banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

নিরাপদ মাতৃত্ব

image_1052_297208

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। প্রতি বছর ২৮ মে দিবসটি পালিত হয়। গর্ভবতী মা ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্য ও প্রসবকালীন মৃত্যু হার কমানোর কথা চিন্তা করে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮৭ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। সামপ্রতিক বছরগুলোতে মা ও শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমলেও নিরাপদ শিশু জন্মদানের জন্য বাংলাদেশের সকল মা এখনো হাসপাতালের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া প্রসব পরবর্তী মৃত্যুঝুঁকি, নবজাতকের নানা রকম শারিরীক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে বাংলাদেশে এখনো প্রতি ঘণ্টায় একজন করে মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিবছর সারাবিশ্বে ২১ কোটি নারী গর্ভবতী হয় এবং দুই কোটিরও বেশি নারী গর্ভজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে। এদের মধ্যে আবার ৮০ লাখের জীবনাশঙ্কা দেখা দেয়। শহরাঞ্চলের মায়েদের হাসপাতাল সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও দরিদ্র সীমার নিচে বাস করা গর্ভবতী মায়েদের কাছে এখনো আধুনিক চিকিত্সা সহজলভ্য হয়ে উঠেনি।

অনেক সময় অনিরাপদ ডেলিভারি মা ও শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়। এছাড়া সন্তান প্রসবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগলে গায়ে, হাতে-পায়ে পানি জমলে, অতিরিক্ত মাথা ধরা, ব্লাড প্রেশার বেড়ে গেলে চিকিত্সার জন্য চাই অভিজ্ঞ ডাক্তার কিংবা হাসপাতাল। কাজেই গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো দরকার। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সার আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এখনো প্রকট। এমন অবস্থায় মাকতৃস্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মাতৃমৃত্যুর হার হরাস পেলেও মায়েদের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য দেশে এখনও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নেই। মায়ের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী যত্নের অভাব প্রকট রয়েই গেছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৮ মে ২০১৪.

রাজধানীর ডেমরায় শিশু ধর্ষিত

Rape

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর ডেমরা থানাধীন পশ্চিম ডগাইর এলাকায় ১১ বছরের এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলায়। এই ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ডেমরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. মিজান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পাশের বাড়ির অপর ভাড়াটিয়া লিটন মোল্লা (৪০) তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা বাবা তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন। পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া।

তিনি আরো জানান, শিশুটি তার বাবা-মার সঙ্গে থাকে। তার বাবা একজন রিকশা চালক। তার মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

এসআই জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য নাসির উদ্দিন মেম্বার ভিকটিম পরিবারের সঙ্গে আপোসের চেষ্টা করছেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৮ মে ২০১৪.

ভিন্ন স্বাদের খাবার আলু পোস্ত

postoalu_0

অপরাজিতিবিডি টকম, ঢাকা : আলু খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। আলু ভর্তা, আলু ভাজি, আলুর দম, আলুর চিপস, মাংস দিয়ে আলু সহ আরো নানান রকমের আলুর রান্না নিশ্চয়ই খেয়েছেন আপনি। একটু স্বাদ বদল করতে চাইলে এবার রেঁধে ফেলুন ভিন্ন স্বাদের খাবার আলু পোস্ত। গরম ভাত কিংবা রুটি/পরোটার সাথে খেতে অসাধারণ লাগে ভিন্ন স্বাদের এই মুখরোচক খাবারটি। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক আলু পোস্তের সহজ রেসিপিটি।

 

উপকরণ :

মাঝারি আকারের আলু ৩ টা (টুকরো করা )

পোস্ত বাটা ৫-৬ টেবিল চামচ

কাঁচা মরিচ ৪ টা

জিরা গুড়া ৩-৪ টেবিল চামচ

লবন স্বাদমত

হলুদ গুড়া (সামান্য)

চিনি ১/২ চা চামচ (ইচ্ছা)

তেল প্রয়োজনমত

 

প্রণালী :

পোস্তদানা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ৩০/৪০ মিনিট।

এরপর পোস্তদানার সাথে ২ টা কাঁচামরিচ বেঁটে নিন। এর সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরী করুন|

আলুগুলোকে টুকরো করে কেটে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন|

কাঁচামরিচ কুচি করে নিন।

এখন একটি কড়াইতে তেল গরম করে নিন।

তেল গরম হয়ে গেলে এতে হলুদ গুড়া (সামান্য), জিরা গুড়া ও সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন।

আলুর টুকরোগুলোকে কড়াইতে দিয়ে কিছুক্ষন ভাজুন।

পোস্তদানার মিশ্রনটি মিশিয়ে দিন।

মাঝারী আঁচে ৫মিনিট রান্না করুন।

এখন পানি (৩/৪ কাপ), লবন, চিনি, কাঁচামরিচ কুচি মিশিয়ে নিন।

এখন কড়াইটা ঢাকনা দিয়ে দিন এবং রান্না হব পর্যন্ত এভাবেই রাখুন|

আলু সেদ্ধ হয়ে ঝোল মাখা মাখা হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন।

গরম ভাত কিংবা রুটি/পরোটার সাথে পরিবেশন করুন মজাদার আলু পোস্ত।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৮ মে ২০১৪

জানা দরকার আইনের খুঁটিনাটি

law

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে তালাক দেওয়ার অধিকার দেওয়া আছে নারীকে। কিন্তু আমাদের দেশের কতজন নারী জানে সেই অধিকারের কথা, কিংবা জানলেও কি স্বাধীনমতো তারা তাদের অধিকার আদায় করতে পারে?

 

পারিবারিক ইচ্ছাতেই বিয়ে করেন রেবা-শরীফ দম্পতি। প্রথম থেকেই নানা বিষয় নিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে বিরোধ লেগেই ছিল। স্বভাবতই দু’জনের দাম্পত্য জীবনও চলছিল নানারকম অশান্তি আর কলহের মধ্য দিয়ে। জীবনে বিয়ে বারবার আসে না। তাই অনেক কিছুই মনের সঙ্গে মেলাতে না পারলেও মেনে নিতে চেষ্টা করছিলেন রেবা। কিন্তু কতটা মেনে নেওয়া যায়? এক সময় ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে শরীফের সঙ্গে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় রেবাকে। বিষয়টিতে পরিবার সম্মত হয়। যেহেতু সংসার করবেন রেবা। রেবাই যদি সুখী না হয় তো কিসের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ? বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তালাকের ব্যবস্থা করেন রেবা। স্থানীয় কাজী অফিস থেকে তালাকের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে স্বামীর বাড়িতে তালাকনামা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান বরাবর কোনো কপি পাঠানো হয়নি। রেবা এবং রেবার বাবার বিষয়টি জানা ছিল না। কাজী অফিস থেকেও তাদের এ বিষয়ে কিছু বলেনি।

 

কাবিননামায় স্বাক্ষর করার পর দেড় মাস পার হয়ে যায়। আরও দেড় মাস পার হলে তালাক কার্যকর হবে এ আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন রেবা। এরই মধ্যে রেবার স্বামী পারিবারিক আদালতে রেবার বিরুদ্ধে মামলা করে দেন দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য। মূল মামলাটি করার এক সপ্তাহ পর রেবা যাতে অন্য কোথাও বিয়েও করতে না পারেন এ মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রেবা ও তার বাবাকে আপত্তি দাখিলের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়।

 

এক মাসের মধ্যে দুটি সমন পান রেবা। একটি লিখিত জবাব মূল মামলার জন্য, অন্যটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য। নিজের ইচ্ছায় তালাক দিতে গিয়ে এ আবার কোন ধরনের ঝামেলা! বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে রেবার পরিবার। মূল মামলার জন্য জবাব দিতে সময় দেওয়া হয় এক মাস আর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য ১০ দিন।

 

মামলায় উল্লেখ করা হয়, রেবাকে তার বাবা-মা জোর করে স্বামীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু রেবা এখনও স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চাচ্ছেন। এ অবস্থায় শরীফ রেবাকে নিয়ে সংসার করতে আদালতের কাছে আরজি পেশ করেছেন। রেবাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দেন, ওই স্বামীর ঘরে তিনি কোনোদিনই ফিরে যাবেন না। স্বেচ্ছায়ই স্বামীকে তালাক দিতে ইচ্ছুক রেবা। তখন রেবাকে বলা হলো, তালাক দিতে চাইলে চেয়ারম্যানের কাছে তালাকনামার কপি পাঠাতে হয়। আপনি সেটা করেননি কেন? রেবা জানালেন, তাদের এ বিষয়টি জানা ছিল না। আর চেয়ারম্যানকে জানানো হয়নি, তাতে তালাক দিতে সমস্যা কোথায়?

 

যারা সংসার করবে ব্যাপারটা তাদের চেয়ে কি চেয়ারম্যান ভালো বোঝেন? চেয়ারম্যানের কাছে কপি পাঠানো হলে চেয়ারম্যান স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে মীমাংসা করার জন্য সালিশ করেন। অনেকাংশেই তারা মিলিয়ে দিতে চেষ্টা করেন। কিংবা কোনো এক পক্ষের হয়ে কাজ করেন। রেবার বাবা বলেন, আমার মেয়ে ওই পাষণ্ড স্বামীর ঘর করবে না এটাই শেষ কথা। তার সঙ্গে বসবাস করে দেখেছে একসঙ্গে ওর সঙ্গে জীবনযাপন অসম্ভব।

 

এখন চেয়ারম্যান কী করে তার সালিশ করবেন? তারপরও আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান বরাবর একটি কপি পাঠাতেই হবে। সাধারণ আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ প্রেরণের ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না। এবং ওই সময়ের মধ্যে অন্যত্র বিয়েও করা যায় না। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল না রেবার পরিবার। কিন্তু মূল মামলাটি নিয়ে লড়তে হয়েছে অনেকটাই। স্বেচ্ছায় তালাক দিতেও একের পর এক ঝামেলা শেষে অনেক কষ্টে নিষ্কৃতি পান রেবা।

 

নারীর জন্য কোনো কিছুই সহজ নয়। অধিকার এবং আইনের কথা লেখা থাকলেও তারা অনেকাংশেই আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে তাদের অধিকার হারান। আবার ঝামেলার কথা ভেবেও অনেকেই এসব মামলা-মোকদ্দমায় যেতে চান না। নারীকে যেন ঘাটে ঘাটে হয়রানি হতে না হয়, সে রকম নারীবান্ধব আইন এবং আইনের প্রয়োগ কামনা করেন দেশের প্রতিটি সচেতন নারী। তবে নারীকেও জানতে হবে আইনের খুঁটিনাটি।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/২৮ মে ২০১৪ই.

বাল্যবিবাহের শিকার বস্তির ৮০ শতাংশ কন্যাশিশু!

Save_the_children01_185064786

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর বস্তিগুলোতে বাস করা ৮০ শতাংশ কন্যাশিশুই বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে বালকদের বাল্যবিবাহের হার অনেক কম, ৪৬ শতাংশ।

রাজধানীর পাঁচটি বস্তিতে পর্যবেক্ষণ করা দু’টি গবেষণার তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কন্যাশিশুদের এ বাল্যবিবাহের কারণেই মেয়েরা স্বাস্থ্য, মানসিকসহ নানা দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ফলাফল ‍মৃত্যুতে গিয়ে ঠেকতে পারে।

অভিভাবকদের মতে, ভালো পাত্র, দারিদ্র্য ও যৌন হয়রানি এই তিন কারণে মূলত বস্তিগুলোতে বাল্যবিবাহের এ চিত্র তৈরি হয়েছে।

বস্তিতে বাস করা পরিবারগুলো যে ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় এবং এসব পরিবারের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো কী কী কাজ করেছে তা এ গবেষণা দু’টিতে উঠে এসেছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালনায় রাজধানীর কল্যাণপুর পোড়া বস্তি, টাউন হল ক্যাম্প মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার বধ্যভূমি বস্তি, বৌ-বাজার বস্তি ও বালুর মাঠ বস্তি এলাকার শিশুদের ওপর গবেষণা দু’টি পরিচালিত হয়। সেন্টার ফর আরবান স্টাডি এবং দ্য নিয়েলসন গবেষণা দু’টি সম্পাদন করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশুদের অনুষ্ঠান পরিচালক ড. শাহানা নাজনীন বলেন, বাল্যবিয়ের কারণে অপুষ্টিতে ভুগছে মা ও শিশুরা। অনেক দুর্বল হয়ে শিশুরা জন্মলাভ করছে। বস্তির কন্যাশিশুদের অবস্থা খুবই খারাপ।

নগরায়নের প্রবণতা ও শিশুদের জটিলতা
বস্তিতে বাস করা শিশুদের মধ্য ৪৪ শতাংশ পোশাক কারখানা, ২৪ শতাংশ বিভিন্ন দোকান ও ৯ শতাংশ ভিক্ষাবৃত্তির কাজের সঙ্গে জড়িত। কর্মজীবী শিশুদের মধ্যে ৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার। ১২ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া কর্মজীবী শিশুদের ১১ শতাংশ দৈনিক ১৩ থেকে ১৫ ঘণ্টা, ৪০ শতাংশ ১১ থকে ১২ ঘণ্টা ও ৩২ শতাংশ ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

জন্মসনদ বিষয়ে গবেষকরা জানান, ২০০৪ সাল থেকে বাধ্যতামূলক জন্ম সনদ নেওয়া শুরু হলেও এক্ষেত্রে বস্তির শিশুরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। মাত্র ৩৭ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা হয়। এদের মধ্যে ২৭ শতাংশ বস্তিবাসী টাকা খরচের ভয়ে জন্ম সনদ নেন না।

যেসব শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করা হয় না, ওইসব শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে ৪১ শতাংশ বস্তিবাসী বিষয়টির গুরুত্ব বোঝেন না এবং ৩২ শতাংশ জানেই না কিভাবে নিবন্ধন করতে হয়।

তবে শিক্ষাক্ষেত্রে বস্তির কন্যাশিশুরা বালকদের তুলনায় এগিয়ে আছে। কন্যাশিশুদের ৪৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে যায়। এদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ নিয়মিত। আর বালকদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে যায়। এদের মধ্যে ৩১ শতাংশ নিয়মিত।

রাজধানীর বস্তির অবস্থানগত বিশ্লেষণ
গবেষণায় বলা হয়েছে, বস্তিতে বসবাসরত মানুষেরা প্রায় সব সময়ই উচ্ছেদ ও অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে ভুগছেন। এদের মধ্য গত ১০ বছর ধরে ২৫ শতাংশ বস্তিবাসী কয়েকবার উচ্ছেদ হয়েছেন এবং এখনো আতঙ্কে রয়েছেন। একই সময়ে ৪৫ শতাংশ বস্তিবাসী কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

এ গবেষণায় বস্তির শিশুদের নিয়ে নানা সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারের চেয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে আছে- এমন তথ্যও উঠে এসেছে।

বস্তি এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হার মাত্র ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হার শতকরা ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বস্তির শিশুদের জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হারও অনেক কম। সরকারি ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে, এনজিও পরিচালিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হার ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এছাড়া বস্তিবাসীর পানি ও পয়ঃনিস্কাশনে সরকারি কাজের তুলনায় এনজিওগুলো এগিয়ে আছে। সরকার বস্তিবাসীদের জন্য ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ পানি সরবরাহ করে, অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলোর অবদান ৭৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।

পয়ঃনিস্কাশন প্রণালীতেও সরকারের

 

ঘাতক

অপরাজিতাবিডি ডটকম : তাহলে তোমার ছবিটা প্রোফাইলে দিয়ে দাও না, দেখি

ওরে বাপরে! ছবি দিয়ে সবার কাছে ধরা পড়ে যাই আরকি‍! তাছাড়া আব্বু একটু বেশি ধার্মীক ত যদি জানতে পারেন তাহলে লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে বিয়ে দিয়ে দিবেন আজই।

না না তা কি করে হয়? তাহলে চলনা আজই কোথাও দেখা করি? তোমাকে দেখে উহুঁ ঠিক বললে না। প্রথম দেখা  —- জেনী থামিয়ে দিল, লজ্জা পেয়ে । বললো

আচ্ছা তুমি না মেডিক্যাল কলেজ  স্টুডেন্ট? তুমি কি ইচ্ছা করলেই বের হতে পারবে আজ? তা ছাড়া আমারও তো ক্লাস আছে।

না কালতো ছুটির দিন চলো কাল। আমাদের দেখা হয়ে যাক!

