banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

ভালুকায় মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

index_41822

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ময়মনসিংহ : জেলার ভালুকা উপজেলায় মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে জেলার মিরকা গ্রাম এই লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী (৩০) ও তার মেয়ে সুচি (৫)।

 

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে উপজেলার মিরকা গ্রামের কালি বিলের পার্শে¦ একটি কড়াই গাছে দু’টি ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।

 

পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

 

নিহত শিউলীর পিতা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। জাহাঙ্গীর তার ভাবীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক থাকায় তাদের অনৈতিক কাজ শিউলী ও তার মেয়ে সূচি দেখে ফেলায় তাদের হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা গিয়াস উদ্দিন বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলতে পারবো এটা আসলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২২ জুন ২০১৪ই.

ঘুরে আসুন গুঠিয়া বাইতুল আমান মসজিদ

1403265554.

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, বরিশাল : বরিশাল-বানারীপাড়া সড়ক ধরে এগোলেই উজিরপুর উপজেলা। সড়কের পাশে গুঠিয়ার চাংগুরিয়া গ্রাম। এ গ্রামেই আছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ মসজিদ। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু চাংগুরিয়ার নিজ বাড়ির সামনে প্রায় ১৪ একর জমির উপর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ-ঈদগাহ্ কমপ্লেক্স এর নির্মান কার্যক্রম শুরু করেন।

 

৩ বছর মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্মান কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন এস. সরফুদ্দিনের ছোট ভাই মোঃ আমিনুল ইসলাম নিপু। তিনি ২০০৬ সালে উক্ত জামে মসজিদ- ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ সম্পন্ন করেন। তার নির্মানাধীন সময়কালের মধ্যে তিনি একটি বৃহৎ মসজিদ-মিনার, ২০ হাজার অধিক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ্ ময়দান, এতিমখানা, একটি ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক-পুকুর খনন কাজ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন-ফুল বাগান তৈরি ও লাইটিং ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন।

 

1403265580.

 

কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশপথের ডানে বড় পুকুর। পুকুরের পশ্চিম দিকে মসজিদ, একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লী নামাজ পড়তে পারে। মসজিদ লাগোয়া মিনারটির উচ্চতা ১৯৩ ফুট। ঈদগার প্রবেশপথের দুই ধারে দুটি ফোয়ারা আছে। এই মসজিদের নির্মাণ কাজে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার নির্মান শ্রমিক কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়। পরে গুঠিয়ার নামেই মসজিদটি পরিচিতি লাভ করে।

 

চাংগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ এটির নির্মাণ ব্যয় বহন করেন। বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বানারীপাড়ার উদ্দেশে ১৫ মিনিট পর পর বাস ছাড়ে। মসজিদে যেতে ভাড়া লাগে ১৪ টাকা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২২ জুন ২০১৪ই.

পাহাড়ে রেশম চাষ

55

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, রাঙ্গামাটি : রেশম চাষের জন্য বেশি জায়গা বা সময়ের প্রয়োজন পড়ে না। সহজে বাড়ির উঠানে বা ঘরে চাষ করতে পারা যায়। সে সুবিধা কাজে লাগাচ্ছেন রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার অনেক নারী। তারা রেশম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি চাষ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এ রেশম চাষ সহজ করে দিয়েছে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দানকারী প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্র ও রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়।

 

বেতছড়ির বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম দুই দশক আগে রেশম চাষ শুরু করেন বলে জানা যায়। তার সাফলতা মেয়ে ফরিদা পারভিনকেও রেশম চাষে উদ্বুদ্ধ করে। ফরিদা ৮ বছর ধরে রেশম চাষে যুক্ত আছেন। তিনি ছোট বোন শাহানা আক্তারসহ এলাকায় শতাধিক নারীকে রেশম চাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বর্তমানে কাউখালীতে চার শতাধিক নারী রেশম চাষে যুক্ত আছেন।

 

চাষী শিরিনা বেগম, রোকসানা বেগম, বৈশাখী চাকমা, হাসিনা বেগম, লায়লা বেগম, গোলাপী বেগম, কুলসুমা বেগম, সুখী চাকমাসহ অনেকে জানান, তারা রেশম চাষ করে লাভবান হয়েছেন। শিরিনা বেগম জানান, তার কাছে বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা জমা আছে। যা রেশম চাষ থেকে আয় করেছেন। আরেকজন জানান, এক ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন রেশম চাষ করে। এ রকম অনেক নারী তাদের সফলতার কথা দ্য রিপোর্টকে জানান।

 

ফরিদা পারভীন জানান, বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৩৩৬ জন রেশম চাষী আছেন। প্রতিনিয়ত এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্র বিনামূল্যে রেশম পোকা সরবরাহ করে। এ ছাড়া চাষীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যে কোনো সমস্যায় তাদের পরামর্শও দিচ্ছে।

 

সম্প্রতি বেড়ছড়িতে অনুষ্ঠিত হলো একটি প্রশিক্ষণ। ২৪ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত চলা এ প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল ‘বয়স্ক পুল পালন’। প্রশিক্ষণ শেষে চাষীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। সনদ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানী চাকমা কৃপা, জেলার কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক পরিচালক তপন কুমার পাল, আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক কামনাশীষ দাশ ও আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাশিদুল হক। আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণে নারীদের উপস্থিতিই বেশি ছিল।

 

চাষীরা মনে করেন কাউখালী উপকেন্দ্রে রেশম নিয়ে আরও পদক্ষেপ দেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক কামনাশীষ দাশ বলেন, কাউখালীতে অনেক মহিলা রেশম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা এলাকায় চাকী পলু পালন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাশিদুল হক বলেন, কাউখালী, কাপ্তাই এবং রাজস্থলীতে চাকী পলু পালন কেন্দ্র গড়ে তোলা বিশেষ প্রয়োজন। এটা করা গেলে এলাকায় রেশম চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২২ জুন ২০১৪ই.

