banner

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

জেনে নিন নারী সংক্রান্ত আইন পর্ব – ৩

huhe marage

 

বহুবিবাহ

অপরাজিতাবিডি ডটকম : এক স্ত্রীর বর্তমানে আরও স্ত্রী গ্রহণকেই বহুবিবাহ বলে। আমাদের সমাজে এখনও বহুবিবাহ প্রথা প্রচলিত আছে। বহুবিবাহ পরিবারে অশান্তি ও অসম্মান বয়ে আনে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করে। অনেক সন্তানের জন্ম হলে সংসারে অভাব দেখা দিতে পারে, ফলে পরিবারে আসে দারিদ্র।

 

একজন পুরুষ একাধিক বিযে করতে পারে কি?

একজন পুরুষ মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুসারে একই সাথে চারজনের অধিক স্ত্রী গ্রহণ করতে পারবে না। তবে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে কোন মুসলিম পুরুষ যদি একজন স্ত্রী বর্তমান থাকতে আরও বিয়ে করতে চায় তবে সেক্ষেত্রে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সম্মতি সাপেক্ষে ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন সালিশি পরিষদের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু আইনে বহুবিবাহ বিষয়ে কোনো বিধান নেই। ফলে দ্বিতীয় স্ত্রীর গ্রহণে কোনো বাধা নেই। তবে সামাজিক কারণে এক সঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ হিন্দু পরিবারের খুব কমই দেখা যায়।
খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের ক্ষেত্রে এক স্ত্রীর বর্তমানে আর এক স্ত্রী গ্রহণ আইনগত বৈধ নয়। আইনে মহিলাদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। তাই কোন মহিলার স্বামী বর্তমানে থাকলে তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক না দিয়ে আরেকটি বিয়ে করতে পারবে না।

 

দ্বিতীয় বিয়ের প্রক্রিয়া

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ বিধান অনুসারে কোনো পুরুষ যদি এক স্ত্রী বর্তমানে থাকা অবস্থায় অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে চায় তবে সেক্ষেত্রে তাকে সালিশি পরিষদের মাধ্যমে স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি ছাড়া সম্পাদিত কোনো বিয়ে বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪-এর অধীনে রেজিস্ট্রি করা যাবে না। অনুমতির জন্য আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করতে হবে। ঐ আবেদনপত্রের প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ উল্লেখ করতে হবে এবং ঐ আবেদনপত্রের প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ উল্লেখ করতে হবে। বিয়েতে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তাও উল্লেখ থাকতে হবে।
আবেদনপত্র গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবেন এবং ওইভাবে গঠিত সালিশি পরিষদ প্রস্তাবিত বিয়েকে প্রয়োজনীয় এবং ন্যায়সম্মত মনে করলে প্রার্থীকে অনুমতি দিতে পারেন। হিন্দু আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।

 

আইনগত ফলাফল

সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিযে করলে সে বিয়ে ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রিকরণ) আইনের অধীনে রেজিস্ট্রি করা যাবে না।
সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে আদালতে প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত করাদ- বা দশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে স্বামী দ-িত হবে। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হবে না।
বর্তমান স্ত্রী এই কারণ দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।

 

চেয়ারম্যানের দায়িত্ব

কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বিয়ের আবেদন করার পর চেয়ারম্যান দেখবেন, তিনি স্ত্রীর অনুমতি নিয়েছেন কিনা। তিনি আরো দেখবেন, স্ত্রী স্বেচ্ছায় অনুমতি দিয়েছেন কিনা। চেয়ারম্যান এবং সালিশি পরিষদ অযৌক্তিক মনে করলে স্বামীকে দ্বিতীয় বা বহুবিবাহের অনুমতি নাও দিতে পারেন।

 

কাজীর দায়িত্ব

বহুবিবাহের ক্ষেত্রে কাজীর দায়িত্ব হচ্ছে বিয়েটি বরের বহু বিবাহ কিনা তা দেখা এবং সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি আছে কিনা তা দেখা।
আমাদের সমাজে বহুবিবাহ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহুবিবাহের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার নিয়মকানুন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পালন করা হয় না। এই আইনের দু:খজনক দিক হলো বহু বিবাহতে ইচ্ছুক স্বামী সালিশী পরিষদের অনুমতি না পেলে একতরফা তালাক দিয়ে বিয়ে করত পারে। অর্থাৎ ঘুরে ফিরে এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্ত্রীই।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/৩০এপ্রিল,২০১৪

ধারাবাহিক উপন্যাস ‘নিয়ন্ত্রিত পরিণতি’ পর্ব-২

images
 
নাসরিন সিমা : কোচিং শেষ হয়েছে স্মৃতির, বসে বসে ওরা আলোচনা করছে পড়াগুলো নিয়ে । সুফিয়া চৌধুরী এখনও আসেননি, রেগুলার উনি স্মৃতিকে দিয়ে যান আবার নিয়েও যান। স্মৃতির ফ্রেন্ডরা এটা নিয়ে হাসাহাসি করে, দুষ্টুমি করে, স্মৃতি বরং গর্ব করে বলে,

-আরে আমার বাবা মা আমাকে অনেক ভালোবাসে……
হঠাৎ স্মৃতির এক বান্ধবী আনু স্মৃতির হাত ধরে,
– স্মৃতি একটু কথা আছে তোমার সাথে।
স্মৃতির দৃষ্টিতে প্রশ্ন,
-বলো আনু কী বলবে?
-এখানে নয়, বাইরে চলো।
আনু ওকে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে যায়, স্মৃতির ক্লোজ ফ্রেন্ড এই আনুই শুধু নয়, আরও চারজন, ওদের দিকে একবার তাকায় স্মৃতি।
আনুর হাত প্রচন্ড ঠান্ডা, একটু একটু কাঁপছে, আড়াল হয়ে একটা জায়গায় দাড়ায়। স্মৃতি ওর ইতস্তত মুখ দেখে বিস্মিত হয়, কোন প্রশ্ন না করে আনুর কথার জন্য অপেক্ষা করে।
আনুর কন্ঠ কাঁপছে,
-স্মৃতি আমি না একজনকে……
-ইতস্তত করছো কেন আনু? তুমি একজনকে পছন্দ করো তাইতো?
লজ্জিত আনুর মাথাটা নিচু হয়ে যায়, বাবার সরকারি চাকুরির বদৌলতে ছোট বেলা থেকেই আনু ঢাকা শহরে বেড়ে উঠেছে, অথচ এখন আনুকে গ্রাম্য ষোড়শী লজ্জাবতীর মতো মনে হচ্ছে, স্মৃতি অটোমেটিক হেসে ফেললো ভাবলো, প্রথম প্রেমের অনুভূতি হয়তোবা শহুরে সকল যান্ত্রিকতাকে হার মানায়।
আনুর কন্ঠে উচ্ছলতা,
– হ্যা স্মৃতি, গতকাল সে আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে, তুমি একটু আমার সম্মতি ওকে জানিয়ে দাও প্লিজ।
মলিন হয় স্মৃতির মুখটা, একটুক্ষন চুপ থেকে,
-সরি আনু প্রথমত আমি এসব পছন্দ করিনা, কারণ এসবের পরিণিত ভালো হয়না, আমি আমার চাচাতো এক বোনকে দেখেছি, সে এখন পাগল প্রায়। আর দ্বিতীয়ত, এসবের মাঝখানে যে তৃতীয় ব্যাক্তি থাকে তাকে সবচেয়ে আগে দোষী মনে করা হয়, অ হ্যা আরও একটা কথা তোমার আগে ভাবা উচিত, তাকে জানো, তোমার বাবা মা মেনে নিতে পারবেন কী না সে বিষয়টাওতো ভাবতে হবে……
-না আসলে ও আমাকে একদিন সময় দিয়েছিলো।
-একদিনে কী একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যায়, ………
আনু মন খারাপ করে কীনা স্মৃতি বুঝতে পারলোনা, আনু স্মৃতিকে আর কিছু বলতেও দিলনা, যেভাবে হাত ধরে বাইরে নিয়ে এসেছিলো সেভাবেই ভেতরে নিয়ে যায়।
ভেতরে ঢুকেই মাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখো স্মৃতি, দ্রুত মায়ের কাছে যায়,
– সরি মা কখন এসেছো , চলো যাই।

বাসায় ফিরে স্মৃতি ফ্রেশ হয়ে নেয়, আর আনুর ব্যাপারটা নিয়ে ভাবে না জানি কোন বিপথে পা বাড়াতে যাচ্ছে! আনু অনেক ভালো ছা্ত্র। আনুর বাবা মা অনেক কষ্ট করে ওকে পড়াশুনা করাচ্ছে, ওর বাবা সৎভাবে সরকারি চাকুরী করছেন তাই ইনকাম ততোটা নয়।
সুফিয়া চৌধুরী স্মৃতির মাথায় হাত দেন, দু’মিনিট আগেই তিনি এসেছেন মেয়েকে চিন্তামগ্ন দেখে কষ্টই পেয়েছেন বললেন,
-কী ভাবছো স্মৃতি?
বাস্তবে ফিরে এসে,
-কিছুনা মা,
– এসো নাস্তা করে নাও, এখানে দেব?
-না ডাইনিংয়ে যাবো।
খাবার মুখে দিয়ে স্মৃতি,
-বাবা কখন আসবে?
সুফিয়া চৌধুরী চায়ের কাপে চুমুক দেন,
-শুনিনিতো মা, আজ মনে হয় আসবেনা।
স্মৃতির কন্ঠে মলিনতা,
-বাবা শুধুমাত্র আমার জন্য কতো কষ্ট করে বলোতো মা……
কথা কেড়ে নেন সুফিয়া চৌধুরী,
-কষ্ট না করলে টাকা আসবেনা,আর যার টাকা নেই তার মুল্য নেই এই পৃথিবীতে।
স্মৃতি মায়ের এই কথার সাথে কখনো একমত হতে পারেনি কিন্তু কিছু বলেনা, কারণ সে জানে তার মা কোন কষ্ট থেকে কথাগুলো বলছেন।

সন্ধার পর স্মৃতি পড়তে বসে, হঠাৎ ওর মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে, রিসিভ করে কিন্তু কথা বলেনা।
ওপার থেকে খুব গম্ভীর এক পুরুষ কন্ঠ,
-স্মৃতি বলছো?
-জ্বি আপনি কে বলছেন?
-ডেভিড ডি কষ্টা, চিটাগাং থেকে, তোমার মা আছেন?
-জ্বি আছেন,একটু অপেক্ষা করুন প্লিজ।
উঠে মাকে ফোনটা দেয়।
সুফিয়া চৌধুরী মোবাইল নিয়ে হ্যালো হ্যালো বলতে থাকেন, কিন্তু ওপাশের কিছুই শুনতে পাননা, কেটে যায় মোবাইল।
স্মৃতি মায়ের হাত থেকে মোবইল নেয় আর প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
ওর মা বলেন,
-কী জানি কে? কিছুই তো শুনতে পাইনি।
স্মৃতি নিজের রুমে ফিরে আসে।
সুফিয়া চৌধুরী ল্যান্ড লাইনটা একবার চেক করে নিজের মনে কথা বললেন,
-এটার নাম্বারই তো সবাইকে দেয়া, স্মৃতির নাম্বারে ফোন দিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চাইলো কেন? কে এই লোক?

রাত সাড়ে বারোটা, স্মৃতির আজ আর পড়তে ইচ্ছে করছেনা। ডিম লাইট জ্বালিয়ে পাতলা কাঁথা জড়িয়ে নিলো, রিমোট হাতে নিয়ে এসিটা কমিয়ে দিলো। কেবলই শুয়ে পড়লো আর অমনি আনুর কল আসায় খুবই বিরক্ত হয়ে গেলো স্মৃতি। কারণ ও কেন ফোন করেছে সেটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। তবুও রিসিভ করলো,
– বলো আনু কী ব্যাপার?
আনুর কন্ঠ উত্তেজিত, সেই কন্ঠে আনন্দ অতিমাত্রায়, যেন পর্বত শৃঙ্গের চুড়া ছুয়েছে সে,
-আমি ওকে হ্যা বলে দিয়েছি, আমার বাবা মা আমাকে যা দিতে পারেনি তা ও পারবে ও অনেক ধন সম্পদের মালিক, আর ওর কোন ভাই বোন নেই, আর আমারতো কাড়ি কাড়ি ভাইবোন থাকায়……
আ আনু, ওয়েট, শান্ত হও, তুমি কী বলছো বুঝতে পারছো? তুমি বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েছো এতো উত্তেজনা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। আজ বিকেলে তো আমাদের দেখা হচ্ছে তখন শুনবো তুমি বরং এখন ঘুমিয়ে নাও।
মলিন হয়ে গেলো আনুর কন্ঠ,
-তাইনা, আসলে অনেক রাত হয়ে গেছে আমি খেয়াল করিনি, তোমাকে ডিস্টার্ব করলাম সরি! আচ্ছা পরে কথা হবে গুড নাইট। চলবে………

জেনে নিন নারী সংক্রান্ত আইন

marrige_

 

পর্ব ২
বাল্যবিবাহ
অপরাজিতাবিডি ডটকম : ১৯২৯ সালের ১ অক্টোবর ১৯ নং এ্যাক্ট দ্বারা বাল্যবিবাহ নিরোধ কল্পে আইন পাশ করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য। ২১ বছর বয়সের নিচে সকল পুরুষ এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে সকল নারী বিবাহের অনপযুক্তি হিসাবে শিশু বলে গণ্য। বিবাহের যেকোন এক পক্ষ শিশু হলেই বাল্য বিবাহ হিসাবে গণ্য হবে। যে বা যারা এই বিবাহ দিবে তারাও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী।

 

বাল্যবিবাহ কী?

বাংলাদেশের সকল ধর্ম, সম্প্রদায়ের জন্য বিয়ের আইনগত বয়স মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। উল্লিখিত বয়সের কম বয়সী মেয়ে এবং কম বয়সী ছেলে যদি বিয়ে করে বা বিয়ে দেয়া হয় তখন তাকে বলা হয় বাল্যবিবাহ।

বাল্যবিবাহের প্রধান কুফলগুলো কী কী ?