জেনী ক বলবে ইতস্তত: করতে লাগলো মনে মনে ভাবলো। তাইতো এভাবে লুকোচুরি করে প্রেম করার চাইতে এর অবসান হওয়া ভালো। তাছাড়া আব্বুতো একজন ডাক্তার পাত্রই খুচছেন। দেখা সাক্ষাত তাড়াতাড়ি হয়ে গেলে আব্বুর কাছে আর গোপন করবনা। সময় সযোগ বুঝে বলা যাবে। রাজী হয়ে গেল।

ঠিক আছে, বল কবে কোথায় কখন দেখা হবে? কিন্তু আমার খুব ভয় লাগছে।! হ্যা আমরা অভিসারে বের হবো। জেনীকে সব পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিল হাসান। তারা ড্রেসকোডও ঠিক করতে ভুলল না যাতে পরস্পর চিনতে পারে।

হাসান আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে পরিপাটি করে নিচ্ছে। মেসম্যাট জামাল জিজ্ঞেস করল

কিরে! কোনো অভিসারে যাচ্ছিস মনে হচ্ছে? আজ দোকানে যাবি না?

হাসান মুচকি হেসে শিস দিতে লাগলো । বলল

হ্যা ঠিক ধরেছিস অভিসারে বেরুচ্ছি। মালিকের কাছে ছুটি নিয়েছি। আজ অন্য একজন কর্মচারী থাকবে।

তা কয় নম্বরের কাছে জাচ্ছিস?

এইটা তিন নম্বর। জামাল ওর কথা শুনে আতকে উঠল। বললো

দেখ! তোর এই লম্পট্য বেশীবাড়াবাড়ী মনে হচ্ছে। গুনাহ হইব, গুনাহ! পাপ পাপ। দেখ পাপ কিন্তু বাপকেও ছাড়ে না। এক দোকান কর্মচারী হয়ে তুই কার সর্বনাশ করতে যাচ্ছিস।

রাখ তো গুনাহ আর মুরুব্বীগিরী। আমি যাই বলে মোবাইল ফোনটা সাথে নিয়ে বেরিয়ে গেছে।

মুচকি হেসে হাসান বিদায় নিল; ওর মধ্যে যেন ফূর্তির শয়তান ভর করেছে।

ওদিকে জেনীকে ওর বাবা একটু চঞ্চল অস্থিরভাবে কাজ করতে দেখে অবাক হয়। জিজ্ঞেস করেন

জেনী মা তুমি কী কোথাও যাবে?

কিছুক্ষণ ইতস্তত করে আমতা আমতা করে বললো

হ্যা না এই আর কী হঠাৎ এক বন্ধু দাওয়াত করল; তাই ওখানে যাচ্ছি।

জেনী কখনো বাবা কাছে মিথ্যা বলেনি। ওর মায়ের সাথে বাবার ডিভোর্স হয়েছে। ওর ছোটবেলাতেই । সেই থেকে বাবা ওকে মা বাবা দুজনের আদরে মানুষ করেছেন। বাবা ওর বন্ধুর মতো কলেজ ভার্সিটিতে যা ঘটত, সব কিছু বাবার সাথে শেয়ার করতো। জীবনের এতটাকাল পর আজই প্রথম বাবার সাথে তার লুকুচুরি। মিথ্যার আশ্রয় নিল। অনুশোচনায় বিবেকের পরাজয়ে সে যেন নিজেকে পাকে নামিয়ে নিল।

আচ্ছা যাও কিন্তু এত সাজগোজ করে বাইরে যাওয়া ঠিক না। আজকাল যেভাবে ছিনতাই, হাইজ্যাক বেড়েছে; চিন্ত হয় জানতো। তাড়াতাড়ি ফিরতে চেষ্টা করো।

হ্যা বাবা তুমি খেয়ে নিও আমি খেয়ে আসবো।

ধানমন্ডি লেকের পাড়ে নির্দিষ্ট একটি রেস্টুরেন্টে ওদের দেখা হল। জেনীর কেমন যেন বুক দুরুদুরু করতে লাগলো। ওদের ডেসকোড চিহিৃত করল দুজনকে। এই প্রথম দেখা দুজনের ।একজন দেখে আশাহত, আরেকজন প্রত্যাশার চাইতে বেশি পাওয়ার আনন্দে আপ্লুত। জেনীকে মৃয়মান. নিশ্চুপ দেখে – ধুর্ত চাহনির হাসান নিরবতা ভঙ্গ করল, বললো-

তুমি যে এত সুন্দর আমি কল্পনাই করিনি। দেখেই ভালোবেসে ফেলেছি।

বা তাহলে এতদিন যে ভালোবাসার কথা শোনালে সেগুলো কি মেকী?

না না না তো কেন হবে মানে—

থাক মানে মানে করত হবে না। আমি জীবনে প্রথম তোমাকে ভালোবাসার কথা বলেছি; বাস  তোমাকেই ভালোবাসবো মেয়েরা যাকে মনপ্রাণ দিয়েই ভালোবাসে সে যেমনি হোক। সত্যি? আচ্ছা এখানে কেমন যেন সবাই দেখছে চল আমরা ভিতরে যাই।

জেনী এ কথাতে কেমন ভয় পেয়ে গিয়ে বললো

না না ভিতের কেন? এখানেই বেশ ভালো

বলছিলাম কি; তুমিত কথায় বলতে পারছা না ভিতরে একটা রুম আছে স্বাচ্ছন্দে কথা বলতে পারবে। আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না?

না তা হবে কেনো; ঠিক আছে চল। জেনীর অনিচ্ছা স্বত্তেও ভিতরে গেল।

কিছুক্ষণ পর বেয়ারা নাস্তা দিতে এসে রুম বন্ধ করে , হাসানের পূর্ব পরিকল্পনা মতো আর ডিস্টার্ব করেনি।

সেদিন জেনী রাতে অন্ধকারে বাড়ি ফিরে বাবার সামেন মুখ দেখাতে পারবেনা বলে দরজা বন্ধ করে পড়েছিল। পরদিন সাকেল ঘুম থেকে উঠার পর মাথাটা কেমন ভাড়ী ভাড়ী লাগছে; অন্যমনস্ক চুপচাপ জেনী বাইরে গেল। শুধু বুয়াকে বলে গেল।

সাইবার ক্যাফে ঢুকতেই আজ কেমন অপরিচিত লাগছে সবাইকে। রিসিপশনে যে ছেলেটি থাকে সে অনেক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ দৌড়ে ভিতরে গেল। ওর কিছু বোঝার আগেই কর্মচারীদের মধ্যে ফিস ফিস গুঞ্জন। জেনী খেয়াল করলো না।

সে একটি সেটের সামনে বসলো। অন্যন্য সেটের সামনে যারা বসেছে সবাই কেমন যেন কৌতুহল নিয়ে দেখছে ওকে। এটা খেয়াল করে জেনীর খুব অস্বস্তি হতে লাগলো।

এমনিতেই সে খুব বিধ্বস্ত। নিজেকে খুব অচেনা মনে হচ্ছে। তার উপর সবার কৌতুহলের কারণ বুঝতে না পেরে আরও খারাপ লাগছে।

চলে যাবে? না ওই লম্পটের একটা চূড়ান্ত ব্যবস্থা না করে যাব না।

‌ ‘নেটে’ কানেকশন দিয়েই ও আতকে উঠল। যা দেখল তাতে সে আহত, ক্ষত-বিক্ষত; যেন শিকারীর গুলিতে আহত পাখীর মতো কাতরাচ্ছে। ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে। চোখ ফেটে অশ্রুধারা ঝরছে।

সেই পাষণ্ড লম্পট গতকালে ঘটে যাওয়া সব কিছু নেটে ছেড়ে দিয়েছে। নিজেকে আড়াল করে । দু’হাতের তালুতে মাথা চেপে ধরলো। পৃথিবীটা দুলছে মনে হয় পড়ে যাবে ভূমিকম্প ভল্কানোর ও অগ্নিগিরি ওকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। না পড়ে গেল চলবে না। এখান থেকে বের হতে হবে। কোনরকম শরীরটা সোজা করে একটা নাম, ই-মেইল এড্রেস ফেসুবকের নাম সব দিয়ে একটা চিরকুট লিখে আর কিছু টাকা দিয়ে ম্যানেজার জাহিদ ভাইকে দিয়ে বললো-

যদি পারেন এই লম্পটের একটা শাস্তি ব্যবস্থা করেন, তাহলে আপনার এই বোন আপনার কাছে চীরঋণী হয়ে থাকবে।

বোন আমি বুছেছি তোমার অবস্থা। তোমার এই ভাই তোমার অনুরোধ রাখার চেষ্ট সাধ্যমতো করবে।

সবার অলক্ষ্যে কখন ও বাড়ি থেকে বেরিয়েছে কেউ টের পাযনি। টেবিলে পড়ে থাকা চিঠিটা আলি মিয়া সালাম সাহেবের হাতে দিল, তিনি পড়লেন-

আব্বু

আমায় ক্ষমা কর। আজ যদি তোমার আদর্শ মতো চলতাম। তাহলে হয়ত আমার আজকের পরিণতি হতো না। আমি এক লম্পটের অধ:পতের শিকার। আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যেহেতু এই জীবনের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, তার কাছে জবাবদিহির জন্য জীবনটার কোন ক্ষতি করার সাহস পেলাম না। আমার আত্মহত্যা করা চলবে না। আমার মত অবস্থা যাদের, তারা কেউ যেন আত্মহত্যা না করে। সমাজকে কলুষমুক্ত করতে আমাদের বেচে থাকতে হবে। সেই লম্পটের শাস্তির ব্যবস্থা যেদিন করতে পারবো, সেদিন তোমার কাছে ফিরে আসব। ততদিন তুমি ভালো থেকো বাবা! আর আমার জন্য দোয়া করে যাও

তোমার হতভাগী

জেনী’।

 

(শেষ…..)

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৩ মে ২০১৪.

ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়ন্ত্রিত পরিণতি” পর্ব-৬

images

নাসরিন সিমা : নাদিম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে খ্রিষ্টান হবে, সেদিন রাজিবের মামার কথা খুব ভালো লেগেছে। উনি বলেছেন, “যিশু খ্রিষ্টানদেরকে অঢেল সম্পদ দান করেন।” নাদিমও পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে খ্রিষ্টানদের অনেক ধন সমপদ থাকে, আর মুসলমানদের বেশিরভাগই গরীব ভুখা। পৃথিবীতে যার টাকা নেই তার কোন মূল্য নেই এটাই সত্য, এমন একটা দিন নেই যেদিন টাকার প্রয়োজন ছাড়ায় চলা সম্ভব হয়।

রাজিব নাদিমকে মার্কেটে নিয়ে যাবে বলেছে, কনফারেন্সে উপস্থিতির জন্য, এক লাখের মতো নাকী নাদিমের পাওনা, সত্যিই অবাক হয় নাদিম। রাজিবদের রিলিজিওন প্রিষ্টরা সেন্ট্রালভাবে ঐসব নিয়ন্ত্রণ করছেন। নাদিম পাশের গলিতে গাড়ীর হুইসেল শুনে দ্রুত বের হয়, এতোক্ষণ রেডী হয়ে বসে ছিলো। গাড়ীর কাছে গেলো আর রাজিবের স্বাগত কন্ঠ শুনতে পেলো,
-এসো নাদিম, উঠে এসো।
রাজিবের পাশে আনুকে দেখে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসলো নাদিম।
রাজিব মুচকী হেসে,
-নাদিম তোমাকেতো বেশ মানিয়েছে টি শার্টটা।
নাদিমও হাসে,
-থ্যাংকস।
একটু পরে নাদিম,
-পাশের উনি কী তোমার আনু?
-হ্যা নাদিম এই সেই।
আনু লজ্জাজড়িত কন্ঠে,
-রাজিব আপনার কথা খুব বলে, কেমন আছেন আপনি?
-এইতো আছি ভালো, আপনি ভালো আছেন?
-হ্যা আমিও ভালো আছি।

বসুন্ধরা মার্কেটের ভেতরে ঢুকলো ওরা আনু নাদিমের ডানবাহু দুহাতে জড়িয়ে নিলো, নাদিম বিষয়টি খেয়াল করে বিরক্ত হয়,
নাদিমকে লক্ষ্য করে রাজিব,
-কী কিনবে নাদিম?
-অনেক কিছু কিনতে হবে, মায়ের জন্য আগে ভালো কিছু শাড়ী কিনবো, আর একটা টিভি, মা অন্যের বাড়িতে গিয়ে সিরিয়াল দেখে।
অনেক কেনাকাটা করলো ওরা, আনু হঠাৎ রাজিবকে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখলো, রাজিবকে ঝাঁকায় আনু,
-রাজিব কী হলো কী দেখছো তুমি?
-ওটা স্মৃতি না?
আনু তাকায় রাজিবের দৃষ্টি অনুযায়ী,
-হ্যা তাইতো, কন্ঠ উচু করে,
-স্মৃতি, এই, এইযে এদিকে…
স্মৃতি দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে, ওর বাবা সাইমন চৌধুরী মেয়ের সাথে আসেন।
স্মৃতি মৃদু কন্ঠে,
-আনু তুমি ?
স্মৃতি রাজিব বা নাদিমের দিকে একবারও তাকালোনা, তাকানোর সাহস ওর হয়না।
আনু নাদিমকে পরিচয় করিয়ে দিলো, হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত এগিয়ে দিলো নাদিম, কিন্তু স্মৃতি ইতস্তত করলে সাইমন চৌধুরী,
-ইতস্তত কেন মা? হ্যান্ডশেক করো।
স্মৃতি অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকায় তারপরেই কম্পিত হাত এগিয়ে দেয় নাদিমের হাতের দিকে, নাদিম হাত ছেড়ে মুচকী হেসে,
-কেমন আছেন, সেদিন কোচিং সেন্টারে আপনার সাথে কথা হলো তাইনা?
– আলহাদুলিল্লাহ ভালো আছি, হ্যা কোচিংয়ে আমি ছিলাম। আপনি কেমন আছেন?
-ভালো। আমি নাদিম,
ওদিকে সাইমন চৌধুরী রাজিবের সাথে কথা বলছেন, কিছু বিষয় নিয়ে, স্মৃতি বুঝতে পারেনি। নাদিমকে নিজের নামটা বললো।
নাদিম এর হঠাৎ মনে পড়লো সাইমন চৌধুরীকে ও রাজিবদের কনফারেন্সে দেখেছে, উৎসাহিত কন্ঠে,
-উনি আপনার বাবা? সেদিন কনফারেন্সে………
সাইমন চৌধুরী কথা কেড়ে নেন,
-হ্যা হ্যা, ঠিক চিনেছো, তুমি নাদিম না, রাজিবের বন্ধূ?
স্মৃতি অবাক কন্ঠে,
-বাবা তুমি দুজনকেই চেনো? কিভাবে?
-পরে বলছি মা, আমি এবার আসছি রাজিব, সময় নেই।
রাজিবের হাস্সোজ্জ্বল কন্ঠ,
-জি আংকেল, বাই।
স্মৃতি আনুর নির্লজ্জতা খেয়াল করে অনেক আগে থেকে নিজেই লজ্জা পেয়েছে, কারণ সাইমন চৌধুরীর সামনেও রাজিবকে ঠিক সেভাবেই জড়িয়ে ছিলো। আরও একবার পেছনে ফিরে ওর অধপতন অবলোকন করলো।
অজান্তেই সামনে মুখ ফেরানোর ঠিক আগেই নাদিমের সাথে দৃষ্টি বিনিময় হয়ে যাওয়ায় দ্রুত সামনে তাকায় স্মৃতি।
বাবার পাশে গাড়ীতে বসে স্মৃতি মাথা নিচু করলো,
-বাবা তুমি আমাকে হ্যান্ডশেক করতে বললে কেন? এটা তো ঠিক হলোনা বাবা।
-মা তুমি আধুনিকা, একথা বলা কী তোমাকে মানায়? আর কাল থেকে দেখছি মাথা ডেকে বাইরে বের হচ্ছো তোমার কী হলো স্মৃতি? মানুষ তোমাকে ব্যাকডেটেড বলবে মা।
স্মৃতির আশ্চর্য হওয়া সাইমন চৌধুরীর দৃষ্টি এড়ায়না,
-আমি সত্যি বলছি স্মৃতি, দুনিয়াতো দুদিনের এখানে আনন্দ, ফুর্তি করা উচিত, ইচ্ছেমতো ঘোরো, খাও আর যতো পারো ষ্টাইল করো।
-বাবা তুমি একথা বলছো, কিন্তু রুবিনা আপু যে………
রেগে যান সাইমন চৌধুরী,
-ঐ থার্ড ক্লাস মেয়ের সাথে একদম মিশবেনা, কোন কথা শুনবেনা।
বাবাকে রেগে যেতে দেখে চুপ হয়ে যায় স্মৃতি, গাড়ী নিজের গতিতে চলতে থাকে, আর স্মৃতি বাবার বলা কথাগুলো ভাবতে থাকে, খুব আকর্ষণীয় কথাগুলো, কিন্তু বাস্তব সৌন্দর্য যে এর মধ্যে নেই তা স্মৃতি খুব ভালো ভাবে জেনে গেছে। বাবার কর্কশ কন্ঠ শুনে চমকে ওঠে স্মৃতি,
-ড্রাইভার গাড়ী দ্রুত চালাতে পারোনা?
স্মৃতি বাবার এ পরিবর্তন আজই লক্ষ্য করলো ওর বাবা এভাবে অযথা কখনো রাগ করতোনা, কাউকে ভুল করলেও ধমক দিতনা।
মৃদু কন্ঠ স্মৃতির,
-বাবা ডেভিড কে?
-আমার বন্ধু কেন? ও তোমাকে ফোন করেছিলেন তাই বলছো?
-হ্যা বাবা।

