banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

রমজানে খাবার বাছাইয়ে তিন কথা

3-Tips-Inner

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : এবারের রমজানের পুরোটাই বর্ষাকাল। বৃষ্টির স্বস্তি থাকলেও সারাদিন রোজা থেকে ভ্যাপসা গরমে কাহিল হয়ে পড়তে পারেন। উবে যেতে পারে কাজ করার শক্তি ও ইচ্ছা । অতীত অভিজ্ঞতা এ রকমটাই বলে। এ ছাড়া এখন দিন বারো ঘণ্টার বেশি। তাই এবারের রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হবে। পানিস্বল্পতা তো রয়েছে, এ ছাড়া সঠিক খাবার নির্বাচন না করার কারণে পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারেন।

 

মুখরোচক খাবারের চেয়ে রোজাদারের জন্য পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার দরকার। যা প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাবে। তাই খাবার নির্বাচনে বিশেষ সতর্কতা দরকার। এখানে খাবার বাছাইয়ের তিনটি প্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ করা হলো-

7

ভাজাপোড়া ও জাঙ্কফুড পরিহার করুন 

ভাজাপোড়া খাবার ইফতারিতে বহুল প্রচলিত। পুরনো ঢাকা ও নামি-দামি রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সাধারণ খাবারের দোকান এমন আয়োজনে ভরপুর থাকে। এসব খাবারে থাকে অতিরিক্ত মশলা, তেল ও চিনির ব্যবহার। খাবারে এগুলোর বেশি ব্যবহার এমনিতেই অস্বাস্থ্যকর। তবুও ইফতারির আয়োজনে ভাজাপোড়া ও জাঙ্কফুডের চাহিদা অনেক! রমজানে এসব খাবারকে না বলুন। জোর দিন ঘরে তৈরি হালকা মশলা, তেল ও চিনি ব্যবহার করা খাবারের প্রতি। বেশি করে দেশি ফল ও সবজি খান। দেখবেন রমজানের পবিত্রতায় এ সব সাধারণ খাবার কতই না মজাদার, আর পুষ্টিগুণ তো সারাদিন ধরে টের পাবেন।

মিষ্টি খাবারের ক্ষেত্রে মধু বা আখের গুড় ব্যবহার করুন। সারাদিন রোজা থাকার পর শরীরে শর্করার প্রয়োজন রয়েছে। তাই শর্করার চাহিদা মেটাতে শুটি, ডিম বা মাংসের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন এবং পরিমাণমত খান। আঁশ সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি জোর দিন।

 

সাদা খাবারকে না
ইফতারির আয়োজনে ছোলার সঙ্গে আমরা মুড়ি খেয়ে থাকি। মুড়ির রঙের দিকে নজর দিন। বেছে নিন বাদামী মুড়ি। ভাজার সময় ইউরিয়া ব্যবহার করলে মুড়ির রং সাদা হয়ে যায়। যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া সাদা খাবারের মধ্যে রয়েছে সাদা রুটি, চাল ও চিনি। প্রক্রিয়াজাতের কারণে এমন রং হয়। এ সব খাবারে পুষ্টিগুণ রক্ষিত হয় না। বিশেষ করে অতিপ্রয়োজনীয় আঁশ এ সময় বাদ পড়ে। এতে শুধু শর্করা থাকে। যা স্থূলতা ঘটাতে পারে। তাই গম থেকে ভাঙ্গা আটা ও বাদামী চাল খেতে পারেন।

পানীয়ের প্রয়োজনীয়তা

রমজানে শরীর আস্তে আস্তে পানি হারাতে থাকে। বেশি পানি খেয়ে সারাদিনের জন্য জমিয়ে রাখার কোনো উপায় নেই। তাই খাবার বাছাইয়ে সতর্কতা দরকার। ইফতার থেকে সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ৮ গ্লাস পানি পান করুন। সেহরির মেনুতে বেশি মশলা ও লবণযুক্ত খাবার রাখবেন না। এগুলো রোজা রাখা অবস্থায় পিপাসা বাড়িয়ে দিবে। এর বদলে ফল বা সবজি খান। এতে থাকা জলীয় অংশ ও আঁশ বেশিক্ষণ পাকস্থলীতে থাকে। খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙ্গুন। সঙ্গে রাখুন ডাবের পানি বা ফলের রস। অপরিমিত কফি বা চা পান থেকে বিরত থাকুন। এসব পানীয় শরীরের পানি শুষে দেয়।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৯ জুন ২০১৪ই.

উত্তরায় যাত্রা শুরু করলো নাবিলা বুটিকস

 NABILA-UTTARA-OPENING-CEREM20140628144538

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : গুলশানের পর এবার রাজধানীর উত্তরায় যাত্রা শুরু করলো দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউজ নাবিলা বুটিকস। শনিবার, ২৮ জুন এ ফ্যাশন হাউজের উত্তরা শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নাবিলা বুটিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীমা নবী।

 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাবিলার চেয়ারম্যান মেজর (অব.) টি. আই. এম নূরুন নবী, পরিচালক নাবিলা, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাহনূর, মডেল নিলয়সহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ববর্গ।

 

নাবিলার বিশেষত্ব প্রসঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্যাশন ডিজাইনার শামীমা নবী বলেন, ‘একজন ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে আমি আমার সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম দিয়ে চেষ্টা করি সুন্দরের বিকল্প আরো একটি সুন্দর সৃষ্টিতে এবং সেটা হচ্ছে পোশাক ও অলংকার যা মানুষকে আরো সুন্দর, আকর্ষনীয় করে তুলে।

 

বুটিকসটির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) টি.আই.এম নূরুন নবী বলেন, নাবিলার প্রতিটি পোষাক তৈরী হয় বাঙ্গালী ও ইসলামী চেতনার উপর ভিত্তি করে। পোষাকের ডিজাইনে বরাবরই আধুনিকায়নকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

 

পরিচালক নাবিলা জানান, উত্তরায় আমাদের এ বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে শাড়ী, থ্রি-পিচ, লেহেঙ্গা প্রভৃতী নারীদের পোশাক। এখানে শাড়ী পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। এছাড়া থ্রি-পিচ পাওয়া যাবে এক হাজার দুই শত টাকা থেকে এক লাখ টাকা এবং লেহেঙ্গা দশ হাজার টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া অন্যান্য পোষাকের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সকলেরই ক্রয় ক্ষমতা ও সাধ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৯ জুন ২০১৪ই.

