুই বোনকে আজো বিয়ে দেয়া হয় নি।

 

সহকারী পুলিশ সুপার সাদিয়া আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি ২৯ জুন ওই বাড়ি গিয়েছিলেন। বাড়ির একটি ভবন দুই কক্ষের। কোন কক্ষেই জানালা নেই। একটি কক্ষে বাতি নেই। নেই কোন আসবাবপত্র। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকে। এগুলো বাস করার উপযোগী নয়।

 

সাদিয়া আফরোজকে পেয়ে নুর মোহাম্মদের বড় স্ত্রী কুলসুম বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। কুলসুম বেগম তাকে জানান, তিনি বিয়ের পর থেকে ৪৩ বছর তালাবন্দি অবস্থায় আছেন।

 

বাকি বিল্লাহ ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে এই লেখকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন করে জানান, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়ায় তার বাবা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। বাকি বিল্লাহ তার বাবার হাত থেকে দুই মা ও বোনদের রক্ষার দাবি জানান।

 

এ ব্যাপারে নুর মোহাম্মদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তাকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন।

 

বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা জানিয়েছেন, নুর মোহাম্মদকে তিনি ডেকেছিলেন। পুরো বিষয়টি নুর মোহাম্মদ অস্বীকার করেছেন। এ সময় ওই ওয়ার্ডের কমিশনার তার অনুকুলে কথা বলতে এসেছিলেন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘এটা এক ধরনের ব্যাধি। এ থেকে তাদেরকে উদ্ধার করতে হবে।’

 
লেখক : বাগেরহাটের স্থানীয় সাংবাদিক।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই.

বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল মৌসুমি

Child-Marriage20140712095404

অপরাজিতাবিডি ডটকম, দিনাজপুর : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনিরুজ্জামান আল মাসউদের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল মৌসুমি ( ১২)। মৌসুমি উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যাললের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। দুর্গাপুর গ্রামের মদন কর্মকারের মেয়ে সে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুর মশাই পঞ্জিকা অনুযায়ী ৪ জুলাই শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে বিয়ের লগ্ন ছিল । সেই কথা অনুসারে বিয়ের প্রস্তুতি শেষ। বরপক্ষও হাজির। প্রাথমিক বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ।

 

বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ডেভেলপ দ্য ভিলেজের (ডিভি) নির্বাহী পরিচালক মোরশেদ মানিকের আন্তরিক সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলামকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। বিরামপুর থানার এসআই শামসুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মদন কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। মৌসুমির বাবা মদন কর্মকারকে আটক করা হয়। এ অবস্থা দেখে বরপক্ষের লোকেরা বরসহ পালিয়ে যায়।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনিরুজ্জামান আল মাসাউদ বাল্যবিবাহ দেবেন না বলে লিখিত মুচলেকা নেন। সেই সঙ্গে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করে মৌসুমির বাবাকে ছেড়ে দেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মনিরুজ্জামান আল মাসাউদ এনজিও নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই.

গাসিকের নারী কাউন্সিলর নিখোঁজ

3

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, গাজীপুর : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পারভীন আক্তার শুক্রবার সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। রাতে তার স্বজনেরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পারভীন আক্তারের বাড়ি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায়।

 

কাউন্সিলরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারভীন আক্তারের মুঠোফোনে শুক্রবার সকালে একটি ফোন আসে। পরে তিনি বাড়িতে বলে যান, পানিশাইল ব্যাটারি ফ্যাক্টরির পাশে একটি গ্রাম্য সালিশ আছে। সেখানে যাচ্ছেন বলে তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

 

কিন্তু রাত হয়ে গেলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় রাত ৯টার দিকে তার স্বামী মিনহাজ উদ্দিন জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

 

পারভীনের ভাই মো. রফিক মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিকেলের পর থেকে যেসব আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে তার যাওয়ার সম্ভবনা আছে; সেসব স্থানে তাকে খোঁজা হয়েছে। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান জানান, পারভীন আক্তারকে উদ্ধার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১২ জুলাই ২০১৪ই

রমজানে পানিশূন্যতা

drinking-water

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা :  পানি আমাদের শরীরের জন্য অতীব দরকারি উপাদান। সারাদিন একজন ব্যক্তির কমপক্ষে ৭-৮ গ্লাস পানি পানকরা দরকার হয়। তা না হলে তিনি পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হন। যা তার স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। শরীর-মন দুর্বল হয়ে যায়। রমজানের সময় আমাদের সারাদিনই পানি না পান করে থাকতে হয়। এর শারীরিক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে রমজানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগাযোগের কারণে রোজাদাররা মানসিক শক্তিতে বিষয়টি এড়িযে যান। কিন্তু ঠিকই শরীরে এর প্রভাব পড়ে, অস্বস্তি জাগায়।

পর্যাপ্ত পানি পান না করা শুধু পানিশূন্যতা তৈরি করে তা নয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিবিধ সমস্যা হয়। শরীরের পর্যাপ্ত পানি নেই তা বোঝার সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং। প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীরে পানি নেই। বিশেষ করে রমজানে এটি দেখা যায়।

রমজানে যেভাবে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করবেন

– লবণাক্ত, বেশি মিষ্ট, ভাজা ও মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। এ সবের জন্য শরীরে বেশি পানির দরকার পড়ে।
– প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করুন। ইফতারে দুই গ্লাস পানি পান করুন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রতিঘণ্টায় কমপক্ষে ১ গ্লাস করে পানি পান করুন। সেহেরিতে বেশি পানি পান করতে ভুলবেন না।
– যদি ব্যায়াম বা বাইরের গরমে কাজ করেন তবে শরীর প্রচুর পানি হারায়। এ ক্ষেত্রে শরীরে বেশি পানি দরকার হয়।
– খাবার তালিকায় তাজা মাছ ও সবজি রাখুন। এ সব খাবারে প্রচুর পানি আছে। ইফতারের পর সালাদ ও তাজা ফল ডেজার্ট হিসেবে খেতে পারেন।
– দোকানের মিষ্টি জুসের চেয়ে ঘরে তৈরি তাজা ফলের রস পান করুন।
– ইফতারে স্যুপ খেতে পারেন। এটা পানিশূন্যতা দূর করার ভাল উৎস।
– ইফতারের দুই ঘণ্টা পর এককাপ কফি খেতে পারেন।
– সেহেরিতে সুষম পুষ্টি বজায় রাখুন।

অনেকের মধ্যে একটি ধারণা আছে- সেহেরিতে বেশি পানি পান করলে সারাদিন আর তৃষ্ণা পাবে না। ধারণাটি কি ঠিক?