বাসায় পৌঁছে শপিং ব্যগ ড্রয়িং রুমের ছোফায় ছুড়ে দিলো স্মৃতি, এরপর ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে মায়ের কাছে গেলো, সন্ধা পেরিয়ে গেছে মায়ের চিন্তত মুখ দেখে অবাক হয়ে,
-মা কী চিন্তা করছো?
-তোমার বাবা আসলোনা?
-না বাবার বিজনেস মিটিং আছে, তুমি জানোনা, বাবা আমাকে গেটে নামিয়ে চলে গছেন।
– অ কী কিনেছো?
-দেখাবো মা?
-না তুমি পড়তে বসো নাস্তা নিয়ে আসছি আর ওগুলো পরে আমি দেখে নেবো।
-আচ্ছা মা ঠিক আছে ।
রুমে ঢোকার আগে ড্রয়িংরুমের বুকসেলফে অর্থসহ কুরআনের দশটি খন্ড দেখে,
-রুবিনা আপু এসেছিলো?
-হ্যা তোমার জন্য কুরআন গিফট করে গেছে, আর প্রতিদিন পড়তে বলেছে।
-হ্যা মা পড়বো, পড়া দরকার, আমার রুমের বুক সেলেফ রাখি মা?
-তাই করো, আমিও তাই ভাবছিলাম।
স্মৃতি নিজের রুমে ঢুকলো।চলবে……

ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়ন্ত্রিত পরিণতি” পর্ব-৫

images

 

নাসরিন সিমা : বাসায় যাওয়ার জন্য একা বের হয় স্মৃতি। মাকে ফোন করলেও হতো কিন্তু স্মৃতির ইচ্ছে করছেনা, মায়ের এই নিয়ে যাওয়া হঠাৎ এই মুহুর্ত থেকে খুবই বিরক্তিকর মনে হতে লাগলো। সমস্ত নিয়মের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে ইচ্ছে করছে স্মৃতির।

বাসায় ঢুকেই বাবার মুখোমুখি হয়, সাইমন চৌধুরীর শংকিত কন্ঠ,
-এ কী তুমি এখন একা?
স্মৃতি ইতস্তত করে,
-না মানে আসলে আজ কোচিং ছিলনা, না ছিলনা নয়, স্যারের বাবা মারা যাওয়ায় কোচিং হয়নি।
সাইমন চৌধুরী,
-ফোন করনি………
স্মৃতি দ্রুত নিজের রুমে ঢুকে যায়, ওর নিজেকে আড়াল করে রাখতে ইচ্ছে করছে এই মুহুর্ত থেকে।

আনমনা স্মৃতি সন্ধার পরে চুপচাপ বসে আছে, আনুর কলের অপেক্ষায়। ঠিকই আনুর কল আসে আগের মতো বিরক্তির সামান্য ছাপও নেই স্মৃতির মধ্যে, রিসিভ করে স্মৃতি কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু আনুর কথায় থেমে যায়,
-জানো স্মৃতি রাজিব খুব রোমান্টিক, ও খুব ভালোবাসে আমাকে আজ নিজের গাড়ীতে করে মার্কেটে নিয়ে গিয়েছিলে, অনেক দামি একটা ড্রেস কিনে দিয়েছে, কসমেটিক্স গহনা স্মৃতি আমি খুব খুশি খুব খুব……
-তুমিতো তাহলে খুব লাকী আনু, কতোক্ষণ ছিলে?
-এইতো এখুনি ফ্রেশ হয়ে তোমাকে কল করলাম।
-এখন বলো বিয়ে করছো কবে?
-বিয়ে? সে বিষয়ে এখনও কথা হয়নি, বেশী অপেক্ষা করতে হবেনা স্মৃতি যদিও ওর মাষ্টার্স শেষ হয়নি তবুও…
-ভালোতো, তবে আনু তোমার বাবা মা ওনাকে পছন্দ করবেন কী না সেটা লক্ষ্য রাখা উচিত।
-আরে রাখো, ছোট বেলা থেকেই শুনে এসেছি এটা নেই সেটা নেই, বিদঘুটে পরিস্থিতি আর ভালো লাগেনা এখন মুক্তির রাস্তা পেয়ে গেছি, এই পথ থেকে সরার কোন ইচ্ছে আমার নেই।
স্মৃতি কারো আসার শব্দ পেয়ে,
-রাখছি আনু কেউ আসছে পরে কথা বলবো।
ভেতরে ঢুকলো একটা মেয়ে কন্ঠে তার স্নিগ্ধতা,
-আসসালামু আলাইকুম।
-ওয়ালাইকুম আস সালাম…
-আমি রুবিনা বিনতে আব্দুল্লাহ দোতলায় এসেছি আপনার সাথে পরিচিত হতে এসেছি।
-অ আপনি বসুন, আমি তাসনিয়া চৌধুরী স্মৃতি। পড়াশুনা কোন পর্যায়ে?
-অনার্স সেকেন্ড ইয়ার, গণিতে, আপনি?
-মেডিকেলে ভর্তির জন্য কোচিং করছি।
স্মৃতি রুবিনার হাতে একটা বই দেখতে পেলো, বললো,
-আপনার হাতে কী বই ওটা?
-দেখবে? তুমি বললাম, তুমিতো ছোটই হবে।
-ঠিক আছে, দেখি বইটা।
সুফিয়া চৌধুরী ভেতরে ঢোকেন, হাতে নাস্তার ট্রে,
-রুবিনা খাও মা।
স্মৃতি অবাক কন্ঠে,
-তুমি চেনো ওনাকে?
-হ্যা চিনিতো কাল এসেছিলো তুমি ছিলেনা, খেয়ে নাও তোমরা। বেরিয়ে গেলেন সুফিয়া চৌধুরী।
-কী ধরণের বই আমি আসলে পড়তে পারবনা, সামনেই এ্যাডমিশন টেষ্ট।
-খুব ভালো বই, খিলাফতের দায়িত্বভিত্তিক। মানুষ কেন সৃষ্টি হয়েছে? তার দায়িত্ব কী?
-অ নামাজ রোযা নিয়ে?
রুবিনার অবাক হওয়ার প্রয়োজন ছিলো কিন্তু হয়না, সে দেখেছে খিলাফতের দায়িত্ব বলতে বেশিরভাগ মানুষ শুধু নামাজ রোযা বোঝে।

-আমাকে কিছুক্ষণ সময় দেবে? স্মৃতি।
-অবশ্যই।
-আমি তোমাকে একটা ঘটনা বলছি, ইদানিং কিছু খ্রিষ্টান পাদ্রী সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী জানো?
-কী?
-তারা মুসলমানদেরকে খ্রিষ্টান বানিয়ে ফেলছে, বিভিন্ন্ ধরণের লোভ দেখিয়ে, ট্র্যাপে ফেলে, মোটকথা যেকোন মূল্যে তারা এই কাজটা করছে।
আর যারা ইসলামকে সঠিকভাবে বোঝেনা তারা খ্রিষ্টান হয়ে যাচ্ছে। এজন্য সবচেয়ে আগে ইসলামকে জানা জরুরী।
স্মৃতি মনোযোগী হয়, হতবাক হয়ে যায়।
রুবিনা ওর মনোযোগ দেখে মনে মনে আল্লাহকে ধন্যবাদ জানায়, আর বলে,
– এই বইটাতে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে যেমন মানুষকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে? এর উত্তর হলো, ইবাদাত করার জন্য, এখন প্রশ্ণ আসতে হবে ইবাদাতটা কী? নামাজ রোজা হজ্জ যাকাত এই গুটিকয়েক ফরজ কাজগুলো করলেই ইবাদাতের হক আদায় হয়ে যাবে?
না হবেনা, এই কাজগুলো নিজে করতে হয় অন্যকে করার জন্য আহবান করতে হয়,নামাজ তোমাকে পড়তে হবে অন্যকে পড়ার জন্য বলতে হবে তুমি ভেবে দেখ তুমি একা কতজনকে বলতে পারছো, খুব বেশী পারবেনা তাই সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আর এই সব ফরজের বড় একটা ফরজ আছে জানো তুমি কী সেটা?
স্মৃতি মৃদু কন্ঠে,
-না আপু জানিনা।
-সেটা হলো কুরআনের বিধানকে রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠত করা, সংবিধান হিসেবে, মানুষের গড়া আইন বিধান বাদ দিয়ে কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠত করা, তাহলেই মানুষ বাধ্য হবে অন্যায়কে বর্জন করতে, দেখবে সবাই নামাজ পড়ছে, কুরআন পড়ছে, সবসময় সত্য কথা বলছে,পর্দা করছে।
রাসুল (স) বলেছেন সানা থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত, এই ধরো আমাদের দেশে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত একজন নারী একাকী পথ চলবে কিন্তু কোন পুরুষ তার দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকাবেনা……
বিস্মত কন্ঠ সমৃতির,
-তাই কি কখনো হবে আপু?
-হ্যা তাই, আসলে এক দিনে বলে বুঝানো কঠিন, তুমি কুরআন পড়তে পারো?
-হ্যা আপু পারি, গ্রামের মক্তবে শিখেছিলাম।
-অর্থসহ কুরআন পড়েছো কখনো?
-না পাওয়া যায়?
-হ্যা, আমার কাছে আছে, দিয়ে যাবো, প্রতিদিন একটা সময় কুরআন পড়লে, অর্থ ব্যাখ্যাসহ, এরপর হাদিস পড়বে, দেখবে কতো কিছু অজানা আমাদের, এভাবেই জানতে হবে, কুরআন সব বিজ্ঞানের মূল উৎস, এটাকে না জানলে দুনিয়াবী শিক্ষার কোন মূল্য নেই স্মৃতি, মৃত্যুর পর শুধু হায় হায় করতে হবে।
এবার রুবিনা মুচকী হাসে,
-ছোট খাটো একটা লেকচার দিয়ে ফললাম তাইনা? তোমার সময় নষ্ট করে…
-না না, আমি তো এসবের কিছুই জানতামনা, তোমাকে বরং ধন্যবাদ দেয়া জরুরী।
-না স্মৃতি ধন্যবাদের কিছু নেই, তুমি পড়ো, একটা সময় নির্দিষ্ট করে পড়তে থাকো জানতে পারবে, আমি তোমাকে আরো বই দেবো এখন আমি আসি।
রুবিনা চলে গেলে, স্মৃতি কিছুক্ষণ ভাবে ওর কথাগুলো নিয়ে, একটু ঘোরের মধ্যে পড়ে থাকলো যেন।
বাবার ডাক শুনে বাস্তবে ফিরে আসে, ডিনার করতে ডেকেছে।
খাবার টেবিলে সাইমন চৌধুরীর গম্ভীর কন্ঠ,
-ঐ মেয়ে কেন এসেছিলো?
-বাবা খুব প্রয়োজনীয় কথা বললো জানোতো?
মুখের খাবার শেষ করে স্মৃতি,
-বাবা তুমি কী নামাজ পড়ো? মাকে পড়তে দেখেছি তোমাকেতো দেখিনা বাবা নামাজ পড়তে। সাইমন চৌধুরী বিমর্ষ হয়ে গেলেন কিন্তু কিছু বললেননা, স্মৃতিও আর কথা বাড়ালোনা বাবাকে পর্যবেক্ষন করলো কিছুক্ষণ।
ডিনার শেষ করে রুমে গিয়ে পড়তে বসলো। চলবে……

ঘাতক

facebook-front_179_2232542b-400x250অপরাজিতাবিডি ডটকম : আগামীকাল অ্যাসা্ইনমেন্টের পেপারস জমা দিতে হবে। এরপর প্রেজেন্টশন এর ঝামেলা গ্রুপের সবাইকে কল করে পাওয়া যাচ্ছে না। এতগুলো চিন্তা মাথার মধ্যে যেন কাকের বাসার মতো জট পাকিয়ে যাচ্ছে। মাথা বো বো করছে। এক কাপ গরম গরম কফি হলে মন্দ হতো না! আক ঝাটকায় আজটগুলো খুলে যেত মেজিকের মতো। মাকে বলি না থাক, চিন্তা ঘুরিয়ে নিল। নিজেই কফি মেকারে বানিয়ে আনল কফি । পিসির সামনে বসলো জুতসই করে।

হ্যা পেপারস রেডি করার আগে ফেসবুকের মাঠটা একটু ঘরেই আসিনা কেন! ওপেন করে দেখি চেটিং এর মাঠে কে কে খেলছে জেনি আর রুমা থাকলে এক হাত বকা ঝকা করা যাবে। গত পরশুদিনের আগের দিন থেকে কল করেও কাউকে পাচ্ছি না কেন?