 

দেখে এলাম এভারেস্ট

উদয় হাকিম: মাউন্ট এভারেস্ট। দ্য টপ অব দি ওয়ার্ল্ড। পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ। এভারেস্ট দেখার ইচ্ছে কার না আছে। ছিল আমারও। দুর্নিবার সে ইচ্ছে। অবশেষে পূরণ হলো এভারেস্ট দেখার সাধ! তবে সামিট করে নয়, পাঁয়ে হেঁটে নয়। দেখলাম বিমান থেকে।

দেখলাম আলোর মাঝে অপূর্ব সে আলো। মাথা উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে। যেন সারা পৃথিবীর ভার বয়ে তবু অবিচল। অম্লান শুভ্র বসনে, বীরের বেশে। যেন নিরন্তর চির উন্নত শির।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা। পুব আকাশে সূর্য। চরাচর ভেসে যাচ্ছে উজ্জ্বল আলোয়। পুরো উত্তর পাশ জুড়ে শত শত পাহাড়ের চূড়া। বোঝার উপায় নেই কোনটা এভারেস্ট! তার পরও এভারেস্টের সমান উচ্চতায় আর তো কিছুই নেই। এভারেস্ট দাঁড়িয়ে স্বমহিমায়। যখন একটা এভারেস্ট থাকে, তার চারপাশের অন্য সবকিছু হয়ে যায় ম্লান।

দেখলাম ত্রিকোণাকৃতির চূড়া। অন্য সবকিছুর চেয়ে আলাদা। ভয়াল ধু-ধু বিন্দু। হালকা বাতাস। মেঘেরা ভেসে বেড়ায় অনেকটা দূর দিয়ে। এত উঁচু বন্ধুর পর্বতে মানুষ কীভাবে ওঠে! সুউচ্চ এই চূড়ায় আরোহণ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২০০-এরও বেশি মানুষ। তার পরও থেমে নেই এভারেস্ট জয়ের বাসনা। এভারেস্টের কাছে গেলে মনে হয়, পুরো পৃথিবীটাই বোধহয় এরকম- শুধু বরফের আস্তর, বরফের পাহাড়, বরফের রাজত্ব, কোথাও নেই এতটুকু সমতল।

এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার। এভারেস্টে ওঠার সর্বশেষ বেস ক্যাম্প সম্ভবত ৭ হাজার ৯০৬ মিটার উঁচুতে। এ জায়গাটাকে মনে হলো যেন বরফের নদী। সম্ভবত বরফ গলতে শুরু করলে এখানে মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। এজন্য মে মাসের শেষ সপ্তাহ শুরু হওয়ার আগেই সামিট সিজন শেষ হয়ে যায়।

এভারেস্টের ওপরটা দেখলে মনে হয় না, এত কঠিন এখানে ওঠা। কাছ থেকে মনে হয়, সহজেই ওঠা সম্ভব। কিন্তু বরফের ওপর দাঁড়ানো অত সহজ নয়। মসৃণ চকচকে দেখা গেলেও আদতে ওই স্থানটি অতি ভয়ানক। যারা হেঁটে এভারেস্টে ওঠেন তারা কিন্তু বেশিক্ষণ সেখানে থাকেন না। শুধু ছবি তোলা, পতাকা প্রদর্শন এবং অতি সংক্ষিপ্ত কিছু স্মৃতিচিহ্ন বা স্মারক রাখা ছাড়া আর সময় নেই। কারণ, ওখানে সময় নষ্ট করা মানেই মৃত্যুকে ডেকে আনা।

আগেরবার নেপাল গিয়েও এভারেস্ট দেখতে পারিনি। তাই এবার মিস করতে চাইনি। আগের দিন টিকিট কনফার্ম করেছি। টিকিট ১৯৪ ডলার। কাঠমান্ডুর তিব্বত হোটেল থেকে গাড়িতে নিয়ে যাবে আর দিয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ২১২ ডলারের প্যাকেজ।

ভোর সাড়ে ৫টায় গাড়ি এল হোটেলে। তৈরি হয়ে ছিলাম আগেই। আধা ঘণ্টায় এয়ারপোর্টে চলে গেলাম। ইয়েটি এয়ারলাইন্সের বোর্ডিং কার্ড নিলাম। ২ নম্বর গেটে গিয়ে অপেক্ষা। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের গাবতলী বাস টার্মিনালের চেয়েও দুরবস্থা। ভাঙা একটা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করলাম। এখানে শুধু এভারেস্ট দেখানোর জন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স কাজ করছে। অফ সিজনেও যাত্রীসংখ্যা নেহাত কম নয়। পাঁচ মিনিট পরপরই একটা করে ছোট বিমান টেক অফ করছে। ঠিক সাড়ে ৬টায় ডাক এল আমাদের।

নড়বড়ে সিঁড়ি দিয়ে বিমানের ভেতরে ঢুকলাম। বিমানবালা নিচু করে ঢুকতে বললেন, না হলে মাথা ঠুকে যাবে ওপরে। বাঁ পাশের সিঙ্গেল সিট আমার। খুব ভালো পজিশন। ডান পাশে দুজন করে বসল। সব মিলিয়ে ১৬-১৭ জন যাত্রী। বিমানবালা দেখতে সুন্দর, ইংরেজি উচ্চারণও খুব ভালো। তবে কথা বলে খুব নিচু স্বরে। কান পর্যন্ত কথা পৌঁছোয় না।

ঘরঘর শব্দ করে বিমান উঠল রানওয়েতে। সিগন্যাল ওকে। ছোট্ট, হালকা বিমান। সামান্য দৌড়েই উড়ে গেল আকাশে। মনে হচ্ছিল, ফড়িংয়ের পিঠে চড়েছি। আমার হাইট ফোবিয়া আছে। কিন্তু ফড়িং বিমানে কোনো ভয় লাগছে না। মনে হচ্ছে বিমানটি আমিই চালাচ্ছি। আরো যদি সুযোগ পেতাম!