বাল্যবিবাহের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় একজন নারী (কিশোরী)। বাল্যবিবাহের প্রধান কুফল হলো: 

মেয়েরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে, নানা অসুখে আক্রান্ত হয় এবং তাদের স্বাস্থ্য ভেঙে যায়।
বাল্যবিবাাহের ফলে জন্ম নেয়া সন্তান-সন্ততি শারীরিকভাবে পূর্ণতা পায় না। তদুপরি অপুষ্টি এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত খাকার কারণে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ যথাযথভাবে হয় না।
মেয়েরা শারীরিকভাবে এবং মানুসিক নির্যাতনের শিকার হয়।
তালাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
বাল্যবিবাহের কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
শিক্ষার হার কমে যায়।
মেয়েরা মা বাবার কষ্টের বোঝা বাড়ে।

 

বাল্যবিবাহের পরিণতি

কচি বয়সে মা হলে শিশুকে ঠিকমত যতœ করা সম্ভব হয় না। অনেকেই বুকের দুধ কম হয়, তাই বাচ্চা দুধ পায় না। অনেক সময় মা নিজেই পুষ্টির অভাবে, রক্ত কম থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ছেলেমেয়েদেরকে ঠিকমত লেখাপড়া শেখাতে পারে না।

 

শিশুর ওজন কম থাকা

১৮ বছরের কম বয়সী মায়ের বাচ্চা হলে বাচ্চার ওজন কম থাকে। কারণ মার শরীরের গঠন তখনও পরিপূর্ণ হয় না। জন্মের সময় শিশুর ওজন আড়াই কেজির কম হলে এমন শিশু মারা যাওয়ার ভয় বেশি থাকে, আর বেঁচে থাকলেও নানা ধরনের অসুখ হয়, যেমন সর্দি কাশি , ডায়রিয়া নিউমোনিয়া ইত্যাদি । অর্থাৎ অপুষ্ট শিশু সারা জীবন বিভিন্ন অসুখে ভুগতে থাকে। পতিবন্ধী শিশুর জন্মহার বেড়ে যায়।

 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার অভাব

সাধারণত বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বয়স কম হওয়ার ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের ব্যবধানটা বেড়ে যায়। তাদের মধ্যে পারিবারিক জীবনে ব্যাপক মতপার্থক্য ও সমঝোতার অভাব দেখা যায়, এমনকি প্রায়শই সংসারও ভেঙ্গে যায়।

 

বাল্য বিয়ের কি বাতিলযোগ্য

বাল্যবিবাহ আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়েদের বিয়ে বে-আইনী তবে, এই বিয়ে বাতিল হবে না। কিন্তু মেয়ে যখন পূর্ণবয়স্ক হবে অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ করবে তখন সে চাইলে এই বাল্যবিবাহ অস্বীকার করতে পারবে। এজন্য মেয়েকে বিয়ে বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে হবে। আদালত বিয়ে বাতিলের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে দুইটি শর্ত আছে
মেয়েকে ১৮ বছর হওয়ার আগে আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে হবে।
মেয়েকে প্রমাণ করতে হবে যে এই বিয়ে বিবাহকালীন তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি।

 

বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য পিতা-মাতার কী কী শাস্তি হতে পারে?

বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বর-কনের পিতার প্রত্যেকের ১ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা এক হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ই হতে পারে। তবে মহিলাদের জরিমানা হতে পারে কিন্তু জেল হবে না। এই বিয়ে সম্পন্নকারীদের (ইমামা বা কাজী) ক্ষেত্রে উল্লিখিত একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, এই আইনে বাল্যবিবাহ নিষেধ করা হলেও যদি সেই বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়ে যায় তবে তা অবৈধ হবে না।

 

বাল্যবিবাহ দূর করারর উপায়

আইন সম্পর্কে জানা
মেয়েদের ১৮ বছরের আগে এবং ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে হলে যে শাস্তি পেতে হবে এই আইন অনেকেই জানে না। যার ফলে তারা এ সম্বন্ধে না জেনেই ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়।
এ জন্যে সকল ধরনের প্রচার মাধ্যমের দ্বারা বাল্যবিবাহের শাস্তিমূলক আইন সম্পর্কে সকল বয়সের পুরুষ ও মহিলাকে জানাতে হবে। কোন এলাকায় বাল্যবিবাহ হলে সেই এলাকার ইউনিযন পরিষদ পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা সরকার নিয়োজিত কোন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনবেন।

 

জনগণকে সচেতন করে তোলা

বাল্যবিবাহ মেয়েদের শারীরিক ও মানুসিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও অসুবিধা হয় তা বাবা-মা মুরুব্বী, পাড়া-প্রতিবেশী ও অন্যরা জানলে তারা আর অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেবে না।

 

অভাব দূর করার ব্যবস্থা

বেশির ভাগ সময়ে অভাবে পড়েই মা-বাবা তাড়াতাড়ি বিয়ে দেন। নানা রকম-রুজি-রোজগারের উপায় বের করে অভাব দূর করার চেষ্টা করা দরকার। আজকাল অনেক কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের কাজ করার দক্ষতা বাড়িয়েছে এবং বেশকিছু এনজিও ও তাদেরকে ঋণের ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। সেই টাকা ও নিজেদের দক্ষতা দিয়ে তারা পরিবারকে সাথে নিয়ে ঘরে বসে অনেক ধরনের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করেছে। সংসারে আয় বাড়ার ফলে এদের মা-বাবা বাল্যবিবাহের কথা বলে না।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২৩এপ্রিল,২০১৪

 

যে কারনে প্রতিদিন কিসমিস খাবেন

4

অপরাজিতাবিডি ডেস্ক :  কিসমিস আমরা সকলেই খুব ভালো করে চিনি। যে কোনো মিষ্টি খাবারের স্বাদ এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজেই আমরা কিসমিস ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও অনেকে পোলাও, কোরমা এবং অন্যান্য অনেক খাবারে কিসমিস ব্যবহার করেন। রান্নার কাজে ব্যবহার করলেও আমরা কিসমিস সাধারণভাবে খাই না। অনেকেতো ভাবেন এমনি কিসমিস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এই কথাটি আসলে সত্যি নয়।
প্রতিদিন কিসমিস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। আমরা সাধারণত উৎসব বা অনুষ্ঠানের রান্নায় কিসমিস ব্যবহার করি। এছাড়া কেউ কিসমিস খাই না। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনই কিসমিস খাওয়া উচিৎ। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার কার্যকর কিছু কারন।

দেহে শক্তি সরবরাহ করে
যদি দুর্বলতা অনুভব করেন তাহলে দেরি না করে কিছু কিসমিস খেয়ে নিন। কিশমিশে রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ তা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার দেহে এনার্জি সরবরাহ করবে। তবে ডায়বেটিস রোগীদের জন্য কিসমিস প্রযোজ্য নয়।

দাঁত এবং মাড়ির সুরক্ষায় কিসমিস
বাচ্চারা ক্যান্ডি ও চকলেট খেয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু বাচ্চাদের ক্যান্ডি বা চকলেটের পরিবর্তে কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করালে দাঁতের সুরক্ষা হবে। অনেকে ভাবতে পারেন কিশমিসে তো চিনি রয়েছে। কিন্তু চিনি থাকার পাশাপাশি কিশমিসে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাঁধা দেয়।

হাড়ের যত্নে কিসমিস
কিশমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কিশমিসে আরো রয়েছে বোরন নামক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস যা হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্ষয় এবং বাতের ব্যথা থেকে দূরে রাখবে।

ইনফেকশন হতে বাধা প্রদান করে
কিশমিশের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফেমেটরি উপাদান যা কাঁটা ছেড়া বা ক্ষত হতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা দূরে রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
কিশমিশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহের কোষগুলোকে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন হওয়ায় বাধা প্রদান করে। কিশমিসে আরো রয়েছে ক্যাটেচিন যা পলিফেনলিক অ্যাসিড, এটি আমাদের ক্যান্সার মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
কিশমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আমাদের পরিপাকক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/ ২১ ফেব্রুয়ারি২০১৪

নিয়ন্ত্রিত পরিণতি

নাসরিন সিমা

পর্ব ১

বিকালের তাপহীন সুর্যের আলো চারেদিকে মুগ্ধতা ছড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অপূর্ব স্নিগ্ধতার আমেজে মন ভরে যায়। এই সৌন্দর্যকে প্রাণ ভরে উপলব্ধি করা মানবাত্মার প্রকৃতিগত স্বভাব। আর এই উপলব্ধিটা কোন ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। হঠাৎ আনমনে ভাবটা কেটে যায় স্মৃতির, মনে পড়ে প্রতিদিনের কড়া রুটিনের কোন একটি কাজ যেন বাদ পড়ে গেছে। কী সেটা? মনে করতে কিছু সময় পেরিয়ে যায়। দ্রুত ঘড়ির দিকে তাকায়, ৫ টা বাজে। নামাজ, আছরের নামাজ পড়া হয়নি। শুক্রবারের রিলাক্স মুডটা নামাজের ক্ষেত্রেও সমান্তরাল ভুমিকা পালন করছে। বাহ! নিজে নিজে অবাক হয় স্মৃতি, একটা প্রশ্ন জাগে ওর মনে, আমি নামাজকে অবধারিত মনে করি নাকী অন্যান্য কাজকে……… উত্তর পেয়ে যায়। প্রতিদিন আছরের আযানের পাঁচমিনিট আগেই নামাজ পড়ে নিতে হয়, কারন পাঁচটা থেকে মেডিকেলে ভর্তি কোচিং। আজ কোচিং নাই তাই নামাজও……… নিজেই নিজেকে উপহাস করে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান স্মৃতি। বড় ভাই ছিলো ব্লাড ক্যান্সারে মারা গেছে, চিকিৎসার অভাবে, আর ছোট একটা বোন সে আত্মহত্যা করেছে, স্কুলের বই কিনতে না পারায়, স্যার আবার পরপর তিনদিন স্কুল মাঠে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। স্মৃতির বাবা সাইমন চৌধুরীর অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো, দু বেলাও পেট ভরে খাওয়া হতোনা। গ্রামের হাইস্কুল থেকে এস এস সি পাশ করার পর আচানক ওর বাবা বিশাল সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন, সাথে সাথে ঢাকায় ফ্লাট কেনা, গাড়ী কেনা। স্মৃতির এর পর থেকে কোন কিছুই চাইতে হয়নি, না চাইতেই সমস্ত প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়। স্মৃতি জানেনা কিভাবে বাবা এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন, জানতেও চায়না, সে শুধু জানে ওর বাবা মার খুব কষ্ট। স্মৃতি এখন তিনজনের স্নেহ একা উপভোগ করে। স্মৃতি নামাজ শেষ করে বাবার পাশে এসে বসে, আজ অনেকদিন পর সাইমন চৌধুরী বাসায়, কফিতে চুমুক দিয়ে মেয়ের দিকে তাকান, দৃষ্টি তাঁর ঝাপসা। অবাক হয়না স্মৃতি মলিন কন্ঠে বলে,

-বাবা কতদিন পর বিকেলে তেমাকে বাসায় পেয়েছি বলোতো, আর তোমার মন খারাপ, আমি কিন্তু কথা বন্ধ করে দেব। মলিন হাসলেন সাইমন চৌধুরী,

-নিরিবিলি বিশ্রামেই আজ মনটা ভেঙ্গে যাচ্ছে মা……… আচ্ছা বলো তুমি কী খাবে? স্মৃতির মা সুফিয়া চৌধুরী রান্নাঘর থেকে নাস্তা নিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলে রেখে,

– ওর কাছে জানতে চাইছো, বলবে কিছুই খাবনা, ম্যাকারণী রান্না করেছি, আর সাথে আনারসের জুস , তুমি আজ ওকে খাইয়ে দাও। সাইমন চৌধুরী আঙ্গুল দিয়ে মেয়ের চুল এলোমেলো করে দিয়ে, – কী শুনছি এসব, খেতে হবেতো মা, না খেলে শরীরও ঠিক থাকবেনা, পড়াশুনাও ঠিকমতো হবেনা, কতো পড়া এখন তোমার।

-আচ্ছা বাবা ঠিক আছে খাচ্ছি, খুশি? বাবা মা দুজনের দিকে তাকায় স্মৃতি, দুজনের মুখমন্ডলে তৃপ্তির ছাপ স্পষ্ট, ওর মনটাও ভালো হয়ে যায়। বাধ্য শিশুর মতো খেয়ে নেয় আজকের ওরজন্য বরাদ্দকৃত দুটি মেন্যু।

খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন সুফিয়া চৌধুরী, রাতে তার ঘুম হয়না বললেই চলে। মৃত ছেলেমেয়ের স্মৃতি প্রতিনিয়ত তাকে তাড়া করে। তার মনে পড়ে শান্তার (ছোট মেয়ে) কথাগুলো, সে কাঁদছিলো,
-মা বই কবে কিনে দেবে? স্যার আজ দুদিন হয় দাঁড় করিয়ে রাখে আর যা নয় তাই বলে অপমান করে, মা আমি বই না নিয়ে স্কুল যাবোনা। সুফিয়া চৌধুরী সেদিন মেয়েটাকে খুব বকেছিলেন,
-যার বাবার টাকা থাকেনা তাকে জেদ করা মানায়না, কোন কথা নয়, চুপচাপ স্কুল যাও………
শান্তা আর কিছু বলেনি, তৃতীয়দিন বাবার দিকে ছলোছলে দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে স্কুল গিয়েছিলো, ফিরে এসে সবার সাথে দেখা করেছিলো, চাচা,চাচী বন্ধু সবার সাথে। ফিরে এসে ইদুর মারা ঔষধ খেয়ে ছটফট করতে থাকে……
অস্থিরভাবে পায়চারী করেন সুফিয়া চৌধুরী, মনে পড়ে সবুজের(বড় ছেলে) অসহ্য যন্ত্রণার কথা, সেও কাঁদছিলো,
-মা ওমা আমি বাঁচতে চাই, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মাগো, বাবাকে বলো আমার চিকিৎসা করায় যেন, ওমা আমায় বাচাও………মৃত্যুর কোলে আশ্রয় নিয়েছিলো তার পরপরই। রান্না ঘরের দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়ান সুফিয়া চৌধুরী, প্রচন্ড যন্ত্রণা হয় বুকের ভেতরটায়, আজ গ্রামের শ্যামল ছায়ায় ছেলেমেয়ে দুটি মাটির নিচে ঘুমাচ্ছে, কবরগুলোও বছরে একবারের বেশী দেখা হয়না। ঢাকায় এসেছেন স্মৃতির জন্য, ওর যেন কোনকিছুই অপূর্ণ না থাকে। সুফিয়া চৌধুরীর ভেতরটা গুমরে গুমরে কাঁদে, অষ্পষ্ট স্বরে,
-স্মৃতি মা আমার।
ছুটে যান মেয়ের ঘরে। স্মৃতি নিজের মতো করে ওর এই শোবার রুমটি সাজিয়েছে, বেডশীট, পর্দা, ফুল সবকিছু নিজের পছন্দমতো কালার দিয়ে সাজিয়েছে, ওর পছন্দের প্রশংসা করে সবাই। সুফিয়া চৌধুরী থমকে দাড়িয়ে যান, মেয়ে তার ঘুমাচ্ছে। অনেক রাত অব্দি পড়াশুনা করেছে, ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়েছে, ডাকা যাবেনা। ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে মেয়ের কপালে চলে আসা এলোমেলো চুল গুলোকে সযতনে সরিয়ে দেন, প্রাণ ভরে দেখে নেন মেয়ের মুখটি, মেয়েটা অনেক সুন্দর, তিনি মনে করেন স্মৃতির মতো এতো সুন্দর এই পৃথিবীতে আর কেউ নাই।
আবার তিনি রান্নাঘরে ঢোকেন,নাস্তা বানানোর জন্য।
স্মৃতির বাবা খুব ভোরে বেরিয়ে গেছেন তাকে ঢাকার বাইরে যেতে হবে, সুফিয়া চৌধুরী ওসব নিয়ে ভাবেননা, পুরুষ মানুষ বাইরের কাজেই ব্যস্ত থাকবে, ঘরে থাকা তাদের জন্য নয়।

চলবে……

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২১এপ্রিল, ২০১৪

 

