banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

নিরাপদ মাতৃত্ব

image_1052_297208

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। প্রতি বছর ২৮ মে দিবসটি পালিত হয়। গর্ভবতী মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্য ও প্রসবকালীন মৃত্যু হার কমানোর কথা চিন্তা করে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮৭ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। সামপ্রতিক বছরগুলোতে মা ও শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমলেও নিরাপদ শিশু জন্মদানের জন্য বাংলাদেশের সকল মা এখনো হাসপাতালের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া প্রসব পরবর্তী মৃত্যুঝুঁকি, নবজাতকের নানা রকম শারিরীক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে বাংলাদেশে এখনো প্রতি ঘণ্টায় একজন করে মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিবছর সারাবিশ্বে ২১ কোটি নারী গর্ভবতী হয় এবং দুই কোটিরও বেশি নারী গর্ভজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে। এদের মধ্যে আবার ৮০ লাখের জীবনাশঙ্কা দেখা দেয়। শহরাঞ্চলের মায়েদের হাসপাতাল সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও দরিদ্র সীমার নিচে বাস করা গর্ভবতী মায়েদের কাছে এখনো আধুনিক চিকিত্সা সহজলভ্য হয়ে উঠেনি।

অনেক সময় অনিরাপদ ডেলিভারি মা ও শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়। এছাড়া সন্তান প্রসবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগলে গায়ে, হাতে-পায়ে পানি জমলে, অতিরিক্ত মাথা ধরা, ব্লাড প্রেশার বেড়ে গেলে চিকিত্সার জন্য চাই অভিজ্ঞ ডাক্তার কিংবা হাসপাতাল। কাজেই গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো দরকার। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সার আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এখনো প্রকট। এমন অবস্থায় মাকতৃস্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মাতৃমৃত্যুর হার হরাস পেলেও মায়েদের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য দেশে এখনও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নেই। মায়ের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী যত্নের অভাব প্রকট রয়েই গেছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৮ মে ২০১৪.

রাজধানীর ডেমরায় শিশু ধর্ষিত

Rape

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর ডেমরা থানাধীন পশ্চিম ডগাইর এলাকায় ১১ বছরের এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলায়। এই ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ডেমরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. মিজান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পাশের বাড়ির অপর ভাড়াটিয়া লিটন মোল্লা (৪০) তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা বাবা তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন। পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া।

তিনি আরো জানান, শিশুটি তার বাবা-মার সঙ্গে থাকে। তার বাবা একজন রিকশা চালক। তার মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

এসআই জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য নাসির উদ্দিন মেম্বার ভিকটিম পরিবারের সঙ্গে আপোসের চেষ্টা করছেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৮ মে ২০১৪.

ভিন্ন স্বাদের খাবার আলু পোস্ত

postoalu_0

অপরাজিতিবিডি টকম, ঢাকা : আলু খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। আলু ভর্তা, আলু ভাজি, আলুর দম, আলুর চিপস, মাংস দিয়ে আলু সহ আরো নানান রকমের আলুর রান্না নিশ্চয়ই খেয়েছেন আপনি। একটু স্বাদ বদল করতে চাইলে এবার রেঁধে ফেলুন ভিন্ন স্বাদের খাবার আলু পোস্ত। গরম ভাত কিংবা রুটি/পরোটার সাথে খেতে অসাধারণ লাগে ভিন্ন স্বাদের এই মুখরোচক খাবারটি। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক আলু পোস্তের সহজ রেসিপিটি।

 

উপকরণ :

মাঝারি আকারের আলু ৩ টা (টুকরো করা )

পোস্ত বাটা ৫-৬ টেবিল চামচ

কাঁচা মরিচ ৪ টা

জিরা গুড়া ৩-৪ টেবিল চামচ

লবন স্বাদমত

হলুদ গুড়া (সামান্য)

চিনি ১/২ চা চামচ (ইচ্ছা)

তেল প্রয়োজনমত

 

প্রণালী :

পোস্তদানা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ৩০/৪০ মিনিট।

এরপর পোস্তদানার সাথে ২ টা কাঁচামরিচ বেঁটে নিন। এর সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরী করুন|

আলুগুলোকে টুকরো করে কেটে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন|

কাঁচামরিচ কুচি করে নিন।

এখন একটি কড়াইতে তেল গরম করে নিন।

তেল গরম হয়ে গেলে এতে হলুদ গুড়া (সামান্য), জিরা গুড়া ও সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন।

আলুর টুকরোগুলোকে কড়াইতে দিয়ে কিছুক্ষন ভাজুন।

পোস্তদানার মিশ্রনটি মিশিয়ে দিন।

মাঝারী আঁচে ৫মিনিট রান্না করুন।

এখন পানি (৩/৪ কাপ), লবন, চিনি, কাঁচামরিচ কুচি মিশিয়ে নিন।

এখন কড়াইটা ঢাকনা দিয়ে দিন এবং রান্না হব পর্যন্ত এভাবেই রাখুন|

আলু সেদ্ধ হয়ে ঝোল মাখা মাখা হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন।

গরম ভাত কিংবা রুটি/পরোটার সাথে পরিবেশন করুন মজাদার আলু পোস্ত।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৮ মে ২০১৪

জানা দরকার আইনের খুঁটিনাটি

law

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে তালাক দেওয়ার অধিকার দেওয়া আছে নারীকে। কিন্তু আমাদের দেশের কতজন নারী জানে সেই অধিকারের কথা, কিংবা জানলেও কি স্বাধীনমতো তারা তাদের অধিকার আদায় করতে পারে?