নিচে কাঠমান্ডু শহর। উত্তর পাশে বিশাল কালো পাহাড়, যেটি দাঁড়িয়ে আছে বিমানবন্দরকে আড়াল করে। কিন্তু কালো পাহাড়ের পেছনেই যে বি

১৮ বছরের আগেই দুই-তৃতীয়াংশ মেয়ের বিয়ে হয়

child20140623204406

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশে এক-তৃতীয়াংশ কন্যাশিশুর ১৫ বছরের আগে এবং দুই-তৃতীয়াংশ কন্যাশিশুর ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়। গ্রামে এ হার ৭১ শতাংশ এবং শহরে ৫৪ শতাংশ। এমনই এক চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের এক গবেষণায়।

 

সম্প্রতি সংগঠনটি শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটি যথাক্রমে শরীয়তপুর সদর, ডামুড্যা, নড়িয়া, গোসাইরহাট এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলায় এক গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় উঠে আসে ওই জেলার কন্যা শিশুদের অকাল বিয়ের পরিমাণ, কারণ এবং ফলাফল।

 

গবেষণায় দেখা দেখা গেছে, সেখানে মোট পুরুষের ৯২ শতাংশ বাল্যবিবাহ সম্পর্কে শুনেছেন এবং নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৯৩ শতাংশ। তারা কেউ শুনেছেন মিডিয়ার মাধ্যমে, কেউ এনজিও’র মাধ্যমে, কেউ শিক্ষকের কাছে। তবে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে ধারণার ক্ষেত্রে উত্তরদাতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতামত পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

বাল্যবিবাহের শাস্তি সম্পর্কে অধিকাংশের স্বচ্ছ ধারণা নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে অধিকাংশ আইনজীবী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি আইনের দুর্বলতার কথা বললেও সরকারি কর্মকতা যেমন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ১৯২৯ সালের বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যায় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

 

সেখানকার গবেষণার আওতাভুক্ত শরীয়তপুরকে বাল্যবিবাহ প্রবণ এলাকা বলে অভিহিত করেছেন কেউ কেউ। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শরীয়তপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত মোট ১৩ জন ছাত্রী বিবাহিত,  যারা ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রত্যেকের ১৫ বছরের পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।

 

গবেষণায় আরো উঠে আসে, শরীয়তপুরে বাল্যবিবাহের ধরনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৮ বছরের কম বয়সের মেয়ের সঙ্গে অধিক বয়সের ছেলে, কখনো বা দ্বিগুণ বয়সের ছেলের বিবাহ সম্পন্ন। শরীয়তপুরে বাল্যবিবাহের কারণ সম্পর্কে গবেষণায় যা উঠে এসেছে সচেতনতার অভার, দারিদ্র্য, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব, নিরাপত্তাহীনতা, যৌতুক অন্যতম।

 

বাল্যবিবাহের ফলে যে প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তা হচ্ছে শারীরিক দুর্বলতা, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দাম্পত্য কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, বহু বিবাহ।

 

বাল্য বিবাহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দেখা যায়, প্রশাসনিক পদক্ষেপ, বেসরকারি নজরদারি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, নারী শিক্ষার প্রসার প্রভৃতি কারণে শরীয়তপুরে বাল্য বিবাহের প্রবণতা পূর্বের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে।

 

বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে শরীয়তপুরে সরকারি কোনো ভূমিকা আছে কি না- এমন প্রশ্নে অধিকাংশই মনে করেন, সরকারিভাবে ভূমিকা রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতা তেমনটিই মনে করেন। তবে গৃহীত পদক্ষেপ কতটা কার্যকর- এমন প্রশ্নে বেশিরভাগ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকারিভাবে গৃহীত পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাল্যবিবাহ রোধ করতে পারছে না। এছাড়া স্থানীয় সরকারের ভূমিকাও যথেষ্ট নয়।

 

এছাড়া, শরীয়তপুরে খুব অল্প সংখ্যক এনজিও এবং মিডিয়াসহ ছাত্র-ছাত্রী, নাগরিক সমাজ, বিবাহ নিবন্ধক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

 

গবেষণায় উঠে আসা পর্যালোচনা সাপেক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে কিছু  সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো- বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৩’-এর পরিবর্তে ‘শিশুবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৩’ করা; ‘বাল্যবিবাহ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘শিশুবিবাহ’ শব্দটি সর্বত্র ব্যবহার করা; বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে কমপক্ষে দশম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে চ্যাপ্টার সংযোজন করা;  বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ প্রচার চালানো, এক্ষত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা; বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-১৯২৯ সংশোধন সাপেক্ষে সময়োপযোগী করা; আইনের শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি ও কঠোর করা;  নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধিরোধ করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ; বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে চলমান আইনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করা; জন্ম সনদে বয়স বৃদ্ধিরোধে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার; বিবাহ নিবন্ধকের জন্য সরকারিভাবে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ; প্রবাসীপাত্রের সাথে বিবাহ দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করতে সামাজিক প্রচার এবং বিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

 

এ সম্পর্কে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আগের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনটির বিভিন্ন ফাঁকফোকর থাকার কারণে বাল্যবিবাহ নির্মূল  করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আইনটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ আইন (খসড়া) ২০১৩ এর সংশোধনী আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর আইনটি বাস্তবায়ন করা হবে আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে।

 

অপরাজেয় বাংলাদেশ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু বলেন, সমাজে নারী ও শিশু হলো ব্যারোমিটারের মতো। যে সমাজে নারী ও শিশুকে বাদ দেওয়া হয় সে সমাজকে ন্যায্য সমাজ বলা যায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টকরে শিশু ও নারীর অধিকার উল্লেখ করা আছে। কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন হয়।

 

তিনি আরো বলেন, দেশে অভিভাবকরা বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে এখনো সচেতন হননি। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হলে প্রথমে ঘরের ভেতরটা পরিবর্তন করতে হবে। ঘরের ভেতরটা পরিবর্তন না করলে বারবার পিছিয়ে যাব।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৬ জুন ২০১৪ই.