জেনে নিন নারী সংক্রান্ত আইন

 

 

পর্ব-১

মুসলিম বিয়ে

অপরাজিতাবিডি ডটকম : মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। অন্যান্য চুক্তির মতোই এখানে দুই পক্ষ থাকে। একপক্ষ প্রস্তাব করে অন্যপক্ষ গ্রহণ করে। তবে, দুজনকেই আইনগত কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যে কোন চুক্তি পালনে যেমন কিছু যোগ্যতার দরকার হয় তেমনি বিয়ের ক্ষেত্রেও কিছু যোগ্যতার দরকার হয়।

মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করা একান্ত আবশ্যক:
১. বয়স : ছেলে ২১ বছর এবং মেয়ে ১৮ বছর।
২. সম্মতি: উভয়ের সম্মতি থাকতে হবে।
৩. সাক্ষী : দুজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের সাক্ষী থাকতে হবে।
৪. দেনমোহর: দেনমোহরানা নির্ধারিত করতে হবে। দেনমোহর কখনো মাফ হয় না এবং পরিশোধ করতে হয়।
৫. নিবন্ধন: বিয়ে অবশ্যই নিবন্ধিত হবে। নিবন্ধন বিয়ের দলিল।

একই বৈঠকে উল্লিখিত শর্তগুলি পালন সাপেক্ষে বিয়ে সম্পাদন হয়। প্রস্তাব দেয়া ও কবুল করা একই বৈঠকে হতে হবে।

বিয়ের আইনগত ফলাফল
বিয়ের ফলে নারী ও পুরুষের কিছু দায়িত্ব ও অধিকার জন্মায়।
১. পরস্পর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
২. স্ত্রী বিবাহিত থাকা অবস্থায় আর একটি বিযে করতে পারে না।
৩. স্ত্রী ও ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের সালিশী বোর্ডেও অনুমতি ও আইনগত শর্ত পূরণ ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে না।
৪. স্বামীর কাছে স্ত্রী দেনমোহর ও ভরণপোষণ পাবার অধিকারী।
৫. স্বামী স্ত্রীর যে সব সন্তান জন্মায় তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
৬. সন্তানের পরিচয় বা সম্পদের মালিকানা নিশ্চিত হয়।

বিয়ে রেজিস্ট্রেশন
বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে বিয়ের দলিল। মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রেশনকে নিকাহ্নামা অথবা কাবিন বলে। কাবিনে বর কনে উভয়ের সাক্ষীরা স্বাক্ষর করেন এবং কাজী স্বাক্ষর করেন। আইনানুযায়ী মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে হিন্দু ও বৌদ্ধদের ক্ষেত্রে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের বিধান নাই। তবে কেউ যদি বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চায় তাহলে তা করতে পারবে।

বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলৈ কী কী সুবিধা পাওয়া যায়
বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে মূলত নারীর অধিকার সবচাইতে বেশি সংরক্ষিত হয়। যেমন :

  • বিয়ের সত্যতা প্রমাণ করা সহজ হয়।
  • বহু বিবাহের সুযোগ কমে যায়।
  • দেনমোহর  আদায় সহজ হয়।
  • কারণে স্বামী তালাক দিলে স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ আদায় সহজ হয়।
  • সন্তানেরা পিতৃ পরিচয় এবং সম্পিত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত হয়।
  • স্বামী বা স্ত্রী যে কোন একজন মারা গেলে অপরজন তার সম্পত্তির বৈধ হিস্যা পাওয়ার সহজতর হয়।

বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করলে কী শাস্তি-
মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রেশন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করলে তিন মাস বিনাশ্রম কারাদ- বা এক হাজার টাক জরিমানা বা উভয়দ- হতে পারে। বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার দায়িত্ব উভযের উপর পরে। তবে ছেলে পক্ষ রেজিস্ট্রেশান খরচ বহন করবেন।
বিয়ে কোথায় রেজিস্ট্রেশন করতে হয় :
মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকার নিযুক্ত কাজী আছে। কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। আবার কাজীকে বিয়ের অনুষ্ঠানে এনেও রেজিস্ট্রেশন করানো যায়। বিয়ের দিন রেজিস্ট্রেশন সম্ভব না হলে ১৫ দিনের মধ্যে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। এবং কাগজটি যত্ন করে রেখে দিতে হবে।

বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য কতো খরচ হয় :
মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে দেনমোহরের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের ফি নির্ধারিত হয়ে থাকে। একটি বিয়ের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বনি¤œ ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০০০ (চার হাজার) টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে ফি কখনো চার হাজার টাকার বেশি হবে না। দেনমোহার প্রতি হাজারে ১০(দশ) টাকা হিসাবে ফি প্রদান করতে হবে। তবে এই হিসাবে ফি যদি চার হাজার টাকার বেশি হয় তাহলে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারিত হবে চার হাজার টাকা। কাজী যদি বিযের অনুষ্ঠানে গিয়ে তার দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার যাতায়াত বাবদ প্রতি মাইলে ১.০০ (এক টাকা) টাকা করে যাতায়াত খরচ দিতে হবে। এছাড়া, প্রতিটি বিয়েতে কমিশন ফি বাবদ কাজী ২৫.০০ (পঁচিশ) টাকা করে পাবেন। ছেলে পক্ষ রেজিস্ট্রেশনের সকল খরচ বহন করবে। রেজিস্ট্রেশন ফি নেয়ার পর কাজী একটি রসীদ দিবেন। কাজী বর ও কনে উভয়কে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশনের সত্যায়িত কপি দিবেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২১এপ্রিল,২০১৪

 

এ্ই গরমে প্রশান্তির তরমুজ

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : কাঠফাটা এই চৈত্রের গরমে তরমুজ প্রশান্তি এনে দেয়। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মিসরে প্রথম আবাদ করা হয় এই রসাল ফলের, কালাহারি মরুভূমি হচ্ছে তরমুজের আদিনিবাস।

তবে এখন বিশ্বজুড়ে প্রায় বারো শ ধরনের তরমুজ আবাদ করা হয়। তরমুজের বিশেষত্ব হলো এর মধ্যে ৯২ শতাংশই পানি, তাই গরমে পানিশূন্যতা রোধে এটি খুবই উপকারী। বাকি ৬ শতাংশ হলো চিনি, কিছুটা রয়েছে খনিজ ও ভিটামিন, কিন্তু চর্বি বা কোলেস্টেরল প্রায় শূন্য।

বেশ ভালো পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ রয়েছে তরমুজে, আরও আছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম।

এগ্রিকালচার ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রি সাময়িকী বলেছে, তরমুজের রসে রয়েছে এল সাইট্রুলিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা দেহে এল আরজিনিনকে পরিবর্তন করে এবং রক্তনালি প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এ কারণে তরমুজ হূৎপিণ্ডের জন্য ভালো। এ ছাড়া এতে আছে লাইকোপিন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। তবে তরমুজে চিনির পরিমাণ একটু বেশি; এর গ্লাইসেমিক সূচক ৭২, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের একটু হিসাব করে খাওয়া উচিত। তা ছাড়া এর ডাইউরেটিক বা প্রস্রাববর্ধক ক্ষমতা আছে, যা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। নিউট্রিশন ফ্যাক্ট।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/২১এপ্রিল, ২০১৪

বাংলা নববর্ষ

 

রবিউল ইসলাম আওলাদ : নতুন উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিবছর আসে বাংলা নববর্ষ। বাংলা নববর্ষ আমাদের আশা-আকাক্সক্ষা আর চেতনার প্রতীক। পহেলা বৈশাখের হাত ধরে নতুন বছরের যে আগমন ঘটে তা সমগ্র জাতিকে নতুন অঙ্গীকার ও চেতনায় জাগিয়ে তোলে। এদিন জেগে উঠে দেশ, জাগে বাংলাদেশের মানুষ। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে বৈশাখের প্রথম দিনটাকে আমরা হাসিমুখে বরণ করি। দেশের মানুষ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটিকে পালন করে। আবহমান কালথেকেই এ দেশের বাঙলা নববর্ষ উদযাপন করার রেওয়াজ চালু আছে।

 

বৈশাখের এই দিনটিতে সারা দেশের মানুষ ফিরে পায় নতুন আস্থা ও বিশ্বাস। ফেলে আসা একটি বছরের কমতি, অপ্রাপ্তিকে দূরে ঠেলে নতুন বছরে এগিয়ে যাবার চেতনা প্রত্যয় সবাইকে উজ্জীবিত করে। এ জন্য পহেলা বৈশাখ আমাদের কাছে অনেক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।

 

 

নববর্ষ নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। এই নববর্ষের আগমন কিভাবে হলো তা নিয়ে কিছু জানা থাকা ভালো। বাংলা নববর্ষের প্রচলন কিন্তু হঠাৎ করে শুরু হয়নি। এর পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস। তবে সংক্ষেপে বলতে গেলে বাংলা সনের শরু হয় ৯৬৩ হিজরি, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ এপ্রিল থেকে। আরবি হিজরি সালের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে জন্ম হয় বাংলা সনের।

 

মোগল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের আগে এখানে হিজরি সনের প্রচলন ছিল। সম্রাট আকবর হিজরি বছরকে সৌর বছরে পরিণত করে নতুন ভাবে গণনা শুরু করেন। তিনি ফসল বোনা ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে এই নতুন সনটি চালু করেন। এই বাংলা সনের উদগাতা ছিলেন আকবরের ‘নওরতন’ সভার সদস্য আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজী।

 

নতুন বছরের উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্টীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগাযোগ। কয়েকটি গ্রামের মানুষ একত্রে মিলিত হয়। কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। মেলাতে থাকে নানা রকম কুঠির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানারকম পিঠা পুলির আয়োজন।

 

এই দিনের একটি পুরনো সংস্কৃতি হলো গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। এর মধ্যে থাকে নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা কিংবা কুস্তির।

 

 

পহেলা বৈশাখ আমাদের গ্রামীণ পরিবেশের এক পুরনো ঐতিহ্য হলেও যুগের আবর্তনে এতে এসেছে বেশ পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলা ঘুরণচরকি, সার্কাস , বায়োস্কোপ ইত্যাদির স্থলে এখন যন্ত্র ও বিদ্যুৎচালিত দোলা, চরকির প্রতিস্থাপন হয়েছে। সার্কাসের স্থলে যাদুপ্রদর্শন , টেলিভিশনে নাটক সিনেমা ইত্যাদি দেখানোর আয়োজন করা হচ্ছে।

 

শহরে নগরে বাংলা নববর্ষ এখন একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এদিনে শহরের লোকজন বিশেষ করে ছেলেমেয়েরা নববর্ষের জন্য নানা আঙ্গিকের তৈরি পোশাক পরিধান করে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরে সরকার ও নানা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বের করা হয় শোভাযাত্রার। এতে হাজার হাজার মানুষ বিশেষ করে কিশোরকিশোরীরা অংশগ্রহণ করে। এসব মিছিলের বড় একটি বিষয় হলো নানা রঙের পোস্টার ও বিচিত্র মুখোষ। এই মুখোশগুলো সাধারণত মাছ, কুকুর বিড়াল, হাতি সাপ, বাঘ সিংহ মহিষ, বানর ইত্যাদি জন্তু জানোয়ারের মুখোচ্ছবি অনুকরণের তৈরি । তা ছাড়া যুবক যুবতীরা অনেকে মুখে ছাই-কালি মেখে অদ্ভুদ পোশাকে সজ্জিত হয়ে জঙ্গিরুপ ধারণ করে। নববর্ষে শহরের মানুষের অন্যতম আকর্ষন পান্তা আর ইলিশ মাছ।

 

সাম্প্রতিককালে পান্তা-ইলিশ পহেলা বৈশাখের উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে এখন শহুরে নব্যধনিক ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মাতামাতির শেষ নেই। ফলে পহেলা বৈশাখের দিন এখন শহরের অলিগলি, রাজপথ, পার্ক, রেস্তোরা, সর্বত্রই বিক্রি হয় পান্তা-ইলিশ।

 

এমনকি এখন অভিজাত হোটেলগুলোতেও শুরু হয়েছে পান্তা-ইলিশ বিক্রি এবং এই পান্তা -ইলিশ খাওয়া এখন এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু আবহমানকাল থেকেই পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এই পান্তা-ইলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা শহুরে নব্য বাঙালিদের আবিষ্কার। এর মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক এবং সাহিত্যিকরা।

 

 

বলা দরকার পহেলা বৈশাখ এদেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য আনন্দঘন একটি দিন। এটি খুশির উৎসব প্রাণের মেলা। নতুন দিনের শপথে আগামীর পথ চলার একটি বিশেষ চেতনার দিন পহেলা বৈশাখ।

 

অথচ আজকাল এদিনটি উৎসবের অনুষ্ঠানের আধিক্য নীতি-নৈতিকতার বিপরীতে বাড়াবাড়ি, অশ্লীলতা ও নগ্নতা পর্যবসিত হয়েছে। নববর্ষের উৎসব এক সময় হৃদয় আবেগের যে উচ্ছ্বাস ও প্রীতিময় আন্তরিকতা ছিল তা এখন কৃত্রিমতা ও হৃদয়হীন আচার অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নাগরিক সভ্যতার যান্ত্রিক আগ্রাসন চাকচিক্য ও বাড়াবাড়ি নববর্ষের মুল চেতনাকে উদ্দেশ্যহীন করে তুলেছে। নববর্ষ আমাদের জাতীয় ঐক্য ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবির দিন হলেও এখন তা হিন্দি কনসার্ট ও বিজাতীয় আদলে সাজানো এক দিকশুন্য মেলায় পরিণত হয়েছে। এসব ব্যত্যয় ও নীতিভ্রষ্টতা বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতিকে পতনের দিকে পরিচালিত করছে বলে সুশীল সমাজের আশঙ্কা। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা আশা করি, আমাদের নতুন প্রজন্ম এমন কোন কাজে গা ভাসিয়ে দেবে না, যার কারণে এই জাতির সৌন্দর্য , রীতি ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাবার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

বৈশাখ যেমন আনন্দ বয়ে আনে তেমনি বৈশাখের রয়েছে আরেকটি ভয়ঙ্কর রুপ। এ সময় প্রকৃতি রুদ্ররুপ পরিগ্রহ করে। কালবৈশাখীর ঝড় অনেক সময় দেশের জন্য বয়ে আনে সীমাহীন কষ্ট। ঝড়ের তা-ব দেশের অনেক এলাকায় ধ্বংসলীলা ডেকে আনে।

 

আমরা পহেলা বৈশাখকে প্রাণঢালা অভিবাদন জানাই। আমরা চাই এই বৈশাখ আমাদের নতুনভাবে জাগিয়ে তুলুক। একটি গৌরবান্বিত স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উচু করে দাড়াবার সাহস ও শক্তির উৎস হোক-এই নববর্ষ। পহেলা বেশাখ হোক প্রেমের গৌরব ও মহত্বের সৌরভে তাৎপর্যময়। নববর্ষ নির্ভিক চিত্তের গৌরবে উদ্ভাসিত হোক এটাই আমাদের কামনা। বাংলা নববর্ষ তোমাকে জানাই শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৮এপ্রিল, ২০১৪