রিফাত ফেসবুক ওপেন করেই আতকে উঠলো! এ কি ! এ যে অবিশ্বাস্য! এ হতেই পারে না। এটা কি করে হতে পারে কেউ দুষ্টুমি করে এ খবর দিচ্ছে কি নানা অনেকেই সেড হচ্ছে এ কেমন করে হয় নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। হাত পা কাপতে শুরু করেছে। বুকের ভিতরটায় হাড়টবীট বেড়ে গিয়ে মনে হয় মুগুর পিটাচ্ছে কী ঘটলো? ধপ করে বসে  পড়লো চেয়ারটায় তাড়াতাড়ি মাউস্টা চালাতে গেল পারল না। বজ্রাহতর মতো আঙ্গুলগুলো অসাড়, থান্দা। কিুছুতেই যেন কী বোর্ড চালাতে পারছি না।

কী করব? মাকে বলবো? না, এতো রাতে মাকে বলে মায়ের টেনশন বাড়িয়ে মাকে অসুস্থ বানানো ঠিক হবে না। রুমা কী জানে? হ্যা রুমাকে ফোন করি ! কল দিতেই পেয়ে গেল-

রুমা , তুই কি কিছু জানি খবর? ও প্রান্ত থেকে কণ্ঠস্বর ভারী শোনাল , মনে হল কান্না চেপে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা বৃথা হচ্ছে।

রুমা আমি তো বিশ্বাস করতে পারছি না! রিফাতের কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে উঠলো । ওপ্রানইত থেকে অনেক কষে। কথা বের হল।

হ্যা, রিফাত কেমন করে সব এলামেলো হয়ে গেলা! আমি জেনীকে ফোন করে না পেয়ে ওদের বাসায় গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম আর শুনলাম— আমি সহ্য করতে পারলাম না রে!

বলে বুকভাঙ্গা চাপা কান্নার গমকে ভেসে আসলে । কান্না থামিয়ে বলল

হ্যা রিফাত , তুই সকাল বেলা ক্যাম্পাসে আয়, তাড়াতাড়ি আসিস। সব ঘটনা ওখানে বলা যাবে, কেমন!

সারাটা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারলাম না। এসাইনমেন্ট তো চিন্তা থেকে উড়ে গেছে; মাকেও কিছু বলতে পারিনি। মগজের মধ্যে জেনীর চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।

অথচ গত পরশুদিনের আগের দিন গ্রুপের সবাই যখন স্টাডিতে বসে পরবর্তী প্রেজেন্টেশনটা সেট করছিল জেনী তখন আনমনা হয়ে যাচ্ছিল। কোথায় কোন দিগন্তে যেন হারিয়ে যা্চ্ছিল মাঝে মাঝে । রুমা ওর ধ্যান ভঙ্গ করল।

-কি রে কার ধ্যানে মগ্ন হয়েছিস? মন দিয়ে শোন কি করবি!

-অ্যা ! ও হ্যা বল কি বলছিলি?

না তুই মনে হয় অন্য কিছু ভাবছিস? কি হয়েছে তোর?

-না না, তেমন কিছু ভাবছিনাতো?

তাহলে আয় কাজগুলো গুছিয়েনিই! বলে রুমা, রিফাত সবুজ সবাই কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলো।

 

জেনী, শরীর খারাপ লাগছে এই অজুহাতে আগেই বাসায় চলে আসলো । এরপর এই কদিনেই এমন কী ঘটলো যে একটি জীবন এক ইতিহাস রচনা করলো! মানুষের জীবনটা কী এমনই! যে কোন মুহুর্তে রচিত হতে পারে মর্মান্তিক বা সুখকর কোন ইতিহাস যা কোন বইতে লিখা হয় না, কিন্তু কোন কোন হৃদ্বেয় হয় রক্তক্ষরণ।

পরদিন ফজরের নামাজের পর আকাশে সুবহে সাদেকের বিমূর্ত রুপ দেখার সৌভাগ্য হল রিফাতের । আজ রুমার কথামত ক্যাম্পাসে তাড়াতাড়ি যাওয়ার কথা। জেনীর বিষয়ে সব কথা না জানা পর্যন্ত অশান্ত মঙ্গে কিছুতেই বশ মানাতে পারছে না।

 

সকালবেলা ক্যাম্পাসে শুনশান নিরবতা। দু একজন ছাত্রছাত্রীকে দেখা যাচ্ছে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে যে যার গন্তব্যে দ্রুতলয়ে চলে যাচ্ছে। রিফাত চঞ্চল পায়ে স্টাডিতে ঢুকলো। রুমার হিজাবের রঙ আর ডিজাইন দেখে সহজেই পেয়ে গেছে ওর অবস্থান। সে আগে থেকে স্টাডিতে বসে আছে। জানালার গ্রীলে মাথা ঠেকিয়ে উদাসভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

রিফাত সন্তর্পনে ওর কাছে এস আস্তে করে ওর কাধে হাত রাখলো। রুমা চমকে যায়নি। ওর দিকে না তাকিয়েই ওর হাতটা চেপে ধরল। বুঝা গেল ওর চোখ দিয়ে অবাধ অশ্রুধারা ঝরছে। রিফাত রুমার পাশে বসলো। ওর চোখও বাধ মানল না। রুমা নিরবতা ভঙ্গ করল-

 

জেনীর জীবনে যে এমনটা ঘটবে, আমি ভাবতেও পারিনি।

রুমা তুই কি জানিস সব বল আমাকে! আমি আর অন্ধকারে থাকতে পারছিনা। আরে আসতে কথা বল সবাই কি ভাববে বলতো?

স্টাডিতে ওরা ছাড়া আরো কয়েকজন পড়াশুনা করছিলো। কেউ কেউ আজকের খবরের কাগজে বড় বড় হেডলাইনে লিখা —‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর নিখোজ’ এটা প্রায় সবাই খবরের কাগজের উপর হুমড়ি খেয়ে খবরটা গিলছে যেন। আর ফিস ফিস গুঞ্জন —।

রিফাত আমি জেনীর বাসায় ফোন করেছিলাম কে একজন ধরল আমি কথা বললাম

হ্যালো কে আমি রুমা বলছি জেনীকে দেয়া যাবে? আমাকে চিনে ফেলে আলী চাচা। আপা আমি আলী মিয়া কইতাছি! আপা আপনে একটু বাসায় আসবেন তাড়াতাড়ি! আমাদের খুব বিপদ! আপনে আইলে সব বুঝবেন, দয়া কইরা একটু তাড়াতাড়ি আসেন কেমন?

কেনো? কী হয়েছে? আলী চাচা?

 

ফোনে কওন যাইব না আপনে আসেন এক্ষনি!

হ্যা হ্যা আমি আসছি!

 

দ্রুত একটা রিক্সা নিযে চরে আসলাম কলিং বেল টিপতেই আলী চাচা দরজা খুলে ইলারায় জেনীর আব্বু সালাম সাহেবের ঘর দেখিয়ে চুপ থাকতে বললো। তাকে ডাক্তার ওষুধ খাইয়ে ঘুম পড়িয়ে রেখেছেন। নির্ঘুম টেনশন, ইত্যাদি উচ্চরক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আমাকে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে আলী চাচাও বসলো। চাচা কি হয়ছে বলূন, আমার তো খুব ভয় লাগছে।

হ বলি- সেদিনের ঘটনা আলী চাচা বললেন—

জেনির আব্বু অস্থিরভাবে পায়চারী করছেন। হঠাৎ লোডশেডিং। দু্ এক ঘন্টা পর পরই লোডশেডিং। বিরক্ত জনসাধারণ। কিন্তু কোনো প্রতিবাদ নেই। দু হাজার সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার  যদি এই দুরবস্থা হয় তাহলে দেশে তো আর আবার তলাহীন ঝুড়িতে পরিণত হবে; এসব ভাবতে ভাবতে পায়চারী করছেন আর জেনীর অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ মনে হল কে যেন এসছে। আলো না থাকাতে চিনতে পারলেন না, কে কে ওখানে?

জেনীর নিস্তেজ নিরুত্তাপ জবাব

আমি জেনী, আব্বু

ওহ তুমি এসছো। এতো দেরী করলে কেন মা! আমি যে কী চিন্তায় ছিলাম। প্রেশারটা  বোধ হয় বেড়েছে।

জেনী অবসন্ন শরীরটা টেনে নিযে ঘরৈ গেল। বাথরুম থেকে কাপড় পাল্টে শুয়ে পড়ল। হাসি বুয়া কিছুক্ষণ পর এস ডাকছে।–

 

আপা আসেন, খালু জান খাইতে ডাকে।

হাসু আপা আমি খাব না আপনি আর আব্বু খেয়ে নিন। আব্বুকে বুঝিয়ে বলবেন, আমি খাব না্ আমার ক্ষিদে নই।

আ্চছা যাই

 

পরদিন অনেক বেলা অব্ধি যখন কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেলনা জেনীর অজানা আশঙ্কায় সবাই আতঙ্কিত। দারওয়ান আলি হাসু বুয়া অনেক ডাকাডাকি করল কিন্তু কোন সাড়া নেই ভিতর থেকে সালাম সাহেব কাপতে কাপতে বসে পড়লেন। আলী বলল-

স্যার দরজা ভাইঙ্গা ফালান, স্যার।

আমি কিছু বুঝতে পাছি না , তোমরা যা হয় একটা কিছু করো। বলে তিনি মাটিতে বসে পড়লেন মাথায় হাত দিয়ে।

দরজা ভাঙ্গা হলোন। ভিতেরর অবস্থা দেখে সবাই স্তম্ভিত নিশ্চুপ; সবার শ্বাসপ্রশ্বাসও যেন বন্ধ হয়ে গেছে। কারও মুখে কোন কথা নেই।

খাটের উপর জেনীর সব কাপড় চোপড় পড়ে আছে সিলিং ফ্যানের সাথে শাড়ীর একপ্রান্ত বাধা । কিন্তু জেনী? জেনী কোথায়‍‍? ও ঘরে নেই। ঘরের ভিতরের দিক বন্ধ করে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু যাওয়ার আগে দুটো চিঠি টেবিলে উপর রেখে গেছে।

রুমা চিঠি দুটো রিফাত কে দিল

পড়ে দেখ।

তুই পড়েছিস?

হ্যা। সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়ে চুপ করে রইল। রিফাত দ্রুত হাতে চিঠি খুলে পড়তে শরু করলো। সেলুলয়েডের ফিতায় যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো চোখের সামনে চলল ঘটনাগুলো—

একটি সাইবারক্যাফে বসে চ্যাট করছে জেনী-

অনেদকিন হয়ে গেলো আমাদের বন্ধুত্বের । তোমার কি ইচ্ছে করে না দেখা করতে?

কি যে বল? করে না আবার? চাতক পাখির মতো হা করে আছি, কবে এই ফেসবুকের না দেখা বন্ধুকে দেখবো! বলনা কবে দেখা হবে?

আমিও তো তোমাকে ?? এটা তো ঠিক না কি বল?

চলবে…………

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১২ মে ২০১৪

'মা' দিবস

 

 954735_732955410099930_7307696725046351691_n (1)

অপরাজিতাবিডি ডটকম : কবি বলেছেন,

মা কথাটি ছোট্ট অতি

কিন্তু জেনো ভাই

ইহার চেয়ে নাম যে মধুর

ত্রিভূবনে নাই।

আর কথায় আছে- ‘মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই।’ যে মা জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন। তাঁর  প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্ব ‘মা’ দিবস পালন করা হয়। মা দিবসের মূল উদ্দেশ্য, মাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া। তবে একটা কথা, মা দিবস তো একটা প্রতীকি দিন। তাই মা দিবসেই শুধু নয়, মাকে ভালোবাসতে হবে বছরের বাকী দিনগুলিতেও।

মা:

মা (ইংরেজি: Mother, Mum, Mom) হচ্ছেন একজন পূর্ণাঙ্গ নারী, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন – তিনিই অভিভাবকের ভূমিকা পালনে সক্ষম ও মা হিসেবে সর্বত্র পরিচিত প্রকৃতিগতভাবে একজন নারী বা মহিলাই সন্তানকে জন্ম দেয়ার অধিকারীনি। গর্ভধারণের ন্যায় জটিল এবং মায়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অবস্থানে থেকে এ সংজ্ঞাটি বিশ্বজনীন গৃহীত হয়েছে। তার বিপরীত লিঙ্গ পুরুষ হচ্ছেন বাবা।

সাময়িক মোহ,সাময়িক দামী বা অন্য কিছু হয়ত এ শব্দটির চেয়েও অন্য কোনো শব্দকে খানিকটা প্রিয় করে তোলে, কিন্তু খুব অচিরেই তা বড় ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। মা, মা, এবং মা। প্রিয় এবং মূল্যবান শব্দ একটিই, এবং একটিই মাত্র। শুধু প্রিয় শব্দই নয়, প্রিয় বচন -মা। প্রিয় অনুভূতি -মা। প্রিয় ব্যাক্তি –মা। প্রিয় দেখাশুনা –মা। প্রিয় রান্না -মা। প্রিয় আদর -মা। সব ‘প্রিয়’ গুলোই শুধুমাত্র মাকে কেন্দ্র করেই সব প্রিয় স্মৃতি। কারণ মা-ই পৃথিবীতে একমাত্র ব্যাক্তি যে কিনা নিঃশর্ত ভালবাসা দিয়েই যায় তার সন্তানকে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়া। পৃথিবীর ইতিহাসে সন্তানের জন্মদাত্রী হিসেবে প্রাকৃতিকভাবেই মায়ের অবস্থান। মানব সমাজে যেমন মা-এর অবস্থান রয়েছে, পশুর মধ্যেও মাতৃত্ববোধ প্রবল। সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকেই মা, সকল মমতার আধার ও কেন্দ্রবিন্দু। পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায়ই “মা”-এর সমার্থক শব্দটি ‘ম’ ধ্বনি দিয়ে শুরু হয়।

মা দিবস:

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে দিবসটি পালন করা হয়। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার নরওয়েতে, মার্চের চতুর্থ রোববার আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে। আর বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার।

বিশ্বের অনেক দেশে কেক কেটে মা দিবস উদযাপন করা হয়। তবে মা দিবসের প্রবক্তা আনা জার্ভিস দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করে বলেছিলেন,  মাকে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো, তাঁকে নিয়ে দুই কলম লেখার সময় হয় না। চকলেট উপহার দেওয়ার অর্থ হলো, তা নিজেই খেয়ে ফেলা।

আনা জার্ভিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর ও ওহাইওর মাঝামাঝি ওয়েবস্টার জংশন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিস সারা জীবন ব্যয় করেন অনাথ-আতুরের সেবায়। মেরি ১৯০৫ সালে মারা যান। লোকচক্ষুর অগোচরে কাজ করা মেরিকে সম্মান দিতে চাইলেন মেয়ে আনা জার্ভিস। অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মতো দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব মাকে স্বীকৃতি দিতে আনা জার্ভিস প্রচার শুরু করেন। সাত বছরের চেষ্টায় মা দিবস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়।

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০মে ২০১৪

কেঁচো চাষে মেতেছেন ফুলছড়ির নারীরা

NEWS--

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, গাইবান্ধা : বাজেতেলকুপি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি গ্রাম। এ গ্রামের ফুয়ারা বেগম আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন কেঁচো চাষ বা ভার্মি কম্পোস্ট। নিজ বাড়িতে কেঁচো উৎপাদন করে মাত্র ছয় মাসে অর্ধলক্ষ টাকা আয় করেছেন তিনি। শুধু ফুয়ারা বেগম নন, এলাকার আরও অর্ধশতাধিক নারী এ কাজে সম্পৃক্ত। তাদের কেঁচো চাষ শুধু অর্থ উপার্জন নয়, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় অবদান রাখছে।

 

ফুয়ারা বেগম বলেন, ‘বন্যা ও নদীভাঙ্গনে কয়েক দফা বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে নিঃস্ব হয়ে বাজেতেলকুপি গ্রামে আশ্রয় নিই। এরপর গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখি। বন্যামুক্ত করতে বসতবাড়ি উঁচুও করতে সহায়তা করে সংস্থাটি। তাদের মাধ্যমে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা অনুদান নিয়ে ৪ হাজার কেঁচো কিনে চাষ শুরু করি। তিনমাস শেষে অন্যান্য গ্রামের নারীদের কাছে ৩০ হাজার কেঁচো ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি।’