ভালুকায় মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

index_41822

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ময়মনসিংহ : জেলার ভালুকা উপজেলায় মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে জেলার মিরকা গ্রাম এই লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী (৩০) ও তার মেয়ে সুচি (৫)।

 

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে উপজেলার মিরকা গ্রামের কালি বিলের পার্শে¦ একটি কড়াই গাছে দু’টি ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।

 

পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

 

নিহত শিউলীর পিতা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। জাহাঙ্গীর তার ভাবীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক থাকায় তাদের অনৈতিক কাজ শিউলী ও তার মেয়ে সূচি দেখে ফেলায় তাদের হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা গিয়াস উদ্দিন বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলতে পারবো এটা আসলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২২ জুন ২০১৪ই.

ঘুরে আসুন গুঠিয়া বাইতুল আমান মসজিদ

1403265554.

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, বরিশাল : বরিশাল-বানারীপাড়া সড়ক ধরে এগোলেই উজিরপুর উপজেলা। সড়কের পাশে গুঠিয়ার চাংগুরিয়া গ্রাম। এ গ্রামেই আছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ মসজিদ। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু চাংগুরিয়ার নিজ বাড়ির সামনে প্রায় ১৪ একর জমির উপর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ-ঈদগাহ্ কমপ্লেক্স এর নির্মান কার্যক্রম শুরু করেন।

 

৩ বছর মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্মান কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন এস. সরফুদ্দিনের ছোট ভাই মোঃ আমিনুল ইসলাম নিপু। তিনি ২০০৬ সালে উক্ত জামে মসজিদ- ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ সম্পন্ন করেন। তার নির্মানাধীন সময়কালের মধ্যে তিনি একটি বৃহৎ মসজিদ-মিনার, ২০ হাজার অধিক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ্ ময়দান, এতিমখানা, একটি ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক-পুকুর খনন কাজ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন-ফুল বাগান তৈরি ও লাইটিং ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন।

 

1403265580.

 

কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশপথের ডানে বড় পুকুর। পুকুরের পশ্চিম দিকে মসজিদ, একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লী নামাজ পড়তে পারে। মসজিদ লাগোয়া মিনারটির উচ্চতা ১৯৩ ফুট। ঈদগার প্রবেশপথের দুই ধারে দুটি ফোয়ারা আছে। এই মসজিদের নির্মাণ কাজে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার নির্মান শ্রমিক কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়। পরে গুঠিয়ার নামেই মসজিদটি পরিচিতি লাভ করে।

 

চাংগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ এটির নির্মাণ ব্যয় বহন করেন। বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বানারীপাড়ার উদ্দেশে ১৫ মিনিট পর পর বাস ছাড়ে। মসজিদে যেতে ভাড়া লাগে ১৪ টাকা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২২ জুন ২০১৪ই.

পাহাড়ে রেশম চাষ

55

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, রাঙ্গামাটি : রেশম চাষের জন্য বেশি জায়গা বা সময়ের প্রয়োজন পড়ে না। সহজে বাড়ির উঠানে বা ঘরে চাষ করতে পারা যায়। সে সুবিধা কাজে লাগাচ্ছেন রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার অনেক নারী। তারা রেশম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি চাষ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এ রেশম চাষ সহজ করে দিয়েছে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দানকারী প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্র ও রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়।

 

বেতছড়ির বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম দুই দশক আগে রেশম চাষ শুরু করেন বলে জানা যায়। তার সাফলতা মেয়ে ফরিদা পারভিনকেও রেশম চাষে উদ্বুদ্ধ করে। ফরিদা ৮ বছর ধরে রেশম চাষে যুক্ত আছেন। তিনি ছোট বোন শাহানা আক্তারসহ এলাকায় শতাধিক নারীকে রেশম চাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বর্তমানে কাউখালীতে চার শতাধিক নারী রেশম চাষে যুক্ত আছেন।

 

চাষী শিরিনা বেগম, রোকসানা বেগম, বৈশাখী চাকমা, হাসিনা বেগম, লায়লা বেগম, গোলাপী বেগম, কুলসুমা বেগম, সুখী চাকমাসহ অনেকে জানান, তারা রেশম চাষ করে লাভবান হয়েছেন। শিরিনা বেগম জানান, তার কাছে বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা জমা আছে। যা রেশম চাষ থেকে আয় করেছেন। আরেকজন জানান, এক ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন রেশম চাষ করে। এ রকম অনেক নারী তাদের সফলতার কথা দ্য রিপোর্টকে জানান।

 

ফরিদা পারভীন জানান, বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৩৩৬ জন রেশম চাষী আছেন। প্রতিনিয়ত এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্র বিনামূল্যে রেশম পোকা সরবরাহ করে। এ ছাড়া চাষীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যে কোনো সমস্যায় তাদের পরামর্শও দিচ্ছে।

 

সম্প্রতি বেড়ছড়িতে অনুষ্ঠিত হলো একটি প্রশিক্ষণ। ২৪ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত চলা এ প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল ‘বয়স্ক পুল পালন’। প্রশিক্ষণ শেষে চাষীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। সনদ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানী চাকমা কৃপা, জেলার কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক পরিচালক তপন কুমার পাল, আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক কামনাশীষ দাশ ও আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাশিদুল হক। আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণে নারীদের উপস্থিতিই বেশি ছিল।

 

চাষীরা মনে করেন কাউখালী উপকেন্দ্রে রেশম নিয়ে আরও পদক্ষেপ দেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক কামনাশীষ দাশ বলেন, কাউখালীতে অনেক মহিলা রেশম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা এলাকায় চাকী পলু পালন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাশিদুল হক বলেন, কাউখালী, কাপ্তাই এবং রাজস্থলীতে চাকী পলু পালন কেন্দ্র গড়ে তোলা বিশেষ প্রয়োজন। এটা করা গেলে এলাকায় রেশম চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২২ জুন ২০১৪ই.