 

পারিবারিক ইচ্ছাতেই বিয়ে করেন রেবা-শরীফ দম্পতি। প্রথম থেকেই নানা বিষয় নিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে বিরোধ লেগেই ছিল। স্বভাবতই দু’জনের দাম্পত্য জীবনও চলছিল নানারকম অশান্তি আর কলহের মধ্য দিয়ে। জীবনে বিয়ে বারবার আসে না। তাই অনেক কিছুই মনের সঙ্গে মেলাতে না পারলেও মেনে নিতে চেষ্টা করছিলেন রেবা। কিন্তু কতটা মেনে নেওয়া যায়? এক সময় ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে শরীফের সঙ্গে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় রেবাকে। বিষয়টিতে পরিবার সম্মত হয়। যেহেতু সংসার করবেন রেবা। রেবাই যদি সুখী না হয় তো কিসের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ? বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তালাকের ব্যবস্থা করেন রেবা। স্থানীয় কাজী অফিস থেকে তালাকের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে স্বামীর বাড়িতে তালাকনামা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান বরাবর কোনো কপি পাঠানো হয়নি। রেবা এবং রেবার বাবার বিষয়টি জানা ছিল না। কাজী অফিস থেকেও তাদের এ বিষয়ে কিছু বলেনি।

 

কাবিননামায় স্বাক্ষর করার পর দেড় মাস পার হয়ে যায়। আরও দেড় মাস পার হলে তালাক কার্যকর হবে এ আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন রেবা। এরই মধ্যে রেবার স্বামী পারিবারিক আদালতে রেবার বিরুদ্ধে মামলা করে দেন দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য। মূল মামলাটি করার এক সপ্তাহ পর রেবা যাতে অন্য কোথাও বিয়েও করতে না পারেন এ মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রেবা ও তার বাবাকে আপত্তি দাখিলের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়।

 

এক মাসের মধ্যে দুটি সমন পান রেবা। একটি লিখিত জবাব মূল মামলার জন্য, অন্যটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য। নিজের ইচ্ছায় তালাক দিতে গিয়ে এ আবার কোন ধরনের ঝামেলা! বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে রেবার পরিবার। মূল মামলার জন্য জবাব দিতে সময় দেওয়া হয় এক মাস আর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য ১০ দিন।

 

মামলায় উল্লেখ করা হয়, রেবাকে তার বাবা-মা জোর করে স্বামীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু রেবা এখনও স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চাচ্ছেন। এ অবস্থায় শরীফ রেবাকে নিয়ে সংসার করতে আদালতের কাছে আরজি পেশ করেছেন। রেবাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দেন, ওই স্বামীর ঘরে তিনি কোনোদিনই ফিরে যাবেন না। স্বেচ্ছায়ই স্বামীকে তালাক দিতে ইচ্ছুক রেবা। তখন রেবাকে বলা হলো, তালাক দিতে চাইলে চেয়ারম্যানের কাছে তালাকনামার কপি পাঠাতে হয়। আপনি সেটা করেননি কেন? রেবা জানালেন, তাদের এ বিষয়টি জানা ছিল না। আর চেয়ারম্যানকে জানানো হয়নি, তাতে তালাক দিতে সমস্যা কোথায়?

 

যারা সংসার করবে ব্যাপারটা তাদের চেয়ে কি চেয়ারম্যান ভালো বোঝেন? চেয়ারম্যানের কাছে কপি পাঠানো হলে চেয়ারম্যান স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে মীমাংসা করার জন্য সালিশ করেন। অনেকাংশেই তারা মিলিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। কিংবা কোনো এক পক্ষের হয়ে কাজ করেন। রেবার বাবা বলেন, আমার মেয়ে ওই পাষণ্ড স্বামীর ঘর করবে না এটাই শেষ কথা। তার সঙ্গে বসবাস করে দেখেছে একসঙ্গে ওর সঙ্গে জীবনযাপন অসম্ভব।

 

এখন চেয়ারম্যান কী করে তার সালিশ করবেন? তারপরও আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান বরাবর একটি কপি পাঠাতেই হবে। সাধারণ আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ প্রেরণের ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না। এবং ওই সময়ের মধ্যে অন্যত্র বিয়েও করা যায় না। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল না রেবার পরিবার। কিন্তু মূল মামলাটি নিয়ে লড়তে হয়েছে অনেকটাই। স্বেচ্ছায় তালাক দিতেও একের পর এক ঝামেলা শেষে অনেক কষ্টে নিষ্কৃতি পান রেবা।

 

নারীর জন্য কোনো কিছুই সহজ নয়। অধিকার এবং আইনের কথা লেখা থাকলেও তারা অনেকাংশেই আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে তাদের অধিকার হারান। আবার ঝামেলার কথা ভেবেও অনেকেই এসব মামলা-মোকদ্দমায় যেতে চান না। নারীকে যেন ঘাটে ঘাটে হয়রানি হতে না হয়, সে রকম নারীবান্ধব আইন এবং আইনের প্রয়োগ কামনা করেন দেশের প্রতিটি সচেতন নারী। তবে নারীকেও জানতে হবে আইনের খুঁটিনাটি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৮ মে ২০১৪ই.