banner

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

চুনারুঘাটে দুই স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ

ballo_27781_0চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা,অপরাজিতাবিডি ডটকম: জেলার চুনারুঘাটে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই স্কুলছাত্রী বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। উপজেলার গণকিরপাড় চন্দ্রমলি্লকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী দোলন বেগম এবং পান্না আক্তারের পরিবার তাদের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে।

পান্না আক্তারের বিয়ের দিন ছিল শুক্রবার এবং দোলন বেগমের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আগামী রোববার। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকার লোকজন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীরকে অবগত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের বাড়িতে যান। তারা পরিবারের লোকদের বুঝিয়ে দুটি বিয়েই বন্ধ করে দেন। এছাড়া ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা নেন।

 

তিন মেয়ে নিয়ে পদ্মায় ঝাঁপ, দুই লাশ উদ্ধার

downloadচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি,অপরাজিতাবিডি ডটকম: জেলার সদর উপজেলার খলিপারচরে তিন মেয়েকে নিয়ে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মা পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিলে দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও জেলেরা খলিপারচর এলাকা থেকে আড়াই বছরের মাহমুদ খাতুন ও হামেদা খাতুনের (৬) লাশ উদ্ধার করে।
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর কবীর জানান, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় খলিপারচর গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আক্তারা বেগম তার তিন মেয়েকে নিয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।

এ সময় জেলেরা আক্তারা বেগম ও তার বড় মেয়েকে উদ্ধার করতে পারলেও ছোট দুই মেয়ে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, আক্তারা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে কি কারণে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন জানান, তিনি ঘটনাটি বিকালে শুনেছেন। তবে এখনো তার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

দেশি খাবার-ফুলকপি ও রুই মাছের ঝোল

light.bengaশীত ঋতু মানেই দারুণ সব সবজির মজাদার সব রান্না। শীতের মৌসুমে গরম এক প্লেট ভাতের সাথে মাছের ঝোলের যে স্বাদ, তা মনে হয় অন্য কোনো খাবারে নেই। অনেকেই মাছ কেবল ভুনা বা ভাজি খেয়ে থাকেন, শীতের সবজি দিয়ে যে চমৎকার মাছের ঝোল রাঁধা যায় তা জানেন না অনেকেই। আজ রইলো ফুলকপি ও টমেটো দিয়ে রুই মাছের দারুণ মাছের ঝোল রেসিপি। কেবল রুই নয়, রাঁধতে পারবেন অন্য বড় মাছ দিয়েও। আজ ভাতের পাতে হয়ে যাক ষোল আনা বাঙালিয়ানা!

phulkopi.die_.macher.jhol_উপকরণ:
রুই মাছ ৮ টুকরো
ফুল কপির ফুল ৮-১০টি
পেঁয়াজ বাটা দুই টেবিল চামচ
রসুন বাটা এক চা চামচ
হলুদ ও ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ করে
মরিচ গুঁড়া ঝাল অনুযায়ী
টমেটো স্লাইস একটি
তেল এক কাপ
পানি প্রয়োজনমতো
জিরা গুঁড়া এক চা চামচ
কাঁচা মরিচ চারটি
ধনেপাতা সামান্য।

প্রণালী:
-মাছ ধুয়ে অল্প হলুদ ও লবণ দিয়ে ভাজতে হবে।
-এবার ওই তেলে রসুন ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে দিয়ে টমেটো ও অন্য সব মসলা (জিরা বাদে) দিয়ে কষাতে হবে। একটু পানি দিয়ে ভালো মত রান্না করতে হবে।
-এবার প্রথমে ফুলকপি দিয়ে একটু নেড়ে পানি দিতে হবে। তিন/চার মিনিট রান্না করে মাছ ভাজা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ফুটে উঠলে জিরা গুঁড়া দিতে হবে।
-হয়ে এলে ওপরে কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা ছিটিয়ে অল্প আঁচে আরও দুই-তিন মিনিট রেখে নামাতে হবে

প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম

নাটোরে যৌতুকের দায়ে গৃহবধুকে হত্যা

natore-map20131130231251নাটোর প্রতিনিধি,অপরাজিতাবিডি ডটকম: নাটোরের সদর উপলার ছাতনী বটতলায় একটি সোনার মালা ও যৌতুক না দেয়ায় এক গৃহবধুকে গলায় ফাঁস দিয়ে ও কানের নিচে সুচ ফুটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

 

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে নাটোর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদরের কাফুরিয়া এলাকার মকবুল হোসেনের মেয়ে আশুরা বেগমের (২২) প্রায় দুই বছর আগে ছাতনী বটতলার আরিফুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়।

 

বিয়ের পর থেকে তার শাশুড়ী ও নোনদ একটি সোনার মালা ও যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সোমবার রাতে তার গলায় ফাঁস দিয়ে ও কানের নিচে সুচ ফুটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। লাশের চোখের পাশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

 নাটোর থানার ওসি আসলাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে নিহতের স্বামী আরিফুল ইসলাম, শশুড় আলাউদ্দিন ওরফে পলান কবিরাজ, শাশুড়ী জমেলা বেগম ও নোনদ কুলসুম খাতুনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।

 

কথা সাহিত্যিক ফরিদা হোসেনকে নিয়ে লেখা-একজন ফরিদা হোসেন

Forida Hossain (2)বহুমুখী প্রতিভায় উদ্ভাসিত ফরিদা হোসেন। আমাদের সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। জন্ম : ১৯শে জানুয়ারি,স্থান কোলকাতা। ফরিদা হোসেন ২০০৪ সালে সাহিত্যে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক পান। এছাড়াও ৬ টি স্বর্ণ পদক সহ মোট ২৫ টি সাহিত্য পুরস্কার পান বিভিন্ন সংগঠন থেকে। ফরিদা হোসেন একাধারে একজন ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, শিশু সাহিত্যিক, নাট্য পরিচালক, গীতিকার ও সুরকার এবং আবৃত্তিকার। লেখার বিষয়বস্তু প্রধানত ছোট গল্প উপন্যাস-শিশু সাহিত্য। শিশুদের জন্যে বিশেষ বানী সমৃদ্ধ রূপকথার নাটক ইত্যাদি। বিটিভিতে ধারাবহিক ভাবে প্রচারিত রূপকথার দেশে, সমাদৃত হয়েছে সর্বমহলে।

 

তিনি এক সময় রেডিওতে সংবাদ পাঠ, আবৃত্তি ও মহিলা এবং শিশুদের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন পি.ই.এন এর বাংলাদেশ সেন্টারের সভাপতি ও “অবিনশ্বর” সাহিত্য পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ৬০ এর দশকে ছাত্রী অবস্থায় তার প্রথম গল্প গ্রন্থ “অজন্তা” প্রকাশ করে পাইওনিয়ার পাবলিকেশন। প্রচ্ছদ করেন বিখ্যাত শিল্পী ও টিভি ব্যক্তিত্ব জনাব মোস্তাফা মনোয়ার।

 

১৯৬৫ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয় ফরিদা হোসেন রচিত ও পরিচালিত প্রথম শিশুতোষ নাটক। ফরিদা হোসেন ১৯৬৬ এর অক্টোবরে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন। তিনি সহিত্য চর্চার পাশাপাশি আবৃত্তি, সংবাদ পাঠ, শিশু ও মহিলা বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মুক্তধারা, অঙ্কুর, নন্দন, মাওলা ব্রাদার্স, শিল্পতরু, হাতেখড়ি, শিকড় প্রকাশনী, মমন প্রকাশনী, মাম্মী প্রকাশনী এবং তার নিজের আঞ্জুম প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়েছে বহু গ্রন্থ।

 

তার গল্প সংকলন, উপন্যাস, নাটক, শিশু সাহিত্য, অনুবাদগ্রন্থ সহ সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির মতো গ্রন্থ সংখ্যা রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, উপন্যাস- শ্রষ্ঠ গল্প সম্ভার,আরাধনা,সহযাত্রী,একজন কাজলীর কথা, একটি শীতল মৃত্যু,অজন্তা,ঘুম, শাড়ী, হিমালয়ের দেশে, নির্বাচিত গল্প, ক’জনার কথা,স্মৃতি কণিকা,জীবন যেমন,মুখোশ, ইংরেজি গল্প- Short Stories from Bangladesh, Blessing, Selected Short Stories, Devotion, শিশু সাহিত্যের মধ্যে- তেলেদা’র তেলাতঙ্ক, লুকোচুরি, মিতালী, আনন্দ ফুলঝুরি, সুরে ছন্দে ছড়াগান, রোজ রোজ, রূপকথার দেশে, শিশু সাহিত্য সমগ্র,নাটক- মায়া দ্বীপে অভিযান, খুকুর স্বপ্ন, চাঁদ কন্যার কথা, সপ্তবর্ণা, ঝড়ের পরে, অচীনপুরের রূপকথা, তুষার কন্যা, তারার খোঁজে, আনন্দ ভ্রমণ।

 

ফরিদা হোসেন ১৯৯৭ সালে স্কটল্যান্ড এবং ২০০৩ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা (পি ই এন) এর সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মেক্সিকোতে ফরিদা হোসেনের রচিত ও পরিচালিত শিশুতোষ সর্ট-ফিল্ম ফ্রেন্ডশীপ বিশেষ সুনাম অর্জন করে।

 

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার জিয়ানজিওতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল পেন কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশের লেখকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ফরিদা হোসেন আঞ্জুম প্রকাশনী, আঞ্জুম টেলি নেটওয়ার্ক ও অবিনশ্বর সাহিত্য পত্রিকার সত্ত্বাধিকারী।

 

বর্তমানে ফরিদা হোসেন আলোকিত শিশু গড়ার লক্ষ্যে, নিজস্ব রচনা ও পরিচালনায় নির্মান করছে শিশুতোষ ধারাবাহিক রূপকথার দেশে। যার ২৪ টি পর্ব ইতিমধ্যে বিটিভিতে প্রচারিত হয়েছে, এছাড়া ও তিনি ব্যস্ত রয়েছেন সাহিত্য ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মানে।

 

ফরিদা হোসেন চট্রগ্রাম জেলার মিরেরশ্বরাই উপজেলার শাহেরখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রমিক নেতা ও আই. এল. ও এর গর্ভনিং বডির প্রাক্তন পরিচালক মরহুম ফয়েজ আহমেদ ও মরহুম বেগম ফয়েজুন্নেছার প্রথম কন্যা এবং ফেনী জেলার রাজনীতিবীদ জনাব মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সুযোগ্য স্ত্রী।

প্রতিবেদক,অপরাজিতাবিডি ডটকম