বাড়ির ছাদে সবুজের উঁকি

Rajshahi-1

 

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী : ‘শাহীন মঞ্জিল’। রাজশাহী নগরীর উপশহর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেক্টরের ৬৪৫ নম্বর বাড়ি। বাড়ির চারতলায় ছাদজুড়ে বিশাল বাহারি বাগান। আর সেই বাগান গড়ে জাতীয় পদক পেয়েছেন সালেহা খন্দকার। 

গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট আর ৩০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

 

জাতীয় পুরস্কারে গর্বিত সালেহা খন্দকার এখন রাজশাহীর গর্ব ও প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

 

সালেহা খন্দকার তার এ সাফল্যে মরহুম স্বামীর অনুপ্রেরণা ও একমাত্র ছেলে শাহীনের সহযোগিতার কথা স্বীকার করেন। ছেলে শাহীন সালেহউদ্দিন কৃষি কর্মকর্তা। গাছপাগল। গাছ নিয়েই থাকেন। ছুটি পেলে বাসায় এসে আগেই উঠে পড়েন ছাদে। নীবিড় পরিচর্যা শুরু করেন নিজেও। সালেহা খন্দকার জানালেন, তার এ সাফল্যে ছেলের অবদান সবচেয়ে বেশি।

 

জাতীয় পদকে ভূষিত সালেহা খন্দকার দ্য রিপোর্টকে জানান, বাজারে বিষমুক্ত টাটকা ফলমুল ও শাক-সবজির অভাব। এ অভাবের তাড়নায় বিষমুক্ত ও টাটকা শাক-সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে দুই হাজার বর্গফুট ছাদে ফলমূল ও শাক-সবজির বাগান গড়ে তোলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী জুবাইদ আলী কৃষিবিদ ছিলেন। বগুড়ার শেরপুরে আমাদের ছোট খামারবাড়ি আছে। সেখানেও সব ধরনের ফলমূলের গাছ আছে।’

 

কথা বলতে বলতে এক সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালেহা খন্দকার।

 

তিনি বলেন, ‘সে (আমার স্বামী) আজ বেঁচে নেই। পুরস্কারটি পাওয়ার পরে তাকে বেশি মনে পড়ছে। কারণ তিনি বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।’

 

Rajshahi-2

 

শাহীন মঞ্জিল নামের বাড়িটির খোলা আকাশে ছাদের উপর এখন যেন অন্য এক সবুজ সংগ্রহশালা। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, লেবু, জাম্বুরা, কুল, জলপাই, ডালিম, শরিফা, বেল, সফেদা, আমলকি, কমলালেবু, আমড়া, জাম, কদবেল, আঁশ ফল, কামরাঙা, মালটা, লটকন, চালতা, করমচা, আরবরই, গোলাপজাম ও জামরুল গাছ রয়েছে। ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট টবে সাজানো রয়েছে পাথরকুচি, সাজনা, শতমূলী, তেঁতুল, থানকুনি, কালোমেঘ, ঘৃতকুমারী, বাসক, তুলসি ও আমলকিসহ নানান জাতের ওষুধি গাছ আর ফুল যেন উঁকি দেয় সবুজের মাঝে।

 

গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, এস্টার, বেলি, বাগানবিলাস, জারবেরা, কাঠগোলাপ, আলকানন্দ, কামিনী, থুজা, ড্রাসিনা, এরিকাপাম, মানিপ্ল্যান্ট, মালফুজিয়া, ল্যান্টানা, পয়েনসেটিয়া, চেরি, হাইব্রিড জবা, মুসান্ডা, রাধাচূড়া, মর্নিং গ্লোরি, কিরীটিনী, মে ফ্লাওয়ার ও জেফির লিলি। সংগ্রহশালার মধ্যে আরও রয়েছে- ছাতিম, বৈইচি, শেওড়া, অশথ, বট, পাইকর, লাইকড় ও জিলাপি ইত্যাদি বনসাই।

এ ছাড়া কদম, নিম, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, ইপিল-ইপিল, কাঞ্চন, দেবদারু, বকুল, মহুয়া, জাম ও শিমুল রয়েছে একই বাগানে। সেখানে আরো রয়েছে টমেটো, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াপাতা, লাউ, পুঁইশাক, গিমা কলমী, পালংশাক, শিম, চালকুমড়া, করলা, পটল ও মিষ্টি কুমড়াসহ সব ধরনের সবজি, যা পরিবারের পুষ্টি যোগান দেয়। আর যেটি দেখলে মণ-প্রাণ জুড়িয়ে যায় তা হলো বহুজাতের ক্যাসটাস। কিন্নরী, জ্যাট্রফা, সাইকাস, ড্রাগন ফ্রুট ও জাবেটিকাবাসহ অন্য ক্যাসটাসের জাত রয়েছে ছোট ছোট টবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ নুরুল আমিন দ্য রিপোর্ট জানান, ছাদে বাগান সৃজন পরিশ্রমসাপেক্ষ। সালেহা এই পরিশ্রমসাপেক্ষ কাজটি করে নজির স্থাপন করেছেন। তিনি বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা করেছেন, যত্ন করেছেন, সাফল্য পেয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘কৃষি দফতর এমন বাগান গড়ে তুলতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সবুজ বাগান সৃজনের বিকল্প নেই।’

 

বাড়ির ছাদে ছাদে এমন বাগান সৃজনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।সূত্র: দ্য রিপোর্ট

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২২ জুন ২০১৪ই.