এটা ঠিক যে, সেহেরির সময় প্রচুর পনি পান করলে তা আমাদের তৃষ্ণা দূরে সাহায্য করে। পানি ছাড়া অনেকটা সময় টিকে থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এটি সারাদিনের তৃষ্ণা দূর করবে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১২ জুলাই ২০১৪ই.

ঝটপট ঈদের রান্না

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : চা আর ডিমভাজি ছাড়া আর কিছু হয়তো কোনো দিন বানাননি, তাই বলে কি ঈদের দিন বিশেষ কিছু তৈরি করবেন না! রান্না একদম না জানলেও ক্ষতি নেই। জেবুন্নেসা বেগম জানিয়েছেন কীভাবে খুব সহজে বানাতে পারেন মজাদার কিছু খাবার।
 42eed0108b18e06082cbc900420fa466-9

ইয়োগার্ট স্টাফড মার্বেল ব্রেডইয়োগার্ট স্টাফড মার্বেল ব্রেড
উপকরণ: মার্বেল ব্রেডের স্লাইস ৪টা, টক দই ১ কাপ, পুদিনাপাতা কুচি ৩ টেবিল চামচ, লেবুর খোসা কুচি পোয়া চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া পোয়া চা-চামচ।

 

প্রণালি: টক দইয়ের পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার টক দইয়ের সঙ্গে পুদিনাপাতা কুচি, লেমন রাইন্ড ও গোলমরিচের গুঁড়া মেশাতে হবে। এবার মার্বেল ব্রেডের ভেতর ঢুকিয়ে পছন্দমতো টুকরা করে পরিবেশন।

2fad3e486d7ea739cd34afcbcd071355-8

কোল্ড কফিকোল্ড কফি
উপকরণ: দুধ ১ কাপ, কফি ১ চা-চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, ক্রিম ১ টেবিল চামচ, বরফ কুচি (পছন্দমতো) ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: ব্লেন্ডারে দুধ নিয়ে এর সঙ্গে চিনি ও কফি ঢেলে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এবার ক্রিম দিয়ে আবার ব্লেন্ড করে নিন। বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন।

ff265c9882a6bc140a5b1e89b5a5469a-10

সসেজ নুডলস স্যুপসসেজ নুডলস স্যুপ
উপকরণ: মুরগির মাংসের স্টক ৪ কাপ, টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, চিকেন সসেজ ৫টা, লম্বা নুডলস পরিমাণমতো, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, আদা কুচি ১ চা-চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ (টুকরা) আধা কাপ, গোলমরিচ গুঁড়া সামান্য, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, লবণ সামান্য।

 

প্রণালি:

সসেজ এক ইঞ্চি আকারে কেটে নিতে হবে। নুডলস তিন ইঞ্চি লম্বা করে ভেঙে নিতে হবে। এবার প্রতিটি সসেজের ভেতর পাঁচ-ছয়টা করে নুডলস ঢুকিয়ে নিতে হবে। মুরগির স্টক গরম করে তাতে কর্নফ্লাওয়ার ও কাঁচা মরিচ ছাড়া বাকি সব উপকরণ ও নুডলস সসেজ দিয়ে দিতে হবে। কর্নফ্লাওয়ার সামান্য পানি দিয়ে গুলে তাতে দিয়ে দিতে হবে। সবশেষে কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। গরম গরম পরিবেশন করুন।

b72a782

ট্রায়ফল পুডিংট্রায়ফল পুডিং
উপকরণ: ভ্যানিলা আইসক্রিম ১ কাপ, কেক ১ কাপ, আপেল আধা কাপ, আঙুর ২ টেবিল চামচ, আম আধা কাপ, পছন্দমতো ফল আধা কাপ।
প্রণালি: কেক ছোট ছোট কিউব করে কেটে নিতে হবে। আপেল, আম ও অন্যান্য ফল কিউব করে কেটে নিতে হবে। বাটি বা গ্লাসে কেকের টুকরা বিছিয়ে এর ওপর ফল দিতে হবে। ওপরে আইসক্রিম দিতে হবে। পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন। প্রথম আলো

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিনিধি/আরএ/এ/১১ জুলাই ২০১৪ই.

কুড়িগ্রামে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

Rape

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, কুড়িগ্রাম  : কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ১২দিন পর প্রকাশ হয়েছে। গত ২৭ জুন দুপুরে ভুরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।

 

জানা গেছে গত ২৭ জুন ৬ বছরের শিশুকন্যাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে তার জেঠাতো ভাই আলমগীর হোসেন (১৮) বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাঁশ ঝাড়ের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করার পর স্থানীয় মাতবররা ঘটনা মীমাংসার কথা বলে পরিবারটিকে মামলা করা থেকে বিরত রাখে। কিন্ত মেয়েটির অবস্থা সংকটাপন্ন হলে পরের দিন (২৮ জুন) তাকে ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐদিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধর্ষিতা শিশুটিকে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে প্রেরণ করে।

শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই স্থানীয় প্রভাবশালীরা দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে। প্রথমে ১৬ শতক জমি দিয়ে আপোষ করার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে আরেক দফা বৈঠকে তা কমিয়ে ৫ শতকে আনা হয়। এই ৫ শতক জমি দেবার কথা বলে আপোষনামায় স্বাক্ষর নেয়া হলেও এখনও জমি রেজিষ্ট্রি করে না দেওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ হয়। ধর্ষিতা শিশুটি বর্তমানে ভয়ে মামার বাড়িতে অবস্থান করছে।

 

ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবু সায়েম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান , শিশুটি আসার পর আমরা এন্ট্রি করে রির্পোটের জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি হাসান ইনাম জানান, অভিযোগ প্রকাশ হবার পর আমরা ধর্ষককে গ্রেফতার করেছি কিন্তু মেয়েটির পরিবার এখনও মামলা করছেনা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিনিধি/আরএ/এ/১১ জুলাই ২০১৪ই.