 

কেঁচো চাষের বৈচিত্রময় দিক নিয়ে বলেন, ‘কেঁচো থেকে উৎপাদিত কয়েক মণ জৈবসার বিক্রি ছাড়াও নিজের সবজি ক্ষেতে ব্যবহার করেছি। বাড়িতে উৎপাদিত লাউ, করলা ও শিম বিক্রি করে চলতি মৌসুমে ১০ হাজার টাকা আয় করেছি। এ ছাড়া বাড়ির পেছনে ১০ হাত জায়গায় গর্ত করে বিদেশি মাগুর চাষ করে ৭ হাজার টাকা আয় করেছি। বর্তমানে আরও ১৫০টি মাগুর ও ৬টি হাঁস রয়েছে। আশা করছি এখান থেকে আয় হবে ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে বাড়িতে ৫টি রিংস্লাবে ৫০ হাজার কেঁচো রয়েছে। এগুলোর সংখ্যা প্রতিনিয়তও বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাতে থাকা কেঁচো ও জৈবসারের মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা।’

 

NEWS-1

 

 

অতীতের কথা স্মরণ করে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুইবছর আগের অসহায়ত্বের কথা মনে হলে শিউরে উঠি। শুধু স্বামীর একার আয়ে সন্তানদের নিয়ে কত রাতই না উপোষ থাকতে হয়েছে। কিন্তু সে দিন এখন আর নেই। সংসারেও বিবাদ নেই। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে দিয়েছি।’

 

এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে উত্তরাঞ্চলভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)। ২০১০ সালে দাতা সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইডের অর্থায়নে সংস্থাটি ফুলছড়ির ফজলুপুর এবং নদী ও চরাঞ্চলের অতিদরিদ্র দুই হাজারের বেশি পরিবার নিয়ে কৃষিভিক্তিক টেকসই জীবনযাত্রার উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু করে। এতে ৪৫০টি পরিবারকে সরাসরি অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে। সংস্থার কৃষিভিত্তিক সহযোগিতার অন্যতম কর্মসূচি কেঁচোর মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদন। ছয় মাস আগে ফজলুপুর, বাজেতেলকুপি, উজানডাঙ্গা, কোচখালী, চন্দনশ্বর ও পূর্বখাটিয়ামারী গ্রামের ৬০ জন নারী কেঁচো চাষে সম্পৃক্ত হন। তবে চাষীর সংখ্যা এখন অনেক বেশি।

 

এ চরের আরেক নারী রহিমা বেগম। কেঁচোর তৈরি জৈবসার দিয়ে দেড় বিঘা জমিতে মরিচ ও এক বিঘা জমিতে গম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা রাসায়নিক সার দিয়ে মরিচ চাষ করেছে তাদের চেয়ে আমার মরিচ অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে জৈবসার উৎপাদনের প্রতি এলাকা অন্যদের একটু অনীহা থাকলেও এখন অনেকে কেঁচো চাষ করছেন।’

 

জিইউকে রিভার প্রকল্পের ম্যানেজার প্রতিমা চক্রবর্তী জানান, বাড়িতে একটি গরু থাকলে কেঁচোর মাধ্যমে ৪৫ দিনে ৬০ কেজি জৈবসার উৎপাদন করা যায়। একজন নারী যদি ২ হাজার কেঁচো চাষ করে তাহলে মাসে ৬০ কেজি জৈবসার উৎপাদন করতে পারবে। এ ছাড়াও ২ হাজার কেঁচো থেকে বছরে ৮০ হাজার কেঁচো পাওয়া যায়। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি একজন নারী শুধু কেঁচো চাষ থেকে মাসে অনায়াসে ৪ হাজার আয় করছেন।

 

তিনি আরও জানান, কেঁচো বা ভার্মি কম্পোস্টের চাহিদা চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সার চরে কেজি প্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈবসারে অন্ততপক্ষে ৫০ ভাগ অর্থ সাশ্রয় হয়। উৎপাদনও হয় অনেক বেশি। তবে এ সারের মার্কেটিং এখন সেভাবে হয়নি। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

NEWS-2_1

 

জিইউকে এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোকনুজ্জামান জিল্লু জানান, গণউন্নয়ন কেন্দ্র দুর্যোগের সঙ্গে বসবাসরত নারীদের আয়মুখী কাজে সারাবছরই সম্পৃক্ত রাখতে রিভার প্রকল্প গ্রহণ করে। এ সব মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ুর হুমকি মোকাবেলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থার নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম বলেন, ‘জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চরাঞ্চলের নারীরা। এ জন্য কেঁচো চাষের মতো ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চরের নারীরা মৌসুমভিত্তিক বহুমুখী আয়ে সম্পৃক্ত থাকলে দরিদ্রতা থেকে মুক্ত হতে পারবে; তা না হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষিতেও নারীরা সম্পৃক্ত হচ্ছেন। কেঁচো চাষের মাধ্যমে জৈবসার তৈরিতে নারীদের অসাধারণ অবদান অবশ্যই মূল্যায়নযোগ্য। এর মাধ্যমে তারা যেমন অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন তেমনি মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।’

এ ছাড়াও এ সব নারীরা বসতবাড়িতে নানা ধরনের সবজি ও মাছ চাষ এবং গরু-ছাগল, হাঁস-কবুতর পালনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৯ মে ২০১৪.

ফুলবাড়ীয়ায় ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতার ৪

Rape

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে ফুলবাড়ীয়া এলাকায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করেছে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইউপি সদস্য আব্দুল হাই সুমন ও তার সহযোগী বুলু মিয়া, শুকুর মাহমুদ, গিয়াস উদ্দিন।

 

এলাকাবাসী জানায়, সোলায়মান মিয়া তার স্কুলে পড়ুয়া শিশু কন্যা (১০) উপজেলার কাহালগাঁও রঙ্গেরধারা গ্রামে বসবাস করেন। গত পহেলা বৈশাখ বিকেলে সোলায়মান তার শিশুকে নিয়ে জোরদীঘির মেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

 

দীর্ঘ ১৩ দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ধর্ষিতা শিশুর চিকিৎসা শেষে গত ৩০ এপ্রিল শিশুটির মা শহর বানু বাদী হয়ে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে ধর্ষণকারী চারজনের জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

 

ফুলবাড়িয়া থানার এএসআই হুমায়ূন কবীর জানান, মামলার প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৯ মে ২০১৪.

ভারতে পাচারকালে ফের ২ তরুণী উদ্ধার, নারীসহ আটক ২

 

 

 

 

 

 

 

Kurigram

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালাহাট সীমান্তে পাচারের সময় দুই তরুণীকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ সময় যমুনা বেগম ও আব্দুর রশিদ নামে দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও বিজিবি সুত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বালাহাট সীমান্তের ৯৩৫ পিলারের কাছে গজের কুটি গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ি থেকে বাবলী আক্তার ও শান্তনা বেগম নামের দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পাঠানপাড়ায়।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রশিদ জানান, ফুলবাড়ীর বালাহাট সীমান্তে তাদের পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। বিজিবি তাদের করে।

 

অপর দিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাঁটাতারের বেড়া দেখতে নিয়ে এসে জয়ন্তী রানী (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রীকে ভারতে পাচারের সময় ফুলবাড়ী থানা পুলিশ পাচারকারী নুর ইসলামকে আটক করে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৯ মে ২০১৪.

বইয়ের যত্নে বুকশেলফ

book-...................top20140505202524

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : মার্ক টোয়েনের লাইব্রেরীখানা নাকি দেখার মতো ছিল। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বই, বই শুধু বই। এমন কি কার্পেটের উপরও গাদা গাদা বই স্তপকৃত হয়ে পড়ে থাকত, যেখানে পা ফেলা ভার। একদিন তারই এক বন্ধু মার্ক টোয়েনকে বলেছিল, ‘বইগুলো নষ্ট হচ্ছে, গোটাকয়েক শেলফ যোগাড় করছ না কেন?’

মার্ক টোয়েন কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে ঘাড় চুলকে বলেছিল, ‘ঠিকই বলেছ- কিন্তু লাইব্রেরীটা যে কায়দায় গড়ে তুলেছি, শেলফ তো আর সে কায়দায় যোগাড় করতে পারছি না। শেলফ তো আর বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে ধার চাওয়া যায় না।’ সত্যি ঠিকই বলেছেন মার্ক টোয়েন। বই ধার নেওয়া গেলেও বুকশেলফ তো আর ধার নেওয়া যাবে না। তাছাড়া আপনার তো আর এত বড় লাইব্রেরী নেই। আর থাকলেই ক্ষতি কি! আপনি আপনার বাসার পরিধি অনুযায়ি তৈরি করে নিতে পারেন পছন্দসই বুকশেলফ। এবং যত্নে রাখতে পারেন আপনার প্রিয় বই।

download (6)

ছোট বাড়ি হলে
এরকম বাড়িতে বা ফ্লাটে কিন্তু দেওয়ালই ভরসা। এখন যে কোনও ফার্নিচারের দোকানেই রেডিমেড বইয়ের তাক পাবেন। কিন্তু একেবারে মাপমতো বানাতে চাইলে কারিগর দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন। ডিজাইনের জন্য চিন্তা করতে হবে না। ইন্টারনেট বা যে কোনও ম্যাগাজিনেই হাজার হাজার ছবি পেয়ে যাবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিলেই চলবে। বানিয়ে নিলে দামও অনেকটা কম পড়বে। কাঠও নিজের পছন্দ মতো বাছতে পারবেন। ঘরের পুরো একটা দেওয়াল বই রাখার জন্য ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। না হলে দেওয়ালের কিছুটা ব্যবহার করতে পারেন। আবার কোনও আলমারি বা ক্যাবিনেটের কিছু অংশও ব্যবহার করতে পারেন।

download (7)

হাতের কাছে রাখুন
এমন উঁচু জায়গায় তাক বানালেন যে, বই পাড়তে-রাখতেই সমস্যা হয়। এরকম হলে রোজ বইয়ের যত্ন নেওয়া হবে না। ইচ্ছে হলে বই পেড়ে পড়তেও পারবেন না। তাই বইয়ের তাক রাখুন নাগালের মধ্যে। তাছাড়া, দেওয়াল, আলমারি বা ক্যাবিনেট , সোফা সেটে-এর বক্স করে বা খাটে বক্স করেও বই রাখতে পারেন।

বড় বাড়ি হলে
বড় বাড়ি হলে কোনো সমস্যা নেই। অনায়াসে একটা ঘর লাইব্রেরি বানিয়ে ফেলতে পারেন। পুরো ঘর জুড়েই করতে পারেন বই রাখার ব্যবস্থা। কিছু বই খোলা রাখলেন আবার কিছু বই বন্ধ আলমারিতে। চাইলে ক্যাটালগ করে রাখতে পারেন। এতে বই খুঁজে পেতে সুবিধে হবে।

একটু শৈল্পিকতা
একেবারে সেই একই রকম বইয়ের তাক না বানিয়ে একটু শৈল্পিকভাবে তৈরি করুণ। যাতে দেখতে ভালো লাগে। আপনার পার্সোনালিটির সঙ্গে মানানসই বইয়ের তাক বানান। আপনি যদি মজা করতে পছন্দ করেন তাহলে নিজের বুক শেলফেও তার ছোঁয়া রাখুন। আর যদি খুব ছিমছাম জিনিস পছন্দ হয় তবে সেরকমও বানিয়ে নিতে পারেন।

খরচা-পাতি
কাঠের বানাতে বা কিনতে চাইলে খরচা একটু বেশি পড়বে। ছোট মাপের বইয়ের তাকেরই দাম পড়বে প্রায় আট-নয় হাজার টাকার মতো। আর বড় মাপের বানাতে গেলে বার হাজার টাকার নিচে হবে না। তবে প্লাইউডের বানালে ছোট বইয়ের তাক তিন-চার হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। পছন্দ এবং স্থানবেধে এ খরচের তারতম্য হতে পারে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ ০৮ মে ২০১৪ই.

বাহারি সব ভর্তা

 

top20140507211907

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা :  উৎসবেই আয়োজনের পূর্ণতা পায় খাবার-দাবারে। অন্তত ভোজনরসিক বাঙালির ক্ষেত্রে। তাইতো প্রিয় কবির জন্মদিনের এই দিনটিতে আমরা অনায়াসেই টেবিল সাজাতে পারি বাঙালীর প্রিয় খাবার ভর্তা দিয়ে। বাঙালি সে যেখানকারই হোক না কেন ভর্তা খেতে ভালোবেসে না, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাই এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই হোক না আপনার ঘরে ভর্তা উৎসব।

আলু ভর্তা :

downloadআলু ভর্তার সঙ্গে পরিচয় নেই এমন বাঙালী খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। আর আলু ভর্তা বানাতে পারে না এমন নারী অথবা পুরুষের সংখ্যাও অত্যন্ত নগন্য। তারপরেও এই জানা জিনিসটাকেও কিভাবে আরও সুস্বাদু করা যায় তারই কয়েকটা উপায় জানাচ্ছি। সাধারণভাবে আলু ভর্তা করার নিয়ম হচ্ছে প্রথমেই আলুটাকে সিদ্ধ করে নেয়া। আর পরিমাণ নির্ভর করবে কয়জন খাবে তার ওপর। সিদ্ধ করা আলুটাকে ভালো করে চটকে নিতে হবে। তারপরে কুঁচি করা পিয়াজ, কুঁচি করা মরিচ, লবণ আর পরিমাণ মতো সরিষার তেল দিয়ে ভলো করে মাখিয়ে নিলেই তৈরী হয়ে যাবে আলু ভর্তা। আর যদি এরচেয়ে একটু ব্যতিক্রম করতে চান তবে পিয়াজ কুচি এবং কাঁচা মরিচ অথবা শুকনা মরিচ(যা আপনি ভালোবাসেন) ভেজে নিতে পারেন সরিষার তেলে। এই ভাজা পিয়াজ, মরিচ ও তেল চটকানো আলুর সঙ্গে মেশালে বদলে যাবে চিরচেনা আলু ভর্তার স্বাদ। আর এই ভাজা তেল-পিয়াজে ছেড়েও দিতে পারেন চটকানো আলু। তারপর কিছুক্ষণ ভেজে নিয়ে পরিবেশন করতে পারেন ভাজা আলু ভর্তা। আবার কাঁচা পিয়াজের স্বাদ যারা মিস করতে চান না তারা শুধু মরিচটাকে ভেজে নিলেই একটুতো আলাদা স্বাদ পাবেনই। আর সরিষার তেলের বদলে খাঁটি ঘি দিয়েও মাখাতে পারেন সব বাঙালীর প্রিয় এই আলু ভর্তা। আরও বিশেষ কিছু করতে চাইলে আলু সিদ্ধ না করে পুড়িয়েও নিতে পারেন আগুনের তাপে। ঝলসানো আলুর ধোঁয়াটে গন্ধ আর পিয়াজ, লঙ্কা, তেলে মিলেমিশে তৈরী হবে অনন্য এক স্বাদ।

বেগুন ভর্তা

download (1)
আলু ভর্তার মতো এতটা জনপ্রিয় না হলেও বাঙালীর কাছে বেগুন ভর্তার কদরও নিতান্ত কম নয়। সাধারণত বেগুনটাকে পুড়িয়েই নেয়া হয়। আবার অনেকে সিদ্ধ করেও করেন বেগুনের ভর্তা। ঝলসানো বেগুন বা সিদ্ধ বেগুন, যাই হোক না পিয়াজ কুঁচির সঙ্গে ঝলসানো লাল মরিচ চটকে, সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে খুব সহজেই করে নিতে পারেন বেগুন ভর্তা। আর অ্যাসিডিটি হওয়ার ভয় থাকলে শুকনা মরিচের বদলে তেলে ভেজে নিন কাঁচা মরিচ। স্বাদ নিয়েও চিন্তা থাকলো না। স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকেও দূরে থাকা গেলো।