রসনায় পয়লা বৈশাখ

 

সা বি রা সু ল তা না : কয়েক দশক আগ থেকে পয়লা বৈশাখে পান্তাভাত, ইলিশ ভাজা ও বিভিন্ন ভর্তাসহযোগে খাওয়ার প্রচলন ব্যাপকভাবে শুরু হয়। এর আগেও বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হতো।

 

সব খাবারের মধ্যে মূলত মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া ও আপ্যায়নে ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন জায়গার নামকরা মিষ্টি অনেকেই আনাতেন অতিথি আপ্যায়নের জন্য। যেমন জামতলার রসগোল্লা, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, মুক্তাগাছার মণ্ডা এরকমের দেশের বিভিন্ন জায়গার প্রসিদ্ধ মিষ্টি অনেকেই ব্যবস্থা করতেন। মূলত হালখাতা অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য ব্যবসায়ীরা এসব মিষ্টির ব্যবস্থা করতেন। অতিথি আপ্যায়ন ছাড়াও আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের মধ্যেও মিষ্টি বিতরণ করার রীতি ছিল।

 

এ ছাড়া বাড়িতে রান্না করা হতো বিভিন্ন ধরনের পায়েস, পিঠা, নাড়–, হালুয়া প্রভৃতি।

 

 

বৈশাখের প্রথম দিনে মেলা বসত। সেই মেলায় মাটির তৈরি অনেক খেলনা বিক্রি হতো। তার সাথে দেশীয় খাবার, খই, মুড়ি, মুড়কি, জিলেপি, তিলের খাজা, মুরালি, চিঁড়ার মোয়া, মুড়ির মোয়া থেকে শুরু করে আরো অনেক ধরনের খাবার বিক্রয় হতো, যেগুলো একেবারে আমাদের গ্রামবাংলার নিজস্ব খাবার হিসেবে পরিচিত ছিল।

 

এই মেলায় আরো একটি খাবার বেশ উল্লেখযোগ্য ছিল। সেটি হলো চিনির খেলনা। অর্থাৎ চিনি দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বানানো হতো হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, পাখি, শাপলা প্রভৃতি। এগুলো এ মেলার একটা বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত ছিল।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়েছে নতুন উদ্যোমে। পান্তাভাত আর ইলিশ ভাজার প্রচলনও শুরু হয়েছে তখন থেকেই। সময়ের সাথে সাথে এই রেওয়াজ এখন বেশ পাকাপোক্ত হয়ে গেছে। এখন পয়লা বৈশাখ মানেই পান্তাভাত আর ইলিশ ভাজা থাকতে হবে। সেই সাথে যোগ হয়েছে নানা রকম ভর্তা। শুঁটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা, কাঁচকলা ভর্তা, লাউপাতা ভর্তা, টমেটো ভর্তা, বেগুন, সর্ষে ভর্তা, কালোজিরার ভর্তার এভাবে ভর্তার একটা দীর্ঘ তালিকা তৈরি করাই যায়। বছরের অন্য সময়গুলোতে ভর্তা তেমন খাওয়া না হলেও এ দিনটিতে বাঙালি বেশ উৎসাহ নিয়েই ভর্তা খেয়ে থাকে।

 

তবে পয়লা বৈশাখে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইলিশ মাছ। ইলিশ ছাড়া যেন এখন আর পয়লা বৈশাখ উদযাপন ভাবাই যায় না। সময়ের সাথে সাথে ইলিশ খাওয়ায়ও এসেছে বৈচিত্র্য। শুধু ভাজা দিয়ে এখন আর না। সেই সাথে যোগ হয়েছে সর্ষে ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, ভাপা ইলিশ, ইলিশ পোলাও আরো কত কী। ইলিশের এত পদ বাঙালির রসনাকে নতুনা করে পরিতৃপ্ত করে।

 

আধুনিক সময়ে পয়লা বৈশাখে খাবারের তালিকা বেশ দীর্ঘ হয়েছে। বাঙালির প্রাচীন রান্নার অনেক খাবার নতুন করে এখন বেশ প্রচলিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমডাল, আম-তেঁতুলের শরবত, আমের ভর্তা, চিঁড়ার নাড়–, তিলের নাড়–, গুড়ের সন্দেশ, পায়েস, তরমুজের ঠাণ্ডা, সবজি নিরামিষ, সর্ষে ইলিশ, আমের লাচ্ছি, কাঁচা আমের সালাদ, লাউপাতার ভর্তা, কাঁচা আম, বাতাসি চচ্চড়ি, চালের চচ্চড়ি, সজনে ডাল, লাউয়ের খাট্টা আরো অনেক কিছু। পয়লা বৈশাখ আরেক আকর্ষণ কাঁচা আম। কাঁচা আম দিয়ে নানা রকমের খাবার খাওয়া হয় বৈশাখের প্রথম দিনটিতে।

 

সেই সাথে নানা রকম মিষ্টি ও মিষ্টি খাবারও যোগ হয় নববর্ষে উদযাপনের খাবারের তালিকায়। বাংলার প্রাচীন খাবারের ঐতিহ্য নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই উদযাপিত হয় আমাদের বাংলা নববর্ষ, পয়লা বৈশাখ।

 

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/১৮এপ্রিল,২০১৪

সিলেটে পানির জন্য মহিলাদের সড়ক অবরোধ

http://www.sheershanews.com/assets/images/news_images/2014/04/16/index_33095.jpg

অপরাজিতাবিডি ডটকম, সিলেট : সিলেট নগরীতে খাবার পানির জন্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মহিলারা। অবরোধের খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের পানি বিভাগের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে তারাও তোপের মুখে পড়েন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নগরীর কাস্টঘরে এ অবরোধের ঘটনা ঘটে। অবরোধকালে কাস্টঘর-মহাজনপট্টি রাস্তায় যানজট দেখা দেয়।

অবরোধকারীদের একজন মঈনুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ঊষা রাণী পাল জানান, গত প্রায় তিন মাস ধরে কাস্টঘর এলাকার লোকজন পানির জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের পানির লাইন থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির লাইনম্যান শাহেদ আহমদ কাস্টঘরের লোকজনের জন্য বরাদ্দকৃত পানির গাড়ি এনে পার্শ্ববর্তী হোটেল ও মার্কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন সিটি করপোরেশনকে অবগত করলেও কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

এদিকে, অবরোধের খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম ও সিটি করপোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন জামাল কাস্টঘরে যান। তারা অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলে বিক্ষুব্ধ নারীরা আরো ক্ষেপে যান।

একসময় কাউন্সিলর ও নির্বাহী প্রকৌশলী নারীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে পানি সরবরাহের আশ্বাস দিলে লোকজন অবরোধ তুলে নেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টায় আনসার কমান্ডার গ্রেফতার

Rape

অপরাজিতাবিডি ডটকম,বরগুনা : আনসার বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার আবদুল খবিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বুধবার সকালে বরগুনার সোনিয়া সিনেমা হল সংলগ্ন একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বরগুনা থানার ওসি আজম খান ফারুকী জানান, শিশুটি তার মায়ের সাথে নানার বাসায় বেড়াতে এসেছিল। সকালে আবদুল খবির ওই শিশুকে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।  এ ব্যাপারে বরগুনা থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

ফুলবাড়ীতে গৃহবধূর আত্মহত্যা

attohotta logo

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে সাহেরা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  সাহেরা বেগম পূর্ব রাবাইতারী গ্রামের আঃ হাকিম মিয়ার স্ত্রী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চার সন্তানের জননী সাহেরা স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করছিল। হাকিম তার স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। তখন থেকেই তার উপর পাশবিক নির্যাতন শুরু হয়। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বুধবার ভোর রাতে গৃহবধূ শোয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে ময়না তদন্ত ছাড়া বুধবার দুপুরে স্বামীর বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সে প্রকৃতপক্ষেই অত্মহত্যা করেছে। তাই ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

তাহিরপুরে নারী নির্যাতনের অভিযোগ

অপরাজিতাবিডি ডটকম, সুনামগঞ্জ : স্বামী পরিত্যক্তা এক অসহায় নারীকে মদ্যপ অবস্থায় অমানসিক নির্যাতন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এলাকায় বিচার না পাওয়ায় অবশেষে সুবিচারের আশায় বুধবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতিত ওই নারী। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের খালা শ্রীপুর গ্রামে।

জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী শিবরামপুর গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে সুয়েব মিয়া ও তার সহযোগী একই গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে আতাবুর মিয়া একাধিক মামলার আসামি। মঙ্গলবার রাতে এ দু’জন মাতাল অবস্থায় অভিযোগকারী নারীর ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালালে তার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করে। কয়েকদিন আগে একইভাবে ওই নারীর মাকেও লাঞ্ছিত করে অভিযুক্ত দু’জন। তাহিরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জিয়াউল হক জানান, তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

ভান্ডারিয়ায় মাঠ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

http://www.sheershanews.com/assets/images/news_images/2014/04/16/59_33106.jpg

অপরাজিতাবিডি ডটকম, পিরোজপুর : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরী ইউনিয়নের উত্তর বোথলা গ্রাম থেকে পুলিশ বুধবার সকালে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে।

ইকরী ইউনিয়নের ১নং বোথলা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন বলেন, সকালে এলাকাবাসী মাঠে কাজ করতে গেলে বোরকা পরিহিত লাশটি দেখতে পায়। পরে আমাকে খবর দিলে আমি সেখানে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।

ভান্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল জানান, ধারণা করা হচ্ছে তিন থেকে চারদিন আগে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল একই উপজেলার পশ্চিম গোলবুনিয়া গ্রাম থেকে নবী হোসেন নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

তাহিরপুরে এসিড পানে গৃহবধূর মৃত্যু

http://www.sheershanews.com/assets/images/news_images/2014/04/16/sunamgonj-map_33133.jpg

অপরাজিতাবিডি ডটকম, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে এসিড পান করে রুমা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে।

বুধবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুমা আক্তার বড়দল গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী।

এলাকাসী সূত্রে জানা যায়, সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে অভিমান করে সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি থেকে এসিড নিয়ে তা পান করে রুমা। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বড়দল গ্রামের ইউপি সদস্য সামায়ুন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

সোনারগাঁওয়ে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যা

http://www.sheershanews.com/assets/images/news_images/2014/04/16/index_33132.jpg

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, সোনারগাঁও : সোনগাঁওয়ে নাছরিন আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার ভোরে উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ নাছরিনের মা শান্তনা বেগম জানায়, উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে আরিফের সাথে প্রায় চার বছর পূর্বে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের চরসন্দেস গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে নাছরিনকে নগদ দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেয়া হয়। এরপরেও স্বামী আরিফ ও তার বাবা-মা আরো দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে নাছরিনের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বুধবার ভোরে তারা নাছরিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজায়। তবে ঘটনার পরপরই গৃহবধূর স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক জানায়, গৃহবধূ নাছরিনের লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

শ্রীনগর ইউপি ভবন থেকে নারী চৌকিদারের লাশ উদ্ধার

http://www.sheershanews.com/assets/images/news_images/2014/04/16/index_33169.jpg

অপরাজিতাবিডি ডটকম, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ থেকে এক নারী চৌকিদারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে পারভীন বেগম (৩৫) নামে ওই চৌকিদারের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত পারভীন একই উপজেলার কেয়টখালী গ্রামের আশরাফ আলীর স্ত্রী। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনার পর থেকে ওই ইউনিয়নের  অপর চৌকিদার লাল মিয়া পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনার সাথে লাল মিয়া জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

পুঠিয়ায় স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর পুলিশ

http://www.sheershanews.com/assets/images/news_images/2014/04/16/images_33168.jpg

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, রাজশাহী : রাজশাহীর পুঠিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক স্কুলছাত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় পুঠিয়ার জিউপাড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ওইদিন বান্ধবীদের সাথে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুঠিয়ার রাজবাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলো ওই স্কুলছাত্রী।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী একই এলাকার বাসিন্দা। সে ঝলমলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী বাদি হয়ে পুঠিয়া থানায় স্থানীয় চার মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও তাদের গ্রেফতারে গড়িমসি করছে পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন, স্থানীয় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জিউপাড়া গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে পলান, মোজাহারের ছেলে হান্নান, আব্বাস আলীর ছেলে কুরবান আলী ও  মালেক নামের আরো একজন।

অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পুলিশ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে থানায় মামলা দায়ের করায় বুধবার ঝলমলিয়া বাজারে ওই ছাত্রীর চাচাকে মারপিট করেছে ধর্ষক ও তাদের লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাশবিকতার শিকার স্কুল ছাত্রীর পারিবার জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বান্ধবীদের সঙ্গে পুঠিয়া রাজবাড়ির মাঠে অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফিরছিলো। পথে বান্ধবীরা নিজ নিজ বাড়ি  ফিরে  গেলে সে একা হয়ে যায়।

এসময় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা চার মাদক ব্যবসায়ী ওই স্কুল ছাত্রীকে মুখে কাপড় বেঁধে পাশের একটি ভুট্টার ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই ছাত্রীর আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে। সেখানে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকেই তিরস্কার করে গ্রাম্য মাতবররা। একই সঙ্গে এ নিয়ে থানায় মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকতেও চাপ দেয় তারা। পরে ওই দিনই সন্ধ্যায় থানায় মামলা দেয় ওই ছাত্রী।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়দা খান জানান, ঘটনাটি গণধর্ষণ বা ধর্ষণ নয়, ধর্ষণ চেষ্টা। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে। জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই ছাত্রীকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

এছাড়া আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ওসি।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

পেশি শক্তিশালী করবে সবুজ টমেটো

http://admin.newspage24.com/upload_pic/2014/April/resize_1397641646.jpg

অপরাজিতাবিডি ডটকম : টমেটোর অনেক গুণ। খাবারেও রয়েছে টমেটোর বিচিত্র ব্যবহার। বলা হয়ে থাকে অনেক ক্ষেত্রে আপেলের চেয়ে বেশি উপকারী গুণ রয়েছে টমেটোর। তবে এসব শোনা যায় লাল বা পাকা টমেটোর ক্ষেত্রে।

কিন্তু সবুজ টমটোরও রয়েছে বিস্ময়কর শক্তি। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সবুজ টমেটো খেলে শারীরিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বেশি কাজ করে মজবুত পেশি গঠনে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় বলা হয়, লাল টমেটো যেখানে খাবারে স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে সবুজ টমেটো শুধু স্বাদ বাড়ায় না, সঙ্গে শরীরের পেশি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে৷ পেশিকে শক্তিশালী করে তোলে৷

গবেষণায় বলা হয়, সবুজ টমেটো থেকে শরীরের কোনো অংশের পেশি যদি দুঘর্টনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সে অংশও নিরাময় করতে সবুজ টমেটো বেশ উপকারী।

লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রেও সবুজ টমেটোর জুড়ি মেলা ভার।তবে সেক্ষেত্রে সবুজ টমেটো খাওয়ার রয়েছে বিশেষ নিয়ম।

গবেষণায় দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়, ভাল করে ধুয়ে, কাঁচা খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। অথবা সালাদ তৈরি করেও খাওয়া যেতে পারে।