স্বপ্ন দেখছেন ২৭ নারী

 0516125245

সেলাই মেশিন গ্রহণ করলেন ২৭ জন নারী

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, কুমিল্লা : সালমা আক্তার। বয়স ১৯। এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বিয়ে হয়নি। নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে।পরিবারকেও সহযোগিতা করতে পারেন না। তাই পরিবারে কাছে তার গুরুত্ব অনেকটা গুরুত্বহীন।

 

সম্প্রতি তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বনির্ভরায়ন কার্যক্রমের আওতায় কুমিল্লায় দুই মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার কুমিল্লা রোটারি ক্লাব মিলনায়তনে তিনি প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেটের সঙ্গে একটি সেলাই মেশিনও গ্রহণ করেন।

 

সালমা আক্তার জানান, তিনি সেলাই করে ভালো আয় করতে পারবেন। নিজের হাত খরচ জোগাড়ের পাশাপাশি সহযোগিতা করতে পারবেন পরিবারকেও।

 

সালমা আরো জানান, তারা মোট ২৭ জনকে ৫০০ টাকা ফির বিনিময়ে দুই মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে সেলাইয়ের কাঁচি ফিতা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যাদের সামর্থ নেই, তাদের ১৫ জনকে সুদমুক্ত সহজ কিস্তিতে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।

 

কোয়ান্টাম কুমিল্লা শাখার অর্গানাইজার মোহাম্মদ সিকান্দার জানান, সংগঠনের যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

সেলাই প্রশিক্ষণের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের ঋণ মুক্ত স্বচ্ছল জীবন, রাগ ক্ষোভ পরিহার, সুস্বাস্থ্যের পাঁচ ভিত্তি, নৈতিক শক্তি অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক সমন্বয় সুরাইয়া রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আক্তার এবং ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানিয়ার কো-অর্ডিনেশন এসএম সাজ্জাদ হোসেন।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৯ জুন ২০১৪ই.

আত্মপ্রত্যয়ী এক গৃহবধূ

 

602153404

মুরগীর ফার্মে কাজ করছেন নাজমা বেগম

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, সাতক্ষীরা : দারিদ্র্যের নিষ্ঠুুরতা দমাতে পারেনি আত্মপ্রত্যয়ী পাটকেলঘাটার এক গৃহবধূকে। মুরগীর ফার্ম করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।

 

অল্প কয়েকটা কিছু মুরগী নিয়েই শুরু হয়েছিল তার পথচলা। প্রয়োজনীয় পুঁজির সরবরাহ পেয়ে মাত্র চার বছরের ব্যবধানে তিনি এখন ছোটবড় ৬টি ফার্মের মালিক।

 

গৃহবধূর নাম নাজমা বেগম। এখন তিনি মুরগীর ফার্ম সমিতির মাধ্যমে ইনকিউবেটর মেশিন সংগ্রহ করে সেখানে নিজ ফার্মের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাচ্ছেন। সমিতির বিভিন্ন ফার্মে সেই বাচ্চা সরবরাহ করছেন। এই কাজে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন তার স্বামী ওসমান গণি।

 

তার ৩ টি ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি বড় ছেলে ১ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের হ্যাচারির তদারকি করছে। তাদের সংসারের চাকা ঘুরছে এই ফার্মেরই আয় দিয়ে।

 

নাজমা বেগম সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের বাসিন্দা। তিন সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালাতে রীতিমত হিমশিম খেতেন।

 

এমনই পরিস্থিতিতে তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট লেয়ার মুরগীর ফার্ম তৈরি করেন। প্রতিটি ৩০ টাকা দরে প্রথম পর্বে ১শ লেয়ার মুরগীর ১দিন বয়সী বাচ্চা তোলেন। খাবার ও ওষুধসহ প্রতিদিন ২শ টাকা হারে খরচ হতো। বাচ্চার বয়স সাড়ে পাঁচ মাস হলে ডিম পাড়া শুরু করে। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় অন্যখানে।

 

একদিকে যেমন প্রতিদিন ২শ টাকা খরচ সংকুলন করা অসম্ভব, অন্যদিকে মাত্র ১শ মুরগীর জন্য গড় খরচ বেশি হওয়ায় পুঁজি বাঁচানো দায় হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় তার ফার্ম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে।

 

এ সময় বেসরকারি সংস্থার তালা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার তাজউদ্দিনের সাথে পরিচয় হয় তার। তিনি এগিয়ে আসেন সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে।

 

নাজমা তার স্বামীর সাথে পরামর্শ করে মুসলিম এইড থেকে প্রথম দফায় ২০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণ করে ৩শ বাচ্চা পালন শুরু করেন। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি ডিম পেতে থাকেন। পরে নিজের হ্যাচারিতেই বাচ্চা ফুটাতে শুরু করেন। বর্তমানে গড়ে বাচ্চা প্রতি ২০ টাকা নীট মুনাফা থাকে।

 

নাজমা বেগম জানান, ৫ দফায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার ফার্মের কাজে লাগিয়েছেন। বর্তমানে তার হ্যাচারিতে ১২ হাজার ডিমে বাচ্চা ফোঁটার অপেক্ষায় আছে। ফার্মে ২ হাজার বাচ্চা আছে। এক হাজার ডিমের মুরগী আছে, যা প্রতিদিন ৬শ-সাড়ে ৬শ ডিম দেয়।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৯ জুন ২০১৪ই.