টমেটো ভর্তা :

download (2)
টমেটোকে বেগুনের মতোই সিদ্ধ করে অথবা ঝলসে ভর্তা করা হয়। প্রণালীও প্রায় এক রকম।

কালোজিরার ভর্তা :

download (3)
কালোজিরা অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি মশলা। বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক এই কালোজিরা। কালোজিরার ভর্তাও অনেক ভোজনপ্রেমিকেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। কালোজিরা ভর্তা তৈরীর জন্য প্রথমেই এক টেবিল চামচ কালোজিরা ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তারপর এই শুকানো কালোজিরার সাথে দুইটি ছোট রসুনের কোষ মৃদু আঁচে ভালো করে টেলে নিন। শুকনা মরিচ খেতে চাইলে কতটুকু ঝাল খেতে চান সেই অনুপাতে ২/৩টা মরিচ টেলে নিন। আর কাঁচা মরিচ খেতে চাইলে ২টা বা তিনটা কাঁচা মরিচ তেলে ভেজে নিন। এবার রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কালোজিরা, রসুন, মরিচ ও পরিমানমতো লবণ একসাথে সামান্য পানি দিয়ে বেটে নিন। তৈরী হয়ে যাবে সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ কালোজিরার ভর্তা।

লাউপাতা ভর্তা :

download (4)
লাউপাতা ভালো করে ধুয়ে ভাপে সিদ্ধ করে নিন। এবার পরিমান মতো রসুন, পিয়াজ, মরিচ দিয়ে বেটে নিন। বেটে নেয়া লাউপাতায় সরিষার তেল ও লবণ দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। তৈরি হয়ে যাবে মজাদার লাউপাতার ভর্তা।

ইলিশ মাছের ভর্তা :

download (5)

মাঝারি আকারের একটি ইলিশ মাছের মাথা ও লেজ ছাড়া বাকি অংশ কেটে তিন/চার টুকরা করে নিন। ভালো করে ধুয়ে পনেরো থেকে বিশ ভাঁপে সিদ্ধ করে নিন। সিদ্ধ করা হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ঠান্ডা হওয়ার পরে সম্পূর্ণ মাছের কাঁটা বেছে নিন। এবার পেয়াজ কুঁচি(মাঝারি আকারের দু’টো), ৪/৫টা ভাজা শুকনো মরিচ(অথবা কাঁচা মরিচ), দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল এবং পরিমানমতো লবণ বেছে নেয়া মাছের সাথে ভালো করে মাখিয়ে নিন। ঝটপট তৈরি হয়ে যাবে চমৎকার স্বাদের ইলিশ মাছের ভর্তা।

লক্ষ্য রাখুন : বিশেষ একটি বিষয় ভর্তা সম্পর্কে না বললেই নয়। ভর্তায় ব্যবহৃত সবকিছুরই পরিমান নির্ভর্ করে সাধারণত যে খায় তার রুচির ওপর। কেউ ঝাল কম পছন্দ করে, কেউ বেশি। এটা একেবারেই সাধারণ কথা। তবে ভর্তার আরও একটি প্রধান উপাদান তেল। এই তেলও কেউ কেউ ভর্তায় একটু বেশি খায়, আবার কেউ একটু কম খায়। পিয়াজের বেলায়ও বিষয়টি এমনই। তাই বাসায় যখনই আপনি ভর্তা তৈরি করবেন পরিবারের সদস্যদের রুচির বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

এই ছয় রকমের ভর্তা পরিবেশন করুন ধোঁয়া ওঠানো ঝরঝরে গরম ভাত অথবা মুগ ডালের ঘ্রাণ ছড়ানো ভুনা খিচুরির সঙ্গে। সঙ্গে যদি থাকে ঘরে তৈরি আচার, তবেতো আর কথাই নেই। বিশেষ দিনকে উৎযাপন করুন সম্পূর্ণ বাঙালীয়ানায়।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৮ মে ২০১৪ই.

অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত জীবতলি রিসোর্ট

rangamati

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, রাঙামাটি : জীবতলি রিসোর্ট। রাঙামাটির অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত এ স্থানটি সহজেই মন কেড়ে নেয় ভ্রমণ পিয়াসীদের।

একপাশে কর্ণফুলী নদী আর একপাশে কাপ্তাই হ্রদ। মাঝখানে হচ্ছে কাপ্তাই উপজেলা। এলাকার নামেই নামকরণ হয়েছে রিসোর্টের। রাঙামাটি সদরের জীবতলি ইউনিয়নে রিসোর্টটির অবস্থান।

প্রকৃতি যেন আপন সৌন্দর্য্যকে মেলে ধরেছে এখানে। সকালের পূর্বাকাশে সুর্য উঁকি দিতেই সোনালী আলোকচ্ছটায় বর্ণিল হয়ে ওঠে লেকের পানি। পাহাড় আর হ্রদের সাথে যেন সুর্যালোকের আলোর দারুণ মিতালী। দুপুর হতেই রোদের প্রখরতা লেকের পানিকে আরো ঝলমল করে তোলে। পড়ন্ত বিকেলে আলোক রশ্মি আরো মোহনীয় করে তোলে পুরো পরিবেশ।

জীবতলি রিসোর্ট রাত দিনের যে কোন সময়েই উপভোগ করার মতো দর্শনীয়। নির্জনপ্রিয় মানুষের অবকাশ যাপনের কথা ভেবেই গড়ে তোলা হয়েছে এই রিসোর্ট। যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমী থেকে সওে এসে যারা প্রকৃতির খুব কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য পরিকল্পনা করেন এই রিসোর্ট তাদের জন্যই।

বাংলাদেশ সেনাবহিনীর অসংখ্য নান্দনিক স্থাপনার একটি ৩৫ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত এই জীবতলী রিসোর্ট।

জীবতলি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক সার্জেন্ট মানিক জানান, প্রকৃতির সাথে মিলমিশে একাকার হয়ে আছে এই রিসোর্ট। প্রতিনিয়তই বদলে যাচ্ছে রিসোর্ট, সেখানে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন স্থাপনা। আরো বেশি পর্যটক বান্ধব করতে নেয়া হয়েছে বিশাল কর্মপরিকল্পনা।

তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা পর্যটকদের জন্য তৈরি করেছি ৫টি কটেজ।এর মধ্যে ২ টি হচ্ছে মাটির, ১টি কাঠের, ১টি বাঁেশর তৈরি এবং একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাটির কটেজ দেড় হাজার, বাঁশের কটেজ এক হাজার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কটেজ সাড়ে তিন হাজার টাকা। এখানে পিকনিকের জন্যও রয়েছে ৪টি স্পট।
এ ছাড়াও কাপ্তাই লেকের পাশ ঘেঁষে পাহাড়ের কোলে গড়ে তোলা হচ্ছে বেশ কিছু নতুন কটেজ। নতুনভাবে প্রাকৃতিক ছোঁয়ায় নির্মিত হচ্ছে এইসব কটেজ। মাটির দেয়াল আর পাহাড়ী ছনের ছাদ। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড় দেখে মনে অন্য জনপদের কাঁচা বাড়ীঘর। থাকবেনা বৈদ্যুতিক পাখা, ভিতরে জ্বলবে কুপি বাতি।

রূপালী চাঁদের আলোয় ঝলমল করবে এসব কটেজ। প্রকৃতির মৃদু বাতাস শীতল করবে শরীর। পাহাড়ের আকা বাঁকা পথ বেয়েই যেতে হবে এসব কটেজে। এসব কটেজের সামনে দাঁড়ালে দেখা মিলবে কাপ্তাই হ্রদের বিশালতা। পাহাড়ের বুক চিরে কাপ্তাই হ্রদের বয়ে চলা। এখানে লেকের মাঝে করা হয়েছে সুইমিং পুলের ব্যবস্থা।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে যে কোন যানবাহনে করে যাওয়া যায়। রাঙামাটি সদর থেকে নৌপথে রিসোর্টে যেতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা।

আর সড়ক পথে দুটো ভিন্ন পথ ধরে যাওয়া যায়। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ঘাগড়া হয়ে গেলে সময় লাগে বেশি। আর রাঙামাটি শহরের আসমাবস্তি সড়ক দিয়ে যেতে সময় তার চেয়ে কম লাগবে।

রাস্তার দুই পাহাড়ের মাঝখানে ছুটে চলা পথ দিয়ে যেতে নজরে পড়বে স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনচিত্র। পাহাড়ের উপর দিয়ে চলে যাওয়া ১৯ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে গেলে কাপ্তাই লেকের বিশাল সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যাবে মনভরে। এ পথ দিয়ে যেতে ছোট-বড় ৮-৯ টি ব্রীজের দেখা মিলবে। লেকের কারণে ভাগ হয়ে যাওয়া দুই পাহাড়ের মিলনস্থলও এই ব্রীজ।

১৯ কিলোমিটার পথে মুগ্ধতায় যে কেউ বিমোহিত হবে।

যেহেতু পুরো এলাকাটি সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে সেহেতু নিরাপত্তার ব্যাপারে বাড়তি কোন টেনশনই নেই। দিন আর রাতের যে কোন সময় এখানে ঘুরে বেড়ানো যাবে অনায়াসে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ০৮ মে ২০১৪ই

কটিয়াদীতে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল স্কুল ছাত্রী

ballo_27781_0

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার হাজেরা সুলতান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী অষ্টঘড়িয়া গ্রামের রফিক মিয়ার কন্যা রত্না বেগমের(১৪) বিয়ে মঙ্গলবার উপজেলা ব্র্যাকের পল্লী সমাজের উদ্যোগে বন্ধ করে দেয়া হয়। রত্না বেগমের বিয়ে ঠিক হয় কিশোরগঞ্জ শহরের এক পাত্রের সাথে।
মঙ্গলবার খবর পেয়ে ব্র্যাক পল্লী সমাজের সিটিজেন কমিটির নওরীন সুলতানা, ইউপি সদস্য হাজেরা বেগম, ইউ,পি সদস্য কামাল মিয়ার উদ্যোগে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আসমা আক্তারের সহযোগিতায় বিবাহ বন্ধ করা হয়।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ০৮ মে ২০১৪ই

 

পাল্টেছে ধারা পাল্টেনি নির্যাতন

খন্দকার মর্জিনা সাঈদ : বাংলা ১২৯৮ সনের কথা। তখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ছোটগল্প দেনা পাওনায় অসহায় নারী নিরূপমার কথা লিখেছেন। যার বিয়েতে দশ হাজার টাকা পণের পুরোটা দিতে না পারায় শ্বশুরবাড়িতে নিত্যনির্যাতন। একবারের জন্যও বাবার বাড়িতে না যেতে দেয়া। শ্বশুরগৃহে মেয়ের সামনে বাবার অপমান। নিরূপমার নিরুপায় হয়ে বাবাকে উদ্দেশ করে বলা, ‘বাবা তুমি যদি আর এক পয়সা আমার শ্বশুরকে দাও তা হলে আর তোমার মেয়েকে দেখতে পাবে না। এই তোমার গা ছুঁয়ে বললুম।’ অবশেষে শোক, দুঃখ, অপমান, অভিমান সঙ্গী করে নিরূপমার একপ্রকার স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ। মৃত্যুর পরে, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট স্বামীর চিঠি, স্ত্রীকে অবিলম্বে পাঠানের অনুরোধ। প্রতি উত্তরে শ্বশুর রায়বাহাদুর মহিসী ছেলেকে লিখেছেন, ‘বাবা তোমার জন্য আর একটি মেয়ে সম্বন্ধ করিয়াছি। অতএব অবিলম্বে ছুটি লইয়া এখানে আসিবে। এবার বিশ হাজার টাকা পণ এবং হাতে হাতে আদায়।’

১২৯৮ সাল সেই কবেই পার হয়েছে। এতটা সময় পার করেও এই ভারতেরই হরিয়াণ রাজ্যে নারী বিক্রির রেওয়াজ চলছে। বয়স ও শারীরিক গঠনের বিচারে ৫ থেকে ৩০ হাজার রুপি পর্যন্ত দামে এদের বিক্রি করা হয়। এমন কি, লোকসভা নির্বাচন জনসম্মুখে নারীপ্রার্থীরা শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছেন। আর আপনার আমার মেয়েরা! যাদের আমরা নিরাপত্তার বেষ্টনীতে জড়িয়ে তিলে তিলে বড় করছি। তথাকথিত শিক্ষিত সুপাত্র দেখে বিয়ে দিয়েছি। তবু তারা কতটা নিরাপদ বাবার গৃহ ছেড়ে স্বামীর গৃহে! আবেগতাড়িত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন একজন মা ব্যারিস্টার মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, একমাত্র মেয়ে হওয়ায় ওর সংসার পর্যন্ত নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছি। শ্বশুরবাড়ির সব সমস্যার ব্যাপারে সোচ্চার থেকেছি। বেকার সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করেছি।
প্রথম প্রথম পুত্রবধূকে কেন্দ্র করে এত সব সুবিধা পেয়ে ওরা কৃতজ্ঞ ছিল। পুত্রবধূর প্রশংসা ছিল মুখে মুখে। আমার মেয়ের প্রতিও ছিল আন্তরিক। কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো এক বছর পার হতেই। যখন তাদের ছেলের আয় রোজগার, সম্মান ক্ষমতা উভয়ই বাড়ল। সাথে বাড়ল পুত্রবধূর পরিবারের কাছে চাহিদার লিস্টও। নিজস্ব গাড়ি, ফ্যাট, মেয়ের যাবতীয় খরচের বিষয়টি তো এর মধ্যে ছিলই। যা অভিভাবক হিসেবে সবসময়ের জন্য আমরা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং স্বামীর কাছে স্ত্রী ভরণ-পোষণের অধিকার চাওয়া মাত্রই বাধে বিপত্তি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো বিষয়কে প্রাধান্য করে প্রতিদিনই বাধে সঙ্ঘাত। সে সঙ্ঘাত থেকে আমার মেয়ে আত্মরক্ষা করতে গেলে বিষয়টি অন্য ধারায় প্রবাহিত হয়। জনে জনে প্রচার পায়, পুত্রবধূ স্বামী, শাশুড়ি দু’জনকেই মারধর করেছে। ওকে সমাজে দাঁড় করায়, জেদি, স্বেচ্ছাচারী, প্রতিহিংসাপরায়ণ একজন নারী হিসেবে। আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ওর স্বামী জনসমক্ষে স্ত্রীর মারের ক্ষতচিহ্ন দেখাতে পারলেও আমার মেয়ে নারী বলেই পারেনি তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানগুলো খুলে দেখাতে। পারেনি প্রমাণহীন মানসিক নির্যাতনের কথা বলতে। যে কারণে শাশুড়িকে মারধরের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। আইনি প্রক্রিয়ায় পাত্রপক্ষের বিয়ে ভাঙা সহজ হয়। যে বিয়েটা কি-না কেবলই পদমর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। ছিল একধরনের মুখোশের আড়ালে সন্ধিপত্র মাত্র। আর এমন ভুক্তভোগী আমি এবং আমার মতো অনেক পরিবারই আছে। যারা অতি সুবিধাজনক অবস্থানে অবস্থান করেও সতর্কতা অবলম্বন করেও চোরাবালির মতো সম্পর্কের ফাঁদে জড়িয়ে যাচ্ছেন। আপাতত বদনাম, কষ্ট কুড়াচ্ছেন বলেও জানান ব্যারিস্টার মনোয়ারা বেগম।
কথাসাহিত্যিক আয়শা ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে শায়লাকে ওর চেয়ে ১০-১২ বছরের বড় এক প্রভাবশালী পরিবারে ছেলের সাথে বিয়ে দেই। পাত্রপক্ষের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখে প্রথমে ও মেনে নিলেও পরে শায়লা জানতে পারে ওর স্বামীর অন্য নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক। এ কারণে প্রতিনিয়তই সে তাকে শারীরিক-মানসিকভাবে এড়িয়ে চলতে চাইছে। নীরবে নিখুঁতভাবে করছে অবহেলা। তখনই শায়লা গভীর অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। যেন একটি বাঁশের কঞ্চি জড়িয়ে শিমলতার বেঁচে থাকার মতোই তার বেঁচে থাকা। নেই স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ-অনুযোগও। এবং বিষয়টি যে একধরনের গুপ্ত নির্যাতন তা আমাদের সবারই জানা। জানা থাকা সত্ত্বেও আমরা অভিভাবক হয়েও কিছু করতে পারছি না। আমার যে আরো তিনটি মেয়ে আছে। বড় বোনের ঘর ভাঙার অপবাদ যদি এদেরকে প্রভাবিত করে। সমাজ সংসারের মানুষেরা যদি এই নিরপরাধীদের বহুগামী, ধৈর্যহীনতার পরিচয়ে পরিচিত করে। তাই সব কিছু ভেবে শায়লাকে সর্বসয়া হয়ে দাম্পত্য জীবনে টিকে থাকার লড়াই করে যেতে হচ্ছে। আর এ রকম অনেক কারণ মেনে নিয়েই হয়তো, শায়লার মতো অগণিতদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম এই দেশটি দিনকে দিন অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সুমাইয়া আজাদ। তিনি তার মেয়ে মিতালি প্রসঙ্গে বললেন এ

