banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

দেখে এলাম এভারেস্ট

উদয় হাকিম: মাউন্ট এভারেস্ট। দ্য টপ অব দি ওয়ার্ল্ড। পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ। এভারেস্ট দেখার ইচ্ছে কার না আছে। ছিল আমারও। দুর্নিবার সে ইচ্ছে। অবশেষে পূরণ হলো এভারেস্ট দেখার সাধ! তবে সামিট করে নয়, পাঁয়ে হেঁটে নয়। দেখলাম বিমান থেকে।

দেখলাম আলোর মাঝে অপূর্ব সে আলো। মাথা উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে। যেন সারা পৃথিবীর ভার বয়ে তবু অবিচল। অম্লান শুভ্র বসনে, বীরের বেশে। যেন নিরন্তর চির উন্নত শির।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা। পুব আকাশে সূর্য। চরাচর ভেসে যাচ্ছে উজ্জ্বল আলোয়। পুরো উত্তর পাশ জুড়ে শত শত পাহাড়ের চূড়া। বোঝার উপায় নেই কোনটা এভারেস্ট! তার পরও এভারেস্টের সমান উচ্চতায় আর তো কিছুই নেই। এভারেস্ট দাঁড়িয়ে স্বমহিমায়। যখন একটা এভারেস্ট থাকে, তার চারপাশের অন্য সবকিছু হয়ে যায় ম্লান।

দেখলাম ত্রিকোণাকৃতির চূড়া। অন্য সবকিছুর চেয়ে আলাদা। ভয়াল ধু-ধু বিন্দু। হালকা বাতাস। মেঘেরা ভেসে বেড়ায় অনেকটা দূর দিয়ে। এত উঁচু বন্ধুর পর্বতে মানুষ কীভাবে ওঠে! সুউচ্চ এই চূড়ায় আরোহণ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২০০-এরও বেশি মানুষ। তার পরও থেমে নেই এভারেস্ট জয়ের বাসনা। এভারেস্টের কাছে গেলে মনে হয়, পুরো পৃথিবীটাই বোধহয় এরকম- শুধু বরফের আস্তর, বরফের পাহাড়, বরফের রাজত্ব, কোথাও নেই এতটুকু সমতল।

এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার। এভারেস্টে ওঠার সর্বশেষ বেস ক্যাম্প সম্ভবত ৭ হাজার ৯০৬ মিটার উঁচুতে। এ জায়গাটাকে মনে হলো যেন বরফের নদী। সম্ভবত বরফ গলতে শুরু করলে এখানে মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। এজন্য মে মাসের শেষ সপ্তাহ শুরু হওয়ার আগেই সামিট সিজন শেষ হয়ে যায়।

এভারেস্টের ওপরটা দেখলে মনে হয় না, এত কঠিন এখানে ওঠা। কাছ থেকে মনে হয়, সহজেই ওঠা সম্ভব। কিন্তু বরফের ওপর দাঁড়ানো অত সহজ নয়। মসৃণ চকচকে দেখা গেলেও আদতে ওই স্থানটি অতি ভয়ানক। যারা হেঁটে এভারেস্টে ওঠেন তারা কিন্তু বেশিক্ষণ সেখানে থাকেন না। শুধু ছবি তোলা, পতাকা প্রদর্শন এবং অতি সংক্ষিপ্ত কিছু স্মৃতিচিহ্ন বা স্মারক রাখা ছাড়া আর সময় নেই। কারণ, ওখানে সময় নষ্ট করা মানেই মৃত্যুকে ডেকে আনা।

আগেরবার নেপাল গিয়েও এভারেস্ট দেখতে পারিনি। তাই এবার মিস করতে চাইনি। আগের দিন টিকিট কনফার্ম করেছি। টিকিট ১৯৪ ডলার। কাঠমান্ডুর তিব্বত হোটেল থেকে গাড়িতে নিয়ে যাবে আর দিয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ২১২ ডলারের প্যাকেজ।