প্রয়োজনে সেদ্ধ বা রান্না করা তরকারির মধ্যেও ব্যবহার করতে পারেন এই টমেটো৷

যেখানে লাল টমেটো ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি করে, সেখানে ইউরিক অ্যাসিডের অসুবিধা দূর করতে উপকারী এই সবুজ টমেটো।

ইউরিক এসিড অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে যাদের কিডনীতে সমস্যা রয়েছে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড তাদের জন্য ক্ষতিকর। সবুজ টমেটো অতিরিক্ত ইউরিক এসিড প্রতিরোধে বেশি উপকারী।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

নিম পাতার শত গুণ

http://admin.newspage24.com/upload_pic/2014/April/resize_1397448740.png

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : কথাসাহিত্যিক বনফুলের ‘নিম গাছ’ পড়া হয়েছে সেই কবে। তখন শুধু নিম গাছ নিয়ে একজন লেখকের বহুদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিই জানা হয়েছে। জানা হয়নি ঔষধি গাছ হিসেবে নিম গাছের গুনাগুণ। আসুন, নিম গাছের কিছু গুনের কথা জেনে নেই।

– মুখে ব্রণের সমস্যা থাকলে নিম পাতা বেঁটে ব্রণে লাগিয়ে দিন। জাদুর মতো কাজ হবে।

– অ্যালার্জির সমস্যায় নিম পাতা ফুটিয়ে গোসল করুন। অ্যালার্জি যাবে ১০০ হাত দূরে। তাছাড়া কাঁচা হলুদ ও নিম পাতা একসাথে বেঁটে শরীরে লাগান। অ্যালার্জি কমবেই।

– বাচ্চাদের কৃমির সমস্যা থাকলে পানির সাথে ৫-১০ ফোঁটা নিম পাতার রস মিশিয়ে খালি পেটে খাইয়ে দিন। আর বড়রা এক চা চামচ রস পর পর ৪/৫ দিন সকাল-বিকাল খান। কৃমি নির্বংশ হবে।

– মাথায় খোস পাচড়া হলে নিম পাতা ফুটিয়ে সেই পাতা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

– চোখে ভাইরাসের আক্রমণ হলে কচি নিম পাতার ১ ফোঁটা রস চোখে দিন। একটু জ্বালা-পোড়া হলেও ৩ দিনেই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবেন। ব্যবহার করতে হবে প্রতিদিন ১২ ঘন্টা পর পর।

– ১০টি নিম পাতা ও ৫টি গোল মরিচ একসাথে সকালে খালি পেটে খেয়ে ফেলুন। ডায়াবেটিস দৌড়ে পালাবে।

– জন্ডিস হলে এক চামচ রসের সাথে একটু মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খান। পুরোপুরি নিরাময় হতে এক সপ্তাহ চালিয়ে যেতে হবে।

তাহলে এবার নিম পাতা সংগ্রহে নেমে পড়ুন। রোগ- বালাই থাকুক নিরাপদ দূরত্বে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

খাবার হিসেবে সালাদ

http://imgcdn.priyo.com/201311/chefsalad1.jpg

অপরাজিতাবিডি ডটকম : সালাদের কদর আমাদের খাবার টেবিলে সেই অনেক দিন থেকেই। একটু ভাল রান্না হলে বাঙ্গালীর খাবার টেবিলে সালাদ হবেই। প্রধান খাবারের পাশাপাশি খালি সালাদ খাওয়ার গুরুত্ব কিন্তু কম নয়। দেহের মেদ ঝড়াতে ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে সালাদের জুড়ি নেই। কয়েকটি সালাদের রেসিপি পাঠকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হলো-

স্টাফ এগ সালাদ
উপকরণ : সিদ্ধ চিকেন কিমা ১ কাপ, ধনে পাতা ১ টে. চামচ, শসা কুচি ১ কাপ, লবণ পরিমাণ মতো, ডিম ৪টি, টমেটো ২টি, মেয়োনিজ পরিমাণ মতো।

প্রণালি : চিকেন সাদা গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। ডিম সিদ্ধ করে নিন। শসা কুচি করে নিন। টমেটো কুচি করে নিন। ডিম সিদ্ধ কেটে ২ ভাগ করে নিন। কুসুম বের করে নিন। এবার চিকেন কিমা, শসা কুচি, ডিমের কুসুম মেয়োনিজ টমেটো কুচি করে এক সঙ্গে মেখে নিন। এবার ডিমের সাদা অংশের ভেতরে স্টাফিং ভরে নিন। তৈরি হয়ে গেল স্টাফ এগ সালাদ।

http://bengalirecipes4u.files.wordpress.com/2012/05/pudina-salad-251011-p-alo.jpg?w=645

পুদিনা সালাদ
উপকরণ : আপেল ছোট চাক করে কাটা আধা কাপ, গাজর ছোট চাক করে কাটা আধা কাপ, শসা ছোট চাক করে কাটা আধা কাপ, টমেটো ছোট চাক করে কাটা সিকি কাপ, টক দই ১ কাপ ফেটানো, পুদিনাপাতা বাটা ২ টেবিল-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল-চামচ, বিট লবণ ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি আধা চা-চামচ।

প্রণালি: টক দই, পুদিনাবাটা, গোলমরিচ, বিট লবণ, লবণ ও চিনি একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণে একে একে আপেল, গাজর, শসা, টমেটো মিলিয়ে নিন।

http://www.amarrecipe.com/wp-content/uploads/2014/03/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6.jpg

ফল, সবজি ও ছোলার সালাদ
উপকরণ : ছোলা পৌনে ১ কাপ, যেকোনো সবজি টুকরা আধা কাপ, বিটলবণ আধা চা চামচ, শসা ১ টেবিল চামচ, আনারস আধা কাপ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা চামচ, খেজুর আধা কাপ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, আলু সিদ্ধ ৩টি, ডালিম পরিমাণমতো, নাশপাতি ১টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালী : ছোলা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে অল্প সিদ্ধ করে নিন। আনারস, খেজুর, আলু সিদ্ধ, নাশপাতি চারকোনা করে কাটুন। সবজি হালকা লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। এরপর ছোলা, সবজি ও ফলের সঙ্গে বিটলবণ, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, লবণ, লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করুন।

মিষ্টি দইয়ে মাংসের সালাদ

উপকরণ : হাড় ছাড়া গরুর মাংস সেদ্ধ এক কাপ, ক্যাপসিকাম তিন রঙের তিনটি, কাঁচা মরিচকুচি ২ টেবিল-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, শসা ১টা, গাজর ১টা, পেঁয়াজ ১টি বড়, মিষ্টি দই পরিমাণমতো ও গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ।

প্রণালি: প্রথমে মাংস সেদ্ধ করে লম্বা করে কেটে নিন বা ছিঁড়ে নিন। এবার ক্যাপসিকাম, শসা, পেঁয়াজ, গাজর লম্বা করে কেটে সব একসঙ্গে মেশাতে হবে। এবার কাঁচা মরিচকুচি, লবণ, গোলমরিচ ও মিষ্টি দই দিয়ে পরিবেশন করুন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

দই ইলিশ

http://admin.newspage24.com/upload_pic/2014/January/resize_1390452447.jpg

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : ইলিশের নামে লোভ হয় না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। বিশেষ করে পদ্মার তৈলাক্ত ইলিশ মানেই যেন অমৃত। ভাজা,ভুনা,ঝোল কিংবা সরষে ইলিশ তো অনেক খাওয়া হলো। এখন হয়ে যাক ভিন্নধর্মী একটি খাবার “দই ইলিশ”! ভাতের পাতে এক টুকরো দই ইলিশ মানেই দারুণ একটা ভুঁড়িভোজ নিঃসন্দেহে। মুখে দিলে গলে যাবে মাখনের মতন,স্বাদ জিভে লেগে থাকবে অনেকক্ষণ।

আসুন জেনে নেই দারুণ রেসিপিটি।

https://lh4.googleusercontent.com/-9_rKUt82KOE/UjacNLVubCI/AAAAAAAACYU/Sq_5gSYd0FQ/w880-h495-no/P1210106.JPG

উপকরণ :
ইলিশ ১টা, (এক কেজি ওজনের)
সয়াবিন তেল হাফ কাপ,
পেঁয়াজ বাটা হাফ কাপ,
পেঁয়াজ কুঁচি হাফ কাপ,
হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ,
মরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ (না দিলেই হবে)
ধনে গুঁড়ো ২ চা চামচ,
ভাজা জিরার গুঁড়ো হাফ চা চামচ,
আদা বাটা হাফ চা চামচ,
লবণ পরিমাণ মত।
টক বা মিষ্টি দই হাফ কাপ
কাঁচা মরিচ- স্বাদমত

https://lh4.googleusercontent.com/-9_rKUt82KOE/UjacNLVubCI/AAAAAAAACYU/Sq_5gSYd0FQ/w880-h495-no/P1210106.JPG

প্রণালী :
• -ইলিশ মাছের বড় টুকরা করে নিতে হবে।
• -কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ দিতে হবে। পেঁয়াজ একটু ভেজে জিরা ও দই বাদে বাকি সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন।
• -অল্প পানি দিয়ে দই ভালো করে ফেটিয়ে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ কষিয়ে ১ কাপ পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করতে হবে।
• – দই ভালো করে রান্না হয়ে তেলের উপরে উঠে এলে মাছের টুকরাগুলো বিছিয়ে দিন। চাইলে অল্প পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।
• -মাঝখানে ঢাকনা খুলে মাছ উল্টিয়ে কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে নিন। টক দই হলে সামান্য চিনি দিন। মৃদু আঁচে রেখে ভুনা করে চুলা থেকে নামান।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

নখের যত্ন

http://admin.newspage24.com/upload_pic/2014/March/resize_1394204713.jpg

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : এ সময়ে নখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো আর্দ্রতার ওঠানামা। একটু ঠান্ডা আবহাওয়ায় পানি কমই খাওয়া হয়। চেষ্টা করুন দিনে অন্তত আট গ্লাস পানি পান করে দেহের আর্দ্রতা ধরে রাখতে।

 

বাসনকোসন ধোয়ার আগে হাতে গ্লাভস পরে নেওয়াই ভালো, নইলে নখ ভেঙে বা বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে .নখ, সেই সঙ্গে চুলও তার উজ্জ্বলতা হারাতে পারে। তাই ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করাই ভালো। সারা দিনের কাজ শেষে কুসুম গরম পানিতে পাঁচ মিনিট নখ ডুবিয়ে রাখুন। হাতের ত্বকের সঙ্গে নখও ভালো থাকবে।

 

ভালো মানের কিউটিকল অয়েল দিয়ে নখ ম্যাসাজ করুন প্রতিদিন। নিজেই দেখতে পাবেন, কীভাবে আপনার নখ দিন দিন মসৃণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন কয়েক ফোঁটা কিউটিকল অয়েলের সঙ্গে একটুখানি পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে নখ ম্যাসাজ করুন। কিউটিকল অয়েল না পেলে অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।

 

সপ্তাহে এক দিন রাতে নখে পুরু করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ম্যাসাজ করে সুতির হাতমোজা পরে ঘুমাতে যান। নখ ভঙ্গুর হয়ে গেলে সঠিকভাবে নখ ফাইল করা জরুরি, সে ক্ষেত্রে ধাতব ফাইলার ব্যবহার না করাই ভালো। নখ সব সময় একই দিকে ফাইল করুন, নইলে তা ভেঙে যেতে পারে। ভেজা অবস্থায়, বিশেষত গোসলের পরপরই নখ ফাইল করবেন না। এ সময়ে নখ নরম থাকে বলে অনেকেই নখ কাটতে এই সময়কে বেছে নেন। কিন্তু এতে নখে চিড় ধরতে পারে এবং ভেঙে যেতে পারে।

কিছুদিনের জন্য নেইলপলিশ থেকে ছুটি নিন। সব সময় নেইলপলিশ ব্যবহারে নখের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর অবশ্যই ভালো মানের নেইলপলিশ ব্যবহার করুন। সস্তা নেইলপলিশে সিসা-জাতীয় পদার্থ বেশি থাকায় তা ব্যবহারে নখ শুষ্ক হয়ে যায়। নেইলপলিশ দেওয়ার মধ্যে দুদিন বিরতি নিন। এতে অ্যাসিটোন-জাতীয় উপাদান আছে কি না দেখুন; থাকলে তা এড়িয়ে যান।

বাইরে থেকে যতই নখের যত্ন করি না কেন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না দিলে তো আর চলবে না। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন এ এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত শীতকালীন খাবার রাখুন। পালংশাক, মিষ্টি আলু, গাজর, ডিম, মিষ্টিকুমড়া, ব্রকলি ইত্যাদি রাখুন। প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস খেলেও উপকার পাবেন।

 

অনেক সময় নখের চারপাশের চামড়া কুঁচকে থাকে এবং কিউটিকল উঠে যেতে থাকে। এমন হলেই কিউটিকলগুলো পুরো অপসারণ করবেন না। এতে নখের ভালোর চেয়ে মন্দই হবে বেশি। তার চেয়ে কিউটিকল অয়েল বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে পুশার দিয়ে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারেন।

 

বাড়িতে সপ্তাহে এক দিন অন্তত ১০ মিনিট নখের যত্ন নিন। কুসম গরম পানিতে শ্যাম্পু আর একটুখানি সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে নখ ভিজিয়ে রাখুন পাঁচ মিনিট। তারপরে ব্রাশ করে ত্বকের মরা চামড়া তুলে ফেলুন অথবা স্ক্রাবার থাকলে সেটা দিয়ে স্ক্রাব করুন। নখের চারপাশের কিউটিকলগুলো ঠেলে দিয়ে হাত ধুয়ে লাগিয়ে নিন ভালো মানের হ্যান্ড ময়েশ্চারাইজার অথবা নারকেল তেল।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

খাঁটি মধু যেভাবে চিনবেন

http://admin.newspage24.com/upload_pic/2014/April/resize_1397448276.png

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে মধু আনতে পারলে তবেই এর আসল-নকল নিয়ে কোন সন্দেহে ভুগবেন না আপনি। কিন্তু আপনার পক্ষে কী মৌচাক থেকে সব সময় মধু সংগ্রহ করা সম্ভব? অনেকের পক্ষেই এটা সম্ভব না। তাই সবচেয়ে ভাল উপায়, কিছু সহজ পরীক্ষা জেনে নেওয়া। যার মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন- আপনার কেনা মধু খাঁটি, না কি ভেজাল।

খাঁটি মধুতে কখনো পিঁপড়া ধরে না। জেনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই? অবাক হওয়ার কিছু নেই। মধুর আসল-নকল নির্ধারণ করতে এক টুকরো কাগজে অল্প একটু মধু লাগিয়ে যেখানে পিঁপড়া আছে সেখানে রেখে দিন। তারপর অপেক্ষা করতে থাকুন। মধুতে যদি পিঁপড়া ধরে তাহলে বুঝে নেবেন আপনার কেনা মধুতে ভেজাল আছে।

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় খাঁটি মধু কখনো জমে না। তাই মধুর আসল-নকল পার্থক্য করতে এ পরীক্ষাটাও করতে পারেন। মধু ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। ভেজাল মধু হলে এটা জমে যাবে। আর না জমলেও ভেজাল মধুর নিচে জমাট তলানি পড়বে।