দেশ-বিদেশে ধুনটের নারীদের তৈরি টুপি

Bogra-Cap

 

আলমগীর হোসেন, বগুড়া : এক সময় ধুনট উপজেলার অনেক নারী সংসারের কাজ সেরে দিনের অনেকটা সময় ঘরে বসে বা পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প গুজবে কাটাতেন। এখন তারা টুপি সেলাইয়ে এত ব্যস্ত যে, কারও সঙ্গে কথা বলার সময় নেই। তবে ঈদের আগে ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। টুপি তৈরিতে শুধু গৃহিনীরাই নন, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরাও ব্যস্ত।

 

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, টুপি সেলাই করার এসব দৃশ্য। তাদের তৈরি টুপি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির পাশাপাশি রফতানি হচ্ছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এখানকার ২১৫টি গ্রামের প্রায় ৭৫ হাজার নারী টুপি সেলাইয়ে যুক্ত। আয় করে সংসারে কাজে লাগাচ্ছেন ও শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন। সেলাই কাজে ব্যস্ত মহিলারা জানান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার কারণে এখন টুপির চাহিদা বেশি।

 

চৌকিবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ মোমেনা খাতুন বলেন, ‘ছেলের বাবার একলার কামাই দিয়া আগে আমাগোরে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছিল। কিন্তু এখন আর আমাগোরে তেমন কোনো কষ্ট করতে হচ্ছে না।’ তিনি ৫-৬ বছর আগে থেকে টুপি সেলাই শুরু করেছেন। ঘরের কাজ শেষ করেও দৈনিক ৩-৪টা টুপি সেলাই করেন। তিনি জানান, টুপি বিক্রিতে হাটে-বাজারে যেতে হয় না। বাড়িতেই পাইকারারা এসে প্রতি সপ্তাহে টুপি কিনে নিয়ে যায়। সব খরচ বাদে প্রতিমাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় হয়।

 

ওই গ্রামের রাশেদা খাতুন বলেন, ‘আগে হাত খরচের ৫/১০ টাকা স্বামীর কাছ থেকে চেয়ে নিতে হতো। অভাবের সংসারে কোনো কোনো দিন ৫ টাকাও দিতে পারত না। কিন্তু যখন থেকে টুপি সেলাই শুরু করছি, তখন থেকে আর কারও কাছে হাত পাততে হয় না।’ তিনি প্রতিমাসে প্রায় ৩ হাজার টাকা আয় করেন।

 

timthumb

 

মোমেনা ও রাশেদা খাতুনের মতো ওই গ্রামের গৃহবধূ লাকি, সনি, কুলসুম, রানু, পারুলসহ আরও অনেকেই টুপি সেলাই করে এখন স্বাবলম্বী। চৌকিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সাথি খাতুন মায়ের কাছে টুপি সেলাই শিখেছে। এখন প্রতিমাসে ৩০টি টুপি সেলাই করে ৫/৬শ’ টাকা আয় হয়। লেখাপড়ার খরচ বাবা-মার কাছ থেকে নিতে হয় না। ধেরুয়াহাটি গ্রামের নিবারন চন্দ্রের মেয়ে রত্না রায় টুপি সেলাইয়ের টাকা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। রত্না গত বছর মথুরাপুর জিএমসি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

 

টুপি সেলাইয়ের কাঁচামাল সুতা ও ক্রুস কাটা পাইকাররা সরবরাহ করেন। ক্রুস কাটার দাম ২৫ টাকা ও সুতার ডলার ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কারও টাকা না থাকলেও বাকিতে কাঁচামাল যোগান দেন তারা। পরে টুপি কেনার কাঁচামালের দাম কেটে রেখে বাকি টাকা দেন।

 

চালাপাড়া গ্রামের পাইকারী ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে গ্রামে গ্রামে সুতা ও ক্রুস কাটা সরবরাহ করতে হয়। পরের সপ্তাহে সেলাই করা টুপি কিনে আনি। প্রতিটি টুপির দাম প্রকারভেদে ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়। আগে শুধু এক ডিজাইনের টুপি তৈরি হতো। এখন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে টুপিরও বাহারি নাম ও ডিজাইন দেওয়া হয়েছে। যেমন- নব্বইফুল, কলারফুল, বকুলফুল, তালাচাবি, স্টার, গুটি, বিস্কুট, আনারস, মৌচাক ও মাকড়শার জাল। সবচেয়ে বেশি দাম নব্বইফুল ও আনারসের। নব্বইফুলের দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আনারস ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মৌচাক ২৮ থেকে ৩০ টাকা, মাকড়শার জাল ২০ থেকে ২৫ টাকা, বিস্কুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব টুপি ঢাকার চকবাজার, বাইতুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করেন। সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রেও রফতানি হয়।’

 

টুপি তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ধুনট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ফর পুওর পিপলস (ডিসিপি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। ডিসিপি টুপি সেলাই প্রকল্পটি তত্ত্বাবধায়ন ও সহজ শর্তে উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এর নির্বাহী পরিচালক এনামুল বারী সরকার বলেন, ‘পাইকারদের তুলনায় আমরা কমদামে ভালো সুতা সরবরাহ করি এবং বেশি দামে টুপি ক্রয় করে থাকি। তাছাড়া নতুন নতুন বিভিন্ন ডিজাইনের টুপিসহ কারুশিল্প বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। টুপি সেলাইয়ের পাশাপাশি কারুশিল্পে প্রশিক্ষিত দরিদ্র মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।’