মা-বাবাকে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রুবা

36232_nari-3

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, পঞ্চগড় : ঠাকুরগাঁও দেবীপুরে বসতবাড়ি রক্ষার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েও বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন কলেজছাত্রী রুবা। 

জিডি ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৫ নম্বর দেবীপুর ইউনিয়নে মৌলভীপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের (৭৫) মেয়ে কলেজছাত্রী রুবা এই মর্মে অভিযোগ করেন যে, তার বাবা বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তার জন্মের পর থেকে সাড়ে ১১ শতক জমির ওপর বাড়ি করে বসবাস করছেন। গত ২৪ জুলাই সকাল ৯টায় বসতবাড়ি মেরামতের জন্য কয়েকজন শ্রমিক লাগিয়েছেন।
এমন সময় চাচাতো ভাই আনিছুর রহমান, বাবা তফিজউদ্দিন এবং তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার, স্বামী আনিছুর রহমান আমাদের বসতবাড়িতে জমি পাবেন বলে কাজের শ্রমিকদের মারধর শুরু করে দিয়ে তাদের কাজের যন্ত্রপাতি নিয়ে যান। এ অবস্থায় রুবা ও তার বৃদ্ধ মা সালেহা (৬৫) কেন শ্রমিকদের মারা হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে, রুবা ও তার বৃদ্ধ মাকে অমানবিকভাবে মারধর করেন আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার। আনিছুরের ভাই আজিজুল ইসলাম তার এ অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে গেলে তারও একটি হাতের আঙুল কেটে দেন আনিছুর।
রুবা বলেন, সেলিনা আক্তার আমার বৃদ্ধ মায়ের চুল ধরে অমানবিকভাবে লাঞ্ছিত করলে আমি এর প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি আমাকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। সাবেক ১৫ নম্বর দেবীপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: নূর ইসলাম বলেন, বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে আমিন নিয়ে এসে স্থানীয় সালিসে প্রমাণিত হয়েছে রুবা আক্তারের বাড়িতে আনিছুর জমি পাবেন না। এর পরও বাড়িঘরে হামলা করে আনিছুর অপরাধ করেছেন বলে মনে করি। রুবার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ছয় মেয়ে, পাঁচটি বিয়ে হয়েছে। আমি অসুস্থ, চলাফেরা করতে পারি না। ছেলে না থাকায় সম্পূর্ণ জবরদখল করার মানসিকতায় আনিছুর আমার সাথে বাড়াবাড়ি করছে। রুবার ভাগিনা রাশেদ (১২) বলে, আনিছুর মামা ও তার স্ত্রী সেলিনা মামী নানাবাড়িতে এসে আমাদের সবাইকে মারধর করছে।
আমি নানাবাড়ি থেকে পড়াশোনা করি। ঘটনার পর আনিছুর ও সেলিনা আক্তার পলাতক রয়েছেন। তার বাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইলে বারবার ফোন করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রুবা আক্তার বলেন, থানায় জিডি ও ইউনিয়ন পরিষদে মামলা করা পরও আনিছুর গং আমাদের বসতবাড়ি দখল করে নেবে, মারধর করবে এবং মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।
মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রভাবশালীদের দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া চেষ্টা করছে। বাধ্য হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় বসতবাড়ি রক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য গত ২৪ এপ্রিল ২০১৪ ইং থানায় একটি জিডি (১১৬৮ নম্বর) করি এবং ইউনিয়ন পরিষদে মামলা করেছি, আইনের আশ্রয় নিয়েছি বলেই আনিছুর-সেলিনার হুমকি-ধমকিতে আমিসহ বৃদ্ধ বাবা-মা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। সদ্য নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, এখনো শপথ হয়নি। শপথ হলেই রুবা আক্তারের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা সরেজমিন তদন্তপূর্বক স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঝরনা (৪০) ও আয়েশাসহ (৪১) এলাকাবাসী রুবা আক্তারের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় আনিছুর-সেলিনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/ ০৮ মে ২০১৪ই

বিয়েবাড়িতে স্কুলছাত্রীর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ

1420140508151018

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, মাদারীপুর : মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর গ্রামে বুধবার রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোড়া হয়। কিন্তু তা গিয়ে লাগে এক ছাত্রীর দেহে। আহত স্কুলছাত্রী সুবর্ণা আক্তারকে (১৩) মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদী গ্রামের রকমান খন্দকারের ছেলে বাদশা খন্দকারের (২৫) সঙ্গে একই উপজেলার মহিষেরচর গ্রামের ইসমাইল খাঁর মেয়ে লিজার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদে বিয়ে ভন্ডুল হয়ে যায়।
এতে বরপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অতর্কিতভাবে কনের বাড়িতে ঢুকে কনেকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। নিক্ষিপ্ত অ্যাসিড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কনের বড় বোনের মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের শরীরের লাগে। এতে সে গুরুতর দগ্ধ হয়। সুবর্ণা মাদারীপুর ডনোভান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সদর উপজেলার মহিষেরচর গ্রামের হাবিবুর রহমান খানের মেয়ে সুবর্ণা।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিয়ে নিয়ে সমস্যা হওয়ায় অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছে বরপক্ষ। আর এতে আমার মেয়ের গায়ে লাগায় তাকে মাদারীপুর হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবু বকর সিদ্দিক জানান, এই ঘটনার খবর পেয়েই মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ হাসপাতালে পরিদর্শনে গেছে। তদন্ত করে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৮ মে ২০১৪.

যৌন হয়রানি রোধে ব্র্যাকের কর্মসূচি

Brack

 

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

 

এসব কর্মসূচির আওতায় রোববার রিকশাপ্লেট প্রচারাভিযান শুরু করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের স্লোগান সম্বলিত স্টিকার রিকশায় লাগিয়ে প্রচারাভিযান করা হয়।

 

মেয়েদের জন্য নিরাপদ নাগরিকত্ব (মেজনিন) এর আয়োজন করে ব্র্যাক। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

মন্ত্রী যৌন হয়রানির মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। তিনি যৌন হয়রানি নির্মূলকরণে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

 

এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, বিআরটিসির চেয়ারম্যান জসীমউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফাতিহা ইয়াসমিন, ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক শীপা হাফিজা উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তারা গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কর্মস্থলকে নারীবান্ধব করতে এবং এ ব্যাপারে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রচারাভিযান উদ্বোধন শেষে ৫০টি রিকশাসহ একটি র‌্যালি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৬মে২০১৪

ত্বকের যত্নে ডাবের পানি

coconut-water

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : আপনার খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্যের দারুণ মিতালী রয়েছে। সঠিক খাদ্য বেছে না নিলে ত্বক রক্ষ ও নিস্প্রাণ হতে সময় লাগে না। তাই সুন্দর ত্বকের জন্য সঠিক খাবার বেছে নিতে হবে।

 

সাধারণত বলা হয় থাকে, ফল ও ফলের রস ত্বকের জন্য ভালো। এড়িয়ে চলুন তৈলাক্ত ও বেশি মসলা দেওয়া খাবার। এ প্রসঙ্গে আরও বলা হয় ত্বকের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হলো কমলার রস। কিন্তু আমাদের অনেকেই ডাবের পানির বিষয়ে সচেতন নন। ডাবের পানি আপনাকে দিতে পারে তারুণ্যদীপ্ত ও উজ্জ্বল ত্বক।

 

সাধারণত পানির পরেই খাঁটি তরলের মধ্যে আসে ডাবের পানির নাম। এটি ত্বকে পর্যাপ্ত পানি যোগান দেয়। যা ত্বককে তরুণ ও কোমল বানিয়ে তোলে। ডাবের পানিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সাইটোকিনিনস ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। পানীয় হিসেবে এর পুষ্টিমান সকলেরই জানা। যদি পেটে সমস্যা দেখা দেয়, তবে ডাবের পানি পান করুন।

 

অন্যান্য ফলের রসের চেয়ে এতে বাড়তি কিছু উপকার রয়েছে। এটি চর্বি ও চিনি মুক্ত। এ ছাড়া আপনার তো জানাই আছে ডাবের পানিতে নিয়মিত মুখ ধুলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

 

ডাবের পানি থেকে পেতে পারেন সবল পেশি, বাড়তি শক্তি, ওজন ক্ষয়, সবল হৃদপিণ্ড, মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে মুক্তি, সবল চুল ও নখ ও কিডনি পরিষ্কারসহ নানা উপকার। তা ছাড়া নারকেল যেহেতু আমাদের দেশি ফল, তাই আমাদের শরীরের জন্য অন্যান্য বিদেশি ফলের চেয়ে বেশি কার্যকর।

 

সুতরাং, দেরি কেন। প্রতিদিন এক গ্লাস করে ডাবের পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। বর্জন করুন শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকারক কোলা ও এনার্জি ড্রিংকস।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৬মে২০১৪

সহজেই তৈরি করুন পাইন্যাপেল আপসাইড ডাউন কেক

Pineapple-Upside-Down-Cake-640x480

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : কত রকমের কেকই না আপনি তৈরি করেন, বেকারি থেকে কিনে খেয়ে থাকেন। নিঃসন্দেহে পাইন্যাপেল আপসাইড ডাউন কেকও খেয়েছেন? আর না খেয়ে থাকলে জেনে রাখুন, এই কেকের মত মজাদার কেক খুব কমই আছে। দারুণ স্বাদের এই কেক খেতে এখন আর বেকারিতে ছুটতে হবে না। তৈরি করতে পারবেন আপনার নিজের রান্নাঘরেই। কীভাবে? আজ আমরা নিয়ে এলাম পাইন্যাপেল আপসাইড ডাউন কেকের সবচাইতে সহজ রেসিপি!

উপকরণ:
আনারসের টুকরা – ৬-৭ পিস ( গোল করে কাটা )
মাখন – ১০০ গ্রাম
চিনি – আধা কাপ
চেরি – ১০-১২ টি
ময়দা – ১০০ গ্রাম
বেকিং পাওডার – ১ চা চামচ
গুঁড়া করা চিনি – ১০০ গ্রাম
ডিম – ২ টি
আনারসের রস – ৩ টেবিল চামচ

individual-pineapple-upside-down-cake-17

 

 

প্রনালি:
-ওভেন ২০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় প্রি–হিট করে রাখুন।
-একটি গোল কেক বেকিং টিনে মাখন মাখিয়ে রাখুন। এর উপরে ও চারপাশে চিনি গুঁড়া ছড়িয়ে দিন।
-এবার আনারসের টুকরাগুলো গোল করে টিনে সাজিয়ে দিন। প্রত্যেক টুকরার মাঝখানে ও চারপাশে চেরি সাজিয়ে দিন।
-এবার একটি পাত্রে ময়দা , মাখন , ডিম , চিনি ও বেকিং পাউডার দিয়ে ভাল করে বিট করে নিন।
-বিট করা হয়ে গেলে এর সাথে আনারসের রস মিশিয়ে দিন , এতে করে মিশ্রণটি একটু পাতলা হবে আর আনারসের ফ্লেভার ও আসবে।

-এবার এই মিশ্রণটি কেক টিনে ঢেলে দিন। প্রি–হিট ওভেনে ৩০ মিনিট বেক করুন।
-৩০ মিনিট পর বের করে কেক ঠাণ্ডা হতে দিন।
-এবার আস্তে আস্তে ছুরি দিয়ে কেকের চারপাশ ছাড়িয়ে একটা প্লেটে কেকটি সাবধানে উল্টে দিন। ব্যাস , তৈরি হয়ে গেল পাইন্যাপেল আপসাইড ডাউন কেক।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৬মে২০১৪.

আম দুধের শরবত (ম্যাংগো শেক)

 

resize_1399017685

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় কেমন ভাল লাগে তা আশা করি এই গরমে বিশদ ব্যাখ্যা করার নাই। খুব সাধারন একটা ঠান্ডা পানীয়ের রেসিপি আজ আপনাদের দেখিয়ে দেব, যাকে আপনারা মিল্ক বা মাঙ্গো শেক বলতে পারেন। আমি বাংলা ভাষায় বলবো, আম দুধের শরবত।

চলুন আজকে আপনি শরবত বানাবেন! ঘরে আম এবং দুধ আছে কিংবা না থাকলে এখুনি নিয়ে আসুন! ফ্রীজে কিছু ঠান্ডা পানি রাখুন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৪মে২০১৪

রাজধানীতে শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের অভিযোগ

অপরাজিতিবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকায় তানিয়া নামের ১২ বছর বয়সী এক শিশু গৃহপরিচারিকার উপর গৃহকর্ত্রী কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু পুলিশ বলছে মেয়েটির শরীরে নির্যাতনের কোনো চিহ্ন নেই। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো নির্যাতন চালালে মেয়েটি সহ্য করতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

উদ্ধারকারী স্বপন নামের এক যুবক জানান, কাদেরাবাদ হাউজিং এর ৩ নম্বর রোডের এক স্থানে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকে শিশু গৃহপরিচারিকা তানিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে গেলে মেয়েটি ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে বলতে শুরু করে “আমি ওই বাসায় আর কাজ করতে যাবনা, তারা আমাকে সব সময় অনেক মারধর করে।”

সূত্র আরো জানায়, মেয়েটি কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের ১ নম্বর রোড়ের ৮ নম্বর বাড়িতে কাজ করতো। উদ্ধারের সময় মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

বাসার গৃহকর্তী ও তার বুয়েটে পড়ুয়া ছোট ভাই শারীরিক নির্যাতন চালাতো বলে অভিযোগ করেছে নির্যাতিতা। মেয়েটির হাতে, পিঠে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয় আরেক উদ্ধারকারী মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পরিক্ষার্থী সজল জানান, মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের কিছুক্ষণ পর গৃহকর্ত্রী এসে মেয়েটির উপর জনসমুক্ষে হামলা চালায়। পরে এ ঘটনায় উপস্থিত লোকজন ক্ষেপে যায়। এ সময় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের মেয়েটিকে উদ্ধার করে গৃহকর্ত্রী ও তার স্বামীকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক  বলেন, ‘মেয়েটির নাম তানিয়া, তার শরীরে নির্যাতনের তেমন কোনো চিহ্ন নেই। মেয়েটি মূলত একটু এবনরমাল। সে ওই বাসার গৃহকর্মী। গৃহকর্ত্রী ও মেয়েটির গ্রামের বাড়ি একই এলাকায় এবং তারা উভয়েই দুসম্পর্কের আত্মীয় হয় বলে জানায় গৃহকর্ত্রী।’
মেয়েটির গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়।