গড়ে তুলুন হাঁটার অভ্যাস

138082515

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : স্বাস্থ্য সচেতনতায় আমরা অনেকেই প্রতিদিন হেঁটে থাকি। কিন্তু অনেকে জেনে হাঁটছেন অনেকেই না জেনে শুধু শুনেই হাঁটছেন। কিন্তু আপনি কেন হাঁটছেন বা ঠিক কি ধরনের উপকারিতা পাচ্ছেন এই হাঁটার ফলে তা জানাটা দরকার প্রতিটি মানুষেরই। তাই জেনে নিন প্রতিদিন হাঁটার উপকারিতাগুলো।

 

১. দেহের অতিরিক্ত ক্যালরি নিঃসরণ করে :

আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন খাবার খেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি আহরণ করে থাকি। হাঁটার ফলে আমাদের দেহের এইসব অতিরিক্ত ক্যালরি নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে দেহের ভারসাম্য রক্ষা পায় সুতরাং ওজন অস্বাভাবিক বাড়ে না।

 

২. রক্তের কোলেস্টরেল, সুগার এবং প্রেসার নিয়ন্ত্রিত হয় :

হাঁটলে আপনি আপনার দেহের রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টোরল, সুগার এবং প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। এগুলো নিয়ন্ত্রিত করে প্রতিদিনের হাঁটার অভ্যাস। ফলে দেহে অসুখ বিসুখ কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

৩. হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমিয়ে আনে :

প্রতিদিন দৌঁড়ানো এবং হাঁটলে দেহের হার্টের রক্ত চলাচল স্বাভাবিকভাবে হতে থাকে এবং এতে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক মাত্রায় হতে থাকে। এ কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

 

৪. হাড় মজবুত হয় :

প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি এবং দৌড়াদৌড়ি করলে দেহের হাড় মজবুত হয়ে ওঠে। এর ফলে অস্টিওপোরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়। এছাড়া মাংসপেশী শক্ত করে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি।

 

৫. শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায় :

হাঁটাহাঁটি করলে শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। ফলে আপনি শক্ত ধরনের কাজগুলো নিমেষেই করতে পারবেন। তেমন কোনো কষ্টই হবে না।

 

৬. দৈহিক আস্থা বাড়িয়ে দেয় :

হাঁটলে পরে আপনি দৈহিকভাবে আস্থা ফিরে পাবেন। কাজের ক্ষমতা পাবেন। আপনি একজন শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন।

 

৭. সামাজিক যোগাযোগ গড়ে উঠবে :

আপনি যদি প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলেন তাহলে অন্যান্য আরও ব্যক্তি যারাও হাঁটছেন এমন মানুষদের সাথে পরিচয় হবে। ফলে তাদের সাথে একটা ভালো যোগাযোগ গড়ে উঠবে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৯ জুন ২০১৪ই.

জেনে নিন অবহেলিত সরিষা শাকের অজানা ৭ টি স্বাস্থ্য গুণ

5304702d1

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : অনেকেই আছেন যারা শাক খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না। অথচ আপনি কি জানেন খুব দামী দামী খাবারের মাঝে প্রতিনিয়ত যে পুষ্টিগুণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কেবল একটুখানি সরিষা শাকেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন তার সব কিছু। শুধু শাক হিসেবেই নয়, বরং কুচি কুচি করে বিভিন্ন তরকারির বা সালাদের সাথে মিশিয়ে নিলেও এটি ভীষণ স্বাদ বাড়ানোর কাজ করে। এর সব চেয়ে বড় গুণ হলো, এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে দিতে ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয় এই ভীষণ সস্তা খাবারটির পুষ্টিগুণ মোটেই সস্তা নয়। আর এগুলো জানবার পরে আপনি নিশ্চয়ই এটি না খেয়ে থাকতেই চাইবেন না।

 

জেনে নিন সরিষা শাকের ৭ টি স্বাস্থ্য গুণঃ

১। ভিটামিন ও মিনারেলের সমৃদ্ধ উৎসঃ

সরিষা শাক ভিটামিন এ, সি ও কে তে পরিপূর্ণ যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন সিতে আছে শিক্তশালী এন্টি অক্সিডেন্ট যা নানা রকম ভাইরাল অসুখ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। ভিটামিন এ ভালো রাখে আপনার দৃষ্টিশক্তি আর ভিটামিন কে দেয় হাড়ের সুরক্ষা এবং মস্তিষ্ককে রাখে দারুণ সচল।

 

এছাড়াও এতে আছে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন ও ফাইবার। যা আপনার হার্ট ভালো রাখে, রক্তের কোলস্টেরল কমায় এবং গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।

 

২। এন্টিঅক্সিডেন্টের ভান্ডারঃ

এন্টিঅক্সিডেন্ট এর সব চেয়ে বড় গুণ হলো, এটি আপনার ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। কেবল তাই নয়, এটি মাসসিক চাপ কমায়, এবং নানা ধরনের ক্যান্সার (মূত্রথলী, স্তন, পায়ূপথ, জরায়ু, ফুসফুস) থেকে আপনাকে রাখে ১০০ হাত দূরে।

 

৩। ধুয়ে দেয় শরীরের বিষাক্ত পদার্থঃ
সরিষা শাকে আছে সালফার সমৃদ্ধ পুষ্টিগুণ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট। এটি আপনার দেহে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে আর সেই সাথে নানা ক্রনিক রোগের আক্রমণ থেকেও আপনাকে রক্ষা করে। সরিষা শাকে থাকা পরিস্কারক উপাদান আপনার দেহে জমে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে আনে, দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে, এবং হজমশক্তি বাড়িয়ে দেহের বিষাক্ত পদার্থগুলো মলমূত্রের সাথে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।

 

৪। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
এই শাক আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে. এটি আপনার দেহে হার্ট এটাক, আর্থ্রাইটিস ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এবং এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

 

৫। ক্যান্সার প্রতিরোধঃ
এতে আছে দুই ধরনের গ্লুকোসিনোলেটস, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত শরিষা শাক খেয়ে থাকেন তাদের বিভিন্ন রকম ক্যান্সার হবার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে অনেক কম।

 

৬। কোলস্টেরল কমায়ঃ
এটি রক্তে কোলস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে আনে। সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতেও কার্যকর। কেননা এটি হজম শক্তি বাড়াতে সরাসরি কাজ করে থাকে।

 

৭। ত্বক, চুল, ওজন ও স্বাস্থ্যঃ
সরিষা শাক ত্বক ও চুল ভালো রাখে। সেই সাথে এটি অতি কম ক্যালোরি সম্পন্ন হওয়াতে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এটি শারিরীক দূর্বলতা, রক্তশূন্যতা, ত্বকের শুস্কতা, চুল পড়া ইত্যাসি সারিয়ে তুলতেও দারুণ কার্যকর।

 

সুতরাং সরিষা শাককে আর মোটেই অবহেলা নয়, যেভাবে ইচ্ছে রান্না করুন, খেয়ে নিন। ব্যস! বেঁচে গেল হাজারবার ডাক্তারের কাছে দৌড়াবার খরচ!

