banner

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

চাটমোহরে বঞ্চিত নারীদের কাছে মডেল নূরুন্নাহার

9174_divi-1চাটমোহর (পাবনা), অপরাজিতাবিডি ডটকম: পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের নূরুন্নাহার খাতুন সমাজের বঞ্চিত নারীদের কাছে একটি মডেলে পরিণত হয়েছেন। স্বামী পরিত্যক্তা নূরন্নাহারের কর্মপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। নূরুন্নাহারের দেখানো পথ অনুসরণ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে অবহেলিত নারী সমাজের একটি অংশ। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে না থেকে নূরুন্নাহার যেমন নিজ পায়ে দাঁড়িয়েছেন তেমনি তার মতো সমাজের আর ১০টা বঞ্চিত নারীকেও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের মৃত জেহের আলী মোল্লার মেয়ে নূরুন্নাহার খাতুন। বিয়ের পর ১৯৯৮ সালে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে একটি ছেলে সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে থাকেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও খুঁজতে থাকেন নতুন করে বাঁচার পথ। বাবার পরিবারে বোঝা হয়ে না থেকে এক নতুন লড়াইয়ে জিততে নিজের সঞ্চিত কিছু পুঁজি বিনিয়োগ করে ২০০৩ সালে মাত্র একটি সেলাই মেশিন কিনে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা শুরু করেন। দৃঢ় মনোবল, মেধা, শ্রম, ধৈর্য দিয়ে তৈরি করেন ‘নাঈম ফ্যাশন অ্যান্ড টেইলার্স’ নামে একটি ছোট দোকান।

গত ১০ বছরে অকান্ত পরিশ্রম করে নিজের ও বাবার সংসারের চেহারা পরিবর্তন করার পাশাপাশি জয় করেছেন দারিদ্র্যকে। নিজের উপার্জিত অর্থে জমি কিনে সেখানে বাড়ি করেছেন তিনি। বাড়ির মধ্যেই নতুন করে সাজিয়েছেন তার নাঈম ফ্যাশন অ্যান্ড টেইলার্স। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের স্বাবলম্বী করতে স্থাপন করেছেন সেলাই প্রশিণ সেন্টার। ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নিয়ে অনেকে নিজে মেশিন কিনে টেইলার্স খুলে বসেছেন। বর্তমানে ১০টি সেলাই মেশিন দিয়ে নূরুন্নাহারের ওই ফ্যাশন হাউজে কাজ করছেন ২০ জন স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা মহিলা।

নূরুন্নাহারের নাঈম ফ্যাশন হাউজে কর্মরত বিধবা কর্মচারী ফরিদা খাতুন জানান, আমি নূরুন্নাহারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে চার হাজার টাকা মাসিক বেতনে চার বছর ধরে তার ফ্যাশন হাউজে কাজ করছি। কাজ করে যে টাকা উপার্জন করছি তাতে আমার সংসার বেশ ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে। স্বামী পরিত্যক্তা অপর কর্মচারী আর্জিনা খাতুন জানান, নূরুন্নাহার আপার ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার দোকানে কাজ করছি। আমাকে সাড়ে চার হাজার টাকা বেতন দেন নূরুন্নাহার আপা। আমার সংসারে এখন আর অভাব নেই।

নূরুন্নাহার খাতুন এ প্রতিবেদককে জানান, আমি নিজে সেলাইয়ের ওপর উচ্চতর প্রশিণ নিয়ে চাটমোহরের কয়েকটি এলাকায় সাধ্যমতো বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও বেকার নারীদের প্রশিণ দেয়ার কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে টেইলার্সের যাবতীয় বিষয়, নকশিকাঁথা, বিছানার চাদরে নকশা তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার মাধ্যমে চলছে গ্রামে গ্রামে উঠোন প্রশিক্ষণ। বর্তমানে ২০০ নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ফ্যাশন হাউজে নূরুন্নাহারের কাজে সহযোগিতা করেন তার ছেলে নাঈম (১৭)।

নূরুন্নাহার আরো জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে তার ফ্যাশন হাউজ আরো বড় করে অনেক নারীকে সাবলম্বী করা সম্ভব হবে।

নতুন বছরের প্রত্যাশা

24_103এলো নতুন বছর। আমরা নতুন আশায় আছি। এবার বুঝি শান্তির দেখা মিলবে। এদেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা হবে। দল মত নির্বিশেষে সবাই দেশের কল্যাণের জন্য একতাবদ্ধ হবে। অনেক রক্ত ঝরেছে। অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা, বাণিজ্য, কৃষিসহ নানা খাতে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ, আর হানাহানি নয়, এবার দেশের শান্তির প্রতি মনোযোগ দিন। আমরা দুর্বল কিংবা ব্যর্থ রাষ্ট্র নই; একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আমাদের জ্ঞান, শক্তি, সাহস দেখে এ পৃথিবী যেন অবাক তাকিয়ে রয়। তবে গত বছরও ছিল সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা ছিটেফোঁটা পূরণের শেষ প্রান্তে এসে বিদায় নিয়েছে। আবারও প্রত্যাশা, সব ঝড়-জলোচ্ছ্বাস বিদায় নেবে; সুসংবাদ আসবে ঘরে ঘরে। আমরা একটা সুন্দর সমাজ চাই। একটা শাসন ব্যবস্থা চাই, যে ব্যবস্থা শোষণ করবে না। রক্তের স্রোত দেখাবে না। ক্ষমতার দাপট দেখাবে না। থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ। গত বছর স্কুল-কলেজে পড়ুয়াদের সমস্যা হয়েছে অনেক। চাই গণতন্ত্র যেন তার শক্ত অবস্থান খুঁজে পায়। ক্ষমতার জোরে যখন তখন সংবিধান বদল হয়।

এমন একটি সংবিধান চাই যেন তাতে দল মত নির্বিশেষে প্রকাশ করার সুযোগ-সুবিধা থাকে। চাই ভালো একটি সরকার। এছাড়া গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার মতো একটি নির্বাচন চাই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চাই। মেয়েদের চলার পথ যেন নিরাপদ ও সুগম হয়। আমরা যখন দিনবদলের কথা শুনি, তখন মনটা ভরে যায়। স্বপ্ন দেখি সামনের দিনগুলো অনেক বেশি ভালো যাবে। কিন্তু আমাদের এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্ন না হয়। আমরা নতুন করে পথ চলতে পারব। নতুন স্বপ্নের কথা বলতে পারব। সব ধরনের প্রতিকূলতা মাড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারব সামনে।

-মোবাশ্বেরা জাহান: যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়