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৩মে২০১৪

লক্ষ্মীপুরে স্ত্রীর গায়ে স্বামীর আগুন

অপরাজিতিবিডি ডটকম, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী জাহিদ হোসেন তার স্ত্রী মিলি মমতাজ মুন্নীর (২৫) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে থানার চর জান্ডালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী জাহিদ হোসেন মিলির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে মিলির সারা শরীর আগুনে পুড়ে যায়।

দগ্ধ মিলিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

 

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৩মে২০১৪

ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়ন্ত্রিত পরিণতি” পর্ব-৪

নাসরিন সিমা :
images

 

নাদিম কার্ডের সাথে মিলিয়ে নিলো হ্যা এই নাম্বারই তো, বাসার নাম “রোজারিও লজ” নাদিমের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো কলিং বেল বাজিয়ে দাড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষণ, উত্তরার ৪ নং সেক্টর এটা। হঠাৎ শক খেয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হলো নাদিমের সে দেখলো, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গেট খুলে গেলো, গেটের কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই পুরোভাগ দেওয়ালের ভেতরে। হা করে তাকিয়ে থাকলো নাদিম, ভেতরে ঢোকার কথা ভুলে গেলো । এবার আরো বিস্মত হলো রাজিবের কন্ঠ শুনে, অথচ রাজিবকে দেখা যাচ্ছেনা। ও বলছে,
-নাদিম ভেতরে এসো,
দ্রুত গতিতে ভেতরে ঢুকলে শুনতে পেলো,
-লিফটের ২ এ এসো।
নাদিম লিফট থেকে নামার সাথে সাথে একটা এলুমিনিয়ামের পাত দেয়ালে ঢুকে গেলো, আর হাসি হাসি মুখ নিয়ে সামনে দাড়ানো রাজিব, নাদিম ঢুকেই অবাক কন্ঠে,
-আরে একেবারে যাদুর মতো ব্যাপার স্যাপার, আমিতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
রাজিব নাদিমের কাঁধে হাত রাখে, কেথাও একটা চাপ দেয়, এলুমিনিয়ামের পাতটি বন্ধ হয়ে যায় । নাদিমকে ভেতরে নিতে নিতে,
– এ আর কী নাদিম,অবশ্য এ সবই যিশুর কৃপা। এসো ভেতরে এসো, এইযে হল রূমটি দেখছো, এতো লোকজন সবাইকে নিয়ে রিলিজিওন কনফারেন্স হবে, এখানে মামা কথা বলবেন।
নাদিম খেয়াল করলো হলরুমটিতে যারা বসে আছে তারা সবাই হাই সোসাইটির লোকজন, পোশাক, চালচলন সবই, রাজিবের দিকে তাকিয়ে দেখলো রাজিবও দামী সাফারী পরেছে, এবার নিজের দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেয়ে গেলো নাদিম, বিষয়টি রাজিবের দৃষ্টিকে এড়াতে পারেনি।
রাজিব নাদিমকে নিজের রুমে নিয়ে গিয়ে ব্লেজার বের করলে,
– সরি আসলে তোমাকেতো আমি কনফারেন্সর কথা বলিনি, দেখো এটা মনে হয় হবে তোমার আমার হাইট তো একই, ফিটিংসেও হয়ে যাবে।
নাদিম মনে মনে বললো,
-তুমি বললেও আমি যা পরে এসেছি এর চেয়ে ভালো কিছু পরে আসা সম্ভব ছিলোনা। এবার লজ্জিত কন্ঠে,
-ঠিক আছে, পরছি।
-হ্যা তুমি পরে নাও তারপর ডিনার সেরে আমরা হলরুমে যাবো।
নাদিম জানেনা রাজিব কেন ওকে ডেকেছে, বাইবেলটা রাজিবের লাইব্রেরি থেকে নেয়া লাইব্রেরী এখানে নয়, ফার্মগেটে, বিভিন্ন্ জায়গায় রাজিব লাইব্রেরী খুলেছে। নাদিম শুনছিলো বাইবেল পড়লেই নাকী মানুষ ধণী হয়ে যায়, তাই নিয়েছে, সে জানেনা এতে সওয়াব হয় নাকী গুণাহ হয়? জানতেও চায়না ওর অনেক টাকা প্রয়োজন,মায়ের সুখের জন্য। কনফারেন্সে ধণী হওয়ার হয়তো লেটেষ্ট উপায় বাতলে দেয়া হবে তাই দ্রত সেখানে যায়।
রাজিবের ওখান থেকে ফিরে নাদিম আরো অন্য মনষ্ক হয়ে গেছে, কোন কাজই ভালো লাগছেনা শুধু রাজিবের মামার কথায় মনে পড়ছে, কী করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। তবুও কাজে মনোযোগ দেয়াটা জরুরী, কারণ কাজ না করলে খাবে কী?

দু দিন পর স্মৃতি আজ আনুর সাথে খুব বেশী কথা বলছেনা, আনু বলছিলো ছেলেটাকে দেখাবে, স্মৃতির এক ফোঁটাও ইচ্ছে নাই দেখার। এক স্যার এসে বিমর্ষ কণ্ঠে বললেন,
-আজ তোমাদের ছুটি, রবিণ স্যারের বাবা মারা গেছেন আমরা ওখানে যাবো।
আনু খুব খুশি হয়, পুরো সময় ও ওর বয় ফ্রেন্ড কে দিতে পারবে। অন্যরা চলে যায় সুফিয়া চৌধুরী এখনও আসেননি তাই বাধ্য হয়ে স্মৃতি বসে থাকে।
আনু ফোনে কিছু একটা বলে, স্মৃতি বরং পড়াতে মনোযোগ দেয়।
স্মৃতি একটু পরেই এক পুরুষ কন্ঠ শুনতে পেলো কিন্তু স্মৃতি পড়া থেকে মাথা উঠালোনা। শূনতে পেলো,
-হাই আনু কেমন আছো?
আনু খুব দ্রুত ছেলেটির কাছে চলে গেলো, বললো,
-ভালো আছি রাজিব, তুমি কেমন আছো? আর দেখো ও স্মৃতি আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। রাজিব স্মৃতিকে লক্ষ করে,
-হ্যালো স্মৃতি কেমন আছেন?
স্মৃতি ইতস্তত দৃষ্টিতে তাকায়, কিন্তু ওর দৃষ্টি ইতস্তত ভঙ্গি কাটিয়ে একদম স্থীর হয়ে যায়, স্মৃতি দৃষ্টি সরাতে কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়।
রাজিব মৃদু হাসে,
-এক্সকিউজ মি, আামি রাজিব।
স্মৃতি দ্রুত মাথা নিচু করে,
– সরি আমি তাসনিয়া চৌধুরী স্মৃতি।
আনু উচ্ছল কন্ঠে,
-বলেছিলামনা স্মৃতি, ওকে দেখলে তুমি চোখ সরাতে পারবেনা? ঠিক বলেছিলামতো?
স্মৃতি খুবই লজ্জিত হয়, আবার আনুর কথা শুনে অবাকও হয়, দুদিন আগের লজ্জিত আনু আর আজকের আনুতে কত তফাৎ যুবকটি কী যাদু জানে! কতোটা নির্লজ্জ ভাবে কথাগুলো বললো।
স্মৃতিকে কিছুক্ষন একা থাকতে হচ্ছে আনু চলে গেছে।
এবার হন্তদন্ত হয়ে স্মৃতির সামনে আসলো নাদিম মৃদু স্বরে,
-এখানে কি রাজিব নামে কেউ এসেছিলো?
স্মৃতি মাথা উচু করে, রাজিবের সাথে এর অনেক মিল, স্মৃতি বললো,
-হ্যা এসেছিলো চলে গেছে। নাদিম তবুও কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকে, স্মৃতির সাথে ওর দৃষ্টি বিনিময় হয়।
কিন্তু পরক্ষনেই নাদিম পেছন ফিরে দৌড়ে চলে যায়, স্মৃতি ওর পথের দিকে অনেকটা সময় ধরে তাকিয়ে থাকে।
নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে, কী হলো আমার? চলবে………

ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়ন্ত্রিত পরিণতি” পর্ব -৩

নাসরিন সিমা :
images

বস্তির দুটো ঘরে টিনের চাল, তবে দেওয়াল প্লাষ্টার করা। একটি ঘরে বসে বাইবেল নিয়ে নাড়াচাড়া করছে এক যুবক, উজ্জল ফর্সা মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি বার বার হাত বুলাচ্ছে মুখমন্ডলে। খুবই ঘাবড়ে যাওয়া মনে হচ্ছে তাকে।
সুঠাম সৌন্দর্যে ভরপুর তার পুরো অবয়ব। হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়ায় ঘেমে একাকার। তবুও বাইবেল থেকে তার দৃষ্টি উঠছেনা, কারো আসার শব্দ শুনে লুকিয়ে ফেললো বাইবেলটি । তারপর উঠে দাড়ালো ড্রেস চেন্জ করার জন্য।
যুবকটির মা এসে অবাক কন্ঠে,
-কীরে এহনও লুঙ্গি পরসনাই?
শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে,
-এইতো মা পরছি, কি করছিলে তুমি?
-ভাত বাইড়া বইসা ছিলাম আয় খাবি।
-ঠিক আছে তুমি যাও আমি আসছি।
চলে যাবার আগে ছেলের কাছে এসে,
-নাদিম, বাবা আমার, তোরে কেমুন অন্যরহম লাগতাছে, কী অইছে তোর?
নাদিম কিছুক্ষন চুপ থাকে, কারণ মাকে সে কিছুই জানাতে চায়না, তাই মৃদু স্বরে,
-কই কিছু না মা তুমি যাও আমি আসছি।
নাদিম মাকে নিয়ে ঢাকা শহরের এই বস্তিতে থাকে। গ্রামে ওদের বাড়ি আছে অনেক জমিও আছে, কিন্তু সবকিছু এখন বড় দুইভাইয়ের দখলে, কৌশলে ওরা হাতিয়ে নিয়েছে। নাদিম আগেই এসেছে ঢাকায়, এসে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। ভাইদের উপরে রাগ করে মাকে ঢাকায় এনেছে, এখন সে মাষ্টার্স পরীক্ষার্থী। প্রায় সারাদিন ধরে টিউশনি আর কোচিং করানোতে ব্যস্ত থাকে। যা আয় হয় তাই দিয়ে নিজে লেখাপড়ার খরচ, সংসার খরচ আর এই দুটো রুমের ভাড়া হয়ে যায় কোনমতে। নাদিম ড্রেস চেন্জ করে ফ্রেশ হয়ে খেতে যায়। মাকে বলে,
-তুমিও নাও মা।
-হ নিতাছি তুই শুরু কর।
-আমি উঠিয়ে নিচ্ছি, তুমি নাও।
নাদিমের মা নুরবানু বেগম প্লেটে খাবার উঠিয়ে নেন।
নাদিম স্থীর কন্ঠে,
-মা আজ রাতে একটু আমি রাজিবের ওখানে যাব, ওর মামা আসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর, দেখা করবো ওনার সাথে।
মুখের খাবার শেষ করেন নুরবানু বেগম,
-কোন রাজিবের কতা কইতাছস?
-ঐ যে মা রাজিব রোজারিও আছেনা ওর মামা, তুমি জানোনা উনি খুব বড় মাপের মানুষ, জার্মান থাকতেন, ফিরেছেন দু বছর আগে।
নুরবানু বেগম অবাক হন একটু ঘিনঘিনে ভাব ফুটে উঠে তার মুখে,
-খ্রিষ্টান নি? হে তোর বন্ধু?
নাদিম হাসে,বলে
তাতে কী হয়েছে? খ্রিষ্টান বলে কি মানুষ নয়? আর ও খুবই ভালো ওর মতো মানুষ আমি দেখিনি, তুমি হয়তো জানোনা মা খ্রিষ্টান মেয়েকে বিয়ে করা যায়।
সপ্তাস্চর্যের কিছু শোনার মতো চমকে ওঠেন,
অর কী বইন আছে?
নাদিম অবাক হয়ে হা করে ওর মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে,
-আরে মা তুমি সেটা বুঝে নিলে নাকী, পারোও তুমি, তোমাকে বুঝানোর জন্য বললাম।
একটু থেমে,
-না ওর বোন নেই, তুমি আবার এই নিয়ে টেনশন করোনা, ও একা কোন ভাই ও নেই। নুরবানু বেগম স্বাভাবিক হলেন, প্লেটের খাবার আনমনে শেষ করলেন, মৃদু স্বরে,
-দেহিস বাবা তুই আমারে কষ্ট দিসনা, তুই যদি কষ্ট দেস তাইলে আমার মরণ ছাড়া উপায় নাই।
নাদিমের দৃষ্টি ছলছলে হয়ে ওঠে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে,
-এভাবে বলোনা মাগো, তুমি ছাড়া আমার কে আছে বলো, তুমিনা থাকলে আমি কী করে থাকবো? চলবে…………

বরগুনায় কিশোরী গৃহকর্মী ধর্ষিত

অপরাজিতাবিডি ডটকম, বরগুনা : জেলার ইটবাড়িয়া যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এক কিশোরী (১৪) গৃহকর্মী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বুধবার রাতে নির্যাতিত কিশোরীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে কিশোরী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম রাজু তাকে পাশবিক নির্যাতন করেছেন। সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের চরকগাছিয়া গাবতলা গ্রামে ওই কিশোরীর বাড়ি।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে ওই কর্মকর্তার বাসায় কাজ করছিল সে।

কিশোরী জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তার শ্লীলতাহানি করে আসছিল। গত সোমবার রাতে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ওই কর্মকর্তা। বরগুনা থানার ওসি আযম খান ফারুকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কিশোরী অভিযোগ করার পরই তারা ওই কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছেন।

এদিকে, বুধবারই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়েছেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/১মে২০১৪

মহিলাদের জন্য বীমা সুবিধা নিয়ে এলো গ্রিন ডেল্টা

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : দেশে প্রথমবারের মতো মহিলাদের জন্য বীমা সুবিধা নিয়ে এসেছে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ‘নিবেদিতা’ নামের এই বিশেষ বীমা পলিসিতে নারীদের দুর্ঘটনায় মৃত্যু, শারীরিক আঘাত, শিশু জন্মকালীন মৃত্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করা হবে। 

গত সোমবার নতুন এই বীমা পলিসির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে কোম্পানির মহাখালীর প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারজানা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৫২ ভাগ নারী হলেও তারা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব নারীর কথা মাথায় রেখেই আমরা এ নতুন পলিসি নিয়ে এসেছি। শুধু ব্যবসায় নয়, নারীদের সহায়তা করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

কোম্পানির উপদেষ্টা নাসির এ চৌধুরী বলেন, এ পলিসিতে কর্মজীবী নারীরা কম টাকায় ইন্স্যুরেন্স করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিথির বক্তব্যে নাট্যাভিনেত্রী শমী কায়সার বলেন, গ্রিন ডেল্টার এ উদ্যোগ সময়োপযোগী। এটি একটি মাইল স্টোন হয়ে থাকবে। দেশের প্রতিটি নারীর কাছে এ সুযোগ পৌঁছে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানানো হয়, এক বছরমেয়াদি এ পলিসিতে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ইন্স্যুরেন্স করা যাবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানির কনসালটেন্ট এ এস এ মুইজ, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ওয়াফি এস এম খান, মিডিয়া অ্যাডভাইজার মুশফিক ফজল আনসারী প্রমুখ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরএ/এ/০১মে২০১৪