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৯ জুন ২০১৪ই.

নারীরা এখনো নির্যাতিত : সুলতানা কামাল

3320140611

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। 

 

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) উদ্যোগে ‘টোয়েন্টি টোয়েন্টি : মূলধারায় নারী উদ্যোক্তা ’ শীর্ষক এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

 

আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৫০০০ হাজার নারীকে এসএমই লেভেলের বেসরকারি ব্যবসায় খাতে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিডব্লিউসিসিআই এ উদ্যোগ নিয়েছে।

 

উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে সুলতানা কামাল বলেন, ‘নারীরা যতোই এগিয়ে যাচ্ছে ততোই তাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই নারী সমাজকে এগিয়ে যেতে হবে।’ নারীদের মূলধারার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আসার সুযোগ করে দিতে সরকার, রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।

 

উইমেন চেম্বারের চেয়ারম্যান সেলিমা আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপেদেষ্টা গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য আয়েশা খান ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানমসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৯ জুন ২০১৪ই.

ওষুধ ছাড়াই ঘুম আসবে !

resize_1402900694

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : ঘুমের সমস্যায় কম-বেশি বেশির ভাগ মানুষই ভুগে থাকে। আর এর প্রভাব পড়ে সারাদিনের কাজকর্মে। রাতে ভালো ঘুম না হলে কোন কাজেও ভালোভাবে মন বসে না। ফলে সারাদিনটাই যেন মাটি হয়ে যায়। আবার দিনের পর দিন না ঘুমাতে পারলে শরীরও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

শরীরকে ঠিক রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। আবার অনেকেই ওষুধ ছাড়া ঘুমাতেই পারেন না। নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে এবার ওষুধ ছাড়া তাদেরও ঘুম এসে যাবে।

এক. বিছানায় শুয়ে প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তুলুন:
ঘুমানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো বিছানায় শুয়ে প্রার্থনা করা। এতে করে আপনার মানসিক উত্তেজনা কমবে। এমনকি মন-মানসিকতাও ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হবে। ফলে সহজেই আপনি ঘুমাতে পারবেন। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় যদি আপনি ঘুমাতে যাওয়ার আধা ঘন্টা আগে মেডিটেশন করেন। এটি করলে শরীর ও মনে এক ধরনের প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়বে যা আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে।

দুই. ইতিবাচক চিন্তা করুন:
বিছানায় শুয়ে সবসময় ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা করলে কিংবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কিছু লেখার চেষ্টা করলে মনে একটা প্রশান্তি চলে আসে। এতে করে তাড়াতাড়ি ঘুম এসে যায়।

তিন. মানসিক চাপের কারণ বের করার চেষ্টা করুন:
দেখা যায়, কর্মব্যস্ত জীবনে কাজের চাপে অনেক সময় মনটা অশান্ত হয়ে ওঠে। আবার কোন কাজ করতে গিয়ে কষ্ট পেলেও দিনের বেশির ভাগ সময়ই তা আমাদের শান্তিতে থাকতে দেয় না। ফলে মনটা খারাপ থাকে যার প্রভাব পড়ে রাতের বেলা ঘুমাতে গেলেও। তাই বিছানায় শুয়ে আগে কি কারণে মনের উপর বড় প্রভাব পড়লো তার কারন খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। তাতে মনে শান্তি চলে আসবে যা ঘুমে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

চার. শোবার ঘর ঠাণ্ডা রাখুন:
অতিরিক্ত গরমে ঘুম নাও হতে পারে। তাই ভালো ঘুমাতে চাইলে সবসময় রুম ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন কখন ঘুমের মাঝে তলিয়ে গেছেন তা নিজেও জানেন না।

পাঁচ. বাতি বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করুন:
অনেক সময় অন্ধকারে ভালা ঘুম এসে যায়। সেক্ষেত্রে ঘুমানোর জন্য কোন ওষুধ না খেয়ে শোবার ঘরের বাতি নিভিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনি একদিন সফল হবেনই।

ছয়. ঘুমানোর সময় ফেসবুক কিংবা মেইলে ঢুকবেন না:
কেউ কেউ রাতের বেলা ঘুম না আসলে ফেসবুক বা মেইলে ঢোকেন। এতে করে ঘুম আসে না, বরং পালিয়ে যায়। কাজেই ঘুমাতে যাওয়ার সময় এগুলো থেকে দূরে থাকাই ভালো।

সাত. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন:
প্রতিদিন ঘুমানোর একটি নির্দিষ্ট সময় করে নিন এবং সঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাহলে ওষুধ ছাড়াই সময়মতো আপনার ঘুম এসে যাবে।

আট. ঘুমানোর আগে পরের দিনের কাজগুলো গুছিয়ে রাখুন:
কাজ গোছানো থাকলে অনেক শান্তি লাগে। তাই পরের দিনে আপনি কি কি কাজ করবেন তা মাথায় গুছিয়ে রাখুন। তাহলে সহজেই ঘুম এসে যাবে।

ওষুধ খেয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা এখনই ছাড়ার চেষ্টা করুন। কারণ এটি সাময়িকভাবে আপনার ঘুম এনে দিলেও জীবনের ঝুকিঁ বয়ে আনে। তাই উপরের নিয়মগুলো মেনে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ১৬ জুন ২০১৪