ভোর সাড়ে ৫টায় গাড়ি এল হোটেলে। তৈরি হয়ে ছিলাম আগেই। আধা ঘণ্টায় এয়ারপোর্টে চলে গেলাম। ইয়েটি এয়ারলাইন্সের বোর্ডিং কার্ড নিলাম। ২ নম্বর গেটে গিয়ে অপেক্ষা। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের গাবতলী বাস টার্মিনালের চেয়েও দুরবস্থা। ভাঙা একটা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করলাম। এখানে শুধু এভারেস্ট দেখানোর জন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স কাজ করছে। অফ সিজনেও যাত্রীসংখ্যা নেহাত কম নয়। পাঁচ মিনিট পরপরই একটা করে ছোট বিমান টেক অফ করছে। ঠিক সাড়ে ৬টায় ডাক এল আমাদের।

নড়বড়ে সিঁড়ি দিয়ে বিমানের ভেতরে ঢুকলাম। বিমানবালা নিচু করে ঢুকতে বললেন, না হলে মাথা ঠুকে যাবে ওপরে। বাঁ পাশের সিঙ্গেল সিট আমার। খুব ভালো পজিশন। ডান পাশে দুজন করে বসল। সব মিলিয়ে ১৬-১৭ জন যাত্রী। বিমানবালা দেখতে সুন্দর, ইংরেজি উচ্চারণও খুব ভালো। তবে কথা বলে খুব নিচু স্বরে। কান পর্যন্ত কথা পৌঁছোয় না।

ঘরঘর শব্দ করে বিমান উঠল রানওয়েতে। সিগন্যাল ওকে। ছোট্ট, হালকা বিমান। সামান্য দৌড়েই উড়ে গেল আকাশে। মনে হচ্ছিল, ফড়িংয়ের পিঠে চড়েছি। আমার হাইট ফোবিয়া আছে। কিন্তু ফড়িং বিমানে কোনো ভয় লাগছে না। মনে হচ্ছে বিমানটি আমিই চালাচ্ছি। আরো যদি সুযোগ পেতাম!

নিচে কাঠমান্ডু শহর। উত্তর পাশে বিশাল কালো পাহাড়, যেটি দাঁড়িয়ে আছে বিমানবন্দরকে আড়াল করে। কিন্তু কালো পাহাড়ের পেছনেই যে বি

১৮ বছরের আগেই দুই-তৃতীয়াংশ মেয়ের বিয়ে হয়

child20140623204406

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশে এক-তৃতীয়াংশ কন্যাশিশুর ১৫ বছরের আগে এবং দুই-তৃতীয়াংশ কন্যাশিশুর ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়। গ্রামে এ হার ৭১ শতাংশ এবং শহরে ৫৪ শতাংশ। এমনই এক চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের এক গবেষণায়।

 

সম্প্রতি সংগঠনটি শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটি যথাক্রমে শরীয়তপুর সদর, ডামুড্যা, নড়িয়া, গোসাইরহাট এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলায় এক গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় উঠে আসে ওই জেলার কন্যা শিশুদের অকাল বিয়ের পরিমাণ, কারণ এবং ফলাফল।

 

গবেষণায় দেখা দেখা গেছে, সেখানে মোট পুরুষের ৯২ শতাংশ বাল্যবিবাহ সম্পর্কে শুনেছেন এবং নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৯৩ শতাংশ। তারা কেউ শুনেছেন মিডিয়ার মাধ্যমে, কেউ এনজিও’র মাধ্যমে, কেউ শিক্ষকের কাছে। তবে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে ধারণার ক্ষেত্রে উত্তরদাতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতামত পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

বাল্যবিবাহের শাস্তি সম্পর্কে অধিকাংশের স্বচ্ছ ধারণা নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে অধিকাংশ আইনজীবী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি আইনের দুর্বলতার কথা বললেও সরকারি কর্মকতা যেমন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ১৯২৯ সালের বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যায় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

 

সেখানকার গবেষণার আওতাভুক্ত শরীয়তপুরকে বাল্যবিবাহ প্রবণ এলাকা বলে অভিহিত করেছেন কেউ কেউ। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শরীয়তপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত মোট ১৩ জন ছাত্রী বিবাহিত,  যারা ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রত্যেকের ১৫ বছরের পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।