এক গ্লাস পানিতে এক চামচ পরিমাণ মধু দিন। তারপর আস্তে আস্তে গ্লাসটি নাড়া দিন। মধু পানির সাথে মিশে গেলে নিশ্চিতভাবেই সেটা ভেজাল মধু। আর মধু যদি ছোট ছোট পিণ্ডের আকারে গ্লাসের পানিতে ছড়িয়ে যায়, তাহলে সেটা খাঁটি মধু।

পরিষ্কার সাদা কাপড়ে অল্প একটু মধু লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। একটু পর কাপড়টি ধুয়ে ফেলুন। কাপড়ে দাগ থেকে গেলে বুঝতে হবে এই মধু নকল। আর কাপড়ে দাগ না থাকলে সেটা খাঁটি মধু।

আশা করি ছোট্ট এই টিপসগুলো আপনাকে ‘সকল রোগের মহৌষধ’ হিসেবে পরিচিত খাঁটি মধু চিনতে অনেকটাই সাহায্য করবে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬এপ্রিল,২০১৪

লিপস্টিকে ক্যানসার

অপরাজিতাবিডি ডটকম : মহিলারা সাজবেন আর লিপস্টিক মাখবেন না তাও কি হয়? এযে মহিলাদের এক অত্যন্ত জরুরি প্রসাধনী৷ সে কারণেই প্রত্যেকটি মহিলার পার্সের অন্দরে লিপস্টিকের অবাধ বিচরন৷ কিন্তু জানেনকি আপনার এই সাধের লিপস্টিকই হতে পারে প্রাণঘাতী ক্যানসারের কারণ? সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য৷

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা অকল্যান্ডের ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী ১২ জন মেয়ের ব্যবহৃত লিপস্টিক ও লিপগ্লসের নাম ও ব্যান্ড সম্পর্কে জানেন এবং এদের নমুনা সংগ্রহ করেন৷

গবেষকেরা দেখেন এই লিপস্টক গুলিতে শিশা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও অন্য আরো ৫টি ক্ষতিকর উপাদান অবস্থিত যা মানব দেহে ক্যানসার সৃষ্টি করতে সক্ষম৷ গবেষকেরা জানান, প্রায় সব লিপস্টিকেই এই ধরনের উপাদান কম বেশি মাত্রায় রয়েছে৷ লিপস্টিক ঠোঁটে ব্যবহার করা হলেও মুখে চলে যায় ফলে এর থেকে ক্যানসারের সম্ভবনা থাকে৷

সম্প্রতি এই গবেষণাটি এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারসপেকটিভ নামক এক সরকারি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে৷– ওয়েবসাইট

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১৬ এপ্রিল, ২০১৪

নারীদের সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে : খায়রুল হক

nari

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন, দেশের সংবিধান ও আইন নারীদের নিরাপত্তা দিচ্ছে, তারপরও নারীরা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিচারক, প্রশাসন, আইনজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব একথা বলেন।

খায়রুল হক বলেন,‘মেয়েদের সবচেয়ে বড় শত্রু মেয়েরাই। মা  ছেলেকে দেন মুরগির রান আর মেয়েকে দেন মুরগির ডানা। নির্যাতনের শিকার নারী স্বামীকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চান না।’

তিনি নারীদের সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং সাহস নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। বর্তমানে নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আইনি সমস্যার চেয়েও সামাজিক সমস্যাকে বেশি দায়ী বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে এতে মূল বক্তব্য পড়ে শোনান পরিষদের সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম। এতে আরো অংশ নেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ-আল-মালুম, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির জাতীয় উপদেষ্টা (টেকনিক্যাল) শরীফ আখতারুজ্জামান, এটিএন নিউজের নিউজ এডিটর (আউটপুট) প্রণব সাহা প্রমুখ।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিানাধ/আরএ/এ/১৩ এপ্রিল, ২০১৪

রাজধানীতে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

attohotta logo

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানী গোড়ান টেম্পুস্টান্ডে সীমা আক্তার (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সে খিলগাঁও আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার পিতা শামসুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। রাত সাড়ে ১০ টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিানাধ/আরএ/এ/১৩ এপ্রিল, ২০১৪

রাজধানীতে পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

attohotta logo

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা: রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বেগুনবাড়ি এলাকায় মুক্তা (১৮) নামের এক পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, মুক্তার স্বামীর নাম রাজু ওরফে রতন। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী রায়পুরার শিবগ্রাপুরে। তারা বর্তমানে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল বেগুনবাড়ি এলাকার ৩৭/১/এফ নম্বর বাড়ির ৪র্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। মুক্তা ওই এলাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করতেন।

নিহতের প্রতিবেশীরা জানায়, শনিবার দুপুর দেড়টায় মুক্তা বাসার দরজা বন্ধ করে। পরে এক প্রতিবেশী তার কিছুক্ষণ পরে তাকে ডাক দিয়ে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে রুমের ফ্যানের লোহার রডের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই মাসুদ রানা লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়।

এসআই মাসুদ রানা জানান, আত্মহত্যার কারণ এখনো জানা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিানাধ/আরএ/এ/১৩ এপ্রিল, ২০১৪

রাজধানীতে গৃহপরিচারীকার লাশ উদ্ধার

lash

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানী রমনার সখিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে সালমা সাজেদা (২৪) নামে এক গৃহপরিচারীকার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, সালমা সফিকুঞ্জ আ/এ এর ৬/এ নম্বর ফ্লাটের ৩৯৭/২ নম্বর মিজানুর রহমানের বাসায় কাজ করতো। সেখানেই স্বামী মিজানুর রহমানকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

রমনা থানার এসআই শাহ মোজাহিদুল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সালমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা কিনা তা জানা যায়নি।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত সালমা যশোরের কোতোয়ালী থানার ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিানাধ/আরএ/এ/১৩ এপ্রিল, ২০১৪

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে নারী

oggan party

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে রহিমা (৫০) নামের এক নারী পথচারী অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। পরে অচেতন অবস্থায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। রোববার সন্ধ্যা সোয়া পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মনোজ শীর্ষ নিউজকে জানান, মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী এলাকা থেকে সন্ধ্যা পৌঁনে ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রহিমার স্বামীর নাম আকবর হোসেন। তিনি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জের ভিক্ষাখালী এলাকার বাসিন্দা।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিানাধ/আরএ/এ/১৩ এপ্রিল, ২০১৪

বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যা

bis

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে সাগরিকা (২৪) নামে এক গৃহবধূ। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জহরেরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

রোববার সকালে লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

 

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী উত্তম বিশ্বাসের সাথে সাগরিকার কলহ চলে আসছিল। এর জের ধরে সাগরিকা ঘরে রাখা বিষ পান করে। পরে পরিবারের লোকজন সাগরিকাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিানাধ/আরএ/এ/১৩ এপ্রিল, ২০১৪

অগ্নিদগ্ধ হয়ে দাদী-নাতনী নিহত

mritu

অপরাজিতাবিডি ডটকম, জামালপুর : দেওয়ানগঞ্জের তিলকপুর কাউনিয়ার চরে রোববার ভোররাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে দাদী ও নাতনী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।

দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ জানান, তিলকপুর কাউনিয়ার চর গ্রামের আফছার আলীর বাড়ির রান্না ঘরের চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় আফছার আলীর বৃদ্ধা স্ত্রী জরিনা বেগম ও তার নাতনী ১০ বছরের সাজিনা অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়। আগুন নিভাতে গিয়ে স্থানীয় পাঁচজন আহত হয়েছে। পুড়ে গেছে ছয়টি ঘর, ঘরের আসবাবপত্র, ধানচাল, নগদ টাকা, তিনটি গরু ও দু’টি ছাগল।

এদিকে, রোববার সকালে জামালপুর শহরের বেলটিয়া এলাকায় একটি স-মিলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে প্রায় ৯ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/প্রতিানাধ/আরএ/এ/১৩ এপ্রিল, ২০১৪

বৈশাখি সাজ

boishakhi-style1অপরাজিতাবিডি ডটকম : একেইতো গরম তার উপর বৈশাখের প্রথম দিন বাইরেই সময় কাটে বেশি। তাই সাজসজ্জা হতে এমন, যাতে সহজে নষ্ট না হয়।

পহেলা বৈশাখের সাজ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আকাঙ্ক্ষ’স বিউটি পার্লারের রূপবিশেষজ্ঞ জুলিয়া আজাদ।

পহেলা বৈশাখ প্রত্যেক বাঙালির উৎসব। লাল-সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে নিজেকে নতুন করে ফিরে পাওয়া। শাড়ি পরার পর এই উৎসবের দিনে সব মেয়েই সুন্দর করে সাজতে পছন্দ করেন।

জবড়জং নয়, খুবই হাল্কা সাজ হলেই ভালো। বাংলা নববর্ষে নিজের কোমলভাব ফুটিয়ে তুলতে কয়েকদিন আগে থেকেই চর্চা শুরু করুন।

শরীরের দুষিত পদার্থ বের করতে পানির প্রয়োজন। পাশাপাশি গরমের সময় ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধি করে আর মুখে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয় পানি। তাই পহেলা বৈশাখের আগে থেকেই বেশি পানি পান করুন।

তবে বিভিন্ন রোগের কারণে যারা ডাক্তারের পরামর্শে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করেন, তারা সেভাবেই খাবেন।

বাইরে বেড়াতে গেলে চোখে কাজল বা আইলাইনার আর ঠোঁটে লিপস্টিকই যথেষ্ট। তবে কোনো ঘরোয়া উৎসবে চলতে পারে হালকা সাজ।

পহেলা বৈশাখের আগেরদিন অবশ্যই ত্বকের ধরন বুঝে ফেইশল করতে পারলে ভালো। সম্ভব না হলে এক্সফলিয়েট করে নিন অথবা ফেইশল মাস্ক লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ভালো করে  ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মালিশ করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

সাধারণত পহেলা বৈশাখের উৎসবগুলো দিনের বেলায় হয়। তাই বেশি ভারী সাজ কখনোই ভালো লাগবে না। আবার একেবারে সাদামাটা মেইকআপও মানানসই হবে না।

মেইকআপ করার আগে সান্সক্রিন লোশান লাগিয়ে একটু অপেক্ষা করুন। তারপর ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রেখে খুবই যতœ নিয়ে মেইকআপের বেইস করুন। একটু সময় নিয়ে ভালো করে ত্বকে মিশে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এই বেইস মেইকআপ যত ভালোভাবে ব্লেন্ডিং করবেন তত বেশি স্বাভাবিক লাগবে আপনাকে।

এরপর ট্রান্সলুসেন্ট বেইস পাফ করে নিন। ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার না থাকে তবে ফেইস পাউডার এক্সট্রা করে পাফ করে নিন। এরপর অল্প পানি স্প্রে করুন পুরো মুখে। এখন পাফ দিয়ে পাউডার ভালোভাবে মিলিয়ে নিন ত্বকে।
bbbbbbbbb
যখন দেখবেন মুখে পাউডার বোঝা যাচ্ছে না তখন বুঝবেন ঠিকভাবে মেশান হয়ে গেছে। মনে হবে এটাই আপনার স্বাভাবিক ত্বক। পানি স্প্রে করে নিলে সারাদিনে ঘামে মেইকআপ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক দিন। তবে বৈশাখের প্রথম দিনে লাল ঠোঁট সবসময়-ই সুন্দর। তাই লাল লিপস্টিকও সাজে পূর্ণতা আনবে।

চোখের উপরের অংশে হালকা সোনালি আইশ্যাডো দিন। ভালো করে চোখের উপরের ত্বকের সঙ্গে মিশিয়ে এর উপর বাদামি আইশ্যাডো দিয়ে চোখের আকৃতি অনুযায়ী লাগান। এরপর আইলাইনার মাসকারা।

এই দিনে চাইলে আইশ্যাডো ছাড়াই চোখে বাদামি কাজল দিয়ে আউটলাইন করুন। তাহলে দেখতে অনেক বেশি স্বাভাবিক লাগবে। মাসকারা অবশ্যই লাগাবেন, নয়তো চোখ আকর্ষণীয় লাগবে না।

এরপর খুব অল্প পরিমাণে ব্লাসন দিয়ে চিকবোন হাইলাইট করুন।

চুল নিয়ে বেশি কিছু না করাই ভালো। হাতখোঁপায় ফুল দিন। অথবা একদিকে সিঁথি আর বেণী করেও ফুল লাগাতে।

সবই তো হল, টিপ-ই বা বাকি থাকে কেন! একটি লাল গোল টিপে সাজ হবে পূর্ণ। সুন্দর করে তুলি দিয়ে এঁকেও একটা মাননসই টিপ পরে নিতে পারেন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/১২এপ্রিল,২০১৪

সৃজনশীল ক্যারিয়ার গড়তে

carrieeer

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম, ঢাকা :  শিক্ষার ব্যপ্তি আজ বিশাল পরিসর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। একটা সময় ছিল যখন মানুষ শিক্ষার মানেই ভাবত পড়ালেখা শেষ করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা শিক্ষক হবে। কিন্তু শিক্ষা এখন শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন মানুষ ব্যবসা করার জন্যও শিক্ষা গ্রহণ করছে, আবার ঠিকমতো বিমান চালানোর জন্যও শিক্ষা গ্রহণ করছে। ঠিক তেমনি শিক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডিজাইনের উপর পড়ালেখা—তা হতে পারে বিল্ডিং ডিজাইন অথবা ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ড্রেস ডিজাইন বা ফ্যাশন ডিজাইন নিয়েও পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে এখন।

 

সময়ের এই চাহিদা মাথায় রেখেই সুনির্িদষ্টভাবে ডিজাইন বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের জন্য স্থপতি আলমগীর জলিল ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের প্রথম ডিজাইন ইনস্টিটিউট ইন্সপিরেশন ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি। ইতোমধ্যে ইন্সপিরেশন ইনস্টিটিউট পার করেছে সফলতার ১৫টি বছর। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ফ্যশন ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর শিক্ষা প্রদান করা হয়। কেউ চাইলে উচ্চ মাধ্যমিক বা এ-লেভেল শেষ করার পর ৩ বছর মেয়াদি বিএ ইন ইন্টেরিয়র আর্কিটেকচার কোর্সে ভর্তি হতে পারে। কোর্স শেষে লিমককউইং ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, মালয়েশিয়ার অধীনে সার্িটফিকেট প্রদান করা হয়। সাথে আছে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ। প্রতিষ্ঠানটি লিমককউইং ইউনিভার্িসটির সরাসরি এজেন্ট হিসেবেও কাজ করছে। তাই যে কেউ চাইলে ইন্সপিরেশন ইনস্টিটিউটের সহায়তায় লিমককউইং ইউনিভার্সিটিতেও যেকোনো বিষয়ে ভর্তি হতে পারেন। এ ছাড়া ইন্সপিরেশন ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ অ্যান্ড আই এলায়েন্সের অধীনে ফ্যাশন, ইন্টেরিয়র এবং গ্রাফিক্সের উপর ৬ মাস/১ বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স অফার করছে। ৯৮৯৫১৮৩, ০১৭১১০০৫৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এখানকার বিভিন্ন কোর্স এবং অন্যান্য তথ্য বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ইন্সপিরেশন ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য নেই কোনো বয়সের সীমা। এখানে যেকোনো বয়সের, যেকোনো পেশার মানুষ ভর্তি হয়ে গ্রহণ করতে পারেন আধুনিক শিক্ষা। আর তার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও অর্জন করতে পারেন। এখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আর্কিটেকচার অথবা ইন্টেরিয়র ফার্ম, ফার্নিচার কোম্পানি, বিজ্ঞাপন সংস্থা, ফ্যাশন হাউস ছাড়াও আরও অনেক ন্যাশনাল ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগদানের সুযোগ পাবেন। নিজে নিজেও কেউ চাইলে স্বতন্ত্র পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন ফ্যাশন, ইন্টেরিয়র অথবা গ্রাফিক্স ডিজাইনকে।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/০৮ এপ্রিল, ২০১৪.