বাড়ির ছাদে সবুজের উঁকি

Rajshahi-1

 

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী : ‘শাহীন মঞ্জিল’। রাজশাহী নগরীর উপশহর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেক্টরের ৬৪৫ নম্বর বাড়ি। বাড়ির চারতলায় ছাদজুড়ে বিশাল বাহারি বাগান। আর সেই বাগান গড়ে জাতীয় পদক পেয়েছেন সালেহা খন্দকার। 

গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট আর ৩০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

 

জাতীয় পুরস্কারে গর্বিত সালেহা খন্দকার এখন রাজশাহীর গর্ব ও প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

 

সালেহা খন্দকার তার এ সাফল্যে মরহুম স্বামীর অনুপ্রেরণা ও একমাত্র ছেলে শাহীনের সহযোগিতার কথা স্বীকার করেন। ছেলে শাহীন সালেহউদ্দিন কৃষি কর্মকর্তা। গাছপাগল। গাছ নিয়েই থাকেন। ছুটি পেলে বাসায় এসে আগেই উঠে পড়েন ছাদে। নীবিড় পরিচর্যা শুরু করেন নিজেও। সালেহা খন্দকার জানালেন, তার এ সাফল্যে ছেলের অবদান সবচেয়ে বেশি।

 

জাতীয় পদকে ভূষিত সালেহা খন্দকার দ্য রিপোর্টকে জানান, বাজারে বিষমুক্ত টাটকা ফলমুল ও শাক-সবজির অভাব। এ অভাবের তাড়নায় বিষমুক্ত ও টাটকা শাক-সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে দুই হাজার বর্গফুট ছাদে ফলমূল ও শাক-সবজির বাগান গড়ে তোলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী জুবাইদ আলী কৃষিবিদ ছিলেন। বগুড়ার শেরপুরে আমাদের ছোট খামারবাড়ি আছে। সেখানেও সব ধরনের ফলমূলের গাছ আছে।’

 

কথা বলতে বলতে এক সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালেহা খন্দকার।

 

তিনি বলেন, ‘সে (আমার স্বামী) আজ বেঁচে নেই। পুরস্কারটি পাওয়ার পরে তাকে বেশি মনে পড়ছে। কারণ তিনি বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।’

 

Rajshahi-2

 

শাহীন মঞ্জিল নামের বাড়িটির খোলা আকাশে ছাদের উপর এখন যেন অন্য এক সবুজ সংগ্রহশালা। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, লেবু, জাম্বুরা, কুল, জলপাই, ডালিম, শরিফা, বেল, সফেদা, আমলকি, কমলালেবু, আমড়া, জাম, কদবেল, আঁশ ফল, কামরাঙা, মালটা, লটকন, চালতা, করমচা, আরবরই, গোলাপজাম ও জামরুল গাছ রয়েছে। ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট টবে সাজানো রয়েছে পাথরকুচি, সাজনা, শতমূলী, তেঁতুল, থানকুনি, কালোমেঘ, ঘৃতকুমারী, বাসক, তুলসি ও আমলকিসহ নানান জাতের ওষুধি গাছ আর ফুল যেন উঁকি দেয় সবুজের মাঝে।

 

গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, এস্টার, বেলি, বাগানবিলাস, জারবেরা, কাঠগোলাপ, আলকানন্দ, কামিনী, থুজা, ড্রাসিনা, এরিকাপাম, মানিপ্ল্যান্ট, মালফুজিয়া, ল্যান্টানা, পয়েনসেটিয়া, চেরি, হাইব্রিড জবা, মুসান্ডা, রাধাচূড়া, মর্নিং গ্লোরি, কিরীটিনী, মে ফ্লাওয়ার ও জেফির লিলি। সংগ্রহশালার মধ্যে আরও রয়েছে- ছাতিম, বৈইচি, শেওড়া, অশথ, বট, পাইকর, লাইকড় ও জিলাপি ইত্যাদি বনসাই।

এ ছাড়া কদম, নিম, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, ইপিল-ইপিল, কাঞ্চন, দেবদারু, বকুল, মহুয়া, জাম ও শিমুল রয়েছে একই বাগানে। সেখানে আরো রয়েছে টমেটো, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াপাতা, লাউ, পুঁইশাক, গিমা কলমী, পালংশাক, শিম, চালকুমড়া, করলা, পটল ও মিষ্টি কুমড়াসহ সব ধরনের সবজি, যা পরিবারের পুষ্টি যোগান দেয়। আর যেটি দেখলে মণ-প্রাণ জুড়িয়ে যায় তা হলো বহুজাতের ক্যাসটাস। কিন্নরী, জ্যাট্রফা, সাইকাস, ড্রাগন ফ্রুট ও জাবেটিকাবাসহ অন্য ক্যাসটাসের জাত রয়েছে ছোট ছোট টবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ নুরুল আমিন দ্য রিপোর্ট জানান, ছাদে বাগান সৃজন পরিশ্রমসাপেক্ষ। সালেহা এই পরিশ্রমসাপেক্ষ কাজটি করে নজির স্থাপন করেছেন। তিনি বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা করেছেন, যত্ন করেছেন, সাফল্য পেয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘কৃষি দফতর এমন বাগান গড়ে তুলতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সবুজ বাগান সৃজনের বিকল্প নেই।’

 

বাড়ির ছাদে ছাদে এমন বাগান সৃজনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।সূত্র: দ্য রিপোর্ট

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২২ জুন ২০১৪ই.