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ১০ জুলাই ২০১৪

কাকডাকা ভোরেই কাজে ছুটতে হয়

2_119288

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : স্বামীর আয়ে স্কুলগামী একমাত্র সন্তান সাব্বিরের লেখাপড়া চালানো সম্ভব নয়। কাকডাকা ভোরে ছালমাকে ছুটতে হয় কাজে। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারকেল খোলার কাজ।

 

মা-মনসা ডাল ও তেল মিলের শ্রমিক ছালমা বেগম বলেন, সংসারে সচ্ছলতা আনতে পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি। দিনমজুর স্বামীর প্রতিদিন কাজ জোটে না। প্রতিদিন দুই ঘণ্টায় প্রায় ২শ’ নারকেল খুলতে পারি। এরপর বাড়ি গিয়ে রান্নাবান্না করে খেয়ে-দেয়ে বিকেল ৪টায় এসে রাত পর্যন্ত কাজ করি। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬শ’ নারকেল খুলতে পারি। নারকেল খুলে মজুরি পাই একশ’ থেকে ১২০ টাকা। বিসিকের বিভিন্ন মিলে কখনও ডাল ভাঙা, কখনও নারকেল খোলার কাজ করি। কোনো না কোনো মিলে কাজ থাকেই। আগে একশ’ নারকেল খুললে পেতাম মাত্র ১৫ টাকা। এ নিয়ে বিভিন্ন মিলের নারকেল খোলার কাজে জড়িত শ্রমিকরা আন্দোলন করলে অনেকটা বাধ্য হয়ে মালিকরা এক মাস আগে মজুরি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছেন। এখন নারকেলের মৌসুম। এখানকার মিলগুলোতে প্রায় সারা বছরই নারকেল তেল উৎপাদনের কাজ চলে। তাই কাজ পেতে সমস্যা হয় না। তার পাশে বসেই ছুরি দিয়ে মালই থেকে নারকেল ফালি করছিলেন পিয়ারা বেগম। তাকে সহযোগিতা করছে মেয়ে তন্বী। তন্বী বাগেরহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। মায়ের সহযোগিতার জন্য সকাল সাড়ে ৫টায় নারকেল ভাঙতে সেও মিলে এসেছে। পিয়ারা বেগম বলেন, নয়জনের সংসার। স্বামী শহিদুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি। স্বামীর নির্যাতন ও দ্বিতীয় বিয়ের কারণে মেয়ে কাজরী তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রুকসীকে নিয়ে বছর দুই আগে আমার বাড়িতে চলে আসে। সংসারের হাল ধরতে আমিও ঘরের বাইরে এসে শ্রমিকের কাজ নিয়েছি। এখানে মাস চুক্তিতে কোনো কাজ নেই। প্রতিদিনের কাজের ওপর মালিকরা টাকা দেয়।

 

ছালমা, পিয়ারা বেগম একা নয় তাদের মতো আকলিমা, সুমি, সোনিয়া, বেগম খাতুনসহ অসংখ্য নারী বাগেরহাট বিসিক শিল্প নগরীর পরিশ্রমী নারকেল মিলের শ্রমিক। বাগেরহাট শহরের দড়াটানা নদীর পাশে বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে উঠেছে এই মিল।

 

মেঝের এক পাশে চট বিছিয়ে বছর দেড়েকের ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে কাজ করছিলেন সুমি আক্তার। সুমির সঙ্গে তার মা আকলিমা বেগমও কাজ করছিলেন। সুমির বাবা মান্নান খা কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। তাই কাজ করতে পারেন না। সুমি বলেন, ডাক্তার আব্বাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যেতে বলেছেন। টাকা-পয়সা নেই চিকিৎসা করাব কোথা থেকে। অভাবের কারণে আমাকে পরিণত বয়সের আগেই বিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় আমি মা হয়েছি। স্বামী আসলাম নেশা করে। সংসারের কোনো খোঁজই রাখে না। প্রায়ই আমাকে মারধর করে। বিয়ের কয়েক মাস পরেই আমার ওপর আসলামের নির্যাতন শুরু হয়। সংসারের হাল ধরতে, পেটের আহার জোগাতে দুধের শিশু রবিউলকে নিয়ে কাজে এসেছি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ১০ জুলাই ২০১৪

যোগ্যতার বলেই জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে মেয়েরা

1_119287

 

জাহিদ সুলতান লিখন, ঢাকা : গণিত, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জটিল সংকট থেকে শুরু করে পারিবারিক নানা সমস্যাও নারী সুন্দরভাবে সমাধান করার যোগ্যতা রাখেন। এখন নারী বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। নারীর উন্নয়নে এটা একটি ভালো দিক বললেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার মেয়ে ড. ফারজানা কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক হিসাবে। কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাইতেন না তিনি এত দূরে গিয়ে শিক্ষকতা করেন। কিন্তু তিনি তার মেধা যাতে কাজে লাগাতে পারেন সে সুযোগ করে দিয়েছিলেন তার শ্বশুর। তার শ্বশুর স্থানীয়ভাবে একটি কলেজ চালু করেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার প্রস্তাবও দেন তাকে। তিনি শ্বশুরের প্রস্তাবটি বিনীতভাবে নাকচ করেন। ১৯৮৬ সালের ১৪ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৯ সালে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৯৯ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৬ সালের ২৮ জানুয়ারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

 

অধ্যাপক ড. ফারজানা মানবাধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর চেয়ারপারসন হিসেবে কাজ করছেন। তিনি নগর গবেষণা কেন্দ্রের আজীবন সদস্য ও এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশের সদস্য। তিনি বর্তমানে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত। এছাড়া তিনি হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক ড. ফারজানা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একজন সক্রিয় সদস্য।

 