ভারতে পাচারের সময় বেনাপোলে তরুণী উদ্ধার

pachar 

অপরাজিতবিডি ডটকম, যশোর : মডেলিংয়ের চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা টুম্পা নামে (১৮) এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ‘মৌ’ নামের বেনাপোলের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় আব্দুল হাই ব্যাপারী (৪২) নামের এক পাচারকারীকেও আটক করে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত টুম্পা ফরিদপুর জেলার শিবচর থানার আব্দুল মালেকের মেয়ে। আর আটক পাচারকারী আব্দুল হাই ব্যাপারী মাদারীপুর পুরান বাজার গ্রামের আজিজ ব্যাপারীর ছেলে। বর্তমানে সে এ পি পশ্চিম যাত্রাবাড়ি এলাকায় বসবাস করে।

বেনাপোল বন্দর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদে জানা যায়, ‘মৌ’ আবাসিক হোটেলে একটি তরুণীকে ভারতে পাচারের জন্য এনে রাখা হয়েছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে সকালে হোটেলে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার ও পাচারকারীকে আটক করা করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পাচারকারীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো জানায়, উদ্ধারকৃত তরুণীকে জবানবন্দীর জন্য যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া তরুণী টুম্পা জানান, তার বাড়ি ফরিদপুরে। তারা ঢাকার যাত্রাবাড়ি থাকে। দুই মাস আগে পাচারকারী আব্দুল হাইয়ের সাথে তার পরিচয়। সে তাকে প্রায় সময় অনেক বেতনে মডেলিং এর চাকুরী দেয়ার কথা বলতো। রবিবার বিকেলে মোবাইল করে তার চাকুরী হয়ে গেছে বলে বাড়ি থেকে গাবতলী নিয়ে আসে। সেখান থেকে রাতে একটি বাসে করে সোমবার বেনাপোল নিয়ে আসে। ভারতে পাচারের লাইন খারাপ থাকায় বেনাপোল ‘মৌ’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে তাকে রাখা হয়। তাকে ভারতে পাচারের জন্য এখানে এনে রাখে বলে মেয়েটি জানায়। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয় বলে মেয়েটি থানায় জবানবন্দি দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

অপরাজিতবিডি ডটকম/আরআই/এ/০৮ এপ্রিল, ২০১৪.

স্বপ্ন পুরণে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে অদম্য শোভা

timthumb.php

অপরাজিতবিডি ডটকম, রংপুর : পুরো নাম আম্মিয়া আক্তার শোভা। সবাই তাকে শোভা নামেই চিনে, নামে শোভা হলে কি হবে! সৃষ্টিকর্তা তাকে জন্ম থেকেই দুই পা সম্পুর্ন অকেজো করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লী শ্যামপুর গ্রামে জন্ম নেয় শোভা। যে বয়সে তার খেলাধুলা, হৈ হুল্লোড় করার কথা সেই বয়সে অনেকটা নি:সঙ্গ হয়ে চার দেয়ালের মাঝেই অনেকটা সময় পেরিয়েছে। শারিরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জীবনে একটুকু সুখের আশায় একটার পর একটা বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

অস্বচ্ছল পরিবারে ২ ভাই ১ বোনের সংসারে বাবা আনিছার রহমানই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।  স্কুলের পিয়ন পদে চাকুরীর সামান্য মাইনে দিয়ে অতিকষ্টে সংসারের ঘানি টেনে চলছে শোভার বাবা আনিছার রহমান। পেশায় গৃহীনি মা দুলালি বেগম মেয়েকে নিয়ে সারাক্ষনই দু:চিন্তায় থাকেন।

শোভার জন্মের পর থেকেই বাবা-মা দুজনেই চিন্তায় পড়েন। পায়ে হেঁটে পথ চলা ব্যাতিত শারিরিক সুস্থ্যতায় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেন শোভা। পাড়ার অন্যসব ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া দেখে কেঁদে উঠতো শোভার মন। বাবা-মার কাছে পড়াশুনার ইচ্ছা প্রকাশ করলে চলাফেরার সমস্যার প্রসঙ্গ এনে প্রথমে বাধা দিলেও পরে আপত্তি করেননি।

সুযোগ পেয়ে শোভা হাতের উপর ভর করে অর্ধকিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত শুরু করে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রতিবেশিরা শোভার আগ্রহ দেখে উৎসাহ দিতে থাকে। এক সময়ে ৫ম শ্রেণী পাশ করে শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকে জিপিএ ৩.৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করে উচ্চ শিক্ষায় খালাশপীর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়। পড়াশুনা করতে প্রায়ই দুই হাতে সান্ডেল পড়ে হাতের উপর ভর দিয়ে কলেজে যাতায়াতে দেখা যেত শোভাকে। এ নিয়ে কৌতুহল  মানুষের সংখ্যাও কম ছিলনা। সে সময় শোভার চলাফেরায় সাহায্যের হাত বাড়ান কলেজ কর্তৃপক্ষ। এলাকার সমাজসেবক মিজানুর রহমান শাহিন চেয়ারম্যানের সহায়তায় কলেজ কর্তৃপক্ষ শোভার হাতে একটি হুইল চেয়ার তুলে দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় আ’লীগের নেতাদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ হাজার টাকার একটি অনুদানের চেকও পান। কলেজ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার পাবার কথা থাকলেও শোভা বলেন ভিন্ন কথা।

এ প্রতিবেদককে শোভা জানান, কষ্ট করে জোরগার করা বাবার টাকায় পড়াশুনা চালিয়েছি, কলেজ কর্তৃপক্ষ সবকিছু ফ্রিতে দিতে চাইলেই তাদের কথা রাখেনি, শুধুমাত্র উপবৃত্তি দিয়েছে। দোয়া করবেন আমি যেন সরকারি চাকরি পেয়ে শিক্ষকতা করতে পারি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালাশপীর বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ মোমিনুল ইসলাম রনতু শোভার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শোভাকে পড়াশুনায় সব ধরনের সহযোগীতা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে অদম্য শোভা। শোভার ভাল ফলাফলের প্রত্যাশায় পীরগঞ্জ উপজেলা বাসি। শুভ কামনা শোভা।

অপরাজিতবিডি ডটকম/আরআই/এ/০৮ এপ্রিল, ২০১৪.

মোবাইল ফোনে প্রতারণা প্রেমের বলি মিথি : প্রেমিকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

khunaaaaঅপরাজিতবিডি ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর জেডএইচ শিকদার মহিলা মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন সাউদিয়া আক্তার মিথি। গত বুধবার সকালে হাজারীবাগ সুলতানগঞ্জের ৩/৫ নম্বর সচিবের গলির বাসার ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আরিফ নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে তারা ওই কক্ষটি সাবলেট হিসেবে ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন। মিথির মৃত্যুর পর আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার আরিফ আদালতে স্বীকার করেছে, মোবাইল ফোনে তথ্য গোপন করে প্রতারণার প্রেমের সূত্র ধরে সে মিথিকে হত্যা করেছে।

 

হাজারীবাগ থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, আরিফ কিভাবে মিথিকে হত্যা করেছে জবানবন্দিতে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। আদালত আরিফকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। সাক্ষী হিসেবে মিথি যে বাসায় থাকতেন সেই বাসার বাসিন্দা নুসরাত সাথী, মিথির বান্ধবী রোমানা নাজনীন ও তার কথিত প্রেমিক অনিও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মিথির সহপাঠী, পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়ায় পাশাপাশি গ্রামে আরিফ ও মিথির বাড়ি। ভুল নম্বরে মোবাইল ফোন কল চলে যাওয়ার সূত্র ধরে মিথির সঙ্গে যোগাযোগ হয় আরিফের। বেকার আরিফ এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে বলে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলে মিথির সঙ্গে। মিথিও আরিফের কথার জালে আটকা পড়ে প্রেমের ফাঁদে পা বাড়ান। একপর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন একসঙ্গে থাকার। বাড়িতে হোস্টেলে থাকার কথা জানিয়ে মিথি আরিফের সঙ্গে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। এর পরই মিথির চোখ খুলতে শুরু করে। চাকরি না করে বাড়ি থেকে মিথির আনা টাকায় আরিফ আয়েশি জীবন কাটাতে থাকে। আরিফের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত, তাও জেনে যান মিথি। এসব নিয়ে শুরু হয় সম্পর্কের টানাপড়েন। ভুল শুধরে নতুন জীবনে ফিরতে চেয়েছিলেন মিথি। এটা জানতে পেরেই গত ১ এপ্রিল রাতে আরিফ তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

আরিফ জবানবন্দিতে বলে, রাতে মিথির বান্ধবী রোমানা ও তার কথিত স্বামী অনিসহ দীর্ঘ সময় আড্ডা দেয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিথির সঙ্গে তার ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় তারা নিজেদের কক্ষে চলে যায়। ঝগড়ার বিষয়টি যেন বাইরে থেকে কেউ বুঝতে না পারে এ জন্য সে উচ্চ শব্দে গান বাজাতে থাকে। এ সময় তারা দুজন একে-অন্যের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে আরিফ মিথির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। বালিশচাপা দিয়েও রাখে কিছু সময়। মিথির মৃত্যু নিশ্চিত হলে সে গলায় ওড়না বেঁধে সিলিং ফ্যানে ঝোলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মিথির ওজন বেশি হওয়ায় তাকে ঝোলাতে ব্যর্থ হয়। পরে মেঝেতেই লাশ শুইয়ে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সকালে মিথির লাশ উদ্ধার এবং আরিফসহ অন্য তিনজনকে আটক করে।
এদিকে রাতেই মিথিকে পাবনার সাঁথিয়া এলাকায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

অপরাজিতবিডি ডটকম/আরআই/এ/০৮ এপ্রিল, ২০১৪.

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ২ সন্তানকে কুপিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

অপরাজিতবিডি ডটকম, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে মায়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের পুরোহাটা গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী নিজ বাড়ি থেকে মা স্বপ্না (৩৫) ও শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া ছেলে মৃণালকে (৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরোহাটা গ্রামের সরাফত আলীর স্ত্রী স্বপ্না প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে ছেলে মৃণাল ও মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে ঘরে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে মৃণালের গোঙানির শব্দ শুনে সরাফতের ভাই মাহতাব উদ্দিন ওই ঘরে ঢুকে দেখেন ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত মৃণাল বিছানায় কাতরাচ্ছে। স্বপ্না ঘরের ধর্ণার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন। আর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃতদেহ পড়ে আছে। এ সময় মাহতাবের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা গুরুতর মৃণালকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার সময় সরাফত আলী বাড়িতে ছিলেন না। তিনি ঢাকায় চাকরি করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাহতাব উদ্দিনসহ ৪জনকে আটক করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে স্বপ্না তার ২ সন্তানকে ছুরিকাঘাত করে নিজে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। স্বপ্না মানসিক রোগী নাকি কোনো ঘটনার শিকারে পরিণত হয়েছেন সে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

অপরাজিতবিডি ডটকম/আরআই/এ/০৮ এপ্রিল, ২০১৪.

পান্তা ভাতে ইলিশ ভাজা

65e2efaca0bc1f99b8ac8d0bc2f3b3b1

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম : উপকরণ : ইলিশ মাছ ৮ পিস, সর্ষের তেল ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চামচ, লবণ পরিমাণমতো, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ।

যেভাবে তৈরি করবেন : মাছ কেটে ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার মাছগুলো হলুদ, মরিচ এবং লবণ দিয়ে মাখিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। চুলায় পাত্র দিয়ে তেল দিন। তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে বাদামি করে ভেজে নিন। এবার চুলায় তাওয়া দিন। তেল দিন। তেল গরম হলে মাছগুলো বিছিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর মাছগুলো উল্টে ভেজে নিন। দুই পিঠ ভাজা হলে নামিয়ে ভাজা পেঁয়াজ-মরিচ উপরে ছড়িয়ে দিয়ে পান্তা ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/৭ এপ্রিল, ২০১৪.

পান্তা ভাত

noborsho

 

সামনেই পহেলা বৈশাখ । পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আপনাদের সবার জন্য আজ পেশ করলাম পান্তা ভাতের রেসিপি।
উপকরনঃ ২৫০ গ্রাম চাল, ১০ কাপ পানি। কাঁচা পেয়াজ – পরিমান মতন , কাঁচা লঙ্কা – স্বাদ বুঝে , লবন – আন্দাজ মতো।

রান্নার প্রনালীঃ
একটি পাত্রে চাল ধুয়ে ২ কাপ পানি দিয়ে চুলার উপর বসিয়ে দিন। দেখুন গ্যাস আছে কি না । গ্যাস থাকলে মনে করে চুলা জ্বালান । তারপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন । কয়েক মিনিট পর হাড়ি থেকে চাল তুলে টিপি দিয়ে দেখুন সিদ্ধ হয়েছে কি না । সিদ্ধ হলে বুঝবেন তা “ভাত” হয়ে গেছে। এবার ভাত থেকে বাড়তি পানি ঝরিয়ে নিন। (মাড় গলিয়ে নেয়া যাকে বলে)

ভাত ঠান্ডা হলে তাতে বাকী ৮ কাপ পানি ঢেলে শুকনো, ঠান্ডা জায়গায় ঢেকে রাখুন।
৮ ঘন্টা পর ঢাকনা খুলে দেখুন – তা পান্তা ভাতে রুপান্তরিত হয়েছে।

পেয়াজ, লঙ্কা, লবন দিয়ে মাখিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন – মজাদার পান্তা ভাত।

বিঃ দ্রঃ পান্তা খাওয়ার জন্য ইলিশ ভাজি আবশ্যক নয়। তবুও ভাজা মাসের স্বাদ পেতে চাইলে ২০০০/কেজি দরে ইলিশ না কি নে পুটি মাছ কিনে ভেজে খেতে পারেন।

অথবা যদি বাজারে ইলিশ এর ফ্লেভার পাওয়া যায়, তাহলে যে কোন মাছের (রুই বা কাতল) সাথে ইলিশ ফ্লেভার মাখিয়ে ভাজুন।

অপরাজতিাবিডি ডটকম/আরআই/এ/৭ এপ্রিল, ২০১৪.