 

গবেষণায় আরো উঠে আসে, শরীয়তপুরে বাল্যবিবাহের ধরনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৮ বছরের কম বয়সের মেয়ের সঙ্গে অধিক বয়সের ছেলে, কখনো বা দ্বিগুণ বয়সের ছেলের বিবাহ সম্পন্ন। শরীয়তপুরে বাল্যবিবাহের কারণ সম্পর্কে গবেষণায় যা উঠে এসেছে সচেতনতার অভার, দারিদ্র্য, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব, নিরাপত্তাহীনতা, যৌতুক অন্যতম।

 

বাল্যবিবাহের ফলে যে প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তা হচ্ছে শারীরিক দুর্বলতা, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দাম্পত্য কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, বহু বিবাহ।

 

বাল্য বিবাহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দেখা যায়, প্রশাসনিক পদক্ষেপ, বেসরকারি নজরদারি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, নারী শিক্ষার প্রসার প্রভৃতি কারণে শরীয়তপুরে বাল্য বিবাহের প্রবণতা পূর্বের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে।

 

বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে শরীয়তপুরে সরকারি কোনো ভূমিকা আছে কি না- এমন প্রশ্নে অধিকাংশই মনে করেন, সরকারিভাবে ভূমিকা রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতা তেমনটিই মনে করেন। তবে গৃহীত পদক্ষেপ কতটা কার্যকর- এমন প্রশ্নে বেশিরভাগ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকারিভাবে গৃহীত পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাল্যবিবাহ রোধ করতে পারছে না। এছাড়া স্থানীয় সরকারের ভূমিকাও যথেষ্ট নয়।

 

এছাড়া, শরীয়তপুরে খুব অল্প সংখ্যক এনজিও এবং মিডিয়াসহ ছাত্র-ছাত্রী, নাগরিক সমাজ, বিবাহ নিবন্ধক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

 

গবেষণায় উঠে আসা পর্যালোচনা সাপেক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে কিছু  সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো- বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৩’-এর পরিবর্তে ‘শিশুবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৩’ করা; ‘বাল্যবিবাহ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘শিশুবিবাহ’ শব্দটি সর্বত্র ব্যবহার করা; বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে কমপক্ষে দশম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে চ্যাপ্টার সংযোজন করা;  বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ প্রচার চালানো, এক্ষত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা; বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-১৯২৯ সংশোধন সাপেক্ষে সময়োপযোগী করা; আইনের শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি ও কঠোর করা;  নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধিরোধ করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ; বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চলমান আইনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করা; জন্ম সনদে বয়স বৃদ্ধিরোধে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার; বিবাহ নিবন্ধকের জন্য সরকারিভাবে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ; প্রবাসীপাত্রের সাথে বিবাহ দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করতে সামাজিক প্রচার এবং বিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

 

এ সম্পর্কে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আগের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনটির বিভিন্ন ফাঁকফোকর থাকার কারণে বাল্যবিবাহ নির্মূল  করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আইনটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ আইন (খসড়া) ২০১৩ এর সংশোধনী আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর আইনটি বাস্তবায়ন করা হবে আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে।

 

অপরাজেয় বাংলাদেশ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু বলেন, সমাজে নারী ও শিশু হলো ব্যারোমিটারের মতো। যে সমাজে নারী ও শিশুকে বাদ দেওয়া হয় সে সমাজকে ন্যায্য সমাজ বলা যায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টকরে শিশু ও নারীর অধিকার উল্লেখ করা আছে। কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন হয়।

 

তিনি আরো বলেন, দেশে অভিভাবকরা বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে এখনো সচেতন হননি। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হলে প্রথমে ঘরের ভেতরটা পরিবর্তন করতে হবে। ঘরের ভেতরটা পরিবর্তন না করলে বারবার পিছিয়ে যাব।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৬ জুন ২০১৪ই.