বরাবর গণিতভীতি ফারজানা ইসলাম এসএসসি পরীক্ষায় গণিতে ৮৫ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। চর্চা-অনুশীলন করলে যে কোনোকিছুই কঠিন নয় তা তিনি গণিতে বেশি নম্বর পেয়ে প্রমাণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে বিএসএস পড়তে গিয়ে আবার পরিসংখ্যানের মুখোমুখি হন। এবারও তিনি সর্বোচ্চ ৭৩ নম্বর পান। নিজের শ্রম, মেধা আর একাগ্রতার মাধ্যমে আজ তিনি সফলতার শীর্ষে। আঠাশ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিরলস শ্রম দিয়েছেন তিনি। এই সেবার মাধ্যমে তিনি একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষক হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ প্রশাসকও হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য না হয়েও অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ‘উপাচার্য প্যানেল’ নির্বাচনে ৪৩ ভোট পেয়ে প্যানেলে প্রথম হন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩-এর ১১(১) ধারা মোতাবেক গত ২ মার্চ তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন।
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশিনগর গ্রামের মেয়ে ড. ফারজানা ইসলামের জন্ম ঢাকায় ১৯৫৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তার বাবা আবদুল কাদের ও মা ফাতেমা খাতুন। চার ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। ১৯৭৩ সালে ধানমন্ডি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৭৫ সালে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম, ১৯৮০ সালে এমএসএস পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

 

ড. ফারজানা ইসলাম মনে প্রাণে একজন বাঙালি। বাঙালি সংস্কৃতিকে তিনি তার হৃদয়ে লালন করেন। তার পছন্দের পোশাক শাড়ি। শাড়ি পরতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমি। ওই বছরের পহেলা বৈশাখে প্রথম শাড়ি পরি আমি। সেই যে শাড়ি পরা শুরু করলাম, তারপর আর কোনোদিন শাড়ি ছাড়া অন্য পোশাক পরিনি। সময় পেলেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে, ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে। কিন্তু উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর অবসর নেই বললেই চলে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর দাফতরিক কাজকর্ম নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয় আমাকে। তবে একটা জিনিস আমাকে প্রেরণা দেয়, আমাদের মেয়েরা জেগেছে, তাই হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। তারা যোগ্যতার বলে নিজের সমতা, সম্ভাবনার জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে। : যুগান্তর

জমকালো ঈদের পোশাক

1_120254

হাবীবাহ্ নাসরীন, ঢাকা :  ঈদের পোশাকটি একটু নজরকাড়া না হলে কি হয়? গরম ও বর্ষার কথা মাথায় রেখে এবার আরামের পোশাকটি তো কিনবেনই, সেইসঙ্গে খেয়াল রাখবেন, আপনার পছন্দের বসনটি যেন বেশ জমকালো হয়।

ঈদ বলে কথা! তবে পোশাকে আরামদায়ক ভাবটা চাইলে সাদামাটা পোশাকের কথাই সবার আগে মনে পড়ে। জমকালো এবং স্বস্তিদায়ক, এই দুই মিলিয়ে ঈদের পোশাক বাছাই করা একটু যেন কষ্টকর। ঈদ এবং বর্ষা ঋতুর কথা মাথায় রেখেই ঈদের পোশাকের ডিজাইন করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। বেছে নিয়েছেন একই সঙ্গে জমকালো আর স্বস্তিদায়ক কাপড়। যেমনটা বলছিলেন ফ্যাশন হাউস মুমু মারিয়ার কর্নধার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার মারিয়া সুলতানা মুমু, ‘এবার ঈদ যেহেতু বর্ষায় তাই বর্ষার আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই ঈদের পোশাকগুলোর ডিজাইন করেছি। ব্রাইট তবে ক্যাটক্যাটে নয়, এমন সব কালার বেছে নিয়েছি। রাতে লাল, কালো, নীল, মেজেন্টা, কমলা এবং দিনে গোলাপি, বেগুনি, আকাশী, অ্যাশ রঙয়ের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কাপড় হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছি শিফন, মসলিন, জর্জেট কাপড়কে। আর তাতে জমকালো ভাব ফুটিয়ে তুলতে করা হয়েছে জারদৌসির কাজ। কামিজের ক্ষেত্রে প্যাটার্ন হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছি লং, এ লাইন, মেক্সি স্টাইলকে। ঈদের সকালে অনেকে একটু হালকা ধরনের পোশাক পরতে চান। তাদের জন্য হালকা রঙের সুতির পোশাকও রয়েছে। ঈদের সকালে কিংবা দিনেরবেলায় পরার জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের টপস পাওয়া যাবে। যারা শাড়ি পরতে ভালোবাসেন তাদের জন্য রয়েছে জমকালো কিছু শাড়ি। মুমু মারিয়ায় টপস এবং থ্রিপিস পাবেন ১৮০০-৭৫০০ টাকার মধ্যে। তবে একটু গর্জিয়াস পোশাক কিনতে চাইলে টাকার অংকটা আরেকটু বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে ৮০০০ টাকা থেকে শুরু। মুমু মারিয়ার শোরুম রয়েছে শুধু যমুনা ফিউচার পার্কেই।’ ফ্যাশন ডিজাইনাররা মনে করেন, যে পোশাকটা দেখতে ভালো লাগে, সেটা পরেও আরাম। তাই এ সময়ের পোশাকের রঙ হালকা হলেই দেখতে ভালো লাগবে। হালকা নীল, নীল, সাদা, গোলাপি, হালকা বেগুনী, আকাশী, শ্যাওলা, হালকা লাল, সবুজ, কমলা, হলুদ ও লেবু রঙের পোশাক তৈরি করেছেন তারা। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজে কারুকাজ হিসেবে বেছে নেয়া হচ্ছে অ্যামব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক, ব্লক, হাতের কাজ, স্প্রে, হ্যান্ডপেইন্ট, টাইডাই প্রভৃতি। কাটিংয়েও আনা হয়েছে নতুনত্ব। সুতার কাজে মেশিন অ্যামব্রয়ডারি, কারচুপি, অ্যাপলিকের মাধ্যমে অধিক রঙ ব্যবহার করার ফলে প্রতিটি পোশাক হয়ে উঠেছে আধুনিক আঙ্গিকের।

নিজেই যখন ডিজাইনার : যারা চাচ্ছেন নিজের পোশাকটি নিজেই ডিজাইন করবেন অর্থাৎ কাপড় কিনে পছন্দমতো পোশাক বানিয়ে নেবেন, তারা পোশাকে জমকালো ভাব এবং ঈদের আমেজ দুটোই ধরে রাখতে বেছে নিতে পারেন মসলিন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, মটকা, সুতি, খাদি, শিফন, জর্জেট, কাতানের পোশাক। বর্ষার দিকটা মাথায় রেখে সিল্ক, শিফন ও জর্জেট কাপড়কে পছন্দের প্রথম দিকে রাখতে পারেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের তাঁতের কাপড়ও ব্যবহার করতে পারেন। আর তাতে মেশিন ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি ছাড়াও স্ক্রিন প্রিন্ট, পুঁতি, জরি, মেটাল, কাঠ ও পুঁতির কাজের ব্যবহারে পোশাকে বৈচিত্র আনতে পারেন। পাশাপাশি রাজশাহী সিল্ক বা হাফসিল্ক, সুতি জর্জেট বা বেক্সি জর্জেটের তৈরি পোশাকগুলোও বর্ষার দিনে আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা দেবে। তা ছাড়া সুতি অ্যান্ডি কাপড়ের তৈরি পোশাকেও বেশ অভিজাত দেখাবে আপনাকে। ঈদের রাতে জমকালো আয়োজনেও পরা যাবে এসব কাপড়ের পোশাক।

কাটছাঁট : কামিজের কাটিংয়ে গেল বছরের তুলনায় এ বছর খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। এ বছরও কামিজের দৈর্ঘ্যরে জায়গাটায় লংকামিজেরই একক আধিপত্য। চাইলে সেমি লং কামিজও বেছে নিতে পারেন। কামিজ, টপস, ব্লাউজে উঁচু গলার পাশাপাশি চার কোনা, পানপাতা ও ভি-আকৃতির গলাও বেশ চলছে। হাতার ক্ষেত্রে ফুলস্লিভ, থ্রি কোয়ার্টার, স্লিভলেস কিংবা ম্যাগি হাতা বেছে নিতে পারেন। সালোয়ারের ক্ষেত্রে ধুতি ও প্যান্ট-ধাঁচের সালোয়ার বেশ পছন্দ করছে সবাই। বিশেষ করে ওপরের দিকটা চাপা এবং নিচের দিকটা ছড়ানো পালাজ্জো ধাঁচের সালোয়ারের দিকেই ঝুঁকছেন তরুণীরা।
তবে আর দেরি কেন! হাঁটি হাঁটি করে সময় কিন্তু ঠিকই চলে যাচ্ছে। বাজার ঘুরে পছন্দের পোশাকটি বাছাই করতে হলে হাতে একটু সময় নিয়েই কেনাকাটা সেরে ফেলতে হবে। ঈদে একটু জমকালো আর আরামদায়ক পোশাক চাই তো? আপনি চাইলে সেটা খুব সম্ভব। বাজার ঘুরে মনের মতো পোশাকটি কিনে ফেলুন। এই ঈদে আপনার পছন্দের পোশাকটিই উঠুক আপনার গায়ে।

স্বল্প খরচে দারুণ মজাদার আলুর বড়া

aloo

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম,ঢাকা: ইফতারি তৈরিতে অনেকেরই সময়ের ভীষণ অভাব। আর হবে নাই বা কেন? সারাদিনের দৌড়ঝাঁপ ও রোজা রাখার শেষে কার এত এনার্জি থাকে যে হরেক পদ তৈরি করবেন? আর এইজন্যই চাই ঝটপট তৈরি করা যায় এমন মজাদার রেসিপি। আজ রইলো রেসিপি আলু বড়ার। খুব অল্প সময়ে ও অল্প খরচে তৈরি করা যায় এই খাবারটি, কিন্তু দিনভর রোজা রাখার শেষে খেতে লাগে দারুণ!

 

উপকরণ:
৪টি মাঝারি মাপের আলু খোসা ছাড়িয়ে রাখা,
আধ চাচামচ ধনেগুড়ো,
১ চাচামচ শুকনো মরিচ গুঁড়ো,
২ টেবিলচামচ ধনেপাতাকুচি,
১ চাচামচ লবণ,
তেল ভাজার জন্য

 

ব্যাটার তৈরির জন্য-
২০০ গ্রাম বেসন, আধ চাচামচ লবণ, আধ চাচামচ মরিচ গুঁড়ো, আধ চাচামচ রসুন বাটা, আধ চাচামচ আদা কুচি, ১ টেবিলচামচ ধনেপাতাকুচি, ৪০০ মিলি পানি

 

প্রণালী:
-আলু সেদ্ধ করে নিন। এবার সেদ্ধ আলু চটকে তার সঙ্গে সব উপকরণ দিয়ে মেখে নিন।
-এবার একটা আলাদা বাটিতে ব্যাটার তৈরি করতে হবে। বেসনের সঙ্গে ব্যাটার তৈরির সব উপকরণ মিশিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে মেশাতে থাকুন। মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন।
-এবার কড়াইতে বেশি করে তেল দিন।
-আলুর মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট বল গড়ে নিন। এবার এই বল গুলিতে ব্যাটারে ডুবিয়ে ধীরে ধীরে তেলে ছেড়ে দিন।
-এবার বল গুলিকে কড়া করে ভেজে নিন। বাদামী রঙ না ধরা পর্যন্ত ডিপ ফ্রাই করুন। এবার বলগুলি থেকে অতিরিক্ত তেল ঝড়িয়ে নিয়ে নিন। ইচ্ছে মতো গার্নিশ করে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার আলুর বড়া।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১০ জুলাই ২০১৪

হলুদে সারবে ৬০০ রোগ!

 tumeric_1402017476-702x336

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : রান্নায় হলুদ না হলে চলে না। এবার হলুদ উঠে আসবে প্রেসক্রিপশনেও। গবেষণায় দেখে গেছে, হলুদের রয়েছে অন্তত ১৪টি মহৌষধের গুণ। যাতে সেরে উঠবে অন্তত ৬০০ রোগ!

 

হলুদের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গত পাঁচ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে নানা গবেষণা চালিয়েছে একটি মার্কিন গবেষণা সংস্থা। তাদের প্রতিবেদেন অনুযায়ী, হলুদে থাকা সারকিউমিন নামের উপাদানটি রোগ সারাতে জাদুর মতো কাজ করে।

 

২০০৮ সালে ‘ড্রাগস ইন আর অ্যান্ড ডি’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে সারকিউমিন।

 

১৯৯৯ সালে প্রকাশিত ‘ফাইটোথেরাপি রিসার্চ’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, হলুদের পলিফেলন নামের অন্য আরেক উপাদান চোখের অসুখ ‘ক্রনিক অ্যান্টিরিয়ার ইউভেইটিস’ সারাতে কর্টিকো-স্টেরয়েডের কাজ করে। এই রোগের প্রকোপে চোখে প্রচণ্ড জ্বালা ও প্রদাহ হয়।

 

২০০৩ সালের এক মেডিক্যাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যানসারজনিত প্রদাহের চিকিৎসাতেও এই স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়।

 

২০১১ সালের আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসিক অবসাদ রোধও ব্যবহার হয় সারকিউমিন। এ ছাড়া এই উপাদানে রয়েছে অ্যাসপিরিনের গুণ। এর প্রয়োগে ভ্যাসকুলার থ্রম্বোসিস আক্রান্ত রোগীর রক্তের ঘনত্বের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

এ ছাড়া, ক্যানসার নিরাময়ে প্রচলিত কেমোথেরাপি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অক্স্যালিপ্ল্যাটিন-এর সঙ্গেও সারকিউমিনের  তুলনা করা চলে। চিকিৎসকদের দাবি, কলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় সারকিউমিন প্রয়োগে সুফল মিলেছে।

 

২০০৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসাতেও সারকিউমিন প্রয়োগ কার্যকরী। যকৃতে গ্লুকোজের উৎপাদন ঠেকাতে হলুদের এই উপাদান থেকে তৈরি ওষুধ প্রচলিত ডায়াবেটিস রোধকারী মেটমোফিনের চেয়ে অনেক গুণ কার্যকরী।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৪জুলাই২০১৪ই.

রোজায় কী খাবেন

 

iftar_70196

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : পরিমিত সুষম খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং দিনের কাজগুলো সঠিকভাবে করা যায়। রোজার সময় আমাদের দেহের বিপাকক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। স্বাভাবিক হজম-প্রক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত তেল, মসলাযুক্ত খাবার, চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া ঠিক নয়। বিরিয়ানি, তেহারি, নেহারি, খাসির রোস্ট-জাতীয় খাবার সেহরি বা রাতে না খাওয়াই ভালো।

ইফতার বা সেহরিতে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। দোকানের ভাজা খাবারে ব্যবহার করা তেলের মান বা বেসনের বিশুদ্ধতা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। বাজারের বাহারি খাবার খেয়ে অনেকেরই বদহজম, পেটফাঁপা বা বুকজ্বালা হতে দেখা যায়।
আমাদের শরীরের জন্য কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার, অর্থাৎ ভাত, রুটি; প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার মাছ, মাংস; ডালজাতীয় খাবার এবং ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবার, অর্থাৎ মাখন, ঘি ইত্যাদি দরকার। পরিমিত সুষম খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং দিনের কাজগুলো সঠিকভাবে করা যায়।
রোজার সময় পানির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেহরি, ইফতার ও রাতের খাবারের পর দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করা উচিত। পানি আমাদের শরীরের বিপাকক্রিয়া ও কিডনির যথাযথ কাজের জন্য প্রয়োজন। পানি কম খেলে দিনে মুখ ও জিহ্বা শুকনো থাকে, পানিস্বল্পতার জন্য শরীরে ক্লান্তি আসে। লেবুর শরবতও উপকারী।

3-Tips-Inner

ইফতার
খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা যেতে পারে। ঠান্ডা পানি, লেবুর শরবত পান করলে সারা দিনের পিপাসা দূর হয়। বাজারের রঙিন পানীয় বা পাউডার দিয়ে শরবত না তৈরি করে বেলের শরবত তৈরি করা যেতে পারে। এটি শরীরের জন্য উপকারি। ভেজানো চিঁড়া ও সামান্য চিনি দিয়ে শরবত তৈরি করা যায়। দইয়ের শরবত বা ডাবের পানিসহযোগে ইফতার খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। কলা, পেঁপে, আমড়া, জাম্বুরা, আপেলসহ যেকোনো ফল কিছু পরিমাণে খাওয়া ভালো।
শসা তো অবশ্যই ভালো। কয়েক ঘণ্টা ভেজানো ছোলা বা ডাবলি মুড়ি দিয়ে খেতেও ভালো লাগে। বাসায় বেসন দিয়ে পালংশাকের পাতা ও পুঁইশাক ভেজে খেতে পারেন। তবে ভাজা খাবার কম খাওয়া উচিত। চিঁড়া-দই-কলা অনেকেরই প্রিয় খাবার। এ ছাড়া ফিরনি, পায়েস ও সেমাই খেতে পারেন। ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে অবশ্যই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দিনের শেষে একবারে খুব বেশি খাবার খেয়ে ইফতার করলে অস্বস্তি লাগে এবং রাতে খেতে ইচ্ছা করে না। পরিমিত পরিমাণে ইফতার করে রাতে সামান্য হলেও খাওয়া ভালো।

dinner-food

রাতের খাবার
পেট ভর্তি করে ইফতারি খেয়ে রাতের খাবার না খাওয়াটা ঠিক নয়। শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ার জন্য রাতে অল্প পরিমাণে খাওয়া দরকার। আটার তৈরি দুটি রুটি বা কিছুটা ভাত, সামান্য রান্না করা সবজি এবং এক টুকরো মাছ বা মুরগির মাংস মোটামুটিভাবে আদর্শ খাবার। রুটির সঙ্গে ছোলার ডাল ভুনা বা ঘন করে রান্না করা মসুরের ডাল, শসা, গাজর ও টমেটোর সালাদ অনেকেই পছন্দ করেন। একটু নরম করে রান্না খিচুড়ি, ডিম ভাজা বা রান্না, সঙ্গে শসা-গাজরের সালাদও খেতে পারেন। দুধ-কলা ও রুটির সঙ্গে মুরগির এক টুকরো মাংস দিয়ে রাতের খাবার শেষ করতে পারেন। যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ আছে, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে খাবার খাবেন।

images (1)

সেহরি
ফজরের নামাজের আগে, অর্থাৎ সেহরির সময় পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটির সঙ্গে কিছুটা সবজি, একটু ডাল ও মাছ বা মাংস খাওয়া যেতে পারে। ডালে প্রচুর প্রোটিন আছে; ডালের সঙ্গে সবজি ও ভাত বা রুটি এবং কিছুটা ফল খেলে শরীরের চাহিদা মিটে যায়। মাছ-মাংস বাদ দিয়ে দুধ-রুটি ও ফল খেলেও চলবে। গুরুপাকজাতীয় খাবার হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। এ জন্য সেহরিতে সহজে হজম হয়, এমন খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। আমাদের দেহের কোষগুলোর কার্যাবলি ঠিকভাবে সচল রাখতে বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ভোররাতে উঠে এক বা দুই গ্লাস পানি পানের পর এবং খাওয়া শেষে আবার দুই গ্লাস বা কিছু বেশি পানি পান করা দরকার।

মনে রাখা জরুরি
শারীরিক যেকোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে রোজা রাখতে হবে। যাদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তারা ইফতার, সেহরি ও রাতের খাবারের আগে বা পরে নিয়মমতো ওষুধ খাবে। ডায়াবেটিসে ইনসুলিন সঠিক পরিমাণে নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা উচিত। দিনে বা বিকেলে অতিরিক্ত ব্যায়াম না করাই ভালো। ইফতারের পর হালকা ব্যায়াম করা বা কিছুটা হাঁটা যায়। খুব বেশি শারীরিক পরিশ্রম করা ঠিক নয়, তবে কিছুটা কায়িক পরিশ্রম করা ভালো।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০২ জুলাই ২০১৪

ইফতারিতে খেজুর

time

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা: ইফতারিতে খেজুর খুবই পরিচিত খাবার। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন খেজুর দিয়ে রোজা ভঙ্গ করার। কারণ এটি দ্রুত আপনাকে চনমনে করে তোলে। এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান আমাদের হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও হজম শক্তিকে ভালো রাখে। তাজা বা শুকনো দুই প্রকার খেজুরই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
এবার দেখা যাক ১০০ গ্রাম খেজুরে আমরা কী কী পুষ্টি উপাদান পেতে পারি। বন্ধনীতে দেখানো হলো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় উপাদানের কত ভাগ খেজুরে পাওয়া যায়। ৬.৭ গ্রাম আঁশ (২৭ ভাগ), পটাশিয়াম ৬৯৬ মিলিগ্রাম (২০ ভাগ), কপার ০.৪ মিলিগ্রাম (১৮ ভাগ), ম্যাঙ্গানিজ ০.৩ মিলিগ্রাম (১৫ ভাগ), ম্যাগনেশিয়াম ৫৪ মিলিগ্রাম (১৪ ভাগ), ভিটামিন বি৬ ০.২ মিলিগ্রাম (১২ ভাগ) ও অল্প পরিমাণ ভিটামিন এ। এছাড়া এতে আছে প্র্রচুর চিনি। যা প্রতি ১০০ গ্রামে ৬৬.৫ পর্যন্ত হতে পারে।

নিচে এর কিছু উপকারিতা জানানো হলো-

3-Tips-Inner
১. এতে অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশ থাকে। আঁশ আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। বৃহদান্ত্র ও অন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখে। ফলে মলাশয় প্রদাহ, বৃহদান্ত্র ক্যান্সার ও অশ্বরোগের ঝুঁকি কমে।

২. খেজুর হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটা তো জানা কথা, আঁশ হৃদপিণ্ডের সক্ষমতা বাড়ায়।

৩. খেজুরে থাকা ম্যাগনেশিয়াম প্রদাহ নিরাময়ী খনিজ হিসেবে বেশ পরিচিত। ম্যাগনেশিয়াম কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, আথ্রাইটিস, অ্যালঝাইমারসহ অন্যান্য প্রদাহজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমায়।

৪. ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়। পটাশিয়াম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এটি হৃদপিণ্ডকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। যার ফলে রক্তচাপ কমে।

৫. গর্ভবতীদের জন্য খেজুর পুষ্টিকর খাবার। এটি সন্তান জন্মদান সহজ করে দেয়।

৬. এতে আছে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার অত্যন্ত দরকারি ভিটামিন বি৬।

৭. এতে থাকা ভিটামিন এ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য বেশ পরিচিত। যা দৃষ্টিশক্তির জন্য ভালো। এছাড়া মিউকাস মেমব্রেন ও ত্বকের জন্য স্বাস্থ্যকর। ভিটামিন এ ফুসফুস ও মুখ গহ্বরের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

 

অন্যান্য উপকারিতার মধ্যে রয়েছে- ওজন কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ডায়রিয়ায় বেশ উপকারি, আয়রনের ঘাটতি কমায় এবং ধ্বজভঙ্গ প্রতিরোধী।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০১ জুলাই ২০১৪ই.