টাঙ্গাইলে বৈশাখীর ব্যস্ততা

tat shilpo pic-d_20233_0

অপরাজিতাবিডি ডটকম, টাঙ্গাইল: আসছে পহেলা শৈাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। দিনটিকে কেন্দ্র করে বাংলার ঘরে ঘরে মহোৎসব। সরকারি-বেসরকারি  সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও দিনটি উদযাপন করে ধুমধামের সাথে। দিনটি যেন বাঙালি জাতির কাছে চির চেনা। ধর্মীও অনুষ্ঠানের চেয়েও সার্বজনীন উৎসব হিসেবে দিনটি এখন আনন্দ উৎসবে পরিনত হয়েছে। আর এই আনন্দকে আরও  আনন্দময় করতে চাই নতুন কাপড়। নারীর চাই নতুন শাড়ী। নারীদের বৈশাখী সাজে সাজাতে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। নববর্ষকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল শাড়িতে যোগ হয়েছে বাহারি রঙ আর নতুন কারুকাজ। বৈশাখের আগেই নিপুন হাতে বৈশাখী শাড়ি তৈরি শেষ করতে হবে। এ কারণেই মুলত তাঁত পল্লী এখন উৎসব মূখর আর তাঁতীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। টাঙ্গাইল সদরের বাজিদপুর, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ও চন্ডী ও কালিহাতীর বল্লা রামপুরের তাঁত সমৃদ্ধ এলাকায় একই চিত্র দেখা যায়। ভোর হতে শুরু হয় তাঁতের খটখটি শব্দ। রাতভর কাজ করেও তাঁতীর ক্লান্তি নেই। প্রতিযোগিতা একটাই, উৎপাদন যত বেশী হবে, সাপ্তাহিক বিল তত বেশী পাবে।

 

এক সময় দেশীয় শিল্পিদের নিপূন হাতে তৈরি মসলিন কাপড় দেশ বিদেশী রমনীদের নজর কেড়েছিল। সময়ের বিবর্তনে পূরনো মসলিনের কথা আধুনিক নারীদের স্মৃতিতে ধারন না থাকলেও বর্তমানে টাঙ্গালের তৈরি তাঁতের শাড়ী সেই মসলিনের মতই দেশ বিদেশী রমনীদের মনে স্থান করে নিয়েছে। এজন্যই প্রবাদ রয়েছে “ নদী নালা খাল বিল গজারীর বন টাঙ্গাইলের শাড়ী তার গর্বের ধন” আর এই গর্বের ধন এমনভাবে হারাতে বসেছিল যা দেখবার কেও ছিলনা । সুঁতার দাম বৃদ্ধি,কারিগর ও মহাজনদের মধ্যে লাভ্যাংশের অসম বন্টন আর কারিগরের অভাবে তাঁত শিল্পের গত দু-বছর ছিল সংশয়ে। সুঁতার দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যসিমা হাতের নাগালের বাহিরে চলে আসাতে চরম বিপর্যয়ে ছিল টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প। মিডিয়াতে সুতার দাম নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের জুরালো প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সুতার দাম কমার লেশমাত্র চিহ্ন ছিলনা। অন্য দিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশিলতা বিশেষ করে হরতাল অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও  তাঁতশিল্পের ওপর মারাত্বকভাবে প্রভাব পড়েছিল। সুঁতা আছে, কারীগর নেই। কারীগর আছে তো হরতালে সুঁতা আসছে না। কাপড় উৎপাদন হচ্ছে অথচ দুর-দূরান্ত থেকে মহাজন আসতে পাড়ছে না।

 

তাঁত শিল্প সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, গত দু-বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা তাঁতশিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। সেতু, ছাইহাম, উত্তরা, সপছিল, কটন, জরি, রেয়ন, পাকুয়ান সহ সব ধরনের সুতার দাম তাঁত মালিকদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে এসেছে। বর্তমানে জরি ৪শ৫০ টাকা থেকে ৭শ টাকায়, পাকুয়ান ১৬শ থেকে ২৫শ, ৩০ টাকা মুরা সতার বর্তমান মূল্য ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ৪০ কাউন্টের ১১শ টাকার সুতা ২হাজার টাকা, ছাইহাম ১৫শ থেকে ২৬শ টাকা । বিশ্ববাজারে সুঁতার দাম যতটানা বাড়ছে তার চেয়ে দ্বিগুন বাড়ছে দেশীয় বাজারে ।

 

তুলার দামের চেয়ে সুতার দাম সংগতি না থাকায় সিন্ডিকেটকে দায়ি করেন তিনি। স্পিনিং মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে বাড়াচ্ছে তাঁত শিল্পের প্রধান কাচামাল সুতার দাম। তুলার দামের সাথে অযোক্তিক ভাবে  সুতার দাম বেড়েই চলছে।  সুতার মুল্যের নিয়ন্ত্রনহীন উর্ধ্বগতির কারনে বহুমুখী রপ্তানী দ্রব্য হিসেবে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প চরম ভাবে মার খাচ্ছে।

 

তবে শাড়ির বর্তমান বাজার সম্পর্কে স্পস্ট ধারনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, একদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীলতায় ফিরে এসছে অন্যদিকে আসছে পহেলা বৈশাখ। সব মিলিয়ে তাঁত শিল্পের মন্দা অবস্থা অনেকটাই কেটে উঠেছে। উৎপাদন ও বাজার উভয়ই ভাল যাচ্ছে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাজারে নামছে নতুন শাড়ি।  ভিন্ন বুটি আর নতুন নকশায় তৈরি এই শাড়ি শুধু বৈশাখ উৎসবের জন্য।
দেশের সবচেয়ে বড় তাঁতের শাড়ির হাট টাঙ্গাইলের করটিয়া ঘুরে দেখা যায়, তাঁতিরা তাদের উৎপাদিত কাপড় নিয়ে প্রতিযোগীতায় নেমেছে। স্থানীয় ও দূর থেকে আসা অধিকাংশ ক্রেতাদের চাহিদাই এখন বৈশাশের শাড়ি। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে অনেকটাই উপযোগি টাঙ্গাইল শাড়ি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তাঁতী জানালেন ভিন্ন সুর। ভারতে টাঙ্গাইল শাড়ির কদর থাকায় অবৈধ পথে মহাজনরা পাচার করছে দেশীয় এ শাড়ি। আর এ পথেই আসছে ভারতীর সুতা। এতে মহাজনেরা গড়ছে প্রাসাদ আর সাধারণ ব্যবসায়ীরা এ শিল্প থেকে পড়ছে ছিটকে । সরকার বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য ভ্যাট থেকে। অনেক অসাধূ ব্যবসায়ীরা আবার ভারত থেকে আনা কম মূল্যের শাড়ি টাঙ্গাইল শাড়ি হিসেবে চালানো চেষ্টা করছে। এতে করে ক্রেতারা টাঙ্গাইল শাড়ির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। ভ্যাট শব্দটা এড়িয়ে গেলেও ভারতের সাথে শাড়ি ব্যবসার সম্পৃক্ততা নির্ধিদায় স্বীকার করলেন তাঁত শিল্প সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক ও সাধারণ সম্পাদক নীলকমল বসাক। এমনতবস্থায় সুতার দামসহ তাঁত শিল্পের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য কমিয়ে আনা এমনকি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সুনজরই তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় বলে স্থানীয় তাঁতশিল্পীদের ধারনা।

 

অপরাজিতাবিডি ডটকম/আরআই/এ/০৭এপ্রিল, ২০১৪.

ক্লাশ রুমে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষকের ওপর হামলা

অপরাজিতিবিডি ডটকম , ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ শহরের কালিবাড়ী রোডস্থ কুমার উপেন্দ্র বিদ্যাপিঠের নিজ ক্লাশ রুমে রিতু বিশ্বাস (১৬) নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার জের ধরে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে এলাকার ক্ষুব্ধ লোকজন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা করেছে।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ক্লাস বিরতিতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি প্রেমঘটিত কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে টিফিন বিরতিতে রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে। এসময় তার কোন সহপাঠী ক্লাস রুমে ছিল না। টিফিন থেকে ছাত্রছাত্রীরা ফিরে এসে ক্লাশ রুমের দরজা ভেতর দিয়ে বন্ধ পায়। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় জানালার ফাঁক দিয়ে দেখে রিতু বিশ্বাস ফাঁসিতে ঝুলে আছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে রিতুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ার জানান, প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করতে পারে। হৃদয় নামে এক ছেলেকে সে ভালবাসতো। তার বান্ধবী নিপাও সেই হৃদয়কে ভালবাসতো। এনিয়ে সে আত্মহত্যা করতে পারে।

তিনি আরো জানান, পুলিশ তার স্কুল ব্যাগ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। সেখানে সে লিখেছে, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহত স্কুল ছাত্রী শহরের ১৭১, বড় কালীবাড়িস্থ হোটেল কর্মচারী বিপিন বিশ্বাসের ছোট মেয়ে।

স্কুলের গনিত শিক্ষক সুনিল কুমার মজুমদার জানান, স্কুল বিরতির সময় শিক্ষকরা দুপুরের খাবার খেতে চলে যান। পরে স্কুলে এসে এ ঘটনা জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে আত্মহত্যার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শতশত লোক স্কুলে ছুটে আসে। স্কুল চলাকালে আত্মহত্যার ঘটনার খবরে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে দায়িত্বহীনতার জন্য প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের উপর হামলা করে।

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৫ এপ্রিল, ২০১৪

গাইবান্ধায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

lashঅপরাজিতিবিডি ডটকম , গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শম্পা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে উপজেলা সদরে হিজলগাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শম্পা হিজলগাড়ী গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী এবং জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্তু ইউনিয়নের অবিরামপুর গ্রামের ইসলাম মন্ডলের মেয়ে।

পলাশবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (ওসি) তৌহিদ হাসান জানান, দুপুরে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে শম্পার মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

 

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৫ এপ্রিল, ২০১৪

গরমে চুলের যত্ন

chul
অপরাজিতিবিডি ডটকম : বইছে গ্রীষ্মের বৈরী হাওয়া। বাইরে বের হলে রেহাই নেই রোদের প্রখরতা থেকে। আর সূর্যের উত্তাপটা যেন ছড়ায় একেবারে শিরোদেশকে উদ্দেশ করেই। ঘেমে-নেয়ে চুলের চিটচিটে অবস্থা। এ থেকে মাথায় খুশকি, চুল নিষপ্রাণ হয়ে যাওয়া, চুল পড়ার মতো সমস্যার সঙ্গে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। এ সমস্যার সমাধান কি?
ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের চর্ম বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বলেন, ‘গরমে ঘাম ও ধুলাবালুর কারণে চুলের গোড়ায় ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের উপদ্রব হতে পারে। তাই এ সময় সবচেয়ে জরুরি হলো চুল পরিচ্ছন্ন রাখা।
তিনি মনে করেন, এ সময়ে প্রয়োজনে প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করতে হবে। শ্যাম্পু করলে চুলের ক্ষতি হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। শ্যাম্পুর কাজ হচ্ছে চুল পরিচ্ছন্ন করা। এ ছাড়া খুশকির জন্য চুল পড়ছে, এ ধারণাও ভুল। বরং গরমে চুল ঘেমে গেলে চুলের গোড়ায় চুলকানো ও চুল টানার কারণে গোড়া নরম হয়ে চুল পড়তে থাকে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে।
এর পাশাপাশি ঘামের সমস্যা কমাতে উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, গরম আবহাওয়া যথাসম্ভব পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। গরমের সময় গরম চা, গরম কফি, বেশি ঝাল খাবারও পরিহার করতে হবে।
এ সময়ে চাই চুলের জন্য বিশেষ কিছু পরিচর্যা।হেরোবিক্স ব্রাইডালের রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন দিয়েছেন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
গরমের দিন গরমকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে চাইলে ঘামকে এড়িয়ে চলা সম্ভব হতে পারে। বাতাস চলাচল করে এ রকম জায়গা দিয়ে চলাফেরা করলে ঘাম কম হয়।
 চুলের গোড়া ঘেমে গেলে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে পাখার ঠান্ডা বাতাসে চুলটা শুকিয়ে নিতে হবে। কোনোভাবেই ঘামে ভেজা চুল বেঁধে রাখা যাবে না। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল পড়া বাড়ে।
ধুলাবালু ও ঘামের কারণে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে প্রয়োজনে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে শ্যাম্পু করার পর চুলের গোড়ায় যেন বাড়তি শ্যাম্পু না লেগে থাকে।
যাঁদের খুশকির প্রবণতা বেশি, তাঁরা খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে এর আগে মাথায় ত্বকে তেল দিয়ে মালিশ করে নিন। এটি আপনাকে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের সুফল দেবে।
 যাঁদের চুল খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহারে নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, তাঁরা খুশকিনাশক তেল ব্যবহার করতে পারেন। এরপর আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।
 চুলের পরিচর্যার জন্য টক দই, মেহেদি পাতা, মেথি গুঁড়া ও কাগজি লেবুর কয়েক ফোঁটা রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এটি চুলে ৩০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। টক দই করবে ময়েশ্চারাইজারের কাজ। মেথি গুঁড়া খুশকি দূর করবে এবং চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়াবে কাগজি লেবুর রস। এভাবে মাসে অন্তত এক দিন যত্ন নিন।
চুল দিন দিন নিষপ্রাণ হয়ে যাচ্ছে, এমন মনে হলে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। যা পারলারে গিয়ে করতে পারেন।আর ঘরে বসে করতে চাইলে ডিমের সাদা অংশ, পাকা কলা, টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে লাগাতে পারেন।
চুল পড়া কমাতে আমলকীর রস ও ক্যাস্টর অয়েল চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
এ সময় চুলটা আঁটসাঁট করে না বেঁধে পাঞ্চ ক্লিপে হালকা করে আটকে নিন। ছেলেমেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই চুলের এমন কোনো কাট দিন, যেটি গরমের সময় আরামদায়ক।
চুল শুকাতে বা ঘাম শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস পরিহার করুন।
প্রখর রোদে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করুন।

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৫ এপ্রিল, ২০১৪

পার্বতীপুরে প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন

khun

অপরাজিতিবিডি ডটকম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রেমিকের হাতে মাসুমা আকতার কেয়া (১৫) নামে এক প্রেমিকা নির্মমভাবে খুন হয়েছে। শনিবার দুপরে আম গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শুকদেবপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের মেয়ে কেয়া যশাই হাইস্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। একই গ্রামের রেজওয়ানুল হকের পুত্র পলাশ মাহমুদ (২৪) সাথে কেয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

পারিবারিক সুত্র ও পুলিশ জানান, মাসুমা আকতার কেয়ার সাথে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে পলাশ মাহমুদের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। কিন্তু গত এক মাস আগে পলাশ মাহমুদের অন্যত্র বিয়ে হয়। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শুকদেবপুর গ্রামের ৩শ’ গজ দুরে একটি বাঁশ বাগানে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ধারনা করা হচ্ছে, প্রেমিক পলাশ তাকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল বলেন, এটি একটি প্রেমঘটিত ঘটনা। এ ঘটনায় থানায় নিহতের পিতা মাজেদুর রহমান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রেমিক পলাশ মাহমুদকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপরাজিতিবিডি ডটকম/আরএ/এ/০৫ এপ্রিল